বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৭০১৮০০ / ৩,০২৪

৭০১.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. ফল
  2. পর্বত
  3. ইট
  4. সাগর
সঠিক উত্তর:
ইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইট
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৭০২.
‘ভূগোল’ শব্দের বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) ভূগোলক
  3. গ) ভূগোলিক
  4. ঘ) ভুগোলক
সঠিক উত্তর:
ক) ভৌগোলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভৌগোলিক
ব্যাখ্যা
ভূগোল (বিশেষ্য):
- পৃথিবীর ও তার উপরিস্থ বিভিন্ন দেশের বিবরণ। 
- ভূগোল শব্দটির বিশেষণ পদ - ভৌগোলিক।
- ভৌগোলিক (বিশেষণ) - দেশ সমন্ধীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৭০৩.
"বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - এ বাক্যে 'গিয়ে' কোন ধরনের ক্রিয়াপদ?
  1. প্রযোজক
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- বাড়ি গিয়ে ......
- সে বই নিয়ে ...

• এখানে,
'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

• "বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।" - 
এখানে, গিয়ে নিজে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে না, বরং অন্য ক্রিয়ার সাহায্যে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করছে।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭০৪.
'তিতাস একটি নদীর নাম' বাক্যটিতে 'নদী' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) নামবাচক
  2. খ) জাতিবাচক
  3. গ) বস্তুবাচক
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
খ) জাতিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাতিবাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
নাম-বিশেষ্য
জাতি-বিশেষ্য
বহু-বিশেষ্য
সমষ্টি-বিশেষ্য
গুণ-বিশেষ্য
ক্রিয়া-বিশেষ্য

জাতি-বিশেষ্য :
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনাে নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

তাই 'তিতাস একটি নদীর নাম' বাক্যটিতে 'নদী' জাতি-বিশেষ্য ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০৫.
নিচের কোনটি নামবাচক বিশেষ্য নয়?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) গোমতী
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) মানুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য বিশেষ ব্যক্তি, স্থান, দেশ, শিল্পকর্ম, পত্রিকা, বই, মাস, দিন ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট নাম বুঝায় তাকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঢাকা, পদ্মা, বৈশাখ, মঙ্গলবার ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বই।
৭০৬.
'ভাটিয়াল' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ভাটিয়াল' - শব্দটি বিশেষণ পদ।

অর্থ: দক্ষিণ দেশীয়; যে নৌকা ভাটার মুখে যায়।




উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭০৭.
নিচের কোনটি সাধারণ অনুসর্গ?
  1. থেকে
  2. বলে
  3. দ্বারা
  4. ধরে
সঠিক উত্তর:
দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বারা
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন
- উপরে;
- কাছে;
- জন্যে;
- দ্বারা;
- বনাম;

অন্যদিকে,
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন
- করে;
- থেকে;
- দিয়ে;
- ধরে;
- বলে;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৭০৮.
অনুসর্গ -
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
  2. কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয়।
  3. কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে: প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭০৯.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. তুমি কাল যেও।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
  4. যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো।
সঠিক উত্তর:
তুমি কাল যেও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি কাল যেও।
ব্যাখ্যা

তুমি কাল যেও।- বাক্যটি ক্রিয়ার অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করে। 

-----------------
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।
ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক:
- আমরা বই পড়ি।
- তারা বাড়ি যাবে।

খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়;
- আপনি কি আসবেন?
-সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক
- বর্তমান কালে: চুপ কর।
- ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্বক
- বর্তমান কালে; অন্যায় কাজ করো না।
- ভবিষ্যৎ কালে, মিথ্যা বলবে না।

লা, অনুরোধসূচক-
- বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
- ভবিষ্যৎ কালে। আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক
- বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
- ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব।
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীলক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করতো। 
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
প্রযমন:
-সে যাক।
- যা হয় হোক।
-সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭১০.
তিনি স্বয়ং তোমাকে দেখতে আসবেন।- বাক্যে ‘স্বয়ং’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ্যের মতোই কারক ও বচন ভেদে তার রূপের পরিবর্তন হয়।
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে- এ ভাব জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য আত্মবাচক সর্মনাম ব্যবহৃত।
যেমন:
- আমি নিজে নিজে অঙ্কটি করেছি।
- তিনি স্বয়ং তোমাকে দেখতে আসবেন।
- যাত্রীরা স্ব স্ব আসনে গিয়ে বসলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭১১.
’কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।’এ বাক্যে অনুজ্ঞা কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. উপদেশ
  3. অনুরোধ
  4. প্রার্থনা
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা পদ:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
(১) আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
(২) উপদেশ:
- সত্য গোপন করো না।
- কড়া রোদে ঘোরাফেরা করিস না।
-'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।'
(৩) অনুরোধ: আমার কাজটা এখন কর। অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
(৪) প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
(৫) অভিশাপ: মর, পাপিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৭১২.
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে। - এ বাক্যে দ্রুত কী ধরনের ক্রিয়াবিষেণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ভাবজ্ঞাপক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) বাক্য সংযোজক
সঠিক উত্তর:
খ) ভাবজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাবজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন : 
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে। 
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস : বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ বোর্ড বই।
৭১৩.
“নীল আকাশ” – এখানে ‘নীল’ শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বর্ণবাচক
  3. অবস্থাবাচক
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
বর্ণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণবাচক
ব্যাখ্যা
“নীল আকাশ” – এখানে ‘নীল’ শব্দটি বর্ণবাচক বিশেষণ।
-------------------------
• বর্ণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৭১৪.
নিচের কোন বাক্য়ে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ উপস্থিত?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  4. আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:  
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- যেমন:
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
• কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

♣♣ কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

- যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে ‘-র’, ‘- ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
- যেমন:
• তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব;
• সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

♠ অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: 
১. সাধারণ অনুসর্গ ও 
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।  

সাধারণ অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: 
• কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
• আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।    

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
- যেমন: 
• মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।  
• বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 
• সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৭১৫.
আত্মবাচক সর্বনাম কোনটি? 
  1. একজন
  2. যারা-তারা
  3. স্বয়ং 
  4. উনি
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ং 
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।

যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম - উনি।
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭১৬.
আমরা রোজ সকালে হাঁটতে যেতাম - বাক্যটিতে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
  1. ক) ঘটমান অতীত
  2. খ) নিত্য অতীত
  3. গ) সাধারণ অতীত
  4. ঘ) পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্য অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা
• আমরা রোজ সকালে হাঁটতে যেতাম - বাক্যটিতে নিত্য অতীত কালের ক্রিয়া আছে।
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৭.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. তিন প্রকার
  2. চার প্রকার
  3. ছয় প্রকার
  4. আট প্রকার
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

• পদ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

৭১৮.
সমষ্টি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আকাশ
  2. দীনতা
  3. মানুষ
  4. মিছিল
সঠিক উত্তর:
মিছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিছিল
ব্যাখ্যা
• সমষ্টি-বিশেষ্য = মিছিল

বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন - জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বস্তু-বিশেষ্যে = আকাশ।
• গুণ-বিশেষ্যে = দীনতা।
• জাতি-বিশেষ্যে = মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৯.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. দিয়ে
  2. বনাম
  3. কাছে
  4. দ্বারা
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিয়ে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
 
অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 

যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭২০.
অনুসর্গ এর ক্ষেত্রে সত্য?
  1. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
  2. কখনো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়
  3. কখনো কখনো স্বাধীনপদরূপে বসে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ: 
- বাংলায় ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন  পদরূপে,
- আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
- এ বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

অনুসর্গকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সাধারণ অনুসর্গ,
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৭২১.
'সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?' বাক্যে 'সুস্থ-সবল' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• নাম-বিশেষণ:
যে বিশেষণ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম শব্দকে বিশেষিত করে, তাকে নাম-বিশেষণ বলে। একই শব্দ বিশেষ্য কিংবা সর্বনামের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

যেমন-
• বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- তিনি অভিজ্ঞ মিস্ত্রি।

• সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবানগুণবান
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২২.
"তুমি কী গান করেছ।" - এখানে 'কী' কোন পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম 
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বাক্যটি — “তুমি কী গান করেছ?”
এখানে, “কী” শব্দটি ‘গান’ (বিশেষ্য)-কে বিশেষিত করছে।
অর্থাৎ, “কেমন গান” বা “কোন গান” — এইভাবে প্রশ্ন করছে।

তাই “কী” এখানে প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: খ) বিশেষণ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৭২৩.
উপদেশাত্মক অনুজ্ঞাভাবের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমটা খাও
  2. মানুষ হও
  3. কাল দেখা করো
  4. ভালো করে পড়লে পাস করবে
সঠিক উত্তর:
মানুষ হও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ হও
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
'কৃতবিদ্য' কোন ধরণের পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
কৃতবিদ্য (বিশেষণ) 
- সুশিক্ষিত; বিদ্বান 
- যিনি বিদ্যা লাভ করেছেন

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
৭২৫.
‘নীল আকাশ’ কি বাচক নাম বিশেষণ?
  1. ক) রূপবাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) রূপবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপবাচক
ব্যাখ্যা
• নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

• রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ;
• গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
• পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭২৬.
কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) তিনি এখানে এসেছিলেন
  2. খ) ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
  3. গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
  4. ঘ) একটু ঘুরে আসুন না
সঠিক উত্তর:
গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গতকাল তিনি ঘুরে গিয়েছেন
ব্যাখ্যা

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৭২৭.
ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।

ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৭২৮.
ইউরোপের দেশগুলোতে গাড়ি বেশ জোড়ে চলে। এখানে ‘বেশ’ শব্দটি কী?
  1. ক) ভাববাচক বিশেষণ
  2. খ) বিধেয় বিশেষণ
  3. গ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৭২৯.
"কেরোসিন একটি তরল পদার্থ।" এখানে 'তরল' কোন ধরণের বিশেষণ?
  1. ভাববাচক
  2. গুণবাচক
  3. উপাদান বাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• "কেরোসিন একটি তরল পদার্থ।" এখানে 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৭৩০.
কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. পানি
  2. দল
  3. পর্বত
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্বত
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
​-------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
​যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
​যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৭৩১.
‘তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।’- এখানে ‘অথচ’ কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।
 
• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩২.
নিচের কোনটি বাক্যে সংকোচক অব্যয় হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ও
  2. খ) কিংবা
  3. গ) যদিও
  4. ঘ) অথচ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অথচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অথচ
ব্যাখ্যা
সংযোজক অব্যয় - ও, তাই, আর ইত্যাদি।
বিয়োজক অব্যয় - কিংবা, কিন্তু, অথবা ইত্যাদি।
সংকোচক অব্যয় - অথচ, বরংচ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩৩.
আবেগ শব্দ কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. শর্তসাপেক্ষে
  2. নিয়ন্ত্রিতভাবে
  3. অনুমোদিতভাবে
  4. আলগাভাবে 
সঠিক উত্তর:
আলগাভাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলগাভাবে 
ব্যাখ্যা

• আবেগ:
- মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৭৩৪.
"খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।” - বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• অতীত কাল চার প্রকার:
- সাধারণ অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত 
- নিত্য অতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৭৩৫.
সম্ভাবনায় ও উদ্দেশ্য বোঝাতে ক্রিয়ার কোন ভাব হয়?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. আকাঙক্ষা ভাব
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ ভাব
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বা প্রকার বলে।

ক্রিয়ার ভাব বা ধরন চার প্রকার।
১. নির্দেশক ভাব,
২. অনুজ্ঞা ভাব,
৩. সাপেক্ষ ভাব,
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব।

• নির্দেশক ভাব:
সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
• বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
• ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
• বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
• ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
• বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড় ।
• ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

• সাপেক্ষ ভাব:
একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭৩৬.
সাধারণ বাক্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
- সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।
- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
- যেমন- “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে ‘সজল ও লতা’ হলাে কর্তা, ‘বই’ হলাে কর্ম এবং ‘পড়ে’ হলাে ক্রিয়া। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৩৭.
অনুসর্গ হচ্ছে এক ধরনের-
  1. শব্দাংশ
  2. অক্ষর
  3. শব্দ
  4. অলঙ্কার
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ- 
- অনুসর্গ হচ্ছে এক ধরনের — শব্দ। যার নিজস্ব অর্থ আছে। 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৭৩৮.
কোনটি বস্তু বিশেষ্য?
  1. বই
  2. গরু
  3. পদ্মা
  4. সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বই
ব্যাখ্যা

বস্তু-বিশেষ্য:
​- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

​যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা, পদ্মা।
জাতি-বিশেষ্য- গরু।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৩৯.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. এরা
  2. কোথাও
  3. যারা-তারা
  4. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা-তারা
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি। নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৪০.
’তৌহিদ বিয়ে করল’ কোন অতীত কালের উদহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
’তৌহিদ বিয়ে করল’ সাধারণ অতীত কালের উদহরণ।

অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। 
 
সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।


এছাড়াও,
• নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

•. ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
৭৪১.
'লোকটি চলন্ত ট্রেনে লাফিয়ে উঠল' বাক্যে 'চলন্ত' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) অবস্থাবাচক
  3. গ) উপাদানবাচক
  4. ঘ) বিধেয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) অবস্থাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
বাক্যে 'চলন্ত' শব্দটি অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

- অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

- ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

- উপাদানবাচক: 
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন, 'বেলে মাটি' 'পাথুরে মুর্তি' তে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

- বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘লােকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘােলা’ – বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪২.
নামবাচক বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. ক) নদী
  2. খ) বিজু
  3. গ) সমাবেশ
  4. ঘ) মানুষ
সঠিক উত্তর:
খ) বিজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিজু
ব্যাখ্যা

যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- আনিস, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৭৪৩.
জাতিবাচক বিশেষ্য পদের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. পর্বত
  2. নদী
  3. সাগর
  4. আকাশ
সঠিক উত্তর:
আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪৪.
"এ যে আমাদের চেনা লোক" বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে ‘চেনা’ - বিশেষণ পদ।
---------------- 
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেষণ পদ] 

• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে বিশেষ্য - 'লােক' শব্দটির অবস্থা বর্ণনা করেছে 'চেনা' শব্দটি। তাই 'চেনা' শব্দটি বিশেষণ।
- এছাড়াও,
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘চেনা’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৪৫.
"চা না-হয় কফি খান।" বাক্যে ব্যবহৃত যোজকটি কোন ধরনের?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. কারণ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
সঠিক উত্তর:
বিকল্প যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন-
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
•  বিরোধ যোজক:

এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন-
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৭৪৬.
নিচের কোনটিতে বিশেষণের অতিশায়ন আছে?
  1. ক) তিল থেকে তৈল হয়।
  2. খ) আসমান হতে বৃষ্টি পড়ে।
  3. গ) তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।
  4. ঘ) চিনির চেয়ে মধু মিষ্টি বেশি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিনির চেয়ে মধু মিষ্টি বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিনির চেয়ে মধু মিষ্টি বেশি।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
বিশেষণের মধ্যে তুলনা থাকবে না।
যেমন:
- তিল থেকে তৈল হয়। 
- আসমান হতে বৃষ্টি পড়ে।
- তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।

বিশেষণের অতিশায়ন:
বিশেষণের মধ্যে তুলনা থাকবে।
- গোরুর থেকে ঘোড়ার দাম বেশি।
- পদ্ম হতে গোলাপ বেশি সুন্দর। 
- বাঘের চেয়ে সিংহ বলবান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ব্যবহারিক বাংলা ব্যাকরণ।
৭৪৭.
'এ যে আমাদের চেনা লোক'- এ বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে ‘চেনা’ - বিশেষণ পদ।

• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুষ্টু ছেলেটি দৌড়ে পালালো।
- অভিজ্ঞ উনিই ব্যাপারটা বুঝবেন।
[বাক্যে দুষ্টু ও অভিজ্ঞ বিশেসণ পদ]

- ‘এ যে আমাদের চেনা লোক’ বাক্যে বিশেষ্য 'লােক' শব্দটির অবস্থা বর্ণনা করেছে 'চেনা' শব্দটি। তাই 'চেনা' শব্দটি বিশেষণ।
- এছাড়াও, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘চেনা’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৪৮.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনামের সম্ভ্রমাত্মক রূপ?
  1. আমরা
  2. তুমি
  3. তাঁর
  4. তোমাকে
সঠিক উত্তর:
তাঁর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনামের রূপ: 
সাধারণ রূপ : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদিগকে, আমার, আমাদের,  তোমাদিগকে, তোমার, তোমাদের তুমি, তোমরা, তোমাকে, সে, তারা, তাহারা, তাকে, তাহাকে, মোর, মোরা।

• সম্ভ্রমাত্মক রুপ :  আপনি, আপনারা, আপনাকে, আপনার, আপনাদের, তিনি, তাঁরা, তাঁহারা, তাঁদের, তাঁহাদের, তাঁহাদিগকে, তাঁদেরকে, তাঁহাকে, তাঁকে, ইনি, এঁর, এঁরা, ইঁহাদের, এঁদের, ইহাকে, এঁকে, উনি, ওঁর, ওঁরা, ওঁদের।

• তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক : ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা, ও, ওরা, ওদের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৭৪৯.
করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে। - এখানে 'ও' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
ব্যাখ্যা
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৫০.
'অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ' বাক্যটির 'অতি' শব্দটি-
  1. নাম বিশেষণ
  2. বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ভাব বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
[এখানে "অতি" বিশেষ্য পদ  "ভক্তি"কে বিশেষিত করছে। তাই এখানে 'অতি' হচ্ছে বিশেষ্যের বিশেষণ।]

"অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ" বাক্যটিতে 'অতি' শব্দটি হল বিশেষ্যের বিশেষণ।

এই বাক্যে "অতি" শব্দটি "ভক্তি" শব্দের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। "অতি" শব্দটি "ভক্তি" নামক বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, অর্থাৎ ভক্তির মাত্রা বা পরিমাণকে নির্দেশ করছে। এখানে "অতি" শব্দটি "অত্যধিক" বা "অতিরিক্ত" ভক্তিকে বোঝাচ্ছে।

বিশেষ্যের বিশেষণ হল এমন বিশেষণ যা কোনো বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে অথবা তার গুণ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি নির্দেশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।।
৭৫১.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছা
  3. সুন্দর
  4. ইচ্ছুক
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ - ইচ্ছা

শব্দের অর্থ:
- অভিলাষ, রুচি, অভিপ্রায়।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - ইচ্ছুক, ঐচ্ছিক, সুন্দর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৫২.
'শ্রেণি' শব্দটির পদ শনাক্ত করুন।
  1. ক) দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  3. গ) শ্রেণিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদ দ্বারা একজাতীয় ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, শ্রেণী, বাহিনী, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭৫৩.
”খুব যে বলেছিলেন আসবেন!” - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যেরমধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উল্লেখ্য,
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৭৫৪.
'আমি কি যাব?' - বাক্যটিতে 'কি' কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৫৫.
'উজ্জ্বলতা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বলতা':
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রভা, দীপ্তি, নির্মলতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৫৬.
'সামান্য একটু পানি দাও' এই বাক্যে 'সামান্য' কোন পদ?
  1. বিশেষণীয় বিশেষণ
  2. সর্বনামের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন: 'সামান্য একটু পানি দাও।' এই বাক্যে 'সামান্য' বিশেষণীয় বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- যেমন: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।

• অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
- যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলাভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৫৭.
"তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" - এখানে 'কি' কোন প্রকারের পদ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• "তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" - এখানে 'কি' অব্যয় পদ।

• বাক্যটি — "তুমি আজ স্কুলে যাবে কি?" — এখানে "কি" শব্দটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর কোনো লিঙ্গ, বচন, কারক বা কাল পরিবর্তন হয় না। বাংলা ব্যাকরণে এমন অপরিবর্তনীয় শব্দকে অব্যয় বলা হয়।

• প্রশ্নবাচক সর্বনাম হতো যদি শব্দটি কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা সংখ্যাকে নির্দেশ করত (যেমন: কে, কী, কোন)। 'তোমার জেলার নাম কী?' এই বাক্যে 'কী' প্রশ্নবাচক সর্বনাম পদ।

• কিন্তু এখানে "কি" কেবল প্রশ্ন করার ভঙ্গি যোগ করছে, তাই এটি প্রশ্নসূচক অব্যয়

সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ]; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা লেখার নিয়মকানুন- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫৮.
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন। এই বাক্যের ‘হে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা

সম্বোধন বা আহবান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে সম্বোধন আবেগ বলে।
যেমন :
- ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
- হে বন্ধু, বিদায়
- হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০২১)

৭৫৯.
মীরা বাড়ি ফিরেছে- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারন বর্তমান
  2. খ) পুরাঘটিত বর্তমান
  3. গ) সাধারন অতীত
  4. ঘ) ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• মীরা বাড়ি ফিরেছে - বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ।

• পুরাঘটিত বর্তমানঃ এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৬০.
"যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেবো।" - বাক্যটিতে কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাধারণ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৬১.
‘দহন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. দহনকারী
  2. দাহ্য
  3. দাহ্যনীয়
  4. দগ্ধ
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
ব্যাখ্যা
• দহন [দহোন্‌] (বিশেষ্য):
শব্দের অর্থ:
১ দগ্ধকরণ; জ্বালা; পোড়া; দাহ।
২ অগ্নি (বেহান বিকাল যায় দহন সেবনে-কবি কঙ্কণ কুমুন্দরাম চক্রবর্তী)।
৩ ((আলঙ্কারিক)) যন্ত্রণা (হিয়ায় লইতে দহন দ্বিগুণ হয়-চণ্ডীদাস)।

- দাহক (বিশেষণ) ; দহনকারী (বিশ্বদহন ক্রোধ)।
- দহনক্রিয়া (বিশেষ্য) জ্বলনের কাজ (দহনক্রিয়ার অর্থই হল দ্রুতবেগে অক্সিজেনের সঙ্গে মিলন-শামসুল হক ফজলুর রহমান)।
- দাহ্য; দহনীয় (বিশেষণ)  দহনের উপযুক্ত; দহনযোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান
৭৬২.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. উদয় হওয়া
  3. কমে আসা
  4. পকেট মারা
সঠিক উত্তর:
কমে আসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে আসা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
মন দেওয়া, উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া, পকেট মারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ ও ২০১৯)।

৭৬৩.
‘যাকগে, ওসব কথা থাক।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘যাকগে’ কোন পদের দৃষ্টান্ত? 
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৬৪.
'টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।' বাক্যটি কোন ধরনের বর্তমান কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্য বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- আমার ছোট ভাই লিখছে।
- ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
- টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৭৬৫.
নিচের কোন বাক্যে সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। 
  4. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। 
সঠিক উত্তর:
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। 
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
- যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

অন্যদিকে, 
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)। 

৭৬৬.
‘মহাভারতের কথা অমৃত সমান।’ - বাক্যে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
- বস্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা -
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)।
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

(২) ঐতিহাসিক বর্তমান:
- অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

(৩) কাব্যের ভণিতায়:
- মহাভারতের কথা অমৃত সমান।
- কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

(৫) 'যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৬৭.
বপন শব্দের বিশেষণরূপ কী?
  1. বপনকৃত
  2. বপনতা
  3. উপ্ত
  4. সুপ্ত
সঠিক উত্তর:
উপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপ্ত
ব্যাখ্যা

বপন শব্দের বিশেষণ উপ্ত।
আরও উদাহরণ :
ঐক্য - এক
সূর্য - সৌর
ভোজন - ভুক্ত
লয় – লীন
শক্তি - শাক্ত

৭৬৮.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. পাঁচ
  2. চার
  3. আট
  4. সাত
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

→ বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন, যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৬৯.
রূপবাচক নাম বিশেষণ কোনটি?
  1. সবুজ মাঠ
  2. দক্ষ কারিগর
  3. মেটে কলসি
  4. তাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ মাঠ
ব্যাখ্যা

• রূপবাচক নাম বিশেষণ - সবুজ মাঠ

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:

ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৭৭০.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' - এখানে ব্যবহৃত 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)

৭৭১.
‘তাই, ও, আর’ অব্যয়গুলোর নাম কী?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• তাই, ও, আর অব্যয়গুলোর নাম - সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয়:

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।
(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক। আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক। বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়। 

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭২.
“নানী নাতি কে চাঁদ দেখাচ্ছেন” এ বাক্যে কোনটি প্রযোজ্য কর্তা?
  1. ক) নানী
  2. খ) চাঁদ
  3. গ) নাতি
  4. ঘ) দেখাচ্ছে
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাতি
ব্যাখ্যা

প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : নানী নাতিকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে ‘নানী’ প্রযোজক কর্তা, ‘নাতি’ প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন’ প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭৩.
"মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! " - বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন,
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

অন্যদিকে,
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
যেমন: উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।

• অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। 
যেমন- ঝম ঝম, গুড় গুড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৭৪.
'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে'- বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) নৌকার
  2. খ) ছইয়ে
  3. গ) নীল
  4. ঘ) মাছরাঙাটি
সঠিক উত্তর:
গ) নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীল
ব্যাখ্যা
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:
যথা-
বিভক্তি, নির্দেশক, বচন ও বলক।

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ এবং যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে' সলগ্নক পদ আর 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।

অনুরূপ ভাবে, 'নৌকার ছইয়ে নীল মাছরাঙাটি বসে আছে'- বাক্যে 'নীল' অলগ্নক পদ। 
এবং 'নৌকার', ছইয়ে, মাছরাঙাটি' = সলগ্নক পদ।

• সলগ্নক পদ:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৭৫.
‘সবুজ মাঠের পরে আমাদের গ্রাম’- বাক্যটিতে বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. আমাদের
  2. মাঠের
  3. সবুজ
  4. পরে
সঠিক উত্তর:
সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন,
সুন্দর ফুল, বাজে কথা, লাল ফিতা, নীল আকাশ ইত্যাদি।

• বর্ণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন, 
- নীল আকাশ।
- লাল ফিতা।
এখানে 'নীল', 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

একইভাবে, 
'সবুজ মাঠ পেরিয়ে আমাদের গ্রাম।' - বাক্যটিতে 'সবুজ' বিশেষণ পদ।

তথ্যসূত্র:-  বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭৬.
‘বেশ, তবে যাওয়াই যাক।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘বেশ’ কোন পদ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।
 
নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
• অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 
 
• সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।
 
• প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।
 
• বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।
 
• আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।
 
• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?
 
• করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!
 
• সম্বোধন আবেগ:
এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৭৭.
‘তারুণ্য’ পদটি -
  1. ক) ভাববাচক বিশেষ্য
  2. খ) সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
  3. গ) গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) বস্তু বাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টতার গুণ = মধুরতা ; তরুণের গুণ = তারুণ্য ইত্যাদি। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৭৭৮.
'যেমন-তেমন' - কোন প্রকার সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক
  2. অনির্দিষ্ট
  3. নির্দেশক
  4. সাপেক্ষ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৭৯.
'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব।'- ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে সঙ্ঘটিত হবে তার কালকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন - অয়ন গোসল করবে।

ভবিষ্যৎ কাল চেনার উপায়:
ক্রিয়ার শেষে বে, ব, বা, বেন, তে থাকিবে, তে থাকিবা, যা থাকিব, যা থাকিবা যোগ হয়। যেমন - করিব, করিবে, করিবেন, খাইতে থাকব, যাইবে, যাইতে থাকিব, যাইয়া থাকিব।

মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ পুরাতন সংস্করণ অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রকাশের জন্য মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি- ইয়া/ এ যোগ করে এবং ধাতুর সঙ্গে সাধারণ ভবিষ্যতের ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়াপদ তৈরি হয়।
যে বাক্যে ভবিষ্যৎ কালে ক্রিয়াটি সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে বোঝায় তা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল। 
তাই এটা পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে বা পরে সংঘঠিত হবে তাই সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
যেমন- আমি ভাত খাব। রানা স্কুলে যাবে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (১ম খণ্ড) অনুসারে,

পুরাঘটিত ভবিষ্যতের অর্থ বাংলায় ঠিক নির্মিত হয়না।
'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব'- ইত্যাদি প্রয়োগ খানিকটা সংশয়বাচক অর্থ প্রকাশ করবে।
এ থেকে বোঝা যায়- পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কালে এ ধরনের 'বলে থাকব, খেয়ে থাকব, পড়ে থাকব' শব্দ ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে 'যাব, শুনব' এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয় এবং কোন নিজস্ব বিভক্তি যুক্ত হয়না।
 
সে হিসাবে 'আমি আপনার আশায় সংবাদটি পৌঁছে দিব' বাক্যটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল।
(প্রশ্নটি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদের বই থেকে হুবুহু করা হয়েছিল। )

ভবিষ্যৎ কালের চারটি রূপ যথা-

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:
যে কাজ হয়নি, ভবিষ্যতে হবে তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- ঐশী গান গেয়ে শোনাবে।
- ভাত খাব।

• ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যতে আরম্ভ হয়ে চলতে থাকবে এমন বোঝায় তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমি হাঁটতে থাকব।
- তোমরা গান গাইতে থাকবে।

• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল :
ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।

• ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা :
ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝালে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা হয়।
যেমন:
- ক্লাসে সবসময় মনোযোগ দেবে
- প্রত্যহ ভোরে ঘুম থেকে উঠবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৮০.
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।'এখানে 'মাঝে'-অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. একদেশিক
  3. মধ্যে
  4. ক্ষণকাল
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল
ব্যাখ্যা
• ’নিমেষ মাঝেই সব শেষ।’ এখানে 'মাঝে'-অনুসর্গটি ’ক্ষণকাল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• ’মাঝে’ অনুসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়:
- ’মধ্যে’ অর্থে ='সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
-’একদেশিক’ অর্থে = এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
- ‘ক্ষণকাল’ অর্থে =  নিমেষ মাঝেই সব শেষ।

উল্লেখ্য,
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৭৮১.
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা কোনটি?
  1. কাজটি করে ফেল। 
  2. তোমরা এখন যাও।
  3. আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
  4. চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
ব্যাখ্যা

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে,
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮২.
উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। - এই বাক্যে ‘ও’ কোন অব্যয়?
  1. ক) বিয়োজক অব্যয়
  2. খ) সংযোজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়: 
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
- তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• অন্যদিকে: 
• বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
- এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
- তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৩.
অলংকার আবেগ আছে কোন বাক্যে?
  1. ক) উহ! কি বিপদে পড়া গেল।
  2. খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  3. গ) আহা! বেচারার কত কষ্ট।
  4. ঘ) বাহ, চমৎকার লিখেছ।
সঠিক উত্তর:
খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
- দূর, এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
• প্রশংসা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: বাহ, চমৎকার লিখেছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: উহ! কি বিপদে পরা গেল।

• করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৮৪.
ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বৃষ্টি আসে আসুক।
  2. যা হয় হোক।
  3. সে একটু হাসুক।
  4. স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
বর্তমান কালে: চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে, 
-----------------
• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৫.
'আমি ব্যাংকে সেদিন পাঁচ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলাম।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. ঘটমান অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• 'আমি ব্যাংকে সেদিন পাঁচ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলাম।' বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:

যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায় :পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৮৬.
'পর্বত' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তুবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৮৭.
‘যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি কোন পদ নির্দেশ করে?
  1. ক) আবেগ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোজক
ব্যাখ্যা
• যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যদি’ শব্দটি যোজক পদ হিসেবে বাক্য ও পদ যুক্ত করেছে।

যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৮৮.
'একটানা আট দিন কোন বৃষ্টির দেখা নাই'- এখানে ' আট দিন ' কোনবাচক বিশেষণ?
  1. ক) পূরণবাচক বিশেষণ
  2. খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) পরিমাণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রমবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যে ' আট দিন ' হলো 'ক্রমবাচক বিশেষণ' ।

•ক্রমবাচক বিশেষণ- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়,তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। 
যেমন-
• এক টাকা
• আট দিন
• নয় মাস
•এছাড়া-
পূরণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম পূরণবাচক বিশেষণ ।

নির্দিষ্টতাবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ।

পরিমাণবাচক: যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে “আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৮৯.
'আমিনা কথা বলতে থাকবে।' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়ার কাজ ভবিষ্যতে শুরু হয়ে চলতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।

যেমন:
সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে।
মনীষা দৌড়াতে থাকবে।
আমিনা কথা বলতে থাকবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭৯০.
'সম্ভাবনা’ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ কোনটি?
  1. চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
  2. কাল একবার এসো।
  3. রোগ হলে ওষুধ খাবে।
  4. সদা সত্য বলবে।
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা পদ:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যত কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯১.
"পাভেল তাঁর ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' কোন প্রকার ক্রিয়া?
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- "পাভেল তার ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' দ্বিকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('তার ছোটভাইকে')

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন: সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৭৯২.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় ক্রিয়ার কোন ভাব হয়?
  1. সাপেক্ষ ভাব
  2. আকাঙ্ক্ষা ভাব
  3. নির্দেশক ভাব
  4. অনুজ্ঞা ভাব
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৩.
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনামের পুরুষ:
- বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।

বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ ৩ প্রকার।
যথা-
উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৪.
"তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।" - বাক্যে ‘না’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সম্ভাবনা
  2. সংশয়
  3. বিস্ময়
  4. অনুমান 
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনা
ব্যাখ্যা

• "তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।" - বাক্যে ‘না’ শব্দটি — সম্ভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিভিন্ন অর্থে 'না' অব্যয়ের ব্যবহার-
নিষেধ অর্থে - এখন যেও না।
• বিকল্প প্রকাশে - তিনি যাবেন, না হয় আমি যাব। 
• আদর প্রকাশে বা অনুরােধে-  আর একটি মিষ্টি খাও না খােকা। আর একটা গান গাও না।
• সম্ভাবনায় - তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।
• বিস্ময়ে - কী করেই না দিন কাটাচ্ছ। 
• তুলনায় - ছেলে তাে না, যেন একটা হিটলার।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৯৫.
কোনটি বিস্ময় আবেগের দৃষ্টান্ত?
  1. অ্যাঁ, বলছ কী?
  2. বাহ, চমৎকার লিখেছ।
  3. বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
  4. আহ! কী বিপদ।
সঠিক উত্তর:
অ্যাঁ, বলছ কী?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাঁ, বলছ কী?
ব্যাখ্যা
⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

অন্যদিকে,
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯৬.
'তিক্ততা' কোন পদের উদাহরণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৭.
নিচের কোন বাক্যে ‘কি’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তুমি যাবে কী?
  2. তুমি কি আমাকে চেনো?
  3. কী করি আজ ভেবে না পাই!
  4. আহা! কি যে সুন্দর!
সঠিক উত্তর:
তুমি কি আমাকে চেনো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি কি আমাকে চেনো?
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তুমি কি আমাকে চেনো?

--------------------
'কি' এবং 'কী' এর ব্যবহারবিধি:

'কি' (হ্রস্ব ই-কার):
- প্রশ্নবোধক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় (হ্যাঁ/না উত্তরের প্রশ্নে)। ("তুমি যাবে কী?" না হয়ে হবে- তুমি যাবে কি?")
- সন্দেহ বা বিস্ময় প্রকাশে। ("কী করি আজ ভেবে না পাই!" না হয়ে হবে- কি করি আজ ভেবে না পাই!)

'কী' (দীর্ঘ ঈ-কার):
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম (কোন জিনিস/বিষয়)।
- বিস্ময়সূচক অব্যয়।
- বিস্ময়সূচক বাক্যের প্রথমে অব্যয় হয়। ("আহা! কি যে সুন্দর!" না হয়ে হবে- আহা! কী যে সুন্দর!)

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৯৮.
বাক্যের অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. বিশেষ্য 
  2. সর্বনাম পদ
  3. অব্যয় পদ
  4. ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদের কোন ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

অর্থাৎ, যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থাকে, যার সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় না এবং পুরুষ বা বচন বা লিঙ্গ ভেদে যে পদের রূপের বা চেহারারও কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অব্যয় পদ বলে।

• অব্যয় পদ বাক্যে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে কখনো বাক্যকে আরো শ্রচতিমধুর করে, কখনো একাধিক পদ বা বাক্যাংশ বা বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম - দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৭৯৯.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল এর উদাহরণ কোনটি?
  1. আমরা ঢাকা যাব।
  2. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  3. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  4. তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
সঠিক উত্তর:
আমরা ঢাকা যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা ঢাকা যাব।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার:
- সাধারণ ভবিষ্যৎ
- ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং
- অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন:
- আমরা ঢাকা যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন: 
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০০.
কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. ক) মোহ
  2. খ) বিষাদ
  3. গ) লাজ
  4. ঘ) বাস্তব
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাস্তব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাস্তব
ব্যাখ্যা
বাস্তব হলো বিশেষণ পদ যার বিশেষ্য রূপ হলো বস্তু। অন্যদিকে মোহ, বিষাদ এবং লাজ হলো বিশেষ্য পদ যাদের বিশেষণ হলো যথাক্রমে মুগ্ধ/মূঢ়, বিষণ্ন এবং লাজুক। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)