বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

মোট প্রশ্ন৩২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সংস্কারক

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩২৮

২০১.
স্বত্ববিলোপ নীতি আরোপ করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ডালহৌসি
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
• স্বত্ববিলােপ নীতি
ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যেসব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক ও প্রবর্তনকাল 
বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন ।
 
• স্বত্ববিলোপ নীতির মূল বক্তব্য 
- লর্ড ডালহৌসির উল্লেখযােগ্য সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ছিল স্বত্ববিলােপ নীতি ।
- তিনি এক ঘােষণায় বলেন যে , কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে ।
- এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ পদ্ধতি 
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়ােগ করার আগে দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনভাগে ভাগ করেন –
(ক) স্বাধীন দেশীয় রাজ্য
(খ) কোম্পানির সৃষ্ট রাজ্য
(গ) কোম্পানির আশ্রিত বা কোম্পানির অধীনস্থ রাজ্য

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ 
- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
- এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই।
২০২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
২০৩.
কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব 'খাল খনন কর্মসূচী' চালু করেছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. জিয়াউর রহমান
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

খাল খনন কর্মসূচী:
- 'খাল খনন কর্মসূচী' চালু করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
- ওই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সহজ যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশের মডেল তৈরি করা।
- ওই মডেলকে মানুষ ‘জিয়া মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করে।
- ওই কর্মসূচি ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ মডেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল যাতে গ্রামের মানুষ খাদ্য বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিনিময়ে খাল খননের কাজে অংশগ্রহণ করেছিল।

উৎস: প্রথম আলো।

২০৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী -
  1. আশালতা সেন
  2. ইলা মিত্র
  3. লীলা নাগ
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
ব্যাখ্যা
লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
- কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য (তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন) তাঁকে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি 'দীপালি সংঘ' নামে নারীদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- দীপালি সঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে তিনি দীপালি স্কুল নামে একটি স্কুল ও অন্য বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের তিনি সদস্য হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
কার প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. নবাব সলিমুল্লাহ
  3. খাজা আব্দুল গণি
  4. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নবাব সলিমুল্লাহ:
- ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা এবং পিতামহের নাম যথাক্রমে নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ ও নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।
- ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি নেন।
- ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াব এস্টেট এর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর প্রস্তাবনায় ‘All India Muslim League’ গঠিত হয়।
- তিনি এর সহ-সভাপতি এবং গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
- সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন।
- ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তথসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২০৬.
শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক নিচের কোন পদে দায়িত্ব পালন করেন নি?
  1. কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র
  2. বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
  3. গভর্নর পূর্ব পাকিস্তান
  4. বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক: 
- উপাধি: শেরে বাংলা। 
- পেশা: রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক।
- জন্ম: ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩, সাটুরিয়া, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
- মৃত্যু: ২৭ এপ্রিল ১৯৬২ সালে।
- ১৯০৬: মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (ঢাকা) সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
- ১৯১৩: বঙ্গীয় আইন পরিষদ সদস্য (ঢাকা বিভাগ)।
- ১৯১৬-১৯২১:  সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সভাপতি। 
- ১৯৩৫: মেয়র কলকাতা।
- ১৯৩৭–১৯৪৩: মুখ্যমন্ত্রী অবিভক্ত বাংলা।
- ১৯৫৪: মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বাংলা।
- ১৯৫৫: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান।
- ১৯৫৬–১৯৫৮: গভর্নর পূর্ব পাকিস্তান।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যু, তিন নেতার মাজারে সমাহিত।
- তিনি  বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২০৭.
মাওলানা ভাসানী কবে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

- এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৮.
লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ,
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২০৯.
কার প্রচেষ্টায় ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়?
  1. এ.কে.ফজলুল হক
  2. আবুল কালাম আজাদ
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশের উপাধি 'দেশবন্ধু' ।
- সি.আর দাশ নামে সমধিক পরিচিত।
- হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জ্বলন্ত অগ্রদূত ছিলেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১০.
তিতুমীর কোন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. ফরায়েজী
  2. ওয়াহাবি 
  3. সিপাহী
  4. সন্ন্যাসী 
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াহাবি 
ব্যাখ্যা

ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য -
-  তিতুমীরের পরিচালিত তাহরিক-ই-মুহাম্মদীয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার।
- পরবর্তিতে এটি একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- যা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়।  
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা। 
- ইংরেজ সরকার, জমিদার নীলকরদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের মুখে তিতুমীর ও তার বাহিনী পরাজিত হয়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও পরবর্তিকালে স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সংগ্রাম প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১১.
সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. এ.কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১২.
মওলানা ভাসানীর জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী:
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১৮৮০-১৯৭৬) একজন বিখ্যাত  রাজনীতিক।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মওলানা ভাসানী নামে সমধিক পরিচিত।
- তিনি ছিলেন একজন স্ব-শিক্ষিত ব্যক্তি।
- তাঁর জীবন ছিল গ্রাম ভিত্তিক, মতবাদ উগ্র এবং ঔপনিবেশিক রীতিনীতির প্রতি আস্থাহীন।
- সারা রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রচুর প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন এবং বেশ কিছু সাধারণ ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন; তবে কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন নি।
- তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল কৃষক শ্রমিক জনসাধারণ, যাদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করে গেছেন।
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১৩.
’ফরায়েজি আন্দোলনের’ সূত্রপাত করেছিলেন কে?
  1. দুদুমিয়া
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. পীর মুহসীনউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা , নবম দশম শ্রেণি।

২১৪.
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. Banking with the Poor
  2. Voice of the Poor
  3. Grameen and the Poor
  4. Banker to the Poor
সঠিক উত্তর:
Banker to the Poor
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Banker to the Poor
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি গ্রামের “মহাজন ফকিরের স্কুল” নামে একটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন।
- মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন।
- ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। স্নাতকোত্তর শেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ব্যুরো অব ইকোনমিক্স-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরে, ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

- ১৯৬৫ সালে ড. ইউনূস ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। - ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

- গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার 'জোবরা' গ্রামে একটি অ্যাকশন গবেষণা পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল।
- ১৯৮৩ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পটি একটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
- তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি এবং গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই Banker to the Poor বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- পরবর্তীকালে, তিনি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

সূত্র: ইউনুস সেন্টার ঢাকা এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৫.
হিন্দু সমাজের সংস্কারের উদ্দেশ্যে রামমোহন রায় কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. ইয়ং বেঙ্গল
  2. সংস্কার মেলা
  3. তত্ত্ববোধিনী সভা
  4. আত্মীয় সভা
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা সহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

২১৬.
‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্যটি কোন চিত্রশিল্পীর?
  1. পটুয়া কামরুল হাসান
  2. মুস্তাফা মনোয়ার
  3. শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ
  4. জয়নুল আবেদিন
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
ব্যাখ্যা
মনপুরা ৭০:
- সত্তরের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়তাকে অবলম্বন করে একটি চিত্রশিল্প ‘মনপুরা ৭০’।
- ‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিকযুগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় এবং এক সকরুণ মানব-ট্র্যাজেডির তাৎক্ষণিক, সহানুভূতিপূর্ণ ও সবল রূপায়ন হিসেবে এগুলি বহির্বিশ্বেও শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- দুর্ভিক্ষের স্কেচে, কেবল তুলির কালো রেখায় যার সূচনা, সেটাকে বর্ণপ্রয়োগের ন্যূনতায় ও স্পেস ব্যবহারের পরিমিতিবোধে তিনি ক্রমশ এক নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।
- তাঁর এপর্যায়ের ছবিগুলো- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’ ‘সংগ্রাম’ এবং লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে সন্নিবেশিত চিত্র- ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা' প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২১৭.
কোন দেশগুলোতে ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  2. ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
  3. চীন, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়া
  4. সোমালিয়া, ইরিথ্রিয়া ও নাইজেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব:
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জন্য 'ডমিনো তত্ত্বটি' প্রযোজ্য ছিল।
- স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকটি পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করেছিল, তার মধ্যে 'ডমিনো তত্ত্ব' অন্যতম।

⇒ ডমিনো তত্ত্বে বলা হয়েছে, কোনো একটি রাষ্ট্রে যদি সমাজতন্ত্রীরা ক্ষমতাসীন হয়, তাহলে পাশের রাষ্ট্রটিও সমাজতন্ত্রীদের দখলে চলে যাবে।

⇒ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান এই তত্ত্বের উদ্যোক্তা হলেও তার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার প্রথম এই অঞ্চলে প্রয়োগ করেন।
- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোচিনে কমিউনিজমের কথা উল্লেখ করার সময় তত্ত্বটি বর্ণনা করেছিলেন।
- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় 'ভিয়েতনাম যুদ্ধ' ও স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র এই ডমিনো তত্ত্ব প্রয়োগ করা হয়েছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তিনি এন্টি-কমিউনিস্ট দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকারকে সহায়তা করেন।
- ডমিনো তত্ত্বটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- ১৯৫০-৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তত্ত্বটি প্রচার করেছিল।

উৎস: History.com
২১৮.
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে কত দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন?
  1. ৭ দফা
  2. ১১ দফা
  3. ১৭ দফা
  4. ১৯ দফা
সঠিক উত্তর:
১৯ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ দফা
ব্যাখ্যা

জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম (১৯৩৬-১৯৮১) ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 

⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। 

⇒ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। এগুলো হলো:
১. সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
২. শাসনতন্ত্রের চারটি মূলনীতি, অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্মক বিশ্বাস ও আস্থা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ,সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনে সর্বাত্মক প্রতিফলন।
৩. সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসাবে গঠন করা।
৪. প্রশাসনের সর্বস্তরে, উন্নয়ন কার্যক্রমে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৫. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন এর মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা।
৬. দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে তা নিশ্চিত করা।
৭. দেশে কাপড় এর উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোটা কাপড় নিশ্চিত করা।
৮. কোন নাগরিক যেন গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব গৃহায়ণ ব্যবস্থা করা।
৯. দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
১০. সকল দেশবাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
১১. সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুবসমাজকে সুসংহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
১২. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ প্রদান দান।
১৩. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১৪. সরকারী চাকরিজীবীদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তি উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
১৫. জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করা।
১৬. সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
১৭. প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা।
১৮. দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
১৯. ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।

২১৯.
রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন কত সালে?
  1. ১৮২৬ সালে
  2. ১৮২৭ সালে
  3. ১৮২৮ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৮ সালে
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:

- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২০.
কোন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পদক পান?
  1. মানবাধিকার
  2. নারীর ক্ষমতায়ন
  3. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  4. মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস
সঠিক উত্তর:
নারীর ক্ষমতায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারীর ক্ষমতায়ন
ব্যাখ্যা
◉ নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পদক পান।

প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন:
→ নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
→  গ্লোবাল পার্টনারশিপস ফোরাম-এর পক্ষ থেকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন-উইম্যান-এর পক্ষ থেকে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
→  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মালটার প্রেসিডেন্ট ম্যারি লুইস কোলেইরো প্রেকা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের স্ত্রী বান সুন-তায়েকও ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
→  পুরস্কার গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য,
→  শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে বাংলাদেশ 'পলিসি লিডারশিপ' ক্যাটাগরিতে 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ' পুরস্কার লাভ করে।
 
উৎস: যুক্তরাষ্ট্রস্থ বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
২২১.
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সৈয়দ আমীর আলী ব্যারিস্টার হন?
  1. ইননার টেম্পল
  2. লিঙ্কন্স ইন
  3. মিডল টেম্পল
  4. কেমব্রিজ ইন
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্কন্স ইন
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আমীর আলী:
→ সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী। 
→ তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
→ তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন। 
→ ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের 'লিঙ্কন্স ইন' থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন। 
→ তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। 
→ ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
ভারতে প্রথম মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন কে?
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. সৈয়দ আমির আলি
  3. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. মাওলানা উসমান গণি
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ আমির আলি:
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে
- গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমির আলি।
- তিনি ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ সালে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন। 
- বাংলা তথা ভারতে তিনিই প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি-দাওয়ার
- প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন।
- এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করেন।
- ফলে ১৮৮৫ সালে সরকার মুসলমানদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্য কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ কারণে
- তিনি ১৮৮৪ সালে কোলকাতায় মাদ্রাসায় কলেজ পর্যায়ে ইংরেজি শিক্ষা এবং করাচিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ 'The Spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'-এ

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২২৩.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচুর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. পদ্মগোখরো
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মগোখরো
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- মুসলমান মেয়েদের বন্দিদশা থেকে যিনি মুক্তির ডাক দিলেন, তাঁর নাম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যাকে সবাই বেগম রোকেয়া নামে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
- ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তার সাহিত্যচর্চার বিষয়বস্তু ছিল নারী সমাজকে নিয়ে।
- তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা-বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন।
- যা উপলব্ধি করেছেন, তা-ই তিনি তাঁর লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন।
- সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা।
- তাঁর 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'মতিচুর', 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে সে চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২২৪.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম কোন জেলায়?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- তিনি বঙ্গবীর নামেও পরিচিত।
- ১৯১৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- যদিও তাদের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ থানায় যা এখন ওসমানী নগর।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি বার্মা (মিয়ানমার) রণাঙ্গনে ব্রিটিশ বাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন।
- ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন ১৯৪৭ সালে।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে জেনারেল পদ বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনী থেকে অবসরগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন।
- ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ওসমানী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) The Daily Star Bangla.
২২৫.
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান কোনটি?
  1. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
  2. মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা
  3. নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
নবাব সলিমুল্লাহ:
- ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ১৮৭১ সালের ৭ জুন নবাব সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা এবং পিতামহের নাম যথাক্রমে নওয়াব স্যার খাজা আহসানুল্লাহ ও নওয়াব স্যার খাজা আব্দুল গণি।
- ১৮৯৩ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি নেন।
- ১৯০১ সালে পিতার মৃত্যুর পর জীবিত জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি ঢাকা নওয়াব এস্টেট এর কর্তৃত্ব লাভ করেন।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর প্রস্তাবনায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
- তিনি এর সহ-সভাপতি এবং গঠনতন্ত্র তৈরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
- লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
- সেদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জন্য একজন শিক্ষা অফিসার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দানশীল ব্যক্তি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে তিনি অকাতরে দান করতেন।
- ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতার চৌরঙ্গীর বাসভবনে নওয়াব সলিমুল্লাহর মৃত্যু হয়।

তথসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২২৬.
মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. আয়েশা রহমান
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
সতীদাহ প্রথা প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের রচিত পুস্তক হলো-
  1. দোলন চাঁপা
  2. পথে হলো দেখা
  3. পথের পাঁচালী
  4. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
সঠিক উত্তর:
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ
রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার,
• সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
• গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৮.
উপমহাদেশের প্রথম নোবেল বিজয়ী কে?
  1. আব্দুস সালাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমর্ত্য সেন
  4. অভিজিত ব্যানার্জী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একজন বাঙালি কবি , ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার এবং চিত্রশিল্পী।
- তিনি  বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্য ও পদ্যের রূপ এবং কথ্য ভাষার ব্যবহার প্রবর্তন করেছিলেন।
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রথম উপমহাদেশীয় এবং অ-ইউরোপীয়। 
- ১৯১৫ সালে ঠাকুরকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করা হয়, কিন্তু ১৯১৯ সালে অমৃতসর (জালিয়ানওয়ালাবাগ) গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

• উপমহাদেশীয় নোবেল বিজয়ী:
- সাহিত্য (১৯১৩) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- পদার্থ (১৯৩০) – স্যার চন্দ্র শেখর ভেঙ্কট রমন (সিভি রমন)। 
- পদার্থ (১৯৭৯) – আব্দুস সালাম।
- পদার্থ (১৯৮৩) - সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখর ।
- রসায়ন (২০০৯) – ভি. রামকৃষ্ণ ।
- চিকিৎসা (১৯৬৮) – এইচ জি খোরানা। 
- অর্থনীতি (১৯৯৮) – অমর্ত্য সেন। 
- অর্থনীতি (২০১৯) – অভিজিত ব্যানার্জী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২২৯.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- এই মতবাদ প্রচার করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. দুদুমিয়া
  3. ফকির মজনু শাহ
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
ব্যাখ্যা
জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী এই মতবাদ প্রচার করেন দুদুমিয়া।

দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়া হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র।
- তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন, ‘দুদু মিয়া’ ছিল তাঁর ডাক নাম।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন অনেক বেশি শক্তিশালী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।

⇒ তিনি উপলব্ধি করেন যে, সমাজের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং দরিদ্রদেরকে শোষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
- দুদু মিয়া মনে করতেন, বিশ্বের মালিক ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্। সুতরাং ভূসম্পত্তিসহ সকল প্রকার পার্থিব সম্পত্তি ও সম্পদের মালিকও আল্লাহ্। তাই কর বা খাজনা যদি দিতে হয়, তবে তা আল্লাহ্ পথে দিতে হবে, কোন ব্যক্তিকে নয়। তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’।
- সে সময়কার জমিদারেরা রায়তদের ওপর যে সমস্ত খাজনা ও কর আরোপ করেছিল, দুদু মিয়া সেগুলোকে বেআইনি ও নীতি-বিরুদ্ধ বলে ঘোষণা দেন।
- নিপীড়িত রায়ত ও চাষীদেরকে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য দুদু মিয়া বাংলার পুরনো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন।

উল্লেখ্য,
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে।
- ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়।
- ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩০.
কার উদ্যোগে 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি:
- মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি একটি সামাজিক সংগঠন।
- ১৮৬৩ সালে নওয়াব আবদুল লতিফ কর্তৃক কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত।
- সোসাইটির সেক্রেটারি আবদুল লতিফের কলকাতার ১৬নং তালতলার বাসভবনে সোসাইটির সদর দপ্তর ছিল।
- সোসাইটির কমিটির মোট ১২ জন সদস্য ছিলেন। বাংলার ছোটলাটকে সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছিল।
- সমগ্র ভারতবর্ষের পাঁচ শ’রও বেশি মুসলমান সোসাইটির সাধারণ সদস্যভুক্ত ছিল।
- আবদুল লতিফের ভাষায় ‘মুসলমানদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সামাজিক আচরণ ও আদান-প্রদানে শিক্ষিত হিন্দু ও ইংরেজদের সমকক্ষ করে তোলাই ছিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৩১.
রাজা রামমোহন রায় কোন শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন?
  1. সতেরো শতক
  2. ষোল শতক
  3. উনিশ শতক
  4. বিশ শতক
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।

- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।
 
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে বলা যায়,
রাজা রামমোহন রায় - উনিশ শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

------------------------
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম - গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান । 
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩২.
'ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন।
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৬ সালে। 
- তিনি বেঙ্গল মুসলিম ইলেকশন বোর্ড নামে অপর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন ১৯২৯ সালে।
- ১৯৩২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯৩৭ সালে সোহ্‌রাওয়ার্দী কলকাতায় ইউনাইটেড মুসলিম পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন এবং নিজে এই দলের সম্পাদক হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন বাংলায় মুসলিম লীগের স্থপতি।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেন।
- তিনি ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- তিনি পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও  পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৩.
'দি স্পিরিট অব ইসলাম' গ্রন্থের লেখক কে?
  1.  নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক খ্যাতিমান লেখক।
- ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। 
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- তার দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
 - ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৩৪.
কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসিন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
কে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মসমাজ:
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সংস্পর্শে এসে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের প্রচলিত মূর্তি পূজা ও আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন।
- এই সভায় বেদ, উপনিষদ পাঠ করার ব্যবস্থা হয়।

⇒ রাজা রামমোহন রায়:

- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।

⇒ তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে 'তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) “মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)। তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী', 'মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

⇒ হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩৬.
তিতুমীর কোথায় বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন?
  1. ফিরোজাবাদ
  2. নারিকেলবাড়িয়া
  3. ব্যারাকপুর
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেলবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
নিম্নোক্ত কোন নেতা কারাগারের 'শহীদ চারনেতা' হিসেবে উল্লেখ নন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
জেলহত্যা:
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাই ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন অনেকটা দিশেহারা, সে সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতাসহ অনেককে বন্দি করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকরত চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৮.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
  3. নওয়াব সলিমুল্লাহ
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওয়াজেদ আলী সাহেব ছিলেন বরিশালের খ্যাতনামা আইনজীবীদের অন্যতম।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- তিনিই ছিলেন এ পদে অধিষ্ঠিত প্রথম বাঙালি মুসলমান।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন।
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহ সভাপতিত্বে লাহোরে প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয়।
- শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত।
- ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘকালের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তিনি বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেন।

উল্লেখ্য,
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৩৯.
কার প্রচেষ্টার কারণে হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি
  4. রাধানাথ সিকদার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।

⇒ তিনি একজন সফল সমাজ-সংস্কারকও ছিলেন।
- তিনি কন্যাশিশু হত্যা,বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন।
- তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৪০.
রাজা রামমোহন রায় কোন প্রথা দূরীকরণে বিশেষভাবে কাজ করেছেন?
  1. বিধবা বিবাহ
  2. কৌলীন্য প্রথা
  3. পণপ্রথা
  4. অশৌচ
সঠিক উত্তর:
কৌলীন্য প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌলীন্য প্রথা
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথাসহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৪১.
বাংলাদেশের কোন নেতা কলকাতার মেয়র ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. উপরের কেউই নন
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র হন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৪২.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হন কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
• এ.কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫),
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩);
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪); 
- পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং
- পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে 'শেরে বাংলা' বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪৩.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 
• জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
• তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
• জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’
কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
হেনরি ডিরোজিওর নেতৃত্বে গঠিত মুক্তচিন্তক ছাত্রগোষ্ঠীর নাম কী ছিল?
  1. ইয়ংফ্রেন্ড
  2. ইয়ংবেঙ্গল
  3. বেঙ্গলফ্রেন্ড
  4. মুক্তবেঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ংবেঙ্গল
ব্যাখ্যা
হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৫.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল্লামা ইকবাল
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম আজাদ
  4. সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত সৈয়দ আমীর আলী।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হচ্ছে 'The spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'.
- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- তিনি ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করে
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- সৈয়দ আমীর আলী নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৬.
কোন প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ইংরেজী কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. হিন্দু কলেজ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও লেখক।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানগরিমার জন্য ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ছিল বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তিনি সাহিত্যে অবদানের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারমূলক রচনাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়াও শিক্ষামূলক রচনার ক্ষেত্রে তাঁর লেখা আখ্যান মঞ্জরী, বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, কথামালা প্রভৃতি গ্রন্থ বাংলা ভাষা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৭.
নারী শিক্ষা আন্দোলনের জন্য 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আশালতা সেন
  2. লীলা নাগ
  3. ইলা মিত্র
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলা নাগ
ব্যাখ্যা
লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
- কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য (তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন) তাঁকে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি 'দীপালি সংঘ' নামে নারীদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- দীপালি সঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে তিনি দীপালি স্কুল নামে একটি স্কুল ও অন্য বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের তিনি সদস্য হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪৮.
’ব্রাহ্ম সমাজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে? 
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি
  3. স্বামী বিবেকানন্দ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথাসহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৪৯.
স্কুল পরিদর্শক থাকাকালিন সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কতটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন?
  1. ৩২টি
  2. ৩৩টি
  3. ৩৪টি
  4. ৩৫টি
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- শিক্ষা বিস্তারে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ।
- সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা তাঁর কীর্তি।
- স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে গঞ্জে তিনি ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম কী?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. আবুল হাশেম
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির মধ্যে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় এবং ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে,
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ ১২১টি আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে বিজয়ী হয় এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে ভারতবর্ষে কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিলো?
  1. নারীশিক্ষা প্রসার আইন
  2. বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন
  3. হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
  4. সামাজিক সংস্কার আইন
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- শিক্ষা বিস্তারে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ।

সমাজ সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা তাঁর কীর্তি।
- স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে গঞ্জে তিনি ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
-  তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।

- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫২.
‘The spirit of Islam' গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ আহমদ খান
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

দি স্পিরিট অব ইসলাম (The Spirit of Islam):
- এর লেখক সৈয়দ আমীর আলী।
- এটি বিশ্লেষণধর্মী / যুক্তিভিত্তিক ইসলামি চিন্তাগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু: ইসলাম ধর্মের ইতিহাস, দর্শন, নৈতিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- আধুনিক যুগে ইসলামের ব্যাখ্যায় এটি একটি মাইলফলক গ্রন্থ।
- এর মূল উদ্দেশ্য ইসলামকে একটি যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানসম্মত ও মানবতাবাদী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা।

• সৈয়দ আমীর আলী:

- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন। 
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
মজনু শাহ কোন আন্দোলনের নেতা ছিলেন?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
 
উল্লেখ্য,
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
ব্রিটিশ সরকার কোন ব্যক্তিকে ‘খান বাহাদুর’ ও ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নওয়াব আব্দুল লতিফকে কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে 'খান বাহাদুর' পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৫.
আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের জনমত তৈরিতে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. সিরাজগঞ্জ
  2. নেত্রকোণা
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা

মাওলানা হামিদ খান ভাসানী: 
- জন্ম:  সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে ।

- মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬, ঢাকা ।
- উপাধি: মজলুম জননেতা।
- রাজনৈতিক জীবন শুরু: ১৯১৭ সালে কংগ্রেসে যোগদান।
- প্রথম গ্রেফতার: ১৯৩০ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে।
- মুসলিম লীগে যোগ: ১৯৪০ সালে;
- ১৯৪৪ সালে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত।
- আওয়ামী মুসলিম লীগ: ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ছিলেন প্রথম সভাপতি।
- আওয়ামী লীগ: ১৯৫৫ সালে "মুসলিম" শব্দ বাদ দিয়ে দলটির নাম রাখেন "আওয়ামী লীগ"।
- ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী দ্বন্দ্ব: ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারায় সম্মেলনে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যান।
- ন্যাপ (ভাসানী): ১৯৫৭ সালে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।
- চীনপন্থী রাজনীতি: সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন;
- চীনপন্থী রাজনীতির প্রবক্তা সাংবাদিকতা: গণবাণী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- উল্লেখযোগ্য ভাষণ: “আসসালামু আলাইকুম, চীনাবান্ধব” তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২৫৭.
কোন বছর সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ১৯৫৬-১৯৫৭
  2. ১৯৫৮-১৯৫৯
  3. ১৯৬০-১৯৬১
  4. ১৯৬২-১৯৬৩
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬-১৯৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬-১৯৫৭
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, যিনি মানবিক মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জন্ম: ৮ সেপ্টেম্বর ১৮৯২, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
শিক্ষা: বিলেত থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে দেশে ফিরে আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
মৃত্যু: ১৯৬৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:
• ১৯২১ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হন।
• হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তিতে (১৯২৩) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
• ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে সহায়তা করেন।
• ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ অবদান:
• পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
• রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ এবং মেধার গুণগত মান বজায় রাখতে আপোস করেননি।
• বাংলাদেশে তাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ নামে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের জন্য তিনি একনিষ্ঠ সাধক হিসেবে স্মরণীয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দেশপ্রেম, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চিরকাল বিরাজমান থাকবেন।

উৎস:
- সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৮.
মাওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া
  4. ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- মাওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে।
- তিনি ১৯১৯ সালে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
- পরে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে আসাম শাখার সভাপতি হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে মুসলিম লীগকে পরাজিত করেন।
- ১৯৫৭ সালে কাগমারির সম্মেলনে নীতিগত দ্বন্দ্বে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সরে দাঁড়ান।
- পরে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করে রাজনীতি চালিয়ে যান।
- ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে তিনি ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন এবং ঐ বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২৫৯.
'সত্যাগ্রহ আন্দোলন' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. শরৎ বসু
সঠিক উত্তর:
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
ব্যাখ্যা
• মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
কোন রাজনীতিবিদ ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব প্রদান করেন?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- তিনি মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

⇒ ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- রাজনৈতিক জীবনে মওলানা ভাসানী ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৮ সালের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মওলানা ভাসানী ভারতে চলে যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি হন।
- ১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল ঢাকায় পল্টনের জনসভায় চোরাচালানের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ব্যক্ত করেন।
- আজীবন শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন মওলানা ভাসানী।
- ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের দিকে একটি মিছিলের আয়োজন করেন বাংলাদেশের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- এই মিছিল ও সমাবেশ 'ফারাক্কা লংমার্চ' হিসেবে পরিচিত।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী যখন ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন তখন তার বয়স ৯০ বছরের বেশি।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: i) Bdnews24.
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৬১.
আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম সংস্থা গড়ে তোলেন কে?
  1. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত: 
- মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া অবদান রয়েছে।
- ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠা পুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেগম রোেকয়ার জন্ম।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আলী সাবের।
- এবং মাতার নাম রাহাতুন্নেসা চৌধুরাণী।
- প্রায় ১৭ বছর বয়সে ১৮৯৮ সালে ৩৮ বছর বয়স্ক প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত হোসেনের সাথে রোকেয়ার বিয়ে হয়।
- শিক্ষার প্রতি স্ত্রীর অনুরাগ দেখে বিদ্যার্জনে তার স্বামী তাকে নানা ভাবে সহযোগিতা করেন।
- "সুলতানার স্বপ্ন" গ্রন্থটি তার স্বামীর অনুপ্রেরণারই ফসল।

উৎস: সমাজ কল্যাণ ১ম পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬২.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সৈয়দ আমীর আলি
সঠিক উত্তর:
এ.কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩৫ সালে কৃষক প্রজা পার্টি গঠিত হয়।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমির আলী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আবদুল লতিফ ছিলেন মুসলমানদের জাগরণের অন্যতম স্থপতি।
- ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৪৯ সালে ‘ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট' পদে যোগ দেন এবং ১৮৭৭ সালে ‘প্রেসিডেন্সী ম্যাজিস্ট্রেট' হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৮৮৪ সালে বিশেষ পেনশন সুবিধাসহ সরকারি চাকরি হতে অবসর নেন।
- তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতা এবং সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশনজনহিতকর কার্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৬২ সালে তাঁকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত করা হয়। মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ গৌরবের অধিকারী।
- ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য এবং মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ১৮৭৭ সালে তাঁকে 'খান বাহাদুর’, ১৮৮০ সালে ‘নওয়াব’, ১৮৮৩ সালে সি.আই.ই. এবং ১৮৮৭ সালে উচ্চতর সম্মানের প্রতীক ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে ।
- ১৮৬০ সালে সরকার কর্তৃক 'নীল কমিশন গঠনের পেছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফ মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৪.
কোন ব্যক্তি ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
• সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের অবদান: 
শিক্ষাক্ষেত্রে:
- ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান।
- ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন। যার আয় থেকে এখনও হাজার হাজার শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা লাভ করে থাকে। শিক্ষার প্রসারের জন্য নিজ এলাকায় হুগলী কলেজ ও হুগলী মাদ্রাসা স্থাপন করেন।
- ধর্ম শিক্ষার জন্য তিনি বহু মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মাণ ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করেন। অমুসলিম ছাত্রদের জন্য তিনি উদারভাবে দান করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র- এইচএসসি প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৫.
'সতীদাহ প্রথা' বিলুপ্তকরণে মুখ্য ভূমিকা রাখেন -
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
 • সতীদাহ প্রথা:
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন
- তিনি বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬৬.
কাগমারী সম্মেলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. স্যার সলিমুল্লাহ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

কাগমারী সম্মেলনের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দিয়েছিলেন।

আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- তিনি মওলানা ভাসানী হিসেবে পরিচিত।
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

⇒ ১৯৫৭ সালে ভাসানী টাঙ্গাইলের কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন আহ্বান করেন।
- এ সম্মেলন 'কাগমারি সম্মেলন' নামে খ্যাত।
- ঐ সম্মেলনে তিনি সোহরাওয়ার্দীর বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন। এ মতবিরোধের কারণে দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐ বছর মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থি দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। তিনি এ দলের সভাপতি হন এবং এর সেক্রেটারি জেনারেল হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। এ সময় থেকে মওলানা প্রকাশ্যে বামপন্থি রাজনীতি অনুসরণ করতে থাকেন।

উৎস: i) আমার বাংলা বই, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৬৭.
সমাজসেবক হলেও সমাজ সংস্কারক নয় কে?
  1. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মুহম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
হাজী মুহম্মদ মহসীন:
- সমাজসেবক হলেও সমাজ সংস্কারক নয়।
কারণ:
- তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসার উন্নতি সাধনে প্রচুর অর্থ দান করেন।
- তিনি তাঁর সমুদয় অর্থ শিক্ষা বিস্তার চিকিৎসা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয় করেন।
- ১৮০৬ সালে মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে তিনি ‘মহসীন ফান্ড’ নামক একটি ফান্ড গঠন করে তার সমস্ত সম্পত্তি জনহিতকর কাজে দান করেন।
কিন্তু সমাজ পরিবর্তন বা সংস্কারের জন্য তিনি তারঁ উল্লেখযোগ্য অবদান দেখা যায় না।

অন্যদিকে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ আই চালুকরণে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। 
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।

উল্লেখ্য,
- হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ছিল মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ এবং মায়ের নাম ছিল জয়নাব খানম। তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে।
- দানশীলতার জন্য ইতিহাসে তিনি ‘দানবীর বা বাংলার হাতেম তাই’ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৮.
‘নাইওর’ কোন চিত্র শিল্পীর বিখ্যাত চিত্রকর্ম?
  1. এস.এম সুলতান
  2. কামরুল হাসান
  3. রফিকুন নবী
  4. হাশেম খান
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
শিল্পী কামরুল হাসান:
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে।
- কামরুল হাসানের শিক্ষাজীবন কাটে কলকাতায়।
- তিনি কলকাতার মডেল এম ই স্কুল (১৯৩০-৩৫) এবং কলকাতা মাদ্রাসায় (১৯৩৬-৩৭) প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘তিনকন্যা’ ও ‘নাইওর’ তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
২৬৯.
'মনপুরা-৭০' চিত্রকর্মের চিত্রশিল্পী কে?
  1. এস.এম. সুলতান
  2. সফিউদ্দিন আহমেদ
  3. কামরুল হাসান
  4. জয়নুল আবেদিন
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নুল আবেদিন
ব্যাখ্যা
মনপুরা ৭০:
- সত্তরের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়তাকে অবলম্বন করে একটি চিত্রশিল্প ‘মনপুরা ৭০’।
- ‘মনপুরা ৭০’ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিকযুগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় এবং এক সকরুণ মানব-ট্র্যাজেডির তাৎক্ষণিক, সহানুভূতিপূর্ণ ও সবল রূপায়ন হিসেবে এগুলি বহির্বিশ্বেও শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- দুর্ভিক্ষের স্কেচে, কেবল তুলির কালো রেখায় যার সূচনা, সেটাকে বর্ণপ্রয়োগের ন্যূনতায় ও স্পেস ব্যবহারের পরিমিতিবোধে তিনি ক্রমশ এক নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।
- তাঁর এপর্যায়ের ছবিগুলো- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’ ‘সংগ্রাম’ এবং লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে সন্নিবেশিত চিত্র- ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা' প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৭০.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূস কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. Bangladesh Liberation Forum
  2. Bangladesh Citizens Committee
  3. Friends of Bangladesh
  4. Bangladesh Friends Committee
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Citizens Committee
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bangladesh Citizens Committee
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়াও র‍্যামন ম্যাগসেসে এওয়ার্ড ও বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, মুহাম্মদ ইউনূস তখন যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সেখানে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জোগাতে বাঙালিদের সংগঠিত করা, তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনসহ জাতিসংঘে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একটি নাগরিক কমিটি (Bangladesh Citizens Committee) প্রতিষ্ঠা করেন এবং অন্য বাংলাদেশিদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের জন্য সমর্থন সংগ্রহ করতে বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার পরিচালনা করেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রকাশ করতেন ‘বাংলাদেশ নিউজলেটার’।

⇒ অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও আমার জীবন’-এ তিনি এসব উল্লেখ করেছেন।

উৎস: i) Nelson Mandela Foundation ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২৭১.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি (মুসলিম সাহিত্য সমাজ)'-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সৈয়দ আমির আলি
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মীর মুহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

• নওয়াব আবদুল লতিফ:
- তিনি ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল লতিফ কোলকাতা মাদ্রাসায় ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।
- ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ও পরে কোলকাতা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা করেন।
- ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগদান করেন।
- ১৮৭৭ সালে কোলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৮৪ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের জন্য ‘খান বাহাদুর’ ও পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- ১৮৫৩ সালে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক রচনার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো–পার্সিয়ান বিভাগ চালু হয়।
- হিন্দু কলেজকে প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন, ফলে মুসলমানরা সেখানে পড়ার সুযোগ পায়।
- তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি (মুসলিম সাহিত্য সমাজ) প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৭২.
মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসি কোথায় কার্যকর হয়েছিল?
  1. ব্যারাকপুর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৭৩.
মাস্টারদা সূর্যসেন কত সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:

- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
কার উদ্যোগে ইংরেজ সরকার নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠন করে?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. মীর নাসির আলী তিতুমীর
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ উনিশ শতকের বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত ও সমাজসেবক। 
- ফরিদপুর জেলার রাজাপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি ১৮২৮ সনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন ১৮৪৯ সালে। 
- তিনিই প্রথম সরকারি আমলা যিনি নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে নীল চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফের উদ্যোগে নীলকরদের অত্যাচার বন্ধ করার লক্ষ্যে ১৮৬০ সালে ইংরেজ সরকার নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠন করে।
- ভুপালের নবাবের দরবারেও কিছুকাল প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের শিক্ষিত করতে ১৮৬৭ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি স্থাপন করেন।
- বাংলার মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূণ।
- নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনাবসান হয় ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৫.
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন কোন সংস্কারক?
  1. রাজা রামমোহন রায় 
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. নওয়াব আদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায় 
ব্যাখ্যা

• সতীদাহ প্রথা: 
- সতীদাহ প্রথা ভারত উপমহাদেশে নিষিদ্ধ করেছিলেন ব্রিটিশ শাসক লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। 
- রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- ১৮২৯ সালে তিনি "রেগুলেশন XVII" আইন পাস করেন, এর মাধ্যমে হিন্দু বিধবা নারীদের জীবন্ত দাহ করা বা সতীদাহ প্রথা বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
- এই আইনে ‘সতীদাহ প্রথা বা হিন্দু বিধবা নারীকে জীবন্ত দাহ বা সমাধিস্থ করা বেআইনি’ বলে ঘোষণা করা হয়। 
- লর্ড বেন্টিঙ্ক ছিলেন একজন মানবহিতৈষী সংস্কারপন্থী, এবং তার প্রচেষ্টার ফলে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৭৬.
"দি স্পিরিট অব ইসলাম" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
(১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং, 
(২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।

- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. সৈয়দ আমির আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
Who is the founder of the 'Mohammedan Literary Society'?
  1. Raja Rammohan Roy
  2. Nawab Abdul Latif
  3. Syed Ameer Ali
  4. Syed Ahmed khan
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
Nawab Abdul Latif
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nawab Abdul Latif
ব্যাখ্যা
• মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি:
- মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন নওয়াব আবদুল লতিফ
- তিনি ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৯.
বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. আবদুল লতিফ
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসিন
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
⇒ বিধবা বিবাহের জন্য সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

হিন্দু বিধবা বিবাহ:
- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি 'দ্য হিন্দু উইডো'স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬' নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৮০.
ভারতবর্ষকে 'বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. বিশ্বনাথ সর্দার
  4. ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
- 'ফরায়েজি' শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যারা ফরজ পালন করেন তাঁরাই ফরায়েজি।
- আর বাংলায় যাঁরা হাজী শরীয়তউল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে।
-  ইসলাম অননুমোদিত সব বিশ্বাস, আচার-আচরণ ও অনুষ্ঠান ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে যা অবশ্যকরণীয়, তা পালন করার জন্য তিনি মুসলমান সমাজকে আহ্বান জানান।
- তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
- তিনি বিধর্মী-বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য তাঁর অনুসারী মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২৮১.
ইংরেজ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার জন্য কে বোমা নিক্ষেপ করে?
  1. ক্ষুদিরাম বসু
  2. তিতুমীর
  3. সূর্য সেন
  4. বাঘা যতীন
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদিরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদিরাম বসু
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:
- ক্ষুদিরাম বসু বিপ্লবী ও শহীদ।
- মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম। 
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মতো স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে এবং পরিণামে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন।
- আরও কয়েকজনের সঙ্গে সেখানে তিনি শরীরচর্চার সাথে সাথে নৈতিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা পেতে শুরু করেন।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে উৎপাদিত কাপড় পোড়ানো ও ইংল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত লবণে বোঝাই নৌকা ডোবানোর কাজে ক্ষুদিরাম অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- ১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগড় রেল স্টেশনের কাছে বঙ্গের ছোটলাটের বিশেষ রেলগাড়িতে বোমা আক্রমণের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার দায়িত্ব পড়ে প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর।
- কিন্তু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান।
- এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। 
- মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৮২.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিলো কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.): 
- বর্তমান শরিয়তপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শরিয়তউল্লাহর জন্ম হয়।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ হজ্জ করতে মক্কা গমন করেন- ১৭৯৯ সালে
- ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল- ফরিদপুর।
- হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন- তার একমাত্র পুত্র দুদু মিয়া।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ পরিচালিত ফরায়েজি আন্দোলন ছিল- ধর্ম সংস্কার আন্দোলন।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৩.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. আবুল কালাম আজাদ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
২৮৪.
'মুসলিম মহিলা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৮৫.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. শেখ ফজলুল হক মণি
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. তোফায়েল আহমেদ
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাকশাল: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৮৬.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করেছিলেন?
  1. অক্টোভিয়ান হিউম
  2. ফিরোজ শাহ মেহতা
  3. উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
  4. এ টি তেলাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
ব্যাখ্যা

- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- এটি 
১৮৮৫ সালে তৎকালীন বড়লাট ডাফরিনের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
- শুরুতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো শিক্ষিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন সম্পর্কে ভারতীয়দের অসন্তোষ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ শাসকদের নিকট তুলে ধরা।

- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে।
- এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
কোন বাঙালী নেতার নামের আগে নেতাজী বলা হয়?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. বিধান চন্দ্র রায়
  4. মণি সিংহ
সঠিক উত্তর:
সুভাষ চন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভাষ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
সুভাষ চন্দ্র বসু:
- সুভাষ চন্দ্র বসু ছিলেন কংগ্রেস দলের বামপন্থী নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লক এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সর্বাধিনায়ক। 
- ২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭-এ সুভাষচন্দ্রের জন্ম হয়।
- তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত।
- সুভাষচন্দ্র পরপর দুইবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- কিন্তু গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- সুভাষচন্দ্র মনে করতেন, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অহিংসা এবং সত্যাগ্রহের নীতি ভারতের স্বাধীনতা লাভের জন্য যথেষ্ট নয়।
- এই কারণে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। 
- ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করে।
- তার বিখ্যাত উক্তি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।" 
- ১৯৩০ সালে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে গান্ধীর লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে ফরমোজায় এক বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষ নিহত হন বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৮৮.
জেনারেল এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে কে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি লতিফুর রহমান
  3. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ
  4. আবদুর রহমান বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
- জেনারেল এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠা:

- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
- সারাদেশে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে সরকার ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে জনগণ রাস্তায় নেমে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করে।
- সামরিক বাহিনী এরশাদকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ।
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ পদত্যাগ করেন।
- তিন-জোটের মনোনীত প্রার্থী, প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
- এরশাদ পদত্যাগ করে বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
- এর মাধ্যমে এরশাদের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দেশের প্রথম অসামরিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ।

সূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. দ্বিতীয় আকবর
  2. শ্যামাপ্রসাদ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২ শে মে পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে ব্রাহ্মন পরিবারে রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- কট্টর হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও ইসলাম ও খৃষ্ট ধর্মের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অধ্যয়ন করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- ১৮২২ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট 'দ্বিতীয় আকবর' রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৯০.
ফরায়েজি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন-
  1. মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর
  2. হাজী শরাফতুল্লাহ
  3. মওলানা আবুল কালাম
  4. মুহসিন উদ্দিন আহমদ দুদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
মুহসিন উদ্দিন আহমদ দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহসিন উদ্দিন আহমদ দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
- তিনি বিধর্মী-বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য তাঁর অনুসারী মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
- তাঁর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯১.
বাংলাদেশে একুশে পদকের প্রবর্তক কে?  
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. বেগম খালেদা জিয়া
  4. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

 ১৯৭৬ সালে একুশে পদক প্রবর্তন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

একুশে পদক:
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।
- ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান একুশে পদক প্রবর্তন করেন।
- জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে এ পদক দেওয়া হয়।
- ১৯৭৬ সালে সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং শিক্ষায় মোট ৯ জনকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।  

• একুশে পদক-২০২৫ প্রাপ্ত ব্যক্তি:
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে ২০২৫ সালের একুশে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ছয়জনই মরণোত্তর এ সম্মাননা পেয়েছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তরা -
- চলচ্চিত্রে আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)।
- সংগীতে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা।
- আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন।
- চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা।
- সাংবাদিকতায় মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর)।
- সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান।
- সংস্কৃতি ও শিক্ষায় শহীদুল আলম।
- শিক্ষায় নিয়াজ জামান।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।
- সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর)।
- ভাষা ও সাহিত্যে হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) ও শহীদুল জহির (মরণোত্তর)।
- গবেষণায় মঈদুল হাসান।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

২৯২.
কোন কারণে হাজী মুহম্মদ মহসীন ইতিহাসে বিখ্যাত?
  1. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা
  2. সমরকুশলতা
  3. বীর যোদ্ধা
  4. দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
দানশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানশীলতা
ব্যাখ্যা
দানশীলতার জন্য হাজী মুহম্মদ মহসীন ইতিহাসে বিখ্যাত।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন:
- হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন।

উলেখ্য,
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।

⇒ সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে মুহসিনের অবদান:
• শিক্ষাক্ষেত্রে: ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান। ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন। যার আয় থেকে এখনও হাজার হাজার শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা লাভ করে থাকে। শিক্ষার প্রসারের জন্য নিজ এলাকায় হুগলী কলেজ ও হুগলী মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ধর্ম শিক্ষার জন্য তিনি বহু মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মাণ ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করেন। অমুসলিম ছাত্রদের জন্য তিনি উদারভাবে দান করেন।

• জনহিতকর কার্য: মুহসীন জীবিত অবস্থাতেই খুলনা ও যশোর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বহু দীঘি, পুকুর ও খাল খনন করেন। লবনাক্ততা থেকে জনগণের ফসল রক্ষার জন্য তিনি বহু বাঁধ ও বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করেন। নিজের এলাকাতেও জনস্বার্থে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। হুগলীতে অবস্থিত "ইমামবাড়া" জনহিতকর কাজের উজ্জল দৃষ্টান্ত।

• জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে: জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর স্মরণীয় দান হচ্ছে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন। তাছাড়া, দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে ওষুধপত্র বিতরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য অন্যতম।

• দানবীর হিসেবে: বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান। গরীব, দুঃখী, অন্ধ, এতিম, বৃদ্ধ অসহায়দের তিনি উদারভাবে দান করতেন। তাঁর দানের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এমনকি চোর-ডাকাতও ভেদাভেদ ছিলনা।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
হাজী শরীয়তুল্লাহ্ মৃত্যুর পর 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব দেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
-  তিনি ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- তিনি শিক্ষক তাহের সোম্বলের নিকট সুফিবাদের কাদেরিয়া তরিকায় দীক্ষিত হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি ইসলামের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্য বা ‘ফরজ’ পালনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। 
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদু মিয়া 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২৯৪.
কোন ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন?
  1. চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার আইন পাস
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. সিপাহী আন্দোলন
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
- ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাযজ্ঞটি সংঘটিত হয়েছিল ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল।
- ব্রিটিশ সরকারের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ ও শিশুদের এক সমাবেশে শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তার ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইংরেজদের সুবিধা করে দিতে ১৯১৯ সালের ১০ মার্চ বলবৎ করা হয় কুখ্যাত ‘রাওলাট অ্যাক্ট’।
- এমনই এক সময়ে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে ডাকা হলো এক প্রতিবাদসভা।
- সেদিন আবার ছিল পাঞ্জাবের অন্যতম বৃহৎ উৎসব বৈশাখীরও দিন।
- তখন পাঞ্জাবে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সাতসকালেই উদ্যান ভরে গেল উৎসাহী ক্রোধতপ্ত মানুষে।
- ইংরেজ সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে মুহূর্তেই গুলি ছুটল প্রতিবাদী জনসমষ্টির দিকে।
- এতে মারা যায় অসংখ্য মানুষ।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- ব্রিটিশরা তাঁকে 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করে ১৯১৫ সালে।
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালে তিনি তাঁর ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন।

উৎস: i) ১৭ মে ২০১৬, বিবিসি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৯৫.
“বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।” উক্তিটি কার?
  1. লর্ড ডার্লহৌসী
  2.  লর্ড ক্যানিং
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- তার অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিজের ভাষায়, “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।”
- পূর্বে রীতি ছিল হিন্দু নারীর পতি মারা গেলে সে আর বিয়ে করতে পারবে না।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৩ সালে তিনি এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ব্যবস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করা হলে ভারতের সর্বত্র পক্ষে-বিপক্ষে
ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।
- রাজা রাঁধা কান্ত দে এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭,০০০ লোকের স্বাক্ষরিত এক আবেদন পত্র ভারত সরকারের নিকট দাখিল করেন।
- পরিশেষে লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৬.
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা - নওয়াব আব্দুল লতিফ।

• আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফের জন্ম- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন।
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার প্রথমে তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ এবং পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফের সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্যযোগ্য কীর্তি ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা।

উৎস:  ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
লাহোর প্রস্তাব কবে পেশ করা হয়েছিল?
  1. ১৯৩৫ সালে 
  2. ১৯৪০ সালে 
  3. ১৯৪৭ সালে 
  4. ১৯৪৯ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে 
ব্যাখ্যা
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর শহরে এটি পেশ করা হয়।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইতএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মাহমুদুল হক ওসমানী
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন এক কর্মী সম্মেলন আহবান করে।
- এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় স্বামীবাগের রোজ গার্ডেনে। এতে প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি যোগদান করেন। ২
- ৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- এর সভাপতি হন মওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারিতে এক সম্মেলন আহবান করেন।
- ঐ সম্মেলনে তিনি সোহরাওয়ার্দীর বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন।
- এ মতবিরোধের কারণে দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- ঐ বছর মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থি দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৯৯.
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুনীতি ঘোষ
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. শেরে বাংলা ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

- 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আমীর আলী।

সৈয়দ আমীর আলী:

- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
-  সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

উৎস: ¡)বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
         ¡¡)বাংলাপিডিয়া।