বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা৯৯প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৯৯ / ৭০৪

৬০১.
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া ‘মুজিবপিডিয়া’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. কবির হোসেন
  2. ফরিদ কবির
  3. জিল্লুর রহমান
  4. ফখরুল আলম
সঠিক উত্তর:
ফরিদ কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদ কবির
ব্যাখ্যা
মুজিবপিডিয়াl:
⇒ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া ‘মুজিবপিডিয়া’ সম্পাদনা করেন - ফরিদ কবির।

উল্লেখ্য,
• জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জ্ঞানকোষ ‘মুজিবপিডিয়ার’ মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
• এতে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন এবং তাঁর সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঠিক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।
• মুজিবপিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত বঙ্গবন্ধু পরিবার সংক্রান্ত ভুক্তিগুলো সংশোধন ও সম্পাদনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। 
• ১০ জুলাই, ২০২৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
• এ সময় মুজিবপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সম্পাদক ফরিদ কবির, নির্বাহী সম্পাদক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন। 
• এটি উপমহাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ, যাতে অনুসরণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপদ্ধতি।
• ১/৮ ডিমাই সাইজের দুই খণ্ডের এ বইটিতে রয়েছে ৫৯১টি ভুক্তি ও ৭৫০টি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।

উৎস: ১০ জুলাই ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
৬০২.
When was Bangabandhu accused in the 'Agartala Conspiracy Case'?
  1. ক) 22 February, 1968
  2. খ) 19 June, 1968
  3. গ) 18 January, 1968
  4. ঘ) 3 January, 1968
সঠিক উত্তর:
গ) 18 January, 1968
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 18 January, 1968
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৩.
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির মূলভিত্তি ছিল-
  1. ক) মুসলিম অধিকার আদায়ের চেতনা
  2. খ) ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  3. গ) ভাষাভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বি-জাতি তত্ত্বের' ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। 'ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদ' ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬০৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর আব্দুর রব
  2. মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর খালেদ
সঠিক উত্তর:
মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টর
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
- হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।
- সেক্টরে গেরিলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার এবং নিয়মিত বাহিনী ছিল প্রায় ৪ হাজার।

• এই সেক্টরের ছয়টি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- জালালপুর (মাসুদুর রব শাদী); 
- বড়পুঞ্জী (ক্যাপ্টেন এ. রব); 
- আমলাসিদ (লেফটেন্যান্ট জহির); 
- কুকিতল (ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কাদের এবং পরে ক্যাপ্টেন শরিফুল হক); 
- কৈলাশ শহর (লেফটেন্যান্ট উয়াকিউজ্জামান); 
- কমলপুর (ক্যাপ্টেন এনাম)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬০৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন?
  1. করাচিতে
  2. ইসলামাবাদে
  3. লাহোরে
  4. ঢাকায়
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌,
দ্বিতীয় দফা- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা- মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা- রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা- বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৬.
শান্তিতে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন -
  1. ম্যাগসেসে পদক
  2. জুলিও ফ্রিডম পদক
  3. নেহেরু পদক
  4. জুলিও কুরি পদক
সঠিক উত্তর:
জুলিও কুরি পদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলিও কুরি পদক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৬০৭.
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১২ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদস্যবৃন্দ:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬০৮.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মােহাম্মদউল্লাহ
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
সংসদ নেতা: 
- সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন। 
- সংসদ নেতা ও সংসদ উপনেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তার নেতৃত্বেই জাতীয় সংসদে আইন প্রণীত হয় এবং তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করে থাকেন।
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

অপরদিকে, 
- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ও ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী যথাক্রমে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী, mujib100.gov.bd।
৬০৯.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেষ রণাঙ্গন হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. চকবাজার, চট্টগ্রাম
  2. ময়নামতি, কুমিল্লা
  3. মিরপুর, ঢাকা
  4. কালীবাড়ি, যশোর
সঠিক উত্তর:
মিরপুর, ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিরপুর, ঢাকা
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন:
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করলেও মিরপুর তখনো মুক্ত হয়নি।
- মিরপুর ছিল বিহারি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দলছুট পাকিস্তানি সেনাদের শক্ত ঘাঁটি।
- প্রায় দেড় মাস ধরে মিরপুর অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।
- ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধারা যৌথ অভিযান চালায়।
- তীব্র লড়াইয়ের পর ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে মিরপুর চূড়ান্তভাবে মুক্ত হয়।
- মিরপুরের মুক্তির মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের শেষ সশস্ত্র সংঘর্ষ বলা হয়।
- এই কারণে মিরপুরকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ রণাঙ্গন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস  - মানবজীবন ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট। 

৬১০.
১৭ মার্চ ১৯২০ কী কারণে স্মরণীয়?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির জন্মদিন
  2. খ) শেরে বাংলা এ. কে . ফজলুল হকের জন্মদিন
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন
  4. ঘ) মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুদিন
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মদিন
ব্যাখ্যা
১৯২০ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ সরকারি ওয়েবসাইট
৬১১.
সিপাহী হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৬নং
  2. ৪নং
  3. ৮নং
  4. ২নং
সঠিক উত্তর:
৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬১২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কে বঙ্গবন্ধু কী নামে নামকরণ করেছিলেন?
  1. করাচি ষড়যন্ত্র মামলা
  2. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  3. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  4. ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: 
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। 
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়। 
- এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। 
- এই মামলার সরকারি নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বাঙালিরা এটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে অভিহিত করে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। 
- আন্দোলন জোরদার হলে সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিনাশর্তে ৩৫ জন অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
তারামন বিবি কত নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ১১নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬১৪.
১৯৬৯ সালের কোন তারিখের জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়? 
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২২ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৪ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬১৫.
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু কত দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ক) ১১ দফা
  2. খ) ১৫ দফা
  3. গ) ২৫ দফা
  4. ঘ) ৩৫ দফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশক্রমে তাজউদ্দিন আহমদ ৩৫ দফা আন্দোলন কর্মসূচি ও নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা দ্বারা পূর্বের সকল নির্দেশাবলী বাতিল ঘোষিত হয়।
৩৫ দফা নির্দেশাবলীর প্রধান দফাসমূহ হলো:
১ নং দফা:
- সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পূর্ব থেকে চলমান হরতাল পালিত হবে।
২ নং দফা:
- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
৩ নং দফা:
- আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা।
৪ নং দফা:
- সামরিক কাজে ব্যবহার ব্যতীত বন্দরের অন্যান্য কাজ সচল থাকবে।
৫ নং দফা:
- আমাদনি প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : দ্বিতীয় খণ্ড : পৃষ্ঠা-৭৪১)
৬১৬.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অবস্থিত ঢাকার-
  1. ধানমন্ডিতে
  2. সেগুনবাগিচায়
  3. শাহবাগে
  4. আগারগাঁয়ে
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁয়ে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।


তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৬১৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন দেশ সফর করেন?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ভারত
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. ভুটান
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু কোন দেশ হিসেবে সর্বপ্রথম ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ ভারত সফর করেন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালের ২-১০ আগস্ট কানাডায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কমনওয়েলথ অংশগ্রহণ করেন।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীনী এবং দৈনিক যুগান্তর)
৬১৮.
বীরশ্রেষ্ঠ লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল কোথায়?
  1. করাচি
  2. লাহোর
  3. থাট্টা
  4. কাশ্মীর
সঠিক উত্তর:
থাট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাট্টা
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান:
- ​ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকার আগাসাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন।
​- তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পশ্চিম পাকিস্তানের সারগোদার পাকিস্তান বিমানবাহিনী পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন
- পরবর্তীতে পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমী থেকে ১৯৬৩ সালের জুনে কমিশন লাভ করেন।
-​ করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সম্পন্ন করে তিনি জেট পাইলট হিসেবে পেশোয়ারে যোগ দেন।
-​ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছুটিতে এসে ভৈরবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও যুদ্ধে অংশ নেন। 
​- পারিবারিক চাপে পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে তিনি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। 
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচি থেকে উড্ডয়নের সময় তিনি প্রশিক্ষণরত পাইলটের বিমানটি দখল করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিমানটি থাট্টায় বিধ্বস্ত হয় এবং তিনি শহীদ হন। 
- ​স্বাধীনতার পর তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব “বীরশ্রেষ্ঠ” প্রদান করা হয়।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬১৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' উপাধি দেয়-
  1. নিউজ উইক ম্যাগাজিন
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. আ. স. ম. আবদুর রব
  4. বিবিসি
সঠিক উত্তর:
বিবিসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিসি
ব্যাখ্যা

• ২০০৪ সালে বিবিসির এক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' খেতাব বা উপাধি পান।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তোফায়েল আহমেদ।
• ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন আ. স. ম. আবদুর রব।
• ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেন নিউজউইক ম্যাগাজিন।

৬২০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব কাটে কোন নদীর তীরে?
  1. ক) বাইগার নদী
  2. খ) আড়িয়াল খা নদী
  3. গ) ভৈরব নদী
  4. ঘ) শীতলক্ষ্যা নদী
সঠিক উত্তর:
ক) বাইগার নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাইগার নদী
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গােপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বর্তমান গােপালগঞ্জ জেলা সদরের দক্ষিণে ও পশ্চিমে মধুমতি নদী।
- আর 'বাইগার' নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া গ্রাম।
- মধুমতীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।

উৎস: গোপালগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
৬২১.
ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয় কোথায়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) করাচীতে
  3. গ) লাহোরে
  4. ঘ) কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
গ) লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাহোরে
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান :
- ১৯৬৩ সালে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিব। তিনি ছিলেন আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র তত্ত্বের কট্টর সমালোচক।
- ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
- এই ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা।
- মুজিবের ৬ দফার প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনে ভীত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মুজিবকে।
- ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্ৰীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়।সেখানেই উত্থাপিত হয় এগার দফা দাবি যার মধ্যে ছয়দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- লাখো মানুষের এই জমায়েতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের ফলে একদিকে ছয়দফা কর্মসূচির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের পর অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। 

উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২২.
মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. মেহেরপুর
  2. সাতক্ষীরা
  3. চুয়াডাঙ্গা
  4. নবাবগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর 
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার কারণে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ. এইচ. এম কামারুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।  
৬২৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. প্রিয়যোদ্ধা প্রিয়তম
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

 তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৭।
৬২৪.
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' ও 'কারাগারের রোজনামচা' মধ্যে মিল কোথায়?
  1. ক) দুটোই চিঠিপত্র মূলক উপন্যাস
  2. খ) দুটোই দার্শনিক ও তত্ত্ব মূলক আলোচনা
  3. গ) দুটোই জেলখানায় বসে লেখা
  4. ঘ) দুটোই কন্যাকে লেখা চিঠিপত্র মূলক রচনা
সঠিক উত্তর:
গ) দুটোই জেলখানায় বসে লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুটোই জেলখানায় বসে লেখা
ব্যাখ্যা
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' ও 'কারাগারের রোজনামচা মধ্যে মিল - দুটোই জেলখানায় বসে লেখা।

• কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

অন্যদিকে,
- দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া বইটি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু আহমেদনগর ফোর্টে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- বইটির রচনা ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে শেষ হলেও এটি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা এবং বাংলাবুক, ভারতীয় জনতা পার্টির ওয়েবসাইট।[ লিঙ্ক]
৬২৫.
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কয়টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে?
  1. ২০টি
  2. ১৯টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
সঠিক উত্তর:
২২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২টি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ২২ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে। 
যে ২২টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে, সেগুলো হলো বম, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি, চাকমা, গারো, হাজং, খাসি, খিয়াং, কোচ, কোল, লুসাই, মাহালে, মেইতে মণিপুরি, ম্রো, মুন্ডা, ওঁরাও কুরুখ, ওঁরাও সাদ্রি, পাহাড়ি, পাংখোয়া, সাঁওতাল, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা ও কোডা।
সংখ্যায় বেশি বা পরিচিত চাকমা, গারো, সাঁওতাল ভাষার পাশাপাশি সংখ্যা একেবারে কম পাংখোয় এবং কোডাদের ভাষায় এ ভাষণ অনুবাদ হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
৬২৬.
ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কে ছিলেন?
  1. ক) ঝিলংজা মারমা
  2. খ) ইউ কে চিং মারমা
  3. গ) সন্তু লারমা
  4. ঘ) আরুপ মারমা
সঠিক উত্তর:
খ) ইউ কে চিং মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউ কে চিং মারমা
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ইউ কে চিং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।

(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন নিউজ রিপোর্ট)

৬২৭.
'বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবন' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) লন্ডন
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) ধানমন্ডি ৩২ নম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কলকাতা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভবনের নির্মাণ হয়। 
- বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলের নবনির্মিত বর্ধিত ভবনের নাম রাখা হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবন।
- ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারীতে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দিপু মনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন।
- পাশাপাশি বেকার হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষের সামনে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ মূর্তি এবং ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়াও,
- কলকাতার পার্কসার্কাসে অবস্থিত  ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরনি।

উৎস: বাংলানিউজ২৪.কম এবং কালের কন্ঠ।
৬২৮.
কোন আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘Poet of Politics' হিসেবে অভিহিত করেছিল?
  1. ক) Times
  2. খ) Readers' Digest
  3. গ) Newsweek
  4. ঘ) The Economist
সঠিক উত্তর:
গ) Newsweek
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Newsweek
ব্যাখ্যা
• ২০০৪ সালে বিবিসির এক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' খেতাব বা উপাধি পান।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তোফায়েল আহমেদ।
• ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন আ. স. ম. আবদুর রব।
• ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেন নিউজউইক ম্যাগাজিন।

তথ্যসূত্র: আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট
৬২৯.
সম্প্রতি কোন শহরে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়?
  1. আঙ্কারা
  2. হেবরন
  3. ফ্রিটাউন
  4. কুয়েতসিটি
সঠিক উত্তর:
হেবরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেবরন
ব্যাখ্যা
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ফিলিস্তিনের হেবরন শহরে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। হেবরন শহর ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
৬৩০.
বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ১৭ মার্চ, ২০২০
  2. ১৭ মার্চ, ২০১৯
  3. ১৭ মার্চ, ২০২১
  4. ১৭ মার্চ, ২০২২
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ, ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ, ২০২০
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষই হলো মুজিববর্ষ। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তার জন্মের ১০০ বছর হয়। এই সময়কে স্মরণীয় করে রাখতেই পরবর্তী ১ বছর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশে এবং কিছু দেশ ও সংস্থার উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবেও “মুজিববর্ষ” পালিত হচ্ছে।

নিম্নে মুজিববর্ষ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোকপাত করা হল -
সময়কালঃ ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ সাল পর্যন্ত।
প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‍‘মুজিববর্ষ’ এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।
মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয় – ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে।
মুজিববর্ষ পালনের উদ্দেশ্যে একটি ‘‘জাতীয় কমিটি’’ গঠিত হয় যার সভাপতি হচ্ছেন – মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আবার, ‘জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি হচ্ছেন – জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় – ১০ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখ থেকে।
১৭ মার্চ, ২০২০ তারিখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির নাম – মুক্তির মহানায়ক। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠ করা কবিতাটির নাম – “বাবা”। কবিতাটির রচয়িতা – বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠাকন্যা শেখ রেহানা। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষণ প্রদান করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।
৬৩১.
মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বিদেশি হিসেবে 'বীর প্রতীক' খেতাব পান কে?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  3. এডওয়ার্ড কেনেডি
  4. জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বিদেশি হিসেবে 'বীর প্রতীক' খেতাব পান ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

মুক্তিযুদ্ধ:

- বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডকে বীর প্রতীক উপাধি দেয়া হয়।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।
- উইলিয়ম ওডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় বাটা সু কোম্পানিতে চাকুরিরত ছিলেন।
- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পার্থের এক হাসপাতালে ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু খ্যাতনামা সাংবাদিক সাইমন ড্রিং।
- এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অজস্র সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থী শিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তাঁরা ভূমিকা রেখেছেন।
- জর্জ হ্যারিসন ছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ» আয়োজন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৩২.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

যা কিছু বাংলাদেশে প্রথম: 

• প্রথম প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ।
• প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করে - মুসা ইব্রাহিম (২০১০ সালের ২৩ মে)।
• প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করেছেন - নিশাত মজুমদার।
• বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।
• প্রথম ইন্টারনেট ভিত্তিক - নিউজ এজেন্সি বিডিনিউজ।
• প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে - ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.।
• প্রথম এটিএম কার্ড চালু করে - স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। 
• বাংলাদেশের প্রথম আদম শুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৪ সালে।

'মুজিব নগর সরকার' সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
• গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
• শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।  
• সদরদপ্তর ছিলো - ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা।
• সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
• মন্ত্রণালয় ছিলো - ১২টি মন্ত্রণালয় ও ৩টি বিভাগ। 
• শপথ পাঠ করান - অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

'মুজিব নগর সরকার' এর সাথে যুক্ত ব্যাক্তিবর্গ:
• প্রথম রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ।
• পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
• অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - এম. মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন - এম.এ.জি ওসমানী।
• চিফ অব স্টাফ ছিলেন - কর্নেল আবদুর রব।

উৎস:
১. বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে নিচের কোন জন বিমান বাহিনীর সদস্য?
  1. ক) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মতিউর রহমান
  4. ঘ) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
গ) মতিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।
বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

৬৩৪.
কত সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা পেশ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৬০ সালে
  2. খ) ১৯৬২ সালে
  3. গ) ১৯৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালে ছয় দফা পেশ করা হয়েছিল। 

১৯৯৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
• ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ছয় লক্ষ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ছয়দফা রচিত হয় লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।

• ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি:
- ১ম দফাঃ শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি।
- ২য় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- ৩য় দফা: মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৪র্থ দফা: কর বা রাজস্ব বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৫ম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ৬ষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

• এছাড়াও -
- ৬ দফা উত্থাপন করা হয় মোট ৩বার।
- উত্থাপনকারী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রথমবার ৫-৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে লাহোরের বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
- দ্বিতীয়বার ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে।
- তৃতীয়বার ২৩ মার্চ ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয় লাহোরে।
- বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা পূর্ব পাকিস্তানের ম্যাগনাকার্টা বলা হয়- ৬ দফাকে।
- ছয় দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে- ৭ জুন।
- ছয় দফার অর্থনীতি বিষয়ক দাবি- ৩টি (৩য়, ৪র্থ, ৫ম)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
The Declaration of Independence of Bangladesh was announced in 1971-
  1. ক) March 3
  2. খ) March 2
  3. গ) March 7th 
  4. ঘ) March 26th
সঠিক উত্তর:
ঘ) March 26th
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) March 26th
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৬৩৬.
শেখ মুজিবের জন্ম তারিখ নিচের কোনটি?
  1. ১৭মার্চ
  2. ২৬মার্চ
  3. ১মে
  4. ১৬ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৭মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭মার্চ
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:

- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলার গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।
- বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে।
- খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।
- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
- ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি কর্তৃক পরিচালিত জনমত জরিপে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৩৭.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়? 
  1. চরমপত্র
  2. গণকণ্ঠ
  3. মুক্তি সংগ্রাম
  4. বজ্রকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বজ্রকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বজ্রকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:

• জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলোর আহ্বান জানান।
• তিনি বলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম; জয় বাংলা।” 
• তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশ দেন। 
• তাঁর এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়। 
• তাঁর এই ভাষণে তিনি প্রধানত চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো:
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
- গণহত্যার তদন্ত করা এবং
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৩৮.
‘বঙ্গবন্ধু সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' শীর্ষক গ্রন্থভুক্ত দীর্ঘ গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেন শামসুজ্জামান খান।
 •
এই প্রবন্ধে শামসুজ্জামান খান বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠত্ব ব্যাখ্যা করেন।
এছাড়াও
• শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে মানিকগঞ্জ জেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুজ্জামান খান লেখক, গবেষক ও ফোকলোরবিদ হিসেবে দেশে- বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো—
• প্রবন্ধগ্রন্থ : 'নানা প্রসঙ্গ', ‘গণসঙ্গীত’,‘মাটি থেকে মহীরুহ’, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা’, ‘মুক্তবুদ্ধি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল', 'আধুনিক ফোকলোর চিন্তা', 'ফোকলোর চর্চা' ইত্যাদি।
• রম্য-রচনা : ‘ঢাকাই রঙ্গরসিকতা', 'গ্রাম বাংলার রঙ্গরসিকতা' ইত্যাদি।
•  শিশুসাহিত্য : 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ', 'লোভী ব্রাহ্মণ ও তেনালীরাম', ‘ছোটদের অভিধান' (যৌথ)।
• তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক লাভ করেন ।শামসুজ্জামান খান ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ই এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
উৎস: নতুন কালের কল্লোলে বঙ্গবন্ধু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬৩৯.
মুজিববর্ষের লগো কে ডিজাইন করেন?
  1. ধ্রুব এষ
  2. সব্যসাচী হাজরা
  3. নিতুন কুণ্ডু
  4. ধ্রুব আইচ
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী হাজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী হাজরা
ব্যাখ্যা
মুজিব বর্ষ:

- মুজিব বর্ষের লোগোর ডিজাইনার সব্যসাচী হাজরা।
- মুজিব বর্ষ-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০ - ৩১ মার্চ ২০২২ সাল।
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর, ঢাকা।
- তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১০ জানুয়ারি ২০২০ সালে মুজিব বর্ষের লোগো উন্মোচন করেন।

[বি.দ্র: প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‍‘মুজিববর্ষ’ এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।]

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২০।
৬৪০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটি ব্যতিক্রমধর্মী ছিল?
  1. ১০ নং
  2. ৮ নং
  3. ৬ নং
  4. ২ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ নং সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

অন্যদিকে -
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  3. কর্নেল এম এ রব
  4. কর্নেল আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।

-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।

- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

৬৪২.
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয় কোথায়?
  1. ক) নরসিংদী
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পোল এলাকায় ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।
গত ২৯ জুলাই ২০২০ এটি উদ্বোধন করা হয়। এটির নকশাকার ভাস্কর মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম।
ভাস্কর্যটির উচ্চতা বেদী থেকে ২২ ফুট।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৬৪৩.
বঙ্গবন্ধু ’ভুখা মিছিল’ বের করেন কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
→ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন।
→ জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন।
→ ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন।
১৯৪৯ সালের ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন।
→ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে।
→ এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তথ্যসূত্র: আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,রেঞ্জ কার্যালয়, বরিশাল বিভাগ
৬৪৪.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দাবিটি উত্থাপন করেননি?
  1. ক) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার
  3. গ) বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা
  4. ঘ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
• এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
• বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন।  উত্থাপিত দফাগুলো হলো:-
১। সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
৩। গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
৪। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৪৫.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারতি অনুষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. বজ্রকণ্ঠ
  2. চরম পত্র
  3. গানের কলি
  4. জল্লাদের দরবার
সঠিক উত্তর:
গানের কলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গানের কলি
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
- ফলে এটি অচল হয়ে যায়। কেন্দ্রটি ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাগাফায় একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করে। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’ বজ্রকণ্ঠ।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়। 

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৬.
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চালুকৃত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ এর প্রথম পরিচালক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ড. শামসুজ্জামান খান
  2. খ) ড. ফকরুল আলম
  3. গ) ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
  4. ঘ) ড. মাকসুদ কামাল
সঠিক উত্তর:
খ) ড. ফকরুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ড. ফকরুল আলম
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২০ এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার জন্যে এটিই দেশে স্থাপিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
৬৪৭.
OIC - এর কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) ৪র্থ
সঠিক উত্তর:
খ) ২য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২য়
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়। ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৬৪৮.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান কয়টি দাবি উপস্থাপন করেন?
  1. ক) চারটি
  2. খ) ছয়টি
  3. গ) সাতটি
  4. ঘ) এগারোটি
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চারটি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহব্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন। যথা:
১.চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২.সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্তকরা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৬৪৯.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন?
  1. ক) ৩১ মার্চ, ১৯৬০
  2. খ) ২৬ মার্চ, ১৯৬৫
  3. গ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২১ মার্চ, ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
'ছয় দফা':

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।
- দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- 
  1. মুজিব বাহিনী
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. কে ফোর্স 
  4. আফসার ব্যাটালিয়ন
সঠিক উত্তর:
কে ফোর্স 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে ফোর্স 
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভূক্ত নয়- কে ফোর্স।
• কে ফোর্স প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্য খালেদ মোশারফের অধীনে গঠিত।

• মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী :

- প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়মিত সদস্যদের নিয়ে তিনটি বাহিনী গঠন করা হয়: 
- মেজর জিয়াউর রহমানের অধীনে জেড ফোর্স, খালেদ মোশারফের অধীনে কে ফোর্স এবং কে.এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- সৈনিকদের অধিকাংশই এসেছিল পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস্ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট থেকে। 
- পূর্ব পাকিস্তান রাইফেল্স, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর  যেসব সদস্যকে এই বাহিনীগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি, তাদের বিভিন্ন সেক্টরে  যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ইউনিট এবং সাব-ইউনিটে বিভক্ত করা হয়।
- যাদের গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ দান করা হয়, তারা ছিল অধিকাংশই অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য। 

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।
- এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫১.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?
  1. ১ মার্চ
  2. ২ মার্চ
  3. ৩ মার্চ
  4. ৪ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৩।
৬৫২.
বঙ্গবন্ধু কত সনে প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৪৮
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫৩.
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ শহিদ হয় - 
  1. যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে
  2. খুলনার তেরখাদা গ্রামে
  3. যশোরের নওয়াপাড়া গ্রামে
  4. বাগেরহাটের কাড়াপাড়া গ্রামে
সঠিক উত্তর:
যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম যশোর জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
- যশোর জেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের মধ্যে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে।
- মূলত বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অংশ ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন।
- ৮ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম. এ মঞ্জুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হন।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৬৫৪.
প্রথম উত্তোলিত বাংলাদেশের পতাকা কেমন ছিল?
  1. জাতীয় প্রতীক খচিত 
  2. দেশের মানচিত্র খচিত
  3. বাংলার প্রকৃতি খচিত
  4. নদ-নদী প্রকৃতি খচিত
সঠিক উত্তর:
দেশের মানচিত্র খচিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের মানচিত্র খচিত
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা উত্তোলন:
- সময়: ২ মার্চ ১৯৭১ সালে।
- স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- পতাকার নকশা: পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র খচিত।
- এই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।

• পতাকার নকশা ও পরিবর্তন:

- প্রথমে পতাকার লাল বৃত্তের মধ্যে সোনালি রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার নকশা পরিবর্তন করা হয়।
- বর্তমানে পতাকাটি গাঢ় সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্তের সমন্বয়ে গঠিত।
- সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, এবং লাল রং উদীয়মান সূর্য ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
- পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ (৫:৩)।

• জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস:
- ২ মার্চকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- এই দিনে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

উৎস: ¡)বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
        ¡¡) বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]

৬৫৫.
বঙ্গবন্ধু কবে ৬ দফা ঘোষণা করেন?
  1. ক) ১ জানুয়ারি
  2. খ) ৫ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ৬ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
২. ফেডারেল সরকার।
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা।
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৬.
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন-
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ' জারী করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান।
এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ১৯৭২ সংবিধান রচনার জন্যে ড. কালাম হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং এর উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান গৃহিত এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ তা কার্যকর হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৬৫৭.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিল?
  1. সুবেদার
  2. সিপাহী
  3. ক্যাপ্টেন
  4. ল্যান্স নায়েক
সঠিক উত্তর:
সিপাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬৫৮.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয় কত তারিখ?
  1. ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ২৫ মার্চ ১৯৭১
  3. ১৯ মার্চ ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৯ মার্চ ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। ⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৯.
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন?
  1. জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- মেজর জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬০.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১ জুলাই ১৯৭১
  2. খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
  3. গ) ১ অক্টোবর ১৯৭১
  4. ঘ) ১ নভেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৬৬১.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২নং
  2. খ) ৪নং
  3. গ) ৬নং
  4. ঘ) ৭নং
সঠিক উত্তর:
খ) ৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪নং
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ট সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহীদ হওয়া হামিদুর রহমান সাত জন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
উৎসঃ যুগান্তর পত্রিকা। 
৬৬২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণের মূল বিষয় ছিল-
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ১টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।

- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল।

যথা-
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রথমটি ছিল 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন'।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৬৬৩.
মুজিবর্ষ উপলক্ষ্যে কোন দেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ট্রিট’ নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে?
  1. ক) ইতালি
  2. খ) ভারত
  3. গ) কুয়েত
  4. ঘ) মরিশাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) মরিশাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মরিশাস
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষ্যে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ট্রিট’ নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
৬৬৪.
চুকনগর গণহত্যা কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. ২০ মে ১৯৭১
  4. ২১ মে ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২০ মে ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ মে ১৯৭১
ব্যাখ্যা

চুকনগর গণহত্যা (১৯৭১):
- চুকনগর গণহত্যা ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা।
- অবস্থান: গ্রাম: চুকনগর, ইউনিয়ন: আটলিয়া, উপজেলা: ডুমুরিয়া, জেলা: খুলনা।
- তারিখ: ২০ মে ১৯৭১।
- মাত্র এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে ব্রাশফায়ার চালায়।
- এতে অন্তত ১২,০০০ নিরীহ মানুষ নিহত হন। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে ধারণা করা হয়। ভদ্রা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।
- সংখ্যার দিক থেকে এটি মুক্তিযুদ্ধের সর্ববৃহৎ গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা সংঘটিত এলাকা: মিরপুর।
- একক শহর হিসেবে সবচেয়ে বেশি বধ্যভূমি পাওয়া যায়: চট্টগ্রাম।
- নৃশংসতার তালিকায় প্রথম দিকের একটি গণহত্যা: নীলফামারীর গোলাহাট গণহত্যা।

উৎস: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 

৬৬৫.
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) শেখ হাসিনা
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
Source:bffwt.gov.bd
৬৬৬.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় পদ অলংকৃত করেন -
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এস এম সায়েম
  3. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
•শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- আর তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন।

এছাড়াও,
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে  জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬৭.
"মুজিব: একটি জাতির রূপকার" চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. শ্যাম বেনেগাল
  2. আশরাফ শিশির
  3. মুশফিকুর রহমান গুলজার
  4. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
সঠিক উত্তর:
শ্যাম বেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যাম বেনেগাল
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার:
- বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় এবং ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য জীবনীচিত্রের নাম ‘মুজিব’, যার ট্যাগলাইন 'একটি জাতির রূপকার'। ইংরেজিতে MUJIB: THE MAKING OF A NATION. 
 
- প্রথমে এই জীবনীচিত্রের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু', পরে কয়েকটি নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠালে তিনি 'মুজিব' নামটি পছন্দ করেন।
- চলচ্চিত্রটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ। কিশোর বয়সের চরিত্রে অভিনয় করে দিব্য জ্যোতি।
 
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল ২০২২
৬৬৮.
৭ই মার্চের ভাষনকে ইউনেস্কো বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ কত নং নথি বা দলিল হিসাবে ‘মেমোরি অভ দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল’ রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে?
  1. ৪২৯ তম
  2. ৪২৮ তম
  3. ৪২৭ তম
  4. ৪২৫ তম
সঠিক উত্তর:
৪২৭ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৭ তম
ব্যাখ্যা
- ২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ কে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা, ইউনেসকো (UNESCO)। 
- ভাষণটি ইউনেসকো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ‘Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- এটি ৪২৭ নং নথি/দলিল হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
- এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং Bangladesh High Commission, London.
৬৬৯.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সেতার বাদক কে ছিলেন?
  1. ব্যান্ড বিটলস
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. আল্লা রাখা 
  4. রবি শংকর
সঠিক উত্তর:
রবি শংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবি শংকর
ব্যাখ্যা

• ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- কনসার্টের প্রথমে অংশ নেন প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর, সরোদবাদক আলী আকবর খান ও তবলাবাদক আল্লারাখার ।
- সেতারে রবি শঙ্কর, তবলায় আল্লা রাখা এবং সরোদ বাজান আলী আকবর খান
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

• রবি শংকর, 
- রবি শংকর, (১৯২০-২০১২) ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ, সুরকার, কিংবদন্তী সেতারবাদক, যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে পাশ্চাত্যে সুপরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের সমর্থনে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কনসাটর্’ আয়োজনের তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তাঁকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৭০.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে কতটি  বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৬৭১.
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী সর্বশেষ কোন ভাষায় অনূদিত হয়েছে? [জুলাই, ২০২৪]
  1. দিবেহী
  2. তামিল
  3. সিংহলী
  4. জংখা
সঠিক উত্তর:
জংখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জংখা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- বইটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ ভুটানের জংখা ভাষায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে।
- ভুটানের প্রিন্সেস ডেচেন ইয়াংজোম ওয়াংচুক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক এবং জাতির পিতার দৌহিত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ভুটানিজ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেছিল ইউপিএল।

উৎস: i) ৩১ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো।
         ii) অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৬৭২.
শেখ জামাল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কোন পদে কর্মরত ছিলেন?
  1. সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
  2. মেজর জেনারেল
  3. কর্ণেল
  4. লেফটেন্যান্ট জেনারেল
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
ব্যাখ্যা
শেখ জামাল  
- ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ জামাল।
- ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন করেন তিনি।
- শেখ জামাল ছিলেন লং কোর্সের প্রথম ব্যাচের কমিশন্ড অফিসার।
- ১৯৭৪ সালে শেখ জামাল যুগোস্লাভিয়ার মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন।
- এরপর ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে ঢাকা সেনানিবাসে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালও গৃহবন্দি হন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শেখ জামালকেও হত্যা করে ঘাতকরা।

সূত্র- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।  
৬৭৩.
কবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' ঘোষণা করা হয়?
  1. ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৩ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
-  ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।

উল্লেখ্য,
- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৬৭৪.
১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার উপর সাইমন ড্রিং এর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. নিউইয়র্ক টাইমস
  3. নিউজ উইকস
  4. ডেইলি মেইল
সঠিক উত্তর:
ডেইলি টেলিগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেইলি টেলিগ্রাফ
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক।
৬৭৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) কৃষি ও সমবায়
  2. খ) শিল্প ও বাণিজ্য
  3. গ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
  4. ঘ) বাণিজ্য ও শ্রম
সঠিক উত্তর:
ক) কৃষি ও সমবায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃষি ও সমবায়
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ৩রা এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এ মন্ত্রিসভায় আওয়ামী ‍মুসলিম লীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
- ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৬.
মুজিবনগর সরকারের 'অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী' কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ/গ্রন্থসমূহ-
  1. “আমার কিছু কথা”
  2. “আমার দেখা নয়া চীন”
  3. A এবং B উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
“আমার দেখা নয়া চীন”
উত্তর
সঠিক উত্তর:
“আমার দেখা নয়া চীন”
ব্যাখ্যা
“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

এছাড়াও
“আমার কিছু কথা” লেখক -  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বইটির ক্যাটাগরিঃ ভাষণ, বক্তৃতা ও উপদেশ সংকলন।
-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম - - অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন। ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়। 
- এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চিনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্পেনীয়, অসমীয়া ও রুশ ভাষায় বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী  এ পর্যন্ত ১৮টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়েরি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দি অবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ। 

উৎস: কারাগারের রোচনামচা ও অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং আমার দেখা নয়াচীন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৬৭৮.
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. সিরাজ শিকাদার
  3. ভিপি আ.স.ম আবদুর রব
  4. আব্দুল আউয়াল খান
সঠিক উত্তর:
ভিপি আ.স.ম আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিপি আ.স.ম আবদুর রব
ব্যাখ্যা
• জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন:
-  ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ছাত্র সংগঠনগুলো 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় একটি ছাত্রসভায় ডাকসু ভিপি আ.স.ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
- এই ঘটনাটি স্মরণীয় হয়ে থাকে, তাই ২ মার্চ 'জাতীয় পতাকা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার।
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গেরিলা বাহিনীর নাম কী ছিল?
  1. কুদ্দুস বাহিনী
  2. মুজিব বাহিনী
  3. আফসার বাহিনী
  4. আকবর বাহিনী
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
ব্যাখ্যা

অন্যান্য বাহিনী:
- নিয়মিত এবং অনিয়মিত বাহিনী ছাড়াও যুদ্ধের সময় আরো কিছু বাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে গঠিত হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

• বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স বা বি. এল. এফ এটিকে বলা হয় রাজনৈতিক সশস্ত্র বাহিনী। কেননা ছাত্র নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল ইসলাম খান প্রমুখের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা, কর্মী এবং আরো কিছু শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। এরা পরবর্তীতে ‘মুজিব বাহিনী’ নামেও সমধিক পরিচিতি লাভ করে।

• টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী- এটির প্রধান ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। পরে যাকে ‘বঙ্গবীর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এই বাহিনী গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করত।

• ময়মনসিংহের ভালুকার আফসার বাহিনী- এই বাহিনীটিও গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় পর্যদুস্ত করে রেখেছিল।

এছাড়াও,
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী।
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী।
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী উল্লেখযোগ্য।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো।

৬৮০.
ইউনেস্কো কবে ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৩০ অক্টোবর, ২০১৫
  2. ৩০ অক্টোবর, ২০১৬
  3. ৩০ অক্টোবর, ২০১৭
  4. ৩০ অক্টোবর, ২০১৮
সঠিক উত্তর:
৩০ অক্টোবর, ২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ অক্টোবর, ২০১৭
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ : ঐতিহাসিক দলিল
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করে।

- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।
- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা-
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 

তথ্যসূত্র-পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৬৮১.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরি শান্তি পদক এর জন্য মনোনীত হন?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  4. ১৯৭৩ সালের ১০ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক ও বঙ্গবন্ধু  
- বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে মানবতার কল্যাণে ও শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি শান্তি পদক’। 
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তাঁকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়েছিল। 
- সেই দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেন ‘শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে’।

- বঙ্গবন্ধুর আগে যারা ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-
. কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো,
. ভিয়েতনামের হো চি মিন,
. ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত,
. চিলির সালভেদর আলেন্দে,
. দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা,
. কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা,
. আমেরিকার মার্টিন লুথার কিং
. ভারতের জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা,সহ প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো। দৈনিক ইত্তেফাক।
৬৮২.
কত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় মিত্রঃবাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে?
  1. ১২ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৫ মার্চ, ১৯৭২
  3. ১৮ মার্চ, ১৯৭২
  4. ২৮ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১২ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বাংলাদেশ ত্যাগ:
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে ভারতে কিছুক্ষণের যাত্রাবিরতি নিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ওই সময় তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কবে বাংলাদেশ ত্যাগ করবে তা জানতে চান।  
- ইন্দিরা গান্ধী কথা দিয়েছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে সব সৈন্য ফিরিয়ে আনা হবে।
- এরপর স্বাধীনতার তিন মাসের মধ্যে ১৯৭২ সালের ১২ মার্চে ভারতীয় সৈন্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের এই দিনে তাদের বিদায়ী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ট্রিবিউন। [লিঙ্ক]
৬৮৩.
স্বাধীন বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় কবে? 
  1. ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ আগস্ট, ১৯৭২
  4. ৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।

৬৮৪.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক-
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. কবর
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন (ঘ) নেওয়া হয়েছে।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:

- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘সুবচন নির্বাসনে’ - আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি বিখ্যাত নাটক। নাটকের পটভূমি দেশের একটি মধ্যবিত্ত পরিবার।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ - পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৫.
When did Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman return to Bangladesh from imprisonment in Pakistan?
  1. 8 January 1972
  2. 9 January 1972
  3. 10 January 1972
  4. 11 January 1972
  5. 12 January 1972
সঠিক উত্তর:
10 January 1972
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 January 1972
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস:
- ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
- পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষনে, বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুসারে স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, সমতাভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে এক যোগে কাজ করবার আহ্বান জানান।
 
অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। 
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- ৯ জানুয়ারি টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান এবং অনুরোধ করেন ঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। 
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের  স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 
 
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৮৬.
কোন বইটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা নয়?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) আমার দেখা নয়াচীন
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজবন্দীর জবানবন্দী
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দী হিসেবে কারাগারে থাকার সময় তিনটি বই রচনা করেন। 
- এই বইগুলোতে কেবল একজন রাজনীতিকের দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, লেখকের দায়বোধও ফুটে উঠেছে।
- রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শিল্পের সুষমা- এটিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিন বইয়ের একমাত্রিক ব্যঞ্জনা।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- এটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে। 
- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা (২০১৭)।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। 
- তাঁর তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন (২০২০)।
- এটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত। 

উৎস: প্রথম আলো।
১৪ আগস্ট ২০২০।
৬৮৭.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া ইউ কে চিং কোন সম্প্রদায়ের?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) মণিপুরী
সঠিক উত্তর:
খ) মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মারমা
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে তিনি রংপুর ইপিআর উইংয়ের অধীন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন। প্রতিরোধযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর তিনি পাটগ্রাম এলাকায় অবস্থান নেন। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- বীর বিক্রম খেতাধারী ইউকে চিং মারমা বৃহত্তর রংপুরে যুদ্ধ করেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশারের অধীনে।
- ৮নং হবে না কারণ ৮নং হচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর অঞ্চল নিয়ে।

সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, প্রথম খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১২ এবং বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি,মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

৬৮৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য উইলিয়াম ওডারল্যান্ড কোন রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন?
  1. বীর উত্তম
  2. বীর প্রতীক
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর শ্রেষ্ট
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি:
-  অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়াম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশি যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- প্রথমদিকে তিনি দখলদার পাকবাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে আগেভাগেই মুক্তিযোদ্ধাদের তা জানিয়ে দিতেন।
- তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন।
- ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৯.
আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু ‘নৌকা’ পছন্দ করেন কবে?
  1. ক) ১ মার্চ ১৯৬৯
  2. খ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  3. গ) ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭০
  4. ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।
১ এপ্রিল ১৯৭০ আওয়ামীলীগের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত এবং ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৬৯০.
মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহকারী সাইমন ড্রিং কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া 
  2. নেদারল্যান্ডস
  3. যুক্তরাজ্য
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

সাইমন ড্রিং:
- ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম সাইমন ড্রিংয়ের।
- মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
সাংবাদিক হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব।
- আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রকৃত বন্ধু এবং সহযোদ্ধার।
• দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।
- তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।
কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

উৎস: দৈনিক সমকাল, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা ও সংগ্রামের নোটবুক।

৬৯১.
আমরা অনশন ভাঙব না’ কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. বায়ান্নর দিনগুলো
  2. চাষার ‍দুক্ষু
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. আমার পথ
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ান্নর দিনগুলো
ব্যাখ্যা
বায়ান্নর দিনগুলো:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নার দিনগুলো’ তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য,
- বায়ান্নর দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধু ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ঢাকার রাজপথে জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কথা বর্ণনা করেছেন।
- এই স্মৃতিচারণে ব্যক্ত হয়েছে তাঁর অনশনকালে জেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও আচরণ, নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর নানা কৌশল ইত্যাদি।
- এতে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ছাত্রজনতার মিছিলে পুলিশের গুলিচালনার খবর।
- 'আমরা অনশন ভাঙব না’-এটি বায়ান্নর দিনগুলো থেকে উদ্ধৃত।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৬৯২.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসকি উক্তির শূন্যস্থানটি পূরণ করুন : “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো তবুও এ দেশের মানুষকে ............।”
  1. ক) স্বাধীনতা দেব
  2. খ) মুক্ত করবো
  3. গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
  4. ঘ) মুক্তি সংগ্রাম শিখাব
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
ব্যাখ্যা
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
উৎসঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
৬৯৩.
বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপন করেছিলেন -
  1. ক) প্রাদেশিক পরিষদের সম্মেলনে
  2. খ) আওয়ামীলীগের সম্মেলনে
  3. গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
  4. ঘ) জাতীয় পরিষদের সম্মেলনে
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া

৬৯৪.
'আমার দেখা নয়া চীন' বইটি কার লেখা?
  1. ক) শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক জীবনের প্রথমদিকে গণচীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা একটি ডায়েরির পুস্তকি রূপ।
- তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৫২ সালের ১ থেকে ১২ অক্টোবর শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
- শান্তি সম্মেলনের ১১ দিনসহ মোট ২৫ দিন তিনি চীনে অবস্থান করেন।
- ‘আমার দেখা নয়া চীন’ মূলত চীনে অবস্থানকালে তার নিজের দেখা ভ্রমণ বৃত্তান্তের লিখিত ভাষ্যরূপ।
- এটি শেখ মুজিবর রহমান রচিত তৃতীয় গ্রন্থ 
- 'আমার দেখা নয়াচীন' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়'।
- একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
- বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।
- বইটির ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০, যুগান্তর।
৬৯৫.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. জাপানে
  2. কানাডায়
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. জার্মানিতে
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা

‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- এতে অংশ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, ওস্তাদ আল্লা রাখা।
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

উৎস: প্রথম আলো।

৬৯৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার জীবনে মোট কত বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে?
  1. ক) ১২ বছর
  2. খ) ১৪ বছর
  3. গ) ১০ বছর
  4. ঘ) ৮ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২ বছর
ব্যাখ্যা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন। বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।

অর্থাৎ,
বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের প্রায় ১৩ বছরের মত (৪৬৮২/৩৬৫ = ১২.৮ বছর) কারাগারে ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান (বন্ধুকে রক্ষার জন্য মারামারি করে; ৭দিন জেলে ছিলেন)।
- এরপর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন (রাজনৈতিক কারণে প্রথম)।
-  ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। এ সময়ে টানা ১ হাজার ১৫৩ দিন (সবচেয়ে দীর্ঘসময়) তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রথম আলো আর্কাইভ

এখানে ১২ কাছাকাছি উত্তর হওয়ায় একে আমরা উত্তর হিসেবে বিবেচনা করলাম।

৬৯৭.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মান্নান এম.এন.এ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:

- বস্তুত বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরু হয় ২৬ মার্চ দুপুর ২ টায় কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের মাধ্যমে।
- ২৭ থেকে ৩০ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র চালু থাকে।
- ৩০ এপ্রিল এটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে বেতারকর্মীগণ ত্রিপুরা রাজ্যের বাগফা নামক স্থান থেকে ৩ এপ্রিল পুনরায় অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেন। ২৫ মে পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি চালু ছিল।
- বিচ্ছিন্নভাবে ১০ এপ্রিল থেকে পরবর্তী কয়েকদিন শিলিগুড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একটি বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র চালু রাখা হয় যে কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের প্রথম বেতার ভাষণ প্রচার করা হয়।
- মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ২৫ মে থেকে একটি বেতার কেন্দ্র চালু করা হয়। এর নাম 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
- বেতার কেন্দ্রটি ছিল কোলকাতায়।
- এই বেতার কেন্দ্র পরিচালনার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আব্দুল মান্নান এম.এন.এ-র উপর।
- ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চালু ছিল।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৮.
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে কয়টি পূর্বশর্ত আরোপ করেন?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: 
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। 
- ভাষণটি ইতিহাসে 'বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে। 
- উক্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দুটি উদ্দেশ্য লক্ষ করা যায়,
যথা:
১. ‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'
-এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। 

২. উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করেন, যথা:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ)  প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
 ঘ) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
কত সালে পূর্ব বাংলার নাম 'বাংলাদেশ' করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭০ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার নাম 'বাংলাদেশ' নামকরন করেন। 

-  ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, "আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ"।
- ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন।
- পরে শেখ মুজিবুর রহমান "বাংলাদেশ" নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।
- এই নাম দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে "বাংলা" এবং স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে "দেশ"।
- এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে "বাংলাদেশ" নামকরণ করা হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।