বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৭০৪

৫০১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কে.এম শফিউল্লাহ
  2. আব্দুল আল মনসুর
  3. এম.এ.জি ওসমানী
  4. খালেদ মোশারফের
সঠিক উত্তর:
এম.এ.জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম.এ.জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ।
- ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- তবে কখন কিভাবে এর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে এবং কিভাবে এর নাম মুক্তিবাহিনী হয়, সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দালিলিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের মূলত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
- প্রথম শ্রেণীর সদস্যরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, অন্যভাগ আসে ইতিপূর্বে শহর ও গ্রামে সংগঠিত সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও তাদের অনুসারী বেসামরিক জনগণ থেকে।

• ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল কর্নেল (পরবর্তীকালে জেনারেল) এম.এ.জি ওসমানী তেলিয়াপাড়ায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

১৭ এপ্রিল তারিখে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীকে সংগঠিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় জুলাই মাসের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫০২.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কত নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৩নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ২নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:

- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে। 
- পিতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ছিলেন কৃষক ও শৌখিন গাইয়ে এবং মা সাফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছিলো তখন তিনি কারাকোরামে কর্মরত ছিলেন। 
- গণহত্যার সংবাদ পেয়ে ৩ জুলাই আরো তিনজন বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন, ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার ও ক্যাপ্টেন আনামের সাথে শিয়ালকোটের নিকটবর্তী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে। 
- এখানে তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- এই ত্যাগী যোদ্ধা বেতন থেকে ২০টাকা নিজের জন্য রেখে বাকি টাকা শরণার্থীদের সাহায্যার্থে দান করতেন। যুদ্ধকালীন তিনি গুরুতর আহত হন এবং পুরোপুরি সুস্থ্য হবার আগেই পুনরায় যুদ্ধে অংশ নেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৫০৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন যশোর জেলা কোন সেক্টরের আওতাধীন ছিল?
  1. ১১ নম্বর সেক্টর
  2. ৭ নম্বর সেক্টর
  3. ৯ নম্বর সেক্টর
  4. ৮ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম যশোর জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
- যশোর জেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টরের মধ্যে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে।
- মূলত বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অংশ ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন।
- ৮ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম. এ মঞ্জুর।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হন।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৫০৪.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তাকে ইউনেসকো কি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ক) ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ
  2. খ) ওয়ার্ল্ড ওয়ার হেরিটেজ
  3. গ) ওয়ার্ল্ড হিসট্রিক্যাল হেরিটেজ
  4. ঘ) ওয়ার্ল্ড মেমোরি হেরিটেজ
সঠিক উত্তর:
ক) ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণকে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ ইউনেস্কো ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ' হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টারে' এ অন্তর্ভুক্ত করে।
(সূত্র: ডয়েচভেলে)

৫০৫.
ইউনেস্কোর কততম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিকভাবে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়?
  1. ক) ৩০তম
  2. খ) ৩৪তম
  3. গ) ৩৬তম
  4. ঘ) ৪০তম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪০তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪০তম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো গত ১২-২৭ নভেম্বর ২০১৯ অনুষ্ঠিত ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিকভাবে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এর ফলে বিশ্বের ১৯৩টি দেশে মুজিববর্ষ পালিত হচ্ছে। এছাড়া ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পুরস্কার প্রবর্তনেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
৫০৬.
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. নূরুল ইসলাম 
  4. আ স ম আবদুর রব 
সঠিক উত্তর:
আ স ম আবদুর রব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ স ম আবদুর রব 
ব্যাখ্যা

পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ ১৯৭১:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো ২মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। 
- এই দিনটি পরবর্তীতে “পতাকা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
- আ. স. ম. আবদুর রব তখন ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি ছিলেন।
- স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি পতাকা উত্তোলন করেন।
- পতাকায় সবুজের ওপর লাল বৃত্তের মধ্যে সোনালি মানচিত্র আঁকা ছিল।

উল্লেখ্য,
• ৩ মার্চ ১৯৭১: 
- এই দিন জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা”-র সঙ্গে পতাকাটি পুনরায় উত্তোলিত হয়;
- এটি ছিল প্রথমবার জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
• ২৩ মার্চ ১৯৭১: 
- পাকিস্তান দিবসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গ্রহণ করা হয়।

উৎস :
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি);
বাংলাপিডিয়া।

৫০৭.
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে 'বিশ্ববন্ধু' হিসেবে আখ্যা দেন-
  1. আব্দুল মোমেন চৌধুরী
  2. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  3. আনোয়ারুল করিম চৌধুরী
  4. বেগম রাবাব ফাতেমা
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারুল করিম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারুল করিম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
গত ১৫ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে 'বিশ্ববন্ধু' হিসেবে আখ্যা দেন- আনোয়ারুল করিম চৌধুরী।
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা ও বিবিসি নিউজ।
৫০৮.
৭ মার্চ ১৯৭১ এর বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মূল বক্তব্য কি ছিল?
  1. ক) স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা
  2. খ) পুনরায় নির্বাচন দাবি
  3. গ) সামরিক আইন জারি করা
  4. ঘ) অনশন ধর্মঘট আহবান
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা
ব্যাখ্যা

৭ মার্চ এর ভাষণটিকে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
উৎসঃ বিবিসি নিউজ।
৭ মার্চ ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’
- ভাষণকালঃ ৭ মার্চ, ১৯৭১
- স্থানঃ রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
- ভাষণ শুরুঃ বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে
- মোট সময়ঃ ১৮ মিনিট (মতান্তরে ১৯ মিনিট)
- ভিডিও রেকর্ডকারীঃ পাকিস্তান চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ও অভিনেতা আবুল খায়ের
- অডিও রেকর্ডকারীঃ এ এইচ খন্দকার
- প্রথম লাইনঃ ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।
- শেষ লাইনঃ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
- শব্দ সংখ্যাঃ ১,১০৮টি
- ভাষণে দাবি ছিলঃ ৪টি
- সংবিধানের তফসিলে সংযুক্ত হয়ঃ ৩০ জুন ২০১১ জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ভাষণটিকে UNESCO বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণা করেঃ ৩০ অক্টোবর ২০১৭
- ভাষণটি অনুদিত হয় (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত): ১২টি ভাষায়।
উৎসঃ Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার – আগস্ট ২০২০

৫০৯.
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানের কোন তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিল
  2. খ) পঞ্চম তফসিল
  3. গ) ষষ্ঠ তফসিল
  4. ঘ) সপ্তম তফসিল
সঠিক উত্তর:
গ) ষষ্ঠ তফসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে সংযোজন করা হয়েছে। ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যথা: পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল যুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে,
- ৫ম তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ৭ম তফসিল : ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- ৪র্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৫১০.
বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ?
  1. মধুমতি
  2. বাইগার
  3. কুমার
  4. ভৈরব
সঠিক উত্তর:
বাইগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইগার
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি বাইগার নদীর তীরে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর বই 'শেখ মুজিব আমার পিতা' বইয়ে তাঁর গ্রাম নিয়ে লিখেছেন, 'বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটি গ্রাম।
- সে গ্রামটির নাম টুঙ্গিপাড়া।
- বাইগার নদী এঁকে বেঁকে গিয়ে মিশেছে মধুমতি নদীতে।
- এই মধুমতি নদীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।'

সূত্র: শেখ মুজিব আমার পিতা গ্রন্থ। 
৫১১.
বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা কত?
  1. ১০ হাজার টাকা
  2. ১২ হাজার টাকা
  3. ১৫ হাজার টাকা
  4. ২০ হাজার টাকা
সঠিক উত্তর:
২০ হাজার টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা:
- মুক্তিযুদ্ধা ভাতা হল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত ভাতা বা সুবিধা।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং এ যুদ্ধে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী জনতাকে সম্মান করা হয়।
- মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও আদরের সাথে বিভিন্ন সুবিধা ও ভাতা প্রদান করা হয়।
- ২০২১ - ২২ অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়ানো হয়েছে।
- ১ জুলাই, ২০২১ সাল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা বাবদ প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ভিন্ন হয়ে থাকে।
- একজন বীর শ্রেষ্ঠ বা তার পরিবার মাসিক ৩০ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৫১২.
বঙ্গবন্ধু ছয়দফা প্রথম কোথায় উত্থাপন করেন?
  1. আন্টাঘর ময়দানে
  2. লাহোরে বিরোধীদলগুলোর সম্মেলনে
  3. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে
  4. রেসকোর্স ময়দানে
সঠিক উত্তর:
লাহোরে বিরোধীদলগুলোর সম্মেলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে বিরোধীদলগুলোর সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
- ‘ছয়দফা’ দাবী কে ‘ম্যাগনাকর্টা’ বা ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ‘ছয়দফা’ দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫১৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন?
  1. ওয়ারী ক্লাব
  2. ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব
  3. ঢাকা অফিসার্স ক্লাব
  4. উদয়ন ক্লাব
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:

- বঙ্গবন্ধু ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেছেন।
- ১৯৪৩ সালে বগুড়ায় আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বঙ্গবন্ধুর অধিনায়কত্বে শিরোপা জিতেছিল ওয়ান্ডারার্স।
- পুরান ঢাকার কলতাবাজার ও চকবাজারের বাসিন্দারা মিলে ১৯৩৭ সালে গড়ে তোলেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স।
- অল্প দিনের মধ্যেই এটি দেশের জনপ্রিয় ক্লাবে পরিণত হয়।
- ফুটবল–হকিতে গঠিত হয় শক্তিশালী দল। এই ক্লাবই ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৫৩, ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে ঢাকা ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছিল।
- পঞ্চাশের দশকে ওয়ান্ডারার্সের টানা চারবার লিগ শিরোপা জেতার রেকর্ড আজও দেশের ফুটবলের এক দুর্দান্ত ইতিহাস হয়ে আছে।
- তখন ক্লাবটির এমন শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৭ মার্চ ২০২০।
৫১৪.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নির্ভর সিনেমার নাম কী?
  1. আমি শেখ মুজিব
  2. মুজিব: একজন জাতীয় নায়ক
  3. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. মুজিব: একটি জাতির রূপকার
সঠিক উত্তর:
মুজিব: একটি জাতির রূপকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুজিব: একটি জাতির রূপকার
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার:
⇒ ১৩ অক্টোবর ২০২৩ – দেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার।

উল্লেখ্য,
 ইংরেজিতে নাম:- MUJIB: THE MAKING OF A NATION.
⇒ মুজিব: একটি জাতির রূপকার’:
⇒ ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ ১৩ অক্টোবর সারা দেশে মুক্তি পায়।
⇒ বঙ্গবন্ধুর জীবন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও ১৯৭৫ সালের মর্মন্তুদ ঘটনাকে এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
⇒ বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রযোজনার এই মুভিটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
⇒২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই ফিল্ম সিটিতে শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণ।
⇒ প্রথমে এই জীবনীচিত্রের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু', পরে কয়েকটি নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠালে তিনি 'মুজিব' নামটি পছন্দ করেন।
⇒ চলচ্চিত্রটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ।
⇒ কিশোর বয়সের চরিত্রে অভিনয় করে দিব্য জ্যোতি।

অন্যদিকে-
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’।

তথ্যসূত্র -Live MCQ সালতামামি ২০২৩, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৫১৫.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৫১৬.
কোন প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডস-২০২০ লাভ করে?
  1. ক) ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর
  2. খ) ভূমি মন্ত্রণালয়
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমি মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমি মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ লাভ করেছে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়।
- ভূমি মন্ত্রণালয় 'ই-মিউটেশন' কার্যক্রমের জন্য ‘স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ’ ক্যাটাগরিতে 'ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ২০২০' পেয়েছে।
- প্রতিবছর ২৩শে জুন জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষ্যে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৫১৭.
মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. এ কে খন্দকার
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. জেনারেল এম এ জি ওসমানী
  4. কর্নেল মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগরের পূর্বনাম ছিলো - বৈদ্যনাথতলা।
-  শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন - অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে পদাধিকারবলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রবাসী সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।
- বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- এবং মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া

৫১৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

• সোভিয়েত ইউনিয়ন:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল, যদিও তার ভূমিকা প্রধানত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- সেই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং এই ভেটো প্রয়োগের ফলে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সাহায্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। 

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- চীন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৫১৯.
বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার পর ঢাকায় আসেন ১৯৭২ সালের কত তারিখে? 
  1. ৮ জানুয়ারি
  2. ৯ জানুয়ারি
  3. ১০ জানুয়ারি
  4. ১১ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫২০.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং
  2. ১নং
  3. ৭নং
  4. ৮নং
সঠিক উত্তর:
৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠদের যুদ্ধ কালীন সেক্টর:

• মুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
• সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
• স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
• ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।  
• সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর। 
• ক্যাপ্টেন  মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর  রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৫২১.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম কোন বিদেশি মিশনে উত্তোলিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. আগরতলা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ সে পতাকাটিই ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করে।
- এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা ওড়ান তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব।

- এই জাতীয় পতাকাটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে এই পতাকা তৈরি করেন কয়েকজন ছাত্রনেতা।
- জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ছাত্রনেতা কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাস সহ ২২ জন।

- বিদেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল। 
- ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

- স্বাধীনতার পর পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। পতাকার মাপ ও রঙ নির্ধারণ করে পরিমার্জন করা হয় পতাকা।
- যা আজ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

- সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝখানে লাল বৃত্ত, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

উৎস:  বিডিনিউজ-২৪।

৫২২.
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বেকার হোস্টেল কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) টুঙ্গিপাড়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) সাভার
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
৫২৩.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন ঢাকার
  1. ক) রেসকোর্স ময়দানে
  2. খ) প্রেসিডেন্সি ভবনে
  3. গ) পার্লামেন্ট ভবনে
  4. ঘ) রমনা পার্কে
সঠিক উত্তর:
ক) রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:

- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো:
• চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা।
• সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
• গণহত্যার তদন্ত করা।
• নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনআরন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৪.
স্বাধীন বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়-
  1. ৬ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ৪ এপ্রিল, ১৯৭২
  4. ১২ আগস্ট ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী রাষ্ট্র:
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান (পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে) এবং দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ২৫ মে ১৯৭২।
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ১৫ মে, ১৯৭২।
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়- ইরাক।
- ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়- ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৫২৫.
তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৯ এপ্রিল
  2. ৪ এপ্রিল
  3. ২৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৩ মার্চ
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
-  ৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন।
- ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন।
-  ৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধে ৪ এপ্রিলের এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম।
- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার অবস্থিত।
- এখান থেকেই মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হয়।
- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন।
বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া হবে।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা, ওয়েব সাইট।
৫২৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি কোথায়?  
  1. রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস
  2. বিমানবাহিনী হেড কোয়ার্টার
  3. ঢাকা সেনানিবাস
  4. মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
সঠিক উত্তর:
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৫২৭.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ তে কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধু সঙ্গী কে ছিলেন?
  1. ক) আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  2. খ) মহিউদ্দিন আহমদ
  3. গ) মওলানা ভাসানী
  4. ঘ) খান সাহেব ওসমনা আলী
সঠিক উত্তর:
খ) মহিউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এতে দেখা যায় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
উৎসঃ সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫২৮.
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. অপারেশন ক্লিনহার্ট
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার অবস্থিত।
- এখান থেকেই  মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হয়।
• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন।
- বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়া হবে।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা, ওয়েব সাইট।

৫২৯.
বঙ্গবন্ধুকে কখন “জুলিও কুরী” শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ২০ মে, ১৯৭৩
  2. ২১ মে, ১৯৭২
  3. ২২ মে, ১৯৭২
  4. ২৩ মে, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
২৩ মে, ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মে, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুকে "জুলিও কুরী" পুরস্কার প্রদান:

পুরস্কার প্রদান তারিখ: ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে।

পুরস্কার:
বিশ্ব শান্তি পরিষদ শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জুলিও কুরী' শান্তি পদকে ভূষিত করে।

মনোনয়ন:
১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এই পদকটি ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান:
১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসূত্র:
- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
৫৩০.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ‘চরমপত্র‘ কে উপস্থাপন করতেন?
  1. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  2. গোলাপ হায়দার চৌধুরি
  3. এম. আর. আখতার মুকুল
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
-১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
-২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
-স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৩১.
তারামন বিবি কোন সেক্টরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

 • মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫৩২.
২৬ মার্চ ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন-
  1. বেতার/রেডিওর মাধ্যমে
  2. ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
  3. টেলিগ্রামের মাধ্যমে
  4. টেলিভিশনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়্যারলেসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা বঙ্গবন্ধু জারী করেন- ওয়্যারলেসের মাধ্যমে। 
----------------------------------- 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা: 
• ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
• ২৫ মার্চ রাত দেড়টার পর (অর্থাৎ ২৬ মার্চ) পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে বন্দী হবার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু টি.এন্ড.টি ও ই.পি.আর (বর্তমান বি.জি.বি)-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে স্বাধীনতার ঘোষণা পৌঁছে দেন।

-------------------- 
স্বাধীনতা দিবস:
- ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

তথ্যসূত্র: হাসান হাফিজর রহমান (সম্পাদিত), বাংলাদেেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া।
৫৩৩.
তেলিয়াপাড়া বাংলোয় অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠকে নেতৃত্বে দেন কে?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. কর্নেল ওসমানী
  3. কর্নেল ফারুক
  4. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
কর্নেল ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল ওসমানী
ব্যাখ্যা
• তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
 - তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার গঠনের পূর্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট জেলার (বর্তমান হবিগঞ্জ জেলা) তেলিয়াপাড়ায় এক চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে কর্নেল ওসমানীর নেতৃত্বে ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা, আনসার, পুলিশ, সিএসপি অফিসার এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের নিয়ে যে যুদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি 'তেলিয়াপাড়া রণকৌশল' নামে পরিচিত।

উৎস: মাধবপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৫৩৪.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেননা-
  1. রবিশঙ্কর
  2. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  3. জর্জ হ্যারিসন
  4. বব ডিলান
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন গিন্সবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা
• ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- এতে অংশ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, ওস্তাদ আল্লা রাখা।
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

• অ্যালেন গিন্সবার্গ, ছিলেন একজন মার্কিন কবি ও গীতিকার।
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌঁছান।
- তিনি সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান
- এবং দেশে ফিরে 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' নামক একটি কবিতা লিখেন, যা নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
৫৩৫.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে ' বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৬৩  জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৭৫ জন
  4. ১৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

৫৩৬.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ধলই, কমলগঞ্জ
  2. খ) গোয়ালপাড়া, শার্শা
  3. গ) বাগমারা, রূপসা
  4. ঘ) চিংড়ি খাল, নানিয়ারচর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগমারা, রূপসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগমারা, রূপসা
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলার রূপসা নদীর তীরে পাকবাহিনীর গোলাবর্ষণে আহত অবস্থায় রাজাকারদের হাতে শাহাদাতবরণ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ তাকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে সমাহিত করে।
অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই গ্রামে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ‌ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় শহীদ হন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৫৩৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ-
  1. ক) শম্ভু সরকার
  2. খ) সন্তু নাথ
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) শঙ্কু সমজদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার। তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।

(সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় , বাংলাপিডিয়া)

৫৩৮.
Bangabandhu was addressed as 'Poet of Politics' by whom?
  1. Loren Jenkins
  2. Fidel Castro
  3. Nirmalendu Goon
  4. David Frost
  5. Yasser Arafat
সঠিক উত্তর:
Loren Jenkins
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Loren Jenkins
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। 
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Newsweek পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
-  সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।
 
উল্লেখ্য,
- নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
 
উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
          ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৫৩৯.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. সেনেগাল
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশ ও বিশ্ব-স্বীকৃতি
-  প্রথম অনারব মুসলিম দেশ হিসেবে- মালয়েশিয়া(১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ) এবং
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল (১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

এছাড়াও, 
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- বাংলাদেশকে ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে স্বীকৃতি দেয় - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে- ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৫৪০.
বঙ্গবন্ধু একটি পরিবারের সর্বাধিক কত বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন?
  1. ২৫ বিঘা
  2. ৫০ বিঘা
  3. ৭৫ বিঘা
  4. ১০০ বিঘা
সঠিক উত্তর:
১০০ বিঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ বিঘা
ব্যাখ্যা
কৃষির উন্নয়ন:
- স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ জনগণের জীবিকা ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসত কৃষিখাত থেকে।
- তাই বঙ্গবন্ধু কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।
- যেমন-
ক) ২৫ বিঘা পর্যন্তজমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফ করে দেন।
খ) একটি পরিবার সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন।
গ) বাইশ লাখের অধিক কৃষক পরিবার পুনর্বাসন করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৪১.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে কয়টি গ্যালারি রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
- ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগর আগারগাঁওয়ে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।
- বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের গবেষণার জন্য রিসার্চ অ্যান্ড আর্কাইভের স্থানও রাখা হয়েছে।
- প্রায় আড়াই বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তিনটি বেসমেন্ট ও পাঁচটি ফ্লোর রয়েছে।
- স্থাপন করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ব্রোঞ্জের ম্যুরাল।

• নতুন ভবনে রয়েছে বিশাল আকারের চারটি গ্যালারি। গ্যালারিগুলো ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায়। 
- লিফটের তিনে উঠতেই এক নম্বর গ্যালারি। গ্যালারিটির নাম ‘আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংগ্রাম’।
- দ্বিতীয় গ্যালারির নাম ‘আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগ’।
- তৃতীয় গ্যালারির নাম ‘আমাদের যুদ্ধ আমাদের মিত্র’। 
- চতুর্থ গ্যালারির নাম ‘আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ’। 

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৫৪২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন কত সালে?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফর:
- ১৯৫২ সালের ২-১২ই অক্টোবরে গণচিনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
- যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের ডেলিগেটরাও অংশ নেন।
- সেই সম্মেলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো. ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন।
- এটি বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফর।
- এই সফরে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুং এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দেখা হয়।
- এসময় তিনি চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দফতরের মন্ত্রী থাকাকালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বার চীন ভ্রমণ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৫৪৩.
মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেড কোনটি?
  1. এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এন ফোর্স
  4. জেড ফোর্স
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা
• জেড ফোর্স:
- জেড ফোর্স  নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।

- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

•এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স:
 -‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে ৭ই অক্টোবর গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি
  2. ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ
  3. ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
  4. ১৯৭৩ সালের ১৮ই মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ
ব্যাখ্যা
♣ বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭৩: 
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ।  
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙে দেয়া হয়।
- স্বাধীনতা লাভের স্বল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকার সাধারণ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে গণতন্ত্রের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ।
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮ আসনে জয়লাভ করেন। 

- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের ১৬ই মার্চ নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। 

- ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। 
- সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়।
- এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
- ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। 
- এই দলের চেয়ারম্যান হলেন বঙ্গবন্ধু এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন এম. মনসুর আলী। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৫.
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে ’বঙ্গবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করেন কে?
  1. আ.স.ম. আব্দুর রব
  2. তোফায়েল আহমেদ
  3. নূরে আলম সিদ্দিকী
  4. এ.কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
তোফায়েল আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
• শেখ মুজিবুর রহমান:
- ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে তোফায়েল আহমেদ
- ১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৬৯ সালে ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ’। 

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পাঁচ দফা স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৬.
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র কোনটি?
  1. অপারেশন উইথ এ্যাকশন
  2. দ্য স্পিচ
  3. দ্য এ্যাকশন
  4. দ্য স্পিচ এন্ড এ্যাকশন
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিচ
ব্যাখ্যা
♣ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:  
• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণ বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে।
• ২৫শে মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেন।
♠ এগুলো হলো:  
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার;
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া;
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।  

♠ ঘোষণায় তিনি বলেন, 'প্রত্যেক গ্রাম, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়াবো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।

♠ তাঁর এ ভাষণ 'স্বাধীন বাংলা বেতার' কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকন্ঠ' নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করে।  

♣♣ 
১৯৭১-এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।
• আলোচিত এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয় ২০১০ সালে।
• যেটি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল ইউনেস্কোতে।  

♣ বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি; দৈনিক প্রথম আলো (১২ এপ্রিল, ২০২২); সারাবাংলা (৭ই মার্চ, ২০২০) এবং নিউজ বাংলা ২৪ ( ৭ই মার্চ, ২০২১)।
৫৪৭.
সিপাহী মোস্তফা কামালের কর্মস্থল ছিল কোথায়?
  1. নৌবাহিনী
  2. সেনাবাহিনী 
  3. বিমান বাহিনী
  4. আনসার
সঠিক উত্তর:
সেনাবাহিনী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাবাহিনী 
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

• বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫৪৮.
কারাগারে রোজনামচা প্রবন্ধটিতে কোন সময়কালের কারাস্মৃতি স্থান পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৬৬-৬৮
  2. খ) ১৯৬৬- ৭৮
  3. গ) ১৯৬৮-৬৯
  4. ঘ) ১৯৬৫-৬৯
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬-৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬-৬৮
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো, তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা ইত্যাদি এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক পত্রিকা নিউজ।
৫৪৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. ঘ) আবদুল মান্নান 
সঠিক উত্তর:
খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

মুজিবনগর সরকার:
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী।
- এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব
- চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৫০.
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচন:
- ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠিত হয়- ১৯৭৩ সালে। 
- বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫১.
শেখ মুজিবকে রাজনীতির কবি উপাধি দিয়েছিল-
  1. ক) দ্যা ইকোনমিষ্ট
  2. খ) দ্যা টাইম
  3. গ) দ্যা গার্ডিয়ান
  4. ঘ) দ্যা নিউজ উইক
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্যা নিউজ উইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্যা নিউজ উইক
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল প্রকাশিত দ্যা নিউজ উইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুকে ’রাজনীতির কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫)  জাতির জনক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২)।
- ১৯৭৩ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় জুলিও কুরি পদক। 
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম থেকে তোফায়েল আহমদ 'বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও mujib100.gov.bd
 
৫৫২.
বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা সর্বপ্রথম কে পাঠ করেন?
  1. জহুর আহমেদ চৌধুরী
  2. এম. এ. হান্নান
  3. জিয়াউর রহমান
  4. ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
এম. এ. হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. এ. হান্নান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা
- ২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকবাহিনীর নৃশংসতম আক্রমণের পরে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে রাত দেড়টার কিছু পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইংরেজিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।
- এই ঘোষণা তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেন।
- সেই রাতেই চট্টগ্রাম ওয়্যারলেস জহুর আহমেদ চৌধুরীকে এটি পাঠিয়ে দেন।
- জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান এই ঘোষণার বঙ্গানুবাদ করেন।
- ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটায় এম. এ. হান্নান চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধু ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
- ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নামে ইংরেজিতে এই ঘোষণা পাঠ করেন।
- এই ঘোষণার প্রথম দুটি লাইন ছিল, 'This may be my last message. From today Bangladesh is independent.'

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
৫৫৩.
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ কয়টি আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ১৬টি
  2. ১২টি
  3. ১৮টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
২৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর প্রথম ভুটান ও ভারত ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ের কাজটি খুব সহজসাধ্য ছিল না।
- কারণ, পাকিস্তানের বৈরী প্রচারণায় মুসলিম বিশ্বসহ চীন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করত।
- বঙ্গবন্ধুর সফল নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপানসহ বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র ও জাতিসংঘসহ প্রায় সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করে।
- সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ যোগদান করে।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেন। 
- বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি ও ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেন।

উৎস: i) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট। [link]
        ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৪.
'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা' ভাস্করের স্থপতি-
  1. ক) হামিদুজ্জামান
  2. খ) নিতুন কুন্ডু
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) মৃণাল হক
সঠিক উত্তর:
গ) শামীম শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামীম শিকদার
ব্যাখ্যা

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়কদ্বীপে রয়েছে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটি।
- ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়।
- এই ভাস্কর্যের নির্মাতা চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শামীম শিকদার।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

৫৫৫.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' দিয়েছিল-
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) চীন
  4. ঘ) রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫৫৬.
কত তারিখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫৫৭.
বঙ্গবন্ধু কত সালে ওআইসি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
ওআইসি ও বাংলাদেশ

- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে (২২-২৪ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করে।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫৮.
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে মোট কয়টি আসনে জয়ী হয়?
  1. ক) ১৬০ টি
  2. খ) ১৬৩ টি
  3. গ) ১৬৭ টি
  4. ঘ) ১৬৯ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৭ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে মোট ১৬৭টি (সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ) আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
আওয়ামীলীগ হেরে যায় দুটি আসনে। একটি ময়মনসিংহের নুরুল আমিন এবং অপরটি রাঙামাটির চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের কাছে হেরে যায়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৫৯.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যা কোন নামে পরিচিত?
  1. স্বাধীনতার রাত্রি
  2. কালরাত্রি 
  3. রক্তস্নাত রাত্রি
  4. মুক্তির প্রভাত
সঠিক উত্তর:
কালরাত্রি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালরাত্রি 
ব্যাখ্যা

• ২৫শে মার্চের গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধ:

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।  সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- ১৮ই মার্চটিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির উপর হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। 
- ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নর টিক্কা খানের ঘাতক সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার তাণ্ডবলীলা চালায়। 
- এই গণহত্যা চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে। 
- ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। 
- নৃশংস গণহত্যার সংবাদ যাতে বিদেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬০.
'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. এ্যন্থনি ম্যাসকারেনহাস
  3. এলেন গিন্সবার্গ
  4. বব ডিলান
সঠিক উত্তর:
এলেন গিন্সবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি।
- এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। 
- কবিতাটি নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানীরা এদেশে হামলা করলে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী জনগণ অস্থায়ী শরণার্থী হিসেবে ভারতে গমন করে। সে সময় নিরাপদে ভারতের ভূখণ্ডে অস্থায়ীভাবে প্রবেশের পথ হিসেবে শরণার্থীরা বেছে নেয় এই যশোর রোডকে।
- ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতের কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌছান।
- সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান।
- দেশে ফিরে গিন্সবার্গ একটি কবিতা লেখেন: 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।

উৎস: প্রথম আলো।

৫৬১.
জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য
  2. ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে বাংলায় ভাষণ
  3. সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে সদস্যপদ লাভ
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু
- ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য
- ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, একই অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন
- এই ভাষণের মাধ্যমেই জাতিসংঘে বাংলা ভাষার যাত্রা শুরু হয়।
- সেই অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথে গ্রানাডা ও গিনি বিসাউ জাতিসংঘের ১৩৭ ও ১৩৮তম সদস্য হয়।

উৎস - বাংলাপিডিয়া এবং জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৫৬২.
পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণের সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

​পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৩.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের পদবী কী ছিল?
  1. সুবেদার
  2. সিপাহী
  3. ক্যাপ্টেন
  4. ল্যান্স নায়েক
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫৬৪.
 ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৭ নং
  2. ১০ নং
  3. ৬ নং
  4. ৪ নং
সঠিক উত্তর:
৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।

​• সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

​• মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।

​• ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
- সমাধিস্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫৬৫.
'আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস।'- এখানে 'ওর' বলতে শেখ মুজিবুর রহমান কাকে বুঝিয়েছেন?  
  1. ক) শেখ নাসেরকে
  2. খ) শেখ কামালকে
  3. গ) শেখ হাসিনাকে
  4. ঘ) শেখ রেহেনাকে
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ কামালকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ কামালকে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলার গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।
- বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে।
- খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী,
- কারাগারের রোচনামচা,
- আমার দেখা নয়াচীন।
---------------
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও সহধর্মিণীর অনুরোধে তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন।
- এখানে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, গভীর উপলব্ধি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তিনি সহজ সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
- তাঁর এই রচনায় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসন, বিনাবিচারে বছরের পর বছর রাজবন্দিদের কারাগারে আটক রাখা, ১৯৫২ সালের জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তি লাভের স্মৃতি বিবৃত হয়েছে।
------------
- 'আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস।'- এখানে 'ওর' বলতে শেখ মুজিবুর রহমান ‘শেখ কামালকে’ বুঝিয়েছেন।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফরিদপুরের জেলখানায় অনশনরত অবস্থায় আটক ছিলেন। 
- ২৭ তারিখে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আদেশ জেলখানায় পৌঁছালো। 
- প্রায় ২৭/২৮ মাস পর তিনি ফিরে এলেন তাঁর পরিবারের কাছে। 
- পরিবার বলতে এখানে তাঁর বাবা-মা ছাড়াও ছিল তাঁর স্ত্রী রেণু ও দুই সন্তান— হাসিনা ও কামাল। 
- শেখ কামালের সাথে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার পর তাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর উল্লেখ করতেই শেখ মুজিবুর রহমান উক্ত উক্তিটি লিখেছেন। 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অংশবিশেষ: 
একদিন সকালে আমি ও রেণু বিছানায় বসে গল্প করছিলাম। হাচু ও কামাল নিচে খেলছিল। হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর ‘আব্বা’ ‘আব্বা' বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। একসময় কামাল হাচিনাকে বলছে, “হাচু আপা, হাচু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।” আমি আর রেণু দুজনেই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, “আমি তো তোমারও আব্বা।” কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না। নিজের ছেলেও অনেক দিন না দেখলে ভুলে যায়!

আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। আজ দুইশত বৎসর পরে আমরা স্বাধীন হয়েছি। সামান্য হলেও কিছু আন্দোলনও করেছি স্বাধীনতার জন্য। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, আজ আমাকে ও আমার সহকর্মীদের বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে। আরও কতকাল খাটতে হয়, কেইবা জানে? একেই কি বলে স্বাধীনতা? ভয় আমি পাই না, আর মনও শক্ত হয়েছে।

উৎস: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ - শেখ মুজিবুর রহমান।
৫৬৬.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘কারাগারের রোজনামচা' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ২৭ মার্চ, ২০১৭
  2. খ) ৭ মার্চ, ২০১৭
  3. গ) ২৮ মার্চ, ২০১৭
  4. ঘ) ১৭ মার্চ, ২০১৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ মার্চ, ২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ মার্চ, ২০১৭
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা ও ডেইলি স্টার। 
৫৬৭.
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ছয়দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম কী ছিল?
  1. ক) ছয়দফা : পূর্ব বাংলার বাঁচার অধিকার
  2. খ) ছয়দফা : আমাদের সংগ্রামের দাবি
  3. গ) ছয়দফা কর্মসূচি : বাঙালির দাবি
  4. ঘ) ছয়দফা : আমাদের বাঁচার দাবি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছয়দফা : আমাদের বাঁচার দাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছয়দফা : আমাদের বাঁচার দাবি
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন।
এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম 'ছয়দফা : আমাদের বাঁচার দাবি।'
উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৫৬৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক
  3. আ.স.ম. আব্দুর রব
  4. নূরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
আ.স.ম. আব্দুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ.স.ম. আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান এর বিভিন্ন উপাধি: 

- ২০০৪ সালে বিবিসির এক জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি' খেতাব বা উপাধি পান।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তোফায়েল আহমেদ।
- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন আ. স. ম. আবদুর রব।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেন নিউজউইক ম্যাগাজিন।

উল্লেখ্য,
- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে পাঁচদফা স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু'।
৫৬৯.
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৩৯ জন
  2. খ) ৪৪৮ জন
  3. গ) ৪২৮ জন
  4. ঘ) ৪৬৫ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৪৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৪৮ জন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা ৪৪৮ জন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
৫৭০.
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কবে ‘দুইশত টাকা’ মূল্যমানের নতুন নোট অবমুক্ত করে?
  1. ক) ১০ জানুয়ারি ২০২০
  2. খ) ১৭ মার্চ ২০২০
  3. গ) ২৬ মার্চ ২০২০
  4. ঘ) ১০ এপ্রিল ২০২০
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ মার্চ ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ মার্চ ২০২০
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৭ মার্চ ২০২০ প্রথমবারের মতো দুইশত টাকা মূল্যমানের নতুন নোট অবমুক্ত করে।
এছাড়া ১০০ টাকার সোনা ও রুপার স্মারক মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়।
মোট চার ধরনের নোট অবমুক্ত করা হয়।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
৫৭১.
Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, for the first time ever, delivered a speech in Bangla at the 29th General Assembly of the United Nations on -
  1. ক) September 22, 1974
  2. খ) September 23, 1974
  3. গ) September 24, 1974
  4. ঘ) September 25, 1974
সঠিক উত্তর:
ঘ) September 25, 1974
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) September 25, 1974
ব্যাখ্যা
২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদের ২৯ তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।
⇒ জাতিসংঘে এটিই বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণ।
⇒ পরে, শেখ হাসিনাও বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।
 
• সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যোগদান করে।

সূত্র:- জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৫৭২.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষণ কে ইউনেস্কো কোন নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে?
  1. মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
  2. মেমরি অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
  3. মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার
  4. দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রার
সঠিক উত্তর:
মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ : ঐতিহাসিক দলিল
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করে।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।

- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৫৭৩.
The first government of Bangladesh was formed in-
  1. ক) March, 1971
  2. খ) April, 1971
  3. গ) December, 1972
  4. ঘ) April, 1972
সঠিক উত্তর:
খ) April, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) April, 1971
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- সরকার গঠন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫৭৪.
বঙ্গবন্ধু প্রথম কত সালে কারাবরণ করেন?
  1. ক) ১৯৩৮
  2. খ) ১৯৪৭
  3. গ) ১৯৩৫
  4. ঘ) ১৯৪২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৩৮
ব্যাখ্যা
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারা ভোগ করেন।
- বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।
- তিনি ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান।
- এরপর ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাঁচ দিন কারাগারে ছিলেন।
- একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর আটক হয়ে মুক্তি পান ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি।
- এরপর ১৯৪৯ সালের ১৯ এপ্রিল আবারও কারাগারে গিয়ে ৮০ দিন কারাভোগ করে মুক্তি পান ২৮ জুন। 
- একই বছরের ১৯৪৯ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৩ দিন এবং ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টানা ৭৮৭ দিন কারাগারে ছিলেন।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পরও বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে যেতে হয়।
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির পর বঙ্গবন্ধু ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন।
- এরপর ১৯৬২ সালের ৬ জানুয়ারি আবারও গ্রেপ্তার হয়ে মুক্তি পান ওই বছরের ১৮ জুন।
- এরপর ’৬৪ ও ’৬৫ সালে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি ৬৬৫ দিন কারাগারে ছিলেন।
- ছয় দফা দেওয়ার পর জাতির পিতা যেখানে সমাবেশ করতে গেছেন, সেখানেই গ্রেপ্তার হয়েছেন।
- এরপর ৬৬ সালের ৮ মে আবারও গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মুক্তি পান।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ দফায় তিনি কারাগারে ছিলেন ২৮৮ দিন।

উৎস: প্রথম আলো।
 ১৬ মার্চ ২০১৯।
৫৭৫.
বঙ্গবন্ধু প্রথম কত সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. ১৯৫১ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠিত হয়।
প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের ‘দ্বিতীয় কাউন্সিলে’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তথন থেকে তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং কারাগারের রোজনামচা)
৫৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর এর প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর শফিকুল ইসলাম
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১ নং সেক্টর:
- ১নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম);
শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান);
তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন); এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)।
এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
বঙ্গভঙ্গের ফলে কোন আন্দোলনের সূত্রপাত হয়?
  1. ক) অসহযোগ আন্দোলন
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- এর ফলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার। বাংলার সর্বত্র স্বদেশী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি। যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৭৮.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু কোন দফাটি উত্থাপন করেননি?
  1. ক) বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করতে হবে
  2. খ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে
  3. গ) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে
  4. ঘ) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করতে হবে
ব্যাখ্যা
-১৯৭১ সালের ৭ মার্চ  বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন। 
১) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, 
২) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
৩) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে এবং
৪) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
- বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলন অনন্য বৈশিষ্ট্য মন্ডিত।
-অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্টান নির্বিশেষে রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল ১৯৭১  সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় । 


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৯.
বঙ্গবন্ধু কত তারিখে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  3. ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
• স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানি সরকার ০৮ ই জানুয়ারি তারিখে ২৯০ দিন আটক রাখার পর তাকে মুক্ত করে দেয়।
- তিনি সেখান থেকে বিশেষ বিমানযোগে লন্ডনে চলে যান।
- তারপর লন্ডন থেকে ভারত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি আসেন মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে।
- ১০ ই জানুয়ারি ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধুর  স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৫৮০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিচের কোনটিকে "দ্বিতীয় বিপ্লব" নামে অভিহিত করেছিলেন?
  1. সংবিধান প্রণয়ন
  2. জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভ
  3. বাকশাল
  4. ৭৩-এর নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
বাকশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাকশাল
ব্যাখ্যা
- চতুর্থ সংশোধনী পাস করে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির বদলে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) কায়েম হয় ২৫ জানুয়ারি।
- তখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর বাকশালকে 'দ্বিতীয় বিপ্লব' হিসেবে ঘোষণা করে তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি একক জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হয়।
- বাকশালের চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- বাকশাল গঠনের উদ্দেশ্য ছিলো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮১.
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে কোন দেশটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে নৌবহর প্রেরণ করেছিলো?
  1. ক) যুক্তরাজ্য
  2. খ) চীন
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে ‘টাস্কফোর্স-৭৪’ নামে একটি নৌবহর প্রেরণ করে।
- মার্কিন সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স-৭৪ গঠন করা হয় যার মধ্যে ছিলো তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ’।
- কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠিন অবস্থানের কারণে এই নৌবহর শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারেনি।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার)
৫৮২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি কত সদস্য বিশিষ্ট ছিলো?
  1. ৬ সদস্য
  2. ৭ সদস্য
  3. ১১ সদস্য
  4. ৮ সদস্য
সঠিক উত্তর:
৮ সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ সদস্য
ব্যাখ্যা

• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)।

- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৩.
বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কোন দেশ সফর করেন?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ভারতের কলকাতায় যান।
- এর পরে পয়লা মার্চ তিনি মুক্তিযুদ্ধের আরেক মিত্রদেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেন।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী প্রস্তাবের বিপক্ষে 'ভেটো' ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল দেশটি।
- ক্রেমলিনে তিনি তৎকালীন সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল লিওনিদ ব্রেজনেভ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নির সাথে বাংলাদেশের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা করেন।
- তেসরা মার্চ স্বাক্ষরিত হয় বাংলাদেশ-সোভিয়েত অর্থনৈতিক চুক্তি। একই সাথে স্বাক্ষরিত হয় 'মুজিব-কোসিগিন' ঘোষণা।
- এই ঘোষণায় বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন তৎপরতায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য-সহায়তার প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করা হয়।
- ১৯৭২ (বঙ্গবন্ধুর ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরে আসেন।
- ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং শান্তি বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, ১৯৭২ সালের এই চার মাসেই বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক সাফল্যে বাংলাদেশের সাথে ভারত, সোভিয়েত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপন হয়। - এছাড়া এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আরও ৫০টিরও অধিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে। একই সাথে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ পেতে শুরু করে।

সূত্র- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।  
৫৮৪.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন -
  1. ক) মোহাম্মদ উল্লাহ
  2. খ) আবু সাইদ চৌধুরী
  3. গ) শাহ আব্দুল হামিদ
  4. ঘ) মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ আব্দুল হামিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ আব্দুল হামিদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ
- মোহাম্মদ উল্লাহ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার এবং গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার।
- মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ জাতীয় সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার।
- আব্দুল মালেক উকিল জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় স্পিকার।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।

(সূত্রঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৫৮৫.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৪২৬ জন
  2. ৩২৫ জন
  3. ১২৫ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪২৬ জন কে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

• বীরত্বসূচক খেতাব:

- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।


• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৬.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২৫ নভেম্বর
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর
  3. গ) ২১ নভেম্বর
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর ভারতীয় সশ্বস্ত্রবাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হয়।
৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালালে ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫৮৭.
Which is the second highest title for outstanding contribution in liberation war?
  1. Bir Sreshtho
  2. Bir Bikrom
  3. Bir Protik
  4. Bir Uttom
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Bir Uttom
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bir Uttom
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব ন উপাধি প্রদান করে।
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম ৬৮ জন ।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম ১৭৫ জন ।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক ৪২৬ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৫৮৮.
ঢাকা জেলা মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরে অধিভুক্ত ছিল? 
  1. ৩নং
  2. ২নং
  3. ৬নং
  4. ১নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

অন্যদিকে,
• ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ৩ নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৬ নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৮৯.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথম কোন দেশে যান?
  1. ভারত
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ইরান
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে তিনি দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারি দিনটিকে বাংলাদেশে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৯০.
বঙ্গবন্ধু রচিত 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. চিরঞ্জীব মুজিব
  2. 'মুজিব' একটি জাতির রূপকার
  3. দ্য অল টাইম হিরো
  4. মুজিব আমার পিতা
সঠিক উত্তর:
চিরঞ্জীব মুজিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরঞ্জীব মুজিব
ব্যাখ্যা
চিরঞ্জীব মুজিব:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র হলো চিরঞ্জীব মুজিব।
- এটির পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- হায়দার এন্টারপ্রাইজের ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আগস্ট মাসে মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করেন আহমেদ রুবেল।

অন্যদিকে -
- দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র 'মুজিব আমার পিতা'।
- বঙ্গবন্ধুর আলোচিত ইংরেজি তথ্যচিত্র 'দ্য অল টাইম হিরো'- এর বাংলায় নির্মিত শিরোনাম 'হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি'। এটি পরিচালনা করেন নোমান রবিন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলা নিয়ে সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র 'টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা'।
- বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় এবং ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য জীবনীচিত্রের নাম 'মুজিব', যার ট্যাগলাইন 'একটি জাতির রূপকার', ইংরেজিতে 'MUJIB: THE MAKING OF A NATION'.

উৎস: ১ জানুয়ারি ২০২২, প্রথম আলো।
৫৯১.
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কয়টি আসন অর্জন করা সম্ভব হয়?
  1. ক) ১৫০টি
  2. খ) ৭৫টি
  3. গ) ১৬৯টি
  4. ঘ) ২২৩টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯টি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার মূলে ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ে তার ত্যাগ ও আজীবনের আপসহীন সংগ্রাম।
- পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান দাবি।
- এ দাবি আদায় করতে পারলেই যে সকল দাবি আদায় করা সম্ভব, এটি তিনি প্রতিটি বাঙালিকে উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- এ জন্য বাঙালিরা তার  নেতৃত্বে অবিচল থাকে।
- তাঁর এ দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে সমগ্র পাকিস্তানের ৩১৩টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১৬৯টি আসন অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল।
- তিনি তাঁর জনসমর্থনের আকাশচুম্বি শক্তি নিয়ে ইয়াহিয়া খানের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়ােগ করেছিলেন, যা উপেক্ষা করে সে সময়ে ইয়াহিয়া খানের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল।
- বঙ্গবন্ধু তা জানতেন এবং এ জন্য মৌলিক এ দাবি আদায়ে তিনি কোনােরূপ ছাড় না দিয়ে অবিচল থাকেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।
- বাংলা ভাষার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর এটি ছিল তখন পর্যন্ত বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
- এ অর্জনই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ প্রশস্ত করে। এ নির্বাচনে পূর্বের ন্যায় পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে আসনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে বণ্টন হলে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের কোনাে সুযােগ থাকত না।
- বঙ্গবন্ধু এ বিষয়টি পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই সকল আন্দোলনসংগ্রামের মধ্যে এ লক্ষ্য থেকে কখনােই তিনি বিচ্যুত হননি।

উৎস: এশিয়াটিক সোসাইটি ওয়েবসাইট
৫৯২.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  2. খ) কারাগারের রোজনামচা
  3. গ) নয়া চীন ভ্রমণ
  4. ঘ) আমার দেখা নয়া চীন
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। উৎসঃ সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫৯৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সমর্থন দিয়েছিল কোন দেশ? 
  1. রাশিয়া 
  2. ভারত
  3. সৌদি আরব
  4. ইরাক
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ কনসার্ট: 
- যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল;
-  যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, চীন এবং ইরান ও সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।
- তবে মার্কিন শিল্পী, সাহিত্যিক এবং অনেক রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন।
- পক্ষেছিল: রাশিয়া , ভারত, ইরাক নেপাল সমর্থন দিয়েছিল।
- পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ।
-  স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক।
- অনুষ্ঠান: 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'
- দর্শক: অনুষ্ঠানে ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতি ছিল।
- শিল্পী: জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
- এই অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ জোগানের ব্যবস্থা হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৪.
মুক্তিযুদ্ধের ওপর রচিত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ এর রচয়িতা কে?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. এলেন গিন্সবার্গ
  3. বব মার্লে
  4. বব ডিলান
সঠিক উত্তর:
এলেন গিন্সবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলেন গিন্সবার্গ
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:

- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬।
৫৯৫.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) কলকাতা
  3. গ) থিম্পু
  4. ঘ) ফ্রি টাউন
সঠিক উত্তর:
ক) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিব ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
গত ১৪ জুন ২০২০ এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার জন্যে এটিই দেশে স্থাপিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৫৯৬.
বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে কয়টি দাবি উত্থাপন করেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।

- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৫৯৭.
কার অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু আইন বিভাগে ভর্তি হন?
  1. ক) তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান
  2. খ) এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
  4. ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
ক) তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর  পিতা শেখ লুৎফর রহমানের অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু আইন বিভাগে ভর্তি হন।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাজীবন-
- বঙ্গবন্ধু ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে স্থানীয় গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
- গােপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু মেট্রিক (এসএসসি) পাস করেন।
- এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় চলে যান ভর্তি হন ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান মওলানা আজাদ কলেজ) ওই কলেজ থেকে তিনি ১৯৪৪ সালে আইএ পাস করে একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ পাস করেন।
- ১৯৪৭ সালের ১ ডিসেম্বর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ১৯৪৭-৪৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬০৫৷ ক্লাস রােল ছিল ১৬৬।

তথ্যসূত্র - অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৫৯৮.
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-
  1. ক) ৬৬ জন
  2. খ) ৬৭ জন
  3. গ) ৬৮ জন
  4. ঘ) ৬৯ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৭ জন
ব্যাখ্যা

বর্তমানে খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা-
বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন
বীর-উত্তম ৬৭ জন
বীরবিক্রম ১৭৪ জন
বীরপ্রতীক ৪২৪ জন
- সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ‘বীর প্রতীক’ এবং মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ খেতাবধারী ছিলেন।
- ২০১০ সালে ৭৫এর অভ্যুত্থানের সময় বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হওয়া ব্রিগেডিয়ার জামিলকে বীর উত্তম খেতাব দেয়া হয়। বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৮ জন। তবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত সংখ্যা মুক্তিযোদ্ধা ৬৭ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দৈনিক পত্রিকা।

৫৯৯.
আন্তর্জাতিক কোন সংস্থা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? 
  1. UNESCO
  2. OIC
  3. UNDP
  4. UNICEF
সঠিক উত্তর:
UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNESCO
ব্যাখ্যা
৭-ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

• ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে  বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। 
• UNESCO ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে  “বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে। 
• ভাষণটি UNESCO বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য 'Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। 
• এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
• ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসে সংস্থাটির সদর দপ্তরে জাতির জনকের ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বিবিসি নিউজ বাংলা (৩১ অক্টোবর, ২০১৭) । 
৬০০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের কত তারিখ থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়?
  1. ক) ২৫ মার্চ
  2. খ) ২৬ মার্চ
  3. গ) ৭ মার্চ
  4. ঘ) ২ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন 
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন। এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
• ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
• শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।