বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৭০৪

২০১.
মুজিবনগর সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এম. মনসুর আলী
  3. গ) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:

- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; 
- উপরাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম; 
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ; 
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী: এম মনসুর আলী; 
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ; 

- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী; 
- চিফ অব স্টাফ: কর্নেল (অব.) আব্দুর রব;
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও বিমান বাহিনীর প্রধান: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২০২.
'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না'- উক্তিটি কে করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।" - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
-------------------
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধার করা বঙ্গবন্ধুর কিছু অমর বাণী:
- 'অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটি কারণ' (পৃ: ৪৮)।
- 'নেতারা যদি নেতৃত্ব দিতে ভুল করে, জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়' (পৃ: ৭৯)।
- 'আমার যদি কোনো ভুল হয় বা অন্যায় করে ফেলি, তা স্বীকার করতে আমার কোনোদিন কষ্ট হয় নাই' (পৃ: ৮০)।
- 'যে দেশের বিচার ও ইনসাফ মিথ্যার উপর নির্ভরশীল সেদেশের মানুষ সত্যিকারের ইনসাফ পেতে পারে কি না সন্দেহ!' (পৃ: ১৯০)।
- 'আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ' (পৃ: ১৯১)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
২০৩.
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. তৃতীয় কাউন্সিল
  2. চতুর্থ কাউন্সিল
  3. ষষ্ঠ কাউন্সিল
  4. দ্বিতীয় কাউন্সিল
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় কাউন্সিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
২০৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী কে ছিলেন?
  1. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। 
- তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে উল্লেখ রয়েছে?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে নতুন করে ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭ টি তফসিল রয়েছে।
- প্রথম তফসিল – অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল – রাষ্টপতি নির্বাচন।
- তৃতীয় তফসিল – শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবালী।
- পঞ্চম তফসিল – ১৯৭১সালের ৭মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল -১৯৭১সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল- ১০এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিবনগর সরকারের জারিকৃ্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস:-  বাংলাদেশের সংবিধান।
২০৬.
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি যে ভাষায় দিয়েছিলেন-
  1. বাংলা
  2. হিন্দু
  3. ইংরেজি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগে ইপিআর ওয়্যারলেসে চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন। ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে যাতে বিশ্ববাসী শুনতে পারে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২০৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি তৃতীয় রাষ্ট্র হিসেবে স্বতন্ত্র, স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আন্দোলনে যোগ দেন।
- যদিও এই উদ্যোগ বাতিল হয় কিন্তু পরবর্তীতে এটিই একজন জাতির পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র গড়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে। 
- অন্যান্যদের মত ভারত ভাগের পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান তড়িঘড়ি করে পূর্ববঙ্গে (পূর্ব পাকিস্তানে) আসেন নি, বরং কয়েক সপ্তাহ তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন।
- বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মহাত্মা গান্ধীর শান্তি মিশনে যোগ দেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলা হয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
- পরে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল, তাদের মধ্যে একজন  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
এছাড়া,
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ।

উৎস: মুজিব জন্মশতবর্ষ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২০৮.
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) দয়াল নিহালানি
  2. খ) রাজকুমার হিরানী
  3. গ) শ্যাম বেনেগাল
  4. ঘ) শ্যামা জায়েদী
সঠিক উত্তর:
গ) শ্যাম বেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্যাম বেনেগাল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে এই সিনেমার ‍শুটিং শুরু হয়।
- পরিচালক ভারতের শ্যাম বেনেগাল
- সহযোগী পরিচালক দয়াল নিহালানি
- চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন অতুল তিওয়ারি এবং শ্যামা জায়েদী।
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন আরিফিন শুভ। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে আরও ৪৯ জন বাংলাদেশি তারকা অভিনয় করবেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
২০৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. খ) ইসলামিয়া কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) রিপন কলেজ
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলামিয়া কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলামিয়া কলেজ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২১০.
এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধে কোন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন?
  1. সেক্টর কমান্ডার
  2. চিফ অব এয়ার স্টাফ
  3. স্কোয়াড্রন লীডার
  4. ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
সঠিক উত্তর:
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
ব্যাখ্যা

এ কে খন্দকার:
- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি এ. কে. খন্দকার নামে পরিচিত
- তারঁ জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০ সাল।
- তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন। 
- মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি কঠোর মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ের দিকে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোর সমন্বয়সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তাঁর যোগ্যতম পরিচালনায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে সক্ষম হন।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে ‘বীর উত্তম’খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২১১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থাকাকালীন কয়টি বই রচনা করেন?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজবন্দী হিসেবে কারাগারে থাকার সময় তিনটি বই রচনা করেন। 
- এই বইগুলোতে কেবল একজন রাজনীতিকের দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, লেখকের দায়বোধও ফুটে উঠেছে।
- রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শিল্পের সুষমা- এটিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিন বইয়ের একমাত্রিক ব্যঞ্জনা।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
- প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- এটি লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে।
- এখানে পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে। 

কারাগারের রোজনামচা

- বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বই কারাগারের রোজনামচা
-  প্রকাশিত হয়  ২০১৭ সালে।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। 

আমার দেখা নয়াচীন

- তাঁর তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন
-  প্রকাশিত হয়  ২০২০ সালে।
- এটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত। 

উৎস: প্রথম আলো, ১৪ আগস্ট, ২০২০।
২১২.
'Concert For Bangladesh' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) নিউইয়র্ক
  2. খ) শিকাগো
  3. গ) ক্যালিফর্নিয়া
  4. ঘ) ওয়াশিংটন ডিসি
সঠিক উত্তর:
ক) নিউইয়র্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
• একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটল্সের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন। তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
• কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
• এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

তথ্যসূত্র: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো এবং বিবিসি বাংলা।
২১৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. ভেঙ্কট গিডি
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. সুভাষ রায়
  4. শরণ সিং
সঠিক উত্তর:
ভেঙ্কট গিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেঙ্কট গিডি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ:
- বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দি থাকলেও তার নামেই ন’মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী মুজিবনগর সরকারও বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করেই গঠন (১৭ এপ্রিল, ১৯৭১) করা হয়েছিল।
- পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকার মাটিতে পা রাখেন।
- এর আগে ৮ জানুয়ারি খবর আসে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে খুব ভোরে লন্ডন যান।
- ৯ জানুয়ারি টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান এবং অনুরোধ করেন ঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। 
- রাষ্ট্রপতি শ্রী ভরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি তখন বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।
- তখন ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল।
- নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে প্রদত্ত ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বলেন, ‘মহোদয়, এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দেশের প্রধান হিসেবে আপনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এ অঞ্চলে স্থায়ী ও অটুট শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা জোরদার ও সুনিশ্চিত করবে।’
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে বঙ্গবন্ধু লন্ডন দিল্লি হয়ে প্রাণের শহর ঢাকায় ফিরে আসেন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে। 

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, যুগান্তর। [link]
২১৪.
’জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন' কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন:
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের জন্য নবনির্মিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১১- তলা বিশিষ্ট ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’-এর ২৫২ টি কক্ষে ১ হাজার ৮জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।উল্লেখ্য,
- জুলাই ৩৬ গেইট - সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও পত্রিকা প্রতিবেদন।

২১৫.
কোন নদীকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) হালদা
  2. খ) মধুমতি
  3. গ) পুরাতন কুমার
  4. ঘ) পদ্মা
সঠিক উত্তর:
ক) হালদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হালদা
ব্যাখ্যা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।

২১৬.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত চরমপত্র এর এর নামকরণ করেন কে?
  1. কামাল লোহানী 
  2. এম আর আখতার মুকুল 
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. আশফাকুর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
আশফাকুর রহমান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশফাকুর রহমান খান
ব্যাখ্যা

চরমপত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র।
- চরমপত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র- থেকে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
- এর নামকরণ করেন বেতার কেন্দ্রের একটি বিভাগের সমন্বয়কারী আশফাকুর রহমান খান।
- এটি রচনা ও প্রচার করেন এম আর আখতার মুকুল।
- এম আর আখতার মুকুল ছাত্রজীবনে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক। তিনি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তথ্য ও প্রচার অধিকর্তা ছিলেন।
- চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
- এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
- ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।

২১৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১ মার্চ ১৯১৯ খ্রি.
  2. ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রি.
  3. ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ খ্রি.
  4. ২১ জুন ১৯৪১ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান:
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২১৮.
'আমার দেখা নয়াচীন' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা কততম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. চতুর্থ
  2. দ্বিতীয়
  3. প্রথম
  4. তৃতীয়
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃতীয়
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

(সূত্রঃ আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান)
২১৯.
বঙ্গবন্ধুর গ্রামটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) মধুমতি
  2. খ) কুমার
  3. গ) ভৈরব।
  4. ঘ) বাইগার।
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাইগার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাইগার।
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গােপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বর্তমান গােপালগঞ্জ জেলা সদরের দক্ষিণে ও পশ্চিমে মধুমতি নদী।
- আর 'বাইগার' নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত টুঙ্গিপাড়া গ্রাম।
- মধুমতীর অসংখ্য শাখা নদীর একটি বাইগার নদী।

উৎসঃ গোপালগঞ্জ জেলার ওয়েবসাইট।
২২০.
মুক্তিযুদ্ধকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ১নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
​ এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। 
​সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
​ এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 
​ঋষিমুখ (ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম); 
​শ্রীনগর (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান এবং পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান); 
​মনুঘাট (ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান); 
​তবলছড়ি (সুবেদার আলী হোসেন); 
​এবং ডিমাগিরী (জনৈক সুবেদার)। 

​এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
​ এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার। 
​এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২২১.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  2. খ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন - এএইচএম কামরুজ্জামান।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন - ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
খন্দকার মুশতাক আহমেদ - ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি]
২২২.
১৯৭১ সালে পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন-
  1. ক) তোফায়েল আহমেদ
  2. খ) শাহজাহান সিরাজ
  3. গ) আ.স.ম. আব্দুর রব
  4. ঘ) নূরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
২২৩.
সংবিধান সংস্কার কমিশন 'প্রজাতন্ত্র' এর পরিবর্তে কোন শব্দটি পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছেন? 
  1. লোকতন্ত্র
  2. নাগরিকতন্ত্র 
  3. জনতন্ত্র 
  4. মানবিকতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
নাগরিকতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

নাগরিকতন্ত্র:
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে 'প্রজাতন্ত্র' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলোর পরিবর্তে 'নাগরিকতন্ত্র' এবং 'জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ' শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে "Republic" ও "People's Republic of Bangladesh" শব্দগুলো থাকছে।
- ভাষা নাগরিকতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে '-বাংলা'। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সকল ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
-  নাগরিকত্ব 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি...' কমিশন এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করছে।
- সুপারিশ করা হচ্ছে যে, বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) নিম্নোক্তভাবে সংশোধন করা হোক "বাংলাদেশের নাগরিকগণ
'বাংলাদেশি' বলে পরিচিত হবেন" হিসেবে প্রতিস্থাপিত হোক।
- সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।[ লিঙ্ক]

২২৪.
’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশঙ্কর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য–বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- এতে অংশ নিয়েছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আলী আকবর খান, ওস্তাদ আল্লা রাখা।
- পশ্চিমের তারকাদের মধ্যে জর্জ হ্যারিসন ছাড়া ছিলেন রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, বিলি প্রেস্টন প্রমুখ।
- ৪০ থেকে ৫০ হাজার দর্শনার্থীর এ অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার।

• অ্যালেন গিন্সবার্গ, ছিলেন একজন মার্কিন কবি ও গীতিকার।
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌঁছান।
- তিনি সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান
- এবং দেশে ফিরে 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' নামক একটি কবিতা লিখেন, যা নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
২২৫.
'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) রশিদ করিম
  3. গ) মযহারুল ইসলাম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) মযহারুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মযহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বইঃ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব (১৯৭৪)- ড. মযহারুল ইসলাম,
হু কিলড মুজিব(১৯৮১)- আবদুল লতিফ খতিব,
ল্যান্ড অব টু রিভারস; অ্যা হিস্ট্রি অব বেঙ্গল ফ্রম মহাভারত টু মুজিব(২০১১)- নীতিশ সেনগুপ্ত,
যে রাতে নেতা নিহত হলেন- কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন,
মুজিববাদ- মোহাম্মদ ইলিয়াস,
শেখ মুজিব, ট্রায়াম্ম্ফ অ্যান্ড ট্র্যাজেডি- সাবেক কূটনীতিক এসএ করিম,
জেনেভায় বঙ্গবন্ধু- ড. আবদুল মতিন,
বঙ্গবন্ধু ও রক্তাক্ত বাংলা- লেখক নিরঞ্জন মজুমদার।
উৎসঃ দৈনিক সমকাল।

২২৬.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে নিম্নের কোন দাবীটি ছিল না?
  1. ক) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
  2. খ) পূর্ব থেকে চলমান হরতাল পালিত হবে।
  3. গ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
  4. ঘ) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা।
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব থেকে চলমান হরতাল পালিত হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব থেকে চলমান হরতাল পালিত হবে।
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন।
এগুলো হলো:
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা। 
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া। 
- গণহত্যার তদন্ত করা। 
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
২২৭.
শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন -
  1. ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. ২১ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: i) প্রথম আলো, ০২ মার্চ, ২০২২।
         ii) ২ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
২২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সেক্টর নং-২ 
  2. সেক্টর নং-১ 
  3. সেক্টর নং-৩ 
  4. সেক্টর নং-৪ 
সঠিক উত্তর:
সেক্টর নং-১ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্টর নং-১ 
ব্যাখ্যা

সেক্টর নং- ১:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল 'সেক্টর নং ১'।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
- আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

অন্যান্য সেক্টর: 
২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এ.টি.এম হায়দার। -প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর

সেক্টর নং - ৩:
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল 'সেক্টর নং ৩' এর আওতায়।
- এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান।
- আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৪:
-সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল 'সেক্টর নং ৪'। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
-মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ।

২২৯.
বাংলাদেশ সংবিধানকে বঙ্গবন্ধু কী নামে আখ্যায়িত করেন?
  1. ক) গণ-মানুষের সংবিধান
  2. খ) উত্তম সংবিধান
  3. গ) বিপ্লবী সংবিধান
  4. ঘ) শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ (Spirit and Ideology of Liberation War)

- বাংলাদেশ এক সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং চার লাখ নির্যাতিত নারীর ত্যাগের মহিমায় বাংলাদেশের জনগণ লাভ করে স্বাধীনতা।

- বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে তা এক অনন্য ঘটনা। যেসব মহান আদর্শ বাংলাদেশের জনগণকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং যে সব স্বপ্ন (সাম্য, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, আর ধর্মনিরপেক্ষতা) বাস্তবায়নে ১৯৭১ সালে বাঙালি কৃষক-শ্রমিক-জনতা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে সেগুলোই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ। বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

- বস্তুত বাঙালির চেতনায় ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা সমুজ্জ্বল থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হিসেবে এ চারটি আদর্শকে সংযুক্ত করেন। বাংলাদেশ সংবিধানকে এ কারণেই তিনি ‘শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩০.
লাহােরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যােগদান করেন?
  1. ক) ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. খ) ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. গ) ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ঘ) ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

১৯৭৪ সালের ২২ - ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ (৩২-তম) লাভ করে।

ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুঃ
- ১৯৭৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ওআইসি মহাসচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা এলো বঙ্গবন্ধুর জন্য। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর বিশেষ বিমান পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- বিমানে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুতেফলিকার নেতৃত্বে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি দল রয়েছে। দলে কুয়েতের আমিরের বিশেষ দূত হিসেবে আছেন কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

- ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদল ঢাকা এলো ২২ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আলোচনায় জানালেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে লাহোর সম্মেলনে যোগদান সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হলো যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সময়ে একযোগে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেবে এবং লাহোর ও ঢাকা থেকে এ ঘোষণা একসঙ্গে প্রচার করা হবে—এটাও সিদ্ধান্ত হলো। ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল লাহোর যাবে।

- পরবর্তীতে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ওআইসি সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও ওআইসি ওয়েবসাইট।

২৩১.
শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জুলিও কুরী পুরস্কার পান?
  1. ক) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ২৪ মে ১৯৭৩
  3. গ) ২৩ জুন ১৯৭৩
  4. ঘ) ২৩ মে, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মে, ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মে, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।দ
২৩২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রথম কারাবরণ করেন?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
- বাঙালি জাতির জনক, স্বাধীনতা বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কারাবরণ সেই ছাত্রজীবনে। 
- বঙ্গবন্ধুর এক সময়ের রাজনৈতিক সচিব, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ ২০১৭ সালের ৭ মার্চ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, ৫৪ বছর বয়সের জীবনে বঙ্গবন্ধু চার হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাতদিন কারাভোগ করেন বঙ্গবন্ধু, বাকি চার হাজার ৬৭৫ দিন তার জেলে কাটে পাকিস্তান আমলে।

প্রথম জেলজীবন:
- ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জে সহপাঠী বন্ধু আবদুল মালেককে হিন্দু মহাসভার সভাপতির বাড়ি নিয়ে মারপিট করা হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমান সেই বাড়িতে গিয়ে ধাওয়া করেন, এসময় সেখানে হাতাহাতিও ঘটে।
- এরপর গ্রেপ্তার হয়ে সাতদিন জেল খাটেন মুজিব।
- পরে মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাট হলে মামলা থেকে রেহাই পান তিনি।

উৎস: বিডিনিউজ
২৩৩.
কার মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. খ) আতাউর রহমান খান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) আবু হোসেন সরকার
সঠিক উত্তর:
খ) আতাউর রহমান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
২৩৪.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. ক) তানভীর কবির
  2. খ) সৈয়দ মাইনুল হোসেন
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) হামিদুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
ক) তানভীর কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তানভীর কবির
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ

১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মিত হয় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ। এর স্থপতি তানভীর কবির। 

- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৪ মুজিবনগর দিবসে সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই স্মৃতিসৌধ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত। ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক।
- গোলাকার বেদী ভূতল থেকে ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায় তিনটি ভাগে বিভক্ত। 
- বেদীর একটি অংশ অসংখ্য গোলাকার বৃত্ত দ্বারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদকে বোঝানো হয়েছে।
- বেদীর অপরাংশ অসংখ্য নুড়ি পাথরে আবৃত। এটি মুক্তিযোদ্ধা সাত কোটি বাঙালির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রতীক।
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণের স্থানটি লাল সিরামিকের ইট দ্বারা আয়তক্ষেত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- বেদীতে আরোহণের সোপান নয়টি ধাপে বিভক্ত। সোপানের এই নয়টি ধাপ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতির প্রতীক।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
  2. কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী
  3. আইন, বিচার ও সংসদ
  4. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
ব্যাখ্যা
কোয়ালিশন সরকার:
- ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।
- এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
- আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলা আনুষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করে, ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস’ ঘোষিত হয় জাতীয় ছুটির দিন, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৪ জুন, ২০২১।
২৩৬.
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম প্রচার করেন-
  1. ক) এম.এ. হান্নান
  2. খ) এ.কে. খন্দকার
  3. গ) এম.এ মান্নান
  4. ঘ) জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) এম.এ. হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এম.এ. হান্নান
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন।
- এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

২৩৭.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম কী? 
  1. মাইক
  2. ওরা ১১ জন
  3. রেডিও
  4. স্টপ জেনোসাইড
সঠিক উত্তর:
রেডিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র: 

• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্রের নাম রেডিও। 
• ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে এর আগে কোনো সিনেমা নির্মিত হয়নি।
• ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ দেশজুড়ে মুক্তি পায় ‘রেডিও’।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত একটি গ্রামে রেডিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তা নিয়ে এই সিনেমার গল্প। 
• পরিচালক: অনন্য মামুন। 
• অভিনয়শিল্পী: রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুৎফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায় এবং এলিনা শাম্মীসহ অনেকেই। 
• একটি গ্রামে ঐতিহাসিক সেই ৭ মার্চের ভাষণ শোনাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির গল্প।

• উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কিভাবে জন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’।
- এর পরিচালক সোহেল রানা।

• অন্যদিকে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘মাইক’। 
- এটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছে। 
- এতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ফেরদৌস আহমেদ ও তানভীন সুইটি।

তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩ এবং ঢাকা টাইমস , ০৭ মার্চ, ২০২৪। 
২৩৮.
উইং কমান্ডার এম কে বাশার মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টর প্রধান ছিলেন?
  1. ৭ নং সেক্টর
  2. ৯ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৬ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার সমূহ 
• ১নং সেক্টর:
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

• ৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

• ৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর:
- নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৩৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
  2. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
  3. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২-১৫ আগস্ট ১৯৭৫
  4. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-১৫ আগস্ট ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন:
• পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৪৮),
• পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকদের একজন (১৯৪৯),
• আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৬৬) ),
• আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৬৬-১৯৭৪),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুপস্থিতিতে),
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫)।
- তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।
- তার দুই কন্যা ছাড়া তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয় যারা সে সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২৪০.
বঙ্গবন্ধু কোথায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন?
  1. ক) পল্টন ময়দান
  2. খ) আরমানিটুলা ময়দান
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রেসকোর্স ময়দান
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১লা মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে পূর্ব পাকিস্তানে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর অংশ হিসেবে ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (সাবেক রেসকোর্স ময়দান) একটি জনসভার আয়োজন করা হয়।

এই জনসভাতেই বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণে ২৫শে মার্চ পুনরায় ঘোষিত জাতীয় পরিষদের যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবী উত্থাপন করেন।

এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
- ‍নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত করা
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।

৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্ট্রারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬ এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
২৪১.
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কোন আসামীর বীরত্বসূচক খেতাব বাতিল করা হয়?
  1. ক) শরিফুল হক ডালিম
  2. খ) নূর চৌধুরী
  3. গ) মোসলেম উদ্দিন খান
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
২৪২.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ক) ৭৩
  2. খ) ৫৬
  3. গ) ৫৪
  4. ঘ) ৬২
সঠিক উত্তর:
খ) ৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫৬
ব্যাখ্যা

১৯৫৩ সালের চারটি প্রধান দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা এবং ২১ দফা দাবির ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। একুশ দফার প্রথম দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকার করা।
১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক নির্বাচনে ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ আসনে জয়লাভ করে পূর্ব বাংলায় মন্ত্রিসভা গঠন করে। মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী হন এ.কে ফজলুল হক।
বঙ্গবন্ধু হন কৃষি,সমবায়, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন জারি করেন। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম দশম শ্রেণি।

২৪৩.
বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য কতটি দাবি উপস্থাপন করেন?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
- সারা দেশে নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তাঁর ভাষণে উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো- 
১। চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া
৩। গণহত্যার তদন্ত করা এবং 
৪। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। 
এর বাইরে আরও কিছু দাবি বঙ্গবন্ধু করেন। তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।
- এ সমাবেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হবে বলে বঙ্গবন্ধু কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। 
- তাঁর এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৪.
'মুজিব: একটি জাতির রূপকার' চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন কে?
  1. শামা জাইদি
  2. নীতিশ রায়
  3. দয়াল নিহালানি
  4. শ্যাম বেনেগাল
সঠিক উত্তর:
শামা জাইদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামা জাইদি
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার (MUJIB: THE MAKING OF A NATION):
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'মুজিব: একটি জাতির রূপকার'।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৩ অক্টোবর ২০২৩ সালে।
- ১৯ মে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রাথমিক ট্রেলার মুক্তি পায়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
- এর নির্মাণ ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে।
- এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শামা জাইদি ও অতুল তিওয়ারি।
- এটি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি তিনটি ভাষায় করা হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।

অন্যদিকে-
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'চিরঞ্জীব মুজিব'।
- দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র 'মুজিব আমার পিতা'।
- বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী ঘটনা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র '৫৭০'।
- ৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত চলচ্চিত্র 'তর্জনী'।
- ১৯৭১ এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র 'দ্য স্পিচ'।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
২৪৫.
‘কারাগারের রোজনামচা' গ্রন্থটির নামকরণ করেন কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. শেখ রেহানা
  3. শেখ ফজলুল হক মনি
  4. শেখ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
সঠিক উত্তর:
শেখ রেহানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহানা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা ও মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ।
২৪৬.
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনী গঠিত হয় কবে?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. ২১ নভেম্বর ১৯৭১
  4. ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
যৌথ কমান্ড গঠন:
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- সময়: ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর।
- লেফটেন্যান্ট জেনারেন জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে এই বাহিনী গঠিত হয়।
- ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ করলে ভারত সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনী মুক্তিবাহিনীর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই যৌথ কমান্ড এর নিকট পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
২৪৭.
বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছেন কে?
  1. ক) চঞ্চল চৌধুরী
  2. খ) আরেফিন শুভ
  3. গ) আহমেদ রুবেল
  4. ঘ) তারিক আনাম
সঠিক উত্তর:
খ) আরেফিন শুভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরেফিন শুভ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথ প্রযোজনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষ্যে তার জীবনী নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।
- গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
- চিত্রনাট্য রচয়িতা শ্যামা জাইদি।
অভিনয় শিল্পীবৃন্দ:
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে : আরেফিন শুভ
- বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চরিত্রে : তিশা (বড়বেলা) এবং দিঘি (ছোটবেলা)
- বঙ্গবন্ধুর মায়ের চরিত্রে : দিলারা জামান
- বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রে : চঞ্চল চৌধুরী
- শেখ হাসিনা চরিত্রে : নুসরাত ফারিয়া (ছোটবেলা) এবং জান্নাতুল সুমাইয়া (বড়বেলা)
- আইয়ুব খান চরিত্রে : মিশা সওদাগর।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা এবং ঢাকা ট্রিবিউন)
২৪৮.
বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে প্রথম এনসাইক্লোপিডিয়া হলো -
  1. ক) বঙ্গবন্ধুপিডিয়া
  2. খ) মুক্তিপিডিয়া
  3. গ) মুজিবপিডিয়া
  4. ঘ) স্বাধীনপিডিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) মুজিবপিডিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুজিবপিডিয়া
ব্যাখ্যা
মুজিবপিডিয়া

বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে প্রথম এনসাইক্লোপিডিয়া হলো ‘মুজিবপিডিয়া’।

- এটি উপমহাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ, যাতে অনুসরণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপদ্ধতি।
- ১/৮ ডিমাই সাইজের দুই খণ্ডের এ বইটিতে রয়েছে ৫৯১টি ভুক্তি ও ৭৫০টি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।
- এর প্রধান সম্পাদক কবি ও গবেষক কামাল চৌধুরী এবং সম্পাদক ফরিদ কবির।

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ডিসেম্বর ২০২২।
২৪৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কোন দেশ ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. চীন
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহৎশক্তি সমূহ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

২৫০.
শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন কবে?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
  4. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র গণআন্দোলন শুরু হয়। 
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। 
- ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে লাখো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। 
- এ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ ডাকসু'র পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ’।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫১.
মুজিবনগর- এর পূর্বনাম কী ছিল?
  1. মেহেরপুর
  2. চন্দ্রনাথ
  3. স্বরূপকাঠি
  4. বৈদ্যনাথ তলা
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যনাথ তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যনাথ তলা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
২৫২.
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন -
  1. ক) এইচ টি ইমাম
  2. খ) খন্দকার আসাদুজ্জামান
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) লুৎফর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) এইচ টি ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এইচ টি ইমাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন - এইচ টি ইমাম।

• মুজিবনগর সরকার:

- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৩.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য কতজন?
  1. ক) ৬৭
  2. খ) ৪৮
  3. গ) ৬৮
  4. ঘ) ৫০
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৮
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

এবার আমাদের প্রশ্নে আসা যাক,
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত -
সেনাবাহিনী - ৪৮ [লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে বাদ দিয়ে]
নৌ বাহিনী - ৮
বিমান বাহিনী - ৬
গণবাহিনী - ৫

এছাড়া, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্ণেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৮ জন
এবং কর্ণেল জামিলসহ ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৯ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

২৫৪.
দেশের বাহিরে বঙ্গবন্ধুর প্রথম স্থায়ী প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে কোথায়?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ইতালি
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) কানাডা
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
দেশের বাহিরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্র্যাম্যাক শহরে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী প্রতিকৃতি (ম্যুরাল) স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট ২০২০ এটি উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
২৫৫.
মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত কাঁকন বিবি কোন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ছিলেন?
  1. খাসিয়া
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. গারো 
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
ব্যাখ্যা

কাঁকন বিবি: 
- কাঁকন বিবির মূল নাম- কাঁকাত হেনিনচিতা।
- কাঁকন বিবি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কাঁকন ওরফে নূরজাহান নামে পরিচিত হন।
- কাঁকন বিবি ছিলেন খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন বাঙালি নারী মুক্তিযোদ্ধা।
- তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি ‘মুক্তিবেটি’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- কাঁকন বিবি প্রায় ২০টি যুদ্ধে অংশ নেন। 
- তিনি মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরে গুপ্তচরের কাজ করেছেন।
- স্বাধীনতার ২৫ বছর পর, ১৯৯৬ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন।
- জীবদ্দশায় তিনি বীরপ্রতীক খেতাবের সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারেননি।
- তিনি ১০৩ বছর বয়সে ২১ মার্চ, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

২৫৬.
’অপারেশন সার্চলাইট’ কত তারিখে শুরু হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা অভিযান চালায়, তার নাম ছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
​ যদিও হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এ অভিযান শুরু করেছিল, তবে মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল মার্চ মাসের শুরু থেকেই।
- ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য বৈঠক শুরু হয়, কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানি সরকার গোপনে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
- ১৮ মার্চ টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন।
- ২৫ মার্চ রাতেই গণহত্যা শুরু করা হয়। এই পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৫৭.
বঙ্গবন্ধুর কোন ভাষণ ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষণ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভাষণ
  4. ঘ) ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ
ব্যাখ্যা
• ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির উপদেষ্টা কমিটি ৭ মার্চের ভাষণসহ মোট ৭৮টি দলিলকে 'মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' যুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
• 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজ-এ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
• ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০শে অক্টোবর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
• সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ''এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।
২৫৮.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একমাত্র নিহত কর্ণেলের নাম কী?
  1. কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ
  2. কর্নেল তাহের
  3. কর্নেল সাফায়েত জামিল
  4. কর্নেল শরীফ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:

- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে একমাত্র নিহত কর্ণেল, কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
২৫৯.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম
  2. কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  3. বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী
  4. জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ১৯৫৪:

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ)।
- আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী।
- আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী।
- আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী।
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬০.
‘কারাগারের রােজনামচা' গ্রন্থটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান -
  1. ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  2. খ) ইউনিভার্সিটি প্রেস
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) প্রথমা প্রকাশন
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।

- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
২৬১.
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন নিয়ে তৈরি করা জাপানি চিত্রকলা কোনটি?
  1. বঙ্গবন্ধু ১৯৭১
  2. বাংলাদেশ অ্যান্ড বঙ্গবন্ধু
  3. ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু
ব্যাখ্যা
 ‘ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু’ 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন নিয়ে তৈরি করা জাপানি চিত্রকলার গ্রাফিক নভেল জাপানের ১৭তম আন্তর্জাতিক মাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড আসরে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে।
- ‘ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে এই গ্রাফিক নভেল জাপানি চিত্রকলার ‘মাঙ্গা’ ধরনে নির্মাণ করা হয়েছে।
- এটার রচয়িতা এম ই চৌধুরী শামীম ও জাপানের মাঙ্গা শিল্পী ইওয়ামোতো কেইতা। 

সূত্র- প্রথম আলো।
২৬২.
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার কততম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করে?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
• OIC:
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC
- OIC এর পূর্ণরুপ হচ্ছে - The Organisation of Islamic Cooperation
- এটি হলো মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট
- প্রতিষ্ঠা লাভ করে - ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ (মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়)।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ গায়ানা ও সুরিনাম OIC সদস্য।
- ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC সদস্য।

- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC-এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করে এবং এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণ করে।
- OIC এর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন মক্কাতে ২০১৯ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত হয়।
- OIC এর সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।
- OIC এর বর্তমান মহাসচিব, এইচ.ই. হিসেইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)।

- মহাসচিবের মেয়াদ-৫ বছর।
- শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়-তিন বছর পর পর।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।
- অফিসিয়াল ভাষা- তিনটি (আরবি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ।

তথ্যসূত্র: OIC ওয়েবসাইট
২৬৩.
“আমার দেখা নয়াচীন” গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে?
  1. ক) সংস্কৃত মন্ত্রণালয়
  2. খ) তথ্য মন্ত্রণালয়
  3. গ) দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)
  4. ঘ) বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
•“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ।
- ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু।
- তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।
২৬৪.
গাজীপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে-
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংঘটিত হয়।
- ৭ মার্চের ভাষণের পর আন্দোলন দুর্বল করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জয়দেবপুরের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের তাঁদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাঙালি সৈন্যরা অস্ত্র জমা না দিয়ে জনতাকে সাথে নিয়ে চান্দিনা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করে।
- এতে পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করলে হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা নিহত এবং অনেকে আহত হন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ওটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।
- এটির স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।

(তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট)

২৬৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সময়ে বুদ্ধিজীবীদের উপর হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়?
  1. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দুই দিন পূর্বে ১৪ই ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে।
- ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
- তাদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
২৬৬.
১৯৭১ সনের কোন তারিখে The Proclamation of Independece জারী করা হয়?
  1. ২৭ মার্চ
  2. ১০ এপ্রিল
  3. ১৪ এপ্রিল
  4. ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা।
১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২৬৭.
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. প্রফেসর সালাউদ্দিন আহমেদ।
  2. প্রফেসর এম এন সিদ্দীক।
  3. প্রফেসর শামসুল হুদ।
  4. প্রফেসর ফকরুল আলম।
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর ফকরুল আলম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রফেসর ফকরুল আলম।
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ:

- অধ্যাপক ফখরুল আলম শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে একজন প্রথিতযশা অনুবাদক।
- বাংলা সাহিত্যকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন তিনি।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ও 'কারাগারের রোজনামচা' বই দুটি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ফখরুল আলম।
- এর মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ও সংগ্রামকে পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের জানার সুযোগ করে দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, আগস্ট ১৪ ২০২০।
২৬৮.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু
  2. খ) মহানায়ক
  3. গ) রাজনীতির কবি
  4. ঘ) আমি মুজিব বলছি
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথ প্রযোজনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষ্যে তার জীবনী নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
- চিত্রনাট্য রচয়িতা শ্যামা জাইদি।
অভিনয় শিল্পীবৃন্দ:
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে : আরেফিন শুভ
- বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চরিত্রে : তিশা (বড়বেলা) এবং দিঘি (ছোটবেলা)
- বঙ্গবন্ধুর মায়ের চরিত্রে : দিলারা জামান
- বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রে : চঞ্চল চৌধুরী
- শেখ হাসিনা চরিত্রে : নুসরাত ফারিয়া (ছোটবেলা) এবং জান্নাতুল সুমাইয়া (বড়বেলা)
- আইয়ুব খান চরিত্রে : মিশা সওদাগর।
(সুত্র: বিবিসি বাংলা, ঢাকা ট্রিবিউন এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
২৬৯.
বঙ্গবন্ধু কবে পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন?
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  2. ২৩ মার্চ ১৯৬৯
  3. ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  4. ২ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান ভূখণ্ডের নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
২৭০.
কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. মুন্সী আব্দুর রহমান
  2. নূর মোহাম্মাদ শেখ
  3. মোস্তফা কামাল
  4. হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
মুন্সী আব্দুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্সী আব্দুর রহমান
ব্যাখ্যা
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২৭১.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ”চরমপত্র” পাঠ করতেন কে?
  1. মাহবুবুল হক
  2. আবদুল মান্নান
  3. এম. আর. আখতার মুকুল
  4. মাজহারুল ইসলাম  
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- ২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৭২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ সংকলন করেন -
  1. ক) ফেন্টন মাইকস
  2. খ) জ্যাকব এফ ফিল্ড
  3. গ) শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. ঘ) হেরিক জনসন
সঠিক উত্তর:
খ) জ্যাকব এফ ফিল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জ্যাকব এফ ফিল্ড
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ সংকলন করেন - জ্যাকব এফ ফিল্ড।

• ৭ মার্চের ভাষণ:

- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলোঃ
- চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা। 
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
- গণহত্যার তদন্ত করা।
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনটারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

এছাড়াও,
- ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ডের ভাষণ সংকলন "The Speech the Inspired History" এ বিশ্বের সেরা ৪১টি ভাষণের মধ্য স্থান পেয়েছে ৭ই মার্চের ভাষণ।
- জ্যাকবের বইয়ে ভাষণটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে The Struggle : This Time is the Struggle for Independence.
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ বক্তৃতার সাথে তুলনা করা হয়।
- "শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয়,এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল" উক্তিটি করেছেন - কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট,  প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
২৭৩.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান কতদিন জেলে বন্দি ছিলেন?
  1. ৪৬৭৫ দিন
  2. ৩০৫৩ দিন
  3. ৪৬৮৫ দিন
  4. ৪৬৮২ দিন
সঠিক উত্তর:
৪৬৮২ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬৮২ দিন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- বন্দী থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু ১ নং আসামী ছিলেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।
- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল ১৮ মিনিট ।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় অপারেশন বিগবার্ড এর মাধ্যমে।

উল্লেখ্য,
- ৫৫ বছর জীবনে বঙ্গবন্ধু ৪৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন।
- এর মধ্যে স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন কারাভোগ করেন আর বাকী ৪৬৭৫ দিন পাকিস্তান আমলে।

উৎস: i) শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু'।
ii) ১৬ মার্চ ২০১৯, প্রথম আলো।
২৭৪.
আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর সম্মেলনে বাংলাদেশ যোগদান করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও বাংলাদেশ

- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ অধিকাংশ জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতা লাভ করেছিল।
- স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে।
- বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে শরীক হয় ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে।
- এ সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তেজোদীপ্ত কণ্ঠে এ সম্মেলনে সকল প্রকার উপনিবেশবাদ, নয়া-উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিন্দাজ্ঞাপন করেন।
- তিনি জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এবং কাজে ও কথায় এর নীতি অনুসরণ করার জন্য সকল রাষ্ট্রের প্রতি আবেদন জানান।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৫.
বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফরের উদ্দেশ্য ছিলো-
  1. ক) চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে যোগদান
  2. খ) শান্তি সম্মেলনে যোগদান
  3. গ) সরকারি সফর
  4. ঘ) চোখে অস্ত্রোপচার
সঠিক উত্তর:
খ) শান্তি সম্মেলনে যোগদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শান্তি সম্মেলনে যোগদান
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২-১২ অক্টোবর চীনের পিকিংয়ে ‘পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স’ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধু ও তার অপর চারজন সহযাত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফরের অভিজ্ঞাতা তিনি ১৯৫৪ সালে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ডায়েরিতে লিখে যান যা ‘আমার দেখা নয়াচীন’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে দ্বিতীয়বার চীন সফরে যান।
(তথ্যসূত্র: আমার দেখা নয়াচীন এবং প্রথম আলো)
২৭৬.
ওআইসির কততম শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন?
  1. প্রথম
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. দ্বিতীয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা

- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা- OIC (Organization of Islamic Co-operation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
- এর সদরদপ্তর অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দায়। ওআইসির বর্তমান সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য পদ লাভ করে।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
উৎসঃ ওআইসি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

২৭৭.
যুদ্ধ কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনীতে গঠিত ‘জেড ফোর্স’ ব্রিগেডের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিবাহিনীতে Z, S, K ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স ছিল।
- এগুলো তেলিয়াপাড়া রণকৌশল অনুযায়ী গঠিত হয়েছিল।
- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল হল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পরিকল্পনা;
- যেখানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণের কৌশল তৈরি করা হয়।

Z ফোর্স-
- Z ফোর্স গঠিত হয় ৭ জুলাই ১৯৭১।
- এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান। 
- সদর দপ্তর ছিল তেলঢালায়।
- জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী এই ফোর্স এর নাম Z ফোর্স রাখা হয়। 
- Z ফোর্স প্রধানত পূর্বাঞ্চলে সামরিক নেতৃত্ব দেয়; 
- এবং সেক্টর ২, ৩ ও ৪ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত ব্রিগেড গঠন এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
---------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
S ফোর্স-
- লে. কর্নেল কে. এম. শফিউল্লাহ- S ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন। 
- S ফোর্স গঠিত হয় সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে।
- এর সদর দপ্তর ছিল হাজামারায়।
- S ফোর্স উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৫, ৬ ও ৭ তত্ত্বাবধান করত।
- এর মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের কাঠামোগত নেতৃত্ব প্রদান এবং সেক্টরভিত্তিক লড়াইকে সুসংগঠিত করা।

K ফোর্স-
- K ফোর্স এর অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ। 
- K ফোর্স গঠিত হয় ১৪ অক্টোবর ১৯৭১।
- এর সদর দপ্তর ছিল আগরতলায়।
- K ফোর্স দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং সেক্টর ৮, ৯ ও ১১ এর দায়িত্ব পালন করত।
- ফোর্সটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য নিয়মিত ব্রিগেড গঠন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: বনিক বার্তা ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। 

২৭৮.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে 'RTC' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Round Table Conference
  2. Round and Transport Corporation
  3. Royal Technical Committee
  4. Rawalpindi Technical Committee
সঠিক উত্তর:
Round Table Conference
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Round Table Conference
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে 'RTC' এর পূর্ণরূপ Round Table Conference।

৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছেন - 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকব।

⇒ বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
          ii) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে কোন নৌবহর প্রেরণ করে?
  1. ৮ম নৌবহর
  2. ৬ষ্ঠ নৌবহর
  3. ৫ম নৌবহর
  4. ৭ম নৌবহর
সঠিক উত্তর:
৭ম নৌবহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম নৌবহর
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের দিকে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।

মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: ¡)বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡)প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

২৮০.
বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্রবাহিনী কবে বাংলাদেশ ছেড়ে যায়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৪ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১২ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১২ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
ভারতীয় মিত্রবাহিনী:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান নেয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ভারতের মাটিতে বসেই পরিচালিত হতো।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ভারতের মাটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ভারত তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির পর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।
- বাংলাদেশে আসার পূর্বে বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনী সদস্যদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রবিরতি করে।
- দিল্লির বিমানবন্দরে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
- সেদিন ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইন্দিরা গান্ধী।
- ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলকাতায় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে জানান- ইয়োর এক্সেলেন্সি, ১৭ মার্চের আগেই সর্বশেষ ভারতীয় সেনাটিও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে।
- এরপর, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ, ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে ওয়েবসাইট।
২৮১.
কত সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণচীনে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে অংশ নেন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের পর পরই শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালে চীনে যান।
- পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান এ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স-এ পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নয়াচীন সফর করেন।
- তিনি পাকিস্তান শান্তি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে চীন যান।
- বিশ্বের মোট ৩৭টি দেশ তাতে অংশগ্রহণ করে।
- তার এই চীন ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় কারণ সম্মেলনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা প্রদান করেন।
- সেখানে অনেকে ইংরেজীতে বক্তৃতা করলেও তিনি বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন।
- এবং তাঁর বাংলা ভাষার এ ভাষণটি ছিল দেশের বাইরে অবাঙালী ভূখণ্ডে প্রথম কোন বাঙালীর বাংলা ভাষণ। 

সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ (লিঙ্ক)।
২৮২.
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনের কত সাল পর্যন্ত ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে?
  1. ক) ১৯৫৫ সাল
  2. খ) ১৯৬২ সাল
  3. গ) ১৯৬৬ সাল
  4. ঘ) ১৯৬৯ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৫ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৫৫ সাল
ব্যাখ্যা
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি ১৯৬৬-৬৯ সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তিনি লেখেন।
এই বইয়ে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তার জীবনের ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে।
বইটি ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড প্রকাশ করে। এটির ভূমিকা লিখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সময় পর্যন্ত বইটি ১৪টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং প্রথম আলো)
২৮৩.
কোন সংশ্লিষ্টতার কারণে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়?
  1. ক) কর্ডন প্রথা বিরোধী আন্দোলন
  2. খ) বাংলা ভাষার পক্ষে প্রচারণা
  3. গ) দাওয়ালদের বিপক্ষে আন্দোলন
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক) কর্ডন প্রথা বিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্ডন প্রথা বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ভাগের পরপরই দেশের অভ্যন্তরে ধান-চাল চলাচলে ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়। ‘কর্ডন প্রথা’ চালু করা হয়েছিল তৎকালীন পূর্ব-বাংলার ১৭টি জেলাতে। যে সমস্ত জেলায় তখন ‘কর্ডন প্রথা’ চালু ছিল সেসব জেলার বাইরে কোনো ধান-চাল বেসরকারিভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। প্রান্তিক চাষিদের জন্য লড়াই করতে গিয়েই তিনি ১৯৪৮-৪৯ সালে ‘দাওয়াল’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এ কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং  ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করা হল -
এই সময় খাদ্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল কয়েকটা জেলায়। বিশেষ করে ফরিদপুর, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার জনসাধারণ এক মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছিল। সরকার কর্ডন প্রথা চালু করেছিল। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কোনো খাদ্য যেতে দেওয়া হত না। ফরিদপুর ও ঢাকা জেলার লোক, খুলনা ও বরিশাল ধান কাটবার মরশুমে দল বেঁধে দিনমজুর হিসাবে যেত। এরা ধান কেটে ঘরে উঠিয়ে দিত। পরিবর্তে একটা অংশ পেত। এদের ‘দাওয়াল’ বলা হত। হাজার হাজার লোক নৌকা করে যেত। আসবার সময় তাদের অংশের ধান নিজেদের নৌকা করে বাড়িতে নিয়ে আসত। এমনিভাবে কুমিল্লা জেলার দাওয়ালরা সিলেট জেলায় যেত। এরা প্রায় সকলেই গরিব ও দিনমজুর। প্রায় দুই মাসের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে এদের যেতে হত। যাবার বেলায় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সংসার খরচের জন্য দিয়ে যেত। ফিরে এসে ধার শোধ করত। দাওয়ালদের নৌকা খুবই কম ছিল। যাদের কাছ থেকে নৌকা নিত তাদেরও একটা অংশ দিতে হত। যখন এবার দাওয়ালরা ধান কাটতে গেল, কেউ তাদের বাধা দিল না। এরা না গেলে আবার জমির ধান তুলবার উপায় ছিল না। একসাথেই প্রায় সব ধান পেকে যায়, তাই তাড়াতাড়ি কেটে আনতে হয়। স্থানীয়ভাবে এত কৃষাণ একসাথে পাওয়া কষ্টকর ছিল। বহু বৎসর যাবৎ এই পদ্ধতি চলে আসছিল।

ফরিদপুর, ঢাকা ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার লোক এই ধানের উপর নির্ভর করত। দাওয়ালরা যখন ধান কাটতে যায়, তখন সরকার কোনো বাধা দিল না। যখন তারা দুই মাস পর্যন্ত ধান কেটে তাদের ভাগ নৌকায় তুলে রওয়ানা করল বাড়ির দিকে তাদের বুভুক্ষ মা-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়াবার জন্য, যারা পথ চেয়ে আছে, আর কোনো মতে ধার করে সংসার চালাচ্ছে- কখন তাদের, স্বামী, ভাই, বাবা ফিরে আসবে ধান নিয়ে, পেট ভরে কিছুদিন ভাত খাবে, এই আশায়- তখন নৌকায় রওয়ানা করার সাথে সাথে তাদের পথ রোধ করা হল। ‘ধান নিতে পারবে না, সরকারের হুকুম’, ধান জমা দিয়ে যেতে হবে, নতুবা নৌকাসমেত আটক ও বাজেয়াপ্ত করা হবে। সহজে কি ধান দিতে চায়? শেষ পর্যন্ত সমস্ত ধান নামিয়ে রেখে লোকগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এ খবর পেয়ে আমার পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব হল না। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করলাম। সভা করলাম, সরকারি কর্মচারীদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম কিন্ত কোনো ফল হল না। এদিকে খোন্দকার মোশতাক আহমদ এই কর্ডনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা শুরু করেছে বলে আমি খবর পেলাম। অনেক সভা-সমিতি, অনেক প্রস্তাব করলাম কোনো ফল হল না। এই লোকগুলি দিনমজুর। দুই মাস পর্যন্ত যে শ্রম দিল, তার মজুরি তাদের মিলল না। আর মহাজনদের কাছ থেকে যে টাকা ধার করে এনেছিল এই দুই মাসের খরচের জন্য, খালি হাতে ফিরে যাওয়ার পরে দেনার দায়ে ভিটাবাড়িও ছাড়তে হল।
... ... ...

২৮৪.
অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা করা হয় কত তারিখে?
  1. ১৮ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২২ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২০ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৮ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
- ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা  সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।

- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে। ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়। মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮৫.
বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্য মনোনীত হন কবে?
  1. ৪ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  2. ৮ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  3. ১০ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
  4. ১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১০ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ অক্টোবর ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসুত্র- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
২৮৬.
বেকার হোস্টেলের সাথে নিচের কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
ব্যাখ্যা
বেকার হোস্টেল:
- ১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় বেকার হোস্টেল।
- ছাত্রাবাসটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড নরম্যান বেকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রাবাসটি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ৮ স্মিথ লেনে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২-৪৭ সাল পর্যন্ত।
- উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে।
- তিনি ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে।
- এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ।
- ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।

উৎস: ২৯ আগস্ট ২০১৯, প্রথম আলো।
২৮৭.
১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছিলেন-
  1. প্রফুল্ল চন্দ্র সেন
  2. অজয় মুখোপাধ্যায়
  3. সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
  4. জ্যোতি বসু
সঠিক উত্তর:
অজয় মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজয় মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অজয় মুখোপাধ্যায় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্য করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের নেতৃবৃন্দ:

প্রেসিডেন্ট: বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি।
প্রধানমন্ত্রী: ইন্দ্রিরা গান্ধী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সরদার সরণ সিং।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: অজয় মুখোপাধ্যায়।
যৌথবাহিনীর সর্বাধিনায়ক: জেনারেল স্যাম মানকেশ।
যৌথবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান: জগজিৎ সিং আরোরা।
জাতিসঙ্গে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি: সমর সেন।
২৮৮.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত যাত্রাপালা কোনটি?
  1. মিয়া ভাই
  2. বঙ্গবন্ধু
  3. নিঃসঙ্গ লড়াই
  4. খোকা
সঠিক উত্তর:
নিঃসঙ্গ লড়াই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃসঙ্গ লড়াই
ব্যাখ্যা
যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’।
- পাকিস্তানের লায়ালপুর জেলখানার বন্দি থাকা অবস্থায় তার জীবনীভিত্তিক কাহিনী নিয়েই গড়ে উঠেছে যাত্রাপালাটি।
- এর পালাকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিয়েছেন সাইদুর রহমান লিপন।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ যাত্রাপালাটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
- পালাটি পরিচালনা করছে সাইদুর রহমান লিপন।
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন মিঠুন ইসলাম। ইয়াহিয়া চরিত্রে এস এম শফি, জুলফিকার আলী ভুট্টোর চরিত্রে আফসারুজ্জামান রনি অভিনয় করেছেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ৯ জানুয়ারি, ২০২২।
২৮৯.
বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুরি’ পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭২ সালের-
  1. ১৫ জানুয়ারি
  2. ১৮ অক্টোবর
  3. ১০ অক্টোবর
  4. ৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১০ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসুত্র- কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
২৯০.
বঙ্গবন্ধু মোট কতবছর জেলে কাটান?
  1. ক) ৫ বছর
  2. খ) ৯ বছর
  3. গ) ১২ বছর
  4. ঘ) ১৪ বছর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ বছর
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনে মোট ১২ বছর জেলে কাটান। এর পুরোটাই পাকিস্তানি শাসনামলে। অর্থাৎ পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসনামলের অর্ধেক সময়ই তাকে জেলে টাকাতে হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ১৯৩৮ সালে তার এক বন্ধুকে সাহায্য করতে গিয়ে প্রথমবার সাতদিন জেল খাটেন।
- রাজনৈতিক কারনে প্রথম জেলে যান ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে হরতালের কর্মসূচি থেকে।
- সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ তিনি পাকিস্তান থেকে মুক্তি হয়ে লন্ডন গমন করেন।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
২৯১.
অপারেশন জ্যাকপট কত তারিখে পরিচালিত হয়?
  1. ২২ই জুলাই ১৯৭১ সালে
  2. ৭ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
  3. ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
  4. ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
২৯২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে স্বীকৃতি দেয় কোন সংগঠন?
  1. NSDP
  2. UNESCO
  3. HKI
  4. IDE
সঠিক উত্তর:
UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNESCO
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:

- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম। 
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনন্য এবং অসাধারণ এই কারণে যে, এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একতাবদ্ধ করেছিল।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে। 
- তৎকালীন শিক্ষা সচিব ও শিক্ষামন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এ ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্কশপে উপস্থাপনের জন্য উৎসাহিত করেন। 
- মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ স্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে একটি সুদীর্ঘ পরিকল্পনা ও ইতিহাস।

তথ্যসূত্র - i) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ..., mofa.gov.bd.
               ii) যুগান্তর, ০৭ মার্চ, ২০২১।
২৯৩.
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং
  2. ৮নং
  3. ৭নং
  4. ২নং
সঠিক উত্তর:
৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েকমুন্সী আব্দুর রব- ১নং সেক্টর।
- সিপাহি মোস্তফা কামাল- ২নং সেক্টর।
- স্কোয়াড্রন ইন্জিনিয়ার রুহুল আমিন- ১০নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ- ৮নং সেক্টর।
- সিপাহি হামিদুর রহমান- ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গির- ৭নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান- কোনো সেক্টরে ছিলেন না।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২৯৪.
'মুজিব: একটি জাতির রূপকার' চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন কে?
  1. শামা জাইদি
  2. অতুল তিওয়ারি
  3. শ্যাম বেনেগাল
  4. শ্যাম নীতিশ
সঠিক উত্তর:
শ্যাম বেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যাম বেনেগাল
ব্যাখ্যা
মুজিব: একটি জাতির রূপকার (MUJIB: THE MAKING OF A NATION):

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র 'মুজিব: একটি জাতির রূপকার'।
- চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৩ অক্টোবর ২০২৩ সালে।
- ১৯ মে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রাথমিক ট্রেলার মুক্তি পায়।
- বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
- এর নির্মাণ ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মোট অর্থের ৫০ কোটি ও ভারত ৩৩ কোটি টাকা দিয়েছে।
- এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শামা জাইদি ও অতুল তিওয়ারি।
- এটি বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি তিনটি ভাষায় করা হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
২৯৫.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন কত বছর বয়সে?
  1. ক) ৩৪ বছর
  2. খ) ৩৬ বছর
  3. গ) ৩৯ বছর
  4. ঘ) ৩১ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩৪ বছর
ব্যাখ্যা
৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৯৬.
শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন -
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একজন বাঙালি নেতা হিসেবে তাঁর উত্থান হয়। 
• ১৯৫৫ সালে সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নাম রাখা হয় 'আওয়ামী লীগ'।
• ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
• ১৯৫৫ সালের  ৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সূত্র: mujib100.gov.bd
২৯৭.
বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন কে?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সুভাষ চন্দ্র বোস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- বিবিসি বাংলা ২০০৪ সালে শ্রোতাদের জরিপের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির একটি তালিকা করে।
তালিকা:
- প্রথম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- দ্বিতীয় : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- তৃতীয় : কাজী নজরুল ইসলাম
- চতুর্থ : শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
- পঞ্চম : সুভাষ চন্দ্র বোস
- ষষ্ঠ : বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- সপ্তম : জগদীশ চন্দ্র বসু
- অষ্টম : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- নবম : আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- দশম : রাজা রামমোহন রায়
- ১১তম : মীর নিসার আলী তিতুমীর
- ১২তম : লালন শাহ
- ১৩তম : সত্যজিৎ রায়
- ১৪তম : অমর্ত্য সেন
- ১৫তম : বায়ান্নর ভাষা শহিদ
- ১৬তম : মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- ১৭তম : স্বামী বিবেকানন্দ
- ১৮তম : অতীশ দীপঙ্কর
- ১৯তম : জিয়াউর রহমান
- ২০তম : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)
২৯৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে কোন সেক্টরটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ১১ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টরটি ব্যতিক্রম। এই সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।
২৯৯.
১৯৭১ সালে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা কোন অভিযান পরিচালনা করে?
  1. চাটগাঁ অভিযান
  2. বেলুনিয়া অভিযান
  3. কুষ্টিয়া অভিযান
  4. ময়মনসিংহ অভিযান
সঠিক উত্তর:
বেলুনিয়া অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলুনিয়া অভিযান
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী :
- ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাস থেকে মুক্তিবাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ঝটিকা আক্রমণ শুরু করে।
- ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারত-সোভিয়েত চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ যুদ্ধে ভারত অধিকতর আগ্রহ দেখাতে শুরু করে।
- অবশেষে, ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারত সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
- বস্ত্তত নভেম্বর মাস থেকেই ভারতীয় সৈন্যরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে আসছিল।
- এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা বেলুনিয়া অভিযান পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,

• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ।
- ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

উৎস; বাংলাপিডিয়া।

৩০০.
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য কতজন নারীকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৩ জন
  2. ২ জন
  3. ১ জন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের -কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।