বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

মোট প্রশ্ন৭০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইতিহাস

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৭০৪

১০১.
বঙ্গবন্ধু কত সালে এবং কোন শহরে জােট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১৯৭২, কায়রাে
  2. ১৯৭৪, নয়া দিল্লী
  3. ১৯৭৫, বেলগ্রেড
  4. ১৯৭৩, আলজিয়ার্স
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩, আলজিয়ার্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩, আলজিয়ার্স
ব্যাখ্যা
NAM:
- NAM-এর পূর্ণরূপ: Non-Aligned Movement বা জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন।
- এটি উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিবেদিত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- এটি একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর স্বার্থ এবং আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গঠিত হয়।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধকালীন পুঁজিবাদী দেশসমূহের জোট ন্যাটো এবং সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহের জোট ওয়ারশ থেকে নিরপেক্ষ হিসাবে আন্দোলনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৫ সালের ১৮-২৪ এপ্রিল বান্দুং কনফারেন্সের প্রেক্ষিতে ন্যাম গঠিত হয়।
- ১৯৬১ সালে পুরোনো যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড-এ জন্ম হয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের।
- প্রথম কনফারেন্স হয় বেলগ্রেড, ১৯৬১ সালের ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১।
- বর্তমান সদস্য: ১২১টি।
- চেয়ারম্যান: ইলহাম ইলিয়েভ।
- ন্যামের প্রথম প্রেসিডেন্ট: ইয়োসিপ ব্রোজ টিটো (মার্শাল টিটো)।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যাম-এর ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

⇒ ১৯৭৩ সালের ৫ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত হয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যাম-এর ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
- এতে প্রথমবারের মতো যোগ দিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
- সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য এ সম্মেলনটি ছিল নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
- জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন শেষে ঘোষণাপত্রে জোটনিরপেক্ষ দেশগুলো তাদের সমর্থন দেয় বাংলাদেশকে।
- ১৯৭৩ সালের সেই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও অমর একুশের ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

উৎস: NAM ওয়েবসাইট।
১০২.
৬ দফা দাবি পেশ করা হয় :
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন। পরদিন সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরদিন পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০৩.
অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকে?
  1. ক) জেনারেল টিক্কা খান
  2. খ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. গ) জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  4. ঘ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
খ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে এবং ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা। এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করেন জেনারেল টিক্কা খান।

পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৪-২৫ মার্চ জেনারেল হামিদ, জেনারেল এ. ও মিঠঠি, কর্নেল সাদউল্লাহ হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রস্ত্ততি পরিদর্শন করেন। সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম রাজা। লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া এ অভিযানকে সফল করার জন্য ইতোমধ্যে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের দু’জন ঘনিষ্ঠ অফিসার মেজর জেনারেল ইখতেখার জানজুয়া ও মেজর জেনারেল এ.ও মিঠঠিকে ঢাকায় আনা হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন-
  1. ক) ৩৪ জন
  2. খ) ৩৫ জন
  3. গ) ৩৬ জন
  4. ঘ) ৩৮ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৫ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আইয়ুব খানের সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। সরকারি নথিতে এই মামলার নাম ছিলো ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।
-এ মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্ত ছিলেন ৩৫ জন।
-ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্য শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন।
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. ক) এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্তকরন
  2. খ) জিয়ার ক্ষমতাকে বৈধতা প্রদান
  3. গ) অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দায়মুক্তি
ব্যাখ্যা

• ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।
• বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়

প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

দ্বিতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন,অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।

তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ
• ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৬.
বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন কবে?
  1. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ সালে
  2. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সালে
  3. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সালে
  4. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- বন্দী থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু ১ নং আসামী ছিলেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু' ও ডেইলি স্টার।
১০৭.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোন বৃহৎ শক্তিধর দেশ জাতিসংঘে ভেটো দেয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে ভেটো প্রদান:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- বর্তমানে সোভিয়েত ইউনিয়ন নাম রাশিয়া।
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো দেয় রাশিয়া।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে।
- এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।

উল্লেখ্য, 
-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
‘এস ফোর্স’-এর প্রধান কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. মেজর শফিউল্লাহ
  3. মেজর খালেদ মোশাররফ
  4. কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
মেজর শফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাহিনী গঠন:
- অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধকে আরো গতিশীল এবং সুশৃঙ্খল উপায়ে পরিচালনা করার জন্য এ দেশের বিভিন্ন বাহিনীতে চাকুরিরত সেনাদের সমন্বয়ে ‘নিয়মিত বাহিনী’ এবং সাধারণ জনতার সমন্বয়ে ‘অনিয়মিত বাহিনী বা গণবাহিনী’ নামক প্রধান দুটি বাহিনী গঠন করা হয়।
- তবে সার্বিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের এসব বাহিনী ‘মুক্তি বাহিনী’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিল।
- কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানীকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করা হয়।
- নিয়মিত বাহিনীর অধীনে আরো কিছু উপ বাহিনী গঠিত হয়। যথা-

• সেনা ব্যাটেলিয়ন
- এই বাহিনীটি গঠিত হয় তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তার রাইফেল্স বা ইপিআর এর বাঙালি সদস্যদের সমন্বয়ে।
- এই বাহিনীকে পরে তিনটি আলাদা ব্রিগেডে বা ফোর্সে বিভক্ত করা হয়। ব্রিগেড প্রধানগণ হলেন- 
১. এস ফোর্স- মেজর শফিউল্লাহ।
২. জেড ফোর্স- মেজর জিয়াউর রহমান।
৩. কে ফোর্স- মেজর খালেদ মোশাররফ। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৯.
মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টর ছিলো নিচের কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন (১ নং সেক্টর)

⇒ ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• সাব-সেক্টর ঋষিমুখ — কমান্ডার ক্যাপ্টেন শামসুল ইসলাম।
• সাব-সেক্টর শ্রীনগর — কমান্ডার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান (পরে ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান)।
• সাব-সেক্টর মনুঘাট — কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান।
• সাব-সেক্টর তবলছড়ি — কমান্ডার সুবেদার আলী হোসেন।
• সাব-সেক্টর ডিমাগিরী — কমান্ডার জনৈক সুবেদার।
• এ সেক্টরে প্রায় ১০,০০০ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- নিয়মিত বাহিনী (ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী) ছিল প্রায় ২,০০০ জন।
- গণবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৮,০০০।
- গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১০.
মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী কোন এলাকায় সক্রিয় ছিল?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. মানিকগঞ্জ
  3. মাগুরা
  4. সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা

হেমায়েত বাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বাহিনী- হেমায়েত বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী গেরিলা বাহিনী। 
- হেমায়েত বাহিনী- মূলত বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর এবং বাগেরহাট ও যশোরের কিছু অঞ্চলে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
- এই বাহিনী নদী ও উপকূল ব্যবহার করে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করত।
- এবং নদী উপকূলীয় এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলত এবং বেশ কিছু এলাকা মুক্তও করেছিল।

• সেক্টর এলাকার বাইরে গঠিত উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক বাহিনীসমূহ:
- হেমায়েত বাহিনী – গোপালগঞ্জ, বরিশাল।
- কাদেরিয়া বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- আকবর বাহিনী – মাগুরা।  
- লতিফ মীর্জা বাহিনী – সিরাজগঞ্জ, পাবনা।  
- জিয়া বাহিনী – সুন্দরবন। 
- আফসার ব্যাটালিয়ন – ভালুকা, ময়মনসিংহ।
- বাতেন বাহিনী – টাঙ্গাইল। 
- হালিম বাহিনী – মানিকগঞ্জ। 

- এছাড়া ঢাকার গেরিলা দল (‘ক্র্যাক প্লাটুন’) ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাত।
- এই বাহিনীসমূহ মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময় আঞ্চলিক এবং শহুরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১১১.
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. সরদার শরন সিং
  2. সমর সেন
  3. আর.কে. দিক্ষিত
  4. বিজয় লক্ষ্মী পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধ ছিলেন সমর সেন।

• সমর সেন (জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯১৬ — মৃত্যু: ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭)
- তিনি ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা - উত্তর কালের ভারতীয় কবি এবং সাংবাদিক।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১২.
কোন দুইজন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে অবস্থিত?
  1. মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
  2. নূর মোহাম্মদ শেখ ও রুহুল আমিন
  3. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. হামিদুর রহমান ও রুহুল আমিন
সঠিক উত্তর:
মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিউর রহমান ও হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠের কবরস্থান:
- বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে: 
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান;
- ও  বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান এর সমাধি অবস্থিত ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

• মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যোগদানের উদ্দেশ্যে ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (T-33 Jet) ছিনিয়ে এনে ভারতের দিকে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু বিমানটি ভূপাতিত হলে তিনি শহীদ হন।

• হামিদুর রহমান:
- হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ নম্বর সেক্টরের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর, মেলাঘর সাব-সেক্টরের বাউফাল সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে তিনি অসীম সাহসিকতা প্রদর্শন করেন।
- শত্রুর প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের মাঝেও তিনি ব্রিজের দিকে অগ্রসর হয়ে সফলভাবে আক্রমণ পরিচালনা করেন এবং ঐ যুদ্ধে শহীদ হন।

উল্লেখ্য, 
• বাকি পাঁচজন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থল:
- বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন — লোহাগাড়া, নোয়াখালী।
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ — নওয়াপাড়া, যশোর।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর — শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ — বুড়িঘাটা, রাঙামাটি।
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল — আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB).

১১৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৩নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর নুরুজ্জামান
  2. মেজর শফিকুর রহমান
  3. মেজর আবু উসমান
  4. মেজর  এ.এন.এম নূরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
মেজর  এ.এন.এম নূরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর  এ.এন.এম নূরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন  ৩নং সেক্টর:
- এ সেক্টর উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
- দুই ইস্ট বেঙ্গল এবং সিলেট ও ময়মনসিংহের ইপিআর বাহিনী সমন্বয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টরের সদর দফতর ছিল হেজামারা।
- এই সেক্টরের অধীনে ১৯টি গেরিলা ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল।
- নভেম্বর মাস পর্যন্ত গেরিলার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ত্রিশ হাজার।
- তারা কুমিল্লা-সিলেট সড়কে কয়েকটি সেতু বিধ্বস্ত করে পাক বাহিনীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
- তাদের সবচেয়ে সফল আক্রমণ ছিল শায়েস্তাগঞ্জের নিকটে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মাইনের সাহায্যে একটি রেলগাড়ি বিধ্বস্ত করা।

- এই সেক্টরের দশটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে:
- আশ্রমবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ); 
- বাঘাইবাড়ি (ক্যাপ্টেন আজিজ এবং পরে ক্যাপ্টেন এজাজ); 
- হাতকাটা (ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান); 
- সিমলা (ক্যাপ্টেন মতিন); 
- পঞ্চবটী (ক্যাপ্টেন নাসিম); 
- মনতলা (ক্যাপ্টেন এম.এস.এ ভূঁইয়া); 
- বিজয়নগর (এম.এস.এ ভূঁইয়া); 
- কালাছড়া (লেফটেন্যান্ট মজুমদার); 
- কলকলিয়া (লেফটেন্যান্ট গোলাম হেলাল মোরশেদ); 
- এবং বামুটিয়া (লেফটেন্যান্ট সাঈদ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক্যাপটেন মনসুর আলী
  2. কর্নেল এম এ রব
  3. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  ছিলেন- জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল এম এ রব।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভা কবে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই এপ্রিল তারিখে।
- এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

এছাড়া, এম. এ. জি. ওসমানী প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৬.
বাংলাদেশের বীরত্বসূচক উপাধিগুলোর মধ্যে কোনটির স্থান মর্যাদার দিক থেকে দ্বিতীয়?
  1. বীরউত্তম
  2. বীরবিক্রম
  3. বীরপ্রতীক
  4. বীরশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
এগুলো হলো:

- যথাক্রমে:- বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক।
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৭.
"যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।" উক্তিটি কার?
  1. ক) হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
  2. খ) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন এবং উদ্ধৃতি।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের উক্তি
"যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।"      

• প্রখ্যাত মিশরীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ হাসনাইন হাইকলের উক্তি "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নন। তিনি সমগ্র বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত।" 

• ফিলিস্তান মুক্তি মোর্চার সাবেক নেতা, নোবেল বিজয়ী ইয়াসির আরাফাতের উক্তি "আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং কুসুমকোমল হৃদয় ছিল মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব।" 

• গণপ্রজাতন্ত্রী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উক্তি "শেখ মুজিব নিহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তাঁর অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।" 

• গণপ্রজাতন্ত্রী কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং কিংবদন্তি বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রো উক্তি  "আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।" 

উৎস: mujib100.gov.bd
১১৮.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে-
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২১ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে। ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে। যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। [সূত্র: একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর (উন্মুক্ত) ইতিহাস বই]
১১৯.
৭ই মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ওরা ১১ জন
  2. তর্জনী
  3. মাইক
  4. দ্য স্পিচ
সঠিক উত্তর:
মাইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক
ব্যাখ্যা
মাইক:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্রমাইক’।
- চলচ্চিত্র ‘মাইক’ তরুণ লেখক, কলামিস্ট ও সংগঠক এফ এম শাহীনের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন এফ এম শাহীন ও হাসান জাফরুল (বিপুল)।
- এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে পারবে।
- মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে মাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং রাজাকারদের যেভাবে উত্থান ঘটেছিল, সেই ইতিহাস এ সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে।
- সিনেমায় দাইয়ান, সানজিদ, মেঘসহ চার শিশুশিল্পী অভিনয় করে।

অন্যদিকে -
- চাষী নজরুল ইসলামের 'ওরা ১১ জন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র।
- ৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত চলচ্চিত্র ‘তর্জনী’।
- ১৯৭১ এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।

উৎস: ২৮ মার্চ, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
১২০.
ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত দিন অনশন করেছিলেন?
  1. ১৯ দিন
  2. ১৬ দিন
  3. ১৩ দিন
  4. ১৭ দিন
সঠিক উত্তর:
১৩ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ দিন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- বন্দী থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন।
- ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু ১ নং আসামী ছিলেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।
- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল ১৮ মিনিট ।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় অপারেশন বিগবার্ড এর মাধ্যমে।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু' ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২১.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৯
  2. ২০০০
  3. ২০০১
  4. ২০০২
সঠিক উত্তর:
২০০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।।
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

১২২.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত ”চরমপত্র” সিরিজটি পরিকল্পনা করেন কে?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  3. আব্দুর রব চৌধুরি
  4. আবদুল মান্নান
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- ২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রথমে কত জনকে 'বীরবিক্রম' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ৬৫ জন
  2. ১৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই খেতাব প্রদান করা হয়।

• খেতাব:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১২৪.
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু পরবর্তী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য কতদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ক) ৪ দফা
  2. খ) ৫ দফা
  3. গ) ৮ দফা
  4. ঘ) ১০ দফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ দফা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙ্গালির ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ। সকাল থেকেই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ছাত্র-জনতা-অবাল-বৃদ্ধ-বণিতা-দলে দলে সমবেত হতে থাকে।
- বিকাল ৩ঃ২০ মিনিট নাগাদ প্রায় ১০ লাখ জনতা ময়দানে সমবেত হয়।
- এই ভাষণের শব্দসংখ্যা ছিল ১১০৫ টি ।
- ভাষণের সময় বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে রেখেছিল সিরাজুল আলম খান , আ স ম আবদুর রব , তোফায়েল আহমেদ , মহিউদ্দিন , শেখ ফজলুল হক মনি। 

- বঙ্গবন্ধু তার ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন। যথা−
(ক) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
(খ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
(৩) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
(৪) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

৭ মার্চ ভিন্ন এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সাতদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দশদফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দফাগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:-

১. কর না দেওয়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে,
২. সকল অফিস ও আদালতে ধর্মঘট চলতে থাকবে,
৩. রেল ও বন্দরসমূহ চালু থাকবে। তবে সেনাবাহিনী চলাচলের কাজে শ্রমিক-কর্মচারীরা সহযোগিতা করবে না,
৪. রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে গণআন্দোলনের সংবাদ গোপন রাখা যাবে না,
৫. কেবল স্থানীয় এবং আন্তঃজেলার মধ্যে ট্রাঙ্ক ও টেলিফোন যোগাযোগ চালু থাকবে,
৬. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে,
৭. কোন মাধ্যমেই ব্যাংক পশ্চিম পাকিস্তানে টাকা পাঠাবে না,
৮. প্রতিদিন সব ভবনের উপর কালো পতাকা ওড়ানো হবে,
৯. অন্য সব ক্ষেত্রে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ধর্মঘট আহŸান করা হলে তা পালন করতে হবে,
১০. প্রতিটি মহল্লা, ইউনিয়ন, থানা, মহকুমা এবং জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ইউনিটের নেতৃত্বে একটি করে সংগ্রাম
পরিষদ গঠন করা হবে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণের বিষয়বস্তু নয় কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
  2. সামরিক আইন প্রত্যাহার।
  3. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর।
  4. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
ব্যাখ্যা
৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণ
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষণে সকল বাঙ্গালিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
- এই ভাষণের জন্যই ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন দ্য নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে 'পোয়েট অব পলিটিক্স' বা রাজনীতির কবি হিসাবে অভিহিত করে।
- এই ভাষণের ৪ টি মূল বিষয় ছিল। যথা--
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩. পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্তৃক নিরীহ ও নিরস্ত্র লোকদের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য, 
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত করা হয়।
- ২০২১ সাল থেকে ৭ মার্চ 'ঐতিহাসিক দিবস' হিসাবে পালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত ছয় দফা দাবির প্রথমটি ছিল 'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন'।

তথ্য - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল-
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) কোলকাতায়
  3. গ) মেহেরপুরে
  4. ঘ) চট্টগ্রামে
সঠিক উত্তর:
গ) মেহেরপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেহেরপুরে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি” গঠিত হয় কতজন সদস্য নিয়ে?
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৮ জন
  3. গ) ১০ জন
  4. ঘ) ১২ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ জন
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

উৎস:- নবম - দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।

১২৮.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চুড়ান্ত রায় হয় কবে ?
  1. ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
  2. খ) ২৩ ডিসেম্বর ২০১০
  3. গ) ১৯ নভেম্বর ২০১০
  4. ঘ) ২৩ ডিসেম্বর ২০১০
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯ নভেম্বর ২০০৯
ব্যাখ্যা

- হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল।
- অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

সোর্স: দৈনিক পত্রিকা।

১২৯.
ছয় দফা অনুযায়ী কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা ছিল কার হাতে?
  1. ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
  2. খ) উভয় সরকারের হাতে
  3. গ) বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
ব্যাখ্যা
• ছয় দফার চতুর্থ দফা ছিল - আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা।
• আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩০.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিলো?
  1. ক) সিপাহি
  2. খ) ক্যাপ্টেন
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহি
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান(১৯৪৫-১৯৭১)  ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে তাঁর জন্ম। 
-  ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন এবং রেজিমেন্টের চট্টগ্রাম সেনানিবাস কেন্দ্রে তাঁকে নিয়োগদান করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন।
- ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ তিনি শহীদ হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩১.
'অপারেশন বিগ বার্ড' কী?
  1. ১৯৭১ সালে গনহত্যার অভিযান
  2. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র জমা দান
  3. ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার অভিযান
  4. ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:
- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-'বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার' 
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সূত্র: উইটনেস টু স্যারেন্ডার; লেখক: সালিক সিদ্দিক। 
১৩২.
কত সালে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- ১৯৭৪ সালের জুন মাসে জাসদ 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নামে একটি সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে একটি সেল গঠন করে।
- এসকল কারণে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল সমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান বিঘ্নিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
শান্তিতে অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু কোন পদকে ভূষিত হন?
  1. ক) ম্যাগসেসে পদক
  2. খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
  3. গ) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার
  4. ঘ) জওহরলাল নেহেরু পদক
সঠিক উত্তর:
খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট। 
১৩৪.
বঙ্গবন্ধু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কোন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) লাহোর সম্মেলন
  2. খ) হাভানা সম্মেলন
  3. গ) বেলগ্রেড সম্মেলন
  4. ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ ন্যামের সদস্য হয়।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাম ওয়েবসাইট)
১৩৫.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ভয়েস অব লিবার্টি
  2. ওরা ১১ জন
  3. দ্য স্পিচ
  4. স্টপ জেনোসাইড
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য স্পিচ
ব্যাখ্যা
তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ':
-১৯৭১-এর ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই দৃপ্ত ভাষণ নিয়ে গুণী নির্মাতা ফাখরুল আরেফীন নির্মাণ করেছেন তথ্যচিত্র ‘দ্য স্পিচ’।
- আলোচিত এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয় ২০১০ সালে।
- যেটি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল ইউনেস্কোতে।

উৎস: চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৩৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় “বীর প্রতীক” খেতাবে ভূষিত একমাত্র বিদেশী নাগরিক-
  1. ক্লাইভ ফিলিপসন
  2. মাইকেল আলেকজান্ডার ফস
  3. উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড
  4. ডোনাল্ড এন্ড্রুসন 
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

‘বীর প্রতীক’:
- বীরত্বসূচক খেতাব হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ দেখানো বিশেষ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রদত্ত সম্মানসূচক খেতাব।
- ৪২৬ জন 'বীর প্রতীক' খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে একমাত্র বিদেশী- উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারলল্যান্ড। 
- উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ওডারলল্যান্ড ছিলেন একজন ডাচ-অস্ট্রেলীয় কমান্ডো অফিসার।
- তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অবদান রাখেন।
- বাটা বাংলাদেশের প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে থাকাকালীন তিনি ২নং সেক্টরে গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করতেন।
- বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া। 

১৩৭.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত। এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক সাতটি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের জন্য স্মৃতিসৌধে ফলক সংখ্যা ৭টি রাখা হয়েছে। পর্যায় গুলো হলো- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন; ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন; ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন; ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন; ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।
১৩৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কবে?
  1. ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭১
  3. ৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মার্চের অসহযোগ আন্দোলন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ২ মার্চ।
- অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই ২ মার্চ ছাত্র সংগঠনগুলি ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিততে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতাহার ঘোষণা করে।
- এতে ‘বাংলাদেশ' নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এর তিনটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। [লিঙ্ক]
১৩৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০নং নৌ-সেক্টরের অধীনে পরিচালিত বিখ্যাত অভিযানটির নাম কী?
  1. অপারেশন লিবারেশন
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন বিজয়
  4. অপারেশন মুক্তি
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা

'অপারেশন জ্যাকপট':
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- যেখানে ১০নং সেক্টর ছিল নৌ-সেক্টর।
- এটি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না;
- বরং সমুদ্রবন্দর, নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই সেক্টরের অধীনে নৌ-কমান্ডোরা গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করত; 
- এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো অপারেশন জ্যাকপট। 
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালের ১৫-১৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিলো। 
- এ অভিযানে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ ও সমরাস্ত্র ধ্বংস করা হয়।
- অপারেশন সফল হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের প্রচারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত কমান্ডার ছিল না;
- নৌ-কমান্ডোদের কাজ প্রধান সেনাপতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৪০.
সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কোথায় উত্তোলন করা হয়?
  1. ঢাকা সেনানিবাস
  2. কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন:
-  ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ছাত্র সংগঠনগুলো 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় একটি ছাত্রসভায় ডাকসু ভিপি আ.স.ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
- এই ঘটনাটি স্মরণীয় হয়ে থাকে, তাই ২ মার্চ 'জাতীয় পতাকা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার।
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কতজন নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
খ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দুইজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধীতে ভূষিত করা হয়।
- তারা হলেন : ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- পাঁচজন অবাঙালিও বীরত্বসূচক খেতাব পান, যাদের মধ্যে একজন বিদেশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

 অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight):
- অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান, যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় শুরু হয়।
- এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১৪৩.
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কত সালে সমগ্র পাকিস্তানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন সম্ভব হয়?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৯ সালে
  3. ১৯৬৬ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার মূলে ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ে তার ত্যাগ ও আজীবনের আপসহীন সংগ্রাম।
- পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান দাবি।
- এ দাবি আদায় করতে পারলেই যে সকল দাবি আদায় করা সম্ভব, এটি তিনি প্রতিটি বাঙালিকে উপলব্ধি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- এ জন্য বাঙালিরা তার  নেতৃত্বে অবিচল থাকে।
- তাঁর এ দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে সমগ্র পাকিস্তানের ৩১৩টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ১৬৯টি আসন অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল।
- তিনি তাঁর জনসমর্থনের আকাশচুম্বি শক্তি নিয়ে ইয়াহিয়া খানের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়ােগ করেছিলেন, যা উপেক্ষা করে সে সময়ে ইয়াহিয়া খানের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল।
- বঙ্গবন্ধু তা জানতেন এবং এ জন্য মৌলিক এ দাবি আদায়ে তিনি কোনােরূপ ছাড় না দিয়ে অবিচল থাকেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়।
- বাংলা ভাষার অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পর এটি ছিল তখন পর্যন্ত বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
- এ অর্জনই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ প্রশস্ত করে। এ নির্বাচনে পূর্বের ন্যায় পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে আসনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে বণ্টন হলে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের কোনাে সুযােগ থাকত না।
- বঙ্গবন্ধু এ বিষয়টি পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই সকল আন্দোলনসংগ্রামের মধ্যে এ লক্ষ্য থেকে কখনােই তিনি বিচ্যুত হননি।

উৎস: www.asiaticsociety.org.bd/
১৪৪.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৮ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে ‘বীরপ্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি। 
- তারামন বিবি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ‘বীরপ্রতীক’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন চতুর্থ সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৫.
বঙ্গবন্ধু কত সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৩
  3. ১৯৭৪
  4. ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন:

-  বাংলাদেশ জাতিসংঘের ২৯ তম অধিবেশনে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে।
- বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- আনোয়ারুল করিম চৌধুরী ২০০১ সালে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৪৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি কোন মাসে গঠিত হয়?
  1. আগস্ট
  2. অক্টোবর
  3. সেপ্টেম্বর 
  4. জুলাই 
সঠিক উত্তর:
জুলাই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই 
ব্যাখ্যা

⇒ মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত ও অনিয়মিত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। 

- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।

- নিয়মিত বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়। এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

- খালেদ মোশাররফের অধিনায়কত্বে সেপ্টেম্বর মাসে ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
কোন নভোকাশ কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়?
  1. কেনেডি স্পেস সেন্টার
  2. ওয়াল্প আইল্যান্ড ফ্লাইট
  3. মোহাভে স্পেস এন্ড এয়ারপোর্ট
  4. থেলিস এলেনিয়া
সঠিক উত্তর:
কেনেডি স্পেস সেন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেনেডি স্পেস সেন্টার
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১:
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ করেছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস।
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১।
- বাংলাদেশ সময় ১১ মে, ২০১৮ তারিখে রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ মহাকাশে পাঠানো হয়।
- ফ্যালকন ৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে যাত্রা করে নিজস্ব
কক্ষপথে।
- রকেট উৎক্ষেপণের আধা ঘণ্টাখানেক পর স্যাটেলাইটটি কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে
পৌঁছায়।
- এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন সেবা পাওয়া যাবে। 
- এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট সদস্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, portal.gov.bd.
১৪৮.
১৯৭১ সালের কত তারিখে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১১ জুলাই
  2. ২১ এপ্রিল
  3. ১২ সেপ্টেম্বর
  4. ১১ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১১ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- তখন সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়াও  তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- জেড ফোর্স: মেজর জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম অক্ষর 'জেড' থেকে এই নামকরণ হয়।
- কে ফোর্স: মেজর খালেদ মোশাররফের নামের প্রথম অক্ষর 'কে' থেকে এই নামকরণ হয়।
- এস ফোর্স: মেজর কে এম শফিউল্লাহর নামের প্রথম অক্ষর 'এস' থেকে এই নামকরণ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১৪৯.
When was the Mujibnagar government formed –
  1. ক) 17 April, 1971
  2. খ) 10 April, 1971
  3. গ) 10 May, 1971
  4. ঘ) 10 March, 1971
সঠিক উত্তর:
খ) 10 April, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 10 April, 1971
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাই তাঁরই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে কত বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেন?
  1. ক) ১৫ বিঘা
  2. খ) ২০ বিঘা
  3. গ) ২৫ বিঘা
  4. ঘ) ৩০ বিঘা
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ বিঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ বিঘা
ব্যাখ্যা
কৃষির উন্নয়ন:
- বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ জনগণের জীবিকা ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
- জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসত কৃষিখাত থেকে। 
- তাই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন। যেমন-
ক) ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফসহ পূর্বের সমস্ত বকেয়া খাজনা মওকুফ করে দেন
খ) একটি পরিবারের সর্বাধিক ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ করেন.
গ) বাইশ লাখের অধিক কৃষক পরিবার পুনর্বাসন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৫১.
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ মুক্তিযুদ্ধে কোথায় শহীদ হন?
  1. ননিয়ার চর, রাঙ্গামাটি
  2. বাগমারা, খুলনা
  3. গোয়ালহাটি, যশোর
  4. কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
গোয়ালহাটি, যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালহাটি, যশোর
ব্যাখ্যা

- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হয়।

• বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ:

- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর-এর ৪নং উইং এ নিজ কোম্পানির সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
- সেক্টর গঠন হলে তাদের উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শহিদ হয়।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১৫২.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে কে?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. আওয়ামী লীগ
  4. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫৩.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ উইকস
  2. দি ইকোনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান
সঠিক উত্তর:
নিউজ উইকস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউজ উইকস
ব্যাখ্যা
• Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- নিউজউইকস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
১৫৪.
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের কতটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে?
  1. ১৩৫টি
  2. ১৩৪টি
  3. ১৩০টি
  4. ১২৭টি
সঠিক উত্তর:
১৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০টি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর শাসনামল:
- বঙ্গবন্ধু সরকার বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করায় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আস্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম দিকে মার্কিন সাহায্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
- তবে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের স্বার্থে পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
- তারপরও বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩০টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে
- এ ছাড়া জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদসহ ১৪টি আস্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে।



উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
১৫৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র -
  1. তর্জনী
  2. গর্জন
  3. স্বাধীনতা
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
তর্জনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তর্জনী
ব্যাখ্যা
তর্জনী:
- ১৯৭১ সালের অনিশ্চয়তা ভরা দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল পূর্ব বাংলার মানুষকে।
- ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো এই ভাষণকে দিয়েছে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে এক অনন্য স্বীকৃতি। 
- সাতই মার্চের সেই ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে চলচ্চিত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোহেল রানা বয়াতি।
- নাম ‘তর্জনী’।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে, তা এই সিনেমায় তুলে ধরবেন পরিচালক সোহেল রানা।
- এই সিনেমায় ১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০১৭ এই তিনটা সময়কে দেখানো হয়েছে।
- ‘তর্জনী’ সিনেমার গল্প যৌথভাবে লিখেছেন সোহেল রানা বয়াতি এবং শাহাদাত রাসেল।
- আর চিত্রনাট্য লিখছেন শাহাদাত রাসেল। 

উৎস: ২৫ মার্চ ২০১৯, প্রথম আলো।
১৫৬.
বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের জন্য কত তারিখে গ্রেফতার হয়েছিলেন?
  1. ১১ মার্চ ১৯৪৮
  2. ২২ মার্চ ১৯৪৮
  3. ১১ মার্চ ১৯৫২
  4. ২২ মার্চ ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল।
- এই হরতালে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দেন। তাকে লাঠিপেঠাও করা হয়।
- পরে বঙ্গবন্ধুসহ বেশ কয়েকজনকে কারাগারে নেওয়া হয়। স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই তাঁর প্রথম গ্রেফতার।
- পাঁচ দিন কারাবন্দি থেকে ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় মুক্তি পান তিনি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন। (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।
১৫৭.
কত সালে পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত কোন বিষয়কে ইউনেস্কাে World Heritage Register - এর তালিকাভুক্ত করে?
  1. ক) 2015
  2. খ) 2017
  3. গ) 2018
  4. ঘ) 2016
সঠিক উত্তর:
খ) 2017
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 2017
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কোর মেমোরি অফ ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার প্রোগ্রামে এর মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা প্রণয়ন করে ইউনেস্কো।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে মেমোরি অফ ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক এর অনুমোদন হয়। ভাষণটি পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত। তবে, অডিও এবং ভিডিও কপি অক্ষত রয়েছে।
উৎসঃ ইউনেস্কো সাইট এবং বিবিসি।
১৫৮.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন কবে?
  1. ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
  2. খ) ২২ মার্চ, ১৯৭৪
  3. গ) ২২ মার্চ, ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৭ মার্চ ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ইসলামের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ  এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২৮ মার্চ ১৯৭৫ সালে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ এ্যাক্ট প্রণীত হয়।
- বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। সুপ্রাচীনকাল থেকে এ দেশে ইসলামী আর্দশ ও মূল্যবোধের লালন ও চর্চা হয়ে আসছে।
- এ প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি বিভাগ, ৭টি প্রকল্প, ১টি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, মাঠপর্যায়ে ৮টি বিভাগীয়সহ ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং
- আর্তমানবতার সেবায় ৫০টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্র, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ  একাডেমী কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট। 
১৫৯.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ভাষণটি ইউনেস্কো কোন তারিখে 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ৩০শে অক্টোবর, ২০১৭ সাল
  2. ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ সাল
  3. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সাল
  4. ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ সাল
সঠিক উত্তর:
৩০শে অক্টোবর, ২০১৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০শে অক্টোবর, ২০১৭ সাল
ব্যাখ্যা
৩০ অক্টোবর, ২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ’কে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা, ইউনেস্কো (UNESCO)।
• ভাষণটি ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য “Memory of the World International Heritage Register'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
• এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকের চিত্রনাট্যকার হচ্ছেন -
  1. ক) অতুল তিওয়ারি
  2. খ) শ্যাম বেনেগাল
  3. গ) শামা জাইদি
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ে
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে বায়োপিক 'বঙ্গবন্ধু'।
পরিচালক: ভারতের শ্যাম বেনেগাল। সহযোগী পরিচালক দয়াল নিহালানি।
চিত্রনাট্য: অতুল তিওয়ারি এবং শামা জাইদি।
এতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন আরিফিন শুভ। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে আরও ৪৯ জন বাংলাদেশি তারকা অভিনয় করবেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)

 
১৬১.
জাতির পিতার জন্ম কত সালে?
  1. ১৯২০
  2. ১৯২৫
  3. ১৯৩০
  4. ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
১৯২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২০
ব্যাখ্যা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। 
- শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
- পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান।
- মায়ের নাম: সায়েরা খাতুন।
- দাদার নাম: শেখ আবদুল হামিদ।
- নানার নাম: শেখ আবদুল মজিদ।
- স্ত্রীর নাম: বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব (রেণু)।
- মা-বাবা তাঁকে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।
- তাঁরা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। 
 
উল্লেখ্য,
- বাবা-মা তাকে খোকা বলে ডাকতেন।
- খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গিপাড়ায়। 
- ১৯৭৩ সালে বিশ্ব শান্তি পরিষদ তাঁকে'জুলি ও কুরি' পদকে ভূষিত করে।
- তাঁর জীবনের ১৩টি বছর কারাগারে কেটেছে।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায়ধানমন্ডিস্থ বাস ভবনে একদল বিদ্রোহী সামরিক ঘাতকের হাতে সপরিবারেনির্মমভাবে নিহত হন। 
- হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর মাজার  টুঙ্গীপাড়া, গোপালগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।  
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র উপজাতি বীর বিক্রম কে?
  1. ইউ. কে. চিং মারমা 
  2. মং চিং মারমা
  3. রুহি মারমা
  4. মং থুই সাইন
সঠিক উত্তর:
ইউ. কে. চিং মারমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউ. কে. চিং মারমা 
ব্যাখ্যা

• ইউ. কে. চিং মারমা:
- ইউ. কে. চিং মারমা ছিলেন মারমা সম্প্রদায়ের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি একমাত্র উপজাতি “বীর বিক্রম” খেতাব অর্জন করেন।
-  তিনি তৎকালীন East Pakistan Rifles (বর্তমানে Border Guards Bangladesh)-এর সদস্য ছিলেন।
-  মুক্তিযুদ্ধের সময় উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
-  বাংলাদেশ সরকার তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে “বীর প্রতীক” খেতাবে ভূষিত করে।
-  তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৫ জুলাই ২০১৪ সালে।

উৎস:
১. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), ঢাকা।
২. The Daily Star: Bir Protik UK Ching passes away (২৫ জুলাই ২০১৪)।

১৬৩.
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার জন্য পরিচালিত অপারেশনের নাম কী ছিল?
  1. অপারেশন ব্লুবার্ড
  2. অপারেশন বিগবার্ড
  3. অপারেশন বিগম্যান
  4. অপারেশন সার্চলাইট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগবার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগবার্ড
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- বন্দী থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।

- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করতে পরিচালিত অপারেশনের নাম অপারেশন বিগবার্ড।

অন্যদিকে: 

- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু' ও প্রথম আলো।
১৬৪.
১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন আন্দোলন সংঘটিত হয়?
  1. ক) সহযোগ আন্দোলন
  2. খ) বাংলাদেশ স্বাধীন আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) বাংলাদেশ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) অসহযোগ আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• অসহযোগ আন্দোলন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন। - এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান - ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।

উৎস
: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৬৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. ফ্রান্স
  3. চীন
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল – তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। 

- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তখন বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল তখন ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

​উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৬.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গঠিত গোপন পরিষদের নাম কি?
  1. স্বাধীন বাংলা মুক্তি পরিষদ
  2. স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
  3. স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ
  4. স্বাধীন বাংলা স্বাধীনতা পরিষদ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেন। 
- ১১ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হয়। 
- ১৪ মাস পরে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়।
- ১৯৬১ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা করার পর শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। 
- এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য উদ্যমী ছাত্র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: মুজিব জন্মশতবর্ষ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৬৭.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন -
  1. সভাপতি
  2. সাধারণ সম্পাদক
  3. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
  4. সহ-সভাপতি
সঠিক উত্তর:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের অন্যতম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খানকে সহ-সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (যিনি তখন কারাবন্দি ছিলেন), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়।
- জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দল ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।
- দলটি কল্যাণমূলক অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে এই দলের অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার' এর নামকরণ করেন কে?
  1. শেখ হাসিনা
  2. নজরুল ইসলাম
  3. শেখ রেহানা
  4. কাদের সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
শেখ হাসিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
ভাইয়েরা আমার:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২০০টি ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার'।
- ১২ জুন, ২০২৩ সালে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- বইটির ভূমিকা ও নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ভাষণসমগ্রটির সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- বইটি প্রকাশ করে জিনিয়াস পাবলিকেশন।
- বইটিতে প্রতিটি ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এ ছাড়া সূচিতে ভাষণের বিষয়বস্তু, সাল ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১২ জুন, ২০২৩।
১৬৯.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে "Memory of World Register" এ স্থান দিয়েছে -
  1. UNESCO
  2. UNICEF
  3. UNDP
  4. UNFPA
সঠিক উত্তর:
UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNESCO
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করেন।
- ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইনটারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি উত্থাপন করেন।
- এগুলো হলো:
১। চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা।
২। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
৩। গণহত্যার তদন্ত করা।
৪। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

উল্লেখ্য,
- ২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক '৭ই মার্চের ভাষণ' কে 'বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা, ইউনেস্কো (UNESCO)।
- ভাষণটি ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ‘Memory of the World International Heritage Register'- এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- এ পর্যন্ত এসব স্বীকৃতির মধ্যে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকেই প্রথম পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭০.
লাহােরে অনুষ্ঠিত OIC শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কবে যােগদান করেন?
  1. ২০-২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  2. ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
• OIC:
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC
- OIC এর পূর্ণরুপ - The Organisation of Islamic Cooperation
- এটি ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- OIC এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭টি।
---------------
১৯৭৪ সালের ২২ - ২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (OIC) দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ (৩২-তম) লাভ করে।

• ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৭৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ওআইসি মহাসচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা এলো বঙ্গবন্ধুর জন্য। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ারি বুমেদিন তাঁর বিশেষ বিমান পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে লাহোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
- বিমানে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুতেফলিকার নেতৃত্বে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি দল রয়েছে। দলে কুয়েতের আমিরের বিশেষ দূত হিসেবে আছেন কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

- ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতিনিধিদল ঢাকা এলো ২২ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আলোচনায় জানালেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে লাহোর সম্মেলনে যোগদান সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনার পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সঙ্গে ঐকমত্যে উপনীত হলো যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একই সময়ে একযোগে পারস্পরিক স্বীকৃতি দেবে এবং লাহোর ও ঢাকা থেকে এ ঘোষণা একসঙ্গে প্রচার করা হবে—এটাও সিদ্ধান্ত হলো। ২৩ ফেব্রুয়ারি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল লাহোর যাবে।

- পরবর্তীতে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বঙ্গবন্ধু ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে যোগ দিতে লাহোর যান।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ওআইসি সম্মেলনে ভাষণ প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং ওআইসি ওয়েবসাইট।
১৭১.
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে পূর্ব বাংলার নামকরণ 'বাংলাদেশ' করেন?
  1. ২ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  2. ৩ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  3. ৪ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  4. ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
পূর্ব বাংলার নামকরণ:

- ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
- ১৯৬৯ সালের
৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
- তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭২.
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. জিয়াউর রহমান
  4. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি:
- ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ২৫ বছর মেয়াদী একটি মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান।
- ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফরের সময় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটিতে মোট ১২টি ধারা ছিল।
- বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তির লক্ষ্য ছিল পঁচিশ বছরব্যাপী মৈত্রী, শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি।
- ১৯৯৭ সালের ১৯ মার্চ চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
- অতঃপর আর এ চুক্তির নবায়ন করা হয় নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৩.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমেদ। 

মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। 
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

সরকার গঠন:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
• উপরাষ্ট্রপতি বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ
• স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ এইচ এম কামরুজ্জামান
• অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী: এম মনসুর আলী
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৪.
বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন কত তারিখে?
  1. ক) ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  2. খ) ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  3. গ) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
  4. ঘ) ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেন।
- একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের কেবল ২৯তম অধিবেশনেই অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৭৫.
বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর নাম কী?
  1. শেখ রহিমাতুন্নেছা
  2. শেখ নভেরা বেগম
  3. শেখ সায়েরা খাতুন
  4. শেখ ফজিলাতুন্নেছা
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজিলাতুন্নেছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজিলাতুন্নেছা
ব্যাখ্যা
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা।
- তিনি ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল রেণু। বাবার নাম শেখ জহুরুল হক ও মায়ের নাম হোসনে আরা বেগম।
- ১ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ বিষয়াবলী।
১৭৬.
মার্কিন নিউজউইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' উপাধি দেয়-
  1. ক) ১৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৫ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১০ জুন, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ আগস্ট, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মার্কিন নিউজউইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা 'Poet of Politics' উপাধি দেন ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
১৭৭.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান কে? 
  1. শাফকাত হোসেন 
  2. জগজিৎ সিং অরোরা
  3. আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  4. স্যাম মানেকশ
সঠিক উত্তর:
স্যাম মানেকশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যাম মানেকশ
ব্যাখ্যা

যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী এবং প্রথম আলো পত্রিকা।

১৭৮.
জাতির জনক বঙ্গবুন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মুতিবিজড়িত বেকার হোস্টেলের কত নম্বর কক্ষকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে?
  1. ক) ২৩
  2. খ) ২২
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা
১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বেকার হোস্টেল। এটি সরকারি ছাত্রাবাস। বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২ থেকে ৪৭ সাল পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এ কলেজে। ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে। সেদিনকার এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ। ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক হয়েছিলেন।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
১৭৯.
‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা বইটির লেখক কে? 
  1. জেনারেল ওসমান গনি
  2. জিয়াউর রহমান
  3. এ কে খন্দকার
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

- এ কে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ।
- এ কে খন্দকার ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যের কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।
- মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান (ডেপুটি চিফ অব স্টাফ) এ কে খন্দকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নির্বাচিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ: 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়।
- ঐ দিন বিকাল ৪ টা ১৯ মিনিটে পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: ¡)বাংলাদেশের ইতিহাস ওবিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
¡¡)প্রথম আলো পত্রিকা।

১৮০.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মোট কতজনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়?
  1. ক) ১১ জন
  2. খ) ১২ জন
  3. গ) ১৪ জন
  4. ঘ) ১৫ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়৷
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা ও জওয়ান এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন৷ - ২ অক্টোবর, ১৯৯৬: হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
- ১৯ নভেম্বর ২০০৯: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।

১৮১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রচিত যাত্রাপালার নাম কি?
  1. নিঃসঙ্গ সঙ্গিনী
  2. নিঃসঙ্গ লড়াই
  3. নিঃসঙ্গ রাত
  4. নিঃসঙ্গ রাত্রিবাস
সঠিক উত্তর:
নিঃসঙ্গ লড়াই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃসঙ্গ লড়াই
ব্যাখ্যা
যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’:

- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’।
- পাকিস্তানের লায়ালপুর জেলখানার বন্দি থাকা অবস্থায় তার জীবনীভিত্তিক কাহিনী নিয়েই গড়ে উঠেছে যাত্রাপালাটি।
- এর পালাকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিয়েছেন সাইদুর রহমান লিপন।
- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ যাত্রাপালাটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
- পালাটি পরিচালনা করছে সাইদুর রহমান লিপন।
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করবেন মিঠুন ইসলাম। ইয়াহিয়া চরিত্রে এস এম শফি, জুলফিকার আলী ভুট্টোর চরিত্রে আফসারুজ্জামান রনি অভিনয় করেছেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব, ৯ জানুয়ারি, ২০২২।
১৮২.
Who was the first Prime Minister of the Provisional Government of Bangladesh?
  1. ক) Sheikh Mojibur Rahman
  2. খ) Tajuddin Chowdhury
  3. গ) Nazrul Islam
  4. ঘ) Tajuddin Ahmed
সঠিক উত্তর:
ঘ) Tajuddin Ahmed
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Tajuddin Ahmed
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৮৩.
বঙ্গবন্ধু কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন?
  1. ৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ৯ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৮ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। 
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৪.
‘বঙ্গবন্ধু নৌবহর’ কত তারিখে  উদ্বোধন করা হয়েছিল?
  1. ক) ৯ অক্টোবর, ১৯৭১
  2. খ) ১৯ অক্টোবর, ১৯৭১
  3. গ) ৯ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৯ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু নৌবহর
- মুক্তিযুদ্ধ  ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং ঐ বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।
- পাকিস্তান নৌবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা নৌ সেনাদের নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর প্রথম নৌবহর ‘বঙ্গবন্ধু নৌবহর’ উদ্বোধন করা হয়।
- এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল মাত্র ৬টি ছোট নৌযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
বঙ্গবন্ধু কবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন কবে?
  1. ক) ১ মার্চ ১৯৬৪
  2. খ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৬২
  3. গ) ১৯ মার্চ ১৯৬৬
  4. ঘ) ৩ জানুয়ারি ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯ মার্চ ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ৬ষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ১৯৫৩ সালের ৫ জুলাই তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে বন্দি অবস্থায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
(সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক এবং বাংলাপিডিয়া)
১৮৬.
'আমি কোনো ব্লকে নেই। প্রাচ্য ব্লকেও নয়, পাশ্চাত্য ব্লকেও নয়—আমি স্বাধীন নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী।' - কার উক্তি?
  1. ক) এ. কে. ফজলুল হক
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) মাওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাসী।
- তিনি বিশ্বাসী ছিলেন এ জোটনিরপেক্ষ নীতিতে।
- এজন্যই ১৯৭২ সালের মে মাসে আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, 'আমি কোনো ব্লকে নেই। প্রাচ্য ব্লকেও নয়, পাশ্চাত্য ব্লকেও নয়—আমি স্বাধীন নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৮৭.
'গণহত্যা যাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
- দেশের একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর খুলনা জেলায় অবস্থিত।
- ২০১৪ সালের ১৭ মে বেসরকারি উদ্যোগে এই জাদুঘরটি যাত্রা শুরু করে।
- পরবর্তীতে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাদুঘর ট্রাস্টকে খুলনা শহরের সাউথ সেন্ট্রাল রোডে একখণ্ড জমি প্রদান করে।
- সেই জমিতে বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন জাদুঘর ভবন নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।
- বর্তমানে জাদুঘরের কাজ পরিচালিত হচ্ছে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর রোডের ৪২৪ নম্বর বাড়িতে।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিবেদন।)
১৮৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে যশোর প্রথম স্বাধীন হয়।
- এই দিনই (৬ ডিসেম্বর) ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভুটান এবং ভারত; মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দুই দেশই শুধুমাত্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি ও দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- ৩য় ও ৪র্থ দেশ হিসেবে যথাক্রমে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে সেনেগাল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।
১৮৯.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ২ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ
ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন।
- তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকান্ড অচল হয়ে পড়ে।
- কোনো কোনো ছাত্র এবং শ্রমিক সংগঠন স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করেন।
- পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিতিে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা জেলা কত নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ৪নং
  4. ঘ) ৮নং
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।

১নং সেক্টর - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। 
২ নং সেক্টর - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
৪নং সেক্টর - উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। 
৮ নং সেক্টর - এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন?
  1. গোপালগঞ্জ হাই স্কুল
  2. গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
  3. গোপালগঞ্জ জিলা স্কুল
  4. গোপালগঞ্জ ইসলামিয়া স্কুল
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
১৯২.
কে, কোথায় প্রথম ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
  2. খ) মিজানুর রহমান চৌধুরী, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রেসকোর্স ময়দানে
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়ীতে
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
১৯৩.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৬ নং
  2. ৪ নং
  3. ৭ নং
  4. ৮ নং
সঠিক উত্তর:
৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ: 
- জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬। 
- গ্রাম: মহিষখোলা, উপজেলা: নড়াইল সদর, জেলা: নড়াইল।
- প্রথমে যোগদান: স্থানীয় আনসার বাহিনীতে।
- পরে যোগদান: ১৪ মার্চ, ১৯৫৯ → পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (EPR).
- প্রশিক্ষণ শেষে পোস্টিং: দিনাজপুর সেক্টরে।
- ১৯৭০ সালে: যশোর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে বদলি।
- ১৯৭১ সালের মার্চ: ছুটি কাটাতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান।
- সেক্টর: ৮ নং।
- দায়িত্ব: একটি স্থায়ী টহল দলের নেতৃত্বে।
- শহীদ হওয়া: তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।
- সমাহিত: কাশীপুর সীমান্ত এলাকায়, সহযোদ্ধাদের মাধ্যমে।
- উপাধি: “বীরশ্রেষ্ঠ” (বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান)।

অন্যদিকে,
- মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর। 
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন: ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৯৪.
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কোনটি?
  1. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১০ মার্চে, ১৯৭২
  3. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  4. ২৯ মার্চে, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
- আন্তর্জাতিক চাপে বাধ্য হয়ে পাকিস্তানি সরকার ০৮ জানুয়ারি তাকে মুক্ত করে দেয়। তিনি সেখান থেকে বিশেষ বিমানযোগে লন্ডনে চলে যান।
- তারপর লন্ডন থেকে ভারত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি আসেন মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে।
- ১০ ই জানুয়ারি ২০২২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৫.
’জেড ফোর্স’ ব্রিগেডটি কোন কোন রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়?
  1. ২য়, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
  2. ১ম, ৩য় ও ৯ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
  3. ১ম, ৪র্থ ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
  4. ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
সঠিক উত্তর:
১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
• জেড ফোর্স:
- জেড ফোর্স  নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

•এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স:
 -‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে ৭ই অক্টোবর গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর-এর পদবি কী ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) ল্যান্স নায়েক
  3. গ) ক্যাপ্টেন
  4. ঘ) ল্যাফটেন্যান্ট
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন
ব্যাখ্যা

৭জন বীরশ্রেষ্ঠের পদবি ও সমাধি -
মুন্সী আবদুর রব - ল্যান্স নায়েক (পদবি) - রাঙামাটি জেলার নানিয়ার চরে (সমাধি)।
মোস্তফা কামাল - সিপাহী (পদবি) - ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া মোগড়া গ্রামে (সমাধি)।
মতিউর রহমান - লেফটেন্যান্ট (পদবি) - মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান (সমাধি)।
নূর মোহাম্মদ শেখ - ল্যান্সনায়েক (পদবি) - যশোরের শর্শা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে (সমাধি)।
হামিদুর রহমান - সিপাহী (পদবি) - মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান (সমাধি)।
রুহুল আমিন - ইঞ্জিনরুম আর্টিফিশার (পদবি) - খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে (সমাধি)।
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর - ক্যাপ্টেন (পদবি) - চাঁপাই নবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে (সমাধি)।

১৯৭.
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কতটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পূর্বে ভুটান ও ভারত ছাড়া আর কোন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি।
- বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মেধা দিয়ে উপলব্ধি করেছেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে  ২ টি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। যথা-
১। স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং 
২। দেশ পুনর্গঠনে বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
- স্বয়ং বঙ্গবন্ধু নবীন রাষ্ট্রটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারকের ভূমিকায় ছিলেন।
- তিনি পররাষ্ট্রনীতির দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘ আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই'।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখায় বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় যার মূল কথা হলো- শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়।
- বাংলাদেশ সবসময় সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রাম অঞ্চল কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ১০নং
সঠিক উত্তর:
ক) ১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০নং সেক্টর।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মুজিব নগর কত ৮নং সেক্টরের অধিনে ছিল।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুর এবং নোয়াখালি কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৩ নং সেক্টর
  3. ৪ নং সেক্টর
  4. ৬ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।

অন্যদিকে,
- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর।
- ঢাকা-২ নং সেক্টর।
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর।
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর।
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর।

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
২০০.
কতটি বিষয়ের উপর ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

গণভোটে হ্যাঁ অথবা না:
- ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে মূলত ৪টি প্রধান বিষয়ের ওপর প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
- যা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের সাথে সম্পর্কিত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এটি ঘোষণা করেছেন: 

১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

উৎস: গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫।[লিঙ্ক]