বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ২৪ · ৬০১৭০০ / ২,৪০৪

৬০১.
কোন বিজ্ঞানী পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের বদলে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন? 
  1. টলেমী
  2. গ্যালিলিও 
  3. অ্যারিস্টটল 
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কোপার্নিকাস 
ব্যাখ্যা

সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে: 
- সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে না, বরং পৃথিবীই সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। 
- সূর্যই পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে-এটা মনে হয়, কারণ বাস, লঞ্চ বা রেলগাড়ি যখন খুব দ্রুত যায়, তখন পাশের গাছপালাগুলো পেছনের দিকে ছুটছে বলে মনে হয়। আসলে রেলগাড়ি, লঞ্চ বা বাস সামনের দিকে চলছে কিন্তু মনে হয় এটি দাঁড়িয়ে আছে। আর পাশের গাছপালা আসলে স্থির কিন্তু মনে হয় এগুলো পেছনের দিকে ছুটছে। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে কিন্তু পৃথিবী থেকে মনে হয় সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। 

- অ্যারিস্টটল দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগের বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ছিলেন। তিনিও মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘোরে। 
- এখন থেকে প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টলেমী জোরালোভাবে বলেন যে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। তার এই মতবাদ দীর্ঘদিন মানুষ বিশ্বাস করেছে। কিছু কিছু জ্যোর্তিবিদ টলেমীর মতবাদে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু তার এই মতবাদকে কেউ ভুল প্রমাণিত করতে পারেননি। 
- এরপর নিকোলাস কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ নিয়ে আসেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের বদলে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। 
- তার মডেলের মূল কথা হলো পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তিনি আরও বলেন পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর আবর্তন করছে। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ও কেপলার, নিকোলাস কোপার্নিকাস এই মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 
- বর্তমানে সূর্যকেন্দ্রিক এই মডেল প্রমাণিত এবং বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করেছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৬০২.
জোয়ার ও ভাটার সময়ের পার্থক্য-
  1. ক) ৮ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
  2. খ) ৬ ঘণ্টা ৫০ মিনিট
  3. গ) ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
  4. ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন দু'বার করে জোয়ার ও দু'বার করে ভাঁটা হয়ে থাকে ।
- পশ্চিম থেকে পূর্বে পৃথিবী ২৪ ঘন্টায় একবার নিজ অক্ষের ওপর ঘোরে।
- চন্দ্রও নিজ কক্ষপথে অবস্থান করে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে এবং পৃথিবীর চারদিকে পরিক্রমণ করে।
- পৃথিবীর একবার আবর্তন সময়ে অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় চন্দ্র নিজ কক্ষের প্রায় ১৩° পথ অগ্রসর হয়। 
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়।

সূত্র: ২১৫ পৃষ্ঠা, ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬০৩.
সম্প্রতি আবিষ্কৃত হওয়া ধূমকেতুটির নাম কী?
  1. ক) Comet Hale-Bopp
  2. খ) Comet Ikeya-Seki
  3. গ) Comet Morehouse
  4. ঘ) Pan-STARRS
সঠিক উত্তর:
ঘ) Pan-STARRS
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Pan-STARRS
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি আবিষ্কৃত হওয়া ধূমকেতুটির নাম হচ্ছে - Pan-STARRS. 

নতুন ধূমকেতু প্যান-স্টারস, যা আনুষ্ঠানিকভাবে C/2021 O3 (Pan-STARRS) নামে পরিচিত, যা প্যানোরামিক সার্ভে টেলিস্কোপ এবং র‍্যাপিড রেসপন্স সিস্টেম, বা 'প্যান-স্টারস' টেলিস্কোপ ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ২৬শে জুলাই, ২০২১-এ আবিষ্কার করেছিলেন। 

ধূমকেতুগুলি সূর্যের চারপাশে যাওয়ার সময় উচ্চ ঘনকেন্দ্রিক কক্ষপথ গঠন করে, অনেকে শত শত বা এমনকি হাজার হাজার বছর পরে ফিরে আসে। এর সাধারণ চিত্রটি হল একটি উজ্জ্বল ডিম্বাকৃতির দেহ যা ভাস্বর গ্যাসের লেজ বা কোমা ছেড়ে যায়।

সূত্র: স্পেস.কম [লিঙ্ক]
৬০৪.
সূর্য তার নিজ কক্ষপথে কত দিনে একবার আবর্তন করে?
  1. প্রায় ২১
  2. প্রায় ২৫
  3. প্রায় ৩৮
  4. প্রায় ৬৫
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত মাঝারি আয়তনের নক্ষত্র সূর্য।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪,০০০০০ কিলোমিটার।
- সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- পৃথিবীর থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- সূর্য তার নিজস্ব গ্যালাক্সির চর্তুদিকে বৃত্তাকার পথে ২০ কোটি বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং নিজ কক্ষপথে প্রায় ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
- সূর্যের কেন্দ্রভাগে তাপমাত্রা ৮ মিলিয়ন থেকে ৪০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। যার দরুন ভূ-পৃষ্ঠে উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
সরাসরি হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ গেলে মানুষ মারা যেতে পারে?
  1. ক) 10 mA
  2. খ) 10 A
  3. গ) 20 mA
  4. ঘ) 20 A
সঠিক উত্তর:
ক) 10 mA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 10 mA
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে সাধারণত বিদ্যুৎ 220 V (AC) হিসেবে সরবরাহ করা হয়, এই বিদ্যুতের ভােল্টেজের পরিমাণ মানুষকে ইলেকট্রিক শক দিতে পারে এমনকি সেই শকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন ভুলেও কখনাে কেউ সরাসরি এর সংস্পর্শে চলে না আসে। সরাসরি হৃৎপিণ্ডের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে মাত্র 10 mA বিদ্যুতেই মানুষ মারা যেতে পারে। ব্যবহার করার জন্য আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি সেটি AC এবং AC বিদ্যুৎ DC বিদ্যুৎ থেকে প্রায় ৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৬০৬.
সৌরজগতে কয়টি গ্রহ সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্রহ ও উপগ্রহ: 
- যে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথে আমরা বাস করি তার নাম আকাশ গঙ্গা (Milky Way)।
- এই ছায়াপথে রয়েছে আমাদের সূর্য ও এর পরিবার যাকে সৌরজগৎ বলা হয়।
- সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ।
- যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ।
- সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬০৭.
২১শে জুনের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে সময় উত্তর গোলার্ধে কী কাল বিরাজ করে?
  1. ক) গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শীতকাল
  3. গ) বসন্তকাল
  4. ঘ) শরৎকাল
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রীষ্মকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্রীষ্মকাল
ব্যাখ্যা
- সূর্যের উত্তরায়ণের ফলে ২১শে জুনের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। একই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
অন্যদিকে,
- উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল : ২৩ সেপ্টেম্বরের পূর্বে ও পরের দেড় মাস করে সময়।
- উত্তর গোলার্ধে শীতকাল : ২২শে ডিসেম্বরের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে সময়।
- উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল : ২১শে মার্চের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে সময়।
- উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
- উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬০৮.
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে আমেরিকা মহাদেশের বলে-
  1. ক) টর্নেডো
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) টাইফুন
  4. ঘ) হারিকেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হারিকেন
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়কে আমেরিকা মহাদেশের বলে হারিকেন, দূরপ্রাচ্যে বলে টাইফুন, দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশে সাইক্লোন।
৬০৯.
নিচের কোথায় সাঁতার কাটা সবচেয়ে সহজ?
  1. সাগরে
  2. নদীতে
  3. সুইমিং পুলে
  4. মৃত সাগরে
সঠিক উত্তর:
মৃত সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত সাগরে
ব্যাখ্যা
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ। সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যার ফলে পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি। তাই সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

তবে, এই প্রশ্নের উত্তর 'মৃত সাগর' হবে। নামে সমুদ্র হলেও ডেড সি বা মৃত সাগর আসলে একটি হ্রদ।
পানিতে মানুষ ডুবে গেলেও ডেড সি বা মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ অনেক বেশি তাই মৃত সাগরের পানিতে কেউ ডুবে না। এতে কোন মাছ উৎপাদন হয় না।
ডেড সির পশ্চিমে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েল, পূর্বে জর্ডান অবস্থিত।

উৎস: যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন।
৬১০.
কখন পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে?
  1. ক) অষ্টমী তিথিতে
  2. খ) অমাবস্যার তিথিতে
  3. গ) পূর্ণিমা তিথিতে
  4. ঘ) খ + গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ + গ
ব্যাখ্যা

সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না। তবে চাঁদ ও সূর্য উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে চন্দ্র,সূর্য এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে সকলের আকর্ষণে প্রচন্ড জোয়ারের সৃষ্টি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই।

চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে।
এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৬১১.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কিত প্রচলিত তত্ত্ব কোনটি? 
  1. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
  2. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  3. বিগব্যাং তত্ত্ব
  4. আপেক্ষিক তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগব্যাং তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬১২.
ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা? 
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৩.
ইউরেনিয়ামের একটি আইসােটোপ আলফা কণা বিকিরণ করে কোনটিতে পরিণত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) থোরিয়াম
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) পোলোনিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) থোরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) থোরিয়াম
ব্যাখ্যা
আলফা কণা যেহেতু দুটি প্রােটন এবং দুটি নিউট্রন দিয়ে তৈরি তাই যখন একটি নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে, তখন সেই নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কমে দুই ঘর এবং নিউক্লিওন সংখ্যা কমে চার ঘর। যেমন: ইউরেনিয়ামের একটি আইসােটোপ আলফা কণা বিকিরণ করে থোরিয়ামের একটি আইসােটোপে পরিণত হয়। ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২ আর থােরিয়ামের ৯০। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৬১৪.
বায়ুর ঘর্ষণ বলের মাত্রা কীসের উপর নির্ভরশীল?
  1. ক) ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
  2. খ) কোরিওলিস প্রভাবের উপর
  3. গ) বায়ুর গতির উপর
  4. ঘ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির উপর
সঠিক উত্তর:
ক) ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর
ব্যাখ্যা
• বায়ুর ঘর্ষণ বলের মাত্রা ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর উপর নির্ভরশীল। 
- বায়ুপ্রবাহের গতিতে ঘর্ষণশক্তির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
- বায়ু যখন ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন অসমতল ভূমিরূপের কারণে সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের সৃষ্টি করে।
- ঘর্ষণ বলের মাত্রা ভূ-পৃষ্ঠের অসমতার উপর নির্ভরশীল।
- আকাশচুম্বী অট্টালিকাসমৃদ্ধ নগরী অথবা পাহাড়ী অসমগঠনে ঘর্ষণ মাত্রা বেশি হয়।
- অন্যদিকে সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহ মসৃন তলের উপর কম ঘর্ষণের সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও মাধ্যাকর্ষণ ও কেন্দ্রবিমুখী বলও বাযুপ্রবাহের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৫.
সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্র গ্রহের কতদিন সময় লাগে?
  1. ১৬৭ দিন
  2. ২২৫ দিন
  3. ২৮১ দিন
  4. ৩৬৫ দিন
সঠিক উত্তর:
২২৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৫ দিন
ব্যাখ্যা

শুক্র:
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
পৃথিবী তার নিজ অক্ষে কোন দিকে আবর্তন করছে?
  1. দক্ষিণ থেকে উত্তর
  2. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  3. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  4. উত্তর থেকে দক্ষিণ
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন: 
- পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের দিক পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে। 
- সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতি ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড সময়ে আবর্তন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৭.
সুর্যের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) ক্রিপ্টন
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
The Sun, like others stars, is a ball of gas. In terms of the number of atoms, it is made of 91.0% hydrogen and 8.9% helium. By mass, the Sun is about 70.6% hydrogen and 27.4% helium.
Source: NASA
৬১৮.
প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নাই - এ তত্ত্বের আবিষ্কারক কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ট
  4. মাইকেলসন ও মোরলি
সঠিক উত্তর:
মাইকেলসন ও মোরলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেলসন ও মোরলি
ব্যাখ্যা

৬১৯.
আলফ্রেড নোবেল কি আবিষ্কার করেন?
  1. বিদ্যুৎ
  2. পোলিও টিকা
  3. ডিনামাইট
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
ডিনামাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিনামাইট
ব্যাখ্যা
আলফ্রেড নোবেল: 
- আলফ্রেড নোবেল সুইডিশ শিল্পপতি। 
- আলফ্রেড নোবেলের জন্ম ১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে। 
- বাবা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন প্রকৌশলী। 
- যুদ্ধাস্ত্র তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন বিস্ফোরক উদ্ভাবন করতেন তিনি। 
- তার বাবার কারখানায় কাজ শিখে আলফ্রেড নোবেল। 
- তিনি প্রথমে স্টকহোমে এবং পরে জার্মানিতে রাসায়নিক গবেষণাগার স্থাপন করেন। 
- ১৮৬৬ সালে জার্মানির গবেষণাগারে আবিষ্কার করেন ডিনামাইট। 

উল্লেখ্য, 
- আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পর ১৮৯৭ সালে গঠিত হয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। 
- ১৯০০ সালে গঠিত হয় নোবেল ফাউন্ডেশন। 
- ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাঁরা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তাঁদেরকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 

উৎস: Britannica.
৬২০.
কোন ধরণের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. গরম পানি
  3. স্বাভাবিক পানি
  4. উপরের সবগুলোতে একই থাকে
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
গরম পানির তুলনায় ঠান্ডা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। 
 
Cold water can hold more dissolved oxygen than warm water.
 In winter and early spring, when the water temperature is low, the dissolved oxygen concentration is high. 
In summer and fall, when the water temperature is high, the dissolved-oxygen concentration is often lower.
 
উৎস: usgs.gov
৬২১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে বিমান চলাচল করতে পারে? 
  1. মেসোমণ্ডল
  2. এক্সোমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere): 
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। 
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২২.
বিগব্যাঙ তত্ত্বের প্রবক্তা-
  1. আইনস্টাইন
  2. জি. ল্যামেটার
  3. স্টিফেন হকিং
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং তত্ত্ব:
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

অন্যদিকে,
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.

সুতরাং, বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬২৩.
বায়ুর চাপ নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) উষ্ণতা
  3. গ) উচ্চতা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনাে স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।

এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।

নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিম্নচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ু অত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গােলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গােলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।

উৎসঃ ভূগােল, এসএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৪.
সাইক্লোনে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় কত থাকে? 
  1. ৪৫ কিলোমিটার বা তার বেশি
  2. ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ৫৮ কিলোমিটার বা তার বেশি
  4. ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৫.
পদার্থ এবং শক্তিকে অভিন্নরূপে দেখান -
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  4. ঘ) নিকোলাস কোপার্নিকাস
সঠিক উত্তর:
ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন।

E = mc2, একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
এখানে, 
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলোর বেগ।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব:

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । আর এ নতুন যুগের সূচনা করেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। সুতরাং আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
(ক) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
(খ) আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৬২৬.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি না থাকলে আবহাওয়ার সৃষ্টি হতো না?
  1. ক) এক্সোস্ফিয়ার
  2. খ) আয়নোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল ছাড়া কোন আবহাওয়ার সৃষ্টি হতো না; বরফ জমতো না; তুষার, কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদির সৃষ্টি হতো না। শস্য ও বনভূমির জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হতো না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৬২৭.
ভূপৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তর-
  1. ক) ট্রপোমণ্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. গ) আয়নমণ্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল (Troposphere)। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৬২৮.
ভূমিকম্পের তীব্রতা কোথায় বেশি?
  1. ক) কেন্দ্রে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) ভূপৃষ্ঠে
  4. ঘ) কেন্দ্র‌ ও উপকেন্দ্রের মধ্যবর্তী স্থানে
সঠিক উত্তর:
খ) উপকেন্দ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপকেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প কেন্দ্রের ঠিক সােজাসুজি উপরে অবস্থিত যে বিন্দুতে ভূমিকম্প তরঙ্গ প্রথম এসে পৌঁছায়, তাকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয় এবং সেখান থেকে দূরত্ব অনুসারে তীব্রতা ক্রমশ কমতে থাকে।
৬২৯.
পৃথিবীর দুইটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৩ ডিগ্রি হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ক) ১০ মিনিট
  2. খ) ১২ মিনিট
  3. গ) ১৪ মিনিট
  4. ঘ) ১৬ মিনিট
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ মিনিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২ মিনিট
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমার পার্থক্য:

- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমা পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- তাহলে ৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে ১২ মিনিট।
- সেজন্যেই বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ × ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩০.
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কিত সূত্রগুলো কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন? 
  1. গ্যালিলিও 
  2. কেপলার 
  3. নিউটন 
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies):
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

৩। তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩১.
AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) Dr. Luc Montagnier
  2. খ) Dr. Robert Gallo
  3. গ) Dr. Jacques Benveniste
  4. ঘ) Dr. Emilio Del Giudice
সঠিক উত্তর:
ক) Dr. Luc Montagnier
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Dr. Luc Montagnier
ব্যাখ্যা
১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী Dr. Luc Montagnier এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যামিক্যাল ইন্সটিটিউট এর Dr. Robert Gallo ১৯৮৪ সালে পৃথকভাবে AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৬৩২.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. সেক্সট্যান্ট 
  2. ক্রোনােমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. ফ্যাদোমিটার 
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রিটানিকা।

৬৩৩.
বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদ সুর্য থেকে প্রাপ্ত আলো এবং তাপশক্তির কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে? 
  1. ৫%
  2. ২%
  3. ৭%
  4. ৯%
সঠিক উত্তর:
২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২%
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ: 
- যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য। 
- সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার বড়জোড় ২% সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে। 
- বাস্তুতন্ত্রের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য প্রাথমিকভাবে শর্করায় আলো ও তাপশক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে মজুত করে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশিকলের মাধ্যমে উদ্ভিদে জমা হওয়া এই শক্তি বিভিন্ন খাদ্যস্তরে পৌঁছায়। 
- শেষ পর্যন্ত বিরোজকের কাজের ফলে সকল শক্তি আবার পরিবেশে ফিরে আসে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৪.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. আয়নোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত।

• ওজন স্তর:
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে, একে ওজোন স্তর বলে।
- ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্নির অতিবেগুনি রশ্নি থেকে রক্ষা করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরের ক্ষতি করে, তবে সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ, মিথেন গ্যাস, বিমান চলাচল ইত্যাদি কারণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- ওজোন স্তরের ক্ষতির কারণে অতিবেগুনি রশ্নির প্রভাবে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
- ওজোন স্তরের ক্ষয়রোধে গ্রিন হাউস গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে, নাইট্রোজেন সমৃদ্ব রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে এবং বনভূমি সংরক্ষণ ও বৃদ্বি করতে হবে।

অন্যান্য অপশন:
- ট্রপোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন ও ঘনতম স্তর যেখানে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা ও যাবতীয় আবহাওয়াগত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
- আয়নোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের উপরের একটি স্তর যেখানে গ্যাসগুলো আয়নিত অবস্থায় থাকে এবং যা বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে।
- মেসোস্ফিয়ার: স্ট্রাটোস্ফিয়ারের উপরের স্তর যেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং মহাকাশ থেকে আসা উল্কাগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৫.
গ্রীনহাউস এফেক্টের প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে না?
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
 
গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৬.
আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি? 
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের ধারণা: 
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere, Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। 
যেমন- বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। 
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে। 
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। 
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)। 

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৭.
বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে কী বলে?
  1. সৌর জ্বালা
  2. নিউট্রিনো
  3. গামা রশ্মি
  4. মহাজাগতিক রশ্মি
সঠিক উত্তর:
মহাজাগতিক রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৬৩৮.
ধান চাষে নিম্নের কোন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরিত হয়?
  1. মিথেন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
-  এ সমস্ত জমি থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস-মিথেন (CH4), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) যেমন নিঃসরিত হয় তেমনি ধান গাছ তার শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ফর্মে এসব গ্যাস শোষণ করছে। 
- ধান গাছ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের চেয়ে বেশি শোষণ করে। 
-  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে  ১ কেজি ধান উৎপাদন করতে ৬৬৬ গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড, ৫৩ গ্রাম মিথেন এবং ০.৫ গ্রাম নাইট্রাস অক্সাইড ধানক্ষেত থেকে নিঃসরিত হয়। 
- অন্যদিকে এক কেজি ধান উৎপাদন করতে ধানগাছ ২২০০ গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড ফটোসিনথেটিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করে। 
 
উৎস: www.ais.gov.bd
৬৩৯.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে? 
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে, ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C. 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
'মহাসেন' বাংলাদেশে আঘাত হানে-
  1. ক) ২০০৯ সালে
  2. খ) ২০১৩ সালে
  3. গ) ২০১৮ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০১৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৬ মে, ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে আঘাত হানে। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডে ঝড়টি আঘাত হানে।
৬৪১.
ফ্যাক্সের সাহায্যে কী করা যায়?
  1. তথ্য আদান প্রদান
  2. মেইল আদান প্রদান
  3. ডকুমেন্ট আদান প্রদান
  4. কথাবার্তা আদান প্রদান
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্ট আদান প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডকুমেন্ট আদান প্রদান
ব্যাখ্যা

- ফ্যাক্সের সাহায্যে ডকুমেন্ট আদান প্রদান করা যায়।

 ফ্যাক্স (Fax):
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন।
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল।
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪২.
বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক কে?
  1. টমাস এডিসন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জি মার্কনি
  4. গ্রাহামবেল
সঠিক উত্তর:
জি মার্কনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি মার্কনি
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ চৌম্বক বলকে একত্র করে তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা প্রকাশ করেন, যা কিনা বিনা তারে বার্তা প্রেরণের একটি সম্ভাবনা উন্মোচন করে।
- ১৮৯৫ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণে সফল হন।
- ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করেন।
- একই সময়ে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে একই কাজে প্রথম সফলতা লাভ করে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি।
- এজন্য তাকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামের দুইটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন।
- ১৯৯১ সালে তাঁর ডিজাইন থেকেই সফলভাবে কর্মক্ষম একটি যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- তাঁকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৩.
ভূ-ত্বক কয়টি টেকটোনিক প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত? 
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৭ টি
  4. ৯ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
টেকটোনিক প্লেট: 
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ। 
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে। 
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়। 
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়। 
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭ টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত। 
- প্লেটগুলো হলো: 
• ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), 
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), 
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate), 
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate), 
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), 
• ভারত-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও 
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate) । 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং লাইভ লেকচার।
৬৪৪.
অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের কোন উপকারে আসে? 
  1. রক্তের লোহিত কণিকা বৃদ্ধি করে
  2. শরীরের বিপাক হার বৃদ্ধি করে
  3. ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে 
  4. স্নায়ুতন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়ায়
সঠিক উত্তর:
ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে 
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। 
- তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী কোনটি?
  1. বিড়াল
  2. বানর
  3. খোরগোশ
  4. কুকুর
সঠিক উত্তর:
কুকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুকুর
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর মহাকাশ যুগের শুরু হয়।
- এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করে।
- মহাকাশ যুগের দরজা খোলার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক ২ উৎক্ষেপণ করে। 
- এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম কোনো প্রাণী কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ পায়।
- স্পুতনিক ২ রকেটে করে একটি প্রাণী মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। 
- লাইকা নামের কুকুরকে পাঠানো হয় কক্ষপথে।
- লাইকা পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী।

উৎস: প্রথম আলো।

৬৪৬.
কোন রেখাটি 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' নির্দেশ করে?
  1. ৯০° দ্রাঘিমারেখা
  2. ১২০° দ্রাঘিমারেখা
  3. ১৮০° দ্রাঘিমারেখা
  4. ১৯০° দ্রাঘিমারেখা
সঠিক উত্তর:
১৮০° দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০° দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।

⇒ আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পার করা হলে, তখন সময় বদলে যায়:
পশ্চিম থেকে পূর্বে চললে: এক দিন কমে যায়।
পূর্ব থেকে পশ্চিমে চললে: এক দিন যুক্ত করতে হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৭.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরাস
  2. নিম্বোস্ট্রেটাস
  3. কিউম্যুলাস
  4. স্ট্রেটাস
সঠিক উত্তর:
নিম্বোস্ট্রেটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্বোস্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 

উঁচু উচ্চতার মেঘ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। 
যেমন - 
• সিরাস, 
• সিরোকিউম্যুলাস, 
• সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি। 

মাঝারি বা মধ্য উচ্চতার মেঘ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। 
যেমন - 
• অল্টোস্ট্রেটাস, 
• কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
• নিম্বোস্ট্রেটাস। 

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। 
যেমন - 
• স্ট্রেটাস, 
• স্ট্রেটোকিউম্যুলাস, 
• কিউম্যুলাস, 
• কিউম্যুলোনিম্বাস। 

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
৬৪৮.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
  2. উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল
  3. গ্রীষ্মে কালবৈশাখী ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত
  4. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু: 
- কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। 
- কোন স্থানের জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে সে স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে প্রথমে জানা দরকার। 
- আবহাওয়া বলতে কোন স্থানের দৈনন্দিন বায়ুমন্ডলের অবস্থা অর্থাৎ কোন স্থানের দৈনিক বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতি ও চাপ, সূর্যালোক প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। 
- আবার জলবায়ু বলতে কোন স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে বোঝায়। 
- বাংলাদেশের জলবায়ু অনেকটা সমভাবাপন্ন। কারণ সারা বছরের জলবায়ুর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনা। 
- কোন অঞ্চলের কৃষি জলবায়ু সেই অঞ্চলের ফসল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন প্রায় সম্পূর্নভাবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। 
- আমাদের দেশে দুই ধরণের মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। একটি দক্ষিন পশ্চিম মৌসুমী জলবায়ু যা গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিন পশ্চিম দিক হতে আর্দ্র-মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের প্রধান ফসল ধান, পাট, আখ, চা প্রভৃতি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে আগত শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। এসময় তাপমাত্রা কম থাকে। শীতকালে শীতকালীন ফসল যেমন-ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজ, শীতকালীন শাক-সবজি ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- এদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশী হয় বলে সেখানে চা, রাবার, ইত্যাদির চাষাবাদ হয়। 
- মৌসুমি জলবায়ুর দ্বারা এদেশের বনজ সম্পদও প্রভাবিত হয়। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির মধ্যে যথেষ্ঠ পার্থক্য রয়েছে এসব কারণে বিশেষ কোন অঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু ফসল ভাল জন্মে। 
- কোন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও কৃষি উৎপাদন দেখে সে স্থানে কৃষি জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা করা যায়। 

- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন হয়, ফলে জলবায়ুতে পরিবর্তন ঘটে। 
২. জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও নাতিশীতোষ্ণ শীতকাল। 
৩. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে কাল বৈশাখীসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
উইনিং পদ্ধতি হলো বাচ্চাদের প্রথম-
  1. ক) ভাত খাওয়া
  2. খ) পানি খাওয়া
  3. গ) অন্য খাবার খাওয়া
  4. ঘ) দুধ খাওয়া
সঠিক উত্তর:
গ) অন্য খাবার খাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্য খাবার খাওয়া
ব্যাখ্যা
উইনিং পদ্ধতি হলো বাচ্চাদের প্রথম অন্য খাবার খাওয়ানো।
৬৫০.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে কোনটির মান ধ্রুব?
  1. ক) সময়
  2. খ) স্থান
  3. গ) ভর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । আর এ নতুন যুগের সূচনা করেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব
আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। সুতরাং আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
(ক) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
(খ) আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
(ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৬৫১.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূলত দায়ী যে গ্যাস-
  1. ক) মিথেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. ঘ) হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূলত দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড। 

কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2):
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়।
- সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ওজোন
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল। 
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। 
- এই ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। 
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া শান্ত ও শুষ্ক থাকে। 
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৩.
এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় -
  1. ক) ১০-৫ - ১০-৭ মি
  2. খ) ১০-৬ - ১০-৮ মি
  3. গ) ১০-৭ - ১০-৯ মি
  4. ঘ) ১০-৮ - ১০-১০ মি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০-৮ - ১০-১০ মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০-৮ - ১০-১০ মি
ব্যাখ্যা

এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট। এ রশ্মি অত্যন্ত ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১০ মি। এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১০ মি হওয়ায় উপরের অপশনের সঠিক উত্তর ১০-৮ - ১০-১০ মি।
[তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, ড সাহজাহান তপন, পৃষ্ঠা - ৩৮8]

৬৫৪.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান -
  1. অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. আর্গন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 

• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৫.
বায়ুমণ্ডলের চাপের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি লিফট পাম্পের সাহায্যে সর্বোচ্চ যে গভীরতা থেকে উঠানো যায়-
  1. ১ মিটার
  2. ১০ মিটার
  3. ১৫ মিটার
  4. ৩০ মিটার
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ মিটার
ব্যাখ্যা
[Under ideal conditions the pressure of the air at sea level is enough to raise a column of water 10.3 m (34 ft) in a vertical pipe in which a perfect vacuum has been made. -WHO Document on Pumps.]

• বায়ুমণ্ডলীয় চাপের কারণে সাধারণ লিফট পাম্প দিয়ে পানি সর্বোচ্চ ১০ মিটার উঁচুতে তোলা সম্ভব।
• কারণ:
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ১.০১৩ × ১০ প্যাসকেল (1 atmosphere)
এই চাপ পানির স্তম্ভের উচ্চতার সমান = ১০.৩৩ মিটার (তাত্ত্বিকভাবে)
বাস্তবে ঘর্ষণ ও অন্যান্য কারণে এই উচ্চতা প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে

টরিচেলির শূন্যতার নীতি অনুযায়ী:
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ = ρgh
যেখানে, ρ = পানির ঘনত্ব (১০০০ কেজি/মি)
g = অভিকর্ষীয় ত্বরণ (৯.৮ মি/সে)
h = পানির স্তম্ভের উচ্চতা

১০ মিটারের বেশি উচ্চতায় পানি তুলতে হলে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করতে হয় অথবা বুস্টার পাম্প ব্যবহার করতে হয়।
সুতরাং, বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ফলে লিফট পাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গভীরতা থেকে পানি তোলা সম্ভব।
৬৫৬.
টেলিভিশনে রঙিন ছবি তৈরীর জন্য কোন রঙগুলোর প্রয়োজন?
  1. বেগুনী, নীল, সবুজ
  2. সাদা, লাল, সবুজ
  3. নীল, লাল, সবুজ
  4. সাদা, নীল, সবুজ
সঠিক উত্তর:
নীল, লাল, সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল, লাল, সবুজ
ব্যাখ্যা
রঙিন টেলিভিশন: 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 

- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 

উৎস: সবাই কাছাকাছি, বিজ্ঞান, এসএসসি। 
৬৫৭.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটিকে 'ওজন স্তর' নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) মেসোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারটি ওজন স্তর নামে পরিচিত।

কারণ, এই স্তরের ওজন লেয়ার পৃথিবীর জীবজগতকে সূর্য থেকে আশা ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলের ১২ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই স্তরের অবস্থান। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১) এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব খুব কম। তাই এর অপর নাম সুক্ষমন্ডল।
২) বায়ু মন্ডলের এই স্তরে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প না থাকায় মেঘ বৃষ্টি হয় না। তাই অপর নাম শান্ত মন্ডল।
৩) এই স্তরে অক্সিজেনের পরিমান খুব কম থাকায় স্বাস প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়।
৪) বায়ু মন্ডলের এই স্তর শান্ত থাকার জন্য খুব সহজেই এরোপ্লেন চলতে পারে। 

সূত্র: নাসা গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ ওয়েবসাইট।  



৬৫৮.
কোন গ্রহকে সবুজ গ্রহ বলা হয়?
  1. মঙ্গল
  2. ইউরেনাস
  3. নেপচুন
  4. পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

অন্যদিকে -
- মঙ্গলকে লাল গ্রহ বলে।
- গ্রহরাজ বলা হয় বৃহস্পতিকে।
- বুধ হল সূর্যের নিকটতম এবং সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।

৬৫৯.
উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বাযুমন্ডলীয় তাপমাত্রা কী হয়?
  1. ক) বৃদ্ধি পায়
  2. খ) হ্রাস পায়
  3. গ) সমান থাকে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বাযুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬°সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৬০.
গ্রিন হাউস প্রভাবের মাধ্যমে কী ঘটে? 
  1. বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
  2. বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. সূর্যের আলো সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়
  4. বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সরাসরি হারিয়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬১.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে? 
  1. ওজোন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনো-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষণ: 
- প্রাকৃতিক কারণে অথবা মানুষের কার্যকলাপে সৃষ্ট উদ্ভুত দূষিত পদার্থ যখন পরিবেশকে বিষময় করে তোলে তখনই দূষণ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। 
- পরিবেশের প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান, যেমন-মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব পরিবর্তন ঘটলে তা জীবজগতের উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে, এটিকে পরিবেশ দূষণ বলে। 
- ক্ষতিকর পদার্থের বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হয়, তখনই পরিবেশ দূষিত হয়। 
- ধরিত্রী তার মানুষ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 
যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা, বনজ সম্পদ ধ্বংস, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন, নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট, ইটভাটা, ভূমিক্ষয়, অচল ও অধিক যানবাহন ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি। 

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা: 
- সমগ্র বিশ্বে আজ জলবায়ুর পরিবর্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- এই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন।
- ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
- বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে যদি চলতে থাকে তবে আগামী ৩০ বছরে সমুদ্রের উপকূলবর্তী অনেক দেশ সমুদ্রের তলে বিলীন হয়ে যাবে।
- আমাদের দেশেরও অধিকাংশ ভূমি সমুদ্রতলে হারিয়ে যাবে। বিপন্ন হবে জীবন ও সম্পদ।
- এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, নদীর প্রবাহ হ্রাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস পানযোগ্য পানির অভাব, মৎস্যসম্পদ ধ্বংস, ফসল উৎপাদন হ্রাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি ভয়াবহ দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম GIS-এর ব্যবহার শুরু হয়?
  1. ১৯৬৪ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা (Geographic Information System):
- ভৌগোলিক তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে যে প্রক্রিয়ায় ডাটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয় তাকে বলা হয় ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা বা Geographic Information System (GIS)।
- এটি মূলত ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণের জন্য নির্মিত সফ্টওয়্যার।
- GIS সফট্ওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ESRI (Environmental System Research Institute).

⇒ জিআইএসের বিকাশ (Development of GIS):
- বৃটিশ গবেষক সোহো (Soho) ১৮৫৪ সালে লন্ডন শহরের ভয়াবহ কলেরা রোগের উপর কাজ করেন। তিনি নিশ্চিত হন যে, কিছু পাম্পের পানি দূষিত হয়ে কলেরা ছড়াচ্ছে। লন্ডন শহরের ঐ এলাকার পানির পাম্প এবং চারপাশে কী পরিমাণ লোকের মধ্যে কলেরা ছড়াচ্ছে বা মারা যাচ্ছে সে সম্পর্কে উপাত্ত সংগ্রহ করে তা মানচিত্রে দেখান। তাঁর এ গবেষণার ফলে সমস্যা অনুধাবন করে কলেরা রোগ দূর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হয়।
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান 'The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- ১৯৮৬ সালে ESRI বাণিজ্যিকভাবে Arc/Info সফট্ওয়্যার তৈরি শুরু করে।

⇒ ১৯৯১ সালে ইসপান (Irrigation Support Project for Asia and the Near East) ফ্লাড অ্যাকশন প্লান-১৯ (ফ্যাপ-১৯) প্রকল্পে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে জিআইএস ব্যবহার করে।
- ইসপান পরবর্তীতে ইজিআইএস (Environmental and GIS Support Projects for Water Sector Planning) নামে পুনর্গঠিত হয়েছে। 

⇒ জিআইএস এর কার্যপ্রণালি (Function of GIS):
১. উপাত্ত সংগ্রহ,
২. উপাত্ত আদান-প্রদান,
৩. উপাত্ত সংস্করণ,
৪. উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং,
৫. উপাত্ত উপস্থাপন ও ব্যবস্থাপনা।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক কে?
  1. বোর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  3. হাইজেনবার্গ
  4. ডিরাক
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- ১৮০৩ সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯২৪ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 

- ১৯০০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক ১৯৩১ সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৬ সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬৪.
গ্রিনিচের দ্রাঘিমা কত ডিগ্রী?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০°
  4. ২৭০°
সঠিক উত্তর:
০°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০°
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা: 
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক। 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০°।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০°। মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১° অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০° করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৬৫.
কোন গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী নয়?
  1. CFC
  2. NO3
  3. CO2
  4. N2O
সঠিক উত্তর:
NO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NO3
ব্যাখ্যা

◉ NO3 (নাইট্রেট আয়ন) পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না।

গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- গ্রিন হাউজ হলো এমন একটি কাঁচের ঘর যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছপালা জন্মানোর জন্য উপযোগী আবহাওয়া তৈরিকরা হয়।
- সূর্যের আলো যখন এই কাঁচের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে তখন ভিতরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীও গ্রিন হাউজের মত এমন একটি আবাসস্থল যেখানে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পৃথিবী হতে দূরীভূত হচ্ছে না।
- গ্রিন হাউজের তাপমাত্রা ধরে রাখার প্রক্রিয়াটি বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- এ কারণেই গ্রিন হাউজ এর সাথে মিল রেখে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়। এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৬.
নিচের কোনটি একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. রেডন
  2. রেডিয়াম
  3. থোরিয়াম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৭.
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কত? 
  1. ০.০১% 
  2. ০.৪১% 
  3. ১.২৭% 
  4. ০.৮০% 
সঠিক উত্তর:
০.৪১% 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১% 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমণ্ডল নামে পরিচিত এবং এই মণ্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। 
- পৃথিবীর আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে এ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে। তবে বায়ুমণ্ডল কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে পারে না বরং কিছুটা পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- বায়ুমণ্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত। সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে। 
- তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়। 

বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমণ্ডল বেষ্টিত, এই মণ্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। 
- এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান। 
- বায়ুমণ্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ, এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই; তাই বায়ুমণ্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না। 
সুতরাং, বায়ুমণ্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়। 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমণ্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। 
উপাদানের নাম ⇔ শতকরা হার (%): 
• নাইট্রোজেন ⇔ (N2) ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇔ (O2) ২০.৭১, 
• আর্গন ⇔ (Ar2) ০.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ⇔ ০.০৩, 
• অন্যান্য গ্যাসমূহ (ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও ক্রিপটন) ⇔ ০.০২, 
জলীয়বাষ্প ⇔ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇔ ০.০১ । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৮.
টেলিভিশনে চলমান ছবি পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে কতটি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয়?
  1. ক) ০৯
  2. খ) ১৫
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৫
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং তখন সেগুলো আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি মনে হয়।
উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
৬৬৯.
ব্ল্যাক বক্স যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় -
  1. রকেটে
  2. উড়োজাহাজে
  3. ট্রেনে
  4. সাবমেরিনে
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উড়োজাহাজে
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক বক্স:

- ব্ল্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।
- এটিকে বিমানের ‘ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও’ বলা হয়।
- নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্ল্যাক বক্স সাধারণত বিমানের পিছনের দিকে রাখা হয়।
- এটি টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি ও একটি টাইটানিয়াম বাক্সে আবদ্ধ থাকে।
- প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং ‘রেড এগ' নামে পরিচিত ছিল।
- ডিভাইসটির ভিতরের দেয়ালগুলি কালো রঙের ছিল, তাই পরবর্তীতে এটি ‘ব্ল্যাক বক্স’ নামে পরিচিত পায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ০৮ জানুয়ারি ২০২২।
৬৭০.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. জি. ল্যামেটার 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. এডুইন হাবল
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৬৭১.
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় কত বছর পরে?
  1. ক) ৫ বিলিয়ন বছর
  2. খ) ৯ বিলিয়ন বছর
  3. গ) ১ বিলিয়ন বছর
  4. ঘ) ৬ বিলিয়ন বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯ বিলিয়ন বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি:

- বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে সৌরজগতের উৎপত্তি। 
- আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে।

তথ্যসূত্র - একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৬৭২.
একটি রেফারেন্স ফ্রেমের চারটি স্থানাংক x, y, z, t কে বলা হয়-
  1. ক) ইনারশিয়াল রেফারেন্স ফ্রেম
  2. খ) নন ইনারশিয়াল রেফারেন্স ফ্রেম
  3. গ) স্পেস-টাইম রেফারেন্স
  4. ঘ) ৪র্থ মাত্রার তল
সঠিক উত্তর:
গ) স্পেস-টাইম রেফারেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পেস-টাইম রেফারেন্স
ব্যাখ্যা

x, y, z ও t এর চারটি স্থানাঙ্কযুক্ত এই ফ্রেমকে স্পেস-টাইম ফ্রেম বলে। এটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬৭৩.
'A Brief History of Time' বইটি কার লেখা?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. জগদীস চন্দ্র বসু
  3. স্টিফেন হকিং
  4. অমর্ত্য সেন
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা

স্টিফেন হকিং 
- তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।
- ১৯৬২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণার কাজ শুরু করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো কসমোলজি এবং জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি।
- কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্টিফেন হকিং গুরুতর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।
- কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কথা বলা রপ্ত করেন।
- ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই 'A Brief History of Time: From the Big Bang to Black Holes' প্রকাশ করেন।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে খুব সহজবোধ্য ভাষায় সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তিনি লিখেছিলেন।
- ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ছিয়াত্তর বছর বয়সে এই বিজ্ঞানীর জীবনাবসান হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬৭৪.
'অধরা কণা'র আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পদার্থ বিজ্ঞানী-
  1. মাকসুদুল আরম
  2. এম জাহিদ হাসান
  3. দীপঙ্কার তালুকদার
  4. সেলিম শাহরিয়ার
সঠিক উত্তর:
এম জাহিদ হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম জাহিদ হাসান
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।]

অধরা কণা
- একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা।
- এটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী এম জাহিদ হাসান।
- এটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তৈরি করা যাবে।
- এটি অন্যান্য ইলেক্ট্রনের চেয়ে ১০০০ গুণ বেশি চার্জ পরিবহন করতে পারে।
- উল্লেখ্য যে, অধরা কণার অস্তিত্ব ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে হারম্যান ভাইল সর্বপ্রথম জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৬৭৫.
মহাকাশকে বায়ুমণ্ডলের অংশ হিসেবে ধরা হয় না কেন? 
  1. সেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকার ফলে
  2. বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে ঘোরার ফলে
  3. মহাকাশে সবসময় সূর্য থাকার ফলে
  4. বায়ুমণ্ডলে কোনো পদার্থ না থাকার ফলে
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে ঘোরার ফলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে ঘোরার ফলে
ব্যাখ্যা
মহাকাশ (Space): 
- আকাশের দিকে তাকালে দূর দূরান্তের অনেক বস্তু দেখা যায়। 
- দিনের আকাশের সূর্য আর রাতের আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি চোখে পড়ে। 
- যদি দুরবীক্ষণ দিয়ে আকাশের দিকে দেখা হয়, তখন আরও অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন- বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহসহ জ্বলজ্বল করতে থাকে। 
- গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা, তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। 
- মহাকাশের দিকে তাকালে যেসব বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় তা হলো পদার্থ। 

মহাকাশ বা মহাশূন্যের শুরু যেখান থেকে: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথেই মহাকাশে ঘুরছে, এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। 
- এক সময় মানুষ ভাবত যে, যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি তারা দেখতে পায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির। 
- পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬৭৬.
একটি হোল কণার চার্জ কত? 
  1. 1.9×10-19 C
  2. 1.6×10-19 C
  3. 1.0×10-23 C
  4. 1.9×10-27 C
সঠিক উত্তর:
1.6×10-19 C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.6×10-19 C
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। 
- ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

• বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৮.
'সুনামী' কী কারণে হয়?
  1. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
  2. চাঁদের মহাকর্ষীয় টান
  3. ঝড় ও বৃষ্টি
  4. উচ্চ বাতাসের চাপ
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
ব্যাখ্যা
• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- তবে, ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেয়ু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৯.
কোন গতির কারণে দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি সংঘটিত হয়? 
  1. আহ্নিক গতির কারণে
  2. বার্ষিক গতির কারণে
  3. মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক গতির কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ষিক গতির কারণে
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ- 
• দিন-রাত্রি সংঘটন, 
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি, 
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি। 

বার্ষিক গতি: 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮০.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. হার্জ
  2. ডেসিবল
  3. সেন্টিবল
  4. ন্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দদূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল। 
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। 
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে। 
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়। 
 
উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮১.
কোন দুটি গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. শনি ও বুধ
  2. শুক্র ও বৃহস্প্রতি
  3. বুধ ও শুক্র
  4. নেপচুন ও ইউরেনাস
সঠিক উত্তর:
বুধ ও শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ ও শুক্র
ব্যাখ্যা

উপগ্রহ (Satellite):
- কিছু কিছু জ্যোতিষ্ক গ্রহকে ঘিরে আবর্তিত হয়, এদের উপগ্রহ বা চাঁদ বলে।
- মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
- এদের নিজস্ব আলো বা তাপ নেই। এরা সূর্য বা নক্ষত্র থেকে আলো বা তাপ পায়।
- চাঁদ পৃথিবী গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ।
- কোনো কোনো গ্রহের উপগ্রহ আছে, কোনোটির নেই।
- বুধ ও শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য,
- সৌরজগতের আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৬৮২.
সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) জেনোফেন
  4. ঘ) হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
গ) জেনোফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেনোফেন
ব্যাখ্যা
- ল্যামার্ক 'বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

 -সর্বপ্রথম, জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।

- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, ২০২১
৬৮৩.
Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে কোন নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল?
  1. Endeavour
  2. Challenger
  3. Pathfinder
  4. Apollo
সঠিক উত্তর:
Endeavour
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Endeavour
ব্যাখ্যা
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ: 
- মহাকাশে ভাসমান প্রথম টেলিস্কোপ হলো হাবল টেলিস্কোপ। 
- আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন পি. হাবল এর নামানুসারে NASA বিশ্বের প্রথম স্পেস-ভিত্তিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপের নামকরণ করেছে। 
- ২৪ এপ্রিল ১৯৯০ হাবলের টেলিস্কোপ স্পেস শাটল ডিসকভারি (STS-31) থেকে প্রথম উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- ২৫ এপ্রিল ১৯৯০ থেকে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে। 
- হাবল টেলিস্কোপ মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেছে। 
- ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে Endeavour নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল। 

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৬৮৪.
আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় -
  1. ক) টেলিস্কোপ
  2. খ) পেরিস্কোপ
  3. গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিস্কোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- দর্পণের প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে স্থাপিত যাতে নলটির অঙের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

উৎস: নবম অধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৬৮৫.
কোন ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  3. গ) অপসারী সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অপসারী সীমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপসারী সীমা
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়।
যথা:
- সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা,
- অপসারী সীমা ও
- পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

- সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।

- অপসারী সীমা
এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
- পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৬৮৬.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৬.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৭.
বাংলাদেশে ঘর্ণিঝড়ের মৌসুম কোনটি?
  1. ক) পৌষ-মাঘ
  2. খ) আশ্বিন-কার্তিক
  3. গ) চৈত্র-বৈশাখ
  4. ঘ) খ ও গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযােগ্য। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও উর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যাক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
৬৮৮.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. জি.লেমেটার
  3. এডউইন হাবল
  4. স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
জি.লেমেটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি.লেমেটার
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং তত্ত্ব:
- বেলজিয়ামের জ্যোর্তিবিজ্ঞানি জি.লেমেটার বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা।
- ১৯৩১ সালে বেলজিয়ান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ক্যাথলিক পাদ্রী জর্জ লেমিটার প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে বিগ ব্যাং তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- এই তত্ত্ব ১৯৩০-এর দশকে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা থেকে একটি বিপ্লবাত্মক বিচ্যুতি ছিল, যা আজ প্রায় সব জ্যোতির্বিজ্ঞানীর দ্বারা গৃহীত,।
- সেই সময়ে অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এখনও মহাবিশ্বের প্রসারণশীল ধারণা মেনে নিতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন।
- সমগ্র দৃশ্যমান মহাবিশ্ব গ্যালাক্সি সমূহের বিস্ফোরণ দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
- এই তত্ত্বের আধুনিকতম ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) তাঁর 'A Brief History of Time' বইয়ে।

উৎস: American Museum of Natural History.
৬৮৯.
সূর্যের উন্নতি কোণ পরিমাপ করা যায় নিম্নের কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. রিফ্রাক্টোমিটার
  2. রিখটার স্কেল
  3. স্পেকস্ট্রোস্কোপ
  4. সেক্সট্যান্ট
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা
সেক্সট্যান্ট:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

⇒ সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায়।
- এ যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নর্ণয় করা যায়।

উৎস: Britannica.
৬৯০.
সর্বপ্রথম অ্যান্টিম্যাটারের অস্তিত্বের ধারণা কে প্রস্তাব করেছিলেন?
  1. Paul Dirac
  2. Albert Einstein
  3. Isaac Newton
  4. Marie Curie
সঠিক উত্তর:
Paul Dirac
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Paul Dirac
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম অ্যান্টিম্যাটারের অস্তিত্বের ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন - Paul Dirac.
- ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী Paul Dirac কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং আপেক্ষিকতার তত্ত্বকে একত্রিত করে একটি গাণিতিক সমীকরণ তৈরি করেন।
- এই সমীকরণ থেকে দেখা যায়, ইলেকট্রনের মতো কণা থাকা সম্ভব যার চার্জ ইলেকট্রনের বিপরীত, অর্থাৎ ধনাত্মক।
- পরে এই কণাকে পজিট্রন (Positron) নামে অভিহিত করা হয়, যা ইলেকট্রনের অ্যান্টিম্যাটার।
- পজিট্রন বাস্তবে আবিষ্কার হয় ১৯৩২ সালে।
- এই তত্ত্বই অ্যান্টিম্যাটারের অস্তিত্বের ধারণার ভিত্তি।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- খ) Albert Einstein:
- তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব দিয়েছেন এবং E=mc² সূত্রটি তৈরি করেছেন, যা পদার্থ থেকে শক্তি উৎপন্নের ধারণা দেয়।
- কিন্তু অ্যান্টিম্যাটার আবিষ্কার বা ধারণার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন।

- গ) Isaac Newton:
- তিনি মাধ্যাকর্ষণ এবং গতি-সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন, তবে অ্যান্টিম্যাটারের ধারণা তাঁর সময়ের আগে আসেনি।

- ঘ) Marie Curie:
- তিনি তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) নিয়ে গবেষণা করেছেন, কিন্তু অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে নয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৯১.
সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের কতদিন সময় লাগে?
  1. ৩৬৭ দিন 
  2. ২২৫ দিন 
  3. ৫৬৭ দিন 
  4. ৬৮৭ দিন
সঠিক উত্তর:
৬৮৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮৭ দিন
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৯২.
ইলেক্ট্রনের আসক্তির ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) কাচ>সিল্ক
  2. খ) প্লাস্টিক>ফ্লানেল
  3. গ) কাচ<সিল্ক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কাচ>সিল্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাচ>সিল্ক
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনের জন্য কাচের যত আসক্তি সিল্কের আসক্তি তার থেকে বেশি। আবার যদি এক টুকরাে প্লাস্টিককে ফ্লানেল (বা পশমি কাপড়) দিয়ে ঘষা হয় তাহলে ফ্লানেল থেকে ইলেকট্রন চলে আসবে প্লাস্টিকের টুকরােতে। তার কারণ ইলেকট্রনের জন্য প্লাস্টিকের আকর্ষণ ফ্লানেল থেকে বেশি। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৬৯৩.
"একসময় পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একত্রে একটি মহাদেশ ছিল, কালের আবর্তে যা টেকটনিক প্লেট নামক প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে।" - এই তত্ত্বকে বলা হয় -
  1. ক) বিগ ব্যাং তত্ত্ব
  2. খ) সম্প্রসারণ তত্ত্ব
  3. গ) সঞ্চালন তত্ত্ব
  4. ঘ) মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- জার্মান আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মতে, বহুকাল আগে পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ একত্রে একটি মহাদেশ ছিল (প্যানজিয়া), কালের আবর্তে যা টেকটনিক প্লেট নামক প্লেটগুলোর নড়াচড়ায় আলাদা আলাদা মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই তত্ত্বটিকে বলা হয় মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব।
- ১৯১২ সালে আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব থেকেই টেকটনিক প্লেট ধারণাটির জন্ম হয়।
৬৯৪.
পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ কী নামে পরিচিত?
  1. বিষুবরেখা
  2. অক্ষরেখা
  3. দ্রাঘিমারেখা
  4. সুমেরু রেখা
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমারেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমারেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয় এবং প্রতি ১° অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা বরাবর সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা ৩৬০টি।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।
- এই ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ
  2. খ) একজন মাঝির নৌকা চালানো
  3. গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  4. ঘ) বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা
সঠিক উত্তর:
গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৬.
কে গণিতবিদ নন?
  1. ক) ওমর খৈয়াম
  2. খ) আল-খারিজমী
  3. গ) ইবনে খলদুন
  4. ঘ) উলুগ বেগ
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে খলদুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে খলদুন
ব্যাখ্যা
Ibn Khaldūn, the greatest Arab historian, who developed one of the earliest nonreligious philosophies of history, contained in his masterpiece, the Muqaddimah (''Introduction''). He also wrote a definitive history of Muslim North Africa.
Source: Cambridge Dictionary
৬৯৭.
নিচের কোনটি প্রাথমিক দূষক?
  1. ওজোন
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. পারঅক্সি অ্যাসাইল নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা

দূষক (Pollutant): 
- কোনো পদার্থ পরিবেশে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অপেক্ষা অধিক পরিমাণে উপস্থিত থেকে মনুষ্যজাতি অথবা অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে ঐ পদার্থটিকে দূষক বলা হয়। 
- বায়ুতে সল্পমাত্রায় (0.1 ppm) CO থাকে, কিন্তু এর পরিমাণ বেড়ে 40 ppm বা তার বেশি হলে এটি দূষক হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- দূষক দুই প্রকার।
যথা-
১। প্রাথমিক (প্রাইমারী) দূষক: 
- যেসব দূষক কোনো উৎস হতে নির্গত হয়ে সরাসরি অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে আসে তাদের প্রাইমারী দূষক বলা হয়। 
যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), NOx, হাইড্রোকার্বনসমূহ, ছাই, ধূলিকণা ইত্যাদি। 

২। গৌণ (সেকেন্ডারী) দূষক: 
- এই প্রকারের দূষক কোনো উৎস থেকে সরাসরি পরিবেশে আসে না। 
- পরিবেশেস্থিত দূষকগুলির পারস্পরিক বিক্রিয়ায় বা প্রাথমিক দূষকের সঙ্গে পরিবেশের কোনো একটি উপদানের বিক্রিয়ায় যেসব ক্ষতিকারক পদার্থ সৃষ্টি হয় তাদের গৌণ দূষক বলে। ওজোন
যেমন- পারঅক্সি অ্যাসাইল নাইট্রেট (PAN), ডাই মিথাইল মার্কারি [(CH3)2Hg], সালফার ট্রাই-অক্সাইড (SO3), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2), ওজোন (O3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৮.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. তির্যকভাবে
  2. লম্বভাবে
  3. কৌণিকভাবে
  4. আড়াআড়িভাবে
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লম্বভাবে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬৯৯.
বেশিরভাগ গ্রহাণুর অবস্থান কোথায়?
  1. শনি এবং বৃহস্পতির মাঝে
  2. মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
  3. পৃথিবী ও মঙ্গল এর মাঝে
  4. শনি ও ইউরেনাস এর মাঝে
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে
ব্যাখ্যা
গ্রহাণু: 
- গ্রহাণু, যেগুলোকে কখনও বামন গ্রহ বলা হয়, সৌরজগতের প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে গঠনের সময় অবশিষ্ট থাকা শিলাময় এবং বায়ুহীন অংশ।
- বেশিরভাগ গ্রহাণুর মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে অ্যাস্টারয়েড বেল্টে অবস্থান। 
- বৃহত্তম গ্রহাণু ভেস্তা, যার ব্যাস প্রায় ৩২৯ মাইল (৫৩০ কিমি)।
- সবচেয়ে ছোট গ্রহাণুর আকার ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এর চেয়েও কম।
- সব গ্রহাণুর মোট ভর একত্র করলে তা পৃথিবীর চাঁদের ভরের চেয়েও কম।

উৎস: NASA
৭০০.
ট্রপোমণ্ডলে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুর তাপমাত্রা গড়ে হ্রাস পায়-
  1. ৭.৩° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  2. ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  3. ৮.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
  4. ৬.৯° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

⇒ ট্রপোমণ্ডলে প্রতি ১ কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হল - ৬.৫° সেলসিয়াস/কিলোমিটার। 

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।