বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৪ / ৬৯ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ৬,৯৫৩

৬,৩০১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান নয়?
  1. অতিথি
  2. সমীচিন
  3. মহিরুহ
  4. পুণ্য
সঠিক উত্তর:
সমীচিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচিন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সমীচিন'- শুদ্ধ বানান নয়। 
- বানানটির শুদ্ধরূপ: সমীচীন। 

• আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
ধরণি, পিওন, প্রণামি, ধরন,স্বতঃপ্রণোদিত, ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩০২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. মধ্যাহ্ণ
  2. পীড়াপিড়ী
  3. সদ্যেজাত
  4. বিকিরণ
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = বিকিরণ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
 - বিক্ষেপ, বিস্তৃতি।
 - কোনো বিন্দু থেকে শক্তি বিচ্ছুরণ, 

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = সদ্যেজাত;
• শুদ্ধ =সদ্যোজাত;

• অশুদ্ধ = পীড়াপিড়ী;
• শুদ্ধ = পীড়াপীড়ি;

• অশুদ্ধ = মধ্যাহ্ণ;
• শুদ্ধ = মধ্যাহ্ন;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩০৩.
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলাে রে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) আশ্রিত খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরষ্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্যে পরস্পর সাপেক্ষ যে বাক্যগুলাে থাকে তাদের সাধারণত খণ্ডবাক্য বলে। 'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলােরে' বাক্যে ‘তবে একলা চলােরে' প্রধান খণ্ডবাক্য। 'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে' আশ্রিত খণ্ডবাক্য। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৩০৪.
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ত্রিবিন্দু
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
• ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩০৫.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) শুশ্রূষা
  4. ঘ) কল্যাণীয়েসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) কল্যাণীয়েসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কল্যাণীয়েসু
ব্যাখ্যা
• সম্ভাষণসূচক শব্দে এ - কারের পর মূর্ধন্য - ষ ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কল্যাণীয়েষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহাস্পদেষু, বঙ্গবরেষু, সুজনেষু।

• কল্যাণীয়েষু (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কল্যাণীয়+এষু
অর্থ: বয়ঃকনিষ্ঠ পুরুষকে লিখিত পত্রের সম্বোধন-সূচক পাঠ।

• শুশ্রূষা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্রু+সন্‌+অ+আ 
অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

• মুমূর্ষু (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ম্+সন্‌+উ
- অর্থ: মৃত্যুকাল আসন্ন এমন, মরণাপন্ন, মৃতপ্ৰায় 

• স্বায়ত্তশাসন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বায়ত্ত+শাসন
অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩০৬.
‘বৃষ্টি পড়ে।’ বাক্যে ‘বৃষ্টি' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)

- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াকে 'কে' দ্বারা প্রশ্ন করা হয়?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।

কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

প্রথম বা শূন্য বিভক্তি:
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে ইত্যাদি।

• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।

• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।

• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩০৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) দুষ্প্রাপ্য
  2. খ) পরষ্পর
  3. গ) নিষ্পত্তি
  4. ঘ) স্নেহাস্পদ
সঠিক উত্তর:
খ) পরষ্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরষ্পর
ব্যাখ্যা

সঠিক শব্দ - দুষ্প্রাপ্য, পরস্পর, নিষ্পত্তি, স্নেহাস্পদ। 

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

৬,৩০৮.
‘কমা’ কোথায় বসে?
  1. কোন অপূর্ণ বাক্যের জন্য
  2. সম্বোধন পদের পরে
  3. প্রশ্ন বোঝানোর জন্য
  4. বাক্যের মাঝে কোন পদ ব্যাখ্যা করার জন্য
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন পদের পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন পদের পরে
ব্যাখ্যা

কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
- অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে:

• বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
• পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৬,৩০৯.
কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. বাইরে এস দেখলাম যে প্রায় প্রভাত হয়েছে।
  2. বৈশাখ শেষ হইয়া আসে কিন্তু মেঘের ছায়াটুকু কোথাও নাই।
  3. গৃহস্বামী তার কাছে গিয়ে নিজের দুরবস্থা জানাল।
  4. যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমারে নেবে চিনে।
সঠিক উত্তর:
গৃহস্বামী তার কাছে গিয়ে নিজের দুরবস্থা জানাল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহস্বামী তার কাছে গিয়ে নিজের দুরবস্থা জানাল।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। 
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- গৃহস্বামী তার কাছে গিয়ে নিজের দুরবস্থা জানাল।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দরিদ্র হলেও তিনি সুখী।

অন্যদিকে,
- বৈশাখ শেষ হইয়া আসে কিন্তু মেঘের ছায়াটুকু কোথাও নাই।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- বাইরে এস দেখলাম যে প্রায় প্রভাত হয়েছে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমারে নেবে চিনে।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩১০.
'তিলে তৈল হয়।' এখানে 'তিলে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. করণ কারকে
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন-
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : 'তিলে তৈল হয়।'
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৩১১.
‘গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।’—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে কেন?
  1. উদ্ধৃতি বোঝাতে
  2. সম্বোধন বোঝাতে
  3. একাধিক শব্দ আলাদা করতে
  4. প্রশ্ন প্রকাশ করতে
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
ব্যাখ্যা

⇒ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে একদিক শব্দের মধ্যে প্রতিটি শব্দ আলাদা করার জন্যে।

• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৬,৩১২.
"মূর্খে কী না বলে!" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- মূর্খে কী না বলে!- এই বাক্যে ‘মূর্খে’ কর্তৃকারক।
[কারণ কে বলে? প্রশ্ন করলে উত্তর আসে  - মূর্খে। এবং এর সাথে 'এ' বা সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত আছে। সুতরাং এখানে ‘মূর্খে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩১৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. বিকিরণ
  2. বিকর্ষণ
  3. উদীচি
  4. উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
উদীচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদীচি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধরূপ হলো: উদীচী 
'উদীচী' শব্দের অর্থ  'উত্তর দিক' 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৬,৩১৪.
’পরীক্ষায় সফল হও’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিমূলক
  2. খ) আদেশমূলক
  3. গ) বিস্ময়সূচক
  4. ঘ) ইচ্ছাসূচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইচ্ছাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইচ্ছাসূচক
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে শুভ প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন-
তোমার মঙ্গল হোক।
পরীক্ষায় সফল হও।
খোদা তোমার মঙ্গল করুন ইত্যাদি

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩১৫.
'যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হবোনা' কোন বাক্য-
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) নির্দেষাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে, 'বের হবোনা' প্রধান বাক্য আর 'যদি বৃষ্টি হয়' হলো- অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।                                               

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৬,৩১৬.
'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটিতে কোন গুণটির অভাব?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. আসত্তি
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ ৩ টি - 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি 
- যোগ্যতা 

'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব ঘটেছে। 
- বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা। 
- যেমন- 'বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে' এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারন বাক্যটির পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন আছে। 
- কিন্তু 'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারাবে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩১৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অধ্যাবসায়
  2. অভিলাস
  3. জরাজীর্ণ
  4. কল্যানী
সঠিক উত্তর:
জরাজীর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরাজীর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জরাজীর্ণ' - শুদ্ধ বানান।

• 'জরাজীর্ণ' অর্থ:
- বার্ধক্যের জন্য জীর্ণ ও দুর্বল।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান,
অধ্যাবসায় – অধ্যবসায়
• অভিলাস – অভিলাষ;
• কল্যানী – কল্যাণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩১৮.
স্ত্রীলিঙ্গ জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ননদীনী
  2. খ) বিহঙ্গী
  3. গ) ত্রিনয়না
  4. ঘ) সুকেশী
সঠিক উত্তর:
ক) ননদীনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ননদীনী
ব্যাখ্যা
স্ত্রীলিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ - বিহঙ্গী, ত্রিনয়না, সুকেশী, ননদ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৩১৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ!
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
শুদ্ধ বাক্য: মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩২০.
বাচ্য বলতে বুঝায় বাক্যের -
  1. বাক্যের অর্থ
  2. প্রকাশভঙ্গি
  3. বাক্যের রূপান্তর
  4. প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা

• বাচ্য: 
- বাক্যের বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয়।
- বাচ্য তিন প্রকার।

- যথা:
কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য। 
 
১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৬,৩২১.
'দৌরাত্ম' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. প্রত্যয়
  2. সন্ধি
  3. বাহুল্য
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ:
→ দৌরাত্ম - দৌরাত্ম্য,
→ আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
→ একত্রিত - একত্র,
→ পুজ্য - পূজ্য,
→ বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩২২.
"রোগী পথ্য সেবন করে।" - কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩২৩.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় কর-
  1. যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি।
ব্যাখ্যা

• তার সৌজন্যে আমি সুযোগটি পেয়েছি। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।
শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি৷

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে৷

অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩২৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সব মাছগুলোর দাম কত।
  2. আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. নিরোগী লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ: নিরোগী লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
শুদ্ধ: নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩২৫.
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. ক) বানানজনিত
  2. খ) বাহুল্যজনিত
  3. গ) সমাসজনিত
  4. ঘ) সন্ধিজনিত
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্যজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্যজনিত
ব্যাখ্যা
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ ব্যবহার আয়ত্ত বা অধীন।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৩২৬.
খণ্ড ত (ৎ) এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) বৎসর
  2. খ) বীভৎস
  3. গ) উৎসাহ
  4. ঘ) উচিৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
ব্যাখ্যা
খণ্ড ত (ৎ) এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে - 'উচিৎ' শব্দে। 
শব্দের শেষে খণ্ড ত (ৎ) প্রয়োগ হয় না। 

সঠিক বানান = উচিত। 

উচিত (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √উচ্‌+ত
অর্থ: যোগ্য, যথার্থ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৩২৭.
কোন বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে অশুদ্ধ?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি। 
  2. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
  3. আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  4. নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
সঠিক উত্তর:
আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
ব্যাখ্যা

আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। - বাক্যটি বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি। 
- শুদ্ধ বাক্য: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি যা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি। 
শুদ্ধ বাক্য: নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩২৮.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  2. সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. সকল ছাত্রই পাঠে অমনোযোগী।
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: সকল সভ্যগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
• শুদ্ধ: সকল সভ্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
শুদ্ধ: সকল ছাত্রই পাঠে অমনোযোগী।
শুদ্ধ: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,৩২৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. গুণতি
  2. ঝরণা
  3. লুণ্ঠন
  4. গোণা
সঠিক উত্তর:
লুণ্ঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুণ্ঠন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: লুণ্ঠন।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৩০.
'ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলো।' - কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে?
  1. অনুরোধ
  2. উপদেশ
  3. আদেশ
  4. বিধান
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা
'ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলো' - এই বাক্যে উপদেশ অর্থে বর্তমান অনুজ্ঞার ব্যবহার হয়েছে।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।

• কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ: 
'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো। 
'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না।
'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা। 
'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,৩৩১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. চক্ষুস্মান
  2. চক্ষুশ্মান
  3. চক্ষুষ্মান
  4. চক্ষুকস্মাণ
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুষ্মান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান = চক্ষুষ্মান।
-------------------------------------------
• ’চক্ষুষ্মান’ শব্দটির  শুদ্ধ উচ্চারণ= চোকখুশমান্ ।
অর্থ:
- চোখ আছে এমন; তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
- সত্যদ্রষ্টা।
- এমন; স্ত্রী. চক্ষুষ্মতী/চোশমোতি/।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৩২.
ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্‌ স্থানে কী লেখা যাবে?
  1. (ং)
  2. (ণ)
  3. (ঃ)
  4. (ষ)
সঠিক উত্তর:
(ং)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(ং)
ব্যাখ্যা
• ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে।
 যেমন:
- অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
- বিকল্পে ঙ্‌ লেখা যাবে।
- ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে।
 যেমন:
- আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৩৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঈর্ষাপরায়ন
  2. অনুকুল
  3. অনিন্দ্য
  4. অনাস্তা
সঠিক উত্তর:
অনিন্দ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিন্দ্য
ব্যাখ্যা
• 'অনিন্দ্য' - বানানটি শুদ্ধ।

• 'অনিন্দ্য' শব্দের অর্থ:
- নিন্দার অযোগ্য।

অন্যান্য অপশন,
• 'ঈর্ষাপরায়ন' এর শুদ্ধ বানান- 'ঈর্ষাপরায়ণ'। 
• 'অনুকুল' এর শুদ্ধ বানান- 'অনুকূল'।
• 'অনাস্তা' এর শুদ্ধ বানান- 'অনাস্থা'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৩৪.
একটি সার্থক বাক্যের গুণ কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্য:
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখন্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।
- ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। যেমন-
(১) আকাঙক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

১. আকাঙক্ষা:
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙক্ষা। যেমন 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৩৩৫.
কোনটি নির্ভুল বাক্য
  1. ক) আদ্যাবধি তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি হয়নি
  2. খ) আদ্যবধি তার শারিরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
  3. গ) অদ্যবধি তার শারিরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
  4. ঘ) অদ্যাবধি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অদ্যাবধি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অদ্যাবধি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা যোগ করা হবে
৬,৩৩৬.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উল্লিখিত
  2. আইনজীবী
  3. উপরোক্ত
  4. জাদুঘর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- উপরোক্ত। 

• বানানটির  শুদ্ধ​রূপ- উপরিউক্ত।
 অর্থ: 
​- ওপরে বা পূর্বে বলা হয়েছে এমন, উপর্যুক্ত।

অন্যদিকে, 
- উল্লিখিত, আইনজীবী ও জাদুঘর বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৩৭.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
  2. শ্রবণের তর্জনগর্জন।
  3. বাজনার চেয়ে খাজনা বেশি।
  4. চোরে চোরে মাসতুত ভাই
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে মাসতুত ভাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে মাসতুত ভাই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: খারপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: লোভী বা স্বার্থান্বেষীর আশা সর্বদা পূরণ হয় না।

• খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি।

• আসারের তর্জনগর্জন।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩৮.
কোনটি সঠিক বাক্য?
  1. ছেলেটি ভয়নক মেধাবী।
  2. আগত শনিবার তারা যাবে।
  3. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  4. অন্যায়ের প্রতিফল ‍দুর্নিবার্য।
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য =দশচক্রে ভগবান ভূত।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য = ছেলেটি ভয়নক মেধাবী।
• শুদ্ধ বাক্য = ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

• অশুদ্ধ বাক্য = আগত শনিবার তারা যাবে।
• শুদ্ধ বাক্য = আগামী শনিবার তারা যাবে।

• অশুদ্ধ বাক্য = অন্যায়ের প্রতিফল ‍দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধ বাক্য = অন্যায়ের প্রতিফল ‍অনিবার্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৩৯.
নিচের কোন বানানটি ঠিক?
  1. ক) নূন্যতম
  2. খ) ন্যুনতম
  3. গ) ন্যূনতম
  4. ঘ) নূণ্যতম
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যূনতম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যূনতম
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে ন্যূনতম শব্দটি প্রমিত।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৬,৩৪০.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. চোরটা ধরা পড়েছে।
  2. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  4. আমাকে এখন যেতে হবে।
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৪১.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. কোলন-ড্যাশ
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যযতি নয়- কোলন-ড্যাশ। 

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৬,৩৪২.
মিশ্র বাক্যের অপর নাম কি?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) খণ্ড বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৬,৩৪৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধূলিসাৎ
  2. অণ্বেষণ
  3. উত্থ্যান
  4. তত্তজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ধূলিসাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিসাৎ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ধূলিসাৎ। 
- বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- মাটিতে পরিণত,
- ধুলায় পর্যবসিত,
- সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• অণ্বেষণ - অন্বেষণ। 
• উত্থ্যান - উত্থান। 
• তত্তজ্ঞান - তত্ত্বজ্ঞান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৪৪.
"গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।" - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

যেমন:
- খোকা বই পড়ে।
- মেয়েরা ফুল তোলে।
- গুণহীন চিরদিন থাকে পরাধীন।

• এখানে কে চিরদিন পরাধীন থাকে প্রশ্নের উত্তরে 'গুণহীন' পাওয়া যায় তাই গুণহীন কর্তৃকারক।
- 'গুণহীন' শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিযুক্ত হয়নি তাই শূন্যবিভক্তি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৩৪৫.
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে কী বলা হয়?
  1. ধ্বনি
  2. পদ
  3. বর্গ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - "সজল ও লতা বই পড়ে।" এটি একটি বাক্য।
পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উপরের বাক্যের 'সজল', 'লতা' ও 'বই' হলো বিশেষ্য, 'ও' হলো যোজক এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময়ে পদের মতো কাজ করে। তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সজল ও লতা' একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩৪৬.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক নিউমার্কেট গেছেন।
  2. আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
  3. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
  4. লোকটাকে পূর্ণচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।
সঠিক উত্তর:
আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
শুদ্ধ: আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।

অশুদ্ধ: লোকটাকে পূর্ণচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।
শুদ্ধ: লোকটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।

অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক নিউমার্কেট গেছেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক নিউমার্কেট গেছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৪৭.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. আরেকদিন
  2. সেদিন
  3. পরদিন
  4. অন্যদিন
সঠিক উত্তর:
পরদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরদিন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে-  'পরদিন'। 
--------------------------- 
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন: 
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উল্লেখ্য,
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকল্য' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- পূর্বদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,৩৪৮.
‘সবকটি জানালা খুলে দাও না’ বাক্যে ‘না” এর ব্যবহার-
  1. ক) নঞর্থক
  2. খ) অন্তার্থক
  3. গ) নিরর্থক
  4. ঘ) অলংকার সূচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলংকার সূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলংকার সূচক
ব্যাখ্যা
• অলংকার:
অলংকার শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- যার দ্বারা ভূষিত করা হয় বা সজ্জিত করা হয়। নারীদেহকে সুন্দর ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করবার জন্যে যেমন কানে দুল, গলায় হার, নাকে নোলক, হাতে চুড়ি, পায়ে মল ইত্যাদি অলংকার দ্বারা সজ্জিত করা হয়, তেমনি সাহিত্যের অঙ্গসৌষ্ঠবকে বৃদ্ধি করবার জন্যও বিভিন্ন অলংকার ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, কাব্যের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করবার জন্যে যা দ্বারা কাব্যকে সজ্জিত করা হয় তাই অলংকার।
অলংকারের কাজ সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি করা এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যেতনা আনয়ন।

• ‘সবকটি জানালা খুলে দাও না’ - প্রদত্ত বাক্যে ‘না’ শব্দটি বাক্যের সৌন্দর্যবর্ধন, আকর্ষণ সৃষ্টি এবং আবেগের প্রশান্তির দ্যেতনা আনয়ন করেছে।
[অতএব প্রদত্ত বাক্যে ‘না’ অলংকার সূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৩৪৯.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. ইলেক চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
ড্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাস
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':

যেমন:
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৩৫০.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. পরবর্তীকালে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
  2. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
  3. বিবিধ জিনিসপত্র কিনলাম।
  4. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
ব্যাখ্যা

• বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পরবর্তীকালে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।
শুদ্ধ: পরবর্তীতে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি।

অশুদ্ধ: বিবিধ জিনিসপত্র কিনলাম।
শুদ্ধ: বিবিধ জিনিস কিনলাম।

অশুদ্ধ: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৫১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শিরিষ
  2. শিরীষ
  3. শীরীষ
  4. শিরীস
সঠিক উত্তর:
শিরীষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরীষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'শিরীষ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √শৃ + ঈষ।
অর্থ: 
- ক্রান্তীয় অঞ্চলে বর্ষাকালে ফোটে এমন সাদা সুগন্ধ ফুল বা তার দীর্ঘ (২৫-৩০ মিটার উঁচু) ও সরল কাণ্ডবিশিষ্ট পত্রমোচী বৃক্ষ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক অভিধান।
৬,৩৫২.
গুরুচণ্ডালী দোষ কখন ঘটে?
  1. ক) দেশীয় শব্দের সঙ্গে বিদেশী শব্দের মিলনে
  2. খ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তদ্ভব শব্দের মিলনে
  3. গ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে অর্ধতৎসম শব্দের মিলনে
  4. ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলনে
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৫৩.
নিচের কোন গুচ্ছের সবগুলো বানানই সঠিক?
  1. পিপীলিকা, বিভীষিকা, নিপিড়ীত
  2. মুর্ছনা, অপিনিহিতি, কাহিনি
  3. সহকারী, সরকারি, প্রতীচী
  4. সমীচীন, শুশ্রুষা, তিতিক্ষা
সঠিক উত্তর:
সহকারী, সরকারি, প্রতীচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহকারী, সরকারি, প্রতীচী
ব্যাখ্যা

গ) তে প্রদত্ত সবগুলো শব্দের বানান শুদ্ধ।
অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ :
- নিপিড়ীত = নিপীড়িত
- মুর্ছনা = মূর্ছনা
শুশ্রুষা = শুশ্রূষা

উৎস: সংসদ বাংলা অভিধান।

৬,৩৫৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. পুরস্কার
  3. নমস্কার
  4. বহিস্কার
সঠিক উত্তর:
বহিস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিস্কার
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: বহিস্কার। 
শুদ্ধ: বহিষ্কার

---------------
বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার= বহিষ্কার)।

তবে স্ক/ স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প/ স্ত/ স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ /নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৫৫.
"সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।" যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. সে সাফল্য লাভ করেছে, যাতে সবাই খুশি হয়।
  2. সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।
  3. সে সাফল্য লাভ করেছে, যদিও সে চেষ্টা করেনি।
  4. সে সাফল্য লাভ করেছে কারণ সে চেষ্টা করেছে।
সঠিক উত্তর:
সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
যৌগিক বাক্য: সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৫৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) সারল্য
  2. খ) সাদৃশ্য
  3. গ) সামর্থ্য
  4. ঘ) সৌজনতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজনতা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা : সৌজন্য অথবা সুজনতা শুদ্ধ প্রয়োগ। 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,৩৫৭.
‘সৎপথে তার মতি হোক।’- কী ধনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগবাচক বাক্য
  2. বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. প্রশ্নবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬,৩৫৮.
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।' - বাক্যে 'রাজার' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৯.
'Carry coal to Newcastle' এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
  1. তেলা মাথায় তেল দেয়া।
  2. আপ ভালা তো জগৎ ভালা।
  3. তিলকে তাল করা।
  4. চাচা আপন প্রান বাঁচা।
সঠিক উত্তর:
তেলা মাথায় তেল দেয়া।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলা মাথায় তেল দেয়া।
ব্যাখ্যা
• 'Carry coal to Newcastle' এর সঠিক অনুবাদ - তেলা মাথায় তেল দেয়া

অন্যদিকে,
- চাচা আপন প্রাণ বাচা = Every man is for himself / Physicians heal thyself.
- আপ ভালা তো জগৎ ভালা = To the pure all things are pure.
- তিলকে তাল করা = To make a mountain of a molehill.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৬০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঈর্ষাপরায়ন
  2. ঈর্শাপরায়ণ
  3. ঈর্ষাপরায়ণ
  4. ঈর্ষাপরয়াণ
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষাপরায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষাপরায়ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ঈর্ষাপরায়ণ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
এর অর্থ:
- হিংসুটে;
- পরশ্রীকাতর;
- হিংসার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৬১.
নিচের কোন শব্দে ৎ এর ব্যবহার সঠিক নয়?
  1. খৎনা
  2. দণ্ডবৎ
  3. অভিজিৎ
  4. কিঞ্চিৎ
সঠিক উত্তর:
খৎনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খৎনা
ব্যাখ্যা

খৎনা শব্দে ৎ এর ব্যবহার সঠিক নয়।
শুদ্ধ বানান: খতনা।
• ৎ এর সঠিক ব্যবহার:

• শব্দের শেষাংশে যদি কৃৎ/চিৎ/জিৎ/বিৎ (বিদ) অথবা অৎ/বৎ/সাৎ থাকে তাহলে খন্ড-ত (ৎ) ব্যবহৃত হবে।
যেমন: পথিকৃৎ, সুকৃৎ, কিঞ্চিৎ, ক্বচিৎ, অভিজিৎ, বিশ্বজিৎ, সত্যজিৎ, জগৎ, মহৎ, পুত্রবৎ, যাবৎ, দণ্ডবৎ, ধূলিসাৎ ইত্যাদি।

• শব্দের শেষেও হবেই এমন আরো কিছু শব্দ:

অকস্মাৎ, অর্থাৎ, ঈষৎ, কদাচিৎ, কিঞ্চিৎ, কিয়ৎ, ক্বচিৎ, ক্ষুৎ, যকৃৎ, ছুঁৎ, জগৎ, তড়িৎ, তৎ, তাবৎ, দৈবাৎ, নচেৎ, নস্যাৎ, পথিকৃৎ, পরভৃৎ, পশ্চাৎ, বৃহৎ, ভবিষ্যৎ, মরুৎ, মহৎ, যকৃৎ, যৎ, যাবৎ, যুগপৎ, শরৎ, সৎ, সংবিৎ, সাক্ষাৎ, হঠাৎ, হরিৎ ইত্যাদি।

• শব্দের মধ্যাংশে ৎ আছে এমন কিছু শব্দ:
অকিঞ্চিৎকর, অনুসন্ধিৎসা, উৎপাত, উৎস, উৎসব, উৎসাহ, ঔৎসুক্য, কুৎসা, কুৎসিত, গণৎকার, চমৎকার, চিকিৎসা, চিৎকার, তৎপর, তাৎক্ষণিক, তাৎপর্য, ফুৎকার, বৎস, বৎসর, বীভৎস, ভৎসনা, মৎস্য, মৃৎপাত্র, সৎকার, সাক্ষাৎকার, হৃৎপিণ্ড।
শব্দের প্রথমে উৎ-উপসর্গ যোগ করে তৈরি-হওয়া কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে সন্ধির ফলে দ বাদ পড়ে যায়, সে উৎকট, উৎকণ্ঠা, উৎকর্ষ, উৎকলিত, উৎকীর্ণ, উৎকোচ, উৎক্ষিপ্ত, উৎখাত, উৎপত্তি, স্থানে ৎ চলে আসে। যেমন: উৎপাত, উৎপীড়ন, উৎসব, উৎসারণ, উৎসাহ, উৎসুক, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৬২.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড' - উক্তিটি কার?
  1. ক) এফ ই মেরিল
  2. খ) এইচ এম জনসন
  3. গ) পল সাঁত্রে
  4. ঘ) জন লক
সঠিক উত্তর:
খ) এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬৩.
কোনটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির উদাহরণ?
  1. ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক
  2. ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক সংজ্ঞা : যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- কারণ কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।
- সংসারে কল্যাণ দান কর। 
- গুরুজনে কর নতি।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও' - বাক্যে সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬৪.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. একত্রিত
  2. অধীনস্থ
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণায়মান
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৬৫.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
  2. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  3. বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

 • অপশনের সবগুলো বাক্য শুদ্ধ।

- শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- শুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৬৬.
নিচের কোনটি জটিল বা মিশ্র বাক্য?
  1. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
  2. যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
  3. আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
  4. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
সঠিক উত্তর:
যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে, 
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৬৭.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগের উদাহরণ?
  1. মধ্যাহ্ন
  2. অপরাহ্ন
  3. পূর্বাহ্নিক
  4. চীহ্নিত
সঠিক উত্তর:
মধ্যাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যাহ্ন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মধ্যাহ্ন,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [মধ্য+অহন্]
অর্থ: দিনের মধ্যভাগ, দুপুরবেলা, দ্বিপ্রহর।

⇒ অন্যান্য বানানের শুদ্ধরূপ হলো:

• অশুদ্ধ বানান - পূর্বাহ্নিক।
• শুদ্ধ বানান - পূর্বাহ্ণিক।
-  সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দিনের প্রথমভাগে করণীয়, পূর্বাহ্ণে করা উচিত এমন।

• অশুদ্ধ বানান - অপরাহ্ন।
• শুদ্ধ বানান - অপরাহ্ণ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় - [অপর+অহ্ণ]
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• অশুদ্ধ বানান - চীহ্নিত।
• শুদ্ধ বানান - চিহ্নিত।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [√চিহ্ন্+ত]
অর্থ: চিহ্ন দেওয়া হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৬৮.
‘নাসিমা ফুল তুলেছে' এটি কোন কারক?
  1. ক) অধিকরণ
  2. খ) অপাদান
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) সম্প্রদান
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ম
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

• উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ফুল'। 
অর্থাৎ বাক্যে 'ফুল' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)। 
৬,৩৬৯.
'লোকটি গরিব, কিন্ত শিক্ষিত।' বাক্যটির সরলরূপ-
  1. লোকটি গরিব ও শিক্ষিত।
  2. লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত।
  3. যদিও লোকটি গরিব, তবুও সে শিক্ষিত।
  4. গরিব লোকটি শিক্ষিত।
সঠিক উত্তর:
লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত।
ব্যাখ্যা
- যৌগিক বাক্য: 'লোকটি গরিব, কিন্ত শিক্ষিত।'
- সরল বাক্য: লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত। 

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:

- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন-
- যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
- সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

- যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
- সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৩৭০.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  2. ক্ষমা একটি মহানগুণ।
  3. ছেলেটি অস্থির মেধাবী।
  4. মেয়েটি স্বয়ংবরা।
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি স্বয়ংবরা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি স্বয়ংবরা।
ব্যাখ্যা

- শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে মেয়েটি স্বয়ংবরা।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি অস্থির মেধাবী।
শুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

অশুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ বাক্য: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহানগুণ।
শুদ্ধ বাক্য: ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৭১.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) যথোপযুক্ত
  2. খ) যথাযোগ্য
  3. গ) অশ্রুজল
  4. ঘ) অশ্রুমান
সঠিক উত্তর:
গ) অশ্রুজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অশ্রুজল
ব্যাখ্যা

অশ্রু (বিশেষ্য) - চোখের পানি; নয়ন জল; নেত্রবারি।
অশ্রুআঁখি, অশ্রুচোখ (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ আঁখি বা চোখ।
অশ্রুমান (বিশেষ্য) - অশ্রুপূর্ণ; অশ্রুযুক্ত।

যথোপযুক্ত ও যথাযোগ্য - শব্দ দুটির প্রয়োগও শুদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৬,৩৭২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) ইতোমধ্যে
  2. খ) ইতিমধ্যে
  3. গ) ইতঃমধ্যে
  4. ঘ) ইতোঃমধ্যে
সঠিক উত্তর:
ক) ইতোমধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইতোমধ্যে
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ইতোমধ্যে (ক্রিয়া বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ইতঃ+মধ্য+অ।
অর্থ:
- ইত্যবসরে,
- এর মধ্যে।

উৎস: বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৭৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. খ) সমীচীন
  3. গ) সাক্ষরতা
  4. ঘ) ভূবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূবন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে-
- ভূবন বানানটি সঠিক নয়।
- 'ভুবন' বানানটি শুদ্ধ। 

• ভুবন (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ ভূ + অন  
অর্থ: পৃথিবী, জগৎ। 

•  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে:
শ্রদ্ধাঞ্জলি, সমীচীন, সাক্ষরতা বানান গুলো সঠিক।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৭৪.
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে' — এই বাক্যাংশটিতে কীসের অভাব আছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৭৫.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তোমার কাজে আমি সন্তোষ হলাম।
  2. তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
  3. তোমার কাজে আমি সন্তোষজনক হলাম। 
  4. তোমার কাজে আমি সন্তোষ্ট হলাম। 
সঠিক উত্তর:
তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
ব্যাখ্যা

তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম- বাক্যটি শুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষণ পদ (সন্তুষ্ট) সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------
অন্যদিকে,
- "তোমার কাজে আমি সন্তোষ হলাম।"- বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষ্য পদ (সন্তোষ) ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

- “তোমার কাজে আমি সন্তোষজনক হলাম।"- ভুল, কারণ ‘সন্তোষজনক’ কাজ বা বস্তুর গুণ বোঝায়, কিন্তু ব্যক্তি নিজে সন্তোষজনক না হয়ে ‘সন্তুষ্ট’ হন।

 - “তোমার কাজে আমি সন্তোষ্ট হলাম।"- বাক্যটি বানানজনিত কারনে ভুল। সন্তোষ্ট' বানানটি ভুল। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,৩৭৬.
বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. লোপ চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. কমা
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।

কমা (,):
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
সেতু, পড়তে বসো।
বিধু, খাবে এসো।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

৪. একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে।
যেমন:
শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন।

৫. বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
মা বললেন, "অঙ্ক করতে বসো।"
আমি বললাম, "গল্পের বই পড়তেই ভালো লাগছে।"

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৩৭৭.
'নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৩৭৮.
বিরতি কাল অনুসারে নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. কোলন ড্যাস চিহ্ন
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৭৯.
"ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।" - বাক্যে 'বলের' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,৩৮০.
"A stich in time saves nine" - বাক্যটির বঙ্গানুবাদ কি হবে?
  1. যেমন কর্ম তেমন ফল
  2. বিপদ একা আসে না
  3. সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়
  4. সবুরে মেওয়া ফলে
সঠিক উত্তর:
সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়
ব্যাখ্যা
" A stich in time saves nine" - বাক্যটির বঙ্গানুবাদ হবে - 'সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়'।

অন্যদিকে,
- সবুরে মেওয়া ফলে - All things come to him who waits.
- বিপদ একা আসে না - Misfortune never comes alone.
- যেমন কর্ম তেমন ফল - As you sow, so you reap.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৮১.
‘আকাশে মেঘ আছে।’ - এ বাক্যে 'আকাশে' কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• ‘আকাশে মেঘ আছে।’- এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - আকাশে।
তাই ‘আকাশে’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৩৮২.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. ক) কল্যানীয়েসু
  2. খ) কল্যাণীয়েষু
  3. গ) কল্যাণিয়েষু
  4. ঘ) কল্যানিয়েসু
সঠিক উত্তর:
খ) কল্যাণীয়েষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কল্যাণীয়েষু
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
কল্যাণীয়েষু (বিশেষ্য) বানানটি সঠিক। 

কল্যাণীয়েষু শব্দের অর্থ-
বয়ঃকনিষ্ঠের নিকট লিখিত সম্বোধনের পাঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৬,৩৮৩.
কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. বিকিরন, অতিথি, তিতিক্ষা
  2. শুশ্রুষা, নিশীথ, মুহূর্ত
  3. সমীচীন, মহীয়সী, মনীষি
  4. অপিনিহিতি, মুহুর্মুহু, নিশীথিনী
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি, মুহুর্মুহু, নিশীথিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি, মুহুর্মুহু, নিশীথিনী
ব্যাখ্যা

প্রথম গুচ্ছের অশুদ্ধ বিকিরন শব্দের শুদ্ধরূপ বিকিরণ
দ্বিতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ শুশ্রুষা শব্দের শুদ্ধরূপ শুশ্রূষা
তৃতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ মনীষি শব্দের শুদ্ধরূপ মনীষী
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান

৬,৩৮৪.
'আমি যে গান গাই, তা যৌবনের গান।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

• 'আমি যে গান গাই, তা যৌবনের গান।'- বাক্যটি একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,৩৮৫.
শুদ্ধ বানান - 
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদীপ্যমান
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদিপ্যমাণ
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - দেদীপ্যমান

- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বানান অভিধান।

৬,৩৮৬.
স্নেহভাজন পুরুষকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-
  1. কল্যাণীয়াসু
  2. শ্রদ্ধাভাজনাসু
  3. শ্রদ্ধাস্পদাসু
  4. সুচরিতেষু
সঠিক উত্তর:
সুচরিতেষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুচরিতেষু
ব্যাখ্যা
• শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের লিখিত পত্রের সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, সুচরিতেষু, প্রীতিভাজন ইত্যাদি।

• শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহভাজন নারীদের লিখিত পত্রের সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৩৮৭.
'উৎকৃষ্টতা' শব্দটির বানান ভুল কেন?
  1. সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ
  2. সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ
  3. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
  4. বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- 'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- যেমন: 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম- 
• 'উৎকৃষ্ট' বিশেষণ পদ। আর ‘তা’ প্রত্যয় যোগে 'উৎকৃষ্ট' শব্দের বিশেষ্য পদ ‘উৎকৃষ্টতা’ শব্দটি গঠিত হয়।এখানে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৮৮.
‘পরীক্ষায় সফল হও’। এটি কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) ইচ্ছাসূচক
  2. খ) আদেশসূচক
  3. গ) বিবৃতিসূচক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
ক) ইচ্ছাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইচ্ছাসূচক
ব্যাখ্যা
- অর্থানুসারে বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

• বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘােরে।
লােকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

• প্রশ্নবােধক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
তুমি কি লােকটিকে চিন? সে কি আজ বাড়ি যাবে?
তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরােধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
যেমন-
আদেশ: এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করাে না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করাে না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।

• ইচ্ছাসূচক বাক্য:
এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস্, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যেমন-
তােমার মঙ্গল হােক।
পরীক্ষায় সফল হও।

• বিস্ময়সূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন - 'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৩৮৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. চুন
  2. মুলো
  3. পুজো
  4. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

(ই, উ) ব্যবহারের নিয়ম:
সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন হিসেবে 'কি-কার' ও '-কার' ব্যবহৃত হবে।

যেমন:
ই:
আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইমান, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, দিদি, নানি নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

উ: চুন, পুজো, পুব, মুলা, মুলো

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৩৯০.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নিরভিমানী
  2. নিরহঙ্কার
  3. অর্ধরাত্র
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘নিরভিমানী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরভিমান।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৯১.
কোন পদরূপে 'কি' শব্দটি লিখতে ঈ-কার ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে।
যেমন:
- এটা কী বই?
- কী আনন্দ!
- কী আর বলব?
- কী করছ?
- কী করে যাব?
- কী খেলে?
- কী জানি?

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,৩৯২.
'লোকে কিনা বলে' - বাক্যের 'লোক' শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
  1. ক) -তে বিভক্তি
  2. খ) -রে বিভক্তি
  3. গ) -এ বিভক্তি
  4. ঘ) -কে বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) -এ বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) -এ বিভক্তি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে -এ বিভক্তি বসেছে।
- এখানে লোক + এ = লোকে শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

• বিভক্তি: 
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বুঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সাথে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- যেমন: -তে, -রে, -এ, -কে, -য়, -য়ে, -য়ের, -এর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৯৩.
'গুরুজনে কর নতি' এখানে 'গুরুজনে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
সংজ্ঞা: কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন:
- সেলিম বই পড়ে-
[এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।]

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম।
১ . মুখ্য কর্ম: কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয়
মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।
২. গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম। যেমন- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল। এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।

এরূপ-
• গুরুজনে কর নতি। 
[এ বাক্যের কর্ম হলো 'গুরুজন'। কারণ গুরুজনকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে। সুতরাং গুরুজনে কর্মকারক কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯৪.
'বাহ্যিক' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. সন্ধিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'বাহ্যিক' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক।
• একত্রিত - একত্র।
• পুজ্য - পূজ্য।
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৯৫.
'যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে' এটি একটি-
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. অনুজ্ঞা বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। এখানে আশ্রিত বাক্য‌ 'যে পরিশ্রম করে' এবং প্রধান খণ্ডবাক্য 'সে-ই সুখ লাভ করে।'
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৯৬.
কোনটি অপাদান কারক?
  1. জমি থেকে ফসল পাই।
  2. রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
  3. কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল
  4. ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
সঠিক উত্তর:
জমি থেকে ফসল পাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমি থেকে ফসল পাই।
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল। 
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৯৭.
আবেগসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
  2. কী সাংঘাতিক লোক!
  3. এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
  4. যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক লোক!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক লোক!
ব্যাখ্যা

• আবেগসূচক বাক্য: কী সাংঘাতিক লোক!

• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে? 
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো। 

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৩৯৮.
নিচের কোন বিরাম চিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাস
  3. হাইফেন
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন।
- হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
- হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন-
সোনা-রূপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৩৯৯.
কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। এখানে ‘কুসুম কলি’ কোন কারক ও কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. করণে দ্বিতীয়া
  4. অপাদানে দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)
----------------
বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভক্তি অনুসারে কর্তা তিন রকম হতে পারে।
যথা:
১.কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মের প্রাধান্যসূচক বাক্যে): পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
২. ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্য): আমার যাওয়া হবে না।
৩. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা ( বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়): বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।

=============
কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা অনুসারে দেখা যায় এখানে 'কুসুম কলি' নিজেই কর্তার মতো আচরণ করছে।
আবার কুসুম কলিতে শূন্য বিভক্তি যুক্ত আছে। 
তাই বলা যায়, 'কুসুম কলি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৪০০.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. সরোজিনী
  2. সরোবর
  3. সরোজে
  4. সরলরেখা
সঠিক উত্তর:
সরোজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরোজে
ব্যাখ্যা
• 'সরোজ' অর্থ- পদ্ম, কমল, অম্বুজ, অরবিন্দ, রাজীব, উৎপল, কুমুদ।
- 'সরোজ' শব্দে 'এ' বিভক্তিযুক্ত হয়ে 'সরোজে' শব্দটি গঠিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
সরোজিনী, সরোবর ও সরলরেখা বিভক্তিহীন শব্দ। 

----------------
• বিভক্তি:

যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।