বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৩ / ৬৯ · ৬,২০১৬,৩০০ / ৬,৯৫৩

৬,২০১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভারসাম্যতা
  2. কৃপণতা
  3. স্বাতন্ত্র্যতা
  4. সৌজন্যতা
সঠিক উত্তর:
কৃপণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃপণতা
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা।
বাহুল্যতা - বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা - বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা - বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।  
ভারসাম্যতা - ভারসাম্য, ভারসমতা। 
সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২০২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আজকের সন্ধ্যা বড়ই মনমুগদ্ধকর।
  2. জাদুঘরে কিন্তু জাদু দেখানো হয় না।
  3. তপ্ত ভাতে নুন জোটে না, ঠাণ্ডা ভাতে ঘি।
  4. বাংলা বানান আয়ত্ব করা কঠিন নয়।
সঠিক উত্তর:
জাদুঘরে কিন্তু জাদু দেখানো হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাদুঘরে কিন্তু জাদু দেখানো হয় না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: জাদুঘরে কিন্তু জাদু দেখানো হয় না

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- আজকের সন্ধ্যা বড়ই মনোমুগ্ধকর। 
- বাংলা বানান আয়ত্ত করা কঠিন নয়।
- তপ্ত ভাতে নুন জোটে না, পান্তা ভাতে ঘি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মনোঃমুগ্ধকর
  2. মনোমুগ্ধঃকর
  3. মনমুগ্ধকর
  4. মনোমুগ্ধকর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মনোমুগ্ধকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোমুগ্ধকর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- মনোমুগ্ধকর।

• মনোমুগ্ধকর শব্দের অর্থ:
- মনকে মোহিত করে এমন,
- মনোজ্ঞ।

বাক্য: বর্ষার রূপ ভারি মনোমুগ্ধকর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২০৪.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  3. গাছটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে। 
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে। 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: গাছটি সমূল / মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে। 

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২০৫.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
  2. সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
  3. মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  4. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২০৬.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
  2. আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
  3. আজকাল বিদ্যান মেয়ের অভাব নেই।
  4. আমার বড় দুরাবস্থা। 
সঠিক উত্তর:
আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার আর বাঁচার সাধ নাই।
ব্যাখ্যা

• 'আমার আর বাঁচার সাধ নাই।' বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: আমার বড় দুরাবস্থা। 
- শুদ্ধ: আমার বড় দুরবস্থা।

- অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
- শুদ্ধ: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

- অশুদ্ধ: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
- শুদ্ধ: দৈন্য/ দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,২০৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) কনিষ্ঠ
  2. খ) কণিষ্ঠ
  3. গ) কনিষ্ট
  4. ঘ) কণিষ্ট
সঠিক উত্তর:
ক) কনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা

কনিষ্ঠ [কোনিশ্‌ঠো] (বিশেষণ)
১ সকলের ছোট (কনিষ্ঠ পুত্র)।
২ বয়সে ছোট (বয়ঃকনিষ্ঠ)।
৩ অনুজ (কনিষ্ঠ ভ্রাতা)।

কনিষ্ঠা (বিশেষণ) (স্ত্রীলিঙ্গ)
১ সকলের ছোট।
২ বয়সে ছোট।
৩ অনুজা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬,২০৮.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' বাক্যটিতে কোন গুণটি নেই?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২০৯.
শুদ্ধ বানান- 
  1. পুঙ্খানুপঙ্খ
  2. পুঙ্খানুপুক্ষ
  3. পুঙ্খানপুঙ্খ
  4. পুঙ্খানুপুঙ্খ
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'পুঙ্খানুপুঙ্খ'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

• 'পুঙ্খানুপুঙ্খ' অর্থ:
- তন্নতন্ন,
- সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২১০.
নিচের কোনটি বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন?
  1. দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. প্রশ্নবোধকচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন প্রভৃতি।

- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২১১.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো- 

• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
• শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

• অশুদ্ধ: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
• শুদ্ধ বাক্য: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২১২.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. সমূলসহ
  2. নিরপরাধী
  3. দুরাদৃষ্ট
  4. লঘিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
লঘিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লঘিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• 'লঘিষ্ঠ' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'দুরাদৃষ্ট' শব্দটির সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: দুরদৃষ্ট।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সমূলসহ'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সমূল / মূলসহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২১৩.
'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  3. কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
 
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
----------------------------------------
• 'বাবা বাড়িতে আছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 
এই বাক্যে 'বাড়িতে' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই এটিই অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।   
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২১৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আয়ত্ব
  2. খ) আয়ত্য
  3. গ) আয়ত্ত
  4. ঘ) আয়ত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) আয়ত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়ত্ত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = আয়ত্ত 
আয়ত্ত (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√যত্‌+ত 
অর্থ: 
- অধিকার, কবল
- সামর্থ্য

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২১৫.
‘ঘোড়া গাড়ি  টানে’ কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• ‘ঘোড়া গাড়ি টানে’ - কর্মকারক

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- ঘোড়া গাড়ি টানে

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে কী / কাদের/ কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যা উত্তর আসে তাই কর্মকারক।
- 'ঘোড়া গাড়ি টানে।' - এখানে 'ঘোড়া কী টানে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাড়ি'। তাই 'গাড়ি' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অধ্যায়ন
  2. পিপীলিকা
  3. ভাগীরথী
  4. ভৌগোলিক
সঠিক উত্তর:
অধ্যায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যায়ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অধ্যায়ন
- এর শুদ্ধ বানান - অধ্যয়ন।
- ‘অধ্যয়ন’ শব্দের অর্থ - অভিনিবেশ সহকারে পাঠ।

অন্যদিকে,
• পিপীলিকা, ভাগীরথী, ভৌগোলিক - বানাগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২১৭.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একতা
  2. কৃপণতা
  3. দীনতা
  4. আলস্যতা
সঠিক উত্তর:
আলস্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলস্যতা
ব্যাখ্যা

• 'আলস্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: আলস্য, অলসতা।

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২১৮.
কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গনিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২১৯.
গঠনগতভাবে বাক্য কয় প্রকার?
  1. ছয় প্রকার
  2. পাঁচ প্রকার
  3. দুই প্রকার
  4. তিন প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।

• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (নতুন সংস্করণ)।
৬,২২০.
তোমার তো সতের মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না। - এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত
  2. খ) পদবিন্যাসের ত্রুটি
  3. গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত
ব্যাখ্যা

- তোমার তো সতের মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না। - এই বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

এর শুদ্ধরূপ হবেঃ তোমার তো আঠার মাসে বছর, কোন কাজই তাড়াতাড়ি করতে পারো না।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২২১.
শুদ্ধরূপে লেখা কোনটি?
  1. আদ্যক্ষর 
  2. আদ্যাক্ষর 
  3. আদ্যাখর 
  4. অদ্যাক্ষর 
সঠিক উত্তর:
আদ্যাক্ষর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদ্যাক্ষর 
ব্যাখ্যা
 শুদ্ধ বানানে লেখা - আদ্যাক্ষর
এর অর্থ প্রথম অক্ষর 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান , বাংলা একাডেমি ]
৬,২২২.
সঠিক বাক্যটি নির্ণয় করুন।
  1. ক) তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন
  2. খ) সে সভায় উপস্থিত ছিলেন
  3. গ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়
  4. ঘ) তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন
ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্য -
তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন
তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতুহল ভালো নয়
তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২২৩.
Question (11-20): Choose the correct answer.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. ক) উপলক্ষ্য
  2. খ) লক্ষ্যণীয়
  3. গ) সৌন্দর্যতা
  4. ঘ) সুবুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
ক) উপলক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপলক্ষ্য
ব্যাখ্যা
উপলক্ষ্য- শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 

• সৌন্দর্যতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধ রূপ: সৌন্দর্য, সুন্দরতা। 

লক্ষ্যণীয় বানানজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: লক্ষণীয়। 

সুবুদ্ধিমান- অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বুদ্ধিমান। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৬,২২৪.
LIST :
  1. be upside down
  2. be upright
  3. slide backward
  4. sway to and fro
  5. lie - flat
সঠিক উত্তর:
be upright
উত্তর
সঠিক উত্তর:
be upright
ব্যাখ্যা

LIST - কাত হয়ে যাওয়া।

be upright - ঋজু; অবক্র; সোজা; সিধা; সরল; খাড়া।

৬,২২৫.
নিচের কোন যতিচিহ্নে ১ বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

বাংলায় কোন কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কমা ( , )।
বাক্যের ভিতর বিরাম চিহ্ন হলো কমা।

 বিভিন্ন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের সময় কাল ভিন্ন। যেমন:
- কমা (,) বিরামের সময় - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন (;) বিরামের সময় - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- বিস্ময়চিহ্ন (!) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি (।) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন (:) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- ড্যাস (−)বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- হাইফেন (-) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই।
- উদ্ধরণ চিহ্ন - 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
- কোলন ড্যাশ (:-) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৬,২২৬.
‘রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।' বাক্যটিতে 'নজরুল’ - শব্দটির কারক ও বিভক্তি কোনটি?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্মে প্রথমা
  3. করণে প্রথমা
  4. অধিকরণে প্রথমা
সঠিক উত্তর:
কর্মে প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে প্রথমা
ব্যাখ্যা
• ‘রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।' বাক্যটিতে 'নজরুল’ - শব্দটি কর্মে প্রথমা। 

কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক।
যেমন -
সেলিম বই পড়ে।
এ বাক্যের কর্ম হলাে 'বই'। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়ােগে)

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: তাকে বল।
রে বিভক্তি: ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।'

গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: তােমার দেখা পেলাম না।

ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি : 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৭.
একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কোন বাক্য গঠন করে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

• জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

• যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২২৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ ?
  1. অনূদিত
  2. নিক্বণ
  3. শ্বাশত
  4. দৌরাত্ম্য
সঠিক উত্তর:
শ্বাশত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাশত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'শ্বাশত' বানানটি অশুদ্ধ।

• 'শ্বাশত' এর শুদ্ধ বানান : 'শাশ্বত'।

• শাশ্বত (বিশেষণ) : 
- শুদ্ধ উচ্চারণ : শাশ্‌শতো।
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = 'শশ্বৎ+অ'। 
অর্থ: নিত্য, অবিনশ্বর, চিরন্তন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,২২৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. তোষক 
  2. তোশক 
  3. তোসক 
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
তোশক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোশক 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- তোশক।
- সঠিক উচ্চারণ: তোশোক্‌। 
- এটি একটি ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- বিছানায় চাদরের নিচে পাতা হয় এমন তুলা কৃত্রিম স্পঞ্জ প্রভৃতির তৈরি গদিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬,২৩০.
'আমাকে যেতে হবে'। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তায় ২য়া
  2. খ) কর্মে ২য়া
  3. গ) অপাদানে ২য়া
  4. ঘ) অধিকরণে ২য়া
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তায় ২য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তায় ২য়া
ব্যাখ্যা
আমাকে যেতে হবে” বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি- কর্তৃকারকে/কর্তাকারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 
- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তির 
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তির 
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৩১.
"পুরান চাল ভাতে বাড়ে।"- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. অর্থ ও বচনের 
  2. বানান ও প্রত্যয়ের 
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বিভক্তির
সঠিক উত্তর:
বানান ও বিভক্তির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান ও বিভক্তির
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বিভক্তির।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “পুরান চাল ভাতে বাড়ে।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বিভক্তি সংক্রান্ত।

এখানে ভুল হয়েছে দুই জায়গায়:

১. বানানের ভুল- "পুরান" ভুল বানান।
সঠিক বানান: পুরাণ (তৎসম শব্দ, অর্থ: পুরাতন/পুরোনো)। বাংলা একাডেমি অভিধান ও প্রমিত বানানে "পুরাণ"ই সঠিক।

২. বিভক্তির ভুল "পুরাণ চালে" এবং "ভাত বাড়ে"  হবে সঠিক রূপ।

এখানে বলা উচিত:
পুরাণ চালে ভাত বাড়ে।

সঠিক বাক্য: "পুরাণ চালে ভাত বাড়ে।" (অর্থ: পুরোনো চাল রান্না করলে ভাতের পরিমাণ বেশি হয়।)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৩২.
'লোকে কিনা বলে।' - এখানে 'লোক' শব্দের সাথে কোন বিভক্তি যুক্ত আছে?
  1. তৃতীয়া বিভক্তি
  2. পঞ্চমী বিভক্তি
  3. ষষ্ঠী বিভক্তি
  4. সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'লোকে কিনা বলে।' - এখানে 'লোক' শব্দের সাথে সপ্তমী "এ" বিভক্তি যুক্ত আছে।

বিভক্তি:
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।

যথা:
প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৩৩.
নিচের কোন বাক্যে কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ রয়েছে?
  1. ক) রাখাল গরু চড়ায়।
  2. খ) মামাকে ডাকতে হবে।
  3. গ) রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।
  4. ঘ) আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।
ব্যাখ্যা
• মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- রাখাল গরু চড়ায়।- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- মামাকে ডাকতে হবে।- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।- কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।-  কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৬,২৩৪.
নিচের কোনটি ভুল শব্দ?
  1. অঙ্গন
  2. শশী
  3. সূক্ষ্ম
  4. ব্রক্ষ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্রক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রক্ষ
ব্যাখ্যা
'ব্রক্ষ' শব্দটি ভুল। সঠিক বানান হলো: ব্রহ্ম (ব্‌ + র + হ্‌ + ম্)।

অন্য অপশনগুলো সঠিক।
যেমন - 
ক) অঙ্গন - সঠিক বানান (উঠান/প্রাঙ্গণ অর্থে);
খ) শশী - সঠিক বানান (চাঁদ অর্থে);
গ) সূক্ষ্ম - সঠিক বানান (সূক্ষ্ম = মিহি/ক্ষুদ্র অর্থে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৩৫.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘বহুল’ এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কর্মবহুল
  2. ব্যয়বহুল
  3. বিলাসবহুল
  4. বহুলপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
'বহুলপ্রয়োগ' শব্দটিতে - 'বহুল' শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৩৬.
বাচ্য বলতে কোনটিকে বোঝায়?
  1. ক) বাক্যের অর্থ
  2. খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
  3. গ) বাক্যের ভাব
  4. ঘ) বাক্যের প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্যের প্রকাশভঙ্গি
ব্যাখ্যা
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। 
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। 
ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। 
 
যেমন:
সে বাজারে যায়।
সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
উপরের প্রথম বাক্যে 'যায়' ক্রিয়াটি 'সে' কর্তার অনুসারী। 
দ্বিতীয় বাক্যে 'করা হয়েছে' ক্রিয়াটি 'সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী। 
তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য।
 
 প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ। 
৬,২৩৭.
শব্দ সংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. বিন্দু
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু
  4. সেমিকোলন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
ব্যাখ্যা

বিন্দু (.):
- শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।
- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।
যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,২৩৮.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিপীড়িত
  2. নিরীহ্মণ
  3. উল্লিখিত
  4. নির্নিমেষ
সঠিক উত্তর:
নিরীহ্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরীহ্মণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ‘নিরীক্ষণ’ শব্দটি বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘নিরীক্ষণ’ অর্থ: যত্ন সহকারে অবলোকন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্ + √লিখ্ +ত,
যার অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বোক্ত।

• শুদ্ধ বানান: নির্নিমেষ। 
- এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় = নির্ + নিমেষ,
- অর্থ: নিমেষহীন, পলকহীন।

• শুদ্ধ বানান: নিপীড়িত (বিশেষণ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ:
- নির্যাতিত,
- নিগৃহীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৩৯.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. ঊর্ধ্ব
  2. মূর্চ্ছা
  3. অর্জন
  4. কার্য
সঠিক উত্তর:
মূর্চ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্চ্ছা
ব্যাখ্যা

 প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• মূর্চ্ছা- বানানটি অশুদ্ধ । 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন:
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কার্ত্তিক,  কর্ম্ম, মূর্চ্ছা, কার্য্য  ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কার্তিক, কর্ম, মূর্ছা, কার্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,২৪০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অপরাহ্ন
  2. খ) অহরাত্রি
  3. গ) অধ্যাবসায়
  4. ঘ) দুষ্কৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুষ্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুষ্কৃতি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - দুষ্কৃতি (দুশ্কৃতি)
- সংস্কৃতি শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - দুঃ+√কৃ+তি
অর্থ: পাপ, দুর্ভাগ্য, দুষ্কর্ম ইত্যাদি।

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ-অধ্যবসায় (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অধি+অব+√সো+অ
অর্থ:
- অবিরাম সাধনা,
- নিবিড় প্রযত্নঅহোরাত্র (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অহন্‌+রাত্রি
অর্থ: এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত কালপর্ব।অপরাহ্ণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- অপর+অহ্ণ
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

উৎস: আধুনিক বাংলা ভাষার অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২৪১.
একটি বাক্যের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
খ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যের ২টি অংশ থাকে। যথা-উদ্দেশ্য ও বিধেয়। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৪২.
শুদ্ধ বানান -
  1. কান্ড 
  2. কুর্ণিশ
  3. বেণু
  4. মনিকা
সঠিক উত্তর:
বেণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেণু
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- বেণু।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: কান্ড।
- শুদ্ধ: কাণ্ড।

- অশুদ্ধ: কুর্ণিশ।
- শুদ্ধ: কুর্নিশ।

- অশুদ্ধ: মনিকা।
- শুদ্ধ: মণিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২৪৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অশরীরী
  2. অশিরিরী
  3. অশরীরি
  4. অশরিরি
সঠিক উত্তর:
অশরীরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশরীরী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অশরীরী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: ন + শরীর + ইন্‌।
এর অর্থ:
- দেহহীন,
- কায়াহীন,
- নিরাকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৪৪.
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, ‘তার মানে তুমি একটা ___।’ এ বাক্যে শূন্যস্থানে যে যতিচিহ্নের ব্যবহার হবে তার নাম –
  1. ক) ইলেক
  2. খ) ত্রিবিন্দু
  3. গ) বিন্দু
  4. ঘ) সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা
শূন্যস্থানে ত্রিবিন্দুর  ব্যবহার হবে।

কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন - 
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা … ।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
৬,২৪৫.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) জাজ্বল্যমান
  2. খ) জন্মবার্ষিক
  3. গ) জ্ঞাতার্থে
  4. ঘ) অবগতির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
ব্যাখ্যা
'জ্ঞাতার্থে' - অপপ্রয়োগ এর উদাহরণ।

এখানে,
জ্ঞাতার্থে শব্দটি বহুল প্রচলিত হলেও ব্যাকরণসম্মত নয়।
জ্ঞাত + অর্থে = জ্ঞাতার্থে; এভাবে নিষ্পন্ন হলে শব্দটি অর্থহীন হয়ে যায়। 
তাই অবগতির জন্য লিখতে হবে, জ্ঞাতার্থে নয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,২৪৬.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. অকিঞ্চন
  2. অধস্তন
  3. বাধ্যগত
  4. ন্যক্কারজনক
সঠিক উত্তর:
বাধ্যগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাধ্যগত
ব্যাখ্যা
• উত্তর: গ) বাধ্যগত।

• কারণ:
'বাধ্যগত' শব্দটি অশুদ্ধ।

• 'বাধ্য' বিশেষণবাচক শব্দের অর্থ - অনুগত। ফলে, 'বাধ্য' শব্দের সঙ্গে 'গত' যোগ করে নতুন করে বিশেষণ করার দরকার নেই। তাই, 'আপনার বাধ্যগত'- এর পরিবর্তে 'আপনার অনুগত' লেখা উচিত।
শুদ্ধ শব্দ হবে 'বাধ্য'।

• 'বাধ্যগত' বলে কোনো শুদ্ধ শব্দ বাংলা অভিধানে নেই।

• সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) বাধ্যগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ - ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,২৪৭.
কোন বাক্যে 'মাথা' শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত?
  1. ক) তিনিই সমাজের মাথা
  2. খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  3. গ) লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
  4. ঘ) মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
সঠিক উত্তর:
খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
ব্যাখ্যা

তিনিই সমাজের মাথা-নেতা অর্থে
মাথা খাটিয়ে কাজ করবে- বুদ্ধি অর্থে
লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল-সম্মানহানি অর্থে
মাথা নেই তার মাথা ব্যথা- গুরুত্ব না দেয়া অর্থে
উৎসঃ ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ।

৬,২৪৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অপাদমস্তক
  2. আপদমস্ত
  3. আপাদমস্তক
  4. আপদমস্তক
সঠিক উত্তর:
আপাদমস্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপাদমস্তক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'আপাদমস্তক'
- সংস্কৃত শব্দ।
- ক্রিয়া বিশেষণ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: আপাদ + মস্তক।
  অর্থ:
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৪৯.
বাংলা বাক্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) অর্থ সংগতি
  2. খ) অন্য পদের আকাঙ্ক্ষা না থাকা
  3. গ) পদগত অন্বয়
  4. ঘ) অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম।

ব্যাখ্যা: বাংলা বাক্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য হলো:

অর্থসংগতি (ক): বাক্যের অর্থ স্পষ্ট এবং বোধগম্য হতে হবে।
অন্য পদের আকাঙ্ক্ষা না থাকা (খ): বাক্য সম্পূর্ণ হতে হবে, অর্থাৎ কোনো পদের অপেক্ষায় থাকা যাবে না।
পদগত অম্বয় (গ): বাক্যের পদগুলোর মধ্যে সঠিক সংযোগ ও সম্পর্ক থাকতে হবে।

কিন্তু অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম (ঘ) বাংলা বাক্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়। বাংলা ভাষায় পদক্রম তুলনামূলকভাবে নমনীয়। যেমন, "আমি ভাত খাই" এবং "ভাত খাই আমি" উভয়ই বৈধ বাক্য, যদিও অর্থের ওপর ভিত্তি করে পদক্রমের প্রভাব পড়তে পারে। তাই পদক্রম অপরিবর্তনযোগ্য নয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।

৬,২৫০.
সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি-
  1. ক) গ্রহনীয়
  2. খ) প্রাসঙ্গিক
  3. গ) বর্জনীয়
  4. ঘ) যৌক্তিক
সঠিক উত্তর:
গ) বর্জনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বর্জনীয়
ব্যাখ্যা
সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি- 'বর্জনীয়'।  

• সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:

ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়। সারাংশে প্রত্যক্ষ উক্তি বর্জন করতে হবে। 
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৫১.
কোন বানানটি প্রমিত?
  1. সদ্যেজাত
  2. শূণ্য
  3. মধ্যাহ্ণ
  4. নৈর্ঋত
সঠিক উত্তর:
নৈর্ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈর্ঋত
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = নৈর্ঋত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মধ্যবর্তী কোণ।
- রাক্ষসবিশেষ।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ =সদ্যেজাত;
• শুদ্ধ =সদ্যোজাত;

• অশুদ্ধ = শূণ্য;
• শুদ্ধ = শূন্য;

• অশুদ্ধ = মধ্যাহ্ণ;
• শুদ্ধ = মধ্যাহ্ন;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৫২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) নিঃশোষিত
  2. খ) নীরস
  3. গ) মাধুরিয়া
  4. ঘ) অধীনী
সঠিক উত্তর:
খ) নীরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীরস
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান:
নীরস (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: নির্‌+রস।
অর্থ: নীরসতা।

নীরস (বিশেষণ)
অর্থ:
- রসহীন (নীরস ভূমি),
- বৈচিত্র আলোচনা,
- অপ্রসন্ন,
- ম্লান,
- রসবোধ্য,
- বেরসিক,
- রুক্ষ,
- কর্কশ।

অন্যদিকে,
নিঃশোষিত, মাধুরিয়া ও অধীনে শব্দের সঠিক বানান যথাক্রমে - নিঃশেষিত, মাধুরী ও অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৫৩.
কোন শব্দটির ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) দৌরাত্ম্য
  2. খ) উৎকর্ষতা
  3. গ) বিচিত্রতা
  4. ঘ) দরিদ্রতা
সঠিক উত্তর:
খ) উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা

উৎকর্ষ একটি বিশেষ্য পদ। যার বিশেষণ হলাে উৎকৃষ্টতা যা দ্বারা বস্তুর, ভাবের বা রুচির উৎকর্ষ বুঝায়।
সুতারাং উৎকর্ষতা এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ রূপ হবে - উৎকর্ষ অথবা উৎকৃষ্টতা।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬,২৫৪.
শুদ্ধ বাক্যটি নির্ণয় করুন।
  1. ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
  2. খ) আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে
  3. গ) তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে
  4. ঘ) সে অপমান হয়েছে
সঠিক উত্তর:
খ) আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে৷
অতএব, বাক্যগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো-
যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি৷
আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে৷
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে৷
সে অপমানিত হয়েছে৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৫৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) শুচিস্মিত
  2. খ) প্রতিযোগীতা
  3. গ) নিশীথিনী
  4. ঘ) নির্নিমেষ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিযোগীতা
ব্যাখ্যা
• 'প্রতিযোগীতা' বানানটি শুদ্ধ নয়। 

 • শুদ্ধ বানান - প্রতিযোগিতা। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রতিযোগিন্+তা। 

অর্থ:
১ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
২ বিরোধিতা; বিপক্ষতা।

অন্যদিকে, 
• শুচিস্মিত (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- উজ্জ্বল বা বিশুদ্ধ হাস্যময়। 
• নিশীথিনী (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- রাত্রি; রজনী।
• নির্নিমেষ (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- নিমেষহীন; পলকহীন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৫৬.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল? 
  1. শ্রীলঙ্কা
  2. গ্রীস 
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
গ্রীস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীস 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ‘গ্রীস’ শব্দটির বানান ভুল।
--------------------
• দেশের নাম লিখতে ই-কার ব্যবহার: 
- যে কোনো দেশের নাম লিখার সময় সাধারণভাবে ই-কার ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি।
- তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম,
- যেখানে ই-কার প্রয়োগ করা হয় না।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,২৫৭.
'তিলে তৈল হয়' বাক্যে 'তিলে' কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
'তিলে তৈল হয়' - অপাদানে সপ্তমী
কিন্তু 'তিলে তৈল আছে'-- অধিকরণে সপ্তমী।

অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ

অপাদান কারক
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৮.
' যেহেতু দোষ করেছ, সেহেতু শাস্তি পাবে।' বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ বলেই শাস্তি পাবে।
  2. যে দোষ করেছ, সে শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করলে শাস্তি নিশ্চিত।
  4. দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য
⇒ যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময়ে যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিতে হয়। এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।
যেমন
- যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

- যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
- জটিল বাক্য: যেহেতু দোষ করেছ, সেহেতু শাস্তিন্ত পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালে সংস্করণ)।

৬,২৫৯.
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তাকারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

অর্থ্যাৎ,
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারক এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৬০.
উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে কোন যতিচিহ্ন বসাতে হয়?
  1. কোলন 
  2. কমা 
  3. হাইফেন
  4. সেমিকলন 
সঠিক উত্তর:
কমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা 
ব্যাখ্যা

•  কমা [পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,)]:
ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
ঘ) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
ঙ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
চ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
ছ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
জ) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৬১.
‘কোথায় থাকা হয়।’ - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
 যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
 যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৬২.
শাপলা পড়ছে, শালুক ঘুমিয়ে পড়েছে। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
দুটি সরল বাক্যের মাঝে কমা হলেও যৌগিক বাক্য হতে পারে, এক্ষেত্রে কমাই যোজকের কাজ করে, অর্থাৎ যোজক উহ্য থাকে। যেমন : 
- শাপলা পড়ছে, শালুক ঘুমিয়ে পড়েছে। (‘আর’ লোপ)
- তুমি যাবে, বেশিক্ষণ বসবে না। (‘তবে’ লোপ)
- এখন আর ভাত খাব না, এক কাপ চা দাও। (‘বরং’ লোপ)

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৬,২৬৩.
’ঊর্ণনাভ’ শব্দটি দিয়ে বুঝায়-
  1. ক) তেলাপোকা
  2. খ) মাছি
  3. গ) টিকটিকি
  4. ঘ) মাকড়সা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাকড়সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাকড়সা
ব্যাখ্যা
• ঊর্ণনাভ, ঊর্ণনাভি ( বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়= [√ঊর্ণ+অহমিয়া(অচ্) ]=[ঊর্ণ+নাভি; বহুব্রহী সমাস]
অর্থ: মাকড়সা ( ঊর্ণনাভ জাল বুনে চলে- আহসান হাবীব)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. রৌদ্রকরোজ্জল
  2. রৌদ্রকরোজ্জ্বল
  3. রৌদ্রকরজ্জ্বল
  4. রৌদ্রকরুজ্জল
সঠিক উত্তর:
রৌদ্রকরোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রৌদ্রকরোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'রৌদ্রকরোজ্জ্বল'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: রৌদ্র + কর + উজ্জ্বল।
  অর্থ:
- সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৫.
উদ্ধৃতি চিহ্ন কোথায় বসে?
  1. ক) বাক্যের শেষে
  2. খ) শ্লেষাত্মক বাক্যের মাঝে
  3. গ) সংলাপে
  4. ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্যে
সঠিক উত্তর:
গ) সংলাপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংলাপে
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতি চিহ্ন দুই প্রকার। যথা: একক উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং জোড় উদ্ধৃতি চিহ্ন।

উদ্ধৃতি বিরাম চিহ্নের ব্যবহার:
১. কথোপকথন ও সংলাপে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
২. নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষনের জন্য  উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
৩. নির্দিষ্ট ভবনের নাম বা গ্রন্থের নাম জানানোর জন্য।
৪. বাক্যে কোনো শব্দ বা বিষয়কে গুরুত্ব দিতে কংিবা গুরুত্ব প্রকাশ করতে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।ব

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৬৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সাতিক
  2. সাত্বিক
  3. সাত্তিক
  4. সাত্ত্বিক
সঠিক উত্তর:
সাত্ত্বিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত্ত্বিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সাত্ত্বিক
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: সত্ত্বগুণ সম্পর্কিত; সাধু; আড়ম্বরহীন; নিরামিষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৭.
"সমিতিতে চাঁদা দাও।" - বাক্যে 'সমিতিতে" কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৬৮.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  3. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  4. রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
ব্যাখ্যা
- বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।
 যেমন:
- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এর বদলে —ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: রাঙ্গামাটি পার্বতীয় এলাকা।
শুদ্ধ বাক্য: রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।

অন্যদিকে: 
- ইহার আবশ্যকতা নাই।
- সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর বিশেষ্য পদের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৬৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. দ্বৈত
  2. কার্পণ্যতা
  3. পৌরুষ
  4. গাম্ভীর্য
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'কার্পণ্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'। 
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: কার্পণ্য। 

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য,
- পৌরুষ ও
- দ্বৈত।
শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৭০.
নিচের কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি?
  1. অলসতা
  2. সৌজন্যতা
  3. চঞ্চলতা
  4. অধীরতা
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যতা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ = সৌজন্যতা।
- শব্দটির শুদ্ধরূপ= সৌজন্য।

অন্যদিকে,
- অধীরতা, অলসতা, চঞ্চলতা, শুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:
- অপপ্রয়োগ = প্রয়োগ
- দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা = সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা = বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা = দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৭১.
'বিপদ থেকে বাঁচাও।' এখানে 'বিপদ থেকে' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. করণ কারক 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
• বিচ্যুত: 
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

• গৃহীত: 
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।

• জাত: 
- জমি থেকে ফসল পাই।
- খেজুর রসে গুড় হয়।

• বিরত: পাপে বিরত হও।
• দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
• রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
[কী থেকে বাঁচাও প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বিপদ থেকে। এখানে 'বিপদ থেকে'  অপাদান কারকে পঞ্চমী বভক্তি।]
• আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
• ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৬,২৭২.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়?
  1. ইহা
  2. পূর্বদিন
  3. ওখানে
  4. এখন
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:

• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,২৭৩.
'রেখ মা দাসেরে মনে।' বাক্যে 'দাসেরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃ কারকে ২য়া
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী 
  3. কর্ম কারকে ২য়া 
  4. কর্তৃ কারক ৬ষ্ঠী 
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ২য়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারকে ২য়া 
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্মকারক।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

এরূপ- 
- রেখ মা দাসেরে মনে।
[বাক্যে 'দাসকে' কেন্দ্র করে মনে রাখার ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং, 'দাসেরে' কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭৪.
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. গণনা, গনিকা, শোনিত
  2. গনণা, গণিকা, শোনিত
  3. গননা, গণিকা, শোনিত
  4. গননা, গণিকা, শোনিত
  5. গণনা, গণিকা, শোণিত
সঠিক উত্তর:
গণনা, গণিকা, শোণিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণনা, গণিকা, শোণিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ হচ্ছে গণনা, গণিকা, শোণিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬,২৭৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে বাচ্যজনিত ভুল প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
  2. খ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়
  3. গ) অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য
  4. ঘ) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা রূপ থাকলে কর্ম্বাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যুক্তি খন্ডন হয়েছে, তবে মুক্তি মেলে নি।

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয় (বিশেষ্য -বিশেষণের ভুল প্রয়োগ)
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য (যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল)
দশচক্রে ঈশ্বর ভূত (দশচক্রে ভগবান ভূত)
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৭৬.
বাংলা সাহিত্যে যতিচিহ্নের প্রবর্তক কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কিন্তু বাংলা ভাষায় সুষ্ঠভাবে বিরাম চিহ্ন ব্যবহার শুরু হয়েছে দেড়শ দুইশ বছর আগে।
- মহামতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) বাংলা গদ্যে বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের প্রথম নৈপুর্ণ দেখান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৭.
বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না-
  1. ক) বাক্যের অর্থ সহজভাবে বুঝাতে
  2. খ) শ্বাস বিরতির জায়গা দেখাতে
  3. গ) বাক্যকে অলংকৃত করতে
  4. ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরাম-চিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরাম-চিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ:
১. বাক্যে ব্যবহৃত পদগুচ্ছকে অর্থবহ করার জন্য বিরাম-চিহ্নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পদক্রম অনুসরণ করা হয়।
২. বাক্যের পদগুলোকে নির্দিষ্ট ছক বা রীতি অনুযায়ী সাজিয়ে তোলাই তার কাজ।
৩. বাক্যের পদগুলোর মধ্যে ভাবের পারম্পর্য বা সঙ্গতি রক্ষা করাই যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ।
৪. তাদের লক্ষ্য বাক্যকে অর্থবহ করা।
৫. যতি চিহ্নের লক্ষ্য বাক্যের বক্তা বা লেখকের নির্দিষ্ট অর্থলক্ষ্যকে সোজাসুজি শ্রোতা বা পাঠকের কাছে পৌছে দেয়া।

সুতরাং, বিরাম-চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না- বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে।
৬,২৭৮.
কোন শব্দে 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কার্য
  2. খ) পাচক
  3. গ) ক্রেতা
  4. ঘ) শৈশব
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেতা
ব্যাখ্যা
'ক্রেতা' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠনের সময় 'গুণ' এর সূত্র ব্যবহৃত হয়। 

• কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

• গুণ
ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

• বৃদ্ধি
অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৯.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কলম
  2. দুধ
  3. আকাশ
  4. ঘরে
সঠিক উত্তর:
ঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর- ঘ) ঘরে।

• 'এ’ – সপ্তমী বিভক্তি।
অর্থ্যাৎ: ঘর + এ = ঘরে (বিচক্তযুক্ত শব্দ)। 

বিভক্তি
বিভক্তি হলো শব্দের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত অংশ যা ব্যাকরণিক সম্পর্ক প্রকাশ করে।

"ঘরে" = ঘর + এ
"ঘর" = মূল শব্দ (প্রাতিপদিক);
"এ" = বিভক্তি (অধিকরণ কারকের বিভক্তি);

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) কলম - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।
খ) দুধ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।
গ) আকাশ - এটি বিভক্তিহীন শব্দ (প্রাতিপদিক)।

বিভক্তিযুক্ত শব্দের উদাহরণ:
ঘর + এ = ঘরে;
বই + তে = বইতে;
ছেলে + র = ছেলের;
মা + কে = মাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
৬,২৮০.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ সঠিক?
  1. ক) ফনীভূষণ
  2. খ) নিরহঙ্কারী
  3. গ) অনটন
  4. ঘ) নিরপরাধী
সঠিক উত্তর:
গ) অনটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনটন
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'অনটন' শব্দটি সঠিক।
• ফনীভূষণ শব্দের সঠিক রূপ হবে ফণিভূষণ।
• নিরহঙ্কারী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরহঙ্কার।
• নিরপরাধী শব্দের সঠিক রূপ হবে নিরপরাধ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৮১.
“সবাই জানেন যে কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।” কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
“সবাই জানেন যে কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।”- একটি জটিল বাক্যের উদাহরণ।
- এখানে ‘সবাই জানেন যে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য‌ আর ‘কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না’ অংশটি প্রধান খণ্ডবাক্য।

--------------------
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬,২৮২.
‘সে আসতে চায়, তথাপি আসে না।' - এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- সে আসতে চায়, তথাপি আসে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৮৩.
নিচের কোন বানান টি শুদ্ধ?
  1. ক) ক্ষয়িষ্ণু
  2. খ) অঋণি
  3. গ) কন্ঠহানী
  4. ঘ) গুণান্বীত
সঠিক উত্তর:
ক) ক্ষয়িষ্ণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্ষয়িষ্ণু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ক্ষয়িষ্ণু

কয়েকটি শুদ্ধ বানান হলো:
• অশুদ্ধ - অঋণি
• শুদ্ধ - অঋণী
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- অঋণ ইন্‌
অর্থ: ঋণমুক্ত, ঋণশূণ্য।

• অশুদ্ধ- কণ্ঠহানী
• শুদ্ধ- কন্ঠহানি
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কন্ঠ+√হা-তি অর্থ: গলার কন্ঠস্বরভঙ্গ।

• অশুদ্ধ - গুণান্বীত
• শুদ্ধ – গুণান্বিত
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- গুণ+অন্বিত অর্থ: গুণযুক্ত, গুণসম্পন্ন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২৮৪.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) পাপিষ্টতর
  2. খ) স্বতন্ত্রতা
  3. গ) মহিমামণ্ডিত
  4. ঘ) দৈন্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) স্বতন্ত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বতন্ত্রতা
ব্যাখ্যা

'স্বতন্ত্রতা' এবং 'স্বাতন্ত্র্য' - দুটি শব্দই সঠিক।

ভুল শব্দগুলোর শুদ্ধরূপঃ
পাপিষ্টতর/পাপিষ্টতম = পাপিষ্ট
মহিমামণ্ডিত = মহিমমণ্ডিত
দৈন্যতা = দৈন্য, দীনতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২৮৫.
'গাছ থেকে পাতা পড়ে।' - এখানে 'গাছ' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
অপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- পাপে বিরত হও।
- বিপদ থেকে বাঁচাও।
- তিলে তেল হয়।
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- জমি থেকে ফসল পাই।

• অপাদান কারক নির্ণয়ের জন্যে ক্রিয়াপদ ধরে 'কোথা থেকে', 'কী থেকে' 'কীসের থেকে' এসব প্রশ্ন করতে হয় এবং তার উত্তরে অপাদান কারক জানতে পারা যায়।
যেমন:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে।
[কোথা থেকে? (গাছ থেকে), তাই 'গাছ' অপাদান কারক।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৮৬.
"The baby is always smiling" - বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. বাচ্চাটি মুচকি হাসে।
  2. বাচ্ছাটির মুখে হাসি লেগে আছে।
  3. বাচ্ছাটি খিলখিল করে হাসে।
  4. বাচ্ছাটির মুখ হাসিতে ভরা।
সঠিক উত্তর:
বাচ্ছাটির মুখে হাসি লেগে আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্ছাটির মুখে হাসি লেগে আছে।
ব্যাখ্যা
• ’The baby is always smiling’. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: বাচ্ছাটির মুখে হাসি লেগে আছে।
------------------------
• কিছু গুরত্বপূর্ণ প্রবাদ বাক্যের অনুবাদ:
- Culture is constantly evolving বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।
- A beggar must not be a chooser. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া।
- Breaking a butterfly on the wheel. বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: মশা মারতে কামান দাগা।
- Run with the here and hunt with the hounds.বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: চোরকে বলে চুরি করতে, গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকতে।
- Self-Preservation is the first law of nature.বাক্যটির সঠিক বাংলা অনুবাদ: চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. Tortuouse
  2. Torrtuous
  3. Tortuous
  4. Tertuous
সঠিক উত্তর:
Tortuous
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tortuous
ব্যাখ্যা
Tortuous (adjective)
English Meaning: Full of twists and turns; not straight or direct.
Bangla Meaning: আঁকাবাঁকা: a tortuous path; (লাক্ষণিক) জটিল, প্যাঁচানো: a tortuous man.
Synonyms: Twisting (মোচড়), Curving (কুঁচন), Sinuous (আঁকাবাঁকা; ঘোরানো; পাকানো).
Antonyms: Straight (সরস; ঋজু; সিধা), Straightforward (সহজবোধ্য; সহজসাধ্য).
Other Forms: Tortuously (adverb).
Example Sentence: ‘His so-called shortcut turned out to be tortuous and slow.

’Source: Live MCQ Lecture
৬,২৮৮.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।' এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারক? 
  1. করণ কারক 
  2. অধিকরণ কারক 
  3. কর্ম কারক 
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

এরূপ-
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়। 
[বাক্যকে কোন বিষয়ে অপরাজেয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় যুদ্ধে। সুতরাং 'যুদ্ধে' অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৮৯.
সরল বাক্য কোনটি?
  1. যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
  2. ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।
  3. নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 
  4. যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
সঠিক উত্তর:
নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।
- নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়। 

• লক্ষ কর: সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যে এক বা একাধিক কর্মপদ (বিশেষ্য) থাকতে পারে। সমাপিকা ক্রিয়াটা অকর্মক ক্রিয়া হলে কোনো কর্মপদ থাকে না, ক্রিয়া-বিশেষণ থাকতে পারে।
যেমন:
- শিশুটা হাসছে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- শিশুটা ধীরে ধীরে হাঁটছে। (ক্রিয়াবিশেষণ + অকর্মক ক্রিয়া)
- সে ভাত খাচ্ছে। (কর্মপদ + সমাপিকা ক্রিয়া)
- সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে। (কর্মপদ + কর্মপদ + দ্বিকর্মক ক্রিয়া)

একটা সরল বাক্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
যেমন:
- আমি তাকে দেখতে চাই।
[এখানে 'দেখতে' হলো অসমাপিকা ক্রিয়া। 'চাই' হলো সমাপিকা ক্রিয়া। যেহেতু সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটা, সেহেতু বাক্যটা সরল।]

-------------
অন্যদিকে, 
- ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা। 
- যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।

[অপশনে প্রদত্ত অন্য বাক্যগুলো জটিল বাক্য।] 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৯০.
"আমি যাব না।" - বাক্যটি ভাববাচ্যে রূপান্তর কোনটি?
  1. আমাকে যেতে হবে না।
  2. আমি যেতে চাই না।
  3. আমার যাওয়া হবে না।
  4. আমি কর্তৃক যাওয়া হবে না। 
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হবে না।
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৯১.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. আমি অপমানিত হয়েছি।
  3. আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
  4. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
শুদ্ধ: আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।

অন্যদিকে:
- বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
- আমি অপমানিত হয়েছি।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৯২.
কোনটি কর্তাবাচ্যের উদাহরণ?
  1. সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
  2. কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
  3. সে বাজারে যায়।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সে বাজারে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে বাজারে যায়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
যেমন:
- সে বাজারে যায়।
- সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
- কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

উপরের প্রথম বাক্যে 'যায়' ক্রিয়াটি 'সে' কর্তার অনুসারী সুতরাং বাক্যটি কর্তাবাচ্য।
• দ্বিতীয় বাক্যে 'করা হয়েছে' ক্রিয়াটি 'সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী সুতরাং বাক্যটি কর্মবাচ্য।
• তৃতীয় বাক্যে 'যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য এটি ভাববাচ্যের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬,২৯৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রণয়িনী
  2. প্রনয়িনী
  3. প্রণয়ীনি
  4. প্রণয়ীণী
  5. প্রণোয়িনী
সঠিক উত্তর:
প্রণয়িনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয়িনী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রণয়িনী' - শুদ্ধ বানান।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৯৪.
'বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ।' এই বাক্যে 'বাড়ি থেকে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।
ছাদ থেকে পানি পড়ে। 
বাড়ি থেকে টাকাটা চেয়ে দেখ। 


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, ভাষা- শিক্ষা , ড.হায়াৎ মামুদ ]
 
৬,২৯৫.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. অনুবীক্ষণ
  2. অণুবীক্ষণ
  3. অনুবীক্ষন
  4. অনূবিক্ষন
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
অণুবীক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুবীক্ষণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অণুবীক্ষণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- খালি চোখে দেখা যায় না এমন অতি ক্ষুদ্র বস্তুকে বড়ো করে দেখার সরঞ্জামবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৯৬.
'এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।' - বাক্যটি কর্তাবাচ্যে কী হবে?
  1. এবার বাঁশিটি বাজানো হবে।
  2. এবার আমি বাঁশিটি বাজাই।
  3. এবার বাঁশিটি বাজাও।
  4. এবার বাঁশিটি বাজায়।
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবার বাঁশিটি বাজাও।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য থেকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তর:
- ভাবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।

যেমন:
ভাববাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।
কর্তাবাচ্য: একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।

ভাববাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজানাে হােক।
কর্তাবাচ্য: এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২৯৭.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) পানিতে কুমির ডাঙায় বাঘ
  2. খ) কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে
  3. গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে
ব্যাখ্যা
'সকল বালিকা প্রভাতফেরীতে গেছে’ - বাক্যটি বহুবচনঘটিত বাক্যের শুদ্ধ প্রয়োগ। 

অন্যদিকে, 
⇒ পানিতে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ - বাক্যটিতে বাগ্‌ধারায় শব্দের পরিবর্তনজনিত ভুল হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - জলে কুমির ডাঙায় বাঘ

⇒  কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছে - বাক্যে অসঙ্গতিপুর্ণ অশুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - কথাতা আমার স্মৃতিপটে অঙ্কিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,২৯৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. প্রাহ্ণ
  2. পূর্বাহ্ন
  3. পরাহ্ণ
  4. অপরাহ্ণ
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন-
অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি।

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- 'পূর্বাহ্ন' শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,২৯৯.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন- 
  1. বুদ্ধিজীবি
  2. গোধূলী 
  3. অন্তর্জগত
  4. প্রোজ্জ্বল
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজ্জ্বল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 

• শুদ্ধ বানান - 'প্রোজ্জ্বল'


অন্যদিকে,
অশুদ্ধ - শুদ্ধ
- গোধূলী - গোধূলি,
- বুদ্ধিজীবি - বুদ্ধিজীবী।
- অন্তর্জগত - অন্তর্জগৎ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৩০০.
নিচের কোন গুচ্ছের সবগুলো বানান অশুদ্ধ?
  1. ক) মিথস্ক্রিয়া, কাহিনি, তিতিক্ষা
  2. খ) অন্তরীণ, মূহুর্ত, শুশ্রুষা
  3. গ) মুমূর্ষু, পিপীলিকা, বিভীষিকা
  4. ঘ) প্রতীকী, সমীচীন, মহীয়সী
সঠিক উত্তর:
খ) অন্তরীণ, মূহুর্ত, শুশ্রুষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্তরীণ, মূহুর্ত, শুশ্রুষা
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানগুলো হলো :
অন্তরিন
মুহূর্ত
শুশ্রূষা

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।