বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৪২ / ৬৯ · ৪,১০১৪,২০০ / ৬,৯৫৩

৪,১০১.
অভিধান অনুসারে, নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ব্যূৎপত্তি
  2. কল্যাণীয়াষু
  3. প্রনয়ণ
  4. পরাহ্ণ
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাহ্ণ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- এর শুদ্ধ বানান- 'পরাহ্ণ'। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ’কল্যাণীয়াষু’ শব্দের শুদ্ধ বানান = ‘কল্যাণীয়াসু।
• 'প্রনয়ণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'প্রণয়ন'।
• ’ব্যূৎপত্তি’ শব্দের শুদ্ধ বানান = ব্যুৎপত্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,১০২.
'যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।' এই বাক্যের যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদি পরিশ্রম কর তাহলে সাফল্য পাবে।
  2. পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
  3. সাফল্য চাইলে পরিশ্রম কর।
  4. পরিশ্রম করলে সাফল্য পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
- সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১০৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অভিষেক
  2. অনুষঙ্গ
  3. প্রতিষেধক
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন:
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৪,১০৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. কার্পণ্য
  2. সৌন্দর্যতা
  3. মৈত্র
  4. সুন্দরতা
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সৌন্দর্যতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
- এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: সৌন্দর্য / সুন্দরতা। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে:
- মৈত্র ও কার্পণ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১০৫.
“এত বড়ো স্পর্ধা! শিক্ষকের মুখের ওপর কথা বলো।” কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. খ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. গ) আবেগবাচক বাক্য
  4. ঘ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
“এত বড়ো স্পর্ধা! শিক্ষকের মুখের ওপর কথা বলো।” বাক্যটি আবেগবাচক

⇒ আবেগবাচক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগবাচক/আবেগসূচক বাক্য বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে বাক্য তৈরি হয় তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন:
• বিস্ময়: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড!
• ভয়: ওরে বাপরে, কত বড়ো সাপ রে!
• ক্রোধ: এত বড়ো স্পর্ধা! শিক্ষকের মুখের ওপর কথা বলো।
• আবেগ: বাহ্! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১০৬.
কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে কোন চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কোলন-ড্যাস
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। 
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।
যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১০৭.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কোন পদকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্য রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন-
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,১০৮.
বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. বাবা জানতে চাইলেন, কবে নাগাদ ফল বের হবে।
  2. বাবা জিজ্ঞাস করলেন, আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে।
  3. বাবা জানতে চাইলেন, কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে।
  4. আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।
সঠিক উত্তর:
আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রশ্নবোধক বাক্য-
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?”
পরোক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
পরোক্ষ উক্তি: আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৪,১০৯.
নিচের কোন শব্দটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. একমাত্র
  2. সম্মুখবর্তী 
  3. কেবলমাত্র
  4. সমৃদ্ধশালী 
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা

• 'কেবলমাত্র' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ। 
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ। 

অন্যদিকে,
অন্য অপশনের শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১১০.
নিম্নের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) ইহার আবশ্যক নাই।
  2. খ) আশা করি তুমি আরোগ্য লাভ করিয়াছ।
  3. গ) মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ ।
  4. ঘ) তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন।
সঠিক উত্তর:
খ) আশা করি তুমি আরোগ্য লাভ করিয়াছ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আশা করি তুমি আরোগ্য লাভ করিয়াছ।
ব্যাখ্যা

- অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ গুলো হচ্ছে -
- ইহার আবশ্যকতা নাই।
- মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ।
- তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,১১১.
'মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।’- এখানে ‘মেঘ থেকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. অপাদান কারকে ৫মী
  2. অধিকরণ কারকে ৫মী
  3. করণ কারকে ৫মী
  4. কর্মকারকে ৫মী 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৫মী
ব্যাখ্যা

মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
-----------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।

• বাক্য: ‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়’।
- এখানে ‘মেঘ থেকে’ শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
-  কারণ, যদি প্রশ্ন করা হয়- কিসের থেকে বৃষ্টি হয়, তাহলে উত্তর হবে মেঘ থেকে।
- এই বাক্যে কোন কিছুর উৎপত্তি বুজাচ্ছে। 
- এখানে ৫মী বিভক্তির চিহ্ন ‘থেকে’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়’ বাক্যটিতে 'মেঘের থেকে' হচ্ছে- অপাদানে ৫মী বিভক্তি।
-----------------------------------------
- অপাদান কারকের কিছু উদাহরণ:
- যেমন:
 • বাস স্টেশন ছেড়েছে।
- বাক্যে 'স্টেশন' থেকে বাসটি বিচ্যুত হয়েছে। 
- এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।

• এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই 'কুকুরের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪,১১২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. উল্লেখিত
  2. উপরিউক্ত
  3. উপরিস্থিত
  4. উপরন্তু
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লেখিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: উল্লেখিত।

• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্ + √লিখ্ +ত,
যার অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বোক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১১৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করবো।
  2. শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
  3. তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
  4. পরবর্তীতে আপনি এলে ভালো হবে।
সঠিক উত্তর:
তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ডাক্তার।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
• অশুদ্ধ: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করবো।
• শুদ্ধ: শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করব।

• অশুদ্ধ: শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
• শুদ্ধ: শুধু / মাত্র এই কটা টাকা দিলে?

• অশুদ্ধ: পরবর্তীতে আপনি এলে ভালো হবে।
• শুদ্ধ: পরবর্তী কালে আপনি এলে ভালো হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১৪.
কোন শব্দটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. ক) দিবারাত্র
  2. খ) নির্দোষ
  3. গ) অহর্নিশ
  4. ঘ) নীরোগী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরোগী
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১১৫.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান নয়?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. অতিথি
  3. কৌতূহল
  4. সমীচীণ
সঠিক উত্তর:
সমীচীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীচীণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সমীচীণ'- অশুদ্ধ বানান। 
- শব্দটির শুদ্ধরূপ: 'সমীচীন'।

• 'সমীচীন':
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।

• আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
ধরনি, পিওন, প্রণামি, ধরন,স্বতঃপ্রণোদিত, ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১১৬.
পূর্ণ যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. দাঁড়ি চিহ্ন
  3. কমা চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কমা চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷”

অন্যদিকে,
• দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১৭.
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয়-
  1. বচন
  2. উক্তি
  3. বাচ্য
  4. কাল
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বলা হয় 'বাচ্য'। বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
(১) কর্তৃবাচ্য,
(২) কর্মবাচ্য ও
(৩) ভাববাচ্য।

• কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

• কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

• ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে। ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,১১৮.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দিবারাত্র
  2. ভ্রাতাবৃন্দ
  3. নীরোগ
  4. নিরহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘ভ্রাতাবৃন্দ’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ভ্রাতৃবৃন্দ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  2. আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  3. চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১২০.
'বোনে বোনে বেশ মিল।' - বাক্যে 'বোনে বোনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ২য়া
  2. কর্মে ২য়া
  3. কর্তায় ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'বোনে বোনে বেশ মিল।' - বাক্যে 'বোনে বোনে' কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকার। যথা:
১. মুখ্য কর্তা,
২. প্রযোজক কর্তা,
৩. প্রযোজ্য কর্তা,
৪. ব্যতিহার কর্তা।

ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
- রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
- বোনে বোনে বেশ মিল। - বাক্যে 'বোনে বোনে' - তে ৭মী বিভক্তি ব্যবহার হওয়ায়, এটি কর্তায় ৭মী বিভক্তি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১২১.
লেখার সময়ে কোন কথা অব্যক্ত রাখতে চাইলে কোন বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. বিন্দু
  2. ত্রিবিন্দু
  3. কমা
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

ত্রিবিন্দু (...):
- লেখার সময়ে কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে বা অব্যক্ত রাখতে চাইলে - ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,১২২.
'সে নাকি আসবে না' - এ বাক্যে না অব্যয়ের প্রয়োগ কি অর্থে হয়েছে?
  1. ক) অনুমান অর্থে
  2. খ) বিস্ময় অর্থে
  3. গ) সম্ভাবনা অর্থে
  4. ঘ) বিরক্তি অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ভাবনা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ভাবনা অর্থে
ব্যাখ্যা
'সে নাকি আসবে না'- এ বাক্যে না অব্যয়টি 'সম্ভাবনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন- তুমি খাবে না?, বিস্ময়- স্কুলে যাবে না!, অনুমান- সে কি রহিম না?
Source: LiveMCQ Archive
৪,১২৩.
কোন শব্দে সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. কৃপণতা
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. অধৈর্যতা
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- ‘তা’ প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে - 'অধৈর্যতা' শব্দে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অধৈর্য, ধীরতা।
- 'স্বতন্ত্রতা এবং কৃপণতা' শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১২৪.
'Liberalism' শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ -
  1. ক) Liber থেকে
  2. খ) Liberty থেকে
  3. গ) Liberous থেকে
  4. ঘ) Liberation থেকে
সঠিক উত্তর:
ক) Liber থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Liber থেকে
ব্যাখ্যা
• উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধুত
• Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন। 
• শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ।

তথ্যসূত্র:- রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব; এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,১২৫.
ব্যক্তিগত পত্রে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয় -
  1. পত্রের নিচে বাম দিকে
  2. পত্রের নিচে ডান দিকে
  3. পত্রের উপরে বাম দিকে
  4. পত্রের উপরে ডান দিকে
সঠিক উত্তর:
পত্রের উপরে ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রের উপরে ডান দিকে
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিগত পত্রে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয় - পত্রের উপরে ডান দিকে

• সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম- প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

• একটি পত্রের প্রধান অংশ দুইটি। যথা:
১. বাইরের অংশ বা শিরোনাম ও
২. ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ।

শিরোনাম: পত্রের খাম বা পোস্টকার্ডে প্রেরক ( যিনি চিঠি লিখেন ) ও প্রাপকের ( যার উদ্দেশ্য চিঠি লেখা হয় ) নাম ও ঠিকানা লেখা হয়। একেই শিরোনাম বলা হয়। পোস্টকার্ড বা খামের বাম দিকে থাকে প্রেরকের নাম ও ঠিকানা আর ডানদিকে থাকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা।

পত্রগর্ভ: একটি পত্রের বিষয় অনুসারে কয়েকটি ভাগ থাকে।
যেমন: 
১. পত্রের উপরে ডান দিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়।
- ঠিকানার নিচে পত্র লেখার তারিখ লিখতে হয়।
২. পত্রের উপরে বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ থাকে।
- বয়স ও সম্পর্ক অনুযায়ী সম্ভাষণের ভাষায় পার্থক্য থাকে।
- গুরুজনদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধেয় আব্বা, শ্রদ্ধেয় খালা, শ্রদ্ধাভাজনীয়াষু মা ইত্যাদি লেখা হয়।
- সমবয়সী বন্ধুদের প্রতি প্রিয় পাভেল, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিভাজনাষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি লেখা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ড. হায়াৎ মামুদ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১২৬.
জামাল বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।" - এ বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. জামাল বলেছিল, সে বাজারে যাচ্ছে।
  2. জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল।
  3. জামাল বলেছিল যে, আমি বাজারে যাচ্ছি।
  4. জামাল বলেছিল যে তারা বাজারে যাচ্ছিল।
সঠিক উত্তর:
জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
জামাল বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল। 

তেমনিভাবে, 
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪,১২৭.
'গানে গানে মন ভরেছে।' - এখানে 'গানে গানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। 
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

সপ্তমী বিভক্তির ব্যবহার:
 - 'এ' বিভক্তি: 
গানে গানে মন ভরেছে। 
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
- তে বিভক্তি: 
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল। 
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: 
চেষ্টায় সব হয়। 
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৮.
’এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা' - উক্তিটিতে 'মধুতে' শব্দটি কোন কারক কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. অধিকরণে শূন্য
  3. করণে সপ্তমী
  4. অপদানে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
- করণ কারক :
• ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
- যেমন : নীরা কলম দিয়ে লেখে। 

বাক্যটি - এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।
বাক্যকে 'কী দ্বারা' বা 'কীসের উপায়ে' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় মধুতে। সুতরাং মধুতে করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার :
-  প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি -
- ছাত্ররা বল খেলে। 
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি, দিয়া বিভক্তি :
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

• সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি, তে বিভক্তি, য় বিভক্তি :
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

- এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- চেষ্টায় সব হয়।
- এ সুতায় কাপড় হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৪,১২৯.
কোনটি সঠিক বানান?
  1. ক) শ্মশ্রু
  2. খ) শশ্রূ
  3. গ) শ্মশ্রূ
  4. ঘ) স্মশ্রু
সঠিক উত্তর:
ক) শ্মশ্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্মশ্রু
ব্যাখ্যা
শ্মশ্রু (বিশেষ্য) - মুখের দীর্ঘলোম; গোঁফদাড়ি৷
শ্বশ্রূ (বিশেষ্য) - স্বামী বা স্ত্রীর মা; শ্বশুরের স্ত্রী; শাশুড়ি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান
৪,১৩০.
'ঐশ্বর্য' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ওই্‌শ্‌শোরজ 
  2. খ) ঐশ্‌শোরজ
  3. গ) ওই্‌শ্‌শরজো 
  4. ঘ) ওই্‌শ্‌শোরজো 
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওই্‌শ্‌শোরজো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওই্‌শ্‌শোরজো 
ব্যাখ্যা
'ঐশ্বর্য' এর সঠিক উচ্চারণ = ওই্‌শ্‌শোরজো 

ঐশ্বর্য (ওই্‌শ্‌শোরজো)
- বিশেষ্য পদ 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ঈশ্বর+য 
অর্থ: 
- ধন, সম্পত্তি, 
- ঈশ্বরত্ব, প্রভুত্ব।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,১৩১.
সঠিক বাক্যটি চিহ্নিত করুন:
  1. দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
  2. রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে ক্রন্দন একই কথা।
  3. আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রথম বাক্যটি বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
বাক্যটির সঠিক রূপ - দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
বা, দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।

দ্বিতীয় বাক্যটিতে বাগধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে।
বাক্যটির সঠিক রূপটি হবে - রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

তৃতীয় বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
সঠিক বাক্যরূপটি হবে - আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

৪,১৩২.
’মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’ বাক্যটির সরল রূপ কী?
  1. যদি মেঘ গর্জন কর, ময়ূর নৃত্য করে
  2. মেঘ গর্জন করে, ময়ূর নৃত্য করে
  3. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
  4. মেঘ গর্জন করার পর, ময়ূর নৃত্য করে
সঠিক উত্তর:
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর :
-  বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
-  অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- সরল বাক্য: তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।

- যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

- সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪,১৩৩.
'ভান্ডার' শব্দে দন্ত্য-ন ব্যবহার হয় কোন যুক্তিতে?
  1. তৎসম শব্দ বলে
  2. তদ্ভব শব্দ বলে
  3. দেশি শব্দ বলে
  4. বিদেশি শব্দ বলে
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দ বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব শব্দ বলে
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) তদ্ভব শব্দ বলে।

ব্যাখ্যা:
‘ভান্ডার’ শব্দটির উৎস নিয়ে বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, এটি সংস্কৃত শব্দ ‘ভাণ্ডাগার’ থেকে এসেছে। সাধারণত, যেসব শব্দ সংস্কৃত বা প্রাকৃত থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় আসে, তাদের তদ্ভব বলা হয়।

তদ্ভব শব্দের বানানের নিয়ম:
- তদ্ভব শব্দে সবসময় দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহৃত হয়।
- মূর্ধন্য-ণ (ণ) কখনো ব্যবহৃত হয় না।

উদাহরণ: কান, মন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৩৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গণ্যমান্য
  2. ক্ষতিগ্রস্থ
  3. চিত্রাংকন
  4. জ্বরাজীর্ণ
সঠিক উত্তর:
গণ্যমান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ্যমান্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: গণ্যমান্য।
- বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সম্ভ্রান্ত।
- বিশেষভাবে মান্য,
- সম্মাননীয়।

অন্যদিকে, অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• ক্ষতিগ্রস্থ - ক্ষতিগ্রস্ত। 
• চিত্রাংকন - চিত্রাঙ্কন। 
• জ্বরাজীর্ণ - জরাজীর্ণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৩৫.
কোন শব্দটিতে ‘ণ’ সংক্রান্ত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) গভর্ণর
  2. খ) চিক্কণ
  3. গ) ফণী
  4. ঘ) পরিণাম
সঠিক উত্তর:
ক) গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
বিদেশী শব্দে কখনো ‘ণ’ হয় না। এর সঠিক বানান হবে গভর্নর। তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী শব্দে সাধারণত ‘ন’ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,১৩৬.
”রাজিব সাহেব অফিসে আছেন।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

• ”রাজিব সাহেব অফিসে আছেন।” নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪,১৩৭.
"আমাকে একটি কলম দাও।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগবাচক বাক্য 
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
  3. অক্রিয় বাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: 
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪,১৩৮.
'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে কোন শব্দটি শুদ্ধ হবে?
  1. মহীয়সি
  2. মহিয়সী
  3. মহীয়সী
  4. মহয়সী
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীয়সী
ব্যাখ্যা

• 'মহীয়ান' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে শুদ্ধ শব্দ - মহীয়সী। 

------------------
• মহীয়ান (বিশেষণ পদ):
এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অতি মহান, মহত্তর।

স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,১৩৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. অধিকারিত্ব
  2. মনোযোগীতা
  3. বিলাসিনী
  4. অপক্ষপাতিত্ব  
সঠিক উত্তর:
মনোযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোযোগীতা
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- 'মনোযোগীতা'।
- শুদ্ধ বানান- 'মনোযোগিতা'।

• মনোযোগিতা-
- ‘মনোযোগিতা’ একটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ।
- এটি ‘মনোযোগ’ শব্দের সঙ্গে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- শব্দটির অর্থ হলো মনোযোগের অবস্থা, একাগ্রতা বা অভিনিবেশ।
- অর্থাৎ, যখন মন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত ও নিবিষ্ট থাকে, সেই গুণ বা অবস্থাকেই ‘মনোযোগিতা’ বলা হয়।
---------------------------- 
• নিয়ম: 
- কোনো শব্দের শেষে যদি দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শব্দটি যদি ‘ইন’ ভাগান্ত হয়, তবে সেই শব্দের পরে ত্ব / তা / নি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
- এটি বাংলা বানানরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

- উদাহরণ—
• অধিকারী → অধিকারিণী, 
• অধিকারী → অধিকারিত্ব,
• বিলাসী → বিলাসিনী,
• অপক্ষপাতী → অপক্ষপাতিত্ব,
• মনোযোগী → মনোযোগিতা।
- এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকলেও প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় তা হ্রস্ব ই-কারে রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৪,১৪০.
"পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।"- এখানে 'শিলাতলে' কোন কারক?
  1. অপাদান 
  2. কর্ম 
  3. করণ 
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• "পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।" - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'শিলাতলে'।
তাই,
'শিলাতলে' শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৪১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভাগীরোথী
  2. ভাগীরথি
  3. ভাগিরথী
  4. ভাগীরথী
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ভাগীরথী
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- গঙ্গানদীর অন্য নাম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৪২.
"সৎপাত্রে কন্যা দান কর।" - এখানে "সৎপাত্র" কোন কারক?
  1. সম্প্রদান
  2. অধিকরণ
  3. অপাদান
  4. করণ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৪৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সহযোগীতা
  2. শ্রদ্ধাঞ্জলি
  3. পুণ্য
  4. হরীতকী
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'সহযোগীতা' বানানটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান হবে-  সহযোগিতা।

• 'সহযোগিতা' শব্দের অর্থ: সহয়তা, সাহায্য।

অন্যদিকে,
হরীতকী, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও পুণ্য বানান গুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৪৪.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।' - এখানে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. করণে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মে ২য়া
  4. কর্তায় ২য়া
সঠিক উত্তর:
কর্মে ২য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে ২য়া
ব্যাখ্যা

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে। বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়। সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।

যেমন:
→ সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
শিক্ষককে জানাও।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৪৫.
ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, তুই কি দাঁড় টানতে পারিস।
  2. খ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, তুই দাঁড় টানতে পারিস কি না বল।
  3. গ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।
  4. ঘ) ইন্দ্র তাকে জিজ্ঞাসা করল দাঁড় টানতে পারিস।
সঠিক উত্তর:
গ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি-  ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।

• প্রশ্নবোধক বাক্য:
প্রত্যক্ষ উক্তিতে উক্তিটি প্রশ্নবোধক বাক্যে থাকলে, পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদটি 'জিজ্ঞেস করল', প্রশ্ন করল' প্রভৃতি হয়।
- বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্ন উঠে গিয়ে পূর্ণচ্ছেদ বসে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'
পরোক্ষ উক্তি: ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৪৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) মাহাত্ম্য
  2. খ) মুহুর্মুহু
  3. গ) মুদ্রণ
  4. ঘ) মুণিঋষি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুণিঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুণিঋষি
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ:
মুনি (বিশেষ্য) ঋষি; তপস্বী; যোগী 
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √মন্‌+ই}

ঋষি (বিশেষ্য)
১ শাস্ত্রজ্ঞ তপস্বী; মুনি; যোগী; দরবেশ; সুফি।
২ শাস্ত্রপ্রণেতা; বেদমন্ত্র দ্রষ্টা।
ঋষী (স্ত্রীলিঙ্গ)।
আর্ষ (বিশেষণ)।
আর্য প্রয়োগ (বিশেষ্য) ব্যাকরণের নিয়মে ভুল হলেও ঋষি কর্তৃক ব্যবহৃত বলে স্বীকৃত শুদ্ধ প্রয়োগ।
ঋষিকল্প, ঋষিতুল্য, ঋষিসদৃশ্য বিশেষণ ঋষির ন্যায় জ্ঞানী ও শ্রদ্ধার্হ।
ঋষিপ্রোক্ত (বিশেষণ) ১ ঋষি কর্তৃক উক্ত বা নির্দেশিত।
২ আর্ষ; আর্ষপ্রয়োগ।
{সংস্কৃত √ঋষ্+ই(ইন্)}

উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ , বাংলা একাডেমি বানান ও আধুনিক বাংলা অভিধান

৪,১৪৭.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) এটি লজ্জাস্কর ব্যাপার
  2. খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
  3. গ) অন্যায়ের ফল দুর্নিবার্য
  4. ঘ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - সব মাছগুলোর দাম কত?
সঠিক রূপঃ সব মাছের দাম কত?

অন্যান্য অপশনের সঠিক রূপঃ
- এটি লজ্জাকর ব্যাপার (বানান জনিত)।
- অন্যায়ের ফল অনিবার্য (সঠিক শব্দ প্রয়োগ না করায়)।
- অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। (বিশেষ্য-বিশেষণ এর বাহুল্য জনিত)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪,১৪৮.
‘বল বীর বল উন্নত মম শির।’ - বাক্যটি কী?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. প্রশ্নসূচক
  3. আদেশসূচক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
ব্যাখ্যা
• ‘বল বীর বল উন্নত মম শির।’ - বাক্যটি আদেশসূচক
এখানে বীরকে উন্নত মম শির বলতে আদেশ করায়, এটি আদেশসূচক বাক্য।

আদেশসূচক বাক্য:
- এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা:
• শিক্ষক মহোদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।
• চুপটি করে বস। 
• দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
• বল বীর বল উন্নত মম শির।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগ্‌ভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
- ছেদ ও বিরতিসূচক চিহ্নগুলো বাগ্ভ‌ঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে।
- দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়সূচক চিহ্ন বাক্যের ভাব ও অর্থবোধের জন্য উপকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৪৯.
কোনগুলো নির্দেশকের উদাহরণ?
  1. টি, টুকু
  2. ই, ও
  3. এর, লাম
  4. রা, এগুলো
সঠিক উত্তর:
টি, টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টি, টুকু
ব্যাখ্যা
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যে সব শব্দাংশ যুক্ত থাকতে সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার। ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি

নির্দেশক:
যে সব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' না 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
যে শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বুঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ

প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
 
৪,১৫০.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. দুরাদৃষ্ট
  2. তরুছায়া
  3. দুরবস্থা
  4. মুখচ্ছবি
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - দুরাদৃষ্ট
- 'দুরাদৃষ্ট' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - দুরদৃষ্ট।

অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- মুখচ্ছবি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৫১.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
  2. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

[বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।]

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ  ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,১৫২.
'আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।' - এখানে 'বাংলাদেশের' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. করণ
  3. কর্ম
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আজকে নগদ কালকে ধার।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,১৫৩.
‘আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।

অন্যদিকে,
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
- সে যে অপরাধ করেছে,

• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৫৪.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড' নয়?
  1. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. কোলন ড্যাস
  3. বিস্ময় চিহ্ন
  4. ইলেক বা লোপ চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ইলেক বা লোপ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক বা লোপ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• নিম্নের উল্লিখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড-
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই,
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৫৫.
কোন্ বানানটি শুদ্ধ?
  1. মুহুর্মুহু
  2. মূহুর্মুহু.
  3. মূহুর্মুহু
  4. মূহুর্মহু
সঠিক উত্তর:
মুহুর্মুহু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহুর্মুহু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'মুহুর্মুহু
- অব্যয় পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মুহুঃ + মুহুঃ।
অর্থ:
- বারবার,
- ঘনঘন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৫৬.
সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. সমাজে দয়ার জোর বেশি না হয়ে দায়ের জোর বেশি হয়।
  2. যেসকল সমাজে দয়ার জোর বেশি নয় সেসকল সমাজে দায়ের জোর বেশি।
  3. যে সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, সে সমাজে দায়ের জোর বেশি।
  4. সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম-
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) যারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন-
সরল: 'গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।'
যৌগিক: 'গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।'

• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন-
সরল ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।

• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন-
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন-
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৫৭.
বিষের জ্বালায় বিশ্ব জুড়ে- এর কারক ও বিভক্তি কি?
  1. ক) করণে ৭মী
  2. খ) কর্তায় শূন্য
  3. গ) অধিকরণে ৭মী
  4. ঘ) কর্মে ২য়া
সঠিক উত্তর:
ক) করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• এখানে 'জ্বালায়'- করণে ৭মী।  
৪,১৫৮.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি। 
  4. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
সঠিক উত্তর:
আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি। 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য - আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৫৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. গ্রন্থ সমূহ আমাকে দাও।
  2. সুধি গণ সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছে।
  3. সে এখন চিঠি লেখে না।
  4. সদস্য বৃন্দরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
সঠিক উত্তর:
সে এখন চিঠি লেখে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখন চিঠি লেখে না।
ব্যাখ্যা
• টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

• না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: সে এখন চিঠি লেখে না।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- গ্রন্থসমূহ আমাকে দাও।
- সুধিগণ সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছে।
- সদস্যবৃন্দরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৬০.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) এবার মাছ ধরা যাক
  2. খ) তোমার বেড়ানো হলো
  3. গ) কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য: 
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
৪,১৬১.
অধিকরণ কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) দুধ থেকে ঘি হয়
  2. খ) তিল থেকে তেল হয়
  3. গ) নদীতে মাছ আছে
  4. ঘ) জল থেকে বিদ্যুৎ হয়
সঠিক উত্তর:
গ) নদীতে মাছ আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নদীতে মাছ আছে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
অধিকরণ কারকের উদাহরণঃ
তিলে তৈল আছে
নদীতে মাছ আছে
বনে বাঘ আছে
আকাশে চাঁদ উঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,১৬২.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র।
  2. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
  3. অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  4. আমি সন্তোষ হলাম।
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: খুব দুঃখ পেলাম/অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র।
• শুদ্ধ: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য/অনুগত ছাত্র।

• অশুদ্ধ: অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
• শুদ্ধ: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অশুদ্ধ: আমি সন্তোষ হলাম।
• শুদ্ধ : আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৪,১৬৩.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে।
  2. অনেক লোক জমা হয়েছিল।
  3. সলজ্জ হাসি হেসে মেয়েটি উত্তর দিল।
  4. সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
সঠিক উত্তর:
সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
ব্যাখ্যা
চরিত্রবান বলার পরে সৎ বলার দরকার নেই।
তাই শুদ্ধ বাক্যটা হবে : চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৬৪.
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য - ৪ ভাগে বিভক্ত

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।

যেমন:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।

যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,১৬৫.
‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’- বাক্যে ‘জনে জনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মকারকে ৭মী
  2. খ) করণ কারকে ২য়া
  3. গ) কর্মকারকে ৩য়া     
  4. ঘ) করণ কারকে ২য়া
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মকারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মকারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’ প্রশ্নে ‘জনে জনে’ কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি

কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। 

কর্মকারকের প্রকারভেদ: 
• সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম - নাসিমা ফুল তুলছে। 
• প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম - ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও। 
• সমধাতুজ কর্ম - খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
• উদ্দেশ্য ও বিধেয় - দুধকে(উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুগ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা(বিধেয় কর্ম)। 

কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ: 
- ১মা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক, বই এনো, বাঘে মানুষ খায়। 
- ২য়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক, তাকে বল।
- ৬ষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
- ৭মী বিভক্তি: ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৬৬.
'তাঁর মঙ্গল হোক।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর মঙ্গল হোক।’ - অনুজ্ঞাবাচক বাক্য।

• বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৬৭.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক? 
  1. বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। 
  2. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 
  3. বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 
  4. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,১৬৮.
‘যে সহে, সে রহে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৬৯.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ শুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. ক) দুর্বিসহ, আভ্যন্তরীণ
  2. খ) দুর্বিসহ, অভ্যন্তরীণ
  3. গ) দুর্বিষহ, অভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) দুর্বিষহ,আভ্যন্তরীন
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্বিষহ, অভ্যন্তরীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্বিষহ, অভ্যন্তরীণ
ব্যাখ্যা
অভ্যন্তরীণ (অভ্যন্তর + ঈন):
১. মধ্যবর্তী
২. অভ্যন্তরে আছে এমন, ভেতরের
৩. মানসিক

শুদ্ধ বানানটি  'দুর্বিষহ'
'দুর্বিষহ' এর অর্থ = সহ্য করা যায় না এমন।

[উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান]
৪,১৭০.
বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  3. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৭১.
কোনো বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

কমা (,) :
- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
-  পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে।
যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৪,১৭২.
নিম্নের কোন শব্দটি অশুদ্ধ বানানে লেখা?
  1. মনঃক্ষুণ্ণ
  2. অপদস্ত
  3. তিরস্ক্রিয়া
  4. হীনম্মন্যতা
সঠিক উত্তর:
অপদস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপদস্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অপদস্ত।

• শুদ্ধ: অপদস্থ (বিশেষণ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: মনঃক্ষুণ্ণ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মানসিকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন, বিষণ্ণ, হতাশ।

• শুদ্ধ বানান: তিরস্ক্রিয়া,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অবজ্ঞা, অনাদর, র্ভৎসনা।

• হীনম্মন্যতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৭৩.
‘মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।’- এখানে ‘মেঘ থেকে’ কোন কারক
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭৪.
‘তার সঙ্গে কাজ করে শান্তি নেই। চুন থেকে পান খসলেই বকুনি।’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) বচন জনিত
  3. গ) বাগধারা জনিত
  4. ঘ) সমাস জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
পান থেকে চুন খসা একটি বাগধারা যার অর্থ - সামান্য ত্রুটি হওয়া।
সুতরাং সঠিক বাক্যটি হবে - ‘তার সঙ্গে কাজ করে শান্তি নেই। পান থেকে চুন খসলেই বকুনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,১৭৫.
'ভিখারিকে ভিক্ষা দাও'- এখানে 'ভিখারীকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে ৫মী
  2. খ) কর্মে ২য়া
  3. গ) সম্প্রদানে ৪র্থী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদানে ৪র্থী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্প্রদানে ৪র্থী
ব্যাখ্যা
'ভিখারিকে ভিক্ষা দাও' বাক্যে 'ভিখারিকে' শব্দটি সম্প্রদানে ৪র্থী বিভক্তি। 

সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।  
- সমিতিতে চাঁদা দাও। 
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

অপাদান কারক: 
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকে অপাদান কারক বলে।
কয়েকটি অপাদান কারকের উদাহরণ হচ্ছে -
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- টাকায় টাকা হয়। 
- যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৭৬.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  2. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  3. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
  4. ইহার আবশ্যকতা নেই।
সঠিক উত্তর:
বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
- ইহার আবশ্যকতা নেই।
- ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৭৭.
'গাছের ফল পেকেছে'- এখানে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
  1. -র
  2. -এর 
  3. -য়ের
  4. -এ
সঠিক উত্তর:
-এর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
-এর 
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
 বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
যেমন- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- বাক্যটিতে ছাদে (ছাদ + এ বিভক্তি), মা (মা +০ বিভক্তি), শিশুকে (শিশু + কে বিভক্তি), চাঁদ (চাঁদ + 0 বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তিগুলো ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

• বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:

• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: : ০, অ, এ, (য়), তে, এতে। 
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: : ০, অ, কে, রে । 
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। 
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: : এ (য়ে, য়), হইতে, *থেকে, *চেয়ে, *হতে।।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) 

৪,১৭৮.
'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' - বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানান জনিত 
  2. বাহুল্য জনিত
  3. পদক্রম জনিত
  4. যোগ্যতা জনিত
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত 
ব্যাখ্যা

• 'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: বাবা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।

• বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৭৯.
নিচের কোন বানানটি ঠিক?
  1. ক) দূরবীণ
  2. খ) দূরবীন
  3. গ) দূরবিন
  4. ঘ) দুরবিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুরবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুরবিন
ব্যাখ্যা

দুরবিন একটি ফারসি শব্দ। তাই ঊ-কার, ঈ-কার এবং ণ হবে না।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৪,১৮০.
নিচের কোন শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) একতা
  3. গ) দৈন্যতা
  4. ঘ) প্রসারতা
সঠিক উত্তর:
খ) একতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একতা
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে 'একতা'।

• বাকি অপশনগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে-
» ঐক্যতা এর শুদ্ধরূপ হবে 'ঐক্য/একতা'।
»'দৈন্যতা' এর শুদ্ধরূপ হবে দৈন্য/দীনতা।
» 'প্রসারতা' এর শুদ্ধরূপ হবে 'প্রসার'।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৮১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ঐন্দ্রজালিক
  2. ইন্দ্রজালিক
  3. ইন্দ্রিয়জিৎ
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

সবগুলো বানান সঠিক।

• শুদ্ধ বানান - ইন্দ্রজালিক।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দের অর্থ - কুহকী, মায়াবী।

• শুদ্ধ বানান - ঐন্দ্রজালিক।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দের অর্থ - কুহকী, মায়াবী।

• শুদ্ধ বানান - ইন্দ্রিয়জিৎ।
- শব্দের অর্থ - ইন্দ্রিয়কে জয় করে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,১৮২.
যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে - কী বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) ব্যাস বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে,'আমি এসেছি' প্রধান বাক্য আর 'কারণ তোমাকে নিয়ে যাবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।
অনুরূপভাবে প্রশ্নোক্ত বাক্যটিও জটিল বাক্য।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৪,১৮৩.
নিচের কোনটিতে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গাম্ভীর্যতা
  2. অর্ধরাত্রি
  3. সুস্বাস্থ্য
  4. মৈত্রতা
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।

অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৮৪.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিভ্রমপূর্ণ
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৪,১৮৫.
'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে' নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণ কারকে শূন্য বিভক্তি
  2. কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি
  3. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক বা কর্তৃকারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন:
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

-'পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল নামছে।- এই বাক্যে জল কর্তৃকারক।
কারণ নামার ক্রিয়া জল নিজেই সম্পাদন করছে। সুতরাং জল এখানে মুখ্য কর্তায় শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৮৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তিনি শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।
  2. বন্ধুর ভুল সম্পর্কে সতর্কিত করা উচিৎ।
  3. তার কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য নেই।
  4. সাক্ষরতা কর্মসূচি সফল হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
বন্ধুর ভুল সম্পর্কে সতর্কিত করা উচিৎ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধুর ভুল সম্পর্কে সতর্কিত করা উচিৎ।
ব্যাখ্যা
• "বন্ধুর ভুল সম্পর্কে সতর্কিত করা উচিৎ।" - বাক্যটি অশুদ্ধ।

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ:
- বন্ধুর ভুল সম্পর্কে সতর্ক করা উচিত।

আরো কিছু শুদ্ধ বাক্য:
• ইহা প্রমাণিত হয়েছে।
• দুষ্কৃতকারীরা সমাজের শত্রু।
• ইহার আবশ্যকতা নাই।
• নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ক্ষমা কর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৮৭.
বিরাম চিহ্নের নিয়মানুসারে কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) এটা তোমার বই, ঠিক তো?
  2. খ) এটা তোমার বই ঠিক তো?
  3. গ) এটা তোমার বই, ঠিক তো।
  4. ঘ) এটা তোমার বই? ঠিক তো?
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটা তোমার বই? ঠিক তো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটা তোমার বই? ঠিক তো?
ব্যাখ্যা
• এটা তোমার বই? ঠিক তো? - বাক্যটি সঠিক।
• প্রশ্নচিহ্ন (?) - 
১. বাক্যের মধ্যে সোজাসুজি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- যেমন: তোমার নাম কি?
২. সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- যেমন: এটা তোমার বই? ঠিক তো?


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৮৮.
'যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে' বাক্যটি গঠন অনুসারে-
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) খণ্ড বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। এখানে আশ্রিত বাক্য‌ যে পরিশ্রম করে এবং প্রধান খণ্ডবাক্য সে-ই সুখ লাভ করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'লোকছন্দ' বলে আখ্যায়িত করেছেন কোন ছন্দকে?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্ত ছন্দ রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ-
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি খোকন মোদের/ কার বাড়ি।

অন্যদিকে,
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ"তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,১৯০.
কোন বানান টি অশুদ্ধ?
  1. ক) অভিষিক্ত
  2. খ) অভিষবন
  3. গ) অভিশ্রুতি
  4. ঘ) অভিশঙ্কী
সঠিক উত্তর:
খ) অভিষবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অভিষবন
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ- অভিষবন
শুদ্ধ রূপ - অভিষবণ 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অভি+√সু+অন
অর্থ: মদ্যপান।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,১৯১.
শুদ্ধ বানান কোনটি? 
  1. ধ্যাণধারনা
  2. ধ্যানধারনা
  3. ধ্যানধারণা
  4. ধ্যাণধারণা
সঠিক উত্তর:
ধ্যানধারণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্যানধারণা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ধ্যানধারণা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- একাগ্র চিন্তা ও বিশ্বাস,
- স্মরণ ও মনন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৯২.
নিচের কোনটি বিস্ময়সূচক বাক্য?
  1. সে ঢাকা যাবে না।
  2. তোমার মঙ্গল হোক।
  3. তুমি কি লােকটিকে চিন? 
  4. কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
ব্যাখ্যা
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!- বিস্ময়সূচক বাক্য।
------------------------ 
• বিবৃতিমূলক বাক্য: 

এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে-
- সে ঢাকা যাবে না।
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।

• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
- তোমার আজ কি পরীক্ষা?
- তুমি কি লােকটিকে চিন? 

• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৯৩.
বিভক্তি মূলত কী?
  1. বলক
  2. যোজক
  3. লগ্নক
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
লগ্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লগ্নক
ব্যাখ্যা

বিভক্তি:
- বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
যেমন: -এ, -তে,-য়, -য়ে, -কে, -রে, -র, -এর,-য়ের ইত্যাদি।

- লোকে কি না বলে! এই বাক্যে 'লোক' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-এ' বিভক্তি।
- সে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গরু চরাতে গেছে। - এই বাক্যে 'ছেলে' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-কে'
বিভক্তি।
- বাড়ির পুকুরের পাড়ে বড়ো ভাইয়ের কলাবাগান। এই বাক্যে 'বাড়ি', 'পুকুর' এবং 'ভাই' শব্দের সঙ্গে জুড়ে আছে '-র', '-এর' এবং '-য়ের' বিভক্তি।

অন্যদিকে,
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

যোজক:
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

নির্দেশক:

- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, জন, টুকু। নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,১৯৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) দারিদ্রতা
  2. খ) উপযোগিতা
  3. গ) রুগ্ণ
  4. ঘ) কাহিনি
সঠিক উত্তর:
ক) দারিদ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দারিদ্রতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে দারিদ্রতা বানানটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান সম্বলিত এরূপ শব্দ হলো দরিদ্র, দারিদ্র্য, দরিদ্রতা, দারিদ্র।
৪,১৯৫.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  3. আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। উপরিউক্ত বাক্যে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
শুদ্ধ: আমার আর বাঁচার সাধ নাই।

অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
শুদ্ধ: আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৪,১৯৬.
'কাকের পাল এক বিরাট সভা করলো' এই বাক্যে কোন ধরনের ভুল হয়েছে?
  1. ক) পদ জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) সন্ধি জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
ব্যাখ্যা
পাল এবং যূথ শুধু জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। তাই এখানে সঠিক বাক্যটি হবে 'কাকেরা এক বিরাট সভা করলো'৷
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৪,১৯৭.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. অগ্নিষাৎ 
  3. ধূলিষাৎ 
  4. ভূমিষাৎ
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি। ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৯৮.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল'- এটি কোন বাক্য?
  1. সরল
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. জটিল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। 
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
৪,১৯৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মনঃকষ্ট
  2. নিরীক্ষণ
  3. নীর্নিমেষ
  4. তেজস্ক্রিয়তা
সঠিক উত্তর:
নীর্নিমেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীর্নিমেষ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বানান: 

অশুদ্ধ বানান: নীর্নিমেষ; 
- শুদ্ধ রূপ: নির্নিমেষ; 
- শ্রেণি: বিশেষণ; 
- উৎপত্তি: সংস্কৃত; 
- অর্থ: নিমেষহীন, অপলক। 
-------------------------
অন্যদিকে:
• শুদ্ধ বানান: মনঃকষ্ট;
- পদ: বিশেষ্য;
- উৎপত্তি: সংস্কৃত;
- অর্থ: মনের দুঃখ বা মনোবেদনা; মানুষের অন্তর্গত মানসিক যন্ত্রণাকে বোঝায়। 

• শুদ্ধ বানান: নিরীক্ষণ;
- শ্রেণি: বিশেষ্য;
- উৎপত্তি: সংস্কৃত;
- অর্থ: যত্নসহকারে অবলোকন, গভীর পর্যবেক্ষণ। 

• শুদ্ধ বানান: তেজস্ক্রিয়তা;
- শ্রেণি: বিশেষ্য;
- উৎপত্তি: সংস্কৃত;
- অর্থ: নিউক্লিয়াস বিভাজনের ফলে পরমাণুকেন্দ্র থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলফা, বিটা বা গামা রশ্মির বিকিরণ। 

• শুদ্ধ বানান: মনঃকষ্ট।
• মনঃকষ্ট একটি বিশেষ্য পদ, যা সংস্কৃত শব্দ থেকে উদ্ভূত। 
- এর গঠন: মনস্‌ + √কষ্‌ + ত।
-অর্থ হলো মনের দুঃখ বা মনোবেদনা, এটি মানুষের অন্তর্গত মানসিক যন্ত্রণাকে বোঝায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,২০০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. দৃষ্টিকোন
  2. উন্মীলন
  3. নভোঃমণ্ডল
  4. ব্যাথিত
সঠিক উত্তর:
উন্মীলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মীলন
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- 

দৃষ্টিকোণ (দৃশ্‌টিকোন্‌)
[স. দৃষ্টি+কোণ]
- বিশেষ্য

অর্থ - বিশেষ অবস্থা থেকে অবলোকন।
        - দৃষ্টিভঙ্গি।

নভোমণ্ডল (নভোমন্‌ডোল্‌)
[স. নভস্,+মণ্ডল]
- বিশেষ্য
অর্থ - গগনমণ্ডল 
       - আকাশপট 

ব্যথিত (বেথিতো)
- বিশেষণ
[স. √ব্যথি+ত]
অর্থ - সন্তপ্ত, দুঃখপ্রাপ্ত
        - ব্যাথা পেয়েছে এমন, পীড়িত। 


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।