উত্তর
ব্যাখ্যা
'তরুনাস্থি'- বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান: তরুণাস্থি।
• 'তরুণাস্থি' (বিশেষ্য):
- প্রকৃত- প্রত্যয়: তরুণ + √ অস্ + ত'।
- শব্দের অর্থ: 'দেহের নরম ও কোমল হাড়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪১ / ৬৯ · ৪,০০১–৪,১০০ / ৬,৯৫৩
- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই'।
- এখানে ‘কুকুরের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে;
- অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই’ বাক্যটিতে 'কুকুরের' হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• ‘ফারুক ফুটবল খেলে’ প্রশ্নে ‘ফারুক’ কর্তাকারকে শুন্য বিভক্তি।
• 'তিলে তৈল আছে'- অভিব্যাপক আধারাধিকরণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
• ‘বনে সিংহ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি 'এ' বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ক) প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।”
পরোক্ষ উক্তি : হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল।
খ) প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, "দয়া করে ভেতরে আসুন।”
পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
এখানে, অপশনগুলোর 'আয়ত্তীকরণ' বানানটি শুদ্ধ; অর্থ্যাৎ প্রমিত বানানে লেখা।
অন্যদিকে,
বৈপরিত, একত্রিত, ধুলিকণা এদের শুদ্ধরূপ/প্রমিত বানান - বৈপরীত্য, একত্র এবং ধূলিকণা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• ‘কমিশন’ বানানে মূর্ধন্য-ণ হবে না কারণ- বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না।
------------------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দ হলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সেই শব্দগুলো, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে।
- ‘তৎ’ মানে সংস্কৃতের এবং ‘সম’ মানে তুল্য বা অপরিবর্তিত।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম মূলত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- এ নিয়মকে বলা হয় ণত্ব বিধান।
- ণত্ব বিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) নির্দিষ্ট পরিবেশে মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ রূপান্তরিত হয় এবং সেই বানান অবিকৃতভাবেই রাখতে হয়।
- বাংলা তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- উদাহরণসমূহ:
- ইংরেজি: কর্নার, কর্ন, গ্রিন, ফার্নিচার, জার্নাল।
- ফারসি/আরবি: কুরআন, তুফান, নিশান, সুলতান, কোরবান, কামান।
- অন্যান্য: কোম্পানি, লন্ডন, পেনসিল, হর্ন, স্টেনগান।
উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বানান - অদ্ভূত।
- শুদ্ধ বানান - অদ্ভুত।
নিয়ম:
• 'অদ্ভুত' শব্দটি ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ভূত বানানে ঊ-কার হবে।
যেমন:
- ভূতুড়ে,
- উদ্ভূত,
- ভূতপূর্ব,
- পুঞ্জীভূত,
- ঘনীভূত ইত্যাদি।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শিক্ষার উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি করতে হবে- এই বাক্যে ‘উৎকর্ষতা’ শব্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিয়ম:
- বাংলা ভাষায় কিছু প্রত্যয় (যেমন: ই, তা, ত্ব) মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু যদি এগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ্য হিসেবে থাকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তা অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ হয়।
- যেমন-
- বিশেষণ + 'ই' → সঠিক, যেমন: 'ভালো + 'ই' → ভালোই বলতে শুধু ভালো বুঝায়।
- বিশেষ্য + 'তা' → অশুদ্ধ, যেমন: 'উৎকর্ষতা' → এখানে বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ হয়েছে, তাই 'তা' প্রত্যয়টি অপপ্রয়োগ।
- আবার, বিশেষণ + 'তা'→ সঠিক, যেমন: উৎকৃষ্ট + 'তা'→ এখানে 'তা' প্রত্যয়টি বিশেষণের সাথে যুক্ত হয়ে বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করেছে।
- তাই, উৎকর্ষতা’ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।
- এবং সঠিক বাক্যটি হবে- শিক্ষার উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি করতে হবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। অর্থ্যাৎ, একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া যোজক দিয়ে যুক্ত হলে যৌগিক বাক্য হয়।
আবার,
- (এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে )ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিকবাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
অন্যদিকে,
সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
শুদ্ধ শব্দঃ
- ঐকমত্য
- লক্ষণীয়
- খৃস্টাব্দ
- অচিন্তনীয়
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
শুদ্ধ বাক্য- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মাছ আকাশে উড়ে।
[প্রদত্ত বাক্যটিতে যোগ্যতা গুণের অভাব রয়েছে। বাক্যের অন্তর্গত পদ সমুহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা। এই বাক্যে কোন বিশ্বাস যোগ্যতা নেই কারণ মাছ কখনো আকাশে উড়ে না। এটি প্রয়োগগতভাবে অশুদ্ধ।]
খ) তাঁর খুব আনন্দ পেল।
["আনন্দ পাওয়া" এভাবে প্রয়োগ করা অপ্রচলিত ও অশুদ্ধ।]
শুদ্ধ রূপ: 'তাঁর খুব আনন্দ হলো' বা 'তিনি খুব আনন্দিত হলেন'।
ঘ) সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী।
[বাক্যটি বাহুল্যদোষ দুষ্ট। "সকল" শব্দটিই বহুবচন বোঝায়, তাই আবার "ছাত্রগণ" যোগ করা ভুল। শুদ্ধ রূপ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী / ছাত্ররা পাঠে মনোযোগী।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।
- সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর মূর্ধন্য-ষ হয়।
যেমনঃ কল্যাণীয়েষু, সুজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহাস্পদেষু, বন্ধুবরেষু, শ্রীচরণেষু ইত্যাদি।
- সম্ভাষণসূচক স্ত্রীবাচক শব্দে আ কারের পর স হয়।
যেমনঃ সুজনীয়াসু, কল্যাণীয়াসু, মাননীয়াসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, সুচরিতাসু, সুপ্রিয়াসু।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
১. সক্রিয় বাক্য ও
২. অক্রিয় বাক্য।
সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।
অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। মেসি বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার। সে গণিতে দক্ষ।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ :
ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : আমি ঢাকা যাব। বাবা বাড়ি নেই। সারারাত বৃষ্টি ছিলো।
খ. তৃতীয়া বিভক্তি : খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
গ. পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
ঘ. সপ্তমী বা তে বিভক্তি : এ বাড়িতে কেউ নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
‘রাজপথ’ শব্দটির ব্যাসবাক্য - পথের রাজা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
• প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার:
১. কর্তাবাচ্য,
২. কর্মবাচ্য ও
৩. ভাববাচ্য।
১. কর্তৃবাচ্য :
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন— ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয় ।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যথা— শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।
২. কর্মবাচ্য :
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গের ব্যবহার এবং ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
যথা – আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
চোরটা ধরা পড়েছে।
- কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে।
যথা- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
৩. ভাববাচ্য :
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত
হয়। যেমন—
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না।
- আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক বানান - গ) মুমূর্ষু।
সুতরাং সঠিক বাক্যটি হবে - মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুমূর্ষু (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ -
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
- মরণাপন্ন
- মৃতপ্রায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী গোরু, ইগল, ঘুস শুদ্ধ বানান।
কিন্তু ঈদ বিদেশি শব্দ বলে এটাতে ঈ-কার না হয়ে ইদ হবে।
উৎস : বাংলা একাডেমি প্রণীত আধুনিক বাংলা অভিধান
• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও পাপ্পুর গায়ে শক্তি নেই।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'অহংকার পতনের মূল।'- বাক্যে 'অহংকার' শব্দটি করণ কারক।
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি।
• যেমন- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
- এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'।
- সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
----------------------------------------
• "সুন্দরবনে বাঘের ভয় আছে।" - বাক্যের ক্রিয়াকে 'কোথায়' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সুন্দরবনে'।
তাই,
'সুন্দরবনে' - শব্দটি অধিকরণ কারকের উদাহরণ।
উৎস:
- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'শনিবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'শনিবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?
• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'দিবারাত্রি' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দিবারাত্র।
কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী- নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
ষষ্ঠী বিভক্তি হচ্ছে - র, এর।
'এই নদীর মাছ বড়' বাক্যে 'নদী' স্থানকে বুঝায় এবং এর সাথে 'র' যুক্ত আছে;
তাই এটি অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।'- বাক্যটি শুদ্ধ।
তাছাড়া,
ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
ভুল বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ভুল বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
- “অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী” বাক্যটি হলো- প্রবাদ/প্রবচন।
----------------
• ব্যাখ্যা:
- “অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী” বাক্যটি একটি লোকপরম্পরাগত অভিজ্ঞতালব্ধ উক্তি, যা সমাজে প্রচলিত সত্য প্রকাশ করে।
- এই ধরনের বাক্যকে বাংলায় প্রবাদ বা প্রবচন বলা হয়।
- অর্থাৎ, এটি এমন একজন ব্যক্তির অবস্থা বোঝায় যার জ্ঞান সীমিত হলেও সে বড় পণ্ডিতের মতো আচরণ করে, যা পরিণামে বিপত্তি ডেকে আনে।
----------------
অন্যদিকে:
• প্রশ্নবোধক:
- যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হয় তাকে প্রশ্নবোধক বলা হয়।
- এখানে কোনো জিজ্ঞাসা নেই এবং শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নও নেই।
• আদেশমূলক:
- যে বাক্যে আদেশ, উপদেশ বা অনুরোধ বোঝানো হয় তাকে আদেশমূলক বলা হয়।
- এই বাক্য কাউকে কিছু করতে বলছে না, বরং একটি বাস্তবতা বর্ণনা করছে।
• বর্ণনামূলক:
- যদিও এটি সাধারণ বিবৃতি বা বর্ণনামূলক বাক্যের কাঠামো অনুসরণ করে, তবুও এর গভীর তাৎপর্য এবং দীর্ঘকালীন লোকপরম্পরাগত ব্যবহারের কারণে এটি সুনির্দিষ্টভাবে প্রবাদ হিসেবে স্বীকৃত।
- কিন্তু অপশন এ প্রবাদ থাকায় সবচেয়ে যথাযথ উত্তর হচ্ছে- প্রবাদ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।