বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ২৭ / ৬৯ · ২,৬০১২,৭০০ / ৬,৯৫৩

২,৬০১.
সুলিখিত পত্র অনেক সময় কিসের মর্যাদা লাভ করে?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) সাংস্কৃতিক
  4. ঘ) সাহিত্যিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিত্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
• যোগাযোগ এবং ভাব বিনিময়ের জন্য একসময় চিঠি ছিল অপরিহার্য মাধ্যম।
- কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ গাছের পাতায়, ছালে, চামড়ায় এবং ধাতব পাতে লিখত।
- পাতায় লিখত বলেই এর নাম পত্র। সুন্দর, শুদ্ধ চিঠির মাধ্যমে মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, রুচি ও ব্যক্তিত্ব এর প্রকাশ ঘটে।
- সুলিখিত পত্র অনেক সময় সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করে। যেমন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিন্নপত্র।
২,৬০২.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন : ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায় ।
  1. ক) কর্মে সপ্তমী
  2. খ) করণে শূণ্য
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধিকরণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা কাল বা আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
যেমনঃ 
ছাদ থেকে চাঁদ দেখা যায়।
- হতে, থেকে, চেয়ে - পঞ্চমী বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬০৩.
"শিশুটি খেলা করে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্মে শূন্য
  3. কর্তৃকারকে শূন্য
  4. অপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- শিশুটি খেলা করে। 
এখানে, 'ক্রিয়াকে কী দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'খেলা'।
সুতরাং, 'খেলা' এখানে কর্ম কারক। এবং এর সাথে শূন্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ )।
২,৬০৪.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. নিমরাজি
  2. উপহার
  3. স্টেশন
  4. জগতে
সঠিক উত্তর:
জগতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগতে
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী।

• 'জগৎ' শব্দে 'এ' সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত হয়ে গঠিত শব্দ 'জগতে'।

---------------
• বিভক্তি:
যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
বাংলা শব্দে বিভক্তি ৭ প্রকার।
যথা:
• প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ।
• দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে।
• তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক।
• চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর।
• সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
২,৬০৫.
নিচের কোন বাক্যে অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
  2. খ) বাড়ির মালিক যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তা নয়।
  3. গ) তারা একত্রে গমন করলো।
  4. ঘ) সূর্যের উদয় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
গ) তারা একত্রে গমন করলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারা একত্রে গমন করলো।
ব্যাখ্যা

মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
বাড়ির মালিক যে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তা নয়।
সূর্যের উদয় হয়েছে।
বাক্যগুলি সম্পূর্ন সঠিক।

তারা একত্রে গমন করলো। বাক্যটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ রূপঃ তারা একত্র গমন করলো।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬০৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অপশ্রূতি
  2. খ) অপশ্রুতী
  3. গ) অপ্রোশ্রুতি
  4. ঘ) অপশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অপশ্রুতি
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [অপ+√শ্রু+তি]
অর্থ: স্বর ধ্বনির পরিবর্তনসংক্রান্ত গুণ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬০৭.
‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অধিকরণে পঞ্চমী
  4. সম্প্রদানে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ‘পলাতক দাসে দাও স্বাধীনতা’ - এখানে ‘দাসে’ সম্প্রদানে কারকে সপ্তমী বিভক্তি

সম্প্রদান কারক:

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন: 
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও। (সম্প্রদানে ৪র্থী)।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- সমিতিতে চাঁদা দাও। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।
- অন্ধজনে দেহ আলাে। (সম্প্রদানে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬০৮.
'তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।' এখানে 'তেষ্টায়' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের উপকরণ বা উপায়কে বলা হয় করণ কারক।
- অন্যভাবে বলা যায়, কর্তা যে পদের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বলা হয় করণ কারক।
- ক্রিয়াপদকে কিসের দ্বারা, কিসের সাহায্যে বা কী উপায়ে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে করণ কারক পাওয়া যায়।

যেমন:
- সুজলা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়। (উপায়-সাধনায়)
- অহংকারে পতন ঘটে।

এরূপ-
- তেষ্টায় বুকটা ফেটে গেল।
[প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যের ক্রিয়াকে কিসের কারণে বা দ্বারা? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'তেষ্টায়'। অতএব 'তেষ্টায়' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬০৯.
তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'-এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. না-বাচক
  2. হ্যাঁ-বাচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬১০.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  2. তার কপালে ভাত নাই।
  3. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
  4. এমন ভুল আমি করিনা।
সঠিক উত্তর:
এমন ভুল আমি করিনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন ভুল আমি করিনা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করিনা।
শুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করি না।

⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

কিছু উদাহরণ হলো:
- তার কপালে ভাত নাই।
- আমাকে একা রেখে যেও না।

অন্যদিকে,
⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

কিছু উদাহরণ হলো:
- বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬১১.
'আমার যাওয়া হয়নি।' - বাক্যে 'আমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্তায় ষষ্ঠী
  4. কর্তায় দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ষষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
 
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
 
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১২.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. উল্লিখিত
  2. স্বীকারোক্তি
  3. দুরাবস্থা
  4. তদনুসারে
সঠিক উত্তর:
দুরাবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরাবস্থা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: দুরাবস্থা।

• শুদ্ধ বানান: দুরবস্থা,
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দুর্দশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬১৩.
নিচের কোন বানান শুদ্ধ নয়-
  1. কর্ণেল
  2. চক্ষুষ্মান
  3. খ্রিষ্টাব্দ
  4. বিপণী
সঠিক উত্তর:
কর্ণেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণেল
ব্যাখ্যা
• কর্নেল ফরাসি ভাষার শব্দ।

বানানরীতি অনুযায়ী বিদেশি/ অতৎসম শব্দে সবসময়ই দন্ত্য-ন হয়।
তাই 'কর্ণেল' বানানটি অশুদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬১৪.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম-
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল - যোগ্যতা

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

আকাঙক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙক্ষা বলে।
- ছেলেরা খেলে
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া
- উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- 'নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া'।
- উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে'।
- উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-'বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬১৫.
এ জিনিস বেশিদিন টেকে না - এ বাক্যটি কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে।
- অর্থাৎ, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভাল দেখায় না।
[এখানে কর্তা নেই। এখানে কর্ম হল ‘কাজ’। কিন্তু ‘কাজ’ নিজেই কর্তার মত বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।]

- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

• এরূপ, এ জিনিস বেশিদিন টেকে না।- বাক্যটিও  কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬১৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) মাছেরা আকাশে ওড়ে
  2. খ) যদিও সে দরিদ্র, সে চরিত্রবান
  3. গ) যেহেতু সে পড়া শেষ করল, সে ঘুমাতে গেলো
  4. ঘ) আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যসমূহ-
পাখিরা আকাশে ওড়ে।
যদিও সে দরিদ্র, তথাপি সে চরিত্রবান।
যেহেতু সে পড়া শেষ করল, তাই সে ঘুমাতে গেলো।
আমি বহু কষ্টে পাশ করেছি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬১৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অকষ্মাৎ
  2. অকষ্মৎ
  3. আকস্মাৎ
  4. অকস্মাৎ
সঠিক উত্তর:
অকস্মাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকস্মাৎ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অকস্মাৎ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 

অব্যয় পদ, অর্থ- হঠাৎ; সহসা। 
ক্রিয়া পদ, অর্থ- অজানিতভাবে। 
বিশেষণ পদ, অর্থ- কোন কারণ ব্যতীত।  
বিশেষ্য পদ, অর্থ- আকস্মিক প্রাপ্তি বা ঘটনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬১৮.
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. অপদান কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
’রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো’ এই বাক্যে ’বাংলা’ অধিকরণ কারক।

• অধিকরণ কারক:

- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
২,৬১৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ দোষে দুষ্ট নয়?
  1. গ্রাহ্য
  2. পরিত্যজ্য
  3. সাধ্যায়ত্ত
  4. স্বাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ্রাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাহ্য
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - গ্রাহ্য।

অন্যদিকে:
- 'পরিত্যজ্য' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - পরিত্যাজ্য।
- 'সাধ্যায়ত্ত' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - সাধ্য।
- 'স্বাতন্ত্র' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - স্বাতন্ত্র্য। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬২০.
'গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।' বাক্যে 'গগনে' কোন কারক?
  1. অপাদান
  2. করণ
  3. অধিকরণ
  4. কর্ম
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক।
যথা :
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

এরূপ- 
- গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।  
[বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কোথায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় গগনে। সুতরাং 'গগনে' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
২,৬২১.
‘বিস্তারপ্রধান’ নামে অভিহিত করা হয় কোন ছন্দকে?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে  প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে  প্রাকৃত ও  অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য  গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।
 
• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬২২.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) দুরাকাঙখা, বাল্মীকী, মূহুর্মুহু
  2. খ) দুর্ভাবনা, মিথস্ক্রিয়া, ব্যভিচার
  3. গ) ত্রিভূজ, প্রনয়ণ, বিমর্ষ
  4. ঘ) শিহরণ, মরুদ্যান, অঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্ভাবনা, মিথস্ক্রিয়া, ব্যভিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্ভাবনা, মিথস্ক্রিয়া, ব্যভিচার
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানানগুচ্ছ হলো অপশন (খ)
দুর্ভাবনা - দুশ্চিন্তা; অশুভ আশঙ্কা।
ব্যভিচার - অন্যায় আচরণ৷
মিথস্ক্রিয়া - পারস্পরিক ক্রিয়া

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপঃ
দুরাকাঙ্ক্ষা, বাল্মীকি, মুহুর্মুহু, ত্রিভুজ, প্রণয়ন, মরূদ্যান৷

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

২,৬২৩.
"সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।" সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. সে মোটা তার গায়ে শক্তি নেই।
  2. সে মোটা ও তার গায়ে কোনো শক্তি নেই।
  3. সে মোটা এবং শক্তিশালী নয়।
  4. মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও তার গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬২৪.
প্রতিটি বাক্যের অপরিহার্য দুটি অংশ হলো:
  1. ক) ক্রিয়া ও বিশেষণ
  2. খ) কর্ম ও কর্তা
  3. গ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  4. ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬২৫.
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ শনাক্ত করুন-
  1. ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান
  2. কৃতঘ্ন, দণ্ডস্থান, ক্ষণাঙ্গী
  3. জন্মবার্ষিকী, পরিস্কার, পুরস্কার
  4. ইতোমধ্যে, দারিদ্র্য, উৎকর্ষতা
সঠিক উত্তর:
ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ - ভদ্রোচিত, বাঙ্ময়, আয়ুষ্মান।

অন্যদিকে,
- ’উৎকর্ষতা’ শব্দের সঠিকরূপ- উৎকর্ষ।
- ’পরিস্কার’ শব্দের সঠিকরূপ- পরিষ্কার।
- ’ক্ষণাঙ্গী’ শব্দের সঠিকরূপ- ক্ষীণাঙ্গী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬২৬.
‘এ জমিতে সোনা ফলে।’- বাক্যে জমিতে কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন-
আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ - 
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

প্রদত্ত ‘এ জমিতে সোনা ফলে।’ বাক্যকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় জমিতে। সুতরাং ‘জমিতে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৭.
‘অরণ্যে রোদন’ এর পরিবর্তে বাক্যে ‘বনে ক্রন্দন’ ব্যবহার করলে বাক্য তার কোন গুণটি হারাবে?
  1. ক) আকঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাগধারার অর্থ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২৮.
‘বিষয়টা অযৌক্তিক' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. অস্তিবাচক
  2. প্রশ্নবাচক
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।

• প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'বিষয়টা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য।
এর নেতিবাচক রূপ - বিষয়টা যৌক্তিক নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬২৯.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল 
  2. সরল 
  3. যৌগিক 
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
যৌগিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

• এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 

যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে। 

------------------
• সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন-
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৬৩০.
সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"। এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, বাহ দৃশ্যটি চমৎকার।
  2. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি চমৎকার।
  3. সেলিম বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
  4. সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
সঠিক উত্তর:
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তি সেলিম বলল, "বা! কী চমৎকার দৃশ্য"।
পরোক্ষ উক্তি : সেলিম আনন্দের সাথে বলল যে, দৃশ্যটি খুব চমৎকার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৩১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) সভায় অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে
  2. খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
  3. গ) সকল দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই
  4. ঘ) সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে
সঠিক উত্তর:
খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নানুসারে 'অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে' বাক্যটি শুদ্ধ।
- অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলো বহুবচনঘটিত অশুদ্ধ।

• অন্যান্য অপশনের শুদ্ধরূপ:
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছে।
- দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই।
- সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৬৩২.
'ছেলে কাঁদে'- এখানে 'ছেলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
  2. কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
  3. কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  4. কর্তৃকারকে দ্বিতীয় বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক:
প্রথাগত ব্যাকরণ অনুসারে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তা কারক।
যেমন:
- টুম্পা বই পড়ে। কে পড়ে?-টুম্পা; 'টুম্পা' কর্তৃকারক।
- মীরা গান গায়।
- মিতা নাচে। (কাজটি যে করে, সেই কর্তৃকারক।)
 
- অপরের অধীন না হয়ে নিজে ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে কর্তা বলে। কর্তৃকার নির্ণয়ের জন্যে প্রশ্ন হচ্ছে 'কে'?
যেমন-শিক্ষক পড়াচ্ছেন। কে পড়াচ্ছেন? শিক্ষক। এখানে 'শিক্ষক' কর্তৃকারক।
 
কর্তা কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথম বা শূন্য বিভক্তি: 
- বৃষ্টি পড়ে।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- রাজা প্রজা পালন করে।
- ছেলে কাঁদে। [বাক্যেকে কে কাঁদে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ছেলে।]

সুতরাং এখানে ‘ছেলে’ কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
 
• দ্বিতীয়া বিভক্তি:
- আমাকে যেতে হবে।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে ইত্যাদি।
 
• তৃতীয় বিভক্তি: তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
• পঞ্চমী বিভক্তি: আমা হতে এ কাজ হবে না সাধন।
• ষষ্ঠী বিভক্তি: তোমার যাওয়া উচিত।
 
• সপ্তমী বিভক্তি:
- পাগলে কিনা বলে।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে ইত্যাদি।
 
• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ বাক্যে ‘জল’ কর্তা কারক। কারণ এখানে ‘জল’ পড়ার ক্রিয়া নিজেই সম্পাদন করছেন। সুতরাং জল কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৩৩.
কোন শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. কিংবদন্তি
  2. মনকষ্ট
  3. আভ্যন্তর
  4. ব্যতীত
সঠিক উত্তর:
মনকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনকষ্ট
ব্যাখ্যা
মনকষ্ট - শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- 'মনকষ্ট' শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মনের দুঃখ, মনোবেদনা।

অন্যদিকে,
- ব্যতীত, 
- আভ্যন্তর, 
- কিংবদন্তি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৩৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উপর্যুক্ত
  2. স্বায়ত্ত্বশাসন
  3. শ্রদ্ধাঞ্জলী
  4. দারিদ্রতা
সঠিক উত্তর:
উপর্যুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপর্যুক্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- উপর্যুক্ত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উপোর্‌জুক্‌তো।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে উপরি + উক্ত।
- এর অর্থ হচ্ছে পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।

অন্যদিকে,
অপশনের বাকি বানানগুলো অশুদ্ধ।

এগুলোর শুদ্ধ বানান - 
• 'স্বায়ত্ত্বশাসন' এর শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
• 'শ্রদ্ধাঞ্জলী' এর শুদ্ধ বানান - শ্রদ্ধাঞ্জলি।
• 'দারিদ্রতা' এর শুদ্ধ বানান - দরিদ্রতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২,৬৩৫.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্তায় ৬ষ্ঠী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি:  আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৬.
‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যে ‘চোখ’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

• প্রশ্নে প্রদত্ত ‘চোখ দিয়ে পানি পড়ে।’ বাক্যকে কি হতে বা কোথা হতে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চোখ’। সুতরাং ‘চোখ’ অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৭.
কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
  2. আমি অপমান হয়েছি।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন। 

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।

অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অশুদ্ধ: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৩৮.
'কারক' শব্দটির অর্থ?
  1. ক) যা পদকে সম্পাদন করে
  2. খ) যা সমাস সম্পাদন করে
  3. গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
  4. ঘ) যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
সঠিক উত্তর:
গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা
• কারক: 
- কারক (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক, 
- করণ কারক,
- অপাদান কারক, 
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৩৯.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
- যেমন -
-  আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা। 

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
- যেমন ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

- যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ
ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 
২,৬৪০.
'হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন' কবিতাংশটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. লৌকিক ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি- কবিতার চরণদ্বয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে বদ্ধস্বর কখনো একমাত্রা এবং কখনো দুই মাত্রা বহন করে। অর্থাৎ পর্বে মাত্রা গণনা রীতি কোথাও স্বরবৃত্তের আবার কোথাও মাত্রাবৃত্তের মতো বাহিত হয়। বদ্ধস্বর যদি শব্দের প্রথমে বা মাঝে থাকে তবে তা  একমাত্রা সুরের তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মন্থর বা ধীর লয় বা গতির এ ছন্দ সাধারণত দু্ পর্বের হয় এবং ৬, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্বই এ ছন্দে বেশি দেখা যায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাটির অংশ বিশেষ-
হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে অবোধ আমি অবহেলা করি

মাত্রা বিশ্লেষণ:
হে বঙ্ গ ভান্ ডারে কব / বি বি ধ র তন / = ৮+৬ = ১৪
তা স বে অ বোধ আ মি / অ ব হে লা ক রি / = ৮+৬ = ১৪

কবিতাটিতে যুক্তাক্ষরে একমাএা করে আছে। বদ্ধক্ষার শব্দের শুরুতেও আছে আবার শব্দের শেষেও আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৪১.
কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।
  2. খ) সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
  3. গ) বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
  4. ঘ) তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে, 'তার দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।' বাক্যটি সন্ধি জনিত ভুল।
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা হচ্ছে একটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
- তাই সঠিক বাক্যটি হবে 'তার দুরবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৪২.
”আমরা কঠোর পরিশ্রম করি” বাক্যটির কর্মবাচ্যরূপ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করা লাগবে।
  2. আমার দ্বারা কঠোর পরিশ্রম হয়।
  3. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  4. কঠোর পরিশ্রম আমাদের কাজ।
সঠিক উত্তর:
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
ব্যাখ্যা
• কর্তাবাচ্য: আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
• কর্মবাচ্য: আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
-----------------------------
• কর্মবাচ্য থেকে কর্তাবাচ্য রূপান্তর:
- কর্মবাচ্যের বাক্যকে কর্তাবাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে যুক্ত দ্বারা, দিয়ে,কর্তৃক প্রভৃতি অনুসর্গ বাদ দিতে হয় এবং ক্রিয়াকে কর্তার অনুসারী করতে হয়।
যেমন
- কর্মবাচ্য: প্রধানশিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।
- কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৬৪৩.
নিচের কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
===============
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
------------------ 
অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৪৪.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) অক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

সরল বাক্যঃ একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

২,৬৪৫.
‘ছাদ থেকে পানি পড়ে।’- বাক্যে ‘ছাদ’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
⇒ 'ছাদ থেকে পানি পড়ে।'-বাক্যে পানি ছাদ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে তাই ‘ছাদ’ অপাদান কারক আর পানি নিজে নিজে পড়ছে কেউ তাকে ফেলছে না তাই পানি কর্তৃকারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৬.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. মহিমমণ্ডিত
  3. জ্যোতিরিন্দ্র
  4. অদ্যবধি
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ - অদ্যবধি। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্র,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৪৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নীহারিকা
  2. খ) ন্যূনতম
  3. গ) কন্টক
  4. ঘ) নির্নিমেষ
সঠিক উত্তর:
গ) কন্টক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কন্টক
ব্যাখ্যা
কন্টক- বানানটি অশুদ্ধ। 
এর সঠিক বানান- কণ্টক।

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে,
- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ- য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ 'ণ' হয়। 
যেমন: কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে,
কণ্টক (তৎসম) শব্দের অর্থ- লতাগুল্ম বা গাছের সুচালো অংশ, কাঁটা;

• নীহারিকা (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- 
মহাকাশে অবস্থিত নক্ষত্রপুঞ্জ; আকাশে দৃশ্যমান নক্ষত্রসদৃশ বহুবিস্তৃত বাষ্পীয় পদার্থ;

• ন্যূনতম শব্দের অর্থ- সর্বনিম্ন। 

• নির্নিমেষ (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- 
নিমেষহীন; পলকহীন 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানারের নিয়ম।
২,৬৪৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পুরহিত
  2. ত্রহস্পর্শ
  3. অপরাহ্ণ
  4. মহত্ব
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অপরাহ্ণ- বানানটি শুদ্ধ।

• অন্য অপশনের অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ বানান:
পুরহিত - পুরোহিত,
ত্রহস্পর্শ - ত্র্যহস্পর্শ, 
মহত্ব - মহত্ত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,৬৪৯.
যা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) বিজ্ঞপ্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) অনুজ্ঞা
  4. ঘ) কারক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কারক
ব্যাখ্যা
• কারক শব্দটির অর্থ হলো- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৫০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শষাঙ্ক
  2. শশাঙ্ক
  3. শসাঙ্ক
  4. শসাংক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শশাঙ্ক
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- চন্দ্র, চাঁদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৫১.
বাক্যের শেষে কোন যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্নগুলো বসে?
  1. দাড়ি, কমা ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. বিস্ময়, দাঁড়ি ও সেমিকোলন চিহ্ন
  3. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও কমা চিহ্ন
  4. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। এগুলো হলো:
- দাঁড়ি চিহ্ন,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং
- বিস্ময় চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৫২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পূর্বসূরী
  2. ভন্ডামী
  3. ভৎসনা
  4. ভগ্নোৎসাহ
সঠিক উত্তর:
ভগ্নোৎসাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নোৎসাহ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ভগ্নোৎসাহ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: উৎসাহ হারিয়েছে এমন, হতোদ্যম, হতাশ।

অন্যান্য বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
• পূর্বসূরি (বিশেষ্য পদ),
-  এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: অগ্রজ বিদ্বান ব্যক্তি, পূর্বযুগের জ্ঞানী।

• ভণ্ডামি (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: প্রতারণা, ছল, চাতুরী।

• ভর্ৎসনা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: তিরস্কার, নিন্দা, ধমক, আক্ষেপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৫৩.
শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে কোনটি? 
  1. বীনিবর্তন
  2. বিনিবর্তন
  3. বিনিবর্তণ
  4. বিনীবর্তন
সঠিক উত্তর:
বিনিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিবর্তন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান : বিনিবর্তন 
এর অর্থ- পুনরায় আগমন বা গমন, বিরতি। 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
২,৬৫৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ভুতপূর্ব
  2. খ) ভুতপুর্ব
  3. গ) ভূতপূর্ব
  4. ঘ) ভুতপর্ব
সঠিক উত্তর:
গ) ভূতপূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা
-  এখানে শুদ্ধ বানান হলো 'ভূতপূর্ব'

আরও কিছু শুদ্ধ বানান হলো-
বর্ণচোরা।
মিতব্যয়ী।
কৃতার্থম্মন্য।
ক্রন্দসী ।
আদ্যন্ত।
অনাদি।
অবগাহন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
২,৬৫৫.
ছড়ার ছন্দকে কী বলে?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. গদ্যছন্দ
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়।
- প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উদাহরণ-
খোকন খোকন/ ডাক পাড়ি
খোকন মোদের/ কার বাড়ি।

অন্যদিকে,
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ“তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'; যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
২,৬৫৬.
সুজন দেখ তো কে এসেছে - বাক্যের মাঝে কোন যতিচিহ্ন বসবে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) কমা
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কমা
ব্যাখ্যা
বাক্যের মাঝে কমা ( , ) যতিচিহ্ন বসবে।
- বাক্যটি হবে এরূপ - সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা এর ব্যবহার: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ, ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন- 
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
২,৬৫৭.
"তিরষ্কার ও ভাস্কর বানান লিখতে অনেকেই ভুল করে।" - এখানে ‘তিরষ্কার’, ‘ভাস্কর’- শব্দ দুটি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. প্রথমটি সঠিক, দ্বিতীয়টি ভুল
  2. প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক
  3. দুটোই ভুল
  4. দুটোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক
ব্যাখ্যা

• "তিরষ্কার ও ভাস্কর বানান লিখতে অনেকেই ভুল করে।" - এখানে ‘তিরষ্কার’, ‘ভাস্কর’- শব্দ দুটির মধ্যে- প্রথমটি ভুল, দ্বিতীয়টি সঠিক।

• র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যেমন - পরিষ্কার; তিরস্কার।
কিন্তু, অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - পুরস্কার; ভাস্কর।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা বানানের নিয়ম- ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৫৮.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন।
  1. আনুষাঙ্গিক
  2. অনুষাঙ্গিক
  3. অনুষঙ্গিক
  4. আনুষঙ্গিক
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - আনুষঙ্গিক
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট, প্রাসঙ্গিক।
- গৌণ, অপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৫৯.
অপাদান কারকের উদাহরণ কোনটি?
  1. গ্যাসে গাড়ি চলে।
  2. বনে বাঘ থাকে।
  3. খেজুর রসে গুড় হয়।
  4. জিজ্ঞাসিব জনে জনে
সঠিক উত্তর:
খেজুর রসে গুড় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেজুর রসে গুড় হয়।
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।

অন্যদিকে, 
• করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
বনে বাঘ থাকে।- অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
• 'জিজ্ঞাসিব জনে জনে।' প্রশ্নে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) Achivement
  2. খ) Acheivment
  3. গ) Achievement
  4. ঘ) Acheivement
সঠিক উত্তর:
গ) Achievement
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Achievement
ব্যাখ্যা
Achievement (noun):
Meaning - A thing done successfully with effort, skill, or courage.
বাংলা - অর্জন; সিদ্ধি; সিদ্ধিলাভ।
২,৬৬১.
”যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।”-বাক্যটির সরল বাক্যরূপ কোনটি?
  1. নির্বোধরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  2. নির্বোধরা যে কোন কথা বিশ্বাস করবে।
  3. নির্বোধরা এ কথা বিশ্বাস করবে না।
  4. নির্বোধরা সকল কথা বিশ্বাস করবে।
সঠিক উত্তর:
নির্বোধরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বোধরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খণ্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- জটিল বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
- সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

- জটিল বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
- সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

- জটিল বাক্য: যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।
- সরল বাক্য: মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

২,৬৬২.
পুরাঘটিত অতীতের প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যটিতে?
  1. ক) তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
  2. খ) তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  3. গ) তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
  4. ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীতের প্রয়োগ ঘটেছে - খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে - এই বাক্যটিতে। 

পুরাঘটিত অতীত অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে। 

বাকি অপশনগুলোর মধ্যে - 

তখন বাতিটা জ্বলে উঠল এবং তারা সেখানে বেড়াতে গেল। এই বাক্য দুইটি - সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
সাধারণ অতীত: অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। 

তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত - নিত্য অতীত।
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৬৩.
'Every shoe fits not every foot' এর সঠিক অনুবাদ -
  1. মরা হাতি লাখ টাকা দাম।
  2. অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।
  3. মায়ের হাতে গড়া শিশুই জগতের ভাগ্য নির্ধারক।
  4. অধিকন্তু  ন দোষায়।
সঠিক উত্তর:
অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।
ব্যাখ্যা
• 'Every shoe fits not every foot' এর সঠিক অনুবাদ - অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।

অন্যদিকে,
- 'The more, the merrier' এর সঠিক অনুবাদ - অধিকন্তু  ন দোষায়।
- 'The hand that rocks the cradle rules the world' এর সঠিক অনুবাদ - মায়ের হাতে গড়া শিশুই জগতের ভাগ্য নির্ধারক।
- 'The very ruins of greatness are great' এর সঠিক অনুবাদ - মরা হাতি লাখ টাকা দাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৬৪.
মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে করলে, বললে, চললে, এলে, গেলে, থাকলে, চাইলে ইত্যাদি অসমাপিকা ক্রিয়া, অর্থাৎ ‘লে’ যুক্ত থাকলে সরল বাক্য হবে। যেমন :
পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। 
মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ
২,৬৬৫.
বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে-
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. কমা
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি' যতিচিহ্ন:
- দাঁড়ি অর্থ পূর্ণচ্ছেদ।
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।


অন্যদিকে, 
--------------------
• কমা:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীনে বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- সুজন, দেখ তোকে আসছে।

• সেমিকোলন:
- সেমিকোলন অর্থ হচ্ছে 'অর্ধচ্ছেদ'।
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছব্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না।

• কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থানের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিন্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৬৬৬.
'তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।' - এখানে 'তোমার' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
  4. করণে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক।
- দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
- তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্পদান কারক হয় না।
যেমন:
- ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।  (সম্প্রদানে ৬ষ্ঠী)

অন্যদিকে,
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।

অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৬৭.
বাংলা সাহিত্যে ছন্দ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৩ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ছন্দ: 
- কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল।
- হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
 
• এর প্রধান শাখা হচ্ছে তিনটি:
- মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত।
 
• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
 
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে স্বরধ্বনির সংখ্যার উপর পর্বের মাত্রা সংখ্যা নির্ভরশীল, তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে।
- উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৮.
'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না'।- বাক্যটির সরল রূপ -
  1. ক) অনেক দেখা হলো তবুও দেখা শেষ হলো না।
  2. খ) অনেক দেখা হলেও দেখা শেষ হলো না।
  3. গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
  4. ঘ) অনেক দেখেও দেখাই শেষ হইল না।
সঠিক উত্তর:
গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
ব্যাখ্যা
'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না'।- বাক্যটির সরল রূপ - অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।
- 'অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না' -
বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:

যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরলবাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। যেমন -

যৌগিক বাক্য: অনেক দেখা হলো বটে তবু দেখা শেষ হলো না।
সরল বাক্য: অনেক দেখেও দেখা শেষ হলো না।

যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়। 
সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি।

২,৬৬৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. নিশিথিনি
  2. নিশীথিনী
  3. নিশিথীনী
  4. নিশীথীনি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিশীথিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশীথিনী
ব্যাখ্যা

নিশীথিনী (বিশেষ্য) - রাত্রি; রজনী।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) নিশীথ + ইন্‌(ইনি) + ঈ(ঙীষ্‌)}

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

২,৬৭০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) অগ্রবর্তী
  2. খ) অঙ্কনিয়
  3. গ) অকৃত্রীম
  4. ঘ) অঙ্গপ্রতঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্রবর্তী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = অগ্রবর্তী

 বানান গুলোর শুদ্ধরূপ হলো: 
অশুদ্ধ- অঙ্কনিয়
শুদ্ধ- অঙ্কনীয়
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- √অঙ্ক্+অনীয়
অর্থ: আঁকার যোগ্য, চিত্রণীয়, লেখনীয়।

অশুদ্ধ বানান - অকৃত্রীম
শুদ্ধ বানান - অকৃত্রিম
-সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - ন+কৃত্রিম
অর্থ: বিশুদ্ধ, খাঁটি, আসল ইত্যাদি।

অশুদ্ধ- অঙ্গপ্রতঙ্গ
শুদ্ধ- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- অঙ্গ+প্রতি+অঙ্গ
অর্থ: দেহের হাত পা প্রভৃতি অঙ্গ, দৈহিক অবয়ক।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৬৭১.
'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক
  নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক
  এল মহাজন্মের / লগ্ন।' এটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক 
নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক 
এল মহাজন্মের / লগ্ন।' এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সর্বদা বিশ্লিষ্ট ভঙ্গিতে উচ্চারিত হয়ে দুমাত্রার মর্যাদা পায় এবং অযুগ্মধ্বনি একমাত্রা বলে গণনা করা হয় তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক।
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
যেমন - 
'সুরলোকে বেজে ওঠে / শঙ্ক (৮ + ৩)
নরলোকে বাজে জয় / ডঙ্ক (৮ + ৩)
এল মহাজন্মের / লগ্ন।' (৮ + ৩)
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) মহিমমণ্ডিত
  2. খ) অপকর্ষ
  3. গ) অতলস্পর্শ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অপশনের সবগুলো শব্দের প্রয়োগই শুদ্ধ।
২,৬৭৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. একের লাঠি দশের বোঝা।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত?
  3. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  4. কালীদাস খ্যাতমান কবি।
সঠিক উত্তর:
এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
ব্যাখ্যা

এটা লজ্জাকর ব্যাপার। - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: একের লাঠি দশের বোঝা।
শুদ্ধ: দশের লাঠি একের বোঝা।

অশুদ্ধ: সব মাছগুলোর দাম কত?
শুদ্ধ : সব মাছের দাম কত?

অশুদ্ধ: কালীদাস খ্যাতমান কবি।
শুদ্ধ : কালিদাস খ্যাতিমান কবি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৭৪.
বাক্যে 'বিরামচিহ্ন' কেন ব্যবহৃত হয়?
  1. বাক্য সংকোচনের জন্যে
  2. বাক্যকে অলংকৃত করার জন্যে
  3. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্যে
  4. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
ব্যাখ্যা

• বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য- বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য,
- বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে,
- বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য,
- যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরাম- চিহ্ন।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৭৫.
‘জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।’- বাক্যে ‘জ্ঞানে’ কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

• সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।

• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
২,৬৭৬.
'উৎকর্ষতা' কি কারণে অশুদ্ধ?
  1. ক) সন্ধিজনিত
  2. খ) প্রত্যয়জনিত
  3. গ) উপসর্গজনিত
  4. ঘ) বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
উৎকর্ষ একটি বিশেষ্য পদ। যার বিশেষণ হলাে উৎকৃষ্টতা যা দ্বারা বস্তুর, ভাবের বা রুচির উৎকর্ষ বুঝায়।
সুতারাং, উৎকর্ষতা - এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ রূপ হবে - উৎকর্ষ অথবা উৎকৃষ্টতা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৭৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি সাক্ষ্য দিব না।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল
  4. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিব না।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

তাছাড়া,
- অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

- অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
- শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল।
- শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৭৮.
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. কীর্তিমান হইলে মৃত্যু হয় না।
  2. কীর্তিমান মানেই তার মৃত্যু নেই।
  3. তারা কীর্তিমান, তাই তাদের মৃত্যু নেই।
  4. যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
সঠিক উত্তর:
যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।
ব্যাখ্যা
"কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।" এই বাক্যটির জটিল রূপ হবে "যারা কীর্তিমান, তাদের মৃত্যু নেই।"

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে খন্ডবাক্যে পরিণত করতে হয় এবং উভয়ের সংযোগ বিধানে সম্বন্ধসূচক (যদি, তবে, যে, সে প্রভৃতি) পদের সাহায্যে উক্ত খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যটিকে পরস্পর সাপেক্ষ করতে হয়।
যথা:
- সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
-জটিল বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

- সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
- জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৬৭৯.
‘বিপদে অধীর হইও না।’- বাক্যে বিপদে কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- আধার (স্থান): আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়): সকালে সূর্য উঠবে।

এরূপ-
• ‘বিপদে অধীর হইও না।’
- [বাক্যকে (কখন অধীর হইও না?) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় ‘বিপদে’। সুতরাং বিপদে অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• অধিকরণ কারকের উদাহরণ-
- তিলে তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অতিষ্ট
  2. অন্যপুর্বা
  3. অচিন্তনীয়
  4. শ্বাশত
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান - অচিন্তনীয়।
অর্থ- অভাবনীয়।

অন্যদিকে,
• 'অতিষ্ট' এর শুদ্ধ বানান- অতিষ্ঠ।
• 'অন্যপুর্বা' এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৮১.
বিরোধ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
  2. খ) তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
  3. গ) চা না-হয় কফি খান।
  4. ঘ) যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
সঠিক উত্তর:
খ) তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৬৮২.
নিচের কোন গুচ্ছের সবকটি বানানই প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ?
  1. কিংবদন্তী, শ্রেণী, মঞ্জুরী
  2. কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি
  3. কিংবদন্তী, শ্রেণি, মঞ্জুরী
  4. কিংবদন্তি, শ্রেণী, মঞ্জুরি
সঠিক উত্তর:
কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি
ব্যাখ্যা

কিংবদন্তি, শ্রেণি, মঞ্জুরি - গুচ্ছের সবকটি বানানই প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধ

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে।
তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৮৩.
কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. অদ্যবধি
  3. অনটন
  4. পৃথগন্ন
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি - অদ্যবধি
• এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি। এর সন্ধিবিচ্ছেদ - অদ্য + অবধি।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৬৮৪.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড় শুদ্ধ?
  1. ক) ঔদ্ধত্য - গম্ভীর
  2. খ) সরল - সোজা
  3. গ) উচাটন - উত্তাল
  4. ঘ) আকুঞ্চন - প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকুঞ্চন - প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকুঞ্চন - প্রসারণ
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে সঠিক বিপরীত শব্দজোড় হল আকুঞ্চন - প্রসারণ।
অন্য শব্দজোড়ের সঠিক বিপরীত রূপ হচ্ছে-
ঔদ্ধত্য - বিনয়,
সরল - গরল
উচাটন - প্রশান্ত

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৮৫.
"সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
যৌগিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, 
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২,৬৮৬.
'চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।'- বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়-
  1. চাটুকারকে সবাই পছন্দ না করে পারে না।
  2. চাটুকারকে সবাই পছন্দ করতে পারে না।
  3. চাটুকারকে কেউ অপছন্দ করে না।
  4. চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
সঠিক উত্তর:
চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: চাটুকারকে সবাই অপছন্দ করে।
নেতিবাচক: চাটুকারকে কেউ পছন্দ করে না।

অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রনালি
  2. প্রোজ্জল
  3. কূপমণ্ডূক
  4. প্রনয়ন
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'কূপমণ্ডূক'।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- 'প্রনালি' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রণালি।
- 'প্রোজ্জল' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রোজ্জ্বল।
- 'প্রনয়ন' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রণয়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৮৮.
দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ
  2. ১ মিনিট
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলেতে যে সময় প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আশ্ঢ় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৬৮৯.
শুদ্ধ বানান -
  1. দুষণীয়
  2. জ্বরাজীর্ণ
  3. আধ্যাত্মিক
  4. উপরোক্ত
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - আধ্যাত্মিক
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- পারমার্থিক,
- আত্মা থেকে জাত,
- আত্মাসম্বন্ধীয়।

অন্যদিকে,
উপরোক্ত – উপর্যুক্ত, 
জ্বরাজীর্ণ – জরাজীর্ণ, 
দুষণীয় – দূষণীয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
২,৬৯০.
বানানের ক্ষেত্রে নিচের কোন নিয়মটি সঠিক?
  1. ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
  2. খ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম কোনো শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণে ঈ-কার যুক্ত হবে না।
  3. গ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের পর বিসর্গ যুক্ত হবে।
  4. ঘ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হবে।
সঠিক উত্তর:
ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
ব্যাখ্যা
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯১.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যারগুলোর সমাধান সম্ভব'–বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত ভুল
  2. খ) পদক্রম জনিত অশুদ্ধি
  3. গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  4. ঘ) বাচ্যজনিত ভুল
সঠিক উত্তর:
গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
কোন শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
তাই উল্লিখিত বাক্যে 'সমস্যাগুলোর' না হয়ে 'সমস্যা' হবে।
অর্থাৎ, সঠিক বাক্য- 'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৯২.
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি
  2. খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
  3. গ) অবলার মুখ ই বল
  4. ঘ) ঠাকুরঘরে কে? আমি কলা খাই নি
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
ব্যাখ্যা

- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৯৩.
'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য' বাক্যটির শুদ্ধরূপ কী হবে?
  1. রচনাটির উৎকর্য অনস্বীকার্য
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
  3. রচনার উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
  4. রচনাটির উৎকর্শ অনস্বীকার্য
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
ব্যাখ্যা
• 'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।'- বাক্যটি সঠিক নয়।
বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘উৎকর্ষ’ (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষ্য। 

আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
সুতরাং ’উৎকর্ষতা’ শব্দটি ভুল।

• তাই, বাক্যটি হবে- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য। 

 • তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২,৬৯৪.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন।
  1. ভস্মীভূত
  2. ভস্মীভুত
  3. ভষ্মীভূত
  4. ভষ্মীভুত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভস্মীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভস্মীভূত
ব্যাখ্যা

• সঠিক বানান - ভস্মীভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

'ভস্মীভূত' শব্দের অর্থ - আগুনে পুড়ে ভস্মে পরিণত বা সম্পূর্ণ বিনাশপ্রাপ্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৯৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ নয়?
  1. ক) প্রাণীবিদ্যা
  2. খ) মনঃকষ্ট
  3. গ) মন্ত্রীসভা
  4. ঘ) শিরচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
খ) মনঃকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা

অপশনগুলোর মধ্যে "মনঃকষ্ট" বানানটি শুদ্ধ।

অন্য শব্দগুলোর সঠিক রূপ হচ্ছে-
প্রাণীবিদ্যা (হবে না) - প্রাণিবিদ্যা (হবে),
মন্ত্রীসভা - মন্ত্রিসভা
শিরচ্ছেদ - শিরশ্ছেদ।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ।

২,৬৯৬.
আবেগসূচক বাক্য কোনটি?
  1. সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
  2. শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!
  3. এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
  4. যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
সঠিক উত্তর:
শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!
ব্যাখ্যা
• বিস্ময়বোধক বাক্য- শীতে দরিদ্র মানুষের কী কষ্ট!

---------------
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে? 
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো। 

অন্যদিকে, 
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৬৯৭.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. আয়ত্ত
  2. প্রয়োজনীয়তা
  3. অধীন
  4. কদাপি
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এই শব্দের শুদ্ধরূপ - প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- আয়ত্ত,
- অধীন,
- কদাপি।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৬৯৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি? 
  1.  সহপাঠিনী
  2. সহপাঠীনী
  3. সহপাঠীনি
  4. সহপাঠিনি
সঠিক উত্তর:
 সহপাঠিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সহপাঠিনী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - সহপাঠিনী
- ‘সহপাঠিনী’ হচ্ছে “সহপাঠী” এর স্ত্রীবাচক শব্দ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- একই বিদ্যায়তনে ও শ্রেণিতে অধ্যয়নকারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২,৬৯৯.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) আমাকে অনেক বই কিনতে হবে
  2. খ) কামাল কর্তৃক খাতা কেনা হবে
  3. গ) আমাকেই আমেরিকা যেতে হবে
  4. ঘ) ছেলেরা খেলা দেখছে
সঠিক উত্তর:
গ) আমাকেই আমেরিকা যেতে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমাকেই আমেরিকা যেতে হবে
ব্যাখ্যা
আমাকেই আমেরিকা যেতে হবে- ভাববাচ্যের উদাহরণ। 

ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। 

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে কর্তৃপদে 'র' 'এর' বা 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়। 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)
- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,৭০০.
'নতুন নতুন আবিষ্কার তাকে পুরস্কাররের দাবিদার করেছে।'- এই বাক্যে ষ/স এর ব্যবহার- 
  1. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ 
  2. দুটোই অশুদ্ধ
  3. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  4.  দুটোই শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
 দুটোই শুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 দুটোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'নতুন নতুন আবিষ্কার তাকে পুরস্কাররের দাবিদার করেছে।' বাক্যে আবিষ্কার ও পুরস্কার শব্দের বানানে 'ষ ও স' উভয় এর ব্যবহার শুদ্ধ। 

বানানের নিয়ম:

• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।