• সরল বাক্য:
- সরল বাক্য সেই বাক্য, যার মধ্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
- যেমন- সে ভাত খেয়ে কলেজে গেল।
- অনেক সময় সরল বাক্যে ক্রিয়া উপস্থিত না থেকেও অর্থ প্রকাশ সম্ভব।
- যেমন- আমরা চার বন্ধু।
- এছাড়া, একাধিক ক্রিয়া থাকলেও বাক্যটি সরল থাকতে পারে।
- যেমন- সে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে হাঁটতে পার্কে গেল।
- মূলত, সরল বাক্যে একটি প্রধান ক্রিয়া বা সমাপিকা ক্রিয়া থাকলেই এটি সরল বাক্য হিসেবে গণ্য হয়।
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য"- সরল বাক্যটির জটিল রূপ- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
- ব্যাখ্যা:
- সরল বাক্য “দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”-কে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- সূত্র অনুযায়ী:
• সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার:
- সরল বাক্যের “দুর্জন লোক” অংশটি যে দিয়ে শুরু করে আশ্রিত খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা হয়েছে → “যে লোক দুর্জন”।
• খণ্ডবাক্য নির্ধারণ:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে লোক দুর্জন;
- প্রধান খণ্ডবাক্য: সে পরিত্যাজ্য।
• কমা ব্যবহার:
- আশ্রিত খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসিয়ে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
- ফলত, “যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।” বাক্যটি একটি জটিল বাক্য, যেখানে একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য আছে, এবং অর্থ মূল বাক্যের মতই রক্ষা করা হয়েছে।
-------------------
অন্যদিকে,
• দুর্জন লোককে পরিত্যাগ করা উচিত-
- এটি একটি সরল বাক্য, কোনো আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।
• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য-
- এটি ও একটি সরল বাক্য, শুধু মূল ভাব প্রকাশ করেছে, আশ্রিত খণ্ডবাক্য নেই।
• দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাগ করতে হবে-
- এটি একটি সরল বাক্য, যার মধ্যে কোনো আশ্রিত বা প্রধান খণ্ডবাক্য নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।