উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
নাচতে না জনালে উঠান বাঁকা।
দশের লাঠি একের বোঝা।
ঝিকে মেরে বউকে শেখান।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১ / ৬৯ · ১–১০০ / ৬,৯৫৩
প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। মনোভাব প্রকাশের বেলায় একটা ভাব একটিমাত্র বাক্যে শেষ হয়ে সন্নিহিত ভাবের নতুন বাক্য শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়। অর্থাৎ একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্বন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে।
• সেমিকোলন-চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন। ব্যবহার করা হয়।
- সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
- যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমম- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অভাবে স্বভাব নষ্ট - Necessity hath no law or knows no law.
অন্যদিকে,
অতীতের কথা তুলে দুঃখ করে লাভ নেই - It is no use crying over spilt milk.
অতিলোভে তাঁতি নষ্ট - Grasp all lose all.
অতি বাড় বেড়ো না ঝড়ে পড়ে যাবে; বা অতি দর্পে হতো লঙ্কা - Pride growth before destruction.
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বানান- দেবী।
----------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে ঈ-কারের ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় খাঁটি সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার বসে।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জননী, নারী, স্ত্রী, সাধ্বী, গাভী, দেবী, কুমারী ইত্যাদি।
-------------
• ব্যতিক্রম:
- তৎসম না হওয়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার করা হয়।
- যেমন—
- মাসি, পিসি, দাদি।
- এছাড়াও, তৎসম শব্দে যদি ঈ-কারান্ত শব্দের সঙ্গে ‘-ত’, ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে ঈ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়ে লেখা হয়।
- যেমন-
- 'দায়ী' থেকে 'দায়িত্ব',
- 'সহযোগী' থেকে 'সহযোগিতা',
- 'মন্ত্রী' থেকে 'মন্ত্রিত্ব।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
যতিচিহ্নের বিরতি-কাল-পরিমাণ:
- দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড।
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন ( - ) বিরামের সময় - থাকার প্রয়োজন নেই।
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি ( । ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ( : ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ ( :- ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• "ভৌগলিক' এবং 'অধঃগতি' বানান লিখতে অনেকেই ভূল করে।" - এ বাক্যে ৩টি বানান অশুদ্ধ।
বিশ্লেষণ:
ভৌগলিক: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভৌগোলিক।
অধঃগতি: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - অধোগতি।
ভূল: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো - ভুল।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
ম্যাও ধরা - দায়িত্ব নেওয়া
হাতে-পায়ে ধরা - অনুরোধ করা
গলা ধরা - কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া
গোঁ ধরা - একগুয়েমি করা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
সেমিকোলন ( ; ):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়।
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না।
- সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।
যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।
অন্যদিকে,
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা কতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর — খ) সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে।
ব্যাখ্যা:
প্রত্যক্ষ উক্তি: বলল সোহেল, "আমি এখানে থাকব"।
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: সোহেল বলল যে, সে সেখানে থাকবে।
উক্তি রূপান্তরের নিয়মসমূহ:
১. পুরুষের পরিবর্তন:
"আমি" → "সে" (প্রথম পুরুষ থেকে তৃতীয় পুরুষে)।
২. স্থানের পরিবর্তন:
"এখানে" → "সেখানে" (নিকট স্থান থেকে দূর স্থানে)।
৩. বাক্য গঠন:
উদ্ধৃতি চিহ্ন সরিয়ে "যে" সংযোজক অব্যয়।
৪. ক্রিয়ার রূপ:
"থাকব" → "থাকবে" (পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তন)।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে) এবং পুরুষ পরিবর্তন হয়নি।
গ) পুরুষ ও স্থান পরিবর্তন হয়নি ("আমি এখানে" রয়ে গেছে)।
ঘ) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
- গুরুচণ্ডালী দোষ বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ। এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
- গুরুচণ্ডালী দোষ গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ।
শুদ্ধরূপঃ
- গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
নিমিত্তার্থে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়।
যেমন: বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।
সম্প্রদান কারকে কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় না।
যাকে কিছু দেওয়া হয় তা সম্প্রদান। আর যা দেওয়া হয় তা কর্ম।
যেমন: ভিখারীকে (সম্প্রদানে ৪র্থী) ভিক্ষা (কর্মে শূন্য) দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- শঙ্কিত চিত্তে সে বলল ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'বাবার শরীর খারাপ, শোওয়া হয়নি।'- ভাববাচ্য।
• ভাববাচ্য :
- বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে।
- এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না।
- এ ধরনের বাক্যে কর্তায়- ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
- মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়।
- কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে।
• যেমন-
- আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)।
- তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
সৌন্দর্য শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ।
- অধীনস্থ শব্দে শুদ্ধরূপ অধীন
- শ্রেষ্ঠতর শব্দের শুদ্ধরূপ শ্রেষ্ঠ
- সারল্যতা শব্দের শুদ্ধরূপ সারল্য/সরলতা
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- 'কুজ্ঝটিকা'।
- 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ: কুহেলিকা, কুয়াশা।
- সন্ধিবিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।
• কিছু শুদ্ধ বানান:
- উর্ধ্ব- ঊর্ধ্ব,
- পিঁপীলীকা- পিপীলিকা,
- কোষ্ঠকাটিন্য- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- আমাবশ্যা - অমাবস্যা,
- অত্যাধিক - অত্যধিক,
- কটুক্তি - কটূক্তি,
- ভূল - ভুল।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়।
- সেমিকোলনের বিরতিকাল - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড':
যেমন:
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- পূজা অঙ্কে কাঁচা।
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালে সংস্করণ)।
• উপরিউক্ত সবগুলো বাক্য অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ: হীন চরিত্রবান লোক পশ্বাধম।
শুদ্ধ: চরিত্রহীন লোক পশ্বধম।
অশুদ্ধ: তার অন্তর অজ্ঞান সমুদ্রে আচ্ছন্ন।
শুদ্ধ: তার অন্তর তিমিরাচ্ছন্ন।
অশুদ্ধ: সবিনয় পূর্বক নিবেদন করি।
শুদ্ধ: বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত।
একটি সংস্কৃত শব্দ।
[অভি+√ভূ+ত]
অর্থ:
১) বিহ্বল, ভাবাবিষ্ট।
২) পরাভূত।
৩) আক্রান্ত।
অন্যদিকে,
- দুরাকাঙ্ক্ষা, মাধ্যাকর্ষণ ও ভাগীরথী বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - পূণ্য।
- এর শুদ্ধ বানান - পুণ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
• 'পুণ্য' শব্দের অর্থ:
- সৎকর্মের ফল,
- সওয়াব।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ:
- পুঙ্খানুপুঙ্খ,
- অন্তস্তল,
- কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ- বৈচিত্র্যতা।
- শব্দটির শুদ্ধরূপ- বিচিত্রতা, বৈচিত্র্য;
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:
অপপ্রয়োগ - প্রয়োগ:
দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য, দরিদ্রতা;
সৌজন্যতা = সৌজন্য;
দৈন্যতা = দীনতা, দৈন্য;
কার্পণ্যতা = কার্পণ্য, কৃপণতা;
গাম্ভীর্যতা = গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা;
চাঞ্চল্যতা = চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা;
চাতুর্যতা = চাতুর্য, চতুরতা;
চাপল্যতা = চাপল্য, চপলতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-
• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'
----------------------
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।
• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।
⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।
অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: তার কপালে ভাত নাই।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
- আমায় একা রেখে যেও না।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
প্রশ্ন: 'সেমিকোলন' চিহ্নের বাংলা পরিভাষা কী?
সমাধান:
'সেমিকোলন'- এর বাংলা অর্থ অর্ধচ্ছেদ।
• সেমিকোলন:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়। যেমন - সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।