বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৪ / ৬৯ · ১,৩০১১,৪০০ / ৬,৯৫৩

১,৩০১.
'করাতে কাটে কাঠ'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘করাতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব 'করাতে কাটে কাঠ' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাছ কাটে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় কড়াতে। তাই ‘করাতে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
১,৩০২.
কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. কামাল বললেন যে, সে আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  2. কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. কামাল বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  4. কামাল বললেন, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১,৩০৩.
'কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো' এর ইংরেজি অনুবাদ কী?
  1. The authorities criticised him.
  2. The authorities took him to book.
  3. The authorities take him to task.
  4. The authorities took him to task.
সঠিক উত্তর:
The authorities took him to task.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The authorities took him to task.
ব্যাখ্যা
'কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো' এর ইংরেজি অনুবাদ: The authorities took him to task.

উল্লেখ্য,
- কাউকে তিরস্কার করা অর্থে - Take someone to task এই phrase টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৪.
অশুদ্ধ বানান -
  1. কূপমণ্ডূক
  2. কৃচ্ছ্বসাধন
  3. বিভূতিভূষণ
  4. নিরুপম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৃচ্ছ্বসাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃচ্ছ্বসাধন
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - কৃচ্ছ্বসাধন
- শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

অন্যদিকে,
- কূপমণ্ডূক, বিভূতিভূষণ এবং নিরুপম - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩০৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. করোজ্জল 
  2. কর্তব্যবিমূঢ়
  3. করুণানিধী 
  4. কল্পনাপ্রসুত
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যবিমূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তব্যবিমূঢ়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- কর্তব্যবিমূঢ়। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- কর্তব্য স্থির করতে অক্ষম এমন।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- করুণানিধি, করোজ্জ্বল,  কল্পনাপ্রসূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৩০৬.
'সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত'- বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. দুর্বোধ্যতার দোষে
  2. বাহুল্য দোষে
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে। যার ফলে শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে থাকে।
সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত বাক্যটিতে 'আলেমগণ' বহুবচন বাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সকল' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- আলেমগণ আজ উপস্থিত অথবা সকল আলেম আজ উপস্থিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) নূপুর
  2. খ) নুপুর
  3. গ) নূপুর
  4. ঘ) নুপূর
সঠিক উত্তর:
ক) নূপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নূপুর
ব্যাখ্যা
নূপুর (বিশেষ্য) ঘুঙুর; মঞ্জির; শিঞ্জিনী; পায়ের অলঙ্কারবিশেষ (নূপুর বাজে তার রিমঝিমি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১,৩০৮.
কোনটি সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ?
  1. পিতৃহারা
  2. নিরহঙ্কার
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরভিমানী
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা
• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- অর্ধরাত্র,
- নিরহঙ্কার,
- পিতৃহারা।
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩০৯.
‘তিনি অনেকদিন ধরে বহু কষ্ট করে সাঁতার শিখেছেন’ কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) খণ্ড
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা

একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় বিশিষ্ট বাক্যকে সরল বাক্য বলে।
এ বাক্যে একটি কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় এটি একটি সরল বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১০.
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে কী বলে?
  1. ব্যতিহার কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. প্রযোজ্য কর্তা
সঠিক উত্তর:
প্রযোজ্য কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
যেমন -
→ খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
→ মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

• কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা:
১. মুখ্য কর্তা:
যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে সে মুখ্য কর্তা।
যেমন -
- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

২. প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন -
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন

৩. প্রযোজ্য কর্তা:
মূল কর্তার করণীয় কার্য যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। - বাক্যে 'ছাত্র' প্রযোজ্য কর্তা।
তদ্রুপ - রাখাল (প্রযোজক) গরুকে (প্রযোজ্য কর্তা) ঘাস খাওয়ায়।

৪. ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন -
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তাম্বুলিক
  2. তাম্বূলিক
  3. তাম্বুলীক
  4. তাম্বূলীক
সঠিক উত্তর:
তাম্বূলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্বূলিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - তাম্বূলিক (বিশেষ্য)।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = তাম্বূল + ইক।
- অর্থ: পান ব্যবসায়ী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অভাগিনী
  2. অপদস্ত
  3. অনাবাদি
  4. অব্যার্থ
সঠিক উত্তর:
অনাবাদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবাদি
ব্যাখ্যা
⇒ শুদ্ধ বানান: অনাবাদি।
অর্থ: অকর্ষিত; চাষাবাদের অযোগ্য।
 
অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ শব্দ: অভাগিনি।
অর্থ: ভাগ্যহীন, হতভাগ্য।

• শুদ্ধ: অপদস্থ।
অর্থ: লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

• শুদ্ধ: অব্যর্থ।
অর্থ: কখনো বিফল হয় না এমন, অমোঘ, সার্থক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) শশ্মান
  2. খ) অগ্নিবীণা
  3. গ) বাল্মীকি
  4. ঘ) শিরশ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
ক) শশ্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শশ্মান
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = 'শশ্মান'
শুদ্ধ বানান- শ্মশান (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = শ্মন্‌+শান
অর্থ: যেখানে মৃতদেহ দাহ করা হয়, শব দাহের স্থান। 

শুদ্ধ বানান গুলো হলো:
• শুদ্ধ বানান - অগ্নিবীণা (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অগ্নি+√বী+ন+আ(টাপ)
অর্থ:
- রুদ্রবীণা 
- কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থবিশেষ।

• বাল্মীকি (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = বাল্মীক+ই 
অর্থ: রামায়ণের প্রণেতা কবি ও মুনি, আদিকবি। 

• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = শিরস্‌+ছেদ 
অর্থ: মাথা কেটে ছিন্নকরণ। 
                                                                                            
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩১৪.
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) গরু
  2. খ) রাখাল
  3. গ) বৃক্ষ
  4. ঘ) জানালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ = জানালা

গবাক্ষ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = গো+√অক্ষ্‌+অ 
অর্থ:
- আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেয়ালে নির্মিত পথ, ঘুলঘুলি।
- জানালা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩১৫.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
•মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা-
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
- সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
-আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি'।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১,৩১৬.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
  3. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
• শুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১৭.
"আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।" - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক? 
  1. অপাদান
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

যেমন:
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিক্বণ
  2. অনূর্ধ্ব
  3. আত্নস্থ
  4. জ্যোতিষ্মান
সঠিক উত্তর:
আত্নস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্নস্থ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'আত্নস্থ'।
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'আত্মস্থ'।

• শব্দটির অর্থ:
- আত্মগত; আত্মনিষ্ঠ, প্রকৃতিস্থ, আত্মসমাহিত, আত্মনিমগ্ন।

অন্যদিকে,
- অনূর্ধ্ব,
- নিক্বণ,
- জ্যোতিষ্মান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩১৯.
"অনুষ্ঠানে পুরষ্কার নিতে আসা অতিথিরা অপরিস্কার পরিবেশের কারণে কিছুটা হতাশ ছিলেন"- -বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. দুটোই অশুদ্ধ
  4. দুটোই শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• "অনুষ্ঠানে পুরষ্কার নিতে আসা অতিথিরা অপরিস্কার পরিবেশের কারণে কিছুটা হতাশ ছিলেন"- 

• প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যে পুরষ্কার ও পরিস্কার দুইটি বানানই অশুদ্ধ।
• বানানের শুদ্ধরূপ হলো: পুরস্কার ও অপরিষ্কার।

----------------------
• নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২০.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ সঠিক বানানে লিখা?
  1. ক) পিপীলিকা, ভূত, তরিৎ
  2. খ) পিশাচ, জ্যোতীষি, ভ্রাতৃত্ব
  3. গ) ব্যাভিচার, আহুতি, শ্বশ্রূ
  4. ঘ) সূচ্যগ্র, শ্মশ্রু, ত্যাজ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূচ্যগ্র, শ্মশ্রু, ত্যাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূচ্যগ্র, শ্মশ্রু, ত্যাজ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানে লিখা শব্দগুচ্ছ হলো - সূচ্যগ্র, শ্মশ্রু, ত্যাজ্য।
অন্যান্য শব্দগুচ্ছে ‘তড়িৎ (বিদ্যুৎ) / ত্বরিত (দ্রুত)’, ‘জ্যোতিষী’, ও ‘ব্যভিচার’ বানান ভুল লিখা আছে।
উল্লেখ্য, শ্মশ্রু - গোঁফদাড়ি এবং শ্বশ্রূ - শাশুড়ি
সূত্রঃ বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।

১,৩২১.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে 'বাবা' কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অপাদান কারক
- 'বাবাকে বড্ড ভয় পাই - বাক্যে 'বাবা' হলেন ভয়ের কারণ, তাই এটি অপাদান কারক।  
- ভয় পাওয়ার বিষয়টি 'বাবা'-র কাছ থেকে আসছে, তাই 'বাবাকে' শব্দটি অপাদান কারকে 'কে' বা দ্বিতীয়া বিভক্তিযুক্ত হয়েছে।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- উদাহরণ: মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- উদাহরণ: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বা দিয়ে বিভক্তি
- উদাহরণ: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। 

ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- উদাহরণ: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- উদাহরণ: বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- উদাহরণ: লোকমুখে শুনেছি। তিলে তৈল হয়।

য় বিভক্তি:
- উদাহরণ: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১,৩২২.
কোন বাক্যটিতে সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
  2. তােমার দেখা পেলাম না।
  3. আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
  4. তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।
সঠিক উত্তর:
তােমার দেখা পেলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তােমার দেখা পেলাম না।
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘র’, -এর’, -য়ের’, ‘কার’, ‘কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
• ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
• আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
• তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতাে মাইলের পর মাইল।

অন্যদিকে, 
তােমার দেখা পেলাম না = কর্ম কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩২৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অত্যাধিক
  2. অতিথি
  3. অচিন্ত্যনীয়
  4. অদ্ভূত
সঠিক উত্তর:
অতিথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিথি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অতিথি (বিশেষ্য পদ)। 
- সংস্কৃত শব্দ, 
অর্থ:
- গৃহে আগত ব্যক্তি,
- মেহমান;
- আগন্তুক।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অচিন্ত্যনীয় - অচিন্তনীয়। 
• অত্যাধিক - অত্যধিক। 
• অদ্ভূত - অদ্ভুত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩২৪.
’যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব’ বাক্যটির যৌগিক রূপ কী?
  1. সে আর আমি কাল যাব
  2. সে কাল আসবে এবং আমি যাব
  3. সে গেলে আমি যাব
  4. সে কাল আসলেই আমি যাব
সঠিক উত্তর:
সে কাল আসবে এবং আমি যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে কাল আসবে এবং আমি যাব
ব্যাখ্যা
•  জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়।
যেমন-
 
জটিল বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য : সে কাল আসবে এবং আমি যাব।

আরো উদাহরণ:
- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
- যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।

- জটিল বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
- যৌগিক বাক্য:তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ২০২৮ সালের সংস্করণ।
১,৩২৫.
ঈনী, নী প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) যোগিনী
  4. ঘ) কুমারিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
ব্যাখ্যা
নী প্রত্যয় যোগে সঠিক শব্দ হলো - কুমারনী, জেলেনী, ধোপানী। ঈনী, নী যোগে গঠিত শুদ্ধ শব্দ- মায়াবিনী, কুহকিনী, যোগিনী, মেধাবিনী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩২৬.
ভাবের সুসংগত প্রসারণের নাম-
  1. মর্মার্থ
  2. ভাবার্থ
  3. ভাব-সম্প্রসারণ
  4. সারভাব
সঠিক উত্তর:
ভাব-সম্প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাব-সম্প্রসারণ
ব্যাখ্যা
ভাবের সুসংগত প্রসারণের নাম - ভাব-সম্প্রসারণ

• ভাব-সম্প্রসারণ: 
- ভাব-সম্প্রসারণে ভাবের সম্প্রসারণ ঘটে।
- ভাবের সার্থক ও সুসংগত প্রসারণই ভাব-সম্প্রসারণ
- কোনো কবিতা বা গদ্যরচনার অংশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে। 

• ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:
- ভাব-সম্প্রসারণকে প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত করা যায়: প্রথম অংশে ভাবের অর্থ, দ্বিতীয় অংশে ভাবের ব্যাখ্যা এবং তৃতীয় অংশে ভাবের তাৎপর্য।
- ভাব-সম্প্রসারণের এই অংশগুলোকে আলাদা তিনটি অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করা যায়।
- ভাবের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তি দেখাতে হয়, উদাহরণ দিতে হয়, তুলনা করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণের বাক্যগুলো যাতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে ।
- ভাব-সম্প্রসারণে আলাদা কোনো শিরোনামের দরকার হয় না।
- মূল ভাবটি রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকলে তাকে স্পষ্ট করতে হয়।
- ভাব-সম্প্রসারণ করার সময়ে প্রদত্ত অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করতে হয় না।
- কমবেশি ২০০ শব্দ অথবা অনধিক ২০টি বাক্যের মধ্যে ভাব-সম্প্রসারণ সীমিত থাকা উচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩২৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অদ্যপি
  2. অদ্যাপি
  3. অদ্যপী
  4. অদ্যাপী
সঠিক উত্তর:
অদ্যাপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাপি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'অদ্যাপি'
- অব্যয় পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩২৮.
"তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন।" - এখানে ‘অন্ধকার থেকে’ কোন কারক?
  1. কর্মকারক 
  2. করণকারক 
  3. অপাদান কারক 
  4. অধিকরণ কারক 
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক 
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন -
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।

- তিনি অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলেন। এখানে 'অন্ধকার থেকে' বিচ্যুতির স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করছে, তাই এটি অপাদান কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩২৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বাগীশ্বর
  2. বাগীশর
  3. বাগিশ্বর
  4. বাগেশ্বরি
সঠিক উত্তর:
বাগীশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগীশ্বর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'বাগীশ্বর'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বাক্‌ + ঈশ্বর।
অর্থ:
- কথা বলা বা বক্তৃতায় পারদর্শী ব্যক্তি,
- বাক্‌পতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৩০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ বানান নয়?
  1. ক) ভূরিস
  2. খ) ঊর্ধ্বগামী
  3. গ) সূচ্যগ্র
  4. ঘ) অনূর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
ক) ভূরিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভূরিস
ব্যাখ্যা
- ভূরিস বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান ভূরিশ।

এর অর্থ 
১. প্রচুর পরিমাণে 
২. অনেকবার বারবার 

 উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
১,৩৩১.
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দাও। কোন কারক?
  1. ক) কর্তৃ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) কর্ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্ম
ব্যাখ্যা
সমবায় সমিতিতে চাঁদা দিলে সুদসহ ফেরত পাওয়া যায়। সুতরাং এটি কর্মকারক হবে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৩৩২.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
  2. যারা সৎ তারা সুখী।
  3. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
  4. আমার যে সাইকেলটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
• দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যারা সৎ তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে সাইকেলটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৩৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) দুরবিন
  2. খ) স্বাস্থ্য
  3. গ) প্রয়োজনীয়তা
  4. ঘ) দুরবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হবে : প্রয়োজন
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১,৩৩৪.
Q 7 - 9: সঠিক বানান নির্ণয় করুন:
  1. অনুষঙ্গিক
  2. অনুসঙ্গিক
  3. আনুষঙ্গিক
  4. আনুসঙ্গিক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'আনুষঙ্গিক'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - অনুষঙ্গ + ইক।
এর অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট;
- প্রাসঙ্গিক।
- গৌণ;
- অপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৩৫.
"কমা" চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।

যেমন:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
১,৩৩৬.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) উর্ধ
  2. খ) অত্যান্ত
  3. গ) উচিৎ
  4. ঘ) নুপূর
  5. ঙ) কোনােটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনােটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
'উর্ধ'  এর শুদ্ধরূপ-ঊর্ধ্ব 
'অত্যান্ত' এর শুদ্ধরূপ-অত্যন্ত 
'উচিৎ'  এর শুদ্ধরূপ-উচিত 
'নুপূর' এর শুদ্ধরূপ-নূপুর 

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড.হায়াৎ মাহমুদ ]
১,৩৩৭.
‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি _____ বাক্য।
  1. ক) অস্তিবাচক
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) সমবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা
- ‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি অস্তিবাচক বাক্য।
- বাক্যটির নেতিবাচক রূপ  ‘প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই’।
- এখানে এ দুটো বাক্যের মূলভাবের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
১,৩৩৮.
নিচের কোনটি সরল বাক্য?
  1. আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন।
  2. সে এখানে এল এবং বসে পড়ল।
  3. পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
  4. লোকটি নিরক্ষর কিন্তু অভদ্র নয়।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।

এরূপ- 
- পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
[ এটিও একটি সরল বাক্য। বাক্যে (একটি কর্তা + একটি বিধেয়) রয়েছে।] 

অন্যদিকে,
• আমরা তিন ভাই এবং দুই বোন।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• সে এখানে এল এবং বসে পড়ল।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• লোকটি নিরক্ষর কিন্তু অভদ্র নয়।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৩৯.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
  2. পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
  3. যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
  4. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।• • সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি। এরূপ-
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে,
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৪০.
"নাঠ্যকার নাঠকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত ষ্ক্রিনে চোখ রাখলেন।" - বাক্যটিতে কয়টি বানানে ভুল রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি:
"নাঠ্যকার নাঠকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত ষ্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

এখানে ভুল বানানগুলো চিহ্নিত করি:
নাঠ্যকার → ভুল বানান; সঠিক: নাট্যকার।
নাঠকের → ভুল বানান; সঠিক: নাটকের।
স্ক্রিপ্ট → সঠিক বানান।
স্ক্রিনে → ষ্ক্রিনে → ভুল বানান। সঠিক বানান: স্ক্রিনে।

মোট ভুল বানান: ৩টি।

সঠিক বাক্য হবে:
"নাট্যকার নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত স্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

শুদ্ধ বাক্যটি হবে- 
"নাট্যকার নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে ক্রমাগত স্ক্রিনে চোখ রাখলেন।"

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৪১.
“দুধ থেকে দই হয়”- এখানে ‘দুধ থেকে’ কোন অর্থে অপাদান?
  1. ক) গৃহীত
  2. খ) জাত
  3. গ) আরম্ভ
  4. ঘ) বিচ্যুত
সঠিক উত্তর:
ক) গৃহীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গৃহীত
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
বিচ্যুত :
- গাছ থেকে আম পড়ে।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।

গৃহীত :
- সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- দুধ থেকে দই হয়।

আরম্ভ : রবিবার থেকে পরিক্ষা শুরু।

- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।

১,৩৪২.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অদ্যবধি
  2. নিরপরাধী
  3. ব্যূহ
  4. শুধুমাত্র
সঠিক উত্তর:
ব্যূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যূহ
ব্যাখ্যা
• 'ব্যূহ' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'ব্যূহ' শব্দের অর্থ - সেনাবিন্যাসের পৌরাণিক কৌশল। 

অন্যদিকে,
 • 'অদ্যবধি', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: অদ্যাবধি।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'শুধুমাত্র', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শুধু / মাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৪৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দুরারোগ্য
  2. ভষ্মীভূত
  3. নির্নিমেষ
  4. মনোহারিতা
সঠিক উত্তর:
ভষ্মীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভষ্মীভূত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'ভষ্মীভূত'
- এর শুদ্ধরূপ - 'ভস্মীভূত'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- আগুনে পুড়ে ভস্মে পরিণত বা সম্পূর্ণ বিনাশপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে,
- নির্নিমেষ, মনোহারিতা এবং দুরারোগ্য  শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৪৪.
'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে’ বাক্যটিতে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক।
 যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ –কলম),
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় – সাধনা)।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

কর্মকারক:
- কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৪৫.
যতিচিহ্নের অপর নাম কী?
  1. ক) বিস্ময়চিহ্ন
  2. খ) পূর্ণচ্ছেদ
  3. গ) বিরতিচিহ্ন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বিরতিচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্ন বলা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি  
১,৩৪৬.
প্রমিত বাংলায় কোন রূপটি অধিক গ্রহণযোগ্য?
  1. পদবী
  2. পদবি
  3. পদোবি
  4. পদবি/পদবী উভয়ই
সঠিক উত্তর:
পদবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদবি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,৩৪৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. গূড়
  2. মূখ্য
  3. শ্রদ্ধাস্পদ
  4. শুশ্রুষা
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাস্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রদ্ধাস্পদ
ব্যাখ্যা
• শ্রদ্ধাস্পদ- বানানটি শুদ্ধ।
শব্দের অর্থ: শ্রদ্ধাভাজন। 

অন্য অপশন,

• 'গূড়' শুদ্ধ বানান- গূঢ়। 
শব্দের অর্থ: গুপ্ত, লুকায়িত

• 'মূখ্য' শুদ্ধ বানান- মুখ্য।
শব্দের অর্থ: প্রধান, শ্রেষ্ঠ। 

• 'শুশ্রুষা' শুদ্ধ বানান- শুশ্রূষা।
শব্দের অর্থ: পরিচর্যা, সেবা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৪৮.
'বিষয়টি ভালো শোনায় না' কোন ধরনের বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য 
  2. ভাববাচ্য 
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- বিষয়টি ভালো শোনায় না।
- বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৪৯.
'একক উদ্ধৃতি চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতি কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক উচ্চরণে যে সময় লাগে
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
এক উচ্চরণে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক উচ্চরণে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
• কোলন- এক সেকেন্ড।
• ড্যাস- এক সেকেন্ড।
• কোলন- ড্যাস এক সেকেন্ড।
• হাইফেন- থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) থামার প্রয়োজন নেই।
• ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫০.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।
  2. বিদ্বান হলেও তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।
  3. বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
  4. সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
সঠিক উত্তর:
বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন – তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু -সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন অপ্রধান খণ্ডবাক্য 'যা - তা' সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা যুক্ত হয়ে ভাব প্রকাশ করছে।]

অন্যদিকে,
• পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।
• বিদ্বান হলেও তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।
• সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।

অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫১.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. তোমার সঙ্গে গোপন পরামর্শ আছে
  2. বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে
  3. মেয়েটি দারুণ সবুদ্ধিমতী
  4. আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
- বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছেে এই বাক্যটি সঠিক।
- আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই এই বাক্যে বিদ্বান শব্দটি হল পুরুষ বাচক শব্দ।
- মেয়েটি দারুণ সবুদ্ধিমতী এই বাক্যর সবুদ্ধিমতী শব্দটি সঠিক নয়।
- তোমার সঙ্গে গোপন পরামর্শ আছে এই বাক্যটির আধিক্য দোষ আছে, পরামর্শ গোপন হয়।তাই গোপন পরামর্শ লেখার দরকার নেই।
১,৩৫২.
‘শুধু শুধু বনে ক্রন্দন করে কাজ হবে না।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যােগ্যতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
- এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

•‘বনে ক্রন্দন করে লাভ নেই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রযোগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: শুধু শুধু অরণ্যে রোদন করে কাজ হবে না।
- ‘অরণ্যে রোদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।

------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিরূপম
  2. বাল্মিকী
  3. প্রোজ্জল
  4. কূপমণ্ডূক
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কূপমণ্ডূক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'কূপমণ্ডূক'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- 'নিরূপম' শব্দের শুদ্ধ বানান - নিরুপম।
- 'প্রোজ্জল' শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রোজ্জ্বল।
- 'বাল্মিকী' শব্দের শুদ্ধ বানান - বাল্মীকি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৫৪.
নিচের কোনটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. জেনানা
  2. জুম্মা
  3. জেহাদ
  4. জেল্লা
সঠিক উত্তর:
জেনানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনানা
ব্যাখ্যা
• জেনানা (বিশেষ্য),
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: পত্নী, নারী, অন্তঃপুরবাসিনী।

অন্যদিকে,
• জুম্মা (বিশেষ্য),
- আরবি শব্দ।
অর্থ: শুক্রবারের দুপুরে অনুষ্ঠিত নামাজের জামাত ও খুতবা পাঠ করা হয়।

• জেল্লা (বিশেষ্য),
- আরবি শব্দ।
অর্থ: ঔজ্জ্বল্য, চাকচক্য, চেকনাই ইত্যাদি।

• জেহাদ (বিশেষ্য),
- আরবি শব্দ।
অর্থ: সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই, ধর্মরক্ষার নামে অন্যায় যুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৫৫.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
  2. গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজী, কাজ ফুরালে হজী।
  3. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  4. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দশচক্রে ভগবান ভূত।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধবাক্য: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
• শুদ্ধবাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত।

• অশুদ্ধবাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
• শুদ্ধবাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

• অশুদ্ধবাক্য: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজী, কাজ ফুরালে হাজী।
• শুদ্ধবাক্য: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজী, কাজ ফুরালে পাজী।

• অশুদ্ধবাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
• শুদ্ধবাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫৬.
তোমাকে বাড়ি যেতে হবে। - উক্ত বাক্যে 'তোমাকে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে।
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
- অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
- তোমাকে বাড়ি যেতে হবে।

- কর্তা কারকে কখনো কখনো -এ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন
- পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা - হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫৭.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  2. সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
  3. হামিদ বই পড়ছে আর সীমা রান্না করছে।
  4. পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
  5. যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
সঠিক উত্তর:
সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।

অন্যদিকে,
• যৌগিক বাক্য: হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
• জটিল বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
• পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৫৮.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) কে এই ভাগ্যবান মহিলা?
  2. খ) তোমার মতো এমন বুদ্ধিমান বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখি নি।
  3. গ) বেগম রোকেয়া একজন বিদুষী মহিলা।
  4. ঘ) সবগুলো শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) বেগম রোকেয়া একজন বিদুষী মহিলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেগম রোকেয়া একজন বিদুষী মহিলা।
ব্যাখ্যা

অপশন ক ও খ -তে প্রদত্ত বাক্যে লিঙ্গ-সঙ্গতি জনিত ভুল রয়েছে।
স্ত্রীবাচক শব্দের আগে স্ত্রীবাচক বিশেষণ বসে।
ক) ও খ দুটি বাক্যের শুদ্ধরূপঃ
- কে এই ভাগ্যবতী মহিলা?
- তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখি নি।

অপশন গ) এ প্রদত্ত বাক্যটি শুদ্ধ। বিদ্বান - এর স্ত্রীবাচক শব্দ - বিদুষী

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমী অভিধান।

১,৩৫৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  3. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
সঠিক উত্তর:
তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৬০.
"সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।" বাক্যে "সূর্যোদয়ে" কোন কারক নির্দেশ করে?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. বিষয়াধিকরণ
  3. কালাধিকরণ
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
ভাবাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবাধিকরণ
ব্যাখ্যা
ভাবাধিকরণ:
- একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে নির্ভরশীল ক্রিয়াপদটি ভাববাচকে পরিণত হয়ে অধিকরণ হলে, তাকে ভাবাধিকরণ কারক বলে।

যেমন:
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

অন্যদিকে,
স্থানাধিকরণ:
- যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে স্থানাধিকরণ কারক বলে।
যেমন: জলে কুমির থাকে।

কালাধিকরণ:
- যে কালে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকে কালাধিকরণ কারক বলে।
যেমন: শরতে শাপলা ফোটে।

বিষয়াধিকরণ:
- কোনো বিষয়ে দক্ষতা বা অক্ষমতা প্রকাশে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হলে, তাকে বিষয়াধিকরণ কারক বলে।
যেমন: তিনি ইংরেজিতে ভালো। শফিক গণিতে কাঁচা। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৬১.
"শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য বিভক্তি 
  2. করণে শূন্য বিভক্তি 
  3. করণে সপ্তমী বিভক্তি 
  4. অধিকরণে শূন্য বিভক্তি 
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য বিভক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• "শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি। 

• কর্ম কারক:
-  যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- ক্রিয়াকে কি/কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উদাহরণ: "আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।" এখানে 'আমারে' কর্মকারকে ৪র্থী বিভক্তি।

উল্লেখ্য,
'ভুঁই' অর্থ - [বিশেষ্য পদ] ভূমি, মেধ, মাটি; স্থান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৩৬২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আহূত
  2. দুতালি
  3. দুর্বা
  4. দুরুহ
সঠিক উত্তর:
আহূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহূত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - 'আহূত'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- আহ্বান করা হয়েছে এমন।

অন্যদিকে:
শুদ্ধ বানান - 'দূতালি'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দূতগিরি।

শুদ্ধ বানান - 'দূর্বা'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সারাবছর ঘনবিন্যস্তভাবে বেড়ে ওঠে এমন সরু পাতা ও কাণ্ডবিশিষ্ট ভেষজ-গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ তৃণবিশেষ।

• শুদ্ধ বানান - দুরূহ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৬৩.
'বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।'- বাক্যে 'বাঘে-মহিষে' কী ধরনের কর্তা?
  1. মুখ্য কর্তা
  2. প্রযোজ্য কর্তা
  3. ব্যতিহার কর্তা
  4. প্রযোজক কর্তা
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার কর্তা
ব্যাখ্যা
• ব্যতিহার কর্তা:
কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
রাজায়-রাজায় লড়াই।
বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে,
----------------
• মুখ্য কর্তা:
যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
- কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

• প্রযোজ্য কর্তা:
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন:
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে 'মা' প্রযোজক কর্তা, 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, 'চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

• প্রযোজক কর্তা:
মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৩৬৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অধগতি
  2. অধোঃগতি
  3. অধঃগতি
  4. অধোগতি
সঠিক উত্তর:
অধোগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধোগতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বংলা অভিধান অনুসারে,
'অধোগতি'- বানানটি শুদ্ধ।

• 'অধোগতি' অর্থ:
- নিম্নগতি। অধঃপতন।

• অন্য অপশনের বানানগুলো অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বংলা অভিধান।
১,৩৬৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অভিষেক
  2. কল্যাণীয়েসু
  3. শ্রদ্ধাভাজনেসু
  4. প্রত্যূষ
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিষেক
ব্যাখ্যা

বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
অভিষেক বানানটি সঠিক।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: কল্যাণীয়েসু।
- শুদ্ধ: কল্যাণীয়েষু।

- অশুদ্ধ: শ্রদ্ধাভাজনেসু।
- শুদ্ধ: শ্রদ্ধাভাজনেষু।

- অশুদ্ধ: প্রত্যূষ।
- শুদ্ধ: প্রত্যুষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩৬৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিমিলীত
  2. নিমীলিত
  3. নীমীলীত
  4. নীমীলিত
  5. নির্মীলিত
সঠিক উত্তর:
নিমীলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমীলিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নিমীলিত' - শুদ্ধ বানান।

• 'নিমীলিত' শব্দের অর্থ: 
- মুদিত।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৬৭.
‘তিনি ব্যাকরণে  পণ্ডিত’ বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. অপাদান কারকে সপ্তমী
  4. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
⇒ অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘য়ে’, ‘তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।

- তেমনিভাবে, "তিনি ব্যাকরণে পণ্ডিত"।
এ বাক্যে 'ব্যাকরণে' শব্দে অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং, 'ব্যাকরণে' শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী৷ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৬৮.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দুর্নিরীক্ষ্য
  2. শারিরীক
  3. জাত্যাভিমান
  4. জাজ্জ্বল্যমান
সঠিক উত্তর:
দুর্নিরীক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নিরীক্ষ্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: দুর্নিরীক্ষ্য (বিশেষণ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = (দুঃ + নিঃ + √ঈক্ষ্‌ + য)।
- অর্থ: অতি কষ্টে নিরীক্ষণ করা যায় না এমন।

⇒ অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
- শুদ্ধ বানান: শারীরিক।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = শরীর+ইক।
- অর্থ: শরীর বিষয়ক। 

• শুদ্ধ বানান: জাত্যভিমান (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = জাতি + অভিমান।
- অর্থ: উচ্চবংশে জন্মের অহংকার, বংশগৌরব।

• শুদ্ধ বানান: জাজ্বল্যমান (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অত্যন্ত উজ্জ্বল; অত্যন্ত ভাস্বর;
- সুস্পষ্ট; সুপ্রকট। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৬৯.
'বল বীর বল উন্নত মম শির' বাক্যটি কি?
  1. আদেশসূচক
  2. প্রশ্নসূচক
  3. বিশ্বসূচক
  4. উপদেশসূচক
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
ব্যাখ্যা
• আদেশসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
 যেমন:
- শিক্ষক মহোদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।
- চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর,
- বল বীর বল উন্নত মম শির।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৭০.
'লোপচিহ্ন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ-
  1. 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. 'এক' বলতে যে সময় লাগে
  4. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
সঠিক উত্তর:
থামার প্রয়োজন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থামার প্রয়োজন হয় না
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭১.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) মুমূর্ষু
  2. খ) চিকীর্ষা
  3. গ) চকুস্মান
  4. ঘ) রুক্ষ
সঠিক উত্তর:
গ) চকুস্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চকুস্মান
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
তৎসম শব্দে 'ক', 'র'- এর পরে সাধারণত 'দন্ত্য-স' বসে না, মূর্ষণ্য- ষ বসে।  
যেমন,
ক- এর পর: চক্ষু (ক্ষ= ক্‌ + ষ), চক্ষুষ্মান, রুক্ষ, ভিক্ষুক, ভিক্ষা।
র- এর পরে: মুমূর্ষু, চিকীর্ষা। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী 'চকুস্মান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'চক্ষুষ্মান'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৩৭২.
কোনটি সমাস-ঘটিত অশুদ্ধ?
  1. অনাটন
  2. বলিষ্ঠতর
  3. আরক্তিম
  4. অহর্নিশি
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
ব্যাখ্যা
• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধ - অহর্নিশি
- এর শুদ্ধরূপ - অহর্নিশ।

অন্যদিকে,
- সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ - আরক্তিম। এর শুদ্ধরূপ - আরক্ত/রক্তিম।
- উৎকর্ষবাচক-তর, -তম প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ - বলিষ্ঠতর। এর শুদ্ধরূপ - বলিষ্ঠ।
- সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধ - অনাটন। এর শুদ্ধরূপ - অনটন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭৩.
তা-প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।
  2. দরিদ্রতা আমাদের অভিশাপ।
  3. তার লেখায় বিচিত্রতা রয়েছে।
  4. ইহার আবশ্যকতা নাই।
সঠিক উত্তর:
তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তার অধৈর্যতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।- বাক্যটিতে ‘তা’ প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: তার অধীরতা কেউ পচ্ছন্দ করে না।

----------------------------
• ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭৪.
‘স্বদেশ পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে’ এ শ্লোকের রচয়িতা -
  1. ক) ভর্তৃহরি
  2. খ) স্বামী সদানন্দ
  3. গ) চাণক্য পণ্ডিত
  4. ঘ) স্বামী দয়ানন্দ
সঠিক উত্তর:
গ) চাণক্য পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাণক্য পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
‘স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে' এ শ্লোকের রচয়িতা হলেন - চাণক্য।

 স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে।
- বিদ্বান এবং রাজা কখনােই সমান নয়, কারণ রাজা শুধুমাত্র তার দেশেই পূজ্য কিন্তু বিদ্বান সর্বত্র পূজ্য। বিদ্বানের সহিত রাজার কখনাে তুলনা চলে না। বিদ্বান শ্রেয় এবং শ্রেষ্ঠ।

উৎস: বৈদিক সনাতন হিন্দুত্ববাদ।
১,৩৭৫.
শুদ্ধ বানানের শব্দগুচ্ছ সনাক্ত করুন-
  1. ভবিষ্যত, ভৌগলিক, যক্ষ্মা
  2. যশলাভ, সদ্যোজাত, সংবর্ধনা
  3. স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক
  4. ঐক্যতান, কেবলমাত্র, উপরোক্ত
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: 
গ) স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক।

অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• ভবিষ্যৎ, ভৌগোলিক, যক্ষ্মা
যশোলাভ, সদ্যোজাত, সংবর্ধনা।
• স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক।
ঐকতান, কেবল, উপরিউক্ত

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭৬.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. দুরবীন 
  2. উৎকলিত 
  3. উন্মিলণ
  4. সায়ত্ত্বশাসন 
সঠিক উত্তর:
উৎকলিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকলিত 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'উৎকলিত'  বানানটি সঠিক। 
- অর্থ: ১) উদ্ধৃত; গৃহীত। ২) উদ্বিগ্ন। ৩) তরঙ্গিত।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: দুরবীন।
- শুদ্ধ: দুরবিন। 

- অশুদ্ধ: উন্মিলণ।
- শুদ্ধ: উন্মীলন।

- অশুদ্ধ: সায়ত্ত্বশাসন।
- শুদ্ধ: স্বায়ত্তশাসন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৩৭৭.
জিজ্ঞাসিব জনে জনে। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
কর্মে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৭৮.
সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. ড্যাশচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক যতিচিহ্ন (?): 
• বাক্যের মধ্যে সোজাসুজি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
-তোমার নাম কী?
- তুমি সেখানে যাবে?

সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে।
যেমন:
- এটা তোমার বই?
- ঠিক তো?
- তিনি একা আসেননি, সঙ্গে তাঁর স্ত্রী (?) এসেছিলেন। [বাক্যটিতে অনিশ্চয়তার ভাব। স্ত্রী না হয়ে আত্মীয়া/বান্ধবীও হতে পারেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭৯.
‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যে ‘মেঘে’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' - কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার -
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যটিকে কার দ্বারা ঢাকা জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে’। তাই ‘মেঘে’ করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮০.
'বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।'- এখানে 'ফলে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা / কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি]

• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাহাজে সাগর পার হওয়া যায়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সাগর পার হওয়া যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘জাহাজে’। সুতরাং ‘জাহাজে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮১.
'সৌন্দর্যতা' - কোন কারণে অপপ্রয়োগ?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. বিভক্তিজনিত 
  3. প্রত্যয়জনিত 
  4. বাহুল্যজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - সৌন্দর্যতা।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌন্দর্য।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুন্দর + য।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,৩৮২.
কোনটি ভুল বাক্য?
  1. ক) দীনতা সব সময় ভাল নয়।
  2. খ) দেশের দারিদ্র দূর করতে হবে।
  3. গ) সময় বড় সংক্ষিপ্ত।
  4. ঘ) এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
সঠিক উত্তর:
খ) দেশের দারিদ্র দূর করতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশের দারিদ্র দূর করতে হবে।
ব্যাখ্যা

অপশন খ-তে 'দারিদ্র' বানানটি ভুল৷ সঠিক রূপ হবে - 'দারিদ্র‍্য'।
সঠিক বাক্য - দেশের দারিদ্র‍্য/দরিদ্রতা দূর করতে হবে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

১,৩৮৩.
কোন ধরনের ‘বাচ্যে’র ক্রিয়াপদ সর্বদা নাম পুরুষের অনুসারী হয়?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৮৪.
‘সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. খণ্ডিত বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।
- যে পরিশ্রম করে সেই সুখলাভ করে।
- লেখাপড়া করে যেই গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
- যখন রৌদ্রতাপ কমবে তখন পরামর্শ করা যাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাবো।
- যখন বিপদ আসে তখন দুঃখও আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৫.
'মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞা
  2. জটিল
  3. সরল
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৩৮৬.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. অধঃগতি
  2. দুরদৃষ্ট
  3. যশলাভ
  4. নিরোগ
সঠিক উত্তর:
দুরদৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
•'দুরদৃষ্ট' (বিশেষ্য) শব্দটির বানান শুদ্ধ।

• 'দুরদৃষ্ট' শব্দের অর্থ:
- মন্দভাগ্য; পোড়াকপাল।

অন্যদিকে,
- 'অধঃগতি' এর শুদ্ধ বানান 'অধোগতি'।
- 'যশলাভ' এর শুদ্ধ বানান 'যশোলাভ'।
- 'নিরোগ'  এর শুদ্ধ বানান 'নীরোগ'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৮৭.
কোনটি নির্ভুল?
  1. দুর্দশাগ্রন্থ
  2. দুর্দশাগ্রস্ত
  3. দূর্দশাগ্রস্ত
  4. দূরদশাগ্রস্ত
সঠিক উত্তর:
দুর্দশাগ্রস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্দশাগ্রস্ত
ব্যাখ্যা
• দুর্দশাগ্রস্ত (বিশেষণ পদ),
- একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিপন্ন,
- দুর্গত,
- দরিদ্র,
- দুরবস্থায় পতিত।
১,৩৮৮.
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা বলতে চাইলেন না।
  2. তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না।
  3. তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন।
  4. তিনি চুপ করে থাকলেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি চুপ করে থাকলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি চুপ করে থাকলেন।
ব্যাখ্যা
"তিনি কথা বললেন না।"-এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।

মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।

খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।

গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।

সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৮৯.
‘পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে।’- বাক্যে ‘পিতামাতাকে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উদ্দেশ্যকর্মে ‘কে’ বিভক্তি:
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে। - বাক্যের ক্রিয়াকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পিতামাতাকে’। 

সুতরাং ‘পিতামাতাকে’ কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
 
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 
 
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
১,৩৯০.
'প্রমথ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) হত্যা
  3. গ) অগ্রণী
  4. ঘ) শিবানুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিবানুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিবানুচর
ব্যাখ্যা
প্রমথ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+মথ্‌+অ 
অর্থ: নৃত্যগীতে পারদর্শী শিবের অনুচর। 

'প্রমাথ' শব্দের অর্থ: হত্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৯১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) অতিশয্য
  2. খ) অপকর্ষ
  3. গ) উর্ধ্বতল
  4. ঘ) অধিপত্য
সঠিক উত্তর:
খ) অপকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপকর্ষ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = অপকর্ষ

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ:
• ঊর্ধ্বতল (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ঊর্ধ্ব+তল
অর্থ: উপরি তল। 

• আতিশয্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অতিশয়+য
অর্থ: আধিক্য, প্রাচুর্য

• আধিপত্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অধিপতি+য
অর্থ: 
- কর্তৃত্ব, প্রভুত্ব
- প্রাধান্য
- রাজত্ব 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৯২.
নিচে কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা'।
শুদ্ধ - 'অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।'

অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

অশুদ্ধ বাক্য: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
শুদ্ধ: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৯৩.
শুদ্ধ বানান নয় কোনটি?
  1. ক) জ্যৈষ্ঠ
  2. খ) উচ্ছ্বাস
  3. গ) ন্যুজ
  4. ঘ) প্রত্যুষ
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন্যুজ
ব্যাখ্যা
'ন্যুজ' এর শুদ্ধ রূপ = 'ন্যুব্জ' 

ন্যুব্জ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নি+√উব্‌জ্‌+অ
অর্থ: কুব্জ, কুঁজো, বক্রপৃষ্ঠ, অধোমুখ। 

অন্যান্য অপশনে প্রদত্ত বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৯৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বিবাক্ষী 
  2. উদীচী
  3. সমীরন 
  4. সুক্ষ্ম
সঠিক উত্তর:
উদীচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদীচী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - উদীচী (বিশেষ্য):
- অর্থ: দিক; উত্তর দিক।

অন্য অপশনের বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
বিবাক্ষী - বিবাক্ষি।
সমীরন - সমীরণ।
সুক্ষ্ম - সূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,৩৯৫.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আসক্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা

আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৯৬.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পুঙ্খানুপুঙ্খ
  2. প্রনয়িণী
  3. রীতিনীতি
  4. অনুকূল
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রনয়িণী
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রনয়িণী
- শুদ্ধ বানান - প্রণয়িনী।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অনুরক্ত ব্যক্তি।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানানগুলো - অনুকূল, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং রীতিনীতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩৯৭.
Q 3-5 শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন:
  1. দেদিপ্যমান
  2. দেদিপ্যমাণ
  3. দেদীপ্যমাণ
  4. দেদীপ্যমান
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেদীপ্যমান
ব্যাখ্যা
• দেদীপ্যমান বানানটি শুদ্ধ।

• দেদীপ্যমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
-  অত্যন্ত উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় দেখাচ্ছে এমন;
- অতিশয় দীপ্তিশীল;
- জাজ্বল্যমান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৯৮.
'ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা' - এ বাক্যে 'অঙ্ক' কোন কারক?
  1. ক) অধিকরণ
  2. খ) করণ
  3. গ) সম্প্রদান
  4. ঘ) অপাদান
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধার কে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ বলে। ক্রিয়াকে 'কোথায়, কখন, কী বিষয়' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। ‘ছেলেটি কোন বিষয়ে কাঁচা?’ জিজ্ঞেস করা গেলে তাই অঙ্ক অধিকরণ কারক। সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
১,৩৯৯.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. গণ্যনীয়
  2. বিবাদমান
  3. ঐক্যমত
  4. ঐকতান
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি. আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান = ঐকতান।

অন্যদিকে,
• বাকি শব্দগুলো প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধ।

- ”গণ্যনীয়” শব্দের শুদ্ধরূপ = গণনীয়।
- ”বিবাদমান” শব্দের শুদ্ধরূপ = বিবদমান।
- ”ঐক্যমত” শব্দের শুদ্ধরূপ = ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৪০০.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. অর্থসংগতি
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
'আমি গিয়ে দেখলাম'- এতে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয় না। যখন বলা হয়- 'আমি গিয়ে দেখলাম তারা চলে গেছে।' এখন এটি একটি বাক্য হলো। কেননা, এ কথা বলার পরে আর কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে না

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনের নাম যোগ্যতা।
যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।