বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৮০১৯০০ / ১,৩৫৫

৮০১.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. লুই পাস্তুর
  2. লিউয়েন হুক
  3. রবার্ট কচ
  4. এহরেনবার্গ
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০২.
পাতার যে কোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে? 
  1. ক) প্যারেনকাইমা
  2. খ) প্যালিসেড প্যারেনকাইমা
  3. গ) কোলেনকাইমা
  4. ঘ) স্ক্লেরেনকাইমা
সঠিক উত্তর:
খ) প্যালিসেড প্যারেনকাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্যালিসেড প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
- প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্র দ্বারা বাষ্পাকারে পানি নির্গত করে। 
- সাধারণত পাতার নিম্নত্বকে পত্ররন্ধ্র অবস্থান করে।
- বিষমপৃষ্ঠে পাতার উপরের ত্বকের দিকে থাকে প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং নিচের ত্বকের দিকে থাকে স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা।
- পাতার প্যালিসেড কোষগুলোতে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়। 

সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৮০৩.
প্রস্বেদন বলতে বোঝায়- 
  1. পানি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া 
  2. উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  3. উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
  4. উদ্ভিদদেহে পানি শোষণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: 
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'. 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: ১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, ২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৪.
বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ বলা হয়-
  1. ক) ইমবাইবিশনকে
  2. খ) ব্যাপনকে
  3. গ) অভিস্রবণকে
  4. ঘ) প্রস্বেদনকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রস্বেদনকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রস্বেদনকে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে। পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদ দেহে পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। প্রস্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এই প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বদনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ নামে অভিহিত করেছেন।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮০৫.
The study of fungi is known as -
  1. ক) Parasitology
  2. খ) Mycology
  3. গ) Cytology
  4. ঘ) Ecclesiology
সঠিক উত্তর:
খ) Mycology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Mycology
ব্যাখ্যা
Mycology, the study of fungi, a group that includes the mushrooms and yeasts.
Many fungi are useful in medicine and industry.
Fungus, plural fungi, any of about 144,000 known species of organisms of the kingdom Fungi, which includes the yeasts, rusts, smuts, mildews, molds, and mushrooms. 

Source: Britannica
৮০৬.
নিচের কোনটিকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবোজোম
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
• রাইবোজোম:
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কিংবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো অঙ্গানুগুলোকে বলা হয় রাইবোজোম।
- ১৯৫৫ সালে প্যালাডে প্রথম রাইবোজোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোজোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা।
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৭ সংস্করণ]
৮০৭.
In which process is CO2 produced in living organisms?
  1. Excretion
  2. Osmosis
  3. Respiration
  4. Photosynthesis
  5. Diffusion
সঠিক উত্তর:
Respiration
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Respiration
ব্যাখ্যা
• জীবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন হয়। 

• শ্বসন:
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু জারিত হয়ে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন বলা হয়। 

• প্রকারভেদ:
শ্বসন প্রধানত দুই প্রকার-
- সবাত শ্বসন- এটি অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ঘটে।
- অবাত শ্বসন- এটি অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ঘটে। 

• শ্বসন বিক্রিয়া:
শর্করা + O2 → CO2 + H2O + শক্তি 

• শ্বসন প্রক্রিয়ায় জীবদেহস্থ শর্করা জাতীয় খাদ্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে কার্বনডাইঅক্সাইড (CO2), পানি ও শক্তি উৎপন্ন করে।
- জীব এই CO2 বায়ুমণ্ডলে ত্যাগ করে।
- উৎপন্ন শক্তি দেহের বিপাকীয় কাজে ব্যায়িত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮০৮.
প্রাণির নাম নিচের কোন সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত হবে?
  1. ICBN
  2. ICVN
  3. ICZN
  4. IVZN
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা
• জীবের নামকরণ (Nomenclature):
- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code on Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।

 • নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
ভাইরাসের অভ্যন্তরে কোন ধরনের পদার্থ থাকে এবং জেনেটিক তথ্য বহন করে?
  1. Amino acids
  2. Polysaccharides
  3. Chlorophyll
  4. Nucleic acid
সঠিক উত্তর:
Nucleic acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nucleic acid
ব্যাখ্যা
• ভাইরাসের অভ্যন্তরে Nucleic acid থাকে এবং জেনেটিক তথ্য বহন করে।

• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

• ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয় তাই এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১০.
নিচের কোনটি স্থায়ী টিস্যু নয়?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) ভাজক টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
গ) ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে। ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে৷
ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে৷
স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। যথা- সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু এবং নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি।
৮১১.
কোন হরমোন উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আলোর প্রভাবের প্রতি উত্তেজনাবোধ সৃষ্টি করে?
  1. আভিলিন
  2. অক্সিন
  3. জিব্বেরেলিন
  4. সাইটোকিনিন
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা
অক্সিন: 
- চার্লস ডারউইন এ হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন। 
- তিনি উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর উপর আলোর প্রভাব লক্ষ্য করেন। 
- যখন আলো তীর্যকভাবে একদিকে লাগে তখন ভ্রূণমুকুলাবরণী আলোর উৎসের দিকে বাঁকা হয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। 
- প্রকৃতপক্ষে ভ্রূণমুকুলাবরণীর অগ্রভাগে অবস্থিত রাসায়নিক পদার্থটি ছিল বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন অক্সিন। 
- অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায়, ফলের অকালে ঝরেপড়া রোধ হয়। 
অর্থাৎ, অক্সিন হরমোন উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং আলোর প্রভাবের প্রতি উত্তেজনাবোধ সৃষ্টি করে। 

জিব্বেরেলিন: 
- চারাগাছ, বীজপত্র ও পত্রের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে এদের দেখা যায়। 
- এর প্রভাবে উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। 
- এ জন্য খাটো উদ্ভিদে এ হরমোন প্রয়োগ করলে উদ্ভিদটি অন্যান্য সাধারণ উদ্ভিদ থেকেও অধিক লম্বা হয়। 
- বীজের সুপ্তাবস্থা কাটাতে এর কার্যকারিতা রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮১২.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রো উপাদান কতটি? 
  1. ৬ টি
  2. ৮ টি 
  3. ১০ টি 
  4. ১৬ টি
সঠিক উত্তর:
১০ টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ টি 
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৩.
ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যাপসিউল
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) কোষ প্রাচীর
  4. ঘ) প্লাজমিড
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যাপসিউল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যাপসিউল
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো-


- ফ্ল্যাজেলা
- ক্যাপসিউল
- কোষ প্রাচীর
- প্লাজমামেমব্রেন
- মেসোসোম
- সাইটোপ্লাজম
- ক্রোমোসোম
- প্লাজমিড

ক্যাপসিউল - ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৮১৪.
ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত? 
  1. কাইটিন 
  2. সেলুলোজ 
  3. লিগনিন 
  4. পেকটিন 
সঠিক উত্তর:
কাইটিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- ছত্রাকেরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- ছত্রাকেরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৫.
নিচের কোনটি প্রস্বেদনের ধরন নয়? 
  1. কিউটিকুলার প্রস্বেদন
  2. পত্ররন্ধ্রীয়  প্রস্বেদন
  3. মূলরোমীয় প্রস্বেদন
  4. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
মূলরোমীয় প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলরোমীয় প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য, তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। 
- শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়। 
- এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়। 
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। 
যথা- 
১. পত্ররন্ধ্রীয়  প্রস্বেদন, 
২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং 
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উল্লেখ্য, 
- প্রস্বেদনের ধরন নয়- মূলরোমীয় প্রস্বেদন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮১৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) ক্রোনোমিটার
  2. খ) টেকোমিটার
  3. গ) ক্রেসকোগ্রাফ
  4. ঘ) ওডোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ।
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

৮১৭.
কোন ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়?
  1. ক) অক্সিন
  2. খ) জিবেরেলিন
  3. গ) সাইটোকাইনিন
  4. ঘ) ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
গ) সাইটোকাইনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাইটোকাইনিন
ব্যাখ্যা

সাইটোকাইনিনঃ
এই ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। কোনাে কোনাে উদ্ভিদের মূলেও এদের পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এটি বিভিন্ন ঘনত্বে অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে।

৮১৮.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. লাইকেন 
  2. পাইন 
  3. তেলাপাতা
  4. ফার্ন 
সঠিক উত্তর:
লাইকেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন 
ব্যাখ্যা

বায়োম: 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 

তুন্দ্রা বায়োম: 

- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় এখানে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৯.
উদ্ভিদের কোন অংশ  প্রধানত সালোকসংশ্লেষণের কাজ করে? 
  1. ফুল
  2. ফল
  3. মূল
  4. পাতা
সঠিক উত্তর:
পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা
ব্যাখ্যা

• সালোকসংশ্লেষণ:
- সালোকসংশ্লেষণ হলো প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে নিজের খাবার তৈরি করে।
- এই প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করে পাতার ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্টে থাকা ক্লোরোফিল আলো শোষণ করে।
- পাতা কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং জল নিয়ে খাবার তৈরি করে এবং অক্সিজেন নির্গত করে।
- তাই, উদ্ভিদের পাতা সালোকসংশ্লেষণের মূল অংশ।
- কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৮২০.
পাতার টিস্যু কোন ধরনের ভাজক টিস্যু?
  1. মাস ভাজক টিস্যু
  2. প্লেট ভাজক টিস্যু
  3. রিব ভাজক টিস্যু
  4. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
প্লেট ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেট ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ:
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়।
যথা-
১। মাস ভাজক টিস্যু
২। রিব ভাজক টিস্যু ও
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু।

প্লেট ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়।
যেমন- পাতার টিস্যু।

মাস ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে।
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম।

রিব ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২১.
ভাইরাসে নিচের কোন উপাদানটি অনুপস্থিত? 
  1. জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটানোর ক্ষমতা
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. DNA বা RNA
  4. মিউটেশন ঘটানোর ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
কোষ ঝিল্লী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ ঝিল্লী
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২২.
লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতা শুষ্ক প্রকৃতির
  2. খ) শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়
  3. গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
ব্যাখ্যা
লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন।
ফলে বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম আরম্ভ হয় এবং লম্বা ভ্রণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাঁদা মাটিতে ঢুকে পড়ে ও স্থায়ী হয়। এ ধরনের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
সমুদ্রতীরবর্তী জোয়ার-ভাটার অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে জন্মানো উদ্ভিদসমূহকে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বলে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৩.
নিচের কোনটি স্ত্রীস্তবকের অংশ?
  1. ক) পুংদন্ড
  2. খ) পরাগদন্ড
  3. গ) পরাগধানী
  4. ঘ) গর্ভদন্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভদন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভদন্ড
ব্যাখ্যা
স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে গঠিত হতে পারে৷ একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ।
যথাঃ গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড, গর্ভমুণ্ড।
পুংদণ্ড বা পরাগদণ্ড এবং পরাগধানী বা পরাগথলি হচ্ছে পুংকেশরের অংশ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৪.
পৃষ্ঠদেশ একক ও ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু- কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) Mollusca
  2. খ) Annelida
  3. গ) Chordata
  4. ঘ) Arthropoda
সঠিক উত্তর:
গ) Chordata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Chordata
ব্যাখ্যা

পৃষ্ঠদেশ একক ও ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু- কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য।
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. ভ্রূণ অবস্থায় অথবা সারা জীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নিরেট (Solid), দণ্ডাকৃতির (Rod-shaped) ও স্থিতিস্থাপক (Elastic) নটোকর্ড (Notochord) বর্তমান যা মেরুদণ্ডীদের (Vertebrates) পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. নটোকর্ডের (Notochord) পৃষ্ঠদেশ (Dorsal side) বরাবর ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ু-রজ্জু (Nerve cord) উপস্থিত। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এটির অগ্রপ্রান্তে মস্তিষ্ক (Brain) এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) গঠিত হয়।
৩. উন্নত কর্ডেট (Higher Chordates) ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীতে সারা জীবন অথবা জীবনের যে কোন দশায় গলবিলে পার্শ্বীয়ভাবে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ্র (Gill slits) বর্তমান।
৪. মেরুদণ্ডীদের অন্তঃকঙ্কাল বিশিষ্ট দু’জোড়া পদ (অগ্রপদ ও পশ্চাৎ পদ) বর্তমান।
৫. এন্ডোস্টাইল (Endostyle) উপস্থিত যা পরবর্তীতে থাইরয়েড গ্রন্থিতে (Thyroid glands) রূপান্তরিত হয়।
৬. পায়ু (Anus) পরবর্তী পেশীবহুল ও স্থিতিস্থাপক লেজ (Tail) উপস্থিত।
৭. উন্নত পরিপাকতন্ত্র পরিপাক গ্রন্থিবিশিষ্ট এবং পাকস্থলী (Stomach) ও অন্ত্র (Intestine) সুস্পষ্টভাবে আলাদা।
৮. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির। অঙ্কীয় দিকে অবস্থিত হৃদযন্ত্র, পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় রক্তনালী নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত। হেপাটিক পোর্টাল তন্ত্র (Hepatic portal system) উন্নত প্রকৃতির।
৯. জলজ শ্বসন (Aquatic respiration) ফুলকার (Gill) সাহায্যে এবং বায়বীয় শ্বসন (Arial respiration) ফুসফুসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
১০. অধিকাংশ প্রাণীতে কোমলাস্থি (Cartilage) অথবা অস্থি (Bone) নির্মিত কঙ্কাল দৈহিক অবকাঠামো তৈরি করে।
১১. বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সকলেই একলিঙ্গ (Dioecious) প্রাণী।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৮২৫.
সূর্য থেকে উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছানো আলোর কত অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. ১-২%
  2. ১০-১২%
  3. ৫০-৬০%
  4. ৬-১০%
সঠিক উত্তর:
১-২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২%
ব্যাখ্যা

• সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
 
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই- অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়।
- বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে সূর্যের আলো এ পৃথিবীতে আসে তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত রশ্মি বা তরঙ্গ হিসাবে এবং সৌর শক্তি ফোটন (photon) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সূর্যের যে আলো পৃথিবীতে আসে তা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিটার, সেন্টিমিটার, ন্যানোমিটার, মিলিমাইক্রন এবং অ্যাংস্ট্রম হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮২৬.
পাতাশ্যাওলা কি ধরনের ফুল?
  1. পতঙ্গ পরাগী ফুল
  2. বায়ুপরাগী ফুল
  3. পানিপরাগী ফুল
  4. প্রাণিপরাগী ফুল
সঠিক উত্তর:
পানিপরাগী ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপরাগী ফুল
ব্যাখ্যা

পতঙ্গ পরাগী ফুল- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
বায়ুপরাগী ফুল - ধান
পানিপরাগী ফুল - পাতাশ্যাওলা
প্রাণিপরাগী ফুল - কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৮২৭.
বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে কোন সারে?
  1. ইউরিয়া
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. সোডিয়াম নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ব্যবহৃত সারগুলোর মধ্যে ইউরিয়াতে সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন থাকে (প্রায় ৪৬%), যা অন্যান্য বিকল্প অপশনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। 

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৮.
শৈবাল কয়টি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
শৈবালের জনন:
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। যেমন-
(ক) অঙ্গজ জনন।
(খ) অযৌন জনন।
(গ) যৌন জনন।

• অঙ্গজ জনন:
- দৈহিক অঙ্গের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়।
- এককোষী শৈবাল কোষের বিভাজনের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষটি দু'ভাগে ভাগ হয়। ফলে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।

• অযৌন জনন:
- স্পোর উৎপাদনের মাধ্যমে শৈবালে অযৌন জনন সম্পন্ন হয়।
- এদের যে কোনো একটি অঙ্গজ কোষ স্পোরথলি হিসেবে কাজ করে।
- এসব থলিতে এক থেকে অসংখ্য স্পোর তৈরি হয়।
- স্পোরগুলো ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং সচল হলে তাদেরকে জুস্পোর বলা হয়.

• যৌন জনন:
- শৈবালে তিন ধরনের যৌন জনন হয়। যথা-
১। আইসোগ্যামি।
২। অ্যানাইসোগ্যামি।
৩। উগ্যামি। 

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৯.
কোনটির জন্য উদ্ভিদের পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট
  4. ঘ) ক্রোয়োপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। 
- এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে।

- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়।
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে। 
- এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়।
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। যেমন: হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন।
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। মাটির নিচের অংশ, তথা রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। এটি খাদ্য সঞ্চয় করে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩০.
ফসফরাসের অভাবজনিত উদ্ভিদের সমস্যা নয় নিচের কোনটি? 
  1. উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
  2. উদ্ভিদের পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
  3. উদ্ভিদের পাতা বেগুনি রং ধারণ করে।
  4. উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
ব্যাখ্যা
ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩১.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরাশ্রয়ী
  2. খ) মৃতজীবী
  3. গ) স্বভোজী
  4. ঘ) পরভোজী
সঠিক উত্তর:
গ) স্বভোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বভোজী
ব্যাখ্যা

- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে ক্লোরোফিল আছে।
- এরা এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩২.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়েজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়েজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৩.
ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে-
  1. বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝড়ে পড়ে
  2. পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
  3. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ফুলে ফুলে সংস্পর্শে
সঠিক উত্তর:
বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝড়ে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝড়ে পড়ে
ব্যাখ্যা
- ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে- বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে। 

বায়ুর সাহায্যে পরাগায়ন: 
- অনেক উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে হয়ে থাকে। 
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে। 
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। 
- এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট তাই এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়। 
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। 
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়। 
- পাইনাস, ধান, ভূট্টা, ইক্ষু, গম ইত্যাদি উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটে বাতাসের সাহায্যে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৪.
গাছের খাদ্যের তালিকায় আছে-
  1. ক) N
  2. খ) P
  3. গ) K
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের সার্বিক বৃদ্ধির প্রয়োজনে খনিজ উপাদান বিশেষ দরকার। খনিজ উপাদান গুলো হচ্ছে- কার্বন (C) , হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K) , ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার (S), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), দস্তা বা জিংক (Zn) এবং লোহা (Fe)।

এদের মধ্যে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), সালফার (S) এবং দস্তা বা জিংক (Zn) এর ভূমিকা গুলো হলো:
• নাইট্রোজেন (N)- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
• ফসফরাস (P): উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
• পটাশিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।
• সালফার (S): সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাউব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো আ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা (Zn) প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৫.
ইস্টের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি ?
  1. মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুত করা
  2. এক কোষীয় প্রোটিন তৈরী করা
  3. ভিটামিনসমৃদ্ধ ট্যাবলেট তৈরি করা
  4. ভিটামিন সি উৎপাদন করা
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি উৎপাদন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- সাইট্রিক এসিড বা  ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮৩৬.
সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে উদ্ভিদ কী তৈরি করে? 
  1. পানি
  2. নাইট্রোজেন
  3. গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৮৩৭.
উদ্ভিদের জন্য মাইক্রো উপাদানের উদাহরণ কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. সালফার
  3. কার্বন 
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদের মাইক্রো উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলা হয়। ম্যাঙ্গানিজ (Mn) একটি অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান যা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ, ক্লোরোফিল উৎপাদন এবং এনজাইম সক্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৮.
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবন্ধনে উদ্ভিদের কোন পুষ্টি উপাদানটি আবশ্যক?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) মলিবডেনাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) মলিবডেনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P)- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, ঘঅউচ, অঞচ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান।

পটাসিয়াম (K)- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।

ম্যাগনেসিয়াম (Mg)- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

মলিবডেনাম (Mo)- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
নিচের কোনটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ?
  1. ছোলা
  2. গাজর
  3. কাঁঠাল
  4. ফুলকপি
সঠিক উত্তর:
ছোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোলা
ব্যাখ্যা
• একবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- ধান, মটর, ছোলা, কলা এসব আপনাদের অতি পরিচিতি উদ্ভিদ।
- এদের জীবনকাল এক বছর।
- এ জন্য এদেরকে একবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলা হয়।

• দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ:
যেসকল উদ্ভিদের জীবনকাল দুই বছর তাদের দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে।
- মূলা, গাজর, ফুলকপি ইত্যাদি দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ।

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
আম, কাঁঠাল, বট, তাল ইত্যাদি অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যারা বহু বছর বেঁচে থাকে। এসব উদ্ভিদকে বহু বর্ষীজীবী উদ্ভিদ বলে।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪০.
গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়
  2. এগুলো অত্যন্ত সহিষ্ণু
  3. এদের কান্ড নরম
  4. উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো
সঠিক উত্তর:
এদের কান্ড নরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের কান্ড নরম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 

• কোনো অঞ্চলের প্রকৃতি ও সেই প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে অবস্থানরত উদ্ভিদকুলকে Flora এবং প্রাণীকুলকে Fauna বলে।
• মরু অঞ্চলে যে সকল উদ্ভিদ জন্মায় তাদেরকে মরুজ উদ্ভিদ (Xerophyte) বলে।
• উদ্ভিদের প্রাণ আছে এ কথা প্রথম বলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু।
• যেসব উদ্ভিদের কান্ড শক্ত কিন্তু গুঁড়িহীন অর্থাৎ ক্ষুদ্র কান্ড বিশিষ্ট এবং মাটির সামান্য উপরে ঝোপের মতো শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি করে, সেসব উদ্ভিদকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে।
- যেমন – জবা, রঙ্গন, গোলাপ, বেলি, জুঁই,কাগজি লেবু, গন্ধরাজ ইত্যাদি।

• গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- এ জাতীয় উদ্ভিদ সাধারণত মাঝারি আকারে হয়ে থাকে।
- এদের কান্ড শক্ত
- এদের শেকড় মাটির বেশি গভীরে যায় না।
- এদের গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়
- এ উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়।
- কিছু কিছু গুল্ম উদ্ভিদ ফুল ও ফল প্রদান করে।
- এগুলো অত্যন্ত সহিষ্ণু এবং এরা প্রায় সব ধরণের মাটিতে জন্মায়। 


ছবির উৎস: বাংলাপিডিয়া 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৪১.
কচুরীপানা সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ-
  1. ক) শিকড় লম্বা বলে
  2. খ) কান্ডে বায়ু কুঠুরী থাকে
  3. গ) এরা পানিতে জন্মে বলে
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর:
খ) কান্ডে বায়ু কুঠুরী থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কান্ডে বায়ু কুঠুরী থাকে
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরীপানা সহজে ভাসতে পারে কারন এরা আকারে অনেক ছোট হয়, এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, এদের পাতা অনেক কম থাকে।
সূত্রঃ ১০তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৮৪২.
ধান গাছের টুংগ্রো রোগ কোনটির সংক্রমণে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাস ঘটিত উদ্ভিদের আরো কিছু রোগের নাম:


সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৪৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ উভমুখী
  2. বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ চক্রাকার
  3. বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ অনুপস্থিত
  4. বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ একমুখী
সঠিক উত্তর:
বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ একমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ একমুখী
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের ভারসাম্য বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী।
- শক্তির উৎস সূর্য।
- এ উৎস থেকে শক্তি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদক তথা সবুজ উদ্ভিদে প্রবাহিত হয়।
- উৎপাদক থেকে তা পর্যায়ক্রমে উচ্চশ্রেণীর খাদকের কাছে যায়।
- খাদকের দেহ থেকে শক্তি পরিবেশে মুক্ত হয়।
- শক্তি প্রাথমিক উৎসের কাছে আর ফিরে যায় না।
অর্থাৎ বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৪.
রূপান্তরিত মূল কোনটি?
  1. ক) ওলকপি
  2. খ) আদা
  3. গ) মিষ্টি আলু
  4. ঘ) কচু
সঠিক উত্তর:
গ) মিষ্টি আলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা

যখন রূপান্তরিত মূল অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয় তখন তাকে কন্দাল মূল বলে। যেমন - মিষ্টি আলু৷
যখন পর্যায়ক্রমে স্ফীত ও সংকুচিত হয় তখন তাকে মালাকৃতির মূল বলে। যেমন - করলার মূল।
উৎসঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণি

৮৪৫.
ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ কী?
  1. নাইট্রোজেন ও ম্যাগনেসিয়াম
  2. মিথেন ও সালফার
  3. মিথেন ও ম্যাগনেসিয়াম
  4. নাইট্রোজেন ও মিথেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• ক্লোরোফিল ও সালোকসংশ্লেষণ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে।
- পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়।
- নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নিভর্রশীল।
- সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন।
- তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৬.
HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ কী?
  1. Human micropneumoniavirus
  2. Human Multiple Pathogenic Virus
  3. Human Metapneumovirus 
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Human Metapneumovirus 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Human Metapneumovirus 
ব্যাখ্যা

• HMPV (এইচএমপিভি):

- HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাসের পূর্ণরূপ Human Metapneumovirus। 
- এটি মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়।
- ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এর গুরুতর জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হন।
- হাঁচি-কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।

- অন্যান্য অপশন গুলো সঠিক নয়।

উৎস: WHO

৮৪৭.
নিষেকক্রিয়ার পরে গর্ভাশয় কীসে রূপান্তরিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ 
  3. ফলত্বক
  4. টেস্টা
সঠিক উত্তর:
ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফল
ব্যাখ্যা

নিষেকক্রিয়ার পরে গর্ভাশয় ফল এ রূপান্তরিত হয়। 

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন
নিষেকক্রিয়ার পূর্বে --- নিষেকক্রিয়ার পরে
গর্ভাশয় --------------- ফল,
গর্ভাশয় ত্বক ----------- ফলত্বক,
ডিম্বক ---------------- বীজ,
এক্সাইন -------------- টেস্টা,
ইন্টাইন -------------- টেগমেন,
ভ্রূণপোষক টিস্যু ------- নিঃশেষ হয়ে যায়,
ডিম্বাণু (নিষিক্ত) ------ ভ্রূণ,
সস্য মাতৃকোষ -------- সস্য,
সাহায্যকারী কোষ ----- নষ্ট হয়ে যায়,
প্রতিপাদ কোষ -------- নষ্ট হয়ে যায়,
মাইক্রোপাইল -------- মাইক্রোপাইল,
হাইলাম ------------- হাইলাম,
ডিম্বকনাড়ী ---------- বীজবৃন্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৮.
সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয় না কোন আলোতে?
  1. ক) হলুদ আলোতে
  2. খ) লাল আলোতে
  3. গ) নীল আলোতে
  4. ঘ) বেগুনি আলোতে
সঠিক উত্তর:
ক) হলুদ আলোতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হলুদ আলোতে
ব্যাখ্যা
আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভাল হয় না।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮৪৯.
ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কী দ্বারা গঠিত?
  1. পেকটিন
  2. লিগনিন
  3. সেলুলোজ
  4. কাইটিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক।
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫০.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) আদি কোষবিশিষ্ট
  2. খ) বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. গ) অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. ঘ) DNA অথবা RNA উপস্থিত
সঠিক উত্তর:
ক) আদি কোষবিশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আদি কোষবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত। ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো। ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৫১.
নিচের কোন উদ্ভিদটি পানির পাশাপাশি মাটিতেও জন্মায়? 
  1. শাপলা 
  2. হাইড্রিলা 
  3. ওড়িপানা 
  4. কলমি
সঠিক উত্তর:
কলমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলমি
ব্যাখ্যা

জলজ উদ্ভিদের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 

- এসব জলজ উদ্ভিদ না থাকলে মাছসহ অনেক জলজ প্রাণী বাঁচতেই পারত না, যেটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতো। যে উদ্ভিদগুলো সাধারণত মূলের মাধ্যমে পানি আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করে। 
- কিন্তু জলজ উদ্ভিদগুলো সারা দেহের মাধ্যমেই পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে থাকে। তাই এদের পুরো দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে এদের বেড়ে ওঠাই হতো না। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। 
- পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- পরিবেশের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকতে গিয়ে লক্ষ কোটি বছরের প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা এসব উদ্ভিদ উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য জলজ উদ্ভিদগুলোর জন্ম খুবই জরুরি এবং তাদের বেড়ে উঠার জন্য পানির ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫২.
কাঁঠাল কোন জাতীয় ফল?
  1. রসালো ফল
  2. সরল ফল
  3. যৌগিক ফল
  4. গুচ্ছ ফল
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ফল
ব্যাখ্যা

- ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- সরস ফল, গুচ্ছ ফল ও যৌগিক ফল।
- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি যৌগিক ফল।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৫৩.
ফুলের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কোনটি?
  1. বৃতি
  2. দলমণ্ডল
  3. পুষ্পমঞ্জরি
  4. পুংস্তবক
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক
ব্যাখ্যা

বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক এবং পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বলে৷
পুংস্তবক ফুলের তৃতীয় স্তবক। এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। পুংকেশরের পরাগধানীর মধ্যে বিদ্যমান পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উৎপন্ন হয় যা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।
স্ত্রীস্তবকও পুংস্তবকের মতো সরাসরি জন কাজে অংশগ্রহণ করে৷
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৮৫৪.
কোন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে? 
  1. শ্বসন
  2. প্রস্বেদন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. অভিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ। 
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৫.
নিচের কোনটি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. মটর
  2. নারকেল
  3. ভুট্টা
  4. তাল
সঠিক উত্তর:
মটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মটর
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
- যেমন: ধান, সুপারি, গম, ভুট্টা, তাল, নারকেল এসব একবীজপত্রী উদ্ভিদ।

• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ :
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে ।
- যেমন - আম, জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
১. বীজে বীজপত্র দুইটি;
২. মূল প্রধান মূল; 
৩. পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত জালিকাকার। 

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৬.
প্রোটোপ্লাজমে নিচের কোন অঙ্গাণুটি দেখা যায়-
  1. কোষঝিল্লি
  2. নিউক্লিয়াস
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হয়।
- একটি আদর্শ উদ্ভিদ কোষ প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- কোষপ্রাচীর এবং প্রোটোপ্লাজম।

১) কোষপ্রাচীর: 
- উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীর থাকে, একে কোষপ্রাচীর বলে। 
- এটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। 
- প্রাণিকোষে এ ধরনের প্রাচীর থাকে না, প্রাণিকোষের আবরণটি প্লাজমা পর্দা দ্বারা গঠিত। 
- কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা এবং কোষের সীমারেখা নির্দেশ করা কোষপ্রাচীরের প্রধান কাজ। 

২) প্রোটোপ্লাজম: 
- একটি প্রোটোপ্লাজম প্রধানত কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রোটোপ্লাজম কোষের অর্ধতরল, জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশ। 
- প্রোটোপ্লাজমের নানাবিধ বিক্রিয়ার ফলে জীবনের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়। 
- এটি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব যৌগ সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮৫৭.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ফাইটোহরমোন নয়? 
  1. সাইটোকাইনিন
  2. অক্সিন
  3. জিবেরেলিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- 'ইনসুলিন' উদ্ভিদের ফাইটোহরমোন নয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৮.
ধান কি জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. বীরুৎ
  3. গুল্ম
  4. উপগুল্ম
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরুৎ
ব্যাখ্যা

*** ধান হচ্ছে বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ।

• বীরুৎ: 
- বীরুৎ (Herb) ছোট ও নরম কাণ্ডবিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদ। যেমন: ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
- বীরুৎ বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী। 

• বৃক্ষ:
- বৃক্ষ (Tree) হলো বিশাল, কাষ্ঠল এবং সাধারণত একটি প্রধান কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ, যা ধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে না। যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

• গুল্ম:
- গুল্ম (Shrub) হলো মাঝারি আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদ যার শাখা-প্রশাখা মাটির কাছাকাছি থেকে বের হয়। ধানের কাণ্ড নরম, কাষ্ঠল নয়।
যেমন: জবা, রঙ্গন, গোলাপ ইত্যাদি।

• উপগুল্ম:
- উপগুল্ম (Subshrub) গুল্মের চেয়ে ছোট হয়, তবে এতে কিছুটা কাষ্ঠল ভাব থাকতে পারে, যা ধানে অনুপস্থিত। যেমন: কালকাসুন্দা, দাদমর্দন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৮৫৯.
ফুলের কোন অংশ কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে সুরক্ষা দেয়?
  1. পুংস্তবক
  2. স্ত্রীস্তবক
  3. বৃতি
  4. পুষ্পাক্ষ
সঠিক উত্তর:
বৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃতি
ব্যাখ্যা
ফুল: 
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ যেমন- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দল বা পাপড়ি, পুংকেশর ও গর্ভকেশর দেখা যায়, সে ফুলগুলোকে বলে সম্পূর্ণ ফুল। 
- আর যদি এই পাঁচটি অংশের মধ্যে একটি বা দুটি অংশ না থাকে, তবে সে ফুলগুলোকে বলে অসম্পূর্ণ ফুল। 
- কখনো কখনো ফুলে এই পাঁচটি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে, একে উপবৃতি বলে। 
যেমন- জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখা যায়। 
- আবার কোনো কোনো ফুলে বৃন্ত থাকে, এগুলোকে সবৃন্তক ফুল এবং যে ফুলগুলোয় বৃন্ত থাকে না সেগুলোকে অবৃন্তক ফুল বলে। 

ফুলের বিভিন্ন অংশ: 
বৃতি: 
- ফুলের সবচেয়ে বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। 
- সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়। 
- বৃতি খণ্ডিত না হলে সেটি যুক্ত বৃতি, কিন্তু যখন এটি খণ্ডিত হয় তখন বিযুক্ত বৃতি বলে। 
- এর প্রতি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে। 
- বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করে। 

দলমণ্ডল: 
- এটি বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। 
- কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে, এর প্রতিটি অংশকে পাপড়ি বা দলাংশ বলে। 
- পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত (যেমন-ধুতরা) অথবা পৃথক (যেমন-জবা) থাকতে পারে, এরা বিভিন্ন রঙের হয়। 
- দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকা-মাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে। 
- এরা ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। 

পুংস্তবক বা পুংকেশর: 
- এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক, এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। 
- পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। 
- পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়, পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর: 
- এটি ফুলের চতুর্থ স্তবক, এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়। 
- একের অধিক গর্ভপত্র সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে যুক্তগর্ভপত্রী, আর আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী বলে। 
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড থাকে। 
- গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক সাজানো থাকে, ডিম্বকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। 
- এরা পুংস্তবকের মতো সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 
- বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক এবং পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বলে। 

থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার: 
- এ অংশ উপরের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে। 

পুষ্পমঞ্জরি: 
- কান্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে, ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। 
- পরাগায়নের জন্য এর গুরুত্ব খুব বেশি। 
- এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি ও বৃদ্ধি সসীম হলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৬০.
পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদে কী অবস্থায় পরিবাহিত হয়? 
  1. স্ফটিক অবস্থায়
  2. গ্যাসীয় অবস্থায়
  3. কঠিন অবস্থায়
  4. দ্রবীভূত তরল অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
দ্রবীভূত তরল অবস্থায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবীভূত তরল অবস্থায়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। 
- কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। 
- এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 

- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 
- তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬১.
চায়ের পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন ই
  2. ভিটামিন এ
  3. ভিটামিন বি
  4. ভিটামিন ডি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬২.
পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে কী বলা হয়? 
  1. এপিফাইটিক
  2. এন্ডোফাইটিক
  3. লিথোফাইটিক
  4. ফাইটোপ্লাঙ্কটন
সঠিক উত্তর:
লিথোফাইটিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথোফাইটিক
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৩.
নিচের কোনটি অকোষীয়?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
- কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৬৪.
যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদেরকে বলা হয়-
  1. ক) রিব ভাজক টিস্যু
  2. খ) মাস ভাজক টিস্যু
  3. গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
  4. ঘ) গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ:
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা-
১। মাস ভাজক টিস্যু
২। রিব ভাজক টিস্যু ও
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু।

১। মাস ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে।
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম।

২। রিব ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা ।

৩। প্লেট ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়।
যেমন- পাতার টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৬৫.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. ক) মদ্য শিল্পে
  2. খ) সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
  3. গ) রুটি শিল্পে
  4. ঘ) এক কোষীয় প্রোটিন তৈরিতে
সঠিক উত্তর:
খ) সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
ব্যাখ্যা
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। 
- সাইট্রিক এসিড বা  ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮৬৬.
নিচের কোনটি অতি-আণুবীক্ষণিক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. সায়ানোব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাস:
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি ভাইরাসজনিত রোগ।
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
- বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৭.
ধান কোন প্রকার পরাগী ফুলের উদাহরণ?
  1. বায়ু পরাগী
  2. প্রাণী পরাগী
  3. পতঙ্গ পরাগী
  4. পানি পরাগী
সঠিক উত্তর:
বায়ু পরাগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু পরাগী
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যাদের মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন।
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৮.
নিচের কোন উদ্ভিদ দেহের খণ্ডায়নের মাধ্যমে জনন করে? 
  1. পটল
  2. সেগুন
  3. মিউকর
  4. মিষ্টি আলু
সঠিক উত্তর:
মিউকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউকর
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। 
- Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। 
যেমন- পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়, এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। 
যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৬৯.
সালোকসংশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
  2. খ) উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
  3. গ) পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
  4. ঘ) স্থলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার জলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার জলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার জলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৮৭০.
বায়ু পরাগী ফুল কোনটি? 
  1. কদম
  2. জবা
  3. ধান
  4. পাতা শ্যাওলা
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭১.
‘অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা’- কে কী বলা হয়?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Microbiology
  4. Mycology
সঠিক উত্তর:
Microbiology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Microbiology
ব্যাখ্যা
Microbiology - অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা।

অন্যদিকে,
Embryology - ভ্রণ সম্পর্কিত বিদ্যা।
Evolution - বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা।
Mycology - ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৭২.
তুলা ও শন গাছের তন্তুগুলো হলো-
  1. ক) বাস্ট ফাইবার
  2. খ) ফ্লোয়েম তন্তু
  3. গ) তরুক্ষীর টিস্যু
  4. ঘ) ক এবং খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম তন্তু
- ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্ত্র বলা হয়।
- কোষগুলো মৃত এবং স্থুল প্রাচীরবিশিষ্ট।
- ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে।
- পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার।

কাজ- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনও কখনও খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে।


উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৩.
সেলুলোজ উপস্থিত কোন ফলে?
  1. ক) বেল
  2. খ) আখের রস
  3. গ) আঙুর
  4. ঘ) খেজুর
সঠিক উত্তর:
ক) বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেল
ব্যাখ্যা

শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলােজঃ বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনাে ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলােজ থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৮৭৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান?
  1. ক্যালসিয়াম (Ca)
  2. লৌহ (Fe)
  3. কার্বন (C)
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:

• উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা ১৬ টি।

• উদ্ভিদের পুষ্টির উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান
২. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন: নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) ও লৌহ (Fe)।
- মনে রাখার উপায়: MgK CaFe for Nice CHOPS

• মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। যেমন: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

• পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উদ্ভিদ বায়ু হতে শোষণ করে। অন্য পুষ্টি উপাদান গুলো মাটি হতে মূলের সাহায্যে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৮৭৫.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রো উপাদান?
  1. ক্লোরিন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে, এই উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদন বলে।
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

২. মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn). মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৬.
নিম্নলিখিত কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়?
  1. ক্যালসিয়াম (Ca)
  2. দস্তা (Zn)
  3. নাইট্রোজেন (N)
  4. ফসফরাস (P)
সঠিক উত্তর:
দস্তা (Zn)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা (Zn)
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়- দস্তা (Zn), এটি একটি মাইক্রোউপাদান (micronutrient), অর্থাৎ উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য এটি খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়।

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদান: 

- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে, এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।  এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৭.
ভুট্টায় কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) প্রাণী পরাগায়ন
  2. খ) পানি পরাগায়ন
  3. গ) বায়ু পরাগায়ন
  4. ঘ) পতঙ্গ পরাগায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু পরাগায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু পরাগায়ন
ব্যাখ্যা

ধান, ভুট্টা, গম, ইক্ষু ইত্যাদিতে বায়ু পরাগায়ন ঘটে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

৮৭৮.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাইটোসিস
ব্যাখ্যা
• পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
• পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
• এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
• এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৭৯.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস 
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮০.
নিচের কোনটি পতঙ্গ পরাগী ফুল?
  1. ক) ধান
  2. খ) কুমড়া
  3. গ) পাতা শ্যাওলা
  4. ঘ) কদম
সঠিক উত্তর:
খ) কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমড়া
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
এদের গর্ভমুন্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমন্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে, যেমন- ধান।

পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুংপুষ্প বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে, যেমন- পাতা শ্যাওলা।

প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮১.
ইউরিয়া সার উদ্ভিদে মূলত কোন উপাদান সরবরাহ করে? 
  1. পটাশ
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮২.
কোষের রাইবোজোম কোনটি উৎপন্ন করে?
  1. স্টার্চ
  2. প্রোটিন
  3. ফ্যাট
  4. লিপিড
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কিংবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো অঙ্গানুগুলোকে বলা হয় রাইবোজোম।
- ১৯৫৫ সালে প্যালাডে প্রথম রাইবোজোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোজোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৮৮৩.
নিচের কোনটিতে আদিকোষ থাকে?
  1. ক) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) অধিকাংশ জীবকোষে
  4. ঘ) ক+খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক+খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা

আদিকোষঃ 
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

৮৮৪.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ?
  1. ধান 
  2. জবা 
  3. কদম 
  4. শিমুল 
সঠিক উত্তর:
ধান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান 
ব্যাখ্যা

- বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ হচ্ছে ধান। 

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৫.
উদ্ভিদের গৌণ পুষ্টি উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৯
সঠিক উত্তর:
ক) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ ৬ টি।
নতুন ব্যাখ্যাঃ
উদ্ভিদের ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রো উপাদান বা গৌণ পুষ্টি উপাদান ৬ টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl) ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮৬.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) ম্যাপল
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাপল
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

৮৮৭.
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কয় ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ ২ ধরনের। যথা- দেহকোষ এবং জননকোষ (যেযন- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৮.
'কপিসিং' করা হয় কোন বৃক্ষে?
  1. ক) জারুল
  2. খ) গরান
  3. গ) গর্জন
  4. ঘ) শাল
সঠিক উত্তর:
ক) জারুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জারুল
ব্যাখ্যা
- জারুল একটি বিশাল পত্রঝরা বৃক্ষ।
-  এর বাকল হালকা ছাই রঙের অথবা ফ্যাকাশে বাদামি রঙের। 
- পাতা সরল, শীত মওসুমে জারুলের পাতা লালচে অথবা তামাটে বর্ণ ধারণ করে এবং ক্রমান্বয়ে ঝরে যেতে থাকে।
- সাধারণত বীজের মাধ্যমে জারুল গাছের বংশবিস্তার করা হয়। 
- জারুল গাছের কপিসিং ক্ষমতা খুব ভালো।

সূত্রঃ বনায়ন, অর্থনৈতিক বৃক্ষ পরিচিতি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৮৯.
সর্বপ্রথম ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. ব্রাউন
  2. বেটসন
  3. বার্নেস
  4. আরহেনিয়াস
সঠিক উত্তর:
বার্নেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্নেস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯০.
নিচের কোন উদ্ভিদটির মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়?
  1. হলুদ 
  2. আদা 
  3. মিষ্টি আলু
  4. পাথরকুচি
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা

- মিষ্টি আলু (Sweet potato) হল একটি মূল জাতীয় উদ্ভিদ, যার মূল থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। 

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 

- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯১.
নিচের কোনটি মসবর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) নারিকেল
  3. গ) Riccia
  4. ঘ) Fungi
সঠিক উত্তর:
গ) Riccia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Riccia
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা বা মসবর্গঃ এ বিভাগে কতক উদ্ভিদকে নরম কান্ড ও পাতার মত অংশে বিভক্ত করা যায় এবং কতক উদ্ভিদ থ্যালোয়েড জাতীয়। উদাহরণঃ Riccia, Marchantia ইত্যাদি।
৮৯২.
কোন উদ্ভিদে শ্বাসমূল দেখা যায়?
  1. আদা
  2. হলুদ
  3. গরান
  4. রাস্না
সঠিক উত্তর:
গরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরান
ব্যাখ্যা

- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়।
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৮৯৩.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার Optimum তাপমাত্রা কত? 
  1. ১৫-২২° সেলসিয়াস
  2. ২২-৩৫° সেলসিয়াস
  3. ১৮-২৫° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়।
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ।
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি  সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৪.
কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
  1. গেওয়া
  2. কেওড়া
  3. সুন্দরী
  4. শাল
সঠিক উত্তর:
শাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাল
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- শাল ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।

উৎস: বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৮৯৫.
লাল টিউলিপের সৌন্দর্য কোন কারণে বৃদ্ধি পায়? 
  1. ফুলে হালকা বৃষ্টি পড়ে 
  2. আলো বেশি পাওয়ার কারণে 
  3. ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে 
  4. ফুলে অতিরিক্ত সার প্রয়োগের কারণে 
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে 
ব্যাখ্যা

- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৬.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
  2. এরা অবীজী উদ্ভিদ।
  3. এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক।
  4. এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা:  
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।  
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৭.
6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. ভিনেগার
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
ব্যাখ্যা
রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়।
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথানল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৮.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:
- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৯.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি সরাসরি উৎপন্ন হয়? 
  1. সালফার ও কার্বন 
  2. গ্লুকোজ ও অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ ও অক্সিজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ ও অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৯০০.
বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ক) 19.75
  2. খ) 19.09
  3. গ) 20.95
  4. ঘ) 21.95
সঠিক উত্তর:
গ) 20.95
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 20.95
ব্যাখ্যা

বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ ২০.৯৫ শতাংশ। 

কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩৩ শতাংশ। 
পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের জন্য বায়ুতে এ দুইটি গ্যাসের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান