বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৭০১৮০০ / ১,৩৫৫

৭০১.
তাপমাত্রা 45°C ছাড়ালে শ্বসন হার- 
  1. বেড়ে যায় 
  2. কমে যায় 
  3. বন্ধ হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
কমে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে যায় 
ব্যাখ্যা

শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 

শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI ও MgCl এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৭০২.
কাণ্ডের কোন অংশ থেকে পাতা বের হয়? 
  1. পর্বমধ্য
  2. মুকুল
  3. পর্ব
  4. কাণ্ডের অগ্রভাগ
সঠিক উত্তর:
পর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্ব
ব্যাখ্যা
কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল পত্রকক্ষে জন্মে, তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

৩। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭০৩.
গাছের পাতা বেগুনি হয় কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে? 
  1. লৌহের অভাবে
  2. ফসফরাসের অভাবে 
  3. নাইট্রজের অভাবে
  4. ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাসের অভাবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাসের অভাবে 
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস (P):
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা-পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• লৌহ (Fe):
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণে অংশ নেয়? 
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট 
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট-  উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণে অংশ নেয়। 


উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।

বর্ণের তারতম্য অনুসারে প্লাস্টিডের শ্রেণীবিভাগ মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা লিউকোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্ট।

লিউকোপ্লাস্ট- রঞ্জকবিহীন বর্ণহীন প্লাস্টিড যা উদ্ভিদের বিভিন্ন বিপাকে অংশ নেয় তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। এরা বর্ণহীন প্লাস্টিড। দেখতে দন্ডাকার বা গোলাকার।

ক্রোমোপ্লাস্ট- অসবুজ রঙিন প্লাস্টিড যারা উদ্ভিদের নানা ধরনের কাজে সাহায্য করে তাদের ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। এরা হলদে ও কমলা রঙের প্লাস্টিড। এতে কমলা রঙের ক্যারোটিন এবং হলুদ রংয়ের জ্যান্থোফিল রঞ্জক থাকে। 

ক্লোরোপ্লাস্ট- সবুজ রঞ্জক যুক্ত প্লাস্টিড যারা সালোকসংশ্লেষে সরাসরি অংশ নেয় তাদের ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। ক্লোরোপ্লাস্টের সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিল এবং কমলা রঞ্জক ক্যারোটিন থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭০৫.
কোনটি প্রাণীপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. কদম 
  2. ধান 
  3. জবা 
  4. সরিষা 
সঠিক উত্তর:
কদম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদম 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগ স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। 
- যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময়ে ঐ ফুলের পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগ পরবর্তী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে পরাগায়ন ঘটে। 

প্রাণীর মাধ্যমে পরাগায়ন: 
- প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। 
যেমন: কদম, শিমুল, কচু ইতাদি। 

অন্যদিকে, 
- ধান বায়ুপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 
- জবা ও সরিষা পতঙ্গপরাগী উদ্ভিদের উদাহরণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০৬.
এক্স সিটু কনজারভেশন এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ন্যাশনাল পার্ক
  2. খ) অভায়ারণ্য
  3. গ) বোটানিক গার্ডেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) বোটানিক গার্ডেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বোটানিক গার্ডেন
ব্যাখ্যা
ইন সিটু কনজারভেশন (In situ conservation) : মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু কনজারভেশন বলে।
যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের কর্দমাক্ত, লবণাক্ত ও সিক্ত পরিবেশে জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরবনে বিচরণ করে। সুন্দরী গাছ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের এরূপ বাস্তুতন্ত্রে সংরক্ষণ করা হলো ইন সিটু কনজারভেশন।
ন্যাশনাল পার্ক, অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ইন সিটু পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।

এক্স সিটু কনজারভেশন (Ex situ conservation) : জীববৈচিত্র্যের উপাদানসমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো এক্স সিটু কনজারভেশন। যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হলো এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭০৭.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. ক) গৃহস্থালির ছাই
  2. খ) হাড়ের গুঁড়ো
  3. গ) সরিষার খৈল
  4. ঘ) মাছের কাঁটা
সঠিক উত্তর:
গ) সরিষার খৈল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরিষার খৈল
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার: সরিষার খৈল, তিল-তিসি-বাদামের খৈল, শুকনো রক্ত ইত্যাদি।
• ফসফরাস সমৃদ্ধ সার: হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো ইত্যাদি।
• পটাশ সমৃদ্ধ সার: কচুরিপানার ছাই, কাঠের ছাই ইত্যাদি।

৭০৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটি পতঙ্গ পরাগী ফুলের উদাহরণ? 
  1. কুমড়া
  2. ধান
  3. পাতা শ্যাওলা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
• পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

• বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

• পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

• প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৯.
স্পোর উৎপাদন কিসে সাহায্য করে? 
  1. জীবাণুদের বৃদ্ধিতে
  2. খাদ্য উৎপাদনে
  3. উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
  4. জনন কোষের সৃষ্টিতে
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের বংশ রক্ষায়
ব্যাখ্যা
প্রজনন বা জনন: 
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। 
- প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-অযৌন ও যৌন জনন। 

অযৌন জনন: 
- যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। 
- নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। 
- অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন। 

ক) স্পোর উৎপাদন: 
- প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। 
- উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে, এদের অণুবীজথলি বলে। 
- একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে, তবে কখনো কখনো একটি খলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে। 
- থলির বাইরেও অণুবীজ উৎপন্ন হয়, এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে। 
- Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। 
- Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। 

খ) অঙ্গজ জনন: 
- কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে। 
- এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়। 
- যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭১০.
দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. সয়াবিন
  2. তামাক
  3. আফিম
  4. কার্পাস
সঠিক উত্তর:
আফিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফিম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১১.
কোষ প্রাচীর এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো-
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. পলিস্যাকারাইড
  4. পেকটিন
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। 
- তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১২.
বাস্ট ফাইবারের উৎস কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) আঠা
  3. গ) রবার
  4. ঘ) ছাতিম
সঠিক উত্তর:
ক) তুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুলা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্তু বলা হয়। কোষগুলো মৃত এবং স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট। ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে। পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার। উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য এসব ফাইবার তৈরি হয়। এরা অনেক লম্বা ও পুরুপ্রাচীরবিশিষ্ট বলে এদের বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৩.
কোন খনিজ উপাদান পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় মূল নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকা পালন করে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. মলিবডেনাম
  3. পটাসিয়াম
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান হলো পটাসিয়াম (গ)। উদ্ভিদের রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে অমিসীয় চাপের পরিবর্তন ঘটে। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন কোষে জল প্রবেশ করে কোষ ফুলে ওঠে এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম আয়ন বের হয়ে গেলে জল বেরিয়ে যায়, কোষ শিথিল হয় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় পটাসিয়াম সরাসরি কাজ করে বলে একে মূল নিয়ন্ত্রণকারী খনিজ উপাদান বলা হয়।

পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N): নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P): নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe): উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu): টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
• বোরন (B): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo): অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl): সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কোন খনিজ উপাদান?

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৪.
নিম্নের কোনটি অকোষীয় অণুজীব?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৫.
মস উদ্ভিদের জন্য কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
  3. গ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. ঘ) মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাণ্ড ও পাতাবিশিষ্ট অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
মস উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। এরা সবুজ ও স্বভোজী। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
৭১৬.
কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়? 
  1. 300-350 nm
  2. 400-480 nm
  3. 520-560 nm
  4. 750-800 nm
সঠিক উত্তর:
400-480 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
400-480 nm
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পানি এবং CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। 
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। 
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। 
- আবার আলোক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। 
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। 
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। 
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৭.
Which two components are primarily present in the chemical structure of a virus?
  1. Carbohydrate and Protein
  2. Lipid and Carbohydrate
  3. Starch and Glycogen
  4. Nucleic Acid and Protein
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Nucleic Acid and Protein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nucleic Acid and Protein
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৮.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুলের উদাহরণ?
  1. ক) কুমড়া
  2. খ) লাউ
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) ঝিঙ্গা
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাপ
ব্যাখ্যা

- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথাঃ পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমনঃ জবা, ধুতুরা, সরিষা, গোলাপ ইত্যাদি।
- এই ৫টির যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমনঃ লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, লালপাতা ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৭১৯.
নিচের কোনটির মাধ্যমে স্থলজ উদ্ভিদ খনিজ শোষণ করে?
  1. মূলরোম
  2. পত্ররন্ধ্র
  3. জাইলেম
  4. ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর:
মূলরোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলরোম
ব্যাখ্যা
• খনিজ লবণ শোষণ: 
- উদ্ভিদ দেহাভ্যন্তরে বিভিন্ন শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন করতে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন পড়ে। 
- সাধারণত দেহাভ্যন্তরে এগুলো তৈরি হয় না; বাইরে থেকে, বিশেষ করে মাটি থেকে এসব খনিজ লবণ শোষণ করে নিতে হয়।
- উদ্ভিদের শারীরিক পরিপূর্ণতার জন্য এগুলো আবশ্যকীয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, উদ্ভিদের জন্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার (গন্ধক) 'সলিবডেনাম বোরন, নিকেল ও ক্লোরিন-এই অত্যাবশ্যকীয়।

• লবণ পরিশোষণ অঙ্গ :
- স্থলজ উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলের নব গঠিত কোষগুলোই লবণ পরিশোষণে অধিক কার্যক্ষম।
- মূলরোম দিয়েও কিছু লবণ পরিশোষিত হয়ে থাকে।
- ধারণা করা হয় যে, নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদের সব অঙ্গই লবণ পরিশোষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

• স্থলজ উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্র, জাইলেম ও ফ্লোয়েম দ্বারা লবন শোষণ হয় না। বরং মূলরোম দিয়ে শোষন হয়। 
- পত্ররন্ধ্র দ্বারা গ্যাসীয় পরিবহন হয় এবং জাইলেম-ফ্লোয়েম হলো উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৭২০.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
  1. পরিকল্পিত সেচ
  2. রাসায়নিক সার প্রয়োগ
  3. ভালোভাবে জমি কর্ষণ
  4. আগাছা পরিষ্কারকরণ
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পিত সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পিত সেচ
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদন কৌশল:
• সেচ ও পানি নিষ্কাশন:
- জমির চারপাশে আইল দিয়ে ভারী সেচ দিলে মাটির দ্রবণীয় লবণ চুঁইয়ে ফসলের মূলাঞ্চলের নিচে চলে যায়।
- আবার মূলাঞ্চলের নিচ বরাবর গভীরতায় যদি নিষ্কাশন নালা তৈরি করে জমির পানি বের করে দেওয়া যায় তাহলে মূলাঞ্চলের নিচের লবণও ধুয়ে জমির বাইরে চলে যায়।
- এ অবস্থায় মাটিতে জো আসার সাথে সাথে জমি চাষ দিয়ে ফসল বুনতে হবে। হালকা বুনটের মাটিতে এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর।

এছাড়াও,
লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলের চাষ, পানির বাষ্পীভবন হ্রাসকরণ, বপন পদ্ধতির পরিবর্তনের মাধ্যমে লবণাক্ততা কমানো সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৭২১.
Penicillium কিসের সাহায্যে বংশ বৃদ্ধি করে?
  1. ক) কনিডিয়া
  2. খ) অঙ্গজ জনন
  3. গ) দেহের খন্ডায়ন
  4. ঘ) বংশ বৃদ্ধি করে না
সঠিক উত্তর:
ক) কনিডিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কনিডিয়া
ব্যাখ্যা
Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে।
- কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে।
- দেহের খন্ডায়ন অঙ্গজ জননেরই একটি অংশ। সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এধরনের জনন দেখ যায়।

উদাহারন:  Spirogyra, Mucor ইত্যাদি।

 সূত্র: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৭২২.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৭২৩.
কোনটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ?
  1. পাতার কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. এরেনকাইমা
  3. পাতার মেসোফিল টিস্যু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
ব্যাখ্যা
• পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।
 
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়।
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) পাট
  2. খ) মূলা
  3. গ) গম
  4. ঘ) যব
সঠিক উত্তর:
ক) পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাট
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
- ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব, মূলা ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭২৫.
উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) কোষগহবর
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজম
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে থাকে।

উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত (রঞ্জক যুক্ত বা রঞ্জক বিহীন) অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।
প্লাস্টিডের কাজ (Function of Plastid)-
১. খাদ্য প্রস্তুত করা
২. খাদ্য সঞ্চয় করা এবং
৩. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৭২৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ক) ক্রনোমিটার
  2. খ) ট্যাকোমিটার
  3. গ) হাইগ্রোমিটার
  4. ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা প্রিমাপক যন্ত্র: ক্রনোমিটার 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র: ট্যাকোমিটার 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র: ক্রেসকোগ্রাফ 
- বায়ুর আদ্রর্তা পরিমাপক যন্ত্র: হাইগ্রোমিটার 
 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭২৭.
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া কোনটির উপর নির্ভরশীল? 
  1. রক্ষীকোষদ্বয়ের অবস্থানের উপর
  2. রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর
  3. রক্ষীকোষদ্বয়ের নিউক্লিয়াসের অবস্থান ও গঠনের উপর
  4. রক্ষীকোষদ্বয়ের ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা ও গঠনের উপর
সঠিক উত্তর:
রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর
ব্যাখ্যা
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল: 
- রক্ষীকোষদ্বয়ের স্ফীতি অথবা শিথিল অবস্থা পত্ররন্ধ্রের খোলা বা বন্ধ হতে সহায়তা করে। 
- আমরা জানি, পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষদ্বয়ের রন্ধ্র সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পুরু কিন্তু বহির্ভাগের অর্থাৎ বহিঃত্বক কোষ সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পাতলা হয়। 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কারণে রক্ষী কোষে অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- রক্ষীকোষদ্বয় পার্শ্বস্থ বহিঃত্বক কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়। 
- স্ফীতি হওয়ার ফলে রক্ষী কোষের বাইরের পাতলা প্রাচীরের দিকে অতিরিক্ত চাপের টানে ভেতরের পুরু প্রাচীরটি কিছুটা বেঁকে যায় এবং রন্ধ্র খুলে যায়। 
- অপরপক্ষে বহিঃঅভিস্রবণের ফলে রক্ষীকোষদ্বয় স্ফীতি হারিয়ে শিথিল হয়, ফলে রন্ধ্র বন্ধ হয়। 
- কাজেই পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৮.
কোনটির প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে?
  1. ইথিলিন
  2. ফরমালিন
  3. লাইকোপেন
  4. জ্যান্থোফিল
সঠিক উত্তর:
লাইকোপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকোপেন
ব্যাখ্যা
• লাইকোপেনের প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে।

• লাইকোপেন:
- লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।
- টমেটোর দেহের টকটকে লাল বর্ণ দেখা যায় লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ইথিলিন:

- ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে।
- ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়।
- কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়।
- ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ।
- দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন।
- এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

• জ্যান্থোফিল:
- হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. সূর্যালোক
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

◉ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদ, শৈবাল ও কিছু ব্যাকটেরিয়া সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি (H2O) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ব্যবহার করে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) এবং অক্সিজেন (O2) উৎপন্ন করে। অক্সিজেন খাদ্য তৈরির জন্য আবশ্যক নয়, বরং এটি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত (by-product)।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
- তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৩০.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:

- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:

- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩১.
নিচের কোনটি জীবাণু ভক্ষণ করে?
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) রাইবোজোম
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা
লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
-  এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।
- এর পরিপাক করা উৎসেচকগুলো একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে, তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
- সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর। 
- বৃহৎ কোষগহ্বর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। 
- প্রাণিকোষে কোষগহ্বর সাধারণত অনুপস্থিত থাকে, তবে যদি কখনো থাকে তবে সেগুলো আকারে ছোট হয়।
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর আবরণীর গায়ে প্রায়ই রাইবোজোম লেগে থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এইসব স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষণের ঘটনা ঘটে। উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই এরা উপস্থিত থাকে।
- এন্ডোপ্লাজমিক মেমব্রেন এর উভয় দিকে অথবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অথবা সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত গোলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানার মত অঙ্গাণুকে রাইবোজোম বলে। 
- রাইবোজমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ। স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।

 সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩২.
অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক ১৬৭৫ সালে তার উদ্ভাবিত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
- তিনি এদের "Animalcule" বা ক্ষুদ্র প্রাণী বলে অভিহিত করেন।
- এজন্য তাকে "Father of Bacteriology" বা ব্যাকটেরিওলজির জনক হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়, যা তাকে অনুজীব বিজ্ঞানের জনক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- পরবর্তীতে, ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ এই প্রাণীদের "ব্যাকটেরিয়া" নাম দেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

অন্যদিকে,
- বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
- বিজ্ঞানী রবার্ট হুক কোষ আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে  শরীরবিদ্যার জনক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৭৩৩.
উদ্ভিদের নামকরণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) ICVN
  2. খ) ICUN
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) ICZN
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৪.
উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

২। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

৩। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৫.
অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য কোনটি আবশ্যক?
  1. ক) ম্যাংগানিজ
  2. খ) কপার
  3. গ) মােলিবডেনাম
  4. ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
গ) মােলিবডেনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মােলিবডেনাম
ব্যাখ্যা

ম্যাংগানিজ: ক্লোরােপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়ােজন।
কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োেজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
বােরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বােরন প্রয়ােজন, চিনি পরিবহনে বােরন পরােক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
মােলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মােলিবডেনাম আবশ্যক।
ক্লোরিন: সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়ােজন।

৭৩৬.
কোনটি চা-গাছে রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
খ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
- চা গাছ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। 
- এ পর্যন্ত ২২টি বিভিন্ন জীবানুঘটিত  রোগ চা গাছে শনাক্ত করা হয়েছে।
- মৌসুমের সব সময়ই চা গাছে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও রোগবালাই এর আক্রমন লেগে থাকে। 
- সাধারনত রোগবালাই, পোকামাকড় ও আগাছার আক্রমনের কারনে চায়ের ফলন গড়ে প্রায় ১০- ১৫% কমে যায়।
- মৌসুমের সময় চায়ের Red rust, Black rot, Dieback, Blight, Charcoal stump rot ইত্যাদি রোগসমূহ বেশ প্রকট থাকে। 
- মৌসুমে মে- জুন মাসে একবার এবং আগস্ট- সেপ্টেম্বর মাসে একবার মোট দুইবার ছত্রাকনাশক যেমন নোইন ৫০ 'ডব্লিউপি (কার্বেন্ডাজিম) ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট ওয়েবসাইট
৭৩৭.
সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে কী বলে?
  1. ডাইব্যাক
  2. ক্লোরোসিস
  3. ফ্লোরোসিস
  4. উইল্ট 
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
ব্যাখ্যা

- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়াকে ডাইব্যাক (Dieback) বলে, যা গাছের শীর্ষ বা প্রান্তীয় অংশ থেকে টিস্যুর মৃত্যু নির্দেশ করে। 

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয় শুধু, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৮.
Riccia উদ্ভিদের থ্যালাসের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. বিষমপৃষ্ঠ
  2. গোলাকার
  3. একমুখী
  4. সমান পৃষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বিষমপৃষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমপৃষ্ঠ
ব্যাখ্যা
Riccia উদ্ভিদ: 
- Riccia উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই জন্মায়। 
- Riccia একটি বড় গণ। প্রায় ২০০ প্রজাতি নিয়ে এ গণ গঠিত। 
- Hepaticae শ্রেণীর সদস্যদেরকে লিভারওয়ার্ট বলা হয়। এদের দেহকে থ্যালাস বলা হয়। 
- থ্যালাসের আকৃতি মানুষের লিভারের ন্যায় তাই এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে Riccia গণের ৪৫টি প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। 
- নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে R. bengalensis, R. dhakensis, R. chittagonensis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

Riccia এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য: 
- এদের দেহ অর্থাৎ থ্যালাস মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত নয়। 
- থ্যালাস সবুজ, শায়িত, চ্যাপ্টা এবং বিষমপৃষ্ঠ। 
- থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং মধ্য শিরাবিশিষ্ট। 
-  প্রতিটি শাখার শীর্ষদেশে খাঁজ বিদ্যমান থাকে। 
- থ্যালাসের নিচের পৃষ্ঠে দু'প্রকার এককোষী রাইজয়েড এবং বহুকোষী স্কেল (শল্ক) বিদ্যমান। 
- থ্যালাসটি অভ্যন্তরীণভাবে সালোকসংশ্লেষণ এবং সঞ্চয়ী অঞ্চলে বিভক্ত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
ডুমুর কোন জাতীয় ফল?
  1. ক) রসালো ফল
  2. খ) সরল ফল
  3. গ) যৌগিক ফল
  4. ঘ) গুচ্ছ ফল
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ফল
ব্যাখ্যা

- ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- সরস ফল, গুচ্ছ ফল ও যৌগিক ফল।
- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি যৌগিক ফল।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৪০.
নিচের কোনটি ম্যাক্রোমৌল?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) বোরন
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) মারকারি
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
- মুখ্য উপাদানগুলো হল: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার।

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬ টি।
- গৌণ উপাদান হলো: দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, বোরন, তামা এবং ক্লোরিন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৪১.
ব্যাকটেরিয়া কী?
  1. জড়বস্তু
  2. প্রাণী
  3. উদ্ভিদ
  4. অণুজীব
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। 
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি । 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা: 
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। 
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। 
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়। 
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৭৪২.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়? 
  1. ভিটামিন
  2. আমিষ
  3. শর্করা
  4. স্নেহ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গুকোজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭৪৩.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ?
  1. Pteris
  2. Psilotum
  3. Lycopodium
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
Psilotum
Lycopodium
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৪.
পানি পরাগায়ণ ঘটে কোন উদ্ভিদে?
  1. ক) সূর্যমুখী
  2. খ) ধান
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) পাতা শ্যাওলা 
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতা শ্যাওলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতা শ্যাওলা 
ব্যাখ্যা
যে সকল ফুলের পরাগায়ণ পানির মাধ্যমে হয়ে থাকে তাকে পানি পরাগায়ণ বলে। যেমন: পাতা শ্যাওলা, কাঁটা শ্যাওলা প্রভৃতি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৭৪৫.
সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে নির্গত হয় কোনটি?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) O2 ও পানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) O2 ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) O2 ও পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা এবং অক্সিজেন। কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয় শর্করা তৈরির জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৪৬.
লবনাক্ত মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করলে কী পরিবর্তন হয়?
  1. ক) লবণাক্ততা কমে যায়
  2. খ) লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়
  3. গ) পরিবর্তন হয় না
  4. ঘ) মাটি অম্লীয় হয়
সঠিক উত্তর:
ক) লবণাক্ততা কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লবণাক্ততা কমে যায়
ব্যাখ্যা
- জৈব সার জমিতে প্রধানত নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং সালফার সরবারহ করে।
- জৈব সার ভূমিক্ষয় রোধ করে।
- জৈব সার প্রয়োগে জমিতে ফসলের ফলন বৃদ্ধির সাথে সাথে গুণগত মান ও বৃদ্ধি পায়।
- লবণাক্ত মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির লবণাক্ততা কমে যায়। অনেক দেশে লবণাক্ত মৃত্তিকা সংশোধনের কাজে জৈব সার ব্যবহৃত হচ্ছে।

 সূত্র: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মূলরোমের সাহায্যে মাটি হতে পানি শোষণ করে?
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. অভিস্রবণ
  4. ইমবাইবিশন
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 
- তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৮.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে।

দ্বিপদ নামকরণ:
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক।
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি।

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়।
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে।
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens ।
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৪৯.
সবুজ উদ্ভিদ কোথায় খাদ্য তৈরি করে?
  1. ক) কাণ্ডে
  2. খ) মাটিতে
  3. গ) শিকড়ে
  4. ঘ) পাতায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতায়
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য।
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোক সংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে।
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ।
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়।
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি।
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৭৫০.
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট সালফারের ক্ষেত্রে নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সালফারের অভাবে ডাইব্যাক রোগ হয়।
  2. সালফারের অভাবে গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  3. সালফারের অভাবে কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫১.
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. স্পারমাটোফাইটা
  2. ফাইকোফাইটা
  3. ব্রায়োফাইটা
  4. অ্যানজিওস্পার্মোফাইটা
সঠিক উত্তর:
স্পারমাটোফাইটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পারমাটোফাইটা
ব্যাখ্যা
স্পারমাটোফাইটা: 
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়। 
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ। 
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। 
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট। 
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত। 
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
অ্যাডিনো ভাইরাস দ্বারা মানুষের দেহে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডেঙ্গু
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) গুটিবসন্ত
  4. ঘ) নিউমোনিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাস:
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি সবই ভাইরাসজনিত রোগ।
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়।
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন ( যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। 
- আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে। 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৫৩.
নিচের কোনটি স্ব-পরাগায়নের উদাহরণ?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. শিম
সঠিক উত্তর:
শিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিম
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন (Pollination):
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের অথবা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলা হয়। - পরাগায়ন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্ব-পরাগায়ন।
• পর-পরাগায়ন ।

স্ব-পরাগায়ন (self-pollination):
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই ফুলের গর্ভমুন্ডে অথবা একই গাছের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
- স্ব-পরাগায়নে অংশগ্রহণকারী দুটি ফুলের জিনোটাইপ (জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী বস্তুসমষ্টি) একই রকম থাকে।
- প্রকৃতিতে অল্প সংখ্যক উদ্ভিদে স্ব- পরাগায়ন ঘটে।
- তুলা, শিম, টমেটো, কানশিরা প্রভৃতি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন পরিলক্ষিত হয়।

পর-পরাগায়ন (cross-pollination):
- একটি ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পর-পরাগায়ন বলে।
- পর-পরাগায়নে অংশগ্রহণকারী দুটি ফুলের জিনোটাইপ কিছুটা ভিন্নতর হয়।
- প্রকৃতিতে বেশিরভাগ উদ্ভিদে পর-পরাগায়ন পরিলক্ষিত হয়।
- ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, আম, কাঁঠাল, শিমুল ইত্যাদি উদ্ভিদে পর-পরাগায়ন ঘটে।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৪.
কোনটির অভাব পূরণে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফসফরাস
  2. জিংক
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের কাজ: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৭৫৫.
কোনটি আদর্শ ফুলের অংশ নয়?
  1. ক) পুষ্পাক্ষ
  2. খ) পাপড়ি
  3. গ) পুংকেশর
  4. ঘ) উপবৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপবৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপবৃতি
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি অংশ।
১. পুষ্পপক্ষ, 
২. বৃতি, 
৩. দল বা পাপড়ি, 
৪. পুংকেশর ও 
৫. গর্ভকেশর। 

কখনো কখনো ফুলে এই ৫টি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে একে উপবৃতি বলে। জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখ যায়।

সূত্র: ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭৫৬.
কোন উপাদানগুলো অঙ্কুরোদগমের জন্য প্রয়োজন?
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন, আলো ও অক্সিজেন
  3. তাপ, পানি ও অক্সিজেন
  4. পানি ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
তাপ, পানি ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ, পানি ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
অঙ্কুরোদগম:
বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে।
যথাযথভাবে অঙ্কুরোধগম হওয়ার জন্য পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।
অঙ্কুরোদগম প্রধানত ৩ প্রকার।
যথা -
১. মৃদগত অঙ্কুরোদগম
২. মৃদভেদী অঙ্কুরোধগম ও
৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।

উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি।
৭৫৭.
গাইনিসিয়ামের প্রতিটি অংশকে কী বলা হয়?
  1. গর্ভাশয়
  2. কার্পেল
  3. স্তবক
  4. পুষ্পাক্ষ
সঠিক উত্তর:
কার্পেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পেল
ব্যাখ্যা
গাইনিসিয়ামের প্রতিটি অংশকে কার্পেল বলা হয়।

• গাইনিসিয়াম (Gynoecium) বা স্ত্রীস্তবক:
- ফুলের সবচেয়ে ভেতরের স্তবক (চতুর্থ স্তবক) হলো গাইনিসিয়াম বা স্ত্রীস্তবক।
- এ স্তবকের প্রতিটি সদস্যকে বলা হয় কার্পেল (carpel), স্ত্রীকেশর বা গর্ভপত্র।

• গর্ভপাদ পুষ্প (Hypogynous):
- পুষ্পাক্ষ উত্তল হয় এবং গর্ভাশয় এর কেন্দ্রে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক ক্রমান্বয়ে গর্ভাশয়ের নিচে সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অধিগর্ভ গর্ভাশয় (superior ovary)।
- যেমন: সরিষা, জবা, ধান ফুল।

• গর্তকটি পুষ্প (Perigynous):
- পুষ্পাক্ষ অবতল বা পেয়ালাকৃতি হয় এবং গর্ভাশয় এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক গর্ভাশয়কে ঘিরে ক্রমান্বয়ে পেয়ালার কিনারায় সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অর্ধ-অধিগর্ভ গর্ভাশয় (half superior ovary)।
- যেমন: শিম, গোলাপ ফুল।

• গর্ভশীর্ষ পুষ্প (Epigynous):
- পুষ্পাক্ষ প্রসারিত হয়ে পেয়ালাকৃতি ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ের পাদদেশে সংযুক্ত থাকে।
- পুষ্পের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক গর্ভাশয়ের উপরে পর্যায়ক্রমে সজ্জিত থাকে।
- এরা হলো অধোগর্ভ গর্ভাশয় (inferior ovary)।
- যেমন: কুমড়া, পেয়ারা ফুল।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৭৫৮.
সম্পূর্ণ ফুল -
  1. ক) জবা
  2. খ) লাউ
  3. গ) ধুতুরা
  4. ঘ) ক এবং গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা ইত্যাদি।
এবং এর যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৯.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুল?
  1. লাউ
  2. ধুতুরা
  3. শসা
  4. ঝিঙ্গা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ফুলের থাকে ৫টি অংশ।
যেমন- পুষ্পপত্রাধার, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফুলের ৫টি অংশই থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।

আর যে সকল ফুলে এক বা একাধিক অংশ অনুপস্থিত থাকে তাকে বলা হয় অসম্পূর্ণ ফুল।
যেমন- লাউ, কুমড়া, শসা, ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৬০.
নিচের কোনটিকে 'জৈব মুদ্রা' বলা হয়?
  1. ATP
  2. DNA
  3. Chlorophyll
  4. NADP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা

• ATP-কে 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।
- ATP (Adenosine Triphosphate) অণুর মধ্যে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফসফেট বন্ধনী থাকে যা ভেঙে প্রয়োজনীয় জৈবিক শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তি কোষে জমা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় খরচ হয় বলে একে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

• ATP(অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট):
- DNA এবং RNA-এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন।
- এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন।
- অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে একটি, দুটি এবং তিনটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP), অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) এবং অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) গঠন করে।
- ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয়, সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ অর্থাৎ, মাংসপেশির সংকোচন থেকে ইন্দ্রিয়ানুভূতি, খাবার খাওয়া থেকে হজম করা, নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে কথা বলা, চিৎকার করা থেকে হাসি-কান্না, দৈহিক বৃদ্ধি থেকে প্রজনন, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কোষের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখা- এর সবই সম্পন্ন হয়।
- আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়।
- শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে।
- তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে।
- এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
- এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।

অন্যান্য অপশনগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা, ফসফেট এবং চার ধরণের নাইট্রোজেন বেস নিয়ে DNA গঠিত।
- ম্যাগনেসিয়াম পরমাণু এবং পোরফাইরিন রিং নামক জটিল রাসায়নিক কাঠামো নিয়ে ক্লোরোফিল গঠিত।
- ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন থেকে উদ্ভূত কো-এনজাইম কাঠামো নিয়ে NADP গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬১.
কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য
  2. খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা
এসিড মাটি অনুর্বর। জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে। ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়। এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়। তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য সারের চুন ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৭৬২.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. ফার্ন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নাইট্রোজেনের অভাব
  2. পর্যাপ্ত পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডের অভাব
  3. সালফার এবং ক্যালসিয়ামের অতিরিক্ত উপস্থিতি
  4. পটাশিয়ামের অভাব
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেনের অভাব
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলো উদ্ভিদের ক্লোরোসিস (Chlorosis) হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ও প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
• ক্লোরোসিস:
- ক্লোরোসিস হলো উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিলের অভাবজনিত হলুদাভ রং ধারণ।
- এর প্রধান কারণ হলো আয়রন (Fe), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), নাইট্রোজেন (N) ইত্যাদি খনিজ উপাদানের ঘাটতি, যা ক্লোরোফিল গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৪.
নিচের কোনটি যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া?
  1. ক) মুকুলােদগাম
  2. খ) বিভাজন
  3. গ) নিষেক
  4. ঘ) খণ্ডায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) নিষেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিষেক
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতে দুই ধরনের প্রজনন দেখা যায়, অযৌন প্রজনন (Asexual reproduction) এবং যৌন প্রজনন (Sexual reproduction)।
অযৌন প্রজনন: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন ঘটে। মুকুলােদগাম (Budding), বিভাজন, খণ্ডায়ন ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অযৌন প্রজনন হয়।
যৌন প্রজনন: যে প্রক্রিয়ায় দুইটি বিপরীত লিঙ্গের প্রাণী পুং ও স্ত্রী জনন কোষ বা গ্যামেট (Gamete) উৎপন্ন করে এবং তাদের নিষেকের মাধ্যমে প্রজনন ঘটায় এবং সন্তান-সন্তুতি উৎপন্ন করে, তাকে যৌন প্রজনন বলে।

৭৬৫.
পেঁয়াজ কোন ধরনের রূপান্তরিত কান্ড?
  1. ক) কন্দ
  2. খ) স্টোলন
  3. গ) টিউবার
  4. ঘ) রাইজোম
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দ
ব্যাখ্যা
কন্দঃ এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৭৬৬.
ট্রাইকোডার্মা কোন তাপমাত্রায় বংশবিস্তার করতে পারে? 
  1. ৫–১০° সে.
  2. ৪০–৫০° সে.
  3. ১০–১৫° সে.
  4. ২৫–৩০° সে.
সঠিক উত্তর:
২৫–৩০° সে.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫–৩০° সে.
ব্যাখ্যা

ট্রাইকোডার্মা: 
- ট্রাইকোডার্মা এক প্রকার ছত্রাক। 
- এ ছত্রাক বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার সাথে ব্যবহার করে যে সার তৈরি করা হয় তাকে ট্রাইকোডার্মা অণুজীব সার বলে। 
- ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রায় এ ছত্রাক বংশবিস্তার করতে পারে। 
- পচনশীল দ্রব্য বিয়োজনের মাধ্যমে এর জীবন চক্র সম্পন্ন হয়। 
- ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরিতে ট্রাইকোর্ডামা ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। 
- এই ছত্রাকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি অন্যান্য অণুজীবের বা ছত্রাকের চেয়ে কঠিন বস্তু যেমন কাঠের গুড়া গাছের শক্ত অংশ বিয়োজন করতে পারদর্শী। 
- মাটিতে এর কোন নেতিবাচক প্রভাব নেই, তাই এটি পরিবেশ বান্ধব। 
- এ ছত্রাক গাছে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক রোগজীবাণু খেয়ে ফেলে এবং গাছের সুরক্ষা দেয়। এজন্য একে ডক্টরস ফাংগাস বলা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৭.
শ্বসন ঘটে-
  1. ক) সকালে
  2. খ) দুপুরে
  3. গ) রাতে
  4. ঘ) সবসময়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবসময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবসময়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ এবং প্রানীর প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন দিন রাত সবসময় ঘটতে থাকে৷
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৬৮.
কোন ধাপে DNA এর প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়?
  1. ক) ইন্টারফেজ
  2. খ) টেলোফেজ
  3. গ) প্রোফেজ
  4. ঘ) মেটাফেজ
সঠিক উত্তর:
ক) ইন্টারফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইন্টারফেজ
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন আরম্ভ হওয়ার পূর্বে ইন্টারফেজ পর্যায়েই DNA প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়।

ইন্টারফেজ দশা- ইন্টারফেজ হল কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া পর্যায়ের প্রস্তুতির পর্ব। কোষ বিভাগের সময়, ডিএনএ দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং তারপরে কন্যা কোষগুলিতে বিতরণ করা হয়। তাই কোষ বিভাগের এই প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়োটাইড এবং সমস্ত প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
ইন্টারফেজ এর গুরুত্ব:
-ইন্টারফেজ, কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়কালে, এমন সময় হয় যখন কোষটি বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যস্ত থাকে। কোনও কোষ বিভক্ত হওয়া উচিত কিনা তা Interphase সিদ্ধান্ত নেয়।
-ইন্টারফেজের তিন-পর্যায়ের জি 1, এস, জি 2 রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলিতে, ডিএনএ প্রতিরূপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম এবং প্রোটিনগুলি সংশ্লেষিত করা হয়।
-জি ১ পর্যায়ে সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াসের অনুপাত বজায় থাকে। এস পর্যায়ে ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের নকল ঘটে এবং জি 2 পর্বে কোষটি বৃদ্ধি পায় এবং মাইটোসিসের জন্য প্রস্তুত হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৯.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়? 
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. মেটামরফোসিস
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• পরাগরেণু একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ। হ্যাপ্লয়েড কোষের নিউক্লিয়াস যখন সংখ্যাবৃদ্ধি করে বা বিভাজিত হয়, তখন তা মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। এই বিভাজনের ফলে পরাগরেণুর ভেতরে জনন নিউক্লিয়াস ও নালী নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

- পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
-  পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
-  এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
- এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

অন্যান্য অপশন:
- মিয়োসিস: পরাগরেণু নিজে হ্যাপ্লয়েড হওয়ায় এতে পুনরায় হ্রাসমূলক বিভাজন ঘটা সম্ভব নয়।
- অ্যামাইটোসিস: এটি মূলত অতি নিম্নশ্রেণির এককোষী জীবের সরাসরি বিভাজন পদ্ধতি যা উন্নত উদ্ভিদে দেখা যায় না।
- মেটামরফোসিস: এটি প্রাণীর দৈহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া যা কোষ বিভাজনের কোনো পদ্ধতি নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭৭০.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. সালফার
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত? 
  1. ১৮-২৫° সেলসিয়াস 
  2. ২২-৩৫° সেলসিয়াস 
  3. ১৫-২৮° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস 
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২-৩৫° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭২.
নিউক্লিয়িক অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদনে মূলত কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. নাইট্রোজেন 
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. পটাসিয়াম 
  4. ফসফরাস 
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৩.
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান-
  1. ক) ইকোলোজি
  2. খ) এনাটমি
  3. গ) ইভোলিউশন
  4. ঘ) হিস্টলজি
সঠিক উত্তর:
ক) ইকোলোজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইকোলোজি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে ইকোলোজি  বলে। 

- ইকোলজি হলো বাস্তুসংস্থান।
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আদান-প্রদান ও একাত্মতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তঃসম্পর্ককে ইকোলজি বলে।
- ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাড়ি সংক্রান্ত আলোচনা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্মিলিত অবস্থান যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তাই মূলত ইকোলজি।
- Ernest Haeckel নামক জার্মান বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে Ecology শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ইকোলজি হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। 

সূত্র: ১৯ পৃষ্ঠা, পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৪.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ধান
  3. ডাটাশাক
  4. পাট
সঠিক উত্তর:
ডাটাশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাটাশাক
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৫.
লবণের দ্রবণে আঙুর রাখলে তা চুপসে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) অন্তঃঅভিস্রবণ
  3. গ) বহিঃঅভিস্রবণ
  4. ঘ) ইমবাইবিশন
সঠিক উত্তর:
গ) বহিঃঅভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহিঃঅভিস্রবণ
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ দু'ধরনের

(১) অন্তঅভিস্রবণঃ

দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঅভিস্রবণ ঘটে। অন্তঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরােমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শােষণ করতে পারে। উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

(২) বহিঅভিস্রবণঃ দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঅভিস্রবণ ঘটে। টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিম্বা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভিদের কোষ থেকে কোষান্তরে পানির চলাচল ঘটে।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭৭৬.
স্পিরলিনা কী?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৈবাল
ব্যাখ্যা
- সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরােফিলযুক্ত ও স্বভােজী উদ্ভিদরাই শৈবাল।
- এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে।
- এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।
- এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না।
- এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে।
- ‘স্পাইরােগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়।
- স্পিরলিনা এক ধরনের নীলাভ সবুজ শৈবাল।
- সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- আয়ােডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
- মৎস্য চাষে ফাইটোপ্লাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে এর প্রধান অংশই শৈবাল।
- চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রােগ।
- পুকুরে শৈবাল ওয়াটাররুম সৃষ্টি করে ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৭৭.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. রুটি শিল্পে
  2. মদ্য শিল্পে
  3. এক কোষীয় প্রোটিন শিল্পে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইস্ট:
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৭৭৮.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক।
  2. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের।
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
  4. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৯.
প্রকৃত ফলের বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
  2. খ) গর্ভমুন্ড ফলে পরিণত হয়
  3. গ) পরাগধানী ফলে পরিণত হয়
  4. ঘ) গর্ভদন্ড ফলে পরিণত হয়
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা
শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৮০.
নিচের কোনটি টমেটোর রং লাল হবার জন্য দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজোম
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৮১.
আখ গাছের জন্য ক্ষতিকর-
  1. বিছাপোকা
  2. লার্ভা
  3. মাজরা পোকা
  4. শুয়াপোকা
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাজরা পোকা
ব্যাখ্যা
- আখে বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- লাল পচা, নেতিয়ে পড়া, ক্লোরোসিস, লাল রেখা ইত্যাদি এবং বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- উইপোকা, ডগার মাজরা পোকা, কান্ডের মাজরা পোকা ইত্যাদির আক্রমণ হয়ে থাকে।
- উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত উপযুক্ত পদ্ধতিতে এ সব রোগ এবং পোকা মাকড় দমন করা আবশ্যক। 

উৎস: ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৮২.
উদ্ভিদের পুষ্পধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে বলে-
  1. ক) ফসফোরাইলেশন
  2. খ) ফটোপিরিওডিজম
  3. গ) রেস্পিরেশন
  4. ঘ) ফটোলাইসিস
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোপিরিওডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোপিরিওডিজম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফটোপিরিওডিজমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এক ঋতুর ফসল অন্য ঋতুতে ফলানো সম্ভব। এক ঋতুর ফসল উত্পন্ন ও বাজারজাত করে ভিন্ন মৌসুমের ফসল হিসেবে প্রচুর আয় করা সম্ভব। সূত্রঃ প্রথম আলো।
৭৮৩.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ?
  1. হাম
  2. জন্ডিস
  3. জলবসন্ত
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। 

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান. 

৭৮৪.
উদ্ভিদে উপস্থিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কী ধরনের কোষকলা?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) নিঃস্রাবী টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল টিস্যু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। এরা একত্রে টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭৮৫.
বীজপত্রের সংখ্যা অনুসারে গুপ্তবীজী উদ্ভিদ কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই 
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই 
ব্যাখ্যা
বীজপত্রের সংখ্যা অনুসারে গুপ্তবীজী উদ্ভিদ দুধরণের হয়ে থাকে।
যথা —
একবীজপত্রী উদ্ভিদ, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।
যেসব উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে , তাদেরকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — ধান , ভুট্টা , গম , তাল , সুপারি , নারকেল ইত্যাদি একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ : যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — আম , জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট, কলা ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৭৮৬.
লিউকোপ্লাস্ট প্লাস্টিডের বর্ণ কীরূপ হয়ে থাকে?
  1. ক) সবুজ
  2. খ) হলুদ
  3. গ) কমলা
  4. ঘ) বর্ণহীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণহীন
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা-
১. ক্লোরোপ্লাস্ট,
২. ক্রোমোপ্লাস্ট এবং
৩. লিউকোপ্লাস্ট।

- লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না,
- ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং
- সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অনুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮৭.
নিচের কোন উপাদানটির অভাবে গাছের কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়?
  1. ক) বোরন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ম্যাগনেশিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
ব্যাখ্যা

লৌহের অভাবে গাছের কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
লৌহের অভাবে প্রথমে গাছের কচি পাতার রঙ হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৭৮৮.
Which plant organelle carries out photosynthesis?
  1. Mitochondria
  2. Chloroplast
  3. Nucleus
  4. Ribosome
  5. Golgi body
সঠিক উত্তর:
Chloroplast
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chloroplast
ব্যাখ্যা
• ক্লোরোপ্লাস্ট নামক অঙ্গাণুতে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই - অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)।

• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান:
- ক্লোরোপ্লাস্ট,
- সূর্যালোক,
- পানি,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড।
 
• সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব:
→ খাদ্য তৈরি: উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, যা অন্যান্য প্রাণী ও মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে।  
→ অক্সিজেন সরবরাহ: সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নির্গত হয়, যা জীবনের জন্য অপরিহার্য।  
→ পরিবেশের ভারসাম্য: কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখে। 

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
- ক্লোরোপ্লাস্ট হল উদ্ভিদ কোষের মধ্যে থাকা এক ধরনের অঙ্গাণু, যেখানে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে।
- ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে থাকা ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ সূর্যালোক শোষণ করে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটিকে সম্পন্ন করে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭৮৯.
নিচের কোন উদ্ভিদে নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী উভয় ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়?
  1. সাইকাস
  2. নিটাম
  3. নারিকেল
  4. ইক্ষু
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা

- জীবাশ্মের পরীক্ষা থেকে অন্তর্বর্তী উদ্ভিদের অস্তিত্ব বিরল ঘটনা হলেও এমন কিছু উদ্ভিদের কথা জানা যায়, যাদের মধ্যে পাশাপাশি দুটি গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বর্তমান।
- নিটাম নামক উদ্ভিদে নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী উভয় ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭৯০.
ডিম্বকের নিউসেলাসের বাইরের আবরণকে কী বলে?
  1. ক) ডিম্বকমূল
  2. খ) ডিম্বকরন্ধ্র
  3. গ) ডিম্বকত্বক
  4. ঘ) ডিম্বকনাভী
সঠিক উত্তর:
গ) ডিম্বকত্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিম্বকত্বক
ব্যাখ্যা
ডিম্বকের পরিস্ফুটন:
- সপুষ্পক উদ্ভিদের স্ত্রী জননাঙ্গ বলতে স্ত্রীস্তবকের প্রত্যেকটা স্ত্রীকেশর (Carpel) কে বুঝায়।
- প্রতিটি স্ত্রীকেশর তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- গর্ভমুন্ড, গর্ভদন্ড ও গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয় ।
- ডিম্বাশয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ফিত অংশকে ডিম্বক (Ovule) বলে ।
- ডিম্বক সৃষ্টি হয় গর্ভাশয়ের ভেতরের অমরা (Placenta) হতে।
- প্রথমে অমরাতে একটি ছোট স্ফিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, পরে সেটা বড় হয়ে ডিম্বকে পরিণত হয়।
- ক্ষেত্র বিশেষে একটি ডিম্বাশয়ে এক বা একাধিক ডিম্বক থাকতে পারে।
- প্রাথমিকভাবে ডিম্বকের টিস্যুকে মূলত দুটি অঞ্চলে ভাগ করা চলে । যথা- চারপাশের আবরণী টিস্যু ও মাঝের নিউসেলাস (Nucellus) টিস্যু।
- পরে বাইরের আবরণটির নিচে অন্য একটি আবরণের সৃষ্টি হয়।
- বাইরের আবরণকে বহিঃত্বক এবং ভেতরের আবরণকে অন্তঃত্বক বলে।
- ডিম্বকের অগ্রভাগে একটি অংশে ত্বক না থাকায় নিউসেলাস উন্মুক্ত থাকে।
- এটিতে একটি ছিদ্র পথ থাকে, যাকে ডিম্বকরন্ধ্র বা মাইক্রোপাইল (Micropyle) বলা হয়। 
- ডিম্বক সৃষ্টির শুরু সবক্ষেত্রে একইভাবে হলেও পরে ডিম্বকের বৃদ্ধি একইভাবে হয় না।
- এ ব্যতিক্রমের জন্য পূর্ণ গঠিত ডিম্বক নানা আকৃতির হয়।

ডিম্বকের গঠন:
- একটি ডিম্বক (Megasporangium = ovule) নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত-
১। ডিম্বকনাড়ী (Funiculus): ডিম্বকের বোঁটার ন্যায় অংশকে ডিম্বকনাড়ী বলে। এ বোঁটার সাহায্যে ডিম্বক অমরার সাথে যুক্ত থাকে ।
২। ডিম্বকনাভী (Hilum): ডিম্বকের যে অংশের সাথে ডিম্বকনাড়ী সংযুক্ত থাকে তাকে ডিম্বকনাভী বলে ।
৩। নিউসেলাস (Nucellus): ডিম্বকের মূল দেহকে ভ্ৰূণপোষক টিস্যু বা নিউসেলাস বলে। এটি প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত এবং ডিম্বকত্বক দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। 
৪। ডিম্বকমূল (Chalaza): ডিম্বকের গোড়ার দিকে যে অংশ হতে ডিম্বকত্বক উৎপন্ন হয় তাকে ডিম্বকমূল বলে ।
৫। ডিম্বকত্বক (Integument): নিউসেলাসের বাইরের আবরণকে ডিম্বকত্বক বলে। এটি সাধারণত দু'স্তরবিশিষ্ট হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে একস্তর বিশিষ্টও হতে পারে।
৬। ডিম্বকরন্ধ্র (Micropyle): ডিম্বকত্বক ডিম্বককে সম্পূর্ণ আবৃত না করায় শীর্ষদেশে একটি ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষুদ্র ছিদ্রপথকে ডিম্বকরন্ধ্র বলে। 
৭। ভ্রূণথলি (Embryosac) : নিউসেলাসের মধ্যে অবস্তিত থলির ন্যায় অংশকে ভ্রণথলি বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৯১.
কোনটি মূখ্য পুষ্টি উপাদান?
  1. কার্বন
  2. মলিবডেনাম
  3. বোরন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় 60টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই 60টি উপাদানের মধ্যে মাত্র 16টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ 16টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।

-ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা -
১. নাইট্রোজেন,
২. পটাসিয়াম,
৩. ক্যালসিয়াম,
৪. লৌহ,
৫. ম্যাগনেসিয়াম,
৬. কার্বন,
৭. হাইড্রোজেন,
৮. অক্সিজেন,
৯. ফসফরাস ও
১০. সালফার।

- ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৭৯২.
পাকা ফলের রং হলুদ হয় কোন রাসায়নিক পদার্থের কারণে?
  1. লাইকোপেন বেশি হলে
  2. ক্যারোটিন বেশি হলে
  3. মেলানিন বেশি হলে
  4. জ্যান্থোফিল বেশি হলে
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল বেশি হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল বেশি হলে
ব্যাখ্যা
•  জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এজন্য পাকা ফলের রং হলুদ হয়।

- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা)।
- ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে।
- ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়।
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে।
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৯৩.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি?
  1. প্রোটিন
  2. লিপিড
  3. কাইটিন
  4. পলিস্যাকারাইড
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা
কোষপ্রাচীর: 
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। 
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। 
- প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না। 
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। 
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি। 
- প্রাথমিক কোষপ্রাচীরটি একস্তরবিশিষ্ট। 
- মধ্য পর্দার উপর প্রোটোপ্লাজম থেকে নিঃসৃত কয়েক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য জমা হয়ে ক্রমশ গৌণপ্রাচীর সৃষ্টি হয়। 
- এ প্রাচীরে মাঝে মাঝে ছিদ্র থাকে, যাকে কুপ বলে। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে। 
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজঘাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিরক্ষণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭৯৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান উপাদান হিসাবে কোনটি তৈরি হয়?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. এনজাইম
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া: 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান উপাদন হিসাবে 'শর্করা জাতীয় খাদ্য' উৎপাদিত হয়।  
- শর্করা স্টার্চ রূপে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে। 
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসাবে অক্সিজেন তৈরি হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৯৫.
ইস্ট একটি-
  1. শৈবাল
  2. মস
  3. ছত্রাক
  4. ফার্ন
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- ছত্রাক বহুকোষী জীব।
- এদের আগে উদ্ভিদ জগতের সদস্য মনে করা হতো।
- বর্তমানে এদের উদ্ভিদ জগৎ থেকে আলাদা একটি জগতে স্থান দেওয়া হয়।
- দেহে প্লাস্টিড (ক্লোরোফিল) না থাকায় ছত্রাক পরভোজী বা মৃতজীবী।
- উদাহরণ: মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।
- পিনিসিলিন হচ্ছে পেনিসিলিয়াম থেকে আবিষ্কৃত এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯৬.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। 
  2. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক। 
  3. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
  4. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৭.
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে কী অংশ থাকে?
  1. ফ্ল্যাজেলা
  2. ক্যাপসিউল
  3. প্লাজমামেমব্রেন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন : ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলাে থাকে তা হলাে-
(ক) ফ্ল্যাজেলা,
(খ) ক্যাপসিউল,
(গ) কোষ প্রাচীর,
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন,
(ঙ) মেসােসােম,
(চ) সাইটোপ্লাজম,
(ছ) ক্রোমােসােম এবং
(জ) প্লাজমিড।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৭৯৮.
কোনটি উভলিঙ্গ ফুল?
  1. ধুতুরা
  2. জবা
  3. গোলাপ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ফুল: 
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ:
২. বৃতি:
৩. দলমন্ডল: 
৪. পুংস্তবক:
৫. স্ত্রীস্তবক:
 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলা হয়। 
- যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল।  যেমন গোলাপ, ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে, যেমন কুমড়া আবার দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৯.
ফুলের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কোনটি?
  1. ক) বৃতি
  2. খ) স্ত্রীস্তবক
  3. গ) দলমণ্ডল
  4. ঘ) পুষ্পমঞ্জুরি
সঠিক উত্তর:
খ) স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

ফুলের স্ত্রীস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বলে।  

বৃতি ও দলমণ্ডলকে সাহায্যকারী স্তবক বলে।

পুংস্তবক ও অত্যাবশ্যকীয় স্তবকের অংশ। 

বৃতি:-
এটি ফুলের প্রথম স্তবক এবং সবুজ বর্ণের হয়। বৃতি প্রতিটি অংশকে বৃত্যংশ বলে। 
কাজ : বৃতি ফুলের বিভিন্ন অংশগুলিকে রক্ষা করে।

দলমন্ডল:-
এটি ফুলের দ্বিতীয় স্তবক। এটি সাধারণত উজ্জ্বল বর্ণের হয়। এর এক একটি অংশকে দল বা পাপড় বলে।
দল উজ্জ্বল বর্ণের সাহায্যে পরাগযোগের এর জন্য কীটপতঙ্গের আকর্ষণ করে।

পুংকেশর চক্র বা পুংস্তবক:
এটি ফুলের পুং জনন অঙ্গ তথা তৃতীয় স্তবক। প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। প্রতিটি পুংকেশর পুং দন্ড ও পরাগধানী নিয়ে গঠিত। পরাগধানীর মধ্যে হলুদাভ রঙের পরাগরেণু উৎপন্ন হয়।

গর্ভকেশর চক্র বা স্ত্রী স্তবক:
এটি ফুলের স্ত্রী জনন অঙ্গ তথা চতুর্থ ও শেষ স্তবক। স্ত্রী স্তবকের এক একটি অংশকে গর্ভপত্র বা গর্ভকেশর বলে। প্রতিটি গর্ভপত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত, যথা-গর্ভমুন্ড, গর্ভদন্ড এবং গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয়। ডিম্বাশয়ের মধ্যে অসংখ্য ডিম্বক থাকে। প্রত্যেক ডিম্বক এর মধ্যে ডিম্বাণু যাকে।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৮০০.
সুস্থ দেহের জন্য দৈনিক একজন মানুষের কত গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ১০০ গ্রাম
  2. ১১৫ গ্রাম
  3. ১৫০ গ্রাম
  4. ১৭৫ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
১১৫ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৫ গ্রাম
ব্যাখ্যা
• ফল:
- ফুলের গর্ভাশয় নিষিক্ত, পরিপুষ্ট ও পরিপক্কতা লাভ করে পূর্ণাঙ্গ ফলে পরিণত হয়।
- সুস্থ দেহের জন্য দৈনিক একজন মানুষের ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩৮ গ্রাম।
- বীজপত্রের সংখ্যার ভিত্তিতে ফলকে একবীজপত্রী ও বহু বীজপত্রী ফলে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে।
- পরাগায়নের ভিত্তিতে স্ব-পরাগী, পর-পরাগী, স্ব ও পর- পরাগী ফলে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে।
- জীবনকালের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ফলে ভাগ করা হয়েছে।
- গাছের ফল প্রদানের প্রকৃতি অনুযায়ী মনোকারপিক ও পলিকারপিক ফলে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
- উৎপত্তি অনুসারে প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফল এই দুই ভাগে ভাগ করতা হয়েছে।
- পুষ্পমঞ্জরীর ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সরল, যৌগিক ও গুচ্ছফল এবং পেরিকার্পের বুনটের ওপর ভিত্তি করে নিরস ও সরস ফলে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।


উৎস: স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।