বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৪ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৩৫৫

১,২০১.
মধুতে কোন ভিটামিন বিদ্যমান?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
১. মধু মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাশয়, কানপাকা, জিহবার ঘা, জন্ডিস, অর্শরোগ, সর্দি, কাশি, শ্বাসরোগসহ বিভিন্ন রোগের উপশম ছাড়াও জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।
২. মধু বলবৃদ্ধিকারক, পুষ্টিকর ও মিষ্টিদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৩. মধুতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন-সি রয়েছে।
৪. মধুতে বিদ্যমান ডেক্সট্রোজ শরীরের দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৫. মধু দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে ।
৬. দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় K, Ca, Mg, S, Fe, Cu, P ইত্যাদি উপাদানের উৎস হিসেবে কাজ করে।

কৃষিবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২০২.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত মূল নয়?
  1. ক) মুলা
  2. খ) শালগম
  3. গ) গাজর
  4. ঘ) আদা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদা
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,২০৩.
বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়
  2. খ) এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়
  3. গ) এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
যে সব উদ্ভিদ আকারে ছোট এবং যাদের কাণ্ড নরম হয় তাদেরকে বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – ধান, সরিষা, মরিচ, লাউ, কুমড়া, পুঁই শাক ঘাস, কচু ইত্যাদি।
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সমূহ:
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়।
এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়।
এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না।
উদাহরণ: মরিচ গাছ, লাউ গাছ, ধান, সরিষা ইত্যাদি

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,২০৪.
সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গরম হয় না-
  1. ক) বায়ুমণ্ডল
  2. খ) গাছের ফল
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) গাছের পাতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাছের পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাছের পাতা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- বায়বীয় অংশ থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়।
- প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
- শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- কলার চারা লাগানোর সময় প্রস্বেদন রোধ করার জন্য পাতা কেটে ফেলা হয়।

১,২০৫.
নিচের কোনটি হাইড্রোফিলিক পদার্থ?
  1. সেলুলোজ
  2. মোম
  3. রেজিন 
  4. তেল
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
ব্যাখ্যা

ইমবাইবিশন (Imbibition): 
- এক খণ্ড শুকনা কাঠের এক প্রান্ত পানিতে ডুবালে ঐ কাঠের খণ্ডটি কিছু পানি টেনে নেবে। কলয়েড জাতীয় শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থ তরল পদার্থ শুষে নেয়, এজন্যই কাঠের খণ্ডটি পানি টেনে নিয়েছে, এ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে। 
- সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন- এগুলো হাইড্রোফিলিক (পানিপ্রিয়) পদার্থ। 
- এরা তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে তা শুষে নেয়, আবার তরল পদার্থের অভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। 
- কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজম কলয়েডধর্মী হওয়ায় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়ে ওঠে। 
- ইমবাইবিশন পানি শোষণের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া। 

অন্যদিকে, 
- রেজিন সাধারণত হাইড্রোফোবিক (জলবিরোধী) বা পানিতে অদ্রবণীয় হয়।
- মোম একটি লিপিড এবং এটি হাইড্রোফোবিক, অর্থাৎ এটি পানির সাথে মেশে না।
- তেলও একটি হাইড্রোফোবিক পদার্থ। তেল এবং পানি একসাথে মেশে না, তেল পানির উপর ভাসে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০৬.
ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করেন কে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. রবার্ট হুক
  3. লিউয়েন হুক
  4. লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৭.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়?
  1. ব্যাপন 
  2. শ্বসন 
  3. বাষ্পীভবন 
  4. প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহের ভেতর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির নির্গমন হয় তাকে প্রস্বেদন বলে।

• প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা-
১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

প্রস্বেদনের গুরুত্বসমূহ: 
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। 
- প্রস্বেদন কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, ফলে উদ্ভিদ সহজে মূল দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে।
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদদেহ ঠান্ডা থাকে এবং পাতায় আর্দ্রতা বজায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০৮.
ফুলের কোন কোন অংশ সরাসরি প্রজনন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে?
  1. দল ও বৃতি
  2. দল ও বৃন্ত
  3. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
  4. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

◉ ফুলের প্রজনন অঙ্গ হলো পুংস্তবক (Androecium) এবং স্ত্রীস্তবক (Gynoecium)।

প্রজনন অঙ্গ (ফুল):  
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০৯.
উদ্ভিদে সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন হয় কোন অংশের মাধ্যমে?
  1. ক) পত্ররন্ধ্র
  2. খ) কিউটিনের আবরন
  3. গ) লেন্টিসেল
  4. ঘ) মূল
সঠিক উত্তর:
ক) পত্ররন্ধ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পত্ররন্ধ্র
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে।
- শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয় ৷
- অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায় ৷
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া।

এ কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন ও
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃত্তি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stora, বহুবচন stomata) বলে।
- কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২১০.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. অধিক পরিমাণে কার্বন মনো-অক্সাইড নির্গত হয়
  4. বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
সঠিক উত্তর:
অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছ হতে রাতের বেলা উদ্ভিদের শ্বসনের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ রাতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
- এ সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শারীরবৃত্তীয় বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাই রাতের বেলা গাছের নিচে অক্সিজেনের ঘনত্ব অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 
১,২১১.
এক অনু গ্লুকোজ জারণের ফলে কত অনু ATP উৎপন্ন হয়?
  1. ৩২ অনু
  2. ৩৪ অনু
  3. ৩৬ অনু
  4. ৩৮ অনু
সঠিক উত্তর:
৩৮ অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৮ অনু
ব্যাখ্যা

• গ্লুকোজের জারণ (Glucose Respiration):
- গ্লুকোজ জারণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষ খাদ্য থেকে শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে।
- এটি প্রধানত তিনটি ধাপে ঘটে: গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস সাইকেল, এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন।
- প্রতিটি ধাপে ATP উৎপাদনের পরিমাণ ভিন্ন হয়, এবং সর্বমোট ATP উৎপাদন গ্লুকোজের একটি অণু থেকে নির্ধারিত হয়।

• গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis):
- গ্লাইকোলাইসিস হলো গ্লুকোজের প্রথম ধাপ, যা সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
- এখানে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে মোট ২ অণু ATP উৎপন্ন হয় (নেট লাভ)।
- পাশাপাশি ২ অণু NADH তৈরি হয়, যা পরবর্তী ধাপে আরও ATP উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

• ক্রেবস সাইকেল (Krebs Cycle):
- ক্রেবস সাইকেল মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে ঘটে।
- একটি গ্লুকোজের অণু থেকে ২ অণু পাইরুভেট আসে, যা ক্রেবস সাইকেলে প্রবেশ করে।
- প্রতিটি গ্লুকোজের জন্য এখানে ২ অণু ATP, ৬ অণু NADH এবং ২ অণু FADH2 তৈরি হয়।

• ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (Electron Transport Chain):
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন মাইটোকন্ড্রিয়ার ইনার মেমব্রেনে ঘটে।
- NADH এবং FADH2 থেকে ATP উৎপাদনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩২–৩৪ ATP উৎপন্ন হয়।
- গ্লুকোজের একটি অণু সম্পূর্ণ অক্সিডেশনের পর সর্বমোট প্রায় ৩৮ ATP উৎপন্ন হয়।

সুতরাং, একটি গ্লুকোজ অণু জারণের ফলে উৎপন্ন মোট ATP সংখ্যা হলো ৩৮।  
সঠিক উত্তর: ঘ) ৩৮ অনু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১২.
শিম জাতীয় উদ্ভিদে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে?
  1. Rhizobium
  2. Escherichia coli
  3. Bacillus
  4. Nitrobacter
সঠিক উত্তর:
Rhizobium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Rhizobium
ব্যাখ্যা
• কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
- পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)
১,২১৩.
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১৬টি
  3. গ) ১৭টি
  4. ঘ) ১৮টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।
- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।
- মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,২১৪.
শ্বসন প্রক্রিয়ার কোন ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটেনা?
  1. ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র
  2. ক্রেবস চক্র
  3. অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
  4. গ্লাইকোলাইসিস
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোলাইসিস
ব্যাখ্যা
- শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- এর প্রথম ধাপ (গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো) মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না
- তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria):
- মাইটোকন্ড্রিয়া দুই স্তরবিশিষ্ট আবরণী বা ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা।
- ভিতরের স্তরটি ভিতরের দিকে আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে থাকে।এদের ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে, এদের অক্সিজোম (oxisomes) বলে।
- অক্সিজোমে উৎসেচকগুলো (enzymes) সাজানো থাকে।
- মাইটোকন্ড্রিয়নের (এক বচন) ভিতরে থাকে ম্যাট্রিক্স (matrix)।
- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
- শ্বসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্র (তৃতীয় ধাপ) মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়।
- ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়।
- এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' বা 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২১৫.
কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে কী বলে?
  1. পর্ব
  2. পর্বমধ্য
  3. পত্রমূল
  4. পত্রকক্ষ
সঠিক উত্তর:
পর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্ব
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,২১৬.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. এরিস্টটল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. আল কেমি
সঠিক উত্তর:
থিওফ্রাস্টাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থিওফ্রাস্টাস
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ জগৎ

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
- যথা, 

১. ট্রি বা বৃক্ষ,
২. শ্রাব বা গুল্ম,
৩. আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং
৪. হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২১৭.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) বিট
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিট
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

১,২১৮.
রাইবোজোমের কাজ কী?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।

কাজ- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৯.
কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস
  2. খ) কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস
  3. গ) জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস
  4. ঘ) আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস
সঠিক উত্তর:
খ) কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। থিয়োফ্রাস্টাস এবং লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক অঙ্গসংস্থানিক সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। বেনথাম-হুকার এর শ্রেণিবিন্যাস প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে তাদের উৎপত্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিবর্তন ধারা অনুযায়ী আদি হতে আধুনিক ক্রমধারায় সাজিয়ে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। এঙ্গলার-প্রান্টল, হাচিনসন, বেসি, ক্রনকুইস্ট, তাখতাইয়ান প্রমুখ বিজ্ঞানীর দেয়া শ্রেণিবিন্যাস জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ঃ কোষ, এমনকি এর অঙ্গাণুর গঠন ও জীববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার আধুনিক তথ্য ব্যবহার করে তৈরি শ্রেণিবিন্যাসকেই আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস বলে। মারগুলিস এর শ্রেণিবিন্যাসটি একটি আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২০.
ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রেপ্টোকক্কাস
  2. অ্যাসিটোব্যাকটর
  3. ল্যাক্টোব্যাকটেরিয়া
  4. ই.কোলাই 
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটোব্যাকটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটোব্যাকটর
ব্যাখ্যা

- ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter), যা অ্যালকোহলকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ভিনেগার তৈরি করে। 

সিরকা বা ভিনেগার: 

- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন (H+) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২১.
উদ্ভিদের কোন অঙ্গাণুর মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. রাইবোসোম
  4. প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিডের একটি প্রকারভেদ হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যেখানে ক্লোরোফিল থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য-
- নিউক্লিয়াস: এটি কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এখানে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় (কোষের শক্তির ঘর)।
- রাইবোসোম: এটি প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২২.
নিচের কোনটিকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়?
  1. ক) সরল টিস্যুকে
  2. খ) স্থায়ী টিস্যুকে
  3. গ) জটিল টিস্যুকে
  4. ঘ) ভাজক টিস্যুকে
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল টিস্যুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল টিস্যুকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকারের কোষ সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু গঠিত হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,২২৩.
নিচের কোনটি একপ্রতিসম ফুল?
  1. শিম
  2. জবা
  3. ধুতুরা
  4. অর্কিড
সঠিক উত্তর:
শিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিম
ব্যাখ্যা

- শিম হলো একপ্রতিসম ফুল।
- জবা ও ধুতুরা হলো বহুপ্রতিসম ফুল।
- কলাবতী ও অর্কিড হলো অপ্রতিসম ফুল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,২২৪.
নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) করচ
  2. খ) হিজল
  3. গ) ডুমুর
  4. ঘ) গজারী
সঠিক উত্তর:
ঘ) গজারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গজারী
ব্যাখ্যা

গজারির অপর নাম শাল। গাছ কাটার পর গোড়া থেকে চারা গজানোর কারণে এর নাম গজারি হয়েছে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে এ গাছ জন্মায়। আমাদের ভাওয়াল ও মধুপুরের গজারি বনই দেশের বৃহত্ পত্রঝরা বনাঞ্চল।
লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে। তবে পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না।

অন্যদিকে,
করচ, হিজল ও ডুমুর - জলজ উদ্ভিদ।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৫.
Virus শব্দটির অর্থ কি?
  1. ক) মিষ্টি
  2. খ) বিষ
  3. গ) ক্ষুদ্র বস্তু
  4. ঘ) ক্ষুদ্র জীবাণু
সঠিক উত্তর:
খ) বিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিষ
ব্যাখ্যা
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
১,২২৬.
অপ্রকৃত ফল কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) চালতা
  3. গ) কাঁঠাল
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৭.
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রস্বেদন 
  2. নিঃসরণ 
  3. শ্বসন 
  4. অভিসরণ 
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২৮.
What happens during the process of photosynthesis?
  1. Reduction of water
  2. Oxidation of carbon dioxide
  3. Oxidation of oxygen
  4. Oxidation of water
  5. Carbon dioxide is produced
সঠিক উত্তর:
Oxidation of water
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxidation of water
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে পানির (H2O) জারণ ঘটে। 

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই - অক্সাইড (CO2) এবং পানি ব্যবহার করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)।

• সালোকসংশ্লেষণের স্থান:
- ক্লোরোপ্লাস্ট ই হলো সালোকসংশ্লেষণের স্থান।
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে এটি ঘটে, কারণ সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।

• সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া।
- পানি (H2O)থেকে অক্সিজেন মুক্ত হয়। ফলে পানির জারণ ঘটে।
- অন্যদিকে, CO2 এর সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়, ফলে CO2 এর বিজারণ ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব:
→ খাদ্য উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ হলো উদ্ভিদ কর্তৃক খাদ্য তৈরির প্রধান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত শর্করা উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং অন্যান্য প্রাণীও খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।  
→ বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহ:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত হল অক্সিজেন। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রাণী এবং মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য।  
→ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা:
- সালোকসংশ্লেষণ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।  
→ শক্তি উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ সৌর শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা জীবজগতের জন্য শক্তির প্রধান উৎস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,২২৯.
কোনটির অভাবে ক্লোরোসিস হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

উৎস:  জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩০.
ছত্রাক সাধারণত কোন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে? 
  1. যৌনপদ্ধতিতে 
  2. অযৌনপদ্ধতিতে 
  3. যৌন ও অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
যৌন ও অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌন ও অযৌন উভয় পদ্ধতিতেই 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি (Mycology) বলা হয়। 
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছাঁয়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান। 
- ছত্রাক সাধারণত অযৌন এবং যৌন উভয় উপায়ে বংশবৃদ্ধি সম্পন্ন করে। 
- কিছু কিছু ছত্রাক প্রজাতির সমস্ত দেহটিই জনন কাজে অংশ নেয়। 
- এ ধরনের ছত্রাকের দৈহিক ও জননাঙ্গের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এরূপ ছত্রাককে হলোকাপিক ছত্রাক বলা হয়। 
- অধিকাংশ ছত্রাকের দেহের অংশবিশেষ থেকে জননযন্ত্রের সৃষ্টি হয় কিন্তু অন্য অংশ স্বাভাবিক থাকে। এরূপ ছত্রাককে বলা হয় ইউকারপিক ছত্রাক। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩১.
নিচের কোনটিকে 'জৈব মুদ্রা' বলা হয়?
  1. Glucose
  2. ATP
  3. Chlorophyll
  4. Oxygen
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়।
• ATP(অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট):

- DNA এবং RNA-এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন।
- এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন।
- অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে একটি, দুটি এবং তিনটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে যথাক্রমে অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট (AMP), অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) এবং অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) গঠন করে।
- ATP-এর রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে যে শক্তি বের হয়, সেই শক্তি দিয়ে জীবদেহের প্রতিটি জৈবনিক কাজ অর্থাৎ, মাংসপেশির সংকোচন থেকে ইন্দ্রিয়ানুভূতি, খাবার খাওয়া থেকে হজম করা, নিঃশ্বাস নেওয়া থেকে কথা বলা, চিৎকার করা থেকে হাসি-কান্না, দৈহিক বৃদ্ধি থেকে প্রজনন, দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি কোষের স্বাভাবিক আয়তন বজায় রাখা- এর সবই সম্পন্ন হয়।
- আমরা যে খাবার খাই তা জারিত হয়, সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে আবার সেই ভাঙা দুই টুকরা জোড়া লেগে ATP তৈরি হয়।
- শক্তির প্রয়োজন হলে তা আবার ভাঙে।
- তারপর খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে আবার জোড়া লাগে।
- এ যেন এক রিচার্জেবল ব্যাটারি। ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
- এজন্য ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩২.
সবাত শ্বসন প্রধানত কোন অঙ্গানুতে ঘটে?
  1. রাইবোজোম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৩.
বহুপ্রতিসম ফুল কোনটি?
  1. জবা
  2. মটর
  3. কলাবতী
  4. শিম
সঠিক উত্তর:
জবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবা
ব্যাখ্যা
• বহুপ্রতিসম (Actinomorphic) ফুল:
- বহুপ্রতিসম (Actinomorphic) ফুল হলো এমন ফুল, যা একাধিক সমতলে কাটা হলে সমানভাবে বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি অংশ অভিন্ন থাকে।
- জবা (Hibiscus) ফুল বহুপ্রতিসম, কারণ এটি বিভিন্ন দিক থেকে কাটা হলেও প্রতিসম থাকে।
উদাহরণ: সরিষা, শাপলা, সূর্যমুখী ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- মটর (Pisum sativum) ও শিম (Lablab purpureus) একপ্রতিসম (Zygomorphic), কারণ এগুলো একটি নির্দিষ্ট সমতলে কাটা হলে দুই সমান অংশে বিভক্ত হয়।
- কলাবতী (Canna indica) ফুলও একপ্রতিসম, কারণ এর গঠন অসমান।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,২৩৪.
জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি হলো-
  1. ক) প্রাণিবিজ্ঞান ও ছত্রাকবিজ্ঞান
  2. খ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ছত্রাকবিজ্ঞান
  3. গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান
  4. ঘ) ইকোলজি ও অনুজীববিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
জীবের ধরন অনুযায়ী জীববিজ্ঞান কে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যথা- উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণীবিজ্ঞান।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩৫.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়?
  1. লাল আলোতে
  2. সবুজ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. নীল আলোতে
সঠিক উত্তর:
সবুজ আলোতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড।
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়।
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Live MCQ লেকচার শীট।
১,২৩৬.
ভাইরাসে কোনটি থাকে না?
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) রাইবোসোম
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
 •ভাইরাস অকোষীয়।
এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
 • এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত ।
•এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
•ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
•জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৩৭.
কোনটি সরল টিস্যুর উদাহরণ ?
  1. প্যারেনকাইমা
  2. ট্রাকিড
  3. ভেসেল
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
প্যারেনকাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়।
আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।যথা-
১) প্যারেনকাইমা,
২) কোলেনকাইমা এবং
৩) স্ক্লেরেনকাইমা।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৮.
নিচের কোনটি নিশ্চিত আণুবীক্ষণিক জীব?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

*** ব্যাকটেরিয়া এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

• ছত্রাক:
- ছত্রাক বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- অধিকাংশ ছত্রাকই খালি চোখে দেখা যায়।

• শৈবাল:
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- এরা সুকেন্দ্রিক, এককোষী বা বহুকোষী। অধিকাংশ শৈবালই খালি চোখে দেখা যায়।

• হাইড্রা:
- হাইড্রা হচ্ছে নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বভুক্ত সরল গড়নের জলজ প্রাণী। হাইড্রা খালি চোখেই দেখা যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান 

১,২৩৯.
উদ্ভিদ কোন খাদ্যোপাদান মাটি থেকে নেয় না?
  1. ক) জিংক
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটামিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মালিবডেনাম (Mo)।

উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানতঃ পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে। 
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪০.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এরা অকোষীয়।
  2. এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  3. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  4. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয়।
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে সঠিক নয় - এরা অকোষীয়।

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 

- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪১.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ভুট্টা
  3. ধান
  4. গম
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা

• ভুট্টা (Maize) একটি C4 উদ্ভিদ।

• সালোকসংশ্লেষণের গতিপথ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
- যেমন: ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
- যেমন: ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪২.
ব্যাকটেরিয়ায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন সংগঠিত হয়?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যামাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা

- কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিকবৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে ।

- অ্যামাইটোসিস হল জীবদেহের এক ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া, যা প্রধানত নিম্ন শ্রেনির জীবে (যেমন- এক কোষী প্রাণী - ব্যাক্টেরিয়া, ইস্ট, অ্যামিবা ইত্যাদি) দেখা যায়। একে ক্যারিওস্টেনোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজনও বলা হয়। একে অনেক সময় দ্বিবিভাজনও বলা হয়।

- কোষবিদ্যায় মাইটোসিস (/maɪˈtoʊsɪs/) হল কোষ চক্রের একটি ধাপ যেখানে প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোম দুটি নতুন নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়। মাইটোসিস দ্বারা কোষ বিভাজন জিনগতভাবে সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অভিন্ন কোষের জন্ম দেয় যেখানে ক্রোমোজোমের মোট সংখ্যা বজায় থাকে।

- মিয়োসিস বা মায়োসিস ( ইংরেজি-meiosis) এক বিশেষ ধরনের কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যাতে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,২৪৩.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন সমস্যাটি দেখা যায়?
  1. উদ্ভিদের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  2. উদ্ভিদের মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যায়।
  3. উদ্ভিদের পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেশিয়াম: 
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

লৌহ বা আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৪.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রো উপাদান কোনটি? 
  1. দস্তা
  2. আয়রন
  3. বোরন
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: 
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca),  
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
• সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: 
• দস্তা বা জিংক (Zn), 
• ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৫.
উদ্ভিদের কোন হরমোন ফুল ফোটানোর প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখে?
  1. অক্সিন
  2. অ্যাবসিসিক এসিড
  3. ফ্লোরিজেন
  4. ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
ব্যাখ্যা

◉ ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪৬.
ভাইরাসের রাসায়নিক উপাদান কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
রাসায়নিকভাবে ভাইরাস দুইটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড।

ভাইরাস হলো বাধ্যতামূলক অন্তঃকোষীয় পরজীবী, যা অন্য কোনো জীবিত কোষ ছাড়া বংশবিস্তার করতে এবং বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না।
ভাইরাসের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ডিএনএ অথবা আরএনএ দ্বারা তৈরি।
ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
রাসয়নিকভাবে ভাইরাস দুইটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- প্রোটিন এবং নিউক্লিক এসিড।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,২৪৭.
টমেটো ও সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন উপাদানটি বেশি প্রয়োজন?
  1. কপার
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. বোরন
  4. মোলিবডেনাম
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 

ম্যাঙ্গানিজ: 
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 

কপার: 
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন। 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরেও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
- বোরন ও ম্যাঙ্গানিজও গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তাদের চাহিদা কপারের তুলনায় কম।
- মোলিবডেনাম এদের জন্য প্রয়োজনীয় নয়।

বোরন: 
- উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। 
- চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 

মোলিবডেনাম: 
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক। 

ক্লোরিন: 
- সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৮.
কোন প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পাতার উপরে কিউটিনের আবরণ ভেদ করে পানি বের হয়?
  1. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  2. মূলশিকড় প্রস্বেদন
  3. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
  4. কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা-
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪৯.
ক্রোমোজোমে কোনটি থাকে না?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত একপ্রকার ক্রোমাটিন ফাইবার বা তন্তু। ক্রোমোজম নিউক্লিক এসিড তথা ডিএনএ ও আরএনএ, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ লিপিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন দ্বারা গঠিত।
উৎসঃ বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণী
১,২৫০.
বড়দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) আলু
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) শিম
  4. ঘ) লেটুস 
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেটুস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেটুস 
ব্যাখ্যা
: দিনের দৈর্ঘ্য বড় হলে এ জাতীয় ফুল ফোটে। যেমন- ঝিঙ্গা, লেটুস, আফিম, যব প্রভৃতি । এদের ছোট রাত্রির উদ্ভিদও বলা হয়।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,২৫১.
কোন প্রক্রিয়ার জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না?
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) অভিস্রবণ
  4. ঘ) সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন। 
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৫২.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের -
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
সঠিক উত্তর:
খ) সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমান
ব্যাখ্যা

মাইটোসিস: উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমােজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে প্রাণী এবং উদ্ভিদ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের বিভাজনের দ্বারা উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুর কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য:
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষের এক ধরনের বিভাজন পদ্ধতি।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার মাত্র বিভাজিত হয়।
- মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
- এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমােজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
- এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমােজোম লম্বালম্বিভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমােজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল বা সমীকরণিক বিভাজনও বলা হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।

১,২৫৩.
শীতকালে সিভনল কোষের রন্ধ্রে কোন পদার্থ জমা হয়?
  1. ক্যালোজ
  2. সেলুলোজ
  3. স্টার্চ
  4. লিগনিন
সঠিক উত্তর:
ক্যালোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালোজ
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন (Phloem translocation): 
- উদ্ভিদের মূল এবং পাতা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করায় খাদ্য চলাচলে একটি দ্রুত ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা থাকা আবশ্যক, এ কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে। 
- ফ্লোয়েম পরিবহন কলাগুচ্ছের অন্যতম গুচ্ছ। 
- পরিবহন কলাগুচ্ছে জাইলেমগুচ্ছ এবং ফ্লোয়েমগুচ্ছ থাকে। 
- ফ্লোয়েমগুচ্ছে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্টফাইবার থাকে। 
- সিভনল এক ধরনের কেন্দ্রিকাবিহীন ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত সজীব কোষ। 
- লম্বালম্বিভাবে এরা একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জালের মতো গঠন সৃষ্টি করে। 
- দুটো কোষের মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালুনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। 
- শীতকালে এ রন্দ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়, তাই খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। 
- গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায়, তাই খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৫৪.
কোনটির মাধ্যমে ধানের ফুলে পরাগায়ন সংগঠিত হয়?
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পতঙ্গের সাহায্যে
  3. গ) ফুলে ফুলে সংস্পর্শের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় পরাগধানী হতে পরাগরেণু কোনো মাধ্যম বা বাহক দ্বারা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পর-পরাগায়ন বলে। আর যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। উদাহরণ- বাতাস, পোকামাকড়, পাখি ইত্যাদি।
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৫৫.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. আম
  2. ধান
  3. জাম
  4. কাঁঠাল
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: ধান, গম, যব, খেজুর, বরই ইত্যাদি। 

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, ছোলা, মটর, শিম ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,২৫৬.
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ______ বলে।
  1. ক) পরাগায়ন
  2. খ) ফল
  3. গ) বীজ
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ফুল বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

১,২৫৭.
TIV হলো একটি-
  1. RNA ভাইরাস
  2. DNA ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
DNA ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DNA ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• TIV হলো একটি DNA ভাইরাস।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,২৫৮.
কোন ধরনের ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে?
  1. ক) TMV
  2. খ) Flavivirus
  3. গ) T
  4. ঘ) STAR CRACK VIRUS
সঠিক উত্তর:
ক) TMV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) TMV
ব্যাখ্যা
TMV অথবা, টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে। 

- TMV মূলত একটি দণ্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- ইহার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RANA এবং প্রোটিন দিয়ে এই ভাইরাসটি গঠিত হয়।
- এতে প্রায় ২২০০ ক্যাপসোমিয়ার থাকে এবং প্রতিটি ক্যাপসোমিয়ারে ১৫৮টি অ্যামাইনো এসিড থাকে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৯.
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে-
  1. ক) অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
  3. গ) অধিক পরিমাণে বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
  4. ঘ) অধিক পরিমাণে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গত হয়
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
১,২৬০.
উদ্ভিদের কোন অংশে শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি?
  1. ফুল ও পাতার কুঁড়িতে
  2. অঙ্কুরিত বীজে
  3. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- জীবের জীবন ধারণ অর্থাৎ চলন, ক্ষয়পুরণ, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি জৈবিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, এ শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তিরূপে (Potential energy) সঞ্চয় করে রাখে। 
- খাদ্যের মধ্যে সঞ্চিত এই ধরনের শক্তি জীব তার জীবন ধারণের জন্য সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- শ্বসনের সময় জীবদেহে এই স্থিতি শক্তি রাসায়নিক শক্তি (ATP) হিসেবে তাপরূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। 
- শর্করাজাতীয় খাদ্যবস্তু ছাড়াও প্রোটিন, ফ্যাট এবং বিভিন্ন জৈব এসিড শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। 
- জীবদেহে এই জটিল যৌগগুলো প্রথমে ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং পরে জারিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় জীবদেহের প্রতিটি কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন চলতে থাকে। 
- তবে উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (ফুল ও পাতার কুঁড়ি, অঙ্কুরিত বীজ, মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ) শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি। 
- সজীব কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
- এ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহ যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত করে সরল দ্রব্যে পরিণত করে এবং শক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬১.
এরিল পাওয়া যায়-
  1. জয়ফলে
  2. শাপলা বীজে
  3. লিচুতে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের  পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল (Aril) বলে।

এরিল লিচু ও জয়ফলে পাওয়া যায়। শাপলা বীজেও এরিল থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. ক) Ipomoea batatas
  2. খ) Solanum tuberosum
  3. গ) Colocasia esculenta
  4. ঘ) Zingiber officinale
সঠিক উত্তর:
খ) Solanum tuberosum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Solanum tuberosum
ব্যাখ্যা

গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম- Solanum tuberosum
মিষ্টি আলুর বৈজ্ঞানিক নাম- Ipomoea batatas
কচুর বৈজ্ঞানিক নাম- Colocasia esculenta
আদার বৈজ্ঞানিক নাম- Zingiber officinale

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,২৬৩.
কোন অনুজীবের দেহে কোনো নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।

• ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন
- তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৪.
ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) দেহে বিভিন্ন এনজাইম বিদ্যমান
  2. খ) পোষকদেহের সজীব কোষের বাইরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে
  3. গ) DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া কোষীয় এবং এতে আদি প্রকৃতির নিউক্লিয়াস থাকে। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- সজীব কোষের বাইরেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কেলাসিত করলে আর জীবনের লক্ষণ প্রকাশ করে না।
- ব্যাকটেরিয়াতে DNA বা RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং এই নিউক্লিক এসিড সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে।
- এদের দেহে বিভিন্ন এনজাইমও থাকে এবং দেহে বিপাকক্রিয়া ঘটে।

- ভাইরাসের ক্ষেত্রে DNA বা RNA যে কোনো একপ্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে এবং তা ক্যাপসিড- এর মধ্যে অবস্থান করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৬৫.
উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ইমবাইবিশন
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) হাইড্রোনেশন
সঠিক উত্তর:
খ) ইমবাইবিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থের (যেমন- স্টার্চ, সেলুলােজ, জিলেটিন ইত্যাদি) পানি শােষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলা হয়।

১,২৬৬.
নিচের কোন অনুজীবটি এক্যারিওটার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এক্যারিওটা বা অকোষীয়: এসব অনুজীব এতই ছোট যে তার সাধারণ আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় যেমন : ভাইরাস।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
১,২৬৭.
মহাকাশ গবেষণা খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক্লোরেলা
  2. মিউকর
  3. ঈস্ট
  4. ফার্ণ
সঠিক উত্তর:
ক্লোরেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরেলা
ব্যাখ্যা
• শৈবাল: 
- শৈবালের সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতা নেই, তবে ক্লোরোফিল আছে।
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- শৈবালের কোষ-প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত।
- শৈবাল এককোষী এবং বহুকোষী হতে পারে।
- মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসেবে ক্লোরেলা উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরেলা এক প্রকার সবুজ এককোষী শৈবাল যা প্রোটিন খাদ্যের আদর্শ উৎস।
- ক্লোরেলা হল ক্লোরোফাইটা বিভাগের এককোষী সবুজ শৈবালের প্রায় তেরো প্রজাতির একটি প্রজাতি। 
- অন্যদিকে, ঈস্ট  এবং মিউকর হলো ছত্রাক। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
১,২৬৮.
উদ্ভিদে কত ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়? 
  1. তিন ধরনের
  2. পাঁচ ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. দুই ধরনের
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 

- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। 
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৯.
রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে প্রজনন ঘটে-
  1. মস
  2. মিষ্টি আলু
  3. রসুন
  4. গম
সঠিক উত্তর:
রসুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসুন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:
- যে জটিল প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।
- উদ্ভিদের প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
১,২৭০.
অ্যান্টিবায়েটিক কোনটির উপর কোনরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায় ।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
- অকোষীয় ভাইরাসে দু'রকমের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে একে জীব ও জড়ের মধ্যকার সেতুবন্ধন বলা হয়।
- অ্যান্টিবায়েটিক ভাইরাসের উপর কোনরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭১.
গাছে ফল ধরতে ও পাকতে দেরি হয় কিসের অভাবে?
  1. বোরন
  2. ফসফরাস
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা

বোরন (B):
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।
- এটি গাছে ফুল ও ফল ধরতে সহায়তা করে। 

ফসফরাস:
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে।
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না।

সালফার: 

- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও কৃষিবিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭২.
ছত্রাকের জীবন রহস্য উম্মোচন করেন কে?
  1. ক) মাকসুদুল আলম
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) মোবারক আহমদ খান
  4. ঘ) রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা


২০১২ সালে পাটসহ পাঁচশ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য (জেনোম সিকোয়েন্স) উম্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।
উৎসঃ ডেইলি স্টার আর্কাইভ।

১,২৭৩.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটি অপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জবা
  2. আম
  3. কাঁঠাল
  4. স্পাইরোগাইরা
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,২৭৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদে দেখাযায় কিন্তু প্রাণীতে সাধারণত নেই?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. সাইটোপ্লাজম
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো একটি বিশেষ ধরনের কোষ-অঙ্গাণু যা প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়।

- উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যা ফটোসিন্থেসিসের জন্য অপরিহার্য।
- ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল, যা সূর্যালোক শোষণ করে।
- প্রাণী কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই; প্রাণী সরাসরি খাদ্য গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষেই নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজম থাকে।
- তাই ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের অনন্য অঙ্গাণু, যা প্রাণীতে সাধারণত পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

১,২৭৫.
উদ্ভিদের কোন অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা ও পাতা উৎপন্ন হয়? 
  1. ফুল 
  2. ফল 
  3. মূল 
  4. কাণ্ড 
সঠিক উত্তর:
কাণ্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ড 
ব্যাখ্যা

কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

কাণ্ডের কাজ: 
- কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
- কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
- কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
- পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
- কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,২৭৬.
সালোক সংশ্লেষণ সংগঠিত হয় যেখানে- 
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া আছে
  2. নিউক্লিয়াস আছে
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ক্লোরোফিল আছে
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল আছে
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৭৭.
স্টেরিলাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. খাদ্যের পুষ্টি বৃদ্ধি করা
  2. খাদ্যের স্বাদ উন্নত করা
  3. খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
  4. খাদ্য সংরক্ষণে ঠান্ডা রাখা
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
ব্যাখ্যা

- স্টেরিলাইজেশন একটি তীব্র তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি যা ১০০°C -এর বেশি তাপমাত্রায় করা হয় এবং এর লক্ষ্য হল খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত সমস্ত অণুজীব, এমনকি ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোও সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেওয়া।

স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 

- সিলিং -এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- স্টেরিলাইজেশন খাদ্যের পুষ্টির পরিমাণ বাড়ায় না; বরং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদানের সামান্য হ্রাস ঘটতে পারে। 
- স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিগুণের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু স্বাদ উন্নত করা এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। 
- ঠান্ডা রাখা (শীতলীকরণ বা ফ্রিজিং) খাদ্য সংরক্ষণের একটি আলাদা পদ্ধতি যা অণুজীবের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটি স্টেরিলাইজেশন নয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৮.
জবা কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) উপগুল্ম
  2. খ) বৃক্ষ
  3. গ) বীরুৎ
  4. ঘ) গুল্ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুল্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুল্ম
ব্যাখ্যা

- যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কান্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিণত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে।
- এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। যেমন- জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৭৯.
ফুলের মধুতে কোনটি থাকে?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
ব্যাখ্যা
শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। একে ফল শর্করাও (Fruit Sugar) বলা হয়ে থাকে।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান। 
১,২৮০.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস
  1. কার্বন - ডাইঅক্সাইড
  2. আলো
  3. পানি
  4. ক্লোরোফিল
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:

• যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো: ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন - ডাইঅক্সাইড ।
• সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস।

• সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%;
• লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
• ক্লোরোফিল ব্যতীত সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
• সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের প্লাস্টিডে ঘটে। 
• সালোকসংশ্লেষণ প্রকৃয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস পানি।
• উদ্ভিদের মূলে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৮১.
মিষ্টি আলু কোন পদ্ধতিতে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে?
  1. মূল 
  2. রাইজোম
  3. স্টোলন
  4. বুলবিল
সঠিক উত্তর:
মূল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেমন-পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা দেখলে বুঝা যায়, তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 
(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট। পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 
(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 
(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হলো কচুর শাখা কাণ্ড। এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 
(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 
(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

৪. পাতার মাধ্যমে: 
- কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন- পাথরকুচি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,২৮২.
কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের পাতার শীর্ষ ও কিনারা প্রথমে হলুদ হয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম (K): 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পটাশিয়ামের অভাবে বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস (P): 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে ফসফরাসের ঘাটতি বোঝা যায় না। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায় কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোসিস হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৩.
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কোন অঙ্গাণুতে সম্পন্ন হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. প্লাস্টিড
  3. নিউক্লিয়াস
  4. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিডের একটি প্রকারভেদ হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যেখানে ক্লোরোফিল থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য-
- নিউক্লিয়াস: এটি কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এখানে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় (কোষের শক্তির ঘর)।
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম: এটি মূলত প্রোটিন ও লিপিড সংশ্লেষণ এবং পরিবহনে সহায়তা করে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮৪.
একটি গর্ভপত্রের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক : পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। স্ত্রীস্তবকে এক বা একাধিক গর্ভপত্র থাকতে পারে।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ।
যথা- গর্ভাশয় , গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক প্রজননের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এরা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়। তাই এরা অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
কিন্তু পুষ্পাক্ষ, বৃতি ও দলমন্ডল প্রজননে সরাসরি অংশ নেয় না। তাই এরা সাহায্যকারী স্তবক। তবে প্রজননে গুরুত্বপূর্ণঅবদান রাখে।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,২৮৫.
Photosynthesis takes place in-
  1. Roots of the plants
  2. Stems of the plants
  3. Green parts of the plants
  4. All parts of the plants
সঠিক উত্তর:
Green parts of the plants
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Green parts of the plants
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোপ্লাস্ট নামক ছোট জিনিসগুলোতে উদ্ভিদ কোষের ভিতরে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 
- ক্লোরোপ্লাস্টে (বেশিরভাগই মেসোফিল স্তরে পাওয়া যায়) ক্লোরোফিল নামে একটি সবুজ পদার্থ থাকে। 
- সুতরাং, সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের সবুজ অংশে সঞ্চালিত হয়।

- Photosynthesis takes place inside plant cells in small things called chloroplasts. 
- Chloroplasts (mostly found in the mesophyll layer) contain a green substance called chlorophyll. 
- So, Photosynthesis takes place in green parts of the plants

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৬.
নিম্নের কোনটি উভয়লিঙ্গ ফুল নয়?
  1. গোলাপ
  2. ধুতুরা
  3. কুমড়া
  4. জবা
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
- কুমড়া উভয়লিঙ্গ ফুল নয়।

• ফুল: 
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
 
২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়। 
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে । - সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।
 
৩. দলমন্ডল: 
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়। 
 
৪. পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। 
 
৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। 
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা- গর্ভাশয় (Ovary), গর্ভদন্ড (Style) ও গর্ভমুন্ড (Stigma)। 
 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলা হয়। 
- যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল।  যেমন গোলাপ, ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে, যেমন কুমড়া আবার দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,২৮৭.
নিচের কোনটি ফানজাই রাজ্যভুক্ত?
  1. ক) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  2. খ) বহুকোষী শৈবাল
  3. গ) পেনিসিলিয়াম
  4. ঘ) অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেনিসিলিয়াম
ব্যাখ্যা
নীলাভ সবুজ শৈবাল এবং ব্যাকটেরিয়া মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
অ্যামিবা, এককোষি এবং বহুকোষী শৈবাল প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
ইস্ট, পেনিসিলিয়াম এবং মাশরুম ফানজাই রাজ্যভুক্ত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,২৮৮.
উদ্ভিদে ক্লোরোসিস হয় কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরােফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরাোেফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরােসিস (chlorosis) বলে।
লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরােসিস হতে পারে কেননা এগুলােও ক্লোরােফিল উৎপাদনের সাথে কোনাে না কোনােভাবে জড়িত।
ক্লোরােসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

১,২৮৯.
রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার প্রধান কাজ কী?
  1. শিকড়ের জল শোষণ বৃদ্ধি করা 
  2. মাটিতে পটাশিয়াম বৃদ্ধি করা 
  3. মাটিতে ফসফরাস যোগ করা
  4. বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করা 
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করা 
ব্যাখ্যা

রাইজোবিয়াম: 
- রাইজোবিয়াম এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 
- এই ব্যাকটেরিয়া শিম ও ডাল জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ের কাছে অবস্থান নিয়ে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন গ্রহন করে শিকড়ে গুটি তৈরি করে। 
- এই ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংযোজন করে নিজের প্রয়োজন মিটায় এবং উদ্ভিদে সরবরাহ করে। 
- শিম জাতীয় উদ্ভিদ যেমন- মুগ, মসুর, ছোলা, মটর, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ধইঞ্চা ইত্যাদি ফসলে ব্যাকটেরিয়া সার ব্যবহার করে উত্তম ফসল পাওয়া যায়। 
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী রাইজেবিয়াম অণুজীব সার ইউরিয়া সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯০.
সায়ানোব্যাকটেরিয়া কোন ধরনের শৈবালের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সবুজ শৈবাল
  2. খ) নীলাভ-সবুজ শৈবাল
  3. গ) লোহিত শৈবাল
  4. ঘ) লাল শৈবাল
সঠিক উত্তর:
খ) নীলাভ-সবুজ শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীলাভ-সবুজ শৈবাল
ব্যাখ্যা
সায়ানোব্যাকটেরিয়া তথা নীলাভ সবুজ শৈবালগুলির (Blue Green Algae) বিস্তারণ সম্ভবত উষ্ণমন্ডলীয় দেশগুলিতে বেশি। তবে, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে জন্মে থাকে। এরা ব্যাকটেরিয়া থেকে আকারে বড় এবং দেখতে নীলাভ সবুজ বর্ণের।
১,২৯১.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদ কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  3. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হচ্ছে এক ধরনের অপুষ্পক (non-flowering) উদ্ভিদ। এদের ফুল, ফল এবং বীজ হয় না। পরিবর্তে, এরা স্পোরের (spore) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯২.
সবুজ তরিতরকারীতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহজাতীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
গ) খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে।
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।

• খনিজ পদার্থের উৎস:
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

• ভিটামিন:
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক।
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও
খ. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

• ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন 'এ' (Vit-A): দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'বি' (Vit-B): মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'সি' (Vit-C): পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'ডি' (Vit-D): ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৩.
কোন উপাদানের ঘাটতিতে পাতার শীর্ষ ও কিনারায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়? 
  1. ফসফরাস 
  2. পটাশিয়াম 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম 
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের (K) অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৯৪.
বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?
  1. ক) পাখি
  2. খ) পানি
  3. গ) বাতাস
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাখি
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন দু'প্রকার, যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন।
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে ।
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়।

অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ :
পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন— জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন— ধান।

পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রীফুলের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন— পাতাশ্যাওলা ।

প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। যেমন— কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
বটের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে। 

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,২৯৫.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে (Wine industry)
  2. রুটি শিল্পে (Bakery)
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
  4. এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein) তৈরিতে
সঠিক উত্তর:
সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
ব্যাখ্যা
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। 
- সাইট্রিক এসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৬.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
সঠিক উত্তর:
দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৭.
উদ্ভিজ্জ আমিষ কোনটি?
  1. ক) ছানা
  2. খ) মাছ
  3. গ) বাদাম
  4. ঘ) পনির
সঠিক উত্তর:
গ) বাদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাদাম
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷ প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৮.
জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করতে কোন অণুজীব ব্যবহার হয়?
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস 
ব্যাখ্যা

- জন্ডিস প্রধানত হেপাটাইটিস ভাইরাসের (যেমন: হেপাটাইটিস-এ, বি, সি ইত্যাদি) সংক্রমণের কারণে ঘটে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস রোগের (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি) টিকা তৈরি করতে এই ভাইরাসের অংশ বা জেনেটিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। আধুনিক রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ব্যবহার করে এই টিকা প্রস্তুত করা হয়। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৯.
উদ্ভিদ কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক্রোমোসোম
  2. কোষ ঝিল্লী
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. কোষ প্রাচীর
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজম: 
- (গ্রীক শব্দ Cytos = কোষ এবং Plasma = সংগঠন) নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত এবং কোষ ঝিল্পী দিয়ে পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজমীয় অংশই হলো সাইটোপ্লাজম। 
- এটি জেলির ন্যায় অর্ধতরল হওয়ায় এবং প্রাণের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু ও উপাদান ধারণ করায় একে বাংলাতে কোষের প্রাণপঙ্ক বলা হয়। 
- সাইটোপ্লাজম এবং এর মধ্যস্থ বিভিন্ন প্রকার সজীব ও নির্জীব বস্তুর প্রকৃতি অনুসারে সাইটোপ্লাজমকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
(ক) সাইটোপ্লাজমীয় মাতৃকা বা হায়ালোপ্লাজম, 
(খ) সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুসমূহ এবং 
(গ) নির্জীব বা জড়বস্তু। 

সাইটোপ্লাজমের কাজ: 
- সাইটোপ্লাজমের কাজগুলো হলো- 
১। কোষের আকার বজায় রাখতে সহায়তা করে। 
২। বিভিন্ন ক্ষুদ্রাঙ্গ ধারণ করে, কতিপয় জৈবিক কাজ করে। 
৩। কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। 
৪। রেচন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
৫। উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে জীবিয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। 
৬। পানি পরিশোষণে সাহায্য করে। 
৭। আবর্তনের মাধ্যমে অঙ্গাণুসমূহকে নড়াচড়ায় সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০০.
ইউরিয়া সার কোন খনিজের অভাব পূরণে ব্যবহার করা হয়? 
  1. জিংক
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে বিভিন্ন অভাব পূরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কাণ্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।