বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১২ / ১৪ · ১,১০১১,২০০ / ১,৩৫৫

১,১০১.
আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ডালিয়া
  2. ঝিঙা
  3. শসা
  4. চন্দ্রমল্লিকা
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের আলাে-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
(a) ছোটদিনের উদ্ভিদ(Short Day Plant): পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলাে প্রয়ােজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
(b) বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant): পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলাে প্রয়ােজন। যেমন: লেটুস, ঝিঙা।
(c) আলােক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant): পুষ্পায়নে দিনের আলাে কোনাে প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১০২.
ছত্রাকের জেনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন কে?
  1. ক) মাকসুদুল আলম
  2. খ) মোবারক আহমদ খান
  3. গ) ইসমাইল হোসেন খান
  4. ঘ) বজলুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
২০১২ সালে পাটসহ পাঁচশ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য (জেনোম সিকোয়েন্স) উম্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন।
উল্লেখ্য,
- পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।
- পাট থেকে সবুজ চা উদ্ভাবন করেন ইসমাইল হোসেন খান।

উৎসঃ ডেইলি স্টার আর্কাইভ।
১,১০৩.
কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদে ক্লোরোসিস দেখা দেয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

উৎস:  জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৪.
ভাইরোলজির জনক-
  1. ক) দিমিত্রি আইভানোভসকি
  2. খ) এফ. সি. বাডেন
  3. গ) ডব্লিউ. এম. স্ট্যানলি
  4. ঘ) আর. এস. শেফারম্যান
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ. এম. স্ট্যানলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ. এম. স্ট্যানলি
ব্যাখ্যা
ভাইরোলজি বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যেখানে ভাইরাসের আকার, গঠন, বংশবিস্তার, রোগতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। W. M. Stanley-কে ভাইরোলজির জনক বলা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,১০৫.
গঠনের দিক থেকে ভাইরাস কতটি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
১,১০৬.
ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উপাদান কোনটি?
  1. তামা
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. মলিবডেনাম
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
১। নাইট্রোজেন (N)- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
২। ফসফরাস (P)- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
৩। পটাসিয়াম (K)- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।
৪। ম্যাগনেসিয়াম (Mg)- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
৫। আয়রন (Fe)- উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
৬। ম্যাঙ্গানিজ (Mn)ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
৭। তামা (Cu)- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
৮। বোরন (B)- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
৯। দস্তা বা জিংক (Zn)- অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা (Zn) প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
১০। মলিবডেনাম (Mo)- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
১১। ক্লোরিন (CI)- সুগারবীট এর মূল ও কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৭.
ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে সহায়তা করে কোনটি? 
  1. ক্যাপসিউল
  2. পিলি
  3. মেসোসোম
  4. সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন
সঠিক উত্তর:
পিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিলি
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন: 
- ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। 
- একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো- 
(ক) ফ্ল্যাজেলা, 
(খ) ক্যাপসিউল, 
(গ) কোষ প্রাচীর, 
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন, 
(ঙ) মেসোসোম, 
(চ) সাইটোপ্লাজম, 
(ছ) ক্রোমোসোম এবং 
(জ) প্লাজমিড। 
 
ফ্ল্যাজেলা: 
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত। 
- ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। 
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। 
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে। 

ক্যাপসিউল: 
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। 
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। 
- একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে। 

সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন: 
- কোষ প্রাচীরের ঠিক নিচে সাইটোপ্লাজমকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অবস্থান করে। 
- এটি একটি সজীব ঝিল্লী। 
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত। 
- এর সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক মেটাবোলিক কাজ করে। 

মেসোসোম: 
- ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়। 
- এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৮.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) কমলা
  2. খ) নীল
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
সঠিক উত্তর:
গ) হলুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হলুদ
ব্যাখ্যা

- সাধারণত লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
- কিন্তু সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারনত ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার এবং ৬৮০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১০৯.
নিচের কোনটি শ্বসন প্রক্রিয়ার বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) পানি
  4. ঘ) অজৈব লবণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অজৈব লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অজৈব লবণ
ব্যাখ্যা
- শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই রকম হতে পারে।

 

- বাহ্যিক প্রভাবক:

তাপমাত্রা
: ২০° সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫° সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসন হার কমে যায়। শ্বসনের জন্য উত্তম তাপমাত্রা ২০° সেলসিয়াস থেকে ৪৫° সেলসিয়াস।

অক্সিজেন: সবাত শ্বসনে পাইরুবিক এসিড জারিত হয়ে CO₂ ও H₂O উৎপন্ন করে। কাজেই অক্সিজেনের অভাবে সবাত শ্বসন কোনোক্রমেই চলতে পারে না।
পানি: পরিমিত পানি সরবরাহ শ্বসন ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু অত্যন্ত কম কিংবা অতিরিক্ত পানির উপস্থিতিতে শ্বসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

আলো: শ্বসন কার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলা আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O₂ গ্রহণ ও  CO₂ ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়।

কার্বন ডাই-অক্সাইড: বায়ুতে CO₂ -এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার একটু খানি কমে যায়।

- অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:

খাদ্যদ্রব্য
: শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য (শ্বসনিক বস্তু) ভেঙ্গে  শক্তি, পানি এবং CO₂ নির্গত করে, তাই কোষে খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরণ শ্বসন হার নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎসেচক: শ্বসন প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। কাজেই এনজাইমের ঘাটতি শ্বসনের হার কমিয়ে দেয়।

কোষের বয়স: অল্প বয়স্ক কোষে, বিশেষ করে ভাজক কোষে প্রোটোপ্লাজম বেশি থাকে বলে সেখানে বয়স্ক কোষ থেকে শ্বসনের হার বেশি হয়।

অজৈব লবণ: কোনো কোনো লবণ শ্বসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করলেও কোষের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কোষের ভিতরে অজৈব লবণ থাকতে হয়।

কোষমধ্যস্থ পানি: বিভিন্ন শ্বসনিক বস্তু দ্রবীভূত করতে এবং এনজাইমের কার্যকারিতা প্রকাশের জন্য পানির প্রয়োজন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,১১০.
ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে-
  1. ক) স্থলে
  2. খ) জলে
  3. গ) বাতাসে
  4. ঘ) সর্বত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) সর্বত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সর্বত্র
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া মাটিতে, পানিতে, বাতাসে, জীবদেহের বাইরে এবং ভেতরে বাস করে। এমনকি মানুষের অন্ত্রেও ব্যাকটেরিয়া বাস করে। যেমন- Escherichia coli। এরা আমাদেরকে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সরবরাহ করে। মাটি বা পানি যেখানে জৈব পদার্থ বেশি, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও সেখানে বেশি। জৈবসমৃদ্ধ আবাদি মাটিতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে বায়ুস্তরের সবচেয়ে উঁচুতে ব্যাকটেরিয়া থাকে না।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১,১১১.
ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার জন্য তার যে গঠন দায়ী তা হলো—
  1. পিল্লি
  2. ফ্লাজেলা
  3. শীথ
  4. ক্যাপসুলস
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার তার যে গঠন দায়ী হলো ফ্ল্যাজেলা। 
- ফ্ল্যাজেলা: ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত। 
- ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করা। 
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে রাখতে পিলি সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে কীভাবে সাহায্য করে? 
  1. উদ্ভিদকে ঠান্ডা রাখে
  2. কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে
  3. পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সহায়ক হয়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য, তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। 
- শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়, এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়। 
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। 
যথা- ১. পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন, ২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

প্রস্বেদনের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়, এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি "Necessary evil"। 
- তবুও প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত থাকে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণের সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। এটি উদ্ভিদদেহকে ঠান্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। - প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। 
- পাতায় প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় পানির যে টান সৃষ্টি হয়, তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণ ও উদ্ভিদের শীর্যে পরিবহনে সাহায্য করে। 
- উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের মতো পরিবেশে তেমন কোনো প্রভাব রাখে না। তবে পানিচক্রে বাষ্পীভবনে, অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের পানি জলীয়বাষ্প হিসেবে বায়ুমন্ডলে প্রেরণ করতে স্থলজ উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে। 
- প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,১১৩.
নিচের কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদের বৈশিষ্ঠ নয়?
  1. স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন হয়।
  2. উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না।
  3. দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
  4. শুষ্ক পরিবেশে বেশি জন্মে।
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক পরিবেশে বেশি জন্মে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক পরিবেশে বেশি জন্মে।
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ:
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে।
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এরা সমাঙ্গঁদেহী উদ্ভিদ। যথা: স্পাইরোগাইরা।
- আবার কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। তবে সাধরণত উদ্ভিদের ন্যায় মূল নেই। মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড রয়েছে।
- এদের স্যাঁতসেঁতে ইট, মাটি, দেয়াল ও গাছের বাকলে জন্মাতে দেখা যায়।
- এ ছাড়া পানিতে ভাসমান অবস্থায়ও এদের দেখা যায়। সাধারণত এরা পুরাতন ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে ঠাসা ঠাসিভাবে জন্মে। যেমন : মস।
- ফার্ন অপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে সর্বোন্নত উদ্ভিদ।
- ফার্নের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। বাড়ির পাশে স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এরা প্রচুর পরিমাণে জন্মে। যেমন: ঢেঁকিশাক। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,১১৪.
নিম্নলিখিত কোনটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট?
  1. Zn
  2. N
  3. Cu
  4. Mo
সঠিক উত্তর:
N
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন (N) একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। 

(a) ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান (macro-nutrient বা macro-element):
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। ম্যাক্রো উপাদান 9 টি, যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S)।

(b) মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান (micro-nutrient বা micro-element):
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট 7 টি, যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), ক্লোরিন (Cl) এবং লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১৫.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
ফুল:
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের একটি যৌন প্রজনন অঙ্গ।
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
- এর যে কোনো একটি অংশ না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
- এটি আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা-
• পুষ্পাক্ষ,
• বৃতি,
• দলমন্ডল,
• পুংস্তবক,
• স্ত্রীস্তবক।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৬.
উদ্ভিদে প্রধানত কোথায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে?
  1. মূল 
  2. কাণ্ড 
  3. পাতা 
  4. ফুল 
সঠিক উত্তর:
পাতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। 
- এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়, খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৭.
DNA কাঁটার জন্য বিশেষ কোন এনজাইম ব্যবহার করা হয়? 
  1. লাইগেজ এনজাইম
  2. লেকটেজ এনজাইম
  3. লাইপেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো - 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৮.
এ্যাজোলা কী? 
  1. পাহাড়ি আগাছা
  2. শস্যজাতীয় উদ্ভিদ
  3. মাটির নিচের উদ্ভিদ
  4. ভাসমান জলজ পানা
সঠিক উত্তর:
ভাসমান জলজ পানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাসমান জলজ পানা
ব্যাখ্যা
এ্যাজোলা: 
- এ্যাজোলা হচ্ছে ভাসমান জলজ পানা, যা পুকুর, ডোবা, নালা, ধানের জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- এ্যাজোলার দৈহিক ওজন প্রতি ৫ দিনে দ্বিগুন হতে পারে। 
- এ্যাজেলা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে। 
- বোরো ধানের জমিতে অতি সহজ ও সফলভাবে এ্যাজোলা চাষ করা যায়। 
- এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা ও গুনাগুনের উন্নয়ন ঘটায়। 
- এ্যাজোলা ব্যবহার করলে সালফার ও জিংকের ঘাটতিও দূর হয়। 
- এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা এ্যাজোলি (Anabaena asollae) নামক নীলাভ সবুজ শেওলার একটি প্রজাতি মিথোজীবীরূপে বাস করে যা বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন সংযোজন করে এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে জমা করে। 
- এ এ্যাজোলা মাটিতে চাষ দিয়ে মেশালে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৯.
নিচের কোনটি আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ফুলের গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয়
  2. এদের এন্ডোস্পার্ম ট্রিপ্লয়েড
  3. এদের জাইলেম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে
  4. বীজ ফলের ভেতরে থাকে
সঠিক উত্তর:
এদের জাইলেম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের জাইলেম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে
ব্যাখ্যা
আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
১। এদের ফুল হয়।
২। ফুলের গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয়।
৩। বীজ আবৃত অবস্থায় অর্থাৎ ফলের ভেতরে থাকে ।
৪। এদের কোন অবস্থায়ই আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয় না।
৫। এদের দ্বিনিষেক ঘটে।
৬। এদের এন্ডোস্পার্ম (বীজের শাঁস) ট্রিপ্লয়েড, নিষেকের পর তৈরি হয়।
৭। এদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল থাকে।
৮। এদের ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২০.
জীবদেহের কোথায় শ্বসন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসে
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
  3. গ) কোষ গহ্বরে
  4. ঘ) ক্রোমোজোমে
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
ব্যাখ্যা

মাইট্রোকন্ডিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। মাইট্রোকন্ডিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১২১.
কোন উদ্ভিদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে? 
  1. ইস্ট
  2. ধান
  3. পাইনাস
  4. সরিষা
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
ব্যাখ্যা
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
 
নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কিন্তু ডিম্বক থাকে। 
- ফলস্বরূপ নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হলেও গর্ভাশয় না থাকায় কোনো ফল তৈরি হয় না। 
- এজন্য এদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- সাইকাস, পাইনাস, থুজা ইত্যাদি এ ধরনের উদ্ভিদ। 

অন্যদিকে, 
- ধান, সরিষা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ, এদের বীজ ফলের ভিতরে থাকে। 
- ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক, এদের কোনো বীজ তৈরি হয় না। 
- ইস্ট স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২২.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) মুথা ঘাস
  3. গ) ভুট্টা
  4. ঘ) ধান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধান
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদ: ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়।
যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

Cউদ্ভিদ: যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৩.
উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. নিঃসরণ
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিসরণ
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৪.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে শিরাবিন্যাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  2. সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়
  3. শিরা-উপশিরা গুলো পরস্পর আলাদা থাকে
  4. রেটিকুলেট ভিনেশন দেখা যায় না
সঠিক উত্তর:
জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়
ব্যাখ্যা
• দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা বা রেটিকুলেট শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 

• পত্রফলকের শিরাবিন্যাস:
পত্রফলকে মধ্যশিরা (অথবা একাধিক প্রধান শিরা), শিরা, উপশিরা থাকে। যে নির্দিষ্ট রীতিতে শিরা-উপশিরাগুলো পত্রফলকে বিন্যস্ত থাকে তাকে শিরাবিন্যাস বলে।
-ফলকের শিরাবিন্যাস উদ্ভিদ শনাক্তকরণে কাজে লাগে। 

• পাতার শিরাবিন্যাস ২ প্রকার। যথা:
→  রেটিকুলেট ভিনেশন (Reticulate venation) বা জালিকা শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরা-উপশিরা ও এদের শাখা-প্রশাখাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি জালের মতো সৃষ্টি করলে তাকে জালিকা শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পাতায় জালিকা শিরাবিন্যাস দেখা যায়।
- শিরাগুলো শাখান্বিত হয়ে জালের মতো আকৃতি তৈরি করে।
- উদাহরণ- আম, জাম, শিমের পাতা।

→  প্যারালেল ভিনেশন (Parallel venation) বা সমান্তরাল শিরাবিন্যাস:
- পাতার শিরাগুলো পরস্পর যুক্ত না হয়ে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকলে তাকে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস বলা হয়।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়। 
- শিরাগুলো সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে।
- উদাহরণ-  ধান, গম, ঘাস। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,১২৫.
লাল টিউলিপ ফুলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে কোনটির আক্রমণে?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৬.
কোন উদ্ভিদের পাতা থেকে নতুন গাছ জন্মায়?
  1. পাথরকুচি
  2. ডালিয়া
  3. ওলকচু
  4. ফণীমনসা
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৭.
বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ এর অধিক
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু:

বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার-
১. ভাজক টিস্যু ও
২. স্থায়ী টিস্যু।

১. ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে।
- গঠন ভাজক টিস্যু সাধারণত অত্যন্ত ক্ষুদ্র, আয়তাকার, ডিম্বাকার বা বহুভূজাকার।
- এদের কোষে অধিক পরিমান সাইটোপ্লাজম থাকে এবং এতে কোন গহ্বর থাকে না অথবা থাকলেও অত্যন্ত ক্ষুদ্র।
- এদের নিউক্লিয়াস বেশ বড়, কোষ প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা এবং দুটি কোষের মধ্যে আন্তকোষীয় ফাঁক থাকেনা। 

২. স্থায়ী টিস্যু (Permanent Tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে অক্ষম এবং আকার, আকৃতি ও বিকাশে স্থায়িত্ব লাভ করেছে তাকে স্থায়ী টিস্যু বলা হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের ফলে স্থায়ী টিস্যু তৈরী হয় বিশেষ অবস্থা ছাড়া এইসব স্থায়ী টিস্যু আর বিভাজিত হতে পারেনা।
- প্রাথমিক শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু (primary permanent tissue) এবং সেকেন্ডারী পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে সেকেন্ডারী স্থায়ী টিস্যু (secondary permanent tissue) বলা হয়।


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১২৮.
জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় বেশি কেন?
  1. কারণ জলজ উদ্ভিদে ক্লোরোফিলের সংখ্যা বেশি থাকে 
  2. কারণ জলজ উদ্ভিদে বেশি সূর্যালোক পড়ে 
  3. কারণ জলজ উদ্ভিদে পানি কম থাকে 
  4. কারণ পানিতে দ্রবীভূত CO2-এর পরিমাণ বেশি থাকে 
সঠিক উত্তর:
কারণ পানিতে দ্রবীভূত CO2-এর পরিমাণ বেশি থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ পানিতে দ্রবীভূত CO2-এর পরিমাণ বেশি থাকে 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। উদ্ভিদে সঞ্চিত এই খাদ্যের উপরে মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (biochemical) বিক্রিয়া। 
যেমন-

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে। 
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- বায়ুমণ্ডলে 0.03% কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানিতে 0.3% কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপজাত দ্রব্য (by-product)। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxidation-reduction process), এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১২৯.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস দেখা যায়?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩০.
নিচের কোনটি বর্ণাধার নামে পরিচিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) কোষগহ্বর
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত প্রাণিকোষে প্লাস্টিড থাকে না। প্লাস্টিডকে বলা হয় বর্ণাধার। পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায়, তা সবই এই প্লাস্টিডের কারণে। সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

১,১৩১.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত নয়?
  1. ক) প্লাস্টিড
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিওলাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং নিউক্লিওলাস থাকে না।
সূত্রঃ ৩৮তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১,১৩২.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
  1. ক) রেস্পিরেশন
  2. খ) ফটোলাইসিস
  3. গ) ফসফোরাইলেশন
  4. ঘ) ফটোপিরিওডিজম
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফটোলাইসিস
ব্যাখ্যা
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফটোলাইসিস। উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১,১৩৩.
নিচের কোন উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায় না?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) আখ
  3. গ) মুথা ঘাস
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
C4 উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়। সাধারণত ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারান্থাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C4 পরিচালিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৩৪.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয় - 
  1. বেনথিক শৈবাল
  2. এপিফাইটিক শৈবাল
  3. লিথোফাইটিক শৈবাল
  4. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
সঠিক উত্তর:
বেনথিক শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনথিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৫.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ম্যাংগানিজ
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাংগানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাংগানিজ
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য পুষ্টি উপাদান বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ১০টি। এরা হলো নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং আয়রন।
- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ৬টি। এরা হলো জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, কপার এবং ক্লোরিন। 

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১,১৩৬.
উদ্ভিদে বোরনের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি? 
  1. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়
  2. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায়
  3. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৭.
পত্ররন্ধ্রের কার্যকলাপ (খোলা ও বন্ধ) নিয়ন্ত্রণে কোন খনিজ উপাদান দায়ী?
  1. আয়রন
  2. পটাসিয়াম
  3. মলিবডেনাম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে পটাসিয়াম খনিজ উপাদানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পত্ররন্ধ্রের চারপাশে থাকা রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে কোষের ভেতরে অমোসিস প্রক্রিয়ায় পানি ঢোকে বা বের হয়। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন পানি ঢুকে কোষ স্ফীত হয় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম বের হয়ে গেলে পানি বেরিয়ে কোষ শিথিল হয় ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে উদ্ভিদের গ্যাস বিনিময় ও বাষ্পোৎসর্জন নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) পটাসিয়াম।
 
 পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K):
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg):
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe):
- উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn):
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu):
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

• বোরন (B):
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn):
- অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo):
- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl):
- সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৮.
ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. বাইনারি ফিশন
  2. বাইনারি ফিউশন
  3. ফিশন
  4. ফিউশন
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার জনন : ব্যাকটেরিয়া দুটি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে। যেমন- অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
অযৌন জনন: ব্যাকটেরিয়া সাধারণত অযৌন প্রক্রিয়ায় দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে। I
দ্বিভাজন পদ্ধতি দ্বিভাজন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির স্বাভাবিক, অত্যন্ত সরল এবং দ্রুততম জনন প্রক্রিয়া। দ্বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,১৩৯.
ভাইরাসের প্রোটিন আবরণকে কী বলে?
  1. প্লাসিড
  2. ক্যাপসিড
  3. সেন্ট্রোমিয়ার
  4. ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
ক্যাপসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপসিড
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের বিভিন্ন গঠন হয়ে থাকে। সাধারণভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ -
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথাঃ
১) প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড, ও,
২) নিউক্লিক এসিড
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,১৪০.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়?
  1. Lycopodium
  2. Pteris
  3. Equisetum
  4. Cycas
সঠিক উত্তর:
Cycas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cycas
ব্যাখ্যা
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়- Cycas (সাইকাস), এটি হলো জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদ। 

টেরিডোফাইটা: 

- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪১.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সুপারি
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) জাম
  4. ঘ) পাইনাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাইনাস
ব্যাখ্যা

সাইকাস এবং পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
এসব উদ্ভিদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলো নগ্ন থাকে। এসব ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ উৎপন্ন করে।
আবৃতবীজী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজ ফলের ভেতর আবৃত অবস্থায় থাকে, তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন: আম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি।

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

১,১৪২.
নিচের কোনটির অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না?
  1. ক) আয়রন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) সালফার
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণঃ
নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
পটাসিয়াম (K) এর অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।
ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কঁচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।
সালফার (S) এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাউব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।
বোরন (B) এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

সুত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৩.
কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

পুষ্পের রঙিন ও সুন্দর হওয়ার প্রধান কারণ হলো ক্রোমোপ্লাস্ট।
- ক্রোমোপ্লাস্ট হলো প্লাস্টিডের বিশেষ একটি ধরনের অঙ্গাণু যা উদ্ভিদের পুষ্প, ফল, ও কিছুমাত্রিক অংশকে রঙিন ও সুন্দর করে তোলে।
- ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা, হলুদ জাতীয় রঞ্জক যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল সঞ্চিত থাকে, যা পুষ্পকে আকর্ষণীয় রঙ জোগায়।
- ফুলের পাপড়ির রঙ মূলত ক্রোমোপ্লাস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যা পরাগায়নের জন্য পরাগ বাহকদের আকর্ষণ করে।

• প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
- যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।

• ক্রোমোপ্লাস্ট:
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৪৪.
সালোকসংশ্লেষনের জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে কোন উপাদান গ্রহন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪ টি।
পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড (এই দুটি প্রধান), সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,১৪৫.
সাম্প্রতিক কালে বহুল আলোচিত পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Allium cepa
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Corchorus capsularis
সঠিক উত্তর:
খ) Allium cepa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Allium cepa
ব্যাখ্যা
Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৬.
উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী প্রধান অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) সবুজ কচি কাণ্ড
  2. খ) ফলের সবুজ ত্বক
  3. গ) ফুলের বৃন্ত
  4. ঘ) পাতার সবুজ অংশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতার সবুজ অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতার সবুজ অংশ
ব্যাখ্যা

- পাতার সবুজ অংশ, সবুজ কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি ও বৃন্ত, ফলের সবুজ ত্বক, থ্যালয়েড সবুজ উদ্ভিদের সম্পূর্ণ থ্যালাস, কখনো কখনো সাইটোপ্লাজম (কতিপয় সায়ানোব্যাক্টেরিয়াতে সুগঠিত প্লাস্টিড না থাকায়) হলো উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গসমূহ।
- এদের মধ্যে পাতার সবুজ অংশ হলো উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের প্রধান অঙ্গ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,১৪৭.
নিচের কোনটি পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা? 
  1. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  2. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয়ে যাওয়া
  3. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৪৮.
সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-
  1. ক) ০%
  2. খ) ১০ - ১৫%
  3. গ) ৩ - ৬%
  4. ঘ) ১০০%
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ - ৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩ - ৬%
ব্যাখ্যা

সহজ ভাষায় বললে,
তাত্ত্বিকভাবে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ ১১%
কিন্তু, বাস্তবক্ষেত্রে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা ৩% - ৬%

সঠিক উত্তর গ) ৩ - ৬% সরাসরি নিচের ডকুমেন্টে উল্লেখ করা আছে।

FAO Agricultural Services Bulletin - 128
Chapter 1 -
Biological energy production
[Official Website Link]

 
১,১৪৯.
ভাইরাস সম্পর্কে কোন্ বিবৃতিটি সঠিক? 
  1. এদের যেকোনো সিনথেটিক নিউট্রিয়েন্ট মিডিয়ামে কালচার করা যায় 
  2. এদের জেনেটিক উপাদান হিসেবে ডিএনএ এবং আরএনএ থাকে 
  3. এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
  4. ভাইরাস হল অণুবীক্ষণিক জীবন্ত প্রাণী
সঠিক উত্তর:
এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা এক ধরণের অন্তঃকোষীয় পরজীবী
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস নিজেরা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে বা বংশবিস্তার করতে পারে না। তারা জীবন্ত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে সেই কোষের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বংশবিস্তার করে, তাই ভাইরাসকে বলা হয় অবশ্যিক অন্তঃকোষীয় পরজীবী। অন্যদিকে, ভাইরাসে DNA অথবা RNA থাকে কিন্তু উভয়টি একসাথে কখনো থাকে না। 

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনোও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনোও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
যেমন- 
• ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- ভাইরাসের মধ্যে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫০.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদে যে রোগ দেখা দেয়, তাকে কী বলে? 
  1. রুট রট 
  2. মোল্ড 
  3. ব্লাইট 
  4. ডাইব্যাক 
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৫১.
সাধারণত কোন তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে?
  1. 10°-15° C
  2. 15°-25° C
  3. 30°-40° C
  4. 20°-35° C
সঠিক উত্তর:
20°-35° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20°-35° C
ব্যাখ্যা
শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 

শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI2 ও MgCl2 এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,১৫২.
বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. Yeast
  2. Agaricus
  3. Penicillium
  4. Mucor
সঠিক উত্তর:
Penicillium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Penicillium
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:

• ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, পরভোজী বা মৃতজীবী।
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
• উদাহরণ: মিউকর (Mucor), ঈস্ট (Yeast), ব্যাঙের ছাতা/ মাশরুম (Agaricus), পেনিসিলিয়াম (Penicillium)। 
• বাণিজ্যিকভাবে পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়।
• আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন।
• এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক।
• Penicillium notatum থেকে পেনিসিলিন আবিষ্কার করা হয়।
• পেনিসিলিনটি কান, নাক এবং গলার ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
• এছাড়া এটি সাইনাস, ত্বক, নিম্ন শ্বাস নালীর, পেট, অন্ত্র, কিডনি এবং মূত্রাশয়ের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য দায়ী। 

- অপরদিকে, 
• রুটি শিল্পে, পাউরুটি ফোলাতে, মদ্য শিল্পে, খাদ্য উপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ঈস্ট ব্যবহার করা হয়।
• ছত্রাক বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। ধানের পাতায় বাদামী রোগ, আলুর লেটুব্লাইট, আখের লালপচা, চা গাছের ব্লিস্টার বাইট ইত্যাদি রোগের জন্য ছত্রাক দায়ী।    

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৩.
স্ব-পরাগায়নের ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. একই ফুলে ঘটতে পারে।
  2. বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়।
  3. উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না।
  4. প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।
সঠিক উত্তর:
বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়।
ব্যাখ্যা
• পরাগায়ন:
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য একটি ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলা হয়।
- ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত পরাগায়ন।
- পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা-
১. স্ব-পরাগায়ন এবং
২. পর-পরাগায়ন।

• স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।
- স্ব- পরাগায়নের  জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না।
- স্ব- পরাগায়নের ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না এবং প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৪.
সবচেয়ে বড় ঘাস কোনটি?
  1. লাউগাছ
  2. বাঁশ
  3. শিমগাছ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
বাঁশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশ
ব্যাখ্যা
বাঁশ:
- সবচেয়ে বড় ঘাসের নাম বাঁশ।
- বাঁশ বহুল ব্যবহূত কয়েক প্রজাতির ফাঁপা কান্ড বিশিষ্ট ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ।
- কাষ্ঠল বৃক্ষের ন্যায় বৈশিষ্ট্য থাকায় অনেক সময় এটিকে Bambusaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাঁশের পর্বের মধ্যভাগ সুস্পষ্ট ফাঁপা।
- রাইজোম থেকে বাঁশের নতুন কুঁড়ি গজায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে। 
- পরিপুষ্ট বাঁশের রং ধূসর বা হলুদ।
- সাধারনত এই বাঁশ ড্রাগন বাম্বু, জায়েন্ট বাম্বু নামে পরিচিত।
- এর গড় উচ্চতা ৬৫ থেকে ৮২ফিট হয় (২০ থেকে ২৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।
১,১৫৫.
একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন ফলকে কী বলা হয়? 
  1. অপ্রকৃত ফল
  2. গুচ্ছ ফল
  3. সরল ফল
  4. যৌগিক ফল
সঠিক উত্তর:
সরল ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল ফল
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 

ফলের প্রকারভেদ: 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে, যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে, যেমন-আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে, যেমন- আম। 
- এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- সরল ফল দুই প্রকার। 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 
খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। যেমন-শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) যৌগিক ফল: 
- একটি মঞ্জরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল। 

 ৩) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৫৬.
সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের কতটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। 
- বায়ুমণ্ডলের CO2 পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। 
- আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP, NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO2 বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ক্যালভিন চক্র, 
২। হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং 
৩। ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫৭.
বৃদ্ধি ও অযৌন জননের জন্য কোন কোষ বিভাজন অপরিহার্য?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) এমাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) মেটাফেজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাইটোসিস
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়।এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,১৫৮.
উদ্ভিদ তার সালোকসংশ্লেষনের সময় নিচের কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি প্রতিফলিত করে?
  1. ইনফ্রারেড
  2. দশ্যমান আলো
  3. আল্ট্রা ভায়োলেট
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রারেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ তার সালোকসংশ্লেষনের সময় ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে। 
- ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশি হয়। 
- আমরা ইনফ্রারেড আলো দেখতে পারি না, কিন্তু ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের সাহায্যে দেখা যায়। 
- গাছপালা দ্বারা প্রতিফলিত ইনফ্রারেড আলোর পরিমাণ সঠিকভাবে পরিমাপ করে, আমরা সেই গাছপালা স্বাস্থ্যের অবস্থা নিরূপণ করতে পারি।
 
উৎস: nasa.gov
১,১৫৯.
কোন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষ সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ তৈরি হয়? 
  1. খণ্ডায়ন 
  2. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
  3. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদন 
  4. অযৌন রেণু সৃষ্টি 
সঠিক উত্তর:
দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬০.
জলজ উদ্ভিদে বড় বায়ুকুঠুরি সম্বলিত প্যারেনকাইমাকে কী বলে?
  1. Aerochyma
  2. Aquenchyma
  3. Alveolchyma
  4. Aerenchyma
সঠিক উত্তর:
Aerenchyma
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aerenchyma
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু (Simple tissue): 
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে। 
- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্যারেনকাইমা, 
২। কোলেনকাইমা এবং 
৩। স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা (Parenchyma): 
- উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 
- এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। 
- এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়। 
- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। 
- এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে। 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্যদ্রব্য পরিবহন করা। 

উল্লেখ্য,
- Aerochyma, Aquenchyma, Alveolchyma - বলতে কোনো বৈজ্ঞানিক টার্ম নেই।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬১.
অপুষ্পক উদিভদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সাইকাস
  2. খ) পাইনাস
  3. গ) স্পাইরোগাইরা
  4. ঘ) সুপারি
সঠিক উত্তর:
গ) স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা

স্পাইরোগাইরা একটি অপুষ্পক উদ্ভিদ। কারণ, এ ধরনের উদ্ভিদে ফুল এবং ফল হয় না। এরা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড, ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। এরা সমাঙ্গদেহি উদ্ভিদ।
অপরদিকে, সাইকাস এবং পাইনাস নগ্নবীজী সুপুষ্পক উদ্ভিদ।
সুপারি হল আবৃতবীজী সুপুষ্পক উদ্ভিদ।

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই। 

১,১৬২.
সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলাে-
  1. ০%
  2. ১০ - ১৫%
  3. ৩ - ৬%
  4. ১০০%
সঠিক উত্তর:
৩ - ৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ - ৬%
ব্যাখ্যা
[তাত্ত্বিকভাবে সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা সর্বোচ্চ ১১%। কিন্তু, বাস্তবক্ষেত্রে: সালােকসংশ্লেষণে সূর্যের আলাের রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা ৩% - ৬%। - FAO Agricultural Services Bulletin - 128] - [লিঙ্ক]

সালোকসংশ্লেষণ: 

- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া


- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়। 
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৩.
উদ্ভিদ হরমোনকে কী বলা হয়?
  1. ক) প্ল্যান্টহরমোন
  2. খ) ফাইটোহরমোন
  3. গ) সাইটোহরমোন
  4. ঘ) ফটোহরমোন
সঠিক উত্তর:
খ) ফাইটোহরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাইটোহরমোন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে।
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলা হয়। 
- যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,১৬৪.
উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী?
  1. অপরিণত কোষ দ্বারা গঠিত
  2. কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
  3. কোষের আকার ও গঠন নির্দিষ্ট নয়
  4. যান্ত্রিক কাজে দৃঢ়তা প্রদান করে
সঠিক উত্তর:
কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম
ব্যাখ্যা

- যে ধরনের কোষকলা বা টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম এবং পরিণত তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে। স্থায়ী কলার কোষের আকার ও গঠন নির্দিষ্ট। খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য সঞ্চয়, খাদ্য-পানি-খনিজ লবণ পরিবহন, বিভিন্ন অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান করা ইত্যাদি স্থায়ী টিস্যুর কাজ।
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম তাকে ভাজক টিস্যু বলে। উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে এ ধরনের টিস্যু অবস্থান করে। মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে সবচেয়ে বেশি ভাজক টিস্যু থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,১৬৫.
ক্রোমোপ্লাস্টে কোনটির আধিক্য থাকে?
  1. ক্লোরোফিল
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. লাইকোপিন
  4. ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল
সঠিক উত্তর:
ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।
ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে
ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি
পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৬৬.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টি করে?
  1. রুবিওলা ভাইরাস
  2. অ্যাডেনো ভাইরাস
  3. ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. টুংরো ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
টুংরো ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুংরো ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রোগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনো ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গো- বসন্ত রোগের জন্য দায়ী।
- টুংরো ভাইরাস ধানের টুংরো রোগের জন্য দায়ী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,১৬৭.
ক্রোমোপ্লাস্টে কোন ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে?
  1. জ্যান্থফিল
  2. ক্যারোটিন
  3. ফাইকোসায়ানিন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন, জ্যান্থফিল এবং ফাইকোসায়ানিনের মতো বিভিন্ন রঙিন রঞ্জক পদার্থ থাকে যা ফুল ও ফলের বিচিত্র বর্ণ সৃষ্টি করে।

• প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের - ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

• ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

• ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

• লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬৮.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট কোনটি?
  1. ক) দুইটি বীজপত্র থাকে
  2. খ) প্রধান মূল থাকে
  3. গ) পাতার শিরাবিন্যাস জালিকাকার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ : যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — আম , জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট, কলা ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। উপরের সবগুলো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১,১৬৯.
কোনটি নাইট্রোজেনের অভাব জনিত লক্ষণ?
  1. পাতা বেগুনি রং ধারণ করে
  2. পাতা হলুদ রং ধারণ করে
  3. পাতায় মৃত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
পাতা হলুদ রং ধারণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা হলুদ রং ধারণ করে
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭০.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সহায়তা করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭১.
মাশরুম এক ধরণের-
  1. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. ফাঙ্গাস
  3. স্ব-জীবী উদ্ভিদ
  4. অর্কিড
সঠিক উত্তর:
ফাঙ্গাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাঙ্গাস
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭২.
সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না -
  1. পাতায়
  2. শাখা-প্রশাখায়
  3. সবুজ কাণ্ডে
  4. মূলে
সঠিক উত্তর:
মূলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল, বায়ুস্থ অক্সিজেন এবং পানির সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং অক্সিজেন তৈরী হয় তাকেই সালোকসংশ্লেষণ বলে। 


- সালোকসংশ্লেষণ এর জন্য ক্লোরোফিল আবশ্যক।
- ক্লোরোফিল থাকে ক্লোরোপ্লাস্টে। 
- এর বর্ণ সবুজ।
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে ক্লোরোফিল থাকে।
- মূলে কোনো ক্লোরোফিল থাকে না, তাই মূলে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না। মূল সাধারণত খাদ্য সঞ্চয় করে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৩.
নিম্নের কোনটি ফুলের প্রজনন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে? 
  1. দল ও বৃতি
  2. দল ও বৃন্ত
  3. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
  4. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা
প্রজনন অঙ্গ: ফুল 
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
উদ্ভিদের পাতায় কোন ধরণের ভাজক টিস্যু দেখা যায়?
  1. ক) মাস ভাজক টিস্যু
  2. খ) রিব ভাজক টিস্যু
  3. গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেট ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পাতায় প্লেট ভাজক টিস্যুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যু তিন ধরণের হয়ে থাকে। যথা-
প্লেট ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষ মাত্র দুটি তলে (plane) বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো প্লেটের মতো করে সজ্জিত হয়, তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে অঙ্গটি আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন - উদ্ভিদের পাতা। 

মাস ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষবিভাজন সৰ তলে (plane) ঘটে থাকে, ফলে সৃষ্ট কোষ সমষ্টি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত না থেকে কোষপুঞ্জ গঠন করে, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলা হয়।
এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গটি ঘনত্বে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন- বর্ধনশীল ভ্রূণ, রেণুথলি, এন্ডোস্পার্ম ইত্যাদিতে এ ধরণের টিস্যু লক্ষ্য করা যায়। 

রিব ভাজক টিস্যু: যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো রৈখিক সজ্জাক্রমে একসারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের ন্যায় দেখায়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়।
এ প্রকার কোষ বিভাজনের ফলে একসারি কোষ সৃষ্টি হয়; যেমন- বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডের মজ্জা রশ্মিতে এ ধরণের টিস্যু লক্ষ্য করা যায়।

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
-  কোষগুলো জীবিত এবং বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন হয়।
- কোষগুলো সাধারণত আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজাকার হয়। 
- এই টিস্যু কোষগুলো সেলুলোজ নির্মিত পাতলা কোষপ্রাচীরবিশিষ্ট হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না।
- কোষগুলো অনেক ঘনভাবে থাকে, তাই এদের মধ্যে আন্তকোষীয় ফাঁক থাকে না।

সূত্র: ২০৬ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৫.
নিচের কোনটি ম্যাক্রো মৌল?
  1. ক) বোরন
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) আর্সেনিক
  4. ঘ) মারকারি
সঠিক উত্তর:
খ) পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
- মুখ্য উপাদানগুলো হল: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, লৌহ, ম্যাগনেশিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ফসফরাস ও সালফার।

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬ টি।
- গৌণ উপাদান হলো: দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, বোরন, তামা এবং ক্লোরিন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১৭৬.
শ্বসন প্রক্রিয়ার হার কমানোর জন্য কোন উপাদানটির ঘনত্ব বাড়ানো উচিত?
  1. পানি
  2. উষ্ণতা
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শ্বসন (Respiration): 
- শ্বসন হলো শক্তি নির্গমনকারী কতিপয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার সমষ্টি। 
- শক্তি উৎপাদনকালে জটিল খাদ্যদ্রব্য সরল দ্রব্যে পরিণত হয়। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়। 

শ্বসনের প্রকারভেদ: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং (খ) অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। 
- যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে এবং যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে। 
শ্বসন প্রক্রিয়ার প্রভাবকসমূহ: 
- নিম্নলিখিত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ শ্বসন ক্রিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
যেমন- 
(ক) বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ (External factors): 
১। তাপমাত্রা: 
- শ্বসন ক্রিয়া কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, আর এ রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর হার বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যেহেতু উৎসেচকসমূহের কার্যকারিতা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল সেহেতু তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি শ্বসনের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে। 
- তাপমাত্রা 0° সে. থেকে 30° সে. পর্যন্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বসন হারও ক্রমাগত বাড়ে। 0° সে. তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম থাকে। 
- সাধারণত 20°-35° C তাপমাত্রায় শ্বসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলে। 
- 45°C এর ওপরের তাপমাত্রায় উৎসেচকসমূহের বিক্রিয়ার হার তথা শ্বসনের হার বেশ কমে যায়। 

২। অক্সিজেন: 
- পাইরুভিক অ্যাসিডের পূর্ণাঙ্গ জারণের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- সবাত শ্বসনে পাইরুভিক আসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO2 ও H2O উৎপন্ন করে। 
- অতএব কেবল সবাত শ্বসনেই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। 

৩। পানি: 
- কতগুলো বিক্রিয়ায় পানির প্রয়োজন হয়, অতএব প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহও শ্বসন ত্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। 

৪। আলো: 
- শ্বসনকার্যে আলোর প্রয়োজন পড়ে না সত্যি কিন্তু দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করা সহজ হয় বলে শ্বসন হার একটু বেড়ে যায়। 

৫। কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব: 
- বায়ুতে CO2 এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে শ্বসন হার কিঞ্চিৎ কমে যায়। 

(খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ (Internal factors): 
১। জটিল খাদ্যদ্রব্য: 
- সরল খাদ্য গ্লুকোজ শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান শ্বসনিক বস্তু। 
- বিভিন্ন বিক্রিয়ায় কোষস্থ জটিল খাদ্যই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। 
- কাজেই জটিল খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন শ্বসন প্রক্রিয়ার হারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

২। উৎসেচক: 
- শ্বসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অসংখ্য উৎসেচক অংশগ্রহণ করে, তাদের উপস্থিতির ওপরই সম্পূর্ণ শ্বসন প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল। 

৩। কোষের বয়স: 
- যে কোষে প্রোটোপ্লাজম অধিক (অল্প বয়সের) সেসব কোষে শ্বসন হার অধিক হয়। 

৪। কোষস্থ অজৈব লবণ: 
- কোষে অজৈব লবণ অধিক পরিমাণে থাকলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 

৫। কোষ মধ্যস্থ পানি: 
- কোষে প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে শ্বসন হার কমে যায়। 

৬। মাটিতে অজৈব লবণ: 
- মাটিতে NaCl, KCI, CaCI ও MgCl এর দ্রবণের সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটিয়ে শ্বসন হার বৃদ্ধি করা যায়। 

৭। অন্যান্য প্রভাবক: 
- আঘাতপ্রাপ্ত টিস্যুতে আঘাত নিরাময়ের জন্য কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়, ফলে শ্বসন হার বেড়ে যায়। 
- হাত দিয়ে পাতা মৃদু ঘষে দিলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,১৭৭.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. কলেরা
  2. টিটেনাস
  3. টাইফয়েড
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস:
- ভাইরাস হলো অতি ক্ষুদ্র সংক্রামক জীবাণু যা নিজে নিজে বংশবিস্তার করতে পারে না; জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রণা ব্যবহার করে প্রতিলিপি তৈরি করে। তাই একে অবশ্য-পরজীবী (obligate intracellular parasite) বলা হয়।
- সাধারণত একটি ভাইরাসের তিনটি প্রধান অংশ থাকে: জেনেটিক উপাদান (DNA বা RNA), ক্যাপসিড (প্রোটিনের আবরণ),
এনভেলপ (লিপিড স্তর)। 
- ভাইরাসের আকার সাধারণত ২০ - ৩০০ ন্যানোমিটার।
- ভাইরাসের কোষীয় গঠন নেই (কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, অঙ্গাণু অনুপস্থিত)।
-  জীবিত ও অজীবের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।
- ভাইরাস হোস্ট কোষ ছাড়া বিপাকীয় কার্যকলাপ করতে পারে না।
- ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তনশীল (মিউটেশন বেশি)।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

♦ কলেরা, টিটেনাস ও টাইফয়েড তিনটিই হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। অপশনে কোন ভাইরাস ঘটিত রোগের নাম নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে কোনটিই নয়

উৎস: 
১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। Microbiologysociety [Link]

১,১৭৮.
ফানজাই-এর কোষপ্রাচীর সাধারণত কোন উপাদান দিয়ে গঠিত? 
  1. কাইটিন
  2. সেলুলোজ
  3. গ্লাইকোজেন
  4. পেপটাইডোগ্লাইকান
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা
ফানজাই (Fungi): 
- ফানজাই এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।  
- এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
- এইগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
- এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
- এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
- এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৯.
শিমগাছ মাটিতে কোন উপাদান বৃদ্ধি করে?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা: 
১। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
২। নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে
৩। পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,১৮০.
কোন পদার্থ উদ্ভিদদেহে কলয়েডধর্মী পদার্থ হিসেবে বিদ্যমান? 
  1. শর্করা
  2. স্টার্চ
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
স্টার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টার্চ
ব্যাখ্যা
ইমবাইবিশন: 
- অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। 
- উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। 
যথা- স্টার্চ, সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি। 
- এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। 
- কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোষপ্রাচীর) যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে, তাকে ইমবাইবিশন বলে। 
- আর শোষণকারী পদার্থটিকে হাইড্রোফিলিক পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৮১.
পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদান সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. আয়রন
  2. মলিবডেনাম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
• নাইট্রোজেন (N): নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P): নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
পটাসিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
আয়রন (Fe): উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu): টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
• বোরন (B): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
মলিবডেনাম (Mo): অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl): সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে না কোন খনিজ উপাদান?

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮২.
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সালফারের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি?
  1. বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়
  2. কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়
  3. ডাইব্যাক রোগ হয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। 
- পাতার সরু শিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

বোরন (B): 
- এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৩.
ফুলের অত্যাবশকীয় অংশ কোনটি?
  1. ক) বৃতি
  2. খ) পুংস্তবক
  3. গ) দলমণ্ডল
  4. ঘ) পুষ্পাক্ষ
সঠিক উত্তর:
খ) পুংস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুংস্তবক
ব্যাখ্যা
আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবক থাকে।
যথাঃ পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক ফুলের অত্যাবশকীয় অংশ৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৪.
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক কোনটি?
  1. ক) পাতার বয়স
  2. খ) ক্লোরোফিলের পরিমাণ
  3. গ) আলো
  4. ঘ) পাতার গঠন
সঠিক উত্তর:
গ) আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলো
ব্যাখ্যা
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক:
সালোক সংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক গুলি হলো -
- আলো,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- পানি ও
- তাপমাত্রা। 

সালোক সংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক:
সালোক সংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবক গুলি হলো -
- ক্লোরোফিলের পরিমাণ,
- পাতার বয়স,
- শর্করার পরিমাণ,
- পাতার গঠন,
- কয়েকটি ধাতুর উপস্থিতি ইত্যাদি।

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৫.
উদ্ভিদে মোট প্রস্বেদের সবচেয়ে বড় অংশ কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে? 
  1. মূল প্রস্বেদন
  2. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  3. কিউটিকুলার প্রস্বেদন 
  4. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৮৬.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে -
  1. লাইসোসোম
  2. রাইবোসোম
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ- শক্তি উৎপাদন করে, শ্বসনের জন্য এনজাইম ও কো-এনজাইম ধারণ করে, স্নেহ বিপাকে সাহায্য করে, নিজস্ব ডিএনএ ও আরএনএ উৎপন্ন করে, শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করে।

লাইসোসোমের কাজ-
১। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণু ভক্ষণ।
২। তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিলে কোষস্থ উপাদান ও অঙ্গাণুকে বিগলিত করে ধ্বংস করে যাকে অটোফ্যাগি বলে।
৩। পর্যাপ্ত পরিমাণ এনজাইম থাকায় এরা প্রায় সব ধরনের জৈবিক বস্তু হজম করতে পারে।
৪। এরা জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে। ফলে সম্পূর্ণ কোষটিই পরিপাক হয়ে যেতে পারে।
৫। বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিঃসরণ করে
রাইবোসোমের কাজ-
১। রাইবোসোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্যকরে।
২। এছাড়া স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করে।
নিউক্লিয়াসের কাজ- 
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের কার্য কলাপের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
এটি বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে মাতাপিতার জন্মগত বৈশিষ্ট্যাবলী সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। প্রকৃতপক্ষে নিউক্লিয়াস এর ভেতরে যে ক্রোমোসোম থাকে তারাই বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক ও বাহক।
সূত্রঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,১৮৭.
বায়ু পরাগী ফুলের একটি উদাহরণ কোনটি? 
  1. সরিষা
  2. ধান
  3. শিমুল
  4. পাতাশ্যাওলা
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৮.
কোনটি হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। যথা-
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।  

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৮৯.
সালোক সংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো-
  1. ১০-১৫%
  2. ১-২ %
  3. ৭০-৮০%
  4. ২০- ৩০%
সঠিক উত্তর:
১-২ %
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২ %
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছরিয়ে পড়ে।
- তবে কিছু কিছু উদ্ভিদ যেমন আখের ক্ষেত্রে সালোক সংশ্লেষণের কর্মদক্ষতা ৩.৫% ও হয়ে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১,১৯০.
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয়-
  1. ক) মৃৎগত অঙ্কুরোদগম‌
  2. খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌
  3. গ) মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম‌
  4. ঘ) লবণাক্ততা অঙ্কুরোদগম‌
সঠিক উত্তর:
খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম। বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়। যেমন- সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১৯১.
জবা কি জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. বীরুৎ
  3. গুল্ম
  4. উপগুল্ম
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
ব্যাখ্যা

• জবা হচ্ছে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।

• বীরুৎ: 
- বীরুৎ ছোট ও নরম কাণ্ডবিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদ। যেমন: ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
- বীরুৎ বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী। 

• গুল্ম:
- গুল্ম হলো মাঝারি আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদ।
- এদের শাখা-প্রশাখা মাটির কাছাকাছি থেকে বের হয়। 
যেমন: জবা, রঙ্গন, গোলাপ ইত্যাদি।

• উপগুল্ম:
- উপগুল্ম গুল্মের চেয়ে ছোট হয়, তবে এতে কিছুটা কাষ্ঠল ভাব থাকতে পারে। যেমন: কালকাসুন্দা, দাদমর্দন।

• বৃক্ষ:
- বৃক্ষ  হলো বিশাল, কাষ্ঠল এবং সাধারণত একটি প্রধান কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ। যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১,১৯২.
পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়? 
  1. Azotobacter
  2. Pseudomonas
  3. Rhizobium
  4. Clostridium
সঠিক উত্তর:
Clostridium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clostridium
ব্যাখ্যা
• পাট শিল্পে ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়।
- ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
- এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও,
- মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন 'বি', থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক এসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
- Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকওব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়।
- যেমন- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T)
- এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৩.
মূল নেই কোন উদ্ভিদে?
  1. ফণিমনসা
  2. বীরুৎ
  3. মিউকর
  4. সাইকাস
সঠিক উত্তর:
মিউকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউকর
ব্যাখ্যা
- মিউকর এক ধরণের ছত্রাক। 
- মিউকরের মূল হয় না, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড (Rhizoids) থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। 
- এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে, এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ন ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- ফণিমনসা, বীরুৎ ও সাইকাস উদ্ভিদের মূল ও কাণ্ড আছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,১৯৪.
নিচের কোন সারটি জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে?
  1. টিএসপি
  2. এমওপি
  3. ইউরিয়া
  4. এসএসপি
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার: 
- ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সংবলিত রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলের জমিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%।
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে।
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে।
- কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) মাটিতে পটাশিয়ামের অভাবে ব্যবহার করা হয়।
- টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও এসএসপি (সিংগেল সুপার ফসফেট) মাটিতে ফসফরাসের অভাবে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
১,১৯৫.
রূপান্তরিত পাতার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নারিকেল পাতা
  2. খ) আকর্ষী
  3. গ) জবা পাতা
  4. ঘ) গোল পাতা
সঠিক উত্তর:
খ) আকর্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকর্ষী
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,১৯৬.
ধানের “টুংরো রোগ” - কোনটির কারনে হয়?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পরজীবী
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ধানের রোগঃ
১. বাদামি দাগ রোগ
কারণ - বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক
২. ব্লাস্ট রোগ (Blast)
কারণ - পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক
৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot)
কারণ - স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক
৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight)
জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
৫. টুংরো (Tungro)
কারণ - রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস
৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra)
কারণ - ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।

১,১৯৭.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. মস
  2. মটরশুটি
  3. সাইকাস
  4. ফাণ
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৮.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Chlamydomonas
  2. Spirogyra
  3. Oedogonium
  4. Pithophora
সঠিক উত্তর:
Pithophora
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pithophora
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
• সর্পিলাকার (Spirogyra), 
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১,১৯৯.
পাতা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য হওয়ার কারণ নয় কোনটি? 
  1. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা বেশি।
  2. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
  3. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকে।
  4. পাতা অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত করে।
সঠিক উত্তর:
পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,২০০.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন প্রক্রিয়া কোন টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে?
  1. ফ্লোয়েম
  2. কোলেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. জাইলেম
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ:
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে, এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে।
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন।

- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়।
- এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে।
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এই কোষীয় উপাদানগুলোর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।