বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০০ / ১,৩৫৫

.
নিচের কোনটিকে ‘এনার্জি কয়েন’ বলে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) নিউক্লিওলাস
  3. গ) এটিপি
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) এটিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এটিপি
ব্যাখ্যা
ATP-কে অনেক সময় 'জৈবমুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin or energy coin) বলা হয়৷
এটি শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জীবজগতের জন্য প্রধানত কোন খাদ্য উৎপন্ন হয়?
  1. শর্করা
  2. খনিজ লবণ
  3. লিপিড 
  4. প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

.
পানি পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পানি পরাগী ফুল সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
  2. পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
  3. পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র।
  4. পানি পরাগী ফুলের সুগন্ধ নেই।
সঠিক উত্তর:
পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি পরাগী ফুল আকারে বড়।
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

 প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয় কোনটি?
  1. দলমন্ডল
  2. ডিম্বক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. পুংস্তবক
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
ব্যাখ্যা
• ডিম্বক একটি সম্পূর্ণ ফুলের অংশ নয়।

• ফুল:

- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ থাকে। যথা:
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।
- এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।
- সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩. দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।

৪। পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ?
  1. চন্দ্রমল্লিকা
  2. শসা
  3. ডালিয়া
  4. লেটুস
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে করা হয়:
• আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ (Day Neutral Plant):
- পুষ্পায়নে দিনের আলো কোনো প্রভাব ফেলে না। যেমন: শসা, সূর্যমুখী।
• ছোটদিনের উদ্ভিদ (Short Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
• বড়দিনের উদ্ভিদ (Long Day Plant):
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 12-16 ঘণ্টা আলো প্রয়োজন।যেমন: লেটুস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. ফুলের বীজ উৎপাদন বন্ধ হয়
  2. ফুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়
  3. ফুলের রঙ নষ্ট হয়
  4. ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- টিউলিপ ফুল "টিউলিপ ব্রেকিং ভাইরাস" (Tulip breaking virus) দ্বারা আক্রান্ত হলে পাপড়িতে সাদা বা হলুদ রঙের শিখার মতো দাগ বা রেখা তৈরি হয়, যা ফুলটিকে অনন্য এবং আরও আকর্ষণীয় করে তোলে

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে -
  1. ক) Penicillium
  2. খ) Azetobactor
  3. গ) Mucor
  4. ঘ) Amebae
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium
ব্যাখ্যা
প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষার প্রবণতা দেখা যায়৷
এদের দেহে অণুবীজবাহী অঙ্গের উৎপত্তি হয়৷
বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে৷ Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যেম বংশ বৃদ্ধি করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
.
নিচের কোনটি ঔষধি গাছ?
  1. ক) পাট
  2. খ) ধনিয়া
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) তুলা
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্জুন
ব্যাখ্যা
অর্জুন একটি ঔষধি গাছ। 

অর্জুন গাছের উপকারী দিকসমূহ- 
- অর্জুন গাছের ছাল, ফল ও পাতা তিনটিই ওষুধী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে অর্জুন গাছের ছালই ভেষজ চিকিৎসায় বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন গাছের ছাল বেটে খেলে হৃৎপিণ্ডের পেশি শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
- অর্জুন গাছের রসে রক্ত পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। এ কারণে পথ্য হিসেবে অর্জুনের রস হর হামেসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- অর্জুন খাদ্য হজম ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্যতন্ত্রের শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
- অর্জুন গাছের রস চর্ম ও যৌনরোগে উপকার করে। যৌন উদ্দীপনা বাড়াতেও অর্জুনের রস সাহায্য করে বলে ভেষজবিদরা বলে থাকেন।
- শরীরে খোস-পাচড়া দেখা দিলে অর্জুন গাছের ছাল বেটে লাগালে ভালো হয়ে যায়।

সূত্র- বিবিসি ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
.
পেনিসিলিয়াম কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ছত্রাক বহুকোষী জীব। এদের আগে উদ্ভিদ জগতের সদস্য মনে করা হতো। বর্তমানে এদের উদ্ভিদ জগৎ থেকে আলাদা একটি জগতে স্থান দেওয়া হয়। দেহে প্লাস্টিড (ক্লোরোফিল) না থাকায় ছত্রাক পরভোজী বা মৃতজীবী।
যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০.
ব্যাকটেরিয়া সাধারণত কোন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে?
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. বাইনারি ফিশন
  4. কনজুগেশন
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
ব্যাখ্যা

- বাইনারি ফিশন (দ্বিবিভাজন) হলো একটি অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় একটি একক ব্যাকটেরিয়াল কোষ দুটি অভিন্ন (জেনেটিক্যালি আইডেন্টিকাল) অপত্য কোষে বিভক্ত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির প্রধান পদ্ধতি। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে - 
⇒ ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার। 
⇒ এরা আণুবীক্ষণিক জীব। 
⇒ এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
⇒ এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
⇒ এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে। 
⇒ এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান, এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে। 
⇒ ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল। 
⇒ এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে। 
⇒ এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ। 
⇒ এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। 
⇒ কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. স্যালমোনেলা
  2. ই. কোলাই
  3. ল্যাক্টোব্যাসিলাস
  4. রাইজোবিয়াম
সঠিক উত্তর:
রাইজোবিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইজোবিয়াম
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে প্রধান ব্যাকটেরিয়ার হলো রাইজোবিয়াম। এটি মাটিতে বা গাছের মূলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে কাজ করে। বিশেষ করে শিম, মটরশুঁটি, সয়াবিনের মতো ফলনশীল শস্যের মূলগুঁড়োর নডিউলে এই ব্যাকটেরিয়া বাস করে। রাইজোবিয়াম বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ধরে নিয়ে আমোনিয়ার আকারে রূপান্তরিত করে, যা গাছের জন্য পুষ্টি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের জন্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমে। অন্য দিকে, স্যালমোনেলা এবং ই. কোলাই সাধারণত মানুষের অন্ত্রে রোগ সৃষ্টি করে, আর ল্যাক্টোব্যাসিলাস দুধজাত খাবারে ল্যাকটোজ ফার্মেন্টেশনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই এগুলো নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী নয়।

• নাইট্রোজেন সংবন্ধন:
- নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন গ্যাসকে এমন একটি রূপে পরিবর্তন করা হয় যা উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীব ব্যবহার করতে পারে।
- সাধারণভাবে, বায়ুর নাইট্রোজেন নিষ্ক্রিয় থাকে এবং সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না।
- এই গ্যাসকে অ্যামোনিয়াম (NH4 +) বা অন্যান্য উপযোগী যৌগে রূপান্তরিত করাই হলো নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ। 

• নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের পুষ্টি: নাইট্রোজেন উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড এবং ক্লোরোফিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অণু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- খাদ্য শৃঙ্খল: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত অ্যামোনিয়াম ও অন্যান্য যৌগ উদ্ভিদ গ্রহণ করে এবং খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে।
- পরিবেশের ভারসাম্য: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ পরিবেশে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।

• রাইজোবিয়াম হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের (লিগিউম) শিকড়ের সাথে মিথোজীবী সম্পর্ক গঠন করে।

• রাইজোবিয়ামের কার্যপ্রণালী:
- এটি শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে প্রবেশ করে এবং নডিউল (গুটিকা) তৈরি করে।
- নডিউলের ভিতরে ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেনেজ এনজাইমের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় N2 কে NH3 তে রূপান্তর করে।
- উদ্ভিদ এই অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রোটিন তৈরি করে, এবং ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ থেকে কার্বোহাইড্রেট পায়।
 
• কৃষিতে রাইজোবিয়ামের গুরুত্ব:
- রাইজোবিয়াম সমৃদ্ধ জৈব সারের ব্যবহার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমায়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 

১২.
কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ?
  1. সাইকাস
  2. ধান
  3. মাশরুম
  4. নারকেল
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
ব্যাখ্যা

- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
- ছত্রাক (মাশরুম), নস্টক, ক্লোরেলা ইত্যাদি সবই অপুষ্পক।

- ধান, নারকেল, সাইকাস এদের সবারই ফুল হয়। এরা সপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সাইকাসের ফুলে গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে না।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৩.
ভাইরাস জনিত রোগ নয়-
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) কুষ্ঠ
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) চোখ ওঠা
সঠিক উত্তর:
খ) কুষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুষ্ঠ
ব্যাখ্যা
কুষ্ঠ বা লেপ্রোসি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ।
সূত্রঃ ৩৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১৪.
উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় কোনটির প্রভাবে?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্ট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট এর প্রভাবে উদ্ভিদের ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের সবুজ বর্ণ ব্যাতিত অন্য যেকোন রকমের রঙের প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে ।
অনেক ফুল বা ফলের রঙ সবুজ বর্ণ ব্যাতিত অন্য বর্ণের হয় ক্রোমোপ্লাস্ট এর কারণেই ।

ক্রোমোপ্লাস্ট এর কাজসমূহ- 
১) ক্রোমোপ্লাস্ট পরোক্ষ ভাবে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে 
২) উদ্ভিদের সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য সব বর্ণ গুলি ক্রোমোপ্লাস্ট প্রদান করে থাকে। 
৩) ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে উদ্ভিদ এর ফুল রঙিন প্রকৃতির হয় যার ফলে দেখতে সৌন্দর্য পরায়ণ হয় এছাড়া কীটপতঙ্গ আকর্ষিত হয় যার ফলে পরাগমিলনে সুবিধা হয়। 

সূত্র- ১২ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৫.
মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরীর জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
Microsporum - নামক একপ্রকার ছত্রাকের জন্য মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরি করে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৬.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভাইরাস পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
  2. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
  3. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম।
  4. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না।
ব্যাখ্যা

• ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় এমন অপশনটি হলো খ) এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না। কারণ বাস্তবে ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন একই পোষক কোষে একাধিক ভাইরাস সংক্রমণ করে। ক) বিকল্পটি সঠিক, কারণ ভাইরাস শুধু পোষক কোষের ভেতরেই সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। গ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মিউটেশন খুব দ্রুত ঘটে, যা তাদের অভিযোজনে সাহায্য করে। ঘ) বিকল্পটিও সঠিক, কারণ ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়াসহ কোনো কোষীয় অঙ্গাণু থাকে না। তাই খ) অপশনটি ভাইরাসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়।

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। 
• এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) লাল
  2. খ) কমলা
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনি
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
ব্যাখ্যা
আলােক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়।
সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
আলাের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরােফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালােকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১৮.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়?
  1. মলিবডেনাম
  2. বোরন
  3. লৌহ
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা
• বোরন (B) এর অভাবজনিত লক্ষণ:
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়।
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়।
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে,
- মোলিবডেনাম অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
১৯.
'ভাইরাস' একটি-
  1. এককোষী জীব
  2. বহুকোষী জীব
  3. কোষহীন জীব
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০.
উদ্ভিদের শুকনো বীজ, কাঠ, ইত্যাদি পানির সংস্পর্শে আসলে পানি শোষণ করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ক) ইমবাইবিশন
  2. খ) অভিস্রবণ
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) পরিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
ক) ইমবাইবিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা
ইমবাইবিশন
- উদ্ভিদের শুকনো বীজ, কাঠ, ইত্যাদি পানির সংস্পর্শে আসলে এগুলো পানি শোষণ করে।
- শুকনো বস্তুর এ ধরনের পানি শোষণ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইমবাইবিশন।
- সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন, পেকটিন, প্রোটোপ্লাজমের প্রোটিন এবং উদ্ভিদ কোষের অন্যান্য জৈব রাসায়নিক পদার্থের ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানি শোষণের ক্ষমতা রয়েছে।
- ইমবাইবিশনের মাধ্যমে পানি শোষণের ফলে এসব জিনিসের আয়তন বাড়ে। 

অভিস্রবণ
- একই দ্রাবকবিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা রাখলে দেখা যায় দ্রাবক পাতলা দ্রবণ থেকে (অর্থাৎ দ্রাবকের পরিমাণ যেখানে বেশি) পর্দার ভেতর দিয়ে ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব এক না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এরই নাম অভিস্রবণ।
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে পানি শোষণ করে।

ব্যাপন
- যে প্রক্রিয়ায় কোনও পদার্থের অণু নিজস্ব গতি শক্তির সাহায্যে বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলা হয়।
- এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া।
- একই তাপমাত্রা এবং চাপে কোনও পদার্থের বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ব্যাপিত হবার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলা হয়।
- একই বায়ু চাপে কোনও একটি দ্রবণ এবং দ্রাবকের ব্যাপন চাপের যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলা হয়।
- উদ্ভিদের পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এ ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি থাকা কোষগুলো পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২১.
নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিনের অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান কোনটি? 
  1. পটাসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
Spirogyra কী?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) মস
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শৈবাল
ব্যাখ্যা
Spirogyra: 
• Spirogyra একটি সাধারণ সূত্রাকার সবুজ শৈবাল। এরা খাল, বিল, পুকুর, ডোবা প্রভৃতি স্বাদু পানিতে প্রচুর পরিমাণে জন্মে। অনেকগুলি Spirogyra একত্রে এক প্রকার পিচ্ছিল আবরণী দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে। এদের অনেকগুলো প্রজাতি স্রোতস্বিনী নদী, খাল ও ঝর্ণার পানিতেও জন্মায়।

খাদ্য তৈরী :
Spirogyra-র দেহে ক্লোরোফিল থাকায় এরা সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা (Carbohydrate) জাতীয় খাদ্য তৈরী করে থাকে, অর্থাৎ এরা স্বভোজী।

• বৃদ্ধি:
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। কোষ বিভাজনের কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল নেই। দেহের যে কোন কোষ এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, অর্থাৎ বৃদ্ধি নিবেশিত।

• বংশবৃদ্ধি ও জনন:
Spirogyra তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সমাধা করে থাকে-
১. অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি,
২. অযৌন জনন,
৩. যৌন জনন

• Spirogyra উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
১. এটি গাঢ় সবুজ বর্ণের সূত্রাকার শৈবাল।
২. এদের দেহের বহিরাংশ পিচ্ছিল।
৩. এরা সাধারণত স্থির মিঠা পানিতে বাস করে ।
৪. এদের ক্লোরোপ্লাস্ট সর্পিলাকার বা স্পাইরাল ।
৫. প্রত্যেক কোষে বড় কোষ গহ্বর এবং একটি নিউক্লিয়াস থাকে ।
৬. কোষের ক্লোরোপ্লাষ্টে পাইরিনয়েড থাকে।
৭. যৌন জনন কনজুগেশন প্রক্রিয়ায় ঘটে।
৮. কনজুগেশন দুভাবে ঘটে । যথা-
    - সোপানাকার বা মই আকার কনজুগেশন
    - পার্শ্বীয় কনজুগেশন
৯. উদ্ভিদ হ্যাপ্লয়েড তবে জাইগোস্পোর ডিপ্লয়েড ।

• Spirogyra-র অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
১. জলজ পরিবেশে খাদ্য শৃংখলের প্রাথমিক উৎপাদক হিসেবে Spirogyra ব্যবহৃত হয়।
২. অনেক দেশে মানুষ Spirogyra-কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
৩. Spirogyra-তে প্রচুর ভিটামিন-এ ও ই আছে।
৪. মাছ চাষের পুকুরে Spirogyra চাষ করা হয়।

সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
নিচের কোনটিকে আদর্শ খাদ্য বলে?
  1. ভাত
  2. মাছ
  3. দুধ
  4. ফল
সঠিক উত্তর:
দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধ
ব্যাখ্যা
- শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য দুধ অপরিহার্য। দুধ পুষ্টিকর খাদ্যসমূহের অন্যতম।
- পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এটি আদর্শ খাদ্য। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, অজৈব লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ক্লোরিন) ও পানি খাদ্যের সকল উপাদানই দুধে বিদ্যমান।
- দুধের গড় উপাদানে আছে ৮৭.৬% পানি, ৩.৭% চর্বি, ৩.২% প্রোটিন, ৪.২% ল্যাকটোজ ও ০.৭২% খনিজ, ভিটামিন বি-১২ (২৬.১%)। 
- একশ মিলিলিটার দুধ থেকে ৬৫.৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
- এছাড়া দুধে আয়রনের পরিমাণ ০.২৭ মিলিগ্রাম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট, National Library of Medicine.
২৪.
তুলায় সেলুলোজের পরিমাণ শতকরা -
  1. ৫০ ভাগ
  2. ৯৪ ভাগ
  3. ৬০ ভাগ
  4. ৮০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৪ ভাগ
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঁঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCl বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অস্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। 
- তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 

সেলুলোজের বৈশিষ্ট্য: 
- সেলুলোজ গন্ধহীন, স্বাদহীন, সাদা ও কঠিন জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- এটি পানিতে অদ্রবণীয়, এটি অবিজারক। 
- এর আণবিক ওজন দু'লক্ষ থেকে কয়েক লক্ষ। 
- এটি ফাইবার সদৃশ ও শক্ত এবং এর কোন পুষ্টিগুণ নেই। 

সেলুলোজের কাজ: 
- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান, একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মো ব্যবহৃত হয়।
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ। 
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
অক্সিন ও ইথিলিন কিসের উদাহরণ? 
  1. হরমোন 
  2. প্রোটিন 
  3. ভিটামিন 
  4. এনজাইম 
সঠিক উত্তর:
হরমোন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এই হরমোনগুলো কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
যেমন- ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
নিচের কোনটিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) পানি
  2. খ) ক্লোরোফরম
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) অ্যাসিটোন
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানি
ব্যাখ্যা
পানিতে লিপিড দ্রবীভূত হয় না। 

লিপিড:
- লিপিড একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত।
- এগুলো সাধারণত স্নেহ পদার্থ নামে পরিচিত। মাছ, মাংসের চর্বি, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদিতে লিপিড বিদ্যমান থাকে।
- লিপিড কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সমন্বয়ে গঠিত কিন্তু এখানে তুলনামূলকভাবে কার্বোহাইড্রেট হতে কম পরিমাণে অক্সিজেন থাকে।
- লিপিড সম্পৃক্ত বা অসম্পৃক্ত যৌগিক পদার্থ।
- এটি পানিতে অদ্রবণীয় কিন্তু ইথার, জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়? 
  1. উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায় 
  2. উদ্ভিদের পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থান হালকা হয়ে ক্লোরোসিস রোগের সৃষ্টি হয় 
  3. উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়ে যায় 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- উদ্ভিদের সম্পূর্ণ পাতা কখনো কখনো বিবর্ণ হয়। 
- উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. লিপিড
  2. কোলাজেন
  3. লিগনিন 
  4. পেপটিডোগ্লাইকান
সঠিক উত্তর:
পেপটিডোগ্লাইকান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপটিডোগ্লাইকান
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর মূলত একটি কার্বোহাইড্রেট পলিমার দ্বারা গঠিত যাকে পেপটিডোগ্লাইকান বা মিউরিন বলা হয়। এটি শর্করা এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত একটি জালের মতো গঠন, যা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। 

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।
- এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১। ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২। এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩। এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪। এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক; তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 
৫। এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬। এদের কোষপ্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭। ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮। এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯। এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০। এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার ডিএনএ (DNA) অণু থাকে, এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১। কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত। 

অ্যদিকে, 
- লিপিড বা চর্বি জাতীয় উপাদান সাধারণত কোষ ঝিল্লিতে বেশি থাকে। যদিও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরের স্তরে কিছু পরিমাণ লিপোপলিস্যাকারাইড থাকে, তবে এটি মূল গঠনগত উপাদান নয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি? 
  1. জিংক 
  2. ম্যাঙ্গানিজ 
  3. কার্বন 
  4. বোরন 
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
নিম্নের কোনটি স্বভোজী জীব?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) মাশরুম
  3. গ) ফার্ণ
  4. ঘ) পেনিসিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) ফার্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফার্ণ
ব্যাখ্যা

ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি।

ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]

৩১.
নিচের কোনটি একটি আদর্শ ব্যকটেরিয়ামের অংশ?
  1. ক) ফ্ল্যাজেলা
  2. খ) পিলি
  3. গ) ক্যাপসিউল
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো- ফ্ল্যাজেলা, ক্যাপসিউল, কোষ প্রাচীর, প্লাজমামেমব্রেন, মেসোসোম, সাইটোপ্লাজম, ক্রোমোসোম এবং প্লাজমিড।

ফ্ল্যাজেলা:
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে।

• পিলি:
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে।
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত।
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।

ক্যাপসিউল:
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে।
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে।
- একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

মেসোসোম:
- ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়।
- এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
কোনটি স্ব-পরাগী ফুল?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরিষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান-
  1. ক) লিগনিন
  2. খ) কুইনিন
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) হেমিসেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমিসেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমিসেলুলোজ
ব্যাখ্যা
[কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান সেলুলোজ। তবে কাগজে হেমিসেলুলোজও ব্যবহৃত হয়। অপশনে সেলুলোজ না থাকায় হেমিসেলুলোজ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।]

কাগজ তৈরির মূল উপাদান তন্তুজাতীয় বস্তু। এটি হতে পারে উদ্ভিদ কিংবা অন্য কিছু। কাগজ তৈরির সেলুলোজের প্রাথমিক উৎস কাঠ। বিশেষ করে আঁশযুক্ত উদ্ভিদ। বাঁশ, মালবেরি বা তুঁতগাছ ও প্যাপিরাস উদ্ভিদ থেকে বিশেষভাবে মণ্ড তৈরি করে যান্ত্রিক উপায়ে চাপ প্রয়োগ করে তারপর তৈরি করা হয় কাগজ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
২০১০ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা কোন উদ্ভিদের জন্ম রহস্য আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ধান
  2. খ) গম
  3. গ) পাট
  4. ঘ) তুলা
সঠিক উত্তর:
গ) পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাট
ব্যাখ্যা
ড. মাকসুদুল আলম ছিলেন একজন বাংলাদেশী জিনতত্ত্ববিদ। তার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা।
২০১০ সালের ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।
উৎসঃ বিবিসি এবং ডয়েচ ভেলে
৩৫.
ইস্ট হচ্ছে এক ধরনের -
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৬.
ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কয় কার্বনবিশিষ্ট?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Cocos nucifera
  2. খ) Heritiera fomes
  3. গ) Sonneratia apetala
  4. ঘ) Avicennia alba
সঠিক উত্তর:
খ) Heritiera fomes
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Heritiera fomes
ব্যাখ্যা
কেওড়া (Sonneratia apetala),
সুন্দরী (Heritiera fomes),
বাইন (Avicennia alba),
রাইজোফোরা (Rhizophora),
পশুর (Xylocarpus mekongensis),
নারিকেল (Cocos nucifera),
সুপারি (Areca catechu),
গাব (Diospyros peregrina),
বিলাতি গাব (Diospyros discolor)

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
এইচআইভি (HIV) কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ডেঙ্গু
  2. এইডস
  3. জলাতংক
  4. পোলিও
সঠিক উত্তর:
এইডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইডস
ব্যাখ্যা

• HIV ভাইরাস মানুষের AIDS রোগের সৃষ্টি করে।

• ভাইরাসজনিত রোগ (উদাহরণ):

- এইচআইভি (HIV):
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: এইডস।

- র‌্যাবিস ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: জলাতঙ্ক।

- ডেঙ্গু ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: ডেঙ্গু।

- পোলিও ভাইরাস:
- পোষক: মানুষ,
- রোগ: পোলিওমাইলাইটিস।

- ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ভাইরাস:
- পোষক: গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ,
- রোগ: পা ও মুখের ক্ষত।



উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৯.
T2 ভাইরাসের দেহকে কয়টি অংশে ভাগ করা হয়?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) চারটি
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
ব্যাখ্যা
T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের গঠন
- প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যে সকল ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে T2 ব্যাকটেরিওফায সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাস। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। 
- তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণকারী। 
- এটি সর্বাধিক পরিচিত ব্যাঙাচি আকৃতির একটি DNA ভাইরাস। 
- বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ১৯১৭ সালে ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায ভাইরাস নাম দেন। 
- T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। মাথা ও 
২। লেজ। 

মাথা
- মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত। 
- এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ nm (ন্যানোমিটার) এবং প্রস্থ ৬৫ nm। 
- মাথার স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বিসূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। 
- ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিয়োটাইড দিয়ে DNA গঠিত। 
- এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। 
- মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা বলে মনে হয়। 

লেজ
- মাথার পরবর্তী লম্বা সরু অংশটিকে বলা হয় লেজ। 
- লেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫-১১০ nm এবং ব্যাস প্রায় ১৫-২৫ nm। 
- লেজের উপরিভাগে সুস্পষ্ট চাকতির ন্যায় একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের ন্যায়। 
- এর অভ্যন্তরে কোন DNA থাকে না। 
- লেজের নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মত স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্ত্র থাকে। 
- লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্ত্র সবই প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- এতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা পোষক কোষের আবরণ বিনষ্ট করতে পারে। 
- স্পর্শক তন্ত্রর সাহায্যে ভাইরাস পোষকের দেহে অবস্থান করে এবং কাঁটা দিয়ে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
উদ্ভিদ কোন পুষ্টি উপাদান বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. পটাশিয়াম
  2. কার্বন 
  3. হাইড্রোজেন 
  4. সালফার 
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন 
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ তার বৃদ্ধির জন্য মোট ১৬টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান গ্রহণ করে। এর মধ্যে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) উদ্ভিদ প্রধানত বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। উদ্ভিদ তার শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস হলো খনিজ উপাদান যা উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে পানির সাথে শোষণ করে।

• পুষ্টি উপাদানের উৎস: 

- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
ভেসেল (Vessel) কোন শ্রেণির উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান?
  1. জিমনোস্পার্ম
  2. শৈবাল
  3. অ্যানজিওস্পার্ম
  4. টেরিডোফাইট
সঠিক উত্তর:
অ্যানজিওস্পার্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানজিওস্পার্ম
ব্যাখ্যা

• ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 
- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম (আবৃতবীজী) উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য -
  1. শর্করা
  2. গ্লাইকোজেন
  3. মাইক্রোভিলাই
  4. লাইসোসোম
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার বা শর্করা। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
কোন উদ্ভিদ পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল থেকে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে? 
  1. আলু 
  2. হলুদ 
  3. পাথরকুচি 
  4. আদা 
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি 
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন।

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪.
মিউকর (Mucor) কী?
  1. এক ধরনের শৈবাল
  2. এক ধরনের ছত্রাক
  3. এক ধরনের ভাইরাস
  4. এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:
- প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে ছত্রাক থ্যালোফাইটা বিভাগের অন্তর্গত কিন্তু পঞ্চরাজ্য (five kingdom) শ্রেণিবিন্যাসে ছত্রাক প্রজাতিসমূহ পৃথক fungi রাজ্যের অন্তর্গত।
- Fungi (একবচনে fungus)-এর বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে ছত্রাক।
- সত্যিকার ছত্রাক হলো ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী, অভাস্কুলার, হাইফিসমৃদ্ধ মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত হেটেরোট্রফিক সুকেন্দ্রিক জীব যারা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।
- ছত্রাক সম্বন্ধে স্টাডি করাকে বলা হয় মাইকোলজি (Mycology) বা ছত্রাকতত্ত্ব।
- এ পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৯০,০০০ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া গিয়েছে।
- যেমন- মিউকর, ইস্ট, ব্যাঙের ছাতা, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫.
সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) সবুজ উদ্ভিদ
  4. ঘ) অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- সালোকসংশ্লেষণ শুধু সবুজ উদ্ভিদেই ঘটে থাকে যাদের ক্লোরোফিল আছে। শ্বসন সকল সজীব কোষে ঘটে থাকে।
- ছত্রাক, ভাইরাস, অ্যামিবা ইত্যাদিতে সালোকসংশ্লেষণ হয় না, কারণ এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না।
- সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই সংঘটিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৬.
সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেনের উৎস -
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. বায়ু
  3. মিথেন
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণে নির্গত অক্সিজেনের উৎসঃ
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে উৎপন্ন অক্সিজেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পানি থেকে আসে, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে নয়।
অক্সিজেনের রেডিও আইসোটোপ (18O2) ব্যবহার করে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

জল এ কার্বন ডাই অক্সাইড যখন পাতার মধ্যে আসে তখন ক্লোরোপ্লাস্ট ( সবুজ প্লাসটিড) সূর্যালোকের সাহায্যে গ্লুকোজ বানায়।
অক্সিজেন পাতা থেকে হাওয়ায় বেরিয়ে যায় ।

নিচে equation দেয়া হল :-

6CO2 + 12H2O —→ C6H12O6 + 6O2 + 6H2O

সুত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
HIV কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটোরিয়া
  3. রোগের নাম
  4. ফসলের জাত
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• HIV:
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• এইডস রোগ:
- ‘AIDS’ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)।
- এটি একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
কোন হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে? 
  1. অক্সিন 
  2. সাইটোকাইনিন
  3. জিবেরেলিন 
  4. ফ্লোরিজেন 
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 

- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি।
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
কোন উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না? 
  1. ব্রায়াম
  2. টেরিস
  3. নারিকেল
  4. স্পাইরোগাইরা
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫১.
কচুর ফুলের পরাগায়ন ঘটে-
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পানির সাহায্যে
  3. গ) পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
  4. ঘ) প্রাণীর সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাণীর সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রাণীর সাহায্যে
ব্যাখ্যা
প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। পতঙ্গ পরাগী ফুল জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল ধান, গম, ইক্ষু ইত্যাদি। পানি পরাগী ফুল পাতা শেওলা। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫২.
“গাছের প্রাণ আছে”- কে প্রমাণ করেন?
  1. চার্লস ডারউইন
  2. জগদীশ চন্দ্র বসু
  3. আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
জগদীশ চন্দ্র বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
জগদীশ চন্দ্র বসুর উল্লেখযেযাগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন, এবং ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা।
উদ্ভিদের জীবনচক্র তিনি প্রমাণ করেছিলেন।
তিনি গাছেরও যে প্রাণ আছে এটা আবিষ্কার করেন।
বেতার যন্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসাবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
যদিও বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন মার্কনি, কারণ জগদীশ বসু এটার আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট করেননি।
উৎসঃ বিবিসি।
৫৩.
বোরনের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি?
  1. উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়
  2. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  3. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যাওয়া
  4. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হওয়া
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে। 
- প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়। 
- কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়। 
- তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪.
'কমা' আকৃতির ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Spirillum
  2. Bacillus
  3. Vibrio
  4. Sarcina
সঠিক উত্তর:
Vibrio
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vibrio
ব্যাখ্যা
• ভাইব্রিও (Vibrio) বা কমা (Comma):
- সামান্য বাঁকা বা কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা বলে।
- উদাহরণ:` Vibrio cholerae

অন্যদিকে,
- ব্যাসিলাস (Bacillus) বহুবচনে ব্যাসিলি pl. Bacilli]:
- বেলুনাকার বা দন্ডাকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস বলে।

- স্পাইরিলাম (Spirillum) বহুবচনে স্পাইরিলা, pl. spirillal:
- সর্পিলাকারে কুন্ডলিত বা প্যাঁচানো আকৃতির কোষ বিশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম বলে।

- সারসিনা (Sarcina) :
- এক্ষেত্রে গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া একত্রে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে।
উদাহরণ: Sarcina aurantiaca.

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৫৫.
বর্ণহীন প্লাস্টিডের কাজ কী?
  1. ক) খাদ্য সঞ্চয় করা
  2. খ) খাদ্য পরিবহন করা
  3. গ) খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্য সঞ্চয় করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্য সঞ্চয় করা
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিডগুলোকে বর্ণাধারও বলা হয়।
- সাধারণত প্রাণী কোষে প্লাস্টিড থাকে না।
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রঙ দেখা যায় তার সবই এই প্লাস্টিডের কারণে।
- সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
- অন্যান্য রঙের প্লাস্টিডগুলো উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গকে রঙিন করে আকর্ষণীয় করে তোলে।
- বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৬.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ায় অযৌন জনন ঘটে? 
  1. খণ্ডায়নের মাধ্যমে
  2. দেহ অঙ্গের মাধ্যমে
  3. স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে
  4. কুঁড়ি বা বাড উৎপাদনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
অযৌন জনন: 
- দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। 
- পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে।  
- অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। 
যথা - 
১। দ্বিভাজন প্রক্রিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া ও কয়েক প্রকার এককোষী শৈবালের ক্ষেত্রে মাতৃকোষটি সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। 
- প্রতিটি অপত্য কোষ বৃদ্ধি পেয়ে পুর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। 

২। কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে: 
- এককোষী ছত্রাকের মাতৃকোষ হতে এক বা একাধিক কুঁড়ি বা বাড় উৎপন্ন হয়। 
- কুঁড়িগুলো মাতৃকোষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য কোষে পরিণত হয়। 

৩। অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে: 
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। 
যেমন- শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- কিছু কিছু শৈবালে চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospore) সৃষ্টির মাধমে মাতৃ উদ্ভিদের অনুরূপ উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- Trentepohlia, Oedogonium, Vaucheria, Chaetophora, Ulothrix ইত্যাদি। 

৪। খণ্ডায়নের মাধ্যমে: 
- কিছু কিছু সূত্রাকর শৈবাল স্রোত বা আঘাতজনিত কারণে অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত হয়। 
- পরে প্রতিটি খণ্ড বিভাজনের মাধ্যমে অপত্য উদ্ভিদদেহে পরিণত হয়। 
উদাহরণ- Spirogyra, Oscillatoria ইত্যাদি শৈবাল। 

৫। দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। যথা - 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
ফলগাছ চাষাবাদ বিদ্যাকে কি বলা হয়ে থাকে ?
  1. ক) পমোলজি
  2. খ) ফাইকোলজি
  3. গ) মাইকোলজি
  4. ঘ) পেট্রলজি
সঠিক উত্তর:
ক) পমোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পমোলজি
ব্যাখ্যা
ফলগাছ চাষাবাদ বিদ্যাকে বলা হয়ে থাকে  - পমোলজি। অন্য়দিকে –

শৈবাল সংক্রান্ত বিদ্যা  - ফাইকোলজি
ছত্রাক সংক্রান্ত বিদ্যা- মাইকোলজি
শিলাতত্ত্ব বিদ্যা - পেট্রলজি

SOURCE: জীব বিজ্ঞান ,এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৫৮.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
• ফুল:
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ থাকে। যথা:
১। পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত এটি গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।
- এটি পুষ্প পত্রধারণ করে এবং ফুলকে কান্ডের সাথে আবদ্ধ রাখে।

২। বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে।
- সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩। দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।

৪। পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫। স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা:
- গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
নিচের কোনটির অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়?
  1. ক) আয়রন
  2. খ) বোরন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোরন
ব্যাখ্যা
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- বোরন (B) কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃড়তা দেয়। বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে।


- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃড়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।


- বোরনের অভাবে কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬০.
কোন খনিজ উদ্ভিদের পানি শোষণ ও পত্ররন্ধ্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. আয়রন
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

২। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৩। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

৫। আয়রন: 
- আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। 
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১.
কোন কিংডমের প্রাণীরা মৃতজীবি বা পরজীবি হিসেবে বাস করে?
  1. প্রটিস্টা
  2. ফানজাই
  3. প্লান্টি
  4. অ্যানিমালিয়া
সঠিক উত্তর:
ফানজাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফানজাই
ব্যাখ্যা
সুপার কিংডম ইউক্যারিওটা:
- বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে সুপার কিংডম ইউক্যারিওটা কে আবার চারটি কিংডমে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-

ফানজাই:
- এরা সাধারণত বহুকোষী এবং দেহ মাইসেলিয়া দ্বারা গঠিত।
- এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
- সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণ কণিকা অনুপস্থিত তাই এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। ফলে এরা মৃতজীবি বা পরজীবি হিসেবে বাস করে।
- এদের পরিবহন টিস্যু নেই।
- হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে।
উদাহরণ- মিউকর, পেনিসিলিয়াম, অ্যাগারিকাস ইত্যাদি। 

প্রটিস্টা:
- প্রটিস্টা কিংডমের অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্য প্রকৃতকোষী কিন্তু সত্যিকারের উদ্ভিদ, প্রাণী বা ছত্রাকের কোনোটিই নয়। 
- এদের প্রকৃত নিউক্লিয়াস বিদ্যমান অর্থাৎ নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিয়োলাস বিদ্যমান থাকে ।
- এরা অধিকাংশই জলজ ।
উদাহরণ- বিভিন্ন ধরনের অ্যামিবা, শৈবাল, স্লাইম মোল্ড, ওয়াটার মোল্ড, কাইট্রিডস ইত্যাদি।

প্লান্টি:
- অপর নাম মেটাফাইটা।
- এরা বহুকোষী জীব।
- এদের প্রকৃত নিউক্লিয়াস বিদ্যমান।
- সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে।
- কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
- সকল মস্, ফার্ণ, নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদ এ কিংডমের অন্তর্ভুক্ত।

অ্যানিমালিয়া:
- অপর নাম মেটাজোয়া।
- দেহে ক্লোরোফিল অনুপস্থিত তাই নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না।
যেমন- মানুষ, বাঘ, ইলিশ মাছ, গরু, মহিষ, হাঁস, মুরগী ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে কোনটি?
  1. পটাশিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হয়। 

ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩.
নিচের কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য?
  1. বীজে বীজপত্র একটি থাকে
  2. পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত সমান্তরাল
  3. পুষ্প ট্রাইমেরাস
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• একবীজপত্রী উদ্ভিদ:
- যেসব আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে তাদেরকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ হলো ধান, গম, ভুট্টা, আঁখ, পেঁয়াজ ইত্যাদি।

• একবীজপত্রী উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
- বীজে বীজপত্র একটি থাকে। 
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাবিন্যাস সাধারণত সমান্তরাল।
- পুষ্পে পুষ্পপত্রের সংখ্যা ৩ বা এর গুণিতক (৩টি, ৬টি বা ৯টি) অর্থাৎ পুষ্প ট্রাইমেরাস।
- বীজ পত্রের অবস্থান শীর্ষক এবং ভ্রূণমুকুল পার্শ্বীয়।
- গৌণ বৃদ্ধি ঘটে না।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৬৪.
পানি পরাগী ফুল -
  1. ক) কদম
  2. খ) পাতাশেওলা
  3. গ) কচু
  4. ঘ) শিমুল
সঠিক উত্তর:
খ) পাতাশেওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাতাশেওলা
ব্যাখ্যা
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে৷
যেমনঃ পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়৷ তবে ছোটো হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সাজানো থাকে৷
যেমনঃ কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫.
ফার্ণের দেহ ____ বিভক্ত
  1. ক) মূল
  2. খ) কান্ড
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোতেই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোতেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
ফার্ণের দেহ মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত। যেমনঃ ঢেঁকিশাক।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৬.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়?
  1. মিয়োসিস
  2. অ্যামাইটোসিস
  3. মাইটোসিস
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোসিস
ব্যাখ্যা
• পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
• পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
• এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
• এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৭.
Which plant organelle is responsible for carrying out photosynthesis?
  1. Ribosome
  2. Golgi body
  3. Nucleus
  4. Lysosome
  5. Chloroplast
সঠিক উত্তর:
Chloroplast
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chloroplast
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্ট নামক অঙ্গাণুটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী। এতে ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে যা সূর্যের আলোকে শোষণ করতে পারে। এই শোষিত শক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য ও অক্সিজেন তৈরি করে।

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই - অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)।

• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান:
- ক্লোরোপ্লাস্ট,
- সূর্যালোক,
- পানি,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড।
 
• সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব:
- খাদ্য তৈরি: উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, যা অন্যান্য প্রাণী ও মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে।  
- অক্সিজেন সরবরাহ: সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন নির্গত হয়, যা জীবনের জন্য অপরিহার্য।  
- পরিবেশের ভারসাম্য: কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখে। 

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
- ক্লোরোপ্লাস্ট হল উদ্ভিদ কোষের মধ্যে থাকা এক ধরনের অঙ্গাণু, যেখানে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে।
- ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে থাকা ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ সূর্যালোক শোষণ করে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটিকে সম্পন্ন করে। 

অন্যান্য অপশন:
- Ribosome: রাইবোজোম কোষের প্রোটিন তৈরির প্রধান স্থান হিসেবে কাজ করে এবং এতে সালোকসংশ্লেষণের জন্য কোনো রঞ্জক থাকে না।
- Golgi body: গলগি বডি কোষের বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
- Nucleus: নিউক্লিয়াস কোষের বংশগতির তথ্য ধারণ করে এবং সমস্ত বিপাকীয় কাজ পরিচালনা করে তবে সালোকসংশ্লেষণ সরাসরি সম্পন্ন করে না।
Lysosome: লাইসোজোম কোষের ভেতরে আসা জীবাণু ধ্বংস এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৬৮.
সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের কোন অঙ্গে ঘটে? 
  1.  মাইটোকন্ড্রিয়া 
  2. নিউক্লিয়াস 
  3. প্লাস্টিড 
  4. রাইবোজোম 
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিড 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলোকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবক বলা হয়। 
যেমন- 
বাহ্যিক প্রভাবক: 
- বাহ্যিক প্রভাবকগুলো হলো- আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড, তাপমাত্রা, পানি, অক্সিজেন, খনিজ পদার্থ এবং রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি। 

অভ্যন্তরীণ প্রভাবক: 
- অভ্যন্তরীণ প্রভাবকগুলো হলো- ক্লোরোফিল, পাতার বয়স ও সংখ্যা, শর্করার পরিমাণ, পটাশিয়াম এবং এনজাইম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৯.
সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের কতটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। বায়ুমণ্ডলের CO₂ পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে।


- আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP, NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়।


- সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন: ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক।


- ক্যালভিন চক্র বা C₃ গতিপথ: CO₂ আত্তীকরণের এ গতিপথকে আবিষ্কারকদের নামানুসারে ক্যালভিন-বেনসন ও ব্যাশাম চক্র বা সংক্ষেপে ক্যালভিন চক্র বলা হয়। অধিকাংশ উদ্ভিদে এই প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ 3-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড বলে এই ধরনের উদ্ভিদকে বলে C₃ উদ্ভিদ।


- ক্যালভিন তাঁর এ আবিষ্কারের জন্য ১৯৬১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।


- হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C₄ গতিপথ: অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M.D. Hatch ও C.R. Slack (1996 সালে) CO₂ বিজারণের আর একটি গতিপথ আবিষ্কার করেন। এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো 4-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড, তাই একে C₄ গতিপথ বলে।


- C₄ উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়।


- C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত ভূট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারন্যথাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C₄ পরিচালিত হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
৭০.
নিচের কোনটি আদিকোষে উপস্থিত থাকে?
  1. ক) মাইটোকনড্রিয়া
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
আদি ষকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোন পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না তাই নিউক্লিও বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। এসব কোষে মাইট্রোকন্ডিয়া, প্লাস্টিক, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১.
উদ্ভিদ মূলত কত উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ প্রজননের প্রকারভেদ :
উদ্ভিদ বিভিন্ন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে। তবে উদ্ভিদে প্রজনন প্রধানত দু'প্রকার
যথা-
(ক) যৌন প্রজনন 
(খ) অযৌন প্রজনন

যৌন প্রজনন:
দুটি ভিন্ন প্রকৃতির যথা পুং ও স্ত্রী জনন কোষ বা গ্যামিট পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে যে প্ৰজনন সম্পন্ন করে তাকে যৌন প্রজনন বলা হয়।
এদের একটিকে পুং জনন কোষ (শুক্রাণু) ও অন্যটিকে স্ত্রী জনন কোষ (ডিম্বাণু বলা হয়। এ দু'ধরনের জনন কোষ একই ফুলে বা একই দেহে সৃষ্টি হয়। 

অযৌন জনন (Asexual reproduction) :
দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে। অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। যথা-
১. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
২. কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে 
৩. খন্ডায়নের মাধ্যমে 
৪. অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে _____ ।
  1. ক) অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. গ) অধিক পরিমাণে কার্বন মনো অক্সাইড নির্গত হয়
  4. ঘ) বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
৭৩.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে নিচের কোন গুলো মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে?
  1. ক) কার্বন ও অক্সিজেন আয়ন
  2. খ) হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আয়ন
  3. গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন ও অক্সিজেন বায়ুমন্ডল থেকে গ্রহণ করে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি থেকে গ্রহণ করে। অন্যসব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড?
  1. ক) শালগম
  2. খ) গাজর
  3. গ) আদা
  4. ঘ) মূলা
সঠিক উত্তর:
গ) আদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদা
ব্যাখ্যা
আদা হলো ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড। 
-  শালগম, গাজর, মূলা মূল এর উদাহরণ।
ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড: প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গোজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়।
- এ ধরনের কাণ্ডকে  ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড বলে।
- এরা চার প্রকারের। যথা- টিউবার, রাইজোম, কন্দ ও গুড়িকন্দ।
- আলু, পেঁয়াজ, আদা ভূ-গর্ভস্থ কান্ডের উদাহরণ।
রাইজোম: আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাউ রাইজোম-জাতীয়।
- এরা মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরাল বা খাড়াভাবে অবস্থান করে।
- এদের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
৭৫.
নিষেকের পর ফুলের কোন অংশ ফলে পরিণত হয়?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) ডিম্বক
  3. গ) ডিম্বাণু
  4. ঘ) ইন্টাইন
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গর্ভাশয়
ব্যাখ্যা



সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়-
  1. প্যাথজেনিক
  2. ইনফেকশন
  3. টক্সিন
  4. জীবাণু
সঠিক উত্তর:
প্যাথজেনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাথজেনিক
ব্যাখ্যা
- জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে, এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন। 

Oxford Dictionary অনুসারে, 
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease. 
- ১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। 
এক কথায়, 
- যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক

অন্যদিকে, 
- ইনফেকশন হলো সংক্রমণ। 
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ। 
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।
৭৭.
সালোকসংশ্লেষণের প্রধান উপজাত (by-product) কী? 
  1. পানি
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া: 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সবুজ পাতার ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে শর্করা উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত স্টার্চ (মাড়) হিসেবে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে। 
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন আকারে যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত (by-product) হলো অক্সিজেন, যা পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে প্রাণীর জীবনধারণে সহায়ক হয়। 
• 6CO2 ​+ 6H2​O + আলো → C6​H12​O6 ​+ 6O2

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৮.
উদ্ভিদদেহের শতকরা কত ভাগ পানি ?
  1. ক) ৬০-৭০
  2. খ) ৬০-৯০
  3. গ) ৭০-৮০
  4. ঘ) ৭০-৯০
সঠিক উত্তর:
খ) ৬০-৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬০-৯০
ব্যাখ্যা
সজীব উদ্ভিদদেহ বিশ্লেষণ করলে প্রধান যে উপাদান পাওয়া যায় তা হলো পানি।
 - দেহের প্রায় শতকরা ৬০-৯০ শতাংশ হলো পানি।
- বাকি যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে কঠিন বস্তু বলা হয়।
 - ১৬টি মৌলিক পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাঙ্গানিজ, বোরন, সালফার, কপার ও জিঙ্ক মিলে সৃষ্টি করেছে অসংখ্য জৈব উপাদান। 
- জৈব রাসায়নিক উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, অন্যান্য জৈব অ্যাসিড, বিভিন্ন এনজাইম ইত্যাদি প্রধান।
- অজৈব উপাদানের মধ্যে পানি অন্যতম পদার্থ।

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে 
  4. ঘ) ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।


- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা। 

- প্যারেনকাইমা: উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়,পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়।


- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে।


- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্য দ্রব্য পরিবহন করা


- কোলেনকাইমা: কোলেনকাইমাগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়। কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়। তবে এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। এ টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়। এতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে। কোষপ্রাচীর চৌকোনাকার, সরু বা তির্যক হতে পারে।


- খাদ্য প্রস্তুত এবং উদ্ভিদদেহকে দৃঢতা প্রদান করা কোলেনকাইমার প্রধান কাজ। পাতার শিরা এবং পত্রবৃন্তে এদের দেখা যায়। এ কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন এরা খাদ্য প্রস্তুত করে।


- স্ক্লেরনকাইমা: এ টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়। প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগিনিনযুক্ত এবং যান্ত্রিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুকে স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু বলে।


- প্রাথমিক অবস্থায় কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম উপস্থিত থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে মৃত কোষে পরিণত হয়। উদ্ভিদদেহে দৃঢতা প্রধান এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা এর মূল কাজ।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি


৮০.
ছত্রাক কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. জলজ উদ্ভিদ 
  2. সবুজ উদ্ভিদ 
  3. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. অপুষ্পক উদ্ভিদ 
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক এক ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
ব্যাঙের ছাতা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. শৈবাল
  3. ছত্রাক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ছত্রাক: 
- পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। 
- এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। 
- বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে।
- এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা। 

শৈবাল: 
- আবদ্ধ জলাশয়, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কল পাড়ের স্যাঁতসেতে মাটিতে সবুজ শেওলা জন্মে থাকে। এসব শেওলা জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলা হয়। 
- এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে তাই নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
পরাগায়ন কী? 
  1. পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
  2. গর্ভমুণ্ড থেকে ডিম্বাণুর গঠন
  3. পরাগরেণু থেকে বীজ উৎপন্ন হওয়া
  4. পরাগরেণুর গর্ভাশয়ে পরিণত হওয়া
সঠিক উত্তর:
পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩.
সবুজ উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে?
  1. নাইট্রোজেন চক্র
  2. পরাগায়ন
  3. খাদ্যচক্র
  4. সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
কোষের প্লাজমা মেমব্রেন প্রধানত গঠিত নিচের কোনটি দিয়ে?
  1. কার্বোহাইড্রেট ও লিপিড
  2. সুগার ও ফসফেট
  3. গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিড
  4. লিপিড ও প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
ব্যাখ্যা
প্লাজমা মেমব্রেন বা কোষঝিল্লি: 
- কোষপ্রাচীরের ঠিক নিচে এবং প্রোটোপ্লাজমকে বেষ্টন করে যে সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক ও প্রভেদক ভেদ্য পর্দাটি অবস্থিত তাকে প্লাজমা মেমব্রেন বলা হয়। 
- প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে প্লাজমা মেমব্রেন গঠিত। 
- অধিকাংশ কোষবিজ্ঞানীর মতে লিপিড-এর অণুগুলো দুটি স্তরে সজ্জিত হয়ে প্লাজমা মেমব্রেনের কাঠামো গঠন করে। 
- দ্বিস্তরী লিপিড কাঠামোর মধ্যে প্রোটিন অণুগুলো দ্রবীভূত অবস্থায় অবস্থান করে। 
- প্লাজমা মেমব্রেন একটি গতিশীল অর্ধতরল গঠন এবং এর লিপিড ও প্রোটিন সঞ্চারণে সক্ষম। 
- প্লাজমা মেমব্রেন এর গঠন শৈলী বর্ণনায় সব কোষবিজ্ঞানীই দ্বিস্তরী লিপিড-এর কথা বলেছেন। 
- কিন্তু লিপিড স্তর দুটির বিন্যাস এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মডেল বিবেচনা করা হয়েছে। 
- এর মধ্যে Danielli এবং Davson (1935) এর দ্বিস্তরবিশিষ্ট মডেল, Robertson (1959) এর একক পর্দা হাইপোথেসিস, Hiller ও Hoffman (1953) এর মাইসেলার মডেল, Vanderkoff Green (1970) এর প্রোটিন ক্রিস্টাল মডেল এবং Singer ও Nicholson (1972) এর ফ্লুইড মোজাইক মডেল উল্লেখযোগ্য। 
- প্লাজমা মেমব্রেনের গঠন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Danielli & Davson (1943) সর্বপ্রথম একটি সুনির্দিষ্ট মডেল প্রস্তাব করেন। তাঁদের মতে মেমব্রেনটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট এবং প্রতি স্তরে প্রোটিন (monomolecular) এবং লিপিড (bimolecular) স্তর আছে। দ্বিস্তর বিশিষ্ট মেমব্রেনের উপর ও নিচে প্রোটিন স্তর এবং মাঝখানে লিপিড স্তর অবস্থিত। - এটি Sandwitch মডেল নামে পরিচিতি। এ মডেলটি সর্বজনীন মডেল হিসাবে গ্রাহ্য হচ্ছেনা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান (গাজী আজমল)।
৮৫.
খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে—
  1. ক) O2
  2. খ) H2
  3. গ) CO2
  4. ঘ) H2O
সঠিক উত্তর:
গ) CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) CO2
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে CO2.
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
৮৬.
পানিতে সালোকসংশ্লেষণের হার কত শতাংশ?
  1. ক) ০.০৩
  2. খ) ০.০০৩
  3. গ) ০.৩
  4. ঘ) ০.০০৩৩%
সঠিক উত্তর:
গ) ০.৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ০.৩
ব্যাখ্যা

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে।
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭.
সালোকসংশ্লেষণের এর মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে কোষের কোন অঙ্গাণু?
  1. ক) সাইটোপ্লাজম
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) গলজি বস্তু
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ। ক্লোরোফিল অনুর উপাদান ম্যাগনেসিয়াম।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮.
নিচের কোনটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ?
  1. ক) ক্লোরেলা
  2. খ) ধান
  3. গ) পাইনাস
  4. ঘ) ফার্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাইনাস
ব্যাখ্যা

সাইকাস, পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলাে নগ্ন থাকে।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বাের্ড বই

৮৯.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য হচ্ছে-
  1. অবীজী উদ্ভিদ
  2. দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  3. প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• টেরিডোফাইটা:
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি।

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য:

- এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক।
- এরা অবীজী উদ্ভিদ।
- দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত।
- এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে।
- গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে।
- ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
- অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়।
- এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
জলজ উদ্ভিদের পানিতে ভাসার জন্য কোন বিশেষ অঙ্গ সাহায্য করে?
  1.  নিউক্লিয়াস
  2. বায়ু কুঠুরী
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. রাইবোসোম
সঠিক উত্তর:
বায়ু কুঠুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু কুঠুরী
ব্যাখ্যা

- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড এবং পাতায় বিশেষ ধরনের টিস্যু থাকে, যা পাতলা প্রাচীরযুক্ত কোষ এবং বৃহৎ আন্তঃকোষীয় স্থান বা বায়ুকুঠুরী দ্বারা গঠিত হয়। এই বায়ুকুঠুরী উদ্ভিদকে প্লবতা প্রদান করে, যা তাদের সহজেই পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। 

জলজ উদ্ভিদ: 
- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, ওড়িপানা, সিংগারা, টোপাপানা, শাপলা, পদ্ম, শ্যাওলা, হাইড্রিলা, কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম ইত্যাদি নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। এদের বেশির ভাগই পানিতে জন্মে এবং কিছু কিছু আছে (যেমন- কলমি, হেলেঞ্চা, কেশরদাম) যারা পানিতে আর মাটিতে দু'জায়গাতেই জন্মে। 
অর্থাৎ, পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতই না, কিছু কিছু হয়তো জন্মাত কিন্তু বাঁচতে পারত না কিংবা বেঁচে থাকলেও বেড়ে উঠতে পারত না। 
- তখন পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটত, কারণ এই জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে এদের অনেকগুলো বিশেষ করে শ্যাওলাজাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
- জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড আর অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়, যেটা পানির স্রোত আর জলজ প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে মানানসই। পানি ছাড়া শুকনো মাটিতে এদের জন্ম হলে এরা ভেঙে পড়ত এবং বেড়ে উঠতে পারত না, এমনকি বাঁচতেও পারত না। 
- জলজ উদ্ভিদগুলো সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে, পানি না থাকলে এই বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতো। 
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। 
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা। এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে। এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১.
অপুষ্পক উদ্ভিদ নিচের কোনটি?
  1. ফার্ণ
  2. ধান
  3. আম
  4. নারিকেল
সঠিক উত্তর:
ফার্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফার্ণ
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদজগৎ: 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
- এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। 
- উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ, 
২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ এবং 
৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদে ফুলের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে উদ্ভিদকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার নগ্নবীজী এবং আবৃতবীজী এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 
- আর আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯২.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজের সাথে কত অণু অক্সিজেন উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ২অণু
  2. খ) ৪অণু
  3. গ) ৬অণু
  4. ঘ) ৮অণু
সঠিক উত্তর:
গ) ৬অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬অণু
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:
যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকশক্তি ব্যবহার করে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমন্বয়ে শর্করা (গ্লুকোজ) উৎপন্ন করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

আলো ও ক্লোরোফিল প্রভাবকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়া -
6CO+ 12H2O → C6H12O6 + 6H2O + 6O2
বা, ৬ অণু কার্বনডাই অক্সাইড + ১২ অণু পানি → ১ অণু গ্লুকোজ + ৬ অণু পানি + ৬ অণু অক্সিজেন।

অর্থাৎ, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজের সাথে ৬ অণু অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩.
বাংলাদেশে দীর্ঘতম গাছের নাম কি?
  1. বৈলাম
  2. অর্জুন
  3. মেহগনি
  4. ইউক্যালিপটাস
সঠিক উত্তর:
বৈলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈলাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বা উঁচু গাছের নাম বৈলাম। 
- এই বৃক্ষ ২৪০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। 
- বর্তমানে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার ডুলাহাজাড়ায় বৈলাম বৃক্ষ দেখা যায়। 
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির গহীন অরণ্যে পাওয়া যায়। 
- বৃক্ষটি বর্তমানে বিপন্নের পথে। 

উৎস: দৈনিক সমকাল পত্রিকা।
৯৪.
উদ্ভিদের মূখ্য পুষ্টি উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৩টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মুখ্য উপাদান বলা হয়। উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি এবং মাইক্রো উপাদান ৬ টি। 

উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়, এর মধ্যে ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ :
অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 

ম্যাক্রো উপাদান:

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

মাইক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫.
একবীজপত্রী উদ্ভিদে কোন ধরণের মূল দেখা যায়?
  1. ট্যাপরুট
  2. গুচ্ছ মূল
  3. পরাশ্রয়ী মূল
  4. অস্থানিক মূল
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছ মূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছ মূল
ব্যাখ্যা
• একবীজপত্রী উদ্ভিদে গুচ্ছ প্রকৃতির মূল দেখা যায়। 

• একবীজপত্রী উদ্ভিদ:

- একবীজপত্রী উদ্ভিদ হলো সেই সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ যাদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে।

• একবীজপত্রী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:  
- এদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে।
- এদের মূল সাধারণত গুচ্ছ প্রকৃতির হয়।
- পাতার শিরাগুলো সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- কাণ্ডের ভাস্কুলার বান্ডেল বিক্ষিপ্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
- এদের ফুলের পাপড়ি সাধারণত তিন বা ছয়টির গুণিতক হয়।
- উদাহরণ: ধান, গম, ভুট্টা, কলা, নারকেল, ঘাস ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৯৬.
নিচের কোনটি প্রকৃত ফল?
  1. ক) আপেল
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) চালতা
  4. ঘ) ডুমুর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁঠাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
"বীটজবা" কোন ফসলের উন্নত জাত?
  1. ক) টমেটো
  2. খ) কলা
  3. গ) গম
  4. ঘ) তুলা
সঠিক উত্তর:
খ) কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কলা
ব্যাখ্যা
টমেটোর উন্নত জাতগুলো হলো: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা, শ্রাবণী ইত্যাদি।
কলার উন্নত জাতগুলো হলো: মোহনবাশী, কানাইভোগ, অগ্নিশ্বর, বীটজবা ইত্যাদি।
গমের উন্নত জাতগুলো হলো: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী ইত্যাদি।
তুলার উন্নত জাতগুলো হলো: রুপালী, ডেলফোজ ইত্যাদি।

 সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৮.
নিচের কোনটি যৌগিক ফলের উদাহরণ? 
  1. আতা
  2. চম্পা
  3. আনারস
  4. কলা
সঠিক উত্তর:
আনারস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনারস
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 

- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল।  
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। 
যেমন- আম, এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: 
- যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। 
- এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: 
- যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৯.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে
  2. রুটি শিল্পে
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
  4. এককোষীয় প্রোটিন ভাঙতে
সঠিক উত্তর:
সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইট্রিক এসিড উৎপাদনে
ব্যাখ্যা
ইস্ট: 
- ইস্ট একটি ছত্রাকজাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- এটি বিভিন্ন শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয় ইথানল উৎপাদন ও খাদ্য ফোলাতে। 
- এটি চিনি থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে। 
- এককোষী প্রোটিন (SCP) তৈরিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়, যা প্রাণীদেহের জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। 
- ইস্টে বিভিন্ন ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বিদ্যমান থাকায়, এটি স্বাস্থ্যসম্পূরক ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- খাদ্যোপযোগী এককোষী প্রোটিন উৎপাদনে এটি একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- তবে সাইট্রিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের কোনো ভূমিকা নেই। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০০.
পটাশিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি? 
  1. পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হওয়া 
  2. পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া
  3. পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হওয়া 
  4. উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হওয়া 
সঠিক উত্তর:
পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা বেগুনি বর্ণের হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।