উত্তর
ব্যাখ্যা
[সুত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং dinajpur.gov.bd]
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭ / ১৮ · ৬০১–৭০০ / ১,৭৮৪
• বর্তমান বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে সর্বাধিক তুলা আমদানি করে।
• শীর্ষ তুলা সরবরাহকারী দেশ:
- বিশ্বের শীর্ষ তুলা আমদানিকারক এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশে তুলা সরবরাহে প্রতিবেশী ভারতকে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল।
- মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বাংলাদেশ ৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন বেল কাঁচা তুলা আমদানি করেছে।
- এর মধ্যে ব্রাজিল প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন বেল তুলা সরবরাহ করেছে, যা মোট আমদানির ২৩ শতাংশ।
- ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন বেল নিয়ে সরবরাহকারী দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত।
- এরপর যথাক্রমে বেনিন, ক্যামেরুন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা।
ইলিশ উৎপাদনে,
- বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম,
- ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়,
- মিয়ানমার বিশ্বে তৃতীয়।
- বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের মধ্যে ইলিশের পরিমাণ- ১২%।
- মোট দেশজ উৎপাদনে ইলিশের অবদান- ১%।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬% (World Fish- এর তথ্যানুসারে)
- বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৫% (FAO এর The State of World Fisheries and Aquaculture 2020 এর তথ্যানুসারে)।
জাহাজ শিল্প:
- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রগামী জাহাজ ‘এমভি আনসু’ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি হয়েছে।
- জাহাজটি কিনেছেন জার্মান কোম্পানি এইচএস সিফার্টস জিএমবিএইচ অ্যান্ড কোং কেজিএমএস।নারায়নগঞ্জের মেঘনাঘাটে আনন্দ শিপইয়ার্ডে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনসুর ক্যাপ্টেন পিয়োট বুজনাস্কিকে জাহাজটি বুঝিয়ে দেন আনন্দ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা বারী।
- আনসু ৫৫০০ ডিডব্লিউটিএ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মাল্টি পারপাস মালবাহী জাহাজ।
- জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪২ ফুট, প্রস্থ ৫০ ফুট, গভীরতা ২৪ দশমিক ২৭ ফুট, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ২৭৫০ হর্সপাওয়ার এবং ঘন্টায় গতিবেগ ১২ নটিক্যাল মাইল।
- গত ২০০৮ সালে ডেনমার্কে অত্যাধুনিক কন্টেইনার জাহাজ ‘স্টেলা মারিস’ রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য জাহাজ রপ্তানির স্বর্ণদ্বার উন্মোচন করে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শিপওয়েজ লিমিটেড।
- আনন্দ শিপইয়ার্ড এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৩৬৫টি জলযান নির্মাণ করেছে।
- এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিতি পায়।
তথ্যসূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
আমদানি পরিস্থিতি:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬৮,৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- এটি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি।
⇒ সার্বিক আমদানি পরিস্থিতি (সাময়িক):
ক) প্রধান প্রাথমিক পণ্য
১. তুলা: ৩,৪৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. গম: ১,৬২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. তৈলবীজ: ১,০৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম: ৬২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. চাল: ৬৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
খ) প্রধান শিল্পজাত পণ্যসমূহ
১. পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী: ৪,৫১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. সার: ২,৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩. সুতা: ৩,৬১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. ভোজ্যতৈল: ২,৭১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৫. স্টেপল ফাইবার: ১,৫৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৬. ক্লিংকার: ৮৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
⇒ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- একক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।
- শিল্পজাত পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী।
- প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়: তুলা।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।
ঔষধ পার্ক:
- দেশের প্রথম ঔষধ পার্ক মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এখানকার কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ দিয়েই দেশের বাজারে চাহিদা পূর্ণ করে রপ্তানিও করে ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।
- এটিই দেশের প্রথম ওষুধ শিল্প পার্ক।
- প্রকল্পটির আয়তন ২০০ একর।
- ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে ২০০৮ সালে সরকার এই শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
- পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় এপিআই শিল্প পার্কটির।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ এপ্রিল, ২০১৮।
২০১৯ সাল -এর হিসাব
চা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে।
চায়ের মোট উৎপাদন - ৯৬.০৭ মিলিয়ন কেজি
এবং চা রপ্তানি - ০.৬০ মিলিয়ন কেজি
রপ্তানি মূল্য - ১৯৪.২৬ মিলিয়ন টাকা
সূত্রঃ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।
- গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ১০ শতাংশ রয়েছে।
- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধনের একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
- এ সংশোধনের লক্ষ্য নোবেল বিজয়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।
- সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যাংকের বোর্ডে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানোর কথাও বলা হয়েছে।
- এ সংশোধনীর ফলে সরকারের হাতে চেয়ারম্যানসহ তিনজন পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র একজনে নেমে আসবে।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের খসড়া করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের সুবিধাভোগীদের শেয়ার মালিকানা বর্তমানের ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে।
গ্রামীণ ব্যাংক:
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাংক।
গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালের প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকল্প শুরু করেন।
- গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার 'জোবরা' গ্রামে একটি অ্যাকশন গবেষণা পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল।
- ১৯৮৩ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পটি একটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
- ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর ব্যাংক হিসেবে চালু হয়।
- ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের নীচ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসায় ও ড. মুহাম্মদ ইউনুস
২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
উৎস: ¡)গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
¡¡)বিবিসি বাংলা।[লিংক]।
- বাংলাদেশের শীর্ষ তুলা সরবরাহকারী দেশ ব্রাজিল।
- ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে বাংলাদেশ মোট ৮.২৮ মিলিয়ন বেল তুলা আমদানি করেছে
- যা আগের বছরের তুলনায় ৫.২% বেশি।
- এর মধ্যে ব্রাজিল সরবরাহ করেছে ১.৯ মিলিয়ন বেল বা প্রায় ২৫% বাজার অংশীদারিত্ব।
অন্যদিকে,
- ভারত সরবরাহ করেছে ১.৪ মিলিয়ন বেল (১৫%)।
- ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে বাংলাদেশের কাঁচা তুলা আমদানি আরও ১.৪% বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।
উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা পত্রিকা নিউজ। [লিঙ্ক]
• ওষুধ পার্ক:
- বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প পার্ক (API Industrial Park) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে স্থাপিত।
- ২০০৮ সালে সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়, ওষুধশিল্পের পার্ক স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
-পার্কটির মূল উদ্দেশ্য হলো-
• দেশীয় ওষুধ কোম্পানির ব্যবসা প্রসার,
• পণ্য বৈচিত্র্য সৃষ্টি,
• এবং মান উন্নয়নের জন্য গবেষণা।
-পার্কটি দেশের ওষুধের কাঁচামাল আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- এছাড়া, এর উদ্দেশ্য হলো ওষুধের রপ্তানি বাড়ানো।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ প্রথমবার ওষুধ রপ্তানি শুরু করে ১৯৯২ সালে।
- তখন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পেনিসিলিনের কাঁচামাল ইরান, হংকং, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠাত।
- পরের বছর তারা প্যারাসিটামল ও অন্যান্য ১৮ ধরনের ওষুধ রাশিয়ায় রপ্তানি করে;
- এটি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক ছিল।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ১৪৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।
- বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে বেশি ওষুধ রপ্তানি করে- মিয়ানমারে।
- শ্রীলংকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চপরিমানে রপ্তানি করে।
উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. The Daily Star Bangla;
৩. প্রথম আলো।
• কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র: এটি সিলেট জেলায় অবস্থিত; বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি ১৯৬২ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এর মোট অনুমিত মজুত ৩.৬৫ টিসিএফ যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২.৫২ টিসিএফ গ্যাস। কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কনডেনসেটও উৎপাদিত হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সাল থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
• হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি ১৯৬৩ সালে আবিষ্কৃত দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১১ কিমি দীর্ঘ এবং ৪.৫ কিমি প্রশস্ত। প্রায় ৩০ শতাংশ সচ্ছিদ্রতাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র একটি উন্নতমানের গ্যাসাধার হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম একটি গ্যাস উৎপাদনক্ষেত্র। আজ পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্রে ১০টি কূপ খনন করা হয়েছে।
• বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র: এটি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬৯ সালে শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। ১৯৮৪ সালে এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৯৩ সালে এর উৎপাদন সর্বোচ্চে পৌঁছে (দৈনিক ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস)। তখন থেকে এই গ্যাসক্ষেত্রের চাপ ও উৎপাদনে দ্রুত পতন ঘটে। ২০০০ সালের শেষদিকে এখান থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রটি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাবে।
• সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র: এটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় তেল কোম্পানি ও.জি.ডি.সি এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। খননকৃত ৪টি কূপের মধ্যে ৩নং ও ৪নং কূপে কোন গ্যাস পাওয়া যায় নি। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে কোন গ্যাস উত্তোলিত হয় নি।
• কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র: এটি চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৯২ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি ১৯৭৬ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। যদিও গ্যাসক্ষেত্রটি ছোট আকৃতির, তবুও এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় নি।
• বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র: এটি নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। পেট্রোবাংলা ১৯৭৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি একটি ছোট আকৃতির গ্যাসক্ষেত্র এবং এর উন্নয়নে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এখানে খননকৃত দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে একটি শুষ্ক পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
রপ্তানী বাজার:
- বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, সদ্য বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
- মোট পণ্য রপ্তানির ১৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- উল্লেখ্য, এই বাজারে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ৮৭শতাংশই তৈরি পোশাক।
- তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]
আনন্দ শিপইয়ার্ড:
- আনন্দ শিপইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম শিপইয়ার্ড।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
- এটি ১৯৯৯ সালে এটি বেসরকারি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৯ সালে সরকারিভাবে যাত্রা শুরু করে।
- উৎপাদন সুবিধা এবং ক্ষমতা: এর উৎপাদন এলাকা ৮০,০০০ বর্গমিটার।
- এই শিপইয়ার্ডটি বছরে ৩০,০০০ টন ইস্পাত ব্যবহার করে জাহাজ উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে।
⇒ বাংলাদেশ থেকে প্রথম জাহাজ রপ্তানি করে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ।
- ২০০৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কে জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে এই অভিযাত্রা শুরু হয়।
- প্রথম রপ্তানি হওয়া জাহাজটির নাম ছিল এমভি স্টেলা ম্যারিস।
- কনটেইনার পরিবহনের উপযোগী করে তৈরি জাহাজটির রপ্তানিমূল্য ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
- জাহাজ রপ্তানির দুই বছর আগে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোজাম্বিকে ফেরি রপ্তানি করেছিল।
উৎস: i) আনন্দ শিপইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
- সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরী অবস্থিত।
- পুরাতন ঢাকার হাজারীবাগে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা ট্যানারি সমূহকে সাভারে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে সরকার এই শিল্পনগরী প্রকল্পের অনুমোদন দেয় যা ২০০৫ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা।
- তবে এর মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
- মোট ২০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীতে ২০৫ টি প্লট রয়েছে।
উৎসঃ শিল্প মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
Least Developed Countries (LDC):
- Least Developed Countries বা স্বল্পোন্নত দেশ বলতে সেসব দেশ বুঝায় যেগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক উন্নয়ন অপর্যাপ্ত।
- বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে, এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশের ৮টি দেশ হয়েছে।
- সর্বশেষ সাও টোমে ও প্রিন্সিপ ২০২৪ সালে LDC থেকে উর্ত্তীণ হয়েছে।
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এ পর্যন্ত মোট ৮টি দেশ LDC তালিকা থেকে উত্তরণ করতে সমর্থ হয়েছে।
- বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো LDC তালিকা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে।
- অর্জিত লক্ষ্যসমূহ ২০২১ সাল পর্যন্ত অক্ষুন্ন থাকায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে LDC তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে।
- ২০২৬ সালে LDC-ভুক্ত দেশের তালিকা থেকে উর্ত্তীণ হবে বাংলাদেশ, নেপাল, লাওস।
উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড):
- দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা সন্দ্বীপ চ্যানেলের পাশে প্রায় ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল
⇒ 'জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল' ৩টি ইকোনমিক জোন নিয়ে গঠিত। এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত।
- এই শিল্পনগরের আয়তন ৩৩ হাজার ৮০৫ একর।
- এর ৪১ শতাংশ বা ১৪ হাজার একরে শুধু শিল্পকারখানা হবে, বাকি ৫৯ শতাংশ এলাকার মধ্যে আছে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর–সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র।
- ২০১৬ সালে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল নামে এই শিল্পনগরের উদ্বোধন করা হয়।
উৎস: i) বেপজা ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র,
- এটি ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়।
- কেন্দ্রটি কয়লা ভিত্তিক এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে সংগৃহীত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
উল্লেখ্য,
- এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)।
সূত্র: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• চামড়া শিল্পনগরী:
- পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত চামড়া শিল্পনগরী সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত।
- ঢাকার চামড়া শিল্পনগরীকে পরিবেশবান্ধব করার উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও, বাস্তবে এটি এখনও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
- সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়ায়, বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশ দূষণের একটি বড় কারণ।
উল্লেখ্য,
- উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিসিকের গড়িমসি ও অদক্ষতার অভিযোগ করে আসছেন।
- এসব কারণে সরকার শিল্পনগরীটি বিসিকের কাছ থেকে নিয়ে বেপজার হাতে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছে—যাতে সমন্বয়হীনতা কমে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং রপ্তানিযোগ্য প্রতিযোগিতা বাড়ে।
উৎস: প্রথম আলো।
খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান:
• বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সেক্টরগুলোর মধ্যে -
• কৃষি খাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৪৫.০০%। (সেপ্টেম্বর-২০২৫)
• শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ।
- শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ১৭.০০%।
• সেবা খাতের অবদান ৫১.০৪ শতাংশ।
সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ: ৩৮.০০%।
• কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত কৃষিখাত এবং ছোট খাত শিল্পখাত।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
♦ দেশ ভিত্তিক রপ্তানি:
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হার ১৮.০০%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জার্মানি।
- জার্মানিতে রপ্তানি হার ১০.৯৬%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য।
- যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হার ৯.৫৭%
♦ রপ্তানি আয়:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শীর্ষ রপ্তানি খাত নীটওয়্যার।
- এর মধ্যে নীটওয়্যার: ৪৩.৮১% বা ২১,১৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক: ৩৭.৬৫%।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়: পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে (১.৫৮%)।
- পাটজাত পণ্য থেকে আয় আসে ৭৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
♦ উল্লেখ্য,
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে: 'কৃষিজাত পণ্য' (১.৭৯%)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছে: হিমায়িত খাদ্য' (০.৯২%)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছে: কাচাপাট (০.৩১%)।
● এশিয়া:
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে জাপানে।
- জাপানে রপ্তানি হার ২.৯২%।
উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।
বাংলাদেশে প্রথম লোহার খনি
- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে।
- উপজেলার ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এ খনির সন্ধান পেয়েছে।
- জিএসবি জানিয়েছে, খনিটিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক (ম্যাগনেটাইট) রয়েছে।
- লোহার পাশাপাশি খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান জিএসবি কর্মকর্তারা।
- ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে।
- খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার।
- খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছে।
তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
বাংলাদেশের প্রথম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল শিল্প খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক।
- বর্তমানে মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এই খাতটি থেকেই আসে।
- বাংলাদেশের প্রথম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান 'রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড'।
- ১৯৭৮ সালের ২৮ জুলাই রিয়াজউদ্দিন ফরাসি ক্রেতা হল্যান্ডার ফ্রঁসের কাছে দশ হাজার শার্ট রপ্তানি করেন।
- স্বাধীনতার পর রিয়াজউদ্দিন ব্যবসা শুরু করেন, ১৯৭৩ সালে তিনি এর নাম দেন রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম তৈরি পোশাক কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
- ২৮ জুলাই, ১৯৭৮ সালে রিয়াজউদ্দিন ১০ হাজার রিয়াজ শার্ট ফরাসি ক্রেতা হলান্ডার ফ্রঁসের কাছে রপ্তানী করলেন।
- শার্টের ওই চালানের ফরাসী মুদ্রায় দাম ছিল ১৩ মিলিয়ন ফ্রা, বাংলাদেশী টাকায় যা ছিল ৪ লাখ ২৭হাজার টাকা।
- সেটিই ছিল বাংলাদেশ থেকে প্রথম পোশাক রপ্তানি।
- ১৯৯৮ সালে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে তৈরি হয় পাঁচ হাজার শার্ট তৈরির ক্ষমতাসম্পন্ন রিয়াজ এক্সপোর্ট অ্যাপারেল।
তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
• TCB:
- TCB-এর পূর্ণরূপ: Trading Corporation of Bangladesh.
- ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) 'বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের' অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
⇒ ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ৬৮নং আদেশের মাধ্যমে টিসিবি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠার পর এদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছে টিসিবি।
- টিসিবি’র মাধ্যমেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যাদি থেকে শিল্পের কাঁচামাল পর্যন্ত আমদানি এবং পাট, তৈরী পোশাক প্রভৃতি রপ্তানির মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা হয়।
- উদ্দেশ্য কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।
- বর্তমানে তৈরী পোশাক রপ্তানি অর্থনীতিতে যে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে তারও পথিকৃৎ টিসিবি।
তথ্যসূত্র: ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা/কর্পোরেশনঃ ৪টি
১. বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)
২. বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)
৩. বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)
৪. বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরঃ ৬টি
১. বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)
২. বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)
৩. বাংলাদেশ শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)
৪. ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)
৫. পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর
৬. প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বোর্ডঃ ১টি
- বাংলাদেশ এ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড
উৎসঃ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র।
- ১৯৫৫ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো।
- ১৯৫৭ সালে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
- এ পর্যন্ত এখানে সর্বমোট ৭টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সনে এই তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশ তেলযুগে পদার্পন করে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা।
- বিইডা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। সুতরাং সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।
• ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট–২০২৫’:
- আয়োজক- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)
- অনুষ্ঠানের তারিখ: ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ২০২৫।
- উদ্বোধন করেন- প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- অংশগ্রহণকারী দেশ-৫০টি
- অংশগ্রহণকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান-২০০০+
- সম্মেলনে পুরস্কার পাওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠান- বিকাশ, ফেব্রিক লাগবে, ওয়ালটন ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- সম্মেলনে 'সম্মানসূচক নাগরিকত্ব' প্রদান করা হয়- কিহাক সাং-কে।
- কিহাক সাং চেয়ারম্যান- কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন।
উল্লেখ্য,
- স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু- ৯ এপ্রিল ২০২৫।
- এ সম্মেলনে প্রথম ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে- স্টারলিঙ্ক।
- স্টারলিঙ্ককে বাংলাদেশে অনুমোদন দেয়া হয়- ২৯ মার্চ ২০২৫
- বিনিয়োগ সম্মেলনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ চুক্তি করে-হানডা কোম্পানি, চীন (১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
উৎস: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
• বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের একটি প্রধান রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এটি ১৮৬২ সালে দর্শনা-জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে শুরু হয়।
- এটি ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ট্র্যাক পরিচালনার মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংযোগ স্থাপন করেছে।
- বাংলাদেশ রেলওয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি মালিকানায় পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট রুটের দৈর্ঘ্য ২৯৫৫.৫৩ কিমি।
- ১৯৮২ সালে রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব রেলওয়ে ডিভিশনের অধীনে ন্যস্ত হয়।
- দেশের কিছু জেলায় এখনও রেলপথ নেই, যেমন কক্সবাজার, বরিশাল, সাতক্ষীরা, বান্দরবান ইত্যাদি।
- বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন পদ্মা রেল সেতু নির্মাণ এবং ডাবল লাইন তৈরি করার মাধ্যমে রেলযাত্রাকে দ্রুত ও বেশি সক্ষম করে তুলেছে।
- এছাড়াও, রেলসেবা অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাত্রীদের জন্য টিকেট ক্রয় এবং অন্যান্য পরিষেবা আরও সহজ ও সুবিধাজনক করা হয়েছে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন [ লিঙ্ক]।
জাহাজ নির্মাণ শিল্প:
- জাহাজ নির্মাণ শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্পখাত।
- বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাণ কারখানা খুলনায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের ২০০শ'র মতো জাহাজ নির্মাণ কোম্পানি রয়েছে যেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
- বর্তমানে দেশে নৌপথে ছোট-বড় ১২৫০০ অধিক সংখ্যক জলযান মালামাল ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
- এই সকল নৌযান তৈরিতে ২০টি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও ১০০টি স্থানীয় মানের শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিপইয়ার্ডগুলো বছরে গড়ে ১০০টি জাহাজ নির্মাণে সক্ষম।
- দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০০০০ DWT ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ হচ্ছে।
- বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরের একটি দীর্ঘ উপকূলীয় সীমারেখা ছাড়াও প্রায় ৭০০টি ছোট-বড় নদী রয়েছে।
- দেশের তিন-চতুর্থাংশ মালামাল নৌপথে পরিবহন হয়।
- ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানি শুরু করে।
- বিগত কয়েক বছরে দেশের শিপইয়ার্ডগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ৪০টি জাহাজ রপ্তানি করে ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয়ের মাধ্যমে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়নে অবদান রেখেছে।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
• Bangladesh Fertilizers & Agro Chemicals Ltd.:
- বাংলাদেশ ফার্টিলাইজারস অ্যান্ড এগ্রো কেমিক্যালস লিমিটেড হলো বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড এগ্রো কেমিক্যালস লিমিটেড (BFACL) প্রতিষ্ঠিত হয় ১ জুলাই ১৯৭৬ সালে।
- এটি গঠিত হয় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) তৈরির সময়, যখন দেশের বিভিন্ন সার কারখানাকে একত্র করা হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো:
• ইউরিয়া সারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ও কৃষি-রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন ও বিতরণ করা;
• যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি বিসিআইসির অধীনে একাধিক কারখানার দায়িত্ব পালন করে, যেমন :
• ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
• চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
উৎস: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন।
• বাংলাদেশে বর্তমানে ৫টি অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক রয়েছে:
- আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক,
- কর্মসংস্থান ব্যাংক,
- গ্রামীণ ব্যাংক,
- জুবিলি ব্যাংক,
- পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানা হলো ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
- এটি নরসিংদীতে অবস্থিত।
- ইউরিয়া ফার্টিলাইজরা ফ্যাক্টরি লিঃ এবং পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিঃ কারখানা ২টির স্থানে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে বার্ষিক ৯,২৪,০০০ (নয় লক্ষ চব্বিশ হাজার) মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা ও জ্বালানি সাশ্রয়ী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং উচ্চতর ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে “ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প” শীর্ষক প্রকল্পটি ১২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রি. তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক উদ্ধোধন করা হয়।
- ঘোড়াশাল সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
• বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
- বাংলাদেশে মোট ৩৫টি জেলায় রাষ্ট্রীয় বনভূমি রয়েছে।
- এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে।
- আর লালমনিরহাটে সবচেয়ে কম।
- অন্য জেলায় বনভূমির পরিমাণ মধ্যম বা তুলনামূলকভাবে কম বেশি।
উল্লেখ্য,
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এসব গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়না।
- ফলে বনগুলো সারা বছর সবুজ থাকে।
• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল সমৃদ্ধ।
উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি;
৩. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার:
- বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেড (ইআরএল)।
- চট্টগ্রাম শহরের প্রান্তে কর্ণফুলি নদীর তীরে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারী ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৮ সাল থেকে পরিশোধন কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই পরিশোধনাগারে জ্বালানি তেল শোধনের সক্ষমতা বছরে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টন।
- তবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সক্ষমতার চেয়ে ৩৫ হাজার টন বেশি তেল শোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
- সম্প্রতি, ইআরএলের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ নামে একটি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক।
তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা প্রতিবেদন।
• জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ অনুসারে বাংলাদেশে শিল্পোন্নত জেলা ১৪টি।
• এগুলো হলোঃ
- ঢাকা,
- গাজীপুর,
- নারায়ণগঞ্জ,
- নরসিংদী,
- টাঙ্গাইল,
- বগুড়া,
- চট্টগ্রাম,
- কক্সবাজার,
- নোয়াখালী,
- চাঁদপুর,
- কুমিল্লা,
- ফেনী,
- লক্ষীপুর ও
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
উৎসঃ জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬।