বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৭৬ / ৭৭ · ৭,৫০১৭,৬০০ / ৭,৬৪৬

৭,৫০১.
"বাংলাদেশ কথা কয়" কোন লেখকের সম্পাদিত গ্রন্থ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবুল ফজল
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা গ্রন্থ:
- "বাংলাদেশ কথা কয়" বইটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত একটি গ্রন্থ, এটি তার নিজের লেখা কোনো বই নয়।

- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।

- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫০২.
'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি লিখেছেন -
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড
  3. গ) মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড
ব্যাখ্যা
নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড (১৭৫১-১৮৩০)-
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড৷ তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৫০৩.
ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সিরাজাম মুনীরা
  2. খ) নৌফেল ও হাতেম
  3. গ) সাত সাগরের মাঝি
  4. ঘ) হাবেদা মরুর কাহিনী
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫০৪.
মহাকবি কায়কোবাদ সম্পর্কে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি
  2. খ) বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা
  3. গ) অশ্রুমালা তার রচিত গীতিকাব্য
  4. ঘ) আযান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আযান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আযান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আযান কায়কোবাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা। তিনি বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি, বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৫০৫.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. সংকর সংকীর্তন
  2. দেয়াল
  3. পরিত্যক্ত স্বামী
  4. দৃষ্টিকোণ
সঠিক উত্তর:
সংকর সংকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

-----------------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

অন্যদিকে,
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত গ্রন্থ- দৃষ্টিকোণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫০৬.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. মোঃ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) আব্দুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
- 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
-------------- 
- আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না  ও
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা 
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫০৭.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুধিন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. আহসান হাবীব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

--------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা আহসান হাবীবের কবিতার মুখ্য বিষয়।
- সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), একুশে পদক (১৯৭৮) লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো- অরণ্য নীলিমা ও রাণীখালের সাঁকো।

• এছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫০৮.
‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শহীদ কাদরী
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ:
- ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ শহীদ কাদরী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ কাব্য গ্রন্থটি তাদের একমাত্র ছেলে আদনান কাদরীকে উৎসর্গ করেছিলেন কবি শহীদ কাদরী। 

উল্লেখ্য,
• ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ গ্রন্থটি শহীদ কাদরী তাঁর স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছিলেন।

--------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ),
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ।
৭,৫০৯.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পেক্ষাপট রয়েছে আনোয়ার পাশা রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নিরুপায় হরিণী
  2. নদী নিঃশেষিত হলে
  3. নিষুতি রাতের গাথা
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
নিষুতি রাতের গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
• 'নিষুতি রাতের গাথা' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস 'নিষুতি রাতের গাথা' প্রকাশ পায় ১৯৬৮ সালে।
- এই বইটি 'নীড়-সন্ধানী'-র পরিপূরক খণ্ড।
- 'নীড়-সন্ধানী'-র মতোই এ বইটিও আত্মজীবনীমূলক ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে একজনের দেশত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়ার গল্প অবলম্বনে রচিত।

অন্যদিকে,
• 'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ।
• 'নদী নিঃশেষিত হলে' আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: 'নিষুতি রাতের গাথা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১০.
অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. পথের পাঁচালী 
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' এবং অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'চাঁদের অমাবস্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে। এই উপন্যাসে লেখক পাশ্চাত্য অস্তিত্ববাদী দর্শন আত্মস্থ করে ব্যক্তির অস্তিত্ব সংকট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, একাকীত্ব এবং জীবনের অর্থহীনতার অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। 

- চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে নায়ক আরেফ আলীর মানসিক যাত্রা এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তি সমাজের বাইরে নিজের অস্তিত্বের স্বাধীনতা ও সংকট খুঁজে পান। সমালোচকরা এটিকে অস্তিত্ববাদী উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু: 
এই উপন্যাসে নায়ক আরেফ আলী, একজন স্কুল মাস্টার, যিনি একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যান। তাঁর মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এই মানসিক দ্বন্দ্ব, জীবনের অর্থহীনতা, একাকীত্ব এবং স্বাধীনতার অনুসন্ধান অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল উপাদান। উপন্যাসটি সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের অসঙ্গতি এবং মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতাকেও তুলে ধরে, যা আরেফের চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, উপন্যাসটি অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তির অস্তিত্ব, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রশ্ন উঠে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৫১১.
প্যারীচাঁদ মিত্র কী নামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. কালকূট
  2. দৃষ্টিহীন
  3. বনফুল
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি “টেকচাঁদ ঠাকুর” ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই প্যারীচাঁদ বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় ,
- রামারঞ্জিকা ,
- কৃষিপাঠ 
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত 
- বামাতোষিণী।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare,
- The Spiritual Stray Leaves,
- Stray Thought of Spiritualism,
- Life of Dewan Ramkamal Sen;
- Life of Coles Worthy Grant ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরে দুলাল,

অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম = কালকূট।
• বলাইচাদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম= বনফুল।
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম= দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৫১২.
'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-
• বিশ শতকের বাঙালি,
• বিচিত্র চিন্তা,
• স্বদেশ চিন্তা,
• সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
• স্বদেশ অন্বেষা,
• কালের দর্পণের স্বদেশ,
• স্বদেশ চিন্তা,
• জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
• জীবনে সমাজে সাহিত্যে ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৫১৩.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী। কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে তাঁর জন্ম।

- খুব অল্প বয়সেই বহুগুণে গুণান্বিত কালীপ্রসন্নের বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। উক্ত সভা বিধবাবিবাহ এবং অন্যান্য সংস্কার আন্দোলনের মতবাদ প্রচার করত।

- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 

- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক। তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- পুরাণসংগ্রহ (সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৪.
কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. তিনটি খণ্ডে
  2. টারটি খণ্ডে
  3. পাঁচটি খণ্ডে
  4. দুইটি খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
তিনটি খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি খণ্ডে
ব্যাখ্যা

⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

================
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫১৫.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ছিলেন একজন-
  1. ক) রাজনীতিবিদ
  2. খ) কূটনৈতিক
  3. গ) ভাষাতত্ত্ববিদ
  4. ঘ) সাংবাদিক
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষাতত্ত্ববিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষাতত্ত্ববিদ
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন একজন ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ববিদ। ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাঁর জন্ম।
১৯০৩ সালে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি 'Linguistic Survey of India'। তিনি ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানিত ফেলো মনোনীত হন।
গ্রিয়ারসন রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী ভাষা সংক্রান্ত অভিধান, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধসংগ্রহ, যেগুলি ১৯১৬-৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৬.
আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. হারেম
  2. নিরুপায় হরিণী
  3. ল্যাংড়ী
  4. ময়ূরীর মুখ
সঠিক উত্তর:
হারেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারেম
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
তিনি শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।

- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

 তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
 - হারেম (১৯৬২) ও
 - মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

অন্যদিকে, 
আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ - নিরুপায় হরিণী 
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ - ল্যাংড়ী
আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ - ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
৭,৫১৭.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত ?
  1. মন্বন্তর
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের(১৯৬৯) গণ অভ্যুত্তানের প্রেক্ষাপটে রচিত  আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই'(১৯৮৭)।
- এটি ছিলো লেখকের প্রথম উপন্যাস।
- আশির দশকের শুরুতে রোববার নামীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।

তাঁর অপর একটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৮.
'তেল-নুন-লকড়ি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. প্রবোধচন্দ্র ঘোষ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. প্রমথনাথ বিশি
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘তেল নুন লকড়ি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজ পত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫১৯.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ছাড়পত্র
  2. হরতাল
  3. অভিযান
  4. ঘুম নেই
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
•'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, ন
তুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে।
চলে যেতে হবে আমাদের।
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি-
অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ, তারপর হব ইতিহাস।।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালের  প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ।
৭,৫২০.
'হরগজ' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'হরগজ' নাটকটির রচয়িতা- সেলিম আল দীন

'হরগজ' নাটক
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি
ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ
শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ

সেলিম আল দীন 
- তিনি ১৯৪৯ সালে সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- সংবাদ কার্টুন
- শকুন্তলা
- কীত্তনখোলা 
- কেরামতমঙ্গল
- যৈবতী কন্যার মন 
- চাকা 
- হরগজ
- প্রাচ্য
- হাতহদাই 
- নিমজ্জন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২১.
’কর্ণফুলী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• কর্ণফুলী:
- কর্ণফুলী আলাউদ্দিন আল আজাদের পাহাড় ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: দেওয়ান পুত্র, আদিবাসী রাঙামিলা, বাঙালি ইসমাঈল, জলি, রমজান, প্রমুখ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ- জেগে আছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫২২.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিশুতোষ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সেলিনা হোসেন
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিশুতোষ গ্রন্থটির লেখক হচ্ছে আহসান হাবীব। 

আহসান হাবীব
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: রাত্রিশেষ।
- ১৯৪৭ সালে প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ। 

শিশুতোষ গ্রন্থসমূহ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৫২৩.
আল মাহমুদের 'সোনালী কাবিন' একটি
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৪.
‘মেঘ বলেছে চৈত্রে যাব’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. হুমায়ূন আহমদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫২৫.
নাট্যরচয়িতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।
- আবদুল কাদির ছিলেন মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- আবদুল্লাহ আল মুতী মূলত বিজ্ঞানলেখক হিসেবে পরিচিত।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৬.
‘মতিন ও কমল’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কে কথা কয়
  2. কোথাও কেউ নেই
  3. ছায়াসঙ্গী
  4. আমার আছে জল
সঠিক উত্তর:
কে কথা কয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে কথা কয়
ব্যাখ্যা
'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের 'কে কথা কয়' উপন্যাসে মতিন ও কমল নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
- উপন্যাসে শিশু কমলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে চাকরি পাওয়া মতিন কমলের সঙ্গে কাহিনিসূত্রে একটি বৃহৎবৃত্তে অধিভুক্ত হয়। 
- উপন্যাসের শেষে কমল সত্যোন্বেষণে ব্যস্ত আর মতিন সত্যের জন্য প্রাণ দান করে।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা “নন্দিত নরকে” শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫২৭.
'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা -
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• 'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা - মামুনুর রশীদ।

মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷
 
তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫২৮.
’পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থে রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• ’পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থে রচয়িতা- নবীনচন্দ্র সেন।

• নবীনচন্দ্র সেন:

- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫২৯.
'বঙ্গসুন্দরী' ও 'প্রেম প্রবাহিণী' কাব্যগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গসুন্দরী' ও 'প্রেম প্রবাহিণী' কাব্যগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৩০.
আত্মকথা ১৯৭১ কার রচনা?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) দ্বিজেন শর্মা
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত আত্মকথা ১৯৭১ একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ। আমার একাত্তর ও অন্যান্য দ্বিজেন শর্মা রচিত, একাত্তরের নয় মাস রাবেয়া খাতুন এবং কালরাত্রির খণ্ডচিত্র এবং ১৯৭১ : স্মৃতিখণ্ড মুজিবনগর হলো শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৭,৫৩১.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৭,৫৩২.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. অধ্যাপক সুনীতি সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. নীহাররঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
নীহাররঞ্জন রায়:
- তিনি ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। 
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art,
- বাঙ্গালীর ইতিহাস,
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East,
- An Approach to Indian Art।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৩৩.
বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক আভিধান' সম্পাদনা কে করেন?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।
Source: Banglapedia
৭,৫৩৪.
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুরের কোন গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছিলেন?
  1. আয়না
  2. সত্যমিথ্যা
  3. আবে-হায়াৎ
  4. জীবন ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
আয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়না
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ’আয়না ’গ্রন্থের মুখবন্ধ বা ভূমিকা লিখেছিলেন।

• আয়না: 
- হাস্যরসাত্মাক গল্পের সমাহরে আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
- আয়না গ্রন্থের লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- আয়না গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
 - তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা।
- তিনি খেলাফাত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর ২১ দফা কর্মসূচির প্রণেতা ছিলেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- আসমানী পর্দা;
- আয়না;
- ফুড কনফারেন্স;
- গালিভারের সফরনামা;

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী);
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ( রাজনীতি বিষয়ক)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা;
- জীবন ক্ষুধা;
- আবে-হায়াৎ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৩৫.
বাংলায় কুরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
  3. মাওলানা মনিরুজ্জামান
  4. কেশবচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন।

• গিরিশচন্দ্র সেন:
-  নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৩৬.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কবিতার বিখ্যাত চরণ- ''এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।''
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৫৩৭.
‘ওয়ারিশ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. মাসুদ
  2. রঞ্জনা
  3. মেহেরুন্নিসা
  4. রনজু
সঠিক উত্তর:
রনজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রনজু
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৩৮.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নবকুমার
  2. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  3. অশীতিপর শর্মা
  4. শ্রীকান্ত শর্মা
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত শর্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত শর্মা
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে,
• ‘শ্রীকান্ত শর্মা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৫৩৯.
'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'

সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৪০.
‘ঢেউ’ - গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
‘ঢেউ’ - গল্পগ্রন্থটি শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত রচনা ।

• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম - 

- অনেক দিনের আশা
- পথ জানা নাই
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৫৪১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিশ শতকের বাঙালি
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা
  4. বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় 'বিশ শতকের মেয়ে'।
- 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। 

• আহমদ শরীফ: 

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৪২.
পথের পাঁচালী উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কি?
  1. ক) প্রকৃতি ও মানুষ
  2. খ) পল্লি বাংলার জীবন
  3. গ) ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
  4. ঘ) গ্রামীন সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কার
সঠিক উত্তর:
ক) প্রকৃতি ও মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রকৃতি ও মানুষ
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস- 'পথের পাচালী’ (১৯২৯)।
এটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
প্রকৃতি ও মানুষ এই উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৪৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. নবীকাহিনী- কাব্যগ্রন্থ
  2. আঁখিজল- উপন্যাস
  3. লতিকা- প্রবন্ধ
  4. আবদুল্লাহ্- উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্- উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্- উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র' অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন। উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৪৪.
"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস কত সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৫ সালে
  4. ১৮৬৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাসও।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তৃত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভকরে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে- 

- বাবুরাম, 
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল, 
- ধূর্ত উকিল বটলর, 
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

----------------------------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন একজন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।

- প্যারীচাঁদ মিত্রের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। তিনি পণ্ডিত ও মুনশির নিকট যথাক্রমে বাংলা ও ফারসি শেখেন। ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।।

- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়। 

- বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণে এবং বিবর্তনের ইতিহাসে প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের (১৮৪১-৮৩) নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে বাংলা গদ্যের যে সাধুরূপ গড়ে উঠেছিল, প্যারীচাঁদ মিত্র তা অনুকরণ না করে বাংলা গদ্যের ধারায় এক অভিনব লঘু ভঙ্গির প্রবর্তন করেন।

প্যারীচাঁদ মিত্রের সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির মধ্যে তৎকালীন গোঁড়া শ্রেণির ব্যক্তিদের চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে। আলালের ঘরের দুলালের ভাষার মতই সহজ সরল এর ভাষা, কিন্তু কিছু পরিমাণে সাধুভাষা ঘেঁষা বলে বিশুদ্ধতর। সমসাময়িক কোন কোন লেখকের ওপর এই গ্রন্থ বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল।

 • প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ 'রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১), 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫), 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক। • 'অভেদী' (১৮৭১), 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক। 

•'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৪৫.
“বাড়ির কাছে আরশিনগর”- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসন রাজা
  2. খ) লালন শাহ্‌
  3. গ) পাগলা কানাই
  4. ঘ) রাধারমণ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) লালন শাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা
• বাউল সম্রাট লালন শাহ ১৭৭২ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অন্য একটি মতে তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে।
তিনি প্রায় দুইহাজার বাউল গান রচনা করেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে লালনের আখড়া অবস্থিত।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান-
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৪৬.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. নিজ বাসভূমে
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
সঠিক উত্তর:
কালের ধুলোয় লেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

================
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
৭,৫৪৭.
মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত 'গঙ্গা' উপন্যাসটি কার?
  1. সমরেশ বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সরদার জয়েনউদ্দীন
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৫৪৮.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর উপাধি কোনটি?
  1. কাব্যসুধাকর
  2. কাব্যকণ্ঠ
  3. কবিরত্ন
  4. স্বপ্নাতুর কবি
সঠিক উত্তর:
কাব্যকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যকণ্ঠ
ব্যাখ্যা

•  মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
কাব্যসুধাকর - গোলাম মোস্তফা।
স্বপ্নাতুর কবি - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী। 

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন,
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম:
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম:
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৫৪৯.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. বিষ্ণু দে
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।   

----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৫০.
কায়কোবাদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) কুসুম কানন
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয় ধারা
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিরহ বিলাপ
ব্যাখ্যা

• অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে।
• মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয় ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৫৫১.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচিয়তা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৭,৫৫২.
”রানী খালের সাঁকো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আহসান হাবীব
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. ইবরাহীম খাঁ
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

রানী খালের সাঁকো উপন্যাসটির রচয়িতা আহসান হাবীব।
- তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- আশায় বসতি (১৯৭৪)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)

তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো :
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)
তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭),

 সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন:
- ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১)
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১)
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪)
- নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭)
- একুশে পদক (১৯৭৮)
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৭,৫৫৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে কে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  2. নীলমণি হালদার
  3. অজিতকুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তিনি কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন:
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৫৪.
'নজু মিয়া ও আসগর মিয়া' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. নদী ও নারী
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. তিতাস একটি নদীর নাম 
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাস:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-  মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা। এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

----------------
• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৫৫.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 

বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৫৬.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. কিত্তনখোলা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. কেরামতমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা
• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

--------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি’ ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৫৭.
'ষোড়শী' নাটকটি কোন উপন্যাসের আলোকে নাট্যায়িত হয়?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) ছবি
  3. গ) দেনাপাওনা
  4. ঘ) নারীর মূল্য
সঠিক উত্তর:
গ) দেনাপাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
'দেনপাওনা' উপন্যাসটি 'ষোড়শী' নামে ১৩২৭ সালে নাট্যায়িত হয়।
- ‘দেনাপাওনা' (১৯২৩) শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উপন্যাসের মতোই নারীপুরুষের সম্পর্ক, নারীত্ব ও সতীত্বের ধারণার বিচার এই আখ্যানের মূলসূত্র।

- কাহিনির নায়ক জীবনানন্দ শরৎচন্দ্রের সৃষ্ট চরিত্রগুলির অন্যতম । এই উপন্যাস ‘ষোড়শী' (১৩২৭) নামে নাট্যায়িত হয় এবং মঞ্চে সাফল্যের সঙ্গে অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৫৮.
বেদান্তগ্রন্থ ও বেদান্তসার গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায়  ১৭৭২ সালে হুগলির রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি অনেক বড় ভূমিকা পালন করছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা-  'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১), সম্বাদ কৌমুদী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:

- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৫৯.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' ডাকা হয় কাকে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৬০.
কে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি?
  1. নাথানিয়েল হ্যালহেড
  2. জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
  3. রেভারেন্ড জেম্স কীথ
  4. ডানকান ফোর্বস
সঠিক উত্তর:
জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ ‍গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
রেভারেন্ড জেম্স কীথ (১৭৮৪-১৮২৩):
- বাংলা ভাষায় প্রণীত ও মুদ্রিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা। 
- জেম্স কীথের বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৮২০ সালে।
- গ্রন্থটির পুরো নাম A Grammar/of/ the Bengali Language/ Adopted to the Young/in Easy Questions and Answers 

নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed: ১৭৫১-১৮৩০):
- তাঁর A Grammar of the Bengal Language প্রকাশিত হয় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ভাল সংস্কৃত জানতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে। তাই তাঁর ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব লক্ষণীয়।
- উনিশ শতকে অবশ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রাচুর্য লক্ষ করা যায়। এ শতকের প্রথমার্ধে রচিত বাংলা ব্যাকরণগুলি দুটি ধারায় বিভক্ত।

প্রথম ধারার গ্রন্থগুলি বিদেশীদের (ব্যতীত) দ্বারা ইংরেজি ভাষায় রচিত। এগুলির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশীদের বাংলা ভাষা শেখানো। (১৭৬১-১৮৩৪), হটন, ইয়েটস ও ওয়েঙ্গার এই ধারার ব্যাকরণবিদদের মধ্যে প্রধান।
দ্বিতীয় ধারার রচয়িতারা ছিলেন প্রধানত বাঙালি এবং তাঁদের রচনার ভাষা বাংলা। এ ধারার পাঠক শ্রেণী ছিল এদেশের পাঠশালা ও ইংরেজি স্কুলগুলির ছাত্রছাত্রীরা।
-----------------
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমার্ধের দুটি ধারারই সম্প্রসারণ ঘটে। কিছু কিছু ব্যাকরণে (শ্যামারচণ সরকার, ডানকান ফোর্বস, জন বীম্স্ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য) বাংলার সংস্কৃত-ঘনিষ্ঠ শিষ্ট রূপটির পাশাপাশি কথ্য রূপের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময়েই দেশী-বিদেশী ভাষাবিজ্ঞানীদের (বীম্স্, হর্নলে, রামকৃষ্ণ গোপাল ভান্ডারকর) উদ্যোগে তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ব্যাকরণের গোড়াপত্তন হয়।

উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ A Grammar of the Bengalee Language (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

অর্থাৎ, প্রশ্নোক্ত অপশন থেকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন নি জর্জ ‍গ্রিয়ারসন। তিনি ছিলেন ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ববিদ। 
১৯০৩ সালে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি 'Linguistic Survey of India'। 
গ্রিয়ারসন রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী ভাষা সংক্রান্ত অভিধান, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধসংগ্রহ, যেগুলি ১৯১৬-৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
 
৭,৫৬১.
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সমর সেন
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটির রচয়িতা- সুকান্ত ভট্টাচার্য

এই পংক্তিটি 'আঠারো বছর বয়স' - কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
-'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পুর্বাবাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 

৭,৫৬২.
কোনটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা?
  1. মাধবীলতা
  2. কণ্ঠমালা
  3. পালামৌ
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- যাত্রা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৬৩.
সৈয়দ সামসুল হকের 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) নৃত্যনাট্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) গিতীনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সামসুল হকের প্রকাশিত কাব্যনাট্য গুলো হলো-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- নুরুলদীনের সারাজীবন
- এখানে এখন

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৬৪.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ভোরের বিহঙ্গী
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ 
- অভিশপ্ত নগরী
- পাপের সন্তান 
- পদচিহ্ন 
- আলবেরুনী
- সাত নম্বর ওয়ার্ড

ইতিহাস:
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ 
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম 

শিশু সাহিত্য:
- পাতাবাহার
- অভিযাত্রী                          

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৭,৫৬৫.
সধবার একাদশী প্রহসনটির রচয়িতা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
সধবার একাদশী প্রহসনটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। বিয়ে পাগলা বুড়ো এবং জামাই বারিক তার অপর দুটো প্রহসন। এর উপায় কী?, ভাই ভাই এইত চাই, ফাঁস কাগজ, এ কী? মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন। একেই কি বলে সভ্যতা এবং বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৭,৫৬৬.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর 'স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থ' এ কার সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুলতান সালাহউদ্দিন ও রিচার্ড লায়নহার্ট
  2. আকবর ও শিবাজী
  3. মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
  4. মুসলিম বীর তারেক ও চেঙ্গিস খান
সঠিক উত্তর:
মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম বীর তারেক ও সম্রাট রডারিক
ব্যাখ্যা
• স্পেন বিজয় কাব্য: 
- স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থে মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন- ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- এই কাব্যে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন।
- তিনি মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি মহাকাব্য হয়নি।
---------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ছিলেন লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- পিতা আব্দুল করিম খন্দকার ইউনানি (ভেষজ ঔষধ) চিকিৎসক ছিলেন। 
----------------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ।
- আকাঙ্ক্ষা।
- উচ্ছ্বাস।
- উদ্বোধন।
- নব উদ্দীপনা।
- স্পেন বিজয় কাব্য।
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী।
- প্রেমাঞ্জলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী।
- তারাবাঈ।
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম।
- তুর্কিনারী জীবন।
- স্পেনীয় মুসলিম সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৬৭.
কোন গ্রন্থটির রচিয়তা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. ক) স্বদেশ চিন্তা
  2. খ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
  3. গ) স্বরূপের সন্ধানে
  4. ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবিষ্যতের বাঙালী
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' গ্রন্থটির রচিয়তা  আহমদ ছফা

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৫৬৮.
নিচের কোনটি ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
  2. খ) পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. গ) প্রপঞ্চ
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রপঞ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রপঞ্চ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার। প্রপঞ্চ – উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৫৬৯.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত 'আধুনিক কবি ও কবিতা' একটি -
  1. কবিতা
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান  সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- তিনি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে বিএ এবং ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৭০.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) ঋত্ত্বিক ঘটক
  3. গ) ঋতুপর্ণ ঘোষ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণের প্রথম উপন্যাস এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশালয়, গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে। এই কাহিনির পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন। এর তিনটি ভাগ : বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড ‘অপরাজিত (১৯৩১)। পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু। দ্বিতীয় অংশে অপুর কৈশোর ও যৌবনের কাহিনি। 'পথের পাঁচালী' ওম 'অপরাজিত' অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 'পথের পাঁচালী'র উল্লেখযােগ্য চরিত্র : অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৫৭১.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৭২.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিযান
  2. আকাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।
 
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৭৩.
'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৭৪.
মুনীর চৌধুরী 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটি কোন পটভূমিতে রচনা করেন?
  1. কারবালার যুদ্ধ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- এই নাটকের কাহিনি নেয়া হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

নাটকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ এই নাটকের পটভূমি। এই যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় ১৭৬১ সালে। মারাঠা বাহিনীর নেতৃত্ব করেন বালাজী রাও পেশোয়া; মুসলিম শক্তির পক্ষে আহমদ শাহ্ আবদালী। এই যুদ্ধের ইতিহাস যেমন শোকাবহ তেমনি ভয়াবহ। হিন্দু ও মুসলিম পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার সংকল্প নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধের স্থূল পরিণাম মারাঠাদের পরাজয় ও পতন, মুসলিম শক্তির জয় ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ। জয়পরাজয়ের এই বাহ্য ফলাফলের অপর পিঠে রয়েছে উভয় পক্ষের অপরিমেয় ক্ষয়-ক্ষতির রক্তাক্ত স্বাক্ষর। যত হিন্দু আর যত মুসলমান এই যুদ্ধে প্রাণ দেয় পাক-ভারতের ইতিহাসে তেমন আর কোনোদিন হয়নি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৭৫.
"এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে" গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. আবদুল্লাহ আল-মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে"। ছোটদের জন্য রচিত এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।

----------------------
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:

• আবদুল্লাহ আল-মুতী ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

• বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। 

• আল-মুতী বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ'-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। 

• বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, ইউনেস্কোর কলিঙ্গ পুরস্কার এবং ড. কুদরত-ই-খুদা স্বর্ণপদকসহ এক ডজনের অধিক পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে- 
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৭৬.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' উপদেশটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঘ) জোশুয়া মার্শম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
তাঁর উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।
ডিরোজিও'র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য।
এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৭,৫৭৭.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. আর্যদর্শন
  4. সওগাত
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্যদর্শন
ব্যাখ্যা

সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

৭,৫৭৮.
'আঠার বছর বয়স' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. হরতাল
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
• 'আঠার বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অন্যতম কবিতা 'ছাড়পত্র' ও 'আঠার বছর বয়স' ।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই কাব্যে শোষিত মানুষের জীবন -যন্ত্রনা ,অনাচার ও বৈষম্যের প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙক্তি কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য: 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৭৯.
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।"- বিখ্যাত কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. শামসুর রাহমান
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

• "এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা — হেলাল হাফিজ।

• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- যে জলে আগুন জ্বলে, 
- কবিতা ৭১, 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।

৭,৫৮০.
নিচের কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস?
  1. ক) কৃষ্ণপক্ষ
  2. খ) বাংলাদেশ কথা কয়
  3. গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  4. ঘ) সুন্দর হে সুন্দর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৮১.
'বত্রিশ সিংহাসন' কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. বিদ্যাসাগর
  4. রাজীব লোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচনা - বত্রিশ সিংহাসন।

• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য ।

-------------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮২.
'উত্তম ও অধম' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্য: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু
- মণি মঞ্জুষা
- অন্যদিকে 

উত্তম ও অধম- কবিতা 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কুকুর আসিয়া এমন কামড়
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তাই।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে র্ভৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাতঁ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
“তুই রে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের পায়ে
দংশি কেমন করে?”
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়?

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৮৩.
'চারদিকে যুদ্ধ' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'চারদিকে যুদ্ধ' নাটক:
- নাট্যকার: আবদুল্লাহ আল মামুন।
- নাটকটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
-------------------------------- 
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস, 
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮৪.
’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- অমিয় চক্রবর্তী।

• অমিয় চক্রবর্তী:

- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। 
-  তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের:
- খসড়া,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার ,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই ,
- সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮৫.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. আব্দুল হাই
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮৬.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাজবন্দীর রোচনামচা
  2. খ) সারেং বৌ
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক - রাজনৈতিক পরিবর্তনের ও রূপান্তরের চিত্র ধারন করা উপন্যাস - সংশপ্তক। এটি শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকব্যিক উপন্যাস। এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ রাবেয়া খাতুন, জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল প্রমুখ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৮৭.
কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. মধুমতীর চর
  2. পদ্মানদীর চর
  3. ময়নামতীর চর
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
•'পদ্মার পলিদ্বীপ' বন্দে আলী মিয়া রচিত গ্রন্থ নয়।
•'পদ্মার পলিদ্বীপ' আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস। 

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

• তাঁর রচিত নাটক:
- মসনদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৮৮.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. সার্বজনীন
  3. জননী
  4. দিবারাত্রির কাব্য
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা

'জননী’ উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।
- চরিত্র ও কাহিনির নির্মোহ বাস্তব রূপায়ণ এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- জন্মপঞ্জিকায় তাঁর নাম 'অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- সহরবাসের ইতিকথা,
- সার্বজনীন,
- অহিংসা,
• আরোগ্য ইত্যাদি।
- জননী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৫৮৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে কবে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রী প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
'১৯৭৪ সালে'-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রী প্রদান করা হয়। 

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তত্ত্ব: 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯০.
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মহামানব মুহসীন
  2. মণিচয়নিকা
  3. মরুভাস্কর
  4. মোহাম্মদ আলী
সঠিক উত্তর:
মরুভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুভাস্কর
ব্যাখ্যা
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মরুভাস্কর' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি এ প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হযরত ছিলেন মানুষের নবি। তাই মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী:
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৬-১৯৫৪) সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৩০৩ বঙ্গাব্দের (১৮৯৬) ২৮ ভাদ্র সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- বিশ শতকের মধ্যভাগে প্রাঞ্জল ভাষায় প্রবন্ধ রচনা করে যাঁরা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মরুভাস্কর,
- মহামানব মুহসীন,
- মোহাম্মদ আলী,
- মণিচয়নিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাএকাডেমি।
৭,৫৯১.
তোতা ইতিহাস কে রচনা করেন?
  1. ক) চণ্ডীচরণ মুন্সি
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীচরণ মুন্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীচরণ মুন্সি
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৪ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন।
• তাদের মধ্যে অন্যতম হলো চণ্ডীচরণ মুন্সি
তোতা ইতিহাস -চণ্ডীচরণ মুন্সি।
• বাংলা ভাষায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ যা প্রকৃতপক্ষে কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থ তুতিনামা-এর বঙ্গানুবাদ।
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার শিক্ষক চণ্ডীচরণ মুনশী ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে এই অনুবাদ কর্ম সম্পাদন করেন।

- তাছাড়া--
• রামরাম বসু 
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
- লিপিমালা 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
- বত্রিশ সিংহাসন
- হিতোপদেশ 
- রাজাবলি 
- বেদান্তচন্দ্রিকা 
- প্রবোধচন্দ্রিকা 
• তারিণীচরণ মিত্র - ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর ) ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯২.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. নীলফামারী
  2. ঢাকা
  3. রংপুর
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কর্তৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯৩.
'সপ্তপদী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- সপ্তপদী,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।
• ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- তারিণী মাঝি ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৫৯৪.
ফজল ও এরফান মাতব্বর চরিত্র আবু ইসাহাক রচিত কোন উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. খ) জাল
  3. গ) মহাপতঙ্গ
  4. ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
⇒ 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
• আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
• ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
• উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
• অনেক পরে আবু ইসাহাক উপন্যাসটি বত্রিশটি অধ্যায়ে সমাপ্ত করেন এবং এর নামবদল করে দেন ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’।
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। পদ্মা নদীকে বলা হয় 'কীর্তিনাশা'। কারণ চাঁদ রায় - কেদারায় - রাজবল্লভ প্রমুখ বারভুঁইয়া দের কীর্তি এ নদী ধ্বংস করেছে।
• এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩) ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৫৯৫.
কোন উপন্যাসে ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌?
  1. ক) রাঁচী যোগে মোটর সফর
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) গ্রানাডার শেষ বীর
সঠিক উত্তর:
গ) তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৫৯৬.
‘কিত্তনখোলা’ নাটকের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিম আল দীন কোন এলাকার লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি ও নিসর্গের সাথে পরিচিত হন?
  1. রাজশাহী
  2. ফরিদপুর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. পাবনা
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৭,৫৯৭.
নিচের কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. রসকলি
  2. কালিন্দী
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসকলি
ব্যাখ্যা
• 'রসকলি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- একটি কালো মেয়ের কথা

- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৫৯৮.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. ভারতমিত্র
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা হচ্ছে সম্বাদ কৌমুদী। 

রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২/৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- তিনি ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) এবং পারসি ভাষায় মিরাত-উল-আখবার নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- সম্বাদ কৌমুদীতে তিনি সামাজিক ও হিন্দুধর্মীয় রক্ষনশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এই পত্রিকাটি ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ। 

অন্যদিকে,
- সংবাদ প্রভাকর: এটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক সম্পাদিত ছিল।  
- ভারত মিত্র: এটি একটি পত্রিকা ছিল যা পরে বিনোদবিহারী দত্ত দ্বারা সম্পাদিত হয়।  
- তত্ত্ববোধিনী: এই পত্রিকাটি মূলত অক্ষয়কুমার দত্ত কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৫৯৯.
'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থের সম্পাদক-
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আহমদ শরীফ
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থের সম্পাদক - মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা।



সূত্র: 'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থ
৭,৬০০.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত 'পুঁই ডালিমের কাব্য' কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত? 
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দীন আবুল কালামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ- পুঁই ডালিমের কাব্য।
-------------------------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
----------------------------------------------
পুঁই ডালিমের কাব্য সম্পর্কিত তথ্য:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রামীণ জীবন ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম নিয়ে লেখা একটি গ্রন্থ।
- এতে গ্রাম বাংলার জীবন-মৃত্যুর টানাপোড়েন, আদর্শের সংঘাত এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিত্রিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে দেখানো হয়েছে কীভাবে শান্তিপ্রিয় মানুষও যুদ্ধের নির্মমতার শিকার হয়।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের অত্যাচারও এতে বর্ণিত হয়েছে।
- অত্যাচারের মধ্যেও মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখে এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।
- এটি শুধু যুদ্ধের গল্প নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং সংগ্রাম ও সাহসের কাব্যিক আখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।