বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬৪ / ৭৭ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ৭,৬৪৬

৬,৩০১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. উজানে মৃত্যু
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস - চাঁদের অমাবস্যা।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০২.
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কী চাহ শঙ্খচিল
  2. খ) অলাতচক্র
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়
সঠিক উত্তর:
খ) অলাতচক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
⇒ 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস। 
• ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
• এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
• এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন 
• এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

অন্যদিকে,
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'আর্তনাদ' ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৩.
‘অসাধু সিদ্ধার্থ’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. শওকত উসমান
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সমরেশ বসু
  4. জগদীশ গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগদীশ গুপ্ত
ব্যাখ্যা

মনোবৈকল্য ও মনোবিশ্লেষণ এবং দুঃখময়তার লেখক জগদীশ গুপ্তের বিখ্যাত উপন্যাস অসাধু সিদ্ধার্থ এক সাধুর ভণ্ডামিকে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
রোমন্থন
লঘুগুরু
দুলালের দোলা
নিষেদের পটভূমিকায়
কলঙ্কিত তীর্থ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩০৪.
'কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি'- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র), রানার, এক যে ছিল, হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- তাঁর 'হে মহাজীবন' কবিতাটি হলো-
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৩০৫.
শওকত আলী রচিত 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' কোন ধরনের উপন্যাস? 
  1. ঐতিহাসিক 
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 
  3. ভ্রমণকাহিনী 
  4. রোমান্সমূলক 
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক 
ব্যাখ্যা
• প্রদোষে প্রাকৃতজন:
• শওকত আলীর ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪)।
এর পটভূমি দ্বাদশ শতকের প্রথম ভাগের বাংলা। ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাতের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- এ উপন্যাসে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৬.
নিম্নোক্ত কোনটি দাউদ হায়দার - এর রচনা নয়?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) এই শাওনে এই পরবাসে
  3. গ) পাথরের পুঁথি
  4. ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা

বিশ শতকের মেয়ে- নীলিমা ইব্রাহিমের একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে, দাউদ হায়দারের গ্রন্থগুলো হলো-
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ
- এই শাওনে এই পরবাসে
- পাথরের পুঁথি
- আমি ভালো আছি, তুমি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩০৭.
'কঙ্কাবতী' - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• কঙ্কাবতী - উপন্যাস এর রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'কঙ্কাবতী'- বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তাঁর প্রথম উপন্যাস - অসমাপিকা (১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসে কোন সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ধীবর
  2. খ) কামার
  3. গ) ডোম
  4. ঘ) কুমোর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডোম
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)।
- এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের  ''জীবন এতো ছোট ক্যানে? '' - সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

- কবি নামে হুমায়ুন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩০৯.
সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের চিত্র অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. সারেং বৌ
  3. উদাত্ত পৃথিবী
  4. মাটি আর অশ্রু
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
• সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের চিত্র অবলম্বনে রচিত উপন্যাস: 'সারেং বৌ'।
------------------------
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস নিয়ে আলোচনা:
- উপন্যাসটির রচয়িতা: শহীদুল্লা কায়সার। 
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।
- সারেং সৎ বলে সহকর্মীদের মত বাড়ি ও দালান করতে পারে নি।
- স্ত্রী নবিতুনকে নিয়ে আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সে সুখে থাকে।
- প্রকৃতির বিরুদ্ধতায় সারেং যখন দীর্ঘদিন নিখোঁজ, সেই সময় যুবতী নবিতুনের উপর দারিদ্র‍্য ও লোলুপ সমাজপতিদের লোলুপতা নেমে আসে।
- দাম্পত্য আদর্শনিষ্ঠ বলে নবিতুন সবকিছুকে পরাজিত করতে পারে।
- এখানে একজন নারীর সংগ্রাম দেখানো হয়েছে, দেখানো হয়েছে সমাজের ঘৃণ্য মানসিকতা এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক মায়ের সংগ্রাম।

- উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘সারেং বৌ’।
- এই এপিকধর্মী কাহিনিচিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।
- ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রের ইংরেজি ট্যাগলাইন রাখা হয়েছিল ‘The Servivors’.
--------------------- 
শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৩১০.
মোজাম্মেল হক কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. মোসলেম ভারত
  2. লহরী
  3. শান্তিপুর
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক : 
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী, মোসলেম ভারত ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন , 
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম : 
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম : 
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১১.
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে-
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?- কবিতার পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুনীতকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত পঙক্তিগুলো সুকুমার রায় রচিত ‘সৎ পাত্র’ কবিতার। কবিতাটি কিছু অংশ হলো:

সৎ পাত্র

সুকুমার রায়

শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে-
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে?
মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো-
রং যদিও বেজায় কালো;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন।
বিদ্যা বুদ্ধি? বলছি মশাই-
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায়।
উনিশটি বার ম্যাচটিকে সে
ঘায়েল হয়ে থামল শেষে।

---------------
• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায়একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন।
- অল্প বয়স থেকেই তিনি পিতার অনুপ্রেরণায় মুখে মুখে ছড়া রচনা ও ছবি আঁকার সঙ্গে ফটোগ্রাফিরও চর্চা করতেন।
- কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের হাসির নাটক রচনা এবং তাতে অভিনয় করতেন।
- তিনি শান্তিনিকেতনে একবার  রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে গোড়ায় গলদ নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
- স্বদেশী আন্দোলনের সময় তিনি বেশ কিছু গান রচনা করেন এবং নিজে সেগুলি গেয়েছেনও।

উৎস: ছড়া সমগ্র সুকুমার রায় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১২.
'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আহমদ ছফা
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'প্রিয় স্বাধীনতা' কবিতাটির রচয়িতা - 'শামসুর রাহমান'। 
==============
⇒ শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
=================

প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা,
– শামসুর রাহমান।
মেঘনা নদী দেব পাড়ি
কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাব আমার
পাহাড়তলী গাঁয়ে।

গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়ে
বসব বিকাল বেলা।
দু-চোখ ভরে দেখব কত
আলো-ছায়ার খেলা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, প্রিয় স্বাধীনতা -কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১৩.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশবিভাগের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কখনো আসে নি
  2. হাজার বছর ধরে 
  3. সূর্য দীঘল বাড়ী
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: 
- হাসু, 
- মায়মুন, 
- শাফি, 
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী, 
- মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩১৪.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে কোন পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ ঘটে?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
• 'পরিচয়' পত্রিকাটি ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এই পত্রিকায় যোগ দেন। এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
- 'সাধনা' পত্রিকাটি ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৬,৩১৫.
আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মহাপতঙ্গ
  2. হারেম
  3. জাল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস - জাল

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩১৬.
'স্বপ্নের ফুল' গীতিনাট্যের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ক) জসীম উদ্‌দীন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশ্চন্দ্র ঘোষ অভিনেতা ও প্রতিভাশালী নাট্যকার ১৮৪৪ সালে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুবরণ করেন ১৯১২ সালে।
তাঁর রচিত গীতিনাট্যগুলো হলো।
-মণিমালা,
-স্বপ্নের ফুল,
-আবু হোসেন প্রভৃতি।
ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে,
-সিরাজদ্দৌলা,
-মীর কাসিম,
-ছত্রপতি শিবাজী প্রভৃতি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৬,৩১৭.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
রক্তরাগ, হাসনাহেনা, খোশরোজ, সাহারা, গুলিস্থান, বনি আদম কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩১৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি কী ছিল?
  1. বিদ্যাসাগর
  2. বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মহামহোপাধ্যায়
  4. কুশারী
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর পৈতৃক পদবি ছিল-বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  পরিবারের আসল পদবি ছিল- কুশারী।
•  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি ছিল- মহামহোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১৯.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) এখনো ক্রীতদাস
  3. গ) শপথ
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
সঠিক উত্তর:
গ) শপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শপথ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ'। 
- নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। 
- প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই জুলাই। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩২০.
​'নবান্ন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  2. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
  4. ১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩২১.
বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) আবদুল কাদির
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- মূলত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’ 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞাব ও মানুষ
- সাগরের রহস্যপুরী
- তারার দেশের হাতছানি
- বিজ্ঞানের বিস্ময়
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২২.
আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. কাল নিরবধি
  2. বাঙালী মুসলমানের মন
  3. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  4. স্বরূপের সন্ধানে
সঠিক উত্তর:
বাঙালী মুসলমানের মন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালী মুসলমানের মন
ব্যাখ্যা
• 'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন - আহমদ ছফা। 

আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩২৩.
'রাজা যায় রাজা আসে' - কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্দিন
  2. দাউদ হায়দার
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- উৎসর্গ পত্রে লেখক লিখেন- উৎসর্গ আমার মা, আমার মাতৃভূমির মতোই অসহায়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য কবিতা:
- বনভূমির ছায়া;
- প্রত্যাবর্তনের সময়;
- স্বীকৃতি চাই;
- পাখি হয়ে যায় প্রাণ।

আবুল হাসান:

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া।
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩২৪.
‘জীবন ক্ষুধা' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন ক্ষুধা' উপন্যাস:
- ‘জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি উপন্যাস।
- হালিম হলো অন্যতম চরিত্র। যাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত।
- এই উপন্যাসে বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শিক্ষিত বাঙালি মুসলমানের মধ্যবিত্তের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও লালিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।

--------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯) একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- বিভিন্ন সময়েবিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না, 
- ফুড কনফারেন্স। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা, 
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, 
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু, 
- এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা।

উৎস: ‘জীবন ক্ষুধা’ উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৫.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন -
  1. আল মাহমুদ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবুল হুসেন
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন: 
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৬.
'পাগলা দাশু' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ছড়া
  2. গদ্য
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পসংকলন
সঠিক উত্তর:
গল্পসংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পসংকলন
ব্যাখ্যা
• 'পাগলা দাশু' গল্পসংকলন:
- 'পাগলা দাশু' সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পসংকলন।
- 'পাগলা দাশু'র গল্পগুলো হাস্যরসে ভরা হলেও তা নিছক হাস্যরসের খোরাক নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় রচিত মজার মজার কাহিনি। এ কাহিনিগুলোতে অনেক কঠিন প্রসঙ্গ খুব সহজ ভাবেই উঠে এসেছে যা একেবারেই উপেক্ষনীয় নয়। সেগুলো যেমনি রসের তেমনি অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু'র প্রথম সংস্করণের ভূমিকা লিখেছিলেন।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
পাগলা দাশু মূলত সুকুমার রায় কর্তৃক সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র। দাশু স্কুল পড়ুয়া এক বালক। দাশুর পুরো নাম দাশরথি। সে খুব মেধাবী ছাত্র বিশেষ করে অঙ্কে তার মাথা খুব ভালো। সে যেমনি মেধাবী তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত এক ছেলে। দাশু তার বুদ্ধি দিয়ে যেমন পূরণ করে তার ইচ্ছে তেমনি ঘটায় সব পাগলাটে কাণ্ড। দাশুর স্কুলের বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকদের নিয়ে হাস্যরসে ভরা ব্যাঙ্গাত্মক কীর্তিগুলো নিয়েই রচিত মজার মজার কিছু গল্প। যেগুলো খুব সহজ ও সাবলীল ভাব ও ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন সুকুমার রায় তাঁর 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থে।

উৎস: 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৭.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গীতিকাব্য
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) গীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩২৮.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক-
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. কাজী আব্দুল ওয়াদুদ
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
‘আধ্যাত্মিকা’ ১৮৮০ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
- এটি সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক গ্রন্থ।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা- সাহিত্যেও তিনি একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছেন। তাঁরই চেষ্টায় অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের উপযোগী একটি মাসিক-পত্রিকা বাংলা ভাষায় সর্ব্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। নাম- 'মাসিক পত্রিকা'। প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল- ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
 
প্যারীচাঁদের রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- আধ্যাত্মিকা,
- বামাতোষিণী।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৩২৯.
'বাংলার বলশী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
'বাংলার বলশী' গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৩০.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।’- গানটি প্রথম কোন সংকলনে প্রকাশিত হয়?
  1. একুশের গান
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের কথা
  4. অমর একুশে
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

--------------------------
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'ডানপিটা শওকত'।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'কৃষ্ণপক্ষ'। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান'। 

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৩১.
'সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩২.
"বনফুলের কবিতা" কার লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বন্দ্যে আলী মিয়া
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুলের কবিতা,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী, 
- আহবনীয়,
- করকমলেষু,
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম (তিন খণ্ড),
- অগ্নি, 
- ডানা (তিন খণ্ড),
- স্থাবর,
- অগ্নীশ্বর,
- হাটেবাজারে,
- ত্রিবর্ণ,
- ভুবনসোম,
- প্রচ্ছন্ন মহিমা, 
- উদয় অস্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩৩.
"আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্ক্সিস্ট" - উক্তিটি কার?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩৪.
'বাংলাপিডিয়া' হচ্ছে—
  1. ক) উপন্যা
  2. খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
  3. গ) বাংলা কাব্য
  4. ঘ) মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাতীয় জ্ঞানকোষ
ব্যাখ্যা

বাংলাপিডিয়া - বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এ জ্ঞানকোষে প্রায় ১৪৫০ জন পণ্ডিতের সৃজনশীল কাজের সমন্বয় ঘটেছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতমকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা বাংলাপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩৫.
কোনটি রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. যাত্রা
  3. এক যুবকের ছায়াপথ
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর:
অন্ধ কথামালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধ কথামালা
ব্যাখ্যা
⇒ অন্ধ কথামালা:
রশীদ হায়দার রচিত ‘অন্ধ কথামালা’ (১৯৮২) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কাল পর্বের প্রেক্ষাপটে মৃত্যু-মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতীক্ষারত একজন মুক্তিযোদ্ধার দুর্বিসহ স্মৃতিকাতরতাক্রান্ত রুদ্ধশ্বাসের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ও আবেগের রসায়নে ‘অন্ধ কথামালা’ উপন্যাসকে একটি পরিণততর সৃষ্টি বলা যায়।

রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য উপন্যাস হলো-
• ‘খাঁচা’ (১৯৭৫) উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্বের অবরুদ্ধ নগর জীবনের আলেখ্য।

অন্যদিকে,
- ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘এক যুবকের ছায়াপথ’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: খাঁচায় অন্ধ কথামালা উপন্যাস এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৩৩৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মধুসূদনজীবনী
  2. খ) শ্রীমধুসূদন
  3. গ) স্মরনে মধুসূদন
  4. ঘ) মধুসূদনচরিত
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমধুসূদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - শ্রীমধুসূদন

• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩৭.
'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি  বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন। কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা হলেন -
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী,
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্,
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী,  
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন। একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

১৯১৭-১৮ সালে পরিচালক পরিষদের সভাপতি পদে ছিলেন  আবদুল করিম, সহসভাপতি খান বাহাদুর  আহছানউল্লা ও  মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, সম্পাদক মোজাম্মেল হক এবং ২৫জন সদস্য।

সাহিত্য সমিতি বত্রিশ বছরের ইতিহাসে মুসলিম জাতীয়তাবোধের বিকাশ সাধনের চেষ্টা করে। সমিতির মাসিক সভা ও বার্ষিক সম্মেলনের ব্যবস্থা ছিল। সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
(বৈশাখ ১৩২৫/ এপ্রিল ১৯১৮) ও সাহিত্যিক (অগ্রহায়ণ ১৩৩৩/ ডিসেম্বর ১৯২৬) নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৩৩৮.
মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যর উৎস কি ?
  1. ক) মহাভারত
  2. খ) রামায়ণ
  3. গ) ভগবৎ
  4. ঘ) ওডিসি
সঠিক উত্তর:
খ) রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রামায়ণ
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা একটি মহাকাব্য
- এটি ১৮৬১ সালে দুই খণ্ডে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- মেঘনাদবধ কাব্য হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো :
- তিলোত্তমা সম্ভব
- ব্রজাঙ্গনা
- বীরাঙ্গনা
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৬,৩৩৯.
“ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য” কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. ক) দিলরুবা-আব্দুল কাদির
  2. খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
  3. গ) নুরনামা-আব্দুল হাকিম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

'ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য' সাত সাগরের মাঝি কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য।
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ।
এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৪০.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. কাবিলের বোন
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
- নুরুলদীনের সারা জীবন - রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে রচিত। 

• ‘খোয়াবনাম’ মানবজীবনের সংগ্রামের পেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান উলিয়াস রচিত উপন্যাস।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৬,৩৪১.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা" - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা" - পঙক্তিটির রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে: 
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪২.
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে”- এই উদ্ধৃতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে- এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''ষোল আনাই মিছে'' কবিতা থেকে নেয়া।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মঃ
- আবোলতাবোল (ছড়াগ্রন্থ),
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই, ইত্যাদি।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৬,৩৪৩.
‘মৌলিক মুখোশ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
দ্রোহ ও বিপ্লবের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতাগ্রন্থ এটি।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- উপদ্রত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৩৪৪.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- চলিত রীতিতে তার প্রথম গদ্যরচনা: বীরবলের হালখাতা।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৪৫.
‘ওরা কদম আলী’ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নজিবর রহমান
  2. খ) বদরুদ্দীন ওমর
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
বিশিষ্ঠ নাট্যকার ও শিল্পী মামুনুর রশীদ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকঃ ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙ্গর, গিনিপিগ, সমতট ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৪৬.
'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রণেশ দাশগুপ্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থের রচয়িতা- 'রণেশ দাশগুপ্ত'। 

• রণেশ দাশগুপ্ত: 
- ভারতের আসাম প্রদেশের ডিব্রুগড় শহরে ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৯৫৮ সালে ঢাকা পৌরসভার নির্বাচনে রণেশ দাশগুপ্ত কমিশনার নির্বাচিত হন। 

রণেশ দাশগুপ্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থগুলো: 
- উপন্যাসের শিল্পরূপ,
- শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে, 
-  আলো দিয়ে আলো জ্বালা,
- আয়ত দৃষ্টিতে আয়তরূপ,
- মুক্তিধারা,
- সাম্যবাদী উত্থান প্রত্যাশা: আত্মজিজ্ঞাসা। 

• 'উপন্যাসের শিল্পরূপ' গ্রন্থ আলোচনা: 
- প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। 
- ২৬ টি পরিচ্ছেদে বিভক্ত গ্রন্থটিতে উপন্যাসের উদ্ভব ও বিকাশ, আঙ্গিক ও গঠন বিষয় ও শৈলী, সর্বোপরি সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে উপন্যাসের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয় নিয়ে মার্কসীয় তত্ত্বের ভিত্তিতে আলোচনা করা হয়েছে। 
- পাকিস্তানি শাসনামলেই এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে গৃহিত হয়। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪৭.
'অপরাজিত' উপন্যাস কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'অপরাজিত' উপন্যাস
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোক সারথী'।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৪৮.
'নয়া খান্দান' নুরুল মোমেন রচিত কোন ধরনের নাটক?
  1. সমাজিক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. রাজৗনতিক নাটক
  4. কমেডি নাটক
সঠিক উত্তর:
কমেডি নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• 'নয়া খান্দান' নাটক:
- নাটকটি ১৯৬১ সালে রচিত, ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বংশমর্যাদা ও এ নিয়ে আভিজাত্যের প্রতি শ্লেষ ব্যক্ত হয়েছে এ নাটকে।
- নাট্যকার দেখিয়েছেন- আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের কাছে বংশমর্যাদার চেয়ে সুরুচিই বরং কাম্য। এ সুশিক্ষাই বর্তমান যুগের নতুন বা নয়া খান্দান (আভিজাত্য) হিসেবে পরিচিত।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৪৯.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা- নির্মলেন্দু গুণ। 
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা। 
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

নির্মলেন্দু গুণ 
- ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
না প্রেমিক না বিপ্লবী,
চাষাভূষার কাব্য,
দূর হ দুঃশাসন,
ইসক্রা,
মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা,
শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৬,৩৫০.
'সংকল্প' সাময়িক পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. এয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• 'সংকল্প' পত্রিকা:
- কাজী আবদুল ওদুদের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে সংকল্প (১৩৬১) ও তরুণপত্র (১৩৭২) নামে দুটি সাময়িক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি ছিলেন 'সংকল্প' পত্রিকার সম্পাদক।
- 'তরুণপত্র' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি।

• কাজী আবদুল ওদুদ: 
- তাঁর জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
- ছাত্র অবস্থায়ই তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ মীর পরিবার (১৯১৮) এবং উপন্যাস নদীবক্ষে (১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- ঢাকার মুসলিম সাহিত্য-সমাজের (১৯২৬) মুখপত্র শিখার প্রতিটি সংখ্যার পরিকল্পনা ও প্রকাশনায় আবুল হুসেনের সঙ্গে তাঁর সক্রিয় প্রয়াসপ্রযত্ন ছিল।
 - ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আজাদ (উপন্যাস), 
- নদীবক্ষে (উপন্যাস), 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৬,৩৫১.
'আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) আমি কোন আগন্তুক নই
  3. গ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. ঘ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
"আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশী পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই" কবি আহসান হাবীবের 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার অন্তর্গত। 

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬)
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০)
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)
- সারা দুপুর (১৯৬৪)
- ছায়া হরিণ (১৯৬২) ইত্যাদি। 

তাঁর উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২)
- রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫২.
"ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. শেখ ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "ধন ধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা"- গানটির রচয়িতা 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক 'সাজাহান' নাটকে এই গানটি পাওয়া যায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণ-জাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৩.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কলমের চোখ
  2. খ) পরিত্যক্ত স্বামী
  3. গ) আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. ঘ) এলোমেলো
সঠিক উত্তর:
খ) পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পও।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৪.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ - যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন৷
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৫৫.
‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নাটকটি কোন বিদেশি নাটকের বাংলা অনুবাদ?
  1. Othello
  2. Macbeth
  3. The Taming of the Shrew
  4. The Comedy of Errors
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Taming of the Shrew
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্থুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৫৬.
উপমহাদেশের কোন কবি ব্রিটিশ বিরোধিতার কারণে সর্ব-প্রথম কারাবন্দী হন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: 
-  একজন কবি, কৃষক নেতা ও রাজনীতিবিদ।
-  তার জন্ম ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই বর্তমান সিরাজগঞ্জের বাণীকুঞ্জে। 
-  আধুনিক চিন্তা-চেতনায় অগ্রসর করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীশিক্ষা আন্দোলন, কৃষক প্রজার দুর্দশামোচন ইত্যাদি বহুমুখী -  কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
-  তিনি হিন্দু-মুসলান সমতা নিয়ে অসংখ্য কাজ করেছেন।
-  ব্রিটিশ সরকার তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৮২ বার ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।
-  ১৯১৯ সালের দিকে মাসিক নূর নামে একটি পত্রিকা বের করেন। 
-  ১৯৩১ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ৫১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর প্রথম রচনা ‘অনল-প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- উপমহাদেশের প্রথম কবি হিসেবে তিনি কারাবন্দী হন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। 

- অনল প্রবাহে তিনি লিখেছিলেন—
‘আর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া
উঠরে মোসলেম উঠরে জাগিয়া,
আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া,
পূত বিভু নাম স্মরণ করি।’

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ গীতিকাব্যকে অনুসরণ করে সিরাজী রচনা করেছিলের ‘প্রেমাঞ্জলি’ গীতিকাব্য। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
-  অনল-প্রবাহ, 
-  আকাঙ্ক্ষা, 
-  স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

♦ উপন্যাস: 
-  রায়নন্দিনী, 
-  তারাবাঈ, 
-  বঙ্কিম দুহিতা ইত্যাদি।

♦ সঙ্গীত গ্রন্থ: 
-  সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
-  প্রেমাঞ্জলি।

♦ প্রবন্ধ:
-  স্ত্রীশিক্ষা,
-  আদব কায়দা শিক্ষা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী:
-  তুরস্ক ভ্রমণ।

তথ্যসূত্র - ১. বাংলাপিডিয়া,
২. ডেইলি স্টার বাংলা।
৬,৩৫৭.
১৯৯৪ সালে যে প্রবন্ধকার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আহমদ শরীফ
  3. ওয়াকিল আহমদ
  4. আব্দুল মতিন খান
সঠিক উত্তর:
ওয়াকিল আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াকিল আহমদ
ব্যাখ্যা
• ওয়াকিল আহমদ:
অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদের জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯৪১ সালে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
১. উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা ও চেতনার ধারা (১৯৮৩),
২. বাংলার লোক-সংস্কৃতি (১৯৭৪, ৩য় সং ২০০৪),
৩. বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান (১৯৯৫, ৩য় সং),
৪. বাংলা সাহিত্যের পরাবৃত্ত (অখণ্ড, ১৯৯৭),
৫. মধ্যযুগে বাংলা কাব্যের রূপ ও ভাষা (১৯৯৪),
৬. বাংলার মুসলিম বুদ্ধিজীবী (১৯৮৫, ২০০২ ২য় সং),
৭. বাংলায় বিদেশী পর্যটক (১৯৯১, ২য় সং),
৮. প্রবাদ ও প্রবচন (১৯৯৪),
৯. ধাঁধা (১৯৯৫),
১০. মন্ত্র (১৯৯৫),
১১. ভাওয়াইয়া (১৯৯৫),
১২. ভাটিয়ালি গান (১৯৯৭),
১৩. সারিগান (১৯৯৮),
১৪. বাংলা লোকসাহিত্য: ছড়া (১৯৯৮),
১৫. বাউল গান (২০০০),
১৬. লোককলা প্রবন্ধাবলী (২০০১, ২য় সং ২০০৫)
১৭. লালন গীতি সমগ্র (২০০২, ২য় সং ২০০৫) ১
৮. বাংলার রেনেসাঁ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০৪),
১৯. বাংলা লোকসংগীতের ধারা (২০০৬),
২০. বাংলা লোকসাহিত্যের ধারা (২০০৭)। 

• সম্পাদক:
১. সাহিত্য পত্রিকা, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
২. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পত্রিকা;
৩. ইতিহাস, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ;
৪. লৌকিক বাংলা, বাংলাদেশ ফোকলোর পরিষদ, ঢাকা।

• পুরস্কার:
১. মনিরুদ্দিন রৌপ্যপদক (১৯৬২), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়;
২. আবদুর রব চৌধুরী স্বর্ণপদক (১৯৮০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ;
৪. সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি;
৫. দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক (২০০২) কলকাতা;
৬. একুশে পদক (২০০৪) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।


উৎস:‘লোককলা তত্ত্ব ও মতবাদ’ গ্রন্থ এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৬,৩৫৮.
“স্বপ্নসাধ” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) হুমায়ুন কবীর
  4. ঘ) কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন কবীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন কবীর
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
• এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
• ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৫৯.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমকাল
  4. কণ্ঠস্বর 
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ:
- ​১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
​- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- "কণ্ঠস্বর" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৬০.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র'
  2. খ) ‘ক্ষুধা ও আশা’
  3. গ) ‘কর্ণফুলি’
  4. ঘ) ‘ধানকন্যা’
সঠিক উত্তর:
গ) ‘কর্ণফুলি’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ‘কর্ণফুলি’
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

তার রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৬২ সাল।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।
কাহিনী সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০),
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- খসড়া কাগজ (১৯৮৬),
- স্বপ্নশিলা (১৯৯২),
- বিশৃঙ্খলা (১৯৯৭)।

তার তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা’ নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে (১৯৭৭ সালে
পুরস্কার পায়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৬১.
গিরিশচন্দ্র সেন ছিলেন-
  1. অনুবাদক ও নাট্যকার
  2. অনুবাদক ও ঔপন্যাসিক
  3. ধর্মবেত্তা ও কবি
  4. ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
সঠিক উত্তর:
ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক
ব্যাখ্যা
 • গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬২.
নিচের কোনটি দাউদ হায়দার রচিত কাব্য?
  1. ক) মা যে জননী কান্দে
  2. খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. গ) ঝরা পালক
  4. ঘ) বিরহ বিলাপ
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
ব্যাখ্যা
- কবি, লেখক ও সাংবাদিক দাউদ হায়দার রচিত কাব্য- জন্মই আমার আজন্ম পাপ

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে।
- আমি ভাল আছি তুমি।
- পাথরের পুঁথি।

অন্যান্য অপশনগুলো:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্য- ঝরা পালক।
- পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্য- মা যে জননী কান্দে।
- কায়কোবাদ রচিত একটি কাব্য- বিরহ বিলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৩.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ কোন গ্রন্থের অনুসরণে লেখা হয়েছে?  
  1. বিষাদ সিন্ধু
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’: 
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
------------------------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬,৩৬৪.
কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন। কুলীনকুলসবর্বস্ব (১৮৫৪) তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। এতে হিন্দুসমাজে বহুবিবাহ প্রথার কুফল সম্পর্কে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৩৬৫.
'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে একদিকে মৃত্যু অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা দেখানো হয়েছে।

-------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও একজন সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রূপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. আখ্যান মঞ্জরী
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বিশ্বপরিচয়
সঠিক উত্তর:
আখ্যান মঞ্জরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখ্যান মঞ্জরী
ব্যাখ্যা
• 'আখ্যান মঞ্জরী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৭.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. আরগ্য নিকেতন
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. কালিন্দী
  4. পরিণীতা
সঠিক উত্তর:
পরিণীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিণীতা
ব্যাখ্যা
• 'পরিণীতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য বহ্নি
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী, 
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কি?
  1. ক) তিতাস
  2. খ) নারায়ণ
  3. গ) কিশোর
  4. ঘ) করমালীর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোর
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম- 'কিশোর'।

তিতাস একটি নদীর নাম
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৬৯.
নিচের কোনটি ‘পথের পাঁচালি’ উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ইন্দির ঠাকরুন
  2. সর্বজয়া
  3. দুর্গা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- ‘পথের পাঁচালী‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ
 
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
৬,৩৭০.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) রংপুর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিরাজগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৩৭১.
আবু ইসহাকের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. জাল
  4. মহাপতঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাপতঙ্গ 
ব্যাখ্যা

মহাপতঙ্গ আবু ইসহাকের উপন্যাস নয়।  এটি হচ্ছে একটি গল্পগ্রন্থ।

আবু ইসহাক
- আবু ইসহাক ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় তাঁর 'অভিশাপ' নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খণ্ড: ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে সমৃদ্ধ করেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার:
  - বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩)
  - সুন্দরবন সাহিত্য পদক (১৯৮১)
  - বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক (১৯৯০)
  - একুশে পদক (১৯৯৭)
  - স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর, ২০০৪)
  - শিশু একাডেমি পদক (মরণোত্তর, ২০০৬)
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল। 

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৭২.
আহমদ ছফা রচিত 'অলাতচক্র' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
------------------------------
• আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

• তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলো আমার কনকচাঁপা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৭৩.
''বেতের ফলের মতো'' বা ''পাখির নীড়ের মতো'' উপমাগুলো কে নির্মাণ করেছেন?
  1. সুকুমার রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ  'বেতের ফলের মতো' বা 'পাখির নীড়ের মতো' উপমাগুলো নির্মাণ করেছেন। 

• জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত কবিতা: 
- জীবনানন্দ দাশের উপমামণ্ডিত একটি বিখ্যাত কবিতা হলো ‘বনলতা সেন’। 
- জীবনানন্দ তার কবিতায় ব্যবহার করলেন অসাধারণ সব উপমা, সে উপমার ভাষা যারা বুঝতে পারতেন; তারা তার কবিতায় বুদ হয়ে থাকতেন।
- তিনি লিখলেন—সোনার ডিমের মতো ফাল্গুনের চাঁদ, পাখির নীড়ের মতো চোখ, বেতের ফলের মতো ব্যথিত নীলাভ দু চোখ, বেবিলনের রানির ঘাড়ের উপর উজ্জ্বল চামড়ার শালের মতো জ্বলজ্বল করছিল বিশাল আকাশ, শিশিরের মতো সন্ধ্যা—এরকম আরও অসাধারণ তাক লাগানো মুগ্ধ হয়ে থাকার মতো শত শত উপমা।
- বনলতা সেন কবিতায় জীবনানন্দ ব্যবহার করলেন পাখির নীড়ের মতো চোখ। চোখের ভাষা দ্বারা মানুষ অনেক কিছু বুঝে নেয়।
- বনলতা সেনের পাখির নীড়ের মতো চোখ দ্বারা আশ্রয় বোঝানো হয়েছে। যে চোখে আছে আশ্রয়ের শপথ আর ভালোবাসা।

• জীবনানন্দ দাশ 'শঙ্খমালা' কবিতায় বেতের ফলের মতো  উপমা নির্মাণ করেছেন। 
----------------------------------------------------------- 
বনলতা সেন- কবিতা, 
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

----------------------------
শঙ্খমালা- কবিতা,
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—
সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক
জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—
ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে
ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে
সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে
তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।
দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:
সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—
বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,
শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।

উৎস: শঙ্খমালা- কবিতা, বনলতা সেন- কবিতা।
৬,৩৭৪.
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত - উপন্যাস

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম।

আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৭৫.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ভারতী
  2. দিগদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৭৬.
'ওরা কদম আলী' মামুনুর রশীদ রচিত-
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৭৭.
'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- 'শোকার্ত তরবারি' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- হাসান হাফিজুর রহমানের 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যের সবগুলো কবিতাতেই মূলত গদ্যছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ছন্দহীন জীবন সময় কে ফুটিয়ে তুলতে কবি গদ্যছন্দের আশ্রয় নিয়েছেন।
- রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:এই কবিতা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তরবারি এখানে নিপীড়িত বাঙালি জাতির সংগ্রামের প্রতীক — যারা কাঁদে, কিন্তু শেকল ভাঙতেও জানে।

---------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
 -তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ "একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি,
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৭৮.
‘নেমেসিস’ নাটকটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. শনিবারের চিঠি 
  3. সওগাত
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি 
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নাটক 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯–৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি রচনা করেন
 - ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।

- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

• 'সওগাত' পত্রিকা: 
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

• '
পূর্বাশা' পত্রিকা
- পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন:
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৭৯.
রূপকথার গল্পের বই 'ক্ষীরের পুতুল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  4. ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমর হয়ে আছেন তাঁর অনন্য গদ্যশিল্পের জন্য। 
- অবনীন্দ্রনাথ আধুনিক কালের একজন প্রধান চিত্রকর। 
- ছবি আঁকতে আঁকতে তিনি প্রবেশ করেছিলেন সাহিত্যে, এবং সাহিত্যে একে গেছেন চিত্রের পর চিত্র। 
- ১৮৯৫ সালে বের হয় তাঁর 'ক্ষীরের পুতুল' ও 'শকুন্তলা'।
- রূপকথার রূপে ভরে আছে বই দুটি। 
- তাঁর অন্যান্য বই - 
- বাংলার ব্রত 
- রাজকাহিনী 
- ভুত্‌ পেতনীর দেশ
- খাতাঞ্চির কথা
- আলোর ফুলকি
- বুড়ো আংলা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৬,৩৮০.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪১
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৩২
  4. ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
১৯৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩২
ব্যাখ্যা
উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একজন ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্প,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮১.
নিচের কোনটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প?
  1. ক) অন্বেষা
  2. খ) ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
  3. গ) দ্বিতীয় ভুবন
  4. ঘ) ভালো মানুষের জগৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভালো মানুষের জগৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভালো মানুষের জগৎ
ব্যাখ্যা
• 'ভালো মানুষের জগৎ' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প। প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।

•  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

• 'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

• দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৮২.
পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ করে সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন?
  1. আকাল
  2. ঘুম নেই
  3. অভিযান
  4. পূর্বাভাস
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
⇒ আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

⇒ সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৩.
সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য-রচনা কোনটি?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. টুনি মেম
  3. পঞ্চতন্ত্র
  4. শবনম
সঠিক উত্তর:
পঞ্চতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পঞ্চতন্ত্র সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি রম্য-রচনা। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- ১৯২৬ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থের মাধ্যমে, যা কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফল।
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন।
- মৃত্যু: ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায়।

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম। 

রম্য রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৮৪.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু শহীদুল্লাহ মোহাম্মদ নাঈম
  2. নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আবু নাঈম শহীদুল্লাহ
  4. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৫.
"তোমাদের যা বলার ছিল/ বলছে কি তা বাংলাদেশ?" - কে লিখেছেন?
  1. আসাদ চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
আসাদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• "তোমাদের যা বলার ছিল/ বলছে কি তা বাংলাদেশ?" - কবিতাংশটুকু  লিখেছেন - আসাদ চৌধুরী।
--------------------

'শহীদদের প্রতি' কবিতা,
– আসাদ চৌধুরী।

তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?
শেষ কথাটি সুরের ছিলো?
ঘৃণার ছিলো
নাকি ক্রোধের,
প্রতিশোধের,
কোনটা ছিলো?
নাকি কোনো সুখের
নাকি মনে তৃপ্তি ছিল,
দীপ্তি ছিল-
এই যাওয়াটাই সুখের। (সংক্ষেপিত)

কবি আসাদ চৌধুরী:
- ১৯৪৩ সালে বরিশালে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান এবং ২০১৩ সালে একুশে পদক পান।
- ১৯৮৩ সালে তার রচিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- তিনি কবি আল মাহমুদ পরিষদের সভাপতি ছিলেন।

উৎস: শহীদদের প্রতি – আসাদ চৌধুরী; বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।

৬,৩৮৬.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৭.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. কঙ্কাবতী
  2. অসমাপিকা
  3. মর্তের স্বর্গ
  4. অপসরণ
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৮.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।'- বিখ্যাত গানটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. লালন শাহ্
  3. হাসন রাজা
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্
ব্যাখ্যা
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৮৯.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী। তাঁর কবিতায় প্রথম বিশুদ্ধভাবে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে ভোরের পাখি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম- স্বপ্নদর্শন, সংগীত শতক, বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গ সন্দর্শন, বন্ধু বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিনী, সারদামঙ্গল, সাধের আসন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯০.
শহীদ কাদরীর 'সঙ্গতি' কবিতাটি কোন কবির সংগতি কবিতার প্যারোডি?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরীর 'সঙ্গতি' কবিতাটি কোন অমিয় চক্রবর্তীর 'সংগতি' কবিতার প্যারোডি।

সঙ্গতি
  - শহীদ কাদরীর
বন্য শূকর খুঁজে পাবে প্রিয় কাদা
মাছরাঙা পাবে অন্বেষণের মাছ,
কালো রাতগুলো বৃষ্টিতে হবে শাদা
ঘন জঙ্গলে ময়ূর দেখাবে নাচ
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না…
একাকী পথিক ফিরে যাবে তার ঘরে
শূন্য হাঁড়ির গহ্বরে অবিরত
শাদা ভাত ঠিক উঠবেই ফুটে তারাপুঞ্জের মতো,
পুরোনো গানের বিস্মৃত-কথা ফিরবে তোমার স্বরে
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না…
ব্যারাকে-ব্যারাকে থামবে কুচকাওয়াজ
ক্ষুধার্ত বাঘ পেয়ে যাবে নীলগাই,
গ্রামান্তরের বাতাস আনবে স্বাদু আওয়াজ
মেয়েলি গানের- তোমরা দু’জন একঘরে পাবে ঠাঁই
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না… (সংক্ষিপ্ত)


সংগতি
~ অমিয় চক্রবর্তী

মেলাবেন তিনি ঝোড়ো হাওয়া আর
পোড়ো বাড়িটার
ঐ ভাঙ্গা দরজাটা ।
মেলাবেন ।

পাগল দাপটে দেবে না গায়েতে কাঁটা ।
আকাশে আগুনে তৃষ্ণার মাঠ ফাটা
মারী-কুকুরের জিভ দিয়ে খেত চাটা,-
বন্যার জল, তবু ঝরে জল,
প্রলয় কাঁদনে ভাসে ধরাতল-
মেলাবেন । (সংক্ষিপ্ত)
৬,৩৯১.
'সত্যাসত্য' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'এর  রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। 

'সত্যাসত্য' ছয় খন্ডে ছয়টি নামে প্রকাশিত হয়। 
যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কলঙ্কবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্ত্যের স্বর্গ,
- অপসরণ।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৯২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কিসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে
  2. উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে
  3. ছন্দের জাদুকর হিসেবে
  4. নাট্যকার হিসেবে
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দের জাদুকর হিসেবে
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৩.
অধ্যাপক আহমদ শরীফের মৃত্যু সন কোনটি?
  1. ১৯৯৭
  2. ১৯৯৮
  3. ১৯৯৯
  4. ২০০০
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৪.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. দিনিলিপি 
  2. রাজনৈতিক নাটক 
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

--------------------
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৩৯৫.
'বৃহৎবঙ্গ' কে রচনা করেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
‘বৃহৎবঙ্গ’:
- এটি দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ।
- এটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত ১৯৩৬ সালে।
- সুপ্রাচীনকাল হতে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের বাংলাদেশের ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের প্রিয় রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে লিখিত গ্রন্থ।
- ‘বৃহৎবঙ্গ’ বহু তথ্যের জন্য সম্বলিত এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ রচনা।
- নিরপেক্ষভাবে তথ্য প্রদানের জন্য গ্রন্থটি সর্বমহলে বিশেষভাবে সমাদৃহ হয়।

দীনেশচন্দ্র সেন:

- তিনি ১৮৬৬ সালে মাতুলালয় বগজুড়ি গ্রামে, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল সুয়াপুর গ্রাম, ঢাকায়। 

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য,
- বৃহৎবঙ্গ,
- বঙ্গসাহিত্য পরিচয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাএর, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯৬.
‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসটির বিষয়বস্তু -
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯৭.
'শিক্ষক ও শিক্ষার্থী' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৩৯৮.
'অ-তে-অজগর' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহসান হাবীব
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'অ-তে-অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রন্থ। 

--------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৩৯৯.
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) গরীবের মেয়ে
  2. খ) মরুভাস্কর
  3. গ) উন্নত জীবন
  4. ঘ) আনোয়ারা
সঠিক উত্তর:
খ) মরুভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মরুভাস্কর
ব্যাখ্যা
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ - মরুভাস্কর, মহামানুষ মুহসীন, স্মার্ণা-নন্দিনী, মণিচয়নিকা ইত্যাদি।
- আনোয়ারা ও গরীবের মেয়ে উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান।
- উন্নত জীবন প্রবন্ধের রচয়িতা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,৪০০.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ‘দেয়াল’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:

• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

অন্যদিকে,
- হুমায়ূন আহমেদ রচিতে একটি উপন্যাস রয়েছে‘দেয়াল’ (২০১২) নামে।
- উপন্যাসের একটি আখ্যানে তিনি পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি বর্ণনা করে ইতিহাসের নানা পরিবর্তনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় আখ্যানে তিনি কিছু চেনা চরিত্র সৃষ্টি করে এর সমন্বয় সাধন করেছেন। তবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের ‘ব্যক্তিগত পটভূমি’ দ্বারা ‘প্রভাবান্বিত’ হওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।