বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৬৩ / ৭৭ · ৬,২০১৬,৩০০ / ৭,৬৪৬

৬,২০১.
সত্যেন সেন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. আবোলতাবোল
  2. পাতাবাহার
  3. বহুরূপী
  4. খাইখাই
সঠিক উত্তর:
পাতাবাহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতাবাহার
ব্যাখ্যা
• সত্যেন সেন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ  হলো- পাতাবাহার।

-----------------
• সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো
- আবোলতাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২০২.
"রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্যকাহিনী" - গ্রন্থগুলো কে লিখেছেন?
  1. কায়কোবাদ 
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. নীলিমা ইব্রাহীম 
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২০৩.
আহসান হাবীবের উপন্যাস কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. অরণ্য নীলিমা
  3. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. মেঘ বলে চৈত্র যাবো
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীবের উপন্যাস।

• আহসান হাবিব:
- ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
-তিনি  'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) 
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
- জাফরানি রিং পায়রা।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪),
- আশায় বসতি (১৯৭৪),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬),
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১),
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৪.
বন্দে আলী মিয়া কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেননি?
  1. কিশোর পরাগ
  2. শিক্ষার আলো
  3. জ্ঞানের আলো
  4. শিশুবার্ষিকী
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার আলো
ব্যাখ্যা

বন্দে আলী মিয়া 'শিক্ষার আলো' নামের কোনো পত্রিকা সম্পাদনা করেননি। 

বন্দে আলী মিয়া:
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনার রাধানগর গ্রামে জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়েছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো।

রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২০৫.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী 
  2. মোসলেম ভারত
  3. তত্ববোধিনী 
  4. বঙ্গদর্শন 
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- কাজী ইমদাদুল হকের শেষ রচনা 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসের ৩০ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পরে আনোয়ারুল কাদীর বাকি ১১ পরিচ্ছেদ রচনা করেন মূল গ্রন্থকারের
খসড়া-অবলম্বনে। তবে আবদুল কাদির বলেছেন, তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ পার্থক্য ঘটেছে।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের যেসব সমস্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, পিরবাদ তার মধ্যে প্রথম।


উপন্যাসে চিত্রিত সমস্যসমূহ ও কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসের নায়ক আবদুল্লাহ্ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী। তার মতে, পির-মুরিদি ব্যবসাটা হিন্দুদের পুরুতগিরির অনুকরণ, ইসলামে তার স্থান নেই। কাসেম গোলদারের বাড়িতে নিজের পিতৃপুরুষের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প শুনে তার মনে বিস্ময় জাগে: 'পুত্রের পীরত্বে পিতার হৃদয়ে এরূপ সাংঘাতিক হিংসার উদ্রেক আরোপ করিয়া ইহারা পীর-মাহাত্ম্যের কি অদ্ভুত আদর্শই মনে মনে গড়িয়া তুলিয়াছে!' পির হওয়ার সহজ পথ ত্যাগ করে আবদুল্লাহ্ চাকরি করে উপার্জন করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।

• আশরাফ-আতরাফভেদ আরেক সামাজিক সমস্যা। সৈয়দ সাহেবের মাদ্রাসায় এদের পাঠদানের বৈষম্য দেখে আবদুল্লাহ্ বিস্মিত হয় এবং মৌলভী সাহেবকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মৌলভী সাহেব জানান, আতরাফের সন্তানেরা তো মিয়াদের সমান চলতে পারে না, তাই সৈয়দ সাহেব এই বিষম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ যখন বলে, একেবারেই যদি তাদের পড়ানো না হয়, তাহলে কি আরো ভালো হয় না?, মৌলভী সাহেব তখন বলেন, গরিবেরা যখন শিখতে চায়, তখন তাদের একেবারে নিরাশ করলে খোদার কাছে কী জবাব দেবেন, তাছাড়া গোম্বারে এলেমদান করলে অনেক সওয়াব হয়, একথা কেতাবে আছে। এই সমস্যার চরম অভিব্যক্তি দেখা যায় মসজিদের ইমাম জোলা বলে যখন সৈয়দ সাহেব তাঁর পিছনে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন, তখন। এমনকী, সুফী সাহেব পর্যন্ত সৈয়দ সাহেবের এমন বংশাভিমান সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না। এই অশিষ্টতার বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ্ এক মূর্তিমান প্রতিবাদ-সে জোলা ইমামের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বংশমর্যাদা-প্রসঙ্গে মীর সাহেবের কথায় আবদুল্লাহ্‌র মনোভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে: 'কবরের ওপারের দিকে তাকাবার আমি কোন দরকার দেখি নে।'

• পর্দাপ্রথার শ্বাসরুদ্ধকর কড়াকড়ির বিরুদ্ধেও আবদুল্লাহ্ সাহস করে দাঁড়িয়েছে। পল্লীসমাজের পরনিন্দা-প্রবৃত্তি এবং খাতকের প্রতি মহাজনের অত্যাচারের চিত্র-উদ্‌ঘাটনে কাজী ইমদাদুল হক অকুণ্ঠ। হিন্দু-মুসলমান-বিরোধের পর্যালোচনাও তিনি করেছেন, সেখানে তিনি দায়ী করেছেন সম্প্রদায়কে নয়, ব্যক্তিকে। 

---------------------
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস। 

৬,২০৬.
‘বৃষ্টি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা হলো ‘বৃষ্টি’। তাঁর রচিত বিখ্যাত আরো কবিতা ‘হলো সাত সাগরের মাঝি’, ‘পাঞ্জেরী’। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬,২০৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৮.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. উপমহাদেশ
  3. সাদা কফিন
  4. পরীবানুর কাহিনী
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• "উপমহাদেশ" উপন্যাস:
- "উপমহাদেশ" কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।

অন্যদিকে, 
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রস্থ।
• বিপ্রদাশ বড়ুয়া রচিত ‘সাদা কফিন ও মুক্তিযোদ্ধা’ ( ২০১৭) গল্পগ্রন্থের অন্যতম নামগল্প ‘সাদা কফিন’। এই গল্পের প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘পরীবানুর কাহিনী’ হলো সত্যেন সেন রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে লেখা, যেখানে এক সাধারণ মেয়ে পরীবানুর জীবন ও অসাধারণ ত্যাগ ও সাহসিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর মানবিক আবেদনের গল্প বলে।

উৎস: "উপমহাদেশ" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬,২০৯.
'মহাকবি আলাওল' - নাটকটি কে রচনা করেন ?
  1. সানাউল হক
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- কবিতা,
- বৃশ্চিকলগ্ন।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১০.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কালিদাস রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - হাঁসুলী বাঁকের উপকথা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ,
লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি।
- পঞ্চগ্রাম।
- ধাত্রীদেবতা।
- কালিন্দী।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২১১.
কায়কোবাদের ‘মহাশশ্মান’ কোন ধরণের রচনা?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) গীতিকার
সঠিক উত্তর:
খ) মহাকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া।

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,২১২.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ এই উক্তিটি করেন কে?
  1. সমর সেন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. শামসুর রহমান
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৩.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আরোগ্য নিকেতন
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক-হরকরা
ব্যাখ্যা
• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত ল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

-----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১৪.
'অনল প্রবাহ' — কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন
  1. কায়কোবাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য ’অনল প্রবাহ’।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
--------------------------------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,২১৫.
'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ও জীবন পথের যাত্রী উপন্যাসগুলোর রচয়িতা আবুল ফজল। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৬,২১৬.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. দুই সৈনিক
  3. আগুনের পরশমনি
  4. যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দুই সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা

'দুই সৈনিক':
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

"দুই সৈনিক"
গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক।
বেতারের সংবাদই তখন জীবন সঞ্জীবনী। কলকাতা বেতার শুনছে সাহেলী ও চামেলী। বাবা মখদুম মৃধা; তিনি মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাজাও পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন। একটি গ্রামীণ প্রতিবেশে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, ইতিহাসের সভ্যতা তার পরিপূরক হয়ে আসে। প্রথম দুপর্বে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক কথোপকথনে জানা যায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দেশের স্বাধীনতা, শেখ মুজিব কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন, নির্বাচনে জিতেছেন। মখদুম মৃধার দুই মেয়ে সারাক্ষণ ট্রানজিস্টার নিয়ে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ শুনছেন। রণেশদাশ গুপ্তের মতে, দুই সৈনিক হচ্ছে হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার। ৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক। তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই জন্যই সম্ভবত উপন্যাসের নাম দুই সৈনিক। কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে সচেতন লেখক শওকত ওসমান সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা বলতে ভোলেননি।

শওকত ওসমান:
-  শওকত ওসমান, একজন  কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
-  ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য

অন্যদিকে,
- ’সৈয়দ শামসুল হক’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “নিষিদ্ধ লোবান”।
- ’হুমায়ূন আহমেদ’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “আগুনের পরশমনি”।
- ’সেলিনা হোসেন’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “যুদ্ধ”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দুই সৈনিক উপন্যাস ।

৬,২১৭.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'প্রথম আলো' কোন জাতীয় উপন্যাস?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. মন্বস্তাত্বিক
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত  বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'। 
- এই উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনী দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- একা এবং কয়েকজন

উৎস: প্রথম আলো উপন্যাস ও সাহিত্য বিষয়ক ব্লগ।
৬,২১৮.
'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।'- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষার মিলন
  2. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  3. সংস্কৃতি কথা
  4. সভ্যতার সংকট
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
• 'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।' - মোতাহার হোসেন চৌধুরী 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে এ উক্তিটি করেন।

⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর (১৯০৩-১৯৫৬) জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী ও
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সংস্কৃতি কথা,
- সভ্যতা ও,
- সুখ।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ ‘শিক্ষার মিলন’ ও ‘সভ্যতার সংকট’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২১৯.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' স্মৃতিকথার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

• শহীদুল্লা কায়সার:
• শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
- তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সংশপ্তক' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

অপরদিকে,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ।
- 'শয়তানের জবানবন্দি' হলো আরজ আলী মাতুব্বরের রচনা।
- 'কারাগারের রোজনামোচা' হলো শেখ মুজিবর রহমানের দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২২০.
দৌলত উজির বাহরাম খান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. কৃষ্ণনগর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• দৌলত উজির বাহরাম খান ষােড়শ শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ বা জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আসা উদ্দিন।
• তাঁর রাজকীয় উপাধি দৌলত উজির বা অর্থ সচিব।
• তাঁর রচিত কাব্যঃ
- ‘জঙ্গনামা’ বা ‘মক্তুল হােসেন',
- 'লায়লী-মজনু'।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৬,২২১.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) ইতিহাসমালা
  2. খ) রাজা প্রদাপাদিত্য চরিত্র
  3. গ) ফুলমণি ও করুনার বিবরণ
  4. ঘ) লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা প্রদাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা প্রদাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

- 'লিপিমালা' (১৮০২) রামরাম বসু রচিত অপর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। 
- উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গদ্য গ্রন্থ। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হেনা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ( ১৮৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২২.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা?
  1. ক) আহমদ শরিফ
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালী তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে। 

এস ওয়াজেদ আলি
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা' 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য 
- ভবিষ্যতের বাঙালী 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প
- গুলদাস্তা
- মাশুকের দরবার 
- বাদশাহী গল্প 
- গল্পের মজলিশ 

তাঁর রচিত উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর 

ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত
- মোটর যোগে রাঁচী সফর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৩.
'বাংলার কাব্য' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- 'বাংলার কাব্য' হুমায়ুন কবির রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

হুমায়ুন কবির: 
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। 
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিব হিসেবে যোগদান করেন। 
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। 
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের বশির হাট থেকে লোকসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:  
• কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ, 
- সাথী, 
- অষ্টাদশী। 

• উপন্যাস: 
- নদী ও নারী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- ইমানুয়েল কান্ট, 
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- নয়া ভারতের শিক্ষা, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, 
- মিরজা আবু তালিব খান, 
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৪.
'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. কাজী মোতাহের হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
ব্যাখ্যা
• 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটির রচয়িতা: কাজী কাদের নেওয়াজ। 


'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা'
- কাজী কাদের নেওয়াজ।

বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

------------------- 
• কাজী কাদের নেওয়াজ:

- ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বিকাশ, শিশুসাথী, ভারতবর্ষ, বসুমতী, শুকতারা, পাঠশালা, রামধনু, শীশমহল, মৌচাক, প্রবাসী, সওগাত প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি রবীন্দ্রভাব-বলয়ের কবি হলেও বিষয়ে, বিন্যাসে, আঙ্গিকে ও প্রকাশনৈপুণ্যে তাঁর কাব্য স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।
- ছান্দসিক কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন।
- প্রেম, প্রকৃতি ও স্বদেশ তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু।
- ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি স্বগ্রামে তাঁর মত্যু হয়।

• কাজী কাদের নেওয়াজের গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি হলো:
- মরাল,
- দাদুর বৈঠক,
- নীল কুমুদী,
- মণিদীপ,
- কালের হাওয়া,
- মরুচন্দ্রিকা,
- দুটি পাখি দুটি তারা,
- উতলা সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২২৫.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা

• 'নবান্ন' নাটক:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২২৬.
'ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. সুকুমার সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন - সুকুমার সেন। 

সুকুমার সেন:

-  জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,২২৭.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
• এছাড়া তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
- 'কবিতার কথা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তিঃ 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি'।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ধূসর পান্ডুলিপি (বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন),
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক (প্রথম প্রকাশিত),
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির (হুমায়ুন কবিরকে উৎসর্গ করেন),
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,২২৮.
আহসান হাবীব এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. খ) রাত্রিশেষে
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
খ) রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২২৯.
বাংলা সাহিত্যে ‘নাগরিক কবি’ হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) সিকান্দর আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
খ) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমর সেন
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক নাগরিক কবি - সমর সেন
নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী চেতনা ইত্যাদি - তার রচিত কবিতায় বলিষ্টভাবে রূপায়িত হয়েছে।
এই কারণে তাকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
সমর সেন রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কাব্য রচনা করতেন এবং রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে।

- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের ও বাংলাদেশের আধুনিক কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করেছিলেন।
শামসুর রাহমানের কাব্যে আধুনিকতার যথার্থ প্রকাশ ঘটেছে এবং কাব্যের সাম্প্রতিকতম বিবর্তনের সঙ্গেও তিনি সংযোগ সাধন করে আছেন। তার মূল্যবোধ প্রধানত ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু এর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সূত্রে জড়িত হয়েছে পরিপার্শ্ব, সমাজ ও সময়জ্ঞানতা। উপমা ও চিত্রকল্পে তিনি প্রকৃতি নির্ভর এবং বিষয় ও উপাদানে শহরকেন্দ্রিক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৩০.
'নীলদর্পণ' নাটকটি কত সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৬ সালে
  2. ১৮৬০ সালে
  3. ১৮৫০ সালে
  4. ১৮৫৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,২৩১.
“নীল দংশন” কার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান ও
- নীল দংশন

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- ত্রাহী,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন (ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত),
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,২৩২.
শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা' কোন সময়ের ঘটনার শিল্পরূপ?
  1. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
  2. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ
  3. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে'র প্রথম সপ্তাহ
  4. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে'র দ্বিতীয় সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
যাত্রা:
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই 'যাত্রা'।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার শিল্পরূপ।
- 'যাত্রা' উপন্যাস মূলত যুদ্ধে আক্রান্ত নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন এবং আশ্রয়ের শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তারা প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
৬,২৩৩.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. ডানপিটে শওকত
  3. এলাটিং বেলাটিং
  4. টুনি মেম
সঠিক উত্তর:
এলাটিং বেলাটিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাটিং বেলাটিং
ব্যাখ্যা
⇒ ‘এলাটিং বেলাটিং’ শামসুর রাহমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো,
- স্মৃতির শহর,
- লাল ফুলকির ছড়া। 

অন্যদিকে,
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি ‘চাচা-কাহিনী’ ও ‘টুনি মেম’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৪.
‘নূরলদীনের সারাজীবন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. অনুবাদ নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা নয় কোনটি?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর  রচনা নয়। 
- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’- ঐতিহাসিক রচনা।
----------------------- 
 ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
=============== 
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত 'ত্রয়ী' উপন্যাসের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. সংকর সংকীর্তন
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. দেয়াল
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় - দেয়াল।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
---------------------------- 
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৭.
'পুঁই ডালিমের কাব্য' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'পুঁই ডালিমের কাব্য' (১৯৮৭) গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৮.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. পশ্চিমের যাত্রী
  2. দুয়ার হতে অদূরে
  3. মস্কোতে কয়েকদিন
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
সঠিক উত্তর:
মস্কোতে কয়েকদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্কোতে কয়েকদিন
ব্যাখ্যা
• ‘মস্কোতে কয়েকদিন’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

অন্যদিকে,
- ‘দুয়ার হতে অদূরে’ বিভূতিভূষণ মুখোপধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- 'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৩৯.
'সংশপ্তক' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে-
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ 
  4. শ্রেণিসংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ 
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

• শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৪০.
'দিয়েছিলে সকল আকাশ' - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'দিয়েছিলে সকল আকাশ' - এর রচয়িতা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এটি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে একটি।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪১.
শওকত আলী তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. ওয়ারিশ
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. প্রদোষে প্রাকৃতজন
সঠিক উত্তর:
পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• 'দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' ত্রয়ী উপন্যাস:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলে স্বীকৃত।

- উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

- ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- এই ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে আলাদা করে শুধু "পূর্বরাত্রি পূর্বদিন" প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, 'প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে'।

------------------
• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দক্ষিণায়নের দিন' উপন্যাসের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪২.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আবু ইসহাক
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের রচয়িতা আহমদ শরীফ।
- এটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

--------------------
• আহমদ শরীফ:

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৪৩.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. কামিনী রায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া':
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৪.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কারবালার প্রান্তরে
  2. খ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  3. গ) বিষাদসিন্ধু
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৪৫.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) অক্ষরবৃত্ত
  3. গ) মাত্রাবৃত্ত
  4. ঘ) অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তীর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা।
• কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত (৮+১০ মাত্রা)।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- কবিতাবলী,
- উপহার,
- পারাপার,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,২৪৬.
'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম' - কে বলেছেন?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

-----------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৭.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।
• উপন্যাসের প্রধানি নারী চরিত্র “বাসন্তী” এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র হচ্ছে “কিশোর”।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৪৮.
বিদ্যাপতি কোথাকার কবি?
  1. ক) বৃন্দাবন
  2. খ) নবদ্বীপের
  3. গ) মিথিলার
  4. ঘ) বর্ধমানের
সঠিক উত্তর:
গ) মিথিলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিথিলার
ব্যাখ্যা

মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
তবে সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে - কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৬,২৪৯.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমনকাহিনি?
  1. য়ুরোপের চিঠি
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. জাভার যাত্রী
  4. জাপান যাত্রী
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপের চিঠি
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• ১৯০৪ সালের ১৫ই মার্চে ভারতের উড়িষ্যায় জন্ম।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।  

⇒ তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত 'সত্যাসত্য' ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে-
• যার যেথা দেশ, 
• অজ্ঞাতবাস, 
• কলঙ্কবতী, 
• দুঃখমোচন,  
• মর্ত্যের স্বর্গ, 
• অপসরণ। 
- ছয় খন্ডে রচিত 'সত্যাসত্য' বাংলায় মননশীল উপন্যাস রচনায় এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে।  

⇒ উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:  
• আগুন নিয়ে খেলা, 
• অসমাপিকা, 
• পুতুল নিয়ে খেলা, 
• বিশল্যকরণী।
⇒ তাঁর মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২।   

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫০.
'বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে' - এটি কে বলেছেন?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে' - এটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

বাংলা ভাষার উৎপত্তির সময়:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন - সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি
- স্যার জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ পণ্ডিত বলেছেন - দশম শতাব্দীতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৬,২৫১.
'লালসালু' উপন্যাসটি ফরাসি অনুবাদ করেন কে?
  1. নিলুফার আহমেদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. অ্যান মেরি
  4. ক্যাথরিন লিম
সঠিক উত্তর:
অ্যান মেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান মেরি
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। 'লালসালু' উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- এ উপন্যাসে গ্রামবাংলার এক চতুর ধর্মব্যবসায়ী ধর্মপ্রবণ মুসলিম সমাজে এক কল্পিত মাযারকে পুঁজি করে কীভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং শেষে তাঁরই কিশোরী স্ত্রী জমিলা কীভাবে তাকে আশঙ্কাগ্রস্ত করে তোলে, তারই আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ পটভূমিকায় লেখক ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।
- প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ফরাসি অনুবাদ করেন তাঁর পত্নী 'অ্যান মেরি'।
- ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়।
- পরে চেক ও জার্মান ভাষাও এর অনুবাদ হয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৬,২৫২.
'মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা'- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) রজনীকান্ত সেন
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’- গানটির রচয়িতা- 'অতুলপ্রসাদ সেন'।  
- গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। 

অতুলপ্রসাদ সেন 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৫৩.
আহমদ ছফার উপন্যাস-
  1. পালাবদল
  2. সূর্য তুমি সাথী
  3. অসমাপিকা
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য তুমি সাথী
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার (উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
• অসমাপিকা উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• পরিত্যক্ত স্বামী উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
• পালাবদল অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৫৪.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শহীদ কাদরী
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ:
- ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ শহীদ কাদরী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ কাব্য গ্রন্থটি তাদের একমাত্র ছেলে আদনান কাদরীকে উৎসর্গ করেছিলেন কবি শহীদ কাদরী। 

উল্লেখ্য,
• ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ গ্রন্থটি শহীদ কাদরী তাঁর স্ত্রীকে উৎসর্গ করেছিলেন।

--------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ),
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই’ কাব্যগ্রন্থ।
৬,২৫৫.
'আনন্দের মৃত্যু' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আনিস চৌধুরী
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো ইত্যাদি।
তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৫৬.
'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মামুনুর রশিদ
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমের সমাধি' উপন্যাস মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেছেন।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:

- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- তাঁর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা। উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৫৭.
'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- 
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. সত্যেন সেন 
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন 
ব্যাখ্যা

• 'উদীচী' সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিল- সত্যেন সেন।
----------------------------------------- 
• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিপ্লবী কথাশিল্পী হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত। 
- তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন সেন ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক।
- তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।
- এছাড়া তিনি মার্ক্সবাদে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

উপন্যাস:
- আলবেরুনী, 
- মা, অপরাজেয়, 
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান,
- কুমারজীব,
- বিদ্রোহী কৈবর্ত,
- পুরুষমেধ,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ

ইতিহাস ও গবেষণা বিষয়ক
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম,
- মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে,
- ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা। 

শিশুসাহিত্য:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী

বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমাদের এই পৃথিবী,
- এটমের কথা।
---------------------------------------------------- 
উদীচী সম্পর্কিত কিছু কথা:
- বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (উদীচী) বাংলাদেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে সত্যেন সেন এর নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত ও শহীদুল্লা কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ সদস্য যোগদানের মাধ্যমে উদীচী'র কার্যক্রম শুরু হয়।
- জন্মলগ্ন থেকেই উদীচী অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ গঠনের জন্য সংগ্রাম করেছে।
- ৬৮ থেকে ৭১ সালের মধ্যে উদীচী বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে সাংস্কৃতিক সংগ্রাম পরিচালনা করে।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬,২৫৮.
ফররুখ আহমদ-এর 'মুহূর্তের কবিতা' কোন আঙ্গিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. গীতিনাট্য
  2. এলিজি
  3. সনেট সংকলন
  4. কাহিনি কাব্য
সঠিক উত্তর:
সনেট সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংকলন
ব্যাখ্যা
• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।

• মুহূর্তের কবিতা:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি। 

• ফররুখ আহমদ:  
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
 
৬,২৫৯.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যটি কোন ঘটনার পদধ্বনি নির্দেশ করে?
  1. মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
  2. মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের পদধ্বনি
  3. রাজাকারদের আগমনের পদধ্বনি
  4. মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রুদমনের পদধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- কাব্যনাট্যটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

নাটকের চরিত্রগুলো হলো-
- মাতবর, 
- পীর সাহেব, 
- মাতবরের মেয়ে, 
- পাইক, 
- গ্রামবাসীগণ, 
- তরুণদল, 
- মুক্তিযোদ্ধাগণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য।
৬,২৬০.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ।
- রচয়িতা রাজা  রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬১.
‘আদিগন্ত’ সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

-----------------------------
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:

- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬২.
চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গোরা
  2. খ) ঘরে-বাইরে
  3. গ) শেষের কবিতা
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে-বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
- চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ চরিত্র রয়েছে।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৩.
'নাট্যাচার্য' হিসাবে খ্যাত -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিম-আল-দীন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম-আল-দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম-আল-দীন
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।
- ২০০৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৪.
"এখনও ক্রীতদাস" নাটকের নাট্যকার ছিলেন-
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• "এখনও ক্রীতদাস" নাটক :
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত "এখনো ক্রীতদাস" নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত। পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

- সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক এখনো ক্রীতদাস।

---------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন(১৯৪২-২০০৮) নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

আবদুল্লাহ আল মামুন ৭টি উপন্যাস রচনা ও প্রকাশ করেন, সেগুলো-
- মানব তোমার সারাজীবন,
- আহ্ দেবদাস,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডার বাবা,
- খলনায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "এখনো ক্রীতদাস" নাটক।
৬,২৬৫.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির?
  1. মহাদেব সাহা
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৬.
‘মায়ামালঞ্চ’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি ____।
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাটক
ব্যাখ্যা

মায়ামালঞ্চ বুদ্ধদেব বসুর একটি নাটক।
মায়ামালঞ্চ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:-
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী
- কলকাতার ইলেকট্রা ও সত্যসন্ধ
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

৬,২৬৭.
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আরো দুটি মৃত্যু
  2. খ) শিউলি
  3. গ) আর্ত শব্দাবলী
  4. ঘ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
গ) আর্ত শব্দাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আর্ত শব্দাবলী
ব্যাখ্যা
• ‘আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
• 'শিউলি' ২০০৬ সালে প্রকাশিত, হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
• 'আরো দুটি মৃত্যু' ১৯৭০ সালে প্রকাশিত, হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প।

অন্যদিকে,
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৬৮.
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. কোলকাতা
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ:
- ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সঙ্গীতপরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
- আলাউদ্দিন খাঁ'র ডাক নাম ছিল ‘আলম’।
- ১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
- তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসঙ্গীতকে সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যের শ্রোতাদের নিকট পরিচিত করান।
- তিনি নৃত্যাচার্য উদয়শঙ্কর পরিচালিত নৃত্যভিত্তিক ‘কল্পনা’ শীর্ষক একটি ক্ল্যাসিকধর্মী ছায়াছবিতে আবহসঙ্গীতে সরোদ পরিবেশন করেন।
- আলাউদ্দিন খাঁ সরোদে বিশেষত্ব অর্জন করেন।
- সহজাত প্রতিভাগুণে তিনি সরোদবাদনে ‘দিরি দিরি’ সুরক্ষেপণের পরিবর্তে ‘দারা দারা’ সুরক্ষেপণ-পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
- সেতারে সরোদের বাদনপ্রণালী প্রয়োগ করে সেতারবাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন।
- এভাবে তিনি সঙ্গীতজগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণী ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- তিনি দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্ট্রার স্টাইলে একটি যন্ত্রীদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’
- ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) ও ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১); বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬১) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৫৪ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক প্রথম সঙ্গীত নাটক আকাদেমীর ফেলো নির্বাচিত হন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ্ মুসলিম হল তাঁকে আজীবন সদস্যপদ দান করে।
- তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ'র তালিমের গুণে তাঁর পুত্র সরোদশিল্পী ওস্তাদ আলী আকবর খান বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
- তাঁর জামাতা সেতারশিল্পী পন্ডিত রবিশঙ্কর বিশ্বখ্যাত হয়েছেন এবং ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ, ও ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। 
- তিনি ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৯.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা -
  1. কামিনী রায়
  2. মদনমোহন তর্কালংকার
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - উক্তিটি 'আদর্শ ছেলে' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কবিতার রচয়িতা হলেন- কুসুমকুমারী দাশ।।

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭০.
নিচের কোন লেখন কল্লোল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
- যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
- কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যের একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
- মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।
- সমকালীন ইংরেজি ও বিদেশী সাহিত্যের অনুসরণে বাংলা সাহিত্যের পাঠকরা পরিচিত হয় ন্যাচারালিজম, শারীরিক ভাবনা, জীবনসংগ্রাম, রাজনীতি, সমাজনীতি সহ নানা নতুন নতুন বিষয়ের সাথে।
- কার্ল মার্কস ও সিগমন ফ্রয়েডের চিন্তাধারার প্রভাবে সাহিত্যে এক নতুন রচনাশৈলী তৈরী হয়।
- এ যুগের শক্তিমান কথা-সাহিত্যিকদের হলেন জগদীশ গুপ্ত, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, প্রমথনাথ বিশী, মনোজ বসু, গোপাল হালদার, অন্নদাশঙ্কর রায়, প্রবোধকুমার সান্যাল, সুবোধ ঘোষ, গজেন্দ্রকুমার মিত্র সহ আরো অনেকে।
- কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত, তাঁরা হলেন- কবি জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, কাজী নজরুল ইসলাম, অমিয় চক্রবর্তী, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সঞ্জয় ভট্টাচর্য সহ অনেকের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবিতার ব্লগ।
৬,২৭১.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ' 

 আবদুল মান্নান সৈয়দ
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭২.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) গাভী বিত্তান্ত
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসঃ
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।
• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৭৩.
পঞ্চতন্ত্র গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সত্যেন সেন
  2. আবুল ফজল
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রচিত এবং প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জলাঙ্গী
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

• ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পলায়ন-পর মধ্যবিত্তের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসে ।
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- গাজী রহমান যুদ্ধকালের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নয়। বরং সে সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পথে নামে সে।
- এক সময় দেশের সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ বোধ করে নিজে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
» জননী,
» ক্রীতদাসের হাসি,
» সমাগম,
» চৌরসন্ধি,
» রাজা উপাখ্যান,
» জাহান্নম হইতে বিদায়,
» দুই সৈনিক,
» নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
» পতঙ্গ পিঞ্জর,
» আর্তনাদ,
» রাজপুরুষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩) উপন্যাসে জায়েদা, তানিমা, সখিনা, রশীদা বিবি, আমোদিনী প্রমুখ নির্যাতিতা নারীরা যেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের প্রতীক। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে নারী নির্যাতনের মর্মন্তুদ কাহিনী। সিভিল সাপ্লাইয়ের গোডাউনে প্রায় একশ নারীকে ধরে এনে উলঙ্গ করে রেখেছিল হানাদাররা। এখানেই নির্যাতনের শিকার হয় পাঁচজন নারী। তাদের অতীত জীবনালেখ্য, তাদের বন্দি জীবনের মর্মন্তুদ ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে।

⇒ 'দুই সৈনিক' (১৯৭৩) উপন্যাসে হানাদার বাহিনীর লালসায় বিপন্ন বাঙালি নারীর বিনষ্ট জীবনের অভিঘাত প্রতিবিম্বিত হয়েছে। হানাদার বাহিনীর নারী লোলুপতার ঘৃণ্য চেহারাকে ফুটিয়ে তুলেছেন দুই সৈনিক (১৯৭৩) উপন্যাসে। এ উপন্যাসে দুই সামরিক অফিসার পাকিস্তানের সমর্থক একজন মুসলিম লীগপন্থি চেয়ারম্যানের বাড়িতে পরম আতিথেয়তা লাভের পর তার কলেজপড়–য়া দুই মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। নিজের চোখের সামনে মেয়েদের তুলে নিতে দেখে অসহায় বাবা তীব্র গ্লানিতে আত্মহত্যা করে।

⇒ স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়। এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস।
৬,২৭৫.
কোনটি সমর সেন রচিত গদ্যগ্রন্থ?
  1. ক) নানাকথা
  2. খ) খোলাচিঠি
  3. গ) তিন পুরুষ
  4. ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবু বৃত্তান্ত
ব্যাখ্যা
সমর সেন রচিত গদ্যগ্রন্থ - বাবু বৃত্তান্ত

• সমর সেন ১৯১৬ সালে ১০ই অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।তাকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়। তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- কয়েকটি কবিতা
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা
- নানাকথা
- খোলাচিঠি
- সমর সেনের কবিতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৭৬.
‘কাহ্নপা’ চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নীল ময়ূরের যৌবন
  4. কাঁটাতারে প্রজাপতি
সঠিক উত্তর:
নীল ময়ূরের যৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল ময়ূরের যৌবন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত 'নীল ময়ূরের যৌবন' একটি জীবনীমূলক উপন্যাস।
- এর প্রকাশকাল - ১৯৮৩ সাল।
- এই উপন্যাসের বৃহৎ ক্যানভাস জুড়ে আছেন প্রাচীন যুগের কবিগণ। এই কবিগণ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপ ব্যবহার করে তাঁদের গীত রচনা করেছেন।
- সেলিনা হোসেন উপন্যাসের বিষয় নির্বাচন করতে গিয়ে এমন মহান কবিদের নির্বাচন করেছেন যাঁদেরকে তিনি উপন্যাসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - কাহ্নপা
- কাহ্নপাকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই অন্যান্য চরিত্র এসেছে স্বাভাবিকভাবেই। তাঁরাও কবি। তাঁদের দানও অসামান্য।
অন্যান্য চরিত্র: ডোম্বী, দেশাখ, শবরী, ভুসুকু আর কুক্কুরী পা।

সেলিনা হোসেন রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
- জলোচ্ছাস
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লুরা
- যুদ্ধ
- কাঠকয়লার ছবি ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

উল্লেখ্য, কাহ্নপা চর্যাপদের কবি।
৬,২৭৭.
নিচের কোনটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
ব্যাখ্যা
জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল আক্তারুজ্জামান রচিত এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে- প্রেমের গপ্পো, ফোঁড়া, জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল, কান্না, রেইনকোট। চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,২৭৮.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ডেভিড হেয়ার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৭৯.
‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Silent Village
  2. The Red Cloth
  3. Tree Without Roots
  4. The River Cries
সঠিক উত্তর:
Tree Without Roots
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tree Without Roots
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম Tree Without Roots। 

লালসালু:
- লালসালু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তবতা, সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা তুলে ধরা হয়েছে।
- নোয়াখালি থেকে মজিদ নামের কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি এলাকায় গিয়ে ধর্মের নামে মানুষের শোষণ করে।
- মূল বিষয়: ধর্মের ছদ্মবেশে স্বার্থপর চরিত্রদের চিত্রায়ন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপট।
- জমিলা উপন্যাসের বিদ্রোহী নারী ও প্রতিবাদের প্রতীক।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাবা, হাসুনির মা।
- ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে লেখক লিখেছেন: "খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।"
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে Tree Without Roots (১৯৬৭)।
- ফরাসি অনুবাদ: Le Arbre Sans Mame (১৯৬১), অনুবাদ করেছেন তার স্ত্রী অ্যান মেরি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- জন্ম: ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট, চট্টগ্রামের ষোলশহর, সৈয়দ বাড়িতে।
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক। 
- ছাত্রজীবনে ফেনী হাইস্কুলে সাহিত্যচর্চা শুরু এবং হাতে লেখা পত্রিকা ‘ভোরের আলো’ সম্পাদনা।
- প্রথম গল্প: ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’, প্রকাশিত হয় ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে।
- পুরস্কার: বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩, মরণোত্তর)।
- মৃত্যু: ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর, প্যারিসে।

উপন্যাসসমূহ:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান। 

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। 

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,২৮০.
'কেরামতমঙ্গল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'কেরামতমঙ্গল' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,২৮১.
“আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন”- কোন কবি বলেছেন?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

- সোনালী কাবিন
- আল মাহমুদ 

৬,২৮২.
নিচের কোনটি গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক?
  1. লীলাবতী
  2. আগমনী
  3. জামাই বারিক
  4. ষোড়শী
সঠিক উত্তর:
আগমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমনী
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
-  তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী' 'জামাই বারিক'।
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক- 'লীলাবতী'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নাটক- ষোড়শী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮৩.
'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. গ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৮৪.
"ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তিদ্বয় কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচিত 'কাজলা দিদি' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

• যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- যতীন্দ্রমোহন বাগচী ছিলেন কবি, সম্পাদক। নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে।

- ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের সচিব, নাটোরের মহারাজার সচিব, কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স-ইন্সপেক্টর, এফ.এন গুপ্ত কোম্পানির ম্যানেজার প্রভৃতি পদে চাকরি করেন।

- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।  ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

- পরবর্তীকালে তিনি  মানসী পত্রিকার সম্পাদক (১৯০৯-১৯১৩), যমুনা পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক (১৯২১-১৯২২) এবং পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী (১৯৪৭-১৯৪৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম। পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্য ও পল্লিজীবনের সুখ-দুঃখের কথা তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রকাশ করেন। ভাগ্যবিড়ম্বিত ও নিপীড়িত নারীদের কথা তিনি বিশেষ দরদের সঙ্গে প্রকাশ করেছেন। ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নাগকেশর,
- জাগরণী,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী) ইত্যাদি। 

-----------------------

কবিতার কিছু অংশ-

'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী
বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘কাজলা দিদি’ কবিতা।

৬,২৮৫.
আবুল হোসেন রচিত 'অরণ্যের ডাক' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অরণ্যের ডাক' উপন্যাস:
- আবুল হোসেন অনূদিত উপন্যাস।
- মূল জ্যাক লণ্ডন রচিত 'দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড'।
- জ্যাক লণ্ডনের প্রকৃত নাম জন গ্রিফিথ। আমেরিকান এই লেখকের বই আবুল হোসেন ১৯৫৪ সালে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন।

আবুল হোসেন:

- তিনি ১৯২২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন যুগ্ম সচিব ছিলেন।
- তবে তিনি কবি হিসেবেই পরিচিত।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- নব বসন্ত,
- হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস,
- এখনও সময় আছে,
- রাজা রাজড়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস:
- অরণ্যের ডাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮৬.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ কার লেখা?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) রাজিব লোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০২ সালে ‘বত্রিশ সিংহাসন’ রচনা করেন।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার 
- তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি বেশকিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

সেগুলো হলো:

- বত্রিশ সিংহাসন 
- হিতোপদেশ
- রাজাবলী 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।
- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস
: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৮৭.
'হুলিয়া' কবিতা কার রচনা?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'হুলিয়া' কবিতা নির্মলেন্দু গুণ এর রচনা।
তার আরেকটি কবিতা ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’। যেখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- চাষাভূষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

রক্ত আর ফুলগুলি তার অনুবাদ কবিতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৮৮.
আহসান হাবীবের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. রাত্রিশেষে
  3. সারাদুপুর
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৮৯.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) জেগে আছি
  4. ঘ) ধানকন্যা
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ :
পেশায় মূলত অধ্যাপক। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের সান্নিধ্য লাভ, এমন কি স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তবে মূলত পরিচিতি কবি হিসেবে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০); গল্পগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ :
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ (১৯৬২)।
স্মৃতিস্তম্ভ (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার ভয় কি বন্ধু-) কবিতাটি লিখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- মৃগনাভি (১৯৫৩),
- অন্ধকার সিড়ি (১৯৫৬),
- যখন সৈকত (১৯৬৭),
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার (১৯৭৫),
- জীবনজমিন (১৯৮৮);

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২৯০.
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. বিধ্বস্ত নিলীমা
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৯১.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসের প্রথম কাহিনী কোনটি? 
  1. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  2. দক্ষিণায়নের দিন
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. আরেকটি স্বাধীন কাহিনী
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণায়নের দিন
ব্যাখ্যা

শওকত আলী রচিত ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী দক্ষিণায়নের দিন।
------------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
-------------------------------------- 
ত্রয়ী উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

- এই তিনটি উপন্যাস মূলত রাজনৈতিক জীবন ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীর সৃষ্টিশীলতার শীর্ষকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এই ত্রয়ী যেন একটি বড় কাহিনীর তিনটি অংশ, যা সময়ের আবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখায়।
- এখানে সময়কে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা যায়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
সংশ্লিষ্ট উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

৬,২৯২.
বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অনুরাগ
  2. ধরিত্রী
  3. কুঁচবরণ কন্যা
  4. অরণ্য গোধূলি
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য গোধূলি
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর ছিলেন।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৩) পাস করে কলকাতার ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে চিত্রবিদ্যায় (১৯২৭) শিক্ষালাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে ,
- শেষ লগ্ন ,
- অরণ্য গোধূলি ,
- নীড়ভ্রষ্ট।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- ময়নামতির চর;
- অনুরাগ;
- পদ্মানদীর চর;
- মধুমতীর চর;
- ধরিত্রী;

• তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই;
- মৃগপরী;
- ডাইনী বউ;
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৩.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মুরাদ
  2. রঞ্জু
  3. খোকা
  4. ইয়াসিন
সঠিক উত্তর:
খোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- ‘জীবন আমার বোন’ দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী। 

--------------
মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস:
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৯৪.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ?
  1. বাংলার মাটি বাংলার জল
  2. তবক দেওয়া পান
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. রৌদ্রে প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার মাটি বাংলার জল
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- ২১ জুন ১৯৪৫, কাশবন, নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো:
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবি,
বাঙলার মাটি বাংলার জ্বল,
• চাষাভূষার কাব্য,
• মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
• হুলিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৯৫.
’ওঙ্কার’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আহমদ ছফা
  3. শওকত ওসমান
  4. সেলিনা হোসেন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• ’ওঙ্কার’ উপন্যাসের রচয়িতা- আহমদ ছফা।
- এটি মূলত ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা।
- উপন্যাসটি প্রকাশ পায় ১৯৭৫ সালে।
--------------------------------------------------
• আহমদ ছফা:
- তিনি ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
-  ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
 
• আহমদ ছফার রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী ,
- উদ্ধার ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৯৬.
'লালসালু' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৭.
'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের রচয়িতা আহমদ শরীফ। 
- এটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।  

• আহমদ শরীফ রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৯৮.
'উদ্যত সঙ্গীন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
  1. ফররুখ আহমেদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবুল হোসেন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান কবি, সমালোচক ও গল্পকার হিসেবে খ্যাতিমান। 
- তিনি ১৪ই জুন ১৯৩২ সালে জামালপুর জেলার কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন অসাধারণ সংগঠক।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রন্থটি বিস্ময়কর আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয় এক সৈনিক। 
- ১৯৭৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর তিনি ছিলেন প্রধান।
- তাঁর সম্পাদনায় ষোলো খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ : দলিলপত্র' প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য :
- বিমুখ প্রান্তর,
- আর্ত-শব্দাবলি,
- অন্তিম শরের মতো,
- উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি,
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।

প্রবন্ধগ্রন্থ :
- আধুনিক কবি ও কবিতা, সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- গল্পগ্রন্থ : আরো দুটি মৃত্যু ইত্যাদি।

হাসান হাফিজুর রহমান লেখক সংঘ পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
১৯৮৩ সালের ১লা এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

'অবাক সূর্যোদয়' কবিতাটির রচয়িতা হলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 
 কবিতাটি কিশোর বন্দনারই গাথা। চমৎকার কিছু ছবি, ভাবনা আর প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি এখানে কিশোরদের জয়গান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম দশম শ্রেণি।
৬,২৯৯.
কে মহাকাব্য রচয়িতা নন?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কায়কোবাদ 
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য এবং কবির শ্রেষ্ঠ রচনা 'বৃত্রসংহার'। 

-নবীনচন্দ্র সেনের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ 'রৈবতক (১৮৮৭)', 'কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)' ও 'প্রভাস (১৮৯৬)' কাব্যত্রয়।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।
- নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত।
- কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য 'মহাশ্মশান'।
- তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’।
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০০.
'অশ্রুমালা' কাব্যের কবি কে?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

- কায়কোবাদ রচিত অশ্রুমালা একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনি প্রথম মহাকাব্য এবং সনেট রচয়িতা।
- তার প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- মহাশ্মশান তার বিখ্যাত মহাকাব্য যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।