বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ৫৯ / ৭৭ · ৫,৮০১৫,৯০০ / ৭,৬৪৬

৫,৮০১.
নিম্নের কোনটি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. গ) ছায়া হরিণ
  4. ঘ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
সঠিক উত্তর:
খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান
- ছুটির দিন দুপুরে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০২.
বাউল কবি লালন সাঁই এর গান সর্বপ্রথম সংগ্রহ করেন কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন। 
- তিনি বাঙালি সমাজে লালনকে পরিচিত করিয়ে দেন।   
-  রবীন্দ্রনাথ ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন
- ২০টি গান তৎকালীন 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮০৩.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যের মৌল বিষয় কি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গৃহযুদ্ধ
  3. বিশ্বযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য: 
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮০৪.
"ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।"- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রহমান
  3. আবদুল গাফ্‌ফার  চৌধুরী
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

একুশের কবিতা' এর অংশবিশেষ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

• 'আল মাহমুদ' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, একুশে কবিতা।

৫,৮০৫.
'পালামৌ' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রহসন
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'পালামৌ'- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।

• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনী: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।
-----------------------
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।
--------------------
তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮০৬.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- একদা এক রাজ্যে,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা,
- প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৮০৭.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮০৮.
'দনুবানু' চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৮০৯.
'আলোছায়া' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
- 'আলোছায়া' নাটকটির রচয়িতা- নুরুল মোমেন

নুরুল মোমেন
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো 
- নয়া খান্দান 
- আলোছায়া 
- আইনের অন্তরালে 
- শতকরা আশি 
- রূপলেখা 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১০.
মমতাজউদদীন আহমদ রচিত নাটক - 
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. কি চাহ শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
কি চাহ শঙ্খচিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কি চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• ড. নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা সেলিনা হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮১১.
'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'ইউরোপের চিঠি' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা।

তাঁর ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮১২.
'এলিয়টের কবিতা' অনুবাদ সাহিত্যটির রচয়িতা-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, 
- সেই অন্ধকার চাই,
- সন্দ্বীপের চর, 
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮১৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. মানিকগঞ্জ জেলায়
  2. বরিশাল জেলায়
  3. গাইবান্ধা জেলায় 
  4. বগুড়া জেলায়
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা জেলায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধা জেলায় 
ব্যাখ্যা

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি — গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮১৪.
কোনটি সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. এলাটিং বেলাটিং
  2. শব্দকল্পদ্রুম
  3. ‘কূচবরণ কন্যা
  4. চোর জামাই
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দকল্পদ্রুম
ব্যাখ্যা
⇒ 'শব্দকল্পদ্রুম' সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

⇒ সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য এলাটিং বেলাটিং।
• ‘কূচবরণ কন্যা’ ও ‘চোর জামাই’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১৫.
'অবকাশরঞ্জিনী' কাব্যসংকলনটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন একজন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। 

- ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো। তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।

- ১৮৭৫ সালে তাঁর 'পলাশীর যুদ্ধ' মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

- 'রৈবতক' (১৮৮৭), 'কুরুক্ষেত্র' (১৮৯৩) ও 'প্রভাস' (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৮১৬.
কোনটি গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. স্ফুলিঙ্গ
  2. বুলবুলিস্তান
  3. অনল প্রবাহ
  4. মরু-ভাস্কর
সঠিক উত্তর:
বুলবুলিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলবুলিস্তান
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা: 
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছোট কবিতার সংকলন। 
- মরু-ভাস্কর কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী কাব্য।
- অনল প্রবাহ (১৯০০) - ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রথম কাব্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮১৭.
নির্মলেন্দু গুণকে কী নামে আখ্যায়িত করা হয়? 
  1. রোমান্টিক কবি
  2. জনতার কবি
  3. কৃষকের কবি
  4. কবিদের কবি
সঠিক উত্তর:
কবিদের কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিদের কবি
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের আধুনিক কবিতার একজন বিশিষ্ট কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- মূলত তিনি একজন কবি হলেও পাঠকসমাজে তাঁকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি অনুবাদকবিতা ও ছোটগল্পও রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮১৮.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২৯
  2. খ) ১৯২৮
  3. গ) ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯৩১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৬
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯২৬),
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮১৯.
‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) রম্য রচনা
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ি:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
• উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২০.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. মৃত্তিকা 
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিশোধ
  4. কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্তিকা 
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,৮২১.
'বাংলাদেশ' - কবিতার রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. হেলাল হাফিজ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কবিতাটি রচিত অক্ষরবৃত্ত ছন্দে।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
• খসড়া,
• এক মুঠো,
• মাটির দেয়াল,
• অভিজ্ঞান বসন্ত,
• অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮২২.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য _______ বয়সে মারা যান।
  1. ক) ১৮ বছর
  2. খ) ১৯ বছর ৬ মাস
  3. গ) ২০ বছর ৯ মাস
  4. ঘ) ২১ বছর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০ বছর ৯ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০ বছর ৯ মাস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর ২০ বছর ৯ মাস। অপশনে ২০ বছর ৯ মাস না থাকলে সঠিক উত্তর হতো ২১ বছর।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালিঘাটে মাতুতালয়ে জন্মগ্রহণ করেন৷ তবে তার পৈতিৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায়। তিনি মাত্র ২১ বছর (২০ বছর ৯ মাস) বয়সে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মারা যান। তার রচিত গ্রন্থসমূহ হলো হরতাল, ছাড়পত্র, অভিযান, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া ইত্যাদি।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৮২৩.
'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা -
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
- 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা - 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা'

• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্য:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২৪.
'মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী' নাটকটির লেখক কে?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকটি।
হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮২৫.
শহীদুল্লা কায়সারের স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজবন্দীর রোজনামচা
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. দিগন্তে ফুলের আগুন
  4. সংশপ্তক
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ 'রাজবন্দীর রোজনামচা'।গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন- আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

--------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২৬.
আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র কোনটি?
  1. গেরিলা
  2. সূর্যগ্রহণ 
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
সঠিক উত্তর:
সূর্যদীঘল বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

- আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র - সূর্যদীঘল বাড়ি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক ছিলেন একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও অভিধান প্রণেতা।
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় তাঁর “অভিশাপ” গল্পটি প্রকাশিত হয়।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ি রচনা করেন (১৯৪৬), যা পরে ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়গুন- যে একজন সংগ্রামী নারী এবং যার জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৯ সালে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
- এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ। 

অন্যদিকে, 
নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র। 
- সূর্যগ্রহন হচ্ছে জহির রায়হান এর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ।
- এবং জীবন থেকে নেয়া জহির রায়হান নির্মিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম চলচিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৮২৭.
'লালসালু' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. ক) মুনির চৌধুরী
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮২৮.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
ক) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
শিশুতোষগ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য
- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮২৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল 
  2. সঙ্গীতশতক
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৩০.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সানাউল হক
  3. সরদার জয়েন উদ্‌দীন
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'গণতন্ত্রের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচয়িতা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা, 
- দ্বিতীয় ভুবন, 
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী, 
- অনতিক্রান্তবৃত্ত, 
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক, 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ, 
- বাঙালি কাকে বলি, 
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে, 
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া, 
- নেতা জনতা ও রাজনীতি, 
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি, 
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, 
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৩১.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী?
  1. ক) কালের শাসন
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) জার্নাল ক্রীডো
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী। দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা ভ্রমণকাহিনী। জার্নাল ক্রীডো ও কালের শাসন অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৩২.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নাম না জানা ভোর
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) উত্তর বসন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস হলোঃকলকাতা। আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস ‘নাম না জানা ভোর’ (১৯৬২) এতে ভাগ্যান্বেষী এক গ্রাম্য যুবকের শহুরে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে উত্তরণের ইতিকথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ দিলরুবা’ ও ‘ উত্তর বসন্ত’ হলো আবদুল কাদির রচিত কাব্য। । রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,৮৩৩.
'স্বদেশী আন্দোলন' পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) ঘরে বাইরে
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) দুই বোন
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
- 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলন' পটভূমিকায় রচিত।
- চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- এই উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩৪.
‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ বাক্যটি কার রচনা?
  1. শাহাদাৎ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ বাক্যটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত ‘মানুষ কে?’ কবিতার অন্তর্গত।

মানুষ কবিতার কিছু অংশ হলো--

মানুষ কে?

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

চেষ্টা যত্ন অনুরাগ মনের বান্ধব।
আলস্য তাদের কাছে রণে পরাভব।।
ভক্তিমতে কুশলগণে আয় আয় ডাকে।।
পরিশ্রম প্রতিজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা।
যতনে হৃদয়েতে সমুদয় বাসা।।
স্মরণ স্মরণ মাত্রে আজ্ঞাকারী যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

===========
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার: ‘মানুষ কে‘ কবিতা।
৫,৮৩৫.
হুমায়ুন কবির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধারাবাহিক
  2. অষ্টাদশী
  3. সাথী
  4. স্বপ্নসাধ
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিক
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী, 
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৩৬.
বিখ্যাত 'নীলকর' কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরিশচন্দ্র মুখার্জী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'নীলকর' কবিতা:
'সংবাদ প্রভাকর’ এ মহারাণী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে ‘নীলকর’ নামে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এই কবিতাটির মাধ্যমে তিনি সে সময়কার নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্রকাশ।

কবিতার কিছু অংশ হলো-

নীলকর
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাকানো ,
কেবল খাব খোল বিচালী ঘাস।
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙ্গে না;
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা
প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'নীলকর' কবিতা।

৫,৮৩৭.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'কুঁচবরণ কন্যা' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
শিশুতোষ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থ
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- মৃগপরী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৩৮.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনী কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) দেশান্তর
  4. ঘ) জলে ডাঙ্গায়
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পালামৌ
ব্যাখ্যা
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' প্রকাশিত হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

পালামৌ:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৮৩৯.
অলাতচক্র একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) অনুবাদ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
''অলাতচক্র'' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। পরে তিনি সেটি পরিমার্জন করে ১৯৯৩ সালে প্রায় নতুন করেই লেখেন৷
এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস৷ এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচনার দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন৷ মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি তিনি দেখতে চেয়েছেন।
এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্রঃ তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷
৫,৮৪০.
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী এমদাদুল হক
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. শাহাদত হোসেন
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
কাজী এমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী এমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ - উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

কাজী ইমদাদুল হক:
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ,
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৪১.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শওকত আলী
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
• 'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।

- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।
৫,৮৪২.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. সমুদ্রের স্বাদ
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. হলুদ পোড়া
  4. সহরতলী
সঠিক উত্তর:
সহরতলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহরতলী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সহরতলী' উপন্যাস: 
• ‘সহরতলী' (১৯৪১ সালে) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।  
• নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে। 
• 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।  

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:   
⇒ উপন্যাস: 
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি, 
• পুতুলনাচের ইতিকথা, 
• সহরবাসের ইতিকথা,
• সহরতলী,    
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।

⇒ গল্প: 
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
• প্রাগৈতিহাসিক,   
• সরীসৃপ,  
• আত্মহত্যার অধিকার, 
• মিহি ও মোটা কাহিনী, 
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• বৌ,  
• হলুদ পোড়া, 
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৪৩.
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ- নরক- মানুষেতে সুরাসুর; পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) শাহ আবদুল করিম
  3. গ) শেখ ফজলুল করিম
  4. ঘ) রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ ফজলুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ- নরক- মানুষেতে সুরাসুর।- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শেখ ফজলুল করিম। 

শেখ ফজলুল করিম:
- রংপুর জেলায় ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবিনীকাহিনি অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- তৃষ্ণা 
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি
- গাঁথা

তাঁর উপন্যাস:
- লায়লী মজনু 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৫,৮৪৪.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের উপজীব্য কী?
  1. পানিপথের ২য় যুদ্ধ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. কারবালার যুদ্ধ
  4. পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের উপজীব্য পানিপথের ৩য় যুদ্ধ।

•রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- মানুষ, 
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৪৫.
চেতনাপ্রবাহ রীতিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. লালসালু
  3. উজানে মৃত্যু
  4. তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- বিষয় ও শিল্প বিচারে বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র এক ব্যতিক্রমধর্মী, অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো'।

- 'কাঁদো নদী কাঁদো' মূলত চেতনাপ্রবাহ রীতিতে (stream of consciousness) রচিত। এতে চেতনায় প্রবহমান ধারার মাধ্যমে চরিত্র, আখ্যান ও তার অন্তর্গত বাণী রূপায়িত হতে থাকে। ভাবনার প্রবাহ (ইনটেরিয়র মনোলগ), ফ্ল্যাশব্যাক, ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড তথা চেতনাপ্রবাহরীতির মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে গিয়ে যে-কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা উপন্যাসটিকে জটিল করে তুলেছে।

- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।

উপন্যাসে কুমুরডাঙ্গা নামের দরিদ্র মহকুমা শহরের জনজীবন, স্টিমারঘাট উদ্বোধনকালে স্থানীয় হিন্দু জমিদারকে আমন্ত্রণ না জানানোর ফলে তার লেলানো লাঠিয়ালদের দৌরাত্ম্য তথা প্রতিশোধস্পৃহা বা পেশিশক্তির আধিপত্য, বাকাল নদীতে চর পড়ায় অনিশ্চিতকালের জন্য তার স্টিমারঘাট বন্ধ হওয়া, তাতে চাকরি হারানো কর্মচারী খতিব মিঞার অসহায়ত্ব, বন্ধ ঘাট নিয়ে উকিল কফিল উদ্দিনের ধারণা, তা চালুর জন্য তাঁর তথাকথিত সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা, নতুন হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফা ও তাঁর বাগদত্তা খোদেজার মৃত্যু বা আত্মহত্যা রহস্য, তাৎপর্যপূর্ণ এক নির্মোহতায় আক্রান্ত ডাক্তার বোরহানউদ্দিন- সমাজের রোগগ্রস্ত মানুষ সম্পর্কে তার ধারণা-বিশ্বাস, মানুষের নদীর কান্না শোনা প্রভৃতি বিষয় যে শুধু এক নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নয়, এসব এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশেস্নষণ করে তাতে অভিনব মাত্রা দেওয়া হয়েছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস।

৫,৮৪৬.
"মানুষ" নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মামুনুর রশিদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

"মানুষ" নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে।সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

• নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৪৭.
আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) মতিলাল
  2. খ) বাবুরাম
  3. গ) নবকুমার
  4. ঘ) ঠকচাচা
সঠিক উত্তর:
গ) নবকুমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবকুমার
ব্যাখ্যা
- 'নবকুমার' আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে 'নবকুমার'।

• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৪৮.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. নুরুল মােমেন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা হলেন বিজন ভট্টাচার্য। 

• নবান্ন নাটক: 
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
• তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে। অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন। তখন থেকেই 'নবান্ন' নতুন বাংলা নাটকের অগ্রদূত রূপে গণ্য হয়। পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুদর্শা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা-ব্যর্থতা ইত্যাদি এই নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক, 
- মরাচাঁদ, 
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 

• তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৪৯.
'অবরোধ' নাটকটি রচনা করেন -
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
সঠিক উত্তর:
গ) বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
- বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'অবরোধ' হচ্ছে নাটক।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে (১৯৩১-৩২) যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫০.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত অনূদিত গ্রন্থ-
  1. প্রসন্ন শহর
  2. যাদুর কলস
  3. তিমিরান্তিক
  4. বৈরী বৃষ্টিতে
সঠিক উত্তর:
যাদুর কলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাদুর কলস
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত অনূদিত গ্রন্থ 'যাদুর কলস'।

• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর
- তিমিরান্তিক
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫১.
‘উটপাখি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘উটপাখি’ কবিতাটির রচয়িতা: 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'উটপাখি' কবিতাটি 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: 
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ :
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী,  

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে: 
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

‘উটপাখি’ কবিতা,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি?
কেন মুখ গুঁজে আছো তবে মিছে ছলে?
কোথায় লুকোবে? ধু-ধু করে মরুভূমি;
ক্ষ’য়ে-ক্ষ’য়ে ছায়া ম’রে গেছে পদতলে।
আজ দিগন্তে মরীচিকাও যে নেই;
নির্বাক, নীল, নির্মম মহাকাশ।
নিষাদের মন মায়ামৃগে ম’জে নেই;
তুমি বিনা তার সমূহ সর্বনাশ।
কোথায় পলাবে? ছুটবে বা আর কত?
উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা।
প্রাকপুরাণিক বাল্যবন্ধু যত
বিগত সবাই, তুমি অসহায় একা।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ‘উটপাখি’ কবিতা। 
৫,৮৫২.
নিচের কোনটি দিলারা হাসেম রচিত উপন্যাস?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  3. গ) ঘর মন জানালা
  4. ঘ) সাজাহান
সঠিক উত্তর:
গ) ঘর মন জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘর মন জানালা
ব্যাখ্যা
• ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
- 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 


• অন্যদিকে: 
- 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্য।
- 'বাংলার মাটি বাংলার জল' বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'সাজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৮৫৩.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. শওকত আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. আখতারুজামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৫৪.
নিচের কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) আমলার মামলা
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) রাজা উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
গ) নেকড়ে অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান একজন বাংলাদেশি চিন্তক, লেখক ও কথা সাহিত্যিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজপুরুষ, বনি আদম, রাজসাক্ষী।
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলঙ্গী।
তাঁর রচিত নাটক- আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর, কাঁকরমণি, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, বাগদাদের কবি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,৮৫৫.
কোনটি হাসান আজিজুল হকের রচনা নয়?
  1. জীবন ঘষে আগুন
  2. আগুন পাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন 
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে কুমোদিনীর স্বামীর নাম হলো মধুসূদন। এই উপন্যাসে কুমোদিনী ও মধুসূদনের সম্পর্কের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব, শ্রেণিগত পার্থক্য এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৫৬.
হাসান আজিজুল হক রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. অতলের আঁধি
  2. অসীমান্তিক
  3. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  4. আমরা অপেক্ষা করছি
সঠিক উত্তর:
অতলের আঁধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতলের আঁধি
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- ফিরে যাই ফিরে আসি (১ম অংশ)।

 • তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

তাঁর রচিত নাটক:
- চন্দর কোথায় (ভাষান্তরিত)।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৫,৮৫৭.
কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পরিদর্শক
  2. খ) নব্যভারত
  3. গ) আহমদী
  4. ঘ) কোহিনূর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোহিনূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোহিনূর
ব্যাখ্যা
⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৫৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের' কোন বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন?
  1. ইতিহাস
  2. বাংলা ও সংস্কৃত
  3. দর্শন
  4. ভাষাবিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৫৯.
ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব
  3. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
ব্যাখ্যা
• ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক মুহম্মদ আব্দুল হাই এবং শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ আলী আহসান যুগ্মভাবে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)' গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেন।

----------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড) - গোপাল হালদার।
• ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য- ড. দীনেশচন্দ্র সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬০.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিত থাকাকালীন প্রকাশিত একমাত্র সাহিত্য সংকলন/কাব্য কোনটি?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) আকাল
  4. ঘ) ঘুম নেই
সঠিক উত্তর:
গ) আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আকাল
ব্যাখ্যা
ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের পক্ষে “আকাল” (১৯৪৩/৪৪) নামক সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর কবিতাগুলো পঞ্চাশের মন্বন্তর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ। মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রকাশিত হয় - ছাড়পত্র। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬১.
'ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন - সুকুমার সেন।

সুকুমার সেন:
- জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৮৬২.
"বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কায়কোবাদ
  3. অতুল প্রসাদ সেন
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• "বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!" 

- পঙ্‌ক্তিগুলো কায়কোবাদ রচিত ‘বঙ্গভূমি ও বঙ্গভাষা’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।
-----------------------

'বঙ্গভূমি ও বঙ্গভাষা' কবিতা – কায়কোবাদ',

কবিতার কিছু অংশ -
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি।
গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে,
যাহার চরণ চুমি।
ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়,
যাহার পূণ্য-গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি,
সেই সে আমার মাতা!
------ 
বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৩.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. খোয়াবনামা
  2. খোঁয়ারি
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

"খোয়াবনামা" উপন্যাস:
- "খোয়াবনামা" কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি সর্বপ্রথম মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়।
- একই বছরের এপ্রিলে বইটি পশ্চিমবঙ্গের নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। সে বছরই উপন্যাসটি সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার লাভ করে।

- উপন্যাসটি গন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৯৪ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় ধারাবাহিকভাবে কিছুকাল প্রকাশিত হয়। তবে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এর ছাপা বন্ধ করে দেয়।

- এই উপন্যাসটি মূলত বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭)-এর কিয়ৎকাল পূর্ব এবং পরবর্তী সময়কাল নিয়ে রচিত। এর কাহিনি বিস্তৃতিলাভ করেছে বগুড়া জেলার একটি ক্ষুদ্রাকার ও প্রত্যন্ত জনপদে। অঞ্চলটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিল, যার নাম কাৎলাহার; এবং কাৎলাহার ঘিরে গড়ে উঠেছে গিরিরডাঙা, নিজগিরির ডাঙা, গোলাবাড়ি হাট ইত্যাদি পল্লীসমূহ।

- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বস্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাপ্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ: 

- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রস্থটে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি'। এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

• 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- দোজখের ওম' আখতারুজ্জমান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প। এগুলো হচ্ছে- কীটনাশকের কীর্তি, যুগলবন্দি, অপঘাত ও দোজখের ওম নামক গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৬৪.
ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অমিয়ধারা
  2. খ) কুসুমকানন
  3. গ) গীতাঞ্জলী
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'অনল প্রবাহ'।
ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
- তিনি ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)। 
- সমসাময়িক পত্রিকা আল-এসলাম, ইসলাম প্রচারক,  প্রবাসী, প্রচারক, কোহিনূর, সোলতান, মোহাম্মদী,  সওগাত,  নবযুগ ও নবনূর প্রভৃতিতে সিরাজীর লেখা প্রকাশিত হতো।
তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলি হলো- অনল প্রবাহ, আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস , উদ্বোধন, নব উদ্দীপনা, স্পেন বিজয় কাব্য, সঙ্গীত সঞ্জীবনী, প্রেমাঞ্জলি ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-  রায়নন্দিনী , তারাবাঈ , ফিরোজা বেগম ও নূরুদ্দীন । 

অনল প্রবাহ কাব্যের পরিচয়-
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৫.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) স্মৃতিস্তম্ভ
  4. ঘ) স্মৃতিশৌধ
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
 
আলোচ্য পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬৬.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. পূরবী
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. জয়ের পথে
  4. নতুন সকাল
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদ্রুত উপকূল
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল।
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো: অভিমানের খেয়া, আজীবন জন্মের ঘ্রানে, বাতাসে লাশের গন্ধ, অবরোধ চারিদিকে, প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি, জানালায় জেগে আছি, আমি সেই অভিমান, বিষবৃক্ষ ভালোবাসা, কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি।

-----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পূরবী, জয়ের পথে ও নতুন সকাল সিকান্দার আবু জাফর উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৭.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচনা করেন। 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে। গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৬৮.
'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৬৯.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. দন্ডকারণ্য
  2. বশীকরণ
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
- মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মানুষ' নাটক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭০.
'ধূমকেতু' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলাল রচিত উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭১.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) সোনালী কাবিন
  2. খ) উপমহাদেশ
  3. গ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  4. ঘ) সৌরভের কাছে পরাজিত
সঠিক উত্তর:
খ) উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। 
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন
- পাখির কাছে ফুলের কাছে
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী, 
- উপমহাদেশ
- আগুনের মেয়ে, 
- চেহারার চতুরঙ্গ, 
- কাবিলের বোন ইত্যাদি 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৫,৮৭২.
’জন ক্লার্ক মার্শম্যান’ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. বেঙ্গল গেজেট
  3. গভর্নমেন্ট গেজেট
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
গভর্নমেন্ট গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভর্নমেন্ট গেজেট
ব্যাখ্যা
• জন ক্লাক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।
- ১৮১৮ সালে তিনি  শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
- ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা Friend of India (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,

অন্যদিকে,
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা ‘বাঙ্গাল গেজেট'।  
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর'। 
- জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত পত্রিকা ‘বেঙ্গল গেজেট'।  

উৎস:. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরএবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৩.
নিচের কোনটি ভ্রমন কাহিনী নয়?
  1. ক) বন্দর থেকে বন্দরে
  2. খ) পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. গ) চার ইয়ারি কথা
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
গ) চার ইয়ারি কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার ইয়ারি কথা
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
বন্দর থেকে বন্দরে (১৯৬৪)- সানাউল হক। (অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে রচিত রম্য ধরনের কাহিনী)
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)- শহীদুল্লাহ কায়সার।
পালামৌ (১৮৮০-১৮৮২)- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী।
দেশে বিদেশে (১৯৪৯)- সৈয়দ মুজতবা আলী।

চার ইয়ারি কথা
- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৮৭৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অবিশ্বাস্য
  2. টুনি মেম
  3. দেশে বিদেশে
  4. ময়ূরকণ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৫.
'মাটির পৃথিবী' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দিন
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩)  
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।
গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,

- মৃতের আত্মহত্যা।
দিনলিপি:
- রেখাচিত্র (১৯৬৬),
- দুর্দিনের দিনলিপি (১৯৭২) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৬.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. কল্লোল
  3. হিতকরী
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমকাল
ব্যাখ্যা
‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেননি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। পত্রিকাটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
• 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৭.
জসীম উদ্‌দীনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. চলে মুসাফির
  2. মা যে জননী কান্দে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. জীবনকথা
সঠিক উত্তর:
জীবনকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনকথা
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন :
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসিমউদ্দিনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ। 
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না,
- সকিনা ,

• তাঁর রচিত নাটক :
- বেদের মেয়ে 
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী :
- চলে মুসাফির ,
- হলদে পীরের দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড় ,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে ,

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- বোবাকাহিনী। 

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ :
-  হাসু ,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• আত্মজীবনী : জীবনকথা (১৯৬৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৮.
কলকাতার নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত 'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কলিকাতা কমলালয়': 
- গ্রন্থটির রচয়িতা — ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  
- এটি ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রন্থ।
- কলিকাতা কমলালয় প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে।
- এ গ্রন্থে তিনি কলকাতার জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরেন বিশেষ করে নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। 

-----------------------
• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- লেখক, সাংবাদিক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত নববাবুবিলাস এবং ১৮৩১ সালে নববিবিবিলাস অন্যতম।
- নববাবুবিলাস গ্রন্থে তিনি নব্যধনীদের অসংযমী জীবনযাত্রাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে- 
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান (১৮৩৫) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৭৯.
সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সেলিনা হােসেন
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লেখিত লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে -
• শওকত আলীঃ
জন্ম - ১৯৩৬ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৮ সালে (৩২ বছর বয়সে)

• সেলিনা হােসেন
জন্ম - ১৯৪৭ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৮০ সালে (৩৩ বছর বয়সে)

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
জন্ম - ১৯৪৩ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৮২ সালে (৩৯ বছর বয়সে)

• সৈয়দ শামসুল হক
জন্ম - ১৯৩৫ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)

সুতরাং, সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট।

৫,৮৮০.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
খ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮১.
‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ - দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. দেশাত্মবোধক গান
  4. অভিভাষণ
সঠিক উত্তর:
দেশাত্মবোধক গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশাত্মবোধক গান
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮২.
‘ছোটদের পাকিস্তান’ শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ‘ছোটদের পাকিস্তান’ আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮৩.
কোনটি আল মাহমুদের রচিত উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. উপমহাদেশ
  3. লোক লোকান্তর
  4. কালের কলস
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশ হচ্ছে আল মাহমুদের রচিত একটি উপন্যাস। 

আল মাহমুদ
- জন্ম: ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সোনালী কাবিন।
- ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: উপমহাদেশ।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- প্রেমের কবিতা,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন। 

উপন্যাস:
- উপমহাদেশ,
- ডাহুক,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৮৮৪.
"দুই সৈনিক" মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শওকত ওসমান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
"দুই সৈনিক" উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

"দুই সৈনিক" উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে কিছু কথা:
গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক। বেতারের সংবাদই তখন জীবন সঞ্জীবনী। কলকাতা বেতার শুনছে সাহেলী ও চামেলী। বাবা মখদুম মৃধা; তিনি মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাজাও পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন। একটি গ্রামীণ প্রতিবেশে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, ইতিহাসের সভ্যতা তার পরিপূরক হয়ে আসে। প্রথম দুপর্বে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক কথোপকথনে জানা যায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দেশের স্বাধীনতা, শেখ মুজিব কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন, নির্বাচনে জিতেছেন। মখদুম মৃধার দুই মেয়ে সারাক্ষণ ট্রানজিস্টার নিয়ে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ শুনছেন। রণেশদাশ গুপ্তের মতে, দুই সৈনিক হচ্ছে হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার। ৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক। তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই জন্যই সম্ভবত উপন্যাসের নাম দুই সৈনিক। কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে সচেতন লেখক শওকত ওসমান সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা বলতে ভোলেননি।

উৎস: "দুই সৈনিক" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৮৫.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর (নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (নাটক)
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর (নাটক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর (নাটক)
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ দুটি গল্পগ্রন্থ-  নয়নচারা (১৯৫১), দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটক:
- বহিপীর (১৯৬০),
- তরঙ্গভঙ্গ (১৯৬৪) ও
- সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)

সোজন বাদিয়ার ঘাট ও মহাশ্মশান কাব্যগ্রন্থ এবং কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৮৮৬.
'ময়নামতির চর' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বিহারীলাল
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য- ময়নামতির চর, অনুরাগ, পদ্মা নদীর চর, মধুমতির চর, ধরিত্রী ইত্যাদি। বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৮৮৭.
বাংলাদেশের বিজয়ের পূর্বেই রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) আগুনের পরশমনি
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।  
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. নীল অপরাজিতা
  2. অপরাজিতা
  3. অপরাজিত
  4. দৃষ্টি প্রদীপ
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাজিত
ব্যাখ্যা
⇒ 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালী উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'অলোক সারথী'। 

অন্যদিকে,
• ‘নীল অপরাজিতা' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
• ‘অপরাজিতা’ নামক কাব্যের রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

=============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২১) প্রবাসী পত্রিকায় প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অপরাজিত' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৮৯.
"আমি কিংবদন্তির কথা বলছি" - কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. সিকান্দার আবু জাফর 
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল ফজল 
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে: ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৮৯০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যাইয়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আরণ্যক
  2. খ) অপরাজিত
  3. গ) অশনি সংকেত
  4. ঘ) পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যাইয়ের প্রথম উপন্যাস-পথের পাঁচালী। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তিনি চিত্রলেখা (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- ইছামতী
- দৃষ্টি প্রদীপ 
- বিপিনের সংসার 
- চাঁদের পাহাড় 
- দম্পতি ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার 
- মৌরীফুল 
- যাত্রাবদল 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৮৯১.
সেলিম আল দীনের নাটকে অনুসৃত শিল্পতত্ত্ব -
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. অভিব্যক্তিবাদ
  3. পরাবাস্তববাদ
  4. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
সঠিক উত্তর:
দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব / সাহিত্যরীতি অনুসৃত হয়েছে।

-------------------
• সেলিম আল দীন
- সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

- ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবি, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।

- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

- জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।
পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন, যার নাম দেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’।

- তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তার একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হন, রচনা করেন মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (১৯৯৬)।

- বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাঙলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করে বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণ করতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি।

- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছা্ড়া, নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
• কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি,

• উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত সব সৃজনকর্ম নিয়ে ৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র [১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ (২০০৫-২০০৯)]।

উৎস: বাংলাপডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৮৯২.
'যৈবতী কন্যার মন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' (১৯৯২) সেলিম আল দীন রচিত নাটক।
- সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।

তাঁর অন্যান্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩),
- বাসন (১৯৮২),
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮),
- কীর্তন খোলা (১৯৮৩),
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি (১৯৮৫),
- চাকা (১৯৯০),
- বনপাংশুল (১৯৯১),
- হরগজ (১৯৯২),
- একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫),
- হাতহদাই (১৯৯৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৮৯৩.
‘আঁখিজল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. মোজাম্মেল হক
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালে ঢাকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে ভূগোলের অধ্যাপক, ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগের মুসলিম শিক্ষার সহকারী স্কুল-পরিদর্শক এবং ১৯১৭ সালে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯২১ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রথম কর্মাধ্যক্ষ হয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধমালা।

• তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯৪.
‘বঙ্গনারী’ নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘বঙ্গনারী’ নাটকটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। এটি একটি সামাজিক নাটক।
তার রচিত আরেকটি সামাজিক নাটক হলো ‘পরপারে’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫,৮৯৫.
'মাকড়সা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
ক) সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন বাঙালি কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তিনি ভারত বিভাগোত্তর কালে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সমকাল সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। তাঁর রচনাবলি কাব্যগ্রন্থ- প্রসন্ন প্রহর, বৈরী বৃষ্টিতে, তিমিরান্তিক, বৃশ্চিক লগ্ন, বাংলা ছাড়। তাঁর রচিত নাটক - সিরাজউদ্দৌলা, মহাকবি আলাওল, শকুন্ত উপাখ্যান, মাকড়সা। তাঁর রচিত উপন্যাস- মাটি আর অশ্রু, পূরবী, নতুন সকাল এবং কিশোর উপন্যাস- জয়ের পথে, নবী কাহিনী।
৫,৮৯৬.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কার লেখা?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) দিলারা হাসেম
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) পেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা
- সম্ভবা অনন্য
- সূর্য অন্যতর
- বিচূর্ণ আর্শিতে
- পদ্মিনী শঙ্খিনী
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮৯৭.
কবিতাকেন্দ্রিক পাঠ ও গবেষণার জন্য 'কবিতাকুঞ্জ' নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• কবিতাকেন্দ্রিক পাঠ ও গবেষণার জন্য 'কবিতাকুঞ্জ' নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন - নির্মলেন্দু গুণ। 
------------------- 
নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 
 
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
 
তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৮৯৮.
‘বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব‘ কার লেখা?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আহম্মদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ, (১৯২১-১৯৯৯)  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
• ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য। 
• অধ্যাপক শরীফের চাচা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ছয়শ পুথি দান করেন। 

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম: 

- বিচিত চিন্তা 
- স্বদেশ অন্বেষা 
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে 
- যুগ যন্ত্রণা 
- মানবতা ও গণমুক্তি 
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব (১৯৯২),
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা 
- স্বদেশ চিন্তা 
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা 
- বিশ শতকে বাঙালী 
- বিশ্বাসবাদ, বিজ্ঞানবাদ, যুক্তিবাদ, মৌলবাদ ইত্যাদি।

• সম্পাদনা
একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৮৯৯.
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ গ্রন্থটি কোন শ্রেণির?
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব':
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,৯০০.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প?
  1. ক) সানন্দা
  2. খ) রেখাচিত্র
  3. গ) লালমেঘ
  4. ঘ) সাড়া
সঠিক উত্তর:
খ) রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,(১৯৩০)
- রেখাচিত্র,(১৯৩১)
- হাওয়া বদল (১৯৪৩) ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।
                                                                                                                                                                                                 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।