বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ২০ / ৭৭ · ১,৯০১২,০০০ / ৭,৬৪৬

১,৯০১.
'আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০২০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
 
উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো।
১,৯০২.
কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চয়ন
  2. সঞ্চিতা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. সঞ্জীবন
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হচ্ছে সঞ্চয়ন।  

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল।
- তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন।
- শিক্ষা ও গবেষণায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

অন্যদিকে, 
- সঞ্চিতা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।  
- সঞ্চয়িতা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।  
- সঞ্জীবন: এটি কাজী মোতাহার হোসেনের প্রবন্ধ সংকলনের নাম নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৯০৩.
'চৈতালী ঘূর্ণি' উপন্যাসটি রচনা করেন -
  1. ক) চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'চৈতালী ঘূর্ণি' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি।
- পঞ্চগ্রাম।
- ধাত্রীদেবতা।
- কালিন্দী।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৪.
‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’- কবিতার রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ নামে বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা-  শামসুর রাহমান । 

• শামসুর রাহমান: 

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯০৫.
শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে কোন সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে? 
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত
  2. ১৯৭১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে ১৬ ডিসেম্বর 
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
  4. স্বাধীনতা পরবর্তী সময়
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

• যাত্রা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট।
- গল্পে ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের কারণে সাধারণ নগরবাসী প্রাণভয়ে পলায়ন করে। 
- পাকিস্তানি সেনাদের হঠাৎ আক্রমণে শহরের সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ আশ্রয় পাবেন তা না জেনেই প্রাণভয়ে ছুটতে থাকে। 
- উপন্যাসটি ডায়রির আকারে লেখা হয়েছে।
- এখানে মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।
- গল্পে নগরীর ধ্বংসলীলা, মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে।
- একই সঙ্গে দেখানো হয়েছে যে সাধারণ মানুষ কিভাবে প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
---------------------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।

- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
• দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

উৎস:
যাত্রা উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

১,৯০৬.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। 

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ: 
- উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়ােজনে। প্রয়ােজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলােকিত রজনীর রূপরাশিতে মােহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে।
- বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনােলােকে আলােড়ন তােলে।
- প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
- উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে এবং পরে পুলিশকে জানায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৭.
'বল্লালী বালাই' পর্বটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. পথের পাঁচালী
  3. অশনি সংকেত
  4. অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূ ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• 'বল্লালী বালাই' বলার কারণ: 
- বল্লালী বালাই বলতে মূলত, রাজা বল্লাল সেনের বালাই বুঝানো হয়।
- তার শাসনামলে কৌলিন্য প্রথা চালু ছিল।
- কৌলীন্য প্রথা কুলীন ব্রাহ্মণদের মাঝে বহুবিবাহের প্রচলন ঘটায়।
- সেই প্রথা অনুসারে নামজাদা নৈকষ্য কুলীনেরা একেক জন ১০০ টিরও বেশি বিবাহ করে পালাক্রমে শ্বশুর বাড়ি আসত এবং মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরের দিনই অন্য শ্বশুরবাড়ি যেতেন।
- এসব কারণে এ প্রথাকে বল্লালী বালাই' বলা হয়ে থাকে।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৮.
নিচের কোন উপন্যাসে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই'” বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

• 'খোঁয়ারি' ছোটগল্প:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত ছোটগল্প 'খোঁয়ারি' (১৯৮২) মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং হতাশাগ্রস্ত মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব তুলে ধরেছে। চার বন্ধুর আড্ডার মাধ্যমে পতিত হিন্দু-বাড়ির প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা ও রুক্ষ বাস্তবতার ছবি এতে ফুটে উঠেছে

এই সংকলনের "খোঁয়ারি" নামগল্পের পটভূমি পুরান ঢাকা। কাহিনীর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বৃদ্ধ অমৃতলালের শতাব্দী প্রাচীন জরাজীর্ণ বসতবাড়ি এবং অমৃতলালের স্মৃতিমন্থন। দেশভাগে তার পূর্বপুরুষেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঐশ্বর্য ও দাপটের সঙ্গে অমৃতলালের পূর্বপুরুষেরা ঢাকায় বাস করত। কিন্তু দেশভাগের ফলে তারা রাতারাতি সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। একান্নবর্তী পরিবারের অনেকেই কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। এরপর ১৯৬৪-এর পূর্ব পাকিস্তান দাঙ্গা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনায় বিশাল ঝাঁকুনি সহ্য করেছে বাড়িটি। দেশ স্বাধীন হবার পরে অমৃতলালের ছেলে সমরজিতের বন্ধুরা বাড়িটির কিছু অংশ ভাড়া বাবদ দখল চায়। অমৃতলালের বাড়িতে নতুন সংকট সামনে দাঁড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ ও বাম রাজনীতি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা অমৃতলালের বাড়ি দলীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। প্রকৃতপক্ষে ভাড়ার অজুহাতে বাড়ি দখল নেয়ার উদ্দেশে প্রতিয়মান হতে দেখা যায় তাদেরকে। অমৃতলাল একসময় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। গল্পে ঢাকা শহরের সাতচল্লিশ পূর্ব হিন্দু-মুসলমানের আর্থ-সামাজিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। 

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৯০৯.
'শব্দকল্পদ্রুম' কবিতাটির লেখক কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সত্যেন সেন
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায় রচিত কবিতা - শব্দকল্পদ্রুম।

• সুকুমার রায়:
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯১০.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা।
সারেং বৌ ও সংশপ্তক তাঁর রচিত উপন্যাস এবং তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১১.
কবি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ-
  1. উপমহাদেশ
  2. গন্ধবণিক
  3. সোনালী কাবিন
  4. ময়ূরীর মুখ
সঠিক উত্তর:
সোনালী কাবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কবি আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
• বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- কবি ও কোলাহল,
- ডাহুকী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯১২.
''ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'' উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মোতাহার হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- সংস্কৃতির কথা। এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি- ''ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'', 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯১৩.
"নূরলদীনের সারাজীবন" — কাব্যনাট্য রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
----------------------- 

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯১৪.
‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’ ইতিহাস গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন: 
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
 
• আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক্রন্দসী
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. তন্বী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,

- উত্তরফাল্গুনী ইত্যাদি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কুলায় ও কালপুরুষ
 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৬.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস কার লেখা?
  1. আবুল কালাম চৌধুরী
  2. আবু জাফর শামছুদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- তিনি বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৭.
শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে কী প্রকাশিত হয়েছে?
  1. সামাজিক জীবন
  2. প্রেম কাহিনী
  3. রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
  4. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমানের — ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিকটি ফুটে উঠেছে।
--------------------------- 
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক।
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
--------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক: 
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৮.
‘বিচিত্র চিন্তা’ – গ্রন্থের রচয়িতা –
  1. ক) আবদুল হাই
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত গ্রন্থ হলোঃ সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, বিচিত্র চিন্তা, একালে নজরুল, স্বদেশ চিন্তা, বিশ শতকের বাঙালী, বাংলার পটভূমি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৯১৯.
নিচের কোনটি মামুনুর রশিদ রচিত নাটক?
  1. গিনিপিগ
  2. সুবচন নির্বাসনে
  3. এখনও ক্রীতদাস
  4. সরীসৃপ
সঠিক উত্তর:
গিনিপিগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিনিপিগ
ব্যাখ্যা

• 'গিনিপিগ' মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।

অন্যদিকে,
- সুবচন নির্বাসনে(নাটক) : আবদুল্লাহ আল মামুন।
- এখনও ক্রীতদাস(নাটক): আবদুল্লাহ আল মামুন (নাট্যকার)
- সরীসৃপ (ছোটগল্প): মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯২০.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটির কার?
  1. সরদার জয়েনউদ্দিন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন সেন বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
•তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তিনি 'উদীচী' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যঃ
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯২১.
'মার্কসবাদ' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
- 'মার্কসবাদ' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন- হুমায়ুন কবির। 
-
মার্কসবাদ প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। 

হুমায়ুন কবির
:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। 
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি  মাওলানা আবুল কালাম আজাদএর আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিবরূপে যোগদান করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের বশির হাট থেকে লোকসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:  
কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ 
- সাথী 
- অষ্টাদশী। 
উপন্যাস:
- নদী ও নারী। 
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ইমানুয়েল কান্ট 
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব  
- বাংলার কাব্য 
- মার্কসবাদ 
- নয়া ভারতের শিক্ষা 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী 
- মিরজা আবু তালিব খান 
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯২২.
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক- 
  1. নবান্ন
  2. চাকা
  3. জনপদ
  4. কলঙ্ক
সঠিক উত্তর:
চাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকা
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকসূমুহ:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক। 

-------------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'চাকা' নাটক। 

১,৯২৩.
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে পূর্ণ-পর্ব সাধারণত কয় মাত্রার হয়ে থাকে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
খ) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬
ব্যাখ্যা


Source: University of North Bengal লাইব্রেরী।

আবার,
ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই অনুসারে,
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রুদ্ধদল সর্বদাই বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
- এ ছন্দে সুস্পষ্ট উচ্চারিত অক্ষর-ধ্বনি থেকেই মাত্রার রীতি বা পরিমাণ স্থিরকৃত হয়।
- এ ছন্দে স্বরান্ত, হলন্ত বা কেবল স্বরান্ত অক্ষর দ্বারাই পর্ব সংঘটিত হয়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচ নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের মূল পর্ব চার, পাঁচ, ছয়, সাত এবং আট মাত্রার। তবে, এ ছন্দে ছয় মাত্রার চাল বা প্রয়োগ বেশি।
- এ ছন্দের লয় বিলম্বিত এবং এর গতিবেগ ঢালা সুরে একটানা প্রবাহিত।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবনতা বা সুরনিষ্ঠতা।

সুতরাং, এখানে খ) ৬ অধিক গ্রহণযোগ্য।
১,৯২৪.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) সাধনা
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শিখা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন- শিখা।

কাজী মোতাহার হোসেন
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা 
- শিখা প্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''। 

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন
নজরুল কাব্য পরিচিতি 
সে পথ লক্ষ্য করে
সিম্পোজিয়াম
গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস
আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৫.
'দি আগলি এশিয়ান' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সানাউল হক
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "দি আগলি এশিয়ান" উপন্যাস:
- 'দি আগলি এশিয়ান' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।

- 'দি আগলি এশিয়ান' (কদর্য এশীয়) আদ্যোপান্ত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। তিনি বলেছেন যে এ গল্প কল্পিত যে-কোনো এশীয় দেশের। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, সে দেশের নাম বাংলাদেশ-যার জন্মই হয়েছে ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর পরে। 

- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।

- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

- আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে।

- উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রচনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপর পড়েছিল।

---------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "দি আগলি এশিয়ান" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৬.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সতেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি, ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি ইত্যাদি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ। বাবুলের বেড়ে ওঠা তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস এবং দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২৭.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আকরম খাঁ
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ।
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৮.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
  2. খ) এই দেশে এই বেশে।
  3. গ) ঘুম নেই।
  4. ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন।
সঠিক উত্তর:
ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন।
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এসএম সোলায়মান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘এই দেশে এই বেশে’। এ নাটকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আর প্রাপ্তির বিষয়টা উঠে এসেছে।  
-  নাসির উদ্দীন ইউসুফ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘ঘুম নেই’। 

'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যটি সৈয়দ শামসুল হক রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯২৯.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. ফররুখ আহমদ 
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. আবুল ফজল 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) রেইনকোট
  2. খ) আগুণের পরশমণি
  3. গ) চিলেকোঠর সেপাই
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
ক) রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
১,৯৩১.
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল লতিফ
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম
  4. ঘ) আ-ন-ম গাজীউল হক
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা, 
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি? (সংক্ষিপ্ত) 

একুশের প্রথম কবিতার রচয়িতা - মাহবুব-উল-আলম।
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা - আ-ন-ম গাজীউল হক 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৩২.
“ছোট বকুলপুরের যাত্রী” - গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. এম.আর আখতার মুকুল
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে “কলম পেশা মজুর” বলা হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
“ছোট বকুলপুরের যাত্রী” - গল্পগ্রন্থটি তার রচনা এবং তা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত।
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
- প্রাগৈতিহাসিক
- মিহি ও মোটা কাহিনী
- আত্মহত্যার অধিকার
- সরীসৃপ
- সমুদ্রের স্বাদ
- আজকাল পরশুর গল্প ইত্যাদি
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
১,৯৩৩.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. কবিতা
  2. কাব্য পরিক্রমা
  3. কয়েকটি কবিতা
  4. বাঙলার কাব্য
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

অন্যদিকে,
- হুমায়ুন কবিরের এর কাব্য সমালোচনা গ্রন্থ - বাঙলার কাব্য।
- অজিতকুমার চক্রবর্তী রচিত গ্রন্থ- কাব্য পরিক্রমা।
- 'কবিতা' কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৪.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' বইটির লেখক কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৩৫.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. বসন্তকুমারী
  3. নীল দর্পণ
  4. চিঠি
সঠিক উত্তর:
চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিঠি
ব্যাখ্যা

 'চিঠি' মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

অন্যদিকে,
- 'বসন্তকুমারী' নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
- 'ভদ্রার্জুন' তারাচরণ শিকদার রচিত বিখ্যাত নাটক।
- 'নীল দর্পণ' নাটকের রচয়িতা  দীনবন্ধু মিত্র।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৬.
'বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' গ্রন্থটি  শামসুজ্জামান খান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
 - এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী হচ্ছে -
- নানা প্রসঙ্গ 
- গণসঙ্গতি 
- মাটি থেকে মহীরুহ
- ফকলোরচর্চা 
 
• রম্যরচনা সমূহ -
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গ

• শিশু সাহিত্য -
দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৩৭.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. কবর
  2. মানুষ
  3. সাজাহান
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 

• 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়। সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন। 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'মানুষ'। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি এর মূল উপজীব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৮.
'সাহসি জননী' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কামাল চৌধুরী
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
কামাল চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'সাহসি জননী' কবিতার রচয়িতা কামাল চৌধুরী। 

ড. কামাল চৌধুরী (জন্ম: ২৮ জানুয়ারি, ১৯৫৭) 
- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কামাল চৌধুরীর জন্ম হয়েছিল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয়করা গ্রামে। 
- তাঁর কবিতা বাঙালির আবহমান জীবনচর্যা, সংগ্রাম ও মানবিক বোধের উৎসারণ, সেই সঙ্গে শিল্পিত প্রকরণের উজ্জ্বল প্রকাশ। 
- তিনি শব্দ, ছন্দ সচেতন ও নিরীক্ষাপ্রবণ কবি।  

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- 
- মিছিলের সমান বয়সী
- টানাপোড়েনের দিন
- এই পথ এই কোলাহল
- এসেছি নিজের ভোরে
- এই মেঘ বিদ্যুতে ভরা
- রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল
- হে মাটি পৃথিবীপুত্র
- পান্থশালার ঘোড়া ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)
১,৯৩৯.
"প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসনটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• "প্রায়শ্চিত্ত" দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন। এটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয় এবং "বহুত আচ্ছা" নামে ক্লাসিক থিয়েটারে অভিনীত হয়েছিল। এই প্রহসনে বিলাতফেরত সমাজের অর্থলোলুপতা, কৃত্রিমতা ও বিলাসিতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: "প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪০.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ অভ্যূত্থান
সঠিক উত্তর:
ক) দেশ বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেশ বিভাগ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'(১৯৬৭) হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৪১.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছায়া হরিণ
  2. খ) সারা দুপুর
  3. গ) আশায় বসতি
  4. ঘ) রাত্রিশেষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৪২.
'কাঁকর মণি‘ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ড. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আনিস চৌধুরী
  4. শওকত ওসমান 
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা
• 'কাঁকর মণি' নাটকটি লিখেছেন - শওকত ওসমান।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৩.
'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. দেয়াল
  4. সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তিনি জন্মগ্রঞণ করেন। 
- দৈনিক  সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়। 
- ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ’ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’,’পদ্মা মেঘনা যমুনা,’ সংকর সংকীর্তন, এ তিনটি উপন্যাসকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- 
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫);

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
জীবন (১৯৪৮),
রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

• তাঁর রচিতপ্রবন্ধ:
চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩),
সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭),
লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৫.
"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
'গাভী বিত্তান্ত' লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি বাস্তবিক গভীর পর্যবেক্ষণে রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে একজন উপাচার্যের গোলামি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নোংরা কদর্য রূপ।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
রসায়নের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ দেশের সেরা ও প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচিত হয়েছেন। রসায়ন বিভাগের সুন্দরী শিক্ষিকা দিলরুবা খানমের আকর্ষণে জুনায়েদ ডোরাকাটা দলের শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী উপাচার্যের উপর ক্ষোভবশত দিলরুবা খানম তাঁর নারীপ্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জুনায়েদকে উপাচার্য প্যানেলে ঢুকিয়ে দেন। স্বৈরাচারী সরকারের অবাধ্য হবে না বলে রাষ্ট্রপতি (যিনি পদাধিকারবলে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও) জুনায়েককেই উপাচার্য নিয়োগ দেন। এই উপাচার্যের পদে আসীন হওয়ার পর জুনায়েদের চরিত্রের বিবর্তনকে ঘিরে আবর্তিত হয় উপন্যাসের কাহিনি।

ঠিকাদার শেখ তবারক আলী উপাচার্যকে হাতে রাখতে জুনায়েদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে একটি দুর্লভজাতের গাভী কিনে দেন এবং ভিসির বাংলোতে শেখ তবারক আলী নিজ জামাতা বুয়েটপাস সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবেদ হোসেনকে দিয়ে গোয়ালঘর বানিয়ে দেন। পরবর্তীতে উপাচার্য আবু জুনায়েদের জীবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সবটাই হয়ে পড়ে গোয়ালঘরকেন্দ্রিক। এই গোয়ালঘরকে রঙ্গমঞ্চ বানিয়ে আহমদ ছফা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দৈন্যদশা এবং শিক্ষকরাজনীতির নোংরা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

উৎস: "গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

১,৯৪৬.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক -
  1. প্রসন্ন শহর
  2. মহাকবি আলাওল
  3. মাটি আর অশ্রু
  4. পূরবী
সঠিক উত্তর:
মহাকবি আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকবি আলাওল
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক- 'মহাকবি আলাওল'।

• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু;
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৭.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  2. খ) দৃষ্টিকোণ
  3. গ) শেষ রাত্রির তারা
  4. ঘ) কমলে চোখ
সঠিক উত্তর:
খ) দৃষ্টিকোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দৃষ্টিকোণ
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮) রচিত গ্রন্থ হলোঃ ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, দৃষ্টিকোণ, নতুন দেশ নতুন চীন, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত জীবনের স্মৃতি (আত্মজীবনী) রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৯৪৮.
‘খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।’ পঙক্তিটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) তরঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) উজানে মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
ক) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লালসালু
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্’র 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: ‘খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।’
- ‘লালসালু’ উপন্যাসটি ইংরেজি অনুবাদ করেন ল্য অরবরে সমাস মায়েমেঁ । উপন্যাসটি ‘ট্রি উইথ আউট রুটস্’ নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৯.
বিদ্রোহী বালিকা বধূ “জমিলা” কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) অপুর সংসার
  2. খ) গাভী বৃত্তান্ত
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালসালু
ব্যাখ্যা

লালসালু (১৯৪৮) সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কর্তৃক রচিত।
গ্রাম বাংলার মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা এবং ধর্মীয় ভন্ডামীর চিত্র উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

এটি ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ইংরেজি অনুবাদের নাম “ Tree without roots”।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - মজিদ, জমিলা এবং আমেনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

১,৯৫০.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) নীহাররঞ্জন দাস
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) নীরদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থের জন্য এস ওয়াজেদ আলী বিখ্যাত হয়ে থাকবেন। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯৫১.
'শেষ রজনীর চাঁদ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আনোয়ার পাশা
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'শেষ রজনীর চাঁদ' উপন্যাসটি রচনা করেন - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫২.
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার ছিলেন আবুল ফজল।

আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ।

নাটক: 
- কায়েদে আজম 
- প্রগতি 
- স্বয়ম্বরা 

দিনলিপ:
- রেখাচিত্র 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৩.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অর্কেষ্ট্রা 
- ক্রন্দসী 
- তন্বী 
- উত্তর ফাল্গুনী 
- সংবর্ত
- দশমী 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বগত 
- কুলায় ও কালপুরুষ

 তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
১,৯৫৪.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) আলী আহসান
  2. খ) সুকুমার সেন
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
- মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন।

- তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- এ ফোনেটিক এন্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব নেইজালস অ্যান্ড নেইজালাইজেশন ইন বেঙ্গলি,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,

- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৫.
‘বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯), পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮), ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ (১৯৩৯), ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪)। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৯৫৬.
বাংলা সাহিত্যে 'সাহিত্যবিশারদ' কার উপাধি?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবদুল করিম
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ(১৮৭১-১৯৫৩):
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৭.
নাট্যকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। 
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
• নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৫৮.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও লোকজীবন চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. দিনাজপুর
  2. বরিশাল
  3. কুষ্টিয়া
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস 'কাশবনের কন্যা'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- সিকদার,
- হোসেন,
- জোবেদা,
- মেহেরজান ইত্যাদি।

--------------------
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৯.
কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকটি রচনা করেছেন রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• কুলীনকুলসর্বস্ব:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
• তাঁর 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
• সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
• এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত প্রহসন:
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- উভয় সংকট,
- চক্ষুদান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯৬০.
"রাজবন্দীর রোজনামচা" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা

• রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

উল্লেখ্য,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬১.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2.  অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬২.
'আব্বুকে মনে পড়ে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
- হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আব্বুকে মনে পড়ে' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কিশোর উপন্যাস
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু। ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল ৪ বছর।

• হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৩.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কোন গ্রন্থটি ফরাসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা
  2. প্রেমের কবিতা
  3. জার্মান সাহিত্য
  4. কবিতার কথা
সঠিক উত্তর:
প্রেমের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমের কবিতা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আলী আহসান রচিত প্রেমের কবিতা গ্রন্থটি ফরাসি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
-------------------------------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২০ সালের ২৬ মার্চ মাগুরার আলোকদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০–৬৭ পর্যন্ত তিনি বাংলা একাডেমীর পরিচালক ছিলেন।
- ১৯৭২ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন।
- নবনির্মিত বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকভাবে গড়ে তোলাসহ তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দেন- 
• সংবিধানের বাংলা ভাষ্য চূড়ান্তকরণ,
• শিল্পকলা একাডেমীর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন,
• বাংলা একাডেমী ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ড একত্রীকরণ।
• এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের ইংরেজি অনুবাদ তিনি সম্পন্ন করেন।

- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- Our Heritage;
- নজরুল ইসলাম;
- প্রেমের কবিতা;
- ওয়াল্ট হুইটম্যানের কবিতা;
- রবীন্দ্রনাথ: কাব্যবিচারের ভূমিকা;
- কথাবিচিত: বিশ্বসাহিত্য ইত্যাদি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত;
- রজনীগন্ধা;
- সহসা সকচিত।
----------------------------------------
• ফরাসী অনুবাদ: 
- “Poems d’amour: Claire & Yvan Goll” হলো ফরাসি ভাষার একটি প্রেমের কবিতা সংকলন। 
- আবদুল মান্নান সৈয়দ এই গ্রন্থটি ফরাসি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
- বাংলায় অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম- প্রেমের কবিতা। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৯৬৪.
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) নয়া সড়ক
  2. খ) সমকাল
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী।
- ১৯৩২ সালে বারোমাসি নামে একটি মাসিক পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সিকান্‌দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আমির যৌথ সম্পাদনায় ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বার্ষিক সাহিত্য পত্র 'নয়া সড়ক।'
- ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত, আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা 'স্বদেশ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬৫.
'ঠাকুরমার ঝুলি' রূপকথার সংকলনটির রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা- ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামাশয়ের থলে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৯৬৬.
বছির ও আজহার জসীমউদ্দীন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বোবা কাহিনী
  2. চলে মুসাফির
  3. মরীচিকা
  4. ডালিমকুমার
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী: 
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রকাশিত প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

অন্যদিকে:
- 'ডালিমকুমার' হচ্ছে জসীমউদ্দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'চলে মুসাফির' হচ্ছে জসীমউদ্দীনের ভ্রমণকাহিনি।
- 'মরীচিকা' হচ্ছে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের কাব্যগ্রন্থ।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
১,৯৬৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আহমদ ছফা
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

- সেকালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা, আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে "রাইফেল রোটি আওরাত"।

- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনি উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য।উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।

অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

উৎস: "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস।
১,৯৬৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কুয়াশা
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. পঞ্চশর
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬৯.
হুমায়ূন কবির কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) সমকাল
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
-  হুমায়ূন কবির 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• হুমায়ূন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭০.
'প্রবোধ চন্দ্রিকা' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. রাজা রাম মোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিখ্যাত পণ্ডিত ছিল।
• তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলোঃ
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধ চন্দ্রিকা ও
- বেদান্ত চন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯৭১.
''হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়''
- কার রচিত পংক্তি?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"

- আবার আসিব ফিরে
জীবনানন্দ দাশ
উল্লেখ্য,
কবিতাটি তার 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।

১,৯৭২.
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চপ্টটোপাধ্যায়
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'স্বর্ণলতা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়'।

• তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ও 'স্বর্ণলতা' উপন্যাস: 
- বঙ্কিমের পরে তাঁর আদর্শ নিয়ে যাঁরা উপন্যাস রচনায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। 
- 'স্বর্ণলতা' উপন্যাসে দরিদ্র ভদ্র বাঙালির ঘরের পরিচিত সুখদুঃখের চিত্র স্থান পেয়েছে। 
- সে আমলের একান্নবর্তী পরিবারে ভ্রাতৃবধূদের স্বার্থপরতা ও কলহের ফলে ভাইদের সংসারে কীভাবে ভাঙন ধরে তারই চিত্র এ উপন্যাসে অঙ্কিত হয়েছে। 
- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী প্রমদার নীচতা এবং কনিষ্ঠের স্ত্রী সরলার সহিষ্ণুতা উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।  
১,৯৭৩.
'আমি বিজয় দেখেছি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) এম আর আখতার মুকুল
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
'আমি বিজয় দেখেছি' (১৯৮৫) এম আর আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা।
-------------
এম. আর আখতার মুকুল(১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
- রূপালী বাতাস (১৯৭২),
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
- মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬),
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫),
- চল্লিশ থেকে একাত্তর (১৯৮৫),
- আমি বিজয় দেখেছি (১৯৮৫),
- বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন (১৯৮৬),
- বায়ান্নোর জবানবন্দী (১৯৮৭),
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৮৭),
- একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা (১৯৯৭),
- বঙ্গবন্ধু (১৯৯৭),
- জিন্নাহ থেকে মুজিব (১৯৯৮) 
- ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা (১৯৯৯) ইত্যাদি।
--------------
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা:  একাত্তরের দিনগুলি - জাহানারা ইমাম
                                          একাত্তরের ডায়রি - সুফিয়া কামাল

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৯৭৪.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন একুশে পদক লাভ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৬ সালে
  2. খ) ১৯৭০ সালে
  3. গ) ১৯৭২ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন, একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন
- ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।


আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
ত্রিস্রোতা (১৯৩৯),
খরতরঙ্গ (১৯৫৩),
দৃষ্টিকোণ (১৯৬১),
নতুন চীন নতুন দেশ (১৯৬৫),
দিগ্বিজয়ী তাইমুর (১৯৬৫),
ইলিয়ড (১৯৬৭),
পলাশী থেকে পাকিস্তান (১৯৬৮),
অতীত দিনের স্মৃতি (১৯৬৮) ইত্যাদি। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
 
১,৯৭৫.
বিখ্যাত কবিতা 'শিক্ষা গুরুর মর্যাদা' কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আব্দুল কাদির
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী কাদের নেওয়াজ
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত কবিতা 'শিক্ষা গুরুর মর্যাদা' লিখেছেন কাজী কাদের নেওয়াজ।

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
কাজী কাদের নেওয়াজ

বাদশাহ্ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লীর্
‌একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশা-শাহাজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ সঞ্চারি অঙ্গুলি।


• কাজী কাদের নেওয়াজ (১৯০৯-১৯৮৩):

- একজন  শিক্ষাবিদ, কবি।
- ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট গ্রামে।

কাজী কাদের নেওয়াজের গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি হলো:
- মরাল, 
- দাদুর বৈঠক, 
- নীল কুমুদী, 
- মণিদীপ,
- কালের হাওয়া,
- মরুচন্দ্রিকা,
- দুটি পাখি দুটি তারা,
- উতলা সন্ধ্যা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা।

১,৯৭৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর লিপিকাল কত সালের?
  1. ক) ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন  বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা  বড়ু চন্ডীদাস।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর লিপিকাল নিয়ে মতান্তর রয়েছে। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ লিখেছেন: "গ্রন্থটির লিপিকাল আনুমানিক ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ, বড়ু চণ্ডীদাস ইহার পূর্বে বিদ্যমান ছিলেন।"
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন: "বইখানির ভাষা খুটিয়ে আলোচনা করে আমার এই ধ্রুব বিশ্বাস দাঁড়িয়েছে যে, এর ভাষা ১৪০০ বা ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের ধারে কিছুতেই হতে পারে না।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৭.
'পাক, মিছিল, প্রতিশোধ' উপন্যাস গুলোর রচয়িতা-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
পাক, মিছিল, প্রতিশোধ, উপনয়ন, আগামী কাল ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা প্রেমেন্দ্র মিত্র। প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৮.
“একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা -
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্‌ক্তির রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল।

• আবুল ফজল:

- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা' তো চিরকালই প্রেরণা জুগিয়েছে বাঙালিকে।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল। বলেছিলেন, 'রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য পাকিস্তান কেন, সমগ্র ভূমণ্ডলেরও নেই।''
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
• রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
১,৯৭৯.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন 'লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক। বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮০.
'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ছিলেন-
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালিদাস রায়
  3. কায়বোকাদ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮১.
আহসান হাবীব এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারাদুপুর
  2. রাত্রিশেষে
  3.  ছায়াহরিণ
  4.  আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

⇒ আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
• রাত্রিশেষ,
• ছায়াহরিণ,
• সারা দুপুর,
• আশায় বসতি,
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
• দুহাতে দু আদিম পাথর,
• প্রেমের কবিতা,
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৮২.
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত 'কৃষ্ণপক্ষ' কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবদুল গাফফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৮৩.
‘পারাপার’ ও ‘পালাবদল’ কাব্যগ্রন্থগুলোর কবি-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম। অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ: তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ: উপহার (১৯২৭), খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), হারানো অর্কিড (১৯৬৬), পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭), অমরাবতী (১৯৭২), অনিঃশেষ (১৯৭৬), নতুন কবিতা (১৯৮০) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,৯৮৪.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. দাউদ হায়দার
  3. হেলাল হাফিজ
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক - হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৫.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী
  2. নদী নিঃশেষিত হলে
  3. নিশুতি রাতের গাথা
  4. নরকে লাল গোলাপ
সঠিক উত্তর:
নিশুতি রাতের গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী
- অন্যান্য কবিতা।

অন্যদিকে,
- 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৬.
তিথিডোর উপন্যাসটির উপজীব্য কী?
  1. আবহমান বাংলার কাহিনী
  2. প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. সামাজিক বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেম ও যৌবনের বন্দনা
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- উপন্যাসটির উপজীব্য- প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৮৭.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কি?
  1. ক) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) বাংলা ভাষার ইতিহাস
  4. ঘ) বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)। বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৯৮৮.
জহির রায়হানের প্রথম পরিচালিত সিনেমা কোনটি?
  1. ক) বেহুলা
  2. খ) জীবন থেকে নেয়া
  3. গ) বাহানা
  4. ঘ) কখনো আসেনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কখনো আসেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা
- পরিচালক হিসেবে জহির রায়হানের যাত্রা শুরু হয় প্রথম সিনেমা 'কখনো আসেনি' এর মাধ্যমে।
- সিনেমাটি ১৯৬১ সালে নির্মাণ করা হয়।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

জীবন থেকে নেয়া:
- সিনেমাতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয়।
- এতে জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

- এছাড়াও বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্রের নাম- Stop Genocide.
- প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করেন জহির রায়হান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৯.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি। 

----------------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯০.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সরল ''ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ'' রচনা করেন ১৯৪৫ সালে।

বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৯৯১.
'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
খ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির লেখক- নির্মলেন্দু গুণ। 
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

নির্মলেন্দু গুণ 
-
১৯৪৫ সালে নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ
প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
না প্রেমিক না বিপ্লবী,
চাষাভূষার কাব্য,
দূর হ দুঃশাসন,
ইসক্রা,
মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা,
শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯২.
‘স্বামী পরিত্যাক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম’ কোন উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু?
  1. জাল
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. মহাপতঙ্গ
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
⇒ 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যাক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

============
⇒ আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯৩.
নুরুল মোমেন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) আলোছায়া
  2. খ) কবর
  3. গ) আইনের অন্তরালে
  4. ঘ) শতকরা আশি
সঠিক উত্তর:
খ) কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবর
ব্যাখ্যা
• কবর নাটক নুরুল মোমেন রচিত নাটক নয়। 

নুরুল মোমেন:
- জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬ সালে। 
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর নেমেসিস নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।

তাঁর নাটক:
- যদি এমন হতো   
- নয়া খান্দান  
- আলোছায়া 
- আইনের অন্তরালে 
- শতকরা আশি  
- রূপলেখা   
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 
 
• কবর নাটকটি মুনীর চৌধুরীর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৪.
বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবদুল্লাহ আল মুতি
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. আবদুল কাদির
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতি
ব্যাখ্যা

জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব।
- পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষক-শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, জনশিক্ষা পরিচালক (ডিপিআই), বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সিলর, শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞাব ও মানুষ
- সাগরের রহস্যপুরী
- তারার দেশের হাতছানি
- বিজ্ঞানের বিস্ময়
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১,৯৯৫.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকের পটভূমি-
  1. ক) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. খ) কৃষক বিদ্রোহ
  3. গ) চাকমা বিদ্রোহ
  4. ঘ) পানিপথের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• “নুরুলদীনের সারাজীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত  কাব্যনাট্য থেকে।
- ১৭৮৩ সালে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৯৬.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৭.
'বাংলা সাহিত্যের কথা' কার রচিত?
  1. ডঃ সুকুমার সেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ডঃ হুমায়ুন আহমেদ 
  4. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা সাহিত্যের কথা' এর রচয়িতা- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। 

• ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ: 
- তাঁর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে । 
-ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন। 
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। 

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 
-ভাষা ও সাহিত্য, 
-বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, 
-দীওয়ানে হাফিজ, 
-রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম, 
-নবী করিম মুহাম্মাদ, 
-ইসলাম প্রসঙ্গ, 
-বিদ্যাপতি শতক, 
-বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড), 
-বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, 
-ব্যাকরণ পরিচয়, 
-বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, 
-মহররম শরীফ, 
-টেইল ফ্রম দি কুরআন, 
-Buddhist Mystic Songs (১৯৬০), 
-Hundred Sayings of the Holy Prophet. 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৮.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।
- অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৯৯৯.
শহীদুল্লা কায়সারের জন্মস্থান-
  1. ঢাকা 
  2. সিলেট
  3. ফেনী
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ফেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী
ব্যাখ্যা

 শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
-  শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ-
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০০০.
"সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে” কার লেখা?
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হোসেন
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

"সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে" রফিক আজাদের লেখা একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। যার মধ্যে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে লেখা 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

--------------------
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।