বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা ১৯ / ৭৭ · ১,৮০১১,৯০০ / ৭,৬৪৬

১,৮০১.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 
  3. আলাওল 
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮০২.
ঘুম কুমারীর মুখে চুমো খায় যখন আকাশ;
যখন ঘুমায়ে থাকে টুনটুনি, মধু, মাছি, ঘাস,- চরণদ্বয় জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) ঝরা পালক
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) ধূসর পান্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
খ) ঝরা পালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঝরা পালক
ব্যাখ্যা
ঘুম কুমারীর মুখে চুমো খায় যখন আকাশ;
যখন ঘুমায়ে থাকে টুনটুনি, মধু, মাছি, ঘাস,
হাওয়া কাতর শ্বাস থেমে যাবে আমলকী সাড়ে,
বাঁকা চাঁদ ডুবে যায় বাদলের মেঘের আঁধারে,
তেঁতুলের শাখে শাখে বাদুড়ের কালো ডানা ভালে।- উল্লেখ্য পঙক্তিগুলো ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ‘কবি’ কবিতার। 

ঝরা পালক
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 

জীবনানন্দ দাশ :
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ঝরা পালক এবং বাংলাপিডিয়া ।
১,৮০৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সংশপ্তক - জাহির রায়হান
  2. খ) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী - আহমদ ছফা
  4. ঘ) নন্দিত নরকে - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী - আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী - আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
 আহমদ ছফা একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

- আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী'
- নন্দিত নরকে রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ ।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি রচনা করেন শহীদুল্লাহ কায়সার ।
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড রচয়িতা সেলিনা হোসেন ।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস :
- গাভী বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- অলাতচক্র (১৯৯০),
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬)

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৮০৪.
'তারাবাঈ' সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি-
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন)।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৫.
'ক্রীতদাসের হাসি' একটি-
  1. রচনাসমগ্র
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮০৬.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৮০৭.
"পাখির কাছে ফুলের কাছে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহসান হাবীব
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৮০৮.
‘আরেফ আলী’ স্কুল মাস্টার চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
- 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। 
- 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’। এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮০৯.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক-
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- মেবার পতন,
- নুরজাহান,
- সাজাহান,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৮১০.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- 'তিনটি প্রশ্ন' ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য, কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮১১.
'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 
- শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান,দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী, চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

- শওকত ওসমান রচিত নাটক -
তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা।

- শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৮১২.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) বারি দ্য ডেড
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) মেঘনাধবধ
  4. ঘ) টেমিং অব দি শ্রু
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮১৩.
'লেবেদেফ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• 'লেবেদেফ' নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশীদ। 

• মামুনুর রশীদ:

- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৪.
‘লালসালু’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪২ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাস:
-‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

•  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮১৫.
"ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও স্বামীনিষ্ঠা" কোন উপন্যাসের মূল উপজীব্য?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা 
  2. আনোয়ারা
  3. সংশপ্তক
  4. গরীবের মেয়ে 
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য - ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮১৬.
“সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।”- গানটি কোন উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. দুই সৈনিক
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান:সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
-----------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

- জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮১৭.
বদরুদ্দীন উমর কোন সাময়িকী সম্পাদন করেন?
  1. সংস্কৃতি
  2. সবুজপত্র
  3. সভ্যতা
  4. স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পান। 
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন। 
 
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৮.
'ধারাবাহিক' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

- হুমায়ুন কবির 'ধারাবাহিক' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন।

• হুমায়ুন কবির:
- তিনি ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন লেখক ও রাজনীতিবীদ।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবির উদ্দিন আহমদ।
- নদী ও নারী' তার রচিত উপন্যাস। যা ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্য-
- অষ্টাদশী,
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-
- মার্কসবাদ,
- ধারাবাহিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮১৯.
‘ধানসিঁড়ি’ কীসের নাম?
  1. ধানের
  2. গ্রামের
  3. শহরের
  4. নদীর
সঠিক উত্তর:
নদীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ-

আবার আসিব ফিরে
– জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো — কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- কবি, শিক্ষাবিদ জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রবিরোধী বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি।
- ড. হুমায়ূন আজাদের মতে, পঞ্চপাণ্ডব বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনায়ন করেন।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - ঝরাপালক; যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ধূসর পান্ডুলিপি ,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) রূপসী বাংলা' কাব্য।
৩) 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা
১,৮২০.
'মেঘমল্লার' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়িা।

১,৮২১.
মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
 
অন্যদিকে,
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮২২.
শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন -
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. আবুল ফজল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তিনি শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের 'মৃণালিনী', 'বিষবৃক্ষ' ও 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস, মধুসূদনের  'মেঘনাদবধ কাব্য' ও নবীনচন্দ্রের 'পলাশীর যুদ্ধ' কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
-  ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮২৩.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী':
- 'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

------------------
• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে-
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮২৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য-  
  1. প্রকৃতির প্রতিশোধ 
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. রাজা ও রানী
  4. নূরলদীনের সারাজীবন
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• "পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়”- কাব্যনাট্যটির পটভূমি- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 
--------------------------------------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

• সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।
--------------------
• ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নিয়ে কিছু কথা-
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’  সৈয়দ শামসুল হকের রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধনির্ভর কাব্যনাট্য।
- নাটকটি ১৯৭৫ সালে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে রচনা করা হয়।
- পরের বছর ১৯৭৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির চেতনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক অনুপ্রেরণামূলক নাট্যকর্ম।
- নাটকের পটভূমিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শত্রুমুক্তির সন্ধিক্ষণে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে।
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ শিরোনামটি প্রতীকীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের আসন্ন আগমন ও বিজয়ের বার্তাবাহী পদচারণাকেই নির্দেশ করে।
------------------------- 
অন্যদিকে, 
• 'প্রকৃতির প্রতিশোধ' ও 'রাজা ও রানী'-  রবীন্দ্রনাথের গুরুত্বপূর্ণ কাব্যনাট্য। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৮২৫.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলায় মাতুলালয়ে জন্ম।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী'।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮২৬.
শওকত আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সমাগম
  2. পতঙ্গ পিঞ্জর
  3. আর্তনাদ
  4. পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা
'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনি বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু। এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

অন্যদিকে, 
সমাগম (১৯৬৭), পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩) ও আর্তনাদ (১৯৮৫) শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮২৭.
কারাগারের রোজনামাচার- গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) শেখ হাছিনা
  4. ঘ) বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।
 
উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
১,৮২৮.
'পলাশী থেকে ধানমণ্ডি' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আবুল ফজল
  2. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আহমদ শরীফ
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
• তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা।
• স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)।
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা,
- শেষ রজনীর চাঁদ,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর,
- ডানপিটে শওকত,
- বাংলাদেশ কথা কয়,
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৮২৯.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চাঁদবেনে
  2. দীপান্বিতা
  3. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  4. উৎস থেকে নিরন্তর
সঠিক উত্তর:
উৎস থেকে নিরন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা
• ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস নয়। এটি সেলিনা হোসেন রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১,৮৩০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩১.
নিচের কোনটি শওকত আলী রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) উত্তরের খেপ
  2. খ) দলিল
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) উন্মুল বাসনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) উন্মুল বাসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উন্মুল বাসনা
ব্যাখ্যা
উন্মুল বাসনা - শওকত আলী রচিত উপন্যাস নয়।

এটি তাঁর রচিত গল্পসমূহের মধ্যে একটি।

• শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ জানুয়ারী দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত গল্প সমূহ:

- লোলিহান স্বাদ
- শুন হে লক্ষিন্দর
- উন্মুল বাসনা
- বাবা আপনে যান

• ‘উত্তরের খেপ’, ‘দলিল’, এবং ‘ওয়ারিশ’ তাঁর রচিত উপন্যাস। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ -

- যাত্রা
- পিঙ্গল আকাশ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন
- পূর্বদিন
- যেতে চাই
- বাসর মধুচন্দ্রিমা
 -হিসাবনিকাশ
- উপরে ছাপ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৩২.
[মূল প্রশ্নে 'নয়' শব্দটি ছিল না। আমরা ঠিক করে দিলাম।] সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) অনুপম দিন
  2. খ) দেয়ালের দেশ
  3. গ) খেলারাম খেলে যা
  4. ঘ) আমার যত গ্লানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার যত গ্লানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার যত গ্লানি
ব্যাখ্যা
‘অনুপম দিন’, ‘দেয়ালের দেশ’ এবং ‘খেলারাম খেলে যা’ সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
Source: LiveMCQ Lecture
১,৮৩৩.
'চিলেকোঠার সেপাই' - এর রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আবু ইসহাক
  4. শওকত ওসমান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৮৩৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. খোয়ারি
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উপন্যাটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৫.
"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।" - কোন গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য?
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. পালামৌ
  3. দেশে বিদেশে
  4. রাশিয়ার চিঠি
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

পালামৌ:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৮৩৬.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. জলাংগী
সঠিক উত্তর:
জলাংগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাংগী
ব্যাখ্যা
• ‘জলাংগী’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

কাহিনি সংক্ষেপ:
একাত্তরের যুদ্ধের ঢেউ শহর ছাপিয়ে বাঁকাজোল নাম গ্রামে পৌঁছেছে। জামিরালি শহর থেকে গ্রামে এলো; স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি – এখন সব বন্ধ। শেখ মুজিবের হুকুমে সবকিছুই বন্ধ। ছয় দফা জনতার দাবি। দেশ যখন উত্তাল জামিরালি ছুটে যায় যুদ্ধে, পেছনে ফেলে যায় পিতা মাতা ও প্রেয়সী হাজেরাকে। 

অন্যদিকে,
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
• ‘যাত্রা’ শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

---------------------
• শওকত ওসমান:  

- শওকত ওসমান ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৭.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নিরুপায় হরিণী
  2. নীড় সন্ধানী
  3. নদী নিঃশেষিত হলে
  4. শহরতলী 
সঠিক উত্তর:
নীড় সন্ধানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীড় সন্ধানী
ব্যাখ্যা

• 'নীড় সন্ধানী' উপন্যাস:
- 'নীড় সন্ধানী' আনোয়ার পাশা রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

- "আলো-বাতাস ও বৃক্ষ-ফলশোভিত এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষেরই বেঁচে থাকার জন্য কী অনন্ত আয়োজন। আর প্রত্যেকটি জীবনের মনেই কি অগাধ কামনা- আমি বাঁচব" আনোয়ার পাশার প্রথম নায়ক, 'নীড় সন্ধানী'র হাসান লিখেছিল এই কথা। আমি বাঁচব- এই অগাধ কামনা আনোয়ার পাশার প্রায় সকল নায়কেরই এবং নায়িকারও। তারা বাঁচতে চায়। বাঁচার জন্য গভীর ও বিচিত্র আয়োজন করে। উদ্যোগ নেয়। পরিশ্রম করে।

-----------------
• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• গল্পগ্রন্থ: নিরুপায় হরিণী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শহরতলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৩৮.
'কল্লোল গোষ্ঠী' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. অতুলচন্দ্র গুপ্ত
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
কল্লোল পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে কল্লোল গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
- অচিন্ত্যকুমার ১৯২৫ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশনার দায়িত্ব নেন।
- তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা কল্লোল যুগ (১৯৫০) পাঠক-মহলে বেশ সাড়া জাগায়। 

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত(১৯০৩-১৯৭৬):
- কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে। 
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
- তিনি  উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)।
- অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাস:

- কাকজ্যোৎস্না (১৯৩১),
- বিবাহের চেয়ে বড় (১৯৩১),
- প্রাচীর ও প্রান্তর (১৯৩২),
- প্রথম কদমফুল (১৯৬১);

কাব্যগ্রন্থ:

- অমাবস্যা (১৯৩০),
- আমরা (১৯৩২),
- প্রিয়া ও পৃথিবী (১৯৩৩),
- নীল আকাশ (১৯৪৯),
- পূর্ব-পশ্চিম (১৯৬৯),
- উত্তরায়ণ (১৯৭৪);

নাটক:
একাঙ্ক নাট্য-সংকলন (১৯৪৫);

গল্পগ্রন্থ:

- টুটাফুটা (১৯২৮),
- কাঠ-খড় কেরোসিন (১৯৪৫),
- চাষাভূষা (১৯৪৭),
- একরাত্রি (১৯৬১) ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৩৯.
'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা- 'কাজী মোতাহার হোসেন'।

• কাজী মোতাহের হোসেন: 
- ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। 
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য- সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। 

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে, 
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, 
- আলোক বিজ্ঞান।

অন্যদিকে,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৪০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্-র ইংরেজি ভাষায় লিখিত একটি রচনা হলো?
  1. ক) Night of no moon
  2. খ) How to cook beans
  3. গ) Tree without roots
  4. ঘ) Cry River Cry
সঠিক উত্তর:
খ) How to cook beans
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) How to cook beans
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- কাঁদো নদী কাঁদো ও চাঁদের অমাবস্যা তাঁর রচিত উপন্যাস।
- বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানের মৃত্যু ইত্যাদি তাঁর রচিত নাটক।
- 'নয়নচারা' ও 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' তাঁর গল্পগ্রন্থ।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans'' 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং দ্যা ডেইলি স্টার>

১,৮৪১.
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  2. খ) স্মৃতিস্তম্ভ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) স্মৃতির মিনার
সঠিক উত্তর:
গ) মানচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানচিত্র
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
• এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
• পাকিস্তান সরকার প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে এ কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন।
 
স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; স্মৃতিস্তম্ভ কবিতা, আলাউদ্দিন আল আজাদ।
১,৮৪২.
নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. খ) ধাবমান
  3. গ) হাতহদাই
  4. ঘ) নিমজ্জন
সঠিক উত্তর:
গ) হাতহদাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাতহদাই
ব্যাখ্যা
নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় সেলিম আল দীন রচিত নাটক - 'হাতহদাই'

বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে যে বিরাট সম্ভাবনা আছে ‘হাতহদাই' এর উদাহরণ। নাটকটি নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।
- ‘হাতহদাই' মানে বাংলায়অর্থ দাঁড়ায় ‘সাত সদাই' বা সাত রকমের সওদা বা বহু কিছু ।
- এই নাটকে নোয়াখালি অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

মুনতাসীর ফ্যান্টাসি: এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত।

ধাবমান: নেত্রকোনাএ বিরিশিরি-দুর্গাপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্ছল ও সোমেশ্বর নদী এর আখ্যানের পটভূমি।

নিমজ্জন: বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি ও দৃশ্যচিত্রের সমন্বয়ে 'নিমজ্জন'- এর কাহিনি গড়ে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৪৩.
কায়কোবাদ রচিত 'বিরহবিলাপ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৪৪.
নবীনচন্দ্র সেন রচিত আত্মজীবনীর নাম-
  1. প্রভাস
  2. আত্মচরিত
  3. আমার জীবন
  4. জীবনস্মৃতি
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 
 
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
জীবনস্মৃতি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ।
• 'প্রভাস'- নবীনচন্দ্র সেনের একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৪৫.
ইলিয়ট ও ইকবালের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. কায়কোবাদ 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আলী আহসান ইলিয়ট ও ইকবালের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ করেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কর্মরত থাকার সময় থেকে তিনি দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের সান্নিধ্যে আসেন এবং আধুনিক পাশ্চাত্য সাহিত্যচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হন। এর ফলস্বরূপ তিনি টি. এস. ইলিয়টের আধুনিক কাব্যভাবনা এবং আল্লামা ইকবালের ইসলামি দর্শন ও চেতনাকে বাংলা ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।

• এই অনুবাদকর্মের মাধ্যমে সৈয়দ আলী আহসান একদিকে পাশ্চাত্য আধুনিকতাবাদ, অন্যদিকে মুসলিম ঐতিহ্য ও ভাবধারাকে বাংলা সাহিত্যে সমন্বিতভাবে তুলে ধরেন, যা তাঁর সাহিত্যিক বহুমাত্রিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত।

-----------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৪৬.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতিকবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• তাঁর প্রথম গীতিকাব্য স্বপ্নদর্শন।
• সারদামঙ্গল তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- সংগীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিনী,
- নিসর্গ সংগীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৮৪৭.
‘মুজিব লেনিন ইন্দিরা’ কার লেখা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রুদ্র মোহাম্মদ
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
- 'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

নির্মলেন্দু গুণ: 

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৪৮.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
লেখক: প্যারীচাঁদ মিত্র।
প্রথম প্রকাশ: ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

• উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু:
উপন্যাসটি দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখকের অভিমত প্রকাশ করে। ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার প্রতি পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ:
• মোকাজান মিয়া (ঠকচাচা): উপন্যাসের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র। তিনি বলেন, "দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?" 
• বাবুরাম: মতিলালের পিতা, 
• মতিলাল: বাবুরামের পুত্র, 
• বাঞ্ছারাম: অর্থলোভী চরিত্র, 
• বক্রেশ্বর: তোষামোদকারী চরিত্র। 

উৎস: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৪৯.
'শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্ম, পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। 
-  তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। এবং 'শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।

- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

 - অধ্যাপক হোসেন ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস প্রফেসর’ পদে নিযুক্তি লাভ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালে ড. হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন।

----------------
'শিখা' পত্রিকা:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।

• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত। শিখার মুখবাণী ছিল 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

• প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৫০.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক?
  1. নবান্ন
  2. মানুষ
  3. নরকে লাল গোলাপ
  4. মেবার পতন
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার ।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।

• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• ‘মেবার পতন’ দ্বিজেন্দ্রলালা রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৫১.
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. গারোদের সংঘাত-যুদ্ধ
  2. আশির দশকের স্বৈরশাসক
  3. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  4. মাদ্রিদের গণহত্যা
সঠিক উত্তর:
আশির দশকের স্বৈরশাসক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশির দশকের স্বৈরশাসক
ব্যাখ্যা
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৫২.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. মহাপতঙ্গ
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী':
• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫) উপন্যাসটি।

• উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।

• দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি, দুর্ভোগ বেড়েছে।

• উভয় বাংলার অল্পক’টি সার্থক উপন্যাসের মধ্যে সূর্য-দীঘল বাড়ী একটি। একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছ'টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• জীবন থেকে নেয়া একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান এর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।
• হাজার বছর ধরে প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
• আবু ইসহাক রচিত ছােট গল্পগ্রন্থ ‘মহাপতঙ্গ'। 

উৎস: 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৫৩.
নিচের কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু মুক্তিযুদ্ধ নয়?
  1. ক) জীবন আমার বোন
  2. খ) কালো বরফ
  3. গ) খেলাঘর
  4. ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা
সঠিক উত্তর:
খ) কালো বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো বরফ
ব্যাখ্যা
মাহমুদুল হক:
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। মাত্র দশদিনে লেখা এই উপন্যাসটির বিস্তৃতি অনেক বড়।)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত।)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১,৮৫৪.
‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - গল্পটির লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - গল্পটির লেখক : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প : 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
১,৮৫৫.
'পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।' - পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ঘুম নেই
  2. খ) অভিযান
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) হরতাল
সঠিক উত্তর:
গ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য
১,৮৫৬.
‘আমার যত গ্লানি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. রশীদ করীম
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
• রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ।
• রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
• উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: যুগান্তর সংবাদপত্র প্রতিবেদন; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৮৫৭.
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য 'কাব্য সুধাকর' অভিধা প্রদান করা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন একজন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তাঁর "বিশ্বনবী" গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।

- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর মৌলিক কাব্য:
রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি।

• অনুবাদকাব্য:
মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে-
বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

-----------------
অন্যদিকে, 
• 'কায়কোবাদ' বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন। 
• হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন। 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি/ অভিধা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৫৮.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মসনদ
  2. পদ্মানদীর চর
  3. অরণ্য গোধূলি
  4. নীড়ভ্রষ্ট
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর চর
ব্যাখ্যা

বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট

বন্দে আলী মিয়া রচিত নাটক: 
- মসনদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৫৯.
'ইডিপাস' নাটকের বাংলা বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সেলিম আল দীন 
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'ইডিপাস' নাটক:
- বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় এ নাটকটা রচনা করেন।
- আর এটা বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- এটি একটি ট্র্যাজেডি নাটক।

-------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৬০.
'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত -
  1. আল মাহমুদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতি=ষ্ঠিত হয়।
- ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখার মুখবাণী ছিল-'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬১.
'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মযহারুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম সদস্য আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি'।
এটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
তার অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, বিচিত্র কথা, সমকালিন চিন্তা, শুভবুদ্ধি ইত্যাদি।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

১,৮৬২.
’ঠাকুর বাড়ির আঙিনা‘ জসীম উদ্‌দীনের কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. স্মৃতিকথা
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন :
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ। 
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা :
- যাদের দেখেছি (১৯৫২),
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না,
- সকিনা ,

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী :
- চলে মুসাফির ,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড় ,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে ,

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- জসীম উদ্‌দীনের একমাত্র উপন্যাস বোবাকাহিনী। 

• আত্মজীবনী : জীবনকথা (১৯৬৪)

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৩.
আবুল ফজলের গড়ে তোলা ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মুখপত্র ছিল-
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) শিখা
  3. গ) ক্রান্তি
  4. ঘ) কণ্ঠস্বর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৬৪.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক হাসান হাফিজুর রহমানের বাজেয়াপ্রাপ্ত সম্পাদনা সংকলন কোনটি-
  1. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে- দলিলপত্র
  2. আর্ত শব্দাবলী
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. শোকার্ত তরবারী
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান: 

-  হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৫.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি কোনটি?
  1. বামাতোষিণী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. গীতাঙ্কুর
  4. রামারঞ্জিকা
সঠিক উত্তর:
গীতাঙ্কুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,৮৬৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়ারি
  2. দুধভাতে উৎপাত
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• চিলেকোঠার সেপাই:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তাঁর রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
খোয়ারি, দোজখের ওম ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৭.
'অনল প্রবাহ' কাব্যটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনলপ্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৬৮.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি?
  1. তুরস্ক ভ্রমণ
  2. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  3. মস্কোতে কয়েকদিন
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
ব্যাখ্যা

• 'তুরস্ক ভ্রমণ' গ্রন্থ পরিচিতি:
'তুরস্ক ভ্রমণ' গ্রন্থটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। তিনি ১৯১০ সালে বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে একটি, যা তৎকালীন তুরস্কের সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোবন,
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গ্রমণকাহিনি- মস্কোতে কয়েকদিন।
• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' (১৯৪৯) হলো বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি, যা লিখেছেন এস ওয়াজেদ আলি ।
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি "বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন"। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, "তুরস্ক ভ্রমণ' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৬৯.
নিচের কোনটি বিখ্যাত প্রতীকধর্মী উপন্যাস?
  1. ক) বিহঙ্গ পুরাণ
  2. খ) মরণবিলাস
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) অলাতচক্র
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রতীক ধর্মী উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'। এতে রূপকাকারে আইয়ুবী স্বৈরশাসনের স্বরূপ এবং পুরো বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তর্সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন যতই জাঁকজমকভাবে উন্নয়নের দশক পালন করুক না কেন বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ছাড়া মানুষ কখনো সুখী হতে পারে না এইটাই এই উপন্যাসে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৭০.
কোনটি হযরত মুহম্মদ (স)-এর জীবনী গ্রন্থ?
  1. মরুমায়া
  2. মরু ভাস্কর
  3. মরুতীর্থ
  4. মরু কুসুম
সঠিক উত্তর:
মরু ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরু ভাস্কর
ব্যাখ্যা
• 'মরুভাস্কর' জীবনী গ্রন্থ:
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে মরুভাস্কর রচনা করেন।
- এর প্রকাশকাল ১৯৪১ সাল।
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী একজন মুসলিম স্বাতন্ত্রবাদী লেখক।

উল্লেখ্য,
• "মরু-ভাস্কর" কাব্যগ্রন্থ:
- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীকাব্য 'মরু-ভাস্কর' এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়। ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যের চারটি সর্গে  -মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৮৭১.
'আয়না' ব্যঙ্গ সাহিত্যটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।
---------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
১,৮৭২.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. শাশ্বতবঙ্গ
  3. নদীবক্ষে
  4. অ-তে অজগর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা

'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র।
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ।

কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ,
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে,
• আরণ্যক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস - অ-তে অজগর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৮৭৩.
শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় কোন কিশোর পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) আঙুর
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) মুকুল
  4. ঘ) ধান শালিকের দেশ
সঠিক উত্তর:
খ) সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
• শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙুর' যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘ধান শালিকের দেশ’ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক শিশু কিশাের পত্রিকা।
- 'মুকুল'(১৮৯৫) পত্রিকার সম্পাদক শিবনাথ শাস্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৭৪.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. আখ্যান কাব্য 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস - চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।
-  এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৭৫.
'শিয়রে বাংলাদেশ' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রাহমান 
  4. সৈয়দ শামসুল হক 
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'শিয়রে বাংলাদেশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - নির্মলেন্দু গুণ।

--------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভগলার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৭৬.
'শেখ আজিজুর রহমান' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শওকত আলী
  2. কায়কোবাদ
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৭৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত 'কাঞ্চনমালা' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত 'কাঞ্চনমালা' হচ্ছে- উপন্যাস।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৭৮.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গীতসংকলন কোনটি?
  1. কল্কি অবতার
  2. আনন্দ-বিদায়
  3. বঙ্গনারী
  4. আর্য্যগাথা
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
ব্যাখ্যা

'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

- কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

এ পর্বের একটি গান হলো:
'গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।'

---------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রহসন বা লঘু রসাশ্রয়ী নাটক:
- একঘরে,
- কল্কি অবতার,
- বিরহ,
- এ্যহস্পর্শ বা সুখী পরিবার,
- পুনর্জন্ম, 
- আনন্দ-বিদায়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৭৯.
’চাষাভুষার কাব্য’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৮০.
‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আবুল ফজল
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৮১.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. ক্ষুধা ও আশা
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

​-------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদে রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• উপন্যাস:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০), 
শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২), 
কর্ণফুলী (১৯৬২), 
ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), 
খসড়া কাগজ (১৯৮৬)। 

• গল্প:
জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ), 
ধানকন্যা, 
মৃগণাভি, 
উজান তরঙ্গে, 
যখন সৈকত। 

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র। 

• নাটক:
নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক,
এহুদের মেয়ে, 
মরোক্কোর জাদুকর, 
মায়াবী প্রহর। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৮২.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

•  "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটির রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 

-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণকাহিনি।
- এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। 

 'পালামৌ' গ্রন্থের কিভহু উল্লেখযোগ্য উক্তি- 
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ৷"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন ।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব ।'
- "যে হারে, সেই রাগে ।"

-----------------------
• তাঁর রচিত গল্প: 
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- যাত্রা,

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৮৩.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৪.
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদ সেনের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান। 

অতুলপ্রসাদ সেন ও তাঁর সঙ্গীতভাণ্ডার: 
বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন। এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।

জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।

হিন্দুস্থানি লঘু খেয়াল, ঠুংরি ও দাদরা সঙ্গীতের সুষমামন্ডিত সুরের সঙ্গে অতুলপ্রসাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। হিন্দুস্থানি সুর সংযোজনায় বাংলা গানের কাব্যিক মর্যাদা কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করলেও একটি স্বতঃস্ফূর্ত সাঙ্গীতিক ভাব তাঁর সকল গানে পরিলক্ষিত হয়। যেখানে সুর সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত মাধুর্য নিয়ে কথার ভাবকে ছাড়িয়ে গিয়েছে সেখানেই অতুলপ্রসাদের সার্থকতা।

তাঁর ঠুংরি ও দাদরা ভঙ্গির গানগুলি শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। এমন কয়েকটি গান হলো: ‘কি আর চাহিব বলো’ (ভৈরবী/টপ খেয়াল), ‘ওগো নিঠুর দরদী’ (মিশ্র আশাবরী-দাদরা/টপ ঠুংরি), ‘যাব না যাব না ঘরে’ (ঠুংরি) ইত্যাদি। তাঁর রাগপ্রধান গানের মধ্যে ‘বঁধু ধর ধর মালা’ (কালিংড়া), ‘তবু তোমায় ডাকি বারে বারে’ (সিন্ধু কাফি) ইত্যাদি গান আজও সঙ্গীতবোদ্ধাদের নিকট সমান প্রিয়।

১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন, তাতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে: ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’।

এভাবে বাণীপ্রধান গীতি রচনা, সুললিত সুর সংযোজন, সুরারোপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রচলন ও করুণরস সঞ্চারের মাধ্যমে অতুলপ্রসাদ বাংলা সঙ্গীতভান্ডারকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৫.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমেদ ছফা। তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
১,৮৮৬.
বাংলা সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র সেনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি-
  1. কুরআনের বঙ্গানুবাদ
  2. পাঁচালী গান রচনা
  3. নাট্য রচনা
  4. অনুবাদক উপন্যাস রচনা
সঠিক উত্তর:
কুরআনের বঙ্গানুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরআনের বঙ্গানুবাদ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৭.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) গীতিগুঞ্জ
  2. খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  3. গ) কয়েকটি গান
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে। 

অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪)
- ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৮৮.
'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

১,৮৮৯.
শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের স্মৃতি অঙ্কিত হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  2. রাজবন্দীর রোজনামচা
  3. কারাগারের রোজনামচা
  4. কারাগারের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
⇒ রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

অন্যদিকে,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- ‘কারাগারের রোজনামচা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ।
- ‘কারাগারের দিনগুলি’ বোরহান আহমেদ রচিত গ্রন্থ।

==============
⇒ শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৮৯০.
জসীমউদ্দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২৫ সালে
  2. খ) ১৯২৭ সালে
  3. গ) ১৯২৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
• তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
• ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
• পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
• 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
• বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
• তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত আত্মকথাঃ
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।
• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৮৯১.
শওকত ওসমান রচিত ‘আমলার মামলা’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী? 
  1. শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 
  2. আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি ও শোষণ
  3. দরিদ্র পরিবারের জীবন সংগ্রাম 
  4. সব কয়টি 
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি 
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
-----------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
----------------------------------------------------
‘আমলার মামলা’ নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত ওসমানের বিখ্যাত নাটক ‘আমলার মামলা’ তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব ও নির্মম প্রতিফলন।
- এই নাটকটি মূলত আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
- নাটকটিতে দেখানো হয়েছে—কীভাবে সরকারি আমলারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে নিপীড়ন করে এবং আইনি জটিলতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
- নাটকের কাহিনিতে একটি দরিদ্র পরিবারের পাঁচজন মেধাবী ছেলের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশেষ করে বড় ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দারিদ্র্য ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির কারণে ভেঙে যায়।
- তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- ‘আমলার মামলা’ শুধু শোষণের কাহিনি নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও বলে
- নাটকে দেখা যায়, অন্যায়ের শিকার মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয় এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৮৯২.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গানটি প্রথম কোন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. একুশের গল্প
  2. একুশের গান
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. একুশের  শিরোনাম
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উল্লেখ্য, 
  - ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গানটি রচনা করেন সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী। ‘একুশের  শিরোনামে’ গানটি একটি খবরের কাগজের শেষ পাতায় প্রথম প্রকাশ হয়েছিল।

- ‘একুশের গান’ শিরোনামে গানটি প্রথম প্রকাশ হয় ভাষা আন্দোলনের প্রথম লিফলেটে। ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল দেশাত্মবোধক এ গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮৯৩.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৯৪.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি গােলাম মােস্তফার বুলবুলিস্তান কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
কবিতাটিতে পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় এই কবিতার প্রতিপাদ্য বিষয়। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
১,৮৯৫.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সাদা হাওয়া
  2. খ) মাটির দেয়াল
  3. গ) পথ অন্তহীন
  4. ঘ) দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
খ) মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
'মাটির দেয়াল' একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি রচনা করেন অমিয় চক্রবর্তী।
পথ অন্তহীন - তাঁর রচিত গদ্যরচনা।
সাদা হাওয়া - উপন্যাসের রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
দোজখের ওম - গল্পগ্রন্থের রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৯৬.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন-
  1. কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
  2. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ
  3. মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রমুখ
  4. কাজী ইমদাদুল হক, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী প্রমুখ
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৮৯৭.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আবু ইসহাক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাস:
- 'আগুন নিয়ে খেলা' ​অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। 
- প্রথম প্রকাশ আশ্বিন ১৩৩৭, দ্বিতীয় সংস্করণ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬,  তৃতীয় সংস্করণ অগ্রহায়ণ ১৩৫২,  চতুর্থ সংস্করণ মাঘ ১৩৫৭ এবং পঞ্চম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৬৩। 
- প্রচ্ছদপট শ্রীমতী লীলা রায়ের আঁকা। এ গ্রন্থের কপিরাইট শ্রীমতী লীলা রায়ের ছিল।
- প্রকাশক শ্রীগোপালদাস মজুমদার। গ্রন্থটি ডি. এম. লাইব্রেরী , কর্নওয়ালিস স্টীট, কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশকালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল ​​তিন টাকা। 

​--------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'আগুন নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৮৯৮.
‘রাজাবলী’ - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বিষ্ণু দে
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ‘রাজাবলী’ গ্রন্থের রচয়িতা - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
 
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
 
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৮৯৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন মাত্র -
  1. ২৩ বছর বয়সে
  2. ২১ বছর বয়সে
  3. ২০ বছর বয়সে
  4. ২২ বছর বয়সে
সঠিক উত্তর:
২১ বছর বয়সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ বছর বয়সে
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালের  প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০০.
'নিমগাছ' গল্পে বনফুল 'নিমগাছ' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
  1. ক) সকলের জন্য সাহায্যে হাত বাড়ানো
  2. খ) রোগ নিরাময়ের অস্ত্র
  3. গ) নারীর আত্মত্যাগ
  4. ঘ) সাধারণের মধ্যে অসাধারণ গুণ
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর আত্মত্যাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর আত্মত্যাগ
ব্যাখ্যা
নিমগাছ গল্পটি বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) এর 'অদৃশ্যলোক' (১৯৪৭) নামক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এটি একটি প্রতীকী গল্প।
- এখানে নিমগাছের তুলনা করা হয়েছে একজন গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউ এর সাথে। 
- 'নিমগাছ' গল্পটিতে নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ।

কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭৯) এর জন্ম বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ
- বনফুলের গল্প (১৯৩৬),
- বিন্দুবিসর্গ (১৯৪৪),
- অদৃশ্যলোকে (১৯৪৬),
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ (১৯৬১),
- মণিহারী (১৯৬৩),
- বহুবর্ণ (১৯৭৬),
- বনফুলের নতুন গল্প (১৯৭৬) প্রভৃতি।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- তৃণখন্ড (১৯৩৫),
- জঙ্গম (তিন খন্ড, ১৯৪৩-১৯৪৫),
- অগ্নি (১৯৪৬),
- ডানা (তিনখন্ড, যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৫),
- স্থাবর (১৯৫১),
- অগ্নীশ্বর (১৯৫৯),
- হাটেবাজারে (১৯৬১),
- ত্রিবর্ণ (১৯৬৩),
- ভুবনসোম (১৯৬৩),
- প্রচ্ছন্ন মহিমা (১৯৬৭),
- উদয় অস্ত (দুই খন্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪) প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।