বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

মোট প্রশ্ন২৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৩২

১০১.
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্য কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

(১) সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
(২) জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।
(৩) যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে। যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০২.
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বলে- 
  1. ভাষা 
  2. পদ 
  3. বাক্য
  4. কারক 
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা

বাক্য:
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। 
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে।

প্রতিটি বাক্যকে প্রধান দুই অংশে ভাগ করা যায়:
• উদ্দেশ্য: 
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।- এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়: 
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।- এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: 
• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়; 
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়; 
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়। 

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্য তিন প্রকার: 
১. সরল,
২. জটিল,
৩. যৌগিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১০৩.
বিচারে রুই কাতলারা ঠকে, সুবিধে পায় চুনোপুটিরা।- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আসক্তি
  2. যােগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসত্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা

• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

'বিচারে রুই কাতলারা ঠকে, সুবিধে পায় চুনোপুটিরা।' বাক্যে 'রুই কাতলারা' এবং 'চুনোপুটি' বাগ্‌ধারা।
- 'রুই কাতলা' অর্থ - বিশিষ্ট্য ব্যক্তি।
- 'চুনোপুটি' অর্থ  - সামান্য ব্যক্তি। 
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

⇒ বাক্যটির সঠিকরূপ হবে: 'বিচারে চুনোপুটিরা ঠকে, সুবিধে পায় রুই কাতলারা।' 

==========
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

 ⇒ যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০৪.
”দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য”। এটি একটি:
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্রিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি একটি সরল বাক্য। 

সরল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
- উক্ত বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
-  জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১০৫.
নিম্নে বর্ণিত কোনটি ভাষার গুণ নয়?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসক্তি
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
- বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখণ্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।

• ভাষার বিচারে বাক্যের গুণ তিনটি।
যেমন-
 - আকাঙ্ক্ষা;
 - আসত্তি ;
- যোগ্যতা;

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

• আসত্তি:
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

• যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম-১০ম শ্রেণি,  ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০৬.
'দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।' - বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষে
  3. দুর্বোধ্যতার দোষে
  4. বাহুল্য দোষে
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন -
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু
- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' - বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন -
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন
'আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।

• শুদ্ধ বাক্য: দেশের আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৭.
'ভালো ফলের চেষ্টা কর।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ইচ্ছাবোধক
  2. বিস্ময়সূচক
  3. নির্দেশাত্মক
  4. অনুজ্ঞাবাচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।
একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমন-

উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
- ভালো ফলের চেষ্টা কর।

আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৮.
জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হয়?
  1. যোজক 
  2. সর্বনাম
  3. যতিচিহ্ন 
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
যোজক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৯.
নিচের কোন বাক্যে গুরুচণ্ডালী দোষ পরিলক্ষিত?
  1. এ কাজে তাহার হাত পাকা।
  2. তিনি বাড়ি হইতে বাহির হইয়াছেন।
  3. তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি কতকাল!
  4. এ কাজটি করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
সঠিক উত্তর:
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
ব্যাখ্যা
⇒ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন:
- গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।
কিন্তু যদি বলা হয়- গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

• 'এ কাজে তাহার হাত পাকা।'- বাক্যটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'এই কার্যে তাহার হস্ত পাকা' বা 'এ কাজে তার হাত পাকা'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে কোন বাক্য ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) বিবৃতিবাচক
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) আবেগবাচক
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১১১.
বাক্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার। এগুলো হচ্ছে-
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা।

• আকাক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
• আসত্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
• যোগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
'আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।'- বাক্যটি যোগ্যতা হারাবার কারণ কী?
  1. ক) বাহুল্য দোষ
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়ােগ
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
গ) উপমার ভুল প্রয়ােগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপমার ভুল প্রয়ােগ
ব্যাখ্যা
• উপমার ভুল প্রয়ােগ:
উপমা ভাষাবিশেষের সম্পদ। বিশেষ অর্থে প্রসঙ্গ অনুযায়ী এসব উপমা প্রয়ােগ করা হয়ে থাকে।
সঠিকভাবে এসব উপমা ব্যবহার না করলে বাক্য তার যােগ্যতা হারায়।

 • যেমন- আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।
এখানে উপমার ভুল প্রয়ােগ ঘটেছে, কারণ বীজ মন্দিরে বপন করা হয় না, বপন করা হয় ক্ষেতে।
বাক্যটি হবে 'আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।'

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
অংশ অনুসারে বাক্য কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
বাক্য:
ভাষার মূল উপকরণ বাক্য এবং বাক্যেরে মৌলিক উপাদান শব্দ।
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে।

অংশ অনুসারে বাক্য ২ প্রকার।
যথা: 
১. উদ্দেশ্য বা কর্তা - যাকে উদ্দেশ্য করে বা যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে উদ্দেশ্য বা কর্তা বলে।
যেমন - রাফিন বই পড়ছে।

২. বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়া: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
যেমন - কোমল গান গায়।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১১৪.
‘সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।’- বাক্যে 'সেলিম সাহেবের ছেলে' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিধেয়ের ক্রিয়া
  2. বিধেয়ের পূরক
  3. উদ্দেশ্যের প্রসারক
  4. বিধেয়ের প্রসারক
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্যের প্রসারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্যের প্রসারক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১১৫.
বাক্যের গৌণকর্মের সঙ্গে কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. ক) -কে
  2. খ) -তে
  3. গ) -র
  4. ঘ) -এ
সঠিক উত্তর:
ক) -কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) -কে
ব্যাখ্যা
বাক্যের গৌণকর্মের সঙ্গে সাধারনত -কে এবং -রে বিভক্তির প্রয়োগ হয়।
- ক্রিয়াকে কাকে প্রশ্ন করলে যে শব্দ পাওয়া যায় তার সঙ্গে এই বিভক্তি যুক্ত হয়। 
- যেমন, শিশুকে, দরিদ্রকে, আমাকে, আমারে ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১১৬.
নেতিবাচক বাক্য কোনটি?
  1. ক) এখান থেকে বিদায় হও।
  2. খ) অযথা সময় নষ্ট করো না।
  3. গ) ছেলেটির অসুখ এখনও ভালাে হয়নি।
  4. ঘ) হায়, হায়! একি হলো।
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির অসুখ এখনও ভালাে হয়নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছেলেটির অসুখ এখনও ভালাে হয়নি।
ব্যাখ্যা
বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘােরে।
- লােকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

এ বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হাসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য- এ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক. অস্তিবাচক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোনাে কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন-
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালাে লােক ভালাে কাজের পরামর্শ দেন। 

খ. নেতিবাচক বাক্য : যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন-
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালাে হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না। ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
গঠনগত দিক অনুযায়ী বাংলা বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) চার ভাগে
  3. গ) তিন ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
গ) তিন ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিন ভাগে
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

যেমন,
১. সরল বাক্য,
২. জটিল বাক্য,
৩. যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- ফারিয়া সকলের জন্য নাস্তা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন- যদি তুমি জিততে চাও, তবে শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ফেলো। 

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন- রহিম রাতে পরটা খায় আর করিম খায় খিচুড়ি।

 তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৮.
‘গুরুচণ্ডলী দোষ ও বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ’ বাক্যের কোন গুণের অভাব প্রকাশ করে?
  1. যােগ্যতা
  2. আসত্তি
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘গুরুচণ্ডলী দোষ ও বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ’ বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব প্রকাশ করে।

------------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগ্‌ধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৯.
'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ইচ্ছাবোধক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন-
উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
- ভালো ফলের চেষ্টা কর।

আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২০.
‘তোমার মঙ্গল হোক’ - এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিমূলক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
  3. গ) আদেশ বাচক বাক্য
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
উক্ত বাক্যটি ইচ্ছাসূচক বাক্য। এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা হয়।
এধরনের আরো কয়েকটি বাক্য - ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন। পরীক্ষায় সফল হও। দীর্ঘজীবী হও।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২১.
বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’-বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) উৎকর্ষতা
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা- আকাক্সক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন: ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ বলে শেষ করলে আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। বাক্যটি হবে ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’।
আসত্তি : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। বাক্যটি যথাযথ হয়নি কারণ, এখানে আসত্তির অভাব রয়েছে। বাক্যটি হবে ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে’।
যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি হয়-বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু ‘বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’ বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১২২.
আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। এই বাক্যে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. গ) যথার্থ শব্দের প্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
উপমা বা অলংকার সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে বা যথাযথ না হলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন : আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। বাক্যটি সঠিক নয়। কেননা বীজ বপন করা হয় খেতে, মন্দিরে নয়।
বাক্যটির সঠিক রূপ হলো : আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
১২৩.
“চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে” - বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  5. ঙ) উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
ক) আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা- আকাক্সক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
আকাঙ্ক্ষা : বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন: ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ বলে শেষ করলে আরও শোনার আকাঙ্ক্ষা থাকে। বাক্যটি হবে ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’।
আসত্তি : বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। বাক্যটি যথাযথ হয়নি কারণ, এখানে আসত্তির অভাব রয়েছে। বাক্যটি হবে ‘কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে’।
যোগ্যতা : বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি হয়-বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু ‘বর্ষার রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’ বললে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রোদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১২৪.
কোনটি মিশ্র বাক্য?
  1. ক) তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো
  2. খ) মিথ্যা কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি
  3. গ) মেঘ গর্জন করলে, তবে ময়ূর নৃত্য করে
  4. ঘ) তিনি ধনী হলেও দাতা নন
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো
ব্যাখ্যা
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙলো' এটি জটিল বা মিশ্র বাক্যের উদাহরণ। যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সে ই সুখ লাভ করে। তিনি ধনি হলেও দাতা নন - এটি সরলবাক্য। 'মিথ্যা কথা বলি নি, তাই বিপদে পড়েছি' এবং 'মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে' বাক্য দুটি যৌগিক বাক্য। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১২৫.
বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ বাক্যের কোন গুণের অভাব প্রকাশ করে?
  1. যােগ্যতা
  2. আসত্তি
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা

• 'বাগ্‌ধারার অশুদ্ধ প্রয়োগ’ বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব প্রকাশ করে।

------------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগ্‌ধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২৬.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই 
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
- তিনি জাতিতে বাঙ্গালি।
[এই বাক্যে কোনো কাজ বা ক্রিয়া কার্যকারিতা প্রকাশ পাচ্ছে না। এটি কেবল একটি বর্ণনা বা পরিচয় প্রকাশ করছে, যেখানে কোনো কর্ম বা কাজের সম্পাদন নেই।]

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১২৭.
'কাজটি করে দাও না ভাই।' বাক্যটি একটি-
  1. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  2. বর্ণনামূলক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  4. বিবৃতিমূলক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ
উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।

আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২৮.
বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস -
  1. ক) যোগ্যতা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) মেলন
  4. ঘ) বন্ধন
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১২৯.
'বর্ষার রৌদ্র প্লানবনের সৃষ্টি করে' —বাক্যটিতে কীসের অভাব?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. পদবিন্যাস
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

- “বর্ষার রৌদ্র প্লানবনের সৃষ্টি করে” বাক্যটি তার ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

১৩০.
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই-
  1. যােগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আসত্তি
  4. বহুলতা
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩১.
অস্তিবাচক বাক্য কোনটি?
  1. টাকায় কি না করে?
  2. মন নিচুতে নামতে চায় না।
  3. আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।
  4. ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।
সঠিক উত্তর:
আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: 'হ্যাঁ' সূচক বাক্যকে 'না' করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হয়। যেমন:
অস্তিবাচক: 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।'
নেতিবাচক: 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।'

• সূত্র: বাক্যে ( 'না', 'নয়', 'নি', 'নহে', 'নেই', 'নাহি', 'নাই') ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক স্বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়।
যেমন:
অস্তিবাচক: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।
নেতিবাচক: মন নিচুতে নামতে চায় না।

অস্তিবাচক: টাকায় সব করে।
নেতিবাচক: টাকায় কি না করে?

• সূত্র: প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক প্রয়োগ করতে হয়। যেমন:
অস্তিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি?'
নেতিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের আপত্তি থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: 'না'-বাচক ক্রিয়া ও 'না'-বাচক শব্দ মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে
হয়।
যেমন:
অস্তিবাচক: ভায়ের উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।

• পরিবর্তিত নঞর্থক বাক্যে 'নি', 'উচিত'-এর বিপরীত শব্দ 'অনুচিত' মিলে বাক্যের অত্যর্থক ভাবটি অক্ষুন্ন রেখেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩২.
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে, বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে 
  2. বাহুল্য দোষে 
  3. বচনগত দোষে 
  4. বাচ্য-বিকৃতি দোষে 
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে 
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।

যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১৩৩.
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে কি বলে?
  1. ক) বাক্য
  2. খ) উদ্দেশ্য
  3. গ) বাক্যাংশ
  4. ঘ) বিধেয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্য
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে
- গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• সরল বাক্য,
• জটিল বাক্য ও
• যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৪.
তুমি পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হও এই আমি চাই। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + সর্বনাম (এ/এই) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
- তুমি পড়াশোনা করে অনেক বড়ো হও এই আমি চাই। 
- বাংলাদেশ হেরে যাক এ আমি চাই না। 
- বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১৩৫.
যদি-তবে, যেমন-তেমন, যত-তত ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যুক্ত অধীন বাক্যকে কী ধরনের বাক্য বলে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) বিবৃতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন,
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৬.
"কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-কাঁচকলা খেয়ে নেমেছে।" বাক্যটি কি হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. পদক্রম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-কাঁচকলা খেয়ে নেমেছে। 
আদা-কাঁচকলা অর্থ ঘোর শত্রুভাবাপন্ন। তাই বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে। 
সঠিক বাক্যটি হবেঃ কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা-জল খেয়ে নেমেছে।
১৩৭.
বাক্যের 'একক' কি?
  1. উক্তি
  2. বিভক্তি
  3. উপসর্গ
  4. পদ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• বাক্য:
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন:
- "সজল ও লতা বই পড়ে।" এটি একটি বাক্য।
[পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।]

- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে। এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সরল,
২. জটিল ও
৩. যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩৮.
“করিম স্কুলে যায়” -এই বাক্যের বিধেয় কোনটি?
  1. ক) করিম
  2. খ) স্কুলে
  3. গ) যায়
  4. ঘ) স্কুলে যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্কুলে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্কুলে যায়
ব্যাখ্যা
• এখানে ‘স্কুলে যায়’ হলো বিধেয়।

• প্রতিটি বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - দুই অংশে ভাগ করা যায় ।
- বাক্যের যে অংশে কারো সম্পর্কে বলা হয়, সেই অংশ হলো বাক্যের উদ্দেশ্য 
- বাক্যের যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়, সেই অংশ হলো বাক্যের বিধেয় ।

•  “করিম স্কুলে যায়” - বাক্যে ‘করিম’ হলো উদ্দেশ্য এবং ‘স্কুলে যায়’ বিধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম - দশম শ্রেণি)।
১৩৯.
‘শুধু শুধু বনে ক্রন্দন করে কাজ হবে না।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. বাহুল্য
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যােগ্যতা
  4. আসত্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

•‘বনে ক্রন্দন করে লাভ নেই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রযোগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: শুধু শুধু অরণ্যে রোদন করে কাজ হবে না।
- ‘অরণ্যে রোদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।

------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪০.
‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।’- এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
দুটি বাক্যের মাঝে কমা হলে যৌগিক ও জটিল বাক্য হতে পারে। তবে জটিল বাক্যে দুটি বাক্য সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে, একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে, বা কোনো শর্তের অধীন থাকবে। যেমন : 
- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 
- ‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’  
- ‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১৪১.
‘বাহুলতা এবং উপমার অশুদ্ধ ব্যবহার’ বাক্যের কোন গুণের অভাব প্রকাশ করে?
  1. আসত্তি
  2. যােগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘বাহুলতা এবং উপমার অশুদ্ধ ব্যবহার’ বাক্যের যোগ্যতা গুণের অভাব প্রকাশ করে।

------------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[ কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগ্‌ধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

---------------------
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪২.
বাক্যের যোগ্যতা -
  1. ক) কাব্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
  2. খ) গদ্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
  3. গ) সর্বক্ষেত্রেই বিচার করা হয়।
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয় না।
ব্যাখ্যা

বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম যোগ্যতা। সাধারণত গদ্যের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিচার হয়, কাব্যের ক্ষেত্রে নয়।
“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে” - এ পঙ্‌ক্তি কবিতায় মান্য হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪৩.
যে সব পদের সাহায্যে মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে?
  1. কারক
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা
বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'যে পদ বা শব্দ-সমষ্টির দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয়,
সেই পদ বা শব্দ-সমষ্টিকে বাক্য (sentence) বলে।'
ভাষাবিদ জ্যোতিভূষণ চাকী বলেছেন, 'যথাযথ বিন্যস্ত শব্দসমষ্টি যদি একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৪.
অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বাক্যের কোথায় বসে?
  1. ক) প্রথমে
  2. খ) শেষে
  3. গ) বিশেষণের পূর্বে
  4. ঘ) বিশেষ্যের পর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণের পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণের পূর্বে
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়াপদ- 'বিশেষণের পূর্বে' বাক্যের বসে। 
যেমন: 
লোকটি ব্যবহারে  খুবই ভদ্র। 
রাজশাহীর আম খেতে চমৎকার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৪৫.
কর্তা সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বলে-
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. উদ্দেশ্য
  3. বিধেয়
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৬.
শুদ্ধ বাক্যটি নির্বাচন করুন:
  1. ক) এটি লজ্জানীয় ব্যাপার
  2. খ) এটি লজ্জাস্কর ব্যাপার
  3. গ) এটি লজ্জাষ্কর ব্যাপার
  4. ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এটি লজ্জাকর ব্যাপার
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হল:  এটি লজ্জাকর ব্যাপার।

এছাড়া,  লজ্জাস্কর বা লজ্জাষ্কর শব্দগুলো প্রচলিত ভুল বানান। 

সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
 
১৪৭.
'তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।' এটা কোন বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) অধীন বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমনঃ
- তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম কী?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যের গুণ ৩ টি।
যথা -
- আকাঙ্খা
- যোগ্যতা
- আসত্তি।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য এক পদের পর অন্য পদের যে সংস্থাপন , বাক্য পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রোতার যে না-মেটা কৌতূহল, তাকে বাক্যের আকাঙ্খা বলে।
২. বাক্যের পদগুলি অর্থের সঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি।
৩. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাব সম্মিলনের নাম যোগ্যতা ।

আলোচ্য বাক্যে বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন লোপ পেয়েছে। তাই বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৯.
'সজল স্কুলে যায়'- বাক্যের বিধেয় -
  1. ক) যায়
  2. খ) সজল
  3. গ) স্কুলে যায়
  4. ঘ) স্কুলে
সঠিক উত্তর:
গ) স্কুলে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্কুলে যায়
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে বিধেয় হচ্ছে 'স্কুলে যায়'

• প্রতিটি বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয়- এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
- বাক্যের যে অংশে কারো সম্পর্কে বলা হয়, সেই অংশ হলো বাক্যের উদ্দেশ্য।
- এছাড়া বাক্যের যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়, সেই অংশ হলো বাক্যের বিধেয়।

• সজল স্কুলে যায়।
- বাক্যে ‘সজল' হচ্ছে উদ্দেশ্য এবং 'স্কুলে যায়' হচ্ছে বিধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫০.
বাংলা বাক্যে উদ্দেশ্য কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শুরুতে
  2. বাক্যের শেষে
  3. বাক্যের মাঝে
  4. যেকোনো জায়গায়
সঠিক উত্তর:
বাক্যের শুরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের শুরুতে
ব্যাখ্যা

• বাংলা বাক্যে, উদ্দেশ্য বাক্যের শুরুতে বসে বাক্য গঠন করে।

----------------
একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।]

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
[এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫১.
'তুষার সাহেবের ছেলে ইমন গাছতলায় বসে ছবি আঁকছে।' বাক্যের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. আঁকা 
  2. ছবি
  3. তুষার সাহেব
  4. ইমন
সঠিক উত্তর:
ইমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমন
ব্যাখ্যা

• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- তুষার সাহেবের ছেলে ইমন গাছতলায় বসে ছবি আঁকছে। 
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন ও ইমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে ও তুষার সাহেবের ছেলে ' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে ও আঁকছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'ছবি ও বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৫২.
“তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ।” বাক্যটির যোগ্যতা বিনষ্ট হওয়ার কারণ-
  1. ক) অপ্রচলিত শব্দ
  2. খ) বাহুল্য-দোষ
  3. গ) গুরুচন্ডালী দোষ
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
ক) অপ্রচলিত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অপ্রচলিত শব্দ
ব্যাখ্যা
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন- তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছ। (এখানে শব্দটি চাতুরী বা মায়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু বাংলায় প্রপঞ্চ শব্দটি অপ্রচলিত)। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৫৩.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. বাগ্‌ধারার রদবদল
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- গুরুচণ্ডালী দোষ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।

কিন্তু,
যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
"এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না।" - বাক্যটিতে কিসের অভাব রয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) বাহুল্য
  4. ঘ) যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম যোগ্যতা। 
বাক্যের যোগ্যতা সাধারণত গদ্যের ক্ষেত্রে বিচার করা হয়, কাব্যের ক্ষেত্রে নয়।

- “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে” - এ পঙ্‌ক্তি কবিতায় মান্য হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
- একইভাবে, "এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না" - পঙ্‌ক্তিটিও গদ্যের বিচারে যোগ্যতাহীন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৫.
যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে। এ বাক্যে কী ধরনের আশ্রিত খণ্ড-বাক্য আছে?
  1. ক) বিশেষ্য স্থানীয়
  2. খ) বিশেষণ স্থানীয় 
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয় স্থানীয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যত-তত, যখন-তখন, যথা-তথা, যেমন-তেমন, যেখানে-সেখানে, যদি-তাহলে ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক থাকলে ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য হয়।
যেমন :
- যখন তোমার ঘুম ভাঙবে তখন আমাকে ডাকলেই চলবে।
- যত রেগেমেগে ও ছুটে এলো তত রেগে বকাবকি করল না শেষ পর্যন্ত।
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১৫৬.
‘রাজপথ’ শব্দটির ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. ক) রাজার পথ
  2. খ) পথের রাজা
  3. গ) রাজকীয় পথ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) পথের রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পথের রাজা
ব্যাখ্যা

‘রাজপথ’ শব্দটির ব্যাসবাক্য - পথের রাজা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১৫৭.
'বাড়ি যাও।'- এটি কোন প্রকারের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবােধক
  2. খ) নিষেধাত্মক
  3. গ) আশ্চর্যবােধক
  4. ঘ) অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞা
ব্যাখ্যা
আদেশ, অনুরােধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় ইত্যাদি বােঝালে অনুজ্ঞা হয়। যেমন- বাড়ি যাও- অনুজ্ঞাবাচক বাক্য, প্রশ্নবাচক বাক্য- তুমি কোথায় যাবা?, নিষেধাত্মক বাক্য- তুমি বাড়ি যেও না ও আশ্চর্যবােধক বাক্য- বাড়িটি কত সুন্দর!।
১৫৮.
‘কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
১৫৯.
সার্থক বাক্যের গুণ নয় কোনটি? 
  1. আসত্তি
  2. রীতি
  3. আকাঙক্ষা
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রীতি
ব্যাখ্যা

সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য:
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা;
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

আকাক্ষা: ‘আকাক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

আসত্তি : আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
-----------
অর্থ্যাৎ,
রীতি - সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য নয়।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬০.
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে করলে, বললে, চললে, এলে, গেলে, থাকলে, চাইলে ইত্যাদি অসমাপিকা ক্রিয়া, অর্থাৎ ‘লে’ যুক্ত থাকলে সরল বাক্য হবে।
যেমন :
পড়াশুনা না করলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। 
মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
১৬১.
বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করা হলে - বাক্যের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. ক) আকাঙ্খা হারায়
  2. খ) দুর্বোধ্য হয়
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে
  4. ঘ) যোগ্যতা হারায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা হারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা হারায়
ব্যাখ্যা
বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।

• বাগধারা ভাষার মূল্যবান সম্পদ। এর মধ্যদিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন— ‘অরণ্যে রোদন'-কে যদি ‘অরণ্যে ক্রন্দন' বলা হয়, তবে তা যোগ্যতা হারায় । কেননা এটি মুখে মুখে এত প্রচলিত যে, তার পরিবর্তন সহজেই ধরা পড়ে যায়। অনুরূপভাবে— ‘রথ দেখা ও আম বেচা’, ‘উলুবনে ছাই ছড়ানো”, “ডুবে ডুবে পানি খাওয়া' ইত্যাদি।

সঠিক রূপ হলো : 'রথ দেখা ও কলা বেচা’, ‘উলুবনে মুক্তা হুড়ানো', ‘ডুবে ডুবে জল খাওয়া' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬২.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য’ বাক্যটিকে জটিল বাককে পরিণত করলে হবে ?
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

- যে - সে, যিনি - তিনি, যারা - তারা, যা - তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং 
- যদি - তবে, যেহেতু- সেহেতু, যখন - তখন, যত - তত , যেমন তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন-
- সরল বাক্য : তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
- জটিল বাক্য:যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

১৬৩.
কোন বাক্যে অবস্থিত পদমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম কী?
  1. ক) পূর্ণতা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ ৩ টি - 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি 
- যোগ্যতা 

• বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা। 
- যেমন- 'বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে' এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারন বাক্যটির পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন আছে। 
- কিন্তু 'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারাবে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আসত্তি
  4. আসস্তি
সঠিক উত্তর:
আসস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসস্তি
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকে।
যেমন -
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যোগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন-
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
- যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
১৬৫.
উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে প্রসারিত করা হয় যেসব শব্দ ও বর্গ দিয়ে, তাকে কী বলে?
  1. বিধেয়
  2. পূরক
  3. যোজক
  4. প্রসারক
সঠিক উত্তর:
প্রসারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রসারক
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় – এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
- বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন -
সুমন বল খেলে।
এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
- বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
- বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

• বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে।
- উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক
- এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন -
সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।
এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক।
অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৬.
কোন বাক্যটি সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. ক) যা হয় হোক
  2. খ) মন দিয়ে পড়
  3. গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
  4. ঘ) অন্যায় কাজ করো না
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ ভাব : একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার উপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে। যেমন :
ক. সম্ভাবনায় : তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংশা হবে, যদি সে পড়ত তবে সে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে : ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায় : আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৭.
বাচ্যার্থ শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূখ্য
  2. গৌণ
  3. পরোক্ষ
  4. প্রত্যক্ষ
সঠিক উত্তর:
মূখ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূখ্য
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।
---------------------------- 
• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
১৬৮.
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা' কী অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার, হয়েছে?
  1. ক) আদেশ
  2. খ) প্রার্থনা
  3. গ) অনুরোধ
  4. ঘ) উপদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপদেশ
ব্যাখ্যা
'পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা' বাক্যটিতে উপদেশ বোঝানো হয়েছে।
আলোচ্য পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের 'ফাল্গুনী' কবিতার অন্তর্গত। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

ফাল্গুনী
- কাজী নজরুল ইসলাম---সিন্ধু-হিন্দোল
সখি পাতিসনে শিলাতলে পদ্মপাতা,
   সখি দিসনে গোলাব-ছিটে খাস্‌ লো মাথা!
    যার অন্তরে ক্রন্দন
     করে হৃদি মন্থন
     তারে হরি-চন্দন
       কমলী মালা-
   সখি দিসনে লো দিসনে লো, বড় সে জ্বালা!      
বল কেমনে নিবাই সখি বুকের আগুন! (সংক্ষিপ্ত)
১৬৯.
বাক্য গঠনের উপাদান হলো-
  1. পদ
  2. সমাস
  3. প্রত্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭০.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়ার অবস্থানের ভিত্তিতে বাক্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

- সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।

- অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭১.
বাক্যতত্ত্বের অপর নাম কি?
  1. ক) ভাষা
  2. খ) প্রাতিপদিক
  3. গ) পদক্রম
  4. ঘ) সাধিত শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) পদক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদক্রম
ব্যাখ্যা
বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় আলোকপাত করে এ ভাষার বাক্যতত্ত্ব। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
১৭২.
কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া- কীসের অংশ?
  1. ক) বাগধারা
  2. খ) বাক্য
  3. গ) পদ
  4. ঘ) নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাক্য
ব্যাখ্যা

বাক্যঃ এক বা একাধিক শব্দ গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক এককে বাক্য বলে ।
-সজল ও লতা বই পড়ে।

বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
একটি সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ,
-কর্তা,
-কর্ম,
-ক্রিয়া।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি।

১৭৩.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞামূলক বাক্য নয়?
  1. ক) ঐ দিকে যেয়ো না
  2. খ) কাল একবার এসো
  3. গ) কাজটি করো
  4. ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, উপদেশ, ইত্যাদি বোঝায় তাকে অনুজ্ঞা বলে। এ বাক্যে সাধারণভাবে কর্তাটি উহ্য থাকে।
যেমন-
কাজটি করো (আদেশ)
ঐ দিকে যেয়ো না (নিষেধ)
কাল একবার এসো (অনুরোধ)
সদা সত্যকথা বলবে ( উপদেশ)।
‘অন্যদিকে সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়’- এটি বিবৃতিমূলক বাক্য।
উৎস : শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৭৪.
আবেগ অর্থে আবেগসূচক বাক্য কোনটি? 
  1. ক) বাহ ! আরিফের বউ খুব সুন্দরী তো।
  2. খ) বাহ ! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য।
  3. গ) কি বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড!
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বাহ ! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহ ! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য।
ব্যাখ্যা
“ বাহ ! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য”- বাক্যটি আবেগ অর্থে আবেগসূচক বাক্য।

আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যেমন- 
- বিস্ময় : কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড
- হর্ষ : বাহ্! আরিফের বউ খুব সুন্দরী তো
- বিষাদ: হায় হায়! বিয়ের পরদিনই স্বামী মারা গেল!
- ঘৃণা : ছিঃ ছিঃ! তুই মেয়েদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করিস। তুই এত নীচ
- শোক : হায় হায়! তোমার বাবা মারা গেলেন, এখন তোমরা চলবে কী করে
- ক্রোধ : এত বড়ো স্পর্ধা! শিক্ষকের মুখের ওপর কথা বলো
- ভয় : ওরে বাপরে, কত বড়ো সাপ রে!
- আবেগ : বাহ্! সুন্দর লাগছে এই প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৭৫.
'যে পরিশ্রম করে, সে ই সুখ লাভ করে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সংযুক্ত বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
'যে পরিশ্রম করে, সে ই সুখ লাভ করে'- এটি মিশ্র বাক্যের উদাহরণ। 

মিশ্র বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাঁকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। 
যেমন: সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৭৬.
তুমি নিজে কথা বলে এখন অন্যকে কথা না বলার জন্য না করছ কেন? –এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
‘বলে’ দ্বারা কাজ বোঝালে আর সেটি যদি অসমাপিকা ক্রিয়া হিসেবে বসে তবে সেটি সরল বাক্য হবে। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১৭৭.
কোন ধরনের বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) অধীন বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- পাপড়ি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন,
- আমরা তিন ভাইবোন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন,
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৮.
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটি কোন কারনে অশুদ্ধ?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ ঘটেছে। 
এর সঠিক রূপ - সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন।

বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়াবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) বিশেষ্যবর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
বাক্যের উপকরণ/ বৃহত্তম একক কোনটি?
  1. চিহ্ন
  2. ধ্বনি
  3. বর্ণ
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের উপকরণ/ বৃহত্তম একক - শব্দ।

অন্যদিকে,
• বাক্যের উপাদান/ ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
ভাষার মূল উপাদান /ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮১.
“তার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি।” এটি একটি:
  1. ক) মিশ্র বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

নিচের উদাহরণগুলো খেয়াল করুন: 
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।

সুতরাং, প্রদত্ত বাক্যটিও একটি যৌগিক বাক্য। 

তথ্যসূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
১৮২.
একটি স্বার্থক বাক্যের গুণ নয় কোনটি?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) যৌক্তিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌক্তিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌক্তিকতা
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা:
১. আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।
২. আসত্তি: বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।
৩. যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
১৮৩.
'বল বীর বল উন্নত মম শির'-বাক্যটি কি সূচক?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. প্রশ্নসূচক
  3. আদেশসূচক
  4. বিস্ময় বোধক
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
- আদেশ: কাছে এসো।
- উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
- অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
- নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।।
- প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

এরূপ- 'বল বীর বল উন্নত মম শির'- আদেশসূচক একটি বাক্য। 

[জ্ঞাতব্য: বাংলায় বর্তমান অনুজ্ঞার সঙ্গে নিষেধার্থক 'না' হয় না, হয় ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার সঙ্গে।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৮৪.
'মামুন বল খেলে।' বাক্যে বিধেয় অংশ কোনটি?
  1. ক) মামুন
  2. খ) বল
  3. গ) খেলে
  4. ঘ) বল খেলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বল খেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বল খেলে
ব্যাখ্যা
বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় -এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৫.
ভাষার প্রাণ কোনটি?
  1. ক) অর্থপূর্ণ বর্ণ সমষ্টি
  2. খ) অর্থপূর্ণ বাক্য
  3. গ) অর্থপূর্ণ ধ্বনি
  4. ঘ) অর্থপূর্ণ শব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থপূর্ণ বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থপূর্ণ বাক্য
ব্যাখ্যা

- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি;
- ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি;
- ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ;
- ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য;
- ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৮৬.
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'-বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আসক্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আসত্তি 
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

⇒ 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

- ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন- 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১৮৭.
ভাষার বিচারে বাক্যের কয়টি গুণ থাকা চাই?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্য:
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।
ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
- যেমন-  'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- যেমন- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
- যেমন- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
১৮৮.
'তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কি অর্থে?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) হ্যাঁ বোধক
  3. গ) না বোধক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
ক) প্রশ্নবোধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রশ্নবোধক
ব্যাখ্যা
• তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?- এখানে 'না'- প্রশ্নাত্মক/প্রশ্নবোধন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে এখানে আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে এখানে আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৯.
'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. খ) প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. ঘ) আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
- 'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' বিবৃতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলোকে প্রশ্নবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
তোমার নাম কী?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
আমাকে একটি কলম দাও ।
তার মঙ্গল হোক ।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৯০.
বাক্যের অংশগুলো হচ্ছে-
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাক্য:
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। 
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে। 

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ।
যথা,
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়; 
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়; 
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯১.
″যাব আমি ভাত কলেজে খেয়ে।" - বাক্যটি সার্থক বাক্যের কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. আসত্তি
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা, 
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

যেমন,
-'যাব আমি ভাত কলেজে খেয়ে।" - এই বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।

- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন- আমি ভাত খেয়ে কলেজে যাব। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯২.
'তিনি বাংলাদশের নাগরিক।'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সক্রিয় বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
অক্রিয় বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় :
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
- তিনি জাতিতে বাঙ্গালি।
[এই বাক্যে কোনো কাজ বা ক্রিয়া কার্যকারিতা প্রকাশ পাচ্ছে না। এটি কেবল একটি বর্ণনা বা পরিচয় প্রকাশ করছে, যেখানে কোনো কর্ম বা কাজের সম্পাদন নেই।]

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৯৩.
নিচের কোনটি সক্রিয় বাক্য?
  1. ক) রাসেল এখন ঘুমাচ্ছে।
  2. খ) রাসেল বাংলাদেশের নাগরিক।
  3. গ) রাসেল কর্মঠ ছেলে।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
ক) রাসেল এখন ঘুমাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাসেল এখন ঘুমাচ্ছে।
ব্যাখ্যা

বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১৯৪.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ?
  1. আবেগ 
  2. অনুজ্ঞা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি 
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

• সার্থক বাক্যের গুণ- আকাঙ্ক্ষা। 

অন্যদিকে, 
• আবেগ, অনুজ্ঞা, এবং আসক্তি—এই প্রসঙ্গে সার্থক বাক্যের গুণ হিসেবে প্রযোজ্য নয়।

------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা-
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়। পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদগুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- 'বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯৫.
মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় কীসের সাহায্যে?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. পদ
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা
• মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় — বাক্য দিয়ে।

• ভাষা ও বাক্য:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৬.
বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া কোন বর্গ তৈরি করে?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়াবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়াবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন,
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
- তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
- সে লিখছে আর  হাসছে।
- সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৭.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসকে কী বলে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. আসত্তি
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা জরুরি। যথা:
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি,
৩. যোগ্যতা।

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে - হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

অন্যদিকে,
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া...।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায় - কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৯৮.
বাক্যের এক পদের পর অন্যপদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আসক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার বিচারে একটি আদর্শ সার্থক বাক্যে ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা-
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাই হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৯.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' - বাক্যটিতে আদর্শ বাক্যের কোন গুণটি অনুপস্থিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন –
- 'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ - ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন –
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

অন্যদিকে,
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন-
'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২০০.
“সকল ছাত্ররা ক্লাসে আজ উপস্থিত” বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) বিদেশী শব্দ দোষে
  2. খ) দুর্বোধাতা দোষে
  3. গ) বাহুল্য দোষে
  4. ঘ) গুরুচন্ডালী
সঠিক উত্তর:
গ) বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
"সকল ছাত্ররা ক্লাসে আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- প্রায় সকল ছাত্ররা আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "প্রায় সকল ছাত্র ক্লাসে আজ উপস্থিত" অথবা "ছাত্ররা ক্লাসে আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।