বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

মোট প্রশ্ন২৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য [সংজ্ঞা গুণ ইত্যাদি সম্পর্কিত]

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৩২

.
কোন সরল বাক্যে ক্রিয়াপদ উপস্থিত নয়?
  1. ক) যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
  2. খ) আমরা তিন ভাইবোন।
  3. গ) আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
  4. ঘ) সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
সঠিক উত্তর:
খ) আমরা তিন ভাইবোন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমরা তিন ভাইবোন।
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন,
- আমরা তিন ভাইবোন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন,
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - এ বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) আপনি কি জানেন, এরা কোন জাতের মানুষ?
  3. গ) এরা ভিন্ন গ্রহের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
'এরা অন্য জাতের মানুষ।' - বাক্যের প্রশ্নবাচক রূপ-
'এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?'

অস্তিবাচক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. মৌলিক বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে বাক্য পরিবর্তন করতে হয় ।
২. কর্তার পরে প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৩. ক্রিয়ার পরে নঞর্থক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়।
৪. বাক্য শেষে প্রশ্নবােধক জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) ব্যবহার করতে হয়
যেমন: অস্তিবাচক : ফুলকে সকলেই ভালােবাসে।
প্রশ্নবাচক : ফুলকে কি সকলেই ভালােবাসে না?
অস্তিবাচক ; শৈশবে তার বাবা মারা যান।
প্রশ্নবাচক : শৈশবে কি তার বাবা মারা যাননি?
অস্তিবাচক : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
প্রশ্নবাচক : বাংলাদেশ কি একটি উন্নয়নশীল দেশ নয়?

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া একাধিক শব্দের গুচ্ছকে কী বলে?
  1. যোজক
  2. বর্গ
  3. শব্দ
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বলে - বর্গ।

বাক্য: 
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরােপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলাে বাক্যের একক।
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- 'সজল ও লতা বই পড়ে'- বাক্যের 'সজল', 'লতা' ও 'বই' হলাে বিশেষ্য, ‘ও' হলাে যােজক এবং ‘পড়ে' হলাে ক্রিয়া। 
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময়ে পদের মতাে কাজ করে। তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলা হয়।
- উপরের বাক্যে 'সজল ও লতা' একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
সদা সত্য কথা বলবে। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
  4. ঘ) সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। যেমন : 
- সদা সত্য কথা বলবে। 
- কাছে এসো। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
.
"রাজিব স্কুলে যায়।" বাক্যের 'উদ্দেশ্য' কোনটি?
  1. রাজিব
  2. স্কুলে
  3. যায়
  4. স্কুলে যায়
সঠিক উত্তর:
রাজিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজিব
ব্যাখ্যা
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়:
- বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
যেমন:
- রাজিব স্কুলে যায়।
এখানে, উদ্দেশ্য হচ্ছে 'রাজিব' এবং বিধেয় হচ্ছে 'স্কুলে যায়'।
- বিশেষ্য বা বিশেষ্যস্থানীয় অন্যান্য পদ বা পদসমষ্টিযোগে গঠিত বাক্যাংশও বাক্যের উদ্দেশ্য হতে পারে।
যেমন:
- সৎ লোকেরাই প্রকৃত সুখী। (বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত বিশেষণ)।
- মিথ্যা কথা বলা খুবই অন্যায়। (ক্রিয়াজাত বাক্যাংশ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
বাক্যের গুণগত বিভাগ কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, বাক্যের গুণগত বিভাগকে তিন ভাগে দেখানো যায়।
যথা : 
- ওজনগুণ
- প্রসাদগুণ
- মাধুর্যগুন

ওজনগুণ: 
• বাক্যে জোরালো বক্তব্য, বলিষ্ঠ ভাব ও সহজবোধ্য শব্দের মাধ্যমে যে উচ্চারঙ্গত সৌষ্ঠব ও হৃদয়গত আবেশ সৃষ্টি হয় তাকে বাক্যের ওজনগুণ বলে।
যেমন -
- হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান।
 
প্রসাদগুণ:
• বাক্যে সহজ,সরল ও অলংকারসমৃদ্ধ পদের সুষম ও আকর্ষনীয় সমন্বয়কে ওই বাক্যের প্রসাদগুণ বলে।
যেমন - 
- চোখের পলকে হারিয়ে গেল বিমানটি

মাধুর্যগুণ:

• বাক্যে ব্যবহৃত শব্দসমূহের মধ্যে কোমল, কাব্যিক,মোহনীয় ও হৃদয়গ্রাহী রূপের সাবলীল সমন্বয়কে ওই বাক্যের মাধুর্যগুন বলে।
যেমন-
- ফটিক বলল : মা, আমার ছুটি হয়েছে। আমি বাড়ি যাচ্ছি 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে' – বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. খ) বিপদের পরপরই দুঃখ আসে।
  3. গ) আগে বিপদ তারপর দুঃখও আসে।
  4. ঘ) বিপদ তারপর দুঃখ আসে।
সঠিক উত্তর:
ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের যৌগিক বাক্যরূপ হচ্ছে বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে ।
যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ করছে?
  1. ক) সে একটু হাসুক
  2. খ) তার মঙ্গল হোক
  3. গ) সদা সত্য কথা বলবে
  4. ঘ) পরিশ্রম করলে সফল হবে
সঠিক উত্তর:
গ) সদা সত্য কথা বলবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সদা সত্য কথা বলবে
ব্যাখ্যা

আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা-
আদেশ : সদা সত্য কথা বলবে।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।

.
কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
  4. ঘ) সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে হয়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে। যেমন : 
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। 
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১০.
'যতদিন জীবিত থাকবো ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

এখানে,'এ ঋণ স্বীকার করব' প্রধান বাক্য আর 'যতদিন জীবিত থাকবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য। 'ততদিন' দিয়ে যুক্ত হয়েছে।     

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

১১.
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।' -বাক্যে যে গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. বাহুল্য
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত
সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তাহলে বাক্যটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই। বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।

অন্যদিকে,
• আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
বিশেষণ জাতীয় শব্দ গুচ্ছের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  2. খ) আমার ভাই পড়তে বসেছে।
  3. গ) ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
  4. ঘ) তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্য বর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণ বর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ কয়টি?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
- সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া।

• বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
যেমন- “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য।
- বাক্যে ‘সজল ও লতা’ হলাে কর্তা, ‘বই’ হলাে কর্ম এবং ‘পড়ে’ হলাে ক্রিয়া। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
সামান্য ঘটনা থেকে এমন ____ হবে ভাবিনি। শূন্যস্থানে কোনটি উপযুক্ত?
  1. ক) গড্ডলিকা প্রবাহ
  2. খ) কথার কথা
  3. গ) কলুর বলদ
  4. ঘ) খণ্ড প্রলয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) খণ্ড প্রলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খণ্ড প্রলয়
ব্যাখ্যা

গড্ডলিকা প্রবাহ - অন্ধ অনুকরণ
কথার কথা - গুরুত্বহীন কথা
কলুর বলদ - একটানা খাটুনী
খণ্ড প্রলয় - তুমুল কাণ্ড

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১৫.
বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার কোন গুণ হারায়?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসক্তি
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।

• বাগধারা ভাষার মূল্যবান সম্পদ। এর মধ্যদিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাক্যে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়। যেমন— ‘অরণ্যে রোদন'-কে যদি ‘অরণ্যে ক্রন্দন' বলা হয়, তবে তা যোগ্যতা হারায় । কেননা এটি মুখে মুখে এত প্রচলিত যে, তার পরিবর্তন সহজেই ধরা পড়ে যায়। অনুরূপভাবে— ‘রথ দেখা ও আম বেচা’, ‘উলুবনে ছাই ছড়ানো”, “ডুবে ডুবে পানি খাওয়া' ইত্যাদি।

সঠিক রূপ হলো :
'রথ দেখা ও কলা বেচা’, ‘উলুবনে মুক্তা হুড়ানো', ‘ডুবে ডুবে জল খাওয়া' ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬.
কোনটি বিবৃতিবাচক বাক্য?
  1. ক) তার মঙ্গল হােক।
  2. খ) অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
  3. গ) আমাকে একটি কলম দাও।
  4. ঘ) তারা তােমাদের ভােলেনি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারা তােমাদের ভােলেনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারা তােমাদের ভােলেনি।
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি
ভাগে ভাগ করা যায়:
 
বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
- আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তােমাদের ভােলেনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
'সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে।' বাক্যটিতে কোন গুণটি নেই?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে।
বাক্যটির সঠিক রূপঃ সূর্য পূর্ব দিকে উঠছে।
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

১৮.
অর্থানুসারে বাক্যকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭
ব্যাখ্যা
বাগ্‌ভঙ্গি বা অর্থানুসারে বাক্যকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা : 
- বর্ণনাত্নক বাক্য
- প্রশ্নবোধক বাক্য
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
- আবেগসূচক বাক্য
- ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
- কার্যকারণাত্নক বাক্য
- সংশয়সূচক বাক্য

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যােগ্যতা
  4. ঘ) সিদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিদ্ধতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য:
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা

আকাক্ষা: ‘আকাক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

আসত্তি : আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
‘যত পরিশ্রম করবে, ততই ফল পাবে'- বাক্যটি-
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বাক্য থাকে তাকে জটিল বা মিত্র বাক্য বলে। এক্ষেত্রে অপ্রধান খণ্ডবাক্য প্রধান বাক্যের উপর নির্ভরশীল থাকে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২১.
'বিসিএস পরীক্ষায় সফল হও' কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিমূলক
  2. খ) আদেশবাচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) বিশ্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
গ) ইচ্ছাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইচ্ছাসূচক
২২.
যতি ও ছেদ চিহ্ন কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনি তত্ত্ব
  2. খ) শব্দ তত্ত্ব
  3. গ) রূপ তত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্য তত্ত্ব
  5. ঙ) অর্থ তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাক্য তত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাক্য তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
যতি ও ছেদ চিহ্ন বাক্য তত্ত্বে আলোচিত হয়। এছাড়া পদক্রম, বাক্যের গঠনপ্রণালি, বাগধারা বাক্য তত্ত্বে আলোচিত হয়। অর্থ তত্ত্বে বিপরীতার্থক শব্দ, শব্দ ও বাক্যের অর্থবিচার আলোচিত হয়। ধ্বনি, সন্ধি ও ণত্ব-ষত্ব বিধান ধ্বনি তত্ত্বে আলোচিত হয়। রূপ তত্ত্বে পুরুষ, বচন, প্রত্যয়, সমাস প্রভৃতি আলোচিত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কোন ধরনের দোষের সৃষ্টি হয়?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. দুর্বোধ্যতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- 'এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলেও গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও শিক্ষা -ড হায়াৎ মামুদ।
২৪.
‘রুম ঝুমঝুম মঞ্জীরে বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে’- বাক্যে ‘মণিবন্ধ’ এর সম্প্রসারিত রূপ-
  1. ক) হাতের চতুর্থ আঙ্গুল
  2. খ) হাতের কব্জি
  3. গ) হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ
  4. ঘ) হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
খ) হাতের কব্জি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতের কব্জি
ব্যাখ্যা
মণিবন্ধ[মোনিবন্‌ধো] (বিশেষ্য) হাতের কবজি (রুম ঝুমঝুম মঞ্জীর বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে-কাজী নজরুল ইসলাম)। {(তৎসম বা সংস্কৃত) মণি+বন্ধ}। সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।
২৫.
এক বা একাধিক খণ্ড বাক্যের দেখা পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) সরল বাক্যে
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
  4. ঘ) সবগুলোতে
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশ্র বা জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বিচার করলে বাক্য তিন প্রকার। যথা: 
- সরল বাক্য
- মিশ্র বা জটিল বাক্য
- যৌগিক বাক্য।

মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ড বাক্য থাকতে পারে।
- এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ।
- এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালােবাসে। বাক্যটিতে যে 'সত্যবাদি’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর তাকে সবাই ভালােবাসে অংশটি প্রধান খণ্ড বাক্য।

খণ্ডবাক্য: একাধিক বাক্য মিলে একটি জটিল বাক্য তৈরি হলে বাক্যের অন্তর্গত প্রতিটি বাক্য যদি স্বাধীন বাক্য না হয়ে অন্য কোনাে বাক্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে খণ্ড বাক্য বলে।
যেমন- যদি তুমি আস তাহলে আমি যাব। এখানে 'তুমি আস' এবং 'আমি যাব’ বাক্যাংশ দুটি খণ্ড বাক্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে _____তৈরী হয়।
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সহজ বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• তিনি আসতে পারলেন না কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

‘বাক্যে তিনি আসতে পারলেন না’ একটি স্বাধীন বাক্য এবং ‘তিনি অসুস্থ’ আর একটি স্বাধীন বাক্য। এই দুটি স্বাধীন বাক্যকে ‘কারণ’ শব্দটি যোজক হিসেবে যুক্ত করেছে।

⇒ যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত? 
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
সঠিক উত্তর:
দুই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই 
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন: 
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২৯.
'পাভেল করে মাঠে কাজ ' বাক্যটি সার্থক বাক্যের কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
•ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা, 
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

• আসত্তি:

- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- যেমন-'পাভেল করে মাঠে কাজ।এই বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন- পাভেল মাঠে কাজ করে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০.
বাক্য গঠনের উপাদান কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. ভাষা
  3. পদ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে। এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।

• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

--------------
• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩১.
বাক্যের বিধেয় অংশ না থাকায় বাক্যকে কোন দুই অংশে ভাগ করা হয়?
  1. ক) অক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়
  2. খ) সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়
  3. গ) অক্রিয় ও বিক্রিয়
  4. ঘ) সক্রিয় ও অক্রিয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সক্রিয় ও অক্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সক্রিয় ও অক্রিয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

• সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২.
বাহুল্য দোষমুক্ত বাক্য কোনটি?
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল।
  2. খ) দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
  3. গ) সব মাছগুলোর দাম কত?
  4. ঘ) নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং বাক্য তার যোগ্যতা গুণ হারায়। 

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ -
- 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।
- 'ক্লাসে অনেক ছাত্র ছাত্রী এসেছিল।' অথবা 'ক্লাসে ছাত্র ছাত্রীরা এসেছিল।'
- 'মাছগুলোর দাম কত?' অথবা 'সব মাছের দাম কত?' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
কোনটিকে বাক্যের প্রাণ বলা হয়?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) কর্ম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া হলো বাক্যের প্রাণ বা প্রধান অঙ্গ।

• বাক্যের একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের পরস্পর সম্পর্ক থাকে। তবে বাক্যস্থিত এরা পদটির সঙ্গে অন্যান্য সকল পদেরই কোনো না কোনো সম্পর্ক থাকে। আর সে সম্পর্ক অনুযায়ীই কারক নির্ণয় করা হয়ে থাকে। ক্রিয়া ছাড়া কোনো বাক্য রচিত হতে পারে না বলেই ক্রিয়াকে বাক্যের সর্বপ্রধান অঙ্গ বা বাক্যের প্রাণ বলা হয়ে থাকে।

কর্তা:
যাকে উদ্দেশ্য করে বা যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে উদ্দেশ্য বা কর্তা বলে। বাক্যে যে করে সে কর্তা। বাক্যকে কর্তাই চালনা করে। ক্রিয়াকে কে দ্বারা প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তা। যেমন -
- রাফিন বই পড়ছে।
- রাফিন, রিজন বাইরে বেড়াতে গেছে।

উপরের প্রথম বাক্যে রাফিন উদ্দেশ্য এবং দ্বিতীয় বাক্যে রাফিন ও রিজন দুজনই উদ্দেশ্য বা কর্তা। অর্থাৎ উদ্দেশ্য অংশে একাধিক পদ ও থাকতে পারে।

কর্ম: 
কর্তা যা করে বা যাকে আশ্রয় করে বা যে বস্তুকে আশ্রয় করে ক্রিয়া বা কাজ সম্পন্ন করে তাকে কর্ম বলে। ক্রিয়াকে কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্ম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৪.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যােগ্যতা
  4. আখাঙ্খা 
সঠিক উত্তর:
আখাঙ্খা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখাঙ্খা 
ব্যাখ্যা

সার্থক বাক্যের গুণ বা বৈশিষ্ট্য:
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার।
এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা;
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

আকাক্ষা: ‘আকাক্ষা' শব্দের আভিধানিক অর্থ- ইচ্ছা, বাসনা। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 

আসত্তি : আসত্তি শব্দের অর্থ নৈকট্য। মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।

যােগ্যতা : বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
-----------
আখাঙ্খা - বাংলা একাডেমির বানান অভিধান অনুসারে ভুল। তাই এটিই সঠিক উত্তর।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
কোন বাক্যে কর্তার অসংগত প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কেউই জানে না, সে কোথায় গেছে
  2. খ) বেশ, তাই হবে
  3. গ) তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি
  4. ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি ও যাবে, আমি ও যাব
ব্যাখ্যা
প্রসিদ্ধভাবে বাংলা বাক্যের স্বাভাবিক অন্বয় হচ্ছে SOV ক্রম, অর্থাৎ কর্তা বাক্যের আগে বসে, কর্ম তার পরে, ক্রিয়া সব শেষে।
সে অনুসারে, "তুমি ও যাবে, আমি ও যাব" বাক্যটি হবে "তুমি ও আমি যাবো"।

সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, প্রথম খণ্ড।
৩৬.
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষাবাচক
  2. খ) জটিল
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৩৭.
'আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. প্রশ্নবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৩৮.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. তোমার মঙ্গল হোক।
  2. তোমার আজ কি পরীক্ষা?
  3. সে ঢাকা যাবে না।
  4. তাজ্জব ব্যাপার!
সঠিক উত্তর:
সে ঢাকা যাবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে ঢাকা যাবে না।
ব্যাখ্যা
বিবৃতিমূলক বাক্য: 
এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে-
- সে ঢাকা যাবে না।
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

অন্যদিকে,
• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।

• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
- তোমার আজ কি পরীক্ষা?
- তুমি কি লােকটিকে চিন? 

• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
কোনো কিছু দেখে শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
  1. ক) বিবৃতিবাচক
  2. খ) প্রশ্নবাচক
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) আবেগবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবেগবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবেগবাচক
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি
ভাগে ভাগ করা যায়। 

আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন -
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’--এর অর্থ কী?
  1. ক) তেজি কুমিরকে রুখে দিই
  2. খ) বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
  3. গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
  4. ঘ) ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
সঠিক উত্তর:
গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ, "মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"
সুতুরাং, 'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই' অর্থ - গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।

উৎস: বাংলাবাজার আর্কাইভ।


৪১.
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) অনুজ্ঞাবাচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে আদেশ, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি প্রকাশ পায়। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৪২.
'নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।' - এ বাক্যের ভুলের ধরন কোনটি?
  1. আকাঙ্ক্ষার অভাব
  2. আসত্তির অভাব
  3. যোগ্যতার অভাব
  4. আসক্তির অভাব
সঠিক উত্তর:
আসত্তির অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তির অভাব
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে আসত্তি গুণে অভাব রয়েছে। 
---------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
৪৩.
মেয়েটি দেখতে ভারী সুন্দর! নিম্নরেখ অংশটি বাক্যের কোন বর্গ নির্দেশ করে?
  1. ক) বিশেষ্য বর্গ
  2. খ) বিশেষণ বর্গ
  3. গ) ক্রিয়া বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
- বাক্যের 'ভারী সুন্দর' অংশটি হলো বিশেষণ বর্গ

- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণ বর্গ।

এছাড়াও-

বিশেষ্য বর্গ- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
ক্রিয়া বর্গ - বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ - এর উদাহরণ- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০২২-সংস্করণ)।
৪৪.
‘তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে নেয়'- বাক্যটির নেতিবাচক রূপ—
  1. ক) তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে নেয় না।
  2. খ) তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
  3. গ) তবু না বলা কথাটি সবার না মানার উপায় থাকে না।
  4. ঘ) তবু না বলা কথাটি সবার মানতে হয়।
সঠিক উত্তর:
খ) তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
ব্যাখ্যা
- ‘তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে নেয়' এর নেতিবাচক রূপ হলো 'তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না'।

নেতিবাচক বাক্য
- যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন—
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ — এটুকু বললে বাক্যের কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. আসত্তি
  2. পদক্রম
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬.
‘যেই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম? - এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য: কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

উল্লেখিত, ‘যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম’।-  বাক্যটি মিশ্র বা জটিল বাক্য। বাকিগুলো যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
নেতিবাচক বাক্য কোনটি?
  1. ক) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।
  2. খ) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল!
  3. গ) রাশেদ কি তাহার অর্থ বুঝিল না?
  4. ঘ) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিতে ব্যর্থ হইল।
সঠিক উত্তর:
ক) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: রাশেদ তাহার অর্থ বুঝিল না।

নেতিবাচক বাক্য :
- যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।

উদাহরণ:

- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৪৮.
'দৃশ্যটি কী দারুণ!' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. আদেশাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
আবেগবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

---------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
 সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৯.
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণ কয়টি?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫০.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে কী বলে?
  1. বিধেয়
  2. উদ্দেশ্য
  3. শব্দগুচ্ছ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ:
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন
- রাজিব ও পাভেল খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।

এই বাক্যে 'রাজিব ও পাভেল', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫১.
স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন-এ বাক্যে উদ্দেশ্য কী বা কে?
  1. ক) স্নেহময়ী
  2. খ) স্নেহময়ী জননী
  3. গ) স্বীয় সন্তান
  4. ঘ) অধিক ভালোবাসেন
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহময়ী জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহময়ী জননী
ব্যাখ্যা
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্মন্ধে যা বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
যেমন – স্নেহময়ী জননী (উদ্দেশ্য) স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন (বিধেয়)।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২.
যে সব শব্দের সাহায্যে মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে? 
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. কারক
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা

• মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় বাক্য দিয়ে।

• ভাষা ও বাক্য:
গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়। বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২- সংস্করণ)।

৫৩.
‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি _____ বাক্য।
  1. ক) অস্তিবাচক
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) সমবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা
- ‘প্রিয়ংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটি একটি অস্তিবাচক বাক্য।
- বাক্যটির নেতিবাচক রূপ  ‘প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই’।
- এখানে এ দুটো বাক্যের মূলভাবের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
৫৪.
'বল বীর বল উন্নত মম শির' বাক্যটি কি?
  1. আদেশসূচক
  2. প্রশ্নসূচক
  3. বিশ্বসূচক
  4. উপদেশসূচক
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
ব্যাখ্যা
• আদেশসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
 যেমন:
- শিক্ষক মহোদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।
- চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর,
- বল বীর বল উন্নত মম শির।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৫৫.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আসক্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা

আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬.
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ (বলে) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
বিশেষ দ্রষ্টব্য : জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৫৭.
'ওগো আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সংশয়বাচক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. বিস্ময়বোধক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ ইত্যাদি নির্দেশ করা হয় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলা হয়।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' বাক্যটিতে কোন গুন টি অনুপস্থিত?
  1. ক) আকাঙক্ষা
  2. খ) আগ্রহ
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আসত্তি
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' বাক্যটিতে ভাবগত মেলবন্ধন না থাকায় বাক্যটি 'যোগ্যতা' হারিয়েছে।
সঠিক বাক্যটি হবে 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' 

ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের তিনটি গুন থাকা আবশ্যক।

⇒ আকাঙক্ষা:- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙক্ষা বলে।
যেমন- চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। এ বাক্যে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা নিবৃত হয়েছে বলে এটি বাক্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।  

⇒ আসত্তি:- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন- কাল বিতরণী হবে স্কুলে পুরষ্কার আমাদের অনুষ্ঠিত- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ সঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্হিত ভাব যথাযথভাবে প্রকাশ পায় নি। তাই এটি বাক্য হয় নি। মনোভাব প্রকাশের জন্য পদগুলোকে এভাবে সাজাতে হবে- কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।   

⇒ যোগ্যতা:- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। অর্থাৎ বাক্যের পদগুলোর শব্দগত এবং অর্থগত মিল থাকার নামই হচ্ছে যোগ্যতা।
যেমন- যদি বলা হয়- মাছেরা আকাশে উড়ে তাহলে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে কারন বাস্তবতার সাথে বাক্যের মিল নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
কোনটি অনুজ্ঞা?
  1. ক) তুমি যাও
  2. খ) তুমি গিয়েছিলে
  3. গ) তুমি যাচ্ছিলে
  4. ঘ) তুমি যাচ্ছ
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি যাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি যাও
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: তুমি যাও

অনুজ্ঞা: আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাঁকে অনুজ্ঞা বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬০.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় : 

- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন -
আমার মা চাকরি করেন ।

অক্রিয় বাক্য :
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে ।
যেমন -
তিনি বাংলাদশের নাগরিক

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায় ।
যেমন -
‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম - দশম শ্রেণি)
৬১.
ছুটিতে ঢাকা তারা পুজোর যাবেন——এতে বাক্যের কোন গুণটি নেই?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
গ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি। আর সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা ও আসত্তি৷ সুতরাং একটি সার্থক বাক্যের ভিত্তি আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও আসত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷
এই তিনটি বিষয়ের কোন একটির অভাব ঘটলে বাক্য নিরর্থক হয়ে পড়ে৷
যেমন- ছুটিতে ঢাকা তারা পুজোর যাবেন——এতে একটি সম্পূর্ণ বাক্যের সবগুলো পদই আছে, কিন্তু আসত্তির অভাবে বাক্য হয়নি৷ পদগুলোর অর্থসংগতি রক্ষা করে ঠিকমত সাজালেই বাক্য হবে৷
অর্থাৎ সঠিক বাক্য- তারা পুজোর ছুটিতে ঢাকা যাবেন৷
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
৬২.
গুরুচণ্ডালী দোষে বাক্যের কোন গুণ লোপ পায়?
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. প্রসাদগুণ
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ। কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৩.
‘কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. বাহুল্য
  2. যােগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসত্তি
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

• ‘কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।


------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৪.
"মানুষ হও।" - এ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. আদেশ
  2. অনুরোধ
  3. উপদেশ
  4. অনুনয়
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপদেশ
ব্যাখ্যা

• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।

----------
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ ব্যবহৃত হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
  2. খ) সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
  3. গ) আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  4. ঘ) ইহার আবশ্যক নাই।
সঠিক উত্তর:
খ) সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যটি হলো - সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।

অপশনের বাকি বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো -
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী। => ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই। => আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।
ইহার আবশ্যক নাই। => ইহার আবশ্যকতা নাই।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৬.
'চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।' কোন প্রকার বাক্য?
  1. ক) বিস্ময়সূচক
  2. খ) বিবৃতিমূলক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) অনুজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা
আলোচ্য বাক্যটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের উদাহরণ- 

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
 
যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরােধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
যেমন
আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরােধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করাে না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করাে না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭.
প্রথাগত ব্যাকরণে আদর্শ বাক্যের কয়টি গুণের কথা বলা হয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা বাক্যের গুণ:
প্রথাগত ব্যাকরণে একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণের কথা বলেছেন:
১. আকাঙ্ক্ষা
২. আসত্তি (অর্থাৎ নৈকট্য) এবং
৩. যোগ্যতা।

১. আকাঙ্ক্ষা (expectancy):
বাক্যের অর্থ ভালোভাবে বোঝার জন্যে যতগুলো পদের প্রয়োজন তার সব কটি যদি বাক্যে না থাকে এবং কোনো এক বা একাধিক পদ অবশিষ্ট থাকে, তবে ওই অবশিষ্ট পদ শোনার ইচ্ছায়ে বাক্যের 'আকাঙ্ক্ষা' বলে।

২. আসত্তি (proximity):
বাক্যে ব্যবহৃত পদসমষ্টি পরস্পর অন্বয়যুক্ত বা সম্পর্ক অনুযায়ী যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট ক সংস্থাপিত হলে তাকে 'আসত্তি' বলে। এককথায়- 'আসত্তি' হলো বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর ব্যাকরণসম্মত অবস্থান বা বিন্যাস।

৩. যোগ্যতা (propriety):
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম 'যোগ্যতা'। ব্যাকরণে বাক্য গঠনের যোগ্যতা বলতে বাক্যের ভাবসত্য প্রকাশ ক্ষমতাকে বোঝায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৮.
বাক্যের দুটি অংশ থাকে
  1. প্রসাদগুণ, মাধুৰ্যগুণ
  2. উপমা, অলংকার
  3. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  4. সাধু, চলিত
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে।
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

• উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়: কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭০.
বাংলা ব্যাকরণে বর্গ হলো-
  1. বর্ণের সমষ্টি
  2. বাক্যের বিন্যাস
  3. শব্দের গুচ্ছ
  4. ধ্বনিগুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
শব্দের গুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বর্গ: 
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলাে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

উল্লেখ্য, 
বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।

যেমন - ''মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে উঠে পড়ল।''
এই বাক্যে 'মালা ও মায়া', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৭১.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) ছেলেটির অল্প বয়স; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
  2. খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
  3. গ) সে ঘর ঝাড়ু দিলো, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
  4. ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
সঠিক উত্তর:
ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন,
-যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
-যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
-যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৭২.
গঠনগত দিক দিয়ে কোনটি বাক্যের প্রকার নয়?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) মৌলিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৌলিক বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩.
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে মিলে যে বাক্য হয় তাকে কী বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭৪.
দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না। বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. ক) যেহেতু দোষ স্বীকার করবে, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
  2. খ) যদিও দোষ স্বীকার করেছ, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
  3. গ) যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
  4. ঘ) যদিও দোষ স্বীকার করবে, তথাপি তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
সঠিক উত্তর:
গ) যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে
খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। 
জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।  
জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে। 

সরল বাক্য - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য - যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
৭৫.
নিচের কোনটি ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় বাক্য?
  1. ক) যে এই সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।
  2. খ) তিনি বাড়ি ছিলেন কি না, আমি জানি না।
  3. গ) আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গেছে।
  4. ঘ) তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
ব্যাখ্যা
যে আশ্রিত খন্ডবাক্যে ক্রিয়া পদের স্থান, কাল ও কারন নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া পদ-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য বলে।
যেমন-
যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
"ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
  1. আসত্তির অভাব
  2. যোগ্যতার অভাব
  3. পদবিন্যাসে ত্রুটি
  4. আকাঙ্ক্ষার অভাব
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
ব্যাখ্যা
- এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ ছাগল সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য: ছা্গল ঘাস খায়।

• যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
- কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৭.
কোন ধরনের বাক্যে যতিচিহ্ন যোজকের কাজ করে?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. ঘ) আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য: দুই বা ততধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন,
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে - বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮.
পরিশ্রম কর, ফল পাবে। বাক্যটির সরল রূপ কী?
  1. ক) পরিশ্রম করেও ফল পাবে।
  2. খ) পরিশ্রম করার কারণে ফল পাবে।
  3. গ) পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
  4. ঘ) পরিশ্রমের দরুন ফল ভোগ করবে। 
সঠিক উত্তর:
গ) পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরলে রূপান্ত করতে হবে -
যোজকের আগের কমা বাদ দিতে হবে। 
সরল বাক্যে হলে, করলে, করলে, করে, বলে, করার, ধরার, বলার ইত্যাদি অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহার করে বাক্য গঠন করতে হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৭৯.
'পড়া শেষে খেলতে যাবো' এই বাক্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ক) স্পৃহা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) অভ্যাস
  4. ঘ) অভিপ্রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
ব্যাখ্যা

অভিপ্রায় বলতে মূলত ইচ্ছা  বা আকাঙ্ক্ষা কে বোঝায়। 'পড়া শেষে খেলতে যাবো' - বাক্যটি দ্বারা অভিপ্রায় লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। 
যদি এমন বলা হতো, 'আমরা প্রতিদিন পড়া শেষে খেলতে যাই' - তাহলে অভ্যাস প্রকাশ পেত।
আবার যদি এমন বলা হতো, 'আমাদের পড়া শেষে খেলতেই হয়' - তখন আসক্তি প্রকাশ পেত।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৮০.
সঠিক বাক্যটি নির্বাচন করুন:
  1. ক) আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
  2. খ) সংসারে কাজের অন্ত্য নেই।
  3. গ) ইহার আবশ্যক নাই।
  4. ঘ) মেয়েটি দারুণ সবুদ্ধিমতী।
সঠিক উত্তর:
ক) আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত।
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে, আমি এখন ভীষণ ব্যস্ত  বাক্যটি সঠিক। 

অন্যদিকে, 
- ‘সংসারে কাজের অন্ত্য নেই বাক্যে’
- অন্ত (শেষ) কিন্তু অন্ত্য ( যা অন্তে আছে) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'সংসারে কাজের অন্ত নেই।'

- ‘ইহার আবশ্যক নাই’ বাক্যটির সঠিক রূপ - 'ইহার আবশ্যকতা নাই।'

- মেয়েটি দারুণ সবুদ্ধিমতী এই বাক্যর ’সবুদ্ধিমতী’ শব্দটি সঠিক নয়।
- বাক্যটির সঠিক রূপ - 'মেয়েটি বুদ্ধিমতী'।

 
 
৮১.
গুরুজনের কথা মেনে চলবে। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  3. গ) কার্যকারণাত্মক বাক্য
  4. ঘ) সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। যেমন : 
- সদা সত্য কথা বলবে। 
- কাছে এসো। 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
৮২.
'পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. বিস্ময়বোধক
সঠিক উত্তর:
নির্দেশাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশাত্মক
ব্যাখ্যা
• বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।

আবার এভাবেও বলা যায়, যে বাক্যে কোনো ঘটনার ভাব বা তথ্য থাকে এবং সেই বক্তব্যকে সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য বলে।
যেমন:
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩.
‘শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা’। বাক্যের কোন গুণটি নেই?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা

বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি।
আর সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা ও আসত্তি৷ সুতরাং একটি সার্থক বাক্যের ভিত্তি আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও আসত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷
এই তিনটি বিষয়ের কোন একটির অভাব ঘটলে বাক্য নিরর্থক হয়ে পড়ে৷
যেমন- ‘শেরেবাংলা মহান ছিলেন নেতা’।——এতে একটি সম্পূর্ণ বাক্যের সবগুলো পদই আছে, কিন্তু আসত্তির অভাবে বাক্য হয়নি৷ পদগুলোর অর্থসংগতি রক্ষা করে ঠিকমত সাজালেই বাক্য হবে৷
অর্থাৎ সঠিক বাক্য- ‘শেরেবাংলা মহান নেতা ছিলেন’।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৪.
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’- বাক্যটিতে আসত্তি গুণের অভাব রয়েছে। 
---------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- ‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
৮৫.
'সুখী হও।' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. অনুরোধ
  2. উপদেশ
  3. প্রার্থনা
  4. সম্ভাবনা
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনা
ব্যাখ্যা

​• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা। আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
উপদেশ - মানুষ হও।
প্রার্থনায় - সুখী হও।
অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৬.
কোনটি বাক্যের প্রধান অংশ নয়?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) কারক
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কারক
ব্যাখ্যা
সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭.
'বাজার শেষ করে বাড়ি' - বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. যোগ্যতা
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. আসত্তি
  4. মাধুর্য
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
‘বাজার শেষ করে বাড়ি'— বাক্যটিতে আকাঙ্ক্ষার অভাব রয়েছে। বাজার শেষ করে বাড়ি যাব’ লেখা হলে বাক্যটি দ্বারা সম্পূর্ণ মনােভাব প্রকাশ পেত। যােগ্যতা- 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যােগ্যতা হারায়। কারণ রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না। আসক্তি- ‘শেষ বাজার করে যাব বাড়ি’ লিখলে বাক্যের আসত্তি গুণ হারায়। তাই বাক্যের আসত্তি গুণ রক্ষা করতে লিখতে হবে- বাজার শেষ করে বাড়ি যাব।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৮৮.
একটি বাক্যে প্রধানত কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
•প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে:
১) উদ্দেশ্য ও
২) বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'খোকা এখন' উদ্দেশ্য।
• বিধেয়:
উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
যেমন: "খোকা এখন বই পড়ছে" এখানে 'বই পড়ছে'  বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯.
'দয়া করে আমাকে কাজটা করে দিন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিস্ময়সূচক
  2. নির্দেশাত্মক
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. ইচ্ছাবোধক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক
বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ
• উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
- ভালো ফলের চেষ্টা কর।

• আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

• অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯০.
বিশেষণের বিশেষণযুক্ত বাক্য কোনটি?
  1. ক) পদ্মা বড় নদী।
  2. খ) বাতাস ধীরে বইছে।
  3. গ) এই ব্যাপারে সে অতিশয় দু:খিত।
  4. ঘ) এই আমি আর নই একা।
সঠিক উত্তর:
গ) এই ব্যাপারে সে অতিশয় দু:খিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এই ব্যাপারে সে অতিশয় দু:খিত।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- কোন বিশেষণ যদি অন্য একটি বিশেষণকেও বিশেষায়িত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে।
যেমন: 

নাম বিশেষণের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত

ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেটি অতি দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।
৯১.
যে পদ দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয় তাকে বলে-
  1. কারক 
  2. বাগ্‌ধারা 
  3. ক্রিয়া 
  4. বাক্য 
সঠিক উত্তর:
বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য 
ব্যাখ্যা

• বাক্য:
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'যে পদ বা শব্দ-সমষ্টির দ্বারা কোনও বিষয়ে বক্তার ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকটিত হয়, সেই পদ বা শব্দ-সমষ্টিকে বাক্য (sentence) বলে।'

ভাষাবিদ জ্যোতিভূষণ চাকী বলেছেন, 'যথাযথ বিন্যস্ত শব্দসমষ্টি যদি একটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯২.
'চাঁদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।'- এ বাক্যটিতে কিসের অভাব?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) মাধুর্য
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

যোগ্যতা - বাক্যের অন্তর্গত পদ সমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা।
যেমনঃ চাঁদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- এটা যোগ্যতাহীন বাক্য কারণ-  চাঁদে বসে চাঁদ দেখানো অসম্ভব।
সঠিক- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৯৩.
নিচের কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ নয়?
  1. ক) আকাঙ্খা
  2. খ) পদান্বয়
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) পদান্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদান্বয়
ব্যাখ্যা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে।
যথা - আকাঙ্খা, আসত্তি ও যোগ্যতা

- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্যপদ শোনার যে আগ্রহ জাগে, তাকে বলা হয় আকাঙ্খা।

- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি।
মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যের পদগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে অর্থ প্রকাশে বাধার সৃষ্টি না করে।

- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৯৪.
'মা আছে বলে তাঁর- বাক্যটিতে কীসের অভাব রয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা
যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়।
বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক।
এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ দ্বারা মিলিতভাবে একটি অখণ্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে।

ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা

১. আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন
'মা আছে বলে তাঁর’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: 'মা আছে বলে তাঁর কোন সমস্যা নাই। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

২. আসত্তি: মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন
কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন-
কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

৩. যোগ্যতা:
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
যেমন বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।'
বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৯৫.
প্রতিটি বাক্যের অপরিহার্য দুটি অংশ হলো:
  1. ক) ক্রিয়া ও বিশেষণ
  2. খ) কর্ম ও কর্তা
  3. গ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  4. ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উদ্দেশ্য ও বিধেয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৬.
‘অরণ্যে রোদন’ এর পরিবর্তে বাক্যে ‘বনে ক্রন্দন’ ব্যবহার করলে বাক্য তার কোন গুণটি হারাবে?
  1. ক) আকঙ্ক্ষা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
বাগধারার অর্থ পরিবর্তন করলে বাক্য তার যোগ্যতা হারায়।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭.
‘বিষয়টা অযৌক্তিক' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. অস্তিবাচক
  2. প্রশ্নবাচক
  3. অনুজ্ঞাবাচক
  4. নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্তিবাচক
ব্যাখ্যা

• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।

• প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'বিষয়টা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য।
এর নেতিবাচক রূপ - বিষয়টা যৌক্তিক নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮.
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাক্য কোন গুণটি হারায়?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. বাহুল্য
  3. যোগ্যতা
  4. আসত্তি
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা

• ভাষার বিচারে বাক্যের আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা এই তিনটি গুন থাকা চাই।
• প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে।
• যার ফলে শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে থাকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ?
  1. আবেগ 
  2. যোগ্যতা
  3. নির্দেশক 
  4. বলক 
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• সার্থক বাক্যের গুণ - যোগ্যতা।

-----------------------
• একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি।

• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০০.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
  2. খ) এখানে খাটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
  3. গ) কায়কোবাদ ‘মহাশ্মশান’ লেখেন।
  4. ঘ) প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
সঠিক উত্তর:
খ) এখানে খাটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এখানে খাটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যটির শুদ্ধরূপ -
এখানে খাটি গরুর দুধ পাওয়া যায়। => এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।