বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীববিজ্ঞানের শাখা, অবদান ও আবিষ্কার

মোট প্রশ্ন১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীববিজ্ঞানের শাখা, অবদান ও আবিষ্কার

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৩২

.
'Plate Tectonic Theory' সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) জেভিয়ার লি-পিনচন
  2. খ) হার্ভে জে অল্টার
  3. গ) চার্লস এম রাইস
  4. ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলফ্রেড ওয়েগনার
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের তলদেশ, মহাদেশ, মালভমি, পর্বত প্রভৃতি গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সর্বাধুনিক মতবাদ পাত সঞ্চালন মতবাদ (Plate Tectonic Theory)।
এ মতবাদটি ১৯১২ সালে আলফ্রেড ওয়েগনার (Alfred Wegner) সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন যা মহাদেশীয় ভূ-ভাগ সঞ্চালন মতবাদ নামে পরিচিত ছিল।
পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে ফরাসী ভূ-বিজ্ঞানী জেভিয়ার লি-পিনচন (Xebier-le-Pinchon) এ মতবাদ প্রদান করেন। 
উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ecology
  2. খ) Endocrinology
  3. গ) Cytology
  4. ঘ) Embryology
সঠিক উত্তর:
খ) Endocrinology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Endocrinology
ব্যাখ্যা

এন্ডোক্রিনোলজি শখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।

- ইকোলজি শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
- সাইটলজি শাখায় জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলী ও বিভাজন সম্পর্কে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।
- ভ্রূণবিদ্যা শাখায় জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি, গঠন, বিকাশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

.
কোন জোড়াটি বেমানান?
  1. যক্ষ্মার জীবাণু : রবার্ট কচ
  2. হোমিওপ্যাথি: হ্যানিম্যান
  3. ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
  4. এনাটমি : ভেসলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়া : রবার্ট হুক জোড়াটি সঠিক নয়। 

ব্যাকটেরিয়া: 

- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

অন্যদিকে, 
- যক্ষ্মা ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মাইকো-ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক জীবাণু দিয়ে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। ড. রবার্ট কচ ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ জার্মানির বার্লিনে যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার করেন। 
- ক্রিস্টিয়ান ফ্রিডরিখ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান জার্মানির একজন বিখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন, তাকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক বলা হয়।
 - আন্দ্রেয়াস ভেসলিয়াস ছিলেন একজন বেলজিয়ান অ্যানাটমিস্ট এবং চিকিৎসক। তাকে আধুনিক শারীরবিদ্যার জনক বলে মনে করা হয় এবং তার কাজ ধরে  আধুনিক চিকিৎসার সূচনা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Evolution 
  2. Entomology
  3. Ethology
  4. Mycology
সঠিক উত্তর:
Evolution 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution 
ব্যাখ্যা

• বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 
- Evolution বা বিবর্তনবিদ্যা জীববিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা যেখানে সময়ের সাথে জীবের বংশগতিমূলক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজাতির উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। চার্লস ডারউইন এই ধারার প্রধান প্রবক্তা।
 
অন্যদিকে, 
- পতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Entomology।
- প্রাণীর আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Ethology।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

.
ডারউইনের মৌলিক অবদান ছিল- 
  1. বিবর্তনের তত্ত্ব আবিষ্কার
  2. বিবর্তনের প্রমাণ নাকচ করা
  3. জীব কোষের গঠন ব্যাখ্যা
  4. বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
ব্যাখ্যা
ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব: 
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন। 
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন। 

উল্লেখ্য, 
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন। 
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন। 
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ফিজিওলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ঘ) হিস্টোলজি
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
ব্যাখ্যা
এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): এ শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
শরীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচিত হয়৷
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
দ্বিপদ নামকরেণে প্রথম অংশটি নির্দেশ করে-
  1. গণ
  2. প্রজাতি
  3. পরিবার
  4. শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
গণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে প্রথম নামটি 'গণ' নির্দেশ করে।

• দ্বিপদ নামকরণ:

- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম।
- এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক।
- যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo Sapiens I
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত কতটি অংশ নিয়ে গঠিত? 
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
.
কোলাজেন হলো এক ধরণের -
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

কোলাজেন:
- কোলাজেন হলো শরীরের এক ধরণের প্রোটিন।
- এটি টিস্যু এবং কোষের কাঠামো বা কাঠামো গঠন করে।
- এটি ত্বক, হাড়, জয়েন্ট এবং অন্যান্য টিস্যুতে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে বিশেষকরে ত্বককে।

⇒ কোলাজেন আমাদের দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি আঠার মতো কাজ করে যা সবকিছুকে একত্রে ধরে রাখে। এটি আমাদের ত্বক, হাড়, টেন্ডন, লিগামেন্ট এবং এমনকি আমাদের রক্তনালীতেও পাওয়া যায়। কোলাজেনকে একটি সহায়ক কাঠামো হিসেবে ভাবুন, যা শক্তি এবং স্থিতিস্থাপকতা প্রদান করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহ কম কোলাজেন তৈরি করে, যার ফলে বলিরেখা, ঝুলে পড়া ত্বক, জয়েন্টে ব্যথা এবং দুর্বল হাড় দেখা দিতে পারে। এখানেই ভিটামিন সি কার্যকর হয়।

উৎস: Continental Hospitals ওয়েবসাইট।

১০.
ডারউইনবাদ কিসের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. অভিযোজন নির্বাচন
  2. পরিবেশগত চাপ
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  4. জীন পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা
ডারউইনবাদ প্রাকৃতিক নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব:
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক -বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
- জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন।
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১.
শিখা কোষ কোন প্রাণীতে দেখা যায়?
  1. জেলিফিশ
  2. ফিতা কৃমি
  3. গোল কৃমি
  4. হাইড্রা
সঠিক উত্তর:
ফিতা কৃমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিতা কৃমি
ব্যাখ্যা

শিখা কোষ ফিতা কৃমিতে দেখা যায়।

প্লাটিহেলমিনথিস:
- গ্রিক শব্দ platys (= চ্যাপ্টা) এবং helminthes (= কৃমি) থেকে Platyhelminthes শব্দের উৎপত্তি।
- Gegenbaur, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফিতাকৃমির জন্য এ নামটি প্রস্তাব করেন। বর্তমানে প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে চ্যাপ্টাকৃমি নামে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা।
- এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
- সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
- শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
- অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

- গোল কৃমি হলো নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জেলিফিশ ও হাইড্রা হলো নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
ইকোলজি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. প্রাণির রোগবালাই
  2. জীবের আকার ও গঠন
  3. জিনগত পরিবর্তন
  4. জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
Entomology হলো-
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) ভ্রূনবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) কীটতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কীটতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কীটতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
কিটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দমন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে Entomolgy বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৪.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Mangifera indica
  2. Ficus benghalensis
  3. Oryza sativa
  4. Nymphaea nouchali
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
ব্যাখ্যা

• দ্বিপদ নামকরণ:
-দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক হলেন সুইডিশ জীববিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)-এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল) এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, 
২) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১৫.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে। 
 
দ্বিপদ নামকরণ: 
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।  
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। 
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৬.
Biotechnology শব্দটি প্রথম কে, কোন বছর প্রবর্তন করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল, 1863 সালে 
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক, 1953 সালে
  3. স্ট্রাসবুর্গার, 1953 সালে
  4. কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
ব্যাখ্যা

- হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে "Biotechnology" বা "জৈবপ্রযুক্তি" শব্দটি প্রবর্তন করেন।

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 

- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
নিচের কোনটি প্রাণী বৈচিত্র্যের প্রকারভেদ?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে
যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। প্রকৃতিতে কয়েক ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-

• জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য। আবার মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

• প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

• বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
অ্যামিবা, ডায়াটম জীব জগতের নিচের কোন রাজ্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) প্রোটিস্টা
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) প্লানটি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটিস্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটিস্টা
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীবের উদাহরণ হলো- প্রোটোজোয়া (অ্যাামিবা, প্যারাম্যাসিয়াম) ও এককোষী শৈবাল (যেমন, ডায়াটম)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯.
কোন শাখায় কোষের গঠন ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. Entomology
  2. Cytology
  3. Histology
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Cytology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cytology
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): 
- জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭। বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): 
- জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): 
- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
নিম্নের কোনটিতে ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়?
  1. গাজর
  2. ফুলকপি
  3. কাঁচামরিচ
  4. কলিজা
সঠিক উত্তর:
গাজর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজর
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন:
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। সুষম খাদ্যে বিভিন্ন প্রকার উপাদান থাকে। ফলে এতে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যায়।
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও (খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

• চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'এ', 'ডি', 'ই' এবং 'কে' (A, D, E, K) ।
• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স ও 'সি' (Vit-B Complex ও Vit-C)

⇒ ভিটামিন 'এ' (Vit-A) উৎস: দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'বি' (Vit-B) উৎস: ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'সি' (Vit-C) উৎস: পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

⇒ ভিটামিন 'ডি' (Vit-D) উৎস: ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২১.
প্রাণিবিজ্ঞানের কোন শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ornithology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Herpetology
  4. ঘ) Conchology
সঠিক উত্তর:
ক) Ornithology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Ornithology
ব্যাখ্যা

- Ornithology শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Ichthyology শাখায় মৎসবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Herpetology শাখায় সরীসৃপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Conchology শাখায় কম্বোজ প্রাণী বা Mollusca পর্বভুক্ত প্রাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২২.
নিচের কোনটির স্বীকৃত নিয়ম অনুসারে উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়?
  1. ক) ICZN
  2. খ) IUCN
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) IAEA
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৩.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসের শাখাটিকে কী বলা হয়? 
  1. ইকোলজি
  2. ট্যাক্সোনমি
  3. অ্যানাটমি
  4. মাইক্রোবায়োলজি
সঠিক উত্তর:
ট্যাক্সোনমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাক্সোনমি
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিবিন্যাস: 
- আজ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ এবং প্রাণীর প্রায় তের লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কেননা প্রায় প্রতিদিনই আরও নতুন নতুন প্রজাতির বর্ণনা সংযুক্ত হচ্ছে। 
- এই অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানোর প্রয়োজন। জীবজগৎকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য অনেক আগে থেকেই প্রকৃতিবিদগণ অনুভব করেছিলেন। 
- সেই প্রয়োজনের তাগিদেই জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে, যার নাম ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা। 

- শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সুইডিস প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (1707-1778)। 
- তিনি 1735 সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন। 
- বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, বিশেষ করে ফুল সংগ্রহ আর জীবের শ্রেণিবিন্যাসে তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। 
- তিনিই প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাসের এবং নামকরণের ভিত্তি প্রবর্তন করেন। 
- অসংখ্য নমুনা জীবের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি জীবজগৎকে দুটি ভাগে, যথা- উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণিজগৎ হিসেবে বিন্যস্ত করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
২৫.
জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা হয়? 
  1. Cytology 
  2. Physiology 
  3. Morphology 
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Embryology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Embryology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো- 
 • অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 
 
শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): 
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। 
- জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে জীববিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। 
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বংশগতিবিদ্যা (Genetics): 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। 
- বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বিবর্তন (Evolution): 
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল, কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। 
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
এগ্রোনমি কী নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. মহাকাশ বিজ্ঞান
  3. প্রাণিবিজ্ঞান
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

এগ্রোনমি (Agronomy) হলো কৃষি বিজ্ঞানের একটি শাখা যা ফসল উৎপাদন ও মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করে। এটি শস্য উৎপাদন, মাটির উর্বরতা, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবহার ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণা করে।

এছাড়াও,
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়।
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মহাকাশ বিজ্ঞান – এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) নামে পরিচিত, যা মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করে।
প্রাণিবিজ্ঞান – এটি জুলজি (Zoology) নামে পরিচিত, যা প্রাণী ও তাদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
পরিবেশ বিজ্ঞান – এটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (Environmental Science) নামে পরিচিত, যা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২৭.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় ভ্রূণের গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. সাইটোলজি
  2. এমব্রায়োলজি
  3. জেনেটিক্স
  4. ফিজিওলজি
সঠিক উত্তর:
এমব্রায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমব্রায়োলজি
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology) : জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) : ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

কোষবিদ্যা (Cytology) : জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বংশগতিবিদ্যা (Genetics) : মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন থাকে -
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৬৩%
  3. গ) ৬৮%
  4. ঘ) ৭৩%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
ব্যাখ্যা
কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাগে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উপাদানের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, এবং সামান্য পরিমানে ডিএনএ ও আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, এএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
প্রাণী প্রজাতির নামকরণের জন্য কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়?
  1. ICZN
  2. ICBN
  3. IZCN
  4. IBCN
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা
প্রাণী প্রজাতির নামকরণের জন্য ICZN নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) - এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali ইত্যাদি।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩০.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক কে?
  1. ক) জোহান মেন্ডেল
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
প্রাণীজগতের শ্রেণিকরণের ভিত্তি (Base of animal classification)ঃ
যেকোনো প্রাণী সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন তার শনাক্তকরণ। আর এ কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম মাধ্যম হলো শ্রেণিকরণ (classification)।
প্রাণিবিজ্ঞান চর্চার শুরু থেকেই অনেক বিজ্ঞানী প্রাণিদের শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮)। এজন্য তাকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of taxonomy) বলা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. Carolus Linnaeus
  2. Theophrastus
  3. George Benthum 
  4. De Candolle
সঠিক উত্তর:
Carolus Linnaeus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Carolus Linnaeus
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসের জনক (Father of Classification):
- জীবজগতের বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ও চিহ্নিত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়।
- আধুনিক জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)।
- তিনি জীবদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) প্রবর্তন করেন।
- এই পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের নাম দুটি অংশে গঠিত হয়—গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Systema Naturae” জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- Theophrastus উদ্ভিদবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত, কিন্তু শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন।
- George Bentham ও De Candolle উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন।

সুতরাং, জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসের জনক হলেন Carolus Linnaeus.
সঠিক উত্তর: ক) Carolus Linnaeus.

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারক-
  1. ক) রোনাল্ড রস
  2. খ) খোরানা
  3. গ) জোহানসন
  4. ঘ) স্ট্রাসবুর্গার
সঠিক উত্তর:
খ) খোরানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খোরানা
ব্যাখ্যা

- জিন সাধারণত প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে তাদের প্রকাশ ঘটায়। জিনের নিউক্লিওটাইডের পরম্পরা অনুযায়ী জীবকোষ অ্যামাইনো এসিড তৈরি করে।
- অ্যামাইনো এসিড থেকে প্রোটিন উৎপন্ন হয়।
- প্রোটিনে অ্যামাইনো এসিডের ক্রম আর জিনে নিউক্লিওটাইডের ক্রম অভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
- নিউক্লিওটাইডের ক্রম আর অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের এই সম্পর্ককে জেনেটিক কোড বলে।
- ড. হর গোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড আবিষ্কার করেন।

৩৩.
দ্বিপদ নামকরণের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ কী নির্দেশ করে? 
  1. গণ 
  2. শ্রেণি 
  3. প্রজাতি  
  4. পরিবার 
সঠিক উত্তর:
গণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ 
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
- দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ প্রথায় একটি জীবের নাম দুইটি অংশে বিভক্ত হয়। প্রথম অংশে গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশে প্রজাতি (Species) থাকে
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa. 
• পাট ⇔ Corchorus capsularis. 
• আম ⇔ Mangifera indica. 
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus. 
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali. 
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis. 
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae. 
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax. 
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana. 
• মৌমাছি ⇔ Apis indica. 
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha. 
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus). 
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis. 
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪.
শ্রেণিবিন্যাসে দ্বিপদ নামকরণ প্রথা কে প্রবর্তন করেন? 
  1. জন রে
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৫.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করেন বিজ্ঞানী-
  1. ক) আইজাক নিউটন
  2. খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
  3. গ) টমাস আলভা এডিসন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৬.
ডিএনএ-এর ডাবল-হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন কারা?
  1. ডারউইন ও ওয়ালেস
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. মেন্ডেল ও জেনসেন
  4. ল্যামার্ক ও ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
ব্যাখ্যা

◉ ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন (James Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ডিএনএ-এর Double Helix Structure প্রস্তাব করেন।
 
ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো: 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক এবং মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা দেন। 
- এই ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তারা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। 
- ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক। 
- এজন্য জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিককে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনকও বলা হয়। 
- উল্লেখ্য, ডিএনএ প্রথম উপস্থাপন করেন ফ্রেডরিক মাসচার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭.
বাইলজি শব্দের প্রবর্তক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) জ্যাঁ ল্যামার্ক
  4. ঘ) লিউয়েনহুক
সঠিক উত্তর:
গ) জ্যাঁ ল্যামার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্যাঁ ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা

- ফরাসি প্রকৃতিবিদ জ্যাঁ বাতিস্ত ল্যামার্ক জীবিত বস্তু সংক্রান্ত অনেকগুলো শাস্ত্রের ধারক নাম হিসেবে 'Biology' শব্দের প্রচলন করেন।
- তাঁকে বাইলজি শব্দের প্রবর্তক বলা হয়।
- এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- অনুজীব বিজ্ঞানের জনক বলা হয় এন্টনি ভন লিউয়েনহুককে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. জন রে 
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. জোহান মেন্ডেল
  4. অ্যারিস্টটল 
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যা শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন মৌলিক একক। 
- তিনি প্রাণিজগতের দ্বিপদ নামকরণ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণের নিয়ম প্রবর্তন করেন; তাই শ্রেণিবিন্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩৯.
প্রাণিজগতের বংশসম্বন্ধীয় বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. জেনেটিক্স 
  2. ইকোলজি 
  3. আর্কিওলোজি 
  4. ইভোলিউশন 
সঠিক উত্তর:
জেনেটিক্স 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনেটিক্স 
ব্যাখ্যা

জেনেটিক্স: 
- জেনেটিক্স বা বংশগতি হলো বাবা-মা হতে সন্তান-সন্ততিতে জিনগত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরিত হওয়া যার মাধ্যমে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের অনেক সামঞ্জস্যতা দেখা যায়।
- জীবের বংশগতি নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে বলা হয় জেনেটিক্স (Genetics) বা বংশগতিবিদ্যা। 

ইভোলিউশন: 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 

ইকোলজি: 
- প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে ইকোলজি বা বাস্তবিদ্যা বলে। 

আর্কিওলোজি: 
- বস্তুগত নিদর্শনের ভিত্তিতে অতীত পুনঃনির্মাণ করার বিজ্ঞানকেই আর্কিওলোজি বা প্রত্নতত্ত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২১ জোড়া
  2. ১৮ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২০ জোড়া
সঠিক উত্তর:
২৩ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জোড়া
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম:
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Embryology 
  2. Evolution 
  3. Microbiology 
  4. Mycology
সঠিক উত্তর:
Evolution 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution 
ব্যাখ্যা

– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution
 
অন্যদিকে, 
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology, 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২.
দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Corvus splendens
  2. Passer domesticus
  3. Copsychus saularis
  4. Nymphaea nouchali
সঠিক উত্তর:
Copsychus saularis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Copsychus saularis
ব্যাখ্যা
- Copsychus saularis - দোয়েল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম:
- Oryza sativa - ধান;
- Mangifera indica - আম;
- Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল;
Apis indica - মৌমাছি;
- Allium cepa - পেঁয়াজ;
- Nymphaea nouchali - শাপলা, 
Periplaneta americana আরশোলা;
- Panthera tigris - রয়েল বেঙ্গল টাইগার;
- Hilsa ilisha - ইলিশ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় সালোকসংশ্লেষণের আলোচনা হয়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) কোষবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) এন্ডোক্রাইনোলজি
সঠিক উত্তর:
গ) শারীরবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শারীরবিদ্যা
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালােকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলােচিত হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলােচনা করা হয়।
এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): এ শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪.
Biotechnology শব্দটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) কার্ল এরেকি
  2. খ) জেমস হুইটনার
  3. গ) জেনিস বার্গার
  4. ঘ) রবার্ট থম্পসন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্ল এরেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্ল এরেকি
ব্যাখ্যা

- জৈবপ্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- কার্ল এরেকি ছিলেন একজন হাঙ্গেরিয়ান কৃষি প্রকৌশলী।
- 'বায়োটেকনোলজি' শব্দটি ১৯১৯ সালে তিনি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন।
- কেউ কেউ তাকে জৈবপ্রযুক্তির ''পিতা'' বলে মনে করেন।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৪৫.
টিস্যু সম্পর্কিত আলোচনাকে কী বলা হয়?
  1. এন্ডোক্রাইনোলজি
  2. হিস্টোলজি
  3. সাইটোলজি
  4. ট্যাক্সোনমি
সঠিক উত্তর:
হিস্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিস্টোলজি
ব্যাখ্যা
• ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে হিস্টোলজি অন্যতম। 

• হিস্টোলজি (Histology) হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে কোষের সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। 

অন্যদিকে,
• এন্ডোক্রাইনোলজি: এ শাখায় হরমোন এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
•  সাইটোলজি: এ শাখায় কোষ (Cell) সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়।
•  ট্যাক্সোনমি: এ শখায় জীবদের শ্রেণিবিন্যাস ও নামকরণ সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৪৬.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় অণুজীব সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়?
  1. এন্টোমোলজি
  2. মাইক্রোবায়োলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ফাইকোলজি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোবায়োলজি:
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এন্ডোক্রাইনোলজি:
- জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
• এন্টোমোলজি:
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি।
• ফাইকোলজি (Phycology) হলো শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
জীবাশ্মবিদ্যাকে বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন কে?
  1. চার্লস রবার্ট ডারউইন
  2. জর্জেস ক্যুভিয়ে
  3. থিওডোর সোয়ান
  4. থমাস হান্ট মর্গান
সঠিক উত্তর:
জর্জেস ক্যুভিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জেস ক্যুভিয়ে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- চার্লস রবার্ট ডারউইন মানুষের বিবর্তন ব্যাখ্যা করেন এবং প্যানজেনেসিস মতবাদ প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি প্রবাল প্রাচীরের ক্রমিক পরিবর্তনও তুলে ধরেন।
- জীবাশ্মবিদ্যাকে বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন জর্জেস ক্যুভিয়ে। তিনি লিনিয়াস প্রদত্ত প্রাণী-শ্রেণিবিন্যাসের উন্নতিও ঘটান।
- থিওডোর সোয়ান কোষ মতবাদের মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে জীবদেহ কোষে গঠিত এবং পূর্ববর্তী কোষ থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।
- থমাস হান্ট মর্গান প্রমাণ করেন যে কোষের নিউক্লিয়াসের ভিতরে ক্রোমোজোম অবস্থান করে এবং ক্রোমোজোমেই অবস্থান করে জিন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৮.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. লিউয়েন হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট কচ 
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত কয়টি ধাপ আছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৯টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭টি
ব্যাখ্যা

একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে মূলত আন্তর্জাতিক কোড চিহ্নিত সাতটি ধাপ আছে।
যেমন- রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি।

সূত্রঃ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই নবম-দশম শ্রেণি

৫০.
নিচের কোনটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল যন্ত্র?
  1. ক) রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  2. খ) প্লাজমিড
  3. গ) ডিএনএ
  4. ঘ) rRNA
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাজমিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাজমিড
ব্যাখ্যা
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।
প্লাজমিড হচ্ছে একখন্ড বৃত্তাকার DNA যা ব্যাকটেরিয়াল কোষের বাইরে অবস্থান করে।
প্লাজমিডই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর আসল যন্ত্র যার দ্বারা নতুন জেনেটিক তত্ত্ব ব্যাকটেরিয়া এবং উদ্ভিদের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গাজী আজমল
৫১.
কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ শিখা কোষ?
  1. ক) হাইড্রা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) ঝিনুক
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
২। এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
৩। সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
৪। পৌষ্টিকতন্ত্র অসর্ম্পূণ ।
৫। শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
৬। অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

উদাহরণঃ Dugesia tigrini, Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃত কৃমি)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
নিচের কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা?
  1. ক) জীবাশ্মবিজ্ঞান
  2. খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  3. গ) অণুজীববিজ্ঞান
  4. ঘ) পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এন্ডোক্রাইনোলজি
ব্যাখ্যা
ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
আর ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
অঙ্গসংস্থান, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, হিস্টলজি, ভ্রূণবিদ্যা, কোষবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা, জীবভূগোল, এন্ডোক্রাইনোলজি ইত্যাদি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা।
অপরদিকে, মৎস্যবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, প্রাণরসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, জিনপ্রযুক্তি, ফার্মেসি, জীবাশ্মবিজ্ঞান ইত্যাদি ফলিত জীববিজ্ঞানের শাখা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩.
“The origin of species by means of natural selection’-বইটির লেখক কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) নিউটন
  3. গ) ভাইজম্যান
  4. ঘ) ডারউইন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডারউইন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
১৮৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন মত দেন।
উল্লেখ্য যে, ডারউইন যে জীবের বিবর্তনবাদের কথা বলেছেন তাই এই বইয়ের মাধ্যমে প্রচার করেছেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৪.
দ্বিপদ নামকরণের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে তার 'Species Plantarum' গ্রন্থে উদ্ভিদের এবং ১৭৫৮ সালে 'Systema Naturae' গ্রন্থের ১০ম সংস্করণে প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতিতে একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ (গণ ও প্রজাতি) নিয়ে গঠিত হয়।
- এই বৈপ্লবিক কাজের জন্য তাকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- অ্যারিস্টটল: জীববিজ্ঞানের জনক বলা হলেও তিনি আধুনিক দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেননি।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত এবং মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
- রবার্ট হুক: তিনি সর্বপ্রথম কোষ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত কিন্তু নামকরণের জনক নন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫৫.
ক্রোমোজোম প্রথম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. রবার্ট হুক
  2. ওয়াল্ডেয়ার
  3. স্ট্রাসবার্গার
  4. গ্রেগর মেন্ডেল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবার্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবার্গার
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. Cytology
  2. Evolution
  3. Embryology
  4. Entomology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা

• বিবর্তন: 
- চার্লস ডারউইনকে বিবর্তনবাদের জনক বলা হয়।
- ল্যাটিন শব্দ 'Evolveri' থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে।
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার প্রথম ইভোলিউশন বা বিবর্তন কথাটি ব্যবহার করেন।
- বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 

উল্লেখ্য, 
- কোষ সম্পর্কিত বিদ্যা বা কোষের গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনাকে বলা হয় Cytology,
- কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিজ্ঞান বা পতঙ্গতত্ত্বকে বলা হয় Entomology,
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology, 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭.
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক হিসেবে কোন বিজ্ঞানীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
  1. থিওফ্রাস্টাস 
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. অ্যারিস্টটল 
  4. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল 
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞানী হলেন ক্যারোলাস লিনিয়াস, কারণ তিনি জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণের দ্বিপদ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) এবং একটি শ্রেণিবদ্ধ পদ্ধতি চালু করে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন। 

দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

অন্যদিকে, 
- অ্যারিস্টটল প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক, যিনি জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রাথমিক প্রচেষ্টা করেছিলেন এবং জীববিজ্ঞানের জনকও বলা হয়। 
- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত। 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্ব বা বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫৮.
জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Morphology
  4. Ecology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো - 

অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 

শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): 
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। 
- জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। 
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বংশগতিবিদ্যা (Genetics): 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। 
- বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বিবর্তন (Evolution): 
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল, কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। 
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯.
নিচের কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণি?
  1. ব্যাঙ
  2. দোয়েল
  3. শুশুক
  4. কুমির
সঠিক উত্তর:
শুশুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুশুক
ব্যাখ্যা

• স্তন্যপায়ী (Mammalia):
- এরা কর্ডাটা পর্বের ভারটেব্রাটা উপপর্বের প্রাণি।
- বিবর্তনের দিক থেকে স্তন্যপায়ী (Mammalia) সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি।
- স্তন্যপায়ী প্রাণিরা সন্তান প্রসব করে (ব্যতিক্রম প্লাটিপ্লাস)। 
- মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি।
- তিমি, ডলফিন, শুশুক হলো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। 

বৈশিষ্ট্য-
১। দেহ এপিডার্মাল লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
২। পরিণত স্ত্রী প্রাণীর কার্যকরী স্তন গ্রন্থি (mammary gland) থেকে ক্ষরিত মাতৃদুগ্ধে নবজাতক লালিত হয়।
৩। উষ্ণ রক্তের প্রাণি।
৪। বহিঃকর্ণে পিনা ও মধ্য কর্ণে তিনটি ক্ষুদ্রান্থি থাকে।
৫। হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
উদাহরণ- মানুষ, উট, বাঘ, তিমি, ডলফিন, শুশুক ইত্যাদি। 

অপরদিকে বাকি ৩ টি অপশনের মধ্যে,
- ব্যাঙ হচ্ছে উভচর শ্রেণির প্রাণি।
- দোয়েল হচ্ছে পক্ষীকূল (Aves) শ্রেণির প্রাণি।
- কুমির হচ্ছে সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি আলোচনা হয় কোন শাখায়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এমব্রায়োলজি
  4. ঘ) ইভোলিউশন
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টোলজি
ব্যাখ্যা
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়৷
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ এ শাখার আলোচনার বিষয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১.
প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিংকে কত সালে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৭ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯২৮ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
- ১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী চেইন ও ফ্লোরি এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১৯৪০ সালের শুরুতেই বিশুদ্ধ পেনিসিলিন উৎপাদনে সক্ষম হন এবং পেনিসিলিনের বানিজ্যিক উৎপাদনেও অবদান রাখেন।
- বিজ্ঞানী ফ্লেমিং, চেইন ও ফ্লোরিকে এজন্য ১৯৪৫ সালে শারীরিবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৬২.
মনেরা রাজ্যের জীবদের কোষ বিভাজন কোন প্রক্রিয়ায় হয়? 
  1. ক্লোনিং
  2. মাইটোসিস
  3. মিয়োসিস
  4. দ্বিবিভাজন
সঠিক উত্তর:
দ্বিবিভাজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিবিভাজন
ব্যাখ্যা
রাজ্য ১: মনেরা (Monera): 
এই মনেরা রাজ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস (একটির পর একটি কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে), কলোনিয়াল। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। 
- এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। 
- কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। 
- প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। 
উদাহরণ: নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।
৬৩.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম থাকে -
  1. ২২টি
  2. ২৩টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম:
- মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।

উল্লেখ্য,
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Evolution
  2. Entomology
  3. Ecology
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Ecology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ecology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু উল্লিখিত শাখা নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫.
অ্যালটিমিটার (Altimeter) কি?
  1. তাপ পরিমাপক যন্ত্র
  2. উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র
  3. গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
  4. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ক্যালরিমিটার- তাপ পরিমাপক যন্ত্র।
• ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার।
• মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
• শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৬.
এ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এককোষী 
  2. কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা তৈরি 
  3. ক্লোরোফিলযুক্ত 
  4. খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল 
সঠিক উত্তর:
খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল 
ব্যাখ্যা

- এ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল 

জীবের শ্রেণিকরণ: 

- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৭.
কোনটির স্বীকৃত নিয়ম অনুসারে প্রাণীর নামকরণ করা হয়?
  1. ক) ICDN
  2. খ) ICNU
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) ICZN
সঠিক উত্তর:
ঘ) ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ICZN
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২৩টি
  3. ৪২টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- ক্রোমোজোম হচ্ছে বংশগতির প্রধান উপাদান। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন Strasburger (১৮৭৫) কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন Weldeyer ১৮৮৮ সালে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Labeo ilisha
  2. Tenualosa ilisha
  3. Cirrhinus ilisha
  4. Saccharum officinarum
সঠিক উত্তর:
Tenualosa ilisha
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tenualosa ilisha
ব্যাখ্যা
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Tenualosa ilisha

• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) - এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali ইত্যাদি।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৭০.
উদ্ভিদের নামকরণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) ICVN
  2. খ) ICUN
  3. গ) ICBN
  4. ঘ) ICZN
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ICBN
ব্যাখ্যা

- আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১.
Biotechnology শব্দটি প্রথম প্রবর্তন করেন কে?
  1. কার্ল এরেকি
  2. ক্রিক
  3. ওয়াটসন
  4. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি
ব্যাখ্যা
জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 
- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। 
- Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। 
- গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয় -
  1. রবার্ট হুককে
  2. উইলিয়াম হার্ভেকে
  3. অ্যারিস্টটলকে
  4. থিওফ্রাস্টাসকে
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটলকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটলকে
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান। 
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক  জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। 
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি।
যথা- 
 ১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক। 
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩.
কোন ক্লোনিং পদ্ধতিতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেল ক্লোনিং
  2. জীব ক্লোনিং
  3. জিন ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিনাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

- শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় ক্যারোলাস লিনিয়াসকে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই

৭৫.
নিচের কোনটি প্রাণী শ্রেণীবিন্যাসের ধাপ নয়?
  1. ক) শ্রেণি
  2. খ) গোত্র
  3. গ) দল
  4. ঘ) প্রজাতি
সঠিক উত্তর:
গ) দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দল
ব্যাখ্যা
বর্তমানে প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-
1. Kingdom (রাজ্য)
2. Phylum (পর্ব)
3. Class (শ্রেণি)
4. Order (বর্গ)
5. Family (গোত্র)
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি)

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. লুই পাস্তুর
  2. লিউয়েন হুক
  3. রবার্ট কচ
  4. এহরেনবার্গ
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) ক্রোনোমিটার
  2. খ) টেকোমিটার
  3. গ) ক্রেসকোগ্রাফ
  4. ঘ) ওডোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ।
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

৭৮.
জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি হলো-
  1. ক) Zoology ও Mycology
  2. খ) Ecology ও Botany
  3. গ) Mycology ও Zoology
  4. ঘ) Botany ও Zoology
সঠিক উত্তর:
ঘ) Botany ও Zoology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Botany ও Zoology
ব্যাখ্যা

• জীবের ধরন অনুযায়ী জীববিজ্ঞানকে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে।
যথাঃ
১. Botany (উদ্ভিদবিজ্ঞান) ও
২. Zoology (প্রাণিবিজ্ঞান)।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৭৯.
Embryology হলো-
  1. ক) অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা
  2. খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
  3. গ) বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. ঘ) ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Embryology বলা হয়।
অন্যদিকে,
Microbiology – অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা,
Evolution – বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা এবং
Mycology – ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮০.
প্রাণী প্রজাতির নামকরণের জন্য কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়?
  1. ICBN
  2. ICZN
  3. IUPAC
  4. ICNCP
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা

• প্রাণী প্রজাতির নামকরণের জন্য ICZN নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) - এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন:
- ICBN (International Code of Botanical Nomenclature): এটি শুধুমাত্র উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদবিজ্ঞানীগণ এই নিয়ম মেনে গাছপালা, শৈবাল ও ছত্রাকের নামকরণ করেন। (বর্তমানে এটি ICN নামেও পরিচিত)।
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry): এটি জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত নয়; এটি রসায়নের বিভিন্ন মৌল এবং রাসায়নিক যৌগের নামকরণের আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- ICNCP (International Code of Nomenclature for Cultivated Plants): এটি মূলত চাষাবাদকৃত বা কৃত্রিমভাবে উদ্ভাবিত উদ্ভিদের (যেমন: হাইব্রিড ফুল বা ফসল) নামকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩। ব্রিটানিকা।

৮১.
শারীরবিদ্যার জনক বলা হয় কাকে?
  1. ক) অ্যারিস্টোটল
  2. খ) লিউয়েন হুক
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) থিওফ্রাস্টাস
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম হার্ভে পেশাগত কাজের পাশাপাশি রক্ত সংবহন এ হৃদপিন্ডের ভূমিকা বিভিন্ন প্রাণীর শারীরবিদ্যা এবং পোস্টমর্টেম এর মাধ্যমে রোগ তথ্য জানার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের শারীরবিদ্যার জনক বলা হয়।
৮২.
উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - 
  1. জীবন চক্রে সাধারণত ব্যাঙ্গাচি দশা দেখা যায়
  2. পানিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়
  3. হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• উভচর (Amphibia):
- এরা কর্ডাটা পর্বের ভারটেব্রাটা উপপর্বের প্রাণি।
- (গ্রীক amphi= উভয়, bios= জীবন)- এ শ্রেণির প্রাণিরা প্রথম স্থলচর মেরুদণ্ডী।
- মূলত স্থলচর হলেও জননকালে ডিম পাড়তে এরা পানিতে আসতে বাধ্য হয়।
- এরা পরিণত বয়সে ডাঙ্গায় বাস করে।
- মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর প্রায় সব বসবাসযোগ্য স্থানে উভচর পাওয়া যায়। 

বৈশিষ্ট্য-
১। দেহ মস্তক, গ্রীবা ও দেহ কাণ্ডে বিভক্ত।
২। দেহত্বক সাধারণত আঁইশবিহীন, নরম, আর্দ্র ও গ্রন্থিযুক্ত।
৩। পানিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়।
৪। হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এতে সাইনাস ভেনোসাস বিদ্যমান।
৫। শীতল রক্তের প্রাণি।
৬। জীবন চক্রে সাধারণত ব্যাঙ্গাচি দশা দেখা যায়।
উদাহরণ- সোনাব্যাঙ, কুনোব্যাঙ।

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২) National Geographic. Link

৮৩.
'Biology' শব্দের প্রবর্তক হলেন -
  1. অ্যারিস্টটল
  2. থিওফ্রাস্টাস
  3. ল্যামার্ক
  4. উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা

Biology বা জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান।
- অন্যভাবে বলা যায় জীব তথা জীবনের বিজ্ঞানই হলো জীববিজ্ঞান।
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (১৭৪৪-১৮২৯) জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- Biology শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে জীববিজ্ঞান।
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২), তাই অ্যারিস্টটল (Aristotle)-কে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোন ধরনের জীব নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে দুটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়।
যথা- ১। উদ্ভিদবিজ্ঞান বা উদ্ভিদবিদ্যা এবং
২। প্রাণিবিজ্ঞান বা প্রাণিবিদ্যা।

উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও গবেষণাই উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৫) উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- প্রাণীর বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও গবেষণাই প্রাণিবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৪.
জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ট্যাক্সোনমি
  2. সাইটোলজি
  3. হিস্টোলজি
  4. মরফোলজি
সঠিক উত্তর:
হিস্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিস্টোলজি
ব্যাখ্যা

- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়:

 • অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার
আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়।

• শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়।

•  শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।

হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।

• কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৮৫.
জগদীশচন্দ্র বসু রেডিও সংকেত শনাক্তকরণের কাজে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন? 
  1. ট্রানজিস্টর 
  2. অর্ধপরিবাহী জাংশন 
  3. ভ্যাকুয়াম টিউব 
  4. ক্যাপাসিটার 
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী জাংশন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী জাংশন 
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। 
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 

- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। 
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
জেনেটিক্স বলতে কী বোঝায়? 
  1. জনন কোষের উৎপত্তি 
  2. জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন 
  3. জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার 
  4. জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
সঠিক উত্তর:
জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): 
- জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭। বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): 
- জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): 
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): 
- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭.
Mangifera indica কোন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম? 
  1. কলা
  2. আম
  3. পেঁপে
  4. কাঁঠাল
সঠিক উত্তর:
আম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম
ব্যাখ্যা
- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
• সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
• মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।
৮৮.
হুইট্‌টেকার জীব জগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব করেন-
  1. ক) ১৯৬৭ সালে
  2. খ) ১৯৬৮ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালে হুইট্‌টেকার (Whittaker) জীব জগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীকালে মারগুলিস (Margulis) ১৯৭৪ সালে হুইট্‌টেকারের শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯.
দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয় কাকে?
  1. চার্লস ডারউইন
  2. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ:
-  গণ নাম এবং প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলা হয়। 

• একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। যেমন- গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।

•  দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা। আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।

• উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে। প্রকৃত পক্ষে এই code পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
• নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস  দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। 

তথ্যসূত্র:
মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৯০.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়?
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ফাইকোলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. এন্টোমোলজি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা

• জীববিজ্ঞানের মাইক্রোবায়োলজি শাখায় অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজমের বৈশিষ্ট্য, গঠন, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাইক্রোবায়োলজির অন্তর্ভুক্ত অণুজীবের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং অ্যালগ রয়েছে। এই শাখা মানুষের স্বাস্থ্য, রোগ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে অণুজীবের প্রভাব, রোগ সৃষ্টি এবং জীববিজ্ঞানের গবেষণায় তাদের ব্যবহার-যেমন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বা বায়োপ্রসেস-সবই মাইক্রোবায়োলজির আলোচ্য বিষয়। অন্যদিকে ফাইকোলজি শাখা শৈবাল নিয়ে, এন্ডোক্রাইনোলজি হরমোন নিয়ে এবং এন্টোমোলজি পোকামাকড় নিয়ে কাজ করে। তাই অণুজীব সম্পর্কিত আলোচনা মাইক্রোবায়োলজিতে হয়।

- উত্তর: ক) মাইক্রোবায়োলজি।

• মাইক্রোবায়োলজি:
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এন্ডোক্রাইনোলজি:
- জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
• এন্টোমোলজি:
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি।
• ফাইকোলজি (Phycology) হলো শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
ম্যালেরিয়া রোগের পরজীবী আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) স্যার রোনাল্ড রস
  2. খ) চার্লস ল্যাভেরন
  3. গ) রবার্ট কচ
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
খ) চার্লস ল্যাভেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার্লস ল্যাভেরন
ব্যাখ্যা
- পূর্বে একটি ধারণা প্রচলিত ছিলো যে, দূষিত বায়ু সেবনে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফরাসি ডাক্তার চার্লস ল্যাভেরন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর লোহিত রক্তকণিকা থেকে ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কার করলে প্রায় শত বছরের ভ্রান্ত ধারণাটির অবসান ঘটে। ১৮৯৭ সালে ডাক্তার রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেন যে, Anopheles গণভুক্ত মশকীরা এ রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে বিস্তার ঘটায়।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা করে Germ theory of Disease তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- জার্মান ডাক্তার রবার্ট কচ যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৯২.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জোহান মেন্ডেল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. জন রে 
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যা শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন মৌলিক একক। 
- তিনি প্রাণিজগতের দ্বিপদ নামকরণ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণের নিয়ম প্রবর্তন করেন; তাই শ্রেণিবিন্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৯৩.
কোনটি প্রাণির আচরণবিদ্যা?
  1. Ecology
  2. Ethology
  3. Entomology
  4. Toxicology
সঠিক উত্তর:
Ethology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ethology
ব্যাখ্যা

Ecology (ইকোলজি):
- ইকোলজি হলো জীব ও তাদের পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন।
- এখানে প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশ একে অপরের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করে না, বরং পরিবেশগত সম্পর্কের উপর জোর দেয়।

• Ethology (ইথোলজি):
- ইথোলজি হলো প্রাণীর আচরণবিদ্যা।
- এতে প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ, অভ্যাস, প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করা হয়।
- প্রাণীরা কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচে বা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে—এসব বিষয় ইথোলজির অন্তর্ভুক্ত।
- তাই প্রাণীর আচরণ অধ্যয়নের জন্য ইথোলজিই সঠিক বিজ্ঞান।

• Entomology (এনটোমোলজি):
- এনটোমোলজি হলো কীটপতঙ্গবিদ্যা।
- এতে পোকামাকড়ের গঠন, জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এটি শুধুমাত্র কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিজ্ঞান, সব প্রাণীর আচরণ নয়।

• Toxicology (টক্সিকোলজি):
- টক্সিকোলজি হলো বিষবিদ্যা।
- এতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ জীবদেহে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, প্রাণীর আচরণ নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তা হলো - Ethology (ইথোলজি)।

সূত্র - sciencedirect journal.

৯৪.
কোন পর্বের প্রাণীরা চলাচলে অক্ষম?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) আর্থোপোডা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
২। এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
৩। এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
৪। এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
৫। এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫.
সর্বপ্রথম 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রচলন করেন কে? 
  1. বেটসন
  2. মেন্ডেল
  3. ডারউইন
  4. মর্গান
সঠিক উত্তর:
বেটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেটসন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন। 
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত। 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে সি, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চেমেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬.
পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে?
  1. ক) থমাস হান্ট মর্গান
  2. খ) থিওডোর সোয়ান
  3. গ) স্ট্যানলি বি. প্রুজিনার
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুই পাস্তুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা

- লুই পাস্তুর মুরগির কলেরা, গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন, পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন।
- থমাস হান্ট মর্গান বংশগতির সঞ্চারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা আবিষ্কার করেন।
- স্ট্যানলি বি. প্রুজিনার প্রথম প্রিয়ন আবিষ্কার করেন।
- থিওডোর সোয়ান কোষ মতবাদ বর্ণনা করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯৭.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'অ্যামিবা' কী ধরনের প্রাণী?
  1. কেন্দ্রীয় প্রতিসাম্য
  2. অরীয় প্রতিসাম্য
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা

• অ্যামিবা একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। ক্ষণপদের সাহায্যে এটি প্রতিনিয়ত আকার পরিবর্তন করে বলে একে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য প্রাণীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

• অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য:
- প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus).
খ. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus).
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa).
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica).
ঙ. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus).

 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৮.
জীববিজ্ঞানে কী ধরনের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?
  1. বায়োইনফরমেটিক্স
  2. বায়োমেট্রিক্স
  3. বায়োকেমিস্ট্রি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বায়োইনফরমেটিক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়োইনফরমেটিক্স
ব্যাখ্যা
◉ জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো 'বায়োইনফরমেটিক্স'।

বায়োইনফরমেটিক্স:
- বায়োইনফরমেটিক্স জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়।
- জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য মূলত এই বিষয়টির জন্ম হয়েছে।
অর্থাৎ, জীববিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ হলো বায়োইনফরমেটিক্স।
- জীববিজ্ঞানের সমস্যাগুলো যখন কম্পিউটার প্রযুক্তি কৌশল ব্যবহার করে সমাধান করা হয়, তখন সেটাকে বলা হয় বায়োইনফরমেটিক্স।
- জিন ফাইন্ডিং গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (মাহবুবুর রহমান)।
৯৯.
কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Musa paradisiaca
  4. Artocarpus heterophyllus
সঠিক উত্তর:
Artocarpus heterophyllus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা
• কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম  Artocarpus heterophyllus।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
-  যেমন: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum
- এখানে Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম।
- এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।
- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।
- এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
- কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০০.
রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যার জনক কাকে বলা হয়?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. রবার্ট হুক
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
সঠিক উত্তর:
এডওয়ার্ড জেনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এডওয়ার্ড জেনার
ব্যাখ্যা
- এডওয়ার্ড জেনার রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যার জনক।

 - এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner):
- অবদান: প্রথম সফল ভ্যাকসিন তৈরি করেন।
- বিখ্যাত কাজ: ১৭৯৬ সালে গরুর গুটি বসন্ত (Cowpox) থেকে গুটি বসন্ত (Smallpox) রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন।

অন্যদিকে,
- অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক: তিনি প্রথম জীবন্ত এককোষী জীব (Microorganisms) আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট কচ: রোগজীবাণু তত্ত্ব (Germ Theory) প্রমাণ করেন এবং টিউবারকিউলোসিসের (TB) জীবাণু আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক : Micrographia" বইয়ে কোষ (Cell) সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন এবং "Cell" শব্দটি ব্যবহার করেন।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট।