বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৮১৫

৪০১.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. প্যারাসিটামল
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যান্টিবায়োটিক
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০২.
শ্বেত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ১২০দিন
  2. ৬০-৯০ দিন
  3. ১-১৫ দিন
  4. ৩০-৬০ দিন
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকনিকা দেখা যায়।
যথা -
- লোহিত রক্তকনিকা: এর গড় আয়ু ১২০ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট: এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- অনুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট: এর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৪০৩.
রক্তে কোন কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
 শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম। 
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

এছাড়া,
অ্যানিমিয়া:
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

লিউকোসাইটোসিস:
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০ - ৩০,০০০ হয়।

লিউকোমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
ডায়ালাইসিস কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. হৃদপিণ্ড
  4. স্নায়ু
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা

• বৃক্ক: 
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবীজের মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- ক্যাপসুল-সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। - মেডুলায় সাধারণত ৮-১২ টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
- প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)-এই দু'টি প্রধান অংশে বিভক্ত। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক বিকল:
- নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
- কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

• ডায়ালাইসিস:
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস।
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

• প্রতিস্থাপন:
- যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিডনি সংযোজন বলে। 
- কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৪০৫.
শ্বেতসার পরিপাকে নিচের কোন এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) অ্যামাইলেজ
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) পেপসিন
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহে দ্বারা গৃহীত খাদ্যবস্তু যে সকল রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে জটিল খাদ্য থেকে সরল খাদ্যে পরিণত হয় সে সকল রাসায়নিক পদার্থকে এনজাইম বলে।
যেমন - ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, পেপসিন।
শরীরের শর্করা বা শ্বেতসার জাতীয় খাবার পরিপাকে অ্যামাইলেজ এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়।

৪০৬.
বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত ইউনিট কী?
  1. নিউরন
  2. রেনিন
  3. টিউবিউল
  4. নেফ্রন
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
ব্যাখ্যা

• বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত এবং কার্যকরী ইউনিট হলো নেফ্রন। নেফ্রন মূলত রক্তকে পরিশোধন করে মূত্র উৎপন্ন করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত জল, লবণ ও বর্জ্য পদার্থ বের করে। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় এক মিলিয়ন নেফ্রন থাকে। নেফ্রন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: গ্লোমেরুলাস এবং টিউবিউল। গ্লোমেরুলাস রক্ত ফিল্টার করার কাজ করে, আর টিউবিউল ফিল্টার হওয়া তরল থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ করে এবং বর্জ্য পদার্থ মূত্রে পরিণত করে। তাই নেফ্রন বৃক্কের কার্যকারিতা বজায় রাখার মূল একক।

- সঠিক উত্তর: ঘ) নেফ্রন।

নেফ্রন:
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
- রক্ত অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৭.
মানুষের রক্তের প্রকৃতি কেমন?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
  3. গ) ঈষৎ অম্লধর্মী
  4. ঘ) তীব্র ক্ষারধর্মী
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা

মানুষের রক্তের pH এর মান 7.35-7.45। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত ঈষৎ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 0-6.9 হলে তা অম্লধর্মী।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7.1-14 হলে তা ক্ষারধর্মী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪০৮.
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ কোনটি?
  1. থ্যালামাস
  2. সেরেবেলাম
  3. সেরেব্রাম
  4. সেরেব্রাল পেডাংকল
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
• সেরেবেলাম পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ।

• পশ্চাৎমস্তিষ্ক:
এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
- সেরেবেলাম,
- মেডুলা অবলংগাটা এবং
- পনস।

• সেরেবেলাম:
- পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেরেবেলাম যা সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত।
- দুটি কুণ্ডলীকৃত সমগোলার্ধ নিয়ে গঠিত যারা ভার্নিস নামে একটি ক্ষুদ্র যোজকের সাহায্যে যুক্ত।
- এটি বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা নিয়ে গঠিত।
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

• মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা:
১) অগ্রমস্তিষ্ক,
২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

• অগ্রমস্তিষ্ক:
অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা:
- সেরেব্রাম,
- থ্যালামাস
- হাইপোথ্যালামাস।
- মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রামকে গুরুমস্তিষ্কও বলা হয়।

• মধ্যমস্তিষ্ক:
হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
সিলিয়াক ধমনি রক্ত বহন করে- 
  1. অন্ত্রে
  2. বৃক্কে
  3. পাকস্থলী ও যকৃতে
  4. পেলভিসে
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী ও যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী ও যকৃতে
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১০.
মানবদেহের কোথায় শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম নেই? 
  1. লালা রসে
  2. আন্ত্রিক রসে
  3. অগ্ন্যাশয় রসে
  4. পাকস্থলি রসে
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা কোন ধরনের ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. ইকোকার্ডিয়াম
  2. প্লুরা
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
বৃক্ক: 
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে। 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়। 
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল। 
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। 
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
O রক্ত গ্রুপের ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন -
  1. কেবল A ও B গ্রুপের ব্যক্তিকে
  2. শুধুমাত্র AB গ্রুপের ব্যক্তিকে
  3. কেবলমাত্র O গ্রুপের ব্যক্তিকে
  4. সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
সঠিক উত্তর:
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
ব্যাখ্যা
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে O রক্ত গ্রুপের ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন।

• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে।

• O রক্তের গ্রুপ:
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

• AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

• A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

• B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. হজম প্রক্রিয়া 
  2. রেচন প্রক্রিয়া
  3. শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  4. রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৪.
কোনটি হৃদরোগের ধরন নয়?
  1. অ্যানজাইনা পেকটোরিস
  2. মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন
  3. সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  4. করোনারি অ্যাথেরোমা
সঠিক উত্তর:
সিস্টিক ফাইব্রোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টিক ফাইব্রোসিস
ব্যাখ্যা
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস হৃদরোগের ধরন নয়। 

• হৃদরোগ:
- হৃদরোগ বলতে হৃৎপিণ্ড এবং রক্তবাহী নালীগুলোকে (ধমনী, শিরা, এবং কৈশিক জালিকা) প্রভাবিত করে এমন রোগগুলোকে বোঝায়।

• হৃদরোগের কারণ:
- অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, ধূমপান, মদ্যপান, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।  
- উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, এবং স্থূলতা হৃদরোগের প্রধান কারণ।  
- হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।  
- সাধারণত পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। 

• হৃদরোগ সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
→ অ্যানজাইনা পেকটোরিস (Angina Pectoris):
- এটি হৃদরোগের একটি সাধারণ ধরন।
- যখন হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন-যুক্ত রক্ত পায় না, তখন বুকের ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়—এটিই অ্যানজাইনা।
- এটি সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হয়।
- এটিকে সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাবস্থা মনে করা হয়। 

→ মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction):
- এটি হার্ট অ্যাটাক নামেও পরিচিত।
- হৃৎপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হলে পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটিই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

→ করোনারি অ্যাথেরোমা (Coronary Atheroma):
- এটি হলো ধমনীতে চর্বি জমা হওয়া, যা করোনারি হার্ট ডিজিজের মূল কারণ।
- এটি রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যদিকে,
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস (Cystic Fibrosis) কোনো হৃদরোগ নয়।
- এটি একটি ফুসফুসজনিত ও পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত জেনেটিক (বংশগত) রোগ।
- এটি প্রধানত ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে ঘন ও আঠালো শ্লেষ্মা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institutes of Health (NIH).
৪১৫.
ব্লাড গ্রুপ-A তে কোন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি থাকে? 
  1. A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
  2. B অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি 
  3. A ও B অ্যান্টিজেন, কোনো অ্যান্টিবডি নেই 
  4. কোনো অ্যান্টিজেন নেই, A ও B অ্যান্টিবডি থাকে 
সঠিক উত্তর:
A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে।
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
• O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
• AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৬.
রক্তের pH মাত্রা সাধারণত গড়ে কত?
  1. ৬.৫–৬.৮
  2. ৮.৫–৯.০
  3. ৭.৩–৭.৪
  4. ৭.৮–৮.০
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
সজীব রক্তের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ২৮°–৩০° সেলসিয়াস
  2. ৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
  3. ৩০°–৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০°–৪২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (F) বা ৩৭° সেলসিয়াস (C) ধরা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬° থেকে ৩৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে

রক্ত: 

- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৮.
মানব মস্তিষ্ক কতটি প্রধান অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪১৯.
In the human body, what is the approximate percentage of plasma in the blood?
  1. 30%
  2. 70%
  3. 90%
  4. 55%
  5. 65%
সঠিক উত্তর:
55%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
55%
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

• রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
• লোহিত রক্তকণিকা, 
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা (platelet) হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২০.
নিচের কোনটি দুই অণু বিশিষ্ট শর্করার উদাহরণ?
  1. গ্লুকোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. শ্বেতসার
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:

- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা। 
- উদাহরণ: গ্লুকোজ। 
- উৎস: মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
- উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ। 
- উৎস:  চিনি ও দুধ ইত্যাদি। 

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা। 
- উদাহরণ: শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন। 
- উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২১.
লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. যকৃতে 
  2. বৃক্কে 
  3. অস্থিমজ্জায় 
  4. প্লীহাতে 
সঠিক উত্তর:
প্লীহাতে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহাতে 
ব্যাখ্যা

- লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। 
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে। 
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। 
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম। 

- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। 
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহা-তে সঞ্চিত থাকে। 
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২২.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. মূত্রনালি
  3. পিটুইটারী গ্রন্থি
  4. পিত্তথলি
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
• ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 

• ইনসুলিন:

- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইনB) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৩.
কোষের বর্জ্য পদার্থ এবং বাইরের জীবাণু ধ্বংস করার কাজটি কোন অঙ্গাণু করে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. লাইসোজোম
সঠিক উত্তর:
লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

লাইসোজোম কোষের বর্জ্য পদার্থ এবং বাইরের জীবাণু ধ্বংস করার কাজ করে।

• লাইসোজোম:
- লাইসোজোম কোষের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু, যা কোষকে জীবাণু এবং বর্জ্য পদার্থের হাত থেকে রক্ষা করে।
- এটিতে বিভিন্ন হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে যা ক্ষতিকর পদার্থকে ভেঙে ফেলে।
- এ কারণেই লাইসোজোমকে প্রায়শই কোষের "আত্মহননকারী থলি" বা "suicidal bag" বলা হয়।

• লাইসোজোমের কাজসমূহ-
১. এরা ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩. লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৪. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৫. এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৬. টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে।
৭. ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৪.
হরমোন কীভাবে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়? 
  1. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে
  4. পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
রক্তের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৫.
কোন অঙ্গাণুকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলা হয়?
  1. মস্তিষ্ক
  2. ফুসফুস
  3. যকৃত
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত পেটের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত। 
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। 
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। 

যকৃত -এর কাজ: 
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে। 
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। 
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। 
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে। 
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। 
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। 
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৬.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধা পাওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. ডিমেনশিয়া
  2. স্ট্রোক
  3. হার্ট অ্যাটাক
  4. প্যারালাইসিস
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৭.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. তিন স্তর
  2. চার স্তর
  3. পাঁচ স্তর
  4. ছয় স্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর তিন স্তর বিশিষ্ট।

• হৃৎপিণ্ডের আবরণ:

- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন -

১. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

২. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর।
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. ধমনির প্রসারণের চাপ 
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ 
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
  4. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ উভয় চাপ 
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হল হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২৯.
সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠে এসে জমা হয়?
  1. বাম অলিন্দ
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. করোনারি সাইনাস
সঠিক উত্তর:
ডান অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান অলিন্দ
ব্যাখ্যা

সমস্ত শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত প্রথমে হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে এসে জমা হয়। এরপর এই রক্ত ডান নিলয়ের মাধ্যমে ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে। ফুসফুসে এসে রক্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দে প্রবেশ করে৷ বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে এবং মহাধমনির মাধ্যমে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷
করোনারি সাইনাস হৃদপিণ্ডের গাত্র থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে এনে ডান অলিন্দে পৌছে দেয়৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৩০.
ফুসফুস মানবদেহের কোন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ? 
  1. রেচনতন্ত্র
  2. শ্বাসতন্ত্র
  3. পরিপাকতন্ত্র
  4. সঞ্চালনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বাসতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বাসতন্ত্র
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: 
- ফুসফুস মানবদেহের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভেতর হৃদপিণ্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নিচের কোনটি দেওয়া হয়?
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. নাইট্রোগ্লিসারাইড
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
ব্যাখ্যা
• করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

•  হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
"অক্সিপিটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
অগ্র মস্তিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্র মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা

মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
অক্সিপিটাল লোব - অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪৩৩.
বহিঃকর্ণে আছে-
  1. ক) ইউট্রিকুলাস
  2. খ) স্যাকুলাস
  3. গ) কোনোটিই না
  4. ঘ) পিনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পিনা
ব্যাখ্যা
পিনা, কর্ণকুহর আর কর্ণপটহ আছে বহিঃকর্ণে। ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস নিয়ে মধ্যকর্ণ গঠিত। ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের অংশ।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৩৪.
মানুষের মুখমন্ডলে কয়টি সাইনাস থাকে?
  1. ৪টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
আমাদের করোটি ও মুখমন্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে।
মানুষের মুখমন্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। যথা- (ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, (খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, (গ) এথময়েড সাইনাস এবং (ঘ) স্ফেনয়েড সাইনাস।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৫.
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি? 
  1. Femur
  2. Stapes
  3. Radius
  4. Tibia
সঠিক উত্তর:
Stapes
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stapes
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি?

সমাধান: 
মানবদেহের সবচেয়ে ছোট হাড় স্টেপিস (Stapes) 

স্টেপিস মানবদেহের মধ্যকর্ণে (middle ear) অবস্থিত তিনটি শ্রবণাস্থির (ossicles) মধ্যে একটি।
এটি স্টিরাপ (stirrup) আকৃতির এবং সবচেয়ে ছোট ও হালকা হাড়।
গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৫–৩.৫ মিলিমিটার (একটি ছোট চালের দানার চেয়েও ছোট)।
ওজন মাত্র ২-৪ মিলিগ্রাম।
কাজ: শব্দের কম্পনকে অভ্যন্তরীণ কানে (inner ear) স্থানান্তর করে।

উৎস: 
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- National Geographic – Human Body Facts.

৪৩৬.
মানবদেহে সাধারণত লসিকার পরিমাণ কত? 
  1. ১-২ মি.লি 
  2. ১-২ লিটার 
  3. ৫-৬ লিটার 
  4. ১০-১২ মি.লি 
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার 
ব্যাখ্যা
লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” বলে। 
- অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
A রক্তের গ্রুপে কোন অ্যান্টিজেনটি থাকে? 
  1. A
  2. B
  3. উভয় A ও B
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৮.
কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. স্থিতিস্থাপক
  2. তন্তুময়
  3. দৃঢ়
  4. নরম
সঠিক উত্তর:
দৃঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃঢ়
ব্যাখ্যা

•  অস্থির বৈশিষ্ট্য - দৃঢ়। 

অস্থির বৈশিষ্ট্য:

- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
অগ্ন্যাশয়রসে কোন উৎসেচক থাকে না?
  1. পেপসিন
  2. লাইপেজ
  3. ট্রিপসিন
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
পেপসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপসিন
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। 
- তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪০.
মানব দেহের কোন সংবেদী অঙ্গ ভারসাম্য অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত? 
  1. জিহ্বা
  2. ত্বক
  3. নাসিকা
  4. কর্ণ
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
ব্যাখ্যা
মানব সংবেদী অঙ্গ: 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রকৃতি ও পরিবর্তন অনুধাবনে সক্ষম ইন্দ্রিয় সমূহকে সংবেদী অঙ্গ বা রিসেপ্টর বলা হয়।
- বিশেষ ধরনের সংবেদী কোষের সমন্বয়ে সংবেদী অঙ্গ গঠিত।
- মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ হলো- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
- এরা সাধারণভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত ।
- এদের মধ্যে চক্ষু দর্শন অনুভূতি, কর্ণ শ্রবণ অনুভূতি ও ভারসাম্য অনুভূতি, নাসিকা ঘ্রাণ অনুভূতি, জিহ্বা স্বাদ অনুভূতি এবং ত্বক স্পর্শ অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
পেলভিস অঞ্চল, উরু ও পায়ে রক্ত সরবরাহ করে- 
  1. ফ্রেনিক ধমনি
  2. ইলিয়াক ধমনি
  3. সিলিয়াক ধমনি
  4. মেসেন্টেরিক ধমনি
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াক ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা

- ইলিয়াক ধমনি পেলভিস অঞ্চল, উরু এবং পা সহ নিম্নাঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। অন্যদিকে, ফ্রেনিক ধমনি মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম), সিলিয়াক ধমনি পাকস্থলী ও যকৃত এবং মেসেন্টেরিক ধমনি অন্ত্রে রক্ত সরবরাহ করে। 

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 

সাবক্লেভিয়াল ধমনি প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ: 
- আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
- সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
- মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
- জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪২.
রক্ত রসে জৈব ও অজৈব পদার্থের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) 15 - 20%
  2. খ) ৪ - 9%
  3. গ) 10- 13%
  4. ঘ) 5 - 6%
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ - 9%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ - 9%
ব্যাখ্যা
রক্ত:
রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যােজক টিস্যু।
ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
রক্তের উপাদান দুটি— রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৪৪৩.
নিচের কোনটি শ্বাসনালির রোগ?
  1. পারকিনসন
  2. এপিলেপসি
  3. নিউমোনিয়া
  4. স্ট্রোক
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা

• শ্বাসনালি-সংক্রান্ত রোগ
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অনেক সময় এ অঙ্গটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - - বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও ফুসফুস অসুস্থ হতে পারে।
- অনেক সময় অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ফুসফুসে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় এবং সংক্রমণ ঘটে।
- ফুসফুসের সাধারণ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সাবধানতাগুলো জানা থাকলে অনেক জটিল সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
- অ্যাজমা বা হাঁপানি, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার হচ্ছে শ্বাসনালির রোগ।

• নিউমোনিয়া:
- নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।

কারণ:
নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।

লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।

প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
- বেশি করে পানি পান করানো।

প্রতিরোধ:
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
- ধূমপান পরিহার করা।
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।

- অপরদিকে পারকিনসন, এপিলেপসি ও স্ট্রোক হলো স্নায়ুবিক রোগ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৪৪৪.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৫.
যকৃতে শর্করা কিরূপে থাকে?
  1. শ্বেতসার
  2. সেলুলোজ
  3. ফ্রুকটোজ
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
ধমনি এবং শিরার মধ্যে কোন পার্থক্যটি সঠিক নয়?
  1. ধমনির প্রাচীর পুরু এবং শিরার প্রাচীর পাতলা
  2. ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
  3. ধমনির গহ্বর ছোট, শিরার গহ্বর বড়
  4. ধমনি দিয়ে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়, শিরা দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়
সঠিক উত্তর:
ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
হৃদযন্ত্রের প্রসারণকে কী বলে?
  1. সিস্টোল
  2. ডায়াস্টোল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
• হৃদপিন্ড:
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দু'ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা -
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।
২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। অন্তঃস্তরটি হৃদপিন্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।

- হৃদপিন্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং
- সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৪৮.
কোন অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে ভ্রূণে স্থানান্তরিত হয়?
  1. IgG
  2. IgD
  3. IgE
  4. IgM
সঠিক উত্তর:
IgG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgG
ব্যাখ্যা

• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:

- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৪৪৯.
কোন ধরনের স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশকে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়? 
  1. সংবেদী স্নায়ু 
  2. মিশ্র স্নায়ু 
  3. মোটর স্নায়ু 
  4. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু 
সঠিক উত্তর:
মোটর স্নায়ু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর স্নায়ু 
ব্যাখ্যা

করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫০.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. 8 - 10 mg/dl
  2. 50 - 80 mg/dl
  3. 100 - 200 mg/dl
  4. 200 - 500 mg/dl
সঠিক উত্তর:
100 - 200 mg/dl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
100 - 200 mg/dl
ব্যাখ্যা
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/dl.

• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL)ও  নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL)।
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫১.
লোহিত রক্ত কণিকা মানবদেহের কোথায় সঞ্চিত থাকে?  
  1. ফুসফুসে
  2. বৃক্কে
  3. হৃৎপিণ্ডে
  4. প্লীহায়
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহায়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫২.
প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  2. থাইমাস গ্রন্থি
  3. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• প্যারাথরমোন নিঃসৃত হয় প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে। 
• থাইমোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়  থাইমাস গ্রন্থি থেকে।
• অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে।

উৎস - মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৪৫৩.
মানুষের দেহের ওজনের প্রায় কত শতাংশ পানি?
  1. ৩০–৪৫%
  2. ৫০–৫৫%
  3. ৬০–৭৫%
  4. ৮০–৯০%
সঠিক উত্তর:
৬০–৭৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০–৭৫%
ব্যাখ্যা

পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। 
- মানুষের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৪.
কোন হরমোনকে ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. থাইরক্সিন
  3. কর্টিসল
  4. অ্যাড্রেনালিন
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্টিসল
ব্যাখ্যা
◉ কর্টিসল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্টিসল হরমোন:
- কর্টিসল হরমোনকে স্ট্রেস হরমোনও বলা হয়।
- মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় এই হরমোন বেড়ে যায়।
- কর্টিসল হল একটি স্টেরয়েড হরমোন।
- কর্টিসল গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
- অ্যাড্রেনালিনও স্ট্রেসের সময় নিঃসৃত হয়, তবে এটি তাৎক্ষণিক "ফাইট-অর-ফ্লাইট" প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
- থাইরক্সিন বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) National Center for Biotechnology Information.
৪৫৫.
মানুষের রক্তে pH কত?
  1. ৫.৪
  2. ৬.৪
  3. ৭.৪
  4. ৮.৪
সঠিক উত্তর:
৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৪
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্ত:
- মানুষের রক্তে pH ৭.৪।
- রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
- মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
- রক্ত মানুষের দেহের ৮%।
- রক্তের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৪৫৬.
করোটিকার অস্থিসন্ধি কোন ধরনের অস্থিসন্ধি?
  1. নিশ্চল অস্থিসন্ধি
  2. ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি
  3. পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি
  4. সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিশ্চল অস্থিসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চল অস্থিসন্ধি
ব্যাখ্যা
• করোটিকার অস্থিসন্ধি নিশ্চল ধরনের অস্থিসন্ধি। 

• অস্থিসন্ধি:

- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলা হয়। 

• প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- অস্থিসন্ধি বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

• অস্থিসন্ধির প্রকারভেদ:
→ নিশ্চল অস্থিসন্ধি (Fixed Joint): নিশ্চল অস্থিসন্ধিগুলো অনড়, অর্থাৎ এগুলো নাড়ানো যায় না। যেমন- করোটিকা অস্থিসন্ধি।

→ ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি: এসব অস্থিসন্ধি একে অন্যের সাথে সংযুক্ত থাকলেও সামান্য নাড়াচাড়া করতে পারে, ফলে আমরা দেহকে সামনে, পিছনে এবং পাশে বাঁকাতে পারি।
যেমন- মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি।

→ পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি: এ সকল অস্থিসন্ধি সহজে নড়াচড়া করানো যায়। এ জাতীয় অস্থিসন্ধির মধ্যে বল ও কোটরসন্ধি, কবজাসন্ধি প্রধান।
যেমন- সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি।
• পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি ২ প্রকার।
যথা- (i) বল ও কোটরসন্ধি,
(ii) কব্জা সন্ধি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৫৭.
রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়ায় কোন অজৈব আয়নটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? 
  1. K+
  2. Mg2+
  3. Ca2+
  4. Na2+
সঠিক উত্তর:
Ca2+
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca2+
ব্যাখ্যা

- ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) রক্ত তঞ্চন (রক্ত জমাট বাঁধা) প্রক্রিয়ায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অজৈব আয়ন। এটি বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টরকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যার মধ্যে প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে রূপান্তর করা এবং ফাইব্রিনোজেন থেকে ফাইব্রিন নামক অদ্রবণীয় প্রোটিন সূত্র তৈরি করা প্রধান। এই ফাইব্রিন সূত্রগুলোই মূলত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে জালকের মতো কাঠামো তৈরি করে। 

অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট: 
- ইংরেজিতে অণুচক্রিকাকে প্লেইটলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থি মজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ।  
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ; অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়। 

- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। 
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রোম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে।  এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রোম্বিনকে থ্রোম্বিনে পরিণত করে। 
- থ্রোম্বিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। 
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। 
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ায় অন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) জড়িত থাকে। 
- রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ অণুচক্রিকা না থাকলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, ফলে অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৮.
মানুষের শরীরের কোন অংশ বা অঙ্গ ক্ষারীয়?
  1. ক) পাকস্থলী
  2. খ) ত্বক
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) রক্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্ত
ব্যাখ্যা

টেবিলঃ মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশের pH
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৪৫৯.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৩৭° ফারেনহাইট
  2. ৭৬.৪° ফারেনহাইট
  3. ৯৮.৬° ফারেনহাইট
  4. ২৭৩° ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
৯৮.৬° ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮.৬° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
• মানবদেহ: 
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%। 
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪৬০.
কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ?
  1. বেসোফিল
  2. নিউট্রোফিল
  3. মনোসাইট
  4. ইওসিনোফিল
সঠিক উত্তর:
মনোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোসাইট
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য:

১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

প্রকারভেদ: 

- গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং;
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের, যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফনোড, টনসিল, প্লিহা, ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো ছোট কণিকা।
- মনোসাইট বড় কণিকা। কিন্তু এর নিউক্লিয়াস বড় বাকে অন্যদিকে তবে তার নিউক্লিয়াস ছোট ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার আবৃতির হয়।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- Lymphocites রক্তে বৃদ্ধি তেমন ক্ষতির কারণ নয় তবে অতিরিক্ত পরিমাণ বৃদ্ধি ক্যান্সারের লক্ষণ।

(খ) গ্রানুলোসাইট:
- এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত।
- গ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকাগুলো নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার যথা-
(১) নিউট্রোফিল;
(২) ইওসিনোফিল ও;
(৩) বেসোফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টাসিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয় না।

উৎস: বিজ্ঞান (ইউনিট ৩), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন স্কুল।
৪৬১.
ঐচ্ছিক পেশি সাধারণত দেহের কোন অঙ্গে থাকে? 
  1. হৃৎপিণ্ড 
  2. বৃক্ক 
  3. গলবিল 
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
গলবিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলবিল 
ব্যাখ্যা

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। 
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে, এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬২.
জন্ডিসের কারণ হিসেবে দায়ী বিলিরুবিন মানবদেহের কোন অংশে তৈরি হয়?
  1. মস্তিস্ক
  2. লিভার
  3. কিডনি
  4. ফুস্ফুস
সঠিক উত্তর:
লিভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিভার
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ যা যকৃত বা লিভারে লাল রক্তকণিকার (RBC) ভাঙনের ফলে তৈরি হয়।  লোহিত রক্তকণিকা ১২০ দিন পরপর  যখন  ধ্বংস হয়, তখন হিমোগ্লোবিন ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। 

এই প্রক্রিয়া যেসব ধাপে ঘটে:
-  যকৃতের কাফার কোষে RBC ভাঙে → হিম(আয়রন)  → বিলিভারডিন → বিলিরুবিন। 
- লিভার বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে পিত্ত (Bile) এর মাধ্যমে তা নিঃসৃত করে দেয়। 
- যদি এই বিলিরুবিন লিভার থেকে নিঃসরণের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়, তবে তা রক্তে অত্যধিক হয়ে যায় এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়, যাকে জন্ডিস (Jaundice) বলে।

অন্যদিকে,  
• মস্তিষ্ক: বিলিরুবিন তৈরি হয় না, তবে অতিরিক্ত বিলিরুবিন (বিশেষ করে নবজাতকদের ক্ষেত্রে) ব্রেইনে ক্ষতি করতে পারে।

কিডনি: রক্ত পরিশোধন করে রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে। কিন্তু এখানে বিলিরুবিন তৈরি হয় না। 

• ফুসফুস: এখানে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। এটি বিলিরুবিন সংশ্লিষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institute of Health (NIH).
৪৬৩.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. প্লাজমা 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. লিউকোসাইট 
  4. প্লেটলেট 
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৪.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. নাইট্রিক অক্সাইড
  4. সালফার ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড: 
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে
- কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) এর রাসায়নিক সংকেত হলো CO যা একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম। 
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে। 
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। 
- কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
• দুর্বলতা, 
• বমি বমি ভাব, 
• মাথা ঘোরানো, 
• ক্লান্তি, 
• ক্ষুধা, 
• মাথা ব্যাথা, 
• অজ্ঞান হওয়া, 
• খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website [লিঙ্ক]।
৪৬৫.
প্লাজমা কী?
  1. রক্তের কঠিন অংশ।
  2. রক্তের তরল অংশ।
  3. হাড়ের তরল ।
  4. মজ্জার উপাদান।
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
ব্যাখ্যা
প্লাজমা বা রক্তরস হল রক্তের একটি তরল উপাদান। রক্তের দুইটি উপাদান হলো রক্তরস ও রক্তকণিকা। 
রক্তরস রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৫৫% অংশ নিয়ে গঠিত এবং এতে প্রধানত পানি (৯০-৯২%), পাশাপাশি বিভিন্ন দ্রবীভূত পদার্থ থাকে।

রক্তরসের উপাদান:
পানি : রক্তের প্রধান উপাদান ও  মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

প্রোটিন (Plasma Proteins): অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন প্রভৃতি প্রোটিন থাকে।  

- গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড: কোষের শক্তির উৎস

ইলেকট্রোলাইট: সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি – কোষীয় কার্যকলাপে সহায়তা করে

- হরমোন ও এনজাইম: শরীরের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়

- বর্জ্য পদার্থ: যেমন: ইউরিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড – এগুলো রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়
  
• রক্তরস বা প্লাজমার কাজ:
- কোষগুলিকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে (RBC, WBC, Platelets)। 
- পুষ্টি, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহন করে। 
- অসুখে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। 
- রক্তচাপ ও pH ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- জমাট বাঁধার উপকরণ সরবরাহ করে (ফাইব্রিনোজেন)। 

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৪৬৬.
মানুষের লালায় কোন ধরনের এনজাইম থাকে? 
  1. লাইপেজ
  2. টায়ালিন
  3. ট্রিপসিন
  4. গ্লুকাগন
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাক ক্রিয়া: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরে জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট উৎসেচক বা এনজাইম এবং প্রাণরস বা হরমোনের উপস্থিতিতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য এবং দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রথমত সরল দ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে কোষ আবরণীর ভিতর দিয়ে অতি সহজে কোষের ভিতরে প্রবেশ করে।
- সবশেষে রক্ত এই পরিপাককৃত সরল উপাদানগুলোকে দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। 

মুখে পরিপাক: 
- মুখগহ্বরে দাঁত ও জিহ্বার সাহায্যে খাদ্য চিবানোর ফলে খাদ্যবস্তু ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়।
- এ সময় লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়ে খাদ্যের সাথে মিশে যায়। লালা খাদ্যবস্তুকে গলাধঃকরণে সাহায্য করে।
- লালায় টায়ালিন বা স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক বা এনজাইম থাকে
- এটি অ্যামাইলেজ নামেও পরিচিত এবং শর্করা হজমের প্রাথমিক ধাপে সহায়তা করে।
- এটি শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে।
- মুখগহ্বরে আমিষ বা স্নেহজাতীয় খাদ্যের কোনোরূপ পরিবর্তন হয় না।
- মুখগহ্বর থেকে খাদ্যদ্রব্য পেরিস্টালসিস (Peristalsis) প্রক্রিয়ায় অন্ননালির মধ্য দিয়ে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে।
- পৌষ্টিক নালিগাত্রের পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যদ্রব্য সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
- অন্ননালিতে খাদ্যের কোনো পরিপাক ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- ট্রিপসিন প্রোটিন হজমকারী এনজাইম।
- লাইপেজ একটি চর্বি হজমকারী এনজাইম।
- গ্লুকাগন একটি হরমোন যা লিভারে গ্লুকোজ উৎপন্ন করার জন্য কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৭.
Where are red blood cells primarily stored in the human body?
  1. Heart
  2. Liver
  3. Kidneys
  4. Spleen
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Spleen
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Spleen
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ। এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 

- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৮.
হৃদপিণ্ডের বাইরে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী নামে চিহ্নিত করা হয়?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের বাইরে থাকা পাতলা ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়। এটি একটি দোতলা ঝিল্লি যা হৃদপিণ্ডকে ঘিরে রাখে এবং রক্ষা করে। পেরিকার্ডিয়ামের বাইরের স্তরটি শক্ত এবং ফাইব্রাস দিয়ে গঠিত, যা হৃদপিণ্ডকে শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা করে, আর ভিতরের স্তরটি সেরোস ঝিল্লি, যা হৃদপিণ্ডের পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত। এই ঝিল্লি হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক গতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং তার চারপাশে ছোট পরিমাণের তরল রাখে, যা ঘর্ষণ কমায়। তাই হৃদপিণ্ডের বাইরের এই ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: গ) পেরিকার্ডিয়াম।

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৯.
কোন রক্ত গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. বি
  2. এ বি
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়।
এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।
এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে
বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৭০.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক কোথায় শুরু হয়? 
  1. মুখবিবর 
  2. পাকস্থলী 
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র 
  4. বৃহদান্ত্র 
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী 
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য দ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। 
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। 
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭১.
মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ৬০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  2. ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  3. ১২০-১৪০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  4. ১৪০-১৬০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
সঠিক উত্তর:
৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
ব্যাখ্যা
• ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ:
- ডায়াবেটিস এক প্রকার বিপাকজনিত রোগ।
- মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি।
- রক্তে যদি এ মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে তাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।
- এ রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন হৃদপিন্ড, বৃক্ক, চোখ, ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
- ডায়োবেটিস রোগীদের কারোনারি হৃদরোগ হওয়ায় প্রবণতা বেশি থাকে। যা হৃদপিন্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী স্ট্রোক হয়ে মারা যায়।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্ত চাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্ত চাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্ব লক্ষন।
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে করোনারি হৃদরোগে আক্রান্তহওয়ার সম্বাবনা খুবই বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭২.
রক্ত কণিকা উৎপাদনের স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকা উৎপাদনের প্রধান স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত নরম টিস্যু, যা রক্তের সব ধরনের কণিকা-লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট-উৎপাদন করে। শিশুর শরীরে অস্থিমজ্জা প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড় যেমন পিঠের হাড় এবং বৃহৎ হাড়ের প্রান্তে থাকে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি প্রধানত পেরিফেরাল হাড়ে সীমিত থাকে। অন্য অঙ্গ যেমন যকৃত, হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস রক্তকণিকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ নয়; তবে যকৃত কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তে লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে। সুতরাং, রক্তকণিকার জন্মস্থল হিসেবে অস্থিমজ্জাকে প্রধানভাবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থিমজ্জায়।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

৪৭৩.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন কত? 
  1. প্রায় ১০০ গ্রাম
  2. প্রায় ৩০০ গ্রাম
  3. প্রায় ৪০০ গ্রাম
  4. প্রায় ২০০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩০০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৩০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- পেশিবহুল ত্রিকোণাকার, ফাঁপা, চার প্রকোষ্ঠযুক্ত পাম্পের মতো যন্ত্র যার সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে। 
- রক্তকে রক্তবাহিকার ভেতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ড মানবদেহের পাম্প যন্ত্ররূপে কাজ করে। 
- একটি হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম, তবে স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে তা পুরুষের তুলনায় ১/৩ অংশ কম হয়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ বরাবর অঞ্চলে বাম দিক ঘেঁষে তির্যকভাবে অবস্থিত। 
- এটি দেখতে লালচে রংয়ের ও ত্রিকোণাকার। 
- এর সম্মুখভাব স্টার্নামের দিকে পচাৎভাগ মেরুদণ্ডের দিকে এবং নিম্নভাগ ডায়াফ্রামের উপরে থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি ডান দিকের দ্বিতীয় কশেরুকা থেকে বাম দিকের পঞ্চম কশেরুকা পর্যন্ত তির্যকভাবে অবস্থান করে। 
- হৃৎপিণ্ডে প্রশস্ত সম্মুখভাগ অলিন্দ দ্বারা ও পশ্চাতের মোচাকার অংশটি নিলয় দ্বারা গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৪.
অগ্ন্যাশয় রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. অ্যামাইলেজ
  3. মলটেজ
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়।
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।
মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৫.
কোন রক্ত কণিকা 'White Blood Cell' নামে পরিচিত?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৬.
মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে কী বলে? 
  1. লিউকোসাইটোসিস
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. করোনারি থ্রম্বোসিস
  4. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
সঠিক উত্তর:
সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েডের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালী অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালী গহ্বর ছোট হয়ে যায়। 
- এই কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিথিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে। এর প্রভাবে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। 
- ধমনির গায়ে ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধপ্রাপ্ত হয়। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 
-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৭.
কঙ্কাল পেশি এক ধরনের- 
  1. অরৈখিক পেশি
  2. হৃদপেশি
  3. ঐচ্ছিক পেশি
  4. অনৈচ্ছিক পেশি
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক পেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু বা মাসকুলার টিস্যু: 
- দেহের কোনো কোনো পেশি ইচ্ছামত চালনা করা যায়। যেমন- হাত বা পায়ের পেশি। 
- আবার দেহের কোনো কোনো পেশি ইচ্ছামতো চালনা করা যায় না। এ ধরনের পেশি নিজের ইচ্ছামতো চলে। যেমন- পাকস্থলির পেশি। 
- পেশি তিন প্রকার। 
যথা- 
১. ঐচ্ছিক পেশি: 
- যে পেশি ইচ্ছামতো সংকুচিত ও প্রসারিত করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাকে ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- মানবদেহে ঐচ্ছিক পেশির সংখ্যা বেশি। 
- এ পেশি হাড়ের সাথে লেগে থেকে অঙ্গ নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, তাই এধরনের পেশিকে কঙ্কাল পেশিও বলা হয়। 

২. অনৈচ্ছিক পেশি: 
- খাদ্যনালিতে খাদ্য পরিবহনের দায়িত্ব পালন করছে অস্ত্রের পেশি। এ ধরনের পেশির উপর কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। 
অর্থাৎ, যেসব পেশি ইচ্ছামতো সংকুচিত হয় না, তাদের অনৈচ্ছিক পেশি বলে। 

৩. হৃদপেশি: 
- হৃদপেশি নামে আরেক ধরনের পেশি আছে, এ পেশি নিজ ছন্দে পর্যায়ক্রমে সংকুচিত হয়ে দেহের রক্ত সঞ্চালন করে। 
- শুধু হৃদপিন্ড এই পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এই পেশি দেখতে অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজে অনৈচ্ছিক। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৭৮.
নিচের কোন অঙ্গটির গঠনতন্ত্রের একক হচ্ছে অ্যালভিওলাস?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) কংকালতন্ত্র
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) ফুসফুস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা

ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট পুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনাে ঘর্ষণ হয় না।
ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলােকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। বায়ুথলিগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতাে অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে।
বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। বায়ু প্রবেশ করলে এগুলাে বেলুনের মতাে ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান

৪৭৯.
রক্তে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে -
  1. ক) লোহিত রক্ত কণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) রক্তরস
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তরস
ব্যাখ্যা

রক্তের প্রধান উপাদান হলাে রক্তরস বা প্লাজমা।
সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% হলাে রক্তকনিকা।
রক্তরসের ৯০% হলাে পানি এবং বাকি ১০% হলাে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান।
রক্তকনিকা ৩ প্রকার।
যথাঃ এরিথ্রোসাইট বা লােহিত রক্তকনিকা,
লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকনিকা এবং
থ্রম্বােসাইট বা অনুচক্রিকা।
সূত্রঃ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

৪৮০.
হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়-
  1. ডায়াস্টল
  2. সিস্টল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সিস্টল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টল
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
• হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
• হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে বলে সিস্টোল।
• হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সম্প্রসারণকে বলে ডায়াস্টোল।

image source: cvphysiology.com

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮১.
মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বলে-
  1. ক) Close circulatory system
  2. খ) Close circuitry system
  3. গ) Close centrifugal system
  4. ঘ) Open centrifugal system
সঠিক উত্তর:
ক) Close circulatory system
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Close circulatory system
ব্যাখ্যা
মানবদেহের রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে এ ধরনের রক্তসংবহনতন্ত্রকে Close circulatory system বা বদ্ধ সংবহনতন্ত্র বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪৮২.
নিচের কোনটি মানবদেহের লুপ্তপ্রায় অঙ্গ?
  1. ফ্লিপার
  2. ককসিক্স
  3. অ্যাপেন্ডিক্স
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা

- বিভিন্ন জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বাহ্যিক গঠনকে অঙ্গসংস্থান বলে। এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের আলোচনাকে তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান বলে।

(ক) সমসংস্থ অঙ্গ:
- পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার, সিলের অগ্রপদ, ঘোড়ার অগ্রপদ, মানুষের হাত-এর সবগুলোই সমসংস্থ অঙ্গ।
- আপাতদৃষ্টিতে এদের আকৃতিগত পার্থক্য দেখা গেলেও অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে এদের অস্থিবিন্যাসের মৌলিক প্রকৃতি একই ধরনের অর্থাৎ সকল প্রাণীর জন্যই এখানকার অস্থিগুলো উপর থেকে নিচের দিকে পরপর সাজানো রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে, সেটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার জন্য ঘটেছে।
- পাখি ও বাদুড়ের 'অগ্রপদ' ওড়ার জন্য, তিমির ফ্লিপার সাঁতারের জন্য, ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়ানোর জন্য ও মানুষের অগ্রপদ কোনো জিনিস ধরা ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজের জন্য পরিবর্তিত হয়েছে।

(খ) সমবৃত্তি অঙ্গ:
- বিভিন্ন প্রাণীর যে অঙ্গগুলোর উৎপত্তি, বিকাশ এবং গঠন ভিন্ন হলেও তারা একই কাজ করে, সেই অঙ্গগুলোকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন-পতঙ্গ কিংবা বাদুড়ের ডানা উড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এদের উৎপত্তি ও গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একই পরিবেশের প্রভাবে তারা একই রকম কাজ করার জন্য অভিযোজিত হয়েছে অর্থাৎ বাদুড় এবং পতঙ্গ দুটিই প্রয়োজনের তাগিদে উড়তে সাহায্য করার উপযোগী অঙ্গ তৈরি করেছে। 
- এরকম সমবৃত্তি অঙ্গগুলো জৈব অভিব্যক্তি সমর্থন করে।

(গ) লুপ্তপ্রায় অঙ্গ:
- জীবদেহে এমন কতকগুলো অঙ্গ দেখা যায়, যেগুলো কিছু জীবদেহে সক্রিয় থাকে কিন্তু অপর জীবদেহে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, এমন অঙ্গগুলোকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। 
- প্রাণীদেহের মধ্যে বহু লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। মানুষের সিকাম এবং সিকাম-সংলগ্ন ক্ষুদ্র অ্যাপেন্ডিক্সটি নিষ্ক্রিয়, কিন্তু স্তন্যপায়ীভুক্ত তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন- ঘোড়া কিংবা গিনিপিগের) দেহে এগুলো সক্রিয়।
- মানুষের দেহে লেজ নেই, তবু মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে ককসিক্স নামক লুপ্তপ্রায় অঙ্গ রয়েছে। এই ককসিক্স মানুষের পূর্বপুরুষে সুগঠিত ছিল। 
- লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বহনকারী প্রাণীটির উৎপত্তি ঘটেছে এমন উদবংশীয় প্রাণী থেকে, যার দেহে একসময় উক্ত অঙ্গটি সক্রিয় ছিল।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

৪৮৩.
হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে রাখা আবরণটির নাম কী? 
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. মায়োকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। 
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 

- হৃৎপিণ্ড তিন স্তরে গঠিত। 
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 
- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৮৪.
নিচের কোনটি অদানাদার শ্বেতকণিকা নয়?
  1. মনোসাইট
  2. লিম্ফোসাইট
  3. বেসোফিল
  4. সবগুলোই অদানাদার শ্বেতকণিকা
সঠিক উত্তর:
বেসোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেসোফিল
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা (Leucocytes): 
- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes. 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে। 
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১। 
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়। 

• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১। দানাদার শ্বেত কণিকা (Granulocyte): 
- নিউক্লিয়াসের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও রঞ্জকধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দানাদার শ্বেত কণিকাসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) নিউট্রোফিল (Neutrophil): 
- কোষের দানাগুলো সূক্ষ্ম ও বেগুনি রঙের। কোষসমূহ আকারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। 
- পরিণত কোষে নিউক্লিয়াস ২-৭ টি ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। 
 
খ) ইওসিনোফিল (Eosinophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাধারণত নিউক্লিয়াস ২ খণ্ডে বিভক্ত, সাইটোপ্লাজমে অপেক্ষাকৃত বড় দানা থাকে। 
 
গ) বেসোফিল (Basophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাইটোপ্লাজমের দানাগুলো ক্ষারধর্মী রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় এবং স্থূল ধরনের। 
- বেসোফিল হেপারিন উপাদান ধারণ করে। 
 
২। অদানাদার শ্বেতকণিকা (Agranulocyte): 
- আকার ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে অদানাদার শ্বেত কণিকাকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) মনোসাইট: 
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন। 
- কোষগুলো মোটামুটি গোলাকার। 
- আকৃতিতে সর্ববৃহৎ। 
 
খ) লিম্ফোসাইট: 
- লিম্ফোসাইটের সাইটোপ্লাজমে কোনো দানা থাকে না। 
- লিম্ফোসাইট আবার দুই প্রকার। 
• বড় লিম্ফোসাইট এবং 
• ছোট লিম্ফোসাইট। 
 
শ্বেত কণিকার কাজ: 
- শ্বেত কণিকা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। 
যথা: 
১। ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। 
২। লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে। 
৩। বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে। 
৪। এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে। 
৫। হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৪৮৫.
হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে কী কাজ করে? 
  1. হরমোন উৎপাদন করে 
  2. অক্সিজেন সরবরাহ করে 
  3. জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে 
  4. রক্ত পরিবহন করে 
সঠিক উত্তর:
জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে 
ব্যাখ্যা

পাকস্থলী: 
-বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলী। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলীর প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।

- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৬.
হরমোন নিঃসরণ করা পিটুইটারি গ্রন্থিকে কী বলা হয়?
  1. রক্ত কেন্দ্র
  2. প্রভু গ্রন্থি
  3. শ্রবণ কেন্দ্র
  4. স্নায়ু কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
প্রভু গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভু গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন নামক জৈবরাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে। এটি নালিবিহীন গ্রন্থি হওয়ায় হরমোন সরাসরি রক্ত বা লসিকা প্রবাহে ক্ষরিত হয়।
- এসব গ্রন্থি রক্তবাহিকা-সমৃদ্ধ জালিকায় পরিবৃত থাকে।

• পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland): 

- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি বা প্রভু গ্রন্থি (Principal / Master gland) বলে।
- কারণ একদিকে, পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা যেমন বেশি, অন্যদিকে বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি।
- এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী গ্রন্থি।

• অবস্থান ও আকৃতি:
- এ গ্রন্থি চোখের পিছনে মস্তিষ্কের নিম্নভাগে একটি ক্ষুদ্র বৃন্তের (ইডনফান্ডিবুলাম) সাহায্যে যুক্ত থাকে।
- পিটুইটারি গ্রন্থি প্রায় ১ সে.মি. ব্যাস সম্পন্ন. বর্ণ লালচে ধূসর, দেখতে মটর দানার মতো, ০.৫ গ্রাম ওজনবিশিষ্ট একটি গ্রন্থি।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৪৮৭.
মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ কত?
  1. ৩-৪ লিটার
  2. ৪-৬ লিটার
  3. ৮-৯ লিটার
  4. ১-২ লিটার
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-২ লিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

- লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
- যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৮.
স্নায়ুকোষের অবস্থান কোথায়?
  1. বহিঃত্বকে
  2. পেশী আবরনী কোষে
  3. মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে
  4. মুখছিদ্রের চারপাশে 
সঠিক উত্তর:
মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকোষের অবস্থান (Neuron Position):
- স্নায়ুকোষ হলো স্নায়ুতন্ত্রের মৌলিক একক, যা সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণ করতে সক্ষম।
- এটি সাধারণত মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে অবস্থান করে, যা গ্যাস্ট্রুলেশন পর্যায়ের মধ্যস্তর হিসেবে পরিচিত।
- স্নায়ুকোষের অবস্থান পেশী বা বহিঃত্বক কোষের মধ্যে নয়।
- মুখছিদ্রের চারপাশে কিছু স্নায়ু গঠন থাকতে পারে, কিন্তু প্রধান স্নায়ুকোষের কেন্দ্র নয়।
- স্নায়ুকোষের এই অবস্থান ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠন নিশ্চিত করে।  

সুতরাং, স্নায়ুকোষের অবস্থান হলো - গ) মেসোগ্নিয়া ঘেঁষে।  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

৪৮৯.
শর্করা পরিপাককারী এনজাইম কোন রসে থাকে না? 
  1. আন্ত্রিক রসে 
  2. অগ্ন্যাশয় রসে 
  3. লালা রসে 
  4. পাকস্থলি রসে 
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

মলটেজ: 
- ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯০.
কার্ডিয়াক পেশির কাজের ধরণ কোন পেশির মতো? 
  1. ত্বকীয় পেশি
  2. কঙ্কাল পেশি
  3. ঐচ্ছিক পেশি
  4. অনৈচ্ছিক পেশি
সঠিক উত্তর:
অনৈচ্ছিক পেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনৈচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle): 
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। 
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। 
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে। 
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে। 
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯১.
কোন করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত?
  1. অপটিক
  2. অলফ্যাক্টরি
  3. অডিটরি
  4. হাইপোগ্লোসাল
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
ব্যাখ্যা
অডিটরি করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

• অলফ্যাক্টরি স্নায়ু:
-অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

• অডিটরি:
- এটি মেডুলা অবলংগাটার পার্শ্বদেশ হতে উৎপত্তি লাভ করে অন্যকর্ণে বিস্তৃত হয়।
- অডিটরি স্নায়ু সংবেদী প্রকৃতির। এটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।

• অপটিক:
- অপটিক করোটিক স্নায়ুটি দৃষ্টিশক্তির সাথে যুক্ত।

• হাইপোগ্লোসাল:
- হাইপোগ্লোসাল করোটিক স্নায়ুটি জিভের গতির সাথে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯২.
অ্যান্টিবডি কোন ধরনের জৈব উপাদান হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 
- দেহের সব অ্যান্টিবডি গামা-গ্লোবিউলিন (γ-globulin) নামে পরিচিত। আর যেহেতু অ্যান্টিবডিসমূহ দেহের সুরক্ষার কাজ করে তাই এদেরকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin, সংক্ষেপে-Ig) বলা হয়। 
- এদের আণবিক ওজন ১,৫০,০০০-৯,০০,০০০/- ডাল্টনের মধ্যে সীমিত। 
- প্লাজমা প্রোটিনের প্রায় ২০% ইমিউনোগ্লোবিউলিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
রক্তে কোন লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা ক্ষতিকর? 
  1. BDL
  2. LDL 
  3. HDL
  4. IDL
সঠিক উত্তর:
LDL 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LDL 
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein- HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein- LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৪.
মানুষের হৃদপিন্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
মানব হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং বাম আলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ডাইকাসপিড কপাটিকা।
- আর হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৯৫.
নিচের কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. কোষগুলো গোলাকৃতির
  2. নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
  3. বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে
  4. স্থিতিস্থাপক
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
ব্যাখ্যা


অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৬.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় -
  1. ০.৫-১.০ কেজি
  2. ২.০-৩.০ কেজি
  3. ১.৫-২.০ কেজি
  4. ৪.০-৫.০ কেজি
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.৫-২.০ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- পিত্তরসে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. এনজিওপ্লাস্টি
  2. রেডিও আইসোটোপ
  3. এমআরআই
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা
• হৃদরোগের চিকিৎসায়  "এনজিওপ্লাস্টি" ব্যবহৃত হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি:

- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া।
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ডের রক্তনালীর মধ্যের চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়।
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়।
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়।
- এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এমআরআই:
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

• রেডিও আইসোটোপ:
- রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৪৯৮.
বহিঃশ্বসন কোথায় ঘটে? 
  1. পাকস্থলীতে
  2. রক্তনালিতে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৯.
Master gland বলা যা কোনটিকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃত
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পিটুইটারী
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারী
ব্যাখ্যা

• Master gland (মাস্টার গ্রন্থি):
- মানবদেহের যে গ্রন্থিটি শরীরের অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে Master gland বলা হয়।
- এটি বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপিত বা নিয়ন্ত্রিত করে।
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও হরমোনীয় সমন্বয়ে এই গ্রন্থিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- এজন্য একে অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের “নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি” বলা হয়।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি Master gland নয়।

• যকৃত (Liver):
- যকৃত দেহের বিপাকীয় কাজ, পিত্তরস উৎপাদন ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
- এটি হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান গ্রন্থি নয়।
- তাই একে Master gland বলা হয় না।

• অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland):
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রিনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি দেহের স্ট্রেস ও জরুরি অবস্থায় কাজ করে।
- কিন্তু এটি অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

• পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary gland):
- পিটুইটারী গ্রন্থি শরীরের প্রায় সব অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, গনাড ইত্যাদি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- এই কারণেই একে Master gland বলা হয়।

সঠিক উত্তর: ঘ) পিটুইটারী। 

সূত্র - sciencedirect journal.

৫০০.
মানুষের রক্তের pH মান সাধারণত কত?
  1. ৭.৩–৭.৪
  2. ৬.৫–৭.০
  3. ৫.৮–৬.০ 
  4. ৮.৫–৮.৯
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।