বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৮১৫

৩০১.
বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তাদের কী বলে?
  1. রক্ত কণিকা
  2. লসিকা
  3. রক্তরস
  4. মাতৃকা
সঠিক উত্তর:
লসিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লসিকা
ব্যাখ্যা
লসিকা:

- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়।
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়।
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে। এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়।
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ।

লসিকার কাজ: 
- প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
- স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
- পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
- শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । 
- প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
- প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০২.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. আয়োডিন
  3. স্নেহ
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।

- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৩.
মধ্যকর্ণে আছে-
  1. ক) ম্যালিয়াস
  2. খ) ইনকাস
  3. গ) স্টেপিস
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
পিনা, কর্ণকুহর আর কর্ণপটহ আছে বহিঃকর্ণে। ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস নিয়ে মধ্যকর্ণ গঠিত। ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের অংশ।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩০৪.
কোন ধরনের লাইপোপ্রোটিন শরীরের জন্য উপকারী?
  1. HDL
  2. IDL
  3. LDL
  4. VLDL
সঠিক উত্তর:
HDL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HDL
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল একটি জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড, এবং এটি স্টেরয়েড শ্রেণির একটি প্রধান উদাহরণ। 
- মানুষের প্রতিটি কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল বিদ্যমান থাকে। 
- কোলেস্টেরল যকৃৎ (লিভার) এবং মগজে (মস্তিষ্ক) সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সঙ্গে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলা হয়। 

- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিনকে দুটি প্রধান প্রকারে ভাগ করা হয়। 
ক) উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL - High Density Lipoprotein): 
- HDL শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এটি কোলেস্টেরলকে রক্তনালী থেকে নিয়ে যকৃতে ফিরিয়ে আনে। 

খ) নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL - Low Density Lipoprotein): 
- LDL শরীরের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এটি রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। 

- রক্তে LDL এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কোলেস্টেরলের আধিক্য দেখা যায়, যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। 
- HDL এর পরিমাণ বাড়ালে তা শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এটি রক্তনালী থেকে কোলেস্টেরল সরিয়ে নেয়। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ সাধারণত ১০০-২০০ mg/dl এর মধ্যে থাকে। 
- কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগ এবং স্ট্রোক-এর ঝুঁকি বাড়ায়। 
- করোনারি থ্রম্বোসিস হলো হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে জমাট বাঁধা রক্ত, যা হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জমাট বাঁধা রক্ত, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৫.
মানবদেহে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান কোথায়?
  1. অগ্নাশয়ে
  2. গলার উপরের অংশে উভয় পাশে
  3. গ্রীবা অঞ্চলে
  4. মস্তিষ্কের নিচের অংশে
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্কের নিচের অংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্কের নিচের অংশে
ব্যাখ্যা
পিটুইটারী গ্রন্থি- এটি মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এ গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা প্রভুগ্রন্থি বলে। কারণ এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যা যেমন বেশি তেমন বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোন এর প্রভাবও বেশি। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী ও সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিন, এডরেনোকর্টিকোট্রপিন, থাইরোট্রপিন, প্রোল্যাকটিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থি- গলার উপরের অংশে উভয় পার্শ্বে অবস্থিত। প্রজাপতি আকৃতির চোখ বের হয়ে আসা রোগটি এ গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয়। আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় ও গলগন্ড গঠন করে। বিপাকের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ গ্রন্থি থেকে ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন, থাইরক্সিন, ক্যালসিটোনিন এ তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি- দু’জোড়া প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাইরয়েড গ্রন্থির পেছনে এবং আংশিক থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে অবস্থিত। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম প্যারাথাইরক্সিন হরমোন। মূলতঃ শরীরের ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি- এ গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। শিশুকালে এ গ্রন্থি বিকশিত হতে থাকে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছোট হয়।
এ গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস- এ গ্রন্থির অবস্থান অগ্ন্যাশয়ের মাঝে। এ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গুকাগণ প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি- এ গ্রন্থি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ হতে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণসমূহ বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধি, জননচক্র ও যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জনন অঙ্গ হতে পরিণত বয়সের পুরুষে টেস্টোস্টেরন ও স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
নিম্নের কোনটি 'প্রভুগ্রন্থি' নামে পরিচিত?
  1. ক) থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) এড্রেনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) পিনিয়াল
সঠিক উত্তর:
খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদের দেহে নালিবিহীন কতগুলো গ্রন্থি থাকে ।
- এসব গ্রন্থি থেকে হরমোন নামক জৈব জটিল রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন হয়ে সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল থেকে অতি সূক্ষ্মমাত্রায় হরমোন রক্তের মাধ্যমে অন্যত্র প্রবাহিত হয়ে দেহের স্বাভাবিক ও সুসংহত বৃদ্ধি, জনন ও নানাবিধ শরীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদন করে।
- হরমোন নিঃসরণকারী এই গ্রন্থিগুলোকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। নালি নেই বলে এদেরকে নালিবিহীন গ্রন্থিও বলা হয়ে থাকে।
- পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার ছোট গ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি থেকে সর্বাধিক সংখ্যক হরমোন ক্ষরিত হয়।
- এসব হরমোন অন্যান্য প্রায় সকল গ্রন্থির উপর প্রভাব বিস্তার করে কাজের সমন্বয় ঘটায়, এজন্য এ গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি  বলা হয়।



সূত্র: ২০২ পৃষ্ঠা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
কোন অঙ্গে মূত্র তৈরি হয়?
  1. বৃক্ক
  2. পাকস্থলী
  3. ফুসফুস
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা
• মানুষের  মূত্র তৈরি হয় বৃক্কে।

• মানুষের বৃক্ক:

- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের | ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

উৎস: জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩০৮.
How many pairs of cranial and spinal nerves are present in the human body which constitute the peripheral nervous system?
  1. 24 cranial and 36 spinal
  2. 24 cranial and 64 spinal
  3. 12 cranial and 31 spinal
  4. 24 cranial and 31 spinal
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
12 cranial and 31 spinal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12 cranial and 31 spinal
ব্যাখ্যা
• করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের দেহে করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 

- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 

- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 

- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: 
- অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। 
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
অ্যালভিওলাই মানবদেহের কোন অঙ্গের অংশ?
  1. পেশীতন্ত্র
  2. পরিপাকতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. স্নায়ুতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• অ্যালভিওলাই ফুসফুসের প্রধান কার্যকরী একক যা সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের কাজ সম্পন্ন করে। এটি শ্বসনতন্ত্রের অন্যতম প্রধান অংশ।

• শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system):
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে।
- এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
-  কঙ্কাল পেশী, মসৃণ পেশী এবং হৃদপেশী নিয়ে পেশীতন্ত্র গঠিত।
- মুখগহ্বর, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র নিয়ে পরিপাকতন্ত্র গঠিত।
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১০.
মানুষের রক্তের লোহিত কোষে কয় ধরণের এন্টিজেন পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

- মানুষের রক্তের লোহিত কোষে ২ ধরণের এন্টিজেন পাওয়া যায়।

এন্টিজেন: এন্টিজেন হচ্ছে বহিরাগত কোনো বস্তু বা প্রোটিন, যেটি আমাদের রক্তে প্রবেশ করলে আমাদের শরীরের নিরাপত্তাব্যবস্থা (Immune System) সেটাকে শরীরের জন্য ক্ষতিকর মনে করে তাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।
- ১৯০০ সালে ড. কার্ল ল্যান্টস্টেইনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবিষ্কার করলেন, বিভিন্ন মানুষের রক্তের লোহিত কোষে দুই ধরনের অ্যান্টিজেন পাওয়া যায়।
-  স্বাভাবিকভাবেই এই দুইটি অ্যান্টিজেনকে প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন মানুষের সিরামে (যে তরলে লোহিত কণিকা ভাসমান থাকে) দুটি অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়।
- লোহিত কোষে থাকা এই দুটি অ্যান্টিজেনকে A এবং B নাম দেওয়া হয়েছে।
- একজন মানুষের রক্তের লোহিত কোষে যদি A অ্যান্টিজেন থাকে তাহলে কোনোভাবেই তার রক্তে A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি থাকতে পারবে না; যদি থাকে তাহলে এই অ্যান্টিবডি নিজেই নিজের রক্তের লোহিত কোষকে আক্রমণ করে মৃত্যুর কারণ হয়ে যাবে।
- A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি না থাকলেও, B অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি থাকে। একইভাবে যে রক্তের লোহিত কোষে B অ্যান্টিজেন আছে সেখানে A অ্যান্টিজেনের অ্যান্টিবডি আছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩১১.
The average lifespan of a red blood cell in the human body is approximately:
  1. 90 days
  2. 120 days
  3. 150 days
  4. 180 days
  5. 100 days
সঠিক উত্তর:
120 days
উত্তর
সঠিক উত্তর:
120 days
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১২.
AB গ্রুপের রক্তে কয় ধরণের এন্টিবডি আছে?
  1. এন্টিবডি নেই
সঠিক উত্তর:
এন্টিবডি নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টিবডি নেই
ব্যাখ্যা

- AB গ্রুপের রক্তের সিরামে কোনো ধরণের এন্টিবডি নেই।

- গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে ৮ অ্যান্টিবডি) থাকে।
- গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে।
- গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।
- গ্রুপ ০: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও ৮ অ্যান্টিবডি থাকে।
- দাতার লোহিত রক্তকোষের কোষঝিল্লিতে উপস্থিত অ্যান্টিজেন যদি গ্রহীতার রক্তরসে উপস্থিত এমন অ্যান্টিবডির সংস্পর্শে আসে, যা উক্ত অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সক্ষম, তাহলে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া হয়ে গ্রহীতা বা রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৩১৩.
'ক্যালসিটোনিন' হরমোন নিসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?
  1. থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. যকৃত গ্রন্থি
  3. অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি
  4. পিটুইটারী গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
• থাইরয়েড গ্রন্থি:
- এই গ্রন্থি গলার উপরের অংশে উভয় পার্শ্বে অবস্থিত।
- প্রজাপতি আকৃতির চোখ বের হয়ে আসা রোগটি এ গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় ও গলগন্ড গঠন করে।
- এই গ্রন্থি বিপাকের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ গ্রন্থি থেকে ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন, থাইরক্সিন, ক্যালসিটোনিন এ তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৪.
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) ২০০ গ্রাম
  2. খ) ১৫০ গ্রাম
  3. গ) ৩০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪৫০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। স্ত্রীলোকের ওজন পুরুষের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম হয়।
৩১৫.
কোনটির মাধ্যমে পেশীগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থাকে?
  1. টেনডন
  2. স্নায়ু
  3. লিগামেন্ট
  4. ফিমার
সঠিক উত্তর:
টেনডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেনডন
ব্যাখ্যা

• টেনডন (Tendon) হলো শক্ত আঁশযুক্ত টিস্যু, যা পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে।

টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই, গাজী আজমল স্যার।

৩১৬.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম সংখ্যা কতটি? 
  1. ২২টি
  2. ০২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
০২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০২টি
ব্যাখ্যা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোসোমের ভূমিকা: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
অপর এক জোড়া বা দুইটি ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৭.
মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -
  1. কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট
  2. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
  3. হার্ট এ্যাটাক
  4. স্ট্রোক
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক: 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। 
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ। 

স্ট্রোকের কারণ: 
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে। 
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়। 
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

লক্ষণ: 
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধের উপায়: 
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা। 
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. খনিজ লবণ
  2. প্রোটিন
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ফলের রস
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিডের মতো অম্লীয় উপাদান তৈরি হয়, যা মূত্রের অম্লতা বাড়িয়ে দেয়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

অন্যান্য অপশন:
- খনিজ লবণ দেহের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এটি সরাসরি মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।
- কার্বোহাইড্রেট বিপাকের ফলে মূলত শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর উপজাতগুলো মূত্রের অম্লতায় বিশেষ প্রভাব ফেলে না।
- ফলের রস বিপাকের পর শরীরে ক্ষারীয় অবশিষ্টাংশ তৈরি করে যা মূত্রকে অম্লীয় করার পরিবর্তে ক্ষারীয় করে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৯.
নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?
  1. নেফ্রোন
  2. নিউরন
  3. থাইমাস
  4. মাস্ট সেল
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়। 
- নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- নিউরন হলো ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে।
অর্থাৎ, নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে নিউরন বলে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্রন। 
- নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 
- নিউরন কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়, এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে, সাধারণত এরা অ্যাক্ট্রন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে, একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্রন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্ট্রন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়। 
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়, স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। 
- প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে। 
- স্নায়ু তন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞাব, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২০.
রক্ত কোন ধরণের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. যোজক টিস্যু
  2. পেশি টিস্যু
  3. স্নায়ু টিস্যু
  4. আবরণী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
প্রাণি টিস্যুর প্রকারভেদ:

• প্রাণি টিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার ধরনের হয়। যথা:  
১. আবরণী টিস্যু,
২. যোজক টিস্যু,
৩. পেশি টিস্যু এবং
৪. স্নায়ু টিস্যু।
 
রক্ত:
• রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
• ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
• উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
 
• রক্তরস (Plasma): রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং 8-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 
 
• রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte বা Red blood corpuscles বা RBC), 
- শ্বেত রক্তকণিকা (Leukocyte বা white blood corpuscles বা WBC) এবং 
- অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩২১.
রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল (লোহিত কণিকা) কোথা থেকে আসে?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. তরুণাস্থি
  3. যকৃত
  4. অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

• রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল বা লোহিত কণিকা মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। আমাদের শরীরে অস্থিমজ্জা হাড়ের ভেতরে থাকে এবং এটি রক্তকোষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভিন্ন ধরণের রক্তকোষে পরিণত হয়, যেমন লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট। লোহিত কণিকার প্রধান কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন বহন করা। হৃদপিণ্ড, যকৃত বা তরুণাস্থি রক্তকোষ উৎপাদন করে না; এগুলো বিভিন্ন ভিন্ন ফাংশন সম্পন্ন করে। তাই, রক্তে থাকা লোহিত কণিকা আসে অস্থিমজ্জা থেকে।

- উত্তর: ঘ) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২২.
অগ্ন্যাশয় কোন খাদ্য উপাদানের পরিপাকে সহায়তা করে না? 
  1. স্নেহ
  2. শর্করা
  3. খনিজ
  4. আমিষ
সঠিক উত্তর:
খনিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৩.
কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে কোন অংশে?
  1. যকৃত
  2. মস্তিষ্ক
  3. প্লিহা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ এবং মস্তিষ্কে কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।
- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে মন্দ কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ২০০ mg/dL এরকম। রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালি অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর ছোট হয়ে যায়।
- এ কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা arteriosclerosis বলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণী।

৩২৪.
মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল কতগুলো অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ৮০ টি
  2. ১২৬ টি
  3. ১৮০ টি
  4. ২০৬ টি
সঠিক উত্তর:
১২৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৬ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের উপাঙ্গীয় কঙ্কাল ১২৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 

• কঙ্কালতন্ত্র:

- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।
- মানুষের ৩০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত অস্থির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। 
• মানবশিশু জন্মের সময় দেহে প্রায় ৩০০টি অস্থি থাকে। তবে পরিণত মানব অন্তঃকঙ্কাল মোট ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

• মানুষের অন্তঃকঙ্কালতন্ত্রকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়,
যথা- ১. অক্ষীয় কঙ্কাল এবং ২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।
→ অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো দেহের লম্ব অক্ষ বরাবর অবস্থিত সেগুলোকে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ৮০টি অস্থির সমন্বয়ে অক্ষীয় কঙ্কাল গঠিত।
- করোটির অস্থিসংখ্যা - ২৯ টি। 
- মেরুদণ্ডের অস্থিসংখ্যা - ২৬ টি। 
- বক্ষপিঞ্জর অস্থিসংখ্যা- ২৫ টি । 

→ উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton): কঙ্কালতন্ত্রের যে অংশগুলো অক্ষীয় কঙ্কালের দুপাশে প্রতিসমভাবে অবস্থান করে সেগুলোকে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল বলে।
• মোট ১২৬টি অস্থির সমন্বয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কাল গঠিত।
- বক্ষ অস্থিচক্রের অস্থিসংখ্যা- ৪ টি । 
- বাহুর অস্থিসংখ্যা - ৬০ টি । 
- শ্রোণিচক্রের (pelvic girdle) অস্থিসংখ্যা- ২ টি। 
- পায়ের অস্থিসংখ্যা- ৬০ টি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩২৫.
হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ কী?
  1. হরমোন উৎপাদন
  2. বর্জ্য পদার্থ অপসারণ
  3. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
  4. শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
সঠিক উত্তর:
শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করা
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে তা শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেওয়া।

হিমোগ্লোবিন:
-
হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি জটিল প্রোটিন, যার মধ্যে লৌহ বা আয়রন থাকে। 
- এই আয়রনের কারণেই হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন অণুগুলোকে সহজে ধারণ করতে পারে। 
- এটি ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের টিস্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তা সরবরাহ করে।
- এই প্রক্রিয়ায়, হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে কোষে পৌঁছে দিয়ে কোষের বিপাকক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
- এর ফলে জীবিত কোষগুলো ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
- এছাড়া হিমোগ্লোবিন কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়।
- হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণেই রক্ত লাল দেখায়।
- এছাড়াও, রোগ প্রতিরোধে শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) কাজ করে।
- খাদ্য হজমে এনজাইম ও পাচকরস ভূমিকা রাখে।
- রক্ত জমাট বাঁধায় প্লেটলেট ও ফাইব্রিনোজেন কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩২৬.
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তের কোন উপাদানটি স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

• ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে, যা মূলত রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেট (অনুচক্রিকা) কে প্রভাবিত করে। তবে ডেঙ্গুর সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রায়শই বিপজ্জনক লক্ষণ হলো প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া। অনুচক্রিকা রক্ত জমে যাওয়া এবং রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরের ইমিউন সিস্টেমের মাধ্যমে অনুচক্রিকার উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং তাদের ধ্বংস বৃদ্ধি করে। এর ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে এবং হেমোরেজিক অবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়, যা চিকিৎসার জন্য বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন।

- সঠিক উত্তর: গ) অনুচক্রিকা। 

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২৭.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি  বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩২৮.
স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত থাকে?
  1. ২.৫–৪.০ mmole/L
  2. ৩.৯–৫.৬ mmole/L
  3. ৮.০–১০.০ mmole/L
  4. ৫.৬–৭.৮ mmole/L
সঠিক উত্তর:
৩.৯–৫.৬ mmole/L
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩.৯–৫.৬ mmole/L
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ: 
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে। 
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯-৫.৬ mmole\L কিংবা (৭০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। 
- ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়। 

- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। 
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে। 
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। 
- শর্করার মাত্রার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন ধরনের ডায়াবেটিসও আছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৯.
রেচনতন্ত্রের প্রধান কাজ কী?
  1. পুষ্টি শোষণ 
  2. হরমোন সৃষ্টিকরণ 
  3. শারীরিক তাপ নিয়ন্ত্রণ
  4. অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন
ব্যাখ্যা

রেচনতন্ত্র: 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩০.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন পরিবহন করা
  4. জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
সঠিক উত্তর:
জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করা
ব্যাখ্যা

• রক্ত জারক রস বা এনজাইম বিতরণ করে না কারণ এনজাইমগুলো সাধারণত নালিপথের (duct) মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছায়, রক্তের মাধ্যমে নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩১.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) হেপারিন
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। হেপারিন রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩৩২.
মানুষের করোটিক স্নায়ু-
  1. ১০ জোড়া
  2. ৩১ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 

- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৩.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

• হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৪.
ত্বকের এপিডার্মিস কোষে সৃষ্ট কোন পদার্থ অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. থায়ামিন
  2. মেলালিন
  3. ক্যারোটিন
  4. গোয়ানিন
সঠিক উত্তর:
মেলালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলালিন
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৫.
কোনটি লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয়?
  1. ক) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  2. খ) কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা
  3. গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
  4. ঘ) রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
ব্যাখ্যা

লােহিত কণিকার কাজঃ

১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
৩. হিমােগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩৩৬.
হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপিলারি
  4. নার্ভ
সঠিক উত্তর:
আর্টারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্টারি
ব্যাখ্যা
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে
আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
- ক্যাপিলারি হলো ক্ষুদ্র রক্তনালী যা আর্টারি ও ভেইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- নার্ভ হলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা রক্তনালী নয় এবং রক্ত বহন করে না।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৩৭.
মানবদেহের কোন অঙ্গে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. প্যানক্রিয়াস
  2. যকৃত
  3. প্লীহা
  4. কিডনি
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

• যকৃত:
- যকৃত হলো দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- পেটের উপরিভাগে ডানদিকে যকৃত অবস্থিত।
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি।
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়।
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে।
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে।
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে।
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে।
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে।
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে।

উৎস:গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৮.
অ্যালভিওলাসের প্রতিটি লোবিউলে কত সংখ্যক অ্যালভিওলি থাকে?
  1. ৪০-৫০টি
  2. ৫০-৮০টি
  3. ২০-৩০টি
  4. ৮০-১০০টি
সঠিক উত্তর:
৫০-৮০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০-৮০টি
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৯.
মানুষের অস্থায়ী (দুধ) দাঁতের সংখ্যা কত? 
  1. ১৬ টি
  2. ১৮ টি
  3. ২০ টি
  4. ৩২ টি
সঠিক উত্তর:
২০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ টি
ব্যাখ্যা
দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন: 
(i) কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
(ii) ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
(iii) অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
(iv) পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের 8 টি কর্তন দাঁত, 4 টি ছেদন দাঁত, 8 টি অগ্রপেষণ দাঁত, 8 টি পেষণ দাঁত এবং 0-4 টি আক্কেল দাঁত থাকে। 

দাঁতের গঠন: 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
(i) মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ; 
(ii) মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
(iii) গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪০.
মানবশিশুর দুধদাঁত কয়টি? 
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি 
  4. ২০টি
সঠিক উত্তর:
২০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০টি
ব্যাখ্যা
• দাঁত:
- শিশুর দাঁত, দুধ-দাঁত বা প্রাথমিক দাঁতগুলিকে ক্ষণস্থায়ী দাঁত বলা হয়।
- মানুষের দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি।
- পরিণত মানুষের চোয়ালে মোট দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
- মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত উপস্থিত থাকে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩৪১.
নবজাতকের ত্বকের pH কত?
  1. ক) ৫ এর কাছাকাছি
  2. খ) ৬ এর কাছাকাছি
  3. গ) ৭ এর কাছাকাছি
  4. ঘ) ৮ এর কাছাকাছি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ এর কাছাকাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ এর কাছাকাছি
ব্যাখ্যা
বাজারে মুখ ধােয়ার জন্য যেসব প্রসাধন সামগ্রী পাওয়া যায় তার pH-এর মান থাকে সাধারনত ৫.৫। এর কারণ আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH ৪-৬ এর মধ্যে থাকে।
তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে।
তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযােজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৩৪২.
মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রের অঙ্গাণু কোনটি?
  1. মস্তিষ্ক
  2. যকৃত
  3. ফুসফুস
  4. বৃক্ক
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
অঙ্গ: 
- এক বা একাধিক টিস্যু দিয়ে তৈরি এবং একটা নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ (Organ) বলে। 
অর্থাৎ, কোনো অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে এবং সেই অঙ্গ কোনো না কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে। 
- দেহের অঙ্গসমূহ নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয়, তাকে অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Morphology) বলে। 
- নিচে মানবদেহের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য তন্ত্রের ধারণা দেওয়া হলো- 
১। পরিপাকতন্ত্র (Digestive system): 
- এই তন্ত্র খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যাংশ নিষ্কাশনের সাথে জড়িত। 
- পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ থাকে। যথা: পৌষ্টিক নালি (digestive canal) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)। 
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে পৌষ্টিক নালি গঠিত। 
- মানুষের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। এসব গ্রন্থির নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

২। শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system): 
- নাসারন্ধ্র, গলবিল, ল্যারিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই এবং একজোড়া ফুসফুস নিয়ে মানুষের শ্বসনতন্ত্র গঠিত। 
- এই তন্ত্র পরিবেশ থেকে গৃহীত অক্সিজেনের সাহায্যে মানুষের দেহের সঞ্চিত খাদ্য থেকে জারণ প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে। এ শক্তি দেহের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করে। 

৩। স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system): 
- দেহের বাইরের এবং ভিতরের উদ্দীপনা গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা এই তন্ত্রের কাজ। 
- মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড এবং করোটিক স্নায়ু নিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত। 
- এছাড়া স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র নামে স্নায়ুতন্ত্রের আরও একটি অংশ আছে। 
- স্নায়ুতন্ত্রের এই অংশ দেহের অনৈচ্ছিক পেশির কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। 

৪। রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৩.
নিচের কোনটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে? 
  1. ক) পেরিকার্ডিয়াম
  2. খ) যকৃত    
  3. গ) পলুরা 
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম 
সঠিক উত্তর:
ক) পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
পেরিকার্ডিয়াম নামক পদার্থটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে। 

- দেহের যে প্রকোষ্ঠময় পেশল অঙ্গের নিরবিছিন্ন ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের কারণে সমগ্র দেহে রক্ত সংবাহিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- মানুষের হৃদপিণ্ড বক্ষগহ্বরে মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ-বরাবর বাম দিকে একটু বেশি বাঁকা হয়ে অবস্থিত।
- এটি দেখতে ত্রিকোণাকার; গোঁড়াটি চওড়া ও ঊর্ধ্বমুখী থাকে, কিন্তু সূচালো শীর্ষ দেশ নিচের দিকে পঞ্চম পাঁজরের ফাঁকে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাতলা দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। এর নাম পেরিকার্ডিয়াম।
- পেরিকার্ডিয়াম এর বাইরের দিক তন্তুময় পেরিকার্ডিয়াম এবং এর ভেতরের দিক সেরাস পেরিকার্ডিয়াম নামে পরিচিত।
- সেরাস পেরিকার্ডিয়াম আবার দুই স্তরে বিভক্ত, বাইরের দিকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভেতরের দিকে ভিসেরাল স্তর।
- প্যারাইটাল ও ভিসেরাল স্তর দুটির মাঝখানের পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড নামক তরল পদার্থ থাকে।
- হৃৎপিন্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি ও যোজক টিস্যু নিয়ে গঠিত। এর প্রাচীর গঠনকারী পেশীকে কার্ডিয়াক পেশি বলে।

সূত্র: National Library of Medicine Website [লিঙ্ক]
৩৪৪.
What is the name of the outer layer of the heart?
  1. Endocardium
  2. Myocardium
  3. Mesocardium
  4. Epicardium
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Epicardium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Epicardium
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশীকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
রক্ত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. ফুসফুস
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম।

• রক্ত:

- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।
৩৪৬.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?
  1. লালা
  2. পিত্তরস
  3. পেপসিন
  4. হরমোন
সঠিক উত্তর:
হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন
ব্যাখ্যা
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় হরমোন।

• 'গ্রন্থি':

- যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে।
- মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে-

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়, টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা।
২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি- ঘর্মগ্রন্থি, ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি, মেবোমিয়ান গ্রন্থি, যকৃত এবং মিউকাস।

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি: প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
- এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।

• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:
- কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়।
• ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত।
• এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
দশ বছর বয়সের পর কত বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) ৩-৪ বছর
  2. খ) ১-৫ বছর
  3. গ) ২-৩ বছর
  4. ঘ) ৩-৮ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩-৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩-৪ বছর
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল হল শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করার মধ্যবর্তী সময় ।
এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে ।
আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানসিক আবেগের তীব্রতার উত্থান পতন ঘটে। এর ইংরেজি Adolescence ।
দশ বছর বয়সের পর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে। 

এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা আকস্মিক লম্বা হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। 
বয়ঃসন্ধিকালে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় - 
- শারীরিক পরিবর্তন
- মানসিক পরিবর্তন
- আচরণগত পরিবর্তন 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৩৪৮.
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়? 
  1. রিলাক্সিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যান্ড্রোজেন
  4. টেস্টোস্টেরন
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৯.
ইনসুলিন কোন ধরনের যৌগ?
  1. লিপিড
  2. নিউক্লিক এসিড
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
সঠিক উত্তর:
হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি প্রোটিনজাত হরমোন
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫০.
জরায়ুর সংক্রমণ জনিত গর্ভপাতের জটিলতা-
  1. ক) খিঁচুনি
  2. খ) মাথাব্যাথা
  3. গ) বমি
  4. ঘ) রক্তক্ষরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তক্ষরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা
জরায়ুর গায়ের আবরণী কলাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এর সংক্রমণকে এন্ড্রোমেট্রাইটিস বলে।
জরায়ুর সংক্রামকজনিত গর্ভপাতের প্রথম ও প্রধান জটিলতা রক্তক্ষরণ।
৩৫১.
হার্টের কোন প্রকোষ্ঠ ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে?
  1. বাম নিলয়
  2. বাম অলিন্দ
  3. ডান নিলয়
  4. ডান অলিন্দ
সঠিক উত্তর:
বাম অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাম অলিন্দ
ব্যাখ্যা
মানব হৃদয় মোট ৪টি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত:
• ডান অলিন্দ (Right atrium): দেহ থেকে অশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে।
• ডান নিলয় (Right ventricle): সেই অশুদ্ধ রক্ত ফুসফুসে পাঠায় বিশুদ্ধ করার জন্য।
• বাম অলিন্দ (Left atrium): ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে। এটি পালমোনারি ভেইন (pulmonary vein) এর মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে।
• বাম নিলয় (Left ventricle): বাম অলিন্দ থেকে বিশুদ্ধ রক্ত পায় এবং দেহের অন্যান্য অংশে সরবরাহ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৫২.
অণুচক্রিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. প্লাজমায়
  2. যকৃতে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. হৃদপিণ্ডে
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৩.
ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. স্ট্রাসবুর্গার
  3. ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ক্রেমার
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবুর্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবুর্গার
ব্যাখ্যা
• ক্রোমোজোম (Chromosome):
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত।
- বিজ্ঞানী স্ট্রাসবুর্গার (Strasburger) (1875) প্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে এর ডিপ্লয়েড (দুই সেট ক্রোমোজোম, যার একসেট পিতা থেকে আসে এবং আর একসেট মাতা থেকে আসে) সংখ্যা 2 হতে 1600 পর্যন্ত হতে পারে।
- একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত 3.5 থেকে 30.0 মাইক্রন এবং প্রস্থে 0.2 থেকে 2.0 মাইক্রন হয়ে থাকে। (1 মাইক্রন = 1/1000 মিমি)।
- ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া।
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical basis of heredity) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৪.
যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস কোথায় জমা থাকে?
  1. পাকস্থলীতে
  2. ক্ষুদ্রান্ত্রে
  3. বৃহদান্ত্রে
  4. পিত্তথলিতে
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ বা লিভার থেকে পিত্তরস উৎপন্ন এবং নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত হওয়ার পর এই পিত্তরস পিত্তনালীর মাধ্যমে গিয়ে পিত্তথলিতে (Gallbladder) জমা থাকে এবং সেখানে ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে যখন চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তখন পিত্তথলি থেকে এই রস ক্ষুদ্রান্ত্রে এসে মেশে এবং চর্বি হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্রান্ত্র হলো যেখানে পিত্তরস কাজ করে, কিন্তু এটি এখানে জমা থাকে না। 

যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৫.
রক্তের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন ও চর্বি 
  2. ভিটামিন ও খনিজ 
  3. প্লাজমা ও রক্তকোষ 
  4. লোহা ও গ্লুকোজ 
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- প্রাণীদেহের রক্ত একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যেটি মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তে লাল রঙয়ের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্তের প্রধান উপাদানগুলো হলো রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকোষ। 
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকোষ। 
- রক্তরসকে আলাদা করলে এটি হালকা হলুদ বর্ণের দেখায় এবং রক্তকোষগুলো এই রক্তরসে ভাসমান থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৬.
রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে কী বলা হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. লিউকোসাইট 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. রক্তকোষ 
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৭.
প্রতিটি নিউরনের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ু টিস্যু বা নার্ভ টিস্যু বলে। স্নায়ু টিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন।
মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। প্রতিটি নিউরনে তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা - কোষদেহ, ডেনড্রন এবং এক্সন।

রেফারেন্সঃ
Neurons are made up of three major parts: a cell body, or soma, which contains the nucleus of the cell and keeps the cell alive; a branching treelike fiber known as the dendrite, which collects information from other cells and sends the information to the soma; and a long, segmented fiber known as the axon, which transmits information away from the cell body toward other neurons or to the muscles and glands.
#Source: University of Minnesota, Open Library.

A neuron has three main parts: dendrites, an axon, and a cell body or soma
#Source: Queensland Brain Institute, The University of Queensland.

Some of the sources like Molecular Cell Biology, 4th edition by Harvey Lodish states that there are 4 major parts of a Neuron cell.
"Although the morphology of various types of neurons differs in some respects, they all contain four distinct regions with differing functions: the cell body, the dendrites, the axon, and the axon terminals"

And, a basic source too,
Neurons are composed of three main parts: dendrites, a cell body, and an axon.
#Source: Khan Academy Lecture.
-----------
নবম দশমের অনুসারে দেখলেও প্রশ্নে প্রধান অংশ কয়টি এটা চাওয়া হয়নি। মোট কয়টি অংশ থাকে সেটা চাওয়া হয়েছে।

এটাতে মতভেদ থাকতে পারে। এরকম হাজারটা প্রশ্ন চাকরির পরীক্ষায় এসেছে, হাজারটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং হবে। কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে প্রশ্নকর্তা কোনটাকে ঠিক ধরবেন। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে, এরকম প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তা যেটাকে ঠিক ধরেছেন সেটাই সঠিক হবে।
এতো প্রশ্নের মধ্যে এমন কয়েকটা থাকবেই যেগুলোর উত্তর একেকজন একেভাবে ধরেন। মূল প্রশ্নে যদি এমন বিভ্রান্তি থাকে তাহলে এখানেও থাকতে পারে।

৩৫৮.
লুপ অফ হেনলি শরীরের নিম্নলিখিত কোন অঙ্গের অংশ?
  1. প্লীহা
  2. হৃৎপিন্ড
  3. যকৃৎ
  4. বৃক্ক
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা
• লুপ অফ হেনলি হলো বৃক্কের (Kidney) নেফ্রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের মূল কার্যকরী একক, যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে প্রস্রাব উৎপাদন করে।
- লুপ অফ হেনলি নেফ্রনের একটি লুপের মতো অংশ, যা প্রস্রাব গঠন ও রক্তের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

লুপ অফ হেনলির কার্যক্রম:
- জল পুনরায় শোষণ:
- লুপ অফ হেনলি রক্তের পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এটি শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রস্রাবে পানির ঘনত্ব বাড়ায় বা কমায়।

- ইলেকট্রোলাইট শোষণ:
- সোডিয়াম (Na⁺) এবং ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়নের পুনঃশোষণ ঘটায়।

- প্যাথওয়ে:
- এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ডিসেন্ডিং লিম্ব (Descending limb): যেখানে পানি পুনঃশোষণ হয়।
- অ্যাসেন্ডিং লিম্ব (Ascending limb): যেখানে ইলেকট্রোলাইট শোষণ হয়।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- ক) প্লীহা (Spleen):
- প্লীহা রক্ত সঞ্চালন এবং ইমিউন সিস্টেমের জন্য কাজ করে।

- খ) হৃৎপিন্ড (Heart):
- হৃৎপিন্ড রক্ত পাম্প করার জন্য দায়ী।

- গ) যকৃৎ (Liver):
- যকৃৎ বিপাক প্রক্রিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৩৫৯.
লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. ধমনি
  2. প্লীহা
  3. শিরা
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
প্লীহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬০.
পিত্তরসে কোন উপাদান অনুপস্থিত, যা খাদ্য পরিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 
  1. পানি
  2. এনজাইম
  3. গ্লুকোজ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজাইম
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬১.
পেশিকোষের মায়োফাইব্রিল প্রধানত কোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত? 
  1. কেরাটিন ও এলাস্টিন 
  2. অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
  3. হিমোগ্লোবিন ও মায়োসিন 
  4. কোলাজেন ও এলাস্টিন 
সঠিক উত্তর:
অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
ব্যাখ্যা

পেশি কলা: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত যে কলা অসংখ্য তন্ত্রর মতো কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণী দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায় তাকে পেশি কলা বলে। 
যেমন- মসৃণ পেশি, অমসৃণ পেশি, হৃদপেশি। 
- দেহ ওজনের শতকরা প্রায় ৪০-৫০ ভাগ পেশি কলা। 

বিভিন্ন প্রকার পেশির গঠন: 
- অবস্থান, গঠন ও কাজের তারতম্যের ভিত্তিতে পেশি কলাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- ১। ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি, ২। অনৈচ্ছিক বা অরৈখিক বা মসৃণ পেশি এবং ৩। হৃদপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি। 

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্ত্রর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 

- পেশিকোষগুলো নলাকার, লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 
- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। প্রধানত অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬২.
মায়ের শালদুধ কীভাবে শিশুর জন্য উপকারী?
  1. শিশুকে দ্রুত ঘুম পাড়াতে সহায়তা করে
  2. শিশুর হাড় মজবুত করে
  3. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  4. শিশুর দাঁত গঠনে সহায়তা করে
সঠিক উত্তর:
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জা 
  2. লিভার 
  3. কিডনি 
  4. প্লীহা 
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের (রেড ব্লাড সেল বা রক্তকণিকা) প্রধান উৎপাদন স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের অভ্যন্তরে থাকে এবং এটি বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ উৎপাদনের জন্য একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নবজাতক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড়ের মধ্যে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে, তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবল দীর্ঘহাড়ের মাথা, পেরুন এবং কিছু বড় হাড়ের মধ্যে সীমিত হয়ে আসে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভাজনের মাধ্যমে লোহিত রক্তকোষ, শ্বেতরক্তকোষ এবং রক্তপ্লেট তৈরি করে। অন্যান্য অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনি বা প্লীহা রক্তকোষের উৎপাদন প্রধানত সহায়ক বা সীমিত মাত্রায় কার্যকর।

- উত্তর: ক) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৪.
নিম্নের কোনটি মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ নয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. কর্ণ 
  3. নাসিকা
  4. চক্ষু
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা

- হৃৎপিণ্ড একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যা রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার অংশ এবং এর প্রধান কাজ হল রক্ত পাম্প করা, এটি কোনো সংবেদী অঙ্গ নয়। 

মানব সংবেদী অঙ্গ: 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রকৃতি ও পরিবর্তন অনুধাবনে সক্ষম ইন্দ্রিয় সমূহকে সংবেদী অঙ্গ বা রিসেপ্টর বলা হয়।
- বিশেষ ধরনের সংবেদী কোষের সমন্বয়ে সংবেদী অঙ্গ গঠিত।
- মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ হলো- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
- এরা সাধারণভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত ।
- এদের মধ্যে চক্ষু দর্শন অনুভূতি, কর্ণ শ্রবণ অনুভূতি ও ভারসাম্য অনুভূতি, নাসিকা ঘ্রাণ অনুভূতি, জিহ্বা স্বাদ অনুভূতি এবং ত্বক স্পর্শ অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৬৫.
বৃহদন্ত্রের কোন অংশ অ্যাপেনডিক্সের সাথে সংযুক্ত থাকে? 
  1. সিকাম
  2. ইলিয়াম 
  3. কোলন
  4. মলাশয়
সঠিক উত্তর:
সিকাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকাম
ব্যাখ্যা

অন্ত্র (Intestine): 
- পাকস্থলীর পরের অংশ অন্ত্র, এটি একটি লম্বা প্যাঁচানো নালি। 
- অন্ত্র দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত। 
যেমন- ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র। 
(১) ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine): 
- পাকস্থলী থেকে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা, প্যাঁচানো নলটিকে ক্ষুদ্রান্ত্র বলে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্র আবার তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে পিত্তথলি থেকে পিত্তনালি এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় নালি এসে মিলিত হয়। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে যকৃতের পিত্তরস এবং অগ্ন্যাশয়ের অগ্ন্যাশয় রস ডিওডেনামে এসে পৌঁছে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে আন্দ্রিক গ্রন্থিও থাকে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ থাকে, এদের ভিলাস বলে। ভিলাস পরিপাককৃত খাদ্য উপাদান শোষণ করে। 

(২) বৃহদন্ত্র (Large Intestine): 
- ইলিয়াম থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত মোটা নলাকৃতির অংশ হলো বৃহদন্ত্র। 
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- সিকাম, কোলন ও মলাশয়। 
- সিকামের সাথে অ্যাপেনডিক্স নামক ক্ষুদ্র নলের মতো প্রবৃদ্ধি সংযুক্ত থাকে। 
- বৃহদন্ত্রে মূলত পানি শোষিত হয়, মল তৈরি হয় এবং মল জমা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬, সংস্করণ)।

৩৬৬.
হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য অত্যাবশ্যক খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৭.
মানবদেহে লােহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
মায়ের দুধে কোন ধরনের ইমিউনোগ্লোবিউলিন পাওয়া যায়?
  1. IgG
  2. IgA
  3. IgE
  4. IgM
সঠিক উত্তর:
IgA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgA
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG), 
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA), 
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM), 
৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD) এবং 
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE) । 

ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৩৬৯.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. আমিষ
  2. হরমোন 
  3. এনজাইম
  4. অ্যান্টিবডি 
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE । 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭০.
রক্তে উপস্থিত কোন কণিকা ফুসফুস থেকে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায়?
  1. মনোসাইট
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ইওসিনোফিল
  4. এরিথ্রোসাইট
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
ব্যাখ্যা

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্তকণিকা) এর প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করা।

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্ত কণিকা):
- এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্তকণিকা হলো মানবদেহের অন্যতম প্রধান রক্তকণিকা, যা রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৪৫% দখল করে।
- এর প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিন নামক লৌহযুক্ত প্রোটিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া।
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উল্লেখ্য:
- মনোসাইট, লিম্ফোসাইট, ইওসিনোফিল:
- এই তিনটিই হলো শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell/Leucocyte) এর প্রকারভেদ। এদের প্রধান কাজ হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া (যেমন: জীবাণু ভক্ষণ বা অ্যান্টিবডি তৈরি করা)।
- এরা অক্সিজেন পরিবহনে সরাসরি যুক্ত নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৭১.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন কী কাজ করে?
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
  3. জিহ্বার সংবেদনশীলতা বাড়ায় 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখবিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত 'মিউসিন' খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর 'টায়ালিন ও মল্টেজ' এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭২.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি?
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ
  3. পিউপিল
  4. অন্ধবিন্দু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩৭৩.
অমরা নিষেকের কত সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হয়? 
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৪ সপ্তাহ
  3. ৮ সপ্তাহ
  4. ১২ সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
১২ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta): 
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৪.
মানবদেহে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় বের হয়? 
  1. শ্বাসনালির মাধ্যমে
  2. রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
  3. পরিপাকনালির মাধ্যমে
  4. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৫.
যকৃত মানবদেহের কোন অংশে অবস্থান করে?
  1. বাম পাশ, ফুসফুসের নিচে 
  2. মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
  3. পেটে, বৃহদান্ত্রের উপরে
  4. নাভির পাশে, পেরিকর্ডিয়ামের নিচে
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ মানবদেহের মধ্যচ্ছদার নিচে, উদরগহ্বরের উপরের ডান পাশে, পাকস্থলীর ডান দিকে এবং ডায়াফ্রামের (মধ্যচ্ছদা) ঠিক নিচে অবস্থিত। এটি শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ এবং এর রং গাঢ় লালচে বাদামী, যা বিপাক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। 

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৬.
থ্যালাসেমিয়া রোগ কোন রক্ত উপাদানের পরিমাণ কমে গেলে হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. শ্বেত রক্তকোষ 
  4. অণুচক্রিকা 
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৭.
হৃদপিণ্ডের সংকীর্ণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালীতে বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. বাইপাস সার্জারি
  2. এনজিওপ্লাস্টি
  3. হার্ট ভালভ রিপ্লেসমেন্ট
  4. পেসমেকার স্থাপন
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা

• এনজিওপ্লাস্টি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনিতে সরু নালীর মাধ্যমে বেলুন ফুলিয়ে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ধাতব রিং বা স্টেন্ট বসিয়ে ব্লক দূর করা হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি: 

- এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। 
- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া। 
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যকার চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়। 
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। 
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়, এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। 
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৩৭৮.
এন্টিবডি তৈরি করে নিচের কোনটি?
  1. Red blood corpuscle
  2. Thrombocyte
  3. B Lymphocyte
  4. Monocyte
সঠিক উত্তর:
B Lymphocyte
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B Lymphocyte
ব্যাখ্যা
◉ B Lymphocyte এন্টিবডি তৈরি করে।

শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে।
- শ্বেত রক্ত কণিকায় DNA থাকে।

গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের।
যথা-লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফলোড, টনসিল, প্লীহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা।
- মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় কণিকা।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে, B-লিম্ফোসাইট (B-Lymphocyte) কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবন-দশম শ্রেণি।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৯.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. স্ট্রোক 
  2. অস্টিওপোরোসিস 
  3. ডায়াবেটিস
  4. অস্টিওআর্থ্রাইটিস
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক 
ব্যাখ্যা

• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাকে স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহ ঠিকমত হয় না। রক্ত চলাচল বন্ধ হলে সেই অংশের মস্তিষ্ক কোষগুলি অক্সিজেন ও পুষ্টি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্ট্রোকের প্রধান কারণ হতে পারে মস্তিষ্কের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধা বা কোনো ধমনীর ফেটে যাওয়া। এর ফলে হঠাৎ মাথা ব্যথা, পায়ে বা হাতে দুর্বলতা, কথা বলতে বা বোঝাতে সমস্যা, দৃষ্টি ঝাপসা বা মুখের অঙ্গচলনে অসাম্য দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই স্ট্রোককে দ্রুত সনাক্ত এবং চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ট্রোক।

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮০.
রক্তে শ্বেতকণিকার কাজ কী? 
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা 
  2. জীবাণু ধ্বংস করা 
  3. রক্ত জমাট বাঁধা 
  4. খাদ্য সরবরাহ করা 
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়, রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় আর এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হয় আর এতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে যে রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮১.
কোন্‌ টিস্যু পেশীকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে? 
  1. তরুণাস্থি 
  2. লিগামেন্ট 
  3. টেন্ডন
  4. অ্যারিওলার টিস্যু
সঠিক উত্তর:
টেন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেন্ডন
ব্যাখ্যা

- টেন্ডন হলো এক ধরনের শক্ত, তন্তুময় ও শ্বেত বর্ণের যোজক কলা, যা কঙ্কাল পেশীকে হাড়ের (অস্থি) সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত রাখে। এটি পেশীর সংকোচনজনিত শক্তি হাড়ে সঞ্চারিত করে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে 

টেন্ডন (Tendon): 

- মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে, এ শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। 
- ঘন শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেন্ডন গঠিত। এসব টিস্যু শাখা-প্রশাখাবিহীন, তরঙ্গিত এবং উজ্জ্বল শ্বেততন্তু দ্বারা গঠিত। 
- এরা গুচ্ছাকারে পরস্পর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই। 
- আঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁটিগুচ্ছ তৈরি করে। আঁটিগুচ্ছগুলো তন্তুময় টিস্যুগুচ্ছ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আঁটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে। 
- টেন্ডন বেশ শক্ত। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেন্ডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। 
- টেন্ডন দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তাদানে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী (Ligament): 
- পাতলা কাপড়ের ন্যায় কোমল অথচ দৃঢ়, স্থিতিস্থাপক বন্ধনী দ্বারা অস্থিসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, একে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।
- লিগামেন্ট শ্বেততন্তু ও পীততন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।
- লিগামেন্ট অস্থিকে আটকে রাখে। এতে অঙ্গটি সবদিকে সোজা বা বাঁকা হয়ে নড়াচড়া করতে পারে এবং হাড়গুলো স্থানচ্যুত ও বিচ্যুত হয় না। 

তরুণাস্থি: 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে। ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 

অ্যারিওলার টিস্যু: 
- অ্যারিওলার টিস্যু একটি শিথিল যোজক কলা যা প্রধানত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখতে এবং ত্বকের নিচে কুশনিং হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮২.
ত্বকের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে দেহকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে?
  1. মেলানিন
  2. লাইসোজাইম
  3. কেরাটিন
  4. হিস্টিওসাইট
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৩.
মানব দেহের কোন অংশে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. হার্টে
  2. গলায়
  3. ফুসফুসে
  4. নাকে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসে
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া একটি মানবদেহের ফুসফুসের রোগ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

ফুসফুস রোগের কারণ: 
- নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

ফুসফুস রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তার্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয় ও মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

ফুসফুস রোগের প্রতিকার: 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। 
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। 
- বেশি করে পানি পান করা। 

ফুসফুস রোগের প্রতিরোধ: 
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। 
- ধূমপান পরিহার করা। 
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা। 
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৪.
রাফেজ প্রধানত কী জাতীয় খাদ্য? 
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. চর্বি
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 

• শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তন্তুময় অংশ অর্থাৎ সেলুলোজই হচ্ছে রাফেজ। 
• এগুলো জটিল শর্করা।
• গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে। কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না।
• মানুষ রাফেজ হজম করতে পারে না বলে পরিপাকতন্ত্রে এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়।
• সব ধরনের সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল, ফলের খোসা, শস্যদানার বহিরাবরণ হচ্ছে রাফেজের ভালো উৎস।
• রাফেজ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের হয়।

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব: 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮৫.
নিচের কোনটি জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয়?
  1. ভ্যাসেকটমি
  2. IVF
  3. Tubectomy
  4. লাইগেশন
সঠিক উত্তর:
IVF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IVF
ব্যাখ্যা
• IVF জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয় বরং এটি কৃত্তিম গর্ভধারণের পদ্ধতি। 

• Birth control:
- জন্মনিরোধক (Birth control) হলো এমন পদ্ধতি যা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করে। 

• জন্মনিরোধের জন্য দুইটি পদ্ধতি রয়েছে।
যথা-
- অস্থায়ী পদ্ধতি।
- স্থায়ী পদ্ধতি। 

• অস্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের অস্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- কনডম, বড়ি, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি।

• স্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- ভ্যাসেকটমি , লাইগেশন, টিউবেকটমি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• IVF বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন হলো কৃত্তিম গর্ভধারণ পদ্ধতি।
- এটি একটি প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে দেহের বাইরে পরীক্ষাগারে (in vitro) নিষিক্ত করা হয় এবং এরপর নিষিক্ত ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩৮৬.
রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে যাওয়াকে কী বলে? 
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. পলিসাইথিমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. লিউকেমিয়া
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
• রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা:
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন-
• পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
• অ্যানিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের বংশগত রক্তের রোগ।
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৭.
গর্ভাবস্থায় কোনটির ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন D
  3. ভিটামিন B9
  4. ভিটামিন B1
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B9
ব্যাখ্যা
• গর্ভাবস্থায় ভিটামিন B9 বা ফলিক এসিডের ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়। 

• অ্যানিমিয়া:
- গর্ভাবস্থায় যখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয় না তখন সাধারণত অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়ে থাকে।
- RBC তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 ।

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ:
- ক্লান্তি, দুর্বলতা, 
- ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখ, 
- শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথা। 

• গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব:
→ ভ্রূণের নিউরাল টিউব গঠনে সহায়তা:
- ফলিক অ্যাসিড গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুরজ্জু (neural tube) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  
→ জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ:
- পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করলে নিউরাল টিউব ত্রুটি যেমন স্পাইনাল বিফিডা এবং অ্যানেনসেফালি (Anencephaly) হওয়ার ঝুঁকি কমে।  
→ কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধি:
- ফলিক অ্যাসিড কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায়, এটি ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে।  
→ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি:
- ফলিক অ্যাসিড লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।  
→ প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য:
- ফলিক অ্যাসিড প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র:
- Unicef.
- World Health Organization (WHO): Anaemia in pregnancy.
৩৮৮.
প্যানক্রিয়াস থেকে কোন হরমোন রক্তে গ্লুকোজ কমায়?
  1. গ্লুকাগন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৯.
উচ্চ রক্তচাপের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) ঘর্ম গ্রন্থি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

- অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরি হওয়া বেড়ে গেলে হাইপার টেনশন বা উচ্চ-রক্তচাপ হয়।
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা অ্যাড্রেনালিন, অ্যালডোস্টেরন ও কর্টিসলসহ নানাবিধ হরমোন তৈরি করে থাকে। এটি সুপ্রারিনাল গ্রন্থি (suprarenal gland) নামেও পরিচিত। এরা বৃক্কের উপরিভাগে অবস্থিত।

- পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, TSH ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয় । এই গ্রন্থি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে ।
- ঘাম গ্রন্থিগুলিকে সাধারণত তথাকথিত একক্রাইন ঘাম গ্রন্থি বলা হয়। তাদের কাজটি ঘাম নিঃসরণ করা, যা তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ভারসাম্য আমাদের শরীরের।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান

৩৯০.
নিচের কোনটি মানবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা 
ব্যাখ্যা

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। - মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লিহা-তে সঞ্চিত থাকে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় আবার সমপরিমাণ তৈরি হয়।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।

• অণুচক্রিকা:
- এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন। এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে। যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯১.
নেফ্রন কী? 
  1. বৃক্কের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ
  2. অন্ত্রের পুষ্টি শোষণ একক
  3. লিভারের প্রধান কার্যকারী একক
  4. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
ব্যাখ্যা

নেফ্রনের গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়, এদেরকে নেফ্রন (nephron) বলে। 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক। 
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.। 
- প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. রেনাল করপাসল (Renal corpuscle), 
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Proxinal convoluted tubule), 
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু (Descending limb of Henle's loop), 
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু (Ascending limb of Henle's loop), 
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule) ও 
৬. সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯২.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১৫ ইঞ্চি
  2. ১৮ ইঞ্চি
  3. ২০ ইঞ্চি
  4. ২৪ ইঞ্চি
সঠিক উত্তর:
১৮ ইঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা
• সুষুম্না কান্ড:
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৩.
সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে -
  1. ক) ৬০ - ১০০ বার
  2. খ) ৫০ - ১১০ বার
  3. গ) ৮০ - ১২০ বার
  4. ঘ) ৬০ - ১২০ বার
সঠিক উত্তর:
ক) ৬০ - ১০০ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬০ - ১০০ বার
ব্যাখ্যা
- সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে ৬০ - ১০০ বার হয়। এটাকে হার্টবিট বলে। 
- আমাদের হাতের কব্জির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন পরিমাপ করা যায়। 
- হাতের কব্জির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৩৯৪.
রক্তে উচ্চ কোলেস্টরেলের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. ক) বাতজ্বর
  2. খ) এনজিনা
  3. গ) কোলেস্টেরোল্ফোবিয়া
  4. ঘ) রিউম্যাটিক ফিভার
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩৯৫.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. প্লাজমা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. অনুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত ও রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৪। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং 
- মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৬.
পিত্তথলির পাথর মূলত-
  1. খাদ্যকণা
  2. অপাচ্য খাদ্য
  3. খাদ্যের অজৈব অংশ
  4. কোলেস্টেরল
সঠিক উত্তর:
কোলেস্টেরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলেস্টেরল
ব্যাখ্যা
• পিত্তথলির পাথর:
- কোলেস্টেরল পিত্তরসের অন্যতম উপাদান হলেও এটি একটি বর্জ্য পদার্থ এবং যকৃতের মাধ্যমে দেহ থেকে অপসারিত হয়।
- পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা তলানির মতো পিত্তথলিতে জমা হয়।
- কোলেস্টেরলের এ তলানিই শক্ত হয়ে পিত্তথলির পাথর (Gallbladder stone) নামে পরিচিত হয়
- উল্লেখ্য, কোলেস্টেরল ছাড়াও পিত্ত, ফসফেট, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি জমেও পিত্তথলির পাথর হতে পারে।

পিত্তরস:
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড যকৃতে আসার পর বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অ্যামোনিয়ারূপে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়।
- এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩৯৭.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর কপাটিকা সৃষ্টি করে?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
এন্ডোকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৮.
In human blood plasma, water makes up about what percentage of its volume?
  1. 82%
  2. 65%
  3. 70%
  4. 78%
  5. 92%
সঠিক উত্তর:
92%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
92%
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

• রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৯.
মানবদেহে আকারে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম হাড়ের নাম কী?
  1. Humerus
  2. Femur
  3. Tibia
  4. Radius
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা
◉ ফিমার বা উরুর হাড় মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ হাড়।

ফিমার (Femur):
- এটি মানবদেহের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম হাড়।
- পায়ের গঠন ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ফিমার শরীরের ওজনকে সমর্থন করার জন্য এবং হাঁটা, দৌড়ানো এবং লাফানো সহ বিভিন্ন পায়ের নড়াচড়ার সুবিধার জন্য দায়ী। 
- এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল মস্তক, গ্রীবা ও ছোট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইল বিশিষ্ট।
- ফিমারের মস্তক শ্রোণিচক্রে অ্যাসিটাবুলামের সাথে যুক্ত থাকে।
- এর প্রান্তে প্যাটেল (Patella) নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড অস্থি থাকে।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
ডিপথেরিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) চোখ
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) গলা
  4. ঘ) কিডনি
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়া রোগে  মানবদেহের গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ব্যাধি।
- করিনিব্যাকটিরিয়াম ডিপথেরি নামে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়।
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এই মারাত্মক রোগ গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- গলার পিছন দিকটা পুরু আস্তরণ দ্বারা ঢেকে যায়, ফলে খাবার খেতে ও গিলতে সমস্যা হয়।
- মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
-  এই রোগে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণ- 
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- তবে ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া।
- এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]