- স্নায়ুযুদ্ধকে কেন্দ্র করে NATO সামরিক জোট গঠিত হয়েছিল।
• স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War):
- স্নায়ুযুদ্ধ বলতে সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে অবতীর্ণ না হয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কিংবা ভিন্ন আঙ্গিকে পরাজিত করার কৌশলকে ইঙ্গিত করা হয়।
- ১৯৪৭ - ১৯৯১ অব্দি চলমান এই যুদ্ধ ইতিহাসে স্নায়ু যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ওয়াল্টার লিপম্যান সংবাদপত্রে প্রথম cold war শব্দটি ব্যবহার করেন।
- স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান দুই শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধ অবসান হয়েছিলো ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে।
⇒ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অপ্রতিরোধ্য পরাশক্তিতে পরিণত হয়। এ সময়ে মার্শাল প্ল্যানের (১৯৪৭) মাধ্যমে ইউরোপ পুনর্গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাধ্যমে দুটো বিপরীত বৈশ্বিক শক্তি ও আদর্শের বিকাশ ঘটে। পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিম ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- এই দুই শিবিরেই গঠিত হয়েছিল দুটি সামরিক জোট। একটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো), অন্যটি ওয়ারশ জোট।
• NATO:
- উত্তর আটলান্টিক চুক্তি বা ওয়াশিংটন চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
অন্যদিকে,
• সিটো (SEATO):
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থা (১৯৫৪) এশিয়ায় কমিউনিজমের বিস্তার রোধের জন্য গঠিত, কিন্তু এটি ন্যাটো বা ওয়ারশ প্যাক্টের মতো প্রভাবশালী ছিল না।
- সেন্টো (CENTO): কেন্দ্রীয় চুক্তি সংস্থা (১৯৫৫) মধ্যপ্রাচ্যে গঠিত, কিন্তু এটিও সীমিত প্রভাব ফেলে।
- আনজুস (ANZUS): যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে ১৯৫১ সালে গঠিত একটি সীমিত জোট।
তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) NATO ওয়েবসাইট।