বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৭০১৮০০ / ১,৬০৩

৭০১.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪০
  3. ১৯৪১
  4. ১৯৪৩
সঠিক উত্তর:
১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০
ব্যাখ্যা
ক্রান্তি পত্রিকা:
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক্তা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০২.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. দিগদর্শন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৩.
'বীরবল' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. সমরেশ বসু
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে লিখতেন। 

প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৪.
‘সাহিত্যিকী’ পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বাংলা একাডেমি
  2. খ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সােসাইটি
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত ‘সাহিত্যকী’ পত্রিকা।

[উৎস: সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী ]
৭০৫.
'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ে
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) বাংলা সাহিত্যের একজন প্রভাবশালী ও বহুমুখী লেখক, যাঁকে "সব্যসাচী" লেখক বলে অভিহিত করা হয়।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - সুবচনী।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৬.
'প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৭.
সাহিত্যের রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী আখ্যা লাভ করেন?
  1. ঋষি
  2. সাহিত্যসম্রাট
  3. বাঙালির নবজাগরেণর অগ্রদূত
  4. ঔপন্যাসিক
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসম্রাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসম্রাট
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যের রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যসম্রাট আখ্যা লাভ করেন। 

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
• তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন। 

---------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৮.
সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হতো কোন পত্রিকায়?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) ব্রাহ্মণসেবধি
  3. গ) সুধাকর
  4. ঘ) পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রাহ্মণসেবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রাহ্মণসেবধি
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণসেবধি ও সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা দুটির সম্পাদক রাজা রামমোহন রায়। সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হতো পত্রিকাগুলোতে। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৯.
'হায়াৎ মামুদ' কার ছদ্মনাম?
  1. অহিদুর রেজা
  2. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শেখ আজিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মােহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম- হায়াৎ মামুদ।
------------------ 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা ।
- শেখ আজিজুর রহমান এর ছদ্মনাম - শওকত ওসমান।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী, সত্যপীর।
- এস ওবায়দুল্লাহর ছদ্মনাম- আসকার ইবনে শাইখ।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম -'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন - 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৭১০.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক 'কাব্যভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
  3. আবদুল হক
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ এর সাহিত্যিক জীবনী:
জন্ম: ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে। প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
ছদ্মনাম: কায়কোবাদ।

কর্মজীবন ও কাব্য:
সাহিত্যিক অবদান: বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা। প্রথম কাব্য: তেরো বছর বয়সে ‘বিরহবিলাপ' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

বিশিষ্ট উপাধি লাভ:
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধি প্রদান।

অন্যদিকে,
• শেখ ফজলুল করিম এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
• আবদুল হকের উপাধি- 'কলমসৈনিক'।  
• গোলাম মোস্তফা'র উপাধি - কাব্য সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭১১.
আবদুল করিমের উপাধি ছিল-
  1. সাহিত্যসম্রাট
  2. সাহিত্যগুরু
  3. সাহিত্যসাগর
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসাগর
ব্যাখ্যা
• আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি।
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১২.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে:
- বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিগদর্শন এর সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র -  বঙ্গদর্শন।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা - সাধনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭১৩.
'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আসকার ইবনে শাইখ
  3. শাহেদ আলী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিস তথা ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক সৈনিক' ও 'মাসিক দ্যুতি'।
- সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী।
- 'মাসিক দ্যুতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আসকার ইবনে শাইখ।
- হাসান হাফিজুর রহমান ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলনের সম্পাদক ছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্ণিমা
  2. ভারতী
  3. অমৃতবাজার
  4. থিয়েটার
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হিন্দুমেলার উপহার’ কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।
-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
----------------------
উল্লেখ্য,
• পূর্ণিমা- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা।
• ভারতী- দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা।
• থিয়েটার- রামেন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭১৫.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়াম কেরি​
  4. জন আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭১৬.
রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. সওগাত
  3. পূর্বমেঘ
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
পূর্বমেঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বমেঘ
ব্যাখ্যা
• "পূর্বমেঘ" পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।

- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।

- ঢাকা থেকে যেকালে 'সমকাল' (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' পত্রিকাটি সঞ্জয় ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'সওগাত' একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'শনিবারের চিঠি' স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র-
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. দিগ্দর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. ক্যালকাটা জার্নাল
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, দিগদর্শন সংবাদপত্র ছিল না। নীতিতত্বমূলক মাসিক সাময়িকপত্র ছিল।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ। জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।

বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)। বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)। 

• উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে 'দিগ্দর্শন' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়। এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।

অন্যদিকে, 
• জেমস অগাস্টাস হিকি কর্তৃক প্রকাশিত দুই পাতার এই ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম ছিল 'বেঙ্গল গেজেট' বা ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভার্টাইজার। হিকি ছিলেন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে দুই হাজার রুপি খরচ করে তিনি কলকাতায় যে ছাপাখানা বসান সেখান থেকেই 'বেঙ্গল গেজেট' মুদ্রিত হয়।

• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে। এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ। এটি প্রায় ২০ বছর চালু ছিল।

• ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ মে জেমস সিল্ক বাকিংহাম সম্পাদিত 'ক্যালকাটা জার্নাল' অর্ধ-সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক-এ রূপান্তরিত হয়। ক্যালকাটা জার্নালই ছিল উপমহাদেশের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।

উল্লেখ্য, 
• ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র 'বাঙ্গাল গেজেটি' প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য। মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা। হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১৮.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙ্গল
  2. নবযুগ
  3. ধূমকেতু
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবযুগ
ব্যাখ্যা
• নবযুগ:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে।
- পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।
- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা  এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক  কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ।
- পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না।
- স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

অন্যদিকে, 
- ’ধূমকেতু’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ’লাঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
-  ’কল্লোল’ একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৭১৯.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' কার উপাধি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২০.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭২১.
সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) সাপ্তাহিক
  3. গ) মাসিক
  4. ঘ) ষান্মাসিক
সঠিক উত্তর:
গ) মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাসিক
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।

• তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২২.
গোলাম মোস্তফাকে ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধি দেন -
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. যশোর সংঘ
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
যশোর সংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর সংঘ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৩.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিল কোন পত্রিকা?
  1. ক) মোসলেম ভারত
  2. খ) সওগাত
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
ক) মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিলো 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা। 

- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২০) বৈশাখ মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 
- প্রথম বছর নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। 
- সর্বমোট ১৭ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতিটি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো। 
- মোসলেম ভারত নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। 
- প্রতিটি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়। 
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, শাত-ইল-আরব, বিদ্রোহী, বাঁধন হারা ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৪.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লেখরাজ সামন্ত'?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালিকানন্দ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. শম্ভু মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমেন্দ্র মিত্র' এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত

অন্যদিকে,
- 'প্যারীচাঁদ মিত্র' এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- 'শম্ভু মিত্র' এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- 'কালিকানন্দ' এর ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৫.
সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. রবিবারের ডাক
  3. বিজলি
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা- 'শনিবারের চিঠি'।

----------------------------
• শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন- যোগানন্দ দাস।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
কোন পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে অনস্বীকার্য অবদান রাখেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পরিচয়
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৭.
'সবুজপত্র' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪৩ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭২৮.
কোন নারী সাহিত্যিকের ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭২৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্ণিমা
  2. সাহিত্য-সংক্রান্তি
  3. অবোধবন্ধু
  4. সবকয়টি 
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তিনি পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭৩০.
'সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়। 
- তিনি ছিলেন মূলত শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ’ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. কিশোর মেলা
  2. কচি কাঁচার মেলা
  3. আঙুর
  4. রাঙা প্রভাত
সঠিক উত্তর:
আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙুর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকাটির নাম - "আঙুর"। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা -
- প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' (১৯২০);
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস' (১৯২৩);
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক 'তকবীর' (১৯৪৭)।

----------------- 
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
তিনি ছিলেন:
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১)।
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩২.
'ছান্দসিক কবি' কোন লেখকের উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. আবদুল কাদির
  3. নজিবর রহমান
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি। 

অন্যদিকে,
• আবদুল হকের উপাধি- কলমসৈনিক। 
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. চিত্রকর
  2. সাধনা
  3. চিত্রদর্শন
  4. পূর্ণিমা
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো- পূর্ণিমা, সাহিত্য সংক্রান্তি, অবোধ বন্ধু।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
-নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

অন্যদিকে,
• 'চিত্রকর' প্রতাপচন্দ্র রায়চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা। 
• 'সাধনা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• 'চিত্রদর্শন' বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৪.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম কী?
  1. ক) দৈনিক ঢাকা
  2. খ) দৈনিক সমকাল
  3. গ) ঢাকা প্রকাশ
  4. ঘ) আমাদের ঢাকা
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা প্রকাশ
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
• ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩৫.
জীবননান্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ধূসরতার কবি বলেছেন। 
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৬.
মুকুন্দদাসকে চারণকবির মর্যাদা দেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন চারণকবি। ১৮৭৮সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৭.
কার পূর্বপুরুষদের উপাধি ছিল "মল্লিক"?
  1. পঞ্চানন কর্মকার
  2. হাবিবুর রহমান
  3. অমৃতলাল বসু
  4. অমৃতলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
পঞ্চানন কর্মকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চানন কর্মকার
ব্যাখ্যা

পঞ্চানন কর্মকার:
- তিনি মুদ্রণ শিল্প-এ বাংলা হরফের জনক ও মুদ্রণ প্রযুক্তিবিদ। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ত্রিবেণী গ্রামে।
- পূর্বপুরুষদের উপাধি ছিল মল্লিক; তাঁরা লিপিকরের কাজ করতেন।
- তাম্রপট, অস্ত্রশস্ত্র, ধাতুপাত্র ইত্যাদিতে নামাঙ্কন ও অলঙ্করণ করাই ছিল তাঁদের পেশা।
- পঞ্চানন যখন ত্রিবেণীতে কর্মকারের কাজ করতেন তখন হুগলিতে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খ্রিস্টান মিশনারির ফাদার এন্ড্রুজ।
- ১৭৭৮ সালে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড লিখিত এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ পুস্তকটি এন্ড্রুজের প্রেসে ছাপানোর সময় বাংলা টাইপের আবশ্যক হয়।
- স্যার চার্লস উইলকিন্সের তত্ত্বাবধানে পঞ্চানন তাঁর ব্যবহারিক প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়ে ধাতব হরফ তৈরি করেন। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রথম বাংলা মুদ্রণাক্ষরের প্রচলন হয়। পরে তিনি প্রেসে হরফ তৈরি ও মুদ্রণকাজে জড়িত থেকে জীবন অতিবাহিত করেন।
- ১৭৭৯ সালে তদানীন্তন গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস-এর উৎসাহ এবং উইলকিন্সের পরিচালনায় কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হলে উইলকিন্স পঞ্চাননকে কলকাতায় নিয়ে যান এবং সেই ছাপাখানায় কাজ করার সুযোগ করে দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৩৮.
কোনটি এস ওয়াজেদ আলি সম্পাদিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা?
  1. আঙ্গুর
  2. ঢাকা প্রকাশ
  3. গুলিস্তাঁ
  4. মুকুল
সঠিক উত্তর:
গুলিস্তাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুলিস্তাঁ
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি: 
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে ‘গুলিস্তাঁ’ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
• প্রবন্ধ: 
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনি: 
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
- 'আঙ্গুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। 
- ঢাকা প্রকাশ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- 'মুকুল'(১৮৯৫) পত্রিকার সম্পাদক শিবনাথ শাস্ত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৯.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি কত সালে প্রাকশিত?
  1. ১৮৭৪ সালে
  2. ১৮৭২ সালে
  3. ১৮৬২ সালে
  4. ১৮৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৭২ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  3. অনুপমা দেবী
  4. নীহারিকা দেবী
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
• অনুরূপা দেবী এর ছদ্মনাম- অনুপমা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪১.
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন 
  3. ভারতী
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

• 'ভারতী' পত্রিকা:
- 'ভারতী' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।

- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)। তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- প্রথম প্রকাশিত সংখ্যার ভূমিকায় দ্বিজেন্দ্রনাথ জ্ঞান আহরণ ও শিক্ষার উন্নতি বিধানের প্রতি আলোকপাত করে এদুটি বিষয়কে পত্রিকার অভীষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন। 

- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন। পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। স্বর্ণকুমারী দেবী তাঁর এগারো বছরের দীর্ঘ সম্পাদনাকালীন সময়ে এই চমৎকার ও উন্নতমানের পত্রিকাটির অনন্য বৈশিষ্ট্য রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেন।

- ১৩০২-১৩০৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়ে হিরণ্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী যৌথভাবে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। সরলাদেবীর সম্পাদনাধীনকালে পত্রিকাটি জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পক্ষে অবিচল সমর্থন বজায় রাখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এক বছর (১৩০৫ বঙ্গাব্দ) ভারতী-র সম্পাদক ছিলেন। 

অন্যদিকে, 
------------------
• 'সাধনা' পত্রিকা:
সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১) এবং পরবর্তী চার বছর পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল। প্রথম তিন বছরের সংখ্যাগুলিতে সম্পাদক হিসেবে  দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরএর তৃতীয় পুত্র সুধীন্দ্রনাথের (১৮৬৯-১৯২৯) নাম ছাপা হলেও প্রকৃতপক্ষে পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। প্রকাশের চতুর্থ বছরে রবীন্দ্রনাথ এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। একবছর পর (কার্তিক, ১৩০২ বঙ্গাব্দ) পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়। পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
 
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৭৪২.
‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  5. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'কস্যচিৎ’ ছদ্মনাম ব্যবহারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।


অন্যদিকে,
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ব্যবহৃত ছদ্মনাম ছিল- ভ্রমণকারী বন্ধু।
- বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।   
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো: Timothy Penpoem, দত্তকুলোদ্ভব কবি, এ নেটিভ।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৩.
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত ঘটনার পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক 'সৈনিক' এর বিশেষ সংখ্যা। 
- এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ। 
- সকালে পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় এক হাজার কপি।
- পরে পূণর্মুদ্রন করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৪.
‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ
  2. সিরাজউদ্দিন হোসেন
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. আনোয়ার হোসেন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৪৫.
কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
  1. মীর আবদুল মোমেন
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. মীর আল মাহমুদ
  4. মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৬.
‘আঙুর' কী?
  1. ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
  2. খ) একটি শিশু সংগঠন।
  3. গ) একটি দৈনিক শিশু পত্রিকা।
  4. ঘ) একটি সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকা।
সঠিক উত্তর:
ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
ব্যাখ্যা
‘আঙুর' একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৭.
কে ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না?
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) সরলা দেবী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকা প্রকাশিত হিয় ১৮৭৭ সালে, রবীন্দ্র-ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়৷ পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মণিলাল গোঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৮.
'বঙ্গদূত' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নীলমণি হালদার
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
'পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন-  
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. আবুল হোসেন 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

‘পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
---------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। -
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন
- সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৭৫০.
'রামচন্দ্র' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - রামচন্দ্র। 

অন্যদিকে, 
• রাজা রামমোহন রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - শিবপ্রসাদ দাস। 
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়। 
• বুদ্ধদেব বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম•- বিপ্রদাস মিত্র। 

উৎস: 'বিবিধ প্রবন্ধ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫১.
‘নুরু’ কার ছদ্মনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. নুরুল মোমেন
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৭৫২.
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ট কবি ভারতচন্দ্রকে রায়গুনাকর উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. ক) রাজা চন্দ্রগুপ্ত
  2. খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. গ) রাজা বিক্রমাধিত
  4. ঘ) লক্ষনসেন
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ট কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর। অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’। ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ভারতচন্দ্র ‘রায় গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়। “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির লেখক তিনি।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও Livemcq লেকচার পিডিএফ
৭৫৩.
নিচের কোনটি অন্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) লাঙ্গল
  3. গ) দৈনিক নবযুগ
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।
অন্যদিকে 
- 'বঙ্গদর্শন(১৮৭২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭৫৪.
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন -মধুসূদন মজুমদার।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিদের ছদ্মনাম:
- কামদারঞ্জন রায় এর ছদ্মনাম উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
- 'ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত' এর ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- 'প্রেমেন্দ্র মিত্র' এর ছদ্মনাম 'কৃত্তিবাস ভদ্র'।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর ছদ্মনাম নীহারিকা দেবী
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছদ্মনাম অনীলা দেবী, শ্রীকান্ত শর্মা, অনুরূপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫৫.
লাহিনীপাড়া থেকে কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা হতো?
  1. হিতকরী
  2. পরিচয়
  3. ক্রান্তি
  4. পূর্বমেঘ
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর।
৭৫৬.
মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
  3. গ) দীনেশরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮)  সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
• ১৯২২ সালে মাসিক  মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক  সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
• ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 
• ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তার রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা
- দুই মহল
- জীবন-কাব্য
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- আশিয়ানা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৫৭.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বিবিধার্থ সংগ্রহ
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়। 
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা। যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• বাংলার প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বিবিধার্থ সংগ্রহ'।
- ১৮৫১ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। এতে বিবিধ গবেষণামূলক আলোচনা স্থান পেয়েছে।

• 'তত্ত্বোবধিনী' পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে।
- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫৮.
'ভিখু' ও 'পাচি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ - প্রাগৈতিহাসিক
এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- বৌ,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৯.
বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাচল
  2. ক্রান্তি
  3. কালিকলম
  4. শিখা
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’। পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক্তা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬০.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যাযাবর'?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৬১.
কোন লেখকের উপাধি "মহামহােপাধ্যায়"?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৬২.
বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র কোনটি? 
  1. সমাচার দর্পন
  2. বঙ্গদর্শন 
  3. কল্লোল 
  4. দৈনিক আজাদী 
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পন
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।  
- পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া ও
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭৬৩.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'দাদাভাই'?
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বিমল মিত্র
  4. বিমল ঘোষ
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
রোকনুজ্জামান খান:
- তিনি সাংবাদিক, শিশুসংগঠক ছিলেন।
- নূরজাহান সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতায়।
- ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- আর এ থেকেই তিনি ‘দাদাভাই’ নামে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে,
শ্রীমতী রাধামণি দেবী - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়।
মৌমাছি - বিমল ঘোষ।
জাবালি - বিমল মিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৪.
অমিয় চক্রবর্তীকে ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। এবং রবীন্দ্রনাথে সাথে তিনি বহুদেশ ভ্রমণ করেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘কবিতাবলী’। 
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৬৫.
মীর মশাররফ হােসেন সাহিত্য রচনা করেছেন কোন ছদ্মনামে ?
  1. ক) কমলাকান্ত
  2. খ) উদাসীন পথিক
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৬.
'বেঙ্গল গেজেট' - কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬৭.
চলিত রীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকার নাম স্মরণীয়?
  1. সবুজপত্র
  2. শিখা
  3. দিগদর্শন
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭৬৮.
'গাছপাথর' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন বাংলাদেশি লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক। বাকস্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা। দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য যাদের নিরলস অবদানে সমৃদ্ধ, তিনি তাঁদের মাঝে অন্যতম। তিনি মার্কসবাদী চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ, প্রগতিশীল ও মুক্তমনা। তিনি নতুন দিগন্ত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৮০-এর দশকে 'গাছপাথর' ছদ্মনামে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।‌ শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
৭৬৯.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. সুবিমল রায়
  2. যোগানন্দ দাস
  3. অশোক চট্টপাধ্যায়
  4. সজনীকান্ত দাস
সঠিক উত্তর:
যোগানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগানন্দ দাস
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চবিবশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।

- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘জুবিলী সংখ্যা’, আষাঢ় মাসে ‘বিরহ সংখ্যা’ ও কার্তিক মাসে ‘ভোট সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,  কাজী নজরুল ইসলাম,  প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৭০.
'ইয়ংবেঙ্গল' কী ধরনের গোষ্ঠি?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) মুক্তচিন্তক
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তচিন্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তচিন্তক
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার নাম একাডেমিক এসোসিয়েশন৷
ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠিকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৭১.
বাংলা সাহিত্যে বিষয়ক পত্রিকা 'সম্বাদ কৌমুদী' কত সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২১
  2. ১৮৩১
  3. ১৮৩৫
  4. ১৮৪১
সঠিক উত্তর:
১৮২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২১
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা ডিসেম্বরে 'সম্বাদ কৌমুদী' প্রকাশিত হয়। 
- এর সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রকাশক তারাচাঁদ দত্ত।
- সামাজিক ও হিন্দু ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব নিয়ে এ পত্রিকা লেখনী ধারণ করে।
- ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত এ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭২.
কাকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা বলা হয়?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কবি কঙ্ক
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে ‘কবিকঙ্কন’ উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৩.
সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দিয়েছিলেন কে? 
  1. ক্ষিতিমোহন সেন
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. চীনা কবি চি-সি-লিজন
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ই সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি দিয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)। 
- ভারতী পত্রিকা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত হতো। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- কবিকাহিনী, 
- বনফুল, 
- মানসী, 
- প্রভাত সঙ্গীত, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

প্রবন্ধ: 
- সমাজ, 
- লোকসাহিত্য, 
- বিশ্বপরিচয়, 
- সভ্যতার সংকট, 
- জীবনস্মৃতি ইত্যাদি। 

ছোটগল্প: 
- ভিখারিনী, 
- ছুটি, 
- কাবুলিওয়ালা, 
- পোস্টমাস্টার, 
- সুভা, 
- সমাপ্তি, 
- অপরিচিতা, 
- হৈমন্তী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- ডাকঘর, 
- ফাল্গুনী, 
- অচলায়তন, 
- রাজা, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- চিত্রাঙ্গদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৭৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বিদ্যাসাগর গদ্যরীতির মধ্যে লালিত্যসঞ্চার ও নমনীয়তা আনয়নপূর্বক ভাষারীতি হিসেবে গদ্যের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে গৌরবময় অগ্রগতি সাধন করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত ধ্বনিপ্রবাহ অনুধাবন করে বাক্যে স্বাভাবিক শব্দানুবৃত্তির রূপ প্রদান পূর্বক গদ্যরীতিতে পরিমিতিবোধ সৃষ্টি করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৭৫.
‘সবুজপত্র’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘সবুজপত্র’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী। 

• ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭৭৬.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা

• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৭৭.
বাংলা একাডেমির ‘উত্তরাধিকার’ সাহিত্য পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।
- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নব পর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

---------------------
• বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে-
 
১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা: 
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।
 
২. উত্তরাধিকার: 
- মাসিক পত্রিকা। এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।
 
৩. ধানশালিকের দেশ: 
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।
 
৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।
 
৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল: 
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।
 
৬. বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

অন্যদিকে,
- ‘শিল্পকলা’ আবদুল মান্নান সৈয়দ ও আবদুল সেলিম সম্পাদিত পত্রিকা।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৮.
স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র কোনটি?
  1. অগত্যা
  2. কণ্ঠস্বর
  3. নয়া সড়ক
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৯.
'গুণরাজ খান' কোন সাহিত্যিকের উপাধি? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. মালাধর বসু
  3. ভারতচন্দ্র
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসুর একমাত্র কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'য়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ বঙ্গাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল হক) এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮০.
কাকে "মরমি কবি" বলা হয়?
  1. গোবিন্দদাস
  2. আব্দুল করিম
  3. হাছন রাজা
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাছন রাজা
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’

তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত গান নিম্নরূপ:
- আঁখি মঞ্জিয়া দেখ রূপ রে। 
- আগুন লাগাইয়া দিল কুনে, হাছন রাজার মনে। 
- সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইলো। 
- নিশা লাগিল রে বাঁকা দুই নয়নে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৮১.
’গোলাম মোস্তফা’-এর উপাধি কী ছিলো?
  1. স্বভাব কবি
  2. স্বপ্নাতুর কবি
  3. সাহিত্যরত্ন
  4. কাব্য সুধাকর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা  উপাধি ছিলো= কাব্য সুধাকর।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- ’গোবিন্দচন্দ্র দাস’ উপাধি ছিলো=  স্বভাব কবি 
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ উপাধি ছিলো=  স্বপ্নাতুর কবি
- ’নজিবর রহমান’ উপাধি ছিলো=  সাহিত্যরত্ন

উল্লেখ্য,
• গোলাম মোস্তফা:
১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
-গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮২.
'সুকবি বল্লভ' কার উপাধি ছিলো?
  1. গোবিন্দদাস
  2. নারায়ণ দেব
  3. দ্বিজমাধব
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা
নারায়ণ দেব:
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠকবি নারায়ণ দেব কিশোরগঞ্জ জেলার বোরগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ড. আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে, নারায়ণ দেব পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন।  
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'। 
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- কাব্যটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড কবির আত্মপরিচয় ও দেববন্দনা, দ্বিতীয় খণ্ডে পৌরাণিক কাহিনি এবং তৃতীয় খণ্ডে চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল - কবিকঙ্কন।
- কবি গোবিন্দদাসের উপাধি ছিলো - কবিরাজ।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার প্রথম ‘স্বভাব কবি’ বলা হয় দ্বিজমাধবকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৮৩.
সমরেশ বসুর প্রধান ছদ্মনাম কী ছিল? 
  1. সুরথনাথ
  2. কালকূট
  3. ভ্রমরী
  4. গঙ্গাবতী 
সঠিক উত্তর:
কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকূট
ব্যাখ্যা

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ লেখক সমরেশ বসু মূলত কালকূট ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ভ্রমর ছদ্মনামেও কিছু সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন।
- কালকূট নামটি ব্যবহার করে তিনি বিশেষভাবে ভ্রমণকাহিনী ও জীবনমুখী উপন্যাস লিখতেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল সুরথনাথ বসু।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়।
- তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৮৪.
কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘শাহ’ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে, ......
  1. ক) সুলতানী আমলের কবি
  2. খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
  3. গ) তিনি রাজকর্মচারী ছিলেন
  4. ঘ) তিনি পারস্যের অধিবাসী ছিলেন
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি দরবেশ বংশের জাত
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি। তাঁর রচিত ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্ত্ততি আছে। এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের কাব্যের কবিগণের যে আত্মবিবরণি দেখা যায় তার কাব্যে তা অনুপস্থিত। কবি রাজবন্দনা করলেও কাব্যে তার কোন ব্যক্তিগত পরিচয় পাওয়া যায় নি। 

তার নামের শাহ উপাধি থেকে অনুমান করা যায় যে তিনি কোন দরবেশ বংশে জন্মেছিলেন। তার কাব্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ দেখে তাকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম

৭৮৫.
তমদ্দুন মজলিশের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. মোহাম্মদী
  2. শিখা
  3. সৈনিক
  4. মিল্লাত
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন হলো তমদ্দুন মজলিশ।
- এটি ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর সাপ্তাহিক ''সৈনিক'' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক মণ্ডলীর প্রথম সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী।
- পরবর্তীতে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- এটি আজিমপুর থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- শিখা পত্রিকা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এবং
- মিল্লাত পত্রিকা বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের উদ্যোগে প্রকাশিত হতো।

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯
৭৮৬.
কার সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো?
  1. আবুল কালাম আজাদ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৭.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হেনরি ডিরোজিও
  3. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  4. উইলিয়াম জোন্স
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেম্স অগাস্টাস হিকি
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৮৮.
'আবু শরিয়া' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন লেখক?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'আবু শরিয়া' (Abu Sharia) ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তিনি এই ছদ্মনামে ইংরেজিতে কিছু উপন্যাস ও উপন্যাসিকাও লিখেছেন, যেমন—'The Ugly Asian' (কদর্য এশীয়) এবং 'How Does One Cook Beans' (শিম কীভাবে রান্না করতে হয়)। 

---------------------
• ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’:

- ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র ইংরেজী ভাষায় লিখিত স্যাটায়ার ‘How does one cook beans' এর বাংলা অনুবাদ। - রচনাটির একটি subtitle বা উপশিরোনাম আছে, 'এক এশীয়র ফ্রান্স অভিযান'।
- আমাদের এশীয়দের চোখে ইয়োরোপীয়দের অনেক আচরণই অদ্ভুত, বেমানান এমনকি পাগলাটে মনে হয়। যে সুবিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব এই দু অঞ্চলের মাঝে হাত পা মেলে শুয়ে আছে, তাতে করে সমাজ সংস্কৃতির এ পার্থ্যকটা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ইয়োরোপীয়দের দৈনন্দিন নানা আচার ব্যবহার এক ফ্রান্স বেড়াতে যাওয়া এশীয় যুবকের চোখে কেমন ঠেকে তা-ই মূলত ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ ব্যঙ্গাত্নক রচনাটির উপজীব্য।
- ওয়ালীউল্লাহ্ এই লেখাটি আবু শরিয়া ছদ্মনামে লেখেন। শিবব্রত বর্মনের অনুবাদে লেখাটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

 • উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা। 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান ছদ্মনামগুলো হলো ধূমকেতু (তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম) এবং তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া, এছাড়াও তিনি নুরু, তারাখ্যাপা, খুদে, ওস্তাদ, ব্যাঙাচি ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন, তবে ধূমকেতু ছদ্মনামটি তার সাহিত্যকর্মে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত ছদ্মনামগুলো হলো সত্যপীর, ওমর খৈয়াম, প্রিয়দর্শী, টেকচাঁদ এবং মুসাফির, যা তিনি 'দেশ', 'আনন্দবাজার', 'বসুমতী'সহ বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখির সময় ব্যবহার করতেন।  

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘শিম কিভাবে রান্না করতে হয়’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৮৯.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অজিতকুমার দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯০.
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়। 
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।
---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৯১.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত 'হিতকারী' পত্রিকাটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• "হিতকারী" পত্রিকা:
- 'হিতকারী' পত্রিকাটি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দিন খান।

- পত্রিকার প্রথম বর্ষে 'হিতকরী' একটি পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে কুমারখালীর মথুরানাথ যন্ত্রলায়ে মুদ্রিত হয়ে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত হতো। তখন পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকার ছিলেন যথাক্রমে দেবনাথ বিশ্বাস ও রজনীকান্ত ঘোষ। তখন প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দুই পাই।

- হিতকরী পাক্ষিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিন্তু পাঠকদের চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষে দাশাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বর্ষে পত্রিকার শুধু এই রদবদল হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯২.
‘কবিরাজ’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি ছিল?
  1. গোবিন্দদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. মালধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদের অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৩.
'কবিকণ্ঠহার' উপাধিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিদ্যাপতি
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ উপাধি ছিলো মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির ।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন' ।
- ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল ‘রায়গুণাকর’।
----------------
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাকে 'অভিনব জয়দেব' নামেও ডকা হয়।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও স্মরণীয় হয়ে আছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৯৪.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয় 
  2. পূর্বাশা
  3. পূর্বমেঘ 
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা। আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• পূর্বমেঘ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা, যা রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হতো এবং জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তাফা নূরউল ইসলাম সম্পাদনা করতেন। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে পরিচয় পত্রিকা কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।

- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা 'প্রগতি'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯৫.
কোন কবির উপাধি 'কবিরাজ'?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
➝ কবি গোবিন্দদাসের উপাধি ছিলো ⎯ কবিরাজ।
➝ তার আরো একটি উপাধি হলো ⎯ কবীন্দ্র।

• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।

- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

- গোবিন্দদাস রচিত একটি পদ:
'ঢল ঢল কাঁচা 
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।'
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
অন্য অপশন:
ক) জ্ঞানদাস: জ্ঞানদাস মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা। তিনি "পদকর্তা ত্রয়ী"র অন্যতম সদস্য। জ্ঞানদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক অসংখ্য পদ রচনা করেছেন। 

গ) শেখ ফজলল করিম: শেখ ফজলুল করিম আধুনিক যুগের একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি মূলত গদ্যকার হিসেবে বেশি পরিচিত। 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

ঘ) আল মাহমুদ: আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি ও ঔপন্যাসিক। তিনি "লোক লোকান্তর", "সোনালী কাবিন", "কালের কলস" প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৯৬.
'অগত্যা' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশ হতো?
  1. ঢাকার লালবাগ
  2. ঢাকার ইসলামপুর
  3. ঢাকার সাভার
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঢাকার ইসলামপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার ইসলামপুর
ব্যাখ্যা
'অগত্যা' পত্রিকা:
- ১৯৪৯ সালে (১৩৫৬ সালের আষাঢ় মাসে) মাসিকপত্র হিসেবে 'অগত্যা' ঢাকার ইসলামপুর থেকে প্রকাশ হয়।

- এর সম্পাদক ছিলেন ফজলে লোহানী, প্রকাশক ও মুদ্রাকর আবু সাঈদ নাসির।
- পত্রিকায় দাবি করা হয়: রাজনীতির সঙ্গে অগত্যার সম্পর্ক নেই। তবে প্রগতিশীল সাহিত্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, কারুকলা ইত্যাদি চর্চার ক্ষেত্র এ পত্রিকা। যে-সময় উর্দুভাষা বাংলার উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে সে-সময় খিচুড়ি উর্দুর ব্যঙ্গধর্মী রচনা প্রকাশ করে 'অগত্যা' সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- মূলত তরুণদের পত্রিকা ছিল এটি। তরুণ শামসুর রাহমান (তখন'রহমান' নামে লিখতেন), বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আনিস চৌধুরী, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এ পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৭.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২২ সালে
  2. ১৮২৬ সালে
  3. ১৮২৯ সালে
  4. ১৮৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা

 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯৮.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবিরত্ন
  2. সত্যপীর
  3. কলমসৈনিক
  4. প্রিয়দর্শী
সঠিক উত্তর:
কবিরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরত্ন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাস্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯৯.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকাটি কত সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৫০ সালে
  2. খ) ১৯৫১ সালে
  3. গ) ১৯৩৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৪০ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
- 'ক্রান্তি' পত্রিকা ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়
- এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'অরণি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার।
- এটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হত।

উৎসঃ সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৮০০.
"মাসিক মোহাম্মদী" পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
• "মাসিক মোহাম্মদী" পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।

- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।