বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৬ · ১,৩০১১,৪০০ / ১,৬০৩

১,৩০১.
'যীশু দাসগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমরেশ বসু
  3. সমরেশ মজুমদার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'যীশু দাসগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন সমরেশ মজুমদার।
 
অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট।'
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃদত্ত 'প্রবোধকুমার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০২.
'বঙ্গদূত' পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন কে?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নীলমণি হালদার
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা

• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৩.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় মোট কয়টি দফা রয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১৫টি
  3. ২০টি
  4. ২৪টি
সঠিক উত্তর:
২০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০টি
ব্যাখ্যা

• ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার ২০ দফা:
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা সংকট নিরসনে একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।
- এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে ট্রাম্প ঘোষণা করেন।
- পরিকল্পনাটির লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, গাজার শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
এই ২০ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্যই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “Board of Peace (বোর্ড অব পিস)” গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
Board of Peace হলো ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক তদারকি ও সমন্বয়মূলক কাঠামো।
এর মূল লক্ষ্য হলো—
- যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা।
- ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষের চুক্তি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
- জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় সাধন।
- ভবিষ্যতে গাজার প্রশাসন টেকনোক্র্যাটদের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করা।

উৎস: বিবিসি ও রয়টার্স।

১,৩০৪.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন‌' ছিলো -
  1. ত্রৈমাসিক
  2. মাসিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
সঠিক উত্তর:
মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. সওগাত
  2. সবুজপত্র 
  3. কোহিনূর 
  4. নবনূর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র 
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' গল্পটি নিয়ে কিছু কথা:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ'র অন্তর্ভুক্ত একটি ছোটগল্প। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত সবুজপত্র মাসিক পত্রিকায়।

- গল্পের প্রধান চরিত্র হলো: হৈমন্তী, তার স্বামী অপূর্ব, হৈমন্তীর বাবা এবং অপূর্বর বাবা-মা।
- হৈমন্তী মূলত বাঙালি সমাজে নারীর অবমাননা এবং বিবাহিত জীবনে তাদের অসহায়ত্ব ও আত্মমর্যাদার সংকটের গল্প।
- এখানে দেখা যায়, হৈমন্তীর মতো মুক্তচিন্তা ও উচ্চশিক্ষিত নারীও স্বামীর অমনোযোগ ও শ্বশুরবাড়ির দমনমূলক আচরণের কারণে ধীরে ধীরে নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলে।
- গল্পে তৎকালীন সামাজিক প্রথা, শ্বশুরবাড়ির অন্যায় নিয়ম, স্বামী ও পরিবারের নিষ্ক্রিয়তা, নারীর আত্মমর্যাদা হরণের সমস্যা এবং সামাজিক ভণ্ডামি সবই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
---------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছোটগল্পের জনক ও বলা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু ছোটগল্প:
- ভিখারিণী,
- দেনা-পাওনা,
- পোস্টমাস্টার,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- ছুটি,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- মহমায়া,
- শাস্তি,
- একরাত্রি, 
- ফেল,
- ব্যবধান।
-------------------------
অন্যদিকে,
• সওগাত - সচিত্র মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।
• কোহিনূর - মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• নবনূর' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সৈয়দ এমদাদ আলী। 

উৎস: 
'হৈমন্তী' গল্প; 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৩০৬.
নিচের কোনটি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. ধূমকেতু
  4. শনিবারের চিঠি
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চব্বিশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা। যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা। হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি।

- সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন-  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- ১৩৩৯ সনের শেষ দিকে এ পত্রিকার বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। সাহিত্য-সৃষ্টির ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিতর্ক হওয়ার পরে সজনীকান্ত দাসের বোধোদয় হয়। পত্রিকাটি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় ব্যাপৃত হয়। এ নবজন্মের পর তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বলাইচাঁদ মুখ্যোপাধ্যায় নিয়মিত লেখক ছিলেন।


অন্যদিকে, 
-----------------
• "বঙ্গদর্শন" পত্রিকা:
১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়। পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• "সবুজপত্র'" পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

• "ধূমকেতু" পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ- সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো। নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৩০৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে কোন পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ ঘটে?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
• 'পরিচয়' পত্রিকাটি ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এই পত্রিকায় যোগ দেন। এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
- 'সাধনা' পত্রিকাটি ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৮.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের জাদুকর' কার উপাধি? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো - ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, দিকশূন্য ভট্টাচার্য ইত্যাদি।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো: অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৯.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কল্লোল
  2. যুগবাণী
  3. অগ্নিবীণা
  4. দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।
--------------
• 'দৈনিক নবযুগ': 
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে,
- দীনেশরঞ্জন দাশ সম্পাদিত পত্রিকা- 'কল্লোল'।
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- যুগবাণী - তাঁর রচিত প্রথম প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৩১০.
নিচের কোন সম্পর্কটি সঠিক নয়?
  1. কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রায়গুণাকর - ভারতচন্দ্র
  3. কাব্য সুধাকর - গোলাম মোস্তফা
  4. ছন্দের রাজা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিকণ্ঠহার - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি 'বিদ্যাপতির' উপাধি ছিলো। 
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। 
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন'।

• রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন। কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।

• সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) উপাধি লাভ করেন। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং 'ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, বাংলাপিডিয়া।
১,৩১১.
‘বাঁধন হারা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক মোহাম্মদী
  2. ভারতবর্ষ
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 
 
• ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১২.
লাহিনীপাড়া থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. হিতবাদী
  2. সুধাকর
  3. হিতকরী
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম'
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৩.
‘কালিকলম’ কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা ছিল?
  1. সাপ্তাহিক
  2. মাসিক
  3. দৈনিক
  4. ত্রৈমাসিক
সঠিক উত্তর:
মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- প্রথম বছর সম্পাদক ছিলেন - প্রেমেন্দ্র মিত্র; দ্বিতীয় বছর সম্পাদক ছিলেন - শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও মুরলীধর বসু এবং চতুর্থ বছরে সম্পাদক - মুরলীধর বসু।
- প্রত্যেক মাসের ৩০ তারিখে এটি প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটির মেয়াদকাল ছিল মাত্র চার বছর।
- সে-সময়ের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিকগণ কালিকলম কাগজে লিখেছিলেন। পত্রিকাটিতে ছাপা হতো গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ। পত্রিকাটি পাঠকদের কাছে যাতে আকর্ষণীয় হয়, তার জন্য ‘সংগ্রহ’, ‘চয়নিকা’, ‘বিচিত্রা’, ‘অসংলগ্ন’, ‘চিত্র’ ও ‘সাহিত্যপ্রসঙ্গ’ নামে ফিচার বিভাগ ছিল।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’। এ ছাড়া তিনি ‘দিদিমণি’ নামে আরেকটি গল্প লিখেছিলেন ছদ্মনামে।
- প্রেমেন্দ মিত্রের উপন্যাস ‘পাঁক’-এর দ্বিতীয় পর্ব ধারাবাহিকভাবে শুরু হয়েছিল কালিকলম-এর প্রথম সংখ্যা থেকে। এ ছাড়া তাঁর ‘মগেরমুল্লুক’ ও ‘মানুষের মানে চাই’ নামে কবিতা প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় (জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা) প্রকাশিত নজরুল ইসলামের ‘মাধবী প্রলাপ’ কবিতা নিয়ে রক্ষণশীল পাঠক সমাজে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ কবিতায় দেহজ আবেদন ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

উল্লেখ্য,
• ঢাকা থেকে ২০০৪ সালে কালি ও কলম - নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৪.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১,৩১৫.
'সংকল্প' সাময়িক পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. এয়াকুব আলী চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• 'সংকল্প' পত্রিকা:
- কাজী আবদুল ওদুদের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে সংকল্প (১৩৬১) ও তরুণপত্র (১৩৭২) নামে দুটি সাময়িক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি ছিলেন 'সংকল্প' পত্রিকার সম্পাদক।
- 'তরুণপত্র' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি।

• কাজী আবদুল ওদুদ: 
- তাঁর জন্ম ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে।
- ছাত্র অবস্থায়ই তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ মীর পরিবার (১৯১৮) এবং উপন্যাস নদীবক্ষে (১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- ঢাকার মুসলিম সাহিত্য-সমাজের (১৯২৬) মুখপত্র শিখার প্রতিটি সংখ্যার পরিকল্পনা ও প্রকাশনায় আবুল হুসেনের সঙ্গে তাঁর সক্রিয় প্রয়াসপ্রযত্ন ছিল।
 - ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আজাদ (উপন্যাস), 
- নদীবক্ষে (উপন্যাস), 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১,৩১৬.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সমকাল
  4. কণ্ঠস্বর 
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ:
- ​১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
​- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- "কণ্ঠস্বর" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩১৭.
'মর্নিং নিউজ' পত্রিকার সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. আহমদ ছফা
  4. ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১,৩১৮.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ভারতী
  2. দিগদর্শন
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩১৯.
শনিবারের চিঠি পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৪ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
-  শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা।
- প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০-৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো।
- এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস।
- তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন।
- এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩২০.
কোন লেখকের উপাধি 'স্বভাব কবি'?
  1. হাসন রাজা
  2. অহিদুর রেজা
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।

অন্যদিকে,
- হাসন রাজার উপাধি - মরমি কবি। হাসন রাজা এর প্রকৃত নাম অহিদুর রেজা।
- গোলাম মোস্তফার উপাধি - কাব্য সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩২১.
"দুঃখবাদী কবি" কার উপাধি?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মুকুন্দদাস
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন "দুঃখবাদী কবি" আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

অন্যদিকে,
- মোজাম্মেল হক - শান্তিপুরের কবি।
- মুকুন্দদাস - চারণকবি। 
- গোবিন্দচন্দ্র দাস - স্বভাব কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২২.
বাঙালি সম্পাদিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বাঙ্গাল গেজেট
  4. সম্বাদ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
• জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন। এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের প্রথম সংবাদপত্র। 

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগ্দর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 'দিগ্দর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

• রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মণসেবধি' ও 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৩.
‘কবিরত্ন’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমরেশ বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে,
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মরনাম - কালকূট। 
- মোহিতলাল মজুমদার ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৩২৪.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে কাজী নজরুল ইসলাম কী নামে খ্যাত? 
  1. কোকিল
  2. সুরের রাজা
  3. বুলবুল
  4. গানের পাখি
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুলবুল
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২৫.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. অপরাজিতা রায় 
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. কঙ্কাবতী
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাময় রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় — 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

---------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'নীহারিকা দেবী'- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।
• 'অপরাজিতা দেবী'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কোন লেখক?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. অনিলা দেবী
  2. অপরাজিতা দেবী
  3. অনুরূপা দেবী
  4. নীহারিকা দেবী
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখতেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৮.
'বাংলার স্কট' কার উপাধি?
  1. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামেও পরিচিত।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। 
- পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ: ধুসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি ও নির্জনতার কবি।
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের উপাধি 'বাংলার মিল্টন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩২৯.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কাকে ‘সাহিত্যরত্ন ও বিদ্যাভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কালিদাস রায়
  2. কায়কোবাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’  ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩০.
‘কবীন্দ্র’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. গোবিন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. মালধর বসু
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩১.
মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- 
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সর্বসাচী
  3. শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩২.
'দৃষ্টিহীন' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - 'দৃষ্টিহীন'।

উল্লেখ্য 
• মধুসূদন মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনামও  'দৃষ্টিহীন'।

অন্যদিকে, 
• শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম হাবু শর্মা।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:  অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায়; অনুরূপা দেবী; পরশুরাম; শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৩.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুমিল্লার লাহিনীপাড়া
  2. কলকাতার লাহিনীপাড়া
  3. কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া
  4. কুুড়িগ্রামের লাহিনীপাড়া
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৪.
‘কালিকলম’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মুরলীধর বসু
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম। যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৫.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট পত্রিকা 'কল্লোল' কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• কল্লোল পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৬.
প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো-
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. কালকূট
  3. কৃত্তিবাস ভদ্র
  4. জরাসন্ধ
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ভদ্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- তিনি একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক। 
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ চবিবশ পরগণার বৈকুণ্ঠপুরে। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। 
-১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম ছিলো - জরাসন্ধ।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩৭.
'কাব্যকণ্ঠ' আধুনিক যুগের কোন কবির উপাধি?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কায়কোবাদ
  4. বিহারিলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• কবি ও গদ্যশিল্পী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
• কায়কোবাদ বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন।
• বিহারিলাল চক্রবর্তীর উপাধি ভোরের পাখি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৮.
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৩৩৯.
কোনটি গোলাম মোস্তফা'র উপাধি?
  1. দাদাভাই
  2. কাব্য সুধাকর
  3. কাব্যকন্ঠ
  4. দৃষ্টিহীন
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- দাদাভাই- রোকনুজ্জামান খান।
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক - 'কাব্যকন্ঠ'।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪০.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
  1. মজলুম আদিব
  2. মৈনাক
  3. বাচ্চু
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তার ডাক নাম ছিল বাচ্চু
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪১.
'উদাসীন পথিক' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
গৌড়তটবাসী মশা
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম হলো হাবু শর্মা। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪২.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' - উক্তিটি কোন পত্রিকার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সওগাত
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
ব্যাখ্যা
শিখা পত্রিকাটি ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৩.
নিম্নে কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম?
  1. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  2. লীলাময় রায়
  3. টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. হাবু শর্মা
সঠিক উত্তর:
অকপটচন্দ্র ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকপটচন্দ্র ভাস্কর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

• অন্যদিকে:
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
• 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৪.
কোন পত্রিকাটি রাজা রামমোহন রায় সম্পাদনা করেন-
  1. ক) সম্বাদ প্রভাকর
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) জ্ঞানান্বেষণ
  4. ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
- রাজা রামমোহন রায় 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা। যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সামাজিক ও হিন্দুধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব নিয়ে এ পত্রিকা লেখনী ধারণ করে।

অন্যদিকে,
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৩৪৫.
বাংলা সাময়িকী পত্রিকা ’সবুজপত্র’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৩ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• সবুজপত্র:
- সবুজপত্র  বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- এ সাময়িকীতে শুধু সবুজ রং-ই ব্যবহার করা হতো।
- নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহূত হতো।
- সবুজপত্রে কখনও কোনো বিজ্ঞাপন এবং ছবি প্রকাশিত হয়নি।
- প্রমথ চৌধুরী সাময়িকীটিকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় রূপ প্রদানের জন্য কোনো চেষ্টা করেননি।
- বরং তিনি এর মান এবং আদর্শ সমুন্নত রাখার প্রতি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
- তাই সবুজপত্র সাধারণ পাঠক ও লেখকদের কাছে জনপ্রিয় হতে পারেনি।
- প্রথম পর্যায়ে এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দ (১৯২২ সাল) পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে সবুজপত্রের প্রকাশনা শুরু হয় ১৩৩২ বঙ্গাব্দ থেকে।
- সাময়িকীটি শেষ পর্যন্ত ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭ সালে) বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৬.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম -
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. যুবনাশ্ব
  3. পরশুরাম
  4. কমলাকান্ত
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম  -'যুবনাশ্ব'।

অন্যদিকে, 
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
-  পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 
- কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪৭.
২০২৫ সালে কোন পত্রিকার শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে?
  1. ক) ধুমকেতু
  2. খ) নবযুগ
  3. গ) সওগাত
  4. ঘ) লাঙল
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাঙল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লাঙল
ব্যাখ্যা
'লাঙ্গল' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা থেকে। এটি 'শ্রমিক প্রজা স্বরাজ সম্প্রদায়' নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি মুখপত্র। এর সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম হলেও ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নামে। দৈনিক নবযুগ (১৯২০) ও ধূমকেতু (১৯২২) কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৩৪৮.
'গাজী মিয়া' ছদ্মনাম ছিল-
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের 
  2. কায়কোবাদের 
  3. মীর মশাররফ হোসেনের 
  4. প্রমথ  চৌধুরীর 
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেনের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেনের 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন এর ছদ্মনাম ছিল 'গাজী মিয়া'।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল- ‘গাজী মিয়া’। 
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩)- পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।
- সাহিত্যজীবনে তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। 

• তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- 
- 'বসন্তকুমারী' ও
- 'জমিদার দর্পণ'।

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে- গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

• তার রচিত প্রহসন হচ্ছে - 
- ফাঁস কাগজ', 
- 'ভাই ভাই এইতো চাই', 
- 'এর উপায় কি'।

• তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিন খণ্ড হলো- 
- মহররম পর্ব,
- উদ্ধার পর্ব ও
- ইয়াজিদ বধ পর্ব।

অন্যদিকে,
• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম হলো- বনফুল।
• 'কায়কোবাদ' এর প্রকৃত নাম ছিল- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' ছিল তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাকে মহাকবি ও বলা হয়। 
- তার লিখা 'মহাশ্মশান' বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত মহাকাব্য।
• 'প্রমথ চৌধুরীর' ছদ্মনাম হলো- বীরবল।
- বাংলা সাহিত্যে তার উপাধি হচ্ছে- চলিত রীতির প্রবর্তক।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১,৩৪৯.
'বজ্রস্বত্ব সাধন' কার রচনা?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) লুইপা
  4. ঘ) তন্ত্রীপা
সঠিক উত্তর:
গ) লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লুইপা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা 
- লুইপা চর্যাপদে ২টি পদ রচনা করেন।
- লুইপা পদ ৫টি সংস্কৃতগ্রন্থ রচনা করেন।  
সংস্কৃতগ্রন্থ গুলো হলো:
- অভিসময় বিভঙ্গ 
- বজ্রস্বত্ব সাধন 
- বুদ্ধোদয় 
- ভগবদাভসার 
- তত্ত্ব সভাব 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৩৫০.
সংস্কৃত কলেজ কর্তৃক ঈশ্বরচন্দ্রকে কোন উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. গদ্যের জনক
  3. বিদ্যানসাগর
  4. বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫১.
সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম কী?
  1. কাব্য সুধাকর
  2. ওমর খৈয়াম
  3. সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
ওমর খৈয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
গোলাম মোস্তফা'র ছদ্মনাম - সিতারা-ই-ইমতিয়াজ, কাব্য সুধাকর।
'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৩৫২.
‘এ নেটিভ’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. মধুসূদন মজুমদার
  3. সমরেশ বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
​রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।​

উৎস: বাংলাভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৫৩.
১৯৮৫ সালে নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক কে পান?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন অধ্যাপক ও লেখক
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি কবিতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭), সুফী মোতাহের হোসেন স্বর্ণপদক (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩), মধুসূদন স্বর্ণপদক (১৯৮৫) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৪.
'হিতকরী' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. রাজশাহী
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম -
  1. দিকশূন্য ঠাকুর
  2. টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  4. কিশোর পাকড়াশী
সঠিক উত্তর:
দিকশূন্য ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকশূন্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - দিকশূন্য ভট্টাচার্য।
------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।
------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৫৬.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৪০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
-'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য। তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে। পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 - ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমিদারদের সহায়তার কারণে পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ততটা জোরালোভাবে সমালোচনা না করে বরং শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে, নীলচাষের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সংবাদ প্রভাকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫৭.
বাংলা সাহিত্যে কোন কবি 'ছান্দসিক' হিসেবে পরিচিত?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৮.
কোনটি কবি জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. নজর মিয়াঁ 
  2. ভুগঙ্গর আলী
  3. জমীরউদ্দীন মোল্লা
  4. মৈনাক
সঠিক উত্তর:
জমীরউদ্দীন মোল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমীরউদ্দীন মোল্লা
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন 'জমীরউদ্দীন মোল্লা' ছদ্মনামে লিখতেন। 

 উল্লেখ্য, 
• "তুজম্বর আলি" জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম।

• ১৯৭১ সালে বাঙলার দুর্দিনের সময় বেঁচে ছিলেন মহান কবি জসীম উদ্‌দীন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' নামে একটি কবিতা সংকলন ছাপিয়েছিলেন। সংকলনের 'লেখকের কথা' অংশে জসীম উদ্‌দীন জানান- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই সংকলনের কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠান হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
• বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
• মৈনাক, নেপথ্যে প্রভৃতি ছদ্মনামে কবি শামসুর রহমান কবিতা লিখতেন।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৫৯.
স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক গণকণ্ঠ
  2. দৈনিক আজাদ
  3. দৈনিক মুক্তবাণী
  4. দৈনিক গণকণ্ঠস্বর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- 
  1. সমাচার দর্পণ
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববোধিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাই ছিল এর উদ্দেশ্যে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ:
- নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- অযোধ্যানাথ পাকড়াশী,
- হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন,
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও
- ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উল্লেখ্য,
- সমাচার দর্পণ পত্রিকার প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৬১.
কত সালে 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬২.
সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. জাবালি
  2. ভ্রমর
  3. যুবনাশ্ব
  4. যাযাবর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

অন্যদিকে, 
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৬৩.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. কিশোর পরাগ
  2. শিশুবার্ষিকী
  3. জ্ঞানের আলো
  4. মিহির
সঠিক উত্তর:
মিহির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিহির
ব্যাখ্যা
‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।

অন্যদিকে, 
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

-------------------
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৪.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৬৫.
প্যারীচাঁদ মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

'মাসিক পত্রিকা': 
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে:
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৩৬৬.
'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত-
  1. জসীমউদ্দীন
  2. আহসান হাবীব
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
⇒ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস  রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন। 
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' ,  'মোসলেম ভারত'মও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৭.
'গৌড়তটবাসী মশা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক ছদ্মনামেই মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী, সত্যপীর।
• মধুসূদন মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প 'অতসী মামী' প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিচিত্রা 
  2. পূর্বাশা 
  3. পরিচয় 
  4. স্বদেশ 
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা 
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী' বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৬৯.
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭০.
আবুল হাসান এর সাহিত্যিক নাম কী?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. হোসেন মিয়া
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭১.
"সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭২.
কে 'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. মণীশ ঘটক
  2. শম্ভু মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা
• 'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে লিখতেন - মণীশ ঘটক

অন্যদিকে,
• 'প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়' ছদ্মনামে লিখতেন - শম্ভু মিত্র।
• 'চিত্রগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন - সতীনাথ ভাদুড়ী।
• 'সুবচনী' ছদ্মনামে লিখতেন - সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৩.
ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. চেন্নাই
  3. মুম্বাই
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম-
  1. পরশুরাম
  2. কালকূট
  3. নীল লোহিত
  4. অবধূত
সঠিক উত্তর:
কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকূট
ব্যাখ্যা

- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-  ‘নীল লোহিত’।
- স্বামী কালিকানন্দ - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৭৫.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত - 
  1. হুমায়ুন আহমেদ 
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে 'জগত্তারিণী পুরস্কার' লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর ছদ্মনাম সমূহ:
- অনিলা দেবী
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭৬.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের নাম কী?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং দীনবন্ধু মিত্রের লেখক জীবনের প্রথম পর্যায়ের অনেক রচনাই সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশিত হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭৭.
মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা কোনটি?
  1. সন্দেশ
  2. মুকুল
  3. আঙুর
  4. সৌরভ
সঠিক উত্তর:
আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙুর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
• 'মুকুল' (১৮৯৫) শিবনাথ শাস্ত্রী সম্পাদিত পত্রিকা।
• 'সৌরভ' (১৮৯৬) গিরিশচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পত্রিকা।

---------------------
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৮.
'বিদ্যোৎসাহিনী' পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন-
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
• কালীপ্রসন্ন শিল্প ও সংস্কৃতির, বিশেষত নাট্যসাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নাটক ও যাত্রার মাধ্যমে সামাজিক জ্ঞান বৃদ্ধির মানসে তিনি বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ (১৮৫৬) প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রথম মঞ্চস্থ হয় 'বেণীসংহার' নাটক এবং কালীপ্রসন্ন স্বয়ং এতে অভিনয় করেন।

• ১৮৫৭ সালে তিনি কালিদাসের সংস্কৃত নাটক বিক্রমোর্বশীয় অনুবাদ করেন এবং ১৮৫৮ সালে তিনি রচনা করেন 'সাবিত্রীসত্যবান' নাটক। বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে উভয় নাটকই মঞ্চস্থ হয় এবং তিনি দুটিতেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।

• তৎকালীন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় তিনি পর্যায়ক্রমে তিনটি সাময়িকী প্রকাশ করেন: বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা (১৮৫৫), সর্বতত্ত্ব প্রকাশিকা (১৮৫৬) এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ। তিনি নিজ সম্পাদনায় কিছুদিন পরিদর্শক নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। প্রসিদ্ধ হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্ধের উপক্রম হলে কালীপ্রসন্ন প্রচুর অর্থ সাহায্য দিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় বাঁচাতে সহায়তা করেন। 

• প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে। বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, কালীপ্রসন্ন মাত্র ত্রিশ বছরের জীবনে তাঁর এ সকল কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৮৭০ সালের ২৪ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৯.
'কৃত্তিবাস ভদ্র' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন নারী নাম ব্যবহার করে সাহিত্য রচনা করেন?
  1. শ্রীমতি মধ্যমা
  2. নীহারিকা দেবী
  3. অনিলা দেবী
  4. লীলাময় রায়
সঠিক উত্তর:
অনিলা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিলা দেবী
ব্যাখ্যা
• ‘নারীর মূল্য’:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক নিবন্ধ গ্রন্থটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন।
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ। ।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

--------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- পরশুরাম;
- অনুরূপা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
----------------
• 'নীহারিকা দেবী'- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮১.
কত সালে 'শিখা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি কে প্রদান করেন?
  1. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. চি লিজন
  4. ক্ষিতিমোহন সেন 
সঠিক উত্তর:
চি লিজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চি লিজন
ব্যাখ্যা

• 'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
------------------
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'বিশ্বকবি': 
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

১,৩৮৩.
নিচের কোন লেখকের প্রকৃত নাম ‘মইনুদ্দিন আহমেদ’?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সেলিম আল দীন
  3. মনিরুজ্জামান
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে, 
- মুক্তিযুদ্ধকালে শামসুর রহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

সেলিম আল দীন: 
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়। 
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়। 
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান। 
 
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ: 
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- শকুন্তলা, 
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, 
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- চাকা, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- হরগজ, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৪.
‘বেগম’ কোন ধরনের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. মাসিক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা
• ‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'সারদামঙ্গল' কাব্য পড়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে ভূষিত করেন।

------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৬.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৭.
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কী ছিলো?
  1. সত্যপীর
  2. দৃষ্টিহীন
  3. কালকূট
  4. নীললোহিত
সঠিক উত্তর:
কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকূট
ব্যাখ্যা

- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন

- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- সত্য পীর।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-  ‘নীল লোহিত’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮৮.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয়?
  1. অনিলা দেবী
  2. শ্রীকান্ত শর্মা
  3. পরশুরাম
  4. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  5. প্রিয়দর্শী
সঠিক উত্তর:
প্রিয়দর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রিয়দর্শী
ব্যাখ্যা
• ‘প্রিয়দর্শী' - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তবে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম ‘প্রিয়দর্শী’।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
 
১,৩৮৯.
'সব্যসাচী' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন প্রাবন্ধিক?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায় 
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) বাংলা সাহিত্যের একজন প্রভাবশালী ও বহুমুখী লেখক, যাঁকে "সব্যসাচী" লেখক বলে অভিহিত করা হয়। এই উপাধি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে 'সব্যসাচী' বুদ্ধদেব বসুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়।

• সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- সুবচনী।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম সুনন্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৯০.
রফিক আজাদের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. উত্তরাধিকার
  2. পূর্বাশা
  3. কণ্ঠস্বর
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রফিক আজাদের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার'।
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।
- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নব পর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯১.
'যাযাবর' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. মণীশ ঘটক
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• খ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়-এর ছদ্মনাম হলো - 'যাযাবর'।

অন্যদিকে,
• মণীশ ঘটক - এর ছদ্মনাম ''যুবনাশ্ব''।
• 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।
• আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম 'অশোক সৈয়দ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯২.
কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশিত হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ১৮৬৩ সালে
  2. খ) ১৮৮৫ সালে
  3. গ) ১৮৭৭ সালে
  4. ঘ) ১৮৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৬৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে কুমারখালি বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]



 
১,৩৯৩.
'দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিজোরিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিনি ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতামুক্ত।

হেনরি লুই ভিভিয়ানের সহায়তায় ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে হিন্দু কলেজের ছাত্রদের নিজস্ব একটি সাহিত্য ও বিতর্ক সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সংঘ শ্রেণীকক্ষের বাধানিষেধের বাইরে ডিরোজিও-এর পরিচালনায় তরুণদের মনোযোগ আকর্ষণকারী বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে আলোচনা করার একটি সাধারণ মিলনস্থানের সংস্থান করে।

ডিরোজিওর শিক্ষা ছাত্রদের মধ্যে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয় এবং তারা বিদ্যমান অবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে। ডেভিড হিউম ও জেরেমি বেনথামের যুক্তিবাদী দর্শন ও টমাস পেইনের মতো প্রগতিবাদী চিন্তাবিদদের প্রভাবে তারা সবকিছুই যুক্তির মাপকাঠিতে বিচার করতে শুরু করে। ধর্মের প্রতি তাদের মনোভাব ছিল ভল্টেয়ারের মতো। 

রাধাকান্ত দেব এর (১৭৮৪-১৮৬৭) নেতৃত্বে রক্ষণশীল হিন্দুদের কর্তৃত্ত্বাধীন হিন্দু কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের নজরে আনা হয়। ১৮৩১ সালের এপ্রিল মাসে ডিরোজিওকে হিন্দু কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। 

ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ‘ ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান’ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৪.
অক্ষয়কুমার অবসর নিলে 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক হন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকাটিতে অভিনন্দন বাণী দিয়েছিলেন?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ধুমকেতু
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সওগাত
সঠিক উত্তর:
খ) ধুমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধুমকেতু
ব্যাখ্যা
'ধুমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে। 
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধুমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধুমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- পত্রিকাটির 'দেওয়ালী সংখ্যায়' ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর তুরস্কনীতি ও রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক নমনীয়তার কঠোর সমালোচনা করা হয়।


[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
১,৩৯৬.
'শান্তিপুরের কবি’ - নামে খ্যাত কবি কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৯৭.
'পরিচয়' পত্রিকা বাংলা সাহিত্যের কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. ব্রাহ্ম আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৩৯৮.
'প্রিয়দর্শী' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন কোন সাহিত্যিক ?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। এগুলো হলো প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্বচিৎপ্রৌঢ়, সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত এবং চারুচন্দ্র চক্রবর্তী জরাসন্ধ ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১,৩৯৯.
প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনা পত্রিকা কোনটি?
  1. স্বদেশ পত্রিকা
  2. মাসিক পত্রিকা
  3. ভারতী পত্রিকা
  4. কালিকলম পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম'।
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪০০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৮০
  2. খ) ১৯৮১
  3. গ) ১৯৮২
  4. ঘ) ১৯৯৭
  5. ঙ) ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ চিলেকোঠার সেপাই, খোয়াবনামা এবং ছোটগল্পঃ অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজকের ওম।উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।