বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৬ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৬০৩

১,২০১.
'মৌমাছি' কার ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সোমেন চন্দ
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি। 

অন্যদিকে, 
• 'যাযাবর' ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
• সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম ইন্দুকুমার সোম।
•  সতীনাথ ভাদুড়ীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল 'চিত্রগুপ্ত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০২.
"কালি ও কলম" পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. চট্টগ্রাম 
  2. কলকাতা 
  3. ঢাকা 
  4. সিলেট 
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
ব্যাখ্যা

• "কালি ও কলম" পত্রিকা:
- সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন - সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদক - সুব্রত বড়ুয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,২০৩.
'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠী - এর মুখপত্র কোনটি?
  1. শিখা 
  2. জ্ঞানাঙ্কুর
  3. তত্ত্ববোধিনী 
  4. জ্ঞানান্বেষণ
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানান্বেষণ
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৮৩১ সালে।

•  দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়: 
- পত্রিকা-সম্পাদক, সমাজসেবক।
- ১৮১৪ সালে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কাঁচড়াপাড়ার ভাটপাড়ায়।
- তিনি হেয়ার স্কুল ও হিন্দু কলেজে পড়াশুনা করেন এবং সেই সূত্রে ইয়ং বেঙ্গল দলের কর্মী ও ডিরোজিওর প্রিয় পাত্র ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ছাত্রাবস্থায়ই জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- পরে তিনি ভারত পত্রিকা, সমাচার হিন্দুস্থানী ইত্যাদি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২০৪.
'নুরু' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও
- কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
• শামসুর রাহমান 'মৈনাক ও মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• সৈয়দ মুজতবা আলী- ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ 'মুসাফির' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং কবি নজরুল জীবনী।
১,২০৫.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাহিত্য পত্রিকা
  2. মোহাম্মদী
  3. হিতকরী
  4. কোহিনূর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা

 মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
কোহিনূর - মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,২০৬.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম কী?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. জাবালি
  4. ভ্রমর
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - 'জাবালি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২০৭.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. সনাতন পাঠক
  2. নীল লোহিত
  3. অবধূত
  4. নীল উপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অবধূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবধূত
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

উল্লেখ্য,
'কালিকানন্দের' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৮.
’হাবু শর্মা’ কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- শরৎচন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর ছিলেন তাঁদের একজন।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,২০৯.
’কালিকলম’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- মোসলেম ভারত পত্রিকার  সম্পাদক ছিলেন- মোজাম্মেল হক।
- সাধনা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,২১০.
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. ক) দাশরথি রায়
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
ক) দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা

- কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরণের গান প্রচলিত ছিল। 
- পাঁচালী গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কবি ছিলেন দাশরথি রায়
- তিনি খ্যাত ছিলেন দাশুরায় নামে। তিনি নিজেই পাঁচালীর দল বেঁধে গান গাইতেন।
তার একটি বিখ্যাত রচনা -
''হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।
মুক্তি-কামনা আমারি, হবে, বৃন্দে গোপনারী,
দেহ হবে নন্দের পুরী, স্নেহ হবে মা যশোমতী।।''

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,২১১.
‘সনাতন পাঠক’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- নীললোহিত,
- সনাতন পাঠক,
- নীল উপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• সৈয়দ মুজতবা আলী ছদ্মনাম: সত্য পীর, মুসাফির, ওমর খৈয়াম, প্রিয়দর্শী।
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম: কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১২.
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- 
  1. যাযাবর
  2. বনফুল
  3.  ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  4. চিত্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
 ক্বচিৎ প্রৌঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ক্বচিৎ প্রৌঢ়
ব্যাখ্যা

 • বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল ক্বচিৎ প্রৌঢ়।   
 
অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।  
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম বনফুল।   
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম চিত্রগুপ্ত।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৩.
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বীরবল
  2. যাযাবর
  3. দাদাভাই
  4. জাবালি
সঠিক উত্তর:
জাবালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাবালি
ব্যাখ্যা

• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি

অন্যদিকে,
• বীরবল- প্রমথ চৌধুরী।
• যাযাবর - বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
• দাদাভাই- রোকনুজ্জামান খান।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২১৪.
'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
কালি ও কলম কী?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) পত্রিকা
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• কালি ও কলম সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২১৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সত্য পীর
  2. মুসাফির
  3. প্রিয়দর্শী
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৭.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. কল্লোল
  3. হিতকরী
  4. সমকাল
সঠিক উত্তর:
সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমকাল
ব্যাখ্যা
‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেননি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। পত্রিকাটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
• 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৮.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. নারীশক্তি 
  2. বেগম
  3. মুক্তি 
  4. কাড়নটি 
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২১৯.
কবিতার জন্য ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলো হলো:
- ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০),
- ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার।
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং
- ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২০.
'ক্বচিৎ প্রৌঢ়' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- টিমোথি পেনপয়েম, এ নেটিভ  
• মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম-গৌড়তটবাসী মশা; উদাসীন পথিক; গাজী মিয়াঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২১.
'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আনোয়ার হোসেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) তোফাজ্জল হোসেন
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব একজন খ্যাতিমান কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তান (পরের দৈনিক বাংলায় রূপান্তরিত হয়) পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘ ২১ বছর অর্থাৎ আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,২২২.
কোন পত্রিকা কাজী  নজরুল ইসলামের কবিপ্রতিভা বিকাশে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে?
  1. সওগাত 
  2. পূর্বাশা
  3. মোসলেম ভারত
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
• কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
• প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
• রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
• ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
• নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২২৩.
ঐতিহাসিক নাটক রচনায় কোন সাহিত্যিক খ্যাতি লাভ করেছেন?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, (১৮৬৩-১৯১৩) ছিলেন একজন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। 
- এর মধ্যে প্রহসন, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতাও রয়েছে।
- জীবনের শেষ দশ বছর তিনি প্রধানত নাটক রচনা করেন। পৌরাণিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক সব ধরনের নাটক রচনায়ই তিনি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তাঁর মধ্যে যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়েছিল, ঐতিহাসিক নাটকগুলিতে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
- তিনি ষোলোটি নাটক রচনা করেন। 

• তাঁর ঐতিহাসিক নাটক
- তারাবাই (১৯০৩),
- রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫), 
- মেবার-পতন (১৯০৮),
- নূরজাহান (১৯০৮),
- সাজাহান (১৯০৯),
- চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১);

- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।
- তাঁর অধিকাংশ নাটক  কলকাতা ও তার বাইরে সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়।
- সাহিত্যকর্ম হিসেবে তাঁর অনেক নাটক উচ্চশিক্ষার পাঠ্যতালিকাভুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২২৪.
'দিবারাত্রির কাব্য' গ্রন্থের রচয়িতা ⎯
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম ⎯ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২২৫.
কোন কবি মুকুন্দদাস'কে চারণকবির মর্যাদা দেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. চন্দ্রাবতী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২৬.
চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠাকারী পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. পরিচয়
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রচলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন প্রমথ চৌধুরীর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী 'বীরবল' ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৭.
বাংলা সাহিত্যে 'স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত - 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২৮.
'সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. শম্ভু মিত্র
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিমল মিত্র
সঠিক উত্তর:
শম্ভু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• শম্ভু মিত্র এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৯.
বিশ শতকের পত্রিকা কোনটি?
  1. নওরোজ
  2. নবনূর
  3. পূর্বাশা
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• 'নওরোজ' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ আফজাল-উল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।

উপরের সবগুলোই বিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩০.
রফিক আজাদ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. শিল্পকলা 
  2. দোয়েল 
  3. ধানশালিকের দেশ
  4. উত্তরাধিকার
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৩১.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত হন কোন সাহিত্যিক?
  1. দাউদ হায়দার
  2. কায়কোবাদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩২.
কোন পত্রিকা 'কল্লোল' পত্রিকার মত একই চেতনা ও সাহিত্যবোধ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. কালিকলম
  2. পরিচয়
  3. পূর্বাশা
  4. চিত্রদর্শন
সঠিক উত্তর:
কালিকলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকলম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক ‘কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র ।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে ‘কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, ‘কালিকলম’ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারে নি। 'কল্লোল' ও ‘কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

⇒ প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
 - প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'চিত্রদর্শন'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. রায়পিথোরা
  2. কল্যাণশঙ্কু
  3. শংকর
  4. কালপেঁচা
সঠিক উত্তর:
রায়পিথোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়পিথোরা
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী-  সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ, শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - কল্যাণশঙ্কু। 
• মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - শংকর। 
• বিনয় ঘোষ ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - কালপেঁচা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ছদ্মনামে লিখেছেন?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতি মধ্যমা
  3. অনুপমা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতি মধ্যমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতি মধ্যমা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 
• অনুরূপা দেবীের ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৫.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  2. সমাচার দর্পণ
  3. দিগদর্শন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র। 
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: 
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩৬.
কোন কবিকে বাংলা গীতি কবিতায় 'ভোরের পাখি' বলা হয়?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) উল্লেখযোগ্য।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
১,২৩৭.
'শিখা' পত্রিকাটি কোন সংগঠনের বার্ষিক মুখপত্র ছিল?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
  3. মুসলিম লিগ
  4. ঢাকা সাহিত্য সভা
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৩৮.
'বাঁধনহারার' প্রথম কিস্তি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. সাধনা
  3. পূর্বাশা
  4. মোস্‌লেম ভারত
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা:
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকার প্রতি সংখ্যার প্রথম পাতার শীর্ষে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী সংকলিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৯.
'মৈনাক' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম।
- 'মৈনাক' ছদ্মনামে তিনি পত্রিকায় কলাম লিখতেন। 

অন্যদিকে, 
• অনিলা দেবী ছদ্মনামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিচিত।
• ক্বচিৎ প্রৌঢ়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪০.
বিমল ঘোষের ছদ্মনাম -
  1. সুনন্দ
  2. পরশুরাম
  3. মৌমাছি
  4. বনফুল
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম — 'মৌমাছি'।

অন্যদিকে, 
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'বনফুল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪১.
সর্বাপেক্ষা তথ্যসমৃদ্ধ চৈতন্য জীবনী 'চৈতন্য- চরিতামৃত' রচনা করেন?
  1. ক) বৃন্দাবন দাস
  2. খ) লোচন দাস
  3. গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১,২৪২.
কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রথম মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক্রান্তি
  2. পরিচয় 
  3. শিখা
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'ক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক রণেশ দাশগুপ্ত। 
• 'পরিচয়' বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ত্রৈমাসিক পত্রিকা, যা ১৯৩১ সালের জুলাই মাসে (১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ) প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-এর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
• 'শিখা' ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক প্রকাশিত প্রখ্যাত বার্ষিক পত্রিকা, যা 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন'-এর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৩.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 
  1. অজিতকুমার দত্ত 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 
  4. মোজাম্মেল হক 
সঠিক উত্তর:
অজিতকুমার দত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিতকুমার দত্ত 
ব্যাখ্যা

•  'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। 
​- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

​অন্যদিকে,
- ​মোজাম্মেল হক - মোসলেম ভারত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ​অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - কল্লোলের নিয়মিত লেখক ছিলেন।
​- প্রেমেন্দ্র মিত্র - কালিকলম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৪.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' সম্পাদনা ও প্রকাশের সাথে যুক্তছিলেন কে?
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৫.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. মণীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - দাদাভাই; বাণভট্ট।
মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শংকর।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৪৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবিরত্ন
  2. অশীতিপর শর্মা
  3. যুবনাশ্ব
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।
 
 অনুবাদ কাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৭.
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ কর্তৃক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ কোন উপাধি লাভ করেছেন?
  1. চলিষ্ণু অভিধান
  2. জ্ঞানতাপস
  3. বিদ্যাবাচস্পতি
  4. হিলাল-ই-ইমতিয়াজ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাবাচস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাবাচস্পতি
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র উপাধিসমূহ হলো-
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁর অপূর্ব অবদানের জন্য তাঁকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তান আমলে তাঁকে বাংলা সাহিত্য সাধনার জন্য 'প্রাইড অভ পারফর্মেন্স পদক' ও দশ হাজার টাকা পুরস্কার এবং মরণোত্তরকালে 'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত করা হয়। ফরাসি সরকার তাঁকে 'সেভলেয়র দ্যে লা অর্দার দ্যেস আর্টস এত দ্যে লেতর্স' উপাধি প্রদান করেছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেসন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতির অভাবে সেটা তিনি গ্রহণ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর সম্মানসূচক 'ডি-লিট' উপাধি দিয়েছে এবং প্রাচীনতম ছাত্রাবাসকে তাঁর নামে নামকরণ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কলাভবনটিও তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত। ১৯৮০-তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও তাঁকে মরণোত্তর দেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা। 

- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: 'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৪৮.
রবীন্দ্র প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে?
  1. সাধনা
  2. প্রগতি
  3. পরিচয়
  4. পূর্বাশা
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
⇒ সাধনা' পত্রিকা:
- ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্র-ভাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'সাধনা' পত্রিকা।
- মূলত 'সাধনা' পত্রিকাটি ঠাকুরবাড়ি কেন্দ্রিক লেখকদের দ্বারা পরিচালিত।
- তবে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এই পত্রিকার প্রাণ। 
- রবীন্দ্র প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পত্রিকা প্রকাশের ৩ বছর পর রবীন্দ্রনাথ নিজে এই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৯.
'রায়বাহাদুর' উপাধি পান কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান

দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য - স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,২৫০.
'নয়া সড়ক' পত্রিকার সম্পাদক -
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫১.
‘রায়বাহাদুর’ কার উপাধি?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন(১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, 
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড,
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন পত্রিকাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনন্দন বাণী ছাপানো হতো?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৩.
সুনন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) রাজশেখর বসু
  2. খ) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  3. গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিমল মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য রচনায় সুনন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। রাজশেখর বসু, নীহাররঞ্জন গুপ্ত এবং বিমল মিত্র যথাক্রমে পরশুরাম, বাণভট্ট এবং জাবালি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১,২৫৪.
মুকুন্দদাসের উপাধি ছিল-
  1. স্বভাব কবি
  2. দুঃখ বর্ণনার কবি
  3. কবি কন্ঠহার
  4. চারণকবি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চারণকবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারণকবি
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• মুকুন্দদাস: 
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন চারণকবি। ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। 
-  তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।
- তিনি বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত 'ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা' জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।

অন্যদিকে, 
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।
• কবি কন্ঠহার বিদ্যাপতির উপাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
'গোলাম মোস্তফা’- এর উপাধি কী?
  1. কবিকন্ঠহার
  2. স্বপ্নাতুর কবি
  3. কাব্য সুধাকর
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য সুধাকর
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা  উপাধি ছিলো- কাব্য সুধাকর।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- 'কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো।
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ উপাধি ছিলো-  স্বপ্নাতুর কবি।
- 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উল্লেখ্য,
• গোলাম মোস্তফা:
১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৬.
‘অবকাশরঞ্জিকা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
  4. হরিশচন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশচন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশচন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় ‘মাসিক পত্রিকা’ নামে সাহিত্য পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এটি ১৮৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৭.
'শিখা' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- দ্বিতীয় (১৯২৮) ও তৃতীয় সংখ্যার (১৯২৯) সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেন,
- চতুর্থ সংখ্যার (১৯৩০) সম্পাদক আবদুর রশিদ এবং
- পঞ্চম সংখ্যার (১৯৩১) আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৫৮.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি, ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৫৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. সওগাত
  4. ভারতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও সাহিত্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৬০.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।


তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬১.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?
  1. শিখা
  2. ক্রান্তি
  3. ঢাকা প্রকাশ
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
ঢাকা প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা প্রকাশ
ব্যাখ্যা

'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,২৬২.
'সীমান্ত গান্ধী’ নামে পরিচিত কে?
  1. ক) রাজীব গান্ধী
  2. খ) ইন্দিরা গান্ধী
  3. গ) মহাত্মা গান্ধী
  4. ঘ) খান আব্দুল গাফফার খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) খান আব্দুল গাফফার খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খান আব্দুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা
- খান আব্দুল গাফফার খান মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
- ভারতের উত্তর - পশ্চিম সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি প্রচার ও ধারণ করায় তাকে 'সীমান্ত গান্ধী' উপাধীতে ভূষিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- ডেইলি স্টার।
১,২৬৩.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. ক্রান্তি
  3. কণ্ঠস্বর
  4. অগত্যা
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

​অন্যদিকে,
- ​'ক্রান্তি' পত্রিকা ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
​- "কণ্ঠস্বর" পত্রিকার সম্পাদক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। 
- ফজলে লোহানী সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় উন্নতমানের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক অগত্যা পত্রিকা

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৪.
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. দিগদর্শন
সঠিক উত্তর:
দিগদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
‘দিগদর্শন’ পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৫.
দীনেশরঞ্জন দাশ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল 
  2. কবিতা
  3. কল্লোল
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন- 'দীনেশরঞ্জন দাশ'।

'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা 'কবিতা' ও 'প্রগতি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা 'লাঙল’ এবং
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকা কালিকলম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,২৬৬.
‘এ নেটিভ’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

---------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৭.
'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অনুরূপা দেবী
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখতেন।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবী - অনুপমা দেবী।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত - দাদাভাই; বানভট্ট।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম — ‘অনিলা দেবী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৮.
জোশুয়া মার্শম্যান নিচের কোন পত্রিকাটির সাথে জড়িত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার দর্পন
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
জোশুয়া মার্শম্যান, (১৭৬৮-১৮৩৭)  পন্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। 

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পন,
- দিগদর্শন, 
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া। 

⇒ বিঃদ্রঃ ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৯.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. উত্থানপর্ব
  2. শনিবারের চিঠি
  3. মোসলেম ভারত
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
⇒ 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির, ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

⇒ কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনি (প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কাণ্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭০.
'সিতারা-এ-খেদমত' ও 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি পান কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. আবুল কালাম আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস),
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭১.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় 'সবুজপত্র' প্রথম প্রকাশিত হয় - 
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭২.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি? 
  1. নবশক্তি
  2. পরিচয়
  3. অরণি
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তি
ব্যাখ্যা

• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।

অন্যদিকে,
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'অরণি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার।
- এটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৩.
নীরচন্দ্র বসু ও পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ক) ভারতবর্ষ
  2. খ) জন্মভূমি
  3. গ) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
  4. ঘ) নবযুগ
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
'জন্মভূমি' পত্রিকার  সম্পাদক ছিলেন- নীরচন্দ্র বসু ও পঞ্চানন তর্করত্ন।

অন্যদিকে,
• 'নবযুগ' পত্রিকার সম্পাদক - কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফফর আহমদ।
• 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা' এর সম্পাদক -মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও মোজাম্মেল হক।
• 'ভারতবর্ষ' পত্রিকার সম্পাদক - জলধর সেন ও অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৪.
বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. দিগদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বেঙ্গল গেজেট
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 'দিগদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

• জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন। এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৫.
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) ১৭ই মে, ১৮৯৯
  2. খ) ২৪ মে, ১৮৯৯
  3. গ) ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
  4. ঘ) ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- তিনি ২২শে অক্টোবর ১৯৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৬.
জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয় কোনটি?
  1. নির্জনতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. পল্লী বংলার কবি
  4. ধূসরতার কবি
সঠিক উত্তর:
পল্লী বংলার কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লী বংলার কবি
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয়- পল্লী বংলার কবি। 

• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৭.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বঙ্গদূত
  3. দিগদর্শন
  4. সমাচার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- 'সমাচার দর্পণ' (১৮১৮-১৮৫২)  শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

- পত্রিকাটির সম্পাদনার ভার মূলত দেশিয় পন্ডিতগণের ওপর পুরোপুরিভাবে ন্যস্ত ছিল। পন্ডিতগণ অনুপস্থিত থাকলে পত্রিকাটিতে নতুন সংবাদ প্রকাশ বন্ধ থাকতো। সমাচার দর্পণের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। ১৮২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক পদে যোগদান করলে পন্ডিত তারিণীচরণ চার বৎসর সমাচার দর্পণ সম্পাদনে সহায়তা করেন। যারা বাংলা ভাষা জ্ঞাত নন তাদের জন্য  ৬ মে ১৮২৬ তারিখে শ্রীরামপুর হতে সমাচার দর্পণের ফার্সি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। উক্ত ফার্সি সাপ্তাহিক সংস্করণের নাম আত্থবারে শ্রীরামপুর যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

- ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু  কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই এদেশের লোকদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শিখবার সাড়া পড়ে যায় একারণে শ্রীরামপুর মিশন ১৮২৯ সাল হতে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করার ব্যবস্থা করে। ১৮৩২ সাল হতে সপ্তাহে দুবার প্রকাশ আবশ্যকবোধ হলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ জানুয়ারি বুধবার। ১৮৪০ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পাদকের ওপর নতুন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র গবর্ণমেন্ট গেজেট সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হওয়ার কারণে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৪১ তারিখে সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- দ্বিতীয় পর্যায় (১৮৪২-৪৩) এ পর্যায়ে পত্রিকাটি ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় ১৮৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে  কলকাতার দেশিয় সম্পাদক ভগবতীচরণ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পত্রিকাটি অল্পদিন চলেছিল।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'বেঙ্গল গেজেট' ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম মুদ্রিত ইংরেজি সংবাদপত্র, যা ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি জেমস অগাস্টাস হিকি কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন। এটি একটি স্বাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল যা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। 

• 'বঙ্গদূত' ১৮২৯ সালের ১০ই মে (মতান্তরে ৯ই মে) প্রকাশিত একটি প্রভাবশালী সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা। নীলরতন হালদারের সম্পাদনায় শুরু হওয়া এই পত্রিকাটির সাথে রাজা রামমোহন রায়, দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্নকুমার ঠাকুর ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। 

• 'দিকদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকী বা মাসিক পত্রিকা। শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,২৭৮.
'সত্য পীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কায়কোবাদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত। 
• কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রকৃত নাম- জসীম উদ্দীন মোল্লা।
• কাজেম আল কোরেশীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- কায়কোবাদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৯.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা কে?
  1. নীলমণি হালদার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 
-------
অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮০.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বনফুল
  2. দৃষ্টিহীন
  3. যাযাবর
  4. যুবনাশ্ব
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সুধা নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮১.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৮২.
‘ভাষাচার্য’ উপাধিটি কার?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৩.
'শনিবারের চিঠি' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. উনিশ শতকের
  2. আঠারো শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' বিশ শতকের পত্রিকা। 

'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯২৪ সালে। পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন- সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৪.
”সনাতন পাঠক” কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমেন্দ্র মিত্র
  4. হরিনাথ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ”সনাতন পাঠক”।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীল লোহিত
- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমালাকান্ত।
- প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো - কৃত্তিবাস ভদ্র
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১,২৮৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তী কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. প্রগতি
  3. পূর্ণিমা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'কবিতা' ও 'প্রগতি' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৬.
'জাবালি' ছদ্মনামটি কার?
  1. হায়াৎ মামুদ
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. বিমল মিত্র
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৭.
'মরমি কবি' নামে পরিচিত -
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. লালন শাহ
  3. হাসন রাজা
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
হাসন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসন রাজা
ব্যাখ্যা
মরমি কবি হিসেবে হাসন রাজা: 
• হাসন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে।
• তাঁর সম্পর্কে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন:
‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।
• ’হাছন উদাস (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।

---------------------------- 
হাসন রাজা ছিলেন এক জনপ্রিয় মরমি কবি ও সাধক, যিনি আধ্যাত্মিক এবং মানবিক অনুভূতিতে সমৃদ্ধ গান রচনা করে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী, এবং তিনি সুনামগঞ্জের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

জীবনী:
• জন্ম: ১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামে।
• মৃত্যু: ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর।
• পরিচিতি: তিনি আঞ্চলিক ভাষায় রচিত প্রায় এক হাজার গানের জন্য প্রসিদ্ধ। তার গানের মধ্যে সমাজ, ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা, এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিবেদন গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
• গানের ভণিতা: হাসন রাজা তাঁর গানের ভণিতায় নিজেকে "পাগলা হাসন রাজা," "উদাসী," "দেওয়ানা," এবং "বাউলা" বলে অভিহিত করেছেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতিফলন।

উল্লেখযোগ্য গান:
• "লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার": এই গানে তাঁর দারিদ্র্যের প্রতীকী ব্যাখ্যা ও আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি আকর্ষণ প্রতিফলিত হয়েছে।
• "সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল": এই গানে প্রিয়জন বা স্রষ্টার প্রতি অগাধ প্রেম এবং তার দ্বারা নিজেকে ‘দেওয়ানা’ ভাবা হয়েছে।

হাসন রাজার গানে সাধারণ জীবনের নানা বোধ এবং আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণ রয়েছে, যা তাঁকে বাংলার মরমি সংগীতের এক বিশিষ্ট রূপকার করে তুলেছে।

উৎস:বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৮.
''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'' কথাটি মুদ্রিত থাকতো কোন সাহিত্য পত্রিকায়?
  1. কল্লোল
  2. শিখা
  3. মোহাম্মদী
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা
ব্যাখ্যা

• শিখা পত্রিকা: 
- শিখা ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)। 
 
উল্লেখ্য, 
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত। 
- এ উক্তিকেই শিখা পত্রিকার লেখকগোষ্ঠী তাদের মটো বা আদর্শবাণী হিসেবে বিবেচনা করত।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৯.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হতো কাকে?
  1. মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৯০.
'কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক নন-
  1. মুরলীধর বসু
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
•  'কালিকলম' পত্রিকার সম্পাদক নন- বুদ্ধদেব বসু। 

• কালিকলম:

- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- টেকসই অ্যান্টিক কাগজে ছাপা কালিকলম-এর সাইজ ডাবল ক্রাউন। দাম প্রতি সংখ্যা চার আনা। বার্ষিক ডাকমাশুলসহ সাড়ে তিন টাকা। প্রত্যেক মাসের ৩০ তারিখে এটি প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকাটির মেয়াদকাল ছিল মাত্র চার বছর। এ সময় দু’ একটি সংখ্যা বাদে ১৩৩৬ সালের মাঘ মাসে বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে ।

- কালিকলম-এর ২য় বর্ষে এসে প্রেমেন্দ্র মিত্র পত্রিকা ছেড়ে যান। এরপর শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও মুরলীধর বসুর যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি আরও এক বছর চলে। তৃতীয় বর্ষে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ও পত্রিকা ছেড়ে চলে যান। এরপর বন্ধ হওয়া অবধি মুরলীধর বসু উক্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,২৯১.
‘সমকাল' সাহিত্যপত্রের সম্পাদক ছিলেন-
  1. শামসুর রাহমান
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯২.
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র কোন পত্রিকা?
  1. ঢাকা প্রকাশ
  2. সৈনিক
  3. ইত্তেফাক
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈনিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল - 'সৈনিক' পত্রিকা'। 
- এটি সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশিত হত।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ'
- এর উদ্যোক্তাগণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন। সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিশেরও মুখপত্র।
- পত্রিকাটিতে তৎকালীন বাংলা ভাষার প্রতিযশা সকল লেখকগণই লিখে বাংলা সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সহায়তা করেন।
- সাপ্তাহিক সৈনিক  এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় - ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো আর্কাইভ। 
১,২৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ভিখারিনী’ ছোটগল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয়- রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৪.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় বুদ্ধদেব বসু কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) শতদল
  3. গ) বাসন্তিকা
  4. ঘ) অবদূত
সঠিক উত্তর:
গ) বাসন্তিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
পতিদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র থাকা অবস্থায় জগন্নাথ হলের বার্ষিকী 'বাসন্তিকা' (১৯২৭-২৮) পত্রিকা সম্পাদনা করে প্রশংসিত হন। পত্রিকাটি আজও প্রকাশিত হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৯৫.
‘সমাচার দর্পন’ পত্রিকাটির প্রকাশকাল কোনটি?
  1. ১৮০১ সাল
  2. ১৮২০ সাল
  3. ১৮১৮ সাল
  4. ১৮২৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৮ সাল
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৬.
’ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. দীনেশরঞ্জন দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
’ধূমকেতু’ পত্রিকা:
 - ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় ’আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার পত্রিকা নিষিদ্ধ করে।
- এজন্যে নজরুলকে একবছরের জন্যে কারাবাস ভোগ করতে হয়।
 - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যা পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
- শরৎচন্দ্রের কিছু নিবন্ধও এতে প্রকাশিত হয়।
- বিপ্লব, কৃষক-মজদুর ও মধ্যবিত্তের জাগৃতি ছিল এর মূল লক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৭.
‘পূর্বমেঘ’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. মনোমোহন বসু
  2. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
‘পূর্বমেঘ’ পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহি থেকে ‘পূর্বমেঘ’ (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে।
- বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত ‘পূর্বমেঘের’ আয়ুকাল।
- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী ও মুস্তফা নূরউল ইসলাম এবং প্রকাশক ছিলেন এ. আর. মল্লিক।
- উচ্চমার্গীয় সাহিত্যালোচনার পাশাপাশি সৃজনশীল রচনার নমাদর ছিল এ পত্রিকায়।
- ঢাকা থেকে যেকালে ‘সমকাল’ (১৯৫৭) প্রকাশ হচ্ছে, ঠিক সে-কালেই রাজশাহী থেকে ‘পূর্বমেঘ’ প্রকাশ দেশে সাহিত্য চর্চার ইতিবাচক উত্তরণকে চিহ্নিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৮.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

অন্যদিকে,
• হাসান আজিজুল হক ও শওকত ওসমানের ছদ্মনাম ব্যবহারে কোনো সাহিত্য রচনা করেননি। 

• সৈয়দ মুজতবা আলীর অন্য ছদ্মনাম:
- মুসাফির,
- ওমর খৈয়াম,
- প্রিয়দর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৯.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বাংলা একাডেমি জার্নাল
  2. ধানশালিকের দেশ
  3. উত্তরাধিকার
  4. ঢাকা নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা নিউজ
ব্যাখ্যা

• ঢাকা নিউজ:
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
- এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল আলেক্সান্ডার ফর্বেসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয়। 

• অন্যদিকে:
- বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি পত্রিকা:
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

• উত্তরাধিকার:
- মাসিক পত্রিকা।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

• ধানশালিকের দেশ:
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা।
- কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা:
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বাংলা একাডেমি জার্নাল:
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
- বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩০০.
'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. নূরজাহান বেগম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. রিজিয়া খান
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• বেগম পত্রিকা:
- মহিলাদের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’। 
- ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হবার কিছুদিন আগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেগম পত্রিকা’।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন।
- বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল।

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়।
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা 

• শিশুতোষগ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

• আত্মজীবনী
- একালে আমাদের কাল 

 ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।