বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

মোট প্রশ্ন২৫৯এই পাতা৫৯প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

PrepBank · পাতা / · ২০১২৫৯ / ২৫৯

২০১.
ভরবেগ কী ধরনের রাশি?
  1. ভেক্টর
  2. স্কেলার
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর
ব্যাখ্যা
• ভরবেগ:
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভর ও তার বেগের গুণফল।

• ভরবেগ,
p = mv 
এখানে,
p = ভরবেগ
m = ভর (স্কেলার রাশি)
v = বেগ (ভেক্টর রাশি)

• যেহেতু বেগ একটি ভেক্টর রাশি, তাই ভরবেগও একটি ভেক্টর রাশি । 
• ভরবেগের মান এবং দিক উভয়ই থাকে।
• এটির দিক বেগের দিকেই নির্দেশ করে।
২০২.
উচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে; কারণ উচ্চ পর্বত চূড়ায়-
  1. অক্সিজেন কম
  2. ঠাণ্ডা বেশি
  3. বায়ুর চাপ বেশি
  4. বায়ুর চাপ কম
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
- উঁচু পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা থাকে। 
কারণ- 
বায়ুর চাপ কম
• শুষ্ক বায়ু এবং 
• অক্সিজেন স্বল্পতা ইত্যাদি কারণে রক্তনালিতে চাপ পড়ে, ফলে রক্তপাত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২০৩.
বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস কী জন্য বিখ্যাত?
  1. প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য
  2. ত্রিকোণমিতির ভিত প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. পড়ন্ত বস্তুর সূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য
  4. গতির সূত্রাবলী আবিষ্কারের জন্য
সঠিক উত্তর:
প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য
ব্যাখ্যা
• প্লবতার সূত্র এবং আর্কিমিডিসের নীতি পানির ভিতরে কোনো বস্তুর বৈশিষ্ট্য এবং তরল পদার্থের সাথে তার সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে উভয়ের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

প্লবতার সূত্র:
- প্লবতার সূত্রটি আর্কিমিডিসের সূত্র নামেও পরিচিত।
- বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস - প্লবতা সূত্র আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- এটি মূলত হল:
"যে কোনো বস্তু যখন কোনো তরলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিমজ্জিত থাকে, তখন সেই বস্তুটি তরলের দ্বারা একটি ঊর্ধ্বমুখী বল অনুভব করে, যার মান বস্তু দ্বারা স্থানচ্যুত তরলের ওজনের সমান।"
- প্লবতা = শূন্যস্থানে বস্তুর ওজন − তরলে নিমজ্জিত বস্তুর ওজন

আর্কিমিডিসের নীতি:
- আর্কিমিডিসের নীতি হচ্ছে প্লবতার সূত্রের মূল ধারণা এবং এটি প্রাচীন গ্রিক গণিতজ্ঞ আর্কিমিডিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর্কিমিডিসের নীতির মূল বক্তব্য হলো:
- "যে কোনো বস্তুকে একটি তরলে নিমজ্জিত করলে, তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে যা সেই বস্তু দ্বারা তরলে স্থানচ্যুত তরলের ওজনের সমান।"
- এই নীতি বস্তুর ভাসমানতা এবং তরলে বস্তু কতটা ডুববে তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এটি জাহাজ নির্মাণ, পণ্যের ভাসমানতা এবং বিভিন্ন পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উদাহরণ:
- জাহাজ: একটি জাহাজ সমুদ্রের পানিতে ভাসছে কারণ এটি এত বড় যে এটি অনেক পানি স্থানচ্যুত করে এবং তারপরে প্লবতার সূত্রের মাধ্যমে একটি বড় উর্ধ্বমুখী বল অনুভব করে।
- গ্লাসে পানির তলায় নিমজ্জিত বস্তু: যদি একটি বস্তুকে পানিতে নিমজ্জিত করা হয়, এটি একটি ঊর্ধ্বমুখী বল অনুভব করবে যা পানির দ্বারা স্থানচ্যুত পানি ওজনের সমান।

- প্লবতার সূত্র এবং আর্কিমিডিসের নীতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ রয়েছে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৪.
ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। কোন ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে?
  1. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. অন্তর্দহন ইঞ্জিন
  3. স্টারলিং ইঞ্জিন
  4. রকেট ইঞ্জিন
সঠিক উত্তর:
রকেট ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রকেট ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা

• ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। রকেট ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে।

- ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বেলুনটি ছুটে যায় এবং এই প্রক্রিয়াটি নিউটনের তৃতীয় সুত্রের (Newton's Third Law of Motion) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- নিউটনের তৃতীয় সুত্রটি হলো: "প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।"
- বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বেলুনের ভিতরের বাতাস উচ্চচাপে বাইরে বেরিয়ে আসে, যা বেলুনের উপর বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া হিসাবে বেলুনটি বিপরীত দিকে ছুটে যায়।
- এই ধারণাটি রকেট ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালীতে ব্যবহৃত হয়।
- রকেট ইঞ্জিনে জ্বালানী পুড়িয়ে উচ্চচাপের গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এর ফলে রকেটটি বিপরীত দিকে ধাবিত হয়।

উৎস: ScienceDirect & Britannica Website

২০৫.
F = ma সূত্রের জন্য, F এর মাত্রা কোনটি?
  1. MLT-2
  2. ML2T-3
  3. ML2T-1
  4. ML2T2
সঠিক উত্তর:
MLT-2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
MLT-2
ব্যাখ্যা
• F = ma সূত্রের জন্য, F (বল) এর মাত্রা  MLT-2

• মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

- কাজের মাত্রা ML2T-2.
- শক্তির মাত্রা ML2T-2.
- টর্কের মাত্রা ML2T-2.
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ
  2. একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ
  3. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ একটি মহাকর্ষ
  4. উপরের সবকয়টি সত্য
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি সত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি সত্য
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয় তবে এই আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল (Gravitational force) বলে অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ (gravitational force) বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।

মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মহাকর্ষ বলে।

• অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
• অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
• অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
• মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
• অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
• সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
• গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
• একটি গাছ ও পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ হলো অভিকর্ষ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৭.
একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল?
  1. ৬০ নিউটন
  2. ৪০ নিউটন
  3. ৭৫ নিউটন
  4. ৮০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
৪০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০ নিউটন
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বস্তুর ভর ২০ কেজি। এর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হওয়ায় এর ত্বরণ হলো ২ মি./সে । প্রযুক্ত বলের মান কত ছিল? 

সমাধান: 
এখানে, 
বস্তর ভর, m = ২০ কেজি, 
ত্বরণ, a = ২ মি/সে
বল, F = ? 

আমরা জানি,
F = ma
= ২০ কেজি × ২ মি/সে
= ৪০ নিউটন 

সুতরাং, প্রযুক্ত বলের মান = ৪০ নিউটন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৮.
যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ করে দ্বিগুণ হয়ে যায় কিন্তু এর ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে অভিকর্ষজ ত্বরণ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. চারগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. এক চতুর্থাংশ হবে
  4. দ্বিগুণ হবে
সঠিক উত্তর:
এক চতুর্থাংশ হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক চতুর্থাংশ হবে
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g তার ভর M এবং ব্যাসার্ধ R-এর উপর নির্ভর করে সূত্র g = GM/R2 দ্বারা, যেখানে G হলো অভিকর্ষ ধ্রুবক। যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায়, অর্থাৎ R → 2R, কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ হবে gnew = GM/(2R)2 = GM/4R2 = g/4। অর্থাৎ অভিকর্ষজ ত্বরণ চার গুণ কমে যাবে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) এক চতুর্থাংশ হবে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ (Gravitational Acceleration):
- পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ g নির্ভর করে পৃথিবীর ভর (M) এবং ব্যাসার্ধ (R) এর উপর। সূত্র হলো: g = GM/R2, যেখানে G হলো মহাজাগতিক অভিকর্ষধ্রুবক।
- যদি পৃথিবীর ব্যাসার্ধ হঠাৎ দ্বিগুণ হয়ে যায় (R → 2R) কিন্তু ভর অপরিবর্তিত থাকে (M অপরিবর্তিত), তাহলে g এর মান কিভাবে পরিবর্তিত হবে তা নির্ণয় করতে হবে।
- সূত্র অনুযায়ী নতুন অভিকর্ষজ ত্বরণ g' হবে: g' = GM/(2R)2 = GM/(4R2) = g/4।  
- অর্থাৎ, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হলে অভিকর্ষজ ত্বরণ চারগুণ কমে যাবে, কারণ এটি ব্যাসার্ধের বর্গের বিপরীত আনুপাতিক।  
- এর ফলে, বস্তু পৃথিবীর পৃষ্ঠে আগের তুলনায় অনেক ধীরে পড়বে।  

সুতরাং, অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন: গ) এক চতুর্থাংশ​।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

২০৯.
কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হলে তার ওজন - 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১০.
যখন লিফট উপরের দিকে ত্বরণ সহকারে চলে, তখন আরোহীর অনুভূত ওজন কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. প্রকৃত ওজনের সমান
  3. প্রকৃত ওজনের চেয়ে কম
  4. প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি
সঠিক উত্তর:
প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি
ব্যাখ্যা
লিফটে ও মহাশূন্যে ওজনের তারতম্য: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে g এর মান নির্দিষ্ট, ফলে সেখানে কোনো ব্যক্তির ওজনও নির্দিষ্ট। 
- তা সত্ত্বেও পৃথিবীতে কোনো স্থানে কোনো ব্যক্তি তার ওজনের ভিন্নতা অনুভব করতে পারেন, এমনকি নিজেকে ওজনহীনও মনে করতে পারেন। কারণ প্রকৃত ওজন (W = mg) এবং কোনো ব্যক্তির অনুভূত ওজন একই রাশি না। 
যেমন- লিফটের ভিতরে অনুভূত ওজন এর একটি উদাহরণ। 
(১) স্থির লিফটের ভিতরে অনুভূত ওজন: 
- স্থির লিফটের ভিতরে একজন আরোহী লিফটের মেঝের উপর তাঁর প্রকৃত ওজনের (W = mg) সমান বল প্রয়োগ করেন। লিফটের মেঝে বা তলদেশও আরোহীর উপর সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে, যা আরোহী ওজন হিসেবে অনুভব করেন। এক্ষেত্রে অনুভূত ওজন প্রকৃত ওজনের সমান মানের হয়। 

(২) সমবেগে গতিশীল লিফটে অনুভূত ওজন: 
- সমবেগে উপরে অথবা নিচে গতিশীল লিফটের আরোহীও একই সাথে সমবেগে গতিশীল থাকেন। ফলে আরোহীর উপর শুধু তার প্রকৃত ওজন (পৃথিবীর আকর্ষণ বল) ক্রিয়া করে। আরোহী লিফটের উপর প্রকৃত ওজনের সমান বল প্রয়োগ করেন ও লিফটের মেঝে এর সমান প্রতিক্রিয়া বল আরোহীর উপর প্রয়োগ করে। আরোহীর অনুভূত ওজন তাঁর প্রকৃত ওজনের সমান মানের হয়। 

(৩) উপরের দিকে ত্বরণযুক্ত লিফটে ওজন: 
- স্থির অবস্থা থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করতে লিফটের কেবল বা তারের মাধ্যমে (লিফট ও আরোহীর মোট ওজনের চেয়ে বেশি) একটি অতিরিক্ত ঊর্ধ্বমুখী বল লিফটের উপর প্রয়োগ করতে হবে। লিফটের মেঝে বা তলদেশ আরোহীর উপর তাঁর প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি বল প্রয়োগ করবে। ফলে আরোহীর অনুভূত ওজন তাঁর প্রকৃত ওজনের চেয়ে বেশি হয়। এই অনুভূত ওজনকে প্রতিক্রিয়া বল হিসেবেও চিন্তা করা যায়। 

(৪) নিচের দিকে ত্বরণযুক্ত লিফটে ওজন: 
- উপরে অবস্থিত স্থির লিফটকে নিচের দিকে চলমান করতে লিফটের কেবল বা তারের মাধ্যেমে প্রযুক্ত টানকে (লিফট ও আরোহীর মোট ওজনের থেকে) কমিয়ে দিতে হবে। লিফটের সাথে সাথে নিচে চলমান আরোহীর উপর লিফটের তলদেশ বা মেঝে আরোহীর প্রকৃত ওজনের চেয়ে কম মানের বল প্রয়োগ করে। তাই আরোহীর অনুভূত ওজন তার প্রকৃত ওজনের চেয়ে কম হয়। 

(৫) মুক্তভাবে পড়ন্ত লিফটের ভিতরে ওজন: 
- দুর্ভাগ্যক্রমে লিফটের ভারবহী কেবল বা তারটি ছিড়ে গেলে লিফটটি আরোহীসহ নিচের দিকে মুক্তভাবে (বাতাসের বাধা ও অন্যান্য ঘর্ষণ উপেক্ষা করলে) পড়তে থাকে। লিফটের দড়িতে কোনো টান না থাকায় (কেবল ছিড়ে যাওয়ায়) লিফটের তলদেশ বা মেঝে আরোহীর উপর কোনো বল প্রয়োগ করে না। ফলে আরোহী নিজেকে ওজনহীন অনুভব করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২১১.
নিউটনের মহাকর্ষ বলের মান কোনটির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত?
  1. কেবল কণার গতি
  2. কণার ভরের গুণফল
  3. কণার ভরের যোগফল
  4. কেবল কক্ষপথের দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
কণার ভরের গুণফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণার ভরের গুণফল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

• মহাকর্ষ ও নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র (Gravitation and Newton's Law of Gravitation):
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন।
- কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মন্ডলীর গ্রহ উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না।
- ১৬৮৭ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল।
- অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন।
- এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।

•  সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১২.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? 
  1. পুকুরে
  2. খালে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
সঠিক উত্তর:
সাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগরে
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ: 
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে। 
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়। 
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম। 
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয় ফলে সাগরে বা সমুদ্রে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৩.
মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. সবল নিউক্লীয় বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. তড়িৎচুম্বকীয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।

প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৪.
সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের-
  1. জটিল গতি
  2. অর্ধবৃত্তাকার গতি
  3. উপবৃত্তাকার গতি
  4. রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। 
অথবা, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. বস্তুর ভরের পরিমাণ
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  3. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২১৬.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. Z বোসন
  3. ফোটন
  4. গ্লুঅন
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্রাভিটন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বলের জন্য আলাদা আলাদা বাহক কণা রয়েছে, যেমন আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের বাহক কণা হলো ফোটন। তবে মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্রেও একটি কণা কল্পনা করা হয়েছে, যাকে গ্রাভিটন বলা হয়। এটি একটি কাল্পনিক, বিমাত্রিক কণা, যা মহাকর্ষীয় শক্তি পরিবহনের কাজ করে। যদিও গ্রাভিটন এখনও সরাসরি আবিষ্কার হয়নি, তবুও এটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে মহাকর্ষের বাহক কণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) গ্রাভিটন।


মৌলিক বল:

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।

- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।

অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২১৭.
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে-
  1. ক) 0
  2. খ) অসীম
  3. গ) ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড ২
  4. ঘ) ৮.৯ মিটার/সেকেন্ড ২
সঠিক উত্তর:
ক) 0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 0
ব্যাখ্যা
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে অর্থাৎ, লিফটেরও যদি g ত্বরণ হয়, তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে (g- g) অর্থাৎ শূন্য। ফলে আমরা লিফটের উপর কোনাে বল প্রয়ােগ করব না।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
২১৮.
ভর এবং ওজনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
  1. ভর স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়, ওজন অপরিবর্তিত
  2. ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
  3. উভয়ই স্থানভেদে পরিবর্তিত
  4. উভয়ই অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর অপরিবর্তিত, ওজন স্থানভেদে পরিবর্তিত
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না কিন্তু স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।

• ভর:
- একে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- SI পদ্ধতিতে এর একক কিলোগ্রাম(kg)।
- কোনো বস্তুর ভর বস্তুর অবস্থানভেদে পরিবর্তন হয় না।

• ওজন:
- ওজন এক প্রকার বল।
- ওজনের একক নিউটন। এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- বলের মাত্রাই ওজনের মাত্রা (MLT- 2)।
- বস্তুর ওজন যে বিন্দুতে খাড়া নিচের দিকে ক্রিয়া করে, তাকে ভরকেন্দ্র বলে।
- স্থানভেদে বস্তুর ওজনের তারতম্য হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর বস্তুর ওজন নির্ভরশীল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৯.
পৃথিবীতে কোন বস্তুর ভর ৬ কেজি হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে এর ভর কত হবে?
  1. ক) ৩ কেজি
  2. খ) ২ কেজি
  3. গ) ১ কেজি
  4. ঘ) ৬ কেজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬ কেজি
ব্যাখ্যা
পদার্থের ভর সবসময়ই অপরিবর্তিত থাকে। তাই পৃথিবীতে যে বস্তুর ভর ৬ কেজি, চাঁদেও তার ভর ৬ কেজিই থাকবে।

কিন্তু, চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীপৃষ্ঠে ঐ বস্তুর ওজনের ১/৬ অংশ হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ৬ নিউটন হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১ নিউটন।
২২০.
ঘর্ষণ বলের দিক কেমন হয়?
  1. গতির দিকে
  2. গতির বিপরীতে
  3. লম্বভাবে
  4. কোন দিক থাকে না
সঠিক উত্তর:
গতির বিপরীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতির বিপরীতে
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণ বল: 
- যখন কোনো বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তখন বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে যে বাধাদানকারী বল সৃষ্টি হয়, তাই ঘর্ষণ বল।

• ঘর্ষণ বল সব সময়ই প্রয়োগ করা বলের বিপরীত দিকে কাজ করে অর্থাৎ গতির বিপরীতে কাজ করে।
- সেজন্য স্বাভাবিকভাবেই ঘর্ষণ বল গতিকে কমিয়ে দেয়। 

• ঘর্ষণের সময় তাপ উৎপন্ন হয়। ঘর্ষণ যেমন উপকারী তেমনি অপকারী ও ।
- এই কারনে ঘর্ষণকে বলা হয় প্রয়োজনীয় উপদ্রব।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২২১.
সৌর জগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত সূত্র কে প্রদান করেন? 
  1. নিউটন
  2. কেপলার
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপারনিকাস
সঠিক উত্তর:
কেপলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেপলার
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র: 
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। 
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। 
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে। 
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে। 
- জন কেপলার সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 
দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। 
তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২২.
ভরবেগ কোন ধরনের রাশি?
  1. স্কেলার রাশি
  2. ভেক্টর রাশি
  3. মাত্রাহীন রাশি
  4. ধ্রুব রাশি
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেক্টর রাশি
ব্যাখ্যা

• ভেক্টর রাশি — ভরবেগের মানের পাশাপাশি দিকও থাকে, তাই এটি ভেক্টর রাশি।

• ভরবেগ:
- ভরবেগ = বস্তুর ভর × বেগ।
- গাণিতিকভাবে, p = mv.
- এখানে p → ভরবেগ, m → ভর, v → বেগ।
- SI একক → kg·m/s.

• ভরবেগের প্রকৃতি:
- ভরবেগের মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বেগের দিক পরিবর্তিত হলে ভরবেগের দিকও পরিবর্তিত হয়।
- তাই ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি।

• অন্যান্য অপশন:
- স্কেলার রাশি → যার শুধু মান আছে, দিক নেই।
- মাত্রাহীন রাশি → যার কোনো একক বা মাত্রা নেই।
- ধ্রুব রাশি → যার মান অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২২৩.
সান্দ্রবল কী ধরনের বল?
  1. সংরক্ষণশীল বল
  2. অসংরক্ষণশীল বল
  3. অভিকর্ষজ বল
  4. চৌম্বক বল
সঠিক উত্তর:
অসংরক্ষণশীল বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা

• সংরক্ষণশীল বল:
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়।
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে।
- উদাহরণ: অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি।

• অসংরক্ষণশীল বল:
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা
হয়।
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না ।
- উদাহরণ: ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর আদর্শ মান কত?
  1. 9.75 ms²
  2. 9.81 ms²
  3. 11.75 ms²
  4. 9.63 ms²
সঠিক উত্তর:
9.81 ms²
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.81 ms²
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms², মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms²।
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms² ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 ms²।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে ৪-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 ms²।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms²।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৫.
নিচের কোনটি অভিকর্ষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সঠিক?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বলের মতো বিকর্ষণ সৃষ্টি করে
  2. কেবল মহাকাশে কার্যকর, পৃথিবীর পৃষ্ঠে প্রযোজ্য নয়
  3. সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
  4. কেবল ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে, মহাকর্ষের অংশ নয়
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব সময় কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল একটি বল
ব্যাখ্যা

• অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়।
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

 • অভিকর্ষ বলের বৈশিষ্ট্য:
- অভিকর্ষ বল একটি কেন্দ্রমুখী বল।
- অভিকর্ষ বলের অপর নাম মাধ্যাকর্ষণ বল।
- অভিকর্ষের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের পরেও আমরা ছিটকে পড়ি না।
- অভিকর্ষের ফলেই বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৬.
দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন বস্তুতে কি সৃষ্টি হয়?
  1. ঘূর্ণন
  2. সমানুপাতিক পরিবর্তন
  3. স্থিতিশীল ভারসাম্য
  4. পরিপূর্ণ বিকলন
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণন
ব্যাখ্যা

- দুটি সমান মানের বল যদি বিপরীত দিক থেকে বস্তুতে প্রয়োগ করা হয় এবং একই সরলরেখায় না থাকে, তখন তা ঘূর্ণন শুরু করে।
- তবে এই বলগুলো একটি মোমেন্ট বা টর্ক সৃষ্টি করে।
- টর্কের কারণে বস্তু ঘূর্ণন (Rotation) শুরু করে।
- এই অবস্থাকে টর্ক বা ঘূর্ণন বলের প্রভাবে সৃষ্টি ঘূর্ণন বলা হয়।

উদাহরণ:
- ঘুর্ণিঝড়
- দরজা খোলার ক্ষেত্রে হিঞ্জের চারপাশে দুইটি বিপরীত দিকের বল প্রয়োগ হলে দরজা ঘূর্ণন করে।
- জিমন্যাস্টিক রিংয়ে হাত দিয়ে টর্ক প্রয়োগ করলে ঘূর্ণন দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান।

২২৭.
সূর্যের ভর পৃথিবীর ভরের অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি হওয়ার সত্ত্বেও সূর্য কেন পৃথিবীকে তার নিজের দিকে টেনে নিতে পারছে না?
  1. ক) পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য
  2. খ) পৃথিবীর ঘনত্বের জন্য
  3. গ) কেন্দ্রমুখী বলের কারণে
  4. ঘ) কেন্দ্র বহির্মুখী বলের কারণে
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন্দ্র বহির্মুখী বলের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন্দ্র বহির্মুখী বলের কারণে
ব্যাখ্যা
সাধারণভাবে বললে, গ্রহগুলো বৃত্তাকার পথে ঘুরে মহাকর্ষ বল তথা কেন্দ্রমুখী বলের প্রভাবে। এ বলের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ একটি কেন্দ্রবিমুখী বল ক্রিয়া করে যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবী বা গ্রহগুলো তাদের কক্ষপথে চলতে থাকে।
২২৮.
কোন বলের প্রভাবে মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে?
  1. তাড়িতচৌম্বক বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• মহাকর্ষ বল:
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে।
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে।
- মহাকর্ষ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি।
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে মহাকর্ষ বল কার্যকর হয়।
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৯.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
  2. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
  3. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  4. কণাদ্বয়ের আকার ও রঙ
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বল নির্ভর করে কণাদ্বয়ের ভর ও তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর।
সঠিক উত্তর: ক) কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব। 

মহাকর্ষ: 

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৩০.
একটি আদর্শ রাইফেলের জন্য, আদর্শ শুটিং পরিস্থিতিতে রাইফেল থেকে নির্গত বুলেটটি সম্ভাব্য কত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে?
  1. 0.8 km
  2. 1.9 km
  3. 3.2 km
  4. 6.9 km
সঠিক উত্তর:
3.2 km
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3.2 km
ব্যাখ্যা
• আদর্শ রাইফেলের বুলেটের সর্বোচ্চ দূরত্ব:
- একটি আদর্শ রাইফেলের বুলেট আদর্শ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৩.২ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এর কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

শুটিং কোণ:
- সাধারণত, ৪৫ ডিগ্রি কোণে শুট করলে বুলেট সবচেয়ে দূর পর্যন্ত যায়। এই কোণ বুলেটকে উঁচুতে উঠতে এবং বেশি দূরত্বে যেতে সহায়তা করে।

প্রাথমিক গতি:
- রাইফেল থেকে বের হওয়ার সময় বুলেটের প্রাথমিক গতি খুবই বেশি থাকে, যা তাকে দূরত্ব অতিক্রম করতে শক্তি যোগায়।

বাতাসের প্রভাব:
- আদর্শ পরিস্থিতিতে বাতাসের গতি ও দিকের প্রভাব কম থাকে। বাতাসের বাধা কম হলে বুলেট সহজেই বেশি দূরত্বে যেতে পারে।

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি:
- মাধ্যাকর্ষণ বুলেটকে নিচে টেনে আনে। তবুও প্রাথমিক গতি ও শুটিং কোণ ঠিক থাকলে বুলেট অনেকদূর অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।

সূত্র: livescience [লিংক]
২৩১.
কোন বিজ্ঞানী পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জোহান কেপলার
  4. গ্যালেলিও গ্যালিলাই
সঠিক উত্তর:
গ্যালেলিও গ্যালিলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালেলিও গ্যালিলাই
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ: 
- কোন বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষের প্রভাবে মাটিতে পড়ে। 
- বাতাসের বা অন্য কোন বাঁধা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল অভিকর্ষের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুকে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু। 
- ষোড়শ শতাব্দীতে ইটালীর বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গ্যালেলিও গ্যালিলাই পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে তিনটি সূত্র দেন, এই সূত্রগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলা হয়। 
- এই সূত্রগুলো এখন সর্বজন গৃহীত সূত্র। 
- সূত্রগুলো নিম্নরূপ - 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বস্তু t সময়ে v বেগ প্রাপ্ত হলে, v ∝ t  । 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩২.
তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তা মূলত কোন ধরনের ঘর্ষণ?
  1. স্থিতি ঘর্ষণ
  2. চল ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. প্রবাহী ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা

• তরলের মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে।

• ঘর্ষণ:
- দুটি স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের মধ্যে আপেক্ষিক গতির বিরোধী যে বল ক্রিয়া করে তাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণ বল সর্বদা গতির বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে।
- স্পর্শকৃত পৃষ্ঠের প্রকৃতি, মসৃণতা ও চাপের উপর ঘর্ষণের মান নির্ভর করে।
- ঘর্ষণ না থাকলে হাঁটা, বস্তু ধরা বা যানবাহন চলাচল সম্ভব হতো না।

• ঘর্ষণের প্রকারভেদ:
- স্থিতি ঘর্ষণ: কোনো বস্তু স্থির অবস্থায় থাকলে এবং তাকে সরানোর চেষ্টা করলে যে প্রতিরোধী বল ক্রিয়া করে।
- চল বা পিছলানো ঘর্ষণ: একটি বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে স্লাইড বা পিছলে চললে যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।
- আবর্ত ঘর্ষণ: কোনো বস্তু গড়িয়ে চলার সময় যে ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করে।
- প্রবাহী ঘর্ষণ: তরল বা বায়ুর মধ্যে বস্তুর চলাচলের ফলে যে প্রতিরোধমূলক ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়।

• প্রবাহী ঘর্ষণের বৈশিষ্ট্য:
- এটি তরল বা গ্যাসের কণার সঙ্গে বস্তুর পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয়।
- বস্তুর বেগ যত বেশি হয়, প্রবাহী ঘর্ষণ তত বৃদ্ধি পায়।
- বস্তুর আকৃতি ও তরলের ঘনত্ব প্রবাহী ঘর্ষণের মানকে প্রভাবিত করে।
- বিমান, জাহাজ ও সাবমেরিনের নকশায় প্রবাহী ঘর্ষণ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২৩৩.
বায়ু ও পানির সংস্পর্শে জাহাজ চলাচল করলে কোন ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. প্রবাহী ঘর্ষণ
  3. স্থিতি ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা- 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
দুটি আহিত কণা একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৫.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
ব্যাখ্যা
- যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।

- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।
- একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
মৌলিক বল কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

মৌলিক বল হল সেই চারটি বল যা প্রাকৃতিক ঘটনার সব ধরনের বলকে বর্ণনা করতে সক্ষম। এগুলোই মহাবিশ্বে থাকা সকল কণার মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন শক্তি ও ক্রিয়ার মূল কারণ। 

উত্তর: ঘ) ৪টি।
 
মৌলিক বল: 

- মৌলিক বল মাত্র চারটি। 
- সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): 
- যদিও তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

২৩৭.
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় প্রয়োগ করে-
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের ২য় সূত্র 
  3. নিউটনের ৩য় সূত্র
  4. নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র
সঠিক উত্তর:
নিউটনের ৩য় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের ৩য় সূত্র
ব্যাখ্যা

• পানিতে নৌকা চলার সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটে। 

- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
- অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
- মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৮.
যে স্থানে g-এর মান বেশি, সেখানে বস্তুর ওজন কেমন হয়? 
  1. বেশি 
  2. কম 
  3. শূন্য 
  4. অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সে স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে g - এর মান বেশি হওয়ায় বস্তুর ওজনও বেশি। 
- আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৩৯.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. প্রবাহী ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 

- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪০.
ঘর্ষণ বল ও টান বল কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
  1. চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. স্পর্শ বল
  4. অস্পর্শ বল
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যে বাহ্যিক কারণ বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায় তাকে বল বলে। 
- যে বল বস্তুকে গতিশীল করে বা গতি বাড়িয়ে দেয় তাকে ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- যে বল গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দেয় বা বেগ কমিয়ে দেয় তাকে মন্দন সৃষ্টিকারী বল বলে। 
- কোনো বস্তুকে ঠেলতে বা টানতে হলে প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন তাই এই বলকে বলা হয় স্পর্শ বল। 
যেমন- ঘর্ষণ বল, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বল, টান বল ইত্যাদি স্পর্শ বলের উদাহরণ। 
- দুটি চুম্বকের বিপরীতমেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বা বিকর্ষণ হচ্ছে অস্পর্শ বল। 
- পৃথিবী তার পৃষ্ঠস্থ ও নিকটস্থ সকল বস্তুকে এর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বল হচ্ছে অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল। 

বলের কিছু বৈশিষ্ট: 
১। বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর জড়তার পরিবর্তন হয় বা হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। 
২। বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল থাকে। অর্থাৎ, বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে আরেকটি বল ক্রিয়া করে। একারণে বলের ক্রিয়াকে মিথস্ক্রিয়াও বলে। 
যেমন- যখন কোনো বস্তুকে দড়িতে বেঁধে টানা হয় তখন প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে দড়িতে যে একটা বল ক্রিয়া করে তাকে টান বল বলে। 
৩। বল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়। অর্থাৎ, বল প্রয়োগে বস্তু ত্বরণ বা মন্দন হয়। একটি গতিশীল বস্তুকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এতে এর বেগ বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ ত্বরণ হবে। গতিশীল গাড়ীকে পিছন থেকে টেনে ধরলে এর বেগ হ্রাস পাবে বা মন্দন হবে। 
৪। বল বস্তুকে বিকৃত করতে পারে বা ভৌত ধর্মের পরিবর্তন করতে পারে। 
৫। বল একটি ভেক্টর রাশি কারণ এর মান ও দিক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
একটি ঘড়ির কাঁটা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে। এ ধরনের গতি কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. বক্র রৈখিক গতি
  3. ঘূর্ণন গতি
  4. পর্যায় গতি
সঠিক উত্তর:
পর্যায় গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায় গতি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় গতি — নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো গতি যদি একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে, তাকে পর্যায় গতি বলা হয়।

• স্থিতি ও গতি:
- সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে গতি।
- অবস্থানের পরিবর্তন না হলে স্থিতি।
- সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

• গতির প্রকারভেদ:
- সরল রৈখিক গতি → বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে।
- বক্র রৈখিক গতি → বস্তু বক্রপথে চললে।
- ঘূর্ণন গতি → নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন।
- পর্যায় গতি → নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থান ও দিক পুনরাবৃত্তি।
- দোলন গতি → পর্যায় গতির বিশেষ রূপ, যেখানে বস্তু সামনে–পিছনে গমন করে।
- যৌগিক গতি → একই সাথে একাধিক প্রকার গতি উপস্থিত থাকলে।

• অন্যান্য অপশন:
- সরল রৈখিক গতি → সোজা পথে চলাচল।
- বক্র রৈখিক গতি → বাঁকা পথে চলাচল।
- ঘূর্ণন গতি → অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২৪২.
যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে নেওয়া হয়, তখন তার ওজনের কী হয়? 
  1. শূন্য হয়
  2. কমে 
  3. বাড়ে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
সঠিক উত্তর:
বাড়ে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- যেহেতু মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুব অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুব অঞ্চলে বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৩.
যে কোনো ভরযুক্ত বস্তু অন্য বস্তুকে কোন বল দ্বারা আকর্ষণ করে? 
  1. মহাকর্ষ বল 
  2. বৈদ্যুতিক বল 
  3. ঘর্ষণ বল 
  4. চুম্বকীয় বল 
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৪.
কোন বিজ্ঞানী 'মহাকর্ষ বলের সূত্র' আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. আলবার্ট আইনস্টাইন
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
সঠিক উত্তর:
স্যার আইজ্যাক নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ:
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল।
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। অর্থাৎ যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন। এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত।
সূত্রটি হলো:
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।
- এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
স্যার আইজ্যাক নিউটান গতি সম্পর্কিত তিনটি সূত্র কোন সালে প্রদান করেন? 
  1. ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গতি বিষয়ক সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 
- নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র তিনটি: 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 

৩। তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৬.
নিম্নলিখিত বলগুলোর মধ্যে কোনটি সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল?
  1. তড়িৎ চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লীয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এই সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) প্রধানত কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মধ্যকার এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বলের মাধ্যমে তারা নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৭.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লীয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। - বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল মানুষকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টানে এবং এর কারণেই মানুষ ওজনের অনুভূতি বুঝতে পারে। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

তড়িৎ চৌম্বক বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৮.
অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর মান সর্বোচ্চ কোথায়?
  1. বিষুবরেখায়
  2. মেরুতে
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠে
  4. চাঁদের পৃষ্ঠে
সঠিক উত্তর:
মেরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরুতে
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলে প্রভাব মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকা বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
-  একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• g - মান নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর মান পৃথিবীর ব্যাসার্ধের উপর নির্ভর করে।
- ব্যাসার্ধ বেশি হলে g এর মান কম হয় এবং ব্যাসার্ধ কম হলে g এর মান বেশি হয়।

• বিষুব রেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায় ব্যাসার্ধ R-এর মান ততই কমতে থাকে এবং মেরু বিন্দুতে সর্ব নিম্ন হয়।
• বিষুব অক্ষরে g এর মান কম কারণ সেখানে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বেশি। বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় 9.78 ms- 2.
অপরদিকে মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ কম হওয়ার কারণে g এর মান সেখানে বেশি হয় যা সর্বাধিক। মেরু এলাকায় g-এর মান প্রায় 9.83 ms- 2.

 
তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় কত কম?
  1. ১/৪
  2. ১/৬
  3. ১/৮
  4. ১/১২
সঠিক উত্তর:
১/৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ওজন:
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
- অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ১২০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ২০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৫০.
সরল দোলকের দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) সাথে কী সম্পর্কযুক্ত?
  1. T ∝ g
  2. T ∝ g2
  3. T ∝ 1/√g
  4. T ∝ √g
সঠিক উত্তর:
T ∝ 1/√g
উত্তর
সঠিক উত্তর:
T ∝ 1/√g
ব্যাখ্যা

• দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য, তাই একটি সরল দোলককে। পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে।
- একটি পূর্ণ দোলন এর জন্য সরল দোলকের যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে।
- দোলনকাল অভিকর্ষজ ত্বরণের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

• সরল দোলকের দোলনকালের সূত্র: T = 2π √(L/g)
- যেহেতু 2π এবং কার্যকরী দৈর্ঘ্য (L) সাধারণত স্থির থাকে,
- তাই আমরা লিখতে পারি, T ∝ 1/√g.
- অর্থাৎ, দোলনকাল (T) অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫১.
যখন কেউ প্যারাস্যুট নিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন কোন ঘর্ষণ বল কাজ করে?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. স্থিতি ঘর্ষণ
  3. গতি ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
• যখন কেউ প্যারাস্যুট নিয়ে প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন প্রবাহী ঘর্ষণ বল কাজ করে।

• ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল:

- যখন দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থাকে এবং একটি বস্তু অপরটির উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে, তখন বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এই বাধাকে ঘর্ষণ বলা হয়।
- যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলা হয়।

• ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। যথা:
১. প্রবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আর এ বাঁধার ফলে প্রবাহী ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আবার, মানুষ পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, আর এ বাঁধাই হলো প্রবাহী ঘর্ষণ।

২. স্থিতি ঘর্ষণ:

- যখন দুটি বস্তু একে অপরের সাপেক্ষে স্থির থাকে, তখন যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়, সেটি স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আমরা হাঁটতে পারি, কারণ আমাদের পা বা জুতার তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের ফলে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে না।

৩. গতি ঘর্ষণ:
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৪. আবর্ত ঘর্ষণ:
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫২.
কোনটির গতিবেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) আলো
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বুলেটের গতি
  4. ঘ) রকেটের গতি
সঠিক উত্তর:
ক) আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলো
ব্যাখ্যা

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে কোনো বস্তুই আলোর গতির সমান বা অধিক গতিবেগ নিয়ে চলতে পারে না।
আলোর গতি শূন্যমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৫৩.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্রানুসারে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. h2 ∝ t
  2. v ∝ t
  3. h ∝ t
  4. h ∝ 1/t2
সঠিক উত্তর:
v ∝ t
উত্তর
সঠিক উত্তর:
v ∝ t
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্রসমূহ: 
- কোন বস্তুকে উপর থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষের প্রভাবে মাটিতে পড়ে। 
- বাতাসের বা অন্য কোন বাধা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল অভিকর্ষের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুকে বলা হয় মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু। 
- ষোড়শ শতাব্দীতে ইটালীর বিখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গ্যালেলিও গ্যালিলাই পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে তিনটি সূত্র দেন যেগুলোকে পড়ন্ত বস্তুর সূত্র বলা হয়। 
- এগুলো এখন সর্বজন গৃহীত সূত্র। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বস্তু t সময়ে v বেগ প্রাপ্ত হলে, v ∝ t  । 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h ∝ t2

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
কোন বলের কারণে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বল চারটি। 
যথা- 
১. মহাকর্ষ বল (Gravitational Force), 
২. তাড়িতচৌম্বক বল (Electromagnetic Force), 
৩. সবল নিউক্লিয় বল (Strong Nuclear Force) এবং 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল (Weak Nuclear Force) । 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- এ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
নিউটনের প্রথম সূত্র কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জড়তা
  2. ত্বরণ
  3. বল
  4. শক্তি
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
-"বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।"

জড়তা:
-  বল প্রয়োগ না করা পর্যন্ত স্থির বস্তু বা গতিশীল বস্তুর  অবস্থান পরিবর্তন করতে না চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে বলা হয় জড়তা। 
• উদাহারন: চলন্ত বাস হঠাৎ থেমে গেলে যাত্রীরা সামনে হেলে পড়ে এবং স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনে হেলে পড়ে।  

অর্থাৎ বলা যায় যে জড়তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হয় না, যা নিউটনের প্রথম সূত্রের সাথে সম্পর্কিত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
২৫৬.
কোন ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বলকে অভিকর্ষ বলা হয়? 
  1. যখন কোনো বস্তুর উপর সূর্যের আকর্ষণ কাজ করে
  2. যখন কোনো বস্তুর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ কাজ করে
  3. যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
  4. যখন কোনো বস্তুর উপর কোনো গ্রহাণুর আকর্ষণ কাজ করে
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ। 
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
যেমন- গাছের ফল মাটিতে পড়ে আবার ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলেও বলটি মাটিতে এসে পড়ে। এখানে পৃথিবী যেমন ফল বা ক্রিকেট বলকে আকর্ষণ করে, তেমনি এরাও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী অনেক বড় এবং এর আকর্ষণ বল অনেক বেশি হওয়ায় ফল ও ক্রিকেট বল মাটিতে পড়ে। 
- পৃথিবী এবং অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৫৭.
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান কত?
  1. ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. ১০ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : খ) শূন্য 

• অভিকর্ষ:

- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে বলে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বিজ্ঞান বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে যে হারে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়।
- যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কোনো স্থানে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড
- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে। 
আমরা জানি, 
W = mg 
এখানে, 
m = বস্তুর ভর।
g = অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 m/s2 । 
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে। 
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। 
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৫৮.
কোন বস্তুকে পানিতে ফেলে দেয়ার পর বস্তু কর্তৃক অপসারিত পানির ওজন যদি বস্তুর ওজনের সমান হয় তবে নিচের কোনটি ঘটবে?
  1. ক) বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
  2. খ) বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে।
  3. গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
  4. ঘ) কখনো ডুববে আবার কখনো ভাসবে।
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
ব্যাখ্যা
 
বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত (Conditions of floatation and Immersion of a body)
ধরা যাক একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হল।
বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এখন -
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে।
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২৫৯.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  2. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  3. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
ব্যাখ্যা

- মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বল। তবে যখন এই আকর্ষণ বল পৃথিবী এবং অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে কাজ করে, তখন তাকে বিশেষভাবে 'অভিকর্ষ' বা মাধ্যাকর্ষণ বলা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার এই আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের সঠিক প্রতিফলন। 

মহাকর্ষ: 

- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।