বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

মোট প্রশ্ন২৫৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বল ও গতি এবং মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৫৯

১০১.
মাধ্যাকর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে? 
  1. উপরের দিকে 
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
  3. অনুভূমিক দিকে 
  4. যে কোনো দিকে 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০২.
কোন অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সর্বাধিক হয়? 
  1. বিষুবীয় অঞ্চল 
  2. মেরু অঞ্চল 
  3. মরুভূমি অঞ্চল 
  4. উপকূলীয় অঞ্চল 
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চল 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও বস্তুর ওজন: 
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল। সুতরাং যে সকল কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সে সকল কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়। 
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, স্থানভেদে বস্তুর ওজনের পরিবর্তন হয়। 
- পৃথিবীর আকৃতি ও আহ্নিক গতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হয়।
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড), এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০৩.
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর প্রথম সূত্র কোনটি? 
  1. বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক 
  2. বস্তুর গতি ভরের উপর নির্ভর করবে 
  3. নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক 
  4. প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি বস্তু বিনা বাঁধায় সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে পড়ার সময় সরাসরি মাটির দিকে পড়তে থাকে। 
- বস্তুর এই খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন।
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 
 
দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 
 
তৃতীয় সূত্র: 
- বাঁধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৪.
অভিকর্ষজ ত্বরণ কোন বিষয়টির উপর নির্ভর করে না?
  1. বস্তুর ভর
  2. পৃথিবীর ভর
  3. পৃথিবীর ব্যাসার্ধ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনাে বতুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
অভিকর্ষজ ত্বরণের একক মিটার/সেকেন্ড।
ধরা যাক, M = পৃথিবীর ভর, m = ভূপৃষ্ঠে বা এর নিকটে অবস্থিত কোনাে বস্তুর ভর, d = বস্তু ও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
তাহলে মহাকর্ষ সূত্রানুসারে অভিকর্ষ বল, F = GMm/d2

আবার বলের পরিমাপ থেকে আমরা পাই, অভিকর্ষ বল = ভর X অভিকর্ষজ ত্বরণ
                                                                            অর্থাৎ F = mg

এখন,
     mg= GMm/d2
      g= GM/d2
 এ সমীকরণের ডান পাশে বতুর ভর m অনুপস্থিত। সুতরাং অভিকর্ষজ ত্বরণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না। 

[উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান , অষ্টম শ্রেণি]
১০৫.
একটি বস্তু সমতল তলে স্থাপন করা হলে কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে স্থিরতা কেমন হবে?
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. প্রাথমিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে
সঠিক উত্তর:
কমবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমবে
ব্যাখ্যা

- যদি কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তবে স্থিরতা কমবে। 

• কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity): 
- কেন্দ্রন ভর হলো বস্তুর সেই কাল্পনিক বিন্দু যেখানে পুরো ভরের সমানুপাতিক কেন্দ্র ধরা যায়। অন্য কথায়, বস্তুটি যেন ওই বিন্দুর চারপাশে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
- বস্তু স্থিতিশীল থাকে যখন তাকে সামান্য দোলন বা ত্রুটি দিলে তা আবার মূল অবস্থায় ফিরে আসে।
- স্থিতিশীলতার জন্য দুটি মূল পরিমাপক গুরুত্বপূর্ণ:- কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity) এবং ভিত্তি বা সমর্থন ক্ষেত্র (Base Area)
- যদি কেন্দ্রন ভর সমর্থন ক্ষেত্রের কাছে থাকে, বস্তু স্থিতিশীল থাকে।
- সামান্য দোলন হলে কেন্দ্রন ভর সহজে পুনঃব্যালেন্স হয়।
- কেন্দ্রন ভর যত উপরে থাকে, তত সহজে বস্তু ভারসাম্য হারায়।
- ছোট দোলনও বস্তুকে গড়িয়ে বা গুলিয়ে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০৬.
চাঁদের পৃষ্ঠে একজন মানুষের ওজন পৃথিবীর তুলনায় কেমন হয়?
  1. পৃথিবীর সমান
  2. পৃথিবীর দ্বিগুণ
  3. পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
  4. পৃথিবীর প্রায় ১/১০ গুণ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, চাঁদে ওজন পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ হয়।
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।
- উল্লেখ্য, একজন মানুষের ভর (m) পৃথিবী বা চাঁদ - সর্বত্র একই থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০৭.
বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. অবস্থানের পরিবর্তনে বস্তুর ভর পরিবর্তিত হয়
  2. বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলই ভর
  3. বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
  4. ভরের একক নিউটন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
ব্যাখ্যা
ভর: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই হচ্ছে এর ভর।
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে।
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০৮.
চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের-
  1. ছয় ভাগের একভাগ
  2. বিশ ভাগের একভাগ
  3. পাঁচ ভাগের একভাগ
  4. দশ ভাগের একভাগ
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয় ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, একই বস্তু চাঁদে পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম ওজন অনুভব করে। এর কারণ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। মহাকর্ষ শক্তি সরাসরি বস্তুটির ওজন নির্ধারণ করে, কারণ ওজন হচ্ছে মহাকর্ষ শক্তির কারণে বস্তুতে কার্যকরী বল। তাই একই বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে। সাধারণভাবে, চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর প্রায় এক ছয় ভাগ হওয়ায়, বস্তুর ওজনও তার ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ছয় ভাগের এক ভাগ।


- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ।

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০৯.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের কত ভাগ হয়? 
  1. ১/২ 
  2. ১/৬ 
  3. ১/৩
  4. ১/১০ 
সঠিক উত্তর:
১/৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৬ 
ব্যাখ্যা

পৃথিবী ও চাঁদে বস্তুর ওজন: 
- চন্দ্রে কোনো বস্তর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)। 
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১১০.
পৃথিবী কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা আবার নিচে পড়ে যায় কেন?
  1. চৌম্বক শক্তির কারণে
  2. ভর বৃদ্ধির কারণে
  3. পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
  4. পৃথিবীর সবল বলের কারণে
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা আবার নিচে পড়ে যায়- পৃথিবীর মহাকর্ষ বলের কারণে।  

মহাকর্ষ: 

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১১.
যদি কোনো বস্তু পৃথিবীতে ৬০ নিউটন ওজনের হয়, চাঁদে তার ওজন কত হবে? 
  1. ৫ নিউটন 
  2. ৬০ নিউটন
  3. ২০ নিউটন
  4. ১০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
ব্যাখ্যা

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১১২.
দুইটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুন করা হলে তাদের মহাকর্ষ বল পূর্বের কতগুণ হবে? 
  1. ৪ গুণ
  2. ১/৪ গুণ
  3. ৮ গুণ
  4. ১/৮ গুণ
সঠিক উত্তর:
১/৪ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১/৪ গুণ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। 
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। 
অতএব, দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎ চৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লিয় বল: 
- সবল নিউক্লিয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- এটি তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশ গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু এটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-15m) কাজ করে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মাঝে এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বল কাজ করে নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে। 
- তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে আলোর তাপও এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার গতি কোন ধরনের গতি?
  1. ক) চলন গতি
  2. খ) ঘূর্ণন গতি
  3. গ) দোলন গতি
  4. ঘ) উপ-পর্যায়বৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণন গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণন গতি
ব্যাখ্যা
ঘড়ির কাঁটায় সাধারণত ঘূর্ণন ও পর্যায়বৃত্ত উভয় ধরণের গতি থাকে।
১১৫.
তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা কোনটি? 
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. গ্লুঅন
  4. Z বোসন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 

তাড়িতচৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তাড়িতচৌম্বক বল বলে। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 

অন্যদিকে, 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন) এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৬.
পৃথিবীর কেন্দ্রে ‘g’ এর মান কত?
  1. ০ মি./সে.
  2. ৯.৮ মি./সে.
  3. ৮.৪ মি./সে.
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
['g' এর মানের একক ms-2 কিন্তু এখানে অপশনে মি./সে. বা, ms-1 দেওয়া আছে। তাই কোনটি নয় উত্তর হবে]

• ওজন:

- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg
- এখানে, g= অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 ms-2
- m = বস্তুর ভর।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অন্ঞলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১৭.
'গ্রাভিটন' কোন বলের বাহক কণা? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১১৮.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা 
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি 
  3.  বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি  
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১১৯.
স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কটি সঠিক?
  1. বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
  2. বস্তুর বেগ সময়ের ব্যস্তানুপাতিক
  3. বস্তুর চূড়ান্ত বেগ তার ভরের সমানুপাতিক
  4. বস্তুর ভর বেশি হলে তার পড়তে বেশি সময় লাগবে
সঠিক উত্তর:
বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক

• পড়ন্ত বস্তুর সূত্র:
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
• সূত্রগুলো হচ্ছে-

• প্রথম সূত্র:

- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, v ∝ t.

• তৃতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2.

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২০.
অভিকর্ষ কী? 
  1. কোনো মহাজাগতিক আকর্ষণ 
  2. পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার আকর্ষণ 
  3. পৃথিবী পৃষ্ঠের বস্তু ও পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ 
  4. পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার আকর্ষণ 
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী পৃষ্ঠের বস্তু ও পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী পৃষ্ঠের বস্তু ও পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ 
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২১.
প্রকৃতিতে মৌলিক বল কয়টি?
  1. 2 টি
  2. 3 টি
  3. 4 টি
  4. 5 টি
সঠিক উত্তর:
4 টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4 টি
ব্যাখ্যা
বল:
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
যথা: মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-18 m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-15 m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২২.
নিচের কোন স্থানে g-এর মান সর্বনিম্ন?
  1. এভারেষ্ট শৃঙ্গে
  2. মেরু বিন্দুতে
  3. সমুদ্র সমতলে
  4. বিষুব রেখায়
সঠিক উত্তর:
বিষুব রেখায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষুব রেখায়
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2
- সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.80665 ms-2.
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
নিউটনের গতিসূত্র মূলত কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা
• নিউটোনের গতিসূত্র মূলত ৩ টি।

নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণ: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে, পড়ন্ত বস্তুর প্রাপ্ত বেগ (v) কোনটির সাথে সমানুপাতিক? 
  1. উচ্চতার
  2. ভরের
  3. সময়ের
  4. বেগের বর্গ
সঠিক উত্তর:
সময়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়ের
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- সূত্রগুলাে হচ্ছে- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
মহাকাশে মানুষ বহনকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম কি?
  1. ক) স্পুটনিক-১
  2. খ) ভস্টক-১
  3. গ) ইনটেলসেট-১
  4. ঘ) ল্যান্ডসেট-১
সঠিক উত্তর:
খ) ভস্টক-১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভস্টক-১
ব্যাখ্যা

Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry.
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১২৬.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত সেকেন্ড? 
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ২ সেকেন্ড
  4. ৪ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
২ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১২৭.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কিসের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের তাপমাত্রা ও বায়ুর চাপ
  2. কণাদ্বয়ের ঘনত্ব ও চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. কণাদ্বয়ের গতিবেগ ও ত্বরণ
  4. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে দুটি কণার মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল F এর মান কণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক।
• F = G (m1 × m2)/r2  
- এখানে G হল মহাকর্ষীয় ধ্রুবক।

• মহাকর্ষ:

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২৮.
পৃথিবীর সঙ্গে একটি বইয়ের আকর্ষণকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. পীড়ন
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. অভিকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়।
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না।
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ।
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৯.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. জড়তা 
  2. ভরবেগ 
  3. ত্বরণ 
  4. সরণ 
সঠিক উত্তর:
জড়তা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা 
ব্যাখ্যা

নিউটনের গতিসূত্র: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. ক) অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. গ) আপেক্ষিক বল
  4. ঘ) সমান্তরাল বল
সঠিক উত্তর:
খ) মাধ্যাকর্ষণ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাধ্যাকর্ষণ বল
ব্যাখ্যা
স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলাে ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় সােজা পথে থাকতে পারে না।
১৩১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
  2. বিষুবীয় অঞ্চলে ওজন সর্বাধিক 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে g সর্বাধিক 
  4. সব স্থানে g সমান 
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
ব্যাখ্যা

- সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক। 
- পৃথিবীর আকৃতি এবং ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান বিভিন্ন হয়। 
যেমন-
মেরু অঞ্চল: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। এর ফলে মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। অভিকর্ষজ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হওয়ায়, দূরত্ব কম হলে g-এর মান সর্বাধিক হয়।
বিষুবীয় অঞ্চল: বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবী স্ফীত, তাই এটি কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এই কারণে এখানে g-এর মান সবচেয়ে কম হয়।

পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩২.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৩.
বায়ুশূন্য একটি উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. হালকা বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. ভারী বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. বস্তুদ্বয় কিছু সময়ের ব্যবধানে মাটিতে পড়বে
সঠিক উত্তর:
বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে বায়ুশূন্য ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t  । 

৩। ততৃীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের–
  1. অর্ধবৃত্তাকার গতি
  2. উপবৃত্তাকার গতি
  3. সরল রৈখিক গতি
  4. রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা

- সরল দোলন গতি হলো এক বিশেষ ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। 

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। অথবা, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে কোন ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যায় না?
  1. প্রবাহী ঘর্ষণ
  2. গতি ঘর্ষণ
  3. আবর্ত ঘর্ষণ
  4. স্থিতি ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
স্থিতি ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতি ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
• ঘর্ষণ:
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়, এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে।
- ঘর্ষণকে চারভাবে ভাগ করা যায়। যথা:

১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static Friction):
- দুটো বস্তু একে অন্যের সাপেক্ষে স্থির থাকা অবস্থায় যে ঘর্ষণ বল থাকে সেটা হচ্ছে স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি, আমাদের পা কিংবা জুতাের তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে যাই না।

২. গতি ঘর্ষণ (Sliding Friction):
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction):
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid Friction):
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ (Fluid) এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
প্রকৃতির মৌলিক বলগুলোর মধ্যে কোন বলটি সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতির মৌলিক চারটি বলের মধ্যে মহাকর্ষ বল সবচেয়ে দুর্বল হিসেবে পরিচিত। এই বলটি যেকোনো দুই ভরের মধ্যে কাজ করে এবং ভরের উপর নির্ভরশীল। যদিও মহাকর্ষ বল অসীম দূরত্বেও প্রভাব ফেলে, তবে এর শক্তি অন্যান্য মৌলিক বল যেমন তড়িৎচুম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল বা সবল নিউক্লীয় বলের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র। উদাহরণস্বরূপ, একটি ছোট চুম্বকের তাড়নাও একটি ছোট কণার মহাকর্ষীয় প্রভাবকে লাঘব করতে পারে। মহাকর্ষ বল বৃহৎ স্কেলে যেমন গ্রহ, নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কণিকাগত বা দৈনন্দিন জীবনের ছোট পরিসরে এটি প্রায় অপ্রভাবশালী। তাই প্রকৃতির মৌলিক বলের মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল বল হিসেবে বিবেচিত হয়।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৭.
বলবৃদ্ধিকরণ নীতি কোন সূত্রের সাহায্যে প্রতিপাদন করা হয়েছে?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. কুলম্বের সূত্র
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেলের সূত্র
ব্যাখ্যা

- বলবৃদ্ধিকরণ নীতি প্যাসকেলের সূত্র থেকে এসেছে।

• প্যাসকেলের সূত্র:
- একটা আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থে বাইরে থেকে চাপ দেওয়া হলে সেই চাপ চারদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়ে পাত্রের সংলগ্ন গায়ে লম্বভাবে কাজ করবে।

- তরলে সৃষ্ট চাপ সবদিকে সমানভাবে বিস্তার লাভ করে।
এই নীতি ব্যবহার করে:
- হাইড্রোলিক প্রেস,
- হাইড্রোলিক ব্রেক,
- লিফট,
- কার জ্যাক,
ইত্যাদিতে কম বল প্রয়োগ করে বড় বল উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৮.
'সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. কোপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও
  3. কেপলার
  4. নিউটন
সঠিক উত্তর:
কেপলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেপলার
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
পর্যায়বৃত্ত গতির গতিপথ কোন ধরনের হতে পারে?
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়। 
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল। 
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা) উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪০.
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে-
  1. পাথরের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. কাগজের টুকরাটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. উভয়টি শূন্যে ঝুলন্ত থাকবে
সঠিক উত্তর:
এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে
ব্যাখ্যা
একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।
 
• পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র : স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সব বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে।

প্রথম সূত্র : এ সূত্রানুসারে স্থির অবস্থান থেকে কোনো বস্তু ছেড়ে দিলে তা যদি বিনা বাধায় মাটিতে পড়ে, তাহলে মাটিতে পড়তে যে সময় লাগে তা বস্তুর ভর, আকৃতি বা আয়তনের ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন ভরের, আকারের ও আয়তনের বস্তুকে যদি একই উচ্চতা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এগুলো যদি বিনা বাধায় মুক্তভাবে পড়তে থাকে, তাহলে সবগুলোই একই সময়ে মাটিতে পৌঁছবে।

এই সূত্রানুসারে, একই উচ্চতা থেকে এক টুকরা পাথর ও একটি কাগজের টুকরাকে বিনা বাধায় পড়তে দিলে এরা একই সময়ে মাটিতে পড়বে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪১.
নিচের কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যাখ্যা দেওয়া যায়?
  1. একটি বস্তুর ভর 
  2. দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
  3. সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তন 
  4. শক্তির রূপান্তর 
সঠিক উত্তর:
দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
ব্যাখ্যা

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাখ্যা করা যায় (খ)। এই সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান মানের কিন্তু বিপরীত দিকের একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও একই সঙ্গে প্রথম বস্তুর ওপর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে। সংঘর্ষের সময় এই ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন, দুটি বল পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেলে উভয়ই একে অপরের ওপর বল প্রয়োগ করে এবং উভয়ের গতি বা দিক পরিবর্তিত হয়।
 
নিউটনের তৃতীয় সূত্র ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল: 
- নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র একটি বস্তুর গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা প্রদান করে। 
- নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে- " প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে"। 
যেমন- 

১। মাটির উপর দাঁড়ানো: 
- মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষটি স্থির থাকে। কারণ, মানুষটির ওজনের সমান একটি বল নীচের দিকে মাটির উপর ক্রিয়া করে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, মাটিও নীচ হতে মানুষটির উপর বল প্রয়োগ করে। এখানে, মানুষটির ওজন ও মাটি দ্বারা প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীত হওয়ায় সাম্যের সৃষ্টি করে। মানুষ দ্বারা মাটির উপর প্রযুক্ত বল ক্রিয়া বল এবং মাটি মানুষটির উপর যে বল প্রয়োগ করে তা প্রতিক্রিয়া বল। 

২। আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে যা হয়: 
- আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে, নৌকাটি পেছনে চলে যায়। কারণ আরোহী লাফ দেবার সময় নৌকার উপর বল প্রয়োগ করে ফলে নৌকাটি পিছনে সরে যায়। 
- নৌকাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, আরোহীর উপর একটি সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে যা আরোহীকে সামনের তীরের দিকে লাফিয়ে পড়তে সাহায্য করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য কাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়?
  1. আইনস্টাইন
  2. ডেমোক্রিটাস
  3. প্যাসকেল
  4. লিবনিজ
সঠিক উত্তর:
লিবনিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিবনিজ
ব্যাখ্যা
• ক্যালকুলাসে নিউটন ও লিবনিজের অবদান: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- লিবনিজ এবং নিউটন উভয়ই ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্যালকুলাসের মৌলিক ধারণাগুলি বিকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাদের পদ্ধতি এবং নোটেশন আলাদা ছিল।
- তাই, নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য লিবনিজকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্লুঅন 
  2. গ্রাভিটন 
  3. ফোটন 
  4. Z বোসন 
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন 
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
 
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
 
অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১৪৪.
কোথায় বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম?
  1. ভূ-পৃষ্ঠে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি। 
- বিষুবীয় (নিরক্ষীয়) অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৫.
পৃথিবীর সঙ্গে আপনার যে আকর্ষণ তাকে কী হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. তাড়িতচৌম্বক বল
  2. অভিকর্ষ বল
  3. পীড়ন
  4. স্থিতিস্থাপকতা
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
মহাশূন্যে একটি বস্তুর ওজন শূন্য হয় কারণ- 
  1. বস্তুর ভর নেই
  2. সেখানে বাতাস নেই
  3. সূর্যের আলো পড়ে না
  4. কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
সঠিক উত্তর:
কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো অভিকর্ষ বল কাজ করে না
ব্যাখ্যা
ভর ও ওজনের সম্পর্ক: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে এর ভর। 
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। 
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে। 
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

- যেহেতু বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি, সুতরাং বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে।
- যেসব কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সেসব কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন তত কমতে থাকে।
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, কোনো বস্তুর ওজন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য।
- মহাশূন্যে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য হলে তখন বস্তুর উপর কোনো মহাকর্ষ বল কাজ করে না
- চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রায় ৬ ভাগ।
সুতরাং, চাঁদে ১ কেজি ভরের বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৯.৮/৬ নিউটন ≈ ১.৬৩ নিউটন (N)। 
- কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- যদি দূরত্ব বাড়ানো হয় তাহলে তার উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কমে যায়, ফলে বস্তুর ওজন হ্রাস পায়। 
- ভূপৃষ্ঠে ১ কেজি ভরের কোনো বস্তুতুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলেও পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে বস্তুর ওজন কমতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৭.
পৃথিবীর তলে কোন বস্তুর ভর ১০ কিলোগ্রাম হলে বস্তুর ওজন হবে- 
  1. ০.৯৮ নিউটন
  2. ৯.৮ নিউটন
  3. ৯৮ নিউটন
  4. ৯৮০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
৯৮ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৮ নিউটন
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে, 
পৃথিবীর তলে কোন বস্তুর ভর ১০ কিলোগ্রাম। 
অভিকর্ষজ ত্বরণ 'g' এর আদর্শ মান ৯.৮১ ms−2

আমরা জানি, 
বস্তুর ওজন, w = mg 
⇒ w = ১০ × ৯.৮১ 
= ৯৮.১ নিউটন 
≈ ৯৮ নিউটন। 

অভিকর্ষ বল: 
→ অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়। 
→ যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। 
→ অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
→ যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ, ms−2
→ পৃথিবীর কেন্দ্রে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি শূন্য থাকে। সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৮.
পৃথিবীর সাথে কোনো বস্তুর আকর্ষণ বলকে কী বলা হয়? 
  1. অভিকর্ষ 
  2. চৌম্বক বল 
  3. তড়িৎচুম্বক বল 
  4. সবল নিউক্লিয় বল 
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ 
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 

অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়। 
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়। 
- নিউটনের সূত্র থেকে পাওয়া যায়, বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়, তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়। 
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্টে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। 
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ এর একক ms-2 এবং এর মাত্রা LT -2 । 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৯.
একটি গাড়ি ব্রেক কষার পর থেমে যায়। এর জন্য দায়ী কোন বল?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. ঘর্ষণ বল 
  3. চৌম্বক বল
  4. স্থিতিস্থাপক বল 
সঠিক উত্তর:
ঘর্ষণ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

◉ যখন একটি গাড়ি ব্রেক কষে, তখন ব্রেক প্যাড চাকায় ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। এই ঘর্ষণ বল চাকাকে ঘুরতে বাধা দেয় এবং ক্রমান্বয়ে গাড়ির গতি কমিয়ে এনে একসময় থামিয়ে দেয়।

ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল:
- যখন দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থাকে এবং একটি বস্তু অপরটির উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে, তখন বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এই বাধাকে ঘর্ষণ বলা হয়।
- যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলা হয়।

• ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। যথা:
১. প্রবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনাে বস্তু তরল বা বায়বীয় পদার্থ এর ভেতর দিয়ে যায় তখন সেটি যে ঘর্ষণ বল অনুভব করে সেটি হচ্ছে প্রবাহী ঘর্ষণ।
- প্যারাস্যুট নিয়ে যখন কেউ প্লেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন বাতাসের প্রবাহী ঘর্ষণের কারণে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসতে পারে।
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাঁধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আর এ বাঁধার ফলে প্রবাহী ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আবার, মানুষ পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, আর এ বাঁধাই হলো প্রবাহী ঘর্ষণ।

২. স্থিতি ঘর্ষণ:
- যখন দুটি বস্তু একে অপরের সাপেক্ষে স্থির থাকে, তখন যে ঘর্ষণ বল সৃষ্টি হয়, সেটি স্থিতি ঘর্ষণ।
- স্থিতি ঘর্ষণের কারণে আমরা হাঁটতে পারি, কারণ আমাদের পা বা জুতার তলা মাটিতে স্থিতি ঘর্ষণের ফলে আটকে থাকে এবং পিছলে পড়ে না।

৩. গতি ঘর্ষণ:
- একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তু যখন চলমান হয় তখন যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় সেটি হচ্ছে গতি ঘর্ষণ।
- সাইকেলের ব্রেক চেপে ধরলে সেটি সাইকেলের চাকাকে চেপে ধরে এবং ঘুরন্ত চাকাকে গতি ঘর্ষণের কারণে থামিয়ে দেয়।
- গতি ঘর্ষণ ওজনের উপর নির্ভর করে, ওজন যত বেশি হবে গতি ঘর্ষণ তত বেশি হবে।

৪. আবর্ত ঘর্ষণ:
- একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে বলে আবর্ত ঘর্ষণ।
- সবগুলাে ঘর্ষণ বলের মধ্যে এটা সবচেয়ে ছােট তাই আমরা সব সময়ই সকল রকম যানবাহনের মাঝে চাকা লাগিয়ে নিই। চাকা লাগানাে সুটকেস খুব সহজে টেনে নেওয়া যায়, যদি এর চাকা না থাকত তাহলে মেঝের উপর টেনে নিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হতাে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫০.
পৃথিবীর বিভব -
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. অসীম
  4. ধনাত্মক
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর তড়িৎ বিভব:
কোনো আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটি নিস্তাড়িত বা আধান নিরপেক্ষ হয়, ধনাত্মক আধানে আহিত বস্তুকে ভু-সংযুক্ত করলে পৃথিবী থেকে ইলেকট্রন এসে বস্তুটিকে নিস্তাড়িত করে। আবার ঋণাত্মকভাবে আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করলে বস্তু থেকে ইলেকট্রন ভূমিতে চলে যায়। ফলে বস্তুটি নিস্তাড়িত হয়। পৃথিবী এত বড় যে, এতে ইলেকট্রন যুক্ত হলে বা এ থেকে ইলেকট্রন চলে গেলে এর বিভবের আদৌ কোনো পরিবর্তন হয় না। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন বস্তুতে ইলেকট্রন প্রদানও করছে। ফলে পৃথিবীকে বিভবশূন্য মনে করা হয় এবং ভু-সংযুক্ত পরিবাহীর বিভবও শূন্য ধরা হয়। উল্লেখ্য যে, বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রা্‌ম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৫১.
মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল কতগুণ বেশি শক্তিশালী?
  1. ১০০ গুণ
  2. ১০১২ গুণ
  3. ১০২০ গুণ
  4. ১০৩৬ গুণ
সঠিক উত্তর:
১০৩৬ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৩৬ গুণ
ব্যাখ্যা

 মৌলিক বল মাত্র চারটি। সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force):
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। - - - - পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force):
- তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়।
- তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল হলো প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের একটি, যা বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণাগুলির মধ্যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে বোঝায়, যেমন দুটি আহিত বস্তুর মধ্যে বল বা চুম্বকীয় মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল বল, যা বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের মিথস্ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত হয়।
- এই বল পরমাণু ও অণুগুলোকে একত্রে ধরে রাখে এবং আলো, বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্বের মতো দৈনন্দিন ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী!)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force):
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বকীয় বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করতে পারে।
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force):
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫m) কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মধ্যকার এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বলের মাধ্যমে তারা নিজেদের আটকে রাখে। প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী।
- সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি

১৫২.
পড়ন্ত বস্তুর কোন সূত্রটি বস্তুর সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রমকে বোঝায়? 
  1. তৃতীয় সূত্র 
  2. দ্বিতীয় সূত্র 
  3. প্রথম সূত্র 
  4. চতুর্থ সূত্র 
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম সূত্র 
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি পরিচিত উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, যার প্রভাবে যেকোনো বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ক্রমাগত ত্বরান্বিত বেগে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- এই ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। 
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো হচ্ছে- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t

৩। তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৩.
প্রকৃতিতে মৌলিক বল কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

• বল:
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে।
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে।
- যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন
গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৪.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণ অভিকর্ষ
  2. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  3. মহাকর্ষ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
ব্যাখ্যা
• অভিকর্ষ:
- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
- অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
- অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
- অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
- মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
- অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।

• মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ।
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।
- মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
- গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৫.
মহাবিশ্বের বস্তুসমূহ কোন বলের প্রভাবে সাম্যাবস্থায় থাকে? 
  1. ঘর্ষণ বল 
  2. তড়িৎচুম্বক বল 
  3. নিউক্লিয়ার বল 
  4. মহাকর্ষ বল 
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন। 
- কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মন্ডলীর গ্রহ উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না। 
১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন যার নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল। 
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। 
অর্থাৎ, যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন যা নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত। 
সূত্র- 'মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে'। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৬.
নিউটনের গতিসূত্রের প্রথমটি কোন রাশি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. সরণ
  2. জড়তা
  3. ত্বরণ
  4. ভরবেগ
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতিসূত্র: 
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ধারণার উপর ভিত্তি করে স্যার আইজ্যাক নিউটন গতির সূত্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ভর, গতি এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে স্যার আইজাক নিউটন তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন যা তাঁর অমর গ্রন্থ ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া ম্যাথমেটিকাতে ১৬৮৭ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। 
- এই সূত্র তিনটি নিউটনের গতিসূত্র নামে পরিচিত। 
প্রথম সূত্র: 
- "বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে (১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং (২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তা-ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চাওয়ার এই প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতির পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 
- যখন বস্তুর উপর বাহ্যিক লব্ধি বল প্রযুক্ত হয়। 
- নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে ভরবেগের পরিবর্তন, বলের অভিমুখ, বলের পরিমাপ, বল ও ত্বরণের মধ্যে সম্পর্ক এবং বলের একক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। 

তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৭.
একটি বই টেবিলের উপর স্থির আছে। বইটির উপর অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বইটির অবস্থা কী হবে?
  1. বেগ বৃদ্ধি পাবে
  2. সমবেগে চলবে
  3. ত্বরণ শূন্য থাকবে
  4. ঘূর্ণন শুরু করবে
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ শূন্য থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ শূন্য থাকবে
ব্যাখ্যা

• ত্বরণ শূন্য থাকবে — অভিকর্ষজ বল ও টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, ফলে বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।

• বল:
- কোনো স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায়, অথবা গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়—তাকে বল বলা হয়।
- বল বস্তুর আকার পরিবর্তনও করতে পারে।
- বল একটি ভেক্টর রাশি।

• সমবল ও অসমবল:
- একাধিক বল ক্রিয়া করে যদি লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য হয়, বস্তু সমতাবস্থায় থাকে।
- সমতাবস্থায় ত্বরণ শূন্য।
- লব্ধবল (Resultant Force) শূন্য না হলে ত্বরণ সৃষ্টি হয়।

• অভিকর্ষজ বল ও প্রতিক্রিয়া বল:
- অভিকর্ষজ বল → পৃথিবীর আকর্ষণে বস্তুর ওজন।
- প্রতিক্রিয়া বল → টেবিলের দ্বারা উপরের দিকে প্রয়োগকৃত বল।
- দুই বল সমান ও বিপরীতমুখী হলে বস্তু স্থির থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৫৮.
প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায় বেগ ও ত্বরণের মধ্যবর্তী কোণ কত হবে?
  1. 120° কোণ
  2. 180° কোণ
  3. 90° কোণ
  4. 45° কোণ
সঠিক উত্তর:
90° কোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
90° কোণ
ব্যাখ্যা

• প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায়, উল্লম্ব বেগের উপাদান শূন্য হয়ে যায়, কিন্তু অনুভূমিক বেগের উপাদান স্থির থাকে। ফলে, এই বিন্দুতে প্রজেক্টাইলের বেগ শুধুমাত্র অনুভূমিক দিকে ক্রিয়া করে। অন্যদিকে, অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) সর্বদা উল্লম্বভাবে নীচের দিকে ক্রিয়া করে। যেহেতু বেগ ভেক্টরটি অনুভূমিক এবং ত্বরণ ভেক্টরটি উল্লম্বভাবে নিচের দিকে, তাই তাদের মধ্যবর্তী কোণ 90° হয়।
 সুতরাং, প্রদত্ত অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) 90° কোণ।

 
• প্রাস:
- কোনো একটি বস্তুকে অনুভূমিকের সাথে তির্যকভাবে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তাকে প্রাস বলে। আর এই ধরনের গতিকে প্রাসের গতি বলে।
- প্রাসের গতিপথ একটি অধিবৃত্ত।
- প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক গতি।
- প্রাস সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছালে এর বেগ সর্বনিম্ন হয়।

• সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা (Maximum Horizontal Range):
- নিক্ষিপ্ত বস্তু সর্বাধিক যে অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে আদি উচ্চতায় ফিরে আসে তাকে সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা বলে।
- নির্দিষ্ট বেগে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তু বা প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে যখন বস্তুটি অনুভূমিকের সাথে 45° কোণে নিক্ষিপ্ত হয়।

• প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায় বেগ ও ত্বরণের মধ্যবর্তী কোণ:
- প্রজেক্টাইলের ভরের উপর ক্রিয়াশীল একমাত্র ত্বরণ হলো গুরুত্বাকর্ষণ ত্বরণ, যা সর্বদা নিচের দিকে নির্দেশিত থাকে।
- সর্বাধিক উচ্চতায় প্রজেক্টাইলের উল্লম্ব বেগ শূন্য হয়, কারণ এটি ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল হয়ে যায়।
- যেহেতু ত্বরণ নিচের দিকে থাকে এবং উল্লম্ব বেগ শূন্য, তাই বেগ ও ত্বরণের মধ্যে কোণ 90° হবে।
- অর্থাৎ, সর্বাধিক উচ্চতায় প্রজেক্টাইলের ভেক্টর এবং ত্বরণের দিক পরস্পরের লম্ব হয়।
- এটি প্রজেক্টাইল গতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং সব ধরনের ভগ্নাংশীয় বা তির্যক প্রক্ষেপণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন।

১৫৯.
পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না-
  1. মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আবর্তনের জন্য
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
ব্যাখ্যা
- মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ি না। 
- কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা নিজের দিকে টানে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- যে বস্তুর ভর যত বেশি, তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততই বেশি। 
- চাঁদ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ও তার ভর কম হওয়ায় পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। 
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরে বা নিচের দিকে যত যেতে থাকব, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততটাই কমতে থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬০.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কিসের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের আকার ও রঙ
  2. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  3. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
  4. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৬১.
নিচের কোনটি মৌলিক বল নয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. স্থিতিস্থাপক বল
  3. সবল নিউক্লিয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক বল
ব্যাখ্যা

• স্থিতিস্থাপক বল কোনো মৌলিক বল নয়। এটি মূলত পদার্থের অভ্যন্তরে অণু-পরমাণুর মধ্যকার তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের একটি সামষ্টিক রূপ যা বস্তুর বিকৃতিকে বাধা দেয়।

• মৌলিক বল:
- যা কোন স্থির বস্তুতে প্রয়োগ করলে তা গতিশীল হয় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর প্রয়োগ করলে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- প্রকৃতিতে ৪টি বল আছে যাদের অন্য কোন বলে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদেরকে মৌলিক বল বলে। যথা-

১. মহাকর্ষ বল,
২. তড়িৎ চৌম্বকীয় বল,
৩. সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪. দূর্বল নিউক্লিয় বল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।

১৬২.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে কোনো বস্তুর ওজন কেন কমে যায়?
  1. ঘনত্ব কমে যায়
  2. ভর কমে যায়
  3. অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
  4. আয়তন কমে যায় 
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠলে বস্তুর ওজন কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যায়, কারণ উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব বাড়ে এবং মহাকর্ষ বল দুর্বল হওয়ায় অভিকর্ষজ ত্বরণের মান (g) হ্রাস পায়, ফলে ওজন (W = mg) কমে যায়, ভর অপরিবর্তিত থাকে। 

ভর ও ওজনের সম্পর্ক: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের পরিমাণই হচ্ছে এর ভর। 
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। 
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে। 
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে।

- যেহেতু বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি, সুতরাং বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভর করে।
- যেসব কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে সেসব কারণে বস্তুর ওজনও পরিবর্তিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন তত কমতে থাকে।
- বস্তুর ওজন বস্তুর মৌলিক ধর্ম নয়, কোনো বস্তুর ওজন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য।
- মহাশূন্যে কোনো বস্তুর ওজন শূন্য হলে তখন বস্তুর উপর কোনো মহাকর্ষ বল কাজ করে না।
- চাঁদের অভিকর্ষজনিত ত্বরণের মান পৃথিবীতে অভিকর্ষজ ত্বরণের প্রায় ৬ ভাগ।
সুতরাং, চাঁদে ১ কেজি ভরের বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৯.৮/৬ নিউটন ≈ ১.৬৩ নিউটন (N)। 
- কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে তার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- যদি দূরত্ব বাড়ানো হয় তাহলে তার উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কমে যায়, ফলে বস্তুর ওজন হ্রাস পায়। 
- ভূপৃষ্ঠে ১ কেজি ভরের কোনো বস্তুতুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলেও পৃথিবী থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে বস্তুর ওজন কমতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৬৩.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. অর্ধেক হবে 
  2. দ্বিগুণ হবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. চারগুণ হবে 
সঠিক উত্তর:
দ্বিগুণ হবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগুণ হবে 
ব্যাখ্যা

- পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ দ্বিগুণ হারে পরিবর্তিত হবে। 

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. ঘর্ষণ বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
ঘর্ষণ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর্ষণ বল
ব্যাখ্যা
বলের বিভিন্নতা সত্ত্বেও সকল প্রকার বলকে মাত্র চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চার প্রকার বলকে মৌলিক বল বলে।
“যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে”।

মৌলিক বলগুলো হল :
১. মহাকর্ষ বল
২. তাড়িতচৌম্বক বল 
৩. সবল নিউক্লিয় বল 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৬৫.
কোন অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g‘ এর মান সর্বোচ্চ?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
g-এর মান কোনো ধ্রব রাশি নয়। বস্তু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব পরিবর্তনের সাথে সাথে g-এর মান পরিবর্তন হয়।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণেও পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে বস্তুর উপর g-এর মানের পরিবর্তন ঘটে। বিষুব রেখা বরাবর
g-এর মান সর্বনিম্ন এবং মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ। পরীক্ষা করে দেখা যায় বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় ৯.৭৮ মি/সে
এবং মেরু এলাকায়, ৯.৮৩ মি/সে

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৬৬.
দুর্বল নিউক্লীয় বলের কারণে কোন ধরনের কণা বা রশ্মির নির্গমন ঘটে? 
  1. ফোটন কণা 
  2. আলফা (α) রশ্মি 
  3. গামা (γ) রশ্মি 
  4. বিটা (β) রশ্মি 
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটা (β) রশ্মি 
ব্যাখ্যা

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-18 m) কাজ করে। 
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৭.
একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি টুলকে একই ত্বরণে সরাতে গেলে দেখা গেল ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হচ্ছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কোন সূত্রের সাহায্যে করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. মহাকর্ষ সূত্র
সঠিক উত্তর:
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র — একই ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর বেশি হলে বেশি বল প্রয়োজন হয়; তাই এ ঘটনাটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

 
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- কোনো বস্তুর উপর প্রয়োগকৃত বল তার ভর ও ত্বরণের গুণফলের সমান।
- গাণিতিকভাবে, F = ma.
- নির্দিষ্ট ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর যত বেশি হবে, প্রয়োজনীয় বলও তত বেশি হবে।
 
• ঘটনার বিশ্লেষণ:
- ড্রেসিং টেবিলের ভর টুলের তুলনায় বেশি।
- একই ত্বরণে সরাতে হলে ড্রেসিং টেবিলের জন্য বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।
- তাই ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তু স্থির বা সমবেগে চলমান থাকে।
- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
- মহাকর্ষ সূত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল নির্ণয়ের সূত্র।
 
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১৬৮.
নিচের কোনটির একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন?
  1. ভরবেগের পরিবর্তনের হার
  2. ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল
  3. ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
ব্যাখ্যা
• ভরবেগের পরিবর্তনের হার:
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার = কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমান
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার ও বলের একক একই হবে।
- ভরবেগের পরিবর্তনের হারের একক নিউটন (N).

• ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল:
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর দৈর্ঘ্য পীড়ন ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা । এই ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের বা ইয়ং গুণাঙ্ক বলে। 
- ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংকের একক Nm−2
- ক্ষেত্রফলের একক m2
-  ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফলের একক = Nm−2 × m= N (নিউটন)।

• ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ = প্রযুক্ত বল যেহেতু, F = mg.
- বলের এককই ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক।
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক N (নিউটন)।

• ঘনত্ব × আয়তন × বেগ:
- ঘনত্বের একক kgm−3
- আয়তনের একক m3
- বেগের একক ms−1
- ঘনত্ব × আয়তন × বেগের একক = kgms−1

• সুতরাং, ঘনত্ব × আয়তন × বেগ - এর একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান - ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন , মুহম্মদ আজিজ হাসান , ড. রানা চৌধুরী।
১৬৯.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কী নামে পরিচিত?
  1. জড়তার সূত্র
  2. ত্বরণের সূত্র
  3. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র
  4. মহাকর্ষের সূত্র
সঠিক উত্তর:
জড়তার সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তার সূত্র
ব্যাখ্যা

◉ নিউটনের প্রথম সূত্র:
“কোনো বস্তুর উপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ না হলে, স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতি সম্পন্ন বস্তু একই বেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।”
এই সূত্রকে “জড়তার সূত্র (Law of Inertia)” বলা হয়।

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 

সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
কোন বিজ্ঞানী পড়ন্ত বস্তুর সূত্র আবিষ্কার করেন? 
  1. কেপলার
  2. নিউটন
  3. গ্যালিলিও
  4. আর্কিমিডিস
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
নিচের কোন রাশির ধারণা নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে পাওয়া যায়? 
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. জড়তা
  4. ভরবেগ
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতি সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
নিচের কোনটি অভিকর্ষজ ত্বরণ g-কে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বস্তুতে অনুভূত বেগ বৃদ্ধির হার
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
  3. সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথে বেগ বৃদ্ধির হার
  4. বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ বা প্রতিরোধের কারণে বেগ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়।
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়।
- নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ বেগ বৃদ্ধির হার সুতরাং এর একক ms- 2 এবং এর মাত্রা LT-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৪.
প্রকৃতিতে কত ধরনের মৌলিক বল আছে?
  1. ৪ 
  2. ২ 
  3. ৫ 
সঠিক উত্তর:
৪ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ 
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে। 

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৫.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. ফোটন
  3. গ্লুয়ন
  4. হিগস বোসন
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাভিটন
ব্যাখ্যা

• মৌলিক বল:
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।

- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন (Graviton)।
অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুয়ন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১৭৬.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি. এ-
  1. ৫ কি.মি.
  2. ১০ কি.মি.
  3. ২৭ কি.গ্রাম
  4. ১০ নিউটন
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১০ নিউটন। 
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত গড়ে ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থচ্ছেদের বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম এবং এটি ১০.১ নিউটন ওজন প্রয়োগ করে। যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে ১০.১নিউটন চাপের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
১৭৭.
ঘর্ষণ বল কোন ধরনের বল?
  1. চৌম্বক বল
  2. অভিকর্ষজ বল
  3. সংরক্ষণশীল বল
  4. অসংরক্ষণশীল বল
সঠিক উত্তর:
অসংরক্ষণশীল বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা
সংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। 
উদাহরণ- অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি। 

অসংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না। 
উদাহরণ- ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এটি সরল রৈখিক গতি
  2. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  3. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  4. এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
সঠিক উত্তর:
এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
What is the minimum velocity required for an object to permanently escape Earth's gravitational pull?
  1. 11.2 kms- 1
  2. 11.2 kmh- 1
  3. 9.8 ms- 2
  4. 2.4 Kms- 1
  5. 11.2 ms- 1 
সঠিক উত্তর:
11.2 kms- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
11.2 kms- 1
ব্যাখ্যা

• কোনো বস্তুকে যদি প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার অর্থাৎ, 11.2 Kms- 1 বেগে খাড়া উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হয়, তবে সেটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বল কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে। এই বিশেষ বেগকে মুক্তিবেগ বলা হয়। এটি বস্তুর ভরের ওপর নির্ভর করে না, তাই একটি ছোট পাথর বা একটি বিশাল রকেটের জন্য এই বেগের মান একই থাকে।

• মুক্তি বেগ:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তিবেগ (Escape velocity) বলা হয়।

• মুক্তি বেগ বা তার বেশি বেগে কোন বস্তুকে নিক্ষেপ করা হলে সেটি আর পৃথিবীতে ফিরে না এসে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করতে থাকে।
- মুক্তি বেগের মান হলো ১১.২ কি.মি./সেকেন্ড বা 11.2 Kms- 1
- আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) কে মুক্তি বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে সেটি পৃথিবীর অভিকর্ষকে অতিক্রম করে চলে যাবে , ফলে সেটি আর ফেরত আসবে না। 

• সাধারণত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) এর গতিবেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার। 
- মুক্তিবেগ থেকে এই বেগ কম হওয়ায় তা আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- কিন্তু তা ১১.২ কিলোমিটার/সেকেন্ড বা তার বেশি বেগ প্রাপ্ত হলে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না। 

উল্লেখ্য:
২.৪ কিমি/সেকেন্ড হলো চাঁদের মুক্তিবেগের মান যা পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
অনুভূমিকের সাথে কত কোণে নিক্ষেপ করলে একটি প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করবে?
  1. π রেডিয়ান
  2. π/2 রেডিয়ান
  3. π/3 রেডিয়ান
  4. π/4 রেডিয়ান
সঠিক উত্তর:
π/4 রেডিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
π/4 রেডিয়ান
ব্যাখ্যা
প্রাস:
- কোনো একটি বস্তুকে অনুভূমিকের সাথে তির্যকভাবে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তাকে প্রাস বলে। আর এই ধরনের গতিকে প্রাসের গতি বলে।
- প্রাসের গতিপথ একটি অধিবৃত্ত।
- প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক গতি।
- প্রাস সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছালে এর বেগ সর্বনিম্ন হয়।

সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা (Maximum Horizontal Range):
- নিক্ষিপ্ত বস্তু সর্বাধিক যে অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে আদি উচ্চতায় ফিরে আসে তাকে সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা বলে। 
- নির্দিষ্ট বেগে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তু বা প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে যখন বস্তুটি অনুভূমিকের সাথে 45° কোণে বা, [45° × (π/180)] = π/4 রেডিয়ান কোণে নিক্ষিপ্ত হয়। 


figure: প্রাসের গতিপথ (image source: medium.com)

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন।
১৮১.
সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন 
  2. গ্লুঅন 
  3. Z বোসন 
  4. ফোটন 
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুঅন 
ব্যাখ্যা

- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
 
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- মৌলিক বল ৪ টি। এই বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
 
অন্যদিকে, 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।

১৮২.
ভূপৃষ্ঠে কোন বস্তুর ভর X হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে তার ভর কত হবে?
  1. X
  2. X/6
  3. 6X
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
X
উত্তর
সঠিক উত্তর:
X
ব্যাখ্যা
• ভর (Mass) এবং ওজন (Weight) -এ দুটি আলাদা জিনিস।

• ভর:
- কোনো বস্তুর মধ্যে মোট পদার্থের পরিমাণকে ভর বলে।
- ভর সর্বদা ধ্রুব (constant) থাকে।
- অর্থাৎ, একটি বস্তুর ভর পৃথিবী, চাঁদ বা মহাকাশ যেখানেই যান না কেন পরিবর্তিত হয় না।
-তাই, যদি ভূপৃষ্ঠে ভর হয় X, তবে চন্দ্রপৃষ্ঠেও ভর হবে ঠিক X।

- ওজন হলো কোনো বস্তুর উপর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে প্রয়োগকৃত বল।
- ওজন পরিবর্তিত হয়।

- চাঁদে মহাকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর প্রায় 1/6 অংশ।
- তাই  চাঁদে বস্তুটির ওজন হবে-  X/6।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
১৮৩.
নিউটনের তৃতীয় সূত্র কোন বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে? 
  1. শক্তির রূপান্তর 
  2. সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তন 
  3. একটি বস্তুর ভর 
  4. দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
সঠিক উত্তর:
দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
ব্যাখ্যা

নিউটনের তৃতীয় সূত্র ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল: 
- নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র একটি বস্তুর গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা প্রদান করে। 
- নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে- " প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে"। 
যেমন- 
১। মাটির উপর দাঁড়ানো: 
- মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষটি স্থির থাকে। কারণ, মানুষটির ওজনের সমান একটি বল নীচের দিকে মাটির উপর ক্রিয়া করে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, মাটিও নীচ হতে মানুষটির উপর বল প্রয়োগ করে। এখানে, মানুষটির ওজন ও মাটি দ্বারা প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীত হওয়ায় সাম্যের সৃষ্টি করে। মানুষ দ্বারা মাটির উপর প্রযুক্ত বল ক্রিয়া বল এবং মাটি মানুষটির উপর যে বল প্রয়োগ করে তা প্রতিক্রিয়া বল। 

২। আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে যা হয়: 
- আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে, নৌকাটি পেছনে চলে যায়। কারণ আরোহী লাফ দেবার সময় নৌকার উপর বল প্রয়োগ করে ফলে নৌকাটি পিছনে সরে যায়। 
- নৌকাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, আরোহীর উপর একটি সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে যা আরোহীকে সামনের তীরের দিকে লাফিয়ে পড়তে সাহায্য করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৪.
নিউটনের প্রথম সূত্রের প্রচলিত নাম কী?
  1. মহাকর্ষ সূত্র
  2. বলের সূত্র
  3. কর্ম-প্রতিক্রিয়া সূত্র
  4. জড়তার সূত্র
সঠিক উত্তর:
জড়তার সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তার সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের প্রথম সূত্রকে সাধারণভাবে জড়তার সূত্র (Law of Inertia) বলা হয়। এই সূত্র অনুযায়ী, একটি বস্তু যদি বিশ্রামে থাকে, তাহলে তা বিশ্রামে থাকবে এবং যদি কোনো গতিতে চলে, তাহলে তা সমমিত গতিতে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বাহ্যিক কোনো বল তার উপর প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ, বাহ্যিক বল ছাড়া কোনো বস্তু তার গতির অবস্থা পরিবর্তন করতে পারে না। এই ধারণা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজে দেখা যায়, যেমন গাড়ি হঠাৎ থামালে যাত্রী সামনে ঝোঁকানো। নিউটনের এই প্রথম সূত্র বস্তু এবং বলের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার জন্য মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে।

• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- "বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু চিরকাল সমবেগে চলতে থাকবে।"

• এই সূত্রটি স্যার আইজ্যাক নিউটন তার "ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা" (1687) গ্রন্থে প্রস্তাব করেছিলেন।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি "জড়তার সূত্র" (Law of Inertia) নামে পরিচিত।

• জড়তা:
- জড়তা হলো বস্তুর একটি ধর্ম, যা দ্বারা বস্তু তার বর্তমান গতি বা স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায়। 

অন্যদিকে,
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি হলো বলের সূত্র।
• নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হলো বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত সূত্র। 
• মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের ভর যুক্ত বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল সম্পর্কিত সূত্র। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 

১৮৫.
প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?
  1. সমান ও বিপরীতমুখী
  2. সমান ও একইমুখী
  3. অসমান ও বিপরীতমুখী
  4. অসমান ও একইমুখী
সঠিক উত্তর:
সমান ও বিপরীতমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান ও বিপরীতমুখী
ব্যাখ্যা

• সমান ও বিপরীতমুখী — নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান মানের ও বিপরীত দিকের প্রতিক্রিয়া থাকে।

• নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একই সরলরেখায় কিন্তু বিপরীতমুখী।

• সূত্রের বৈশিষ্ট্য:
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মান সমান।
- দিক বিপরীত।
- একই সময়ে ঘটে।
- একই বস্তুর উপর নয়, পৃথক বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৮৬.
চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কী কারণে?
  1. জড়তা
  2. বেগ
  3. ত্বরণ
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
• চলন্ত বাস বা গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষলে "জড়তার" জন্য যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

• জড়তা:

- স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতা কে জড়তা বলে।
- গাড়ি চলন্ত অবস্থায় থাকলে গাড়ির সাথে সাথে যাত্রীর সমগ্র দেহই গতিশীল থাকে।
- ব্রেক কষলে গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর দেহের নিচের অংশ স্থির অবস্থায় আসে কিন্তু গতি জড়তার জন্য দেহের উপরের অংশ এগিয়ে যেতে চায়।
- ফলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৭.
গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য কোন বিজ্ঞানী পরিচিত?
  1. টাইকো ব্রে
  2. কেপলার
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পরিচিত। এই পরীক্ষায় তিনি দেখান যে বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই হারে নিচে পড়ে। তৎকালীন ধারণা ছিল ভারী বস্তু দ্রুত পড়ে, কিন্তু গ্যালিলিও এই ভুল ধারণার বিরোধিতা করেন। তিনি পালক ও ভারী বস্তু একসঙ্গে ফেলেন এবং প্রমাণ করেন যে পতনের গতি ভরের ওপর নির্ভর করে না, বরং মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গিনি-পালক পরীক্ষা (Guinea–Feather Experiment):
- গিনি-পালক পরীক্ষা মূলত বস্তু পতনের সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা।
- এই পরীক্ষায় একটি ভারী বস্তু (গিনি) এবং একটি হালকা বস্তু (পালক) একসাথে ফেলা হয়।
- সাধারণভাবে মনে করা হতো, ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত নিচে পড়ে।
- এই ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে বায়ুর প্রতিরোধ না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই সময়ে ভূমিতে পৌঁছায়।
- অর্থাৎ, বস্তুর ভর নয়, বরং বায়ুর বাধাই পতনের গতিতে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
- এই ধারণা অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের বিরোধিতা করে নতুন বৈজ্ঞানিক চিন্তার সূচনা করে।

পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানী:
- গিনি-পালক পরীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই।
- তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর গবেষণা গতি, মাধ্যাকর্ষণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
- সুতরাং, গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য পরিচিত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১৮৮.
সময়ের ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে বস্তুর সরণের হারকে কী বলা হয়?
  1. গড় বেগ
  2. সুষম বেগ
  3. অসম বেগ
  4. তাৎক্ষণিক বেগ
সঠিক উত্তর:
তাৎক্ষণিক বেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity): 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily): 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity): 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে।

মধ্যবেগ (Mean Velocity): 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সুষমবেগ (Uniform velocity): 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সুষমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সুষমবেগ বলে। 
যেমন: শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity): 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৯.
সরল দোলন গতিতে কণার ত্বরণের দিক কোনটির দিকে হয়? 
  1. গতিবেগের দিকে 
  2. সরণের দিকে 
  3. সাম্যাবস্থানের বিপরীত দিকে 
  4. সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
সঠিক উত্তর:
সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
ব্যাখ্যা

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। 
অর্থাৎ, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
বস্তুর কোন ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকতে চায়? 
  1. জড়তা
  2. ক্ষমতা
  3. বল
  4. শক্তি
সঠিক উত্তর:
জড়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জড়তা
ব্যাখ্যা
জড়তা (Inertia): 
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম, যে ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে গতিশীল থাকতে চায়। 
- জড়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। স্থিতি জড়তা (Inertia of rest): 
- স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতা বা ধর্মকে স্থিতি জড়তা বলে। 

২। গতি জড়তা (Inertia of motion): 
- সুষম গতিশীল বস্তু চিরকাল সুষম গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতা বা ধর্মকে গতি জড়তা বলে। 

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি বস্তুর জড়তা ও বলের গুণগত ধারণা দেয়। 

বল: 
- যা কোন স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা কোন গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে এর গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়, তাকে বল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান কত? 
  1. ০ মি/সে
  2. ৯.৭৮ মি/সে
  3. ৯.৮৩ মি/সে
  4. ৯.৮ মি/সে
সঠিক উত্তর:
০ মি/সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ মি/সে
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) এর মান শূন্য (0) হয়।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের সূত্র হলো: g = GM/R2,
- যেখানে M হলো পৃথিবীর ভর এবং R হলো পৃথিবীর ব্যাসার্ধ।
- কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রে যখন দূরত্ব r = 0, তখন পৃথিবীর ভরের কারণে কোনো নেট অভিকর্ষজ ত্বরণ কার্যকর হয় না, কারণ সব দিক থেকে সমান আকর্ষণ একে অপরকে বাতিল করে দেয়।
 
পৃথিবীর আকৃতির জন্য বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজন বিভিন্ন হওয়ার কারণ: 
- পৃথিবী সুষম গোলক না হওয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সকল স্থান সমদূরে নয়। 
- যেহেতু g এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g এর মানের পরিবর্তন হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় g এর মান সবচেয়ে কম (৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড)। সুতরাং বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত যাওয়া যায়, কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব তত কমতে থাকে এবং g এর মান বাড়তে থাকে (৯.৮৩ মিটার/সেকেন্ড)। এর ফলে বস্তুর ওজনও বাড়তে থাকে।
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় g এর মান মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, ফলে ওজনও সবচেয়ে বেশি হয়। 
- আবার, পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য, তাই সেখানে বস্তুর ওজনও শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৯২.
নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. দ্বিগুণ
  3. চারগুণ
  4. এক-চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৯৩.
বিষুব অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন কেন বেশি?
  1. মেরুতে বস্তুর ঘনত্ব বেশি 
  2. মেরুতে ভরের মান বেশি 
  3. মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
  4. মেরুতে বস্তুর আকার বড় 
সঠিক উত্তর:
মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরুতে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৯৪.
একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?
  1. 32 একক
  2. 36 একক
  3. 40 একক
  4. 44 একক
সঠিক উত্তর:
32 একক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
32 একক
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?

সমাধান:
ধরি,
বর্গক্ষেত্রের একবাহুর দৈর্ঘ্য = a একক
তাহলে, বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√2 একক
এবং বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4a একক

প্রশ্নমতে,
a√2 = 8√2
⇒ a = 8 একক

∴ বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4 × 8 একক
= 32 একক
১৯৫.
সবল নিউক্লীয় বল প্রায় কত দূরত্বে কার্যকর?
  1. ১০-৬ m
  2. ১০-৯ m
  3. ১০-১৫ m
  4. ১০-১৮ m
সঠিক উত্তর:
১০-১৫ m
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০-১৫ m
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৬.
একটি ধাতব মুদ্রা ও একটি পালক বায়ু শূন্য স্থানের উপর হতে এক সঙ্গে পতিত হলে কোণটি প্রথমে নিচে পড়বে?
  1. ধাতব মুদ্রা
  2. পালক
  3. দুটো একসঙ্গে
  4. কোনটিই পড়বে না
সঠিক উত্তর:
দুটো একসঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটো একসঙ্গে
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র হচ্ছে: স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

অর্থাৎ একটি বায়ুশূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি ধাতব মুদ্রা একত্রে ছেড়ে দিলে উভয়টিই এই সূত্রানুসারে একসাথে পড়বে।

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ v ∞ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ h ∞ t2.

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯৭.
মুক্তি বেগের রাশিমালায় কোন উপাদানটি অনুপস্থিত?
  1. বস্তুর ঘনত্ব
  2. গ্রহের ভর
  3. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. গ্রহের ব্যাসার্ধ
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ঘনত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

• মুক্তি বেগের রাশিমালায় সাধারণত গ্রহ বা বস্তুর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় যে কোনো বস্তুকে গ্রহের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র থেকে মুক্ত করতে কত দ্রুত গতি প্রয়োজন। মুক্তি বেগের সূত্র হলো V = √(2GM/R)​​, যেখানে G হলো মহাজাগতিক ধ্রুবক, M হলো গ্রহের ভর, আর R হলো গ্রহের ব্যাসার্ধ। এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মুক্তি বেগ নির্ভর করে গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধের উপর। অন্যদিকে, বস্তুর নিজস্ব ঘনত্ব বা ভরের কোন ভূমিকা নেই। তাছাড়া, অভিকর্ষজ ত্বরণও সরাসরি সূত্রে উল্লেখিত নয়, যদিও এটি ভরের ও ব্যাসার্ধের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। সুতরাং, মুক্তি বেগের রাশিমালায় অনুপস্থিত উপাদান হলো বস্তুর ঘনত্ব।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- মুক্তি বেগ হলো সেই সর্বনিম্ন গতি যার মাধ্যমে কোনো বস্তুকে একটি গ্রহ বা নক্ষত্রের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করা যায়।
- এটি শুধুমাত্র গ্রহের ভর (M) এবং গ্রহের ব্যাসার্ধ (R) ও গুণিতক হিসেবে গ্র্যাভিটেশনাল স্থিরাঙ্ক (G) দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- বস্তুটির ঘনত্ব বা ভরের কোনো সরাসরি প্রভাব নেই; শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ গুরুত্বপূর্ণ।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) সাধারণত মুক্তি বেগ বের করতে ব্যবহৃত হয় না, তবে g থেকে R ও M সম্পর্কিত হিসাব নেওয়া যায়।
- সূত্র: v = √(2GM/R)

• উদাহরণ ১: পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ :
- একটি রকেটকে পৃথিবীর আকর্ষণ থেকে মুক্ত করতে হলে তাকে একটি নির্দিষ্ট গতিতে প্রেরণ করতে হয়।  
- পৃথিবীর ভর M = 5.97 × 1024 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 6371 km হলে মুক্তি বেগ v = √(2GM/R) সূত্রে হিসাব করা যায়।  
- এই ক্ষেত্রে, বস্তুর ঘনত্ব প্রয়োজন হয় না, শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ প্রয়োজন।  

• উদাহরণ ২: চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ:
- চন্দ্রের ভর M = 7.35 × 1022 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 1737 km।  
- রকেটকে চন্দ্র থেকে মুক্ত করতে v = √(2GM/R) সূত্র ব্যবহার করা হয়।  
- চন্দ্রের ঘনত্ব বা রকেটের ঘনত্ব সরাসরি গণনায় প্রভাব ফেলে না।  

• উদাহরণ ৩: বৃহস্পতি গ্রহ থেকে উৎক্ষেপণ:
- বৃহস্পতি গ্রহের ভর M = 1.90 × 1027 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 69911 km।  
- বৃহস্পতি থেকে মুক্তি বেগ খুব বড়, v ≈ 60 km/s।  
- এখানে আবারও, বস্তুর ঘনত্ব রাশিমালায় অনুপস্থিত।  

• সারসংক্ষেপ:  
- মুক্তি বেগ নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ দরকার।  
- ঘনত্ব, বস্তুগত ভর বা অন্যান্য অনুপস্থিত উপাদান সরাসরি প্রয়োজন হয় না।  
- সুতরাং, রাশিমালায় কেবল বস্তুর ঘনত্ব অনুপস্থিত।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১৯৮.
নিউটনের মহাকর্ষ বল কোন দিক বরাবর ক্রিয়া করে? 
  1. বস্তুর গতি বরাবর
  2. যেকোনো দৈর্ঘ্যের রেখা বরাবর
  3. বস্তুকণাদ্বয়ের মধ্যবর্তী সরল রেখার লম্ব বরাবর
  4. বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর
সঠিক উত্তর:
বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন। কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মণ্ডলীর গ্রহ-উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না। 
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন।  এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল। 
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। 
অর্থাৎ, যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন, এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত। 
- সূত্রটি হলো: 
"মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
- বিশ্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, G-এর মান 6.673 × 10-11 Nm2kg-2 এবং G-এর মাত্রা L3M-1T -2  । 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg-2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় -
  1. আপেক্ষিক
  2. পরিবর্তনশীল
  3. ভেক্টর রাশি
  4. ধ্রুবক
সঠিক উত্তর:
ধ্রুবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্রুবক
ব্যাখ্যা
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়।
কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে
দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল।
একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০০.
তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা কোনটি? 
  1. গ্লুঅন
  2. ফোটন
  3. গ্রাভিটন
  4. W এবং Z বোসন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল: 
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে। 
- এই মৌলিক বলগুলো হলো- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তাড়িতচৌম্বক বল, 
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং 
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল। 
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন। 

অন্যদিকে, 
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন। 
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন। 
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।