বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ৭০১৮০০ / ১,১৮৫

৭০১.
'ক্রুসেড' নিচের কোনটির জন্য পরিচালিত হয়েছিল?
  1. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য
  2. বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণের জন্য
  3. মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য
  4. জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
ব্যাখ্যা

 ১১শ শতাব্দীর শেষের দিকে, ক্যাথলিক চার্চ জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য জন্য সামরিক অভিযান বা ক্রুসেডের অনুমোদন দিতে শুরু করে। ক্রুসেডাররা বিশ্বাস করত যে তাদের এই সেবা তাদের পাপমোচন করবে এবং স্বর্গে স্থান নিশ্চিত করবে। 

​ক্রুসেড (Crusade):
- প্রথম ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয় ১০৯৬ সালে।
- মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম মুক্ত করার জন্য খ্রিস্টানরা ১০৯৬ সাল থেকে ১২৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে বারংবার যে-অভিযান চালায়, তা-ই ইতিহাসে ক্রুসেড নামে খ্যাত।
- মোট আটবার পরিচালিত, প্রথম ক্রুসেড অভিযান পরিচালনা করেন গডফ্রে।
- প্রধানত, ইউরোপ থেকেই ক্রুসেড অভিযানসমূহ প্রেরণ করা হয়।

সূত্র: রাজনীতিকোষ - হারুনুর রশীদ।

৭০২.
প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে কোন সভ্যতায়?
  1. ক্যালডীয়
  2. গ্রিক
  3. রোমান
  4. মিশরীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয় সভ্যতা: 
- ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার।
- এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে।
- পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের  শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭০৩.
সুমেরীয় জাতির বিখ্যাত রাজা ছিল-
  1. ফারাও
  2. ইখনাটন
  3. ডুঙি
  4. তুতেনখামেন
সঠিক উত্তর:
ডুঙি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুঙি
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:

- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়রা প্রথম মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে খাল খনন, জলাশয় ও বাঁধ নির্মাণ করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটিয়ে নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়।
- সুমেরীয়দের বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন। 
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৪.
ইনকা সভ্যতার নিদর্শন কোনটি?
  1. মহেঞ্জোদারো
  2. মাচু পিচু
  3. পার্সিপোলিস
  4. কোপান
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.
৭০৫.
কত সালে অটোমান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ অটোমান সাম্রাজ্যে:
- অটোমান সাম্রাজ্য (উসমানীয় সাম্রাজ্য) আনাতোলিয়ার (বর্তমান তুরস্ক) তুর্কি উপজাতিদের দ্বারা ১২৯৯ সালে ওসমান গাজীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ওসমান গাজীর নাম থেকেই উসমানীয় বা অটোমান নামে উদ্ভব ঘটেছে। তিনি ছিলেন দিরিলিস আর্তুগ্রুল এর ছেলে।
- ১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ বাইজানটাইনদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপল বা ইস্তানবুল অধিকার করেন এবং একে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী করেন।
- সুলতান প্রথম সুলেমানের শাসনামলে (১৫২০-১৫৬৬ খ্রি.) অটোমান সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।
- সে সময় বর্তমান গ্রিস, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মিশর, জর্ডান ও আরবের অংশবিশেষ অটৈামান সাম্রাজ্যভুক্ত ছিলো।
- সতের শতক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূত্রপাত ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানরা কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষ অবলম্বন করে।
- ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অটোমান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে।
- শেষ অটোমান সুলতান ছিলেন ষষ্ঠ মুহাম্মদ ওয়াহিদউদ্দিন।
- আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৭০৬.
Which ancient civilization built the Great Pyramid of Giza?
  1. Greeks
  2. Romans
  3. Egyptians
  4. Mesopotamians
সঠিক উত্তর:
Egyptians
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Egyptians
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:

- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে উঠেছিল।
- মানব সভ্যতার অগ্রগতি তাদের অবদানে সমৃদ্ধ।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- গিজার মহাপিরামিড মিশরের প্রাচীন সভ্যতার একটি বিখ্যাত নিদর্শন।
- এটি আনুমানিক প্রায় ৪,৫০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল।
- এটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্ত আশ্চর্যের একটি এবং চতুর্থ রাজবংশের ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৭.
আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক ছিলেন কে?
  1. কনফুসিয়াস
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক ছিলেন এরিস্টটল। 

সক্রেটিস: 
- গ্রিসের খ্যাতিমান দার্শনিক।
- ৩৯৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে হেমলক পাতার তৈরি বিষ খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
- সব জ্ঞানীদের গুরু বলা হয় সক্রেটিসকে। 

প্লেটো: 
- তিনি সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন।
- 'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের রচয়িতা।
- সক্রেটিসের শিক্ষার বক্তব্য নিয়ে রচিত 'ডায়ালক অব সক্রেটিস' এর রচয়িতা তিনি। 
- ৩৮৫ খ্রি. প্লেটো দর্শনের স্কুল Academia প্রতিষ্ঠা করেন।  

এরিস্টটল:
- প্লেটোর ছাত্র ছিলেন এরিস্টটল।
- তিনি 'লাইসিয়াম' এর প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক ছিলেন । 

কনফুসিয়াস:
- কনফুসিয়াস ছিলেন চীনা দার্শনিক (জন্ম, খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১ অব্দে এবং মৃত্যু, খ্রিস্টপূর্ব ৪৭৯ অব্দে) ।
- তিনি মূলত নীতিবাদী দার্শনিক ছিলেন ।
- তার দর্শন ও রচনাবলি পূর্ব এশিয়ার জীবনদর্শনে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭০৮.
বর্তমান কোন দেশে 'হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো'র সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) পাকিস্তান
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) মিশর
সঠিক উত্তর:
খ) পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• সিন্ধু সভ্যতা হলো ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা। আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বে সিন্ধু নদীর তীরে এই সভ্যতার সূচনা হয়।
• ১৯২১ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাহিওয়াল জেলার হরপ্পায় প্রথম সিন্ধু সভ্যতার সন্ধান মেলে। হরপ্পার নির্দশন আবিষ্কারে দয়ারাম সাহনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
• ১৯২২ সালে বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলার মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
• সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারে স্যার মার্টিন হুইলার, কাশীনাথ দীক্ষিত এবং ননী গোপাল মজুমদারের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
• সিন্ধু সভ্যতা ছিলো একটি উন্নত নগর সভ্যতা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৭০৯.
কোন শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়?
  1. দ্বাদশ শতাব্দীতে
  2. ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
  3. চতুর্দশ শতাব্দীতে
  4. পঞ্চদশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা

রেনেসাঁ:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়। 

⇒ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- ফ্লোরেন্স ছিল ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দীতে এটি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এটি ছিল রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা এবং বিকাশের জন্য একটি প্রধান স্থান।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
- এই সময়ে প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সভ্যতার শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৭১০.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় কোন ধরনের লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করা হত?
  1. লিনিয়ার
  2. কিউনিফর্ম
  3. রুনিক
  4. হায়ারোগ্লিফিক্স
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
ব্যাখ্যা

⇒ ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় কিউনিফর্ম লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করা হত।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের শহর।
- এই শহরের ধ্বংসাবশেষ বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৯ কিমি) দক্ষিণে, ইরাকের আধুনিক শহর আল-হিল্লার কাছে অবস্থিত।
- এটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে আমোরীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে।
- শহরটি ব্যাবিলোনিয়ার রাজধানী হয়ে ওঠে এবং টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার প্রধান বাণিজ্যিক শহর ছিল।
- এটি নেবুচাদনেজার দ্বিতীয় এর অধীনে নিও-ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসাবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন করেছিল।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৭১১.
কোনটি হিজরি বর্ষপঞ্জির মাসের নাম নয়?
  1. মুহররম
  2. জমাদিউল আউয়াল
  3. জমাদিউল সাবান
  4. সফর
সঠিক উত্তর:
জমাদিউল সাবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমাদিউল সাবান
ব্যাখ্যা
হিজরি বর্ষপঞ্জি:
- চন্দ্র নির্ভর বর্ষপঞ্জি।
- ৬৩৮- হযরত ওমর কর্তৃক হিজরি বর্ষপঞ্জি (ইসলামি বর্ষপঞ্জি) প্রবর্তন।
- ৬২২ থেকে সন গণনা শুরু [ হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মক্কা থেকে মদীনা হিযরতের দিন থেকে]।
- ৩৫৪/৩৫৫ দিনে বছর গণনা।
-মোট মাস ১২ টি।
- মুহররম,
- সফর, 
- রবিউল আউয়াল,
- রবিউস সানি,
- জমাদিউল আউয়াল,
- জমাদিউস সানি,
- রজব,
- শাবান,
- রমজান,
-  শাওয়াল,
- জ্বিলকদ,
- জ্বিলহজ্জ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭১২.
'চাকা আবিষ্কার' কোন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান?
  1. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  2. ক্যালেডীয় সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. সুমেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয় সভ্যতা ( Sumerian Civilization):
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো।
- সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।
- সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
- জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুমেরীয়রা।

সূত্র: Britannica & History.com ও কালের কণ্ঠ। 
৭১৩.
'মানকো কাপেন' কোন সভ্যতার স্থপতি হিসেবে পরিচিত?
  1. গ্রিক
  2. পারস্য
  3. ইনকা
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
ইনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা
ব্যাখ্যা
⇒ 'মানকো কাপেন' ইনকা সভ্যতার স্থপতি হিসেবে পরিচিত।

ইনকা সভ্যতা:

- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- এই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৭১৪.
স্পেনের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অঙ্কিত চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. The Weeping Woman
  2. The Last Supper
  3. Guernica
  4. The Potato Eaters
সঠিক উত্তর:
Guernica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Guernica
ব্যাখ্যা
• "গোয়ের্নিকা” চিত্রকর্ম:
- ১৯৩৭ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধে ইতালি-জার্মান বাহিনী কর্তৃক গোয়ের্নিকায় গণহত্যা (স্পেনের জাতীয়তাবাদী দলের অনুরোধে)।
- এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পাবলো পিকাসো "গোয়ের্নিকা” চিত্রকর্মটি অংকন করেন
- মাদ্রিদের "মিউজি রিনা সোফিয়া" জাদুঘরে এটি সংরক্ষিত রয়েছে।

অন্যদিকে,
- The Weeping Woman - পাবলো পিকাসো।
- The Last Supper - লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি।
- The Potato Eaters - ভিনসেন্ট ভ্যান গগ।

উৎস: ব্রিটিনিকা।
৭১৫.
টেরেন্স কোন সভ্যতার বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. হিব্রু সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- রোমান সভ্যতার প্রধান শহর ছিল ইতালির, রোম।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব দেখা যায়।
- রোমান সভ্যতায় সাহিত্য চর্চা ছিল অনেক।
- বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তারা বিভিন্ন দেবতায় বিশ্বাসী ছিল।
- আকাশের দেবতা: জুপিটার।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- প্রেমের দেবতা: ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা: নেপচুন।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৬.
পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন কে?
  1. সম্রাট দারিয়ুস
  2. কনফুসিয়াস
  3. সম্রাট কাইরাস
  4. জরথুষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
জরথুষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরথুষ্ট্র
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৭.
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পিরামিড আছে কোন দেশে?
  1. মেক্সিকোতে
  2. মিশরে
  3. সুদানে
  4. ইরাকে
সঠিক উত্তর:
সুদানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদানে
ব্যাখ্যা
• সর্বাধিক পিরামিডের মালিক দেশটির নাম সুদান।
- মিশরে পিরামিডের সংখ্যা ১৩৮, সেখানে সুদানে পিরামিডের সংখ্যা ২৫৫।
- সুদানের পিরামিডগুলো তৈরি হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার ৭০ থেকে ৩৫০ অব্দে, কুশ নামের রাজাদের শাসনামলে।
- তবে এগুলো তৈরি হয়েছে মিশরে পিরামিড তৈরি হওয়ার রেওয়াজ চালু হওয়ার ৫০০ বছর পরে।
- মিশরের শ্রেষ্ঠত্ব উচ্চতায়ও। কুশি পিরামিডগুলোর উচ্চতা ছয় থেকে ৩০ মিটার (২০ থেকে ৯৮ ফুট) পর্যন্ত।
- যেখানে মিশরের পিরামিডগুলোর গড় উচ্চতা ১৩৮ মিটার বা ৪৫৩ ফুট। 

সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ ও প্রথম আলো।
৭১৮.
হায়া সোফিয়া স্থাপত্য নির্মিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ক) ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. খ) ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাইজানটাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় গির্জা হিসেবে হায়া সোফিয়া স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় ‍মুহাম্মদ ইস্তাম্বুল অধিকার করে হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন। ১৯৩৫ সালে তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক সরকার হায়া সোফিয়াকে মিউজিয়ামে রূপান্তর করে। সম্প্রতি তুরস্ক সরকার হায়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করেছে।
(সূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৭১৯.
প্রাচীন কোন নগরীতে রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটে?
  1. এথেন্স
  2. ফ্লোরেন্স
  3. বার্লিন
  4. স্পার্টা
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরেন্স
ব্যাখ্যা
রেনেসাঁ:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- ফ্লোরেন্স ছিল ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দীতে এটি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এটি ছিল রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা এবং বিকাশের জন্য একটি প্রধান স্থান।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

⇒ মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশ্বাস সব কিছুই আবর্তিত হতো প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে।
- ইউরোপে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতক থেকে ক্রমেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
- সাধারণ মানুষ যুক্তিতর্ক দ্বারা সবকিছুকে গ্রহণ বা বর্জন করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে।
- রেনেসাঁস মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাজ পরিবর্তন প্রক্রিয়া।
- এই রেনেসাঁসের ভেতর দিয়ে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার উত্থান ঘটেছে।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) History.com [link]
৭২০.
মিশরীয় সভ্যতার প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন কে?
  1. রাজা মেনেস
  2. রাজা তুতেনখামেন
  3. রাজা থুতমোস
  4. সম্রাট ইখনাটন
সঠিক উত্তর:
রাজা মেনেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা মেনেস
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। 
- রাজা মেনেস নামে এক শক্তিশালী সামন্ত রাজা খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে একত্রিত করে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন। তাঁকে মিশরের প্রথম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- উচ্চ মিসরের রাজধানী ছিল থিবস (Thebes)। দক্ষিণ মিসরের মেক্ষিশ শহরে নতুন রাজধানী স্থাপন করা হয়।
- রাজা মেনেসের পর থেকে তিন হাজার বছর পর্যন্ত প্রাচীন মিসরে ৩১টি রাজবংশের ইতিহাস পাওয়া যায়।
- মিসরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথম আহমোজ, রাজা থুতমোস, সম্রাট ইখনাটন, তৃতীয় আমেনহোটেপ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।

⇒ স্থাপত্য ও ভাস্কর্য:
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। পাথর কেটে কেটে তারা প্রকাণ্ড সব সৌধ বানাতে ছিল খুব দক্ষ। তাদের এসব সৌধ হচ্ছে মিশরের বিখ্যাত পিরামিড। সবচেয়ে বড় পিরামিড ফারাও খুফুর পিরামিড যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট। তারা মৃত্যুর পর আরেকটি জীবনে বিশ্বাসী ছিল। সে জীবনেও রাজা হবেন ফারাও। তাই তাদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল পিরামিড। আর মধ্যরাজ বংশের আমলে পিরামিডের বদলে ফারাওরা তৈরি করেন ধর্ম মন্দির। সবচেয়ে বড় মন্দির কারনাক মন্দির। ভাস্কর্যের অধিকাংশ নিদর্শন দেখা যায় সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের প্রবেশ পথে। মন্দিরের ভেতরের দেয়াল সাজানো হতো মূর্তি খোদাই করে। মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব 'স্ফীংস' তৈরিতে। বহুখণ্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এ ভাস্কর্য। এর দেহ ছিল সিংহের আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। এর দ্বারা বুঝানো হতো ফারাও সিংহের মতো বলবান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২১.
ঐতিহাসিক ট্রয়ের যুদ্ধ কত বছর ধরে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২০ বছর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন।
- গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস যখন স্পার্টা থেকে রাতের অন্ধকারে হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে এলেন, হেলেনের স্বামী স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এবং তার ভাই আগামেমনন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নৌবহর নিয়ে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে এই নগরের পাশে স্কামান্দার নদীর মুখে এসে তাঁবু গেড়েছিলেন।
- তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গ্রিস বা আচিয়ানদের বন্ধুপ্রতিম সব রাজ্যের রাজা।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের ঘোড়া (Trojan Horse):
- ট্রয়ের ঘোড়া ছিল গ্রীক বাহিনীর একটি কৌশল। তারা একটি বিশাল কাঠামো, যা একটি ঘোড়ার মতো দেখতে, ট্রয়ের শহরে রেখে যায়। এতে গ্রীক সৈন্যরা লুকিয়ে ছিল। ট্রয়ের বাসিন্দারা এটি উপহার মনে করে শহরে নিয়ে আসে। রাতের বেলায় সৈন্যরা বের হয়ে শহরের দরজা খুলে দেয়, এবং গ্রীক বাহিনী ট্রয় ধ্বংস করে। এটি প্রতারণা ও কৌশলের প্রতীক হয়ে আছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
৭২২.
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কে?
  1. বাসিল
  2. দ্য ইসৌরিয়ান
  3. হেরাকলিয়াস
  4. জাস্টিনিয়ান
সঠিক উত্তর:
জাস্টিনিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাস্টিনিয়ান
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭২৩.
সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব (Heliocentric Theory) এর প্রবর্তক কে?
  1. নিকোলাস কপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও গ্যালিলেই
  3. জোহানেস গুটেনবার্গ
  4. জোহানেস কেপলার
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কপারনিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোলাস কপারনিকাস
ব্যাখ্যা

• নিকোলাস কপারনিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩ খ্রি.):
- তাঁকে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- মধ্যযুগে প্রচলিত ধারণা ছিল পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ আবর্তিত হয়।
- কপারনিকাস এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে বলেন যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করে।
- তাঁর এই মতবাদকে সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব (Heliocentric Theory) বলা হয়।
- যদিও প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টার্কাস অনেক আগে এই ধারণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তা তখন গ্রহণযোগ্য হয়নি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭২৪.
ফ্রান্সের মহান সম্রাট নেপোলিয়নের জীবনাবসান হয় কোথায়?
  1. ক) ওয়াটার লু নামক স্থানে
  2. খ) দ্বীপ এনাবার্তে
  3. গ) ভার্সাই নগরীতে
  4. ঘ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
- নেপোলিয়ান কর্সিকা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮১৫ সালের জুন মাসে বিখ্যাত ওয়াটার’লু যুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে পরাজিত হন নেপোলিয়ান। তাকে আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হয়। নির্বাসিত অবস্থায় ছয় বছর পর ১৮২১ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বীর সেনাপতি।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম।
৭২৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষ অবলম্বন করে কোন দেশ?
  1. ক) বেলজিয়াম
  2. খ) তুরস্ক
  3. গ) বুলগেরিয়া
  4. ঘ) হাঙ্গেরি
সঠিক উত্তর:
ক) বেলজিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
একনজরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
▪ যুদ্ধ সংঘটনকাল:- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ — ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।
▪ অক্ষশক্তি:- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
▪ মিত্রশক্তি:- রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।  
▪ ফলাফল:- মিত্রশক্তি বিজয়ী।    

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
৭২৬.
অরেঞ্জ বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কোন শহর?
  1. মস্কো
  2. কিয়েভ
  3. মিনস্ক
  4. ওডেসা
সঠিক উত্তর:
কিয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিয়েভ
ব্যাখ্যা

অরেঞ্জ বিপ্লব:
- ‘অরেঞ্জ বিপ্লব' সংঘটিত হয় ইউক্রেনে।
- অরেঞ্জ বিপ্লব ছিল একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক ঘটনা।
- এটি সংঘটিত হয়েছিল ২০০৪ সালে।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল নাগরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।
- ২০০৪ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ আন্দোলনের সূত্রপাত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৭২৭.
হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন কে?
  1. হার্মিস
  2. আথেনা
  3. আফ্রোদিতি
  4. জেহোভা
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৮.
'হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো' শহর দুটি কোন সভ্যতার সাথে জড়িত?
  1. ইনকা সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সিন্ধুসভ্যতার বিস্তৃতি বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- তা সত্ত্বেও ঐ সভ্যতা শুধু সিন্ধু অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল। 

এছাড়াও, 
- সিন্ধুসভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর। 
- সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ করতে শিখেছিল।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 
৭২৯.
গ্রিক উপদ্বীপ কেন্দ্রিক হেলেনিক সভ্যতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল কোনটি?
  1. ক) মেঘারা
  2. খ) এথেন্স
  3. গ) স্পার্টা
  4. ঘ) থিব্‌স
সঠিক উত্তর:
খ) এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এথেন্স
ব্যাখ্যা
হেলেনিক সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতায় দুটি স্তর লক্ষ্য করা যায়। 
- প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতীয় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা। 
- গ্রিকরা তাদের ‘হেলাস' বলতো। 
- তাই গ্রীক সভ্যতার উন্মেষ বা আদিপর্ব হেলেনিক যুগ। 
- কেবল গ্রিক উপদ্বীপ কেন্দ্রিক এই সভ্যতার প্রধান কেন্দ্র বিন্দু ছিল এথেন্স। 
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৩৩৬ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক যুগ বিদ্যমান ছিল। 
- অতঃপর রাজা ফিলিপ কর্তৃক মেসিডোনিয়া কেন্দ্রিক নতুন সভ্যতা গড়ে ওঠে। 
- রাজা ফিলিপের পুত্র আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে গ্রিকরা ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়াব্যাপী বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। 
- গ্রিক শিক্ষা-সংস্কৃতির সঙ্গে বাইরের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটিয়ে পরবর্তীতে যে সভ্যতার সৃষ্টি হয় তাই হেলেনিস্টিক যুগের সভ্যতা। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩০.
মঙ্গোল সাম্রাজ্যের নেতা তেমুজিন কত সালে মৃত্যুবরন করেন?
  1. ১২২১ সালে
  2. ১২২৭ সালে
  3. ১২৩২ সালে
  4. ১২৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১২২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২২৭ সালে
ব্যাখ্যা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- তিনি ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন
- তার আসল নাম ছিল তেমুজিন।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান মৃত্যুবরণ করেন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৩১.
‘The Hanging Garden of Babylon’ প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যটি কোন সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অবদান?
  1. ক) সুমেরীয় সভ্যতা
  2. খ) ক্যালেডীয় সভ্যতা
  3. গ) অ্যাশেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) ব্যবিলনীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালেডীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যালেডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ক্যালেডীয় সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতার শেষ ধাপ। একে নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতাও বলা হয়। সম্রাট নেবুচাদনেজার এ সভ্যতার গোড়াপত্তন করেন। নেবুচাদনেজারের কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি ইহুদীদের বন্দী করে ৫৩৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত আটকে রাখেন। ইতিহাসে এটি ‘ব্যাবিলনীয় বন্দী দশা’ নামে পরিচিত।
সভ্যতার উল্লেখযোগ্য অবদানঃ
-নগর দেয়ালের উপর সম্রাট নেবুচাদনেজার নির্মাণ করেন ‘ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান(The Hanging Garden of Babylon)’।
-ক্যালডীয়রা সপ্তাহকে সাত দিন এবং দিনরাত্রিকে ২৪ ঘন্টায় ভাগ করেন।
-এ যুগে জ্যোতির্বিদগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান এবং এ থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)]
৭৩২.
চাকার উদ্ভাবন ঘটেছিল কোন যুগে? 
  1. মধ্য প্রস্তর যুগ
  2. তাম্র যুগ
  3. নব্য প্রস্তর যুগ
  4. প্রাচীন প্রস্তর যুগ
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা

• নব্য প্রস্তর যুগ:
- 'নব্যপ্রস্তর' শব্দটি এসেছে ইংরেজি Neolithic প্রতিশব্দ থেকে।
- আনুমানিক ৮০০০-৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দের মধ্যে ও নিকট প্রাচ্যে নব্য প্রস্তরযুগের প্রথম বিকাশ ঘটে।
- অতঃপর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইংল্যান্ডে এ যুগের সূচনা হয়।
- এ যুগে তাঁত বা বয়ন শিল্পের বিকাশ ঘটে।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- চাকার আবিষ্কার, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, পরিবহন এবং যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন ঘটায়।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগে বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
- নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।

তথ্যসূত্র:  ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৩.
কলোসিয়াম নাট্যশালা কোথায় অবস্থিত?
  1. রোম
  2. ইস্তাম্বুল
  3. ফ্লোরেন্স
  4. লারনাকা
সঠিক উত্তর:
রোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম
ব্যাখ্যা
• রোমান সভ্যতা :
- ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সাম্রাজ্য সভ্যতা গড়ে ওঠে, রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রোমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- রোমান সভ্যতায় স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশালতা।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।
- রোমান ভাস্করগণ দেব-দেবী, সম্রাট, দৈত্য, পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রের মূর্তি তৈরি করতেন মার্বেল পাথরের।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৩৪.
অটোমান সাম্রাজ্য তাদের সেরা সময় কাটিয়েছে কোন সুলতানের আমলে?
  1. ক) সুলতান উসমান
  2. খ) সুলতান মোস্তফা
  3. গ) সুলতান সুলেমান
  4. ঘ) সুলতান আল কাসিম
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান সুলেমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতান সুলেমান
ব্যাখ্যা
অটোমান সাম্রাজ্যে:

- অটোমান সাম্রাজ্য তাদের সেরা সময় সময় কাটিয়েছে সুলতান সুলেমান দি ম্যাগনিফিসেন্ট এর আমলে।
- অটোমান সাম্রাজ্যের শুরু হয়েছিলো আনাতোলিয়া শহর থেকে।
- তুরস্কের ভাষায় অটোমান সাম্রাজ্যের নাম ওসমানী সাম্রাজ্য। তার দলের সদস্যদের বলা হতো ওসমানী। তুরস্কের ভাষায় ওথমান।
- ছয়শ বছর ধরে তৈরি হওয়া সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে।
- অটোমান সুলতানদের পূর্বপুরুষ তুরকিকরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার বাসিন্দা। তারা ছিলেন অনেকটা যাযাবর গোষ্ঠী।
- সেখান থেকে দশম শতকে তারা পার্সিয়া বা আধুনিক ইরানের ভেতর দিয়ে নিজেদের বসবাসের উপযোগী জমির সন্ধানে অভিবাসন শুরু করেন।
- একাদশ শতকের দিকে তারা আর্মেনিয়া এবং আনাতোলিয়ার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় ওই এলাকা ছিল বাইজেন্টাইন রাজত্বের অধীনে।
- এরতুরুল-এর মৃত্যুর পর গোত্রপতি হন তার সন্তান প্রথম ওসমান। তার নামেই পরবর্তীতে ওসমানী রাজত্ব বা অটোমান এমপায়ারের জন্ম হয়। তার দলের লোকজনদের ডাকা হতো ওসমানী।
- ১৩০১ সালে যখন তিনি প্রথম বাইজেন্টাইন একটি বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। 
- এরপর থেকে তিনি ও তার উত্তরসূরিরা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় বহু দেশ দখল করেন। এই সাম্রাজ্যের আওতায় ছিল আজকের তুরস্ক, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রীস, আলবেনিয়া, মিশর, মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, জর্ডান, প্যালেস্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, সৌদি আরবের কিছু অংশ এবং উত্তর আফ্রিকার উপকূলের বড় একটি অংশ।
- পরবর্তী ছয়শ বছর অটোমান সাম্রাজ্য টিকে ছিল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা,৭ মে ২০২২।
৭৩৫.
দারিয়ুস দ্য গ্রেট কোন নগরীর গোড়াপত্তন করেন?
  1. নিনেভেহ
  2. রোম
  3. ব্যাবিলন
  4. পার্সেপোলিস
সঠিক উত্তর:
পার্সেপোলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্সেপোলিস
ব্যাখ্যা

দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস' পারস্য সভ্যতা সম্রাট ছিলেন।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭৩৬.
রাজা হাম্মুরাবী কীসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. আইন সংকলন 
  2. শূন্য উদ্যান নির্মাণ 
  3. মানচিত্র তৈরি
  4. বর্ণমালা উদ্ভাবন
সঠিক উত্তর:
আইন সংকলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন সংকলন 
ব্যাখ্যা

রাজা হাম্মুরাবী:
- রাজা হাম্মুরাবী ছিলেন এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
- রাজা হাম্মুরাবি ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলন শাসন করেন। 

⇒ ব্যবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরারীর শাসনামলে।
- রাজা হাম্মুরাবী বিখ্যাত ছিলেন তাঁর প্রণীত হাম্মুরাবির আইন সংহিতার (Code of Hammurabi) জন্য।
-  হাম্মুরারীর আইন জগত বিখ্যাত। 
- ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও সুসংহত লিখিত আইন সংকলন।

উল্লেখ্য,
- ২৮২টি আইনের সমন্বয়ে তৈরি, পাথরে খোদাই করা এই কোডটি ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া শাসনের জন্য তৈরি করেছিলেন।
- তাঁর আইনগুলো ‘কোড অব হাম্মুরাবি’ নামে পরিচিত।
- আইনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী কাদামাটিতে লিখে আগুনে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হতো।
- বিষয় অনুসারে আইনগুলো নানা শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যেমন পারিবারিক বিষয়, বাণিজ্য, ধর্ম ও দাসপ্রথা।
- জনসাধারণ যদিও পড়তে জানত না, তবু আইনভঙ্গকারীদের দাঁত উপড়ে নেওয়া বা শূলে চড়ানোর মতো শাস্তি ভোগ করতে হতো।

উৎস: i) History.com
ii) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৭.
মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. অ্যাসেরীয়
  2. ক্যালেডীয়
  3. সুমেরীয়
  4. ব্যাবিলনীয়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন। 
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৮.
সুমেরীয়দের প্রধান দেবতা কে ছিল?
  1. ক) শামাশ
  2. খ) এনকি
  3. গ) নাগাল
  4. ঘ) এনলিল
সঠিক উত্তর:
গ) নাগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাগাল
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় ধর্ম:
- অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার ন্যায় সুমেরীয়রা অনেক দেব দেবীতে বিশ্বাসী ছিল। 
- তাদের এক একটি দেবতা এক একটি নামে পরিচিত ছিল। 
যেমন বিখ্যাত দেবতা ‘শামাশ’ (সূর্যদেবতা), ‘এনলিল' (বৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুর দেবতা), পানির দেবতা ‘এনকি’, প্লেগ রোগের বিশেষ দেবতা ‘নারগাল' এবং ‘ইস্টারা’ (নারী জাতির দেবতা) নামে পরিচিত ছিলেন। 
- তবে তাদের প্রধান দেবতা ছিল 'নাগাল'। 
- সুমেরীয় সভ্যতায় মিসরীয় সভ্যতার অনেক প্রভাব থাকলেও পরকালের ধারণা বা পুনরুজ্জীবন (স্বর্গ-নরক) ধারণা জন্ম লাভ করেনি মিসরীয়দের মধ্যে। 
- সম্ভবতঃ এই কারণে সুমেরীয় অঞ্চলে মৃতদেহকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার অট্টালিকা, সমাধি বা মমির প্রবণতা দেখা যায় না। 
- তাই তারা মৃতদেহকে কবর দিতো। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৩৯.
গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয় কোন শহরকে?
  1. স্পার্টা
  2. থেসালোনিকি
  3. পাত্রাস
  4. অ্যাথেন্স
সঠিক উত্তর:
অ্যাথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাথেন্স
ব্যাখ্যা
• অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

গণতন্ত্রের সূচনা:
- 'গণতন্ত্র' পরিভাষাটি ইংরেজি 'Democracy' থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।

অন্যদিকে,
- স্পার্টা, থেসালোনিকি ও পাত্রাস গ্রিসের বিখ্যাত তিনটি শহর।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৭৪০.
গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ আক্রমণ করে কত খ্রিস্টপূর্বাব্দে?
  1. ৩৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. ৩০৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর:
৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা
গ্রিকবীর আলেকজান্ডার ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের ম্যাসিডোন রাজ্যের সম্রাট।
তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জয়ের পর ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিকরা ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
ভারত অভিযান শেষে ফিরে যাবার পথে ব্যাবিলনে আলেকজান্ডারের মৃত্যু হয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৪১.
কোন দেশে সর্বপ্রথম জ্যামিতি আলোচনা শুরু হয়?
  1. ক) মিশরে
  2. খ) আরবে
  3. গ) গ্রীসে
  4. ঘ) চীনে
সঠিক উত্তর:
ক) মিশরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিশরে
ব্যাখ্যা

জ্যামিতি বা Geometry:
শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ভূমি পরিমাপ'।
প্রায় আড়াই হাজার বৎসর পূর্বে ৩০০ খিৃষ্ট পূর্বাব্দে মিশরে ভূমি চিহ্নিত করার কাজে জ্যামিতি ব্যবহৃত হতো।
মানুষ যখন থেকে আকার, আকৃতি, অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হল, তখন এসব জ্ঞান শৃংখলাবদ্ধ করে জ্যামিতি শাস্ত্রের উদ্ভব হল।
গ্রিক পন্ডিত ও গণিতবিদ ইউক্লিড সর্বপ্রথম জ্যামিতির বিভিন্ন সূত্রকে সুবিন্যস্ত করে তাঁর ‘এলিমেন্টস' (Elements) গ্রন্থের তের খণ্ডে
জ্যামিতির ধারণা শ্রেণীবদ্ধ করেন।
‘এলিমেন্টস' গ্রন্থটিই আধুনিক জ্যামিতির ভিত্তি।
উৎসঃ গণিত, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৭৪২.
পূর্ব জার্মানির অবলুপ্তি ঘোষণা করে দুই জার্মানি একত্রিত হয় -
  1. ক) ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর
  2. খ) ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর
  3. গ) ১৯৯০ সালের ১৬ মে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
• জার্মান একত্রীকরণ:
- ১৯৪৯ সালের ৭ অক্টোবর জন্ম পূর্ব জার্মানির।
- আর ১৯৬১ সালের ১৩ আগস্ট বার্লিন দেয়াল তৈরি করে কৃত্রিমভাবে জার্মা-নিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল।
- ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন দেয়ালের পতন হয়। জার্মান একত্রীকরণের পথ এতে করে ত্বরান্বিত হয়। 
- দুই জার্মানির একত্রীকরণের ব্যাপারে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯০ সালের ১৬ মে।
- ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর পূর্ব জার্মানির অবলুপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং দুই জার্মানি একত্রিত হয়।

• আর ২ ডিসেম্বর (১৯৯০) যুক্ত জার্মানির প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- দুই জার্মানির একত্রীকরণ ছিল বিংশ শতাব্দীর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময় বিশ্ব দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।
- একভাগে ছিল মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব, অন্যদিকে ছিল সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ।
- এই বিভক্তিই জার্মানিকে বিভক্ত করে রেখেছিল।
- পশ্চিম জার্মানিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছিল।
- আর পূর্ব জার্মানিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
৭৪৩.
 ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায় অবস্থিত?
  1. ইতালিতে
  2. গ্রিসে
  3. তুরস্কে
  4. সিরিয়ায়
সঠিক উত্তর:
তুরস্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্কে
ব্যাখ্যা

• ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী অবস্থিত তুরস্কে।

• ট্রয় নগরী:
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর বর্ণনা পাওয়া যায় হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড -এ।
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিল, সেই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী স্পার্টার রানি ও ট্রয় রাজপুত্র প্যারিসের প্রেমিকা হেলেনের জন্য।
- ১৯৯৮ সালে ইউনেসকোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয় ট্রয়।

• উল্লেখ্য,
- ইলিয়াড এবং ওডিসির কারনে এই রোমান্টিক ট্রয়ের ট্র্যাজেডি অমর হয়ে আছে।
- এই ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর রাজা ছিলেন প্রিয়াম এবং রাণীর নাম ছিলেন হেকবা।
- তাদের আদরের পুত্রের নাম ছিল প্যারিস।
- এই প্যারিসই ছিল মূলত ট্রয় যুদ্ধের পেছনে মূল হোতা।
- সেই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী রমণী ছিল হেলেন।
- হেলেন ছিলেন স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এর স্ত্রী।
- প্যারিস স্পার্টা থেকে হেলেনকে নিয়ে ট্রয়ে পালিয়ে যায়।
- এতে ক্রোধান্বিত হয়ে মেনেলাউস তার ভাই আগামেমনন এর সহায়তায় ট্রয় আক্রমণ করে।
- গ্রিক ও ট্রোজানদের মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর ধরে যুদ্ধ হয়।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: Britannica.

৭৪৪.
নিচের কোনটি দখলের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল?
  1. ভার্সাই প্রাসাদ
  2. বাস্তিল দুর্গ
  3. এডিনবরা ক্যাসেল
  4. শঁবোর্দ প্রাসাদ
সঠিক উত্তর:
বাস্তিল দুর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তিল দুর্গ
ব্যাখ্যা

• ফরাসি বিপ্লব (French Revolution): 
- সময়কাল: ১৭৮৯ – ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
- স্থান: ফ্রান্স
- প্রধান কারণসমূহ: সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক সংকট, দার্শনিক প্রভাব, রাজনৈতিক অদক্ষতা, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ। 
- ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয় ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সালে বাস্তিল দুর্গ দখলের মাধ্যমে। 
- মূল স্লোগান: স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব (“Liberty, Equality, Fraternity”)।  
• বিপ্লবের ধাপসমূহ :
- ১৭৮৯–১৭৯১: সাংবিধানিক রাজতন্ত্র । 
- ১৭৯২–১৭৯৪: প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাজা ষোড়শ লুইয়ের মৃত্যুদণ্ড।
- ১৭৯৩–১৭৯৪: রোবসপিয়েরের “আতঙ্কের রাজত্ব”। 
- ১৭৯৫–১৭৯৯: ডিরেক্টরি শাসন। 
- ১৭৯৯: নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ক্ষমতা গ্রহণ। 
- ফরাসি  বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ও প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ঘোষণা, ইউরোপজুড়ে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের বিস্তার ঘটে। 
- এছাড়াও নেপোলিয়নের উত্থান ও নতুন আইনসংহিতা ও  আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজের ধারণা প্রতিষ্ঠা হয় ।  

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) ও  ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

৭৪৫.
ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সময়কাল-
  1. ৮২৫- ১০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৮৯৫- ১১২৫ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১০৯৬-১২৯১ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১১২৫-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১০৯৬-১২৯১ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৯৬-১২৯১ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

• ক্রুসেড:
- ১০৯৪ সালে সেলজুকগণ অভিযান চালিয়ে বাইজানটাইন রাজধানী কনস্টানটিনোপোলের নিকটবর্তী হলে সম্রাট আলেকসিয়াস কমনেনাস আতঙ্কিত হয়ে পোপের নিকট সাহায্যের আবেদন করেন।
- পোপ দ্বিতীয় আরবান জেরুজালেমসহ এশিয়া মাইনর পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১০৯৫ সালে ফ্রান্সের ক্লেরমোন্ট শহরে আহূত এক সম্মেলনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধের আহ্বান করেন।
- ধর্মযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পাপমোচন ও স্বর্গ লাভের আশ্বাস দেয়া হয়। 
- ১০৯৬ সালে সালে প্রথম ক্রুসেড শুরু হয় এবং সর্বমোট ৮টি পর্বে ক্রুসেড সম্পন্ন হবার পর ১২৯১ সালে পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ধর্মযুদ্ধে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের ধর্মযোদ্ধাগণ অংশগ্রহণ করে।
- ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জঙ্গী বংশের ইমামুদ্দিন জঙ্গী ও নুরুদ্দীন জঙ্গী; আইয়্যুবী বংশের গাজী সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী, আল-আদিল, আল-কামিল ও মালিক আস-সালিহ; মামলুক বংশের বাইবার্স, কালাউন ও আশরাফ প্রমূখ শাসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ক্রুসেডের সময় এশিয়া মাইনর, এডেসা, এন্টিয়ক, জাফফা, আক্কা, সিডন, বৈরুত, ত্রিপলি, জেরুজালেম, আলেপ্পো, মসুল, হাররান, হিডিন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। 
- প্রায় দুশ বছর ব্যাপী ধর্মযুদ্ধ জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমে মুসলিমরা আধিপত্য বহাল রাখতে সক্ষম হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৭৪৬.
‘The Art of War‘ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) লাওৎসে
  2. খ) কৌটিল্য
  3. গ) কনফুসিয়াস
  4. ঘ) সান জু
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান জু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সান জু
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা:
- হোয়াংহো (পীত বা হলুদ) নদী কেন্দ্রীক, ইয়াংজেকিয়াং নদী কেন্দ্ৰীক, দক্ষিণ চীনের মূল ভূখন্ডে।
- ব্রোঞ্জের যুগে এ সভ্যতা গড়ে উঠে।
- চীনের আদি মানব – পিকিং মানব।
- শাং ও চৌ রাজাদের সময়ে গড়ে উঠে

• দার্শনিক:
- লাওৎসে  – প্রাচীনতম দার্শনিক।
- কনফুসিয়াস – প্রভাবশালী দার্শনিক।
- সুন জু (Sun Tzu) – সমরনায়ক, দার্শনিক।
- The Art of War বা রণকৌশল বইয়ের রচয়িতা - সান জু।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৭৪৭.
কোন সভ্যতার মানুষ বৃত্তকে ৩৬০° কোণে ভাগ করে?
  1. মিশরীয়
  2. অ্যাশেরীয়
  3. ক্যালেডিয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
অ্যাশেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাশেরীয়
ব্যাখ্যা

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অবদান:
- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা। জলঘড়ি ও চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে সুমেরীয়রা। তবে সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার।
- বৃত্তকে ৩৬০° কোণে ভাগ করে অ্যাশেরীয়রা। সভ্যতায় অ্যাশেরীয়দের অবদান সমরবাদী, যুদ্ধবিদ্যা, অস্ত্র ও হাতিয়ার তৈরি।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে। সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন করে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সভ্যতায় ব্যাবিলনিয়দের অবদান ছিল আইন প্রণয়নে। ব্যাবিলনীয়দের আইন হাম্মুরাবির আইন নামে পরিচিত ছিল।
- ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করে ক্যালেডীয়রা। প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘন্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে ক্যালেডীয়রা। ক্যালেডীয় সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন রাজা নেবুচাঁদনেজার।

⇒ মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।খ্রিস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি ৷ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত। এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।

⇒ মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

উৎস: i) History.com
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৮.
ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা হয় -
  1. ক) ওসমানীয় খিলাফত
  2. খ) রাশিদুন খিলাফত
  3. গ) উমাইয়া খিলাফত
  4. ঘ) আব্বাসীয় খিলাফত
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্বাসীয় খিলাফত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্বাসীয় খিলাফত
ব্যাখ্যা
আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০ খ্রি. - ১৫১৭ খ্রি.):

প্রথম পর্যায় ( ৭৫০ খ্রি. - ১২৫৮ খ্রি.)
- ইসলামের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।
- মন্ত্রীদের উজির উপাধি প্রদান।
১) আবু আব্বাস আল সাফ্ফাহ ( ৭৫০ খ্রি. – ৭৫৪ খ্রি.)
- আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা।
২) আবু জাফর আল মনসুর (৭৫৪ খ্রি. - ৭৭৫ খ্রি.)
- বাগদাদে রাজধানী স্থাপন ( ৭৬২ খ্রি.)
৩) হারুন আল রশিদ (৭৮৬ খ্রি. – ৮০৯ খ্রি.)
- সবচেয়ে খ্যাতিমান আব্বাসীয় খলিফা
৪) আল মামুন (৮১৩ খ্রি. -৮৩৩ খ্রি.)
- বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা (বাগদাদে)।
- বায়তুল হিকমার পরিচালক ছিলেন – হুসাইন ইবনে ইসহাক।
- মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের বাগদাদ দখল (১২৫৮ খ্রি.)।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৭৪৯.
প্রাচীন কোন সভ্যতাটি কখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় নি?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. অ্যাশেরীয় সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
চৈনিক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চৈনিক সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে আজ পর্যন্ত চীন তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এটিই একমাত্র সভ্যতা যা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি।

- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব ১,৫০০ অব্দে চৈনিক সভ্যতা তার চরম শিখরে অবস্থান করেছিল।
- প্রায় ৪০০০ বছর পূর্বে অর্থ্যাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিং নদীর তীরে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে ধারনা করা হয়।
- দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে একটি হোয়াংহো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে, তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- নদীগুলোর প্রভাবে প্রাচীন চীনে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

- চৈনিক সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং রাজবংশ (Shang Dynasty), জোও রাজবংশ (Zhou Dynasty) আমলে।
- এছাড়াও চৈনিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসাবে আরো বেশ কয়েকটি রাজবংশ যেমন - জিয়া রাজবংশ (Xia Dynasty), কিন রাজবংশ (Qin Dynasty), মিং রাজবংশ (Ming Dynasty) ইত্যাদি চীন শাসন করে।

উৎস: হিস্টরি.কম
৭৫০.
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমাটির নাম কী ছিলো?
  1. ক) ট্রিনিটি
  2. খ) লিটলবয়
  3. গ) হেলফায়ার
  4. ঘ) ফ্যাটম্যান
সঠিক উত্তর:
খ) লিটলবয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিটলবয়
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে "লিটলবয়" ও ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে "ফ্যাটম্যান" নামের দুটো পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এতে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।
(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৭৫১.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান কখন নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়?
  1. ১০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব
  3. ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব
  4. ১২০০ খ্রিস্টপূর্ব
সঠিক উত্তর:
৬০০ খ্রিস্টপূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০ খ্রিস্টপূর্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান:
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম বলে পরিচিত।
- এটি আজকের ইরাকের ব্যাবিলনে অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- ব্যাবিলনের রাজা নেবুচাদনেজার তার স্ত্রী সেমিরামিসের জন্য এই উদ্যান নির্মাণ করেছিলেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেন, উদ্যানটি খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল।
- জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট কোলদেভে এই কিংবদন্তির উদ্যান খুঁজতে অভিযান চালান।
- ১৮৯৯ সালে তিনি ব্যাবিলনে খননকাজ শুরু করেন, যা বর্তমান ইরাকে অবস্থিত।
- সেখানে তিনি একটি অনন্য খিলানযুক্ত স্থাপনা আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক] 
৭৫২.
কোন দেশে 'ইউরোমেইডেন বিপ্লব' সংঘটিত হয়?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ইউক্রেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) সুইডেন
সঠিক উত্তর:
খ) ইউক্রেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
• বিপ্লব:
- ইউরোমেইডেন বিপ্লব ইউক্রেনে সংঘটিত হয়। এই বিপ্লব রেভ্যুলেশন অব ডিগনিটি নামেও পরিচিত।
- ২০১৩ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের তৎকালীন রাশিয়াপন্থী ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ সরকার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যাখ্যান করে।
- রাশিয়া ও ইউরোশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নে সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে সচেষ্ট হয়।
- এতে করে দেশটিতে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ ও বিক্ষোভ কারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩০ জনের অধিক নিহত হয়।
- ২০১৩ সালে নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক গণবিক্ষোভ ইউরোমেইডেন বিপ্লব নামে পরিচিত।
- রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ডনবাস অঞ্চলে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা লুহানস্ক পিপল'স রিপাবলিক এবং দোনেস্ক পিপল'স রিপাবলিক নামে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়।

উৎস: আল জাজিরা, Kyiv independent news এবং ব্রিটানিকা।[ link]
৭৫৩.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কোন সুলতান?
  1. ক) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  2. খ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গ) গিয়াস উদ্দিন বলবন
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুঘলক
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি আমির, মালিক, অভিজাত সম্প্রদায় এবং উলামাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করে মধ্যযুগীয় দিল্লী সালতানাতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কায়েম করে তিনি সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থার প্রচলন করেন। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। অভ্যন্তরীণ ও বহি:স্থ বিদ্রোহ দমন এবং সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের জন্য এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেন।সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন একাধারে রাজ্য বিজেতা, সুদক্ষ যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক এবং সমসাময়িককালের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৭৫৪.
চিকিৎসা শাস্ত্রে সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয় কারা -
  1. মিশরীয়রা
  2. গ্রিকরা
  3. মোসোপটেমীয়রা
  4. রোমানরা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। 
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা জ্যামিতি এবং পাটিগণিতেরও প্রচলন করে। 
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। 
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা। 
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে। 
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল। 
- তারা চোখ, দাঁত, পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত।
- অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিদ্যাও তাদের জানা ছিল। তারা হাড় জোড়া লাগানো, হৃৎপিন্ডের গতি এবং নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত। 
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।
- মিশরীয়রা দর্শন, সাহিত্য চর্চাও করত। 
- তাদের রচনায় দুঃখ হতাশার কোন প্রকাশ ছিল না। 
- তাদের লেখায় সব সময়ই আনন্দের প্রকাশ দেখা গেছে। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৫৫.
ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ১৫ জুন, ১২২৫ সালে
  2. খ) ১৫ জুন, ১২৫০ সালে
  3. গ) ১৫ জুন, ১২১৫ সালে
  4. ঘ) ১৫ জুন, ১৫১২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ জুন, ১২১৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ জুন, ১২১৫ সালে
ব্যাখ্যা

- ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র হচ্ছে ম্যাগনাকার্টা।
- ১২১৫ সালের ১৫ জুন ইংল্যান্ডে ম্যাগনাকার্টা স্বাক্ষরিত হয়।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৭৫৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের কোন দ্বীপটি দখল করেছিল?
  1. ক) শিকোকু
  2. খ) কিউসু
  3. গ) হনসু
  4. ঘ) ওকিনাওয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওকিনাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওকিনাওয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ওকিনাওয়া ছিল আমেরিকান সেনা এবং ইম্পেরিয়াল জাপানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এক ভয়াবহ এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্থান। যুদ্ধের পরে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। কৌশলগত অবস্থানের কারণে ওকিনাওয়া দ্বীপটি পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
[সূত্রঃ worldatlas ওয়েবসাইট]
৭৫৭.
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. মিসর
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. গ্রিস
সঠিক উত্তর:
মিসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিসর
ব্যাখ্যা
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর: 
- আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর প্রাচীনকালের সপ্তাশ্চর্যের একটি এবং প্রাচীন যুগের সবচেয়ে বিখ্যাত বাতিঘর।
- এটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের নিদর্শন এবং সব আধুনিক বাতিঘরের আদি মডেল।
- এই বাতিঘর সোস্ট্রাটাস অফ নিডাস নির্মাণ করেছিলেন।
- এর নির্মাণকাজ টলেমি II-এর শাসনামলে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০ সালের দিকে শেষ হয়।
- বাতিঘরটি মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরের ফারোস দ্বীপে অবস্থিত ছিল।
- এটির উচ্চতা ৩৫০ ফুট (১১০ মিটার)-এর বেশি বলে ধারণা করা হয়।
- তৎকালীন সময়ে গিজার পিরামিড ছাড়া এর চেয়ে উঁচু আর কোনো কৃত্রিম স্থাপনা ছিল না।
- বাতিঘরটি তিনটি ধাপে তৈরি হয়েছিল।
- প্রথম ধাপটি ছিল চতুষ্কোণ, দ্বিতীয় ধাপটি অষ্টভুজাকার, এবং উপরের ধাপটি ছিল গোলাকার।
- শীর্ষে উঠার জন্য একটি প্রশস্ত সর্পিল পথ ছিল।
- রাতে শীর্ষে আগুন জ্বালানো হতো, যা নাবিকদের পথ নির্দেশ করত।

উৎস: Britannica.
৭৫৮.
মেসোআমেরিকায় গড়ে উঠা সর্বশেষ সভ্যতা কোনটি?
  1. ক) ইনকা সভ্যতা
  2. খ) অ্যাজটেক সভ্যতা
  3. গ) মায়া সভ্যতা
  4. ঘ) ওলমেক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাজটেক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যাজটেক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- মেসোআমেরিকা হলো বর্তমান মেক্সিকো এবং মধ্য আামেরিকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল। ১৬ শতকে স্পেনিশদের আর্বিভাবের পূর্বে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল মেসোআমেরিকা হিসেবে অভিহিত।
- মেসোআমেরিকা অঞ্চলে স্থানীয় আদিবাসীদের দ্বারা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এগুলোর মধ্যে ওলমেক সভ্যতা, মায়া সভ্যতা ও অ্যাজটেক সভ্যতা প্রধান।
- এদের মধ্যে ওলমেক সভ্যতা হলো প্রথম মেসোআমেরিকান সভ্যতা এবং অ্যাজটেক সভ্যতা হলো সর্বশেষ মেসোআমেরিকান সভ্যতা।
- অ্যাজটেক সভ্যতা চতুর্দশ শতক থেকে ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মেক্সিকোর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজমান ছিলো।
- কৃষি ও বাণিজ্যে অ্যাজটেক সভ্যতা অনেক সমৃদ্ধ ছিলো।
- তাদের প্রধান শহর ছিলো তেনোচতিৎলান।
- ১৫২১ সালে স্পেনিশদের দ্বারা অ্যাজটেক সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৭৫৯.
হায়ারোগ্লিফিক কোন প্রাচীন সভ্যতার লিখন পদ্ধতি?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. ব্যাবলনীয়
  4. রোমান
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
ব্যাখ্যা
হায়ারােগ্লিফিক:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- মিশরীয় সভ্যতার এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উল্লেখ্য,
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
- পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৭৬০.
'তাতার' জাতিদের বসবাস কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সাইবেরিয়া
  2. খ) মঙ্গোলিয়া
  3. গ) তুর্কিস্তান
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তাতার তুর্কি জাতিগোষ্ঠির অন্তর্ভূক্ত একটি উপজাতি। যারা ইউরোপ ও এশিয়ায় বসবাস করে। তাতাররা ১২০০ সালে মঙ্গোলীয় মালভূমির পাঁচটি প্রধান উপজাতির মধ্যে অন্যতম। তাতার উপজাতিদের বসবাস সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তুর্কিস্তান ও স্টেপ অঞ্চলে।
৭৬১.
সাত দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করেন কারা?
  1. মিশরীয়রা
  2. সুমেরীয়রা
  3. অ্যাশেরীয়রা
  4. ক্যালডীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয়
- খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার। তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত।
- হাম্মুরাবির পর থেকে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী যুদ্ধ বিগ্রহ আর হানাহানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেসোপটেমিয়া।
- নেবুচাঁদ নেজারের হাতে ব্যাবিলন আবার শক্তি ফিরে পায়। সিরিয়া অধিকার করে রাখা মিশরীয়দের তিনি তাড়িয়ে দেন।
- নেবুচাঁদ নেজার খুব কঠোর শাসক ছিলেন। তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি জেরুজালেম নগরী খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ধ্বংস করে দেন এবং ইহুদি অধিবাসীদের বন্দি করে খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলনে আটকে রাখেন।
- ইতিহাসে এর নাম 'ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা'। খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

জ্যোতির্বিদ্যায় অবদান
- বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষত জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের যথেষ্ট অবদান লক্ষ্য করা যায়।
- ধর্মীয় কারণে তারা গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে। তাই জ্যোতির্বিদ্যায় তারা হয়ে উঠেছিল দক্ষ।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে। বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র।
৭৬২.
‘ফার্টাইল ক্রিসেন্ট’ অঞ্চলটি কোন সভ্যতার জন্মভূমি?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

ফার্টাইল ক্রিসেন্ট:
- ‘ফার্টাইল ক্রিসেন্ট’ অঞ্চলটি মূলত প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার (সুমেরীয়, আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়) জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত।
- এটি পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নীল নদ উপত্যকা থেকে শুরু করে টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এক অর্ধচন্দ্রাকৃতির অঞ্চল।
- এই অঞ্চলটি আধুনিক ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং তুরস্ক ও ইরানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। 

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি ৷ টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬৩.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান কার জন্য নির্মিত হয়েছিল?
  1. সৈন্যদের প্রশিক্ষণের জন্য
  2. সম্রাট নেবুচাদনেজারের পুত্র জন্য
  3. সম্রাট নেবুচাদনেজারের রানীর জন্য
  4. রাজ্য পরিচালনার জন্য
সঠিক উত্তর:
সম্রাট নেবুচাদনেজারের রানীর জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট নেবুচাদনেজারের রানীর জন্য
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা (Babylonian Civilization):
- মেসোপটেমিয়ার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে সুমেরীয় সভ্যতার পতনের পর ব্যবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এটি মূলত দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার 'ব্যাবিলন' শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- বর্তমান ইরাকের বাগদাদ শহরের দক্ষিণে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ব্যাবিলন শহরটি অবস্থিত ছিল।

• কালক্রম: এটি প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. পুরাতন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ – ১৫৯৫ অব্দ (বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবির সময়কাল)।
২. নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ – ৫৩৯ অব্দ (সম্রাট নেবুচাদনেজারের সময়কাল)। [ব্রিটানিকা]

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান:
- হাম্মুরাবির আইন সংকলন (Code of Hammurabi): বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ লিখিত আইনগুলোর একটি” ।
- ২৮২টি আইনের এই সংকলনটি একটি বিশাল পাথরের স্তম্ভে খোদাই করা ছিল, যার মূলনীতি ছিল "চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত"।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon): সম্রাট নেবুচাদনেজার তাঁর রানীর জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন।
- এটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি।

• জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত: ব্যবিলনীয়রা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ গণনায় পারদর্শী ছিল।
- তারা রাশিচক্রের (Zodiac) ১২টি চিহ্নের ধারণা প্রবর্তন করে এবং বর্ষপঞ্জি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• স্থাপত্য: তারা পোড়া ইটের ব্যবহার এবং খিলান ও গম্বুজ নির্মাণে দক্ষ ছিল। ব্যবিলনের 'ইশতার গেট' (Ishtar Gate) তাদের উন্নত স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।

• সভ্যতার পতন :
-  খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন দখল করেন। এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যাবিলনীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৭৬৪.
মিশরীয় সভ্যতার সময়কাল কত?
  1. ক) খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২০৯০ পর্যন্ত
  2. খ) খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০৯০ পর্যন্ত
  3. গ) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২০৯০ পর্যন্ত
  4. ঘ) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০৯০ পর্যন্ত।
সঠিক উত্তর:
খ) খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০৯০ পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০৯০ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
- মিসরের নীল নদের অববাহিকায় পৃথিবীর প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার উম্মেষ ঘটে। 
- মিসরীয় সভ্যতার মত আর কোন সভ্যতা মানব জাতির ক্রম বিবর্তন, উন্নতি ও উৎকর্ষতায় এতবড় অবদান রাখতে পারে
নেই। 
- প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০৯০ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
 
উৎস: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৬৫.
কত সালে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ৬২৯ সালে
  2. খ) ৬২৭ সালে
  3. গ) ৬২৮ সালে
  4. ঘ) ৬২৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ৬২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬২৭ সালে
ব্যাখ্যা
ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম।
- ৫ হিজরির (৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ) শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি, বেদুইন, পৌত্তলিকেরা সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছিল।
- খন্দক শব্দের অর্থ পরিখা বা গর্ত। যেহেতু এ যুদ্ধে অনেক পরিখা খনন করা হয়, তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে খন্দকের যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধ আহজাব নামেও পরিচিত।
- আহজাব অর্থ সম্মিলিত বাহিনী।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা
৭৬৬.
মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের উৎপত্তি-
  1. সাহারা মরুভূমি
  2. আরব উপদ্বীপ
  3. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  4. ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- মিশরের নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে।
- সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূ-মধ্যসাগরে এসে পড়েছে।
- ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন- 'মিশর নীল নদের দান'।
- নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো।

উল্লেখ্য,
- বিশেষভাবে, নীল নদের প্রধান দুটি উপনদী হলো হোয়াইট নাইল ও  ব্লু নাইল।
- হোয়াইট নাইল যার উৎস ভিক্টোরিয়া হ্রদ,
- ব্লু নাইল যার উৎস তানার হ্রদ, ইথিওপিয়া।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
          ¡¡) ব্রিটানিকা। 
৭৬৭.
খলিফা আবু বকর (রা) ভন্ড নবীদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?
  1. আজনাদাইনের যুদ্ধ
  2. রিদ্দার যুদ্ধ
  3. কাদেসিয়ার যুদ্ধ
  4. সেতুর যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রিদ্দার যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিদ্দার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
রিদ্দা যুদ্ধ:
- খলিফা আবু বকরের শাসনামলে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাকে বলে রিদ্দার যুদ্ধ।
- এটি একটি ধর্মযুদ্ধ।

উল্লেখ্য,
- 'রিদ্দা' আরবী শব্দ।
- এর অর্থ প্রত্যাবর্তনকরণ বা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।
- মহানবী (স.) এর মৃত্যুর পর এক শ্রেণির মুসলিম ইসলাম ধর্মকে বর্জন করে, তাদের পৌত্তলিকতায় প্রত্যাবর্তন করে।
- ইসলাম প্রচারের পর মক্কা ও মদীনা কেন্দ্রীক ইসলাম ধর্ম সীমাবদ্ধ হয়ে রইল।
- এই সময় মহানবীর মৃত্যুর পরে কতিপয় ভণ্ডনবীর আবির্ভাব ঘটল, কেউ কেউ পৌত্তলিকতায় ফিরে গেল।
- সমগ্র আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হল।
- ইসলামের প্রথম খলীফা এই সকল স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যা ইতিহাসে 'রিদ্দার যুদ্ধ' হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয় কোন শহরকে?
  1. রোম
  2. অ্যাথেন্স
  3. আলেপ্পো
  4. গাজিয়ানটেপ
সঠিক উত্তর:
অ্যাথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাথেন্স
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' গ্রিক সভ্যতা মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৯.
কোন দেশ আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) বুলগেরিয়া
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ইতালি
সঠিক উত্তর:
ক) পোল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ সালে জার্মান কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল- জার্মান, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিল- ফ্রন্স, পোল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- যুক্তরাষ্ট্র ‍দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে।
- জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্থন করে- ৭ মে, ১৯৪৫ সালে।
- জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্থনের মাধ্যমে ‍দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে।
- প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হয়- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
৭৭০.
কোন সভ্যতাটি প্রাচীনতম?
  1. ক) গ্রীক সভ্যতা
  2. খ) সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ) সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি।
যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমান ইরাকের দক্ষিণ অংশ তৎকালীন সময়ে মেসোপটেমিয়া নামে পরিচিত ছিল।
- মেসোপটেমিয়ার বাসিন্দা ছিল সুমেরীয়রা।
- এটাই প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা।

উৎস: Britannica.
৭৭১.
২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৮ সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
  1. ক) গ্লাসগো, স্কটল্যান্ড
  2. খ) শারম আল শেখ, মিশর
  3. গ) আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
  4. ঘ) দোহা, কাতার
সঠিক উত্তর:
গ) আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
ব্যাখ্যা
- ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে ২৮তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
- ৭ থেকে ১৮ নভেম্বর ২০২২ সালে ২৭তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে শারম আল শেখ, মিশর। ( এখন পর্যন্ত এটিই সর্বশেষ সম্মেলন )
- ১ থেকে ১২ নভেম্বর ২০২১ সালে ২৬তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৬ অনুষ্ঠিত হয় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে।

উল্লেখ্য যে, 
- প্রথম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির বার্লিনে ১৯৯৫ সালে।
- ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কপ-২১ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো প্যারিস চুক্তিতে অনুমোদন দেয়। 
- কপ-২৭ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে ঐতিহাসিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার।
৭৭২.
পৃথিবীর প্রথম আইন সংকলন কোন সভ্যতার?
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. অ্যাজটেক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় আইন:
- সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনার জন্য সুমেরীয়গণ একটা আইনের কাঠামো গড়ে তোলে।
- প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট 'ডুঙ্গি' এ আইন তৈরি করেন।
- তাদের আইন ছিল খুব কঠোর। চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত ও অঙ্গের পরিবর্তে অঙ্গ কর্তন ছিল আইনের বিধান।

উল্লেখ্য,
⇒ ডুঙ্গির আইন
- পৃথিবীর প্রথম আইন সংকলন
- এই আইন ছিল প্রতিশোধমূলক।
- পরবর্তী অনেক সভ্যতা এই আইন অনুসরণ করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৩.
'ডিউটোরোনোমিক কোড' কোন সভ্যতার পরিচায়ক?
  1. গ্রীক সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. মিসরীয় সভ্যতা
  4. হিব্রু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

হিব্রু:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল। 
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত। 
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে-তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ ‘বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়। 
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই 
- হিব্রুদেরও আইন তৈরীতে এ্যামোরাইটদের ন্যায় যথেষ্ট অবদান আছে। 
- তবে তাদের আইন অনেকটা হাম্মুরাবীর আইনের দ্বারা প্রভাবিত। 
- ব্যাবিলনীয় আইনের অনুকরণে হিব্রুরা যে আইন তৈরী করে তা ‘ডিউটোরোনোমিক কোড' নামে পরিচিত ছিল। 
- এই কোড হাম্মুরাবীর আইনের চেয়ে অনেকটা পরিশুদ্ধ বলে মনে করা হয়। 
- তাদের প্রণীত অনুশাসনে গরীব দুঃখীদের স্বার্থরক্ষা, মানবতা, সুক্ষ্ম বিচার, সুদ গ্রহণে শাস্তির ব্যবস্থা এবং দাসদের মুক্তির যথাযথ ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। 
- ঐতিহাসিকদের মতে এই আইনের প্রয়োগের ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মজবুত হয়।
 
 উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৪.
অ্যাসেরীয় সভ্যতার অবদান কোনটি?
  1. চাকা আবিষ্কার করা
  2. সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করা
  3. বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ভাগ করে
  4. বর্ণমালার উদ্ভাবন
সঠিক উত্তর:
বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ভাগ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ভাগ করে
ব্যাখ্যা

অ্যাসেরীয় সভ্যতা:
- বিজ্ঞান ও জ্যোতিশাস্ত্রে অ্যাসেরীয়রা অতুলনীয় অবদান রাখেন যা বর্তমান সময়েও কাজে লাগে।
- অ্যাসেরীয়রা বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ভাগ করে।
- তারা সর্বপ্রথম পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য তারা মেসোপটেমিয়ায় সর্বপ্রথম লাইব্রেরি স্থাপন করেন যা বর্তমানে ইরাকের 'নিনেভাহ' তে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম লাইব্রেরী হিসাবে পরিচিত যা মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরী থেকেও কয়েকশ বছরের পুরনো।
- অ্যাসেরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা, ধনুক ইত্যাদি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো।
 
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৫.
মায়া সভ্যতাকে কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com
৭৭৬.
তুরস্কের কোন শহরে ‘আয়া সোফিয়া’ মসজিদটির অবস্থান?
  1. ক) আদানা
  2. খ) আঙ্কারা
  3. গ) ইস্তাম্বুল
  4. ঘ) আন্টালিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ইস্তাম্বুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের খ্যাতনামা আয়া সোফিয়া মূলত ছিল গির্জা৷ ষষ্ঠ শতকে বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময়ে তৈরি করা হয় এটি৷ ১৪৫৩ সালে অটোমানরা কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর দ্বিতীয় সুলতান মেহমেদ এই ক্যাথিড্রালটিকে মসজিদে রূপান্তর করেন৷ আয়া সোফিয়া নিয়ে খ্রিস্টান- মুসলমানদের দ্বন্দ্বের অবসান টানতে প্রায় ৫শ' বছর পর ১৯৩৪ সালে একে জাদুঘরে রূপান্তর করেন আধুনিক তুরস্কের রূপকার কামাল আতাতুর্ক। জাদুঘর থাকাকালীন ১৯৮৫ সালে বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় এ স্থাপনাটি। ১০ই জুলাই, ২০২০ তুর্কী আদালত সাবেক এই গির্জাকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়নি বলে রায় দেয় এবং এর পরেই তুরস্কের ইসলামপন্থী সরকার জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করে এবং ৮৬ বছর পর সেখানে প্রথমবারের মতো জুম্মার নামাজ পড়া হয়েছে।
[সূত্রঃ dw.com এবং bbc.com]
৭৭৭.
প্রাচীন গ্রিসের সামরিক নগর রাষ্ট্র কোনটি?
  1. ক) এথেন্স
  2. খ) স্পার্টা
  3. গ) হেরাক্লিয়ন
  4. ঘ) থিবস
সঠিক উত্তর:
খ) স্পার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্পার্টা
ব্যাখ্যা
স্পার্টাঃ প্রাচীন গ্রিসে যে অসংখ্য নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল তার একটি ছিল স্পার্টা। এ নগর রাষ্ট্রের অবস্থান ছিল দক্ষিণ গ্রিসের পেলোপনেসাস নামক অঞ্চলে। অন্যান্য নগর রাষ্ট্র থেকে স্পার্টা ছিল আলাদা। স্পার্টানদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমরতন্ত্র দ্বারা তারা প্রভান্বিত ছিল। মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি। খ্রিষ্টাব্দপূর্ব ৮০০ অব্দে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ডোরীয় যোদ্ধারা স্পার্টা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এই পরাজিত স্থানীয় অধিবাসীদেরকে ভূমি দাস বা হেলট বলা হতো। এরা সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ করত। সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৭৮.
হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক অবদান কোনটি?
  1. আইন সংকলন
  2. লিপি আবিষ্কার
  3. একেশ্বরবাদ
  4. নগর সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
একেশ্বরবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেশ্বরবাদ
ব্যাখ্যা

হিব্রু সভ্যতা (Hebrew Civilization):
- বর্তমান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে এই সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিল।
- হিব্রুরা মূলত সেমেটিক বংশোদ্ভূত যাযাবর গোষ্ঠী ছিল,
- যারা মেসোপটেমিয়া থেকে কেনানে (বর্তমান ফিলিস্তিন) এসে বসতি স্থাপন করে।
- 'হিব্রু' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'যারা নদীর ওপার থেকে এসেছে'।

• একেশ্বরবাদ (Monotheism): হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক অবদান হলো 'একেশ্বরবাদ'।

• ধর্মীয় গ্রন্থ ও সাহিত্য: হিব্রুদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ হলো 'তাওরাত' (Torah), যা খ্রিস্টানদের কাছে 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' হিসেবে পরিচিত।
- এটি হিব্রু ইতিহাস, আইন, কবিতা এবং দর্শনের একটি অনন্য সংকলন।


• বিখ্যাত রাজন্যবর্গ:
- রাজা সাউল (Saul): তিনি হিব্রু উপজাতিদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- রাজা ডেভিড (David): তিনি জেরুজালেম দখল করে একে হিব্রু রাজ্যের রাজধানী করেন।
- ৫৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখল করে নিলে হিব্রু সভ্যতার রাজনৈতিক শক্তির পতন ঘটে, কিন্তু তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে টিকে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৯.
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন - 
  1. গ্রিকরা
  2. চীনারা
  3. রোমানরা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা

• গ্রিকদের অবদান:
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- প্রাচীন বিশ্বের প্রাচীনতম মানচিত্র তৈরি করেন - ব্যাবিলনীয়রা.
- পৃথিবীর বৃত্তাকার মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে।
- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- জ্যামিতি বিষয়ে পণ্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন।
- বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক] 

৭৮০.
ইতিহাসে রোমান সভ্যতার বিশেষ অবদান কোন ক্ষেত্রে সর্বাধিক? 
  1. জ্যোতির্বিদ্যা
  2. স্থাপত্যকলা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. সমরবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

• রােমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- রোমের অর্থনীতি ছিলো দাসদের উপর নির্ভরশীল। 

সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- তারা এসব বিষয়ে গ্রিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে।
- তবে সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন ও প্রকৌশল বিদ্যায় তারা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- এ ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্ব রোমানদের কাছে ব্যাপক ঋণী।

তথ্যসূত্র:
 i) ব্রিটানিকা। 
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮১.
নারা সভ্যতা কোথায় উদ্ভব ঘটেছিল?
  1. ভিয়েতনাম
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. কাজাখস্তান
  4. জাপান
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা

নারা সভ্যতা:
- নারা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল জাপানে।
- সময়কাল: ৭১০-৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ।
- রাজধানী স্থানান্তর: ৭১০ খ্রিস্টাব্দে আসুকা থেকে নারা শহরে রাজধানী স্থানান্তর করা হয়।
- এটি ছিল প্রথম স্থায়ী রাজকীয় রাজধানী।
- পূর্বের রীতি অনুযায়ী, প্রত্যেক নতুন সম্রাটের সময় রাজধানী বদলানোর প্রথা এখানে বাতিল হয়।
- প্রধান ধর্ম: বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক প্রসার।
- অগ্রগামী নেতা: সম্রাট শোমু।
- নারা যুগ: জাপানে বৌদ্ধ ধর্ম, চীনা সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মিলনের যুগ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭৮২.
ম্যাগনাকার্টা কী?
  1. ক) ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র
  2. খ) গ্রিসের প্রথম শাসনতন্ত্র
  3. গ) রাশিয়ার প্রথম শাসনতন্ত্র
  4. ঘ) আমেরিকার প্রথম শাসনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক) ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
-  ১২১৫ সালের ১৫ই জুন টেমস নদীর তীরে ‘রানিমেড' নামক স্থানে তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা জন ম্যাগনাকার্টায় স্বাক্ষর করেন।
 - এর মাধ্যমে আইনের শাসনের ধারণার যাত্রা শুরু হয়।
- ম্যাগনাকার্টাকে ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেল বলা হয়।

(সূত্র: www.magnacarta800th.com)
৭৮৩.
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. গ্রীক সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হচ্ছে মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ।
- যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫,৫০০ অব্দে দক্ষিণ মেসোপটেমীয়ার অধিবাসীরা ইউফ্রেতিস নদীর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করে এবং পানি সেচের ব্যবস্থা করতে শেখে। মেসোপটেমীয়ায় কৃষি কাজের জন্য এ ধরনের সেচ ব্যবস্থার খুবই দরকার ছিল।

• মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ:
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- সুমেরীয়,
- ব্যবিলনীয়,
- এ্যাসিরীয়,
- ক্যালডীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৪.
পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য কী নামে পরিচিত ছিলো?
  1. অটোমান সাম্রাজ্য
  2. বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
  3. ফিনিশীয় সাম্রাজ্য
  4. প্রুশিয়া সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো।
ইতালি, গ্রিস, তুরস্ক, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর জুড়ে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
তুর্কি ‍মুসলিমদের হাতে এই সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এর রাজধানী ছিলো কন্সন্টান্টিনোপল।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৭৮৫.
সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল -
  1. ভেনাস
  2. ডুঙি
  3. জিগগুরাট
  4. পাতেজী
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
ওয়াটার লু যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. ক) আর্থার ওয়েলেসলি
  2. খ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  3. গ) অ্যাডমিরাল নেলসন
  4. ঘ) জোয়ান অব আর্ক
সঠিক উত্তর:
খ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
ব্যাখ্যা
১৮১৫ সালে ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলি এবং সাথে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মধ্যে ওয়াটার লু যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে নেপোলিয়ান পরাজিত হন।
তাকে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয় এবং সেখানেই ১৮২১ সালে নেপোলিয়ান মারা যান।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৭৮৭.
হিব্রু সভ্যতা কোন নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে?
  1. এথেন্স
  2. বাগদাদ
  3. জেরুজালেম
  4. স্পার্টা
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম
ব্যাখ্যা

⇒ হিব্রু সভ্যতা জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।

হিব্রু সভ্যতা:

- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে। 
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৮.
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন কোন শাসক?
  1. ক) মুহম্মদ ঘোরি
  2. খ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর:
খ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে। এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ ঘোরি নামে সমধিক পরিচিত মুহম্মদ বিন সামের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও ‘সুলতান’ উপাধি প্রদান করেন। এভাবে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ’ নামে সমধিক পরিচিত।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৭৮৯.
বিশ্ব অর্থনীতিতে 'দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন' দেখা যায় কখন?
  1. ক) ১৯১৯ সালে
  2. খ) ১৯২৯ সালে
  3. গ) ১৯৩৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে ১৯২৯ সালের অক্টোবর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ছন্দপতন লক্ষ করা গেছে।
- অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় আকারের এই ছন্দপতনকে মহামন্দা তথা দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পশ্চিমা বিশ্বে ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে পুঁজিবাদ।
- আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার নিয়মই হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে মন্দাভাব দেখা দেয়।
- তবে ঝড়ের বেগে এসে এই মন্দাভাব ও পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে গ্রাস করবে, তা ছিল কল্পনাতীত।
- হঠাৎ করে সংকট উপনীত হওয়ার অনেকগুলো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
- বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যায় বেকার ও চাকরি প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা।
- ১৯২৯ সালের এই মন্দা অতীতে ঘটে যাওয়া সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ করে।
- আর সেদিক থেকে ধরতে গেলে এর মহামন্দা নামকরণ স্বার্থক।
- এর প্রমাণ হিসেবে এক যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯২৯-৩৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৯০.
সুমেরীয় জাতির বিখ্যাত রাজা ছিল-
  1. ফারাও
  2. ইখনাটন
  3. নেবুচাদঁ
  4. ডুঙি
সঠিক উত্তর:
ডুঙি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুঙি
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় রাষ্ট্র: 
- সুমেরীয়রা কতকগুলি নগরের গোড়াপত্তন করেছিল।
- এগুলোর মধ্যে তাদের রাজধানী উর ছাড়াও সভ্যতার প্রাণ কেন্দ্র ছিল লাগাস, কিস, ইরিদু এবং উরুক অন্যতম।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়রা প্রথম মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে খাল খনন, জলাশয় ও বাঁধ নির্মাণ করে সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটিয়ে নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটায়।
- ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রায় ১৮টি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এসব নগর রাষ্ট্রের প্রশাসকরা 'এনসি' নামে পরিচিত ছিলেন।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯১.
'আব্বাসীয় খিলাফত'-এর রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মক্কা
  2. বাগদাদ
  3. মদীনা
  4. দামেস্ক
সঠিক উত্তর:
বাগদাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগদাদ
ব্যাখ্যা
আব্বাসীয় খিলাফত:
- ‘আব্বাসীয় খিলাফত’ ইসলামী খিলাফতগুলোর মধ্যে তৃতীয় খিলাফত।
- এটি আব্বাসীয় বংশ কর্তৃক শাসিত হয়।
- উমাইয়া খলিফাদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আব্বাসীয় রাজবংশে মোট ৩৭ জন খলিফা শাসন পরিচালনা করেছেন।
- তাঁরা ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- আল আব্বাস আল সাফফাহ প্রথম আব্বাসীয় খলিফা।
- আর এর শেষ খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহ।
- বাগদাদ এই খিলাফতের রাজধানী ছিল।
- আব্বাসীয় খিলাফত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরদের কর্তৃক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে কুফায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মঙ্গোল নেতা হালাকু খানের বাগদাদ দখলের পর ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে এটি বিলুপ্ত হয়।
- মোট ৫০৮ বছর আব্বাসীয় খিলাফত দীর্ঘস্থায়ী হয়।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯২.
দুই নদীর মধ্যবর্তী সভ্যতা ছিল কোনটি?
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. হিব্রু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

⇒ দুই নদীর মধ্যবর্তী সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয়।

মেসোপটেমীয় সভ্যতা:

- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে। 
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই
অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে রোমানদের দখলে যায়। মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৭৯৩.
ফারাও নামে পরিচিত ছিলো কারা?
  1. রোমান সম্রাটগণ
  2. রুশ সম্রাটগণ
  3. মিশরীয় সম্রাটগণ
  4. পারস্যের অধিপতিগণ
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সম্রাটগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সম্রাটগণ
ব্যাখ্যা

প্রাচীন মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধি ছিলো ফারাও। ফারাও শব্দের অর্থ বড়বাড়ি। বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান। ফারাওরা একইসাথে ছিলেন নরপতি ও পুরোহিত। ফারাও পদটি ছিলো বংশানুক্রমিক।
নারমার বা মেনেস ছিলেন মিশরের প্রথম ফারাও। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে মিশরে প্রথম রাজবংশ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে রোমান সম্রাটদের উপাধি ছিলো সিজার এবং রুশ সম্রাটগণ জার নামে পরিচিত ছিলো।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)

৭৯৪.
ফা হিয়েনের আগমনকালে ভারতের রাজা ছিলেন−
  1. ক) সমুদ্রগুপ্ত
  2. খ) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  3. গ) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
- চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ৩৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন। 
- ভারত ও দ:পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দ্বীপ সফর করে তিনি ৪১৪ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে যান।
-  ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে। 
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। ধর্ম বিষয়ে গুপ্ত সম্রাটদের ঔদার্যে তিনি মুগ্ধ হন। সমগ্র রাষ্ট্রে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেন।
- মোদ্দা কথা হলো - ফা-হিয়েনের ভ্রমণ লিপি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৯৫.
সর্ব প্রথম কারা সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করেন?
  1. সুমেরীয়রা
  2.  ব্যবিলনীয়রা
  3. ক্যালডীয়রা
  4. আসেরীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয় সভ্যতা: 
- ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার। 
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার।
- তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত।

• জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের অবদান: 

- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান।
- তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৬.
কোন বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন?
  1. সোফিয়া
  2. ইউডোক্সিয়া
  3. থিওডোরা
  4. ক্লিওপেট্রা
সঠিক উত্তর:
থিওডোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থিওডোরা
ব্যাখ্যা

⇒ বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন থিওডোরা।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

৭৯৭.
'প্যানথিয়ন' কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. ফিনিশীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. ইনকা সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯৮.
মায়া সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের নাম কী ছিল?
  1. ক্যালেন্ডার রাউন্ড
  2. লং কাউন্ট
  3. যোলকিন
  4.  হাব
সঠিক উত্তর:
যোলকিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোলকিন
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতাকে বলা হয় রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার অবস্থান ছিল মধ্য আমেরিকায়।
- মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মায়ারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- প্রধান শহরগুলির মধ্যে ছিল টিকাল , উয়াক্সাক্টুন , কোপান , বোনাম্পাক , ডস পিলাস , ক্যালাকমুল , প্যালেনকে , এবং রিও বেক। 
- শহরগুলোর ধ্বংসাবশেষ, জটিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি আর চিরায়ত রহস্যের মধ্যে আটকা পড়েছে এ সভ্যতার গল্প। 
- প্রায় ৬০০ বছর ধরে মায়ার লোকেরা ঐশ্বর্যময় সভ্যতা নিয়ে টিকে ছিল।

উল্লেখ্য,
- মায়া সভ্যতা তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• যোলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার, ২০টি নামযুক্ত দিন এবং ১৩টি সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত।
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার, ১৮টি ২০ দিনের মাস এবং ৫ দিনের একটি অতিরিক্ত মাস (ওয়ায়েব) নিয়ে গঠিত।
• লং কাউন্ট (Long Count): দীর্ঘ সময়ের হিসাবের জন্য ব্যবহৃত, যা ৩১১৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দিন গণনা করে।

⇒ এছাড়া, এই ক্যালেন্ডারগুলো একত্রে ক্যালেন্ডার রাউন্ড নামে ৫২ বছরের একটি চক্র তৈরি করে। সুতরাং, মায়ারা মোট তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত।

উৎস: i) Britannica.
ii) The Daily Star Bangla.

৭৯৯.
মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধী কী ছিল?
  1. বাদশাহ
  2. সম্রাট
  3. ইখনাটন
  4. ফারাও
সঠিক উত্তর:
ফারাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারাও
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধী ছিল ফারাও।

ফারাও:
- প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের 'ফারাও' বলা হতো।
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথমত আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর ফারাওদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০০.
'চিচেন ইৎজা' কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মায়া সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মায়া সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• চিচেন ইৎজা:
- চিচেন ইৎজা হলো মেক্সিকোর ইউক্যাটান পেনিনসুলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন পাথুরে শহর যা 'মায়া সভ্যতা'এর লোকেরা তৈরি করেছিলো।
- ক্লাসিক মায়া সভ্যতার যুগে পঞ্চম শতাব্দীতে চিচেন ইৎজা তৈরি হয় বলে ধারণা করা হয়।
- সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত চিচেন ইৎজা ছিলো মায়া সভ্যতার অন্যতম প্রধান শহর।
- চিচেন ইৎজা বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম।
- ইউনেস্কো ১৯৮৮ সালে চিচেন ইৎজাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ওয়েবসাইট)