উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ কালের কণ্ঠ
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫ / ৭২ · ৪০১–৫০০ / ৭,১৯১
মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।
- জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
iv) বাংলাপিডিয়া।
• পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
• বন্যা:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।
উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।
উল্লেখ্য,
- আটলান্টিক মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম শক্তি অর্জনকারী ঝড়গুলোর একটি হারিকেন এরিন।
- ২০২৫ সালের আগস্টে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- এটি খুব দ্রুত শক্তি অর্জন করে ক্যাটাগরি ৫ স্তরে পৌঁছেছিল।
- এটি আটলান্টিকের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত শক্তি অর্জনকারী ঝড়ে পরিণত হয়।
- ঝড়ের প্রভাবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
• ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
------------------------
• ইউরিয়া সার:
- বাংলাদেশে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (BCIC) এর অধীনে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সার কারখানা রয়েছে।
- এই কারখানাগুলো দেশের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ইউরিয়া এবং অন্যান্য সার উৎপাদন করে।
- ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বাংলাদেশের প্রথম ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়।
- এর নাম ছিল ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড।
- এই কারখানায় ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম সালফেট সার উৎপাদন করা হতো।
- বাংলাদেশে ইউরিয়া সার তৈরির মূল কাঁচামাল হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (মিথেন, CH₄)।
- মিথেন থেকে হাইড্রোজেন নেওয়া হয় এবং নাইট্রোজেনের সঙ্গে মিশিয়ে অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করা হয়, যার সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়।
- পরে এই অ্যামোনিয়াকে Haber-Bosch প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চ চাপে ইউরিয়া সারে রূপান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউরিয়া সার কারখানা —যেমন যমুনা, শাহজালাল, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড —এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সার উৎপাদন করে।
- উৎপাদিত ইউরিয়া সার দেশের কৃষিক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।
- অপরদিকে, ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
ট্রপোমন্ডল :
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
• ট্রপোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পানামা খাল:
- পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- অবস্থিত: পানামা প্রজাতন্ত্র, বুক চিরে কৃত্রিম খাল।
- খনন শুরু: ১৯০৪, সমাপ্ত: ১৯১৪।
- দৈর্ঘ্য: ৬৫ কিমি (গভীর জলভাগ থেকে ৮২ কিমি)।
- প্রস্থ: ৩০-৯০ মিটার।
- গভীরতা: ৪৬-৮৫ ফুট, স্থানভেদে পরিবর্তিত।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- পানামা খাল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজের পথ প্রায় ১৫,০০০ কিমি হ্রাস করেছে।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
• ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চলন বিলের অবস্থান - পাবনা ও নাটোর জেলায়।
চলন বিল:
- চলন বিল (Chalan Beel) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল এবং সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- এটি সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
- সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের নাফ নদীর মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ:
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা বা দারুচিনি দ্বীপ নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
- এটি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। নিচে এর মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
- অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত, কক্সবাজার-টেকনাফ উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণতম সীমান্তবর্তী দ্বীপ।
- আয়তন: মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার (কখনও কখনও ৮.৭ বর্গকিলোমিটার বলা হয়), যা জোয়ারের সময় আংশিকভাবে পানিতে ডুবে যায়।
- নামকরণের ইতিহাস: ১৮শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্মকর্তা আলেকজান্ডার মার্টিনের নামে নামকরণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে
- এর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা (নারিকেলের দ্বীপ) কারণ এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে।
- প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: সাদা বালুকাময় সৈকত, নীল জল, প্রবাল প্রাচীর (কোরাল রিফ), নারিকেলের বন এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবন। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ, সর্ব পূর্বের উপজেলা থানচি, সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ এবং সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
উৎসঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।
• 'গামার' ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়।
---------------------------
• ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমি বা শালবন:
- এ ধরনের বন মূলত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, কুমিল্লার লালমাই এবং রংপুর-দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত।
- এ বনের প্রধান গাছ হলো শাল, যা অনেকেই গজারি নামে চেনে।
- শুষ্ক মৌসুমে বা শীতের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে এ বনকে পতনশীল বা Deciduous Forest বলা হয়।
- শাল ছাড়াও এখানে হরিতকি, ছাতিম, কড়ই, কদম, বহেরা, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জন্মে।
- শাল গাছকে বৈদ্যুতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিমুল দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
- ছাতিম টেক্সটাইল মিলে ব্যবহৃত হয়।
- এ বনে বসবাসকারী উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে-
- মেছোবাঘ, বনরুই (এক ধরনের স্তন্যপায়ী), বানর ও শিয়াল ইত্যাদি।
--------------------------
অন্যদিকে,
- গামার হচ্ছে- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বনের বৃক্ষ।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন:
- এই ধরনের বনভূমি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বিস্তৃত।
- এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ বন গড়ে উঠেছে।
- এ বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১০,৩০০ বর্গকিলোমিটার।
- এখানে দীর্ঘকায় চিরসবুজ বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, বইলাম ও চান্দুল উল্লেখযোগ্য।
- মাঝারি উচ্চতার গাছের মধ্যে অর্জুন, জারুল, কুসুম, হরগজ ও বহেরা প্রধান।
- এছাড়া এ বনাঞ্চলে বেত ও নানা প্রজাতির বাঁশঝোপ জন্মে।
- এসব বনে চিতাবাঘ, হাতি, হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, সাপ ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
উৎস:
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি;
অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
• বসফরাস প্রণালী:
- পৃথক করেছে: এশিয়া ও ইউরোপ।
- সংযুক্ত করেছে: কৃষ্ণ সাগর এবং মার্মারা সাগর।
- বসফরাস প্রণালী ১৯ মাইল দীর্ঘ এবং এর সর্বোচ্চ প্রস্থ উত্তর প্রান্তে ২.৩ মাইল।
- এর গভীরতা মাঝখানে ১২০ থেকে ৪০৮ ফুট পর্যন্ত।
- বসফরাস প্রণালীটি ব্যাপকভাবে মাছ ধরা হয়,
- কারণ এটি মাছের ঋতুকালীন অভিবাসন পথ হিসেবে কাজ করে,
- যা মাছকে কৃষ্ণ সাগর থেকে মারমারা সাগরে এবং বিপরীত দিকে নিয়ে যায়।
এছাড়াও,
- কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) শহরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বসফরাস প্রণালীটি।
- এই কারণে বাইজেন্টাইন সম্রাটরা এবং পরবর্তীতে উসমানীয় সুলতানরা প্রণালীর তীরে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন,
- বিশেষ করে ইউরোপীয় তীরে।
- আনাদোলুহিসারি, যা ১৩৯০–৯১ সালে বাইয়াজিদ প্রথম নির্মাণ করেছিলেন,
- এবং রুমেলিহিসারি, যা ১৪৫২ সালে মেহমেদ দ্বিতীয় নির্মাণ করেছিলেন।
উৎস: Britannica.
ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
উল্লেখ্য যে,
- ১৭৮৯ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়। যা যমুনা নামে পরিচিত।
অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান উপনদী।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বাংলাদেশের বনাঞ্চল (Forest of Bangladesh):
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- কিন্তু বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ শতকরা প্রায় ১৭.৪৭৯১ ভাগ।
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:
ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
খ) ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
গ) স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
◉ সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ কালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।
সাড়া প্রদান (Response):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে সাড়াপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
- দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর নিজের এবং অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে সাড়া প্রদান বলে।
- সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।
- উপযুক্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার লোকজন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
- এসব কারণে দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়া প্রদান প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে:
প্রশমন (Mitigation):
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।
সূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বৃহত্তম নদী বলতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইটে কিছু নেই। প্রচলিত উত্তর হিসেবে মেঘনা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট অনুযায়ী বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- শাখানদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর নাম পদ্মা।
- বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর দৈর্ঘ্য ৩৪১ কি.মি.
- নদীটি রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগ দিয়ে প্রবাহিত।
- নদীটির উৎসমুখ: ভারত (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।
- নদীটির পতনমুখ: মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম ইছামতি (৩৩৪ কি.মি.)।
- বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদীর নাম সাঙ্গু/শঙ্খ (২৯৪ কি.মি.)।
উৎস: বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
• বুধ (Mercury):
- বুধ গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ এবং সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- বুধ হল সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহ, প্রতি ৮৮দিনে সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে।
- এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যের চারপাশে দ্রুত গতিতে ঘুরে আসে, মহাকাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯ মাইল (৪৭ কিলোমিটার) গতিতে ভ্রমণ করে, যা অন্য যেকোনো গ্রহের চেয়ে দ্রুত।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।
তথ্যসূত্র: NASA.
- ডেঙ্গু জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ,
- মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং
- জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- মহামারি কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্ল, নিপাহ ভাইরাস, জিকা ভাইরাস প্রভৃতিও জৈবিক হ্যাজার্ড এর অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬
- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ,
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০।
পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।
প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।
পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।
তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
খরা প্রবণ অঞ্চল:
- খরা দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গরমের সময় রাজশাহী এবং বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুরে তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড বা তারও বেশি হয়।
- আর শীতকালে দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা এমনকি ৫° সেন্টিগ্রেডেরও নিচে নেমে যায়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।