বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৩২ / ৭২ · ৩,১০১৩,২০০ / ৭,১৯১

৩,১০১.
ন‑কাবা ছড়া ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

ন‑কাবা ছড়া ঝর্ণা:
- এর অবস্থান: বিলাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বাংলাদেশ।
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য মনলোভা দর্শণীয় স্থান হলো ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা।
- প্রবাহ: পাহাড়ি ন‑কাবা ছড়া থেকে প্রবাহিত।
- দর্শনীয়তা: পাহাড়ি বন, সবুজ পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
- এই ঝর্ণায় দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক সৌন্দর্য অবলোকন করে চারদিকে তাকালে প্রকৃতির বিচিত্র রুপ ও পাহাড়ি ঢেউ ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ে না।

উৎস: রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ওয়েবসাইট।

৩,১০২.
বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত কোথায় ঘটে?
  1. উত্তরাঞ্চল
  2. পার্বত্য অঞ্চল
  3. সুন্দরবন অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
ব্যাখ্যা
আকস্মিক বন্যা:
- পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
- বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত পার্বত্য এলাকায় ঘটে, যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত পানি জমে যায় এবং উঁচু জায়গা থেকে নিচে নামতে থাকে, ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা প্রায়ই দেখা যায়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুন ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৩.
জার্মানি ও পোল্যান্ড এর মধ্যবর্তী সীমারেখা -
  1. ক) ওডারনিস লাইন
  2. খ) সিগফ্রিড লাইন
  3. গ) সনোরা লাইন
  4. ঘ) ডুরান্ড লাইন
সঠিক উত্তর:
ক) ওডারনিস লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওডারনিস লাইন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা লাইনঃ
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৩,১০৪.
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মাধবকুণ্ড পাহাড়ে
  2. খ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
  3. গ) হিমছড়ি পাহাড়ে
  4. ঘ) শুভলং ঝর্ণায়
সঠিক উত্তর:
গ) হিমছড়ি পাহাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিমছড়ি পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা কক্সবাজারের হিমছড়ি পাহাড়ে অবস্থিত। হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। ভঙ্গুর পাহাড় আর ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আর শুভলং ঝর্ণা অবস্থিত রাঙামাটিতে এবং মাধবকুন্ড জলপ্রপাত অবস্থিত মৌলভীবাজারে। উৎস: parjatan.gov.bd
৩,১০৫.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম হাওর কোনটি?
  1. ক) বুরবুক হাওর
  2. খ) তল্লার হাওর
  3. গ) শনির হাওর
  4. ঘ) মাকার হাওর
সঠিক উত্তর:
ক) বুরবুক হাওর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বুরবুক হাওর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম হাওর- বুরবুক হাওর। এটি সিলেট জেলার জৈন্তাপুরে অবস্থিত।
৩,১০৬.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. খাগড়াছড়ি
  3. হবিগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।

⇒ ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

♦ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

♦ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

♦ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে।
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১০৭.
’Cloudburst' কী?
  1. হালকা বৃষ্টিপাত
  2. ভারী বৃষ্টিপাত
  3. তুষারপাত
  4. হিমেল হাওয়া
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

- ক্লাউডবার্স্ট হলো হঠাৎ প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যা অল্প সময়ের মধ্যে (সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টা) অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- ​এতে বৃষ্টির হার ঘণ্টায় প্রায় 100 মিমি (৪ ইঞ্চি) বা তার বেশি হতে পারে।
- ​এই ধরনের বৃষ্টি সাধারণত বজ্রঝড় বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে ঘটে এবং পাহাড়ি অঞ্চল বা অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে বেশি দেখা যায়।
​​-  ক্লাউডবার্স্ট প্রায়ই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,১০৮.
কোনটি পদ্মা নদীর শাখানদী নয়?
  1. গড়াই
  2. ভৈরব
  3. পাগলা
  4. মধুমতী
সঠিক উত্তর:
পাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাগলা
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে ভৈরব, গড়াই, মধুমতী তিনটাই পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী কিন্তু পাগলা পদ্মা নদীর উপনদী।

পদ্মা নদী:

- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী।
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন মহানন্দার উপনদী।

 অন্যদিকে,
- পদ্মা দৌলতদিয়ার কাছে যমুনা নদীর সঙ্গে গঙ্গা মিলিত হয়েছে।
- দৌলতদিয়া পর্যন্ত এটি গঙ্গা নদী নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশে প্রবেশের পর অনেকেই একে পদ্মা নামে ডাকে।
- গঙ্গা ও যমুনা মিলে পদ্মা নদী চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- এই তিন নদী একসঙ্গে মেঘনা নদী নামে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,১০৯.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৫
  2. ২০০৮
  3. ২০১২
  4. ২০১৫
সঠিক উত্তর:
২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' ২০১২ সালে  প্রণীত হয়।
- অন্য অপশনগুলো যথা উপযুক্ত নয়।

• বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সকল ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামো গড়িয়া তুলিবার নিমিত্ত বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।
- বাংলাদেশের সংসদে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২' পাসের মাধ্যমে এই অধিদপ্তর গঠিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,১১০.
ভূমধ্যসাগরীয় দেশ কোনটি?
  1. আলজেরিয়া
  2. সুদান
  3. ইরান
  4. ওমান
সঠিক উত্তর:
আলজেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা

• আলজেরিয়া ভূমধ্যসাগরীয় দেশ।
- আলজেরিয়া আয়তনে আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ এবং বিশ্বের দশম বৃহত্তম দেশ।
- আয়তন: ২,৩৮১,৭৪১ বর্গ কিমি।
- রাজধানী: আলজিয়ার্স।
- ভাষা: আরবি (অফিসিয়াল), তামাজিট (জাতীয়), ফরাসি।
- ধর্ম: ইসলাম (সরকারি; প্রধানত সুন্নি)।
- মুদ্রা: আলজেরিয়ান দিনার।

অন্যদিকে,
• সুদান, ইরান এবং ওমানের মতো দেশগুলো ভূমধ্যসাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়।
• ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea) ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

• ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো হলো:

• ইউরোপে: স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, তুরস্ক (আংশিক ইউরোপে), ইত্যাদি।
• আফ্রিকায়: মিশর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, লিবিয়া।
• এশিয়ায়: তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা।

৩,১১১.
সমুদ্রবায়ু কোন কারণে স্থলভাগে প্রবাহিত হয়?
  1. সমুদ্রের শীতল বায়ু
  2. স্থলভাগের উষ্ণ বায়ু
  3. পাহাড়ের বাধা
  4. মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের শীতল বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের শীতল বায়ু
ব্যাখ্যা

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু:
- উপকূল এলাকায় সকালের সূর্যতাপ স্থানীয় ভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে।
- এসময় সমুদ্রের কাছের শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় যাকে বলা হয় সমুদ্রবায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়। এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১২.
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. বাংলাদেশ
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোন দেশ - রাশিয়া।
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট কোন দেশ - ভ্যাটিকান সিটি।
৩,১১৩.
বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৪১৫৬ কি.মি
  2. ৪৮৫৬ কি.মি
  3. ৫১৩৮ কি.মি
  4. ৫৩৩৮ কি.মি
সঠিক উত্তর:
৫১৩৮ কি.মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১৩৮ কি.মি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- বাংলাদেশের আয়তন- ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.।
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ- বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫১৩৮ কিলোমিটার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমানা ৪১৫৬ কি.মি।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: i) ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,১১৪.
চুনাপাথর কোন ধরনের শিলা?
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. পাললিক শিলা
  4. আগ্নেয়-পাললিক শিলা
সঠিক উত্তর:
পাললিক শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

চুনাপাথর:
- চুনাপাথর এক প্রকার পাললিক শিলা।
- প্রধান উপাদান: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃)।
- খনিজ রূপ: ক্যালসাইট, কখনো ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট সহ বা ব্যতীত।
- বাংলাদেশে মজুতের ধরন: ভূ-পৃষ্ঠীয় ও ভূগর্ভস্থ উভয়।
- ভূ-পৃষ্ঠীয় মজুত (Surface): সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ (কক্সবাজার)।
- ভূ-পৃষ্ঠীয়/স্বল্পগভীর মজুত: ভাঙ্গেরঘাট–লালঘাট–টাকেরঘাট (সুনামগঞ্জ)।
- ভূগর্ভস্থ মজুত (Sub-surface): জয়পুরহাট জেলা।
- সর্বপ্রথম আবিষ্কার: ১৯৫৭ সাল।
- প্রথম আবিষ্কারের স্থান: সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
- সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,১১৫.
চা চাষের জন্য কত সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন?
  1. ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস 
  2. ১৫থেকে ১৬ সেলসিয়াস 
  3. ১৭ থেকে ১৮ সেলসিয়াস 
  4. ১৪ থেকে ১৫ সেলসিয়াস 
সঠিক উত্তর:
১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

চা (Tea): 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
- ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১১৬.
বেরিং প্রণালী কোন দুটি দেশকে পৃথক করেছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
  2. স্পেন ও মরক্কো
  3. ব্রিটেন ও ফ্রান্স
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া
ব্যাখ্যা
বেরিং প্রণালী:
- The Gateway to the Arctic নামে পরিচিত। 
- বেরিং প্রণালী উত্তর মহাসাগর ও বেরিং সাগরকে যুক্ত করেছে।
- এটি এশিয়া (রাশিয়া) ও উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা) কে পৃথক করেছে।
- সবচেয়ে সরু অংশ ৮৫ কিলোমিটার (৫৫ মাইল) চওড়া।

অন্যান্য-
- জিব্রাল্টার প্রণালী স্পেন ও মরক্কোকে পৃথক করেছে।
- ইংলিশ চ্যানেল ও ডেভিস প্রণালী ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে পৃথক করেছে।

উৎস: Ocean conservancy ওয়েবসাইট।
Britannica website.
৩,১১৭.
সুয়েজ খাল বর্তমানে কোন দেশের মালিকানাধীন রয়েছে? 
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. মিশর
  3. ফ্রান্স
  4. সিরিয়া 
সঠিক উত্তর:
মিশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশর
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খাল মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত একটি কৃত্রিম সামুদ্রিক খাল,
- এটি ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- ১৮৬৯ সালে খালটির নির্মাণ কাজ হয়।
- এর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৮৫৯ সাল।
- বর্তমানে খালটি মিশরের সুয়েজ ক্যানেল অথোরিটির মালিকানাধীন।
- ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন।

উল্লেখ্য
- এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সঙ্গে মিশরের যুদ্ধ বাধে, যা 'দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ' বা 'সুয়েজ যুদ্ধ' নামে পরিচিত।

উৎস: Britannica ও বিবিসি নিউজ।

৩,১১৮.
'লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল' কোন দুটি দেশের মধ্যাকার সীমারেখা?
  1. ভারত - পাকিস্তান
  2. ভারত - নেপাল
  3. পাকিস্তান - চীন
  4. ভারত - চীন
সঠিক উত্তর:
ভারত - চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত - চীন
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - ভারত ও চীন।
- আলপাইন লাইন - ইতালি - ফ্রান্স।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত-পাকিস্তান।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত- চীন এর মধ্যবর্তী লাইন।
- ওডারনিস লাইন - জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- ম্যাজিনো লাইন - জার্মানি ও ফ্রান্স।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,১১৯.
কোনটি পরিবেশের জড় উপাদান?
  1. গাছ
  2. মানুষ
  3. মাটি
  4. পশু
সঠিক উত্তর:
মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি
ব্যাখ্যা

পরিবেশ:
- প্রকৃতির সকল দান মিলেমিশে তৈরি হয় পরিবেশ।
- নদী, নালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, পর্বত, বন, জঙ্গল, ঘর, বাড়ি, রাস্তাঘাট, উদ্ভিদ, প্রাণী, পানি, মাটি ও বায়ু নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবেশ।
- কোনো জীবের চারপাশের সকল জীব ও জড় উপাদানের সর্বসমেত প্রভাব ও সংঘটিত ঘটনা হলো ঐ জীবের পরিবেশ।
- পরিবেশ বিজ্ঞানী আর্মসের (Arms) মতে, জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে।

পরিবেশের উপাদান:
- পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার; যেমন জড় উপাদান ও জীব উপাদান।
- যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, যাদের বৃদ্ধি আছে, জন্ম আছে এবং মৃত্যু আছে তাদের বলে জীব।
- গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো পরিবেশের জীব উপাদান।
- মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা ও আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২০.
সৌদি আরবের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কোনটি?
  1. ক) জেদ্দা
  2. খ) রিয়াদ
  3. গ) দাম্মামা
  4. ঘ) খাদিমাহ
সঠিক উত্তর:
ক) জেদ্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জেদ্দা
ব্যাখ্যা
জেদ্দা সমুদ্রবন্দর সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত।
- এটি সৌদি আরবের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর।

লোহিত সাগরের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরসমূহ:
- পোর্ট সুদান (সুদান)
- পোর্ট সুয়েজ (মিশর)
- পোর্ট হুদাইদাহ (ইয়েমেন)
- পোর্ট আসেব (ইরিত্রিয়া)।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস
৩,১২১.
আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে বলে -
  1. গালফ স্ট্রিম
  2. প্যাসিফিক রিম
  3. ডোলড্রামস
  4. অশ্ব অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
অশ্ব অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশ্ব অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
- আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse latitude) বলে।

পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ বলে।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের ন্যায় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি অবস্থিত।
- বায়ু নিম্নগামী বলে এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে যখন আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজযোগে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করা হতো, তখন এ অঞ্চলে পৌঁছলে বায়ুপ্রবাহের অভাবে পালচালিত জাহাজের গতি মন্থর বা প্রায় নিশ্চল হয়ে পড়ত।
- এ অবস্থায় নাবিকগণ খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে অনেক সময় তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিত।
- এজন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
- নিরক্ষীয় শান্তবলয় এর অপর নাম ডোলড্রাম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১২২.
কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) ডায়াটম
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

• পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২৩.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা- 
  1. বাংলাবান্ধা
  2. তেঁতুলিয়া
  3. টেকনাফ
  4.  শিবগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
তেঁতুলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেঁতুলিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
-
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,১২৪.
ইক্ষু চাষের জন্য কোন ধরনের ভূমি প্রয়োজন?
  1. পাহাড়ি ঢালু ভূমি
  2. সমতলভূমি
  3. উঁচু পাহাড়ি ভূমি
  4. জোয়ার-ভাটাযুক্ত নিম্নভূমি
সঠিক উত্তর:
সমতলভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতলভূমি
ব্যাখ্যা

ইক্ষু (Sugarcane):
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল। 
​- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন। 
​- রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল (চিত্র ১১.২)।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২৫.
নীলনদ কোন হ্রদ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. টিটিকাকা হ্রদ
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. মিনোসোটার হ্রদ
  4. বৈকাল হ্রদ
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া হ্রদ
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

⇒ বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,১২৬.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুসারে, কোনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা?
  1. টাঙ্গুয়ার হাওর
  2. সোনাদিয়া দ্বীপ
  3. তুরাগ নদী
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

⇒ এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩,১২৭.
’পাপুয়া নিউ গিনি’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. ভারত মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- পাপুয়া নিউ গিনি দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- এটি নিউ গিনির পূর্ব অর্ধেক দখল করে আছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ।
- পাপুয়া নিউ গিনিতে বিসমার্ক দ্বীপপুঞ্জ, বোগেনভিল, বুকা (সলোমন দ্বীপপুঞ্জ শৃঙ্খলের অংশ), ছোট ছোট উপকূলীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং অ্যাটলও রয়েছে।
- পাপুয়া নিউ গিনি নিরক্ষরেখার দক্ষিণ থেকে টরেস প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত, যা নিউ গিনিকে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরতম সম্প্রসারণ, কেপ ইয়র্ক উপদ্বীপ থেকে পৃথক করে।
- দেশের রাজধানী- পোর্ট মোরেসবি,

গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ:
⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি।

⇒ ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সেইসিলিশ, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি।

উৎস: World Atlas, ব্রিটানিকা।

৩,১২৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. প্রতিরোধ
  2. উন্নয়ন
  3. প্রশমন
  4. পূর্বপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
১. দুর্যোগ প্রতিরোধ:
দুর্যোগের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দুর্যোগ প্রতিরোধের অংশ। এর মধ্যে পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সতর্কতা কার্যক্রম এবং প্রতিরোধী কাঠামো তৈরি করা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. দুর্যোগ প্রশমন:
দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করা হয়। এটি সরাসরি দুর্যোগের তীব্রতা কমানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, যেমন বাঁধ নির্মাণ, নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করা।

৩. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি:
দুর্যোগের প্রাক্কালে সঠিক প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করা, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাহায্য পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি তৈরি করা এবং উপকরণ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়গুলির অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে - 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।
- এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১২৯.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রক্রিয়ায় সাধারণত বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন
  2. সাইক্লোনিক
  3. শৈলোৎক্ষেপ
  4. সংঘর্ষ
সঠিক উত্তর:
পরিচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়।
পরিচলন প্রক্রিয়ায় দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সরাসরি উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৩,১৩০.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো কোনটি?
  1. ক) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  2. খ) ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) বৈষাখ-জ্যৈষ্ঠ
  4. ঘ) কার্তিক-জ্যৈষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল, যা এদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু।
এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩১.
বাংলাদেশে মোট গ্যাস ক্ষেত্র কয়টি?
  1. ক) ২৭
  2. খ) ২৫
  3. গ) ২৬
  4. ঘ) ২৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৮
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদগুলো হলো- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও কঠিন শিলা।
- এছাড়া রয়েছে খনিজ বালু, চীনামাটি, সিলিকাবালু।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশে মোট গ্যাস ক্ষেত্র ২৮ টি, সর্বশেষ গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় - সিলেট জেলার জকিগঞ্জে।
- গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর অধিকাংশই সিলেটবিভাগে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩২.
নিচের কোনটি বায়ুপ্রবাহের প্রভাব? 
  1. শব্দ তরঙ্গ বেড়ে যাওয়া
  2. ভূমিক্ষয়
  3. ভূমিতে জলীয়বাষ্প হ্রাস পাওয়া
  4. মাছের বংশ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ভূমিক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিক্ষয়
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 

বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ: 

• বায়ু এক প্রকার গতিশীল শক্তি যা পৃথিবীপৃষ্ঠ, তার আশেপাশে ও উর্ধ্বে সর্বদা প্রবাহমান। 
• বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি।  
• বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়। 
• এছাড়াও মানব সভ্যতার বিকাশ, ইতিহাস ও যুদ্ধ-বিগ্রহ, ক্ষমতার উৎস নির্ধারণ করা, পরিবহন, চিত্তবিনোদন, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি ইত্যাদির অগ্রগতিতে বায়ুপ্রবাহের প্রভাব সীমাহীন। 
• বায়ুপ্রবাহের জন্যই ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি, জমির উর্বরতার হ্রাস-বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, জমির গঠন, বাস্তুসংস্থানের সক্রিয়তা, পানিচক্র বা খাদ্য চক্রের মত প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা রক্ষা ইত্যাদিতে পরিবর্তন ঘটে। 
• বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, ঘনত্ব ইত্যাদির কারণে বায়ুপ্রবাহ প্রভাবিত হয়। বায়ুপ্রবাহের কারনেই আকাশ ও মহাকাশযান সমূহ সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এই বায়ুপ্রবাহের ধরনের ভিন্নরূপের কারণে (ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী) পৃথিবীর সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে আবহাওয়া ও জলবায়ুতে পার্থক্য তৈরি হয়। 
এছাড়াও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভূমিক্ষয়ের একটি বড় কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুপ্রবাহের প্রভাবেই ছোট বালুকণা ও ধূলিকণা বায়ুসঞ্চালন দ্বারা একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩৩.
‘Nor' wester’ কোন দুর্যোগকে নির্দেশ করে?
  1. সুনামি
  2. ভূমিকম্প
  3. অনাবৃষ্টি
  4. কালবৈশাখী ঝড়
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী ঝড়
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী ঝড় (Nor’ wester):
- কালবৈশাখী এক ধরনের বজ্রঝড়, যা সচরাচর এপ্রিল-মে (বৈশাখ) মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- স্থানীয়ভাবে কোনো এলাকার ভূ-পৃষ্ঠ অত্যধিক তাপমাত্রা অথবা অন্যান্য কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বায়ুমন্ডল যথেষ্ট অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং এ ঝড়ের জন্ম হয়।
- বায়ুমন্ডলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে কিউমুলাস মেঘ উল্লম্বভাবে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ গঠন করে এবং পরবর্তী সময়ে বজ্রঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয় যা সবার কাছে কালবৈশাখী নামে পরিচিত।
- সাধারণ বর্ষণের সঙ্গে এ ঝড়ের মূল পার্থক্য হচ্ছে, এ ঝড়ের সঙ্গে সবসময়ই বিদ্যুৎ চমকায় ও বজ্রপাত হয়।
- কালবৈশাখীর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০ হতে ৮০ কিলোমিটার। অনেক সময় এ ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১২৮ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে থাকে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় (air mass thunderstorm) অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় (convective thunderstorm) নামেও আখ্যায়িত করা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৪.
এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. হোয়াংহো নদী
  2. ইয়াংসিকিয়াং নদী
  3. আমুর নদী
  4. মেকং নদী
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং নদী
ব্যাখ্যা

• এশিয়া মহাদেশ:
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং (৬,৩০০ কিলোমিটার)।
- নদীটি চীনে অবস্থিত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।
- এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নদী।  

উল্লেখ্য,
- এশিয়া মহাদেশ ১০° দক্ষিণ অক্ষরেখা থেকে ৮০° উত্তর অক্ষরেখা এবং ২৫° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ১৭০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা (১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করে আরো ১০° দ্রাঘিমারেখা) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
- দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা গঠিত জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এ মহাদেশে অবস্থিত।
- এগুলোকে খন্ডিত রাষ্ট্রও বলা হয়।
- আয়তনে চীন বৃহত্তম (৯৫,৬১,০০০ বর্গকিলোমিটার) এবং মালদ্বীপ ক্ষুদ্রতম (২৯৮ বর্গকিলোমিটার)।

অন্যদিকে -
- হোয়াংহো বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম ও চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৫,৪৬৪ কিলোমিটার যা এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- আমুর নদী পৃথিবীর দশম দীর্ঘতম নদী যার দৈর্ঘ্য ৪,৪৪৪ কিলোমিটার। এটি পূর্ব মধ্য এশিয়ার একটি নদী যা উত্তর পূর্ব চীন এবং রাশিয়ার সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত।
- মেকং নদী এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম নদী। 

তথ্যসূত্র: World Atlas.

৩,১৩৫.
পৃথিবীর আহ্নিক গতি সবচেয়ে কম যে অঞ্চলে -
  1. বিষুব অঞ্চলে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে
  4. নিরক্ষ অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- মেরু অঞ্চলে আহ্নিক গতি সর্বাপেক্ষা কম।

- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি।
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০. 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।

উল্লেখ্য, 
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩৬.
'চেঙ্গী নদী' নিচের কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. বান্দরবান 
  2. খাগড়াছড়ি 
  3. সিলেট
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি 
ব্যাখ্যা

• চেঙ্গী নদী:
- খাগড়াছড়ির প্রধান নদী চেঙ্গী।
- ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এর উৎপত্তি। রাজ্যটির আঠারমুড়া থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এটি মহালছড়িতে এসে কাপ্তাই লেকে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর অববাহিকায় রয়েছে লোগং, পানছড়ি, ভাইবোনছড়া, খাগড়াছড়ি, মাইসছড়ি ও মহালছড়ি।খাগড়াছড়ির মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদীটির নাম চেঙ্গি।
- এটি চিংড়ি নদী নামেও পরিচিত।
- পাহাড়ের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলা এই নদীর দৈর্ঘ্য ৯৬ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৭৭ মিটার।

তথ্যসূত্র: মহালছড়ি উপজেলা ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩,১৩৭.
পানামা খালের খনন কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৯২৩
  2. ১৯০৪
  3. ১৯২১ 
  4. ১৯১৪
সঠিক উত্তর:
১৯০৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৪
ব্যাখ্যা

পানামা খাল: 
- পানামা খাল পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম খাল।
- ১৯০৪ সালে পানামা খাল খনন করা শুরু হয়।
- খালটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা খনন করা হয়েছিল।
- ১৯১৪ সালে এটি চালু করা হয়।
- পানামা খাল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে পৃথক করেছে;
- এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর কে যুক্ত করেছে।
- পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ ১৯৯৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পানামার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- এই হস্তান্তর টরিয়োস-কার্টার চুক্তি এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। 
- এই চুক্তি নিশ্চিত করেছিল যে- ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালের মধ্যে খালের সম্পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে চলে যাবে।
- চুক্তিগুলি স্বাক্ষরিত হয়েছিল মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার এবং পানামার জেনারেল ওমর টোরিজোস এর মধ্যে।

উৎস: প্রথম আলো ও Britannica.

৩,১৩৮.
নিম্নের কোনটির সাথে 'Ninety Degree East Ridge' সম্পর্কিত?
  1. ভূ-উপগ্রহ
  2. শৈলশিরা
  3. সাবমেরিন
  4. সমুদ্র খাত
সঠিক উত্তর:
শৈলশিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলশিরা
ব্যাখ্যা

৯০° পূর্ব-শৈলশিরা (Ninety Degree East Ridge):
- এই শৈলশিরাটি বঙ্গোপসাগরের মাঝ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা বরাবর বিস্তৃত বলে একে ৯০° পূর্ব শৈলশিরা বলে।
- এটি বেঙ্গল শৈলশিরা নামেও পরিচিত।
- এই শৈলশিরা ১৫০° উত্তর অক্ষাংশ থেকে শুরু করে ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৩৯.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. উচ্চতা
  3. অক্ষাংশ
  4. বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু : 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
- সমুদ্রস্রোত,
- ভূমির ঢাল,
- বায়ুপ্রবাহ,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান -
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় 'বৃষ্টিপাত'।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের একটি হলো 'বৃষ্টিপাত'।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪০.
'বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র'টি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) হবিগঞ্জ
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
খ) হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মোট গ্যাসক্ষেত্র - ২৭টি। সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র - ভোলা নর্থ।
বাংলাদেশের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে -
উৎপাদনরত - ২০টি
উৎপাদনে যায় নি - ২টি
উৎপাদন স্থগিত রয়েছে - ৫টি
প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাস - এর পরিমানের হিসাবে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র "বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র" হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৮১ সালে আবিষ্কৃত হয়।
বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাস - এর পরিমাণ - ৮,৩৫০.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা 'তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের' প্রাথমিক মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ - ৮,১৪৮.৯ বিলিয়ন ঘনফুট।
উল্লেখ্য, উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ - এর হিসাবে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র - তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র।
উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ - ৬,৩৬৭.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
অন্যদিকে, বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ - ৫,৭৫৪.০ বিলিয়ন ঘনফুট।
দুটি গ্যাস ক্ষেত্রেরই বর্তমানে ২৬টি করে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২০।

৩,১৪১.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- যেটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৪২.
পেত্রা নগরী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. সিরিয়া
  3. জর্ডান
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
জর্ডান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্ডান
ব্যাখ্যা

পেত্রা নগরী (Petra):
- পেত্রা হলো জর্ডানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি প্রাচীন নগরী।
- এটি নাবাতীয় রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- নাবাতীয় আরবরা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে পেত্রা নির্মাণ করে।
- পেত্রা শব্দের অর্থ ‘পাথর’ বা ‘শিলা’।
- সম্পূর্ণ শহরটি লালচে বেলেপাথরের পাহাড় কেটে নির্মিত।
- বিখ্যাত স্থাপনাগুলির মধ্যে রয়েছে আল-খাজনে (The Treasury) ও আদ-দেইর (The Monastery)।
- পেত্রার স্থাপত্যে হেলেনিস্টিক ও প্রাচ্য শৈলীর মিশ্রণ দেখা যায়।
- রোমান দখলের পর শহরটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়।
- ১৮১২ সালে সুইস অভিযাত্রী জোহান লুডভিগ বার্কহার্ট পেত্রা পুনরাবিষ্কার করেন।
-  ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো পেত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
- ২০০৭ সালে এটি বিশ্বের নতুন সাত আশ্চর্যের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- পেত্রাকে তার লালচে পাথরের জন্য “রোজ-রেড সিটি” বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,১৪৩.
পানামা খালের অবস্থান কোথায়?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা
  2. মধ্য আমেরিকা
  3. উত্তর আমেরিকা
  4. মধ্য ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• পানামা খাল: 
- পানামা খাল হলো মধ্য আমেরিকার পানামা রাজ্যে পাওয়া মানব প্রকৌশলের এক বিস্ময়।
- প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে একটি সামুদ্রিক সংযোগস্থল।
- দৈর্ঘ্য- ৪৮ মাইল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খাল নির্মাণের অধিকার দেয়।
- ১৯০৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন কর্মীরা খনন শুরু করে।
- ১৯১৪ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
-  পানামা খাল অঞ্চলটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পানামার মধ্যে আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে।
- ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর, আমেরিকান সরকার পানামা খাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করে।

উৎস: WorldAtlas {লিংক}
৩,১৪৪.
শীতল ও উষ্ণ বায়ুর মুখোমুখিতে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে?
  1. পরিচলন বৃষ্টি 
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

• বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ: 
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

• সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৪৫.
সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা-
  1. হ্রাস পায়
  2. বাড়ে
  3. সমান থাকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
 উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
-  উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৪৬.
শালবন একটি-
  1. চিরহরিৎ বনভূমি
  2. ম্যানগ্রোভ বনভূমি
  3. পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি
  4. সোয়াম্প ফরেস্ট
সঠিক উত্তর:
পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি
ব্যাখ্যা
শালবন একটি পত্রপতনশীল বা পর্ণমোচী বৃক্ষের বনভূমি। অর্থাৎ শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝড়ে যায়।

শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ। তাই এটি শালবন নামে পরিচিত।
শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর। এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

(তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৩,১৪৭.
পদ্মা ও যমুনা নদী কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) আজরিমিগঞ্জ
  3. গ) চিলমারি
  4. ঘ) গোয়ালন্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোয়ালন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা
• পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থল: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

অন্যদিকে,
• সুরমা ও কুশিয়ারার মিলনস্থল (মেঘনা): আজরিমিগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
• পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল: চাঁদপুর
• ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার মিলনস্থল: চিলমারি (কুড়িগ্রাম)
• পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার মিলনস্থল: ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ)

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,১৪৮.
খৈয়াছড়া ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. বান্দরবান
  3. কক্সবাজার
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। আকার আকৃতি ও গঠনশৈলির দিক দিয়ে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা হিসেবে বিবেচিত।
খৈয়াছড়া ঝর্ণাতে মোট ৭/৯টি মূল ধাপ ও অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ রয়েছে। অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত গঠনশৈলীর কারণে খৈয়াছড়া কে বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৩,১৪৯.
বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. ক) ঘন ঘন বন্যা
  2. খ) সমুদ্র দূষণ
  3. গ) অপরিকল্পিত ট্যুরিজম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ঘন ঘন বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘন ঘন বন্যা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লু ইকোনোমির চ্যালেঞ্জসমূহ:

- শক্তিশালী সমুদ্রনীতির অভাব,
- দুর্বল সমুদ্র ব্যবস্থাপনা,
- সামুদ্রিক দূষণ,
- অপরিকল্পিত উপকূলীয় উন্নয়ন,
- প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাব,
- অপরিকল্পিত মৎস শিকার,
- অপরিকল্পিত ট্যুরিজম ইত্যাদি।

প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ঘন ঘন বন্যাব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

উৎস: SDG ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট (আর্টিকেল), ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস রিপোর্ট।
৩,১৫০.
এশিয়ার কোন দেশটি স্থল বেষ্টিত?
  1. মঙ্গোলিয়া
  2. মায়ানমার
  3. তাইওয়ান
  4. ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা
এশিয়ার স্থল বেষ্টিত দেশসমূহ:
- এশিয়ার মোট ১২ টি দেশ স্থল বেষ্টিত। স্থল বেষ্টিত দেশগুলো হচ্ছে -
- আফগানিস্তান,
- আর্মেনিয়া,
- আজারবাইজান,
- ভূটান,
- কাজাখস্তান,
- কিরগিস্তান,
- লাওস,
- মঙ্গোলিয়া,
- তাজিকিস্তান,
- তুর্কেমিনিস্তান,
- উজবেকিস্তান।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,১৫১.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত? 
  1. বঙ্গোপসাগরে
  2. লোহিত সাগরে
  3. জাভা সাগরে
  4. আরব সাগরে
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগরে
ব্যাখ্যা

• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যা বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরকে পৃথক করে।
- দুটি প্রধান দ্বীপগুচ্ছ নিয়ে গঠিত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- এই দ্বীপপুঞ্জগুলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এবং ভারতের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭২টি দ্বীপ রয়েছে্

উল্লেখ্য
- ২০০৪ সালে, ভারত মহাসাগরে সংঘটিত হয়।
-  শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে।

উৎস: World Atlas.

৩,১৫২.
সিলেটের পূর্ব নাম কী?
  1. ক) জালালাবাদ
  2. খ) নাসিরাবাদ
  3. গ) বরেন্দ্রভূমি
  4. ঘ) সুবর্ণগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) জালালাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জালালাবাদ
ব্যাখ্যা
• সিলেটের পূর্ব নাম জালালাবাদ। 

• সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমবাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি সিলেট জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- প্রাচীন শ্রীহট্টে বিপুল হারে বাঙালি অভিবাসন হয়েছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- মোগল যুগে পাঠান বীর খাজা ওসমান সিলেটের স্থানীয় সামন্তদের সহায়তায় আক্রমণকারী মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
- ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের সময়ে সিলেটে বিদ্রোহীরা বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়।

সূত্র:  সিলেট জেলা ওয়েবসাইট। 
৩,১৫৩.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ২৯,০১৩ ফুট
  2. ২৯,০৩২ ফুট
  3. ২৯,৪৮৮ ফুট
  4. ২৯,৭৩২ ফুট
সঠিক উত্তর:
২৯,০৩২ ফুট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯,০৩২ ফুট
ব্যাখ্যা
এভারেস্ট পর্বত:
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উৎস: i) Britannica.
ii) National Geographic.
৩,১৫৪.
বাংলাদেশে আঘাত হানা সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ - এর নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. শ্রীলংকা
  3. পাকিস্তান
  4. থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় আম্পান:

- ২০২০ সালের ২০ মে বাংলাদেশে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্পান।
- এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘আম্পান’।
- এই ‘আম্পান’ নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড।
- থাই ভাষায় ‘আম্পান’ অর্থ দৃঢ়তা, স্বাধীন চিত্ত, শক্তি। 
- এটি একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, যা বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ভারতের পূর্বাংশে এবং বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- বাংলাদেশের মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেই আম্পানের আঘাত ছিল তীব্র।
- বাঁধগুলো ভাঙার ফলে পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত গলাচিপা, কলাপাড়া, এবং রাঙ্গাবালীসহ ১০টি গ্রাম ডুবে যায়।
- বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ১০ কোটিরও বেশি লোক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিল।
- প্রায় ৩,০০০টি চিংড়ি এবং কাঁকড়া খামার বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়।
- সাতক্ষীরা জেলার, পূর্ব দুর্গাবতীতে, একটি বাঁধের কিছু অংশ ৪ মিটার (১৩ ফুট) উঁচু বন্যার জলে ভেসে যায়, যার ফলে ৬০০ টি বাড়িঘর ডুবে যায়।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ, ১১ মে ২০২৩ ও দৈনিক যুগান্তর, ১৮ মে ২০২০।
৩,১৫৫.
ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয় কোন দেশকে?
  1. বেলারুশ
  2. পোল্যান্ড
  3. ইউক্রেন
  4. বেলজিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইউক্রেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
ইউক্রেন:
- ইউক্রেন পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র।
- দেশটির আয়তন ৬০৩,৫৪৯ বর্গ কিমি।
- ভাষা: ইউক্রেনীয় (অফিসিয়াল), রাশিয়ান, রোমানিয়ান, পোলিশ, হাঙ্গেরিয়ান, বেলারুশিয়ান, বুলগেরিয়ান।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (বেশিরভাগই পূর্ব অর্থোডক্স; এছাড়াও অন্যান্য খ্রিস্টান, রোমান ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট), ইসলাম।
- ইউক্রেনের পশ্চিমে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া ও মলদোভা, দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগর, পূর্বে ও উত্তর-পূর্বে রাশিয়া এবং উত্তরে বেলারুস।
- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ।
- ইউরোপের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত ইউক্রেনের উর্বর ভূমিতে গম, সানফ্লাওয়ার এবং অন্যান্য দানাদার জাতীয় শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
- এজন্য ইউক্রেনকে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়।

সূত্র - Britannica.com
৩,১৫৬.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে কত শতাংশ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে?
  1. ১০ শতাংশ
  2. ২০ শতাংশ
  3. ৩০ শতাংশ
  4. ৪০ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৩০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য হ্রাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশের প্রায় ৩৯ প্রজাতির প্রাণি হুমকির সম্মুখীন।
- এর মধ্যে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, অজগর, বুনো হাঁস, কালো হাঁস, নীল গাই, বুনো মহিষ, মিঠা পানির কুমির, ঘড়িয়াল প্রভৃতি।
- ধারণা করা হয়, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে
- বন বিজ্ঞানীগণের মতে, বাংলাদেশে ১২৫টির মতো বৃক্ষ প্রজাতি বিপন্ন প্রায়।
- এর মধ্যে কাষ্ঠল ও ঔষধি উদ্ভিদ বিদ্যমান।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৭.
 নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে কোন ধরণের বৃষ্টিপাত দেখা যায়?
  1. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  2. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  3. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৫৮.
‘Line of Actual Control (LAC)’ কোন দুটি দেশের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তরেখা?
  1. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও আফগানিস্তান
  4. ভারত ও পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
ভারত ও চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত ও চীন
ব্যাখ্যা
‘Line of Actual Control (LAC)’ ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তরেখা।

উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সীমারেখা:
- ম্যাকমোহন লাইন: ভারত ও চীন,
- র‍্যাডক্লিফ লাইন: ভারত ও পাকিস্তান,
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,
- তিন বিঘা করিডোর: ভারত ও বাংলাদেশ,
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC ): ভারত ও পাকিস্তান,
- ১০ ডিগ্রী চ্যানেল: আন্দামান ও নিকোবর,
- ১৭তম প্যারালাল: উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম,
- ৩৮তম প্যারালাল: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,
- ওডার-নাইসে লাইন: পূর্বতন পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ড,
- ম্যাগিনট লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স,
- ম্যানারহেম রেখা: রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড,
- লাইন অব ডিমারকেশন: পর্তুগাল ও স্পেন,
- ওডারনিস লাইন: জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মানি ও ফ্রান্স।
- সনোরা লাইন: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.
৩,১৫৯.
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ-
  1. ০.৫২ শতাংশ
  2. ০.০১ শতাংশ
  3. ০.০২ শতাংশ
  4. ০.৪১ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
০.৪১ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ:
- নাইট্রোজেন -- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন -- ২০.৭১%
- আরগন -- ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড -- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প -- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাসসমূহ -- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা -- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৬০.
বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস-
  1. ক) ১৩ জুলাই
  2. খ) ১০ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৭ জুন
  4. ঘ) ১৩ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ জুন
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ১৩ অক্টোবর। (International Day for Disaster Reduction)
- বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস ১৭ জুন। (World Day to Combat Desertification and Drought)

উৎসঃ জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,১৬১.
নেলসন ম্যান্ডেলা কোন দ্বীপে কারান্তরীণ ছিলেন?
  1. ক) সেন্ট এলবা
  2. খ) গ্যালাপাগোস
  3. গ) রোবেন দ্বীপ
  4. ঘ) সেন্ট হেলেনা
সঠিক উত্তর:
গ) রোবেন দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোবেন দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তার ২৭ বছর কারাজীবনের ১৮ বছর অতিবাহিত করেন রোবেন দ্বীপে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনামলে এটি কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ১৯৯৯ সালে এটিকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। ইউনেস্কো এটিকে একটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
৩,১৬২.
'কিউসু দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. শ্রীলঙ্কা
  3. মালদ্বীপ
  4. উত্তর কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
দ্বীপরাষ্ট্র জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো: শিকোকু, কিউসু, হনসু ও হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৩,১৬৩.
সিকিমের পর্বত থেকে বাংলাদেশের কোন নদীর উৎপত্তি হয়েছে? 
  1. মনু
  2. করতোয়া
  3. কর্ণফুলী
  4. সাঙ্গু
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৪.
ধান চাষের জন্য রোপণের পর মাটির তাপমাত্রা কত থাকা জরুরি?
  1. ১৫° সেলসিয়াস
  2. ১৬° সেলসিয়াস
  3. ৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১৬° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

ধান চাষ:
- ধান একটি আধা-জলীয় ফসল, যার বৃদ্ধি ও উৎপাদনের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
- বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ধান প্রাক-খরিফ, খরিফ এবং রবি—সব মৌসুমেই চাষ করা সম্ভব। - ধানের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা দিনে ২০–৩৬° সেলসিয়াস এবং রাতে ২০–২৩° সেলসিয়াস।
- এর সহনশীল তাপমাত্রার পরিসর ১৯–৪০° সেলসিয়াস।
- বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য ন্যূনতম ১০° সেলসিয়াস, ফুল ফোটার জন্য ২২–২৩° সেলসিয়াস এবং দানা গঠনের জন্য ২০–২১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- ধানের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাতাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২২° সেলসিয়াস উপযুক্ত।
- অত্যধিক তাপমাত্রা বা প্রবল বাতাসে ধানের পাতা পোড়া বা ঝলসানো রোগ দেখা দিতে পারে।
- আবার খুব কম তাপমাত্রা স্পাইকলেট তৈরি, বীজ অঙ্কুরোদগম, কুশি বৃদ্ধি, চারা গজানো ও গাছের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। 
- রোপণের পর মাটির তাপমাত্রা ১৬° সেলসিয়াসের ওপরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

উৎস:
১. বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেনি।

৩,১৬৫.
খরার ফলে কী ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়?
  1. শিলা বৃষ্টি হয়
  2. মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
  3. বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়
  4. জমির মধ্যে পানি জমে যায়
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
ব্যাখ্যা
⇒ খরা এর ফলে মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়।

অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৬.
ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় কী ব্যবহৃত হয়?
  1. হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. ফেঞ্চুগঞ্জের প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. রশিদপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বিয়ানীবাজারের প্রাকৃতিক গ্যাস
সঠিক উত্তর:
হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, বাণিজ্যিক, শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানির প্রধান উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানা ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় সিলেটের হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- সিলেটের চা বাগানগুলো রশিদপুরের প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৭.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় ও প্লাইস্টোসিনকালের সোপান ব্যতীত বাংলাদেশের বাকি অংশ কী রূপ?
  1. উপকূলীয় ভূমি
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. পার্বত্য অঞ্চল
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্লাবন সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৬৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. উদ্ধার
  2. পুনর্বাসন
  3. পুনর্গঠন
  4. প্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তুতি
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ প্রস্তুতি।

• পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness): 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।
- দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতির পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ঘরবাড়ি চিহ্নিতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় সাধনের রূপরেখা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাট ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা, আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখা অন্যতম।

অন্যদিকে,
• উদ্ধার (Response) :

- এটি দুর্যোগ সংঘটনের পর প্রথম সাড়া প্রদানের ধাপ।
- জীবন রক্ষা, খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরবরাহ করা এখানে অন্তর্ভুক্ত।
- প্রস্তুতির আগে এটি সম্ভব নয়।

• পুনর্বাসন (Recovery):
- এটি দুর্যোগের পর ধ্বংস হওয়া সম্পদ ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ধাপ।
- ঘরবাড়ি, রাস্তা মেরামত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এখানে অন্তর্ভুক্ত।

• পুনর্গঠন / উন্নয়ন (Development):
- এটি দুর্যোগ পরবর্তী ধাপ, যা পুনর্বাসনের পর বাস্তবায়িত হয়।
- ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।



• দুর্যোগ:

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ।
২। দুর্যোগ প্রশমন।
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন। এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।
১. পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness):
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ
করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে। দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতির পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠি চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ঘরবাড়ি চিহ্নিতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় সাধনের রূপরেখা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করা, রাস্তাঘাট ও যানবাহন প্রস্তুত রাখা, আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত রাখা অন্যতম।

২. প্রতিরোধ (Prevention):
প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে রাখার
জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যেমন- বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্প থেকে রক্ষার জন্য বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ, নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথ সোজা করে নদীভাঙন কমানো ইত্যাদি। এভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধ অর্থাৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা ব্যয়বহুল হলেও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অবকাঠামোগত প্রতিরোধের চেয়ে অঅবকাঠামোগত প্রতিরোধ যেমন প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি খুব অল্প খরচে এবং সহজেই করা যায়।

৩. প্রশমন (Mitigation):
দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে। দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।
১. সাড়া প্রদান (Response):
 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে সাড়াপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর নিজের এবং অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে সাড়া প্রদান বলে। সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি। উপযুক্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার লোকজন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়া প্রদান প্রয়োজন হয়।

২. পুনরুদ্ধার (Recovery):
দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

৩. উন্নয়ন (Development):
দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে দুইটি কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমত, ধ্বংস স্তুপ ও আবর্জনা অপসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দ্বিতীয়ত, মানব সেবা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, উন্নয়নের সাথে পরিবেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করার সময় পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এতে পরিবেশ ও উন্নয়ন উভয়ই টেকসই হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া যেতে পারে। এ লক্ষ্যে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৯.
ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে বলা হয় -
  1. Isobar line
  2. Isotherm line
  3. Isohyet line
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Isobar line
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Isobar line
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭০.
বাংলাদেশের কোন নদীকে ‘চর উৎপাদী’ নদী বলা হয়?
  1. মেঘনা
  2. যমুনা
  3. পদ্মা
  4. তিস্তা
সঠিক উত্তর:
যমুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমুনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নদীখাতের ধরান অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ:
- নদীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ, ঋতুভেদে পানি সরবরাহের হ্রাসবৃদ্ধি, ভূমিরূপ, মাটির গঠন ও বুনন এবং ভূমির ঢালের তারতম্যের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশসহ বাংলাদেশে প্রধানত তিন প্রকার নদী ব্যবস্থা গড়ে উঠে, যেমন- ক) সরল নদীখাত, খ) সর্পিল নদীখাত এবং গ) বিনুনি নদীখাত। 

ক) সরল নদী:
- যে সব নদ-নদী প্রবাহ পথে কোন বাধা বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই মোটামুটি সোজাপথে প্রবাহিত হয় তাদেরকে সরল নদী বলা হয়।
- কঠিন শিলায় গঠিত অঞ্চল ভূ অভ্যন্তরে ভৌত পানি প্রবাহ এবং নদীতীর বাঁধা দিয়ে নদী খাত সরল করা হয়। যেমন- তিস্তা।

খ) সর্পিল নদীখাত:
- সমভূমি বিশেষ করে পলি গঠিত সমভূমি অঞ্চলে বাক বহুল নদী দৃষ্টিগোচর হয়।
- এ সব নদীর প্রবাহ পথ বেশ গভীর, আঁকাবাঁকা প্রবাহপথ, পুনঃপুন খাতের দিক পরিবর্তন, বাঁকে ভাঙন ক্রিয়া বিপরীতে চর গঠন এবং প্রবাহ পথ এক খাতে প্রবাহিত হয়। যেমন- পদ্মা।

গ) বিনুনি নদীখাত/চর উৎপাদী নদী: 
- যে সকল নদী একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয় তাদেরকে বিনুনী বা চর উৎপাদী নদী বলা হয়।
- বিনুনি সদৃশ বলে একে বিনুনি এবং প্রবাহ পথে চর উৎপাদিত হয় বলে চর উৎপাদী নদী বলা হয়।
- নদীতে শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত সঞ্চয়জাত পললের কারণে চর পড়ে মূল স্রোত ধারাকে দ্বিধা বা বহুধা খাতে বিভক্ত করে প্রবাহিত হয়।
- এসব নদীর প্রশস্ততা বেশি, গভীরতা কম, প্রবাহ পথে চর গঠন এবং পরিশেষে একাধিক খাতে প্রবাহিত হয়ে থাকে। যেমন- যমুনা নদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭১.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাবটি পড়ে?
  1. লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭২.
পৃথিবীর বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল কোনটি?
  1. সুন্দরবন
  2. কঙ্গোবন
  3. আমাজান
  4. সাভানা
সঠিক উত্তর:
আমাজান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাজান
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান। 
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত। 
=========
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৩,১৭৩.
সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে বলা হয় -
  1. ক) মালভূমি
  2. খ) সমভূমি
  3. গ) পাহাড়
  4. ঘ) পর্বত
সঠিক উত্তর:
খ) সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমভূমি
ব্যাখ্যা
সমভূমি
- সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়।
- তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
- সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
- সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয় ।
- সমগ্ৰ পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত। ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের দিক দিয়ে সমভূমিগুলো যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৪.
ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমানে কোন নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) করতােয়া
  4. ঘ) তিতাস
সঠিক উত্তর:
ক) যমুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যমুনা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের ফলে ভূত্বকের মধ্যে অসংখ্য ভাজ, ফাটল বা ধসের সৃষ্টি হয়। নদীর গতিপথ পাল্টে যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৭৮৭ সালে আসামে যে ব্যাপক ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্ৰহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উঁচু হয়ে যায়। ফলে নদটি তার গতিপথ পাল্টে বর্তমানে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। (রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া)
৩,১৭৫.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি
  2. সেন্টমার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. ভোলা
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থান - আখাইনঠং।
→ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
→ সর্ব দক্ষিণের স্থান - ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
→ সর্ব পশ্চিমের স্থান - মনাকষা।

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭৬.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে?
  1. কুতুবদিয়া
  2. ভোলা
  3. সোনাদিয়া
  4. নিঝুমদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
কুতুবদিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ:
• চুনাপাথর (Limestone): বাংলাদেশ চুনাপাথরে সমৃদ্ধ। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড, কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, নবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট ও জামালগঞ্জ, সিলেট জেলার জাফলং, জকিগঞ্জ, ভাঙ্গারহাট ও চরগাঁ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ঢাকেরঘাট, লালঘাট ও বাগলিবাজার চুনাপাথর পাওয়া যায়। রং ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড, সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, কাগজ, সাবান এবং ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি তৈরিতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়।

• সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু: সিলিকা বালু বা কাঁচ বালু প্রধানত কাচ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রং, অগ্নিচুল্লির ইস্টক এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে সিলিকা বালু ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের যে সকল জেলায় সিলিকা বালু পাওয়া যায় সেগুলো হলো-
- কুমিল্লা: বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বাতাসিয়া গ্রামে সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন।
- শেরপুর: শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের নিকটবর্তী বালিজুরিতে সিলিকা বালু পাওয়া যায়। এখানে সঞ্চিত সিলিকা বালুর পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ টন।
- হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের শাহজীবাজার ও নয়াপাড়ায় সিলিকা বালুর সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানে সঞ্চিত বালুর পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ টন। এই বালিতে সিলিকার পরিমাণ প্রায় ৯৭.৯৯-৯৮.৬২% বলে কাঁচ শিল্পে এই অঞ্চলের বালু ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার কুলাইড়া ও সুনামগঞ্জ জেলার টাকেরঘাট অঞ্চলে প্রচুর সিলিকাবালু পাওয়া যায়।
দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানায় কয়লার উপরিভাগে কাঁচবালু পাওয়া গেছে।

• চীনামাটি (China Clay) বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় চীনামটি পাওয়া গেছে। চুনামাটি প্রধানত কাগজ, বাসনপত্র, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর ও স্যানিটারি জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কঠিন শিলা বা পাথর (Hard Rock or Stone): বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কঠিন শিলা পাওয়া যায়। কঠিন শিলা রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ ও নদীর বাঁধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• নুড়ি পাথর (Gravel): বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া এবং সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ ও পিয়ানগঞ্জে নুড়ি পাথর পাওয়া যায়। নুড়িপাথর রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, রেলপথে ও গৃহনির্মাণে
ব্যবহৃত হয়।

• ইউরেনিয়াম আকরিক বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায়। এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। ইউরেনিয়াম আকরিক প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

• গন্ধক (Sulphur) বাংলাদেশে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া গেছে। সালফিউরিক এসিড, বারুদ ও কীটনাশক তৈরিতে গন্ধক ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৭৭.
আয়তনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ -
  1. ক) ভানুয়াতু
  2. খ) মালদ্বীপ
  3. গ) মোনাকো
  4. ঘ) ভ্যাটিকান সিটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্যাটিকান সিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্যাটিকান সিটি
ব্যাখ্যা
• আয়তন ও জনসংখ্যা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ হলো ভ্যাটিকান সিটি
- দেশটি ইতালির রাজধানী রোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত যার আয়তন ০.৪৯ বর্গ কিলোমিটার।
- ভ্যাটিকান সিটি জাতিসংঘের সদস্য নয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট
৩,১৭৮.
দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষা করতে আদালত সম্প্রতি কোন নদীটিকে জীবন্ত সত্তা’ ঘােষণা করে রায় দিয়েছে?
  1. ক) বুড়িগঙ্গা
  2. খ) তুরাগ
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) মেঘনা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) তুরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুরাগ
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি বাংলাদেশের তুরাগ নদীকে আদালত কর্তৃক জীবন্ত-সত্তা (Legal Person) ঘোষণা করা হয়েছে। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৩,১৭৯.
নিচের কোনটি সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. আলফা সেন্টারাই 'এন'
  3. আলফা সেন্টারাই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রক্সিমা সেন্টারাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রক্সিমা সেন্টারাই
ব্যাখ্যা
প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩,১৮০.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  2. দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  3. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮১.
এশিয়া ও ইউরোপকে বিভক্তকারী পর্বতমালা -
  1. পিরিনিজ
  2. ইউরাল
  3. কারাকোরাম
  4. অ্যাটলাস
সঠিক উত্তর:
ইউরাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরাল
ব্যাখ্যা
পর্বতমালা:
• এশিয়া ও ইউরোপের মাঝে ইউরাল পর্বত অবস্থিত।
- রাশিয়ায় অবস্থিত ইউরাল পর্বত এশিয়া ও ইউরোপকে পৃথক করেছে।
- ইউরাল পর্বত দ্বারা রাশিয়া ইউরোপীয় ও এশীয় অংশে বিভক্ত।
- ইউরাল পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইহাজার কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৩,১৮২.
বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কোনটি?
  1. বরাক
  2. হালদা
  3. ফেনী
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী কর্ণফুলী।
- এর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড়ে।
- ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব কাছ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী হচ্ছে কাপ্তাই, হালদা, কাসালাং ও রাঙখিয়াং।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত।
- পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অধিক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১৮৩.
‘মুজিব কিল্লা’ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) যোগাযোগ ব্যবস্থা
  2. খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
  3. গ) দর্শনীয় স্থান
  4. ঘ) প্রত্নতত্ত্ব সংরক্ষক সংস্থা
সঠিক উত্তর:
খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা

- উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে জানমাল রক্ষার্থে বেশ কিছু মাটির কিল্লা নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে কিল্লাগুলো নির্মিত হয়। সে সময় এগুলো ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিতি পায়। পরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিল্লাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু কিছু কিল্লা ও তার আশপাশের জমি বেদখল ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

- সম্প্রতি এসব কিল্লার সংস্কার ও উন্নয়ন শুরু করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত হয়েছে দুটি মাটির কিল্লা। এ দুটিসহ মোট পাঁচটি কিল্লা ২৩ মে ২০২১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

উৎস: ddm.gov.com ও দৈনিক প্রথম আলো।
৩,১৮৪.
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে কোন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. কুষ্টিয়া
  2. কুড়িগ্রাম 
  3. লালমনিরহাট
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম 
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:

- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এটি প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্রনদ কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- দেওয়ানগঞ্জের কাছে নদটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়েছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- ভৈরববাজারের দক্ষিণে এটি মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- বংশী ও শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি। 

৩,১৮৫.
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানের মধ্যে কোন উপাদানের প্রাধান্য বেশি?
  1. অক্সিজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. সিলিকন
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

অশ্মমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ কি.মি. গভীর পর্যন্ত কঠিন স্তরটিকে অশ্মমন্ডল বলা হয়।
- অশ্মমন্ডলের সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তর অর্থাৎ যে স্তরটির উপর আমরা বসবাস করি, তাকে ভূ-ত্বক বলা হয়।
- ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব ২০ কিলোমিটার, মহাদেশীয় ভূ-ত্বক গড়ে ৩৫ কি.মি. এবং মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক গড়ে মাত্র ৫ কি.মি. পুরু।
- মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AL) হওয়ায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) বলা হয়।
- অপরদিকে, মহাসাগরীয় ভূ-ত্বকের প্রধান গাঠনিক উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Ma) হওয়ায় এই স্তরকে সিমা স্তর (Sima) নামে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮৬.
বঙ্গভঙ্গ হয় কখন?
  1. ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ বা বঙ্গ-বিভক্তি  করেন ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন।
ঐ সময় সমগ্র বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বঙ্গ প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- উপমহাদেশের এক তৃতীয়াংশ লোকের বসবাস ছিল এ অঞ্চলে। কার্জন এত বড় এলাকাকে একটি মাত্র প্রশাসনিক ইউনিটের অধীনে রাখা যুক্তিযুক্ত মনে করেন নি। রাজধানী কলকাতা থেকে সুদূর পূর্বাঞ্চলের আইন শৃংখলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুচারুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। তাই প্রশাসনিক কারণে ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিকে দু’ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করেন। পূর্ব ও উত্তর বঙ্গকে আসামের সাথে সংযুক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটা নতুন প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকরী হয় ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে। 
- কিন্তু ১৯১১ সালে, প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। 

 তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮৭.
বাংলাদেশের কোন এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়?
  1. দিনাজপুর
  2. বরিশাল
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- তবে পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে।
- ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮৮.
আবহাওয়ায় ৯০% আদ্রতা মানে-
  1. ক) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%
  2. খ) ১০০ ভাগ বাতাসে ৯০ ভাগ জলীয় বাষ্প
  3. গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
  4. ঘ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯০%
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
ব্যাখ্যা
আবহাওয়ার আপেক্ষিক আদ্রতা ৯০% মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,১৮৯.
'দেখার হাওর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. ফরিদপুর
  4. শরীয়তপুর 
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেখার হাওর:
- দেখার হাওর' সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

- সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম হাওর 'দেখার হাওর'।
- দেখার হাওরকে বলা হয় বোরো ভান্ডার।
- সম্প্রতি, দেখার হাওরের ১২৫ একর জমি ভরাট করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।]

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

৩,১৯০.
'মধুপুর ও ভাওয়াল' গড়ের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) রাজশাহী, নওগাঁ এবং রংপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর
  3. গ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা
  4. ঘ) কুমিল্লা, সিলেট ও চট্রগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
• আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়।
• এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ও ধূসর হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলের মাটি হতে সহজেই পৃথক করা যায়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় এর অন্তর্ভুক্ত।
• প্লাইস্টোসিনকালে এসব সোপান বা উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে প্লাইস্টোসিনকালের এসব সোপান বর্ণনা করা হলো:- 

বরেন্দ্রভূমি 
রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। এটি বঙ্গ অববাহিকায় স্নাইস্টোসিনকালের সর্ববৃহৎ উচ্চভূমি। প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমির গড় উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ অঞ্চলের মৃত্তিকা অসমতল। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উচ্চভূমি কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এছাড়া পাট, ভু্ট্টা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। এখানকার মাটি লালচে এবং কংকরময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। তবে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র। এজন্য এটি গজারী বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯১.
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয়-
  1. হ্যারিকেন
  2. সাইক্লোন
  3. টাইফুন
  4. টর্নেডো
সঠিক উত্তর:
হ্যারিকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারিকেন
ব্যাখ্যা
হ্যারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- হ্যারিকেন বড় এবং ঘূর্ণায়মান ঝড়।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বা উচ্চতর বাতাস তৈরি করে।
- এটি স্থলভাগের দ্রুততম প্রাণী অর্থাৎ চিতার চেয়ে দ্রুত।
- হ্যারিকেনের বাতাস ভবন এবং গাছের ক্ষতি করতে পারে।
- উষ্ণ সাগরের জলের উপরে হ্যারিকেন তৈরি হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
- এশিয়া ও জাপানের উপকূলের ঘূর্ণিঝড়কে টাইফুন বলা হয়।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

তথ্যসূত্র - NASA (gov). & redcross.org.
৩,১৯২.
‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভোলায়
  2. খ) বাগেরহাটে
  3. গ) চট্টগ্রামে
  4. ঘ) কক্সবাজারে
সঠিক উত্তর:
খ) বাগেরহাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাগেরহাটে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী। এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
সূত্র : প্রথম আলো।
৩,১৯৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত প্রশমন কোনটি? 
  1. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  2.  প্রশিক্ষণ
  3. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  4. পূর্বপ্রস্তুতি 
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 


প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা-
• বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৯৪.
আমাজন নদী পৃথিবীর কয়টি দেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ৫ টি
  2. ৬ টি
  3. ৪ টি
  4. ৮ টি
  5. ৩ টি
সঠিক উত্তর:
৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ টি
ব্যাখ্যা

• আমাজন নদী:
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী
- এবং দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহিতকারী নদী হিসেবে পরিচিত।
→ আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
- এবং পানির পরিমাণ ও বিস্তৃত নিষ্কাশন ব্যবস্থার দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নদী।
- অবস্থান: দক্ষিণ আমেরিকা ৬টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
-  এগুলো হলো: ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া। 

উল্লেখ্য,
- আমাজন নদী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০,০০০ ঘনমিটার মিঠা পানি আটলান্টিক মহাসাগরে নিঃসরন করে,
- যা বিশ্বজুড়ে সমুদ্রে প্রবেশকারী মিঠা পানির এক-পঞ্চমাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

উৎস: World Atlas.

৩,১৯৫.
উপসাগরের সাধারণত কত দিক স্থল দ্বারা বেষ্টিত? 
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

উপসাগর:
- সাধারণত তিনদিকে স্থল দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে সাগর বা মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত লবণাক্ত জলভাগ হলো উপসাগর।
- উপসাগরের পানি সাধারণত সাগর বা মহাসাগরের তুলনায় শান্ত হয়।
- উপসাগরগুলো আবার অন্য কোন উপসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জেমস উপসাগর হাডসন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত এবং অধিকতর গভীর উপসাগরগুলোকে ইংরেজিতে গালফ (gulf) বলা হয়।
- যেমন- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি উপসাগর (Bay)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৯৬.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) গভীর সমুদ্রে নিম্নতাপমাত্রা
  2. খ) সমুদ্রখাতের উপস্থিতি
  3. গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গভীর সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।
- উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
- বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১৯৭.
কত মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়?
  1. ক) ৪-১৬ মিলিমিটার
  2. খ) ৪-২৫  মিলিমিটার 
  3. গ) ১৬-৫০  মিলিমিটার
  4. ঘ) ৫০-৭০  মিলিমিটার 
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬-৫০  মিলিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬-৫০  মিলিমিটার
ব্যাখ্যা
- ১৬-৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
- সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ দশমিক ২৫ থেকে এক মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে হালকা বৃষ্টিপাত বলে।
- চার থেকে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারী বৃষ্টিপাত।
- ১৬ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং 
- ৫০ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাতকে চরম বৃষ্টি বলা হয়।

উৎস : প্রথম আলো।
৩,১৯৮.
রামু উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
ক) কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
রামু উপজেলা কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।

এছাড়াও -
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান তিনটি পার্বত্য চট্রগ্রামের জেলা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,১৯৯.
নিম্নের কোনটি সত্য নয়?
  1. ইরাবদী ভারতের দীর্ঘতম নদী
  2. গোবি মরুভূমি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত
  3. রাঙ্গামাটির ছাদ বলা হয় সাজেক ভ্যালিকে
  4. থর মরুভূমির অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে
সঠিক উত্তর:
ইরাবদী ভারতের দীর্ঘতম নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাবদী ভারতের দীর্ঘতম নদী
ব্যাখ্যা
• সাজেক ভ্যালি:
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙ্গামাটির ছাদ

• গোবি মরুভূমি:
- গোবি মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- গোবি মরুভূমি দৈর্ঘ্য - ১০০০ মাইল (১৬০০ কিমি) এবং প্রস্থ - ৩০০ থেকে ৬০০ মাইল (৫০০ থেকে ১০০০ কিমি)।
- এই মরুভূমির আয়তন আনুমানিক ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।

⇒ থর মরুভূমির অবস্থান: ভারত ও পাকিস্তান।

⇒ ইরাবদী মিয়ানমারের দীর্ঘতম নদী।
- এন'মাই এবং মালি নদীর সঙ্গম থেকে এই নদী উদ্ভূত।

অন্যদিকে,
- ইরাবতী ভারতের একটি নদী। 
- এটি পাঞ্জাব অঞ্চলের সিন্ধু প্রণালীর ছয়টি নদীর একটি।

উৎস: Britannica.
৩,২০০.
অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি হিসেবে সাধারণত কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. সেক্সট্যান্ট
  2. অ্যাস্ট্রোল্যাব
  3. সোলার ক্লক
  4. স্পিরোস্কোপ
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্সট্যান্ট
ব্যাখ্যা

• অক্ষাংশ (Latitude) ও দ্রাঘিমাংশ (longitude) নির্ণয়ের পদ্ধতি:
অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়:-(উন্নতি কোণ ব্যবহার করে)
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ৯০° – (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি +/- বিষুবলম্ব)]
২। ধ্রুবতারার সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ধ্রুবতারার উন্নতি (নিরক্ষরেখায় ০° ও মেরুতে ৯০°)]

» দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়: (সময়ের পার্থক্য ব্যবহার করে)
১। স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দ্বারা
২। গ্রিনিচের সময় দ্বারা
সূত্র: প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য = ১° দ্রাঘিমার পার্থক্য। সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের পূর্বদিকের দেশগুলো এগিয়ে থাকে এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলো পিছিয়ে থাকে।
[বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে তাই বাংলাদেশে সময় ৬ ঘন্টা এগিয়ে]

তথ্যসূত্র: Live MCQ ক্লাস লেকচার এবং ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।