বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ২০১৩০০ / ৭,১৯১

২০১.
ভূমিকম্প সৃষ্টির কারণ কোনটি?
  1. ক) শিলাচ্যুতি
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) প্লেটসমূহের সঞ্চালন
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো - পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে। আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়। তাছাড়া শিলাচ্যুতি, তাপ বিকিরণ, ভূগর্ভস্থ বাষ্প, হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি কারণেও ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
২০২.
জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের নাম কী?
  1. গ্রেট বেরিয়ার রিফ
  2. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  3. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  4. দিয়াগো গার্সিয়া
সঠিক উত্তর:
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে। 
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা হওয়া শান্তিচুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

উৎস: Britannica.
২০৩.
আমাজন নদী কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে?
  1. আল্পস পর্বতমালা
  2. তিব্বতের মালভূমি
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২০৪.
মেঘনা নদী কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে?
  1. নীলফামারী জেলা
  2. রাজশাহী জেলা
  3. কুড়িগ্রাম জেলা
  4. সিলেট জেলা
সঠিক উত্তর:
সিলেট জেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট জেলা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- শাখানদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২০৫.
বাংলাদেশের লাগা উত্তরে অবস্থিত-
  1. ক) নেপাল ও ভুটান
  2. খ) পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
  3. গ) পশ্চিমবঙ্গ ও কুচবিহার
  4. ঘ) পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম;
- পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা, ও মিজোরাম এবং মায়ানমার;
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই।
২০৬.
বাংলাদেশের কোন পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) হাড়গাছা পাহাড়
  3. গ) ফুরমোন পাহাড়
  4. ঘ) সাকা হাফং পাহাড়
সঠিক উত্তর:
খ) হাড়গাছা পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাড়গাছা পাহাড়
ব্যাখ্যা
- মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়।
- ইউরেনিয়াম আকরিক প্রধানত পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জন্য ইউরেনিয়াম আকরিক কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়
- বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বির্স্তীণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায়।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, ভূগোল দ্বিতীয় পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০৭.
ভারতের কোন সীমান্তবর্তী রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. আসাম
  2. পশ্চিমবঙ্গ
  3. ত্রিপুরা
  4. মেঘালয়
সঠিক উত্তর:
আসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাম
ব্যাখ্যা
- ভারতের মোট পাঁচটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে।
এগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ : ২২৬২ কি.মি.
- ত্রিপুরা : ৮৭৪ কি.মি.
- মেঘালয় : ৪৩৬ কি.মি.
- মিজোরাম : ৩২০ কি.মি.।
- আসাম : ২৬৪ কি.মি.
- ভারতের সাথে মোট সীমান্ত : ৪,১৫৬ কি.মি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং বিজিবি)
২০৮.
কোন সালের বন্যায় দেশের সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়?
  1. ক) ১৯৭৪ সাল
  2. খ) ১৯৮৮ সাল
  3. গ) ১৯৯৮ সাল
  4. ঘ) ২০০৭ সাল
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৮ সাল
ব্যাখ্যা
বন্যা বাংলাদেশের একটি অতিপরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই এদেশে কোথাও না কোথাও বন্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে ১৯৯৮, ১৯৮৮, ২০০৪ এবংং ২০০৭ সালের বন্যা ছিলো ভয়াবহতম।

বেশি এলাকা প্লাবিত বন্যাসমূহ:
¬- ১৯৯৮ সালে : ৬৮ শতাংশ
¬- ১৯৮৮ সালে : ৬১ শতাংশ
¬- ২০০৭ সালে : ৪২ শতাংশ
- ২০১৭ সালে : ৪২ শতাংশ।

¬(তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
২০৯.
বেনাপােল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর কোনটি?
  1. ক) পেট্রাপােল
  2. খ) কৃষ্ণনগর
  3. গ) ডাউকি
  4. ঘ) মােহাদিপুর 
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রাপােল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পেট্রাপােল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোর জেলার বেনাপোল সংলগ্ন ভারতীয় স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
- চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্থলবন্দর।
- সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি স্থলবন্দর।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মোহাদিপুর স্থলবন্দর।
সূত্রঃ পত্রিকার রিপোর্ট
২১০.
ভূগোলকে পৃথিবীর বিজ্ঞান কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক ম্যাকনি
  2. ডাডলি স্ট্যাম্প
  3. কার্ল রিটার
  4. রিচার্ড হার্টশোর্ন
সঠিক উত্তর:
কার্ল রিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল রিটার
ব্যাখ্যা
- 'Geography' শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- বৃটিশ ভূগোলবিদ অধ্যাপক ম্যাকনি (Professor E. A. Macnee) মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর আলোচনা বা বর্ণনাকে বলেছেন ভূগোল। তাঁর মতে, ভৌত ও সামাজিক পরিবেশে মানুষের কর্মকান্ড ও জীবনধারা নিয়ে যে বিষয় আলোচনা করে তাই ভূগোল।
- বৃটিশ ভূগোলবিদ ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professor L. Dudley Stamp) মতে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
- জার্মান ভূগোলবিদ কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২১১.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? 
  1. ভবনধ্বস
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বায়ু দূষণ
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা

’ঘূর্ণিঝড়’ মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।

• ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।

⇒ মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী  ইত্যাদি।

⇒ কারিগরি আপদ:
- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

২১২.
'সলোমান দ্বীপপুঞ্জ' নিম্নের কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. ক) মেলানেশিয়ার
  2. খ) মাইক্রোনেশিয়া
  3. গ) পলিনেশিয়া
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) মেলানেশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেলানেশিয়ার
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জকে ভৌগোলিকভাবে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
      - মাইক্রোনেশিয়া
      - মেলানেশিয়া
      - পলিনেশিয়া

মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু
- পালাউ
- কিরিবাতি
- মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
- মাইক্রোনেশিয়া।

মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
- ফিজি
- ভানুয়াতু
- পাপুয়া নিউগিনি।

পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু
- সামোয়া।

(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস, ব্রিটানিকা )
২১৩.
সুয়েজখাল কোন দুটি মহাদেশকে বিভক্ত করেছে?
  1. এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
  2. আমেরিকা ও আফ্রিকা
  3. ইউরোপ ও আমেরিকা
  4. এশিয়া ও আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
এশিয়া ও আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এশিয়া ও আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
সুয়েজ খাল: 
- সুয়েজ খালের অবস্থান সিনাই উপদ্বীপ, মিশর। 
- সুয়েজ খাল খনন শুরু হয় ১৮৫৯ সালে। 
- সুয়েজ খাল আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়েছে ১৮৬৯ সালে। 
- সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য ১৯৩ কি.মি। 
- সুয়েজ খাল মিশর জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে। 
- সুয়েজ খাল সংযুক্ত করেছে - ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে। 
- সুয়েজ খাল পৃথক করেছে - এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২১৪.
বাংলাদেশে উন্নতমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে—
  1. ক) জামালগঞ্জে
  2. খ) জকিগঞ্জে
  3. গ) রানীগঞ্জে
  4. ঘ) টেকেরহাটে
সঠিক উত্তর:
ক) জামালগঞ্জে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জামালগঞ্জে
ব্যাখ্যা
- দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি গভীরতার কয়লাখনি জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে অবস্থিত। 
- এক কিলোমিটার গভীরতায় এই খনির অবস্থান।
- এখানে কয়লার মজুত প্রায় ১০০ কোটি মেট্রিক টন।
 
উৎস : প্রথম আলো 
২১৫.
নিচের কোনটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা নয়?
  1. সুন্দরবন
  2. হাকালুকি হাওড়
  3. আঁড়িয়াল বিল
  4. টাঙ্গুয়ার হাওর
সঠিক উত্তর:
আঁড়িয়াল বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁড়িয়াল বিল
ব্যাখ্যা
প্রতিবেশগত  সংকটাপন্ন এলাকা:
- প্রবেশ সংরক্ষণ আইন- ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে সরকার কিছু এলাকাকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেন।
- এ পর্যন্ত সরকার ১৩ টি এলাকাকে  ECA  এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। 
- টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাঁওড়, গুলশান-বারিধারা লেক , সুন্দরবন সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলবর্তী এলাকা, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, জাফলং - ডাউকি নদী, বালু নদী। 
- আঁড়িয়াল বিল প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা নয়।

উল্লেখ্য, 
আঁড়িয়াল বিল:
- আড়িয়াল বিল পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত ও মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি অবভূমি।
- এটি দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিল।
- এর আয়তন ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার।
- আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ এলাকাই শুষ্ক ঋতুতে আর্দ্র থাকে এবং বিলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি সঞ্চিত থাকে।
- এখানে শীতকালে নানা ধরনের সবজির চাষ করা হয়, এ বিলের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া।

উৎস: পরিবেশ আধিদপ্তর।
২১৬.
কোন মৌসুমে গমের চাষ ভালো হয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. শীতকাল
  3. বর্ষাকাল
  4. বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
শীতকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকাল
ব্যাখ্যা
গম চাষ: 
- গম চাষের জন্য শীতকাল বা রবি মৌসুম সবচেয়ে উপযুক্ত।
- এ সময়ে তাপমাত্রা ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড থাকার কারণে গমের বৃদ্ধি ও বিকাশ ভালো হয়।
- শীতকালে পর্যাপ্ত শুষ্ক এবং রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ দানার গুণগত মান উন্নত করে।
- তাপমাত্রা ৩০-৩৫° সেন্টিগ্রেড ছাড়ালে গমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ সীমিত থাকলেও গম খরা সহিষ্ণু। তাই, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতকালে গমের চাষ সবচেয়ে লাভজনক।

উল্লেখ্য: 
দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়।
- বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পোর্টাল।
২১৭.
ইউরোপ মহাদেশকে এশিয়া থেকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. ডোভার প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. সুন্দা প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বসফরাস প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসফরাস প্রণালী
ব্যাখ্যা

বসফরাস প্রণালী:
- এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি অংশের সীমানা নির্দেশ করে বসফরাস প্রণালী।
- এটি তুরস্কের ইস্তানবুল শহরকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটিকে তাই ইস্তাম্বুল প্রণালীও বলা হয়।
- এই প্রণালীটি বিশ্বের নৌ চলাচলের ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- বসফরাস প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

অন্যদিকে,
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ডোভার প্রণালী গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।
- সুন্দা প্রণালী ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রা দ্বীপকে পৃথক করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২১৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যার প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) রংপুর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) নেত্রকোনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো:
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
কোন দেশটি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত নয়?
  1. ভানুয়াতু
  2. কেনিয়া
  3. সামোয়া
  4. টুভ্যালু
সঠিক উত্তর:
কেনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেনিয়া
ব্যাখ্যা
• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া হল একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের উপ-অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে।
- ওশেনিয়ায় মোট ১৪টি দেশ রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম এবং জনবহুল দেশ।

• ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, নিউজিল্যান্ড, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবাতি, টোঙ্গা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, টুভ্যালু, নাউরু।

তথসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২২০.
অবস্থান অনুসারে 'চলনবিল' সাম্প্রতিককালের কোন প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত?
  1. ব-দ্বীপ
  2. সিলেট অববাহিকা
  3. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

⇒ দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা:
ক) কুমিল্লার বা ত্রিপুরার সমভূমি,
খ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি,
গ) সিলেট অববাহিকা,
ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি,
ঙ) ব-দ্বীপ। 

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি:
- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত।
- এই অঞ্চলেও বেশ কিছু বিল ও হাওড় আছে।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' এই এলাকাতে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার সময় পানিতে প্লাবিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ? 
  1. অতিরিক্ত বৃষ্টি
  2. নদী ভাঙন 
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- বন্যা বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে- জলাশয়, নদী বা খালের পানি উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী স্থলভূমি প্লাবিত হওয়াকে বোঝায়। 
- বন্যা সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট- উভয় ধরনের কারণই দায়ী।
- প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,
• ভৌগোলিক অবস্থান,
• মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
• নদীর গভীরতা ক্রমশ কমে যাওয়া,
• হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ,
•বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা এবং
• ভূমিকম্পের প্রভাব।

অন্যদিকে,
•মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষনিধন,
• গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ,
• অন্যান্য নদীর উপর নির্মিত বাঁধসমূহের প্রভাব এবং
অপরিকল্পিত নগরায়ণ। 
- এসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বন্যা সৃষ্টি হয়ে মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা। 

২২২.
বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত কোথায় হয়?
  1. শ্রীমঙ্গল
  2. লালাখাল
  3. লালপুর
  4. নানিয়ারচর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত:
- সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: নাটোর জেলার লালপুর।
- সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত: সিলেট জেলার লালাখাল।
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বৃষ্টিপাতের তারতম্য: দেশের পূর্বাঞ্চলে বেশি এবং পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হয়।
- বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ গ্রীষ্মকালে হয়, আর শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান:
- উষ্ণতম স্থান: নাটোর জেলার লালপুর।
- শীতলতম স্থান: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল।
- উষ্ণতম মাস: এপ্রিল।
- শীতলতম মাস: জানুয়ারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি) এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২২৩.
মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বৃষ্টিহীনতা
  2. খ) উন্মুক্ত প্রান্তর
  3. গ) অত্যধিক তাপমাত্রা
  4. ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকার গঠন বা বুনট সূর্যতাপ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
প্রস্তর বা বালুকাময় মৃত্তিকার তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। এজন্য তা দ্রুত উত্তপ্ত এবং দ্রুত শীতল হয়। তাই মরুভূমিতে দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
২২৪.
নিম্নের কোনটি কারিগরি আপদ?
  1. অগ্নিকান্ড
  2. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  3. ভবনধ্বস
  4. শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
সঠিক উত্তর:
শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
২২৫.
কোন অঞ্চলে সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. ভূমধ্যস্থলীয় অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়

• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে  মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।

উৎস: ভগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২২৬.
নাফ নদীর দৈর্ঘ্য-
  1. ক) ৫৪ কিমি
  2. খ) ৫৫ কিমি
  3. গ) ৬২ কিমি
  4. ঘ) ৬৫ কিমি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬২ কিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬২ কিমি
ব্যাখ্যা
- নাফ দেশের সর্বদক্ষিণে মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্তরেখা বরাবর প্রবাহিত ৬২ কিমি দীর্ঘ একটি নদী।
- নাফ মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় পর্বত শ্রেণী থেকে উৎসারিত হয়ে কক্সবাজার জেলাধীন উখিয়া উপজেলার পালংখালির কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।  -অতঃপর দক্ষিণদিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থ বিশিষ্ট এ নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

উল্লেখ্য, নবম - দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই অনুসারে, নাফ নদীর দৈর্ঘ্য - ৫৬ কি.মি।
যেহেতু অপশনে ৫৬ নেই, তাই বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, ৬২ কি.মি কে সঠিক উত্তর ধরা হয়েছে।
২২৭.
ভোলার আদি নাম ছিল-
  1. ইন্দ্রকপুর
  2. বাকলা
  3. গগেুায়ানাল্যান্ড
  4. শাহবাজপুর
সঠিক উত্তর:
শাহবাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহবাজপুর
ব্যাখ্যা
ভোলা:
- বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা।
- ভোলা একদা বৃহত্তর বরিশাল জেলার একটি মহকুমা ছিল। 
- ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলার মর্যাদা পায়।
-  ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। 
- ১৫১৭ সালে জন ডি সিলবেরা নামক জনৈক পর্তুগীজ জলদস্যু দ্বীপটি দখল করে।
- ভোলায় রয়েছে,  চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজাম সহ অসংখ্য চর।

উৎস: ভোলা জেলা ওয়েব সাইট।
২২৮.
Which is the smallest district in Rajshahi Division?
  1. Chapainowabgonj
  2. Naogaon
  3. Joypurhat
  4. Natore
সঠিক উত্তর:
Joypurhat
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Joypurhat
ব্যাখ্যা
জয়পুরহাট জেলা:

- রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে ছোট জেলা জয়পুরহাট।
- এর আয়তন ৯৬৫.৪৪ বর্গ কিলোমিটার।
- ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত জয়পুরহাট জেলা বগুড়া জেলার একমাত্র মহকুমা ছিল।
- ১৯৮৪ সালে মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়।
- জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে পাঁচবিবি সর্ববৃহৎ ও জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা ক্ষেতলাল।
- মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে জয়পুরহাট ৭ নং সেক্টরের অধীন ছিল।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
২২৯.
বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভক্তকারী নদী কোনটি?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) হাড়িয়াভাঙ্গা
  3. গ) নাফ
  4. ঘ) হালদা
সঠিক উত্তর:
খ) হাড়িয়াভাঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাড়িয়াভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
হাড়িয়াভাঙ্গা:

- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাতক্ষীরা জেলায় সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে হাড়িয়াভাঙ্গা নদী প্রবাহিত।
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকারী একটি নদী। 
- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- কক্সবাজার জেলার নাফ নদী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত।
- হালদা নদী পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৩০.
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বনায়ন কর্মসূচি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কার্যক্রমের অংশ?
  1. পরিকল্পনা
  2. প্রশমন
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বনায়ন কর্মসূচি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রশমন কার্যক্রমের অংশ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:

- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

⇒ সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- :দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
বাংলাদেশের প্রথম EPZ কোথায় গড়ে উঠেছে?
  1. ক) নারায়ণগঞ্জ
  2. খ) খুলনা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) সাভার
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম EPZ চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। বাংলাদেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের মধ্যে প্রথম ও প্রধান এই ইপিজেডটি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংসদে পাশ হওয়া আইনবলে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

২৩২.
নিচের কোনটির দ্বারা ‍ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. বায়ুপ্রবাহ
  3. অগ্ন্যূৎপাত
  4. সুনামি
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। যে সমস্ত কার্যাবলির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ‍ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূ-প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ধীর ও আকস্মিক দুভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে।

ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন যেসব শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়, সেগুলো হলো:
- সূর্যতাপ
- বায়ুপ্রবাহ
- বৃষ্টিপাত
- নদী
- হিমবাহ প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন সাধারণত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি কারণে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সাধিত হয়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩৩.
কক্সবাজারের জলবায়ু কীরূপ জলবায়ু?
  1. ক) মৃদুভাবাপন্ন
  2. খ) চরমভাবাপন্ন
  3. গ) অনিয়তভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
ক) মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন :
- কক্সবাজারের জলবায়ুকে বলা হয় মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু।
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন ।
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয় ৷
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয় ৷
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies) সম্পর্কিত নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
  2. আর্দ্র ও শুষ্ক বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
  3. সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কালবৈশাখী ঝড় হতে দেখা যায়।
  4. বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
ব্যাখ্যা
 কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মূলত আর্দ্র ও শুষ্ক বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে এইরূপ কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)
-  নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।
- মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে মাসের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় তীব্র রূপ ধারণ করে।
- যখন কোনো স্থানে সূর্য খাড়াভাবে কিরণ দেয় তখন ঐ স্থানের বায়ুর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাপ পেয়ে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়।
- এত বায়ুচাপ কমে যায়। তাই কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায় অর্থাৎ নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

সূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২৩৫.
নিচের কোন দেশটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. পানামা
  2. মালয়েশিয়া
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
নিচের কোনটি পদ্মার উপনদী?
  1. ক) তিস্তা
  2. খ) ব্রহ্মপুত্র
  3. গ) মহানন্দা
  4. ঘ) শীতলক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) মহানন্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহানন্দা
ব্যাখ্যা
কোন নদীতে অপর কোন নদী পতিত হলে পতিত নদীকে উপনদী বলা হয়।
- পদ্মা নদীর উপনদী - মহানন্দা ও পুনর্ভবা।
- মহানন্দা নদীটি  হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং এর নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বত হতে মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
- আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব - ইত্যাদি পদ্মার শাখা নদী।

উল্লেখ্য,
- মহানন্দার উপনদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।
- ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ধরলা ও তিস্তা। আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- মেঘনার উল্লেখযোগ্য উপনদী হলো মনু, বাউলাই, তিতাস, গোমতী এবং শাখানদী জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া।
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো করতোয়া ও আত্রাই। এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরবিশে এসএসসি পোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
২৩৭.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত (NDMC) কমিটির প্রধান -
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব
  3. গ) ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
  4. ঘ) জেলা প্রশাসক
সঠিক উত্তর:
ক) প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)।
- এটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৩৮.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
মকরক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
• মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।

• নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৯.
পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি-
  1. ক) আন্দিজ
  2. খ) রকি
  3. গ) হিমালয়
  4. ঘ) আল্পস
সঠিক উত্তর:
গ) হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিমালয়
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি হিমালয় পর্বত। এটি এশিয়ার চীন, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তানে অবস্থিত।
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত শ্রেণি আন্দিজ পর্বত। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- রকি পর্বত শ্রেণি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- আল্পস পর্বত শ্রেণি ইউরোপের অস্ট্রিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২৪০.
ভূগোলের কোন শাখায় বায়ুর গঠন, বায়ুপ্রবাহ, আবহাওয়া ও জলবায়ু ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়?
  1. Geographic Information System
  2. Bio-Geography
  3. Geomorphology
  4. Climatology
সঠিক উত্তর:
Climatology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Climatology
ব্যাখ্যা
ভূগোলের শাখা: 
- ভূগোলের প্রধান দুইটি শাখা রয়েছে। 
• প্রাকৃতিক ভূগোল ও মানব ভূগোল।

i) প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। 
- প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ - 

১। ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): 
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে। 

২। জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): 
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। 

৩। সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): 
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র। এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। 

৪। মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): 
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে। 

৫। জীব ভূগোল (Bio-Geography): 
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে। 

৬। গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): 
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
‘হিমশৈল’ কী?
  1. পর্বতের চূড়ায় জমাট বাঁধা বরফ
  2. অ্যান্টার্কটিকায় জমাট বাঁধা বরফ
  3. সমুদ্রস্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফখণ্ড
  4. মেরু অঞ্চলে জমে থাকা স্থায়ী বরফের স্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোতে ভেসে আসা বিশাল বরফখণ্ড
ব্যাখ্যা

হিমশৈল:
- হিমশৈলকে ইংরেজিতে 'Iceberg' বলা হয়। Iceberg শব্দটি পর্তুগিজ শব্দ ‘ijsberg’ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ হল বরফের পর্বত।
- সমুদ্রের স্রোত ও তরঙ্গের আঘাতে মহাদেশীয় হিমবাহ থেকে বিশাল বরফের স্তুপ আলাদা হয়ে সমুদ্র জলে ভাসতে থাকে।
- সমুদ্র জলে ভাসমান এই পাহাড়ের মতো বিশাল আকৃতির বরফের স্তুপকে হিমশৈল বলে।
- শীতল সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে যেসব হিমশৈল (Iceberg) ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।
- যেমন- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে প্রথম যাত্রাতেই হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪২.
বাংলাদেশে জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী সম্প্রতি কোন জেলায় লোহার খনি পাওয়া গেছে?
  1. ফরিদপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম লোহার খনি:
- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান মিলেছে।
- উপজেলার ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) এ খনির সন্ধান পেয়েছে।
- জিএসবি জানিয়েছে, খনিটিতে উন্নত মানের লোহার আকরিক (ম্যাগনেটাইট) রয়েছে।
- লোহার পাশাপাশি খনিটিতে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান জিএসবি কর্মকর্তারা।
- ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়া গেছে।
- খনিটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার।
- খনিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ রয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম লোহার খনি।

উৎস: ১৮ জুন ২০১৯, প্রথম আলো।
২৪৩.
সেন্টমার্টিন দ্বীপ এর অপর নাম কি?
  1. ক) সোনাদিয়া
  2. খ) নিঝুমদ্বীপ
  3. গ) কুতুবদিয়া
  4. ঘ) নারিকেল জিঞ্জিরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারিকেল জিঞ্জিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারিকেল জিঞ্জিরা
ব্যাখ্যা

• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান। 

টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 

 কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, 
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।

- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার। 

দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট,  কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।

২৪৪.
নীল নদের উৎপত্তিস্থল নিচের কোনটি?
  1. আলবার্ট হ্রদ
  2. বৈকাল হ্রদ
  3. লেক ভিক্টোরিয়া
  4. ব্লেড লেক
সঠিক উত্তর:
লেক ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেক ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য: ৬৬৫০ কি.মি।
- উৎপত্তিস্থল: লেক ভিক্টোরিয়া।
- পতিত হয়: ভূ-মধ্যসাগর।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত:
• সাদা নীল এবং
• নীল নীল।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com

২৪৫.
আমাদের দেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
  1. কামতা গ্যাসক্ষেত্র
  2. সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র
  3. রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র
  4. সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র। 
- এটি ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়।

• গ্যাসক্ষেত্র:

- প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। 
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি।
- সর্বশেষ ভোলার ইলিশা -১ দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।

২৪৬.
ভারতের কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন সীমান্ত নেই?
  1. অরুণাচল
  2. মেঘালয়
  3. পশ্চিমবঙ্গ
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
অরুণাচল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরুণাচল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
⇒ পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয়, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- আর দক্ষিণে রয়েছে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- ভূ-রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাতটি রাজ্য - নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশকে সেভেন সিস্টার বলা হয়।
- সেভেন সিস্টারের ৩ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নাই। এগুলা হলো নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচল প্রদেশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, দশম শ্রেণি- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
'ক্লিউচেভস্কায়া' আগ্নেয়গিরি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. জাপান
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ইতালি
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা

• ক্লিউচেভস্কায়া আগ্নেয়গিরি:
- রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কামচাটকা উপদ্বীপে অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ।
- এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির মধ্যে একটি, যা ১৫,৫৮৪ ফুট (৪,৭৫০ মিটার) উচ্চতায় উত্থিত। 
-  আগ্নেয়গিরিটি একটি কেন্দ্রীয় গর্ত সহ একটি ছেঁটে ফেলা শঙ্কু নিয়ে গঠিত,
- এটির নীচের ঢালে প্রায় ৭০টি পার্শ্বীয় গর্ত এবং শঙ্কু রয়েছে।
- ১৭০০ সাল থেকে ৫০ বারেরও বেশি সময় ধরে অগ্ন্যুৎপাত হওয়া এই আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য হল এর চূড়ার উপরে ক্রমাগত ধোঁয়া উড়ছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২৪৮.
বিশ্বের সর্বাধিক সীমান্ত বেষ্টিত দেশ কোনটি?
  1. রাশিয়া
  2. ভারত
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• সীমান্ত বিষ্টিত দেশ:
- সবচেয়ে বেশি সীমান্ত বেষ্টিত দেশ - রাশিয়া ও চীন (১৪ টি করে)। তবে চীন অপশনে না থাকায় সঠিক উত্তর হচ্ছে রাশিয়া।

• রাশিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
 - আজারবাইজান, বেলারুশ, চীন, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, জর্জিয়া, কাজাখস্তান, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, ইউক্রেন।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২৪৯.
১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে কোন নদীর সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. সুরমা
  3. যমুনা
  4. ইছামতি
সঠিক উত্তর:
যমুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমুনা
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna): 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৫০.
নিচের কোনটি স্থানীয় বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. উপত্যকা বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. পশ্চিমা বায়ু
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপত্যকা বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

​নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

​সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

​স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

​অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫১.
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা

এক্সোমন্ডল : 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এক্সোমন্ডল স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫২.
আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. অক্ষাংশ
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক নয়- জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

∗ সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক:
- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- ভূমির ব্যবহার যেমন: কৃষি ও বনভূমি স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করে।
- বন উজাড় হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, আর বন ও জলাভূমি কার্বন শোষণ করে পরিবেশকে তুলনামূলক শীতল রাখে।
- শহুরে এলাকায় ভবন, রাস্তা ও কংক্রিট কাঠামো তাপ ধরে রাখে।
- এর ফলে শহরে তাপমাত্রা বেশি থাকে—যাকে নগর তাপ দ্বীপ প্রভাব বলা হয়।
- পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্রিনহাউস গ্যাস স্থানীয় বায়ুর গুণমান ও তাপমাত্রা বাড়ায়।
- নদী, জলাভূমি ও জলাধারের মতো প্রাকৃতিক জলসম্পদ বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা আঞ্চলিক জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- এছাড়া সাধারণ ভৌগোলিক নিয়ামকও গুরুত্বপূর্ণ-
• অক্ষাংশ সূর্যের তাপ প্রাপ্তির তারতম্য ঘটায়।
• উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে যায়।
• আর সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় জলবায়ু সাধারণত মৃদু হয়।
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: 
১. ভূগোল ১ম পত্র,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৩.
বাংলাদেশের কোন সরকারি সংস্থা সমুদ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবার পূর্বাভাস প্রচার করে?
  1. সিপিপি
  2. রেড ক্রিসেন্ট
  3. আবহাওয়া বিভাগ
  4. পানি উন্নয়ন বোর্ড
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

• উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন: অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৪.
কোন অঞ্চলগুলো পূর্বববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) বিহার, রাজশাহী, কলকাতা
  2. খ) ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য ত্রিপুরা
  3. গ) আসাম, উড়িষ্যা, চট্টগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা, পার্বত্য ত্রিপুরা, কলকাতা
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য ত্রিপুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয়।
- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জলপাইগুড়ি, মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা ও আসাম নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়।
- এর রাজধানী ছিলো ঢাকা।
- অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ।
- যার রাজধানী ছিলো কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতার কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৫৫.
নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান এবং শক্তিশালী ঝড়-বৃষ্টির জন্য পরিচিত বায়ু কোনটি?
  1. অয়ন বায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3.  ঘূর্ণিবাত
  4. মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ঘূর্ণিবাত
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিবাত :
- ঘূর্ণিবাত হল স্থানীয় বায়ুর একটি প্রকারভেদ।
- ঘূর্ণিবাত হলো নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি শক্তিশালী বায়ু;
- যা শীতল বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- বাতাস কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর উপরের দিকে উঠে যায়।
- উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিবাত ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং
- দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।
- শীতল ও ঘন বায়ু উষ্ণ ও হালকা বায়ুর দিকে প্রবাহিত হলে নিম্নচাপ তৈরি হয়;
- যা এই ঘূর্ণায়মান বায়ুকে আরও শক্তিশালী করে এবং তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির কারণ হয়।

উৎস :
Britannica.
ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৬.
নিচের কোন রেখা উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথক করেছে?
  1. ১৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
  2. ৪৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
  3. ৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
  4. ২৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
সঠিক উত্তর:
৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
৩৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষ রেখা:
- উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে পৃথককারী রেখা।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৪৫ সালে পটস্‌ডাম কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কুশীলবরা এটিকে সামরিক সীমা হিসেবে বেছে নেয়।
- এর এক পাশে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যপাশে সোভিয়েত বাহিনী অবস্থান নেয়।
- পরে ১৯৫০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাতের পর এর অস্ত্র বিরতি অনুযায়ী এটিকে দুই কোরিয়ার সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- এই লাইনের দুই কিলোমিটার এলাকাকে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়।
- এটি ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
এছাড়া,
- ১৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষ রেখা সাবেক উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামকে পৃথককারী রেখা।
- ২৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষ রেখা হলো পাকিস্তানের দাবিকৃত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত রেখা।
- ৪৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে পৃথক করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২৫৭.
বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি কোনটি?
  1. হাইল
  2. চলনবিল
  3. হাকালুকি হাওর
  4. টাঙ্গুয়ার হাওর
সঠিক উত্তর:
হাকালুকি হাওর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাকালুকি হাওর
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওড়:
- হাকালুকি হাওড় মূলত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। 
- ভারতের আসাম সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি জলাভূমি হল হাকালুকি হাওড়। 
- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

২৫৮.
বাংলাদেশের কোথায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
আশির দশকে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হলেও তা এখনো উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
(সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক)
২৫৯.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কোথায় অবস্থিত?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. পারস্য সাগর
  3. দক্ষিণ চীন সাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা

• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে। 
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- এর প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৬০.
স্ট্রাটোমন্ডলের উচ্চতা কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত?
  1. ৫০ কিলোমিটার
  2. ৭০ কিলোমিটার
  3. ৯০ কিলোমিটার
  4. ১০০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৫০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬১.
সিরিয়া-ইসরাইল সীমান্ত রেখার নাম কী? 
  1. পার্পল লাইন
  2. গ্রিন লাইন
  3. ব্লু লাইন
  4. সিগফ্রিড লাইন 
সঠিক উত্তর:
পার্পল লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্পল লাইন
ব্যাখ্যা

• গোলান মালভূমি:
- গোলান হলো সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১০০০ বর্গমাইল) আয়তনের এক পাথুরে মালভূমি।
- এর উত্তরে লেবানন এবং দক্ষিণে জর্ডান অবস্থিত।
- গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার একটি অংশ ছিল।
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।
- ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের (যা ইয়োম কাপুর নামেও পরিচিত) সিরিয়া গোলানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
- ১৯৭৪ সালে দুই দেশই অস্ত্রবিরতিতে সই করে।
- ১৯৮১ সালে ইসরায়েলি সরকার ঘোষণা করে যে গোলান মালভূমি এলাকাটি ইসরায়েলের একটি অংশ।

⇒ এই এলাকায় ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বে কখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি।
- তবে মার্কিন নীতি ভঙ্গ করে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দখলদারিত্বে স্বীকৃতি দেন।

অন্যদিকে -
- সিগফ্রিড লাইন ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে নিরুপিত সীমারেখা।
- ব্লু লাইন ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যকার সীমারেখা।
- গ্রিন লাইন ইসরাইল ও তার পার্শ্ববর্তী দেশ (মিশর, জর্ডান, লেবানন এবং সিরিয়া) এর মধ্যে অবস্থিত সীমারেখা। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৬২.
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি?
  1. হোনশু
  2. গ্রিনল্যান্ড
  3. আইসল্যান্ড
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
গ্রিনল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড: 
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
- অবস্থান: আর্কটিক মহাসাগরের পশ্চিম অংশ, উত্তর আমেরিকার কাছে।
- আয়তন: প্রায় ২,১৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- রাজনৈতিক স্বীকৃতি: ডেনমার্ক শাসিত অঞ্চল।
- জলবায়ু: প্রায় পুরো দ্বীপ বরফে আবৃত; মেরু-উত্তরাঞ্চলীয় জলবায়ু।
- প্রধান মানব বসতি: দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল বরাবর।
- বিশেষত্ব: পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৬৩.
ঢাকা সিটিতে বৃষ্টিপাতের পরে প্রায়ই জলাবদ্ধতা বন্যায় রূপ নেয়। এটি কোন ধনের বন্যা?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood) 
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বা বৃষ্টিজনিত বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা। 

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
বাংলাদেশের কোন সমুদ্র সৈকতকে ‘সাগরকন্যা’ বলা হয়?
  1. কক্সবাজার
  2. পতেঙ্গা
  3. কুয়াকাটা
  4. সেন্টমার্টিন
সঠিক উত্তর:
কুয়াকাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:

- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে  সাগর কন্যা বলা হয়। 
- অবস্থান: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে কুয়াকাটা অবস্থিত। 
- ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় ৩ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের এটাই একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই ভাল দেখা যায়। 
- কুয়াকাটা সৈকতের পাশেই বিশাল নারকেল বাগান এবং গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে।
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া ।
২৬৫.
পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে কী বলে?
  1. সমভূমি
  2. মালভূমি
  3. হৃদ
  4. উপত্যকা
সঠিক উত্তর:
মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালভূমি
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
- মালভূমি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং সমতল বা কিছুটা ঢালু একটি বিস্তৃত ভূখণ্ড
- এটি চারপাশের এলাকা থেকে অনেকটা উঁচুতে অবস্থিত,
- কিন্তু তার উপরের পৃষ্ঠ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমতল বা ঢালু হয়।

অপরদিকে,
- উপত্যকা হল পাহাড় বা পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত একটি দীর্ঘায়িত নিম্নভূমি অঞ্চল।
- যা সাধারণত একটি নদী বা স্রোত ধারণ করে।
- হ্রদ হল একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট, অপেক্ষাকৃত বড় জলের অংশ যা শুষ্ক ভূমি দ্বারা বেষ্টিত একটি অববাহিকায় স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২৬৬.
পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সমান হয় -
  1. ২১ জুন
  2. ২১ মার্চ
  3. ২২ জুন
  4. ২২ জুলাই
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
ব্যাখ্যা
দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৭.
বন অধিদপ্তর অনুযায়ী, কোনটি বাংলাদেশের রক্ষিত এলাকা?
  1. ভাউয়াল জাতীয় উদ্যান
  2. চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য
  3. বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
রক্ষিত এলাকা:
- দেশে বর্তমানে রক্ষিত এলাকার সংখ্যা (Terrestrial & Marine) ৫৩টি এবং পরিমাণ ৮,১৭,৯৭১.৬১৩ হেক্টর।
- এর মধ্যে Terrestrial রক্ষিত এলাকার পরিমাণ ৪,৬৯,৮৭১.৬১৩ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ৩.১৮ শতাংশ।

⇒ বন অধিদপ্তরের রক্ষিত এলাকার তালিকা:
- ভাউয়াল জাতীয় উদ্যান, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, রামসাগর জাতীয় উদ্যান, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান, মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান, কাদিগর জাতীয় উদ্যান, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, সিংড়া জাতীয় উদ্যান, আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান, বিরগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সোনারচর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ঢাংমারী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দুধমুখি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, নগরবাড়ী-মোহনগঞ্জ ডলফিন অভয়ারণ্য, শিলন্দা-নাগডেমরা ডলফিন অভয়ারণ্য, নাজিরগঞ্জ ডলফিন অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (পূর্ব) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (পশ্চিম) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সুন্দরবন (দক্ষিণ) বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া, চরমুগুরিয়া ইকোপার্ক, রাতারগুল বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা, আলতাদীঘি জলাশয় বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, মিরপুর,টিলাগড় ইকোপার্ক ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, শেখ জামাল ইনানী জাতীয় উদ্যান, পানখালী বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, শিবসা বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, ভদ্রা বন্যপ্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য, পদ্মা সেতু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ধর্মপুর জাতীয় উদ্যান, সেন্টমার্টিন মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া, বাইশারী ব্যাংডেপা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, মধুটিলা ইকোপার্ক।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২৬৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০ο দ্রাঘিমাংশের ছেদবিন্দু অবস্থিত?
  1. মাদারীপুর
  2. শরীয়তপুর 
  3. রাজবাড়ী
  4. ফরিদপুর 
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর 
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
-- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

২৬৯.
বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের মধ্যে নিচের কোনটির উপস্থিতি সর্বোচ্চ?
  1. অক্সিজেন
  2. আরগন
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয়বাষ্প
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।
- এর গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
- বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় এটাও উল্লেখ করেন যে এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- বায়ুমন্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত। সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
- বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে।
- তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়।

• বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ,
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ,
- আরগন: ০.৮০ শতাংশ,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১ শতাংশ,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড ০.০৩ শতাংশ,
- অন্যান্য গ্যাস ০..০২ শতাংশ,
- ধূলিকণা ও কণিকা ০.০১ শতাংশ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭০.
সমুদ্র বায়ু কখন প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) শেষরাতে
  2. খ) মধ্যাহ্নে
  3. গ) অপরাহ্ণে
  4. ঘ) সবসময়
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
ব্যাখ্যা
• দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
•  এ বায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে।
• বিকালে (অপরাহ্ণে) এ বায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়। 
• রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭১.
নিচের কোন দেশটিতে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিদ্যমান?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. সিঙ্গাপুর
  3. মালয়েশিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরণের বনভূমি? 
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
  2. ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্র পতনশীল জাতীয়
  3. পত্র পতনশীল জাতীয়
  4. ম্যানগ্রোভ জাতীয়
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ , আধা-চিরহরিৎ জাতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনভূমি:
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

⇔ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ জাতীয় বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৩.
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা কোনটি?
  1. SANDEE
  2. UNOCC
  3. IPCC
  4. IUCN
সঠিক উত্তর:
IPCC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IPCC
ব্যাখ্যা
• IPCC:
→ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা - IPCC.
→ এর পূর্ণরুপ - The Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC).
→ WMO এবং UNEP এর সমন্বয়ে IPCC গঠিত হয়।
→ প্রতিষ্ঠা লাভ করে - ১৯৮৮ সালে।
→ সদর দপ্তর - জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
→ সদস্য সংখ্যা - ১৯৫ টি।
→ নোবেল পুরস্কার লাভ করে - ২০০৭ সালে।

তথ্যসূত্র: IPCC ওয়েবসাইট।
২৭৪.
কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলে?
  1. এপিসেন্টার
  2. ফোকাস
  3. ফ্রাকচার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।

ভূমিকম্প:
- ভূমিকম্প হলো ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে অনুভূত একটি প্রাকৃতিক কম্পন।
- যখন ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে ভৌগোলিক চাপের ফলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা স্থানচ্যুত হয়, তখন কম্পন সৃষ্টি হয়, এটি ভূ-পৃষ্ঠেও অনুভূত হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- এই কেন্দ্রবিন্দু থেকে ঠিক সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি পড়ে, তাকে বলা হয় উপকেন্দ্র (Epicentre)।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু সাধারণত ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬ থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত থাকে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিন্দু থেকে দূরত্ব যত বাড়ে, ততই কম্পনের তীব্রতা বা শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের মাত্রা ও শক্তি নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ (Seismograph) বলা হয়।  

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৫.
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ কত সালে প্রকাশ হয়?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০১ সালে
ব্যাখ্যা
ভ্লাদিমির কোপেনের জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ:
- প্রতি মাসের এবং বছরের গড় আবহাওয়া এবং শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও শুষ্কতার মাত্রার উপর ভিত্তি করে ভ্লাদিমির কোপেন ১৯০১ সালে প্রথম পৃথিবীর জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগ প্রকাশ করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে এই শ্রেণিবিভাগ প্রকাশিত হয়।
- প্রাকৃতিক উদ্ভিদকে সামগ্রিক জলবায়ুর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধরে এই শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- গড় মাসিক তাপমাত্রা ও প্রধান উদ্ভিজ্জ অঞ্চলকে মূল্যায়ন করে কোপেন জলবায়ু অঞ্চলকে ৫ ভাগে ভাগ করে ইংরেজি বর্ণমালার A থেকে E পর্যন্ত নাম দেন।

তথ্যসূত্র: (পৃষ্ঠা নং ১৪৯) ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা কয়টি?
  1. ১৩টি
  2. ১৭টি
  3. ১৯টি
  4. ২৩টি
সঠিক উত্তর:
১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯টি
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় জেলা:
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিমি.।
- উপকূলীয় জেলা ১৯টি।
- জেলাগুলো হলো: কক্সবাজার, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝালকাঠি, খুলনা, লক্ষীপুর, নড়াইল, নোয়াখালী, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী।

উল্লেখ্য,
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৭৭.
'পলল সমভূমি' হিসাবে পরিচিত কোন জেলা?
  1. ঢাকা
  2. কক্সবাজার
  3. দিনাজপুর 
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর 
ব্যাখ্যা

• পাদদেশীয় পলল সমভূমি :
- অনেক সময় পাহাড়িয়া নদী দ্বারা পলি সঞ্চিত হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নতুন সমভূমি গড়ে ওঠে।
- এরূপ সমভূমিকে পাহাড়ের পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলা হয়।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পলল সমভূমি নামে পরিচিত। 
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালয় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে। 
- ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে। 
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৮.
বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. ক) রানীগঞ্জে
  2. খ) বিজয়পুরে
  3. গ) টেকেরহাটে
  4. ঘ) বাগালীবাজারে
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয়পুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয়পুরে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূ-পৃষ্ঠে অথবা অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠে (subsurface) চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৭৯.
‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেঘনার মােহনায়
  2. খ) পদ্মা এবং যমুনার সংযােগস্থলে
  3. গ) টেকনাফের দক্ষিণে
  4. ঘ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরবনের দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু দ্বীপ: 
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- এ দ্বীপের বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটারের মতো।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উঁচু দ্বীপটি । 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
২৮০.
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ কোনটি?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  2. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
ব্যাখ্যা

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উৎস:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮১.
IFRC এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. ক) অষ্টম
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) নবম
  4. ঘ) সপ্তম
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নিয়মে প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের পরিবর্তন হয়। কিন্তু যখন আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের স্থায়ী পরিবর্তন হয়, তখন তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে।
• বিশ্বের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
• আইএফআরসি এর বৈশ্বিক দুর্যোগ রিপোর্ট, ২০১৮ অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৩টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম
• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যেমন- 
১। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হার ও মাত্রা বৃদ্ধি পাছে।
২। আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাত দেখা যাচ্ছে।
৩। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরা দেখা যাচ্ছে।
৪। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

তথ্যসূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন বা দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলে সর্বপ্রথম কোন হারিকেনটি আঘাত হানে?
  1. আইভান
  2. রিটা
  3. ডায়না
  4. ক্যাটরিনা
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
ব্যাখ্যা
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

⇒ হারিকেন ক্যাটরিনা ছিল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০০৫ সালের আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে।
- হারিকেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ১৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে স্থান পায়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
২৮৩.
ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখানদী কোনগুলো?
  1. ধরলা ও তিস্তা
  2. বংশী ও শীতলক্ষ্যা
  3. গড়াই ও ভৈরব
  4. তিতাস ও গোমতী
সঠিক উত্তর:
বংশী ও শীতলক্ষ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বংশী ও শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা

ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

উল্লেখ্য,
ক) ধরলা ও তিস্তা- ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
গ) গড়াই ও ভৈরব- পদ্মা নদীর শাখানদী।
ঘ) তিতাস ও গোমতী- মেঘনা নদীর উপনদী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৪.
'চর মানিক' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. ফেনী
  4. রাজশাহী 
সঠিক উত্তর:
ভোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোলা
ব্যাখ্যা

চর:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে যে জেগে উঠা নতুন ভূখণ্ড, তাকে চর বলা হয়।
- চর সাধারণত নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয় এবং নতুন কৃষি, বসতি ও পরিবেশগত অঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

• ভোলা জেলায় অবস্থিত চর:
- চর ফ্যাশন।
- চর মানিক।
- চর কুকড়ি মুকড়ি।

• নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত চর:
- ভাসান চর।
- সুবর্ণ চর।

উল্লেখ্য, 
- ফেনী জেলায় অবস্থিত চর: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলায় অবস্থিত চর: নির্মল চর।
- সুন্দরবনে অবস্থিত চর: দুবলার চর ও পাটনি চর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৮৫.
নিচের কোন পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত?
  1. আল্পস পর্বতমালা
  2. রকি পর্বতমালা
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. আলাস্কা রেঞ্জ
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা
• আন্দিজ পর্বতমালা:
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী আন্দিজ পর্বতমালা।
- আন্দিজ পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আন্দিজ পর্বতমালা আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং ভেনেজুয়েলা মোট সাতটি দেশ জুড়ে অবস্থিত।
- আন্দিজ দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রায় ৪,৩০০ মাইল পর্যন্ত প্রসারিত।
- পৃথিবীর ভূত্বকের নীচে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলি একত্রিত হয়ে আন্দিজ সৃষ্টি হয়।
- আন্দিজ পর্বতমালা পূর্ব থেকে পশ্চিমে ১২০ থেকে ৪৩০ মাইল প্রশস্ত।
- উত্তর আন্দিজ, মধ্য আন্দিজ এবং দক্ষিণ আন্দিজ হল আন্দিজ পর্বতমালার তিনটি বিভাগ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
২৮৬.
সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন কত?
  1. ৮ বর্গ কিলোমিটার
  2. ১১ বর্গ কিলোমিটার
  3. ১৩ বর্গ কিলোমিটার
  4. ১৮ বর্গ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৮ বর্গ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
সেন্টমার্টিন দ্বীপ:
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত।
- এটি একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- জনসংখ্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন।
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।

⇒ সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। 

উল্লেখ্য,
- কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার। 
- প্রথম আলো রিপোর্ট অনুয়ায়ী, সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।

⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৮৭.
এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী নিচের কোনটি?
  1. হোয়াং হো
  2. ইয়াংসিকিয়াং
  3. মেকং
  4. লেনা
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াংসিকিয়াং
ব্যাখ্যা

ইয়াংসিকিয়াং:
- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২৮৮.
গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম কোথায় নির্মিত হয়েছে?
  1. নীল নদ
  2. কঙ্গো নদী
  3. মিসিসিপি নদী
  4. আমাজন নদী
সঠিক উত্তর:
নীল নদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল নদ
ব্যাখ্যা
গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম:
- নীল নদে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করেছে ইথিওপিয়া
- বাঁধটি প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত। উচ্চতা ৪৭৫ ফুট।
- ইথিওপিয়া এই বাঁধের নাম দিয়েছে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম বা সংক্ষেপে জিইআরডি।
- নীল নদের ওপর ২০১১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- এই বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার।
- একে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- আগামী সেপ্টেম্বরে বাঁধটি উদ্বোধন করা হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
২৮৯.
 মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীমঙ্গল উপজেলায়
  2. বড়লখো উপজেলায়
  3. কমলগঞ্জ উপজেলায়
  4. রাজনগর উপজেলায়
সঠিক উত্তর:
বড়লখো উপজেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়লখো উপজেলায়
ব্যাখ্যা

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত: 
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য নয়নাভিরাম।
- প্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ান।

২৯০.
বাংলাদেশের মোট ভূমির কত ভাগ নিয়ে টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল নিয়ে গঠিত?
  1. ১১%
  2. ৮%
  3. ১২%
  4. ৯%
সঠিক উত্তর:
১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২%
ব্যাখ্যা
• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল, প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,এবং প্লাবন সমভূমি ।
- ভূপ্রকৃতির বিস্তারিত ব্যাখ্যায় সমগ্র দেশটিকে ২৪টি উপ-অঞ্চল এবং ৫৪টি একক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 
- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল -  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% ভাগ নিয়ে টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ- রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাজার,ও চট্টগ্রাম, জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত।
- উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৯১.
কাকে ভূগোলের জনক বলা হয়?
  1. এরাটোস্থেনিস
  2. থ্যালিস
  3. হার্বাট স্পেন্সর
  4. ফ্রেডরিক র‍্যাটজেল
সঠিক উত্তর:
এরাটোস্থেনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরাটোস্থেনিস
ব্যাখ্যা
এরাটোস্থেনিস:
- এরাটোস্থেনিস ছিলেন একজন গণিতবিদ, ভূতত্ত্ববিদ, জ্যোতির্বিদ এবং একাধারে একজন সফল কবি।
- এরাটোস্থেনিস সেই ব্যক্তি, যিনি পৃথিবীকে গোলাকার কল্পনা করে এর আকার পরিমাপের চেষ্টা করেছিলেন।
- তিনি পৃথিবীর বিষুব রেখার সাথে এর ঘূর্ণন অক্ষের ঢাল, মোটামুটি সঠিকভাবে নির্ণয় করেছিলেন।
- তিনি প্রথম অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ সহ মানচিত্র এঁকেছিলেন।
- গ্রীক শব্দ ‘জিও’ অর্থ পৃথিবী এবং ‘গ্রাফি’ অর্থ ‘শাস্ত্র’ থেকে তিনি ‘জিওগ্রাফি’ শব্দের প্রচলন করেন, যা আজও বিজ্ঞানের একটি অনন্য শাখার নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- তাই তাকেই বলা হয় ভূগোলের জনক।

অন্যদিকে,
- সামাজিক বিবর্তনবাদের জনক: হার্বাট স্পেন্সর।
- বিজ্ঞানের জনক: থ্যালিস।
- মানব ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেডরিক র‍্যাটজেল।

উৎস: Britannica.
২৯২.
ফরায়েজী আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল-
  1. ক) যশোর
  2. খ) খুলনা
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
গ) ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। - - - - - ফরায়েজী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
২৯৩.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি কোনটি?
  1. NDMAC
  2. NDMC
  3. CDMP
  4. DDMC
সঠিক উত্তর:
NDMC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NDMC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)। এটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

অন্যদিকে,
NDMAC হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি।
CDMP হলো সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি
DDMC হলো জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

(তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫)
২৯৪.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নদী ভাঙন
  2. তুষারপাত
  3. পারমাণবিক বিস্ফোরণ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিস্ফোরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত
- নদীভাঙন
- তুষারপাত
- ঘূর্ণিঝড়
- খরা
- জলোচ্ছ্বাস
- বন্যা
- লবণাক্ততা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ
- মরুকরণ
- অগ্নিকাণ্ড
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
- বনউজারকরণ ইত্যাদি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
২৯৫.
বাংলাদেশে শীতকালে কোন দিক থেকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. ক) দক্ষিণ - পূর্ব
  2. খ) উত্তর - পূর্ব
  3. গ) দক্ষিণ - পশ্চিম
  4. ঘ) উত্তর - পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর - পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর - পূর্ব
ব্যাখ্যা
শীতকাল:
- বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (কার্তিক-ফাল্গুন) মাস পর্যন্ত শীতকাল ধরা হয়।
- এ ঋতুতে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- জানুয়ারি শীতলতম মাস।
- এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- দেশের বিভিন্ন স্থানে তখন ঘন কুয়াশা দেখা যায়।
- শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
ভূ-ত্বক গঠন করে -
  1. ক) শিলা
  2. খ) খনিজ
  3. গ) খনিজ ও শিলা
  4. ঘ) পাথর
সঠিক উত্তর:
গ) খনিজ ও শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খনিজ ও শিলা
ব্যাখ্যা
ভূ-ত্বকের গঠন
• পৃথিবীর উপরিভাগের শক্ত আবরণ ভূ-ত্বক বিভিন্ন ধরনের খনিজ শিলা দ্বারা গঠিত।
• ভূ-ত্বক অশ্মমন্ডলেরই উপরিভাগ যার মধ্যে অক্সিজেন ও সিলিকনের পরিমাণ বেশি।
• আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মোট ১০৫টি মৌলিক উপাদানের মধ্যে ২০টি উপাদান ভূ-ত্বকের প্রায় শতকরা ৯৯.৫ অংশ দখল করে আছে। ভূ • ত্বকের গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। তবে এর গড় গভীরতা ২০ কিলোমিটার।
• গ্রানাইট স্তরের গড় গভীরতা ৮ কিলোমিটার। ভূ-ত্বক গঠনকারী শিলারাশির ঘনত্ব ২.৭৫ থেকে ৩.০ পর্যন্ত।
• ভূ-ত্বক বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগেই পৃথিবীর বাহ্যিক দিকগুলো দেখা যায়। যেমন - সমভূমি, মালভূমি, পাহাড়, পর্বত, নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
নিচের কোনটি মৌসুমি বায়ুর ক্ষেত্রে সত্য? 
  1. সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়
  2. প্রতিদিন দিক পরিবর্তন করে
  3. ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
  4. কেবল সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় 
সঠিক উত্তর:
ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা

- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে মৌসুমি বায়ু। 

মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind):
- আরবি ভাষায় 'মওসুম' শব্দের অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে। সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এর ফলে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, মধ্য এশিয়া প্রভৃতি স্থানের স্থলভাগ অতিশয় উত্তপ্ত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এ বায়ুকে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু বলে।
- নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। - এজন্য গ্রীষ্মের এ বায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী।

২৯৮.
’বরেন্দ্রভূমি’ বাংলাদেশের কোন ভূ-প্রকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. টারশিয়ারি যুগের পাহাড় অঞ্চল
  2. প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
  3. প্লাবন সমভূমি
  4. পাদদেশীয় সমভূমি
সঠিক উত্তর:
প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি:
- বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশে সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে।
- ভূপ্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল, প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,এবং প্লাবন সমভূমি ।

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত। পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়।
এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও
(খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি:
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৯৯.
বাংলাদেশের 'পাহাড়ের রানি' নামে পরিচিত পাহাড় কোনটি?
  1. তাজিনডং পাহাড়
  2. লালমাই পাহাড়
  3. চিম্বুক পাহাড়
  4. সীতাকুণ্ড পাহাড়
সঠিক উত্তর:
চিম্বুক পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিম্বুক পাহাড়
ব্যাখ্যা
চিম্বুক পাহাড়:
- চিম্বুক পাহাড় বাংলাদেশের পাহাড়ি সৌন্দর্যের মধ্যে 'পাহাড়ের রানি' হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড়।
- বান্দরবান জেলা শহর থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়।
- এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট।
- চিম্বুক পাহাড়কে বাংলার দার্জিলিং হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর মনোরম দৃশ্য এবং ঠান্ডা আবহাওয়া।
- এই পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করতে পারে।

এছাড়াও,
- চিম্বুক পাহাড়কে বাংলাদেশের 'পাহাড়ের রানি' নামে পরিচিতি পেয়েছে।
- এটি কালাপাহাড় নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র:- বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩০০.
নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. ভূমিকম্প
  4. অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- অর্থাৎ ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন।
- ভূমিকম্প একটি এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
- ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের শক্তি,
- যা শিলাস্তরগুলির মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে এবং একসময় এই চাপ মুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এসবের জন্য কিছু পূর্ব সতর্কতার ব্যবস্থা থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।