উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩ / ৭২ · ২০১–৩০০ / ৭,১৯১
’ঘূর্ণিঝড়’ মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।
• ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।
উল্লেখ্য,
⇒ প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।
⇒ মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ইত্যাদি।
⇒ কারিগরি আপদ:
- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
বসফরাস প্রণালী:
- এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি অংশের সীমানা নির্দেশ করে বসফরাস প্রণালী।
- এটি তুরস্কের ইস্তানবুল শহরকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটিকে তাই ইস্তাম্বুল প্রণালীও বলা হয়।
- এই প্রণালীটি বিশ্বের নৌ চলাচলের ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- বসফরাস প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।
অন্যদিকে,
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ডোভার প্রণালী গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপকে ফ্রান্স থেকে পৃথক করেছে।
- সুন্দা প্রণালী ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রা দ্বীপকে পৃথক করেছে।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• বন্যা:
- বন্যা বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে- জলাশয়, নদী বা খালের পানি উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী স্থলভূমি প্লাবিত হওয়াকে বোঝায়।
- বন্যা সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট- উভয় ধরনের কারণই দায়ী।
- প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,
• ভৌগোলিক অবস্থান,
• মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
• নদীর গভীরতা ক্রমশ কমে যাওয়া,
• হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ,
•বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা এবং
• ভূমিকম্পের প্রভাব।
অন্যদিকে,
•মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষনিধন,
• গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ,
• অন্যান্য নদীর উপর নির্মিত বাঁধসমূহের প্রভাব এবং
• অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
- এসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বন্যা সৃষ্টি হয়ে মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়
• নিরক্ষীয় অঞ্চল:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে।
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমন্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
- নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমন্ডল বেশ শীতল থাকে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।
উৎস: ভগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
বাংলাদেশের প্রথম EPZ চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। বাংলাদেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের মধ্যে প্রথম ও প্রধান এই ইপিজেডটি ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংসদে পাশ হওয়া আইনবলে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
- পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শ্রেণি হিমালয় পর্বত। এটি এশিয়ার চীন, নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তানে অবস্থিত।
- পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত শ্রেণি আন্দিজ পর্বত। এটি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
- রকি পর্বত শ্রেণি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- আল্পস পর্বত শ্রেণি ইউরোপের অস্ট্রিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
হিমশৈল:
- হিমশৈলকে ইংরেজিতে 'Iceberg' বলা হয়। Iceberg শব্দটি পর্তুগিজ শব্দ ‘ijsberg’ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, যার অর্থ হল বরফের পর্বত।
- সমুদ্রের স্রোত ও তরঙ্গের আঘাতে মহাদেশীয় হিমবাহ থেকে বিশাল বরফের স্তুপ আলাদা হয়ে সমুদ্র জলে ভাসতে থাকে।
- সমুদ্র জলে ভাসমান এই পাহাড়ের মতো বিশাল আকৃতির বরফের স্তুপকে হিমশৈল বলে।
- শীতল সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে যেসব হিমশৈল (Iceberg) ভেসে আসে সেগুলোর কারণে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।
- যেমন- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে প্রথম যাত্রাতেই হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ:
- সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান।
টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট অনুসারে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ১৭ বর্গ কিলোমিটার।
কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট অনুসারে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা।
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ সম্পর্কে সময় নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার।
দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্টে বলা হয়েছে -
- সরকারি তথ্যে দ্বীপের আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ রয়েছে।
- তবে গবেষণায় বলা হয়েছে ৮ বর্গকিলোমিটার।
⇒ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে,
- সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- পরীক্ষায় যদি ৮ বর্গ কিলোমিটার না থাকে তখন ১৭ বর্গ কিলোমিটার বা ১৩ বর্গ কিলোমিটার উত্তর করবেন, অথবা অপশন বিবেচনায় উত্তর করবেন।
সূত্র: টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট, কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট, সময় নিউজ ও দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট।
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য: ৬৬৫০ কি.মি।
- উৎপত্তিস্থল: লেক ভিক্টোরিয়া।
- পতিত হয়: ভূ-মধ্যসাগর।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত:
• সাদা নীল এবং
• নীল নীল।
তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
- সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র।
- এটি ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়।
• গ্যাসক্ষেত্র:
- প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হলো তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের প্রথম সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯টি।
- সর্বশেষ ভোলার ইলিশা -১ দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
• ক্লিউচেভস্কায়া আগ্নেয়গিরি:
- রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কামচাটকা উপদ্বীপে অবস্থিত একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ।
- এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলির মধ্যে একটি, যা ১৫,৫৮৪ ফুট (৪,৭৫০ মিটার) উচ্চতায় উত্থিত।
- আগ্নেয়গিরিটি একটি কেন্দ্রীয় গর্ত সহ একটি ছেঁটে ফেলা শঙ্কু নিয়ে গঠিত,
- এটির নীচের ঢালে প্রায় ৭০টি পার্শ্বীয় গর্ত এবং শঙ্কু রয়েছে।
- ১৭০০ সাল থেকে ৫০ বারেরও বেশি সময় ধরে অগ্ন্যুৎপাত হওয়া এই আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্য হল এর চূড়ার উপরে ক্রমাগত ধোঁয়া উড়ছে।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।
সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।
স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।
অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
এক্সোমন্ডল :
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এক্সোমন্ডল স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য,
- স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক নয়- জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
∗ সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক:
- আঞ্চলিক জলবায়ু গঠনে সেক্টর-ভিত্তিক নিয়ামক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ভূমির ব্যবহার যেমন: কৃষি ও বনভূমি স্থানীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করে।
- বন উজাড় হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, আর বন ও জলাভূমি কার্বন শোষণ করে পরিবেশকে তুলনামূলক শীতল রাখে।
- শহুরে এলাকায় ভবন, রাস্তা ও কংক্রিট কাঠামো তাপ ধরে রাখে।
- এর ফলে শহরে তাপমাত্রা বেশি থাকে—যাকে নগর তাপ দ্বীপ প্রভাব বলা হয়।
- পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও গ্রিনহাউস গ্যাস স্থানীয় বায়ুর গুণমান ও তাপমাত্রা বাড়ায়।
- নদী, জলাভূমি ও জলাধারের মতো প্রাকৃতিক জলসম্পদ বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা আঞ্চলিক জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- এছাড়া সাধারণ ভৌগোলিক নিয়ামকও গুরুত্বপূর্ণ-
• অক্ষাংশ সূর্যের তাপ প্রাপ্তির তারতম্য ঘটায়।
• উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে যায়।
• আর সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় জলবায়ু সাধারণত মৃদু হয়।
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
উৎস:
১. ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ঘূর্ণিবাত :
- ঘূর্ণিবাত হল স্থানীয় বায়ুর একটি প্রকারভেদ।
- ঘূর্ণিবাত হলো নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি শক্তিশালী বায়ু;
- যা শীতল বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- বাতাস কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর উপরের দিকে উঠে যায়।
- উত্তর গোলার্ধে ঘূর্ণিবাত ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং
- দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।
- শীতল ও ঘন বায়ু উষ্ণ ও হালকা বায়ুর দিকে প্রবাহিত হলে নিম্নচাপ তৈরি হয়;
- যা এই ঘূর্ণায়মান বায়ুকে আরও শক্তিশালী করে এবং তীব্র ঝড় ও বৃষ্টির কারণ হয়।
উৎস :
Britannica.
ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
হাকালুকি হাওড়:
- হাকালুকি হাওড় মূলত মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত।
- ভারতের আসাম সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি জলাভূমি হল হাকালুকি হাওড়।
- এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি।
- হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮১.১৫ বর্গ কিমি।
- হাওরটি ৫টি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত।
- হাওরের ৪০% বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
• সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- এর প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• গোলান মালভূমি:
- গোলান হলো সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১০০০ বর্গমাইল) আয়তনের এক পাথুরে মালভূমি।
- এর উত্তরে লেবানন এবং দক্ষিণে জর্ডান অবস্থিত।
- গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।
উল্লেখ্য,
- গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার একটি অংশ ছিল।
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।
- ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের (যা ইয়োম কাপুর নামেও পরিচিত) সিরিয়া গোলানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
- ১৯৭৪ সালে দুই দেশই অস্ত্রবিরতিতে সই করে।
- ১৯৮১ সালে ইসরায়েলি সরকার ঘোষণা করে যে গোলান মালভূমি এলাকাটি ইসরায়েলের একটি অংশ।
⇒ এই এলাকায় ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বে কখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি।
- তবে মার্কিন নীতি ভঙ্গ করে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দখলদারিত্বে স্বীকৃতি দেন।
অন্যদিকে -
- সিগফ্রিড লাইন ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে নিরুপিত সীমারেখা।
- ব্লু লাইন ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যকার সীমারেখা।
- গ্রিন লাইন ইসরাইল ও তার পার্শ্ববর্তী দেশ (মিশর, জর্ডান, লেবানন এবং সিরিয়া) এর মধ্যে অবস্থিত সীমারেখা।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
- অবস্থান: আর্কটিক মহাসাগরের পশ্চিম অংশ, উত্তর আমেরিকার কাছে।
- আয়তন: প্রায় ২,১৬০,০০০ বর্গ কিমি।
- রাজনৈতিক স্বীকৃতি: ডেনমার্ক শাসিত অঞ্চল।
- জলবায়ু: প্রায় পুরো দ্বীপ বরফে আবৃত; মেরু-উত্তরাঞ্চলীয় জলবায়ু।
- প্রধান মানব বসতি: দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল বরাবর।
- বিশেষত্ব: পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উৎস: ব্রিটানিকা।
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
-- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় কর্কটক্রান্তি রেখা ও ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা পরস্পরকে ছেদ করেছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।
অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।
তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পাদদেশীয় পলল সমভূমি :
- অনেক সময় পাহাড়িয়া নদী দ্বারা পলি সঞ্চিত হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নতুন সমভূমি গড়ে ওঠে।
- এরূপ সমভূমিকে পাহাড়ের পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলা হয়।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পলল সমভূমি নামে পরিচিত।
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালয় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে।
- ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
উল্লেখ্য,
ক) ধরলা ও তিস্তা- ব্রহ্মপুত্রের উপনদী।
গ) গড়াই ও ভৈরব- পদ্মা নদীর শাখানদী।
ঘ) তিতাস ও গোমতী- মেঘনা নদীর উপনদী।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চর:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে যে জেগে উঠা নতুন ভূখণ্ড, তাকে চর বলা হয়।
- চর সাধারণত নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয় এবং নতুন কৃষি, বসতি ও পরিবেশগত অঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
• ভোলা জেলায় অবস্থিত চর:
- চর ফ্যাশন।
- চর মানিক।
- চর কুকড়ি মুকড়ি।
• নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত চর:
- ভাসান চর।
- সুবর্ণ চর।
উল্লেখ্য,
- ফেনী জেলায় অবস্থিত চর: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলায় অবস্থিত চর: নির্মল চর।
- সুন্দরবনে অবস্থিত চর: দুবলার চর ও পাটনি চর।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ইয়াংসিকিয়াং:
- এশিয়া ও চীনের দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং।
- এটি পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য: ৩,৯১৫ মাইল (৬,৩০০ কিমি)।
- এর অববাহিকা, পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মাইল (৩,২০০ কিমি) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬০০ মাইল (১,০০০ কিমি) এরও বেশি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- তিব্বতের মালভূমি এর উৎপত্তিস্থল এবং পতিত হয়েছে পূর্ব চীন সাগরে।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত:
- মৌলভীবাজার জেলার বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত।
- প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য নয়নাভিরাম।
- প্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।
- তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ান।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে মৌসুমি বায়ু।
মৌসুমি বায়ু (Monsoon Wind):
- আরবি ভাষায় 'মওসুম' শব্দের অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে। সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এর ফলে কর্কটক্রান্তি অঞ্চলের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, মধ্য এশিয়া প্রভৃতি স্থানের স্থলভাগ অতিশয় উত্তপ্ত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এ বায়ুকে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু বলে।
- নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। - এজন্য গ্রীষ্মের এ বায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী।