বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ২৭ / ৭২ · ২,৬০১২,৭০০ / ৭,১৯১

২,৬০১.
দেশের কোন বনাঞ্চলকে চিরহরিৎ বন বলা হয়?
  1. সুন্দরবন বনাঞ্চল
  2. গাজীপুর বনাঞ্চল
  3. মধুপুর বনাঞ্চল
  4. পার্বত্য বনাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বনাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য বনাঞ্চল যথা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

অন্যদিকে:
ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০২.
হালদা কোন নদীর উপনদী?
  1. কর্ণফুলী
  2. সাঙ্গু
  3. মাতামুহুরী
  4. ফেনী
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী (Karnaphuli):
- কর্ণফুলী নদী আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান নদী।
- এ নদীর দৈর্ঘ্য ২৭৪ কিলোমিটার।
- কর্ণফুলির প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা ও বোয়ালখালি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- কাপ্তাইয়ে 'কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র' প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৩.
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সোনা মসজিদ স্থলবন্দর চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল যশোর জেলায় অবস্থিত এবং ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,৬০৪.
কোন স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি সৃষ্টি হয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে। ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।

- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫০ সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৫.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ কত হতে হয়?
  1. ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার
  2. ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ঘণ্টায় কমপক্ষে ৭০ কিলোমিটার
  4. ঘণ্টায় কমপক্ষে ৯০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বা তার বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৪ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে প্রবল ঘূর্ণিবায়ু বাইরের থেকে কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। পরে প্রচন্ড শক্তিতে বায়ু আবর্তনের মাধ্যমে উপরের দিকে উঠতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি অন্তত ২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু থাকে।
- মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয় এবং বায়ুপ্রবাহের ভেতরে এবং উপরের দিকে খাড়া হয়ে মেঘপুঞ্জের সৃষ্টি হয়।
- উর্দ্ধস্তরের বায়ু বহির্গামী হবে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৬.
কোনটি নদীর প্রাথমিক অবস্থা?
  1. ঊর্ধ্বগতি
  2. নিম্নগতি
  3. মধ্যগতি
  4. সমগতি
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্বগতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্বগতি
ব্যাখ্যা

নদীর বিভিন্ন গতি বা অবস্থা (Life cycle of a river):
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর গতিপথের আয়তন, গভীরতা, ঢাল, স্রোতের বেগ প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে নদীর গতিপথকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
(ক) ঊর্ধ্বগতি (Youthful Stage/Upper Course)
(খ) মধ্যগতি (Mature Stage/Middle Course)
(গ) নিম্নগতি (Old Stage/Lower Course)

⇒ ঊর্ধ্বগতি:
​- ঊর্ধ্বগতি হলো নদীর প্রাথমিক অবস্থা। পর্বতের যে স্থান থেকে নদীর উৎপত্তি হয়েছে সেখান থেকে সমভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অংশকে নদীর ঊর্ধ্বগতি বলে। ঊর্ধ্বগতিতে নদীর প্রধান কাজ হলো ক্ষয়সাধন। ঊর্ধ্বগতি অবস্থায় নদী স্থলভাগকে ক্ষয় করে এবং তা পরিবহন করে। এ অবস্থায় নদীর প্রধান কাজ ক্ষয় করা হলেও অনেক সময় নদীর ঢাল কমে গেলে হঠাৎ অধিক পরিমাণে পাথরের টুকরা এলে নদী তখন তা বহন করতে না পেরে হালকা সঞ্চয় করে।

​উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,৬০৭.
৪৯তম সমান্তরাল রেখা কোন দুটি দেশের সীমানা হিসেবে পরিচিত? 
  1. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  3. উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
  4. জার্মানি ও পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
ব্যাখ্যা

 ৪৯তম সমান্তরাল রেখা:
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা হলো উত্তর গোলার্ধের একটি অক্ষাংশ রেখা যা বিষুবরেখা থেকে ৪৯ ডিগ্রি উত্তরে অবস্থিত।
- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা-র মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
- বিখ্যাত নাম: এটিকে প্রায়ই 'বিশ্বের দীর্ঘতম অরক্ষিত সীমান্ত' (The world's longest undefended border) বলা হয়।
- দৈর্ঘ্য: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার এই সীমান্ত রেখাটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার (১,২৩০ মাইল) দীর্ঘ।

• ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ব্রিটিশ এবং মার্কিন সরকারের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্কের পর ওরেগন চুক্তির মাধ্যমে রকি পর্বতমালা থেকে প্রশান্ত মহাসাগর (জর্জিয়া প্রণালী) পর্যন্ত ৪৯তম সমান্তরালকে সীমানা হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

• কয়েকটি সীমারেখা: 
- রেডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line): ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন (McMahon Line): ভারত ও চীনের মধ্যবর্তী সীমারেখা (মূলত অরুণাচল প্রদেশ অংশে)।
- ডুরান্ড লাইন (Durand Line): পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমানা।
- ৩৮তম সমান্তরাল রেখা (38th Parallel): উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সীমানা।
- ৪৯তম সমান্তরাল রেখা (49th Parallel): যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যবর্তী সীমানা (এটি বিশ্বের দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন সীমানা)।
- হিন্ডেনবার্গ লাইন (Hindenburg Line): জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যবর্তী সীমারেখা।
- ম্যাজিনো লাইন (Maginot Line): ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী সীমানা।
-  ১৭তম সমান্তরাল রেখা: উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যকার পূর্ববর্তী সীমানা (বর্তমানে এটি কার্যকর নয় কারণ ভিয়েতনাম এখন একীভূত)।
- লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC): ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর অঞ্চলের অঘোষিত সীমানা।
- লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC): ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস।

২,৬০৮.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমন্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমন্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমন্ডলের এই স্তরসমূহ হলো: ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।
- এই স্তরেই বায়ুমন্ডলের আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়।

⇒ এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬০৯.
ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত সীমানা কী নামে পরিচিত?
  1. ডুরান্ড লাইন
  2. ম্যাকমোহন লাইন
  3. লাইন অব কন্ট্রোল
  4. রেডক্লিফ লাইন
সঠিক উত্তর:
ম্যাকমোহন লাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:
- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা: ডুরান্ড লাইন।
- ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা: ম্যাকমোহন লাইন / লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল।
- ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা: রেডক্লিফ লাইন।
- পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা: লাইন অব ডিমারকেশন।
- ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা: লাইন অব কন্ট্রোল।
- ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা: পার্পল লাইন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
২,৬১০.
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র কোনটি?
  1. সাঙ্গু নদী
  2. হালদা নদী
  3. যমুনা নদী
  4. কর্ণফুলি নদী
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার। 
- এটি কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।
- চট্টগ্রাম শহরের পণ্যসামগ্রীর অধিকাংশই হালদা নদীপথে বড় মালবাহী নৌকার মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬১১.
কোথায় 'পলল পাখা' জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে?
  1. নদীর মোহনায়
  2. নদীর উৎপত্তিস্থলে
  3. নদীর নিম্ন অববাহিকায়
  4. পাহাড়ের পাদদেশে
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ের পাদদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ের পাদদেশে
ব্যাখ্যা
'পলল পাখা' ভূমিরূপ:
- 'পলল পাখা' জাতীয় ভূমিরূপ গড়ে উঠে পাহাড়ের পাদদেশে।
- পার্বত্য কোনো অঞ্চল থেকে হঠাৎ করে কোনো নদী যখন সমভূমিতে পতিত হয় তখন শিলাচূর্ণ, পলিমাটি প্রভৃতি পাহাড়ের পাদদেশে সমভূমিতে সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণ ও হাতপাখার ন্যায় ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়।
- এ কারণে এরূপ পললভূমিকে পলল কোণ বা পলল পাখা বলে।

উল্লেখ্য,
- যেসব অঞ্চলের মাটি অধিক পানি শোষণ করতে পারে সেখানে শিলাচূর্ণ বেশিদূর যেতে না পেরে পাহাড়ের পাদদেশে পলল কোণ সৃষ্টি করে।
- মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা কম হলে সেক্ষেত্রে পলল পাখা ভূমিরূপ গঠিত হয়।
- হিমালয়ের পাদদেশে গঙ্গার বিভিন্ন উপনদীর গতিপথে পলল কোণ ও পলল পাখা জাতীয় ভূমিরূপ দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬১২.
ডেল্টা পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ভিত্তিতে সমগ্র দেশকে কয়টি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. সাতটি
  2. নয়টি
  3. ছয়টি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ডেল্টা বা বদ্বীপ পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ভিত্তিতে সমগ্র দেশকে ছয়টি হটস্পটে বিভক্ত করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
- উপকূলীয় অঞ্চল
- বরেন্দ্র ও খরা প্রবণ অঞ্চল
- হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকাসমূহ
- পার্বত্য চট্টগ্রাম
- নদী অঞ্চল ও মোহনা এবং
- নগর এলাকাসমূহ।

ডেল্টা পরিকল্পনায় ছয়টি জেলাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো হলো:
- গাজীপুর
- ঝিনাইদহ
- মাগুরা
- ময়মনসিংহ
- নীলফামারী এবং
- শেরপুর।

(তথ্যসূত্র: বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০)
২,৬১৩.
ভারত কত সালে ভম্বুর বাঁধ নির্মাণ করে?
  1. ১৯৯৮
  2. ১৯৫৫
  3. ১৯৮৪
  4. ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪
ব্যাখ্যা

• ডম্বুর বাঁধ:
- ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে সড়ক পথে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের ডম্বুর হ্রদ।
- “রাইমা আর সরমা' এই দুটি ছোট নদী ত্রিপুরার এই তীর্থমুখ হ্রদে এসে মিশেছে।
- সেখান থেকেই গোমতী নদীর উৎপত্তি।
- এই গোমতী নদীর উপর ডুম্বুর বাঁধ অবস্থিত।
- ডম্বুর বাঁধ বা গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ১৯৭৪ সালে নির্মাণ করা হয়। 

⇒ মূলত ত্রিপুরা রাজ্যকে বন্যা থেকে সুরক্ষা প্রদান এবং ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৯৭০-এর দশকে গোমতি নদীর উপর ডম্বুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

⇒ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, দীর্ঘ ৩১ বছর পর ভারী বর্ষণের কারণে ডম্বুর বাঁধের জলাধারের পানির স্তর অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
- এই অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ ডুম্বুর বাঁধের গেট খুলে দেয়।
- এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছিল যাতে বাঁধের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো যায়।
- গোমতী নদী ত্রিপুরা থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এবং আশেপাশের অঞ্চলে প্রবেশ করে।
- বাঁধের গেট খোলার পর অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশের এই অঞ্চলে প্রবাহিত হয়, যা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এর ফলে নিম্নাঞ্চলের গ্রাম, ফসলের মাঠ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: BBC বাংলা ও India Water Portal  (Link) 

২,৬১৪.
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ -
  1. সোনাদিয়া
  2. ভোলা
  3. কুতুবদিয়া
  4. মহেশখালী
সঠিক উত্তর:
মহেশখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেশখালী
ব্যাখ্যা

মহেশখালী:
- বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী।
- ১৫৫৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহেশখালী দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা মহেশখালী।
- এর আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিমি।
- ১৯৮৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসন মহেশখালী থানাকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে।
- আদিনাথ মন্দির, মৈনাক পর্বত, সোনাদিয়া দ্বীপ, রাখাইনদের কেয়াং সহ বেশ কিছু দর্শণীয় স্থান রয়েছে মহেশখালীতে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬১৫.
মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) সংঘর্ষ
  4. ঘ) ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ক) শৈলোৎক্ষেপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শৈলোৎক্ষেপ
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৬১৬.
কিয়োটা প্রটোকল গৃহীত হয় -
  1. ক) জাপানে
  2. খ) সুইডেনে
  3. গ) বেলারুশে
  4. ঘ) নিউজিল্যান্ডে
সঠিক উত্তর:
ক) জাপানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাপানে
ব্যাখ্যা
এটি একটি বহুরাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি যা এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলিকে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের জন্য দায়বদ্ধ করে। ১৯৯৭ সালের ১২ ই ডিসেম্বর জাপানের কিয়োটা শহরে এই চুক্তি প্রথম গৃহীত হয়। বর্তমানে এই চুক্তি দ্বারা ১৯১ টি দেশ ও একটি সংস্থা দায়বদ্ধ রয়েছে। কানাডা ডিসেম্বর ২০১২ সালে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান ও সুদান কিয়োটা প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি।
Source: LiveMCQ Lecture
২,৬১৭.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়?
  1.  শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. পরিচলন বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণি বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

 • পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে করে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।

উল্লেখ্য,
বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুসারে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা-
(১) পরিচলন বৃষ্টি,
(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি,
(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি ও
(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৬১৮.
পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ কোনটি?
  1. বৈকাল
  2. টিটিকাকা
  3. হুরন
  4. ট্যাঙ্গানিকা
সঠিক উত্তর:
টিটিকাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিটিকাকা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ হলো টিটিকাকা। 
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় বলিভিয়া-পেরু সীমান্তে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এটির উচ্চতা প্রায় ৩,৮১০ মিটার। আয়তন ৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বৈকাল (রাশিয়া) পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- সুপিরিয়র পৃথিবীর বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ।
- লেক আসাল (জিবুতি) সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
২,৬১৯.
ইংলিশ চ্যানেল কোন মহাসাগরের অংশ?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।

উল্লেখ্য,
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

তথ্যসূত্র: Britannica.

২,৬২০.
নিচের কোনটি আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু?
  1. সিরাক্কা
  2. খামসিন
  3. টাইফুন
  4. সাইমুম
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২১.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে কোন ধরনের বন্যা সৃষ্টি হয়?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২২.
দিনাজপুরের তাপমাত্রা শিলং এর তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয় জলবায়ুর কোন নিয়ামকটির কারণে?
  1. ক) সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) বনভূমির অবস্থান
  4. ঘ) সমুদ্র থেকে দূরত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায়, ততই উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়৷
এজন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ার পরেও উচ্চতায় পার্থক্য থাকায় দুই জায়গার একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়।
যেমনঃ উচ্চতা বেশি হওয়ায় দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা কম হয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
২,৬২৩.
নিচের কোনটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনার উপনদী নয়?
  1. তিস্তা
  2. পুনর্ভবা
  3. দুধকুমার
  4. ধরলা
সঠিক উত্তর:
পুনর্ভবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনর্ভবা
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনার চারটি প্রধান উপনদী রয়েছে: দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা এবং করতোয়া-আত্রাই নদীপ্রণালী
- এদের মধ্যে দুধকুমার, ধরলা এবং তিস্তা নদী তিনটি খরস্রোতা প্রকৃতির এবং ভারতের দার্জিলিং ও ভূটানের মধ্যবর্তী হিমালয়ের দক্ষিণপার্শ্বে অত্যধিক ঢালবিশিষ্ট অববাহিকা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- শাখানদীসমূহের মধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র দীর্ঘতম এবং দুইশত বছর পূর্বে এটিই ছিল ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা।
- পদ্মা নদীর উপনদী - মহানন্দা ও পুনর্ভবা।
তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৬২৪.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ক) বন্যভূমি উজাড়
  2. খ) পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
  3. গ) কার্বন নিঃসরণ
  4. ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
খ) পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

প্রাকৃতিক কারণসমূহ

ক. মহাদেশীয় ড্রিফট
খ. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
গ. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ঘ. সামুদ্রিক স্রোত ঙ. ঘূর্ণিঝড়

মনুষ্য সৃষ্ট কারণসমূহ

ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি /কার্বন নিঃসরণ 
খ. খনিজ জ্বালানি ব্যবহার 
গ. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
ঘ. পাহাড় নিধন 
ঙ. বন্যভূমি উজাড়

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

২,৬২৫.
সেন্টমার্টিন কত সালে 'বাংলাদেশের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' হিসেবে ঘোষিত হয়?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
সেন্টমার্টিন 'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা':
- দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। 
- পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।
- ৪ জানুয়ারি, ২০২৩ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। 

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:

- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
২,৬২৬.
নিচের কোন গ্রহগুলোর কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ নেই?
  1. শনি ও মঙ্গল
  2. শনি ও ইউরেনাস
  3. মঙ্গল ও বৃহস্পতি
  4. বুধ ও শুক্র
সঠিক উত্তর:
বুধ ও শুক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ ও শুক্র
ব্যাখ্যা
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

বুধ গ্রহ:
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

শুক্র গ্রহ:
- পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম।
- শুক্রের গড় তাপমাত্রা অন্যান্য সকল গ্রহ থেকে বেশি।
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। এতে কোন বায়ুমণ্ডল নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২৭.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে ভারতের সীমান্ত নেই?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. রাজশাহী
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
সীমান্ত জেলা:

- বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকর বিভাগ সংখ্যা ৮টি।
- জেলার সংখ্যা ৬৪টি।
- যার ৬ বিভাগের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকলেও, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের সাথে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই।
- কিন্তু ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে। 

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
২,৬২৮.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) অক্ষাংশ - জলবায়ুর একটি নিয়ামক
  2. খ) নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর তীর্যকভাবে কিরণ দেয়
  3. গ) নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যত দক্ষিণে যায় এর তাপমাত্রা কমতে থাকে
  4. ঘ) নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যত উত্তরে যায় ততই সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে
সঠিক উত্তর:
খ) নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর তীর্যকভাবে কিরণ দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর তীর্যকভাবে কিরণ দেয়
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো অক্ষাংশ৷
সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়৷
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যায় ততই সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে৷ এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
২,৬২৯.
বাংলাদেশের কোথায় ’আলুটিলা গুহা’ অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙ্গামাটি
  3. সিলেট
  4. খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

আলুটিলা গুহা: 
- খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আলুটিলার সবচেয়ে আকষীয় স্থান হচ্ছে পাহাড়ের পাদদেশে রহস্যময় এক গুহা।
- প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বিশাল ওই গুহাটি পাহাড়কে একপাশ থেকে অন্য পাশ পযন্ত ভেদ করেছে।
- ঘুটঘুটে অন্ধকার এই গুহার ওপর থেকে ঝিরঝির করে পড়ে পানি।
- গুহার ভিতর ঢুকতে হলে মশাল জ্বালিয়ে যেতে হয়।
- পর্যটন কেন্দ্রেই ৫ থেকে ১০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায় মশাল।
- গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুরঙ্গ পথ বেয়ে নামতে নামতে মনে হবে আপনি যেন পাতালে চলে যাচ্ছেন।
- পাহাড়ের পাদদেশ থেকে গুহার মুখ পযন্ত যেতে এক সময় দর্শনাথীদের অনেক কষ্ট করতে হতো।
- তবে জেলা পরিষদ সেখানে পাকা সিঁড়ি নির্মাণ করায় এখন পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬ টি সিড়ি বেয়ে চলে যাওয়া যায় নিচে।
- আলুটিলা সুরঙ্গের দৈঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৬৩০.
‘টিপাইমুখ বাঁধ’ কোন নদীর ওপর অবস্থিত?
  1. যমুনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. বরাক
  4. গঙ্গা
সঠিক উত্তর:
বরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরাক
ব্যাখ্যা
টিপাইমুখ বাঁধ:

- বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটার উজানে ভারতের বরাক নদীর ওপর নির্মিতব্য বাঁধটিই টিপাইমুখ বাঁধ নামে পরিচিত।
- এই বরাক নদীই বাংলাদেশে প্রবেশের আগে দুই ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে প্রবেশ করেছে; যা পরিশেষে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করেছে।
- এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত সরকার এই কাজ করেছে।
-  ১৯৩০-এর দশক থেকে আসামের কাছাড় উপত্যকায় এক ভয়াবহ বন্যা হওয়ার পর থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা করা হয়; যার অংশ হিসেবে ১৯৫৪ সালে ভারতের Central Water Commission (CWC) একটি বহুমুখী জলাধারের জন্য সমীক্ষার কাজ হাতে নেয়।
- এই বাঁধের উচ্চতা ১৬২.৮ মিটার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩১ মে, ২০১৪।
২,৬৩১.
শ্রীহট্ট কোন জেলায় প্রাচীন নাম
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) ভোলা
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
ব্যাখ্যা

প্রত্নতত্ত্ববিদ্গণ হরিকেল বলতে শ্রীহট্ট বা সিলেট ও চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলকে নির্দেশ করেন। চীনা পরিব্রাজক ইৎসিং বলেছেন - হরিকেল ছিল পূর্ব ভারতের সীমায়। হরিকেল জনপদের দক্ষিণে অবস্থিত ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্ত -জনপদের প্রাণকেন্দ্র।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব-সভ্যতা।

২,৬৩২.
বাংলাদেশের দেওয়া নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল-
  1. ক) অনিল
  2. খ) বিজলি
  3. গ) রেশমী
  4. ঘ) আইলা
সঠিক উত্তর:
ক) অনিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনিল
ব্যাখ্যা
২০০৪ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ‘অনিল’ নামে প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড় ভারতে আঘাত করেছিল। বাংলাদেশে আঘাত হানা নামকরণ হওয়া প্রথম ঘূর্ণিঝড়টি ছিল ‘সিডর’। এটি ছিল ওমানের দেওয়া নাম। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
২,৬৩৩.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ’আইলা’ কত সালে আঘাত হানে?
  1. ২৯শে নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. ২৯শে এপ্রিল, ১৯৯১
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ২৫শে মে, ২০০৯
সঠিক উত্তর:
২৫শে মে, ২০০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫শে মে, ২০০৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড়সমূহ:
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ভোলা (১২ নভেম্বর, ১৯৭০ সালে সংঘটিত হয়)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (২৯শে নভেম্বর, ১৯৮৮)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (২৯শে এপ্রিল, ১৯৯১)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম -  সিডর (১৫ নভেম্বর, ২০০৭)।
→ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম - আইলা (২৫শে মে, ২০০৯)।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৩৪.
বাংলাদেশে 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে-
  1. ক) জাপান
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

- ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে বাংলাদেশে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে যুক্তরাজ্য।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।

২,৬৩৫.
কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কোনটি?
  1. তিস্তা
  2. কাসালং
  3. সিলোনিয়া
  4. গোমতী
সঠিক উত্তর:
কাসালং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাসালং
ব্যাখ্যা
• কর্ণফুলী নদী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।

উল্লেখ্য,
- কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।
- এটি পার্বত্য এলাকার পাকশমিমুরা রেঞ্জ থেকে বের হয়ে পূর্বদিকে হালদা নদীর প্রায় সমান্তরালে সমগ্র ফটিকছড়ি উপজেলা ঘুরে পূর্ব ধলাই নামক স্থানে হালদা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
২,৬৩৬.
নিচের কোনটি বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক?
  1. ক) পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল
  2. খ) ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চল
  3. গ) বরেন্দ্রভূমি
  4. ঘ) সিলেটের বনাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
গ) বরেন্দ্রভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরেন্দ্রভূমি
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract): বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক। প্রায় ৭,৭৭০ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
চতুষ্পার্শেতর প্লাবনভূমি থেকে পৃথক এই ভূ-প্রকৃতি পুরাতন পলল গঠিত একটি ভূমিরূপ হিসেবে দীর্ঘ সময় থেকেই স্বীকৃত।
ভূ-প্রাকৃতিক এই একক পূর্বে করতোয়া নদী দ্বারা, পশ্চিমে মহানন্দা নদী দ্বারা এবং দক্ষিণে গঙ্গা নদীর উত্তর পাড় দ্বারা সীমাবদ্ধ।
বরেন্দ্রভূমির পূর্ব প্রান্তে একটি চ্যুতির অবস্থান সুস্পষ্ট এবং চ্যুতিখাদ বরাবর ছোট যমুনা, আত্রাই এবং পুনর্ভবা নদী প্রবাহিত হচ্ছে।
এই ভূ-প্রাকৃতিক এককের পশ্চিমাংশ আনত এবং পশ্চিম প্রান্তের অংশবিশেষ অবশিষ্ট ভূ-ভাগ এবং পার্শ্ববর্তী মহানন্দা প্লাবনভূমি থেকে ১৫ মিটারেরও অধিক উঁচু।
বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।

উৎস: বাংলা পিডিয়া 
২,৬৩৭.
শুভলং ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. মৌলভীবাজার
  3. রাঙামাটি
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান- হ্রদ, চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বৌদ্ধ বিহার, পর্যটন ঝুলন্তত ব্রিজ, ফুরামোন পর্বত, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৮.
বাংলাদেশে উপকূলীয় বনায়ন কার্যক্রম কোন সাল থেকে শুরু হয়?
  1. ক) ১৮৭২
  2. খ) ১৯৫১
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৭৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ১৯৬৬ সাল থেকে উপকূলীয় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা জুড়ে ১,৯৬,০০০ হেক্টর উপকূলীয় ভূমি বিশেষত চরাঞ্চলে উপকূলীয় বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে । এটি দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১.৩৬ ভাগ। (সূত্রঃ বন বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়)
২,৬৩৯.
বাংলাদেশে বছরের কোন সময়ে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়?
  1. বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
  2. আষাঢ়- শ্রাবণ
  3. কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  4. ভাদ্র-আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• কালবৈশাখী ঝড়:
- কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে (বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ) মাসে কালবৈশাখী ঝড় দেখা দেয়। বে বৈশাখ মাসেই কালবৈশাখীর প্রকোপ বেশি থাকে।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪০.
দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. পূর্ব প্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. পুনরুদ্ধার
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪১.
কোনটি জীবভূগোলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা
  2. খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
  3. গ) অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ
  4. ঘ) শহরের ক্রমবিকাশ
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্ভিদ ও জীবজন্তু
ব্যাখ্যা
জীবভূগােল (Biogeography) : পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ এবং উদ্ভিদের বণ্টন নিয়ে জীবভূগােল আলােচনা করে। (রেফারেন্স - www.britannica.com)
২,৬৪২.
বিশ্বব্যাংকের মতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ কোনটি?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. বাংলাদেশ
  4. ভিয়েতনাম 
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ:
- ‘দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি, আর এর মধ্যেই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।’— বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এমন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে পড়বে এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ গুরুতর বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে। উপকূলে পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
- ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার সাউথ এশিয়ান কান্ট্রিজ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স উইল বি প্রাইভেট সেক্টর লেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মূল চাপ এখন পরিবারের ওপর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর গিয়ে পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের আবহাওজনিত ধাক্কার আশঙ্কা করছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

উল্লেখ্য,
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

⇒ বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা: বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়: ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ: মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা: সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক। [link]

২,৬৪৩.
কোনটি উপ-মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের অবস্থান?
  1. ক) ২৫°- ৩০° অক্ষাংশে
  2. খ) ০°- ৫° অক্ষাংশে
  3. গ) ৬০° - ৭০° অক্ষাংশে
  4. ঘ) ২৫° - ৩৫° অক্ষাংশে
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০° - ৭০° অক্ষাংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০° - ৭০° অক্ষাংশে
ব্যাখ্যা
•উপ-মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়:
- দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশে পৃথিবীর আবর্তনের বেগ বেশি হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের বায়ু ক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে সরে যায়।
- এই অবস্থায় দুই মেরুবৃত্ত অর্থাৎ ৬০° থেকে ৭০° অক্ষাংশের মধ্যে বায়ুর চাপ যখন কমে যায় তখন যে দুটি নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয় তাকে উপ-মেরুবৃত্তের নিম্নচাপ বলয় বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৪.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা সবচেয়ে বেশি ঘটে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. কুমিল্লায়
  3. ফেনী
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

বন্যা (Flood):
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। - প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা.

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
- ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯, এবং ২০১০ সালে আকস্মিক বন্যা উত্তর পূর্ব হাওড় অঞ্চলের শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪৫.
ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) ভার্নিয়ার স্কেল
  2. খ) রিকটার স্কেল
  3. গ) মিটার স্কেল
  4. ঘ) ডিজোষ্টার স্কেল
সঠিক উত্তর:
খ) রিকটার স্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রিকটার স্কেল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট কম্পনের মাত্রা দিয়ে যে রেখাচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
Source: Britannica
২,৬৪৬.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ঘোষিত 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয়?
  1. জাফলং-ডাউকি নদী
  2. শীতলক্ষ্যা নদী
  3. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  4. সোনাদিয়া দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী। 

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
২,৬৪৭.
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. তাপ সংকোচন
  2. বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপ
  3. পাহাড় ধসের কারনে
  4. ভূমিধস
সঠিক উত্তর:
বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপ
ব্যাখ্যা

- আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।

ভূমিকম্পের কারণ:

- সাধারণত: প্রাকৃতিক ভূমিকম্প আভ্যন্তরীন ও কৃত্রিম ভূমিকম্প বাহ্যিক কারণে হয়।
- ভূমিকম্পের নিম্নলিখিত কারণসমূহ নির্ণয় করেছেন-
১. কোন কারণে ভূ-অভ্যন্তরে বড় রকমের শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। চ্যুতির ফলে কোন অংশ নীচে ধ্বসে যায় বা
উপরে উঠে আসে। নীচের অংশ যতই তলদেশে যায় ততই তাপে গলে শক্তি বের হয়ে ফাটল সৃষ্টি করে বলে উপরের অংশে কম্পণ হয়।
২. ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবল ফ্রিকশান (friction) হয়ে কতক অংশ ধসে পড়ে (land slip), ফলে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।
৩. ভ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত। তাই তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হচ্ছে। ফলে শিলাস্তর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য স্থান পরিবর্তন করলে ভূ-ত্বক কম্পিত হয়।
৪.ভূ-গর্ভে সঞ্চিত বাষ্প-চাপ বেশী হলে নিম্নভাগে প্রবলভাবে ধাক্কা দেয়, এতে ভূমিকম্প হয়।
৫. ভূ-গর্ভে চাপ হ্রাস পেলে এর অভ্যন্তরস্থ উত্তপ্ত কঠিন পদার্থ গলে নিচের দিকে অপসারিত ও আলোড়িত হতে থাকে, এতে ভূ-ত্বক কেঁপে ওঠে।
৬. Elastic Rebound এর কারণে শিলাস্তর নিচের দিকে পতিত হলেও ধাক্কা খেয়ে পূর্বের স্থানে ফিরে ভূত্বক-এ ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
৭. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের সময় বহির্মুখী বাষ্পরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়।
৮. পাহাড় পর্বত থেকে বড় রকম শিলাচ্যুতি হলে ভূমিকম্প হয়।

উৎস: প্রাকৃতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে গভীরতম স্থান কোনটি?
  1. কুতুবদিয়া চ্যানেল
  2. সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
  3. মহেশখালী 
  4. সেন্ট মার্টিন চ্যানেল
সঠিক উত্তর:
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড :
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (যার তল নেই) হলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক খাদ, যা  সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে অতিক্রম করা এই গিরিখাতের গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার এবং
- সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত গভীরতা প্রায় ১৩৪০ মিটার।
- এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল এবং বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাতগুলোর মধ্যেও অন্যতম।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গোপসাগর হলো ভারত মহাসাগরের একটি বিস্তৃত অংশ।
- এই উপসাগর বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর হিসেবে পরিচিত। 
- এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মধ্যবর্তী ত্রিভুজাকৃতির জলভাগ। 
- উপসাগরটির পশ্চিম সীমান্তে ভারত ও শ্রীলঙ্কা, উত্তরে ভারত ও বাংলাদেশ এবং পূর্বে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড অবস্থিত।

উৎস : Britannica

২,৬৪৯.
বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. ক) তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প
  2. খ) চাঁদপুর সেচ প্রকল্প
  3. গ) কাপ্তাই সেচ প্রকল্প
  4. ঘ) গঙ্গা-কপােতাক্ষ প্রকল্প
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঙ্গা-কপােতাক্ষ প্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঙ্গা-কপােতাক্ষ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
- গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প।
- কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত।
- এটি বাংলাদেশে প্রথম সেচ প্রকল্প।
- ১৯৫১ সালে পরিচালিত প্রাথমিক জরিপের পর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন  পাকিস্তান সরকার প্রস্তাবিত জি-কে প্রকল্প অনুমোদন করে।

- বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হলো তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। ১৯৭৯ সালে নীলফামারি-লালমনিরহাট সীমান্তে এটির প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ শুরু হয় যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫০.
‘হিলি’ স্থলবন্দরটি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) যশোর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
- সোনা মসজিদ স্থলবন্দর : চাপাই নবাবগঞ্জ
- ভোমরা স্থলবন্দর : সাতক্ষীরা
- দর্শনা স্থলবন্দর : চুয়াডাঙ্গা
- বিরল ও হিলি স্থলবন্দর : দিনাজপুর।
(সূত্র: স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ)
২,৬৫১.
বসফরাস প্রণালি কোন শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ?
  1. ফ্লোরেন্স
  2. ভেনিস
  3. মিলান
  4. ইস্তাম্বুল
সঠিক উত্তর:
ইস্তাম্বুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
- ইস্তাম্বুল মূলত তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রদেশ।
- শহরটিকে দুই ভাগ করে মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে বসফরাস প্রণালি।
- উত্তরে কৃষ্ণ সাগর এবং দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর। এর পশ্চিম দিক এশিয়ার মধ্যে পড়েছে। আর পূর্বদিক ইউরোপে।
- বসফরাস প্রণালি কৃষ্ণসাগর ও মর্মরসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
উৎস: ব্রিটানিকা ও পত্রিকা রিপোর্ট।
২,৬৫২.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র কোনটি?
  1. হালদা নদী 
  2. টাঙ্গুয়ার হাওড় 
  3. হাকালুকি হাওড়
  4. পদ্মা নদী 
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হালদা নদী 
ব্যাখ্যা

হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ছোট্ট একটি নদী।
- এই নদীর উৎপত্তি, বিস্তার এবং সমাপ্তি সবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

⇒ হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উৎস: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 

২,৬৫৩.
রোম শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. টাইবার
  2. দানিয়ুব
  3. টেমস
  4. হাডসন
সঠিক উত্তর:
টাইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইবার
ব্যাখ্যা
• টাইবার (Tiber) নদী:
- টাইবার (Tiber) নদী হলো ইতালির একটি প্রধান নদী, যার তীরে গড়ে উঠেছে রোম শহর — প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্র।
- টাইবার নদী মধ্য ইতালিতে অবস্থিত এবং এটি প্রায় ৪০৫ কিমি দীর্ঘ।
- এটি অ্যাপেনাইন পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে টায়ারেনিয়ান সাগরে পতিত হয়।

উল্লেখ্য,
- টেমস – এটি লন্ডন শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- হাডসন – এটি নিউইয়র্ক শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
- সিন- প্যারিস শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
- স্প্রি - বার্লিন শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
- সুমিদা - টোকিও শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৬৫৪.
পাট চাষের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা কত?
  1. ২৫-৪০°
  2. ১০-২০°
  3. ১৮-৩৩°
  4. ১৫-২৬°
সঠিক উত্তর:
১৮-৩৩°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮-৩৩°
ব্যাখ্যা
• পাট চাষ:
- বাংলাদেশে সাধারণত বীজবপন শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষে এবং প্রজাতিভেদে মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলে
- পাটচাষ প্রাক-বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- সাদাপাট অধিকতর পানিসহিষ্ণু বিধায় সাধারণত নিচুজমি, এমনকি জলাবদ্ধ জমিতেও চাষ করা যায়।
- উষ্ণমন্ডল ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় বিভিন্ন জলবায়ুর পরিবেশে পাট জন্মে।
- পাট চাষে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার সীমারেখা ১৮-৩৩° সেলসিয়াস।
- মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ২৫০ মিমি বৃষ্টিপাতসহ যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৫০০ মিমি বা ততোধিক সেখানে পাট ভাল ফলন দেয়।
- জলবদ্ধতা তোষাপাটের জন্য ক্ষতিকর, তাই মাঝারি থেকে নিম্ন-মাঝারি জমিতে চাষ করা হয়।
- কয়েক ধরনের জমিতে, কর্দম থেকে বেলে-দোঅাঁশ পর্যন্ত ভাল উর্বরতাসহ ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৫.
আল্পস পর্বত কোন শ্রেণির পর্বত?
  1. ভঙ্গিল পর্বত
  2. আগ্নেয় পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ক্ষয়জাত পর্বত
সঠিক উত্তর:
ভঙ্গিল পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভঙ্গিল পর্বত
ব্যাখ্যা
• ভঙ্গিল পর্বত:
 → স্তরীভূত পাললিক শিলা পার্শ্ব ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
 → এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।
 → সমুদ্র তলদেশের বিশাল অবনমিত স্থানে দীর্ঘকাল ধরে বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। উপরের পলির চাপে অবনমিত স্থান আরও নিচে নেমে যায়। পরবর্তী
পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী সুদৃঢ় ভূমিখন্ডের প্রবল পার্শ্বচাপের কারণে উর্ধ্বভাঁজ ও নিম্ন ভাঁজের সৃষ্টি হয়।
বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এ সমস্ত উর্ধ্ব ও অধঃভাঁজ সংবলিত ভূমিরূপ মিলেই ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৬.
বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় -
  1. ক) মেসোবিরতিতে
  2. খ) ট্রপোবিরতিতে
  3. গ) স্ট্র্যাটোবিরতিতে
  4. ঘ) আয়নমন্ডলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়নমন্ডলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আয়নমন্ডলে
ব্যাখ্যা
• আয়নমন্ডল মূলত মেসোমন্ডলের ঊর্ধ্বাংশ থেকে তাপমন্ডলের নিম্নাংশ (৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
আয়নমন্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

অন্যদিকে, 
• বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সকল কিছুই ট্রপোমণ্ডলে সংঘটিত হয়।
• আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়বৃষ্টি থাকে না।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৭.
কোন পর্যায়ে দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি  মূল্যায়ন করা হয়?
  1. উদ্ধার পর্যায়ে
  2. প্রভাব প্রর্যায়ে
  3. পুর্নবাসন পর্যায়ে
  4. প্রতিরোধ পর্যায়ে
সঠিক উত্তর:
পুর্নবাসন পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুর্নবাসন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
- পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সাধারণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যে কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোর সমন্বিতরূপকে বুঝায়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- নতুবা দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে মানবজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।
- দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আলোচিত বিষয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য:
১. দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের জন্য স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

•'পুনর্বাসন” অর্থ-
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা অধিকতর ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কল্যাণ সাধনসহ তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, অন্যত্র স্থানান্তর করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদির সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট খামার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- পুকুর, নদী-নালা, খাল, বিল, জলাধারে মৃত মানুষ, গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদি অপসারণের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা করা এবং এদের বিষাক্ত পানি শোধনের ব্যবস্থা করাসহ মানুষ ও জীব-জন্তুর জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষাক্ততা অপসারণের লক্ষ্যে বিষাক্ত জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থাসহ এটি হতে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
২,৬৫৮.
বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩,৭১৫ কি.মি.
  2. ৪,১৫৬ কি.মি.
  3. ৪,৭১১ কি.মি.
  4. ৪৬৩১ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
৪,৭১১ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪,৭১১ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য:
- সর্বমোট সীমারেখা- ৪,৭১১ কি.মি. [BGB'র তথ্য মতে ৫,১৩৮ কি.মি.]
- স্থলসীমা: ভারত-বাংলাদেশ ৩,৭১৫ কি.মি. ও মায়ানমার-বাংলাদেশ ২৮০ কি.মি. [BGB: ৪,১৫৬ কি.মি. ও ২৭১ কি.মি.]
- জলসীমা বা উপকূলীয় সীমানা- ৭১৬ কি.মি. [BGB: ৭১১ কি.মি.]
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের স্থানের নাম বাংলাবান্ধা (পঞ্চগড়)।
- সবচেয়ে দক্ষিণের স্থান ছেঁড়া দ্বীপ (সেন্টমার্টিন)।
- সবচেয়ে পূর্বের স্থান আখাইনঠং (বান্দরবান) এবং
- সবচেয়ে পশ্চিমের স্থান মনাকশা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫৯.
পোর্ট সৈয়দ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আলজেরিয়া
  2. খ) মরক্কো
  3. গ) সিরিয়া
  4. ঘ) মিশর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
পোর্ট সৈয়দ উত্তর -পূর্ব মিশরের বন্দর শহর। 
- এটি সুয়েজ খালের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। 
- শহরটি ১৮৫৯ সালে একটি নিম্ন বালুকাময় পটভূমিতে ভূমধ্যসাগরকে মনজালা (বুসায়রাত আল-মানজিলাহ) থেকে পৃথক করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,৬৬০.
ঢাকা সর্বমোট কতবার বাংলার রাজধানী হয়?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৪ বার
  3. গ) ৫ বার
  4. ঘ) ৬ বার
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ বার
ব্যাখ্যা

ঢাকা এ পর্যন্ত ৫ বার বাংলার রাজধানী হয়।
যথা:
১. ১৬১০ সালে, স্থানান্তরকারী - সুবেদার ইসলাম খান।
২. ১৬৬০ সালে, স্থানান্তরকারী - সুবেদার মীর জুমলা।
৩. ১৯০৫ সালে, স্থানান্তরকারী - লর্ড কার্জন।
৪. ১৯৪৭ সালে, স্থানান্তরকারী - পাকিস্তান সরকার।
৫. ১৯৭১ সালে, স্থানান্তরকারী - বাংলাদেশ সরকার।

২,৬৬১.
আমাজন বনের কত শতাংশ ব্রাজিলে অবস্থিত?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. দুই-চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই-তৃতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
- আমাজনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬০%) ব্রাজিলে অবস্থিত ।

• আমাজান বন:

- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট, যা প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গকিমি জুড়ে বিস্তৃত।
-  এটি দক্ষিণ আমেরিকার ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে ব্রাজিলে প্রায় ৬০% অংশ রয়েছে।
-  এখানে ৪০,০০০+ উদ্ভিদ, ১,৩০০+ পাখি, ৪০০+ স্তন্যপায়ী, এবং ৩৭৮ প্রজাতির উভচর প্রাণীর আবাস।
-  এটিকে "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয়, কারণ এটি বিশাল পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে।
-  বন উজাড়, কৃষিকাজ, খনি ও অবৈধ লোগিংয়ের কারণে আমাজান বন গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে।
- আমাজান বন বিশ্বের জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণে।

উৎস: worldrainforests.com
২,৬৬২.
বাংলাদেশে সাধারণত কয় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
২,৬৬৩.
বন্যার মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
  2. অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ
ব্যাখ্যা

বন্যার কারণসমূহ- 
• মানব সৃষ্ট কারণ
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

• প্রাকৃতিক কারণ
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৬৪.
সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী কোনটি?
  1. মেঘনা
  2. যমুনা
  3. ইছামতী
  4. পদ্মা
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
ব্যাখ্যা
• সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা - ১২টি।

• সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম - মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা - ৩৬টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম - ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা - ২২২টি।

• সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম - সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা - ৯৭টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
২,৬৬৫.
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করেছে কোন প্রণালী? 
  1. পক প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. বেরিং প্রণালী
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

• বেরিং প্রণালী:
- বেরিং প্রণালী হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে উত্তরের অংশ এবং এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে, বিশেষ করে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করেছে।
- বেরিং প্রণালী এবং সাগর উভয়েরই নামকরণ করা হয়েছিল ভিটাস বেরিংয়ের সম্মানে।
- বেরিং প্রণালী তুলনামূলকভাবে অগভীর, যার গড় গভীরতা ৫০ মিটার। এটি গভীরতম বিন্দুতে মাত্র
৯০ মিটার গভীর।
- প্রণালীতে ডায়োমেড দ্বীপপুঞ্জ এবং সেন্ট লরেন্স দ্বীপপুঞ্জসহ অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে।

• 'পক প্রণালি':  
- 'পক প্রণালি' পৃথক করেছে ভারত  ও শ্রীলংকাকে এবং সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর  ও আরব সাগরকে। 
- প্রণালিটি ৬৪ থেকে ১৩৭ কিলোমিটার বা ৪০ থেকে ৮৫ মাইল প্রশস্ত। 
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালির নামকরণ করা হয়েছিল।
- তামিলনাড়ুর ভাইগাই নদী এই প্রণালিতে পতিত হয়েছে। 

• জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- যুক্ত করেছে: ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।

• বসফরাস প্রণালী:
- বসফরাস প্রণালী এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি অংশের সীমানা নির্দেশ করে।
- এটি তুরস্কের ইস্তানবুল শহরকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটিকে তাই ইস্তাম্বুল প্রণালীও বলা হয়।
- এই প্রণালীটি বিশ্বের নৌ চলাচলের ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- এই প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটিনিকা। 

২,৬৬৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কোনটি?
  1. গারো পাহাড়
  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  3. কালা পাহাড়
  4. জৈয়ন্তিকা পাহাড়
সঠিক উত্তর:
গারো পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো পাহাড়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।
 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।
- স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বড় আর ডং অর্থ পাহাড়। একত্রে বড় পাহাড় বা তাজিংডং।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। 
তাজিংডং এর উচ্চতা:
- ১২৩১ মি. বা ৪০৩৯ ফুট [সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল]।
- ১৩৭২ মি. বা ৪৫০০ ফুট [সূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন]। 
- ১০০৩ মিটার [সূত্র: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, বান্দরবান]।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (রুমা, বান্দরবান)।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় হচ্ছে গারো পাহাড়।
 
নিম্নে পাহাড় ও পর্বতের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো -
পাহাড় (Hill)
সমুদ্রতল থেকে ৬০০-১০০০ মিটার উঁচু স্বল্প বিস্তৃত শিলাস্তূপ পাহাড় নামে পরিচিত। পর্বতের তুলনায় পাহাড় নিচু ও কম আয়তনের হয়। যেমন—গারো পাহাড়, রাজা পাহাড় ও চন্দ্রনাথ পাহাড়।

পর্বত (Mountain)
সমুদ্রতল থেকে অন্তত ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু সুবিস্তৃত ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপ পর্বত নামে পরিচিত। পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার হতে পারে। যেমন—কিলিমানজারো ও হিমালয় পর্বতমালা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো আর্কাইভ, কালেরকণ্ঠ , সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
২,৬৬৭.
উৎপত্তি স্থান থেকে শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. দোয়াব
  2. নদীসংগম
  3. অববাহিকা
  4. নদী উপত্যকা
সঠিক উত্তর:
অববাহিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অববাহিকা
ব্যাখ্যা
- উৎপত্তি স্থান থেকে শাখা-প্রশাখার মাধ্যমে যে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে নদী সমুদ্র বা হ্রদে পতিত হয় সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদী অববাহিকা বলে

অন্যদিকে,
- প্রবাহমান দুটো নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলা হয়।
- যে উপত্যকার মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় তাকে নদীর উপত্যকা বলা হয়।
- দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৬৬৮.
'সেনকাকু দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. কোরিয়ান উপসাগর
  3. পূর্ব চীন সাগর
  4. দক্ষিণ চীন সাগর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব চীন সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
সেনকাকু দ্বীপ
- চীন, জাপান ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ: সেনকাকু দ্বীপ।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। 
- দ্বীপটি জাপানের কাছে পরিচিত সেনকাকু দ্বীপ নামে।
- চীনের কাছে ‘দিয়াওউ’ এবং তাইওয়ানের কাছে ‘তিয়াওউতাই’ নামে পরিচিত।
- তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
২,৬৬৯.
বাংলাদেশের মহীসোপান এলাকার পরিমাণ কত?
  1. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  2. ১২ নটিক্যাল মাইল
  3. ২২০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর:
৩৫০ নটিক্যাল মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
-বাংলাদেশের মোট আয়াতন - ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার ।
- বাংলাদেশের মোট সীমানারেখা - ৪,৭১১ কিলোমিটার
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের মোট সীমানা রেখা - ৩৭১৫ কিলোমিটার
- বাংলাদেশে - মিয়ানমারের সীমানা রেখা - ২৮০ কিলোমিটার
- বাংলাদেশের বন অঞ্চলের আয়তন- ২১,৬৫৭ কিলোমিটার
- বাংলাদেশের টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা - ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা - ২০০ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্রসীমা - ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।
- উপকূলীয় সমুদ্রসীমার ভৌগলিক নাম - মহীসোপান

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ - নবম ও দশম শ্রেণি
২,৬৭০.
জার্মানির 'ব্ল‍্যাক ফরেস্ট' কোন ধরনের পর্বত?
  1. আগ্নেয় পর্বত
  2. ভঙ্গিল পর্বত
  3. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  4. ল্যাকোলিথ পর্বত
সঠিক উত্তর:
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountains):
- সমুদ্র সমতল থেকে অন্তত ১,০০০ মিটার-এর অধিক উঁচু, সুবিস্তৃত, খাড়া ঢালবিশিষ্ট শিলাস্তূপকে পর্বত বলে।
- পর্বতের ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর, ঢাল খুব খাড়া এবং সাধারণত চূড়া বিশিষ্ট হয়।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। আবার কিছু পর্বত অনেকগুলো পৃথক শৃঙ্গসহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে অবস্থান করে।

পর্বতের প্রকারভেদ:
উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গঠন প্রকৃতির ভিত্তিতে পর্বত প্রধানত চার প্রকার। যথা-
(ক) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountains),
(খ) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountains),
(গ) চ্যুতি-স্তূপ পর্বত (Fault-block Mountains) এবং
(ঘ) ল্যাকোলিথ পর্বত (Dome/Laccolith Mountains)।

চ্যুতি-স্তূপ পর্বত:
- ভূ-আলোড়নের সময় ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তরে প্রসারণ এবং সংকোচনের সৃষ্টি হলে ভূ-ত্বকে ফাটলের সৃষ্টি হয়।
- কালক্রমে ফাটল বরাবর ভূ-ত্বকের উপরের শিলাসমূহ ক্রমে স্থানচ্যুত হয়, যা চ্যুতি নামে পরিচিত।
- ভূ-ত্বকের এ স্থানচ্যুতির ফলে একটি বিশাল শিলা খন্ড উপরে বা নিচের দিকে সরে যায়। চ্যুতির ফলে উঁচু হওয়া অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। 
- ভারতের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত চ্যুতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ।

উল্লেখ্য,
আগ্নেয় পর্বত: 
- আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত হয়ে ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়। এটি সঞ্চয়জাত পর্বত নামেও পরিচিত।
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ।

ভঙ্গিল পর্বত:
- স্তরীভূত পাললিক শিলা পার্শ্ব ভাঁজ পড়ে যে পর্বত গঠিত হয়েছে, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বত ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ।

ল্যাকোলিথ পর্বত: 
- ভূ-অভ্যন্তর থেকে গলিত শিলা বা ম্যাগমা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধা পেয়ে ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূ-ত্বকের নিচে জমাট বেঁধে উর্ধ্বমুখী চাপের কারণে স্ফীত হয়ে ভূ-ত্বকের অংশবিশেষ গম্বুজ আকার ধারণ করে।
- এভাবে সৃষ্ট শৃঙ্গবিহীন সামান্য খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্প অঞ্চল ব্যাপী বিস্তৃত এই পর্বতকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে। 
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হেনরী পর্বত এর উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭১.
জিব্রাল্টার প্রণালী কোন দুটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. এশিয়া ও আফ্রিকা
  2. উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ
  3. ইউরোপ ও আফ্রিকা
  4. এশিয়া ও আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ইউরোপ ও আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপ ও আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২,৬৭২.
'Ha Long Bay' কোথায় অবস্থিত?
  1. ভিয়েতনাম
  2. থাইল্যান্ড
  3. অষ্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
• 'Ha Long Bay' :
- হে লং বে একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য এটি ভিয়েতনামের হ্যানয় মহানগরীর কাছাকাছি অবস্থিত।
- ইটি  হাজার বছর আগে গঠিত  কার্স্ট গঠনের বিশ্বের সেরা উদাহরণগুলির মধ্যে একটি।
- উপসাগরটিতে গুহা, দ্বীপ এবং গ্রোটোর একটি সংগ্রহ রয়েছে যা একটি ঘেরা সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত।
- ভিয়েতনামী নাম হা লং বে এর ইংরেজি অনুবাদ "বে অফ ডিসেন্ডিং ড্রাগনস"।
- স্থানটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- হা লং বে বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের তালিকায়ও স্থান পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,৬৭৩.
আপদ (Hazard) এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কোনটি?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) পরিবেশগত
  3. গ) অবকাঠামোগত
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
গ) অবকাঠামোগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অবকাঠামোগত
ব্যাখ্যা
‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প,বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা - যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি
• মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি

 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
২,৬৭৪.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ- 
  1. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  2. গাছপালা নিধন
  3. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  4. কীটনাশক ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা

- বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

 বায়ু দূষণ: 

- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

• প্রাকৃতিক কারণ: 
-  বন্যা ও খরা: বন্যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় মলমূত্র ও মৃত জীবজন্তু মিশে একাকার হয়ে যায়।
- ফলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
- আবার খরা হলে জলজ প্রাণি এবং জীবজন্তু মরে দূষণ ঘটে।

ভূমিকম্প:
- ভূমিকম্পের কারণে মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা ও মাটি চাপা পড়ে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

ঘূর্ণিঝড়:
- কোনো এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন হলে উক্ত এলাকায় জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- জীবজন্তুর দেহাবশেষে পচন ধরে পরিবেশ দূষিত হয়।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত:
- আগ্নেয়গিরির উদ্‌দ্গীরণের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- আগ্নেয়গিরির চারপাশে পুড়ে যায়, ভূমিধ্বস হয় এবং মানুষ ও পশুপাখি প্রভৃতি মারা যায়। 

• মানবসৃষ্ট কারণ
 গাছপালা নিধন:
- পরিবেশের ভারসাম্যে রক্ষার জন্য গাছপালা আবশ্যকীয় উপাদান।
- কিন্তু মানুষ তার প্রয়োজনের তাগিদে বা অনেক সময় অপ্রয়োজনে গাছপালা নিধন করে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
পাহাড় কর্তন:
- পাহাড় কর্তন বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা।
- অনেকেই অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ নষ্ট হয়।

অপরিকল্পিত নগরায়ন:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন।
- গ্রামীন এলাকা থেকে মানুষ কর্মের সন্ধানে নগরে ছুটে আসে। ফলে অত্যধিক মানুষের চাপে নগরীয় পরিবেশ দূষিত হয়।

কীটনাশক ব্যবহার:
- কৃষিকাজে অধিক হারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পানির সাথে কীটনাশক মিশে পানি দূষণ ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৭৫.
দানিয়ুব নদী পতিত হয়েছে কোথায়?
  1. ক) ভূমধ্যসাগর
  2. খ) কৃষ্ণসাগর
  3. গ) উত্তর সাগর
  4. ঘ) বিস্কে উপসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণসাগর
ব্যাখ্যা
দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় ‍বৃহত্তম নদী। এটির উৎপত্তি জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে এবং পতিত হয়েছে কৃষ্ণসাগরে।
এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৮৫৭ কিলোমিটার। এটি ইউরোপের ১০টি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এই নদীর তীরে বুদাপেস্ট, বেলগ্রেড, ভিয়েনা, ব্রাটিস্লাভা সহ অনেক বিখ্যাত শহর অবস্থিত। এজন্যে এটি আন্তর্জাতিক নদী নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২,৬৭৬.
বাংলাদেশের কোথায় 'আকস্মিক বন্যা' হতে দেখা যায়?
  1. মৌলভীবাজার
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৭৭.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বুঝানো হয়?
  1. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা
  2. দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা
  3. দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।
প্রশমন (Mitigation)
• দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
• মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৮.
নিচের কোনটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত? 
  1. হন্ডুরাস 
  2. কোস্টারিকা
  3. নিকারাগুয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া নিরক্ষয়ীয় জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

নিরক্ষীয় জলবায়ু:

- পৃথিবীর জলবায়ুর পার্থক্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৭৯.
বাঙ্গালী ও যমুনা নদীর সংযোগ কোথায়?
  1. রাজশাহী
  2. পাবনা
  3. বগুড়া
  4. সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
ব্যাখ্যা
বাঙ্গালী নদী:
- রংপুর জেলায় ঘাঘট নদীর অব্যাহত প্রবাহ।
- নদীটি পূর্ব প্রান্তে যমুনা নদীর সঙ্গে এবং পশ্চিমে রামনগরে কাটাখালির মাধ্যমে করতোয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
- বাঙ্গালী নদী দক্ষিণে প্রবাহিত হওয়ার সময় যমুনা নদী থেকে বেরিয়ে আসা বাউলাই নদীকে উপনদী হিসেবে গ্রহণ করেছে।
- আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হওয়ার পর নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পশ্চিম শাখা হলহলিয়া এবং পূর্ব শাখা বাঙ্গালী নামেই প্রবাহিত হয়।
- বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার উত্তরে যমুনার উপনদী মানস-মধুখালী বাঙ্গালী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- এই প্রবাহ কয়েক কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর পুনরায় বিভক্ত হয়ে একটি শাখা ইছামতি নাম ধারণ করে সিরাজগঞ্জে দক্ষিণমুখী হয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- অপর শাখাটি দক্ষিণ-পশ্চিম অভিমুখে প্রবাহিত হয়ে ধুনটের পশ্চিমে হলহলিয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং আরও দক্ষিণে খানপুরের কাছে করতোয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- মিলিত প্রবাহ ফুলঝর নামে প্রবাহিত হয়ে হুরাসাগর থেকে আগত আত্রাই-বড়াল নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- অপরদিকে ইছামতি কাজীপুর উপজেলায় যমুনার কাজীপুর উপনদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহটি নলকা নামক স্থানে ফুলঝর নদীতে পতিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮০.
প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি কোনটি?
  1. বরেন্দ্রভূমি
  2. লালমাই পাহাড়
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. বারেক টিলা
সঠিক উত্তর:
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ :
- আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

• খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

• গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উল্লেখ্য,
- 'বারেক টিলা' টারশিয়ারি যুগের পাহাড়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮১.
পারস্য বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ইরাক
  2. তুরস্ক
  3. ইরান
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
পারস্য:

- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিলো জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮২.
বায়ু প্রবাহের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) আর্দ্রতার তারতম্য
  2. খ) তাপের তারতম্য
  3. গ) অক্ষাংশের ভিন্নতা
  4. ঘ) চাপের তারতম্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাপের তারতম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাপের তারতম্য
ব্যাখ্যা
বায়ু প্রবাহ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো বায়ু চাপের তারতম্য। তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে বায়ুর চাপের তারতম্য হয়ে থাকে। বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠের কোন স্থানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। এতে করে সেই স্থানে বায়ুর চাপর হ্রাস পায় বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সেই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু দ্রুতগতিতে ছুটে আসে যা বায়ু প্রবাহ নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৬৮৩.
নিচের কোনটি স্রোতজ বনভূমির বৃক্ষ?
  1. ধুন্দল
  2. তেলসুর
  3. চাপালিশ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ধুন্দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুন্দল
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায়।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।
- স্রোতময় মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে জন্মে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮৪.
উপকূলীয় বন বাংলাদেশে কোন জেলায় দেখা যায়?
  1. পিরোজপুর
  2. লক্ষ্মীপুর
  3. নোয়াখালী
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• উপকূলীয় বন:
- অবস্থান: নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা।
- পরিমাণ: এ বনের আয়তন ২ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ১.৩৬%। 

- বাংলাদেশ বন বিভাগ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সফল বনায়ন পদ্ধতির উদ্ভাবক।
 - বন বিভাগ ষাটের দশক থেকে উপকূলীয় জেগে ওঠা চরে বনায়ন শুরু করেছে। 
- উপকূলীয় চর বনায়ন প্রক্রিয়া বনজ সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা এবং সাগর থেকে ভূমি জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে ।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। 

২,৬৮৫.
Environmental Refugee কারা?
  1. ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিজ বাস্তুভিটা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  2. বন্যার কারণে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  3. জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  4. রাজনৈতিক সমস্যার কারনে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• Environmental Refugee(পরিবেশগত শরণার্থী)
 জলবায়ু শরণার্থী হলো এমন মানুষ যাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের কারণে তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্প্রদায় ছেড়ে যেতে হয়। জলবায়ু শরণার্থীরা পরিবেশগত শরণার্থী নামে পরিচিত অভিবাসীদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ "পরিবেশগত শরণার্থী" শব্দটি এমন অনেক বাক্যাংশের মধ্যে একটি যা তাদের চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল ‍জিওগ্রাফি এবং climatemigration.

২,৬৮৬.
একই স্থানে প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়?
  1. ক) একবার
  2. খ) চারবার
  3. গ) দুইবার
  4. ঘ) তিনবার
সঠিক উত্তর:
গ) দুইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুইবার
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
• এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
• সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়। সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮৭.
দেশের কোন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে?
  1. ক) পূর্বাঞ্চলে
  2. খ) দক্ষিণাঞ্চলে
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. ঘ) উত্তরাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্বাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় এবং টর্নেডো অন্যতম। কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যাওয়ায় একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
• মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এ ঝড়ই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত।
• এ সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়। অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে। দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৮৮.
ভারতের কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমানা নেই?
  1. মেঘালয়
  2. মিজোরাম
  3. আসাম
  4. মণিপুর
সঠিক উত্তর:
মণিপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণিপুর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্থল সীমানা:
- ভারতের মোট ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশে সীমান্ত রয়েছে।
রাজ্যগুলো হলো:
- পশ্চিমবঙ্গ,
- ত্রিপুরা,
- মেঘালয়,
- মিজোরাম এবং
- আসাম।

- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,
- উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম,
- পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মায়ানমার,
- বাংলাদেশের দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২,৬৮৯.
'সাঙ্গু ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- 'সাঙ্গু ভ্যালি'- চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। 

অন্যদিকে,
ভেঙ্গি ভ্যালি - রাঙামাটি
সাজেক ভ্যালি - রাঙামাটি
বালিশিরা ভ্যালি - মৌলভীবাজার
হালদা ভ্যালি- খাগড়াছড়ি 
নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা। 
২,৬৯০.
আফ্রিকা মহাদেশের আয়তন কত?
  1. ক) ৪৪৫৭৯০০০ বর্গ কিলোমিটার
  2. খ) ৩০৩৭০০০০ বর্গ কিলোমিটার
  3. গ) ১০১৮০০০০ বর্গ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৮৫২৫৯৮৯ বর্গ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০৩৭০০০০ বর্গ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩০৩৭০০০০ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

আফ্রিকা মহাদেশের আয়তন ৩০৩৭০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
এশিয়া মহাদেশের আয়তন ৪৪৫৭৯০০০ বর্গ কিলোমিটার।
ইউরোপ মহাদেশের আয়তন ১০১৮০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
ওশেনিয়া মহাদেশের আয়তন ৮৫২৫৯৮৯ বর্গ কিলোমিটার।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)

২,৬৯১.
পদ্মা ও ভাগিরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে কোন রাজ্যের অবস্থান ছিলো?
  1. ক) প্রাসিয়র
  2. খ) গঙ্গারিডি
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) সমতট
সঠিক উত্তর:
খ) গঙ্গারিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গঙ্গারিডি
ব্যাখ্যা
পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গঙ্গারিডই নামক রাজ্যের অবস্থান ছিলো। আলেকজান্ডার কর্তৃক ভারত আক্রমণের সময় এ রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো বলে অনুমান করা হয়। একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও অস্তিত্ব ছিলো। হরিকেল জনপদ সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত, সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল এবং বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
২,৬৯২.
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আর্দ্র
  2. সমভাবাপন্ন
  3. উষ্ণ
  4. চরমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
চরমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু (Climate of Bangladesh):
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত।
- তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো-গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৯৩.
বায়ুপ্রবাহ মূলত কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৪.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. বায়ুর ঘনত্ব
  2. আহ্নিক গতি
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বার্ষিক গতি
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ,বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।

• সমুদ্রস্রোত:
- এটি জলবায়ুর নিয়ামক।
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।

জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো:-
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

অপরদিকে,
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- আবহাওয়ার প্রধান নিয়ামকগুলো হলো:
- বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৬৯৫.
প্রতি ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের ব্যবধান কত ঘন্টা?
  1. ১ ঘন্টা
  2. ২ ঘন্টা
  3. ৩ ঘন্টা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
১ ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
- আবার দ্রাঘিমার পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে গুণ করে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
১৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪ × ১৫)= ৬০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) উত্তর-পশ্চিমে
  2. খ) পূর্ব-দক্ষিণে
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমে
  4. ঘ) উত্তর-পূর্বে
সঠিক উত্তর:
ঘ) উত্তর-পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উত্তর-পূর্বে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৬৯৭.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়?
  1. সুন্দরবনের দক্ষিণাঞ্চলে
  2. রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে
  3. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
  4. ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ: 
বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।

মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন 

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৬৯৮.
কয়লা রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. নিস 
  2. গ্রানাইট 
  3. গ্রাফাইট
  4. স্লেট 
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।
যেমন:
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২,৬৯৯.
বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোন জেলা?
  1. ভোলা
  2. সাতক্ষীরা
  3. চাঁদপুর
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ভোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোলা
ব্যাখ্যা
ভোলা ব-দ্বীপ:
- বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।
- জেলা হিসেবে  স্বীকৃতি পায়  ১৯৮৪ সালে।
- নোয়াখালী জেলার অধিনে sub division হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল ১৮৪৫ সালে।
- বর্তমান ভোলা জেলাতে ৭ টি উপজেলা, ৭০ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

এছাড়াও,
- বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন।
- এর স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।

[বাংলাদেশের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন। অপশনে সুন্দরবন না থাকায় অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ভোলা উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক]
২,৭০০.
পদ্মা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. ধরলা
  2. তিস্তা
  3. পুনর্ভবা
  4. ডাকাতিয়া
সঠিক উত্তর:
পুনর্ভবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনর্ভবা
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- পদ্মার অপর নাম কীর্তিনাশা।
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।
- শাখা নদী: মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি।
- উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উল্লেখ্য,
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।