বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৬ / ১২৪ · ৮,৫০১৮,৬০০ / ১২,৪২১

৮,৫০১.
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঙ্গ জনপদ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই'।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল। সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুদ্রা ও লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণের আলোকে ধরা হয়, খ্রিস্টীয় ৬ শতকে স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের উদ্ভব ঘটে।

অন্যদিকে,
- পুন্ড্র: প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫০২.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল -
i.বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা 
ii.বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দান 
iii.সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা 

নিচের কোনটি সঠিক?
  1. i ও ii
  2. i ও iii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘একুশ দফা’ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

• এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫০৩.
কোন জাতির আক্রমনের ফলে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে?
  1. ক) আর্য
  2. খ) মোঙ্গলীয়
  3. গ) হান
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ক) আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আর্য
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
- পণ্ডিতদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অথবা ১৪০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে
- তবে সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস সম্পর্কেও ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
- এই সভ্যতার সময়কাল মর্টিমার হুইলারের মতে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫০৪.
ভারতীয় উপমহাদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. ফিলিপ ফ্রান্সিস
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৫০৫.
হামিদুর রহমানের নকশায় বর্তমান শহীদ মিনার নির্মিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৬ সাল
  2. খ) ১৯৫৮ সাল
  3. গ) ১৯৬২ সাল
  4. ঘ) ১৯৬৩ সাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৩ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৩ সাল
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়।
-এটি ২৪ ফেব্রুয়ারী শহিদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান অনানুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারী দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।

- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৮,৫০৬.
ধর্মপালের মৃত্যুর পর সিংহাসনে কে বসেন?
  1. গোপাল
  2. রাজ্যপাল
  3. রামপাল
  4. দেবপাল
সঠিক উত্তর:
দেবপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের মৃত্যুর পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫০৭.
বাংলার স্বাধীন সুলতানী যুগের অবসান হয় কবে?
  1. ক) ১৪৯২ সালে
  2. খ) ১৫২৬ সালে
  3. গ) ১৫৩৮ সালে
  4. ঘ) ১৫৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫৩৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে যে স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেছিলেন ১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটে।
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করে বাংলায় আফগানি শাসনের সূত্রপাত করেন।
- গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৫০৮.
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. গৌড়
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫০৯.
শিশুদের পাঠদানের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষাপোকরণ কোনটি?
  1. পাঠ্যপুস্তক
  2. ব্ল্যাকবোর্ড
  3. চার্ট ও মডেল
  4. আধুনিক লিখন সামগ্রী
সঠিক উত্তর:
চার্ট ও মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্ট ও মডেল
ব্যাখ্যা
শিক্ষা উপকরণ:
- যেসব বস্তু বা দ্রব্য-সামগ্রী উত্তমরূপে ব্যবহার করে বিষয়বস্তুকে সহজ, আকর্ষণীয় ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা যায়, পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় এবং শিক্ষাদান কার্যকর ও স্থায়ী করা সম্ভব হয় তাদেরকে শিক্ষা উপকরণ বলা হয়।
- শিক্ষা উপকরণের সবচেয়ে পরিচিত ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক পুস্তক ইত্যাদি।
- এছাড়াও শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে শ্রেণীকক্ষে সাধারণভাবে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন- ব্লাকবোর্ড, চক, মার্কার কলম, ফ্লানেল বোর্ড ইত্যাদি।
- প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পাঠদান করলে শিশুরা সহজেই আকৃষ্ট হয়। 
- শিক্ষার্থীদের সামনে কঠিন বিষয়গুলো উপকরণের সহায়তায় উপস্থাপন করতে পারলে তারা অতি সহজেই অনুধাবন করতে পারে এবং দীর্ঘকাল তা শিক্ষার্থীর মনে টিকে থাকে।
- যে কোনো বিষয়ের জন্য একবার উপকরণ সংগ্রহ, তৈরি ও সংরক্ষণ করতে পারলে তা বহুদিন বিভিন্ন পাঠে ব্যবহার করা সম্ভব।
- এজন্য পরিবেশ থেকে পাঠ সহায়ক শিক্ষোপকরণের প্রয়োজনে কিছু বাস্তব জিনিসপত্র সংগ্রহ করা যেতে পারে।
- যেমন উল্লিখিত মডেল বা চার্ট তৈরি।
- শিক্ষা উপকরণগুলো তৈরি বা সংগ্রহ করে যদি একটি কক্ষে বিষয়ভিত্তিক সাজিয়ে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তা শিক্ষকের জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে।

উৎস: i) শিক্ষক বাতায়ন।
         ii) ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, দৈনিক ইত্তেফাক। 
৮,৫১০.
বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় কবে?
  1. ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  2. ০৪ মার্চ ২০২০
  3. ০৮ মার্চ ২০২০
  4. ১৮ মার্চ ২০২০
সঠিক উত্তর:
০৮ মার্চ ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০৮ মার্চ ২০২০
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ০৮ মার্চ ২০২০।
- করোনায় প্রথম ব্যক্তি মারা যায় ১৮ মার্চ ২০২০।
- ১৯ মার্চ মাদারীপুরের শিবচরে দেশের প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
- সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয় ২৬শে মার্চ ২০২০।
- কুর্মিটোলা হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা ২৭ জানুয়ারি ২০২১ দেশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোভিড-১৯ রোগের কোভিশিল্ড টিকা গ্রহণ করেন।
- গণপর্যায়ে টিকা প্রদান শুরু হয় ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- বর্তমানে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭৯,৭৯৬ জন
- মোট মৃতের সংখ্যা ১২,১২৪ জন
- মোট সুস্থ হয়েছেন ৭,২১,৪৩৫ জন।
(তথ্যসূত্র: সরকারি করোনা ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা)
৮,৫১১.
When did the Sepoy Mutiny take place?
  1. in 1857
  2. in 1911
  3. in 1933
  4. in 1891
সঠিক উত্তর:
in 1857
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1857
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল।

সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫১২.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কতজনকে বীরউত্তম খেতাব দেওয়া হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৬৩ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব: 
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৮,৫১৩.
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল -
  1. ঢাকা
  2. সোনারগাঁও
  3. গৌড়
  4. খ+গ
সঠিক উত্তর:
খ+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ+গ
ব্যাখ্যা
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও ও গৌড়।

সুলতানি আমল:
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।
- বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- এ সময় বাংলার সুলতানগণ বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন, জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন। 
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫১৪.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের কোন তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্থ তফসিলে
  2. খ) ষষ্ঠ তফসিলে
  3. গ) সপ্তম তফসিল
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
•প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর কোনটি নয়।  

- বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিল তফসিলে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে। 
- পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে আরও ৩টি তফসিল সংযোজন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে সংযোজন করা হয়।

• বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল আছে।
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমানে বিলুপ্ত।
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৮,৫১৫.
ভাল শিক্ষক হতে হলে-
  1. শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দরকার
  2. ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণ জানা দরকার
  3. নিজের বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দরকার
  4. ভাল প্রকাশভঙ্গি দরকার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দরকার
ব্যাখ্যা
ভালো শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতা:

- শিক্ষক হল মানুষ গড়ার কারিগর।
- ভাল শিক্ষক হতে হলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ দরকার।
- তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের কিছু গুনাবলী থাকা দরকার।
- শিক্ষার সর্বস্তরে শিক্ষকই হলেন শিক্ষাকর্মের মূল উৎস।
- একদিকে শিক্ষাদান কাজ যেমন জটিল অন্যদিকে এটি একটি মহান পেশাও বটে।
- একজন ভালো শিক্ষকের পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করার যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার।
৮,৫১৬.
কত সালে ডেনিস ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়?
  1. ক) ১৬০২ সালে
  2. খ) ১৬১৬ সালে
  3. গ) ১৬২০ সালে
  4. ঘ) ১৬২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১৬ সালে
ব্যাখ্যা
দিনেমার
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
- ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

অন্যদিকে -
- ওলন্দাজ বণিকরা ভারতে আসে ১৬০২ সালে।
- দিনেমাররা ভারতের তাঞ্জোর জেলায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬২০ সালে।
- ওলন্দাজরা প্রথম বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে ১৬২৫ সালে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫১৭.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. ড. মোশাররফ হোসেন
  3. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  4. ড. এস. আর. বোস
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• পরিকল্পনা কমিশন গঠন:
- দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না, তাই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী এবং
সদস্য ছিলেন - 
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ,
(২) ড. মোশাররফ হোসেন,
(৩) ড. এস. আর. বোস এবং
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫১৮.
ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯১৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯১৬সালে।

লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫১৯.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার স্থাপিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬৩ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮,৫২০.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) অলি আহাদ
  3. গ) আবদুল মতিন
  4. ঘ) গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মতিন
ব্যাখ্যা
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামেও পরিচিত) এবং আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা - আহমদ রফিক : বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৮,৫২১.
‘Parrot of India’ বা 'তোতা-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. ক) তানসেনকে
  2. খ) আমীর খসরুকে
  3. গ) আবুল ফজলকে
  4. ঘ) গালিবকে
সঠিক উত্তর:
খ) আমীর খসরুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমীর খসরুকে
ব্যাখ্যা

১) তানসেনকে সঙ্গীত সম্রাট বলা হয়। তার একমাত্র উপাধি ছিল "মিয়া", মানে হল জ্ঞানী ব্যাক্তি।
২) আমীর খস্রু কে বলা হয় "Parrot of India" তোতা-ই-হিন্দ।
৩) বিখ্যাত নেত্রী সরোজিনী নাইডু, তিনি বিশিষ্ট কবিও ছিলেন। তাঁর রচিত কবিতা সংগ্রহ The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন।
১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।

৮,৫২২.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অবস্থান বর্তমানে কোথায়?
  1. ক) মিরপুর
  2. খ) শাহবাগ
  3. গ) সেগুনবাগিচা
  4. ঘ) আগারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগরে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত।
সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট
৮,৫২৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে কত জনের খেতাব বহাল রয়েছে?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৩ জন
  3. ৬৭৪ জন
  4. ৬৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
 
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।
 
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫২৪.
পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন: 
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ। ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়। এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে। আলোচনার পর ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

⇒ ১৯৫৮ সালেই এ শাসনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
- এটি ছিল আসলে সামরিক অভ্যুত্থান।
- সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা এক ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন।
- কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারকে তিনি বরখাস্ত করেন। সাথে সাথে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দেন। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও বাতিল করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫২৫.
কোন আমল থেকে সমগ্র বাংলাদেশের অধিবাসীরা 'বাঙালি' নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. ইলিয়াস শাহী আমল
  2. গুপ্ত আমল
  3. পাল আমল
  4. হোসেন শাহী আমল
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াস শাহী আমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াস শাহী আমল
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহী আমল: 
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্র করতে পারেননি।
- তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ স্থানীয় জনগণের মন জয় করার জন্য উদারনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁরা জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে শাসনকার্যে ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেন।
- তাঁরা দেশীয় ভাষা ও সাহিত্যের সমাদর এবং দেশীয় কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাঁদের উদার নীতির ফলে বাংলাদেশে সামাজিক জীবনে এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- ইলিয়াস শাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৫২৬.
স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার কতজন সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
  1. ৫ জন
  2. ৭ জন
  3. ৯ হন
  4. ১১ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫২৭.
ইলিয়াস শাহ কত খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও অধিকার করেন?
  1. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৮২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন। 
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন। 
- তিনি ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাঁও দখল করেন। এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫২৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জলাঙ্গী
  2. ওরা ১১ জন
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন
ব্যাখ্যা
ওরা ১১ জন:
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র হলো "ওরা ১১ জন"।
- ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা ও ত্যাগের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম এবং প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।

বিশেষ তথ্য:
- এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার যোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা।
- বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- এটি পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

অন্যদিকে,
• 'জলাঙ্গী'- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড'- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'- সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৮,৫২৯.
ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন কে?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড হার্ডিঞ্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
ইলবার্ট বিল:
- ইলবার্ট বিল প্রণয়ন করেন লর্ড রিপন।

⇒ লর্ড রিপন ভারতে আসার আগে কোন ভারতীয় বিচারকরা কোন অভিযুক্ত ইংরেজের বিচার করতে পারত না।
- এই বৈষম্য দূর করতে লর্ড রিপনের পরামর্শে তার আইন সচিব ইলবাট একটি বিলের খসড়া রচনা করেন।
- এই খসড়া বিলে ভারতীয় বিচারকদের ইংরেজ অভিযুক্তের বিচার করার অধিকার দেওয়া হয়।
- এই খসড়া বিলই ইলবার্ট বিল (১৮৮৩) নামে পরিচিত।

⇒ ইলবার্ট বিল বিতর্ক ভারতের বিশেষত বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ও সার্বজনীন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- ইলবার্ট বল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) এবং পরে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩০.
ব্রিটিশ ভারতের কোন ভাইসরয় বঙ্গভঙ্গ রদের সুপারিশ করেন?
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
কিন্তু কংগ্রেস ও বর্ণ হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
গর্ভনর জেনারেল বা বড়লাট (ভাইসরয়) লর্ড হার্ডিঞ্জের সুপারিশে ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৮,৫৩১.
When was the flag of Bangladesh first raised?
  1. March 25, 1971
  2. March 7, 1971
  3. March 2, 1971
  4. March 26, 1971
  5. None
সঠিক উত্তর:
March 2, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
March 2, 1971
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে উত্তোলিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন হয় কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) ২ মার্চ, ২০২২, প্রথম আলো।
৮,৫৩২.
Who is the first martyr of the 1969 revolution?
  1. ক) Professor Shamsuzzoha
  2. খ) Amanullah Asaduzzaman
  3. গ) Sergeant Zahurul Haq
  4. ঘ) Matiur Rahman Mallik
সঠিক উত্তর:
খ) Amanullah Asaduzzaman
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Amanullah Asaduzzaman
ব্যাখ্যা
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
- মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৫৩৩.
নিচের কোন জেলাটি চায়ের জন্য প্রসিদ্ধ?
  1. বরিশাল
  2. বগুড়া
  3. সিলেট
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
⇒ সিলেট জেলাটি চায়ের জন্য প্রসিদ্ধ।

সিলেট:

- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এ জেলা ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল
- সিলেট জেলার উত্তরে ভারতের খাসিয়া, জৈন্তিয়া পাহাড় (ভারতের মেঘালয় রাজ্য), দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা (ভারতের আসাম রাজ্য) ও পশ্চিমে সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ জেলা।
- আয়তন: ৩,৪৫২.০৭ বর্গ কি.মি বা ১৩৩২.০০ বর্গমাইল।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলাকে ৪টি নতুন জেলায় বিভক্ত করা হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১ আগস্ট সিলেট বিভাগের সৃষ্টি হয়।
- সুরমা-কুশিয়ারা নদীবেষ্টিত এ জেলায় রয়েছে অনেক হাওর-বিল, ছোট বড় টিলা কানন। রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির অংশ বিশেষ।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা।
- বাণিজ্যিক ভাবে চা উৎপাদনের জন্যে ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট শহরের এয়ারপোর্ট রোডের কাছে মালনীছড়া চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - সিলেট জেলা ওয়েবসাইট।
৮,৫৩৪.
‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’-উক্তিটি কার?
  1. আইয়ুব খান
  2. টিক্কা খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. খাজা নাজিমউদ্দিন
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
জেনারেল টিক্কা খান:
- জেনারেল টিক্কা খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় সামরিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার জন্য তিনি ‘বাংলাদেশের কসাই’ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬২ সালে তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
- ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- বাংলাদেশের  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টিক্কা খানকে পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁকে জেনারেল পদে উন্নীত করেন ।
- ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা।
- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর তৎকালীন পাকিস্তানে পোড়া মাটি নীতি বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’।
- ফলশ্রুতিতে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রি। 
- ২৫শে মার্চ পাক-হানাদার বাহিনী স্বাধীনতাকামী বাঙালির উপর হিংস্র দানবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 

উৎস: i) বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৩৫.
The present Permanent Representative of Bangladesh to the United Nations Office at Geneva is -
  1. ক) Muhammad Abdul Muhith
  2. খ) Mohammad Sufiur Rahman
  3. গ) Rabab Fatima
  4. ঘ) Ismat Jahan
সঠিক উত্তর:
খ) Mohammad Sufiur Rahman
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Mohammad Sufiur Rahman
ব্যাখ্যা
•  জুলাই ২০২২ সালে সুফিউর রহমানকে জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরগুলোয় বাংলাদেশের পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করেছে সরকার।
- এ দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করবেন।

• বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ এস এ করিম জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম স্থায়ী - প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
- ২০০৭ সালের ১৮ জুন জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে ইসমাত জাহান নিয়োগ পান।
- রুবাব ফাতিমা ২য় নারী স্থায়ী প্রতিনিধি।
- মোহাম্মদ আবদুল মুহিতকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
- তিনি নিউইয়র্কে রাবাব ফাতিমার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

সূত্র: জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন ওয়েবসাইট।
৮,৫৩৬.
ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) দুদু মিয়া
  2. খ) মীর নিসার আলী
  3. গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
  4. ঘ) মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাজী শরিয়াত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:

- হাজী শরিয়াত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- হাজী শরিয়াত উল্লাহ মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৩৭.
শশাঙ্ক প্রাচীন বাংলার কোন অঞ্চলের শাসক ছিলেন?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. গৌড়
  4. চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
প্রাচীন বাংলা:
- সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা গৌড়রাজ্য নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৫৩৮.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চকে কী বলা হয়?
  1. কালরাত্রি
  2. জাতীয় গণহত্যা দিবস
  3. নীলনকশা দিবস
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ: 
- ১৭ই মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক কর্মসূচির মাধ্যমে বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে।
- ২৫শে মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা, 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু হয়।
- ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫শে মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানুষকে।
- পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় ও নৃশংসভাবে গণহত্যা ঘটায়।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ শে মার্চের রাত 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- এ দিবসটি এখন 'জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,৫৩৯.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা
সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
তার মধ্যে - 
 → একটি ভারত এবং
 → অপরটি মিয়ানমার।

 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা -৩২টি।
 → ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
 → মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত থাকা জেলাগুলো হলো - কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান।
 → ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৪০.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে -
  1. ক) ই. পি. আর.
  2. খ) আনসার ভিডিপি
  3. গ) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
  4. ঘ) পুলিশ
সঠিক উত্তর:
গ) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
সশস্ত্র প্রশিক্ষণ ও পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ

- জয়দেবপুরে প্রথম সশস্ত্র গণপ্রতিরোধের সূচনা হয়।
- ৭ মার্চের পর এখানে মো. হাবিবুল্লাহ, আ.ক.ম. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধ শুধু গাজীপুরে নয় সারা দেশের সার্বিক স্বাধীনতার সংগ্রামে তাৎপর্যপূর্ণ।
- ২৫ মার্চ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের আগেই জয়দেবপুরবাসী গর্জে ওঠে।
- ঐদিন ব্রিগেডিয়ার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল ঢাকা থেকে জয়দেবপুরে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের (দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) বাঙালি সৈনিকদের অস্ত্র জমা নেওয়ার জন্য এলে পথে হাজার হাজার লোক দুর্ভেদ্য ব্যারিকেড দেয়।
- জয়দেবপুর রেলক্রসিং-এর কাছে লাঠি, তীর, বন্দুক ছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগত কয়েকটি বন্দুক নিয়ে উপস্থিত হয়।
- সেদিন জনতার অনুরোধে ৫ জন বাঙালী সৈনিক পাঞ্জাবি সৈনিকদের ওপর প্রথম গুলি ছুঁড়ে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক প্রথম আলো।
৮,৫৪১.
বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড কোন কোন শহরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) চট্রগ্রাম থেকে লাহোর
  2. খ) দাউদকান্দি থেকে করাচি
  3. গ) সোনারগাঁও থেকে ইসলামাবদ
  4. ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
ব্যাখ্যা
চৌসারের যুদ্ধে (১৫৩৯) হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরখান (শেরশাহ) নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। ১৫৪০ সালে তিনি বাংলা দখল করে নেন।
তিনি বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে লাহোর পর্যন্ত ২৭০০ কি.মি (১৭০০ মাইল) দীর্ঘ একটি মহাসড়ক ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মান করেন।
পরবর্তীতে ইংরেজগণ এ রাস্তা সংস্কার করে নাম দেয় ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড।
এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন। তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৪২.
১৯৬৯ সালের২০ জানুয়ারি ধর্মঘট চলাকালে গুলিতে নিহত হন কে?
  1. ক) ড. শামসুজ্জোহা
  2. খ) ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান
  3. গ) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
  4. ঘ) সার্জেন্ট ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা

- ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদের যৌথ প্রচেষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা সেনানিবাসে আগরতলা মামলার আসামী সার্জেন্ট জহরুল হককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অপর আসামী সার্জেন্ট ফজলুল হক গুরুতর আহত হন।
- পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি সারা পূর্ব বাংলায় ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। ধর্মঘট চলাকালে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত হন।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড: সামসুজ্জোহাকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে। কয়েকজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হন।

তথ্যসূত্র- ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫৪৩.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রটি হল-
  1. দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র
  2. প্রথম শাসনতন্ত্র
  3. তৃতীয় শাসনতন্ত্র
  4. চতুর্থ শাসনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• শাসনতন্ত্র ১৯৫৬:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। 

• এ শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:

- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
- এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়।
- এ ক্ষেত্রে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনসরণ করা হয়।

• প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়।
- রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৪৪.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন -
  1. শশাঙ্ক
  2. গোপাল
  3. বিজয় সেন
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৪৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৩
  2. খ) ২৩ক
  3. গ) ২৩খ
  4. ঘ) ২৪
সঠিক উত্তর:
ক) ২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৩
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ২৩
জাতীয় সংস্কৃতি:
রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন৷

অনুচ্ছেদ - ২৩ক
• উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:
রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

সূত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৮,৫৪৬.
কোন বিষয়টি 'ছয় দফায়’ অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
  2. বিচারিক আদেশ ক্ষমতা
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
বিচারিক আদেশ ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারিক আদেশ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
‘ছয় দফার মধ্যে 'বিচারিক আদেশ ক্ষমতা' বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

৬ দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যা দেন।
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

• ছয়টি দফা হলো-
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা,
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা,
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা,

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৫৪৭.
কোন দেশের সহায়তায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ভারত
  3. গ) চীন
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চীন
ব্যাখ্যা
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটির অবস্থান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায়।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়। বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) জয়েন্ট বেঞ্চার হিসেবে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয়ের ৮০ শতাংশ চীন ঋণ সহায়তা বাবদ প্রদান করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই উৎপাদনে আসে।

(তথ্যসূত্র: NWPGCL ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার)
৮,৫৪৮.
খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আতাহার আলী
  2. মাওলানা আহমদ আলী
  3. মাওলানা শওকত আলী
  4. মাওলানা আব্দুল আলী
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা শওকত আলী
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
 
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়। 
- এই আন্দোলনে নেতৃত্বদেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৪৯.
কোন পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করে?
  1. ক) পাকিস্তান অবজারভার
  2. খ) মিল্লাত
  3. গ) দৈনিক আজাদ
  4. ঘ) মর্নিং নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে থাকা সংবাদপত্রসমূহ:
- সৈনিক,
- ইত্তেফাক,
- আজাদ,
- সংবাদ,
- অগত্যা,
- মিল্লাত,
- ইনসাফ,
- জিন্দেগী,
- পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি।

অন্যদিকে, ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৮,৫৫০.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. আজিমপুর
  2. সেগুনবাগিচা
  3. শাহবাগ
  4. মিরপুর
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেগুনবাগিচা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট:

- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত।
- ১৫ মার্চ ২০০১ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি এ আনান-এর উপস্থিতিতে এ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও ক্ষুদ্র জাতিসমূহের ভাষা সংগ্রহ, সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বাংলাসহ অন্যান্য ভাষা আন্দোলনের তথ্যসংগ্রহ ও গবেষণা এবং ইউনেস্কোর সদস্য দেশসমূহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্যাবলি পৌঁছে দেওয়া।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই) ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আইন ২০১০ অনুযায়ী তিনিই এ ইনস্টিটিউটের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
- তাঁর সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইনস্টিটিউট পরিণত হয়েছে ইউনেস্কো-র ক্যাটেগরি ২ প্রতিষ্ঠানে।

তথ্যসূত্র - আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮,৫৫১.
কুখ্যাত 'রাওলাট আইন' পাশ হয় কার আমলে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর:
লর্ড চেমসফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড চেমসফোর্ড
ব্যাখ্যা
- চেমসফোর্ডের আমলে ১৯১৯ সালে কুখ্যাত রাওলাট আইন পাস হয়। 

লর্ড চেমসফোর্ড:

- লর্ড চেমসফোর্ড ছিলেন ভারতবর্ষের ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর পুরো নাম ছিল ফ্রেডারিক জন থেসিয়ার (Frederic John Thesiger)।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৫ সালে তিনি ব্যারন উপাধি পান এবং ১৯০৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর হিসেবে কাজ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, 
- লর্ড চেমসফোর্ড ১৯১৬ সালে ভারতের ভাইসরয় হিসেবে লর্ড হার্ডিঞ্জ-এর স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর আমলে ১৯১৮ সালে মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যা ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে সঙ্ঘবদ্ধ করা হয়। এই আইনের অধীনে ভারতীয় জনগণের ওপর আরো কঠোর শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। চেমসফোর্ডের আমলে ১৯১৯ সালে কুখ্যাত রাওলাট আইন পাস হয়, এর মাধ্যমে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি করে। লর্ড চেমসফোর্ড ১৯৩৩ সালের ১ এপ্রিল মারা যান।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৫২.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কোথায়?
  1. করাচি
  2. ইসলামাবাদ
  3. রাওয়ালপিন্ডি
  4. লাহোর
সঠিক উত্তর:
লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোর
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- তিনি লাহোরে এই ঘোষনা দেন।

ছয় দফা কর্মসূচি,
১) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম ।
২) শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩) দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪) আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে ।
৫) দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬) অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৫৩.
'বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. সুন্দরবনের দক্ষিণে
  2. টেকনাফের দক্ষিণে
  3. মেঘনার মোহনায়
  4. মহেশখালী দক্ষিণে
সঠিক উত্তর:
সুন্দরবনের দক্ষিণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরবনের দক্ষিণে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু দ্বীপ:
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু দ্বীপ যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সুন্দরবনের অংশ 'দুবলার চর' থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ।
- ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস শিকারী।
- এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ' এবং সেখানে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপটির আয়তন ক্রমেই বড় হচ্ছে এবং না ডুবে স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে।
- এটি নতুন পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান।

উৎস: ৪ জুলাই, ২০১৭, কালের কন্ঠ।
৮,৫৫৪.
শাহ-ই বাঙালা নামে খ্যাত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বৃহত্তর (অখন্ড) বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. ক) ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৩৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৩১৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার উপাধি ছিলো ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৫৫৫.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের  নির্বাচনী ইশতেহার ছিল-
  1. ৬ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ১৮ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫৫৬.
ঢাকার বাহিরে অপারেশন সার্চলাইটের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. টিক্কা খান
  4. খাদিম হোসেন রাজা
সঠিক উত্তর:
খাদিম হোসেন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদিম হোসেন রাজা
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
৮,৫৫৭.
তাজমহল ভারতের কোন প্রদেশে অবস্থিত?
  1. পাঞ্জাব
  2. হায়দারাবাদ
  3. কলকাতা
  4. উত্তর প্রদেশ
সঠিক উত্তর:
উত্তর প্রদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর প্রদেশ
ব্যাখ্যা
তাজমহল: 
- তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহান। 
- এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত। 
- এটির অপর নাম মমতাজ মহল। 
- মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রী, যিনি মমতাজ বেগম নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। 
- সৌধটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে যা সম্পূর্ণ হয়েছিল প্রায় ১৬৫৩ খ্রিস্টাব্দে। 
- তাজমহলকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। 
- এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।।
৮,৫৫৮.
Who is the director of the internationally acclaimed short film ‘Chaka’?
  1. Sheikh Niyamat Ali
  2. Tareque Masud
  3. Tanveer Moqammel
  4. Morshedul Islam
সঠিক উত্তর:
Morshedul Islam
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Morshedul Islam
ব্যাখ্যা

• স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'চাকা': 
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত 'চাকা' এর আগে বেশ কয়েকটি দেশি ও আন্তর্জাতিক উৎসবে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখে।
- এ ছবির জন্য ১৯৮৫ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দশম ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন মোরশেদুল ইসলাম।
- ১৯৯৩ সালে জার্মানির ম্যানহাইম চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কার ও ইন্টারফিল্ম পুরস্কার জেতে 'চাকা'।
- ছবিটির জন্য ১৯৯৪ সালে ফ্রান্সের ডানকার্ক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের সম্মান অর্জন করেন মোরশেদুল ইসলাম। 
-এ ছাড়া ১৯৯৫ সালে 'চাকা' ছবিটি ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ 'জর্জেস ও রুতা সাদুল' পুরস্কার জিতে নেয়।
তথ্যসূত্র: সমকাল, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৮,৫৫৯.
কোন ভাষা শহীদ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে শহীদ হননি?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) রফিক উদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন। ২২ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন। অনেকে গ্রেফতার হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৮,৫৬০.
অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর-
  1. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
  2. হামিদুজ্জামান খান
  3. রাফিউদ্দীন আহমেদ
  4. আরিফুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:

- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়ণ করেছে।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ।
- এর নাম দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।
- ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটি তৈরি করা শুরু হয়।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অপরাজেয় বাংলা উদ্বোধন করা হয়।
- ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এর উচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট ও ব্যাস ৬ ফুট।
- এই ভাস্কর্যটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।
- বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
৮,৫৬১.
মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন কে?
  1. হোসেন তাওফিক ইমাম
  2. আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. খন্দকার আসাদুজ্জামান
  4. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
হোসেন তাওফিক ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন তাওফিক ইমাম
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান।
- মুজিবনগর সরকারের ‘ক্যাবিনেট সচিব’ ছিলেন হোসেন তাওফিক ইমাম। 
- তিনি এইচ.টি ইমাম নামে সর্বজন পরিচিত।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (লিঙ্ক)
৮,৫৬২.
আওরঙ্গজেব কোন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. শাহজাহান
  2. জাফর খান
  3. আকবর-ই-আজম
  4. আলমগীর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর
ব্যাখ্যা
- সিংহাসনে বসার পর আওরঙ্গজেব "আলমগীর" উপাধি গ্রহণ করেন, যার অর্থ ‘বিশ্বজয়ী’।

আওরঙ্গজেব:
- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মোগল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৬৩.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিতে যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. ক) শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) স্ব মুদ্রা ব্যবস্থা
  4. ঘ) বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিচার ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল না।

১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ছয় দফায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
- কর সংক্রান্ত ক্ষমতা
- বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ক্ষমতা
- আঞ্চলিক বাহিনী গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৬৪.
অপারেশন জ্যাকপট পরিচালিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১০ জুলাই
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ২৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই অপারেশনে অংশ নেয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮,৫৬৫.
একদিনের ক্রিকেট ম্যাচ বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস কার?
  1. ক) সাকিব আল হাসান
  2. খ) তামিম ইকবাল
  3. গ) লিটন দাস
  4. ঘ) মুশফিকুর রহিম
সঠিক উত্তর:
গ) লিটন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিটন দাস
ব্যাখ্যা
লিটন দাস:
- বাংলাদেশের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন লিটন দাস।
- ২০২০ সালের ৬ মার্চ সিলেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিনি ১৪৩ বলে ১৭৬ রান করেন যা বাংলাদেশের যেকোন ব্যাটসম্যানের পক্ষে সর্বাধিক।
উল্লেখ্য,
- লিটন দাস বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে একজন উইকেট কিপার এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
- তিনি ২০১৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন।
- তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর করেছেন (১৭৬)।
- তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২য় সবচেয়ে কম বলে অর্ধশতক রান করেন (১৮ বলে) যা ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে কম বলে অর্ধ শতক রান করার রেকর্ড।
- তিনি বর্তামানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রেষ্ঠ ওপেনার।

অন্যদিকে -
- এর আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিলো তামিম ইকবালের (১৫৮ রান)।

উৎস: ESPN Cricinfo.
৮,৫৬৬.
সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. বিক্রমপুর
  2. নাব্য
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. পুণ্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৮,৫৬৭.
তাসখন্দ চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশ কোনটি?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. জার্মানি
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সূচনা।
- ১৯৪৮ সালে কাশ্মীর নিয়ে দুদেশের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ হয়।
- ১৯৬৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- অতঃপর সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী মি. কোসিগিনের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দে ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তিটি ইতিহাসে ‘তাসখন্দ চুক্তি' নামে পরিচিত।
- এ চুক্তি অনুযায়ী দু দেশের বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৮,৫৬৮.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. ড: শামসুজ্জোহা
  3. মতিউর রহমান
  4. জহুরুল হক
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
• এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন। 
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হোন। 
• তিনি গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
• আসাদ দিবস: ২০ জানুয়ারি।
• তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নামানুসারে আইয়ুব গেইটের নামকরণ করা হয় আসাদ গেইট । 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৬৯.
রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়-
  1. ক) আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর মধ্যে
  2. খ) সম্রাট বাবর ও দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির মধ্যে
  3. গ) আহমদ শাহ দুররানি ও মারাঠাদের মধ্যে
  4. ঘ) আফগান নেতা শের খান ও সম্রাট হুমায়ুন মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ক) আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর মধ্যে
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূচনা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৭০.
নিচের কোন চলচ্চিত্রটি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত?
  1. ক) ধীরে বহে মেঘনা
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) চিত্রা নদীর পাড়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্রা নদীর পাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিত্রা নদীর পাড়ে
ব্যাখ্যা
'চিত্রা নদীর পাড়ে' ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল।
এটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় এবং ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ সাতটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
অন্যদিকে, ‘আগুনের পরশমণি’; ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ এবং ‘ধীরে বহে মেঘনা’ হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
(সূত্রঃ প্রথম আলো এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র)
৮,৫৭১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন -
  1. এম. আর. খান
  2. মকসুমুল হাকিম
  3. মনজুর কাদের
  4. এস. এ. রহমান
সঠিক উত্তর:
মনজুর কাদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনজুর কাদের
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি. এইচ. খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস. এ. রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম. আর. খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৭২.
কবে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়?
  1. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল
  2. ৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
  3. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৫ সাল
  4. ৩০ মে, ১৯৫৫ সাল
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের শাসনামল (১৯৫৪-৫৮):
- যুক্তফ্রন্ট গঠনের সময় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়লাভ করলে এ. কে. ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট পার্লামেন্টারি বোর্ডের নেতা নির্বাচিত হবেন।
- সে অনুযায়ী তিনি পূর্ববাংলায় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পান।
- তিনি ৩ এপ্রিল (১৯৫৪) মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় কেন্দ্রীয় সরকার সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্টের ভাঙন চেয়েছে।
- মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের সঙ্গে মনোমালিন্য, ৩০ এপ্রিল কোলকাতায় ফজলুল হক প্রদত্ত ভাষণের অপব্যাখ্যা, পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার বাঙালি-অবাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে সংঘটিত দাঙ্গা প্রভৃতি ফজলুল হককে বেকায়দায় ফেলে।
- 'নিউইয়র্ক টাইমস' এর সংবাদদাতা জন পি. কালাহান এ.কে. ফজলুল হকের সাক্ষাতকার বিকৃত করে প্রকাশ করেন।
- উক্ত সাক্ষাতকারে ফজলুল হক পূর্ববাংলার অধিক স্বায়ত্তশাসন পাওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।
- কিন্তু কালাহান লেখেন যে, ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা চান।
- কেন্দ্রীয় সরকার কালাহানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ফজলুল হককে দেশদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করে (৩০ মে, ১৯৫৪) প্রদেশের ওপর গভর্নরের শাসন জারি করে।
- পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন চলে ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৭৩.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ কার নিকট জবাবদিহি করে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইন বিভাগ
  4. জনগণ
সঠিক উত্তর:
আইন বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন বিভাগ
ব্যাখ্যা
একটি রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ থাকে।
যথা-
- আইন বিভাগ,
- বিচার বিভাগ,
- নির্বাহী বা শাসন বিভাগ।

কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ জবাবদিহি করে আইন বিভাগের নিকট।
বাংলাদেশের সরকার নির্বাহী বা শাসন বিভাগ সংসদ বা আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,৫৭৪.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী সর্বশেষ দেশ -
  1. ক) চীন
  2. খ) ইরাক
  3. গ) ভূটান
  4. ঘ) ভারত
সঠিক উত্তর:
ক) চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চীন
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী সর্বশেষ দেশ - চীন।
- প্রথম রাষ্ট্র ভুটান, ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- দ্বিতীয় রাষ্ট্র ভারত, ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- এ পর্যন্ত ১৫০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম:
- দেশ – ভুটান – ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
- আরব দেশ – ইরাক – ৮ জুলাই ১৯৭২
- মধ্যপ্রাচ্যের দেশ – ইরাক – ৮ জুলাই ১৯৭২
- সমাজতান্ত্রিক দেশ – পূর্ব জার্মানি ও মঙ্গোলিয়া – ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
- উপসাগরীয় দেশ – কুয়েত – ৪ নভেম্বর ১৯৭৩
- আফ্রিকান ও মুসলিম দেশ – সেনেগাল – ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
- ইউরোপীয় দেশ – পূর্ব জার্মানি – ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
- উত্তর আমেরিকার দেশ – বার্বাডোস – ২০ জানুয়ারি ১৯৭২
- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ – ভেনিজুয়েলা – ২ মে ১৯৭২
- ওশেনিয়ার দেশ – টোঙ্গা – ২৪ জানুয়ারি ১৯৭২
- এশীয় মুসলিম দেশ – ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া – ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২

উৎস: বিবিসি।

৮,৫৭৫.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন দেশে যান?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাজ্য
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. যুগোশ্লাভিয়া
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।

৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন গমন করেন। সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে তিনি দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন।
১০ জানুয়ারি দিনটিকে বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৫৭৬.
'বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে' - এটি ছয় দফার কততম দফায় উল্লেখ রয়েছে?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) ষষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।

১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 
২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। 
৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 
৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা—সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৭৭.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ৫নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৪নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন: ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮,৫৭৮.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত? 
  1. খুলনা
  2. মেহেরপুর
  3. ফরিদপুর
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:

• ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামেই বেশি পরিচিত।
• মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
• মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল।
• মুজিবনগর মেহেরপুর জেলার ভবের পাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় অবস্থিত। 
• বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর। 
• ১০ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডের বৈধকরণ করা হয়।
• মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ছিল।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৭৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কোন দেশটি সর্বাত্মক সহায়তা করে?
  1. ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) চীন
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) সৌদি আরব
সঠিক উত্তর:
গ) ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী ভারত সর্বাত্মক সহায়তা করে। ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরনার্থীর আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তা করে। মুজিবনগর সরকার ও মুক্তিবাহিনী কে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার ক্ষেত্রে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য।
এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং শেষদিকে যুদ্ধে ভারতের সরাসরি অংশগ্রণের ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন দ্রুততর ও সহজ হয়।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং সৌদি আরর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষালম্বন করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৫৮০.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. জননী
  2. বর্ণমালা
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৫৮১.
নিচের কোনটি আইয়ুব বিরোধী জোট?
  1. ক) সিপিবি (CPP)
  2. খ) কপ (COP)
  3. গ) এনডিপি (NDP)
  4. ঘ) বাসদ
সঠিক উত্তর:
খ) কপ (COP)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কপ (COP)
ব্যাখ্যা
আইয়ুব বিরোধী জোট:
- ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধান কার্যকর হলে সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- এন. ডি. এফ: সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- COP: ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কাউন্সিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দল মিলে ‘সম্মিলিত বিরোধী দল' (Combined Opposition Party, COP) নামে একটি জোট গঠন করে।
- COP গঠিত হয় ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই।

অন্যদিকে -
- নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) হলো কানাডার একটি ফেডারেল রাজনৈতিক দল। 
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবি হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী রাজনৈতিক দল। এ পার্টি অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকার বহন করে। ভারত বিভাজনের পর ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ এ দল পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) হচ্ছে বাংলাদেশের একটি কমিউনিস্ট দল। বাসদ ১৯৮০ সালে ৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠন টি বর্তমানে বাংলাদেশে বামপন্থীদের জোটবদ্ধ সংগঠন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে একত্রে কাজ করে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৮২.
কোন ইউরোপীয় ভারত আসার জলপথ আবিস্কার করেন?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  3. ভাস্কো-ডা-গামা
  4. ফ্র্যান্সিস ড্রেক
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-ডা-গামা
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজ নাবিক  ভাস্কো-ডা-গামা প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- তিনি ইউরোপীয় ভারত আসার জলপথ আবিস্কার করেন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজরা ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আসে কিন্তু ক্রমে তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের দিকে মনোনিবেশ
করে।
- ১৫৩৮ সালে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে বাণিজ্যঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৫৭৯ সালে হুগলী নামক স্থানে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

৮,৫৮৩.
চীন কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ১৯৭৫ সালের ১১ জুলাই
  2. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭৫ সালের ২২ আগস্ট
  4. ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ১৫০টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে সর্বপ্রথম ভুটান স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়েছিল।

⇒ সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় ৪ এপ্রিল, ১৯৭২।
- প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইরাক ৮ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮,৫৮৪.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কোন অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. নদীয়া
  3. সোনারগাঁও
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁও এর শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে তার বর্মরক্ষক ‘ফখরা’ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ নামধারণ করে সোনারগাঁও এর সিংহাসনে বসেন এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- এভাবেই বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয় যা প্রায় দুইশ বছর স্থায়ী ছিলো।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ সাল থেকে ১৩৪৯ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে রাজত্ব করেন।
- চট্টগ্রাম জয় করার মাধ্যমে তিনি তার রাজ্য বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত করেন। তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেন।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,৫৮৫.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. বিমান বাহিনী
  2. নৌবাহিনী
  3. মিত্র বাহিনী
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৮,৫৮৬.
অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা কোথায় থেকে চূড়ান্ত করা হয়? 
  1. যশোর সেনানিবাস থেকে
  2. ঢাকা সেনানিবাস থেকে
  3. শিয়ালকোট সেনানিবাস থেকে
  4. রাওয়ালপিন্ডি সেনানিবাস থেকে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাস থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাস থেকে
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইট:
- ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি:
পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

• ১৭ মার্চচীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন (১৮ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এটি পাঁচ পৃষ্ঠার পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- ২৪-২৫ মার্চপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেনারেল হামিদ, জেনারেল এ. ও. মিঠঠি এবং কর্নেল সাদউল্লাহ হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
- ২৫ মার্চ, রাত ১টাঅপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযান শুরু: - ঢাকায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম রাজা।
- লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- পূর্ব-প্রস্তুতি (ইতোমধ্যে)অভিযান সফল করার জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খানের দু’জন ঘনিষ্ঠ অফিসার—মেজর জেনারেল ইখতেখার জানজুয়া এবং মেজর জেনারেল এ.ও. মিঠঠি কে ঢাকায় আনা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৫৮৭.
আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ক) তৃতীয় কাউন্সিলে
  2. খ) ষষ্ঠ কাউন্সিলে
  3. গ) পঞ্চম কাউন্সিলে
  4. ঘ) দ্বিতীয় কাউন্সিলে
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ কাউন্সিলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষষ্ঠ কাউন্সিলে
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ৫ জুলাই দ্বিতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত টানা চার মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মতো পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের প্রথম কমিটিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে বন্দি অবস্থায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
৮,৫৮৮.
'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামক ঘটনাটি কোন নবাবের শাসনামলের সাথে জড়িত?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা

  2. আলীবর্দী খান
  3. নবাব মুর্শিদকুলী খান
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
সিরাজ-উদ-দৌলা

উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজ-উদ-দৌলা

ব্যাখ্যা

- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের পর ফোর্ট উইলিয়ামের একটি ছোট কক্ষে অনেক ইংরেজ সৈন্যকে বন্দী করে রাখা হয় এবং সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয় বলে ইংরেজরা দাবি করে।

অন্ধকূপ হত্যা:
- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫৮৯.
প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' এর আহ্বায়ক ছিলেন-
  1. নুরুল হক ভূঞা
  2. শামসুল আলম
  3. গাজীউল হক
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
নুরুল হক ভূঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হক ভূঞা
ব্যাখ্যা
প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:

• ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
• ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠন করা হয় (এটি দ্বিতীয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নামেও পরিচিত) এবং আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।
• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় গঠিত 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব।
- এটি ৪০ সদস্য বিশিষ্ট ছিল।
• ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯০.
প্রথম নির্মিত শহিদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কে?
  1. নেয়ামত উল্লাহ
  2. আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. শফিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
প্রথম শহিদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯১.
ইংরেজরা কবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি বা রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার লাভ করে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৭৭২ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ:
- এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে। এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে  রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।

⇒ কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না। তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না। এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৫৯২.
নিচের কোন ঘটনাটি সবার শেষে সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন
  2. মন্ত্রী মিশনের আগমন
  3. গোলটেবিল বৈঠক
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী মিশনের আগমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী মিশনের আগমন
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।

ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যবৃন্দরা হলেন:
- পেথিক লরেন্স (মিশন প্রধান)
- স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (সদস্য)
- এ. ভি. আলেকজান্ডার (সদস্য)।

এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা পেশ করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় তা সফল হয়নি।

অন্যদিকে,
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড : ১৩ এপ্রিল ১৯১৯
- গোলটেবিল বৈঠক : ১৯৩০-১৯৩২ সাল সাল
- লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন : ২৩শে মার্চ ১৯৪০ সাল।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৮,৫৯৩.
বঙ্গবন্ধু কর্তৃক 'ছয় দফা' ঘোষিত হয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৬৫ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু কর্তৃক 'ছয় দফা' ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

ছয় দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
- উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা' কর্মসূচি পেশ করেন।
- এরপর তিনি জনমত সৃষ্টি করতে ছয় দফা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
- ছয় দফা কর্মসূচিকে তিনি পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি বলে অভিহিত করেন।

ছয় দফা কর্মসূচি:
১ম দফা:
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে।
২য় দফা:
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে।
৩য় দফা:
দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা:
সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।
৫ম দফা:
বৈদেশিক বাণিজ্যিক ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা:
আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৫৯৪.
বাঙালির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত-
  1. একুশ দফা
  2. ৭ই মার্চের ভাষণ
  3. ছয়দফা
  4. এগারো দফা
সঠিক উত্তর:
ছয়দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়দফা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয়দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,৫৯৫.
সংবিধানে চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়-
  1. ক) সংসদীয় পদ্ধতি সরকার
  2. খ) সামরিক সরকার
  3. গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  4. ঘ) সমাজতন্ত্র সরকার
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
ব্যাখ্যা
১৯৭৫-এর ২৫ জানুয়ারি দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। রাষ্ট্রপতি সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে পড়েন। এই ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা ছিল না। সংবিধানের চর্তুথ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনী অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন। তিনি ইচ্ছানুযায়ী উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারবেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৫৯৬.
জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন-
  1. ক) ১৯৫৮ সালে
  2. খ) ১৯৬২ সালে
  3. গ) ১৯৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা ও মন্ত্রীপরিষদ বাতিল করেন। ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। ১৯৬২ সালের ৮ জুন তিনি সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন। ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]
৮,৫৯৭.
কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
  1. ফা হিয়েন
  2. ইবনে বতুতা
  3. হিউয়েন সাং
  4. সিমা কিয়ান
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,৫৯৮.
‘লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড’ সিমেন্ট কারখানাটির অবস্থান-
  1. নারায়ণগঞ্জ
  2. ছাতক
  3. মংলা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ছাতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাতক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে অবস্থিত সিমেন্ট শিল্পের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত এই সিমেন্ট কারখানাটি।
সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার উৎপাদন করে সেখান থেকে সিমেন্ট তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বেসরকারি সিমেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে লাফার্জই হচ্ছে একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা।
[সূত্রঃ lafargeholcim.com.bd এবং প্রথম আলো পত্রিকা]
৮,৫৯৯.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভায় উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,৬০০.
মুক্তিযুদ্ধে কোন দুইটি গানবোট নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী?
  1. ক) পদ্মা ও যমুনা
  2. খ) মেঘনা ও যমুনা
  3. গ) পদ্মা ও পলাশ
  4. ঘ) বানৌজা ও পলাশ
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মা ও পলাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মা ও পলাশ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্ম হয়।
- ঐ বছর জুলাই মাসে সেক্টর কমান্ডারদের কনফারেন্সের ঘোষণা মোতাবেক বাংলাদেশ নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি অফিসার ও নাবিক পশ্চিম পাকিস্তান ত্যাগ করে দেশে এসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠন করেন।
- ভারত থেকে প্রাপ্ত ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ নামের ছোট দুটি গানবোট এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সকল নাবিক শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
- পাশাপাশি ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে নির্ভীক ডুবুরীদল সমুদ্র ও নদী বন্দর সমূহে বিধ্বংসী আক্রমণ পরিচালনা করে।
- এতে হানাদার বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ধ্বংস হয় ও সমুদ্রপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের সফল আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সুচনা করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।