বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮৩ / ১২৪ · ৮,২০১৮,৩০০ / ১২,৪২১

৮,২০১.
ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশি ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
• লর্ড ক্যানিং:
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং।
- তাঁর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন।
- এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- ১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেন ।

উল্লেখ্য,
- ১৭৯৩ সালে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস । 
- লর্ড কার্জন: লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- লর্ড কর্ণওয়ালিস: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থার রূপকার।
- লর্ড মাউন্টব্যাটেন: ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত লর্ড ক্লাইভ । 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২০২.
What is the number of rivers that is available in the country according to the list of the NRCC?
  1. 507
  2. 901
  3. 1008
  4. 1018
সঠিক উত্তর:
1008
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1008
ব্যাখ্যা
দেশে নদ-নদীর সংখ্যা:
- দেশে বর্তমানে নদ-নদীর সংখ্যা ১০০৮।
- সব মিলিয়ে দেশে ২২ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ নদীপথ রয়েছে।
- বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যাবিষয়ক সেমিনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর সংখ্যা ও তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
- দেশে বর্তমানে ২০০ কিলোমিটারের বেশি নদী রয়েছে ১৪টি।
- এ ছাড়া ১০০ থেকে ১৯৯ কিলোমিটারের নদী রয়েছে ৪২টি, ১০ থেকে ৯৯ কিলোমিটারের নদী ৪৮০টি এবং ১ থেকে ৯ কিলোমিটারের দৈর্ঘ্যের নদীর সংখ্যা ৩৭৬টি।
- এক কিলোমিটারের‌ও কম দৈর্ঘ্যের নদী রয়েছে ৪১টি।
- নদ-নদীর এই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। 

অন্যদিকে -
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়, ৯৭টি।
- ৯ আগস্ট নদী রক্ষা কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ৯০৭টি নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ করে।
- কমিশনে জমা পড়া সব মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে নদীর সংখ্যা বেড়েছে ১০১টি।

উৎস: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৮,২০৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়াবলি ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিকাঙ্ক্ষী রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান।
- ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুসারে ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কারণ ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে- ‘আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ। 
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। 
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।
- মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল ১৯৭১।

• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,২০৪.
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার
  2. ময়মনসিংহ
  3. রাজশাহী
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
সাভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাভার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- ক্যাডার ও নন-ক্যাডারভুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ১৯৮৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত।
- সরকারের একজন সচিব এর প্রধান কর্মকর্তা।
- তাঁর পদবী রেক্টর।

উৎস: বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) ওয়েবসাইট। 
৮,২০৫.
ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. খান জাহান আলী
  3. বায়েজীদ বোস্তামী
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
খান জাহান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খান জাহান আলী
ব্যাখ্যা
ষাটগম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে উলঘ খান-ই-জাহান ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাটগম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮,২০৬.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) মহাত্মা গান্ধী
  2. খ) ইন্দিরা গান্ধী
  3. গ) সোনিয়া গান্ধী 
  4. ঘ) রাজীব গান্ধী
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দিরা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম শুরু হলে ভারত সরকারের সাহায্যের বিষয় আলোচনা করার জন্য তাজউদ্দনি আহমেদ এবং ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত যান।
- ১লা এপ্রিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের সহায়তায় ভারতীয় গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত অবস্থায় তারা দিল্লিতে পৌঁছেন। 
- সেসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মিসেস ইন্দিরা গান্ধী।
- সেখানে অতি সহজেই মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাত হয়।
- ইন্দিরা গান্ধী ২৭ মার্চ বাঙালিদের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি তাঁর সরকারের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী অত্যাচরিত ও ভীতসন্ত্রস্ত বাঙালিদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত তখন উন্মুক্ত করে দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,২০৭.
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী
  2. এয়ার কমোডর এ, কে, খন্দকার
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এয়ার কমোডর এ, কে, খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এয়ার কমোডর এ, কে, খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার  সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২০৮.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খান রাজধানী স্থাপন করেছিলেন-
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) রাজমহল
  3. গ) জাহাঙ্গীরনগর
  4. ঘ) মহাস্থানগড়
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। তিনি সোনারগাঁও রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী]
৮,২০৯.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১১ দফা প্রণীত হয়?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. পাকিস্তান আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবী ঘোষণা করা হয়।
- এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮,২১০.
কোন চীনা পরিব্রাজক শীলভদ্রের নিকট দীক্ষাগ্রহণ করেন?
  1. ক) ফা হিয়েন
  2. খ) মা হুয়ান
  3. গ) হিউয়েন সাঙ
  4. ঘ) ইৎ সিঙ
সঠিক উত্তর:
গ) হিউয়েন সাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিউয়েন সাঙ
ব্যাখ্যা
- হিউয়েন সাঙ একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী। তিনি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
- ভারতে তিনি প্রায় পনের বছর অতিবাহিত করেন। এর অনেকটা সময় তিনি বিহারে অবস্থিত প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে অতিবাহিত করেন।
- তখন নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন বাঙালি বৌদ্ধ পন্ডিত শীলভদ্র। হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাঙ চীনে ফিরে যান।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,২১১.
নিচের কোন নেতার নেতৃত্বে কংগ্রেস অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  3. জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহরু ও বল্লভ ভাই প্যাটেল
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবের ব্যর্থতা:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের প্রাক্কালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ. কে. ফজলুল হক "অখণ্ড স্বাধীন বাংলা" প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যাতে বাংলা ভারত পাকিস্তানের অংশ না হয়ে হয়ে একটি স্বাধীন, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হয়।

- প্রথমদিকে এই প্রস্তাবে মুসলিম লীগের কিছু রক্ষণশীল নেতা, এমনকি মহাত্মা গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও মৌন সমর্থন জানান। কিন্তু কংগ্রেসের কট্টর হিন্দু নেতাদের তীব্র বিরোধিতায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।

- জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেলসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কোলকাতা ও আসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ভারত থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় এই প্রস্তাবকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীও এর কঠোর বিরোধিতা করেন। ফলে প্রস্তাবটি কংগ্রেসের সমর্থন হারায় এবং পরবর্তীতে মুসলিম লীগও এটি থেকে সরে এসে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেয়।

- পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
২০ জুন বাংলার আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলস্বরূপ ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী বাংলা ও পাঞ্জাব দুইটি প্রদেশে বিভক্ত হয়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয় এবং পশ্চিম বাংলা যুক্ত হয় ভারতের সঙ্গে।

এইভাবে ঐতিহাসিক বাংলার সংযুক্তির স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে পড়ে এবং “অখণ্ড স্বাধীন বাংলা” রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৮,২১২.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ২ বার
  3. গ) ১ বার
  4. ঘ) কোনটি নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) ১ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১ বার
ব্যাখ্যা

১৯৯১ সালের গণভোট মূলত রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে প্রধানমন্ত্রীর শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করার জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এটাই একমাত্র সাংবিধানিক গণভোট
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮, ৮০, ৯২ক বা ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যবস্থা করে কোন বিল উক্ত সংবিধানের ১৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হওয়ার পর তাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করবেন কি করবেন না এই প্রশ্নটি যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন৷

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট গণভোট হয়েছে ৩ বার।
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ। (প্রশাসনিক )
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই। (প্রশাসনিক)
- তৃতীয় গণভোট - ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ (একমাত্র সাংবিধানিক )।

বাংলাদেশের গণভোট সংক্রান্ত আইন - গণভোট আইন, ১৯৯১

উৎস: বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

৮,২১৩.
মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ১১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ২নং
  4. ঘ) ৮নং
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮নং
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৮,২১৪.
মুক্তিযুদ্ধে 'কাদেরিয়া বাহিনী'র প্রতিষ্ঠাতা কাদের সিদ্দিকী কোন এলাকায় সবচেয়ে কার্যকর গেরিলা কার্যক্রম পরিচালনা করেন?
  1. ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা এলাকায়
  2. টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মধুপুর এলাকায়
  3. গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া এলাকায়
  4. মাগুরার শ্রীপুর ও বেলনগর এলাকায়
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মধুপুর এলাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মধুপুর এলাকায়
ব্যাখ্যা

◉ 'কাদেরিয়া বাহিনী' টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ও মধুপুর অঞ্চলে অত্যন্ত সফল গেরিলা কার্যক্রম পরিচালনা করে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল ও কাদেরিয়া বাহিনী:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইলে তার নিজস্ব বাহিনী নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।
- তাঁর বাহিনীর নাম ছিল কাদেরিয়া বাহিনী।
- এ বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় কৃতিত্বের সাথে পাকবাহিনীর মোকাবিলা করে।
- ২৮ মার্চ ভূয়াপুর কলেজের শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘ভূঞাপুর সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ৩ এপ্রিল মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান সাটিয়াচরায় পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন পাকসেনা নিহত হয় এবং ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
- এপ্রিল মাসে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী গোপালপুর থানা আক্রমণ করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে এবং থানাটি জ্বালিয়ে দেয়।
- টাঙ্গাইল জেলার ৪টি স্থানে (নাগরপুর, মির্জাপুর, গোপালপুর ও ভূয়াপুরে) গণকবর এবং ২টি স্থানে (মির্জাপুর ও গোপালপুর) বধ্যভুমির সন্ধান পাওয়া গেছে।
- জেলায় ৩টি (টাঙ্গাইল সদর, ভূয়াপুর ও বাসাইল), ২টি স্মৃতিস্তম্ভ (সখীপুর ও গোপালপুর) এবং ১টি স্মৃতিফলক (ঘাটাইল উপজেলার মাকরাই কুমার পাড়া) স্থাপিত হয়েছে।

• আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে ওঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৮,২১৫.
‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা‘ ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. মৃণাল হক
  2. নিতুন কুণ্ড
  3. শামীম শিকদার
  4. হামিদুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
শামীম শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামীম শিকদার
ব্যাখ্যা
• স্বোপার্জিত স্বাধীনতা:
- স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের সড়কের মোড়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি - শামীম শিকদার।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ১৯৮৮ সালে স্থাপিত হয়।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,২১৬.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. এম. মনসুর আলী
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২১৭.
ভাষা শহিদদের স্বরণে নির্মিত ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) অপরাজেয় বাংলা
  2. খ) অঙ্গীকার
  3. গ) মোদের গর্ব
  4. ঘ) দুরন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) মোদের গর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোদের গর্ব
ব্যাখ্যা

• ভাষা শহিদদের স্বরণে নির্মিত ভাস্কর্য - মোদের গর্ব।
• মোদের গর্ব বা আমাদের গর্ব হল রাজধানী ঢাকার বাংলা একাডেমি ভবনের সামনে অবস্থিত একটি ভাস্কর্য।
• মোদের গর্ব ভাস্কর্যটির নকশা ও নির্মাণ করেছেন শিল্পী অখিল পাল।
• ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানানো হয়। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদদের সম্মানে এই ভাস্কর্যটি তৈরী করা হয়।

অপরদিকে, 
• অঙ্গীকার:
- অঙ্গীকার হচ্ছে চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে লেকের উপর স্বাধীনতা যুদ্ধে চাঁদপুরের শহীদের স্মরণে ১৯৮৯ সালে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।
- যার স্থপতি প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।
- এটি চাঁদপুর কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ হিসেবে বিবেচিত। 

• অপরাজেয় বাংলা:
- 'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা হয়।
- এর ভাস্কর ছিলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ।

• দুরন্ত:

- দুরন্ত ভাস্কর্যটি শিশু একাডেমিতে অবস্থিত।
- ‘দুরন্ত’ ভাস্কর্যটির ভাস্কর – সুলতানকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮,২১৮.
বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. রাঢ়
  3. হরিকেল
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- প্রাচীন ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট জনপদ।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,২১৯.
যুক্তফ্রন্টে হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন দল কোনটি ছিল?
  1. আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  3. নিজাম-ই-ইসলামী
  4. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
সঠিক উত্তর:
বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২২০.
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ছিল -
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) গণ-অভ্যুত্থান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) যুক্তফ্রন্ট
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমিঃ
অবস্থান - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে; প্রতিষ্ঠাকাল - ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫।
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - ভাষা আন্দোলন; পুরাতন ভবনের নাম - বর্ধমান হাউস।
প্রথম সভাপতি - মওলানা আকরাম খাঁ।
প্রথম পরিচালক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক; প্রথম মহাপরিচালক - ড. মাযহারুল ইসলাম।
মূল মিলনায়তনের নাম - আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,২২১.
Who appoints the Hunter Commission?
  1. Lord Lytton
  2. Lord Ripon
  3. Lord Mayo
  4. Lord Minto
  5. Lord Mountbatten
সঠিক উত্তর:
Lord Ripon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Ripon
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।
 
 হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২২২.
কোন মুঘল সুবেদার পর্তুগীজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. আজম শাহ
  3. মীর জুমলা
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মুঘল সম্রাটের বিরাগভাজন হন। 
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।

- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২২৩.
বঙ্গদেশের নাম বঙ্গাল পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. মহাভারত
  2. আইন-ই-আকবরী
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় 'আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি 'বঙ্গাল' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২২৪.
'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন -
  1. শেরশাহ
  2. মাসুম খাঁ
  3. বায়েজিদ কররানী
  4. ফজল গাজী
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
- শেরশাহর রাজত্বকাল: ১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.।
- তিনি মাত্র পাঁচ বছর বাজত্ব করেন।
- তিনি সামান্য একজন জায়গীদার থেকে নিজ প্রতিভা বলে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।
- মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
- বাংলা, মালব, রাজপুতনা বিজয় তাঁর সামরিক সাফল্যের পরিচয় বহন করে।
- তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে রণকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন।
- শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী ছিল না।
- তিনি জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
- শাসনকাজের সুবিধার্থে তিনি পুরো সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন।
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২২৫.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কতটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৭টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৮,২২৬.
২ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
  4. ক্যাপ্টেন এ রব
সঠিক উত্তর:
মেজর এ.টি.এম হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর এ.টি.এম হায়দার
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: 
- ২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- শহরাঞ্চলের গেরিলারা ঢাকা শহরে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২২৭.
বাংলার কোন সুলতান ‘খলিফাতুল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. ক) সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ঘ) জালাল উদ্দীন মুহম্মদ শাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জালাল উদ্দীন মুহম্মদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জালাল উদ্দীন মুহম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা
• জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ:
- ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা গণেশ পরলোকগমন করলে তাঁর কনিষ্ঠপুত্র মহেন্দ্ৰ দেব উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন কিন্তু দু-এক মাসের বেশী তিনি রাজত্ব করতে পরেন নি।
- এসময় জালালউদ্দিন (যদু সেন) মহেন্দ্ৰ দেবকে অপসারণ করে সিংহাসন দখল করেন।
- তিনি ইসলাম ধর্মের একজন একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন।
- ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর থেকে তিনি নিজেকে খাঁটি মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি উৎসাহী ছিলেন।
- তাঁর আমলে ইসলামের বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়।

- ক্ষমতালাভ করে তিনি পিতা কর্তৃক নিবাসিত দরবেশ নুর-কতুব-উল আলমের দৌহিত্র শেখ জাহিদকে সোনারগাঁও থেকে রাজধানীতে ফিরিয়ে আনেন।
- তিনি একজন সুযোগ্য শাসক ছিলেন। তিনি তাঁর রাজ্যের রাজধানী পাণ্ডুয়া থেকে গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন।
- তাঁর সময়ে গৌড় একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়। সেখানে মসজিদ, স্নানাগার, জলাশয়, সরাইখানা প্রভৃতি নির্মিত হয়।
- এ সময় ইব্রহিম শর্কীর রাজ্যের কিছু অংশ জালালউদ্দিনের দখলে আসে। 
- তিনি তাঁর মুদ্রায় নিজেকে খলিফাতুল্লাহ বা আল্লাহর খলিফা হিসেবে উল্লেখ করেন।
- তিনি চীন, পারস্য, মিশর ও দামেস্কের সঙ্গে দূত বিনিময় করেন।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২২৮.
জাতীয় সংসদের বিলের তফসিলে কয়টি দেশীয় খেলা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ৪২টি
  2. ৪৩টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৫টি
সঠিক উত্তর:
৪২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২টি
ব্যাখ্যা
বিলের তফসিলে ৪২টি দেশীয় খেলা তালিকাভুক্ত:
- 'বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) বিল ২০১৯' ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
- ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করতে বিলটি আনা হয়েছে। 
- বিলের তফসিলে ৪২টি দেশীয় খেলা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
- সেগুলো হলো হাডুডু, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, সাতচাড়া, মোরগ লড়াই, বৌছি, ইচিংবিচিং, কানামাছি ভো ভো, দাঁড়িয়াবান্ধা, এক্কা–দোক্কা, কুতকুত, রুমাল লুকানো, ওপেনটি বায়োস্কোপ, ফুল টুকা, দড়িলাফ, বিস্কুটদৌড়, সুই–সুতাদৌড়, তৈলাক্ত বাঁশে ওঠা, কলাগাছে ওঠা, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, বালিশযুদ্ধ, রশি টানাটানি, ষাঁড়ের লড়াই, গরুর গাড়ির দৌড়, ঘোড়দৌড়, বস্তাদৌড়, বালিশবদল, বলীখেলা, লুডু, পাঞ্জা লড়াই, লাটিম খেলা, গুলতি ছোড়া, ভেলাবাইচ, গুটি খেলা, তির-ধনুক খেলা, চাকা দৌড়ানো, মার্বেল খেলা, কড়ি খেলা, হাঁড়িভাঙা, হাঁস খেলা ও ব্যাঙদৌড়।

উৎস: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, প্রথম আলো।
৮,২২৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়েছিল?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ১১টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩০.
সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে কোন জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. বঙ্গ
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. রাঢ়
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৩১.
‘বিক্রমপুর‘ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) রাঢ়
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) সমতট
  4. ঘ) হরিকেল
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গ
ব্যাখ্যা
• বঙ্গ জনপদ:
-  প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে বঙ্গ জনপদ ছিলো অন্যতম।
 - বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি। 

- অন্যদিকে,
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৩২.
‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় কবে?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান।
- তাঁর দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠিত হয়।
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ‘বাংলাভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা দেয়া হয়।
- এদিন সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয় এবং পুলিশের গুলিতে অনেকে হতাহত এবং গ্রেফতার হয়।
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে এই দিনটি পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
৮,২৩৩.
কত সালে ২৫শে মার্চকে 'গণহত্যা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ২৫শে মার্চের নৃশংস গণহত্যা:
- ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস।
- ২০১৭ সালের ১১ই মার্চ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫শে মার্চ 'গণহত্যা দিবস' ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য-
- ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। 
- যাবার আগে সেনাবাহিনীকে পূর্বপাকিস্তানিদের উপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে যান। 
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নর টিক্কা খানের ঘাতক সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার তাণ্ডবলীলা চালায়। 
- এই গণহত্যা চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে। 
- ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। 
- নৃশংস গণহত্যার সংবাদ যাতে বিদেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ১১ মার্চ ২০১৭, বিবিসি বাংলা।
৮,২৩৪.
১৯৫২ সালের পূর্বে ছাত্ররা কোন দিনকে ভাষা আন্দোলনের জন্য পালন করত?
  1. ১১ ফেব্রুয়ারি
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি
  3. ১১ মার্চ
  4. ২১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ (১৯৪৮) পূর্ব বাংলার সর্বত্র সাধারণ ধর্মঘট আহবান করে।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯ মার্চ পূর্ব বাংলা সফরে আসেন।
- ২১ মার্চ (১৯৪৮) ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- জিন্নাহর এই ঘোষণার প্রতিবাদে জনসভার কোনো কোনো অংশে মৃদু 'নো', 'নো' ধ্বনি উচ্চারিত হয়।
- জনসভার তিন দিন পর (২৪ মার্চ, ১৯৪৮) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি বলেন যে, পাকিস্তানের সরকারি ভাষা অবশ্যই হবে উর্দু।
- জিন্নাহর এ উক্তির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে উপস্থিত গ্রাজুয়েটবৃন্দ 'না', 'না' ধ্বনি উচ্চারণ করে।
- জিন্নাহর ঘোষণায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি পূর্ববাংলার মানুষের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের ভাব সৃষ্টি হয়।
- জিন্নাহর পূর্ববাংলা সফর ভাষা-আন্দোলনকে স্তিমিত করে দেয়।
- তাঁর জনপ্রিয়তা এবং তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ শ্রদ্ধাবোধ অনেক আন্দোলনকারীকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে ফেলে।
- এমনকি তমদ্দুন মজলিশও আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
- তবে ভাষার জন্য ছাত্রদের মনে ক্ষোভ অব্যাহত থাকে।
- ছাত্ররা ১৯৪৮ এর পর থেকে ১৯৫১ পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ মার্চ ভাষা দিবস পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৩৫.
'আন্টাঘর ময়দান' হিসেবে নিচের কোনটি পরিচিত?
  1. আহসান মঞ্জিল
  2. লালবাগ কেল্লা
  3. বাহাদুর শাহ পার্ক
  4. সাতগম্বুজ মসজিদ
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ পার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ পার্ক
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি 'আন্টাঘর ময়দান' নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,২৩৬.
বাংলাদেশের কোন শহরটিকে প্রথম ‘সাইবার সিটি’ বলা হয় ?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা - যশোর।
প্রথম সাইবার সিটি - সিলেট।
উৎসঃ প্রথম আলো রিপোর্ট।

৮,২৩৭.
১৯৭১ সালের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'-এর শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন:
- ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ নির্বাচিত সাংসদগণ আগরতলায় একত্রিত হয়ে এক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সরকার গঠন করেন।
- এই সরকার স্বাধীন সার্বভৌম 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'।
- স্বাধীনতার সনদ (Charter of Independence) বলে এই সরকারের কার্যকারিতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামে বৈদ্যনাথ তলায় 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির এই সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পীকার অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

উল্লেখ্য,
- যে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় তাঁরা হলেন:
১। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দী),
২। উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি),
৩। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত),
৪। অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত),
৫। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত),
৬। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান (ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮,২৩৮.
আওয়ামী লীগ কবে প্রথম ছয়দফা উত্থাপন করে?
  1. ক) ১৯৬৫ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়। ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,২৩৯.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এম মনসুর আলী
  2. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৮,২৪০.
The last international conference attended by Bangabandhu was-
  1. ক) Commonwealth Conference
  2. খ) NAM conference
  3. গ) OIC Conference
  4. ঘ) UNESCO Conference
সঠিক উত্তর:
ক) Commonwealth Conference
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Commonwealth Conference
ব্যাখ্যা
The last international conference attended by Bangabandhu was the 20th Commonwealth Conference in Kingston, Jamaica.
source: daily newspaper
৮,২৪১.
ঢাকা গেট নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. উমিদ খানঁ
  3. শেরশাহ
  4. মীর জুমলা
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় অবস্থিত।
-'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে মীর জুমলা ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।

উৎস: বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]
৮,২৪২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে ’ভাটিয়ালি গান’ বিশেষভাবে প্রচলিত?
  1. ময়মনসিংহ ও সিলেট
  2. বরিশাল ও পটুয়াখালী
  3. যশোর ও খুলনা
  4. কুমিল্লা ও ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ ও সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ ও সিলেট
ব্যাখ্যা

ভাটিয়ালি
- ভাটিয়ালি  এক ধারার  লোকগীতি।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য সুরের দীর্ঘ টান ও লয়।
- প্রচলিত মতে মাঝিমাল্লাদের গান থেকে ভাটিয়ালি সুরের উৎপত্তি।
- নিকট অতীতে নদীবিধৌত বাংলাদেশে সাধারণত নদীর ভাটির স্রোতে নৌকা বাইতে মাঝিদের তেমন বেগ পেতে হতো না। - তাই সেই অবসর ও আনন্দে তারা লম্বা টানে গলা ছেড়ে গান গাইত।
- কালক্রমে এই গানই ভাটিয়ালি গান নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় এই গান বিশেষভাবে প্রচলিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৮,২৪৩.
সিপাহী হামিদুর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
  1. ৮ নং
  2. ১১ নং
  3. ৭ নং
  4. ৪ নং
সঠিক উত্তর:
৪ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ নং
ব্যাখ্যা
• সিপাহী হামিদুর রহমান: 
- সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মস্থল- সেনাবাহিনী।
- পদবি- সিপাহী
- সেক্টর- ৪ নং
- মৃত্যু- ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮,২৪৪.
কোন সংগঠনের উদ্যোগে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়?
  1. পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৮,২৪৫.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র -
  1. ক) তিতাস গ্যাসক্ষেত্র
  2. খ) কুতুবদিয়া গ্যাসক্ষেত্র
  3. গ) ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্র
  4. ঘ) হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
ক) তিতাস গ্যাসক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিতাস গ্যাসক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর তীরে একটি বিরাট গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করেছিল।
- ২০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে প্রায় ১৪টি কূপ খনন করা হয়েছে।
- ৬৪ বর্গকিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত এই গ্যাসক্ষেত্রটির ভূগঠন গম্বুজাকৃতির যেখানে মোট অনুমিত মজুদ গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৪.১৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুদ ২.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- মজুদ গ্যাসের হিসাবমতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র।
- তিতাস গ্যাস বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ও কিশোরগঞ্জ জেলায় গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।
- বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে।

উৎস: এক নজরে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র, mpemr.gov.bd.
৮,২৪৬.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. ক) নুরুল আমিন
  2. খ) অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী
  3. গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালে জেনেভায় অবস্থানকালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে তিনি উপাচার্য পদে ইস্তফা দেন। মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে জেনেভা থেকে তিনি লন্ডন যান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট হন। স্বাধীনতার পর বিচারপতি চৌধুরী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮,২৪৭.
কোভিড-১৯ এ কোয়ারেন্টাইন সময়কাল কত দিন?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১৫
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৭
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
ব্যাখ্যা
যারা এখনো অসুস্থ না এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন
সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আর কোয়ারেন্টিন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।
করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, এই ভাইরাসটির সুপ্তকাল হচ্ছে ১৪ দিন। অর্থাৎ ১৪ দিন পর্যন্ত কাউকে কোয়ারেন্টিন করে রাখলে যদি তার ভেতরে জীবাণু থাকে তাহলে এই সময়কালের মধ্যে তার উপসর্গ দেখা দেবে।

উৎসঃ বিবিসি ওয়েবসাইট।
৮,২৪৮.
’সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী জন্মগ্রহণ করেন আসামে। 
- তিনি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- ১৯০৯ সালে লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করেন।
- ১৮৭৭ সালে সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- এটি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

⇒ এছাড়াও,
- তিনি ব্রিটিশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা।
- ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৯২৮ সালে সিআইই উপাধি পান।
- ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য আন্দোলনের শুরু হয় তার মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করার পর থেকে।

উল্লেখ্য,
- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- কলকাতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
- নীল কমিশন গঠনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৪৯.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) কত দফা নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করে?
  1. ৬ দফা
  2. ৯ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ২১ দফা
সঠিক উত্তর:
৯ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আইয়ুব খানের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানে ৮০,০০০ (আশি হাজার) মৌলিক গণতন্ত্রী।
- ১৯৬৪ সালের নভেম্বর মাসে মৌলিক গণতন্ত্রীদের নির্বাচন আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত হয় 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (COP) |
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনীত করা হয় মিস ফাতিমা জিন্নাহকে। তিনি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভগ্নি।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) ৯ দফা নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করে। যেমন-
১. একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা হবে,
২. জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করা হবে,
৩. জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদকে আইন ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হবে,
৪. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে,
৫. প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করা হবে,
৬. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হবে,
৭. আইনের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টকে প্রদান করা হবে,
৮. সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, এবং
৯. নিবর্তনমূলক সকল আইন বিলুপ্ত করা হবে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৫০.
‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটির সুরকার কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  3. সমর দাস
  4. আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
সমর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর দাস
ব্যাখ্যা
সমর দাস: 
- ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’, ‘নোঙ্গর তোলো তোলো’, ‘মাগো ভাবনা কেন’ শিরোনামের গানের সুরকার হলেন সমর দাস।
- ১৯৫৬ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’ এর সংগীত পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
- তিনি সংগীতে অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: The Daily Star বাংলা (সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০)
৮,২৫১.
কোনটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  2. চেয়ারম্যান, পাবলিক সার্ভিস কমিশন
  3. চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  4. কনট্রোলার ও অডিটর জেনারেল
সঠিক উত্তর:
চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা
• চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন- এটি সাংবিধানিক পদ নয়।

সাংবিধানিক পদ:
- সংবিধান হলো গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। 
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে

সাংবিধানিক পদ:
• রাষ্ট্রপতি,
• স্পিকার,
• প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ, 
• ডিপুটি স্পিকার,
• প্রধান বিচারপতি,  
• সংসদ সদস্য,
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার,
• মহা-হিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
• সরকারী কর্ম- কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,২৫২.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ.কে. খন্দকারের পদবী ছিল - 
  1. মুক্তিবাহিনীর প্রধান
  2. সেক্টর প্রধান 
  3. মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
  4. সেনাপ্রধান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ
ব্যাখ্যা

এ কে খন্দকার:
- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি এ. কে. খন্দকার নামে পরিচিত
- তার জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০ সাল।
- তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন।
- মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি কঠোর মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ের দিকে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোর  সমন্বয়সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তাঁর যোগ্যতম পরিচালনায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে সক্ষম হন।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮,২৫৩.
পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়াকে কী বলে?
  1. হীরকজয়ন্তী
  2. রজতজয়ন্তী
  3. সুবর্ণজয়ন্তী
  4. শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণজয়ন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণজয়ন্তী
ব্যাখ্যা
জয়ন্তী বা জুবিলী:
- প্রকৃত পক্ষে জুবিলীর (Jubilee) অর্থ হলো উৎসব মুখর পরিবেশে জন্মতিথি পালন।
• ২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: রজত জয়ন্তী (Silver Jubilee),
• ৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: সুবর্ণ জয়ন্তী / স্বর্ণ জয়ন্তী (Golden Jubilee),
• ৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: হীরক জয়ন্তী (Diamond Jubilee),
• ৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: প্লাটিনাম জয়ন্তী (Platinum Jubilee),
• ১০০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: শতবর্ষ (Centenary jubilee),
• ১৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: সার্ধশত (Sesquicentennial),
• ২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: দ্বিশতবর্ষ (Bicentenary/ bicentennial)।

উৎস: ২ অক্টোবর ২০১৫, প্রথম আলো। 
৮,২৫৪.
কোন শাসকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে অন্ধকার যুগ ‘মাৎস্যন্যায়’ এর সূত্রপাত হয়?
  1. ক) গোপাল
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) ধর্মপাল
  4. ঘ) অশোক
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। গোপাল কর্তৃক শাসনভার গ্রহণের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান ঘটে এবং বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ পালবংশের সূত্রপাত ঘটে। পাল বংশের রাজাগণ একটানা চারশ বছর এদেশ শাসন করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮,২৫৫.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আসাদুজ্জামান জন্মস্থান-
  1. ক) কিশোরগঞ্জ
  2. খ) নরসিংদী
  3. গ) নারায়ণগঞ্জ
  4. ঘ) গাজিপুর
সঠিক উত্তর:
খ) নরসিংদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নরসিংদী
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার হাতিরদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে।
তিনি ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে শহীদ হন।
বাংলাদেশে ২০ জানুয়ারিকে শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,২৫৬.
কোন সংবাদপত্রে 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. দ্য সানডে টাইমস
  3. নিউইয়র্ক টাইমস
  4. ডেইলি সান 
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক টাইমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক টাইমস
ব্যাখ্যা

• সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড- বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা। 

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানীরা এদেশে হামলা করলে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী জনগণ অস্থায়ী শরণার্থী হিসেবে ভারতে গমন করে। সে সময় নিরাপদে ভারতের ভূখণ্ডে অস্থায়ীভাবে প্রবেশের পথ হিসেবে শরণার্থীরা বেছে নেয় এই যশোর রোডকে।
- ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতের কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌছান।
- সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। 
- দেশে ফিরে গিন্সবার্গ একটি কবিতা লেখেন: 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি।
- এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর কবিতাটি নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

৮,২৫৭.
'সত্যপীরের ভিটা' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোমপুর, নওগাঁ
  2. খ) পুঠিয়া, রাজশাহী
  3. গ) ময়নামতি, কুমিল্লা
  4. ঘ) মহাস্থানগড়, বগুড়া
সঠিক উত্তর:
ক) সোমপুর, নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোমপুর, নওগাঁ
ব্যাখ্যা
• সত্যপীরের ভিটা:
- সত্যপীরের ভিটা, পাহাড়পুর নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার অধীনে পাহাড়পুর বিহার থেকে ৩৬৫ মিটার পূর্বে অবস্থিত। 
- সত্যপীরের ভিটা বর্তমান নামের উৎপত্তি ষোল-সতের শতকের পূর্বে হয়েছে বলে মনে হয় না। 
- এ ভিটায় একটি তারা মন্দির এবং বিভিন্ন আকার ও আয়তনের প্রচুর নিবেদন স্তূপের ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান।

- মন্দির অঙ্গনের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০টি পোড়ামাটির ফলক, আটহাত বিশিষ্ট দেবীমূর্তি ও বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদ লিপি খোদিত পোড়ামাটির গোল সীলগুলি থেকেই এই ভিটা ও তারা মন্দিরের অভিন্নতা প্রতিপন্ন হয়েছে।
- আবিষ্কৃত দেবী মূর্তিটি বৌদ্ধদেবী শীতাতপত্র তারা বলেই মনে হয়।
- মন্দির এলাকায় ১৩২টি নিবেদন স্তূপ আছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৫৮.
তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের নাম কী?
  1. সিপাহী বিপ্লব
  2. তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
  3. সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহরিক ই মুহম্মদীয়া
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,২৫৯.
কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
  2. খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
  3. গ) কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর
  4. ঘ) ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা প্রদান
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
ব্যাখ্যা
- সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
- এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,২৬০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদকে নিয়ে অঙ্কিত উন্নত মম শির শিল্পকর্মটি অংকন করেন কে?
  1. কৌশিক সরকার
  2. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  3. ঢালী তমাল
  4. শহীদ কবির
সঠিক উত্তর:
শহীদ কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কবির
ব্যাখ্যা

'উন্নত মম শির':
- ইতিহাসের অম্লান তরুণ আবু সাঈদকে নিয়ে 'উন্নত মম শির' এর শিল্পী চিত্রকলা অঙ্কন করেছেন শিল্পী শহীদ কবির।
- গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এমনই কিছু কালজয়ী দৃশ্য রচনা করেছেন অকুতোভয়, প্রতিবাদী জনতা।
- তেমনই এক ছবি দুই হাত প্রসারিত করে বুক টান করে দাড়ানো এক নির্ভীক প্রতিবাদী তরুণের। গণমানুষ এই তরুণকে আর কোনো দিন ভুলতে পারবে না। তিনি শহীদ আবু সাঈদ।
- ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপুল রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের উজ্জ্বলতম প্রতীক।
- তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী।
- স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লব বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক পরিবর্তন। সমাজ ও ইতিহাসে দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকবে। আর আবু সাঈদের প্রতিকৃতি থেকে প্রাণিত এই শিল্পকর্ম বাংলাদেশের যেসব ছাত্রছাত্রী, তরুণ জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন, যাঁরা শহীদ হয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, যাঁরা এখনো চিকিৎসাধীন, সবার প্রতি প্রথম আলোর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের স্মারক হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৮,২৬১.
মুজিব নগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এম. মনসুর আলী
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৬২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব অর্জন করেন?
  1. ২ জন 
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৬ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন 
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা: 
- ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
- দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল, মিটিং ও গণসমাবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইজন নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব অর্জন করেন
- একজন তারামন বিবি, অন্যজন ডাক্তার সিতারা বেগম।
- সারা দেশে আরও অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,২৬৩.
স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেন কে?
  1. বলভভাই প্যাটেল
  2. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অরবিন্দ ঘোষ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বদেশী আন্দোলন
- স্বদেশী আন্দোলন ছিলো একটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এটি গান্ধীপূর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল আন্দোলন বিবেচনা করা হয়।
- বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

- স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- এই আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। পরে বিলেতি শিক্ষা বর্জনও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার।
- আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঐ সময় রচনা করেন। 

-  মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি।
- যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৬৪.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তা ছিলেন -
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,২৬৫.
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?
  1. চীন
  2. নেপাল
  3. আফগানিস্তান
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৬৬.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সময়ে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. এপ্রিল, ১৯৭১ 
  2. মে, ১৯৭১
  3. জুন, ১৯৭১
  4. জুলাই, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
জুলাই, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার:
- ১৯৭১ সালের ১১ - ১৭ জুলাই পর্যন্ত কলকাতাস্থ ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল সেখানে।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রধানতম ছিল সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা, এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চল ভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।
- ১১টি সেক্টরে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ১৬ জন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।

⇒ সেক্টর কমান্ডার:
- ১নং সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ২ নং সেক্টর: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।
- ৩নং সেক্টর: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, ক্যাপ্টেন এ এন এম নুরুজ্জামান।
- ৪ নং সেক্টর: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।
- ৫নং সেক্টর: মেজর মীর শওকত আলী।
- ৬নং সেক্টর: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।
- ৭নং সেক্টর: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান।
- ৮নং সেক্টর: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।
- ৯নং সেক্টর: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।
- ১১নং সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর আবু তাহের, উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান।

উৎস: I) BBC.
ii)  বাংলাপিডিয়া।

৮,২৬৭.
কোন বিষয়টির সাথে 'স্যার সৈয়দ আহমদের' নাম জড়িত?
  1. ক) মুসলিম লীগ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) ঋণসালিসী বোর্ড
  4. ঘ) ওহাবী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) আলীগড় আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- আলিগড় আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- স্যার সৈয়দ আহমদের' নাম আলীগড় আন্দোলনের সাথে জড়িত।

• সৈয়দ আহমদ খান:

- নওয়াব  সরফরাজ খানের আমলে সৈয়দ আহমদ খান ঘোড়াঘাট ও রংপুরের নায়েব ফৌজদার ছিলেন।
- উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে আলীগড় আন্দোলন গড়ে তুলে।
- পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায়কে যুক্তিবাদী আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেন তা আলিগড় আন্দোলন নামে খ্যাত।
- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের পর অনগ্রসর মুসলিম সমাজে কিছু কিছু সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়।
- হিন্দুদের তুলনায় অনগ্রসর পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদাসীন মুসলিম সমাজের দুরবস্থার কথা সৈয়দ আহমদ অবগত ছিলেন।
- ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষাকে প্রগতির যথার্থ সোপান বলে মনে করতেন তিনি এজন্য মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসারে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
- তাই তাকে মুসলিম জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়। 

উৎস: ডেইলি বাংলাদেশ।
৮,২৬৮.
বার্নিয়ের কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?
  1. ইংলিশ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. স্প্যানিশ
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। 
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। 
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৬৯.
আর্যপূর্ব প্রাচীন কোন জনগোষ্ঠী 'নিষাদ' নামে পরিচিত ছিল?
  1. অস্ট্রিক
  2. দ্রাবিড়
  3. নেগ্রিটো
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা 'নিষাদ' নামে পরিচিত।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে বাংলায় এদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,২৭০.
"The Cruel Birth of Bangladesh”- গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হাওয়ার্ড ডাব্লিউ. ফ্রেঞ্চ
  2. আর্চার কে ব্লাড
  3. জন আপডাইক
  4. মার্ক টোয়েন
সঠিক উত্তর:
আর্চার কে ব্লাড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্চার কে ব্লাড
ব্যাখ্যা

আমেরিকান কূটনীতিক আর্চার কে ব্লাডের স্মৃতিকথা "দ্য ক্রুয়েল বার্থ অফ বাংলাদেশ: মেমোয়ার্স অফ অ্যান আমেরিকান ডিপ্লোম্যাট"  যা ২০০২ সালে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড দ্বারা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

⇒ আর্চার কে ব্লাড ছিলেন ঢাকায় আমেরিকান কনসাল জেনারেল, স্কট বুচার ছিলেন তার রাজনৈতিক কর্মকর্তা, এবং অ্যান্ডি কিলগোর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ঢাকা ছেড়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। 

⇒ বইটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের অনেক অজ্ঞাত ঘটনার উপর আলোকপাত করে।

⇒ এরকম একটি ঘটনা ছিল যে, ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কূটনীতিককে প্রায় বন্দুকের নলের মুখে কূটনৈতিক ফোন করতে হয়েছিল। দমন-পীড়নের পর থেকে ব্লাড পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) জেনারেল টিক্কা খানের সাথে দেখা করা থেকে বিরত ছিলেন। ২ এপ্রিল, যখন তিনি পদত্যাগ করছিলেন, তখন একজন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন তাকে থামিয়ে জানান যে সিএমএলএ সন্ধ্যা ৬ টায় ব্লাডকে তার বাসভবনে তার সাথে দেখা করতে চান। ব্লাডকে এই সাক্ষাৎ করতে হয়েছিল এবং তিনি এ সম্পর্কে নির্বিকার সুরে লেখেন যে ৪৫ মিনিটের কথোপকথন তাকে এবং আমেরিকান সম্প্রদায়কে যেকোনো সহায়তা করার প্রস্তাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই প্রকাশ করেনি। "পরের দিন সকালে, যেমনটি আমি আশা করেছিলাম, নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খবর প্রকাশ করেছিল যে আমেরিকান কনসাল জেনারেল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের সাথে দেখা করেছেন," ব্লাড ব্যঙ্গ করে বলেন। 

উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার।

৮,২৭১.
নাচোল বিদ্রোহের নেত্রীর নাম কী?
  1. কাদম্বিনী
  2. ইলা মিত্র
  3. লক্ষ্মীরাণী
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
নাচোল বিদ্রোহ:
- নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহের নেত্রীর নাম ইলা মিত্র।
⇒ কিংবদন্তিতুল্য কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার জমিদারদের বিরুদ্ধে সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা ইতিহাসে নাচোল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
• ১৯৪৯-৫০ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত নাচোল উপজেলার সাঁওতাল কৃষকদের বিদ্রোহ।
•  সে সময়কার তেভাগা, নানকার এবং টঙ্ক আন্দোলনের মতোই নাচোল বিদ্রোহটিও সংগঠিত করেন কম্যুনিস্ট পার্টির কর্মীরা।
• তাঁরা বাংলায় সমাজ বিপ্লব সাধনের লক্ষ্যে নাচোলের সাঁওতাল কৃষকদের বৈপ্লবিক সংঘটনার একটি কৌশলগত জনগোষ্ঠি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উল্লেখ্য,
• ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর এবং ১৯৫০ সালের প্রথমার্ধে নাচোল উপজেলার ঘাসুরা, চন্ডীপুর, কেন্দুয়া, রাউতারা, জগদাই, ধারোল, শ্যামপুরা এবং নাপিত পাড়ার মতো গ্রামের চাষিরা তাদের জোতদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
• তাদের দাবি ছিল, প্রথা অনুযায়ী তিন আড়ি ধানের পরিবর্তে তাদেরকে শ্রম-ভাড়া বাবদ কুড়ি আড়িতে সাত আড়ি ধান প্রদানে জোতদারদের সম্মত হতে হবে এবং আধিয়ারদের মতো জমি চাষের জন্য তাদেরকে উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ঘটে।
• বহু পুলিশ নিহত হয় এবং জোতদারদের ঘরবাড়ি লুট হয়। জমিদার ও জোতদারগণ পুলিশের সহায়তায় পাশবিক অত্যাচারের পন্থা গ্রহণ করে।এতে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
• কৃষক সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে  ইলা মিত্র, অনিমেষ লাহিড়ী, আজহার শেখ, বৃন্দাবন সাহা এবং আরও প্রায় কুড়িজন সংগ্রামী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয় এবং বিচার করে দীর্ঘমেয়াদি দন্ড প্রদান করা হয়।
• পরবর্তীকালে ইলা মিত্রসহ অনেকে রাজনৈতিক কারণে মুক্তি লাভ করেন। 
• ১৯৫০ সালের  পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনএর আওতায় সাঁওতাল চাষিদের জমির ওপর অধিকার দেওয়া হয় এবং তারা অন্যান্য সাধারণ চাষিদের মতো প্রচলিত হারে নগদে খাজনা পরিশোধের অধিকার লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৭২.
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কে?
  1. শংকু মজুমদার
  2. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. শংকু সমজদার
  4. মনু মিয়া
সঠিক উত্তর:
শংকু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শংকু সমজদার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শংকু সমজদার
- ওই সময় রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
- তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছিল রংপুরের শঙ্কু সমাজদার।
- পরে ক্যাটগরির মধ্যে পড়ে না বলে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।

অন্যদিকে -
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মনু মিয়া।
- ভাষার আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৩ মার্চ, ২০২২, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৮,২৭৩.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. ক) শাহজাহান সিরাজ
  2. খ) আ স ম রব
  3. গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ১৮ এপ্রিল এই সরকারের সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।
১৯৭১ সালের ২রা মার্চ আ স ম রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। শাহজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৮,২৭৪.
"Mother Language Lovers of the World" সংগঠনটি কোথায় গঠিত হয়েছিল?
  1. নিউইয়র্ক
  2. ভ্যাঙ্কুভার
  3. লন্ডন
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ভ্যাঙ্কুভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যাঙ্কুভার
ব্যাখ্যা
• শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর থেকে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদিন ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রভাতফেরি ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির জন্য ১৯৯৮ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে "Mother Language Lovers of the World" নামের একটি ভাষাপ্রেমী সংগঠন জাতিসংঘে আবেদন করে। তারা জাতিসংঘের ২৭ ধারার আলোকে ভাষা ব্যবহারের অধিকার রক্ষার কথা তুলে ধরে। ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করে।

- আবেদনপত্রে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বহু জাতিগোষ্ঠী মাতৃভাষা ভুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সনদের লঙ্ঘন। এই দিবস ঘোষণার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীকে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উৎসাহিত করা হবে।

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি ভাষার অধিকারের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৮,২৭৫.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাদারীপুর
  2. খ) শরীয়তপুর
  3. গ) পিরোজপুর
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ক) মাদারীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাদারীপুর
ব্যাখ্যা
- হাজী শরীয়তুল্লাহ মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন
- হাজী শরীয়তুল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৭৬.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ ?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

কয়লা:

- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে
- জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট), বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর), খালাশপীর (রংপুর), দিঘীপাড়া (দিনাজপুর) ও ফুলবাড়ি (দিনাজপুর)।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি।
- আবিস্কৃত ৫টি কয়লা ক্ষেত্রে কয়লার মোট মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৩০০ মিলিয়ন টন

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮,২৭৭.
ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শাহজাহান
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

• ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা পাঁচবার বাংলার রাজধানী হয়।
- ১৬১০, ১৬৬০,  ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৭১ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৮,২৭৮.
ছয় দফা দিবস কোনটি?
  1. ৪ জুন
  2. ৫ জুন
  3. ৬ জুন
  4. ৭ জুন
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,২৭৯.
বখতিয়ার খলজি বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে অতর্কিত আক্রমণ করেন-
  1. ক) দেবকোটে
  2. খ) নদীয়ায়
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) লক্ষণাবতীতে
সঠিক উত্তর:
খ) নদীয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নদীয়ায়
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি। বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮,২৮০.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
  2. ১৯৬৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
  4. ১৯৭০ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়। 
- ২৯শে ডিসেম্বর ঘেরাও আন্দোলনের সূচনা হয়।

♣ ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। 
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে ।
- ৮ই জানুয়ারি পাকিস্তানের ৮টি রাজনৈতিক দল মিলে ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ' (ডাক) নামক মোর্চা গঠন করে এবং ৮ দফা দাবি পেশ করে ।

- ২০শে জানুয়ারি ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন।
- হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। 

- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। 
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে। 
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। 

- অবশেষে আইয়ুব খান বুঝতে পারেন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের মুক্তি না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
- ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে বাধ্য হয়ে আইয়ুব-মোনায়েম সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে। শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান করা হয়। 
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ যে রেসকোর্স ময়দানের সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,২৮১.
কার উদ্যোগে আইয়ুব খান বিরোধী জোট এন.ডি.এফ গঠিত হয়?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. নূর খান
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী
  4. একে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী
ব্যাখ্যা
এন. ডি. এফ:

- এন. ডি. এফ এর পূর্ণরূপ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
- এটি গঠিত হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে।
- ১৯৬২ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্ট ১৯৬২ সালে গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৮২.
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হিসেবে কাকে বিবেচনা করা হয়?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহিপাল
  4. দেবপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
- পাল বংশের মধ্যে ধর্মপাল ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী ও কৃতী শাসক।

পাল বংশ:
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
- পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী ধর্মপাল পালদের উদীয়মান প্রতিপত্তির যুগের সূচনা করেন।
- পাল শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল গোপালের হাত ধরে।
- ধর্মপাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
- বিক্রমশীল বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের কৃতিত্ব তাঁর।
- নয় শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত সমগ্র ভারতে এটি ছিল বৌদ্ধদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র।
- এছাড়া পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারও ধর্মপালের আরেক কীর্তি।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,২৮৩.
ঢাকা গেইট কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে নির্মিত?
  1. মীর জুমলা
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শায়েস্তা খান
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৮,২৮৪.
আগরতলা মামলার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় কার নেতৃত্বে?
  1. আতাউর রহমান খান
  2. মকসুমুল হাকিম
  3. মনজুর কাদের
  4. এস. এ. রহমান
সঠিক উত্তর:
এস. এ. রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস. এ. রহমান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:

- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ.রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,২৮৫.
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) নুরুল আমীন
  2. খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
  3. গ) মোহাম্মাদ আলী
  4. ঘ) লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়:
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী : খাজা নাজিমউদ্দিন
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী : নুরুল আমিন
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল : গোলাম মুহাম্মদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,২৮৬.
ডিরোজিও কোন আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন? 
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন 
  3. ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
  4. ওয়াহাবি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সদস্যরা এ দেশবাসীকে বারবার এ কথাই বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা ব্রিটিশ কর্তৃক শাসিত ও শোষিত হচ্ছে। এ কারণে এই তরুণরা ভারতবাসীর স্বার্থবিরোধী সব কাজের ঘোর বিরোধিতা করেছে। যেমন- প্রেস আইন, মরিশাসে ভারতীয় শ্রমিক রপ্তানি,  ভারতবাসীর স্বার্থের প্রতি উদাসীন ১৮৩৩ সালের চার্টার আইন এদের দ্বারা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে।
- তরুণ সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণা পাল্টে দিতে ডিরোজিও কর্তৃক ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
-  ১৮৩০ সালে ডিরোজিওর অনুপ্রেরণায় হিন্দু কলেজের ছাত্ররা 'পার্থেনন' নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে।
- এতে সমাজ, ধর্ম, বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক সমালোচনা প্রকাশিত হতে থাকলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়।
- তিনি ১৮৩১ সালে 'হিসপাবাস' নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা এবং 'ইস্ট ইন্ডিয়া' নামে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

৮,২৮৭.
When was the Family Courts Ordinance issued?
  1. in 1975
  2. in 1977
  3. in 1979
  4. in 1981
  5. in 1985
সঠিক উত্তর:
in 1985
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1985
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স:
- পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আইনগত সমস্যার বিচার নিষ্পত্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ।
- ১৯৮৫ সালে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

⇒ ইসলামী আইন, হিন্দু আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রভৃতি সমন্বয়ে পারিবারিক আদালতের বিচার্য বিষয়ের আইন সংকলিত হয়েছে।
- এ আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য এলাকার জেলাসমূহ ছাড়া সারা দেশে প্রযোজ্য।
- এ আইন বলে দেশের সকল মুন্সেফ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং মুন্সেফগণ এ আদালতের বিচারক হবেন।
- পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে।
- এগুলি হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,২৮৮.
আইয়ুব খান কবে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন?
  1. ১৯৬২ সালের ৫ মার্চ
  2. ১৯৬২ সালের ১১ জুলাই
  3. ১৯৬২ সালের ১৮ আগস্ট
  4. ১৯৬২ সালের ৮ জুন 
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালের ৮ জুন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালের ৮ জুন 
ব্যাখ্যা

- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।

• সামরিক শাসন প্রত্যাহার:
- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

৮,২৮৯.
সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আইন কবে চালু করা হয়?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায়।
- ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক প্রথম আলো। 

৮,২৯০.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়ো-এর শাসনামলে।

লর্ড মেয়ো:
- লর্ড মেয়ো ১৮৬৯ - ৭২ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- তিনি মেয়ো-র পঞ্চম আর্ল-এর পুত্র।
- পিতার উত্তরাধিকারী ষষ্ঠ আর্ল ভারতে আসেন লর্ড মেয়ো হিসেবে এবং তাঁর অব্যবহিত পূর্বসূরিদের অনুসৃত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অব্যাহত রাখেন। 

⇒ সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার।
- তিনি লবণ কর ও আয়কর বৃদ্ধি করেছিলেন।
- তিনি প্রশাসনে ব্যয় সংকোচন ঘটান এবং প্রাদেশিক সরকারগুলিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থবরাদ্দ করার ব্যবস্থা করে অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উন্নত হয়।
- তাঁর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি শুরু হয়।
- তিনি দেশে পরিসংখ্যান জরিপের ব্যবস্থা করেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- দেশীয় রাজন্যবর্গ ও প্রধানদের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার জন্য তিনি আজমীরে মেয়ো কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আন্দামান সফরে গিয়ে তিনি জনৈক পাঠান কয়েদির ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন এবং তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,২৯১.
‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) রমজান আলী
  2. খ) গোবিন্দ হালদার
  3. গ) মোঃ মনিরুজ্জামান
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটি দারুণভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ। 
- ‘জয়বাংলার গান’ রূপে পরিচিত গোবিন্দ হালদারের সঙ্গীতগুলো  'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে প্রচারিত হত। 

উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, প্রথম আলো।
৮,২৯২.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য তারামন বিবিকে কোন খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. বীর নারী
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক প্রথম আলো।
৮,২৯৩.
প্রাচীন পুন্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. বাঙ্গালী 
  2. করতোয়া
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. মহানন্দা
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা

পুণ্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- এখানে গুপ্তদের সুনিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা ছিল।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,২৯৪.
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৮০ সালে
  2. খ) ১৯৮১ সালে
  3. গ) ১৯৮২ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান
⇒ ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒  এটি গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত।
⇒ এর মোট আয়তন ৫০২২ হেঃ।
⇒ এটি ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়।
⇒ সরকারী তথ্য মতে প্রতি বছর প্রায় ৩,৭৫,০০০ দর্শনার্থী এখানে আসেন।
⇒ এটি একটি ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী বৃক্ষের বন।
 ⇒ এখানকার মুল প্রজাতি হলো শাল।
⇒ মুল কর্তিত গাছ থেকে পুনরায় গজানোর গুন থাকায় এগুলোকে গজারী বন ও বলা হয়।
⇒ এখানকার বর্তমান শাল বন মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ভূক্ত শালবন। 
⇒  এ বনে প্রায়ই ১০ প্রজাতরি স্তন্যপায়ী প্রাণী ৬ প্রজাতির উভচর, ৯ প্রজাতির সরিস্প এবং ৩৯ প্রজাতির পাখি দেখা যায়।
⇒ বন্যপ্রাণীর মধ্যে গন্ধগোকুল, গেকশিয়াল, বাঘদাস, খরগোস, সজারু, বেজী ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।
⇒ গুইসাপ, অজগর, কচ্ছপ ইত্যাদি প্রধান সরিসৃপ।
⇒ এখানে প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছ দেখা যায়।

সূত্র: বন অধিদপ্তর।
৮,২৯৫.
পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেয় কে?
  1. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  2. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এবং একই বছর জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেন।

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন বাঙালি লেখক, বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলার পক্ষে বক্তব্য দেন। পূর্ব বাংলায় ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে পত্র-পত্রিকায় মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৯৬.
বঙ্গবন্ধু -১ স্যাটেলাইট কোন দেশে উৎক্ষেপণ করা হবে?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 রকেটটির মাধ্যমে। SpaceX যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি। CEO - Elon Musk
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ।
উৎক্ষেপণ সময়ঃ
১১ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪:১৪ মিনিট
অর্থাৎ ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশ সময় ভোররাত ২:১৪ মিনিট
স্থানঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল-এ অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড LC-39A থেকে Falcon 9 (Block 5) লঞ্চ ভেহিকেল এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১ মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
মন্ত্রণালয়/বিভাগঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ)
বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
বাস্তবায়নকালঃ ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত
প্রাক্কলিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা
সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৭৬৫.৬৬ কোটি টাকা
নির্মাণ সংস্থাঃ বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান Thales Alenia Space France বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে।
Thales এর চুক্তিমূল্যঃ ১৯০৮.৭৫ কোটি টাকা।
সূত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন

৮,২৯৭.
প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে বাংলা প্রদেশকে দুইভাগে বিভক্ত করেন -
  1. লর্ড বেন্টিক
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ ও নতুন প্রদেশ সৃষ্টি:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন।

⇒ পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল। জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ। এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ছিল মুসলমান। নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

⇒ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়। এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ। বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,২৯৮.
বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ১৭৫ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ৬৮ জন
  4. ৬৭ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৮,২৯৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ২৫ মার্চ ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  3. ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালীন — ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।

-------------------------- 
• বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে দুঃখখজনক ও মর্মান্তিক যে  ঘটনা হয় সেটি হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
- ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পুরো নয় মাস বিশেষত ১০-১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পাক-বাহিনী এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে অবশেষে হত্যা করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ও যশস্বী শিক্ষকসহ, গবেষক, প্রখ্যাত চিকিৎসক, লেখক-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিজীবীদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা স্পষ্টতই ছিল সামরিক জান্তার নীল নকশার বাস্তবায়ন, যে নীল নকশার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙ্গালি জাতিকে নেতৃত্বহীন ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়ায় পরিণত করা।
- ১৪ ডিসেম্বর 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' হিসাবে পালন করে ঐ সময়ে শহীদ হওয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের কিছু তথ্য:
- সার্বিক নির্দেশনা -- পাক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
- সার্বিক তত্ত্ববধায়নকারী -- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী
- বাস্তবায়নে ছিলো -- ব্রিগেডিয়ার বশির, লেঃ কর্নেল হেজাজী, মেজর আসলাম, মেজর জহুর, ক্যাপ্টেন নাসের, ক্যাপ্টেন কাইউম।
- দেশীয় দোসর -- আলবদর ও আলশামস বাহিনী।
('আলবদর' এর ঘাতকরা ছিলো জামাত ইসলামীর তৎকালীন অঙ্গ ছাত্রসংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘ' এর সদস্যরা এবং আলশামস বাহিনীর ঘাতকরা ছিলো মুসলিম লীগ, জামায়েত ইসলামী ও উর্দুভাষী বিহারীদের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী।)
- ঢাকার মিরপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগ, মোহাম্মদপুর সহ আরো কিছু স্থানে এই হত্যাকন্ড সংঘটিত হয়।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র) বই ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৩০০.
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব কার নেতৃত্বে শুরু হয়?
  1. বাহাদুর শাহ জাফর
  2. ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই
  3. মঙ্গল পাণ্ডে
  4. টিপু সুলতান
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিপ্লব: 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে।
- ২৯ মার্চ ১৮৫৭ সালে ব্যারাকপুর সেনানিবাসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন ভারতীয় সিপাহি হিসেবে তিনি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
- বিদ্রোহের মূল কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজ, যা গরু ও শুকরের চর্বি দিয়ে তৈরিকৃত বলে ধারণা করা হতো এবং
- এটি ধর্মীয়ভাবে হিন্দু ও মুসলমান সিপাহিদের জন্য আপত্তিকর ছিল।
- বিদ্রোহ দ্রুত মিরাট, দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
- বাহাদুর শাহ জাফর বিদ্রোহীদের মনোনীত নেতা হন।
- নানাসাহেব, তাতিয়া টোপি, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই প্রমুখ নেতারা এই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেটসহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলেও বিদ্রোহের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
- ব্রিটিশ সেনারা কঠোরভাবে বিদ্রোহ দমন করে এবং বহু বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড ও নির্বাসনে পাঠানো হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।