বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৮১ / ১২৪ · ৮,০০১৮,১০০ / ১২,৪২১

৮,০০১.
কোন পাকিস্তানি শাসক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. মোনায়েম খান
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,০০২.
বাংলাদেশের কোন জেলাটির সাথে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত আছে?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. কক্সবাজার
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০০৩.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) মেসোপটেমিয়া
  2. খ) স্ক্যান্ডেনেভিয়া
  3. গ) ভূমধ্যসাগরের তীরে
  4. ঘ) মধ্য আমেরিকায়
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমধ্যসাগরের তীরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমধ্যসাগরের তীরে
ব্যাখ্যা
ভূমধ্যসাগরের তীরে প্রাচীন লেবানন এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিন-ইসরাইলের কিছু অংশ জুড়ে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
ফিনিশীয় সভ্যতা বর্ণমালা আবিষ্কারের জন্যে বিখ্যাত। তারা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালার উদ্ভাবন করেছিল। এছাড়া জাহাজ নির্মাণ এবং নাবিকের জন্যেও ফিনিশীয়রা বিখ্যাত।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৮,০০৪.
মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুরে
  3. গ) চুয়াডাঙ্গায়
  4. ঘ) নবাবগঞ্জে
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুরে
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেনি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র।

৮,০০৫.
জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রকে কতটি স্তরে বিভক্ত করেছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে এক নতুন পদ্ধতি চালু।
- পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,০০৬.
কোন রাজবংশের অধীনে সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল?
  1. মৌর্য বংশ
  2. গুপ্ত বংশ
  3. সেন বংশ
  4. পাল বংশ
সঠিক উত্তর:
সেন বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন বংশ
ব্যাখ্যা
সেন রাজ বংশ:
- সেনগণই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলার ওপর তাদের নিরঙ্কুশ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

⇒ বিজয় সেন:
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন। বিজয় সেন সম্ভবত পালরাজা রামপালের রাজত্বকালে রাঢ় অঞ্চলে প্রথমে সামন্তরাজা ছিলেন। পরবর্তীকালে বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন। এভাবে বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি বেশ কিছু উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। যেমন- 'পরম মাহেশ্বর, পরম ভট্টারক, মহারাজাধিরাজ, অরিরাজ নিশঙ্ক শঙ্কর' ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- পাল রাজারা বাংলা, বিহার থেকে শুরু করে উত্তর ভারতের অনেক অঞ্চলের উপর ক্ষমতা বিস্তার করলেও সমগ্র বাংলা সকল সময়ের জন্য তাঁদের অধিকারে রাখতে পারেননি। পাল যুগের বেশিরভাগ সময় জুড়েই বঙ্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা বিভিন্ন স্বাধীন রাজবংশের অধিকারে ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০০৭.
কোন মুঘল সম্রাট পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- সম্রাট বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০০৮.
কতজন সদস্যের সমন্বয়ে আকরাম খান শিক্ষা কমিটি গঠিত হয়?
  1. ১৪ জন
  2. ১৫ জন
  3. ১৬ জন
  4. ১৭ জন
সঠিক উত্তর:
১৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ জন
ব্যাখ্যা
আকরাম খান শিক্ষা কমিটি:

- প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সুপারিশ পেশ করার জন্য ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়।
- এই কমিটির প্রধান ছিলেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এবং এই কমিটি আকরম খাঁ কমিটি অন এডুকেশন নামে পরিচিত।
- ১৭ জন সদস্যের সমন্বয়ে আকরাম খান শিক্ষা কমিটি গঠিত হয়।
- কমিটি ১৯৫২ সালে রিপোর্ট পেশ করে।
- কমিটি কর্তৃক পেশকৃত সুপারিশমালা আকরাম খান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ১৯৫২ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - শিক্ষার ইতিহাস-২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০০৯.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কবে গঠিত হয়?
  1. ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫২
  2. ১১ জানুয়ারি ১৯৫২
  3. ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
– ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

সূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০১০.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কোন সুলতান?
  1. ক) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  2. খ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গ) গিয়াস উদ্দিন বলবন
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুঘলক
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি আমির, মালিক, অভিজাত সম্প্রদায় এবং উলামাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করে মধ্যযুগীয় দিল্লী সালতানাতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কায়েম করে তিনি সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থার প্রচলন করেন। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। অভ্যন্তরীণ ও বহি:স্থ বিদ্রোহ দমন এবং সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের জন্য এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেন।সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন একাধারে রাজ্য বিজেতা, সুদক্ষ যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক এবং সমসাময়িককালের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৮,০১১.
বঙ্গবন্ধু ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা‘র নামকরণ করেছিলেন-
  1. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  2. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  4. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে। 
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০১২.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয়-
  1. ২৬ ই মার্চ, ১৯৭১ সাল
  2. ২৬ ই মে, ১৯৭১ সাল
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭১ সাল
  4. ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সাল
সঠিক উত্তর:
১৫ আগস্ট, ১৯৭১ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ আগস্ট, ১৯৭১ সাল
ব্যাখ্যা
• অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,০১৩.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. ক) শামিম শিকদার
  2. খ) রবিউল হোসেন
  3. গ) তানভীর কবির
  4. ঘ) সৈয়দ মাইনুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) তানভীর কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তানভীর কবির
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। ২০.১০ একর জমির উপর স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত। ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত। স্থপতি তানভীর কবিরের নকশায় এ সৌধটিকে উদীয়মান সূর্যের প্রতীক বলে মনে হয়। ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক। এই ২৩ বছরে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে যে সংগ্রাম গড়ে তোলে, তার প্রতীকও ২৩টি স্তম্ভ।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৮,০১৪.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. হাসিনা খাতুন
  2. হাসিনা বেগম
  3. হাসিনা খানম
  4. হাসিনা আক্তার
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:

- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৮,০১৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ডকে কোন খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. বীর প্রতীক
  2. বীর উত্তম
  3. বীর বিক্রম
  4. উপড়ের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা

ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮,০১৬.
দেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মাগুরা
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
খ) মাগুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাগুরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষর মুক্ত জেলা - মাগুরা।

- বাংলাদেশে মোট ৭ টি জেলাকে নিরক্ষরমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ৷
- এগুলোর মাঝে সর্বপ্রথম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয় "মাগুরা" কে ৷

অন্যান্য জেলাগুলো হচ্ছে-
- সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা৷

- মাগুরা জেলায় যে গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় তার নাম - "বিকশিত মাগুরা"।
- ১৯৯৮ সালে মাগুরায় 'বিকশিত মাগুরা' নামে ৯ মাসব্যাপী সাক্ষরতা অভিযান বাস্তবায়ন শেষে এটিকে বাংলাদেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৮,০১৭.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি অবস্থিত?
  1. আজম খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. পরীবিবি
  4. সোনাবিবি
সঠিক উত্তর:
পরীবিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরীবিবি
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০১৮.
What is the maximum operating transmission voltage (KV) in Bangladesh?
  1. ক) 33
  2. খ) 132
  3. গ) 230
  4. ঘ) 400
সঠিক উত্তর:
ঘ) 400
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 400
ব্যাখ্যা
Power Grid Company of Bangladesh (PGCB) is the transmission utility, owning and
managing the transmission network and substations at 132 kilovolts (kV), 230 kV, and 400 kV. 

উৎস : এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক 
৮,০১৯.
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি কবে দেওয়া হয়?
  1. ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪
  2. মে, ১৯৫৪
  3. ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
  4. মে, ১৯৫৬
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ জাতির আরও অনেক সূর্য-সন্তানেরা। 
- ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৮,০২০.
বিশ শতকের গোড়ার দিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. খ) চার্টার অ্যাক্ট
  3. গ) চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার আইন
  4. ঘ) রেগুলেটিং অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
ব্যাখ্যা
- বিশ শতকের প্রথমদিকে উত্তপ্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য মর্লি-মিন্টো সংস্কার ছিল একটা কৌশলগত পদক্ষেপ। 
- ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রবর্তনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস করে যা মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে আইন সভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল না। 
- তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করায় স্বভাবতই তারা খুশী হয়, যদিও কংগ্রেস এতে ক্ষুব্ধ ছিল
কংগ্রেসের নরমপন্থীরাও সন্তুষ্ট ছিল না ।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের সংস্কার আইন ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।
- আইন সভার নির্বাচিত সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন না। তাছাড়া তাদেরকে কোন ক্ষমতাও দেয়া হয়নি। 
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন সভাগুলোতে তারা সব সময়ই সংখ্যালঘু ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এ সংস্কার আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রতিনিধিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন ইচ্ছাই ইংরেজদের ছিল না।
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,০২১.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্থায়িত্বকাল কতদিন?
  1. ৫২ দিন
  2. ৫৪ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৫৮ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাতকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০২২.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/ মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০২৩.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি মুসলিম আসন লাভ করে?
  1. ২১৮টি
  2. ২২৩টি
  3. ২৩৩টি
  4. ২৩৮টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ এবং পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান শরিক দলগুলো ছিল: মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফতে রব্বানী পার্টি।

নির্বাচনের ফলাফল:
- নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- ফলে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রুপ), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।
- ফলে, যুক্তফ্রন্ট মোট আসন লাভ করে ২১৫টি+৮টি+১৩টি=২৩৬টি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০২৪.
'কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া, অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া' গানটির রচয়িতা-
  1. উস্তাদ আলাউদ্দিন
  2. রাধারমণ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. লালন ফকির
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা

- 'কারে দেখাবো মনের দুঃখ' গানটি হল রাধারমন দত্তের গাওয়া।
- তিনি নিজেই গানটির কথা লিখেছেন।
- গানটি কভার করেছেন সইফ জোহান।

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

ঘর বাঁধিলাম প্রাণবন্ধের সনে
কত কথা ছিল‌ মনে গো
ভাঙ্গিলো আদরের জোড়া
কোনজন বাদী হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া

কথা ছিল সঙ্গে নিবো গো আমায়
সঙ্গে আমায় নাহি নিলো গো
রাধারমন ভবে রইলো
জিতে মরা হইয়া
জ্বলে গইয়া গইয়া

কারে দেখাবো মনের দুঃখ গো আমি বুক চিরিয়া
অন্তরে তুষেরই অনল জ্বলে গইয়া গইয়া।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৮,০২৫.
মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশকে কতটি রণাঙ্গনে বিভক্ত করা হয়?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ১১টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

==========================
মুজিবনগর সরকার কর্তৃক মুক্তিবাহিনী গঠন বা প্রবাসী সরকার কর্তৃক মুক্তিবাহিনী গঠন প্রশ্নে উল্লেখ্য থাকলে-  ৮টি রণাঙ্গনে বিভক্ত উত্তর হবে।

অন্যদিকে,
১৯৭১ সালে বা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশকে কতটি রণাঙ্গনে বিভক্ত করা হয়েছে প্রশ্নে উল্লেখ্য থাকলে - ১১টি উত্তর হবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০২৬.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ অঞ্চল প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র
ব্যাখ্যা

• বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুঞ্জের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক এলাকা এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে,
- প্রাচীন সমতট জনপদের বর্তমান অবস্থান- কুমিল্লা, নোয়াখালী ।
- প্রাচীন হরিকল জনপদের বর্তমান অবস্থান- সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদের বর্তমান অবস্থান- ঢাকা, ফরিদপুর ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

৮,০২৭.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় প্রতিষ্ঠা করে?
  1. কারিকলে
  2. সুরাটে
  3. মাদ্রাজে
  4. পাটনায়
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে ফরাসিদের আগমন সবার শেষে।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- প্রথমে তারা মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে। এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০২৮.
নিচের কোনটি হরিকেল জনপদের অংশ ছিল?
  1. রাজশাহী
  2. চট্টগ্রাম
  3. নোয়াখালী
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০২৯.
ইংরেজদের সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি দেন কে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ূন
  3. সম্রাট শাহজান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ইংরেজ:
- সমুদ্রপথে ইউরোপীয় বণিকদের সাফল্য প্রাচ্যের ধনসম্পদের প্রাচুর্য, ইংরেজ বণিকদেরকেও বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত করে। - এই উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একদল বণিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে একটি বণিক সংঘ গড়ে তোলে।
- বণিক সংঘটি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- এরপর ক্যাপ্টেন হকিস ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।তাঁর অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপিত হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।
- সম্রাটেরকাছ থেকে তিনি ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন।
- কোম্পানি সুরাট, আগ্রা,আহমেদাবাদ প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে তাদের ভিত্তিমজবুত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮,০৩০.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবদুস সালাম খান
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন:
- এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন;
- আবু হোসেন সরকার অর্থ;
- আতাউর রহমান খান বেসামরিক সরবরাহ;
- আবুল মনসুর আহমদ জনস্বাস্থ্য;
- কফিল উদ্দিন চৌধুরী বিচার ও আইন;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন;
- আবদুস সালাম খান শিল্প ও পূর্ত;
- শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন;
- আবদুল লতিফ বিশ্বাস রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার;
- আশরাফ আলী চৌধুরী সড়ক ও গৃহ নির্মাণ;
- হাশিম উদ্দিন আহমদ বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন;
- রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী স্বাস্থ্য ও কারা;
- ইউসুফ আলী চৌধুরী কৃষি, বন ও পাট এবং
- মোয়াজ্জেম উদ্দিন হোসেন জমিদারি অধিগ্রহণ।

সূত্র: প্রথম আলো।
৮,০৩১.
বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে। 
-  হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে। 

⇒ ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়। 
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় দুদু মিয়াকে বন্দী করা হয়।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি পান।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঊনিশ শতকের শেষ প্রান্তে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৩২.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'?
  1. হুমায়ুন
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,০৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত প্রথম ব্রিগেড ফোর্সের প্রধান কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. কে.এম. সফিউল্লাহ
  3. খালেদ মোশারফে
  4. এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স।
• কে ফোর্স।
• এস ফোর্স।

• জেড ফোর্স:
- মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- 'জেড ফোর্স' নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

• এস ফোর্স:
- কে.এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- 'এস ফোর্স' নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• কে ফোর্স:
- কর্ণেল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে অক্টোবর মাসে কে ফোর্স গঠিত হয়।
- 'কে ফোর্স' গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা জেলা প্রসাশন ওয়েবসাইট।
৮,০৩৪.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে কোন চুক্তির মাধ্যমে?
  1. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. পাঞ্জাব চুক্তি
  4. আলীনগর চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে।

কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- মুঘল শাসন আমলে বাংলার দেওয়ানের পদ এবং সুবেদারের পদ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত ছিল। মুর্শিদ কুলি খান এই নিয়ম ভেঙ্গে দুটি পদ একাই দখল করে নেন।
- এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সম্রাট কোম্পানিকে বাৎসরিক উপঢৌকনের বদলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি গ্রহণের অনুরোধ করেন। তখন কোম্পানি বিষয়টি অগ্রাহ্য করে।
- দেওয়ানি শর্ত সম্পর্কিত দুটি চুক্তি করা হয়।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে এলাহাবাদ চুক্তি।
- অপর চুক্তিটি হয় মীর জাফরের নাবালক পুত্র নবাব নাজিম-উদ-দ্দৌলার সঙ্গে।
- এই দুটি চুক্তির ফলে যে দেওয়ানি লাভ করা হয় তাতে এ অঞ্চলে কোম্পানির ক্ষমতা একচেটিয়া বৃদ্ধি পায়। ফলে সমস্ত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে।
- দেওয়ানি লাভ কোম্পানির শুধু রাজনৈতিক নয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশাল বিজয়।
- সম্রাট ও নবাব উভয়েই ক্ষমতাহীন শাসকে পরিণত হন। প্রকৃতপক্ষে তারা হয়ে যান কোম্পানির পেনশনভোগী কর্মচারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৫.
বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মোট কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১১ টি
  2. ১২ টি
  3. ১৪ টি
  4. ১৫ টি
সঠিক উত্তর:
১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্যসূত্র - উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৬.
তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাকালে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন —
  1. অধ্যাপক এ.এস.এম. নূরুল হক ভূঁইয়া
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
  4. হাসান ইকবাল
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ: 
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ। 
- তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় সিনিয়র ছাত্র। 
- প্রফেসর আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮,০৩৭.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা-
  1. অশোক
  2. সমুদ্র গুপ্ত
  3. লক্ষণ সেন
  4. শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
- এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন।
- তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।

⇒ অপরদিকে,
- ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
- লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাও, শেরে বাংলা নগর
  2. খ) বিজয় সরণী, তেজগাঁও
  3. গ) মিরপুর
  4. ঘ) শাহবাগ
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয় সরণী, তেজগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিজয় সরণী, তেজগাঁও
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকার বিজয় সরণী এলাকায় ৫.৪৬ একর জমির উপর ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের একমাত্র প্ল্যানিটেরিয়াম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার।’
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালে নভেথিয়েটারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
- উদ্দেশ্য: দেশের সকল নাগরিক ও শিক্ষার্থীকে বিনোদনের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও তথ্য প্রদান এবং মহাকাশ বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করণ।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০৩৯.
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে কত তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে?
  1. ৪ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৭ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা সরকারের পতন:
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে, যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার।

উল্লেখ্য,
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
৮,০৪০.
আইন-ই-আকবরই গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. আবুল ফজল
  2. ইবনে বতুতা 
  3. তানসেন
  4. কালীদাস রায়
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী:
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৪১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. খ) ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  3. গ) ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ঘ) ৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৪২.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রচিন্তা
  2. খ) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) তমুদ্দিন মজলিশ
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা সভা
সঠিক উত্তর:
গ) তমুদ্দিন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তমুদ্দিন মজলিশ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৮,০৪৩.
বাংলায় মুঘল সম্রাট আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন -
  1. রাজা মানসিংহ
  2. মুনিম খান
  3. শাহবাজ খান
  4. মির্জা আজিজ
সঠিক উত্তর:
রাজা মানসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা মানসিংহ
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৪৪.
বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড কত নং সেক্টরে কাজ করেন?
  1. ২নং
  2. ৫নং
  3. ৭নং
  4. ১১নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২নং সেক্টরে কাজ করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৮,০৪৫.
বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কত দফা দাবি তুলে ধরেন?
  1. ৪ দফা
  2. ৫ দফা
  3. ৬ দফা
  4. ৭ দফা
সঠিক উত্তর:
৪ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ দফা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:

- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮,০৪৬.
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম কোন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন?
  1. দর্শন
  2. ইতিহাস
  3. পদার্থবিজ্ঞান
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- তমদ্দুন মজলিস একটি ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরে সংগঠনটি গড়ে ওঠে।
- সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাস্থল ঢাকা।
- তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭।
- প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- প্রতিষ্ঠাকালে সংগঠনটির নাম ছিল পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস।
- সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করা।
- বাংলা ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিসের ভূমিকা ছিল পূর্ববাংলার জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিস বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করে।
- রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সংগঠনটি বাংলা ভাষার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,০৪৭.
প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. বসুন্ধরা
  2. আমরা তোমাদের ভুলব না
  3. শঙ্খনীল কারাগার
  4. মেঘের অনেক রং
সঠিক উত্তর:
মেঘের অনেক রং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘের অনেক রং
ব্যাখ্যা
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
- এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ও সর্বোচ্চ পুরস্কার।
- স্বাধীনতার চার বছর পর ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।
- প্রতি বছর সরকার নিযুক্ত জাতীয় প্যানেল বিজয়ীদের নির্বাচন করে।
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের প্রথম অনুষ্ঠানিকতা ১৯৭৬ সালের ৪ এপ্রিল সম্পন্ন হয়।

⇒ ১৯৭৬ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মেঘের অনেক রং’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায়।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন হারুনর রশীদ।
- রত্না কথাচিত্রের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন আনোয়ার আশরাফ ও শাজীদা শামীম।
- এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।

এছাড়াও,
- ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়।
- ১৯৯০ সালে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ পুরস্কার পায়।
- ১৯৯২ সালে ‘শঙ্খনীল কারাগার’ চলচ্চিত্রকে শ্রেষ্ঠ কাহিনির জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়। 

উৎস: i) Jagonews24 পত্রিকা।
ii) প্রথম আলো।
৮,০৪৮.
ইলবার্ট বিলের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন—
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা

- লর্ড রিপনের শাসনামলে এই সংস্কারমূলক বিলটি প্রণীত হয়।

ইলবার্ট বিল: 
- ইলবার্ট বিল ১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের শাসনামলে উত্থাপিত হয়।
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় হিসেবে উদারপন্থী চিন্তাধারার জন্য পরিচিত ছিলেন।
- ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করে বিচার বিভাগে সমতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই বিলটি উত্থাপন করা হয়।
- বিলটি উত্থাপন করেন লর্ড রিপনের আইনমন্ত্রী সি. পি. ইলবার্ট। তবে বিলটি ইউরোপীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যারা ভারতীয় বিচারকদের অধীনে বিচার হতে রাজি ছিল না।
- অবশেষে ইউরোপীয়দের চাপে লর্ড রিপন বিলটি সংশোধন করে জুরি ব্যবস্থার শর্তে পাস করেন।
- এই বিতর্ক ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এটি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৮৩) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (১৮৮৫) প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৮,০৪৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১ দফার ঘোষক কে ছিলেন?
  1. হান্নান মাসুদ
  2. নাহিদ ইসলাম
  3. আসিফ মাহমুদ
  4. হাসনাত আব্দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাহিদ ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়। 

উল্লেখ্য,
• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৮,০৫০.
প্রাচীন জনপদ ‘সমতট’ এর প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল-
  1. ক) কোটিবর্ষ
  2. খ) পুণ্ড্রনগর
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) বড়কামতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়কামতা
ব্যাখ্যা
বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল। রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা। রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ। গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ)। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। এ অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৫১.
জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় 
  3. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন:
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের জন্য নবনির্মিত 'জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন' ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১১- তলা বিশিষ্ট 'জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন'-এর ২৫২ টি কক্ষে ১ হাজার ৮জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।

৮,০৫২.
মুজিববর্ষ উদযাপন কাল হলো -
  1. ২৬ মার্চ ২০২০-১৬ ডিসেম্বর ২০২১
  2. ১৭ মার্চ ২০২০-২৬ মার্চ ২০২১
  3. ১৭ এপ্রিল ২০২০-১৭ এপ্রিল ২০২১
  4. ১৭ জানুয়ারি ২০২০-১০ জানুয়ারি ২০২১
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ২০২০-২৬ মার্চ ২০২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ২০২০-২৬ মার্চ ২০২১
ব্যাখ্যা
মুজিব বর্ষ:
- মুজিব বর্ষের লোগোর ডিজাইনার সব্যসাচী হাজরা।
- মুজিব বর্ষ-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০ - ৩১ মার্চ ২০২২ সাল।
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর, ঢাকা।
- তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১০ জানুয়ারি ২০২০ সালে মুজিব বর্ষের লোগো উন্মোচন করেন।

[বি.দ্র: প্রথমে ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে ২৬শে মার্চ, ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ‍‘মুজিববর্ষ’ এর সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করে।]

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার বাংলা, ৮ জানুয়ারি ২০২২ ও দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২০।
৮,০৫৩.
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পণ
  2. খ) ঢাকা প্রকাশ
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) রঙ্গপুর বার্তাবহ
সঠিক উত্তর:
গ) সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা হলো সংবাদ প্রভাকর। ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর সম্পাদনায় সংবাদ প্রভাকর দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
এর পূর্বে এটি ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
সমাচার দর্পণ (২৩ মে ১৮১৮) হলো বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
রঙ্গপুর বার্তাবহ (আগস্ট ১৮৪৭) হলো বাংলাদেশ ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা
ঢাকা প্রকাশ (৭ মার্চ ১৮৬১) হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,০৫৪.
ভাওয়াইয়া কোন অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) রংপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোক সংগীত হলো ভাটিয়ালি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮,০৫৫.
'ওরা ১১ জন' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. নাসিরউদ্দিন ইউসুফ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ওরা ১১ জন (১৯৭২):
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।
৮,০৫৬.
কোন রাজনৈতিক দলটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো?
  1. ক) ন্যাশনাল কংগ্রেস
  2. খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
  3. গ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)
  4. ঘ) বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (তোয়াহা)
- পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মতিন)
- জামায়াতে ইসলামী
- মুসলিম লীগ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ন্যাশনাল কংগ্রেস, ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ ভাসানী, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি প্রভৃতি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,০৫৭.
"মাঝি বাইয়া যাও রে
অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙা নাও রে
মাঝি বাইয়া যাও রে ।।" - কী জাতীয় গান?
  1. জারিগান
  2. সারিগান
  3. ঠুমরিগান
  4. ভাটিয়ালি গান
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ালি গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাটিয়ালি গান
ব্যাখ্যা
"মাঝি বাইয়া যাও রে
অকুল দরিয়ার মাঝে আমার ভাঙা নাও রে
মাঝি বাইয়া যাও রে ।।"
- এটি একটি ভাটিয়ালি গান। 

ভাটিয়ালি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব গান। 
- গানের মূল বিষয় ব্যক্তিপ্রেম ও ঈশ্বরচেতনা। 
- আবহমান বাংলার মাকজি-মাল্লা-জেলেরা নদী -খাল-বিল-হাওরে নৌকা চালানোর সময় একান্তে এই গান গেয়ে  লৌকিক এবং আধ্যাত্মিক জীবনের স্বাদ লাভ করে থাকে।
- এই গানের উল্লেখযোগ্য শিল্পী - আব্বাসউদ্দিন, শচীন্দেব বর্মণ, নির্মলেন্দু চৌধুরী, নীনা হামিদ, অমর পাল প্রমুখ।
- ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বৃহত্তর ঢাকা জেলার নদীর মাঝি মল্লাদের মুখে এ গান শোনা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৫৮.
কত সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে?
  1. ক) ২০২৬ সালে
  2. খ) ২০৩০ সালে
  3. গ) ২০৩১ সালে
  4. ঘ) ২০৪১ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০৩১ সালে
ব্যাখ্যা
LDC:
- স্বল্পোন্নত দেশ Least Developed Countries(LDC) হলো উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি তালিকা যা জাতিসংঘের মতে, আর্থ-সামাজিক বিকাশের সর্বনিম্ন সূচক প্রদর্শন করে।
- ১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়।
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এই তিন সূচকে বিচার করা হয় একটি দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল ধাপে উত্তরণ করবে কি না। 
- উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে হলে অন্তত দুটি সূচক পূরণ করতে হয় একটি দেশকে।
- স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে তিনটি সূচকের সব কটি পূরণ করে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে।
- স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সিডিপির সব শর্ত প্রথমবারের মতো পূরণ করে ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ।
- সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হয়ে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে বাংলাদেশ।
- আশা করা যায়, ২০৩১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ।

উৎস: i) যুগান্তর, ০৪ এপ্রিল, ২০২১।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০৫৯.
বাংলা থেকে মারাঠি দস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. আলিবর্দি খান
  2. মীর জুমলা
  3. ইব্রাহীম খান
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
আলিবর্দি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলিবর্দি খান
ব্যাখ্যা
• আলিবর্দি খান:
- মুঘল সম্রাটের অনুমোদনে নয়; বরং বাহুবলে বাংলার ক্ষমতা দখল করেন আলিবর্দি খান।
- আলিবর্দি খানের শাসনকালে (১৭৪০-১৭৫৬ সাল) বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অনেকদিন ধরেই বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
- আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত ১০ বছর প্রতিরোধ করে বর্গিদের দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।
- তাঁর শাসনকালে আফগান সৈন্যরা বিদ্রোহ করলে তিনি শক্ত হাতে তা দমন করেন।
- আলিবর্দির সময়ে ইংরেজসহ অনেক ইউরোপীয় বণিকের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাংলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
- একই সাথে তারা সামরিক শক্তিও সঞ্চয় করতে থাকে।
- আলিবর্দি খান শক্ত হাতে বণিকদের তৎপরতা রোধ করেন।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১০ এপ্রিল আলিবর্দি খান মৃত্যুবরণ করেন। মুর্শিদাবাদের খুশবাগে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,০৬০.
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে? 
  1. সাম্যবাদী রাজনীতি
  2. ধর্মভিত্তিক রাজনীতি 
  3. বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  4. সমাজতান্ত্রিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি তৈরি করে।

• ভাষা আন্দোলন:
- বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।
- মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- দুই পর্বে বিভক্ত এই আন্দোলন ।
- ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,০৬১.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধকালীন নৌ সেক্টর ছিলো?
  1. ক) ০৮ নং সেক্টর
  2. খ) ০৯ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্রঅঞ্চল ও নদীপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,০৬২.
বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. আফগানিস্তান
  3. উজবেকিস্তান
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন। 
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৬৩.
শামসুল হক শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

শামসুল হক শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। 
- কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয় একটি বাস্তবধর্মী, গণমুখী ও গতিশীল শিক্ষানীতি প্রণয়নের।
- কমিশন দেশের জন্য উপযোগী একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালায়।
- কমিশন ১৯৯৭ সালে এর রিপোর্ট পেশ করে।
- কমিশন কর্তৃক প্রণীত শিক্ষানীতির লক্ষ্য ছিল:
(ক) ছাত্রদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে নিজেদের মধ্যে নৈতিক, মানবিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা দান, 
(খ) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা, দেশপ্রেম ও সুনাগরিকের গুণাবলীর বিকাশ, (গ) দেশে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, উৎপাদনশীল ও সৃজনশীল করা,
(ঘ) ছাত্রদের দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা,
(ঙ) তাদের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তোলা,
(চ) গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশের লক্ষ্যে তাদের মধ্যে পরস্পরের মতামতের প্রতি সহনশীলতার মনোভাব সৃষ্টি, এবং
(ছ) তাদের মধ্যে জীবন সম্পর্কে বাস্তবমুখী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তোলা। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতার ভিত্তিতে শিক্ষাক্ষেত্রে সমঅধিকার নিশ্চিত করার প্রতি কমিশন বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

উল্লেখ্য,
- কমিশনের রিপোর্টে শিক্ষার তিনটি পর্যায়ের সুপারিশ করা হয়েছে, প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর ও উচ্চশিক্ষা। 
- প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি পাঁচ বছরের পরিবর্তে আট বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,০৬৪.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয় কোথায় ছিলো?
  1. কলকাতার ৫নং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট
  2. কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
  3. কলকাতার ১১নং বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট
  4. কলকাতার ১০নং চৌরঙ্গী রোড
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করেন।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- এর আগে ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে চার সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় - মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং
- সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো - কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৮,০৬৫.
শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম থেকে কাদের বিতাড়িত করেন?
  1. ডাচ ও ফরাসি জলদস্যু
  2. মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যু
  3. ব্রিটিশ ও পর্তুগিজ জলদস্যু
  4. আরাকান ও মারাঠা জলদস্যু
সঠিক উত্তর:
মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যু
ব্যাখ্যা

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৬৬.
পঞ্চাশের মম্বন্তর হয়েছিলো কত সালে?
  1. ১৮৫০
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৭
  4. ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩
ব্যাখ্যা

⇒ পঞ্চাশের মম্বন্তর হয়েছিলো ১৯৪৩ সালে।

পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- দুর্ভিক্ষ, ১৯৪৩ সাধারণত পঞ্চাশের মন্বন্তর (বাংলা ১৩৫০ সালে) হিসেবে পরিচিত গুরুতর দুর্যোগ।
- এতে প্রদেশের প্রায় সাত লক্ষ পরিবারের অথবা ৩৮ লক্ষ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদার লক্ষণীয় অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সালব্যাপী দুর্ভিক্ষে এবং এর ফলে সৃষ্ট মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লক্ষ লোক মারা যায়।
- এ উপমহাদেশের যে কোনো অংশে ১৭৭০ সালের পর যেসব দুর্ভিক্ষ আঘাত হানে তার মধ্যে এটি ছিল চরমতম।
- বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ক্রমবর্ধমান খাদ্যশস্যের মূল্য এ সময়ে আরও বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৮,০৬৭.
Money market is a market for
  1. ক) short term fund
  2. খ) long term fund
  3. গ) risk free assets
  4. ঘ) hedge fund
সঠিক উত্তর:
ক) short term fund
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) short term fund
ব্যাখ্যা
• মুদ্রা বাজার (Money Market):
- কোনো দেশের অর্থনীতির একটি অপরিহার্য অংশ।
- যে সকল ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদের বিনিময়ে Short term বা স্বল্পমেয়াদী (১ বছর বা তার কম সময়ের জন্য) তহবিল আদান প্রদান করে থাকে তাদেরকে নিয়েই মূলত মুদ্রা বাজার বা money market গঠিত।
- ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের স্বল্পমেয়াদি তারল্যের (Liquidity) উদ্বৃত্ত (Surplus) এবং ঘাটতির (Deficit) সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা মুদ্রা বাজারের মূল লক্ষ্য।
- বাংলাদেশের মুদ্রা বাজারকে মূলত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়।
১.  প্রাতিষ্ঠানিক: কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ, অ-তফসিলী ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ইত্যাদি।
২. অপ্রাতিষ্ঠানিক: মানি লেন্ডার ও স্বল্প পরিসরের সমবায় সমিতি সমূহ যারা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রনাধীন নয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০৬৮.
কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়?
  1. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  2. জেনারেল আইয়ুব খান
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহরে ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। 
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবার একসাথে আন্দোলনে নামে।
- আইয়ুব খানের পতনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে খাজা নাজিমউদ্দীন পূর্ব বাংলার (পূর্বপাকিস্তান) মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। 
- ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহ ইন্তেকাল করলে তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হন।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৬৯.
রাজা টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. বাবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মুঘল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মুঘল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।
- রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৭০.
বাঙালি মুসলিম নারী সমাজের নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. ক) নূরজাহান বেগম
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. ঘ) আনোয়ারা বেগম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের নিকট নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৮,০৭১.
কত তারিখ 'স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করা হয়?
  1. ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
  3. ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব- পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ 'স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক' ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের' ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮,০৭২.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)।
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)।  
• তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
• খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। 
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭৩.
বঙ্গবন্ধু ৬-দফা দাবী পেশ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯৫২
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং
- ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছয়দফা উত্থাপনের জের ধরে গ্রেপ্তার হন।
- ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয় দফা দাবী এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবীতে হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে অনেকে নিহত হয়।
- এর ফলশ্রুতিতে ৭ জুনকে ছয় দফা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭৪.
চৌসারের যুদ্ধে কোন মুঘল সম্রাট শেরশাহের বিরুদ্ধে পরাজিত হন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট শাহজান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ।

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৮,০৭৫.
The foundation of the Nawabi rule in Bengal was laid during the reign of which ruler?
  1. Shuja-ud-Din Khan
  2. Murshid Quli Khan
  3. Alivardi Khan
  4. Mir Qasim
সঠিক উত্তর:
Murshid Quli Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Murshid Quli Khan
ব্যাখ্যা

• মুর্শিদকুলী খান:
- ১৭০৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হয়।
 - এরপর পুরো মুঘল সাম্রাজ্যে গোলযোগ দেখা দেয়। এ সময় থেকে অনুপস্থিত নাজিমের পক্ষে তিনিই বাংলার নায়েব এ নাজিম হিসেবে শাসন করতে থাকেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। 
-বিশেষ করে মুশিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান  বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন।

অন্যদিকে
- সুজাউদ্দীন আলীবর্দীকে উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। সুজাউদ্দীন ১৭৩৩ সালে আলীবর্দীকে বিহারের শাসনভার অর্পণ করেন।
-১৭৪১ সালের শেষ নাগাদ আলীবর্দী তাঁর সব শত্রুকে পরাভূত করে সমগ্র বাংলা বিহার ও উড়িষ্যায় তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠ করেন। 

তথ্যসূত্র:  বাংলাপিডিয়া ; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৭৬.
বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ, প্রাচীন কোন জনপদের অংশ ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুণ্ড্র
  3. মহাস্থানগড়
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
- জনপদগুলোর মধ্যে ‘বঙ্গ’ জনপদ ছিল অন্যতম।
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭৭.
কার সময়ে ভারতে প্রথম রেলব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ক) লর্ড বেন্টিংক
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল লর্ড ডালহৌসির সময়ে মুম্বাইয়ে প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত বাংলায় প্রথম রেললাইন স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা থেকে জগতী পর্যন্ত প্রথম ৫৩ কি.মি. রেললাইন উদ্বোধন করা হয়।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮,০৭৮.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কোন নারীকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম
  2. ক্যাপ্টেন ডা. শামীমা শিকদার
  3. ক্যাপ্টেন ডা. হুসনে আরা
  4. ক্যাপ্টেন ডা. তারনা বেগম
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৮,০৭৯.
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?
  1. জনস্বার্থে কাজ করা
  2. দায়িত্ব এড়িয়ে চলা
  3. ন্যায্য সুযোগ সুবিধা প্রদান
  4. ব্যক্তিগত স্বার্থে দায়িত্বের অপব্যবহার
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বার্থে দায়িত্বের অপব্যবহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত স্বার্থে দায়িত্বের অপব্যবহার
ব্যাখ্যা

• দুর্নীতির ধারণা:
- ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক অবৈধ পন্থায় নীতি-বহির্ভূত বা জনস্বার্থবিরোধী কাজই দুর্নীতি।
- রাজনৈতিক এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি বলতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভের জন্য কার্যালয়ের দায়িত্বের অপব্যবহারকে বুঝায়।
- সাধারণত ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, বলপ্রয়োগ বা ভয় প্রদর্শন,প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তি বিশেষকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনকে দুর্নীতি বলে।
- অবৈধ সুযোগসুবিধা লাভের জন্য কোনো ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলাও দুর্নীতি।
- দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকে পেশা, ক্ষমতা, পদবি, স্বার্থ,নগদ অর্থ, বস্তুসামগ্রী প্রভৃতি।
- দুর্নীতির মাধ্যমে কাউকে না কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। 
- এ অপরাধের প্রকৃতি ও কলাকৌশল আলাদা।
- এ কাজে দৈহিক শ্রমের চেয়ে ধূর্ত বুদ্ধির প্রয়োজন বেশি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮,০৮০.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ছিল -
  1. ১০টি
  2. ১৩টি
  3. ১৫টি
  4. ২০টি
সঠিক উত্তর:
১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫টি
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্টিত হয়: ৭ই মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন: এম. ইদ্রিস।
- অংশ গ্রহণকারী দল: ১৪টি।
⇒ আসন সংখ্যা -
• মোট আসন: ৩১৫টি।
• সাধারন আসন: ৩০০টি
• সংরক্ষিত নারী আসন: ১৫টি।

- এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পূর্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত মুজিবনগর সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
- নয় মাসের প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়।
- ৩১৫টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসনে জয়লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট, পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৮১.
পাকিস্তান সৃষ্টির পর কত সালে দেশটিতে প্রথমবারের মত ভোটাধিকার ভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটির কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- ১৯৪৭-১৯৫৮ সময়কালে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন চালু ছিল।
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৭০ সালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূচনা:
- ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহণের সময় ইয়াহিয়া খান ১৯৬২ সালের সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
- স্বভাবতঃই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও জাতীয় পরিষদ গঠন সম্পর্কিত বিষয়গুলো তিনি সামরিক আইনের অধীনে বিভিন্ন ঘোষণার মাধ্যমে জারি করেন।
- ২৮ নভেম্বরের (১৯৬৯) বেতার ভাষণে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইয়াহিয়া খান দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
প্রথমত: তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট ব্যবস্থা বাতিল করে সেখানে চারটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করেন।
দ্বিতীয়ত: 'এক ব্যক্তি এক ভোট' এই নীতিতে ভোট হবে বলে ঘোষণা দেন। প্রথম সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের আঞ্চলিকতাবাদে বিশ্বাসী জনগণকে সন্তুষ্ট করে। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি মেনে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৮২.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা কে চালু করেন?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড রিপন
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- লর্ড ক্যানিং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৮,০৮৩.
নিচের ভাষা শহীদদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আবদুস সালাম
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে্ পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল জব্বারসহ আরো অনেকে শহিদ হন। আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মারা যান।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৮৪.
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নন কে?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
  3. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
  4. সিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী মোস্তাফা জব্বার
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নন - সিপাহী মোস্তাফা জব্বার। 

• বীরশ্রেষ্ঠ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী,
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী,
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাগো নিউজ।
৮,০৮৫.
'সাফারি পার্ক' কি জাতীয় পার্ক?
  1. ক) ফুলের বাগান
  2. খ) পাখি পালনের স্থান
  3. গ) বিরাট উদ্যান
  4. ঘ) জীবজন্তুর অভয়ারণ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবজন্তুর অভয়ারণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবজন্তুর অভয়ারণ্য
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৮,০৮৬.
আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রকে কয়টি স্তরে বিভক্ত করেছিল?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৮৭.
দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন -
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড বেন্টিক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৮৮.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা কী ছিল?
  1. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ
  2. সমবায় কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
  4. বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রভাষা বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৮৯.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে?
  1. ৫নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮,০৯০.
মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা কার শাসনামলে বাংলায় আসেন?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. সুলতান ফিরোজ শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

 • ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের (তাতার খান) মৃত্যু হলে 'ফখরা' বা ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাহ্দার (বর্মরক্ষক) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কদরখানের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে সোনারগাঁও পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হন।
- এই সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- তিনি একজন বিচক্ষণ ও প্রজাহিতৈষী শাসক ছিলেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে সুদূর আফ্রিকার মরক্কো থেকে ইবনে বতুতা নামে একজন মুসলিম পর্যটক ১৩৪৫-৪৬ খ্রি. বাংলায় অসেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৯১.
বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক সদর দফতর অবস্থিত-
  1. ক) পাক্শী
  2. খ) লালমনিরহাট
  3. গ) পাহাড়তলী
  4. ঘ) ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক সদর দফতর অবস্থিত- ঢাকা

রেল মন্ত্রণালয়:
- দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এ দেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৮৭৭ কিঃমিঃ রেল লাইন নেটওয়ার্ক দেশের ৪৪ টি জেলায় সংযুক্ত।
- ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো।
- ১৯৭৩ সালে বোর্ডের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে একে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
- ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ গঠন করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (বিআরএ)গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪-১২-২০১১ তারিখের এস আরও নং ৩৬১ আইন/২০১১ অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।

রেল মন্ত্রণালয় এর লক্ষ্য:
- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের জন্য সরকারের কৌশলগুলিকে সমর্থন করে এমন পদ্ধতিতে রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দেশে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং সময় দক্ষ রেল পরিবহন পরিষেবা প্রদান করা।

• মিশন:
- সারাদেশে রেলওয়ে ট্র্যাক এবং স্টেশন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
- লোকোমোটিভ, কোচ এবং অন্যান্য রোলিং স্টক রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডকরণ।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং সিস্টেম এবং টেলিকন সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণ।
- নিরাপদ, দ্রুত এবং দক্ষ ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিতকরন।
- রেল খাতে সরকারি পরিবহন নীতি বাস্তবায়ন করা।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কিত রোলিং স্টক, ট্র্যাক উপকরণ এবং সিগন্যালিং সিস্টেম সংগ্রহকরণ।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন বাজেট ও রাজস্ব বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ রেলওয়ে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
৮,০৯২.
Who established the first Muslim kingdom in Bengal?
  1. Hussain Shah
  2. Taj Khan
  3. Sher khan
  4. Bakhtiyar Khalji
  5. Daud Khan
সঠিক উত্তর:
Bakhtiyar Khalji
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bakhtiyar Khalji
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৯৩.
ফা-হিয়েন কোন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন?
  1. ভিয়েতনাম
  2. নেপাল
  3. চীন
  4. তুর্কিয়ে
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৮,০৯৪.
ছয় দফা কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫
  2. খ) ২ মার্চ, ১৯৬৬
  3. গ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলার কারণ - এটি বাঙালির ন্যায্য অধিকারের সনদ।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৯৫.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য কোন ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়নি?
  1. কে ফোর্স
  2. এফ ফোর্স
  3. জেড ফোর্স
  4. এস ফোর্স
সঠিক উত্তর:
এফ ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এফ ফোর্স
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা: 
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং জেড, কে এবং এস নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,০৯৬.
যুক্তরাজ্যের কোন শহরে ১৭ মার্চ ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু দিবস’ পালিত হয়?
  1. ক) গ্লাসগো
  2. খ) সারে
  3. গ) কার্ডিফ
  4. ঘ) উইলহেইম
সঠিক উত্তর:
খ) সারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সারে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মক্ষণ স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাজ্যের সারে শহরে ১৭ মার্চ ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৮,০৯৭.
১৯৬২ সালের  শিক্ষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কে?
  1. ওয়াজিউল্লাহ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. বাবুল
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন:

• ১৯৬২-এর সেপ্টেম্বরে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন হয়।
• শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
• 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে।
• ১৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ নিহত হন এবং আহত হয় প্রায় আড়াইশ জন।
• এ আন্দোলনের ফলে সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত রাখে।
• এ আন্দোলনের গুরুত্ব এ যে, এ সময় থেকে ছাত্ররাই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
• তখন থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্র সম্প্রদায় প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস রূপে পালন করে আসছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৯৮.
বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়-
  1. ক) ১৪ জুন, ১৯৭৫
  2. খ) ১ জুলাই, ১৯৭৫
  3. গ) ১৪ জুন, ১৯৭৬
  4. ঘ) ১ জুলাই, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ জুন, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ জুন, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। 
সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫), ও
- সিলেট (১৯৯৭)।
- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮,০৯৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী
  3. কর্নেল শফিউল্লাহ
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধ:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
- তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

⇒ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন:
• পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (১৯৪৮),
• পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকদের একজন (১৯৪৯),
• আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৫৩-১৯৬৬) ),
• আওয়ামী লীগের সভাপতি (১৯৬৬-১৯৭৪),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুপস্থিতিতে),
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৪ জানুয়ারি ১৯৭৫),
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৫ জানুয়ারী ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫)।
- তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল অসন্তুষ্ট সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন।
- তার দুই কন্যা ছাড়া তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয় যারা সে সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
- বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে,
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন। এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়, এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১০০.
'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কত সাল?
  1. ১৯৫১ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৫৩ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে পুরাতন ও বড় রাজনৈতিক দল।
- বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদগণ বুঝতে পারেন ক্ষমতাসীন সরকারী দল মুসলিম লীগের সাথে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন হবে।
- ১৯৪৯ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।