বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭৪ / ১২৪ · ৭,৩০১৭,৪০০ / ১২,৪২১

৭,৩০১.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে কতজনকে ‘বীরউত্তম’ উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি উপাধি প্রদান করে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৩০২.
কোন ব্রিটিশ ভাইসরয়-এর সময় প্রথম 'ভারতীয় শিক্ষা কমিশন' গঠিত হয়?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

⇒ হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৩.
কুসুম্বা মসজিদটি কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. পাবনা
  3. নওগাঁ
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর পশ্চিমতীরস্থ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার অন্তর্গত কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে পরিচিত।
বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান মসজিদটি নির্মাণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭,৩০৪.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে বাঙ্গালিদের প্রথম বিদ্রোহ -
  1. ক) ফরায়েজি বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহি বিদ্রোহ
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩০৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি 
  2. ফেব্রুয়ারি
  3. নভেম্বর
  4. ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

» তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

» বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

» বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।


তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।

৭,৩০৬.
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন কোথায়?
  1. রাওয়ালপিন্ডিতে
  2. রেসকোর্স ময়দানে
  3. লাহোরে
  4. পল্টন ময়দানে
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন 'উর্দুই এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- উপস্থিত ছাত্ররা 'না না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।
- আন্দোলনকারীদের তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ব বাংলার জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- এ সময়ে সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রি লিয়াকত আলী খান ঢাকায় এসে বক্তৃতাকালে আবার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। তখনও ছাত্ররা 'না না' বলে প্রতিবাদ করে উঠে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩০৭.
কৃষিকাজের সুবিধার্থে কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন প্রবর্তন করেন?
  1. আকবর
  2. বাহাদুর শাহ
  3. শেরশাহ
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩০৮.
মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারি সম্মেলনে কার বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন?
  1. খাজা নাজিমুদ্দিন সাহেব
  2. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারি সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।
- ঐ সম্মেলনে তিনি সোহরাওয়ার্দীর বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন।
- এ মতবিরোধের কারণে দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐ বছর মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থি দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।
- তিনি এ দলের সভাপতি হন এবং এর সেক্রেটারি জেনারেল হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩০৯.
কোন মুঘল সুবাদার বারোভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জুমলা
  3. ইসলাম খান
  4. মির্জা বেগ
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনচেতা জমিদারগণ ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
সম্রাট আকবরের সময় রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানী পরাজিত হলেও সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধিকারে আসেনি। বারোভূঁইয়ারা স্বাধীনভাবেই তাদের জমিদারি বজায় রাখে।

পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে আনেন।

বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৩১০.
বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কখন?
  1. ৭ মার্চ ১৯৭২
  2. ৭ মার্চ ১৯৭৩
  3. ১৭ এপ্রিল ১৯৭৩
  4. ১০ মার্চ ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ মার্চ ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন:
- তারিখ: ৭ মার্চ ১৯৭৩।
- উদ্দেশ্য: স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের অবসান: বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল: আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য ১৪টি দল।
- প্রার্থীর সংখ্যা: মোট প্রার্থী: ১,২০৯ জন।
- দলীয় প্রার্থী: ১,০৮৯ জন।
- স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১২০ জন।
- নারী প্রার্থী: ১৫ জন।
- নির্বাচনী ফলাফল:
- আওয়ামী লীগ: ৩০৮টি আসন (সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ)।
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ): ১টি আসন।
- বাংলাদেশ জাতীয় লীগ: ১টি আসন।
- স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৫টি আসন।
- জাতীয় সংসদ আসন সংখ্যা (মহিলা সংরক্ষিত আসনসহ): ৩১৫টি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন হারায়।
- তবে সেই সময় জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৫টি আসনের সবগুলোই লাভ করে আওয়ামী লীগ।
- এর ফলে সংসদে মোট ৩১৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আসনসংখ্যা ছিল ৩০৬।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম আলো।
৭,৩১১.
সেন বংশের রাজাদের আদি নিবাস কোথায়?
  1. কেরালা
  2. মহারাষ্ট্র
  3. কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর:
কর্ণাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণাটক
ব্যাখ্যা

• সেন বংশ (১০৬১-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ):
- পাল বংশের অবসানের পর এগারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন রাজবংশের সূচনা হয়।
- এ বংশের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন রাজা ছিলেন বিজয়সেন, বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন।
- তাদের আদি নিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক।
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- কিন্তু তিনি কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- তিনি পাল রাজা রামপালের অধীনে একজন সামস্ত রাজা ছিলেন।
- হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- হেমন্তসেনের পুত্র বিজয়সেন নিজ বংশের স্বাধীন শাসনের সূচনা করেন। 
-  কৈবর্তদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারে রামপালকে সহায়তা করার প্রতিদান হিসেবে তিনি রাঢ়ে স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- পরবর্তী পর্যায়ে তিনি পালদের পরাজিত করে গৌড়ের সিংহাসন দখল করেন।
-  বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী।
- দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
- শিব অনুরাগী বিজয় সেন পরম মহেশ্বর, পরমেশ্বর,পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন।
 - সেন বংশের অধীনেই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭,৩১২.
How many types of COVID-19 vaccines are being approved to use in Bangladesh?
  1. ক) 3
  2. খ) 4
  3. গ) 7
  4. ঘ) 8
  5. ঙ) None
সঠিক উত্তর:
ঘ) 8
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 8
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮টি ভ্যাকসিন অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো নিম্নরূপ:
 
Serum Institute of India  -  COVOVAX (Novavax formulation)
Moderna  -  Spikevax
Pfizer/BioNTech  -  Comirnaty
Gamaleya  -  Sputnik  V
Johnson & Johnson) -  Ad26.COV2.S
Serum Institute of India  -  Covishield (Oxford/ AstraZeneca formulation)
Sinopharm (Beijing) - Covilo
Sinovac - CoronaVac
 
উৎস: covid19.trackvaccines.org
 
৭,৩১৩.
নিচের কোন সংগঠন ১১ দফা কর্মসূচির সাথে জড়িত রয়েছে?
  1. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  2. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  3. ছাত্র ফেডারেশন
  4. ছাত্র অধিকার পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:

- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩১৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সংগ্রাম
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. ওরা ১১ জন 
  4. একাত্তরের যীশু
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা ১১ জন 
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা ও তার প্রভাব চলচ্চিত্রে বিভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। 
-  নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়।
- ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিনেমা।
- এটি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১১ জন যুবকের সাহসিকতা, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা এবং দেশের স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষার জীবন্ত দলিল হিসেবে পরিচিত।
--------------------------
উল্লেখ্য,
• সরাসরি যুদ্ধ দেখানোহয়েছে এমন চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- 'ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘হাঙর নদীর গ্রেনেড’, ‘একাত্তরের যীশু’।

• কিছু চলচ্চিত্র যুদ্ধকে পরোক্ষভাবে উপস্থাপন করেছে, যেমন— শরণার্থী বা পালিয়ে বেড়ানো মানুষের জীবনের কাহিনী—
- ‘মুক্তির গান’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘খেলাঘর’।

• এছাড়াও, যুদ্ধ পূর্বকালীন ও পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছে চলচ্চিত্রগুলো, যেমন:
- ‘জীবন থেকে নেওয়া’, ‘এখনো অনেক রাত’, ‘মেঘের অনেক রং’, ‘আলোর মিছিল’।

উৎস:
বাংলা মুভি ডেটাবেজ;
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৭,৩১৫.
গম্ভীরা কোন অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. ঘ) ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা লোকসঙ্গীতের উৎপত্তি ভারতের মালদহ জেলার হিন্দু সমাজে। দেশভাগের পর রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মুসলিম সম্প্রদায় গম্ভীরা গানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠে।

- আদিতে গম্ভীরা গানের মূল বিষয়ে শিবের বন্দনা থাকলেও মুসলিম সমাজে এই গানের বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিষয়বস্তু হয়ে উঠে।

- নানা-নাতির সংলাপের মাধ্যমে গম্ভীরা গান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ প্রভৃতি জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৩১৬.
গঙ্গা ও ভাগিরথীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে কোন জনপদ অবস্থিত?
  1. বঙ্গ
  2. গৌড়
  3. সমতট
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩১৭.
কোন নবাবকে পরাজিত করে আলীবর্দী খান বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করেন?
  1. মুর্শিদকুলী খান
  2. সরফরাজ খান
  3. সুজাউদ্দিন খান
  4. নিজামউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
সরফরাজ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরফরাজ খান
ব্যাখ্যা
আলীবর্দী খান:
- ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে বাংলার দুর্বল নবাব সরফরাজকে পরাজিত ও নিহত করে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন আলীবর্দী খান।
- নবাব সুজাউদ্দিন ১৭৩৩ সালের দিকে আলীবর্দী খানকে বিহারের সহকারী সুবাদার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
- সুজাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার অযোগ্য ছেলে সরফরাজ খান বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- অযোগ্যতা, অক্ষমতার পাশাপাশি নানা কারণে তাঁর সাথে আলীবর্দীর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। 
- অবশেষে ১৭৪০ সালে গিরিয়ার রণক্ষেত্রে নবাব সরফরাজ খান পরাজিত ও নিহত হন।
- তার পরাজয়ের পরে বাংলার মসনদে বসেন আলীবর্দী খান।
- পাশাপাশি মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মসনদ লাভ করেছিলেন তিনি। 
- ১৭৪২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় প্রথম মারাঠা আক্রমণ শুরু হয়।
- সাহসী নেতৃত্ব ও সুযোগ্য শাসনের মাধ্যমে তিনি বাংলাকে মারাঠাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
- আলীবর্দীর রাজত্বকাল ছিল বাংলার ইতিহাসের অন্যতম সমৃদ্ধ সময়।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩১৮.
অপারেশন সার্চ লাইট-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কে ছিলেন?
  1. টিক্কা খান
  2. রাও ফরমান আলী
  3. খাদিম হোসেন রাজা
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন: গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান।
- ঢাকা শহরের দায়িত্বে: মেজর রাও ফরমান আলী।
- ঢাকার বাইরে দায়িত্বে: মেজর খাদিম হোসেন রাজা।
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন। 
- ১৯৭১ সালের  ১৬ - ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে। 
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩১৯.
শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন কে?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. সম্রাট ফররুখশিয়র
  3. দ্বিতীয় আলমগীর
  4. দ্বিতীয় শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট। ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন। পিতার ন্যায় দ্বিতীয় বাহাদুর শাহও ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পেনশনভোগী।

নানাবিদ কারণে বাহাদুর শাহ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে সিপাহিদের সমর্থন দান করেন। ফলে সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে সম্রাট বাহাদুর শাহকে সপরিবারে রেঙ্গুনে নির্বাসন দেওয়া হয়।
সেখানেই ১৮৬২ সালে তার মৃত্যু হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৩২০.
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাে কার রচিত?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মহিউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
'আমরা আলােচনা করে ঠিক করেছি, যাই হোক না কেন, আমরা অনশন ভাঙব না। যদি এই পথেই মৃত্যু এসে থাকে তবে তাই হবে।' উক্তিগুলাের রচয়িতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উল্লিখিত উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" থেকে নেওয়া।
উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৭,৩২১.
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল-
  1. 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ'
  2. 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান'
  3. সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নামের উৎপত্তি: 
- সংবিধান অনুযায়ী নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
- মহাভারত এবং গ্রিক ঐতিহাসিক টলেমির লেখায় 'বাংলা' নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম বাংলার তিনটি প্রধান কেন্দ্র একত্র করেন।
- লখনৌতি বা লক্ষণাবতী (গৌড়), সাতগাঁও (রাঢ়) ও সোনারগাঁ (বঙ্গ)-কে একত্র করে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এর স্বাধীনতা ২০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান', 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ'।
- আর তখন থেকে সমগ্র বাংলা অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলার পরিচয় হয় 'সুবাহ বাংলা' নামে।
- পর্তুগিজরা 'বেঙ্গালা' নামে অভিহিত করেছে এই অঞ্চলকে এবং ইংরেজরা বলত 'বেঙ্গল'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩২২.
সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কোন সম্রাটের রাজত্বকালে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুঘল শাসনের সূত্রপাত করলেও ‘বারোভূঁইয়া’দের বাধার মুখে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৭,৩২৩.
রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের নাম কী? 
  1. বিজয়স্তম্ভ
  2. বিজয়কেতন
  3. স্বাধীনতা সোপান
  4. রক্ত সোপান
সঠিক উত্তর:
রক্ত সোপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত সোপান
ব্যাখ্যা
• সেনানিবাস গুলোতে নির্মিত কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য:
- ঢাকা সেনানিবাস: বিজয় কেতন, শিখা অনির্বাণ, জাহাঙ্গীর গেট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস: রক্ত সোপান। 
- কুমিল্লা সেনানিবাস: অনির্বাণ জেড। 
- রংপুর সেনানিবাস: বিজয় গাঁথা।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থান:
- দুর্জয়: রাজারবাগ, ঢাকা।
- "স্বাধীনতা সোপান" : সাঁথিয়া উপজেলা, ,পাবনা।
- দুরন্ত: শিশু একাডেমি। 
- সংগ্রাম: সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
- বিজয়স্তম্ভ: গাইবান্ধা।
- বিজয় বিহঙ্গ: আমতলা, বরিশাল।
- স্বাধীনতা: ভাষা ইন্সটিটিউট সেগুনবাগিচা, ঢাকা।
- বীরের প্রত্যাবর্তন: বাড্ডা, ঢাকা।
- প্রত্যাশা: ফুলবাড়িয়া, ঢাকা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৩২৪.
কোনটি লর্ড ক্যানিং এর শাসনামলের ঘটনা ?
  1. কাঠামোবদ্ধ পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  2. ভারত উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা
  3. কাগজের মুদ্রার প্রচলন
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের শেষ গভর্ণর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথমবারের মত কাঠামোবদ্ধ পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন। এই উদ্দেশ্যে লর্ড ক্যানিং ১৮৬০ সালের আগস্ট মাসে এইচ.এম. কোর্টকে চেয়ারম্যান করে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করেন।
- একই বছর ( ১৮৬১ খ্রীস্টাব্দ ) তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস চালু করেন।
- এছাড়াও, ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- তিনি উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।

তথ্যঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৫.
'ইন্ডিকা' কার গ্রন্থ?
  1. আলেকজান্ডার
  2. কৌটিল্য
  3. ফা-হিয়েন
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
মেগাস্থিনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা

• মেগাস্থিনিস (Megasthenes):
- মেগাস্থিনিস  ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক, ভূগোলবিদ এবং রাষ্ট্রদূত। 
 - তিনি সেলুকাসের প্রেরিত দূত হিসেবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী পাটলিপুত্রে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন।
- সিরিয়ার গ্রিক রাজা ছিলেন সেলুকাস। 
- ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা মেগাস্থিনিস। 
- এই গ্রন্থে চন্দ্রগুপ্তের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসন ব্যবস্থার বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- গ্রন্থটি প্রাচীন গ্রিক-রোমান বিশ্বে ভারত সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা প্রদান করে। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।  

৭,৩২৬.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. মায়ের ভাষা
  4. একুশের গল্প
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গ্রন্থসমূহ:

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩২৭.
১৯৭১ সালের কত তারিখে রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) ১৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৭ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ হত্যা করেছে। তাই সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে অগণিত বধ্যভূমি ও গণকবর।
- তখন রায়ের বাজার এলাকাটি ছিল বেশ নিরিবিলি।
- এটি কালুশাহ পুকুরপাড় থেকে গোল মসজিদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। মার্চ মাস থেকেই রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।
- এখানে মানুষ হত্যা ছাড়াও অগণিত লাশ এনে ফেলা হয়েছে যার কারণে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে সাহস পায়নি।
- ১৯৭১ সালের ১৮ই ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়
- সেদিন এই বধ্যভূমির বিভিন্ন গর্ত থেকে প্রচুর গলিত ও বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয় যাদের মধ্যে বেশীরভাগই ছিল অধ্যাপক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিকিৎকের লাশ। 
- বুদ্ধিজীবীদের এই হত্যা কাণ্ডে আলবদর ও রাজাকাররা প্রধান ভুমিকা পালন করে।
- রায়ের বাজারে উদ্ধারকৃত লাশগুলো এতটাই বিকৃত হয়ে পড়ে যে পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি, তবে যে কয়েকজনের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছে। যেমন- অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, ডা. ফজলে রাব্বি, চক্ষু চিকিৎসক ডা. আলীম চৌধুরী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩২৮.
স্বাধীন বাংলাদেশে কোন সালে কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ক) ১৯৭৭
  2. খ) ১৯৯৬
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ২০১৯
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৯
ব্যাখ্যা
⇨ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
• প্রথম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৭৭ সালে।
• দ্বিতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৮৩-৮৪ সালে।
• তৃতীয় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ১৯৯৬ সালে
• চতুর্থ কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০০৮ সালে।
• পঞ্চম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় : ২০১৯ সালে

⇨ বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৭,৩২৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৩০.
'ভাটিয়ালি' কোন অঞ্চলের গান?
  1. চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ভাটিয়ালি:
- ভাটিয়ালি এক ধারার  লোকগীতি।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য সুরের দীর্ঘ টান ও লয়।
- প্রচলিত মতে মাঝিমাল্লাদের গান থেকে ভাটিয়ালি সুরের উৎপত্তি।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় এই গান বিশেষভাবে প্রচলিত।

অন্যদিকে,
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩১.
পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে 
  2. ১৯৫৭ সালে 
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৭,৩৩২.
তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিলো -
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. খ) গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  3. গ) মুসলিম লীগ
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সংসদ 
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিলো - রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।

• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন:

- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
- তমদ্দুন মজলিস সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।

- ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করে - গণতান্ত্রিক যুবলীগ।
-  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন

করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩৩.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফলাফল-
  1. ক) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার
  2. খ) আয়ুব খানের ক্ষমতা হস্তান্তর
  3. গ) ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফলাফল ছিল-
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার (২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯),
- আয়ুব খানের ক্ষমতা হস্তান্তর (২৫ মার্চ, ১৯৬৯)
- ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণ।
৭,৩৩৪.
কোন পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'Poet of Polities' হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. রয়টার্স
  2. দ্য গার্ডিয়ান
  3. বিবিসি
  4. নিউজউইক
সঠিক উত্তর:
নিউজউইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউজউইক
ব্যাখ্যা
• Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব'।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক - 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত 'নিউজউইক ম্যাগাজিন' বঙ্গবন্ধুকে 'Poet of Politics' বাঁ 'রাজনীতির কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উৎস:
i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৭,৩৩৫.
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন কোথায়?
  1. রমনার রেসকোর্স ময়দানে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ঢাকায় আসেন।
- ২১ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন 'উর্দুই এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- উপস্থিত ছাত্ররা 'না না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।
- আন্দোলনকারীদের তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ব বাংলার জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- এ সময়ে সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৩৩৬.
শেরশাহ কাকে পরাভূত করে ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
শেরশাহ সম্রাট হুমায়ুনকে পরাভূত করে ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।

শেরশাহ:

- শেরশাহ ভারতবর্ষের শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ছিলেন বিহারের অন্তর্গত সাসারামের জায়গিরদার হাসান খান শূরের পুত্র।
- তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ।

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয় -
  1. ১৯ জুন, ১৯৬৮
  2. ৫ আগস্ট, ১৯৬৮
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
 আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়। 
- ১৯৬৮ সালের ৫ আগস্ট ব্রিটিশ আইনজীবী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টমাস উইলিয়ম শেখ মুজিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করেন। 
- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩৮.
নিম্নের কোন ব্যক্তি জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেননা?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেননা।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকাট
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
- জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৩৩৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. মুজিব বাহিনী
  2. ক্র্যাক প্লাটুন
  3. মুজিব ব্যাটারি
  4. ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।

• মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল-
১/ নিয়মিত বাহিনী ও
২/ অনিয়মিত বাহিনী।

নিয়মিত বাহিনী:
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

অনিয়মিত বাহিনী:
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।

এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে। এগুলির মধ্যে ছিল মুজিব বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার ব্যাটালিয়ন এবং হেমায়েত বাহিনী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪০.
মুজিব নগর সরকারের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন কে?
  1. আব্দুস সামাদ
  2. এ.কে খন্দকার
  3. আবদুর রব
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
  1. ক) ১০ নং সেক্টর
  2. খ) ১১ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৭,৩৪২.
প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা কে ছিলেন?
  1. ঈসা খান
  2. দাউদ কররানি
  3. কেদার রায়
  4. চাঁদ রায়
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
ব্যাখ্যা
বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস: 
- সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলার ওপর তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
- বাংলার বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি।
- জমিদারগণ তাঁদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। তাঁদের শক্তিশালী সৈন্য বাহিনী ও নৌবহর ছিল।
- স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।
- বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণ 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
- এ 'বারো' বলতে বারোজনের সংখ্যা বোঝায় না।
- ধারণা করা হয় অনির্দিষ্ট সংখ্যক বড় বড় 'ভূঁইয়া' বা জমিদারদের বোঝাতেই 'বড়' থেকে 'বারো' শব্দটি প্রচলিত হয়েছে।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- হুসেন শাহি বংশের অবসান হলে ঈসা খানের পিতা সোলায়মান খান সোনারগাঁ অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
- খিজিরপুর দুর্গ ছিল তাঁর শক্তির প্রধান কেন্দ্র।
- সোনারগাঁ ও খিজিরপুরের নিকটবর্তী কারাবু তাঁর রাজধানী ছিল।
- দাউদ কররানির পতনের পর তিনি সোনারগাঁয়ে রাজধানী স্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,৩৪৩.
মুর্শিদকুলী খান কত সালে বাংলায় নবাবী শাসনের সূত্রপাত করেন?
  1. ক) ১৭০৩ সালে
  2. খ) ১৭১১ সালে
  3. গ) ১৭০৯ সালে
  4. ঘ) ১৭০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় নবাবী আমল।
- তারপর থেকে শুরু হয় ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ।
উল্লেখ্য,
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তবে সুলতানী আমল শুরু করেন - ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৭,৩৪৪.
দ্বৈত শাসনের সময় রাজস্ব প্রশাসন কার হাতে ছিল?
  1. নবাবের
  2. কোম্পানির
  3. সম্রাটের
  4. স্থানীয় জমিদারের
সঠিক উত্তর:
কোম্পানির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোম্পানির
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
-  দ্বৈত শাসনের মূল ধারা:
• রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষা: কোম্পানির হাতে।
• প্রশাসন ও বিচার বিভাগ: নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের কারণে জনজীবনে অরাজকতা দেখা দেয়।
- অবাধ লুণ্ঠন ও অতিরিক্ত কর আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- নবাব পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা শুরু হয়।
- এর ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) ঘটে।
- দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৪৫.
“এক নদী রক্ত পেড়িয়ে ...” - গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) আপেল মাহমুদ
  2. খ) মো. মনিরুজ্জামান
  3. গ) খান আতাউর রহমান
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
গ) খান আতাউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
• গানটির:
- ধরনঃ চলচ্চিত্রের গান
 -গীতিকারঃ খান আতাউর রহমান
 -সুরকারঃ খান আতাউর রহমান
- গেয়েছেনঃ শাহনাজ রহমতুল্লাহ
 -অ্যালবামঃ আবার তোরা মানুষ হ

তথ্যসূত্র: lyrics.khichuri.net
৭,৩৪৬.
মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. এম এ হান্নান
  2. মাহবুবুর রহমান
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. বিচারপতি সাত্তার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার গঠন:
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৭.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) হামিদুজ্জামান খান
  2. খ) মইনুল হোসেন
  3. গ) শামীম শিকদার
  4. ঘ) হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমান, তাঁর সহকর্মী ছিলেন ভাস্কর নভেরা আহমদ। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ সালে এটি উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৩৪৮.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান -২০২৪' এর একদফা ঘোষণা হয় কত তারিখে?
  1. ৩১ জুলাই
  2. ২ আগস্ট
  3. ৩ আগস্ট
  4. ৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ আগস্ট
ব্যাখ্যা
 • ৩ আগস্ট ২০২৪ :
- কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা করেন যে তাদের সরকারের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই এবং হাসিনার পদত্যাগ এবং ‘সবার কাছে গ্রহণযোগ্য’ একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের দাবিতে লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- হাসিনা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ছাত্ররা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
- বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে, প্রধান সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম শহিদ মিনারে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন, যেখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য একক দাবি ঘোষণা করে এবং আহ্বান জানায়।

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।
৭,৩৪৯.
পলাশীর যুদ্ধ কোন তারিখে সংঘটিত হয়? 
  1. ২৩ জুন, ১৭৫৭ 
  2. ২৩ জুন, ১৭৫৮
  3. ২৩ জুন, ১৭৬০
  4. ২৩ জুন, ১৭৫৬
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন, ১৭৫৭ 
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আরোহণ করার পর থেকে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে নানা কারণে মনঃক্ষুন্ন ঘরের শত্রু শওকত জং,
- ঘষেটি বেগম দরবারের শত্রু আমাত্য ও বেনিয়া সম্প্রদায় এবং বহিঃশত্রু ইংরেজদের সঙ্গে।
- নবাবের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের কাজে লাগিয়ে ইংরেজরা নবাবকে উৎখাতের এক নীল নকশা তৈরি করে।
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর  নেতৃত্ব দেন- রবার্ট ক্লাইভ।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে নবাবের বাহিনীর এক যুদ্ধ সংঘঠিত হয়।
- কারণ যুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ সৈন্য নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে,
- যার ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে।
- বন্দী অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৫০.
How many members of the Air Force were awarded titles in the Liberation War?
  1. ক) 23
  2. খ) 11
  3. গ) 7
  4. ঘ) 26
সঠিক উত্তর:
ক) 23
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 23
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।

বিভিন্ন বাহিনীতে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা:
- বিমান বাহিনী - ২৩ জন।
৭,৩৫১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান মেহেরপুর জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৭,৩৫২.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. নদীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

• উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়,
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরিশাল''ই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উত্তর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,৩৫৩.
বাংলার প্রাচীন জনপদ সমতট বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৫৪.
শহীদ আসাদ ১৯৬৯ সালের কত তারিখে শহীদ হন-
  1. ক) ১৯ জানুয়ারি
  2. খ) ২০ জানুয়ারি
  3. গ) ২১ জানুয়ারি
  4. ঘ) ২৪ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

- শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদের স্মরণে শেরে বাংলা নগরের ‘আইয়ুব গেট’ ও ‘আইয়ুব এভিনিউ’ এর নাম পাল্টে যথাক্রমে ‘আসাদ গেট’ এবং ‘আসাদ এভিনিউ’ করা হয়।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭,৩৫৫.
ইউনেস্কো বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দেয় -
  1. ক) ১৯৯৭ সালে
  2. খ) ১৯৯৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

- ভাষা আন্দোলনের ৪৬ বছর পর কানাডা প্রবাসী বাঙালি রফিক (রফিকুল ইসলাম) এক দুঃসাহসী কাজ করে ফেলেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ৯ জানুয়ারি জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি লিখেন।
- এ চিঠিতে তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কফি আনানের কাছে প্রস্তাব করেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩১তম সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসাবে গৃহীত হয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭,৩৫৬.
ওলন্দাজরা কত সালে জলপথে উপমহাদেশে আসে?
  1. ১৬০০ সালে 
  2. ১৬১০ সালে 
  3. ১৫৯৯ সালে 
  4. ১৬০২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০২ সালে 
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৫৭.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. হেস্টিংস
  3. ডালহৌসি
  4. ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৫৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফাকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) মুখ্য আইন
  3. গ) ম্যাগনাকার্টা
  4. ঘ) পিটিশন অব রাইটস
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- এরপর ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।
- ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সংগে মিল রেখে।
- ৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য-পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র।
- ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে।
- ৬ দফাকে ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ'ও বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ম্যাগনা কার্টা হল ইংরেজদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদানকারী একটি দলিল যা রাজা জন তার বিদ্রোহী ব্যারন বা অভিজাতদের চাপে ১৫ জুন, ১২১৫ সালে স্বাক্ষর করেছিলেন।
- এটিকে কিনা বলা হয় ব্রিটিশ গঠনতন্ত্রের বাইবেল।
- এর শর্ত গুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে, রাজা প্রতিনিধি স্থানীয় লোকদের অনুমোদন ছাড়া কারো স্বাধীনতায় এবং সম্পত্তিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

উৎস: যুগান্তর, ০৭ জুন, ২০২১।
৭,৩৫৯.
বাংলাদেশের শীতলতম জেলা কোনটি?
  1. পঞ্চগড়
  2. রংপুর
  3. সিলেট
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

তথ্যসূত্র: বাংলিপিডিয়া।
৭,৩৬০.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কে?
  1. রফিক
  2. আসাদ
  3. মিলন
  4. নূর হোসেন
সঠিক উত্তর:
আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদ
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়।
- ১৯৬৯-এর মধ্য জানুয়ারিতে এটি গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন।
- ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৬১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে কবে 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' প্রদান করা হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে।
- ২৫ জুলাই ২০১১ তারিখে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
- এই পুরস্কার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার সহযোগী হিসাবে এবং এই জাতীয় জটিল আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা করার দক্ষতার স্বীকৃতি দেয়।
- এছাড়া ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি সহ মোট ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয় ৩১২ জন ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠনকে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭,৩৬২.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন কে?
  1. কামাল ফারুক
  2. নূরুল আলম
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৩.
প্রাচীন সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিল -
  1. পাটালিপুত্র
  2. কোটিবর্ষ
  3. বড় কামতা
  4. কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় কামতা
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

এছাড়া,
- কর্ণসুবর্ণ ছিলো গৌড়ের রাজধানী।
- পাটালিপুত্র মৌর্য সম্রাজ্যের রাজধানী।
- কোটিবর্ষ ছিলো রাঢ়ের রাজধানী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, NCTB।
৭,৩৬৪.
কোন যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিচিত?
  1. মৌর্যযুগ
  2. কুষাণযুগ
  3. গুপ্তযুগ
  4. পালযুগ
সঠিক উত্তর:
গুপ্তযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্তযুগ
ব্যাখ্যা
গুপ্তযুগ:
- বাংলায় গুপ্তরা শাসন করে ৩২০ থেকে ৪১৫ সাল পর্যন্ত।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুপ্ত।
- গুপ্ত যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
- এর শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল সমুদ্রগুপ্ত।
- তাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয় ।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য।
- এই সাম্রাজ্যের রাজধানী পাটালিপুত্র।
- চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন।
- গুপ্ত বংশ ধ্বংস হয় হুন শক্তির হাতে।
- এই সময় পণ্ডিত ছিলেন আর্যভট্ট, কালিদাস, বিষ্ণুশর্মা, বরাহমিহির।

উল্লেখ্য 
- পাল আমল ছিল বংশানুক্রমিক রাজবংশ।
- এই বংশ সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৫.
'মাৎস্যন্যায়' কোন শাসকের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়?
  1. অশোক
  2. শশাঙ্ক
  3. হর্ষবর্ধন
  4. চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
⇒ 'মাৎস্যন্যায়' শশাঙ্কের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়।

মাৎস্যন্যায়:

- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশো বছর বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না, যার ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিরাজমান ছিল।
- হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের আক্রমণ, এবং ভূস্বামীরা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে মেতে ওঠে বাংলার রাজ্যকে।
- কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিল না।
- এই অরাজকতাকেই ধর্ম পালের 'খালিমপুর' তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- 'মাৎস্যন্যায়' শব্দটি প্রথম কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা বড় মাছের ছোট মাছ খেয়ে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
- বাংলার সবল অধিপতিরা তখন ছোট রাজ্যগুলোকে গ্রাস করছিলেন।
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি পাল রাজাদের উত্থানের মাধ্যমে এ অরাজকতার অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৭,৩৬৬.
কে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন?
  1. শাহজাহান সিরাজ
  2. নূরে আলম সিদ্দিকী
  3. আ. স. ম. আবদুর রব
  4. আব্দুল কুদ্দুস মাখন
সঠিক উত্তর:
আ. স. ম. আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ. স. ম. আবদুর রব
ব্যাখ্যা

প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ, ১৯৭১।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।

৭,৩৬৭.
‘আমাদের বাঁচার দাবিঃ ছয় দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ৫-৬ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২১শে ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ৫-৬ মার্চ
  4. ঘ) ২১শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ২১শে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২১শে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শােষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা ।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহােরে বিরােধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলনের আহ্বান করেন। 
- সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখ্যান করেন। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করেন এবং ছয় দফা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করে ঢাকায় ফিরে আসেন।
- ২১শে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে আমাদের বাঁচার দাবি : ছয় দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৬৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে. এম সফিউল্লাহ
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
→ মুক্তিযুদ্ধকালীন 'জেড' ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন।

ব্রিগেড ফোর্স:
- ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও রণাঙ্গনকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- মে ও জুন মাসে মুক্তিবাহিনীকে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে ভাগ করা হয়েছিল।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।
- ব্রিগেড ফোর্সগুলোর নাম হলো:
→ 'কে' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ।
→ 'এস' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে. এম সফিউল্লাহ।
→ 'জেড' ফোর্স, যার অধিনায়ক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়, যাতে সামরিক ও বেসামরিক জনগণকে একত্রিত করা হয়।
- মুক্তিবাহিনী দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল: নিয়মিত বাহিনী এবং অনিয়মিত বাহিনী। অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- গণবাহিনীতে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেক্টরে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
- নিয়মিত বাহিনীতে ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছিল।
- ১৪ এপ্রিল, কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ বাহিনীর হেড কোয়ার্টার কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৬৯.
আচারসাগর ও প্রতিষ্ঠাসাগর নামে গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. কেশব সেন
  2. বিজয় সেন
  3. লক্ষণ সেন
  4. বল্লাল সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
• বল্লাল সেন:
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৭০.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত দু-জন নারী মুক্তিযােদ্ধা হলেন-
  1. ক) কঁকন বিবি ও মতিয়া চৌধুরী
  2. খ) তারামন বিবি ও সুলতানা কামাল
  3. গ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান৷ অন্যজন তারামন বিবি৷
Source: dw.com
৭,৩৭১.
সিপাহি বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে -
  1. ব্যারাকপুরে
  2. মিরাটে
  3. কানপুরে
  4. পাঞ্জাবে
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুরে
ব্যাখ্যা

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৭২.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে আহবানকৃত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কয়টি পূর্বশর্ত উল্লেখ করেন?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৬ই মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫শে মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের নতুন অধিবেশন আহবান করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় জাতীয় পরিষদের অধিশেনে যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে চারটি দাবী উত্থাপন করেন।
এগুলো হলো:
- সামরিক আইন প্রত্যাহার
- ‍নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
- সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত
- সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৬)
৭,৩৭৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  4. মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
মেজর রফিকুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৪.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  3. ড. মোশাররফ হোসেন
  4. ড. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৭৫.
সমুদ্রগুপ্তকে ‘প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন’ উপাধি দিয়েছেন কে?
  1. ভিনসেন্ট স্মিথ
  2. উইলিয়াম জোনস
  3. আর.সি. মজুমদার
  4. জেফ্রি সোয়েল 
সঠিক উত্তর:
ভিনসেন্ট স্মিথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিনসেন্ট স্মিথ
ব্যাখ্যা

• গুপ্তযুগ ও সমুদ্রগুপ্ত:
- গুপ্ত যুগকে বলা হয় “প্রাচীন ভারতের স্বর্ণযুগ”।
- কারণ এই সময়ে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও রাজনীতি - সবক্ষেত্রেই অসাধারণ উন্নতি হয়েছিল।
- এই যুগে মোট ১৬ জন শাসক ছিলেন।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম মহারাজা ছিলেন শ্রীগুপ্ত।
- এই যুগের সেরা ও সবচেয়ে বীর রাজা ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটলিপুত্রের সিংহাসনে বসেন।
- সমুদ্রগুপ্ত প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন নামে পরিচিত। 
- তাঁর অসংখ্য বিজয়যাত্রা ও সামরিক প্রতিভার কারণে ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ  তাঁকে “ Napoleon of India” আখ্যা দেন।

উল্লেখ্য, 
- সমুদ্রগুপ্তের সামরিক অভিযানগুলি গুপ্ত সাম্রাজ্যকে একটি ক্ষুদ্র রাজ্য থেকে একটি বিশাল সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করে।
- তিনি শুধু যুদ্ধ জয়ই করেননি, বরং পরাজিত রাজাদের আনুগত্যের বিনিময়ে তাদের সিংহাসনে ফিরিয়ে দিতেন, যা তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রমাণ।
- গুপ্ত যুগের শেষ শাসক ছিলেন বিষ্ণুগুপ্ত।
- এই যুগেই হিন্দুদের সংস্কৃতির উত্থান ঘটে।

অন্যদিকে,
- উইলিয়াম জোনস- ভারতের প্রাচীন আইন ও সংস্কৃত ভাষার গবেষক।
- আর.সি. মজুমদার- ভারতীয় ইতিহাসের গবেষক।
- জেফ্রি সোয়েল হচ্ছে ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ। 

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. ইতিহাস প্রথম পত্র, উচ্চমাধ্যমিক (HSC) পাঠ্যবই, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB), বাংলাদেশ।

৭,৩৭৬.
পাকিস্তানের কোন গভর্নর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।

যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৭,৩৭৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীরবিক্রম
  3. বীরউত্তম
  4. বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীরবিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরশ্রেষ্ঠ (৭ জন)
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরউত্তম (৬৮ জন)
- তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরবিক্রম (১৭৫ জন)
- চতুর্থ সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক : বীরপ্রতীক (৪২৬ জন)।
- বঙ্গবন্ধু হত্যকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৬ জুন ২০২১ চারজনের বীরত্বসূচক খেতাব বাতিল করে।
এরা হলো:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।
- ফলে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বীরত্বসূচক পদকপ্রাপ্তের মোট সংখ্যা ৬৭২ জন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৭,৩৭৮.
শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পুণ্ড্রবর্ধন
  3. লক্ষ্মণাবতী
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৭৯.
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য কয়টি মূল দাবি ছিল-
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল- ৪টি।
যথা: ১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, ৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৭,৩৮০.
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন -
  1. ক) আতাউর রহমান খান
  2. খ) শওকত হোসেন
  3. গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
  4. ঘ) আলী আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ.কে রফিকুল হোসেন
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন সভাপতি;
- আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খান ছিলেন সহ-সভাপতি,
- শামসুল হক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক,
- শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেন ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক, এবং
- ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮১.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল -
  1. ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল।
- স্থান: বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্য।
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
- সম্রাট বাবর এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। ভারতবর্ষে তিনিই সর্বপ্রথম গোলন্দাজ বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ফলাফল: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৮২.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে?
  1. ক) নূর হোসেন
  2. খ) আসাদুজ্জামান
  3. গ) ড. শামসুজ্জোহা
  4. ঘ) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে ১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৩.
মুঘল আমলে নির্মিত 'ময়ূর সিংহাসন' লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় কোন সম্রাট?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. সম্রাট আকবর
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. নাদির শাহ
সঠিক উত্তর:
নাদির শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাদির শাহ
ব্যাখ্যা
ময়ূর সিংহাসন:
- ১৭শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান সোনার তৈরি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- সিংহাসনটিতে রূপার সিড়ি দিয়ে আরোহণ করা হতো। সিংহাসনের পেছনে দুটি ময়ূরের ছবি ছিল, যারা তাদের অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আর এই পেখমগুলো খচিত ছিল নানা রকম দুষ্প্রাপ্য আর অতিমূল্যবান রত্নপাথর দিয়ে। এর মাঝে ছিল নীলকান্ত মণি, পান্না, চুনি কিংবা পদ্মরাগ মণি, মুক্তা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহ ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় সিংহাসনটি।
- এর সৌন্দর্য দেখে পাগল হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে অর্থাৎ বর্তমান ইরানে।
- ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
৭,৩৮৪.
কত তারিখে বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়?
  1. ২৫ মার্চ
  2. ১২ ডিসেম্বর
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ১৪ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ২১ মার্চ শহিদ বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে।
- ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যে সকল সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, রাজনৈতিক, সমাজসেবী, সংস্কৃতিসেবী, চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত ও শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিংবা তাদের সহযোগীদের হাতে শহিদ কিংবা চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁরা শহিদ বুদ্ধিজীবী।’
- ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসাবে পালন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও আলবদর বাহিনী যৌথভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তাদের বাসা থেকে একে একে তুলে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে।
- এছাড়াও, ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
- তাঁদের স্মরণে ঢাকার রায়ের বাজার ইটখোলায় নির্মিত হয়েছে "বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ "।

তথ্য - ডেইলি স্টার বাংলা এবং বাংলাপিডিয়া।[লিংক]
৭,৩৮৫.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে কারা?
  1. ক) দিনেমার
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) ইংরেজ
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ‘ভাস্কো দা গামা’ ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার পর থেকে উপমহাদেশে ইউরোপীয় বণিকদের আগমন শুরু হয়।
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরা প্রথম উপমহাদেশে আগমন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ, ওলন্দাজ বা ডাচ, দিনেমার বা ডেনিশদের আগমন ঘটে।
- সবার শেষে আগমন করেন ফরাসিরা। ১৬৬৪ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে ফরাসিরা সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৭,৩৮৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ যে এলাকায় অবস্থিত তাকে বলা হয় -
  1. শহীদুল্লাহ হল
  2. এস. এম. হল
  3. কার্জন হল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কার্জন হল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্জন হল
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিজ্ঞান অনুষদ এর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়।
- প্রথমে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত এই তিনটি বিভাগ নিয়ে এই অনুষদ যাত্রা শুরু করে।
- বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কয়েকটি কেন্দ্র আছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ যে এলাকায় অবস্থিত তাকে বলা হয় কার্জন হল।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৭.
প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য কোনটি ছিল?
  1. রাঢ়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. হরিকেল
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন জনপদের দিক থেকে পুণ্ড্র ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।

পুণ্ড্র জনপদ
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুণ্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৮.
১৯৫৬ সালের জাতীয় পরিষদে পূর্ব বাংলার জন্য কয়টি আসন বরাদ্দ ছিল?
  1. ক) ১৬৯টি
  2. খ) ১৫০টি
  3. গ) ১৪১টি
  4. ঘ) ১৪৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫০টি
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে সংকট বিশেষ করে দুই অংশের মধ্যে বৈরিতা নিরসনকল্পে সােহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে (তখন তিনি মােহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী) পশ্চিম পাকিস্তানের মারিতে উভয় অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সরকার, সংসদ, অর্থনীতি, প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে সমান অংশীদারিত্বভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বিধান সম্বলিত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা মারি চুক্তি (৭ই জুলাই ১৯৫৫) নামে পরিচিত।- 
- এভাবে ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি সংবিধান পাস হয়।
- এতে ৩০০ আসন বিশিষ্ট একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয় এবং সমতানীতি অনুযায়ী পূর্ববাংলার জন্য ১৫০টি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৫০টি আসন নির্ধারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নির্বাচনে বিজয়ের পথ তথা জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ রুদ্ধ করা হয়।
- তবে সােহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম আইনমন্ত্রী (১৯৫৪-১৯৫৫) এবং পরে প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৬-১৯৫৭) হিসেবে বাঙালিদের সার্বিক উন্নয়নে অনেক ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী তা কখনােই ভালাে চোখে দেখেনি।
- ১৯৫৬ সালে শাসনতন্ত্র প্রণীত হওয়ার মাত্র ২ বছর ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী কর্তৃক ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ বাতিল করা হয়। সকল ক্ষমতা আবার তাদের হাতে কুক্ষিগত হয়। এবার সামরিক জান্তা সরাসরি ক্ষমতা নেয়। এর প্রধান জেনারেল আইয়ুব খান বিভিন্ন ফরমান জারি করে নাগরিকদের অধিকার একের পর এক কেড়ে নেন, সােহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবসহ বিভিন্ন নেতাকে বন্দি এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সােহরাওয়ার্দীসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে অযােগ্য ঘােষণা করা হয়।

উৎস: https://www.asiaticsociety.org.bd/
৭,৩৮৯.
উপমহাদেশে 'হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন' প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

• হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন লর্ড ডালহৌসি।

সামাজিক সংস্কার:
- সংস্কারপন্থী বাঙালি নেতা ও শিক্ষিত শ্রেণির উদারবাদীদের সহযোগিতায় ইংরেজ শাসকরা সামাজিক ধর্মীয় অনেক অমানবিক প্রথা কুসংস্কার দূর করতে সক্ষম হন।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো উদারপন্থী হিন্দু নেতৃবর্গ এবং সদর নিজামত আদালতের জজদের অকুণ্ঠ সমর্থনে ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরে সতীদাহ প্রথা রহিত করতে সক্ষম হন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবাকে স্বামীর সঙ্গে মরতে বাধ্য করলে তা আইনত দণ্ডনীয় বলে আইন জারি করা হয়।
- লর্ড এলেনবরা-এর সময়ে ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে দাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহায়তায় হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করে বিধবা বিবাহের প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৯০.
Who was the Governor-General during the Indian Mutiny of 1857?
  1. Lord Dalhousie
  2. Lord Canning
  3. Lord Ripon
  4. Lord Lytton
  5. Lord Curzon
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Canning
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- সিপাহি বিপ্লবকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।
- এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয়।
- লর্ড ক্যানিং কাগজি মুদ্রার প্রচলন করেন।

অপরদিকে,
- লর্ড ডালহৌসী বিধবা বিবাহ আইন প্রবর্তন করেন।
- এই আইন প্রণয়ন করেন-১৮৫৪ সালে।
- বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়- ১৮৫৬ সালে।
- লর্ড ডালহৌসী স্বত্ব বিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন।
- রেললাইনের প্রচলন করেন।
- লর্ড বেন্টিংক সতীদাহ প্রথা বিলোপ করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলী অধীনতা মুলক নীতির প্রবর্তক।
- ব্রিটিশদের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বড়লাট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৯১.
বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদকাল কত বছর?
  1. ২০ বছর
  2. ২৫ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৩৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৩০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি:
- বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর।
- দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৗড়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
- দুই প্রধানমন্ত্রীই তখন সবেমাত্র প্রথমবার দেশের ক্ষমতায় এসেছেন - তারপরও বহু বছরের এই অমীমাংসিত বিষয়টি অসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি হয়েছিল তাদের আমলেই।
- দুই প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া ও শেখ হাসিনা দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে বসে গঙ্গা-চুক্তিতে সই করছেন।
- এ চুক্তির মেয়াদকাল ৩০ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এর মেয়াদ শেষ হবে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,৩৯২.
বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার কোথায় অবস্থিত?
  1. মিরপুর
  2. শাহবাগ
  3. আগারগাঁও 
  4. মহাখালী
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও 
ব্যাখ্যা

- স্বাধীনতা পূর্বকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উক্ত অফিসের শাখা অফিস হিসেবে ঢাকার  মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের ভাড়া বাড়িতে ‘‘ডেলিভারী অব বুকস এন্ড নিউজ পেপার শাখা’’ নামে একটি অফিস চালু ছিল।
- জাতীয় আরকাইভস এর কোন শাখা পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না।    

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সময়ে উক্ত অফিসের দায়িত্বে ছিলেন জনাব মোঃ আবুল হাশেম। 
- যুদ্ধ চলাকালে সহকারী পরিচালক জনাব সাহাবুদ্দিন খান করাচী থেকে চলে এসে সেখানে যোগদান করেন। 
- স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে তারা ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে একটি পরিত্যক্ত বাড়ীর দোতলায় শাখাটি স্থানান্তর করেন।

- ১৯৭৯ সনে ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় গ্রন্থাগার ১০৬, সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়।     

- ভবন নির্মাণ শেষে ১৯৮৫ সনের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন আগারগাঁও এ স্থানান্তরিত হয়।
- কিছুদিন পর ৩৭২ এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তরিত হয়।  

উৎস: জাতীয় গ্রন্থাগার ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৯৩.
রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন ক্ষমতা -
  1. ১২০০ মেগাওয়াট
  2. ১৩২০ মেগাওয়াট
  3. ১৪০০ মেগাওয়াট
  4. ২৪০০ মেগাওয়াট
সঠিক উত্তর:
২৪০০ মেগাওয়াট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪০০ মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এটি পাবনা জেলায় অবস্থিত। 
- দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৬১ সালে।
- পাবনা জেলার রূপপুরে প্রকল্প এলাকার জন্য প্রায় ২৬০ একর জমি এবং বৈদ্যুতিক সাব-ষ্টেশন নির্মাণসহ ৭২টি আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ কাজও আংশিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। 
- বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
- ৩০ নভেম্বর ২০১৭ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী উদ্বোধন করেন।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট।

উল্লেখ্য,
- ৫ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান হস্তান্তর করা হয়।
- এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

উৎস: i) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
         ii) ৫ অক্টোবর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৭,৩৯৪.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে কে?
  1. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. আওয়ামী লীগ
  4. ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৩৯৫.
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল কত তারিখে?
  1. ৫ জুন
  2. ১ জুলাই
  3. ৫ জুলাই
  4. ১৫ জুলাই
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জুলাই
ব্যাখ্যা

• জুলাই অভ্যুত্থান:
- বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’।
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
- শুরুতে এ আন্দোলন অহিংস ছিল।
- কিন্তু পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেপরোয়া হলে ১৫ জুলাই, ২০২৪ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
- অতঃপর শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- সহিংসতার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
- যার শেষ পরিণতি ঘটে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মাধ্যমে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৪ পতন ঘটে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী সরকার শেখ হাসিনার। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৭,৩৯৬.
ইপিআর এর কতজন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ১ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
ব্যাখ্যা

ইপিআর এর ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন ।

তারা হলেন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।

- সবথেকে বেশি বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩ জন সদস্য।

- তারা হলেন সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।

- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বাহিনীর একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

- ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৭,৩৯৭.
কাদের সমন্বয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল?
  1. শুধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য
  2. শুধু জাতীয় পরিষদের সদস্য
  3. আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য
  4. প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক ও জাতীয় উভয় পরিষদের সদস্য
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এবং শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ;
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে (কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম) বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
- সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমতসৃষ্টি ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৯৮.
'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. চার দফা
  2. ছয় দফা
  3. এগারো দফা
  4. একুশ দফা
সঠিক উত্তর:
এগারো দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগারো দফা
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ১৪ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এগারো দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

⇒ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা শহর।
- কিন্তু তাদের প্রদত্ত কর্মসূচি অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণ পালন করে। এমনকি পশ্চিম পাকিস্তানের ছাত্ররাও এগারো দফার সমর্থনে আন্দোলন করে।
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবানে ২৪ জানুয়ারির হরতাল পালনের সময় ময়মনসিংহে ২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। 
-  এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং আগরতলা মামলা বাতিল হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯৯.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সাল
  2. ১৯৪৮ সাল
  3. ১৯৪৯ সাল
  4. ১৯৫০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সাল
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৪০০.
সাত গম্বুজ মসজিদটির নির্মাতা-
  1. ক) সুবেদার ইসলাম খান
  2. খ) মীরজুমলা
  3. গ) মুরশীদ কুলী খান
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান। ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

তথ্য: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।