বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৫ / ১২৪ · ৬,৪০১৬,৫০০ / ১২,৪২১

৬,৪০১.
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী 'ন্যাপ' নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন কত সালে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:

- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন হাজী শরাফত আলী খান।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে  যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এবং মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
- তিনি ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬,৪০২.
‘আর্মস অ্যাক্ট’ ভারতীয় উপমহাদেশে জারি করেছিলেন কে?
  1. লর্ড রিপন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড লিটন 
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড লিটন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড লিটন 
ব্যাখ্যা

• লর্ড লিটন:
- লর্ড লিটন (এডওয়ার্ড রবার্ট লিটন) ১৮৭৬ হতে ১৮৮০ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় এবং গভর্নর জেনারেল ছিলেন। 
- ১৮৮০ সালে গ্ল্যাডস্টোন ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো ১৮৭৮ সালের দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন (Arms Act)।

⇒ দেশীয় সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act):
- এই আইনটি ভারতীয়দের দেশীয় ভাষায় (Vernacular) সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
- এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারের সমালোচনামূলক লেখা দমন করা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা। 

⇒ অস্ত্র আইন (Arms Act):
- এই আইনের মাধ্যমে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভারতীয়র অস্ত্র বহন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
- তবে, এই আইনটি ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। 

এছাড়াও,
- তার শাসনামলে দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
i) অস্ত্র আইন, ১৮৭৮।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,৪০৩.
বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী অঞ্চলে কোন জনপদে অবস্থিত ছিল?
  1. চন্দ্রদ্বীপ
  2. তাম্রলিপ্ত
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’। 
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪০৪.
ব্রিটিশ ভারতে প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
  1. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
লর্ড ক্যানিং:
- ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং।
- লর্ড ক্যানিং ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।

⇒ লর্ড ক্যানিং ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০৫.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপনকারী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কোন রাজনৈতিক সদস্য ছিলেন?
  1. মুসলিম লীগ
  2. কৃষক প্রজা পার্টি
  3. স্বরাজ দল
  4. কংগ্রেস
সঠিক উত্তর:
কংগ্রেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কংগ্রেস
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৪০৬.
'ছয় দফা' কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ঘ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪০৭.
বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics' হিসেবে আখ্যায়িত করেন -
  1. লোবেন জেঙ্কিন্স
  2. ব্রিটন হেডেন
  3. হেনরি রবিনসন লুস
  4. মুরাত সাবুনজো
সঠিক উত্তর:
লোবেন জেঙ্কিন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোবেন জেঙ্কিন্স
ব্যাখ্যা
Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। 
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোবেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Newsweek পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
-  সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
          ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬,৪০৮.
বরেন্দ্র কোন রাজাদের পিতৃভূমি ছিলো?
  1. মৌর্য রাজা
  2. পাল রাজা
  3. খড়গ রাজা
  4. সেন রাজা
সঠিক উত্তর:
পাল রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল রাজা
ব্যাখ্যা
• পাল বংশ:
- শশাঙ্ক পরবর্তী বাংলায় অরাজকতার যুগের অবসান ঘটিয়ে গোপাল বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পালবংশের শাসনের সূচনা করেন।
- গোপালের ক্ষমতা লাভ সম্বন্ধে খালিমপুর তাম্রশাসন থেকে জানা যায়।
- বরেন্দ্র পাল রাজাদের পিতৃভূমি ছিলো।
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- গোপাল প্রতিষ্ঠিত এ বংশের শাসন চলে নানা ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আঠারো পুরুষ ধরে।
- গোপালের রাজত্বকাল সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার উপায় নেই। আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্পে উল্লেখ আছে যে, তিনি ২৭ বছর রাজত্ব করেন। অনুমান করা হয় গোপাল ৭৫৬ হতে ৭৮১ খিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৪০৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৩ নং
  3. গ) ১১ নং
  4. ঘ) ৭ নং
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে। ফেনী নদী থেকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইনের পশ্চিমপ্রান্ত এবং ঢাকা শহর ও ফরিদপুরের অংশবিশেষ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত হয়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২নং সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন মেজর খালেদ মোশারফ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এ টি এম হায়দার ২নং সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন।(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬,৪১০.
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ কত সালে জারি হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স:
- পারিবারিক আদালত অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আইনগত সমস্যার বিচার নিষ্পত্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ।
- ১৯৮৫ সালে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

- ইসলামী আইন, হিন্দু আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রভৃতি সমন্বয়ে পারিবারিক আদালতের বিচার্য বিষয়ের আইন সংকলিত হয়েছে। 
- এ আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য এলাকার জেলাসমূহ ছাড়া সারা দেশে প্রযোজ্য। 
- এ আইন বলে দেশের সকল মুন্সেফ আদালত পারিবারিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং মুন্সেফগণ এ আদালতের বিচারক হবেন।
- পারিবারিক আদালত মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিচারকার্য নিষ্পন্ন করে থাকে। এগুলি হচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, মোহরানা, ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১১.
ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটরা নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. শাহজাদা সুজা
  4. মীর আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শাহজাদা সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাদা সুজা
ব্যাখ্যা
বড় কাটরা:
- বড় কাটরা, ঢাকা মুগল রাজধানী ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ার ক্যারাভান সরাই-এর ঐতিহ্য অনুসরণে নির্মিত।
- বড় কাটরা দারুণভাবে সুরক্ষিত এবং মুগল রাজকীয় স্থাপত্য-রীতির সকল বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি বিদ্যমান।
- বড় কাটরায় ফারসি ছন্দোবদ্ধ পংক্তিযুক্ত দুটি শিলালিপি আছে।
- এর একটিতে উৎকীর্ণ আছে যে, ইমারতটি ১০৫৩ হিজরিতে (১৬৪৩-৪৪ খ্রি) নির্মিত এবং অন্যটিতে আছে ১০৫৫ হিজরিতে (১৬৪৫-৪৬ খ্রি) নির্মিত।
- শাহজাদা সুজা বড় কাটড়া নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
- ছোট কাটড়া নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১২.
মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল কোথায়?
  1. দিল্লী
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১৩.
সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের ৬৮টি থানায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং আইন মন্ত্রণালয়।

৬,৪১৪.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কত খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন?
  1. ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি যুগ: 
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- কেননা এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনামল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলগাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন
- তখন থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৪১৫.
ঐতিহাসিক ছয় দফার তৃতীয় দফা ছিল কী ছিল?
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
  2. মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. প্রতিরক্ষা বিষয়ক
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১৬.
Who established Permanent settlement in India?
  1. Lord Ripon
  2. Lord Cornwallis
  3. Lord Wellesley
  4. Lord canning
সঠিক উত্তর:
Lord Cornwallis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Lord Cornwallis
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪১৭.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. ছাত্রলীগ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. আওয়ামী লীগ
  4. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৪১৮.
পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান কত সালে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
• আইয়ুব খানের সামরিক শাসন:
- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪১৯.
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ২০১২
  2. ২০১৪
  3. ২০১৬
  4. ২০১৮
সঠিক উত্তর:
২০১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৪
ব্যাখ্যা
- ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩’ -এর আওতায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট।
- নদীর অবৈধ দখল, পানি ও পরিবেশ দূষণ, অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়ম রোধকল্পে এবং
- নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং
- নৌপরিবহনযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের উপর অর্পণ করা হয়।
উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১
৬,৪২০.
পুণ্ড্র নগর কাদের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল?
  1. সেন
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. কুষাণ
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।ং
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।

⇒ পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।

⇒ সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুণ্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।
৬,৪২১.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. মনসুর আলী
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. তাহেরুদ্দিন ঠাকুর
  5. এএইচএম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

সরকার গঠন:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ।
• স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী: এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
• অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২২.
মুক্তিযোদ্ধের সময় চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. ক) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার
  2. খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  3. গ) এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান 
  4. ঘ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী  
সঠিক উত্তর:
খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ব্যাখ্যা
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার এবং এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। 
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে।
- এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয় ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।
- বাংলাদেশ সরকার( মুজিবনগর সরকার)
রাষ্ট্রপতি (সর্বাধিনায়ক)- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দিন আহমদ
অর্থমন্ত্রী- ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী- এ. এইচ. এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি- কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,৪২৩.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ১৯৬৯ এর আন্দোলনে
  2. ১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে
  3. মুক্তিযুদ্ধে
  4. নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
নূর হোসেন:
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বরের একটি মিছিলে বুকে- ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান লিখে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
- মিছিল রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালালে শহিদ হন নূর হোসেন।
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দেয়া ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’ ১০ নভেম্বর।

উল্লেখ্য,
⇒ নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের উজ্জ্বলতম অধ্যায় নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহিদ হন।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৬,৪২৪.
‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ কে প্রবর্তন করেন?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিধবা বিবাহ:
- হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল পান ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৫৬’ নামে আইন প্রণয়ন করে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধ করেন।
- এ আইন করার লক্ষ্য ছিল কিছু হিন্দু বিধবা শিশু, যারা স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার আগেই বিধবা হয়ে যেত; এ আইন পাসের মাধ্যমে হিন্দু বিধবা বিবাহের সব বাধা দূরীভূত হয়।
- সে বছরই ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২৫.
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলি শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

• ইলিয়াস শাহিবংশ
→ সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক। সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। পরে রাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)। 

→ আলি শাহক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস। তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

→ ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।

→  ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া। তিনি প্রথম দৃষ্টি দেন বাংলার পশ্চিম দিকে। ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে। ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করেন। ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।

→ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়। তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সুচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

৬,৪২৬.
বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় কোন দেশে?
  1. ইংল্যান্ড
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. কোরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহিদ মিনার স্থাপিত হয় ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে। 
- গ্রেট মেনচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টহুড নেবারহুডে তৈরি হয়েছে এ মিনার।
-  ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর সেখানকার ‘বাংলাদেশি কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম’ সে দেশে শহীদ মিনার নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। 
- তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৫ সালে জাপানের টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। 
- জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর বৈশাখি মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সূত্র ধরে বাংলাদেশ সরকার এই শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২৭.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- এ সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান। 

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার
পদবি নাম
রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ
অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২৮.
বর্তমানে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৩ জন
  3. ৬৭৪ জন
  4. ৬৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪২৯.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৪ জানুয়ারি
  3. ১৬ জানুয়ারি
  4. ১৮ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক। 
৬,৪৩০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. মহেন্দ্রগঞ্জ
  2. মেলাঘর
  3. চূড়ামনকাঠি
  4. করিমগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৩১.
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত হয় কোন সেক্টর?
  1. ৮ নং সেক্টর
  2. ৫ নং সেক্টর
  3. ২ নং সেক্টর
  4. ১০ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• ১০ নং সেক্টরের নৌ-কমান্ডো বাহিনী : 

- ১০ নং সেক্টর মূলত নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে গঠিত হয়।
- উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি কর্মকর্তা:
গাজী মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন, আমিন উল্লাহ শেখ, আহসান উল্লাহ, এ.ডব্লিউ. চৌধুরী, বদিউল আলম, এ.আর. মিয়া ও আবেদুর রহমান।

- ভারতীয় নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় দিল্লির যমুনা নদীতে তাদের বিশেষ নৌ-প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
- পরবর্তীতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কিছু বাঙালি সেনা ও প্রায় ১৫০ জন ছাত্র ভলান্টিয়ার যোগ দেন।
- প্রশিক্ষণে শিখানো হয় বোমা নিক্ষেপ ও লিম্পেট মাইন ব্যবহার করে জাহাজ ধ্বংসের কৌশল।
- আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তাদের চারটি দলে ভাগ করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি ও মংলা বন্দরে পাঠানো হয়।

- ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে একযোগে আক্রমণ চালিয়ে বহু জাহাজ ধ্বংস করা হয়।
- এ.ডব্লিউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে এমডি ওহ্রমাজ্দ, এমভি আল-আব্বাসসহ সাতটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
- অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন বন্দরে আরও সফল অভিযান পরিচালিত হয়।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৩২.
কোন সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।
৬,৪৩৩.
বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে অবস্থিত ভাস্কর্যটির নাম কী?
  1. ক) মোদের গরব
  2. খ) সংগ্রাম
  3. গ) স্মারক
  4. ঘ) সংশপ্তক
সঠিক উত্তর:
ক) মোদের গরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোদের গরব
ব্যাখ্যা
রাজধানীর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গনে 'মোদের গরব' ভাস্কর্যটি অবস্থিত।
- ভাষা শহীদদের সম্মানে ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়।
- 'অমর একুশ' ভাস্কর্যটি বাঙালিকে স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা ভাষা আন্দোলন। 
- ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিমূলক ভাস্কর্য গুলোর মধ্যে অন্যতম।
- ২০০৭ সালে ভাস্কর্যটির নকশা ও নির্মাণ করেন খ্যাতিনামা ভাস্কর শিল্পী অখিল পাল।

- সংশপ্তক ও স্মারক ভাস্কর্য যথাক্রমে জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য। 
- সংগ্রাম ভাস্কর্যটি সোনারগায়ে লোকশিল্প জাদুঘরে অবস্থিত। 

 উৎস: বাংলা একাডেমি এবং দৈনিক যুগান্তর।
৬,৪৩৪.
‘উয়ারী-বটেশ্বর’ কী?
  1. প্রাচীন মন্দির
  2. প্রাচীন গ্রন্থ
  3. প্রাচীন বৃক্ষ
  4. প্রাচীন জনপদ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৪৩৫.
বিখ্যাত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যের রচয়িতা জয়দেব কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. ধর্মপাল
  2. বিজয়সেন
  3. বল্লালসেন
  4. লক্ষ্মণসেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণসেন
ব্যাখ্যা

- কবি জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের একজন এবং তার রচিত 'গীতগোবিন্দ' কাব্যটি সংস্কৃত সাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি।  

জয়দেব:
- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্‌' রচিত।

- পঞ্চরত্নের অপর চারজন কবি হলেন:
১. গোবর্ধন আচার্য,
২. শরণ,
৩. নধোয়ী ও
৪. উমাপতিধর।

সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৩৬.
বাংলাদেশের রাজধানীর নামের ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) অষ্টম সংশোধনী
  2. খ) নবম সংশোধনী
  3. গ) সপ্তম সংশোধনী
  4. ঘ) ষষ্ঠ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অষ্টম সংশোধনী
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী
• সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮
• উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ
• সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮
 
• অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
এই সংশোধনী আইনবলে -
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়; 
২. ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়; 
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান। 
৬,৪৩৭.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জীবন ধারণের অধিকার
  2. সম্পত্তি রক্ষার অধিকার
  3. মত প্রকাশের অধিকার
  4. কর্মের অধিকার
সঠিক উত্তর:
কর্মের অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মের অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। 

আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে। যেমন জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি। 

আইনগত অধিকারকে নিম্নরূপভাবে ভাগ করা যায়-
ক. সামাজিক অধিকার: জীবন ধারণের অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি।
খ. অর্থনৈতিক অধিকার: কর্মের অধিকার, ন্যায্য মুজুরি পাবার অধিকার, পেশা পছন্দের অধিকার।
গ. রাজনৈতিক অধিকার: ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার।
ঘ. ধর্মীয় অধিকার: প্রত্যেক নাগরিকের তার নিজ ধর্ম পালন, চর্চা, আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হল ধর্মীয় অধিকার। যেমন একজন মুসলিম নাগরিকের অধিকার আছে নামায পড়ার। ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে, কেননা ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।
ঙ. সাংস্কৃতিক অধিকার: প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-পরিচ্ছেদ থাকে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সংস্কৃতিকে ধারণ, বাহন ও বিকাশ ঘটানোর অধিকার হল সাংস্কৃতিক অধিকার।
চ. ব্যক্তিগত অধিকার: জীবন-ধারণের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, সুখ-স্বাচ্ছদ্যের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৩৮.
সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড রিপন 
  4. লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনামলের ভূমি রাজস্ব সংস্কার একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রবর্তিত জমির পাঁচসালা ও একসালা বন্দোবস্তের ভুলত্রুটি নিরসনের জন্য লর্ড কর্ণওয়ালিস জমির দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- এই সংস্কার ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়।
- এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাঁদের দেয় করের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
- তাঁরা নিয়মিত কর প্রদান সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে জমির মালিক হয়ে যান।
- তবে এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের দুর্দশা বেড়ে যায় ও জমির উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।
- এ ব্যবস্থায় সূর্যাস্ত আইনের বলে বহু জমিদারী নিলামে উঠে এবং বহু নতুন জমিদার শ্রেণির সৃষ্টি হয় যা এদেশে বিদেশি শাসকদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬,৪৩৯.
ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়কে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৪ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৮ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:  
- ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১২ শতাংশ এলাকাজুড়ে এই টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বিস্তৃত।
- বাংলাদেশে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় প্রধানত রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

- ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে এসব পাহাড়কে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়। 
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়। 

• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে পাহাড়ের গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার।
- এদের গঠন আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়শ্রেণির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, স্লেট ও কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত।
- এখানেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং বা বিজয় অবস্থিত, যার উচ্চতা ১২৩১ মিটার।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়-
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলে ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন পাহাড় ও টিলার উপস্থিতি দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো সাধারণত কোনো সুসংগঠিত গিরিশ্রেণি তৈরি করেনি। 
- এদের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম, সাধারণত ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬,৪৪০.
উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন কে?
  1. ভাস্করবর্মণ
  2. হর্ষবর্ধন
  3. বাণভট্ট
  4. রাজ্যবর্ধন
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি শশাঙ্ক সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধের শাসক।
- গুপ্ত শাসনের পর বাংলার গৌড় রাজ্যের তিনি অধিপতি হন।
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্কই বাংলার প্রথম নৃপতি যার ভূমিদান করার মতো এবং মুদ্রা প্রকাশ করার মতো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু (শৈব) ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪১.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. বাহাদুর শাহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:

- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬,৪৪২.
পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ প্রণয়নে কোন আন্দোলনের প্রভাব ছিল?
  1. ফরায়েজি আন্দোলন
  2. তেভাগা আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

- এই আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার কৃষকসভার কমিউনিস্ট কর্মীরা। হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন অমল সেন।

পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০
- এই আইনের আওতায় সরকার দেশের একমাত্র জমিদারে পরিণত হয় এবং সরকার পর্যায়ক্রমে জমিতে সকল খাজনা-আদায়ি স্বার্থ অধিগ্রহণ করে।
- ১৯৫১ ইং সনের ১৬ মে, এই আইন পাস এর মাধ্যমে এদেশ থেকে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে।
- এই আইনে ১৫২টি ধারা রয়েছে।
- এগুলি পাঁচটি অংশ ও উনিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৩.
কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যৌথ উদ্যোগে কোন চুক্তিটি সম্পাদিত হয়?
  1. লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. বেঙ্গল প্যাক্ট
  4. মারী চুক্তি
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্ণৌ শহরে একই সময়ে ও স্থানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উভয় দল ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতার অংশ হিসেবে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করে।
এই চুক্তিতে কংগ্রেস প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা মেনে নেয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬,৪৪৪.
'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কবে?
  1. ১৯৫৩ সালের ৪ নভেম্বর
  2. ১৯৫৪ সালের ৪ নভেম্বর
  3. ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর
  4. ১৯৫৪ সালের ১৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে পুরাতন ও বড় রাজনৈতিক দল।
- বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদগণ বুঝতে পারেন ক্ষমতাসীন সরকারী দল মুসলিম লীগের সাথে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন হবে।
 ১৯৪৯ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪৫.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব প্রশাসন ছিল কার অধীনে?
  1. নবাবের
  2. মুঘল সম্রাটের
  3. ব্রিটিশ পার্লামেন্টের
  4. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪৬.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেছিলেন কে?
  1. ক) মাওলানা ভাসানী
  2. খ) নূরুল আলম
  3. গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) কামাল ফারুক
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধীরেনদ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• দত্ত, ধীরেন্দ্রনাথ (১৮৮৬-১৯৭১):
- ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
-  ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা’র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণে তিনি মুক্তি সংঘ নামে একটি সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা গঠন করেন। 
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- আওয়ামীলিগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংরাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- সরকারী কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান – ধীরেনদ্রনাথ দত্ত।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৪৭.
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় কবে?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৬
  2. খ) ৬ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৬
  3. গ) ৭ জুন,১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ,১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ,১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ,১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ছয় দফা
• ১৯৬৬ সালের ছয় দফা বাঙালি জাতির জীবনে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মগত ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র তৈরি হলেও, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বাঙালিদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামরিক-বেসামরিক চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাঙালীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দেখানো হয়।
• শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
• পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু সম্মেলনের উদ্যোক্তারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। 
• পরদিন অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় ছয়দফার বিবরণ ছাপিয়ে শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরূপে চিত্রিত করা হয়। ফলে শেখ মুজিব ৬ ফেব্রুয়ারির সম্মেলন বর্জন করেন।
• আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন হরতালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের মনু মিয়া, মজিবুল্লাহ, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন।
• বর্তমানে ৭ জুন ছয় দফা দিবস হিসেবে পালিত হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪৮.
১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ করেন কে?
  1. লর্ড রিডিং
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড চেমসফোর্ড
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ: 

ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
• এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
• ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। 
• ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। 
• ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
• ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। 
• বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। 
• অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
• ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দু- মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। একে অপরকে শত্রু ভাবতে শুরু করে।
• বঙ্গভঙ্গের ফলাফল হিসেবে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হয়।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ।
৬,৪৪৯.
অগ্নিশ্বর কিসের উন্নত জাত?
  1. ক) কলা
  2. খ) আম
  3. গ) তুলা
  4. ঘ) সরিষা
সঠিক উত্তর:
ক) কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কলা
ব্যাখ্যা
• কলার জাত :
- এ দেশে আবাদকৃত কলার জাত প্রচুর রয়েছে।
- গাছের আকার ভেদে ও উচ্চতা বিবেচনায় এগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো- ক. খাটো জাতের কলা, খ. মাঝারি উচ্চতা বিশিষ্ট জাতের কলা এবং গ. লম্বা জাতের কলা।
• খাটো জাতের কলা:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর (জয়েন্ট গর্ভারনার), এগুলো খাটো জাত দলভুক্ত কলা।
- এ সব জাতের গাছ লম্বায় কম হয় এবং কিছুটা ছায়া বা আধা ছায়ায় কলা ফলানো যায়।
- বসতবাড়ির আশ পাশে এ জাতের কলার তুলনামূলক আবাদ  বেশি।
- কেবল মেহের সাগর, রঙিন মেহের সাগর নামক অপর খাটো জাতগুলো বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।
- এ জাতের কলার আকার ও প্রকৃতি অনেকটা সাগর কলার মতো।
- তবে প্রতি কাঁদিতে সাগর কলার চেয়ে  ফলের সংখ্যা ২-৩ গুণ বেশি হয়।
- প্রতি কাঁদিতে ১৭০-২২০টা কলা ধরতে দেখা যায়।
• মাঝারি আকার বিশিষ্ট জাত :
- অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী এ দলভুক্ত জাত।
- বৃহত্তর রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ময়মনসিংহ এলাকায় বাগান আকারে মূলত সবরি, সাগর, মেহের সাগর ও বিভিন্ন তরকারি কলা চাষ করা হয়।
- তবে বৃহত্তর বরিশাল ও পার্বত্য জেলাতে  চাঁপা, সবরি ও বিভিন্ন জাতের তরকারি কলার  চাষ প্রচলন বেশি।
• লম্বাকৃতির জাত :
- কাঁঠালি, আনাজি ও অন্যান্য তরকারি কলাসহ বীচিকলা, বাংলা কলা, গেঁড়া কলা লম্বা জাত দলভুক্ত।
- বীচিকলা দেশের সবখানেই রাস্তার ধারে অনেকটা বিনা যত্নে জন্মায়।
- কম আয়ের মানুষ বিশেষ করে মহিলারা এ জাতের কলা চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস
৬,৪৫০.
কত বছর বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' অবস্থা বিরাজমান ছিল?
  1. প্রায় ৩০০ বছর
  2. প্রায় ২০০ বছর
  3. প্রায় ১০০ বছর
  4. প্রায় ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১০০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে 'মাৎস্যন্যায়' হিসেবে অভিহিত করেন।
⇒ পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এ সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনটিই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
⇒ ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
⇒ ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৪৫১.
একমাত্র কোন মুসলিম কবি সুলতানি আমলে বাংলায় কাব্য রচনা করেন?
  1. ক) সৈয়দ আশরাফ সিমনানী
  2. খ) শেখ আলাউল হক
  3. গ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
  4. ঘ) সারিবদ্ধ খা
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
- মুসলিম শাসকগণ বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতাও করেন।
- এই সময়ে বাংলা ভাষা সাহিত্যের মর্যাদা পায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সুলতানদের দরবারে প্রবেশ করে।
- প্রথমে সুলতানরা ও তাঁদের আমাত্যেরা হিন্দু কবিদের উৎসাহ দেন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- পরে মুসলিম কবিরাও বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন।
- শাহ মুহাম্মদ সগীর একমাত্র মুসলিম কবি যিনি সুলতানি আমলে কাব্য রচনা করেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
-  বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরোনো নমুনা হল চর্যাপদ। চর্যাপদের ভাষা পুরোপুরি বাংলা নয়, বলা চলে এটি বাংলা-পূর্ববর্তী ভাষা।
- কিন্তু তারপরও চর্যাপদকে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নমুনা বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কেউ কেউ একে চর্যাগীতি বলেন।
- বাংলা ভাষা নতুন গতি লাভ করে সুলতানি যুগে।
-  ইলিয়াসশাহী আমলে মহাকাব্য ও পৌরাণিক কাহিনী,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা বাংলায় ভাবপ্রবণ ও মানবতাবাদী সাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।
- বাংলার সুলতান রুকনউদ্দিন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় কৃত্তিবাস বাংলা ভাষায় ‘রামায়ণ’ রচনা করেন।
- চট্টগ্রামের শাসক পরাগল খার সহযোগিতায় কবি পরমেশ্বর ‘মহাভারত’ বাংলায় অনুবাদ করেন।
- আরো অনেক গ্রন্থই তখন রচিত হয়। মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় লৌকিক কাব্যের সাহিত্য রচনা হয়।
- ষোড়শ শতকে সারিবদ্ধ খাঁ নামক একজন মুসলমান ‘বিদ্যাসুন্দর’ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৪৫২.
৬ দফা দাবি প্রথম কোথায় উথাপন করা হয়?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) করাচিতে
  3. গ) লাহোরে
  4. ঘ) কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
গ) লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাহোরে
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৫৩.
পত্রিকা পড়ে, রেডিও শুনে, টেলিভিশন দেখে শেখা- কোন ধরনের শিক্ষা?
  1. ক) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) অব্যাহত শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

শিক্ষাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা,
২. অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং
৩. উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।

- স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজের মাধ্যমে যে শিক্ষা দেয়া হয় সেটাকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।
- পরিবারের লােকজন, পাড়াপ্রতিবেশী এবং পরিবেশ থেকে জেনে বা মনের অজান্তে যে শিক্ষা গ্রহন করা হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।
- সরকারী ও বেসরকারী মাধ্যম যথা রেডিও, টেলিভিশন, প্রদর্শনী, পােষ্ঠার, বুলেটিন, সংবাদপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে যে শিক্ষা দেয়া হয় তাকে উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।

এই উপআনুষ্ঠানিক বা Nonformal Education কেই সাধারনত সম্প্রসারণ শিক্ষা বলা হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সম্প্রসারণ শিক্ষা পদ্ধতি

৬,৪৫৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয় কবে?
  1. ১০ জানুয়ারি ২০১৯
  2. ১০ জানুয়ারি ২০২০
  3. ১০ জানুয়ারি ২০২১
  4. ১০ জানুয়ারি ২০২২
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি ২০২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি ২০২২
ব্যাখ্যা
- ১০ জানুয়ারি ২০২২ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫০ বছর পূর্তি হয়।

- ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়।
- সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠানো হয়।
- লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন।
- বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
- পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
- সেই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র:- Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল, ২০২১ – এপ্রিল, ২০২২ এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,৪৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. এ কে খন্দকার
  3. কাদের সিদ্দিকী
  4. আবদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার  সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৫৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) ৪ নং সেক্টর
  2. খ) ৯ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যশোর জেলা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলাও যশোর।
- ৭ ডিসেম্বর মাগুরা জেলা শত্রুমুক্ত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সামরিক সেক্টরের মধ্যে যশোর ছিল ৮ নম্বর সেক্টর। 
- মূলত বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার কিছু অংশ ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের আওতায়। 
- এর সদর দফতর ছিল যশোরের বেনাপোলে। এ সেক্টরের প্রথম কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উৎসঃ যশোর জেলার ওয়েবসাইট, বাংলা ট্রিবিউন।
৬,৪৫৭.
বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীতের সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খন্দকার নূরুল আলম
  3. সত্য সাহা
  4. সমর দাস
সঠিক উত্তর:
খন্দকার নূরুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার নূরুল আলম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীত:
- বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীত ‘বাংলাদেশের দুরন্ত সন্তান আমরা দুর্দম দুর্জয়’।
- গানটি সেলিমা রহমান রচিত।
- গানটির সুরকার খন্দকার নূরুল আলম।
- এটি ১০ চরণ বিশিষ্ট।
- ক্রীড়া সংগীতের শেষের লাইন ‘বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম হবে গৌরবময়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৪৫৮.
দানশীলতার জন্য কাকে লাখবক্স বলা হয়?
  1. সুলতান নাসির উদ্দিন
  2. শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. মুহাম্মদ ঘুরী
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
•সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক:  
- সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক হলেন মুহাম্মদ ঘুরীর ক্রীতদাস। 
- তিনি দিল্লিতে মুসলীম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। 
- দানশীলতার জন্য কুতুবুদ্দিন আইবেক কে লাখবক্স বলা হত। 
- তিনি তুর্কিস্থানের অধিবাসী। 
- দিল্লির প্রথম স্বাধীন সুলতান। 
- কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- উপমহাদেশের স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ও দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা। 

⇒ অপরদিকে, 
- শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ ছিলেন কুতুবুদ্দিনের জামাতা। 
- দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা: শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ। 
- তার উপাধি ছিল সুলতান-ই-আযম। 
- ইলতুতমিশের কন্যার নাম সুলতানা রাজিয়া। 
- দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম মুসলিম নারী সুলতানা রাজিয়া।
- সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমদ শাহ ছিলেন ইলতুৎমিশের পুত্র।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র , এইচ এস এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৫৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ১৯ আগস্ট, ১৯৭১
  2. খ) ২০ আগস্ট, ১৯৭১
  3. গ) ২১ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ঘ) ২২ আগস্ট, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ আগস্ট, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। 
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬,৪৬০.
ইবনে বতুতা কার শাসনামলে বাংলায় সফর করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। 
- তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মে বাংলার অভ্যন্তরীণ অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটলে বাংলার সুনাম এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
- তাঁর সময়ে বাংলার সীমানা চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হলে বাংলার গৌরব উজ্জ্বলতর হয়।
- তাই ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬১.
রাজা পঞ্চম জর্জ কোথায় বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন?
  1. দিল্লিতে
  2. লন্ডনে
  3. ঢাকায়
  4. কলকাতায়
সঠিক উত্তর:
দিল্লিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিল্লিতে
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গের পটভূমি:
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে এর বাস্তবায়ন হয়।
- এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদাহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ।
- এই প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী করা হয় কোলকাতাকে।

বঙ্গভঙ্গ রদ:
- বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
- অপর দিকে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬২.
কোন শাসনামলে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. গুপ্ত শাসন
  2. সেন শাসন
  3. হাবশী শাসন
  4. পাল শাসন
সঠিক উত্তর:
পাল শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল শাসন
ব্যাখ্যা
- পাল শাসনামলে দ্বিতীয় মহীপালের সময়ে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অন্ত:কলহের সময় বাংলায় এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা `কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- কৈবর্ত হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি জেলে সম্প্রদায়। ১০৮০ সালে দিব্য এর নেতৃত্বে কৈবর্তরা বরেন্দ্র অঞ্চলে পালদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে।
- তবে কৈবর্ত শাসন ছিলো স্বল্পস্থায়ী। ১০৮২ সালে দ্বিতীয় মহীপালের ভাই রামপাল কৈবর্ত শাসক ভীমকে পরাজিত করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৬,৪৬৩.
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ধর্মঘট পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ২৯শে ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ই মার্চ
  3. ২৬শে ফেব্রুয়ারি
  4. ৯ই মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই মার্চ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালের প্রথম থেকেই শিক্ষিত বাঙালি সমাজ বাংলা ভাষার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন
- তিনি বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- কিন্তু, মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঢাকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
- ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,৪৬৪.
কোন মুঘল সম্রাট তার শাসনকালে বাংলায় প্রতিষ্ঠা লাভে ব্যর্থ হয়েছিল?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
আফগান নেতা শের শাহ হুমায়ুনের রাজত্বকালে ১৫৩৭ সালে দুইবার বাংলা আক্রমন করেন। পরবর্তীতে হুমায়ুন শের খানকে বাংলা থেকে বিতারিত করে রাজধানী গৌড়ে ৬ মাস অবস্থান করেন। পরে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে দিল্লী যাত্রা করেন। চৌসা পৌছালে অপ্রস্তুত হুমায়ুনের বাহিনীকে শের খান এই সময় আক্রমণ ও পরাজিত করে (১৫৩৯)। যুদ্ধে জয়লাভ করে শের খান নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষনা করেন। ১৫৪০ সালে বাংলায় মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলী খানকে পরাজিত করে শের খান বাংলা দখল করে নেন। এই বছরেই কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন কে চুড়ান্ত রূপে পরাজিত করে শের খান দিল্লীর সিংহাসন দখল করে নেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬,৪৬৫.
আগরতলা পরিকল্পনা ফাঁসকারী কে?
  1. ক) শামসুল আলম
  2. খ) টি. এইচ. খান
  3. গ) মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. ঘ) আমীর হোসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমীর হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমীর হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে।
স্বাধীনতার পরিকল্পনা ফাঁস করেন- পাকিস্তান ইন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদস্য আমির হোসেন। এই মামলার দ্বিতীয় প্রধান আসামি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (তিনি আগরতলা পরিকল্পনার প্রধান নেতা)।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মোট আসামি ছিল ৩৫ জন। এই মামলা প্রত্যাহার করা হয় ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে।
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৬,৪৬৬.
নিচের কোনটি ‍মুক্তিবাহিনীর ব্রিগেড ছিল না?
  1. জেড ফোর্স
  2. এস ফোর্স
  3. কে ফোর্স
  4. এন ফোর্স
সঠিক উত্তর:
এন ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন ফোর্স
ব্যাখ্যা

• নিচের কোনটি ‍মুক্তিবাহিনীর ব্রিগেড ছিল না- এন ফোর্স।

• জেড ফোর্স:

- জেড ফোর্স  নামে পরিচিত মুক্তিবাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘জেড’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

•এস ফোর্স:
‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন সফিউল্লাহ।

• কে ফোর্স:
 -‘কে ফোর্স’ ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
- এই ব্রিগেডের কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর ‘কে’ অনুসারে ব্রিগেডটির নামকরণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৬৭.
একাডেমি কত সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইমেলা আয়োজন করে আসছে?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৭
  3. ১৯৭৮
  4. ১৯৮৩
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৩
ব্যাখ্যা
বইমেলা:

- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগকে জাগরূক রাখতে এই মেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।
- সে কারণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস ধরে এর আয়োজন।  
- ১৯৭২ সালের ৮  ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বটতলায় কলকাতা থেকে আনা নিজের প্রকাশিত কিছু বই নিয়ে মেলার সূচনা করেন।
- ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত স্বল্পপরিসরে মেলা চলতে থাকে।
- ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক  বাংলা একাডেমিকে বইমেলার সঙ্গে সমন্বিত করেন।
- ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কাজী মনজুরে মওলা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইমেলার আয়োজনের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কিন্তু এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তোড়ে সে বছর মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৮৪ সাল থেকে পুরো উদ্যমে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
- বাংলা একাডেমি চত্বরে জায়গা না হওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক জনকন্ঠ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
৬,৪৬৮.
ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম গোল টেবিল বৈঠক কত খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯২৯ সালে
  2. খ) ১৯৩০ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম গোলটেবিল বৈঠক:
- গোল টেবিল বৈঠকের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর
- অধিবেশনে বৃটেনের রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে ১৬, ভারতীয় রাজন্যবর্গের পক্ষে ১৩ এবং বৃটিশ শাসিত ভারত থেকে ৫৭ জন সহ সর্বমোট ৮৯ জন সদস্য যোগ দেন।
- কংগ্রেস এ অধিবেশনে যোগ দেয় নি।
- উপস্থিত ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুন্নত সম্প্রদায়ের নেতা ড. আম্বেদকার, মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ এবং তেজ বাহাদুর সাপ্রু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে মেকডোনাল্ড এ বৈঠকে কতগুলো সংবিধানিক প্রস্তাব দেন; তার মধ্যে
১. ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার গঠন,
২ - প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার এবং
৩. কেন্দ্রে আংশিক দায়িত্বশীল সরকার গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো অন্যতম। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬৯.
বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী কোথায় নির্ধারণ করা হয়?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
  5. মালদাহ 
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ ও নতুন প্রদেশ সৃষ্টি:
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ করা হয়।
- প্রধানত প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সেই সাথে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করেন। 
- পূর্ব বঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের সাথে জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা, মালদাহ ও আসামকে যুক্ত করে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নতুন প্রদেশের আয়তন দাঁড়ায় ১০৬,৫৪০ বর্গমাইল।
- জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ।
- এর মধ্যে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ছিল মুসলমান।
- নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং অনুসঙ্গী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে।

অন্য দিকে -
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে আরেকটি প্রদেশ হয়।
- এর নামকরণ করা হয় বাংলা প্রদেশ।
- বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতা।

উল্লেখ্য,
- নতুন প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা কার্জনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
- অন্যদিকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
- কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে একটি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- শেষ পর্যন্ত সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,৪৭০.
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. আগস্ট বিপ্লব
  2. জুলাই বিপ্লব
  3. নভেম্বর বিপ্লব
  4. অক্টোবর বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল (১৯৫৮):
- পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দর মির্জা ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
- গণতন্ত্র ধ্বংসে তাঁর অপতৎপরতার অন্যতম সহযোগী ছিলেন প্রধান সেনাপতি আইয়ুব খান।
- কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাঁর একান্ত পার্শ্বচর আইয়ুব খানের হাতেই তাঁর ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে।
- সামরিক শাসন জারির ২১ দিন পরেই আইয়ুব খান ইস্কান্দর মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন।
- ১৯৫৮ সালের ২৭ আক্টোবর আইয়ুব খান নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- একই সংগে তিনি প্রধান সেনাপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে বহাল থাকেন।
- আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতা দখলকে অক্টোবর বিপ্লব বলে আখ্যা দেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৭১.
মহাখালী ফ্লাইওভারে কতটি স্প্যান আছে?
  1. ক) ১৭টি
  2. খ) ১৮টি
  3. গ) ১৯টি
  4. ঘ) ২১টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯টি
ব্যাখ্যা
- নির্মাণ সমাপ্তির দিক থেকে মহাখালী ফ্লাইওভার দেশের প্রথম ফ্লাইওভার।
- মহাখালী ফ্লাইওভার উদ্ধোধন করা হয় ৪ নভেম্বর ২০০৪ ।
- দৈর্ঘ্য ১০১২ মিটার, প্রস্থ ১৭.৯ মিটার, মোট পাইল ১৮ টি, মোট স্প্যান ১৯ টি ।
- এর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ফাস্ট মেটার্লজিক্যাল কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৪৭২.
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি বংশের শাসনামল ছিলো সবচেয়ে গৌরবময়। ১৪৯৩ সালে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এই বংশের শাসনামলের সূচনা করেন।
- তিনি ১৪৯৩ সাল থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলা শাসন করেন। তাকে হুসেন শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান বিবেচনা করা হয়।
- হাবসি শাসনে বিপর্যস্ত বাংলায় তিনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত হুসেন শাহি বংশ বাংলা শাসন করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৪৭৩.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ এর কথক ছিলেন কে?
  1. এম আর আখতার হামিদ
  2. কামাল লোহানী
  3. এম আর আখতার মুকুল
  4. আবদুল হান্নান
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
• এম. আর আখতার মুকুল(১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

• এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
- রূপালী বাতাস (১৯৭২),
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
- মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬),
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫),। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৪৭৪.
১৯৪৭ সালে ‘বৃহত্তর বাংলা বা স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা’ রাষ্ট্রের পক্ষে কোন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) বাংলা চুক্তি
  2. খ) লাহোর চুক্তি
  3. গ) বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি
  4. ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস ‘বসু-সােহরাওয়ার্দী’ প্রস্তাব নামে খ্যাত।
১৯৪৭ সালের ২০শে মে কোলকাতায় স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের পক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যা বসু-সােহরাওয়ার্দী চুক্তি নামে পরিচিত।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৪৭৫.
তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি কিসের সাথে জড়িত?
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. শাসনতন্ত্র আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:
- ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়।
- তৎকালীন পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়।
- পাকিস্তান নামক এই নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- তমুদ্দিন মজলিস সংগঠনটি ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬,৪৭৬.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. লুৎফর রহমান
  2. হামিদুর রহমান
  3. পাভেল রহমান
  4. আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের স্থপতি।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৬,৪৭৭.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক কে?
  1. ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  2. সাইমন ড্রিং
  3. উভয়েই
  4. কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বীর প্রতীক ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড 
- ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমষ্টারডাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি হলেন একমাত্র বিদেশি নাগরিক যিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত হন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কমান্ডো হিসেবে তিনি ছিলেন অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীরপ্রতীক' সম্মাননায় ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
- ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ৮৪ বছর বয়সে বীরপ্রতীক উইলিয়াম আব্রাহাম সাইমন ঔডারল্যান্ড মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার। 
৬,৪৭৮.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে গণহত্যা চালায় তার নাম কী ছিল?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন নীলনকশা
  3. অপারেশন সার্চলাইট
  4. অপারেশন ব্লাক বার্ড
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা
২৫শে মার্চের গণহত্যা:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'।

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট',
- ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ অভিযান পরিচালনা করে।
- এই অভিযানে দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর-চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর-চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে অপারেশন চালানো হয়েছিল।


সূত্র: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
       ¡¡) বিবিসি বাংলা।
৬,৪৭৯.
তাজিংডং পর্বত কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. লামা
  2. নাইক্ষ্যংছড়ি
  3. আলীকদম
  4. রুমা
সঠিক উত্তর:
রুমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুমা
ব্যাখ্যা

তাজিংডং:
- স্থানীয় উপজাতীয়দের ভাষায় ‘তাজিং’ শব্দের অর্থ বড় এবং ‘ডং’ শব্দের অর্থ পাহাড়।
- এই দুটি শব্দ থেকে তাজিংডং পর্বতের নামকরণ।
- সরকারিভাবে তাজিংডং বিজয় পর্বত।
- তাজিংডং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত।
- এটি বান্দরবান থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং রুমা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে।
- তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা এক হাজার ২৮০ মিটার (৪১৯৮.৪ ফুট)।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬,৪৮০.
বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস কোন তারিখে পালিত হয়? 
  1. ১২ মে
  2. ১৬ জুলাই 
  3. ১৭ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ নভেম্বর 
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা দিবস:
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য একটি কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন,যা ৫ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে কার্যকর হয়। 
- কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফ।
- পূর্ব পাকিস্তানের চারজন সদস্যসহ মোট ১১ জনের এই কমিশনকে জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত কমিশন বা “শরিফ কমিশন” বলা হয়।
- ২৬ আগস্ট ১৯৫৯ কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদনে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এবং বলা হয় যে জনগণের ঐতিহ্যগত শিক্ষা চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হবে। 
- এছাড়াও বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে রোমান বর্ণমালা, উর্দু ভাষা প্রয়োগ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইংরেজি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
- প্রতিবেদনের বিরোধিতায় পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে।
- ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল এবং অনেক অজ্ঞাতনামা ছাত্র।
- তাদের স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক)। 

৬,৪৮১.
নিচের কোন দুইজন খেতাবধারী মহিলা মুক্তিযোদ্ধা?
  1. ক) ক্যাপ্টেন হালিমা ও তারামন বিবি।
  2. খ) ক্যাপ্টেন সুফিয়া বেগম ও পরিজন বিবি
  3. গ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও জাহানারা বেগম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
৬,৪৮২.
সারা দেশে বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ভাতা চালু করা হয় -
  1. ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে
  2. ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে
  3. ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে
  4. ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে
ব্যাখ্যা
বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ভাতা
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে  ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন  করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
- ২০১৩ সালে প্রণীত বাস্তবায়ন নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগীকরণ, অধিক সংখ্যক মহিলাকে ভাতা কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে মহিলাদের বয়স ৬৫ বছর থেকে কমিয়ে ৬২ বছর নির্ধারণ, উপকারভোগী নির্বাচনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ এবং ডাটাবেইজ প্রণয়ন।

উৎস: সমাজসেবা অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৬,৪৮৩.
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আসন ছিল কোনটি?
  1. ঢাকা-১২
  2. ঢাকা-১৮
  3. গোপালগঞ্জ-১
  4. গোপালগঞ্জ-৭
সঠিক উত্তর:
ঢাকা-১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা-১২
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি তে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ।
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।
- পরে মুহম্মদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে আবদুল মালেক উকিল স্পিকার নির্বাচিত হন।
 
উল্লেখ্য,
- ২য় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হয়।
- সেবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি।
- ঐ সংসদেই প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নারী সাংসদ সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ খুলনা-১৪ থেকে নির্বাচিত হন।
- প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২ এপ্রিল।
- জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৮৪.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. শ্যাম বেনেগাল
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পলাশী থেকে ধানমন্ডি:
- ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ একটি মঞ্চ নাটক।
- প্রথম অভিনীত হয় ২০০৪ সালের মার্চ মাসে।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্যচিত্র। 
- এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল গাফফার চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তার ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর রচয়িতা।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত ‘কংগ্রেস হিতৈষী’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
- ১৯৪৯ সালে সওগাত পত্রিকায় আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম গল্প ছাপা হয়। 
- ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের ‘মাসিক সওগাত’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন গাফফার চৌধুরী। 
- ১৯৫৮ সালে আবদুল গাফফার চৌধুরী দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার রাজনৈতিক পত্রিকা ‘চাবুকে’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৮৫.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির রচয়িতা কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আবদুল লতিফ
  3. আপেল মাহমুদ
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৬,৪৮৬.
জুলাই ঘোষণাপত্রে মোট কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. ২৪টি
  2. ২৬টি
  3. ২৮টি
  4. ৩০টি
সঠিক উত্তর:
২৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৮টি
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-  ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল।
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে র ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন।

⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো।

৬,৪৮৭.
সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
ক) কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীন ৫ টি গবেষণা কেন্দ্র ও ৫ টি উপকেন্দ্র রয়েছে। ৫টি গবেষনা কেন্দ্র হলো-
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র অবস্থিত কক্সবাজারে
- ময়মনসিংহে অবস্থিত স্বাদু পানি কেন্দ্র
- চাঁদপুরে অবস্থিত নদী কেন্দ্র
- খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত লোনা পানি কেন্দ্র
- বাগেরহাটে অবস্থিত চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র। 
- নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৪৮৮.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন কতজন? 
  1. ক) ৪ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ১০ জন
  4. ঘ) ৮ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ জন
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৬,৪৮৯.
বাংলাদেশে অবস্থিত কাফকো কোন রাষ্ট্রের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) নেদারল্যান্ডস
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) একটি 100% রপ্তানিমুখী আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি।
- বাংলাদেশ, জাপান, ডেনমার্ক এবং নেদারল্যান্ডসের সরকার এবং বেসরকারি খাতের শেয়ারহোল্ডিং এবং সহায়তায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত, কাফকো বাংলাদেশের বৃহত্তম যৌথ উদ্যোগ বিনিয়োগ।
- কাফকো বিশ্বের অনেক দেশে তার পণ্য বাজারজাত করে।
- KAFCO কমপ্লেক্স উচ্চ-গ্রেডের দানাদার ইউরিয়া এবং অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া তৈরি করে।
- কাফকো প্ল্যান্টটি চট্টগ্রামের রাঙ্গাদিয়া, তে অবস্থিত।
- কাফকোর কর্পোরেট অফিস বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।

উৎস: KAFCO ওয়েবসাইট।
৬,৪৯০.
তিন বিঘা করিডোর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. মহানন্দা
  2. তিস্তা
  3. আত্রাই
  4. ধরলা
সঠিক উত্তর:
তিস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিস্তা
ব্যাখ্যা
তিন বিঘা করিডোর: 
- তিন বিঘা করিডোর হলো ভারতের মালিকানাধীন তিন বিঘা জমির মধ্যে অবস্থিত একটি স্বতন্ত্র ভূমি।
- এই তিন বিঘা করিডর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমা ও বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত।
- ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয়.
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।
- তিন বিঘা করিডোর তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৪৯১.
পূর্ব পাকিস্তানের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না তা কোন সময়ে প্রমাণিত হয়?
  1. যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে
  2. পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি
  3. ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ
  4. ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উপেক্ষার নীতি:
- ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত।
- পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা যে কতটা দুর্বল ছিল তা এই যুদ্ধের সময় স্পষ্ট হয়ে যায়
- যুদ্ধের সতেরো দিন প্রশাসনিক দিক দিয়েও এই প্রদেশ কেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
- তখন পূর্ব পাকিস্তানের কোন প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না।
- এই যুদ্ধে প্রমাণিত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না।
- এই অবস্থা পূর্ব পাকিস্তান স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে আরও জোরদার করে।
- ফলে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি, যা দেশভাগের সময় থেকেই উচ্চারিত হচ্ছিল, পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর আরো তা জোরদার হয়। 

- যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে, পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির সময় বা ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এর সময় পূর্ব পাকিস্তান এরকম অরক্ষিত ছিল না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৯২.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করে -
  1. Bangla Academy
  2. Mother Language Lover of the World
  3. Asiatic Society of Bangladesh
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
Mother Language Lover of the World
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mother Language Lover of the World
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়:
- আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার-এ বসবাসরত Mother Language Lover of the World নামের একটি বহুভাষী ও বহুজাতিক ভাষাপ্রেমী গ্রুপ ১৯৯৮ সালের ২৮ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন।
- জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ২৭ ধারার উপর ভিত্তি করে তারা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীকে মাতৃভাষা ব্যবহার না করার জন্য, মাতৃভাষা ভুলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে; বল প্রয়োগ করা হচ্ছে।
- যা 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ'-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
- পত্রে তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য বাঙালির ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পটভূমি তুলে ধরেন যা সারাপৃথিবী জুড়ে অনন্য।
- তারা ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানান যাতে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী তাদের মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য একটি বিশেষ দিবস পাবে।
- এ আবেদনে বিভিন্ন ভাষাভাষী ১০ জন স্বাক্ষর করেন।
- ইউনেস্কো তথা জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রস্তাবটি মেনে নেয়।
- ২৮টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রস্তাবে লিখিতভাবে সমর্থন জানায় এবং Draft Resolution-35 হিসেবে চিহ্নিত করে এক্সিকিউটিভ বোর্ডে প্রেরণ করে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৯৩.
বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা' কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘােষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪
  2. খ) ২২ মার্চ ১৯৫৮
  3. গ) ২০ এপ্রিল ১৯৬২
  4. ঘ) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত। ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯৪.
'কৃষ্ণাবতার' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন শাসককে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. সিকান্দর শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সালাউদ্দিন আলী শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৯৫.
কে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করেন?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  3. সুবাদার ইসলাম খান
  4. নবাব শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
ব্যাখ্যা
• নবাব মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা  থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।

ইসলাম খান:
- ইসলাম খান পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুঘল সুবাদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- তিনি বাংলার প্রথম সুবাদার ছিলেন।

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯৬.
কোন আইন সংস্কার করে 'র‍্যাব' (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়?
  1. ডিএমপি অ্যাক্ট ১৯৭৬
  2. ডিবি পুলিশ অ্যাক্ট ১৯৮৩
  3. র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট ২০০৩
  4. আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট ১৯৭৯
সঠিক উত্তর:
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট ১৯৭৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অ্যাক্ট ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
• Rapid Action Battalion 'র‍্যাব':
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-এ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৩ সালে  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion) গঠন করা হয়।
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ,১৯৭৯-র ২০০৪-এ সংশোধন করা কতিপয়  বিধানের আওতায় গঠিত ও পরিচালিত হয়  ‘র‌্যাব’ (Rapid Action Battalion)।
- র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)  সরকার ২০০১ সাল পরবর্তী সময় থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্র্মবর্ধমান অবনতি রোধকল্পে গুরুতর অপরাধীসহ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের চিন্তাভাবনা করছিল। এ সংক্রা্ন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ২০০৩ সালে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। 

উৎস: প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৪৯৭.
নিচের কোন অঞ্চলটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. বগুড়া
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৯৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ১৯৭১ সালের কত তারিখে?
  1. ২ মার্চ
  2. ৫ মার্চ
  3. ৭ মার্চ
  4. ৯ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ
ব্যাখ্যা
• মার্চের অসহযোগ আন্দোলন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই ২ মার্চ ছাত্র সংগঠনগুলি ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিততে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতাহার ঘোষণা করে।
- এতে ‘বাংলাদেশ' নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এর তিনটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। [লিঙ্ক]
৬,৪৯৯.
কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
  1. ক) সিপাহী মোস্তফা কামাল
  2. খ) ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
  3. গ) ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ
  4. ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

মিরপুরে অবস্থিত বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠকে বর্তমানে সমাহিত করা হয়েছে।
তারা হলেন -
১. বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মতিউর রহমান
২. বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।

বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমানঃ
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, ঝিনাইদহ জেলা শহরের অদুরে কালিগঞ্জের খদ্দখালিশপুর গ্রামে।
- বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৭১ সনে আনসার বাহিনীতে অল্প সময়ের জন্য চাকুরী করেন এবং ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭১ খ্রি: তৎকালীন সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ১ ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। সাহসী এ সৈনিক মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।
- ১৯৭১ সনের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে মৌলভীবাজার জেলাস্থ কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান বিস্তৃত ধলই সীমান্ত চৌকিতে হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাহিনীকে পরাস্থ করার উদ্দেশ্যে সহযোদ্ধাসহ তিনি সশস্ত্র আক্রমন চালান। ধলই সীমান্তে শত্রু সেনা চৌকির সন্মুখ যুদ্ধে অমিত সাহসে চৌকির ৫০ গজের মধ্যে পৌছেঁ যান এবং বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে উক্ত সীমান্ত চৌকি ও সংলগ্ন এলাকা মুক্ত করেন এবং সেখানেই শত্রু সেনার বুলেট বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানকে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সালে শহীদ হন। তাকে প্রথমে পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমান বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৫০০.
নিচের কোন সংগঠন ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন
  2. খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ
  4. ঘ) জাতীয় ছাত্র ফেডারেশন
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্র“প), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্র“প), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইয়ূব বিরোধী ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে।
- আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। 
- এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছিলো।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।