বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৪ / ১২৪ · ৫,৩০১৫,৪০০ / ১২,৪২১

৫,৩০১.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে।
- ৭ মে ১৯৫৪ অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহীদ দিবস ঘোষণা করে।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
- সংবিধান প্রণয়নের আগে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেলউদ্দিন আহমেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিল উত্থাপন করেন।
- উক্ত বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া বাংলার ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় ও দীর্ঘ সংগ্রামের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৩০২.
ছয় দফা দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ৪ জুন
  2. ৫ জুন
  3. ৬ জুন
  4. ৭ জুন
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩০৩.
ওয়ারী বটেশ্বর কিসের জন্য প্রসিদ্ধ?
  1. ক) মন্দির
  2. খ) প্রত্নস্থান
  3. গ) প্রাচীন বিহার
  4. ঘ) মসজিদ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
ব্যাখ্যা
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায় উয়ারি ও বটেশ্বর নামের দুটি গ্রামে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব আনুমানিক ২৫০০ বছর আগেরকার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ১৯৩০ সালে একজন স্কুল শিক্ষক কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়। ১৯৯৬ সালে জরিপ কাজ শেষে ২০০০ সাল থেকে এখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নিয়মিত খনন কাজ শুরু করে।
(সূত্র: নরসিংদী জেলার সরকারি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৫,৩০৪.
সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কত সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

জেনারেল এরশাদ:
- রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তিনি তখন সেনাবাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেই তিনি দেশে সামরিক আইন জারি করেন।

⇒ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নেন জেনারেল এরশাদ। 
- তিনি সামরিক ফরমান জারি করার পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বাতিল করেন এবং স্থগিত করেন সংবিধানের কার্যকারিতা।
- জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে থাকেন। নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।
- কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যায়। 
- ধীরে ধীরে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
- গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর জেনারেল এরশাদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
- প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

উৎস: i) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
ii) প্রথম আলো।

৫,৩০৫.
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?
  1. ১৭৫৮ সালে
  2. ১৭৬২ সালে
  3. ১৭৭৮ সালে
  4. ১৭৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
পিটের ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রিঃ):
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে 'পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়।
- গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।
- সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি সাগর বঙ্গোপসাগর ইংরাজী সাইন ভারতবর্ষ, ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় 'সিক্রেট কমিটি'ও গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩০৬.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামি মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে কত সালে?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩০৭.
পলাশির যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. নদীয়া
  3. ভাগীরথী নদীর তীরে
  4. হুগলির তীরে
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী নদীর তীরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগীরথী নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
পলাশির যুদ্ধ: 
- পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন।
- ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আমবাগানে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

- রবার্ট ক্লাইভ তার অবস্থান সুদৃঢ় করে সন্ধি ভঙ্গের অজুহাতে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৮.
In which year was Bangladesh Primary Education Act enacted?
  1. in 1973
  2. in 1974
  3. in 1990
  4. in 1991
  5. in 1992
সঠিক উত্তর:
in 1990
উত্তর
সঠিক উত্তর:
in 1990
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।
- ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৫,৩০৯.
গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. ক) সুলতান সিকান্দার শাহ
  2. খ) ফখরুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
• হোসেন শাহী বংশ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন। তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন। যে কারণে তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।

- আলাউদ্দীন হুসেন শাহের রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
- ড. আবু মুহাম্মদ হবিবুল্লাহ-এর মতে মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩১০.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) এম হোসেন আলী
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১১.
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. নাহিদ ইসলাম
  2. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
  3. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  4. আসিফ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র- জুলাই ঘোষণাপত্র।

৫,৩১২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত হয় কত নং সেক্টর?
  1. ৩নং সেক্টর
  2. ৪নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ২নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টরঃ
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৩.
'ধোলাই খাল' কে খনন করেন?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) শেরশাহ
  3. গ) ঈশা খান
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ধোলাই খাল
- এটি পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক আবাসিক এলাকা।
- তৎকালীন ঢাকার প্রধান জলপথ ও নগর রক্ষা পরিখা ছিল এ ধোলাই খাল।
- নগর রক্ষার পরিখা নির্মাণ ও জলপথ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঢাকার প্রথম সুবেদার ইসলাম খান ধোলাই খাল খনন করিয়েছিলেন।
- অতীতে ধোলাই খাল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ঐতিহাসিক  লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল ও  বড় কাটরা এবং ছোট কাটরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এর চারপাশে গড়ে ওঠে।
- খালটি শহরকে সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে খনন করা হয়। 
- ১৮৩২ সালে মি. ওয়াল্টার নামে ঢাকার একজন কালেক্টর নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধার্থে খালটির উপর একক স্প্যানের একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন।
- এটি ছিল সে সময়ের প্রকৌশল সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
- ১৮৬৭ সালে খালে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আরোপ করা হয়।
- সময়ের বিবর্তনে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ববহ জলপথটি পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে নিক্ষিপ্ত ময়লা-আবর্জনা দিয়ে স্থানে স্থানে ভরাট হয়ে যায়।
- খালটির কিছু অংশ এখনও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দেখা যায়।
- কিন্তু পুরানো ঢাকায় এটিকে একটি ভূগর্ভস্থ নর্দমায় রূপান্তর করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩১৪.
বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৫,৩১৫.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মোট কত শতাংশ ভোট  লাভ করে?  
  1. ৭৪.৬০%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৭৫.১০%
  4. ৭৫.৮০%
সঠিক উত্তর:
৭৫.১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫.১০%
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল:

• ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
• সংরক্ষিত ৭ টি মহিলা আসন বাদে জাতীয় পরিষদে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে আওয়ামী লীগ।  
• অপরদিকে সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৯ আসনের মধ্যে মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
• বাকি ২টি আসনের ১টি পায় পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির নূরুল আমিন), তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
অপরটি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে)।
• আবার পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 
মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩১৬.
মুজিবনগর সরকার শপথ নেয় -
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩১৭.
‍মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’-এর পরিচালক কে?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) নারায়ণ ঘোষ মিতা
  4. ঘ) নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু
সঠিক উত্তর:
খ) আলমগীর কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’-এর পরিচালক আলমগীর কবির। তিনি রূপালী সৈকত নামে আরও একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন।
এছাড়া হুমায়ুন আহমেদ ‘আগুনের পরশমনি’ এবং ‘শ্যামল ছায়া’ নামক দু’টি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জননন্দিত চলচ্চিত্রের পরিচালক, নারায়ণ ঘোষ মিতা ‘আলোর মিছিল’ নামক এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ‘একাত্তরের যীশু’ এবং ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক।
সূত্র : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩১৮.
ছয় দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় -
  1. ১২ মার্চ, ১৯৬৬
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলার কারণ - এটি বাঙালির ন্যায্য অধিকারের সনদ।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা,
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১'।
৫,৩১৯.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) পাট
  3. গ) চা
  4. ঘ) গম
সঠিক উত্তর:
খ) পাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাট
ব্যাখ্যা
• পাট:
- সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ।
- বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ পাট থেকে উৎপাদিত সোনালী আঁশের দেশ হিসেবে পরিচিত।
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- সারা বিশ্বে আঁশ উৎপাদনকারী ফসল হিসেবে তুলার পরেই পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসল দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
- একটি কাঁচা পাটের গাঁইটের ওজন সাড়ে তিন মণ।
- বাংলাদেশের যে জেলায় সবচেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হয়— ফরিদপুর জেলায় । 
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা— ১৯৭৪ সালে ।
- পাট উৎপাদনের বিশ্বে প্রথম দেশ- ভারত (২য় শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ)।
- জুটন আবিস্কার করেন— ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকউল্লাহ । 
- আন্তর্জাতিক পাট সংস্থা (IJO) প্রতিষ্ঠিত হয়— ১৯৮৪ সালে।
- সদর দপ্তর ফার্মগেট, ঢাকা (প্রতিষ্ঠা ২৭ এপ্রিল ২০০২)। 
- বাংলাদেশে উৎপন্ন কিছু উন্নত জাতের গম— অগ্রণী, আনন্দ, আকবর, কাঞ্চন, দোয়েল, বরকত।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৫,৩২০.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন কে জারি করেন?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. জিয়াউল হক
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩২১.
ঢাকার শেষ নবাব কে ছিলেন?
  1. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:

- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতাছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।
৫,৩২২.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে জনসংহতি সমিতির পক্ষে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. ক) মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
  2. খ) সাচিং প্রু জেরি
  3. গ) মনির স্বপন দেওয়ান
  4. ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন।
- এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিসি বাংলা)
৫,৩২৩.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় 'ঢাকা' কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টরে
  3. ৪ নং সেক্টরে
  4. ৮ নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩২৪.
মুক্তিবাহিনীর অন্যতম গেরিলা দল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ১০নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২ নং সেক্টর ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যার অধীনে ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো।
- এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং তার অধীনেই ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়।
- এই দলের সদস্যরা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং সুসংগঠিত।
- তারা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অপারেশন পরিচালনা করত এবং বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাত।
- বিশেষ করে, এই দলটি ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মনোবল ধ্বংস করেছিল।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩২৫.
৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) লাহোর
  3. গ) দিল্লি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
ব্যাখ্যা
পশ্চিম পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা তাসখন্দ-উত্তর রাজনীতির গতিধারা নিরূপণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে এক জাতীয় সম্মেলন আহবান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন। পরদিন সাবজেক্ট কমিটির সভায় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দাবি হিসেবে ‘ছয়দফা’ প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা সম্মেলনের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। [উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
৫,৩২৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা কতবার বাংলার রাজধানী ছিল?
  1. ২ বার
  2. ৩ বার
  3. ৪ বার
  4. ৫ বার
সঠিক উত্তর:
৪ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বার
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল চারবার।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। 
- ১৬৫০ সালে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ সালে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
-  ১৭১৭ সালে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।

সর্বশেষ -
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৫,৩২৭.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটির বাংলা তারিখ ছিল -
  1. ৭ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  2. ৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  3. ৯ ফাল্গুন, ১৩৫৮
  4. ১০ ফাল্গুন, ১৩৫৮
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩২৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. আকরাম খান কমিশন
  2. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  3. সামসুল হক কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

 কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন-১৯৭২:
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন।
- দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী কুদরত-ই-খুদা-কে প্রধান করে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন ১৯৭২ সালে গঠন করা হয়।
- এই কমিশন ১৯৭২ সালে তাদের রির্পোট দাখিল করে।
- দেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে এই রির্পোট প্রণয়ন করা হয়।
- এই কমিশনের সুপারিশের আলোকে জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং সিলেবাস প্রণয়নের জন্য দেশের ৪৭ জন সুনামধন্য শিক্ষাবিদকে নিয়ে প্রফেসর সামছুল হুদা কে প্রধান করে ১৯৭৬ সালে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটি ১৯৭৬, ১৯৭৭ এবং ১৯৮৮ সালে মোট ৭টি ভলিউমে  রির্পোট সরকারের নিকট দাখিল করে।

তথ্যসূত্র - শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫,৩২৯.
পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম দাবি উত্থাপন করেন- 
  1. আবুল কাসেম
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৩০.
ফারাক্কা বাঁধ কোন নদীর উপর নির্মিত?
  1. যমুনা
  2. গঙ্গা
  3. তিস্তা
  4. ব্রহ্মপুত্র
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা বাঁধ:
- ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর উপর অবস্থিত একটি বাঁধ।
- ভারতের হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ এবং কলকাতা বন্দরটি সচল করার জন্য ১৯৭৪ সালে এই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
- যার অবস্থান বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে ভারতের ভূখণ্ডে গঙ্গা নদীর ওপরে।
- ১৯৬১ সালে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
- শেষ হয় ১৯৭৫ সালে।
- সেই বছর ২১ এপ্রিল থেকে বাঁধ চালু হয়।
- বাঁধটিতে মোট ১০৯টি গেট রয়েছে।
- ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমতে থাকার প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়।

উৎস: ১ অক্টোবর ২০১৯, বিবিসি বাংলা নিউজ।
৫,৩৩১.
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
  2. ১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
  3. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ মার্চ 
ব্যাখ্যা

• 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালে   ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

• ’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৩২.
স্বাধীনতাযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমান কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১ নং 
  2. ২ নং 
  3. ৮ নং 
  4. ১১ নং 
সঠিক উত্তর:
১ নং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
⇒ ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম। 

⇒ ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।

⇒ ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। 

⇒ ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।

⇒ ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী। 

⇒ ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার। 

⇒ ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান। 

⇒ ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।

⇒ ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল।

⇒ ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৩৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  2. গনিত
  3. ইংরেজি
  4. অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
গনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গনিত
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন। 

উৎস: প্রথম আলো।

৫,৩৩৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ উপাধি লাভ করে কতজন?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৭০ জন
  4. ৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৩৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কবে প্রবর্তন করা হয়?
  1. ১৮৯৩ সালে
  2. ১৮০৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৭৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৭৯৩ সালের  লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:

- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৩৬.
অপারেশন সার্চলাইটের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন কে?
  1. ক) রাও ফরমান আলী খান
  2. খ) জেনারেল আবদুল হামিদ খান
  3. গ) জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  4. ঘ) জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা 
• পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
• পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
• ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
• এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।এবং
• ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
• এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জেনারেল টিক্কা খান

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
৫,৩৩৭.
Bir Shrestha Flight Lieutenant Matiur Rahman martyred while hijacking which aircraft?
  1. ক) A-44
  2. খ) T-33
  3. গ) T-44
  4. ঘ) X-22
সঠিক উত্তর:
খ) T-33
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) T-33
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান:

- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান টি-৩৩ বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন
- “টি-৩৩” বিমানটির ছদ্মনাম ছিলো - ব্লু বার্ড
- ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে তিনি বিমানটি ছিনতাই করেন।
- চাকুরী জীবনে তিনি এফ-৮৬ জঙ্গী বিমানের পাইলট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১ সালে।
- ১৯৬১ সালের ১৫আগস্ট ৩৬তম জিডি (পি) কোর্সে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসাবে যোগদান করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমি, রিসালপুরে।
- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৭১ সালের  ২০শে আগস্ট শহীদ হন

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,৩৩৮.
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:

- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন গঠন করেন। 
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৫,৩৩৯.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে সমগ্র পাকিস্তানকে কয়টি প্রাদেশিক পরিষদে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার এর নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- এই কমিশনের অধীনে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- এই নির্বাচনে ৫ টি প্রাদেশিক পরিষদে ২১টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৬২১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩১০ টি আসনের ( ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ ) মধ্যে ২৯৮ টিতে জয়লাভ করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৪০.
সময়ের বিবেচনায় কোন রাজনৈতিক দলটি সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
  2. খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  3. গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) জামায়াতে ইসলামী
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।

- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

 

৫,৩৪১.
’দ্বীন-ই-ইলাহী‘ ধর্ম কে প্রবর্তন করেন?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট আকবর
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

দ্বীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ।
- আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন।
- হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন।
- আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- এটিই দ্বীন-ই-ইলাহী নামে পরিচিত।
- আকবর নিজে 'ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা "সুলহ-ই-কুল"।
- প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৪২.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ' এর আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
ব্যাখ্যা

• সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে তমদ্দুন মজলিশ কর্মী এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যৌথসভায় মজলিশ কর্মী শামসুল আলমকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ’ নামে একটি নতুন কমিটি গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- তমদ্দুন মজলিশের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ১ অক্টোবর প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এ পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন মজলিশ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএসএম নূরুল হক ভূইয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৪৩.
বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলা ও আসামের নতুন প্রদেশের রাজধানী কোথায় হয়?
  1. কোলকাতা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. মুর্শিদাবাদ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"-এর রাজধানী করা হয় ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।

• ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম- ১০ম শ্রেণি। 

৫,৩৪৪.
‘হত্যাযজ্ঞ’ ও ‘চরদখল’ চিত্রকর্ম দুটি কার?
  1. ক) জয়নুল আবেদিন
  2. খ) এস এম সুলতান
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) কাইয়ুম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) এস এম সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা
‘হত্যাযজ্ঞ’ (১৯৮৭) এবং ‘চরদখল’ (১৯৮৮) চিত্রকর্ম দুটির শিল্পী হলেন এস এম সুলতান।
তার অন্যান্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
-সভ্যতার ক্রমবিকাশ
- ধান মাড়াই
- জমি কর্ষণ
- গ্রাম্য কাজিয়া
- মাঠ পরিস্কার
- ফসল সংগ্রহ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এস এম সুলতান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তার পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান।
তিনি ১৯২৩ সালে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি নড়াইলে ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’ নামে শিশুদের জন্যে দুটি চিত্রাংকন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা ট্রিবিউন)
৫,৩৪৫.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করে হয়েছিল?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ০৯ টি
  4. ঘ) ০৬ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৩৪৬.
যশোর জেলা কত তারিখে সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ৩ই ডিসেম্বর 
  2. ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ৮ই ডিসেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ও যশোর জেলা:
- ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয় যশোর জেলা।
- ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে ২-জনই বৃহত্তর যশোর জেলার কৃতি সন্তান।
- এরা হলো বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সেপাহী হামিদুর রহমান।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হল প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট।

৫,৩৪৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলার নাম কী?
  1. থানচি
  2. আলীকদম
  3. নাইক্ষ্যংছড়ি
  4. লামা
সঠিক উত্তর:
থানচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থানচি
ব্যাখ্যা

সর্ব উত্তর:
- সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান: বাংলাবান্ধা।
- সর্ব উত্তরের উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- সর্ব উত্তরের জেলা: পঞ্চগড়।

সর্ব পূর্ব:
- সর্ব পূর্বের স্থান: আখাইনঠং।
- সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা: থানচি।
- সর্ব পূর্বের জেলা: বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- সর্ব পশ্চিমের স্থান: মনাকষা।
- সর্ব পশ্চিমের উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- সর্ব পশ্চিমের জেলা: চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব দক্ষিণ:
- সর্ব দক্ষিণের স্থান: ছেড়াদ্বীপ।
- সর্ব দক্ষিণের উপজেলা: টেকনাফ।
- সর্ব দক্ষিণের জেলা: কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৫,৩৪৮.
ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয় কত তারিখ?
  1. ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  2. ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  3. ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
  4. ১৯ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৫,৩৪৯.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  2. খ) শাহজাহান সিরাজ
  3. গ) আব্দুল মান্নান
  4. ঘ) তোফায়েল আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার’ পাঠ করেন।
এই ইশতেহার ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়।
একই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ উপাধি দেওয়া হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,৩৫০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী কতটি  সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ১১টি  সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে।

• সংস্কার কমিশন: 

১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন,
২. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন,
৩. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার ,
৪. পুলিশ সংস্কার কমিশন,
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার,
৬. সংবিধান সংস্কার কমিশন,
৭. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন,
১০. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন,
১১. স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। 

উৎস: প্রধান ‍উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]

৫,৩৫১.
How many districts in Bangladesh have borders with India?
  1. 29
  2. 30
  3. 31
  4. 32
  5. 33
সঠিক উত্তর:
30
উত্তর
সঠিক উত্তর:
30
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৩৫২.
১৯৭১ সালে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারায় -
  1. ক) চিকিৎসক
  2. খ) আইনজীবী
  3. গ) সাংবাদিক
  4. ঘ) শিক্ষাবিদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষাবিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিক্ষাবিদ
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধিজীবী হত্যা  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। 
- বাঙালি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানি, আইনজীবী, শিল্পী, দার্শনিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদগণ এই সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের শিকার হন।
- জানা যায় যে, বুদ্ধিজীবী নিধনের নীলনকশা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে অন্যূন দশ জনের একটি কমিটি কর্তৃক প্রণীত হয়। 
- পরবর্তীকালে জানা যায় যে, ১৪ ডিসেম্বরের নিধনযজ্ঞ সরাসরি রাও ফরমান আলী কর্তৃক পরিচালিত হয়। 
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে ১৪ ডিসেম্বর শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। 
- সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর পরিচয় দূরের কথা, তাঁদের প্রকৃত সংখ্যাই অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। 
- প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। 
- এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৫,৩৫৩.
বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. এ.এস.এম. সায়েম
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. আবদুস সাত্তার
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

→ বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৫,৩৫৪.
বাংলাদেশে মিঠাপানির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. সমুদ্র
  2. নদী
  3. বৃষ্টি
  4. ভূ-গর্ভ
সঠিক উত্তর:
ভূ-গর্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূ-গর্ভ
ব্যাখ্যা
ভূগর্ভস্থ পানি:

- ভূ-পৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত পানি সম্পদ যা প্রধানত ভূ-পৃষ্ঠের সঞ্চয়িত পানি নিয়ে গঠিত।
- এই পানি মৃত্তিকা ও তার রন্ধ্রে সঞ্চিত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির উপরের স্তরকে বলে ভূ-জলপৃষ্ঠ (water table)।
- বাংলাদেশে মিঠাপানির প্রধান উৎস ভূগর্ভস্থ পানি।
- পৃথিবীর স্বাদুজল সম্পদের প্রায় ৩০% আসে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে।
- আহরণযোগ্য সাধু পানির প্রায় ৯৭% আসে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৫.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কয় স্তরবিশিষ্ট?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
শিক্ষা কাঠামো:
- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।
- যথা: প্রাথমিক স্তর, মাধ্যমিক স্তর এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তর।

⇒ প্রাথমিক শিক্ষা: বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা ৫ বছর মেয়াদী (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত) বছর যা জাতীয় শিক্ষানীতি- ২০১০-এর সুপারিশ অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি বাস্তবায়নাধীন। তাছাড়া তিন বছর মেয়াদী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
⇒ মাধ্যমিক শিক্ষা: প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার মধ্যবর্তী শিক্ষাস্তরটি মাধ্যমিক শিক্ষা নামে পরিচিত। মাধ্যমিক শিক্ষার পরিধি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৭ বছর। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষার তিনটি স্তর রয়েছে। সেগুলো হলো- ৬ষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন মাধ্যমিক স্তর, নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্তর।
⇒ উচ্চ শিক্ষা: উচ্চ মাধ্যমিকের পরবর্তী পর্যায় হচ্ছে উচ্চ শিক্ষা। সাধারণ শিক্ষা ধারায় উচ্চ শিক্ষা সাধারণত ৩-৫ বছর মেয়াদি। 

উল্লেখ্য,
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর।
- এর অধীন কয়েকটি অধিদপ্তরে রয়েছে।
- বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প (শিক্ষা প্রকল্প ও কারিগরি প্রকল্প)’র মাধ্যমে এ অধিদপ্তরসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে।

এছাড়াও,
⇒ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোতে শিক্ষা ধারা মূলত তিনটি। এগুলো হচ্ছে-
১. সাধারণ শিক্ষা,
২. মাদ্রাসা শিক্ষা এবং,
৩. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।

উৎস: i) বাংলাদেশের শিক্ষা, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৩৫৬.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. লিয়াকত আলী খান
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৫,৩৫৭.
বাংলাদেশ নিচের কোন সংস্থার সদস্য নয়?
  1. ক) D-8
  2. খ) NAM
  3. গ) BIMSTEC
  4. ঘ) G-7
সঠিক উত্তর:
ঘ) G-7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) G-7
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ G-7 এর সদস্য নয়।

এছাড়াও - 
- বাংলাদেশ D-8 এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (১৫ জুন, ১৯৯৭)।
- বাংলাদেশ NAM এর সদস্যপদ লাভ করে - ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ BIMSTEC এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (৬ জুন, ১৯৯৭ সালে)।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৫,৩৫৮.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোকসঙ্গীতের নাম কী?
  1. ক) ভাওয়াইয়া
  2. খ) ভাটিয়ালি
  3. গ) জারিগান
  4. ঘ) সারিগান
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াইয়া
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- বৈশিষ্ট্যগত কারণে সাধারণত উত্তর বাংলার শিল্পী ছাড়া এ গানের সুরসংযোজনা সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না।
যেমন:
- ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’,
- ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’,
- ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’,
- ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।  

 - শিল্পী  আববাসউদ্দীন আহমদ ভাওয়াইয়া গান জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৫৯.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. আলীগড় চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. লক্ষ্মৌ চুক্তি
  4. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৬০.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন কে?
  1. ক) রামতনু লাহিড়ী
  2. খ) রাধানাথ শিকদার
  3. গ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে হিন্দু কলেজের শিক্ষানুরাগী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্রদেরকে সমকালীন কলকাতার সমাজ ইয়ং বেঙ্গল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এদের গুরু ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তার অনুসারী ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, রামতনু লাহিড়ী, প্যারিচাঁদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,৩৬১.
'কারাগারের রোজনামচা' নামকরণ করেন কে?
  1. ক) শেখ রেহেনা
  2. খ) শেখ হাসিনা
  3. গ) তারিক সুজাত
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ রেহেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ রেহেনা
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্ৰকাশ করে। 
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: প্রথম আলো।
৫,৩৬২.
মুক্তিযুদ্ধে আকবর বাহিনী কোথায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম
  4. মাগুরা
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৩৬৩.
'ছয় দফা' কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো?
  1. ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ২০ এপ্রিল, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলার কারণ - এটি বাঙালির ন্যায্য অধিকারের সনদ।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৩৬৪.
কার বিবরণের মাধ্যমে জানা যায়, 'কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট'?
  1. হিউয়েন সাঙ
  2. বাণভট্ট
  3. কৌটিল্য
  4. কালিদাস
  5. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ। তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৬৫.
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
- ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয় এবং অগ্রগতি লাভ করে।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনাই জনগণের মধ্যে পরবর্তীকালে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- বাঙালি জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আকাক্সক্ষাকে হাজারগুণে বাড়িয়ে দেয় এ আন্দোলন।
- তাই ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

- এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে।
- অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা, ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক।
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও যুগান্তর।
৫,৩৬৬.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান কোন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
  3. গ) ফরায়েজী আন্দোলন
  4. ঘ) খিলাফত আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) আলীগড় আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতের আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের মূলে ছিলো মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের উন্নয়ন সাধন।

এই লক্ষ্যে সৈয়দ আহমদ খানের প্রচেষ্টায় আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিভিন্ন সময় তিনটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আহমদ খান ১৮৯৮ সালে মারা যান।

অন্যদিকে,

ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হেনরী লুই ভিভিয়ান ডি রোজিও।
ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা হাজী শরীয়ত উল্লাহ এবং খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা মুহম্মদ আলী প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
৫,৩৬৭.
বাংলার সবচেয়ে 'সমৃদ্ধ জনপদ' হিসাবে পরিচিত কোনটি?
  1. বঙ্গ 
  2. হরিকেল
  3. পুণ্ড্র
  4. গৌড় 
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

• পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৫,৩৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৬২
  2. খ) ৬৪
  3. গ) ৬৬
  4. ঘ) ৬৮
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬৪
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৬৯.
বাংলায় কোন শতকে পাল শাসনের সূচনা ঘটে?
  1. সপ্তম শতাব্দী
  2. অষ্টম শতাব্দী
  3. নবম শতাব্দী
  4. দশম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- পাল বংশ প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। পালরা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে ৭৫০ সালে গোপাল মাৎস্যনায় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পাল শাসনের সূত্রপাত করেন। গোপাল ৭৫০ খ্রি. থেকে ৭৮১ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন। তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।
- পাল বংশের সর্বশেষ শাসক হলেন মদনপাল (১১৪৩-১১৬১ খ্রি.)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৩৭০.
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. মীর নিসার আলী
  2. মীর কাসিম
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. আলীবর্দি খান
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ: 
- ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার সাবেক নওয়াব মীর কাসিম, মুগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্মিলিত মিত্রশক্তি গঠন করেছিলেন।
- কিন্তু ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী তাদের পরাজিত করে।
- এই যুদ্ধে মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন, শাহ আলম ইংরেজদের শিবিরে আশ্রয় নেন এবং সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের ফলে বাংলার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয় এবং
- পরবর্তীতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি মুগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি লাভ করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫,৩৭১.
তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য তখনকার বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা দাবি পেশ করেন। ঐ সম্মেলন কোথায় হয়েছিল?
  1. ঢাকায়
  2. নারায়ণগঞ্জে
  3. লাহোরে
  4. করাচীতে
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
ব্যাখ্যা
ছয়দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭২.
লক্ষ্মৌ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  2. ব্রিটিশ শাসন জোরদার
  3. প্রাদেশিক বিভাজন 
  4. ঐক্য গড়ে তোলা
সঠিক উত্তর:
ঐক্য গড়ে তোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্য গড়ে তোলা
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল-
- ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা,
- পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা,
- এবং সম্মিলিতভাবে স্বরাজ বা আত্মশাসন অর্জনের পথ সুগম করা।

- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ হওয়ায় মুসলমান সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।
- এর পাশাপাশি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করতে বাধ্য হয়।
- ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন সমঝোতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
- এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্মৌ শহরে দুই দল একযোগে তাদের বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করে।
- এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

- এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিম লীগের পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুসলমানদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যদিকে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রে সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাতে সম্মত হয়।
- এর ফলে হিন্দু–মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
- এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর সাংবিধানিক সংস্কার আনার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৭৩.
মেসোপটেমীয়া বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) বিরোধপূর্ণ অঞ্চল
  2. খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
  3. গ) সভ্যতার তীর্থভূমি
  4. ঘ) প্রাচীন ভাষা
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অবস্থান খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখন্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়। 
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার জন্ম টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস দুই নদীর মধ্যবর্তী উর্বর সমতল অঞ্চলে।
- এই অঞ্চল আরো পাঁচটি সভ্যতার জন্মস্থান।
- যে সভ্যতাগুলো বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানামুখি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭৪.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক কে ছিলেন?
  1. ক) ডা. জোহরা বেগম কাজী
  2. খ) মনজুলা ময়মুন
  3. গ) ডা. মমতাজ বেগম
  4. ঘ) ডা. ফিরোজা বেগম
সঠিক উত্তর:
ক) ডা. জোহরা বেগম কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডা. জোহরা বেগম কাজী
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন। এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পান একুশে পদক, রোকেয়া পদক ও বিএমএ স্বর্ণপদক।
তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

৫,৩৭৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় 'কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়' স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য আইন করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বুধবার ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২১’ নামে এই বিলটি পাসের জন্য তুললে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিলে বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উৎস: দৈনিক যুগান্তর।
৫,৩৭৬.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কি?
  1. ক) সুবর্নগ্রাম
  2. খ) পুন্ড্রবর্ধন
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপ
  4. ঘ) সিংহজানী
সঠিক উত্তর:
খ) পুন্ড্রবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পুন্ড্রবর্ধন
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন নগরী। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল।
প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৭৭.
Who was the Chief Election Commissioner in the 1970 election?
  1. Syed Badrul Ahsan
  2. Abdus Sattar
  3. A.T.M. Shamsul Huda
  4. Hannan Shah
  5. None of them
সঠিক উত্তর:
Abdus Sattar
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abdus Sattar
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৭ ডিসেম্বর।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।
 
 অন্যদিকে -
- পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৪৪টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ন্যাপ৮৮টি আসন লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।
- এভাবে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ছিলেন না পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৭৮.
মুজিবনগর সরকার কতজন সদস্য বিশিষ্ট পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিল?
  1. ৫ জন
  2. ৬ জন
  3. ৭ জন
  4. ৮ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:

- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী। সদস্য ছিলেন -
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭৯.
‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প কবে চালু হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
একটি বাড়ি একটি খামার:
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬ সালের শাসনামলে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প শুরু হয়। 
- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সমবায় সমিতি ভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিকল্পনা।
- এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বিএনপি-জামায়াত জোট পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়।
- আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসলে আবার চালু হয় এ প্রকল্প।
- ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ব্যাংকটি মূলত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পেরই পরবর্তী রূপ।
- দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ভূমিকা রেখেছে।

উৎস: i) একটি বাড়ি একটি খামার ওয়েবসাইট।
          ii) ৩ অক্টোবর ২০১৬, প্রথম আলো।
৫,৩৮০.
’দ্বীন-ই-ইলাহী‘ ধর্ম কে প্রবর্তন করেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. মহম্মদ বিন তুঘলক
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
দ্বীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ।
- আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন।
- হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন।
- আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- এটিই দ্বীন-ই-ইলাহী নামে পরিচিত।
- আকবর নিজে 'ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা "সুলহ-ই-কুল"।
- প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮১.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫,৩৮২.
কোন গভর্নর জেনারেলের শাসনকালে ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে। 
- তাঁর সময়েই ১৮৫৩ সালে বোম্বে (মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়।
- ডালহৌসিকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়।
- তাঁর সময়েই ভারতে রেলপথ, টেলিগ্রাফ এবং ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ শুরু হয়েছিল। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী। লর্ড ডালহৌসীর সাম্রাজ্যবাদ নীতির তিনটি লক্ষ্য ছিল-
ক. পাশ্চাত্য সভ্যতা ও শাসনের প্রসার,
খ. ইংরেজ সাম্রাজ্যের সংহতি স্থাপন ও,
গ. উপমহাদেশে ব্রিটিশ পণ্যের বাজার সৃষ্টি।

এছাড়াও,
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৩.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. ঢাকা
  3. মহাস্থানগড়
  4. শাহজাদপুর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ ও বিখ্যাত সাধক ছিলেন।
- উপাধি ও ইতিহাস: বলা হয় তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন, এজন্য তাকে বলখী বলা হয়। তাঁর জীবনের বিস্তারিত ইতিহাস অস্পষ্ট।
- অবস্থান: মাজারটি মহাস্থানগড়, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

ঊল্লেখো, 
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এবং বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি উত্তরে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২–১১২৫) গৌড়ের রাজা ছিলেন, সেই সময় মহাস্থানগড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগর কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৩৮৪.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার পাহাড় চূড়া কোনটি?
  1. গারো পাহাড়
  2. জৈয়ন্তিকা পাহাড় 
  3. কালা পাহাড়
  4. চন্দ্রনাথ পাহাড়
সঠিক উত্তর:
গারো পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো পাহাড়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি।

৫,৩৮৫.
তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. নীল চাষিদের নিপীড়ন
  2. জমির খাজনা নিয়ে দ্বন্দ্ব 
  3. ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
  4. বাজারমূল্য বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
ব্যাখ্যা

তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়।
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

• তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

উল্লেখ্য,
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৫,৩৮৬.
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু
  2. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার 
  3. ভগৎ সিং
  4. মাস্টারদা সূর্য সেন
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:

- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৩৮৭.
কোন শাসকের সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. টিক্কা খান
  3. জুলফিকার আলী
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। তবে এটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৮৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল কোন রাষ্ট্র?
  1. বুলগেরিয়া
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন: 
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন - সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র।
- ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- ইরাক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল। 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, চীন এবং ইরান ও সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৩৮৯.
কোন শাসক বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:

- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯০.
স্বাধীনতা দিবস কোনটি?
  1. ১৬ ডিসেম্বর
  2. ২৬ শে মার্চ
  3. ২১ শে মার্চ
  4. ১৭ শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
২৬ শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ শে মার্চ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দিবস:

- স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস - ২৬ মার্চ
- জাতীয় শোক দিবস - ১৫ আগষ্ট
- সশস্ত্রবাহিনী দিবস - ২১ নভেম্বর
- মুক্তিযোদ্ধা দিবস - ০১ ডিসেম্বর
- বিজয় দিবস - ১৬ ডিসেম্বর

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৫,৩৯১.
কিসের প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন এর ডাক দেয়া হয়?
  1. পাক সরকারের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য
  2. তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসন
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
  4. পাক বাহিনীর বর্বর অত্যাচার
সঠিক উত্তর:
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন 
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। 
- অসহযোগ আন্দোলন ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯২.
কোথায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়?
  1. রেসকোর্স ময়দানে
  2. মুজিবনগরে
  3. পল্টন ময়দানে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়
সঠিক উত্তর:
পল্টন ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্টন ময়দানে
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫,৩৯৩.
কোন বিখ্যাত গায়ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জন্য গান গেয়েছিলেন?
  1. ক) Elvis Presley
  2. খ) George Harrison
  3. গ) Michel Jackson
  4. ঘ) Michel George
সঠিক উত্তর:
খ) George Harrison
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) George Harrison
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৫,৩৯৪.
হাওরের গেটওয়ে বলা হয় যে জেলাকে?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. নেত্রকোনা
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হাওরের গেটওয়ে:
- হাওর হচ্ছে জলপূর্ণ বিস্তৃত প্রান্তর।
- এটি অগভীর। বর্ষাকালে সাগরের মতো মনে হয় এবং শীতের মৌসুমে শুধু ফসলের মাঠ।
- হাওরের গেটওয়ে বলা হয় কিশোরগঞ্জ জেলাকে।
- অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা এই তিনটি উপজেলা ঘিরেই কিশোগঞ্জ জেলার বিশাল হাওর এলাকা বিস্তৃত।
- এ অঞ্চল দিয়ে হাওরাঞ্চলের প্রবেশপথ হওয়ায় কিশোরগঞ্জকে হাওরের গেটওয়ে বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।
৫,৩৯৫.
‘বাঙ্গালীর ইতিহাস‘ বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহারঞ্জন রায়
  2. খ) নীহারঞ্জন দাস
  3. গ) নীহারঞ্জন গুপ্ত
  4. ঘ) আশুতোষ মুখপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) নীহারঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীহারঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭) 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯) 
- Nationalism in India 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯৬.
স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন কে?
  1.  আবুল কালাম আজাদ
  2. সত্যরঞ্জন বখসী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. কিরণ শংকর রায়
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে।
- ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস 'বসু-সোহরাওয়ার্দী' প্রস্তাব নামে খ্যাত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭শে এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র বসু তাঁর এক প্রস্তাবে অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,৩৯৭.
অলিম্পিক গেমসের কোন আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রথমবার অংশগ্রহণ করে?
  1. মস্কো, ১৯৮০
  2. লস এঞ্জেলেস্‌, ১৯৮৪
  3. সিউল, ১৯৮৮
  4. বার্সেলোনা, ১৯৯২
সঠিক উত্তর:
লস এঞ্জেলেস্‌, ১৯৮৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লস এঞ্জেলেস্‌, ১৯৮৪
ব্যাখ্যা
- ১৯৮০ সালেই মস্কো অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।
- কিন্তু শেষ মুহূর্তে গেমস বয়কট করে।
- ১৯৮৪ সালে লস্ অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রথমবার অংশগ্রহণ করে।
- এরপর নিয়মিত অলিম্পিক গেমসে লাল-সবুজের পতাকা উড়ছে।
- তবে কোনো আসরেই পদক জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

উৎস: বাংলাদেশ প্রতিদিন। 
৫,৩৯৮.
'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' কী?
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সচিত্র দলিল
  2. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্য নির্মিত জাদুঘর
  3. জুলাই গণঅভ্যুত্থানর জন্য নির্মিত একটি ভাস্কর্য
  4. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
ব্যাখ্যা

দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ':
- জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ।
- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ আর্টবুক উপহার দিয়েছেন।

- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৪ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।

উৎস: পত্রিকার রিপোার্ট। [লিঙ্ক]

৫,৩৯৯.
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট কতবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা

⇒ গণভোট:
- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

⇒ প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

⇒ দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

⇒ তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর 
  2. ২ নং সেক্টর 
  3. ৩ নং সেক্টর 
  4. ৪ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।