বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৩ / ১২৪ · ৫,২০১৫,৩০০ / ১২,৪২১

৫,২০১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট কতটি ব্রিগেড ফোর্স ছিল?
  1. ৪ টি
  2. ১১ টি
  3. ৩ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

• জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

• কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

• খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।


তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২০২.
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে কোন অঞ্চলের কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল না?
  1. পশ্চিম পাকিস্তান
  2. সেভেন সিস্টার্স
  3. সিকিম
  4. পূর্ব পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
পূর্ব পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ: 
- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান জন্ম নিলে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বৈরিতার সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান-উভয়ই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- ১৯৪৭ সালেই তাদের মাঝে কাশ্মীর নিয়ে প্রথম যুদ্ধ বাধে।
- কিন্তু জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে তার অবসান হয়।
- কাশ্মীরকে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাধে ১৯৬৫ সালে।
- ৬ই সেপ্টেম্বর পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
 -যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারতীয় বাহিনী প্রাধান্য দেখিয়ে লাহোরের দিকে এগিয়ে যায়।
- পাকিস্তানিদের এই চরম দুর্দিনে বাঙালি সেনারা অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করে লাহোর রক্ষা করেন।
- এ যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী মনোভাব প্রবলভাবে জাগ্রত হয়।
- কারণ যুদ্ধে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পূর্ব পাকিস্তানের কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল না।
- অরক্ষিত এ অঞ্চল যেকোনো সময় ভারতের আক্রমণের শিকার হতে পারত।
- এমনকি এ সময় প্রশাসনিক দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
- বাঙালি সেনারা জীবনবাজি রেখে লাহোর রক্ষা করলেও আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
- পাকিস্তানের শোচনীয় অবস্থার মুখে পাশ্চাত্য শক্তি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপে ১৭ দিনের মাথায় যুদ্ধ বন্ধ হয়।
- ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,২০৩.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম অনারব মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. ক) সেনেগাল
  2. খ) মালয়েশিয়া
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
ক) সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেনেগাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
- একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত।
- তৃতীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম আফ্রিকান/মুসলিম/অনারব মুসলিম দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
(সূত্রঃ ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইট, কালের কণ্ঠ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৫,২০৪.
'শিশু স্বর্গ' কি?
  1. ক) ভাস্কর্য
  2. খ) জাদুঘর
  3. গ) চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান
  4. ঘ) হাসপাতাল
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান প্রতিষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান 'শিশু স্বর্গ'। এস এম সুলতান তার জীবনের সঞ্চয় দিয়ে শিশুদের জন্যে একটি নৌকা তৈরি করে এতে 'শিশু স্বর্গ' নামে ভ্রাম্যমাণ চিত্রাঙ্কন প্রতিষ্ঠান খোলেন। পরবর্তীতে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় এস এম সুলতানের গ্রামে বাংলাদেশ সরকার সুলতান কমপ্লেক্স তৈরি করে এবং সেখানে শিশু স্বর্গ নামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখার একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া এস এম সুলতান চারুপীঠ এবং নন্দকানন নামে আরো দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন। (সূত্রঃ নড়াইল জেলা ওয়েবসাইট এবং বিডিনিউজ২৪)
৫,২০৫.
'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার মূল দলিল'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. মার্শাল টিটো
  2. ফিদেল ক্যাস্ট্রো
  3. নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. এডওয়ার্ড হীথ
সঠিক উত্তর:
নেলসন ম্যান্ডেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেলসন ম্যান্ডেলা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
- 'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল স্বাধীনতার মূল দলিল'- উক্তিটি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।

অন্যদিকে -
- যুগো-স্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্যপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেছিলেন, এই ভাষণের মাধ্যমে শেখ মুজিব প্রমাণ করেছেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানিদের কোনো রকম বৈধতা নেই। 
- কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছেন, ৭ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুধুমাত্র ভাষণ নয়, এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল।
- ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম থাকবে, ততদিন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে অন্যতম প্রেরণা হয়ে থাকবে। 

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
৫,২০৬.
ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে ১১দফা ঘোষণা করেন কোন সংগঠন?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. আওয়ামী লীগ
  4. সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
•১১ দফা:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলতঃ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র- জনতার তীব্র আন্দোলন।
- আসাদ, মতিয়র, সার্জেন্ট জহুরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ শামসুজ্জোহার মৃত্যু এই আন্দোলনকে প্রাণ দিয়েছিল।
- আর ছাত্র সমাজের ১১ দফা কর্মসূচি বা দাবী এ আন্দোলনকে করে তুলেছিল তীব্র।
- যার ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হন আর পরবর্তী শাসক ইয়াহিয়া খানও ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০৭.
ভারত কত তারিখে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ:
- নভেম্বর, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে।
- প্রায় এক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা-চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যান্য স্থানে হানাদার বাহিনীর উপর তীব্র আঘাত হানতে থাকে।
- নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ হতে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মুক্তিবাহিনীর অভিযান ব্যাপক ফলপ্রসূ হয়।
- এসময় দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরের বিস্তীর্ণ এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
- ক্রমান্বয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও মুক্তিযোদ্ধারা দখল করে নিতে থাকে।
- ফলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত পাক-বাহিনী ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর আকস্মিকভাবে ভারতের অমৃতসর শ্রীনগরসহ অন্যান্য স্থানে আক্রমণ করলে ৪ ডিসেম্বর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী পাঠায়।
- ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভারতীয় মিত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনী একত্রে যৌথ বাহিনী গঠন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে।
- ভারতীয় বিমান ও নৌ-বাহনীও পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে যশোর সেনানিবাস, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ যৌথবাহিনীর দখলে আসে।
- ১০ ডিসেম্বর বিমান হামলা বন্ধ রেখে বিদেশীদের ঢাকা ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়।
- ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনী ভৈরব, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মুক্ত করে ঢাকার খুব নিকটে চলে আসে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০৮.
প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক রাজ্য ছিল না।
- বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল।
- যেমন: পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, সমতট, চন্দ্রদ্বীপ, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি।
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।

অন্যদিকে -
- সিলেটের প্রাচীন নাম হরিকেল।
- কুমিল্লা ও নোয়াখালী সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২০৯.
মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. কর্নেল এম এ রব
  2. এ কে খন্দকার
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী (যিনি এম.এ.জি. ওসমানী নামে পরিচিত) মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪২ সালে তৎকালীন বৃটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেজর ছিলেন তিনি।
- দেশবিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর ওসমানী যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে।
- ১৯৬৭ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।
- মুক্তিযুদ্ধের ২৫ মার্চ ঢাকাতেই ছিলেন ওসমানী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
- ১১ এপ্রিল (১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন।
- ঐ ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে এম. এ. জি. ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য যে,
- ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারী ও সরকার গঠন করা হয় এবং পরবর্তীকালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরেগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ওসমানী'র নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৫,২১০.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. এ. কে. খন্দকার
  2. কে. এম. শফিউল্লাহ
  3. খালেদ মোশাররফ
  4. এম. এ. জি. ওসমানী
সঠিক উত্তর:
এম. এ. জি. ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. এ. জি. ওসমানী
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,২১১.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় আফগান শাসনের অবসান ঘটে?
  1. তুকারয়ের যুদ্ধ
  2. সুরজগড়ের যুদ্ধ
  3. রাজমহলের যুদ্ধ
  4. চৌসার যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

আফগান শাসন: 
- বাংলায় আফগান শাসনের অবসান ঘটে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে। 
- এটি মুগল সেনাপতি খান-ই-জাহান (হোসেন কুলি খান) ও আফগান শাসক দাউদ খান কররানী-এর মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এর আগে ১৫৭৫ সালে তুকারয় যুদ্ধে একবার সন্ধি হলেও, দাউদ সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় মুগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- মুনিম খানের মৃত্যুর পর নতুন মুগল শাসক হোসেন কুলি খান চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন।
- রাজমহলে সংঘটিত এই যুদ্ধটি ছিল দাউদের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা।
- তিনি পরাজিত হন, বন্দি অবস্থায় পড়েন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৫,২১২.
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
- দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্র।
- গ্যাসক্ষেত্রটিতে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৭.৫৮২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ৩১ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত মোট গ্যাস উত্তোলিত হয়েছে ৫.০৬৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেলওয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সাল থেকে ক্ষেত্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড তিতাস ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে।
- তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের মাধ্যমে তিতাস ক্ষেত্রের গ্যাস ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ও কিশোরগঞ্জ জেলায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
- তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে সিলেটের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি এবং পেট্রোবাংলা ওয়েবসাইট)
৫,২১৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় কখন?
  1. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. ২২ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২১৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয় কোন সম্মেলনে?
  1. ক) মুজিব-ইন্দিরা সম্মেলন
  2. খ) লাহোর সম্মেলন
  3. গ) কাগমারী সম্মেলন
  4. ঘ) কাশ্মীর সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর সম্মেলন
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন৷ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২১৫.
তমুদ্দিন মজলিশের মুখপত্র ছিলো-
  1. দৈনিক গণকন্ঠ
  2. সাপ্তাহিক সৈনিক 
  3. সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ
  4. সাপ্তাহিক দেশ
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক 
ব্যাখ্যা

 • তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো সাপ্তাহিক 'সৈনিক পত্রিকা'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী।

৫,২১৬.
বর্গীর হাঙ্গামা থকে বাংলাকে রক্ষা করেন কোন নবাব?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
  2. খ) নবাব সুজাউদ্দিন খান
  3. গ) নবাব আলীবর্দী খান
  4. ঘ) নবাব সরফরাজ খান
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব আলীবর্দী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা
নবাব আলিবর্দী খানকে তাঁর রাজত্বের বেশির ভাগ সময় মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকতে হয়। ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর কাল তিনি মারাঠা হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন ইতিহাসে মারাঠা আক্রমণের ঘটনাবলী বর্গীর হামলা নামে সুপরিচিত। প্রায় প্রতি বছরই মারাঠা শক্তি বাংলা ও উড়িষ্যায় হামলা চালায়। নবাব আলিবর্দী খান অবিরাম প্রতিরোধ যুদ্ধে আপোষহীনভাবে হানাদারদের বিতাড়িত করে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২১৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১১টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- এতে মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে।
-  ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধাবাহিনী গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে প্রথমে ১০ এপ্রিল ৪টি এবং পরবর্তীকালে ১১ এপ্রিল ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয় এবং বিগ্রেড কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর খালেদ মোশাররফের নামের ইংরেজি আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেড তিনটির নামকরণ করা হয় যথাক্রমে এস ফোর্স, জেড  এবং কে ফোর্স।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার  সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

উৎস:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৫,২১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন কে?
  1. ড. মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. বিচারপতি এস এ রহমান
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌাধুরী।
- ১৯৬৯ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য নিযুক্ত হন। তবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করে বহির্বিশ্বে মুজিবনগর সরকারের দূত হিসেবে কাজ করেন।
অন্যদিকে,
- ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
- ড. মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী ১৯৭২-৭৩ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য ছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার পি. জে. হার্টগ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম/উপমহাদেশীয়/বাঙালি উপাচার্য ছিলেন স্যার এ এফ রহমান।
- বিচারপতি এস এ রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিচারের জন্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট)

৫,২১৯.
সর্বপ্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় কোন স্থানে?
  1. সোহরাওয়াদী উদ্যানে
  2. রেসকোর্স ময়দানে
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. মুজিবনগরে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা
 ♦ জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক- পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২।
৫,২২০.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন-
  1. আলী মর্দান খলজী
  2.  আলাউদ্দিন খিলজি
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,২২১.
ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একজনের নাম উল্লেখ করুন।
  1. ক) ইকবাল
  2. খ) আসাদ
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) নুরহোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন। ২২ শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন। অনেকে গ্রেফতার হন।
সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)।
৫,২২২.
পহেলা বৈশাখ ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কবে পালিত হয়?
  1. ১৪ এপ্রিল
  2. ২১ এপ্রিল
  3. ১৫ জুন
  4. ১৬ জুন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৪ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
⇒ পহেলা বৈশাখ ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল পালিত হয়।

বাংলা নববর্ষ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা - ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর।
- এই কৃষি কাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর — ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,২২৩.
বাংলা ১১৭৬ কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) বঙ্গবঙ্গ
  3. গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
  4. ঘ) দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছিয়াত্তরের মন্বত্বর
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ধ্বংসলীলা। একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে, অন্যদিকে অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তদুপরি পরপর দু’বছর কৃষির অবনতি ও অনাবৃষ্টির ফলে ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ ১১৭৬ বঙ্গাব্দে দেশে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় তা ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত। সূত্র- বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২২৪.
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. ড. এস ডি চৌধুরী
  2. ড. কাজী ফজলুর রহিম
  3. ড. ওসমান গণি
  4. অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ড. ওসমান গণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. ওসমান গণি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত।
- দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়৷ কৃষিবিজ্ঞানের সকল শাখা এর আওতাভূক্ত। 
-কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম উপাচার্য ছিলেন — ড. ওসমান গণি। 

উৎস:  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
৫,২২৫.
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস রয়েছে?
  1. ক) সাকিব আল-হাসান
  2. খ) মাশরাফি বিন মর্তুজা
  3. গ) মুশফিকুর রহিম
  4. ঘ) তামিম ইকবাল
সঠিক উত্তর:
গ) মুশফিকুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুশফিকুর রহিম
ব্যাখ্যা
- মুশফিকুর রহিম একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সহ-অধিনায়ক।
- তার জন্ম ৯ জুন, ১৯৮৭ সালে। 
- তাকে টেস্টে সেরা এবং সফল বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- তার ব্যাটিং কৌশল এতটাই বহুমুখী যে তিনি টপ অর্ডারে এক থেকে ছয় পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে পারেন।
- টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরার তিনি।
- তিনিই প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।
- ২০১৮ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কুমার সাঙ্গাকারা এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ছাড়িয়ে প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
- তিনি ২১৯* রানে তার ইনিংস শেষ করেন, যা টেস্ট ক্রিকেটে একজন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ একক স্কোর।
- একই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুশফিক বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৪,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। 

উৎস: মুশফিকুর রহিম ক্যারিয়ার, রেকর্ড, পুরস্কার, জীবনী এবং আরও, BDCricTime.
৫,২২৬.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. মতিঝিল, ঢাকা
  2. শাহবাগ, ঢাকা
  3. আগারগাঁও, ঢাকা
  4. কুর্মিটোলা, ঢাকা
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও, ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও, ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৫,২২৭.
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন -
  1. ক) গাজীপুরের বীর জনতা
  2. খ) যশোরের বীর জনতা
  3. গ) চট্রগ্রামের বীর জনতা
  4. ঘ) নারায়ণগঞ্জের বীর জনতা
সঠিক উত্তর:
ক) গাজীপুরের বীর জনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাজীপুরের বীর জনতা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ
• ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জয়দেবপুর তথা গাজীপুরের বীর জনতা
• যুদ্ধে চারজন শহীদ হন। তারা হলেন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা ।
• বিদ্রোহ দমনে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব। 
• এর স্বরণে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় জাগ্রত চৌরঙ্গী নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং গাজীপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৫,২২৮.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য হিসেবে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

দুইভাবে আলাদা করা যেতে পারে।
১)  'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এবং বাকিগুলো উপন্যাস।
২) গ অপশনটি ছাড়া বাকী তিনটির (উপন্যাস) রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২২৯.
ব্যারাকপুরে প্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন কে?
  1. ক) নানা সাহেব
  2. খ) বাজীয়াও
  3. গ) লক্ষ্মী বাঈ
  4. ঘ) মঙ্গল পান্ডে
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গল পান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গল পান্ডে
ব্যাখ্যা
- বিপ্লবের প্রত্যক্ষ কারণ হল চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের প্রবর্তন।
- ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল নামে এক ধরনের বন্দুকের ব্যবহার শুরু হয়।
- ব্যবহারের পূর্বে এর কার্তুজ দাঁত দিয়ে কাটতে হতো।
- গুজব রটে যে, উক্ত রাইফেলে গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের প্রচলন করে বৃটিশ সরকার হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ধর্ম নাশ করার ষড়যন্ত্র করছে। ফলে দেশীয় সিপাহীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুর সেনানিবাসে মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহী প্রকাশ্যভাবে বিদ্রোহ করে।
- বৃটিশ কর্তৃপক্ষ মঙ্গল পাণ্ডে এবং তার একজন সমর্থককে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করে বিদ্রোহের আগুন নেভাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
- এরপর মে মাসে বড় আকারের বিদ্রোহ দেখা দেয় মীরাটের সেনা ছাউনিতে। 
- সিপাহীরা সরকারী নির্দেশ অমান্য করে এবং কর্নেল ফিনিসকে গুলি করে হত্যা করার পর প্রকৃত বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. কলকাতা
  3. নিউইয়র্ক
  4. লন্ডন
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কলকাতায় স্থাপিত হয়।

প্রবাসে বাঙালিদের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা:

- বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।
- এতে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাঙালি মহিলাদের একটি প্রতিবাদ মিছিল লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।
- জুন মাসে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে লন্ডনে মিছিলের আয়োজন করে।
- মিছিল শেষে এই প্রতিবাদকারীগণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে।
- কলকাতাতেই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৫,২৩১.
কে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নন?
  1. আসাদুজ্জামান
  2. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. রফিক উদ্দিন
  4. মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
রফিক উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক উদ্দিন
ব্যাখ্যা
রফিক উদ্দিন ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ। আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। মতিউর রহমান মল্লিক, সার্জেন্ট জহুরুল হক, মুহম্মদ শামসুদ্দোহা, শহীদ আনোয়ারা বেগম, শহীদ রুস্তম উনারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২৩২.
দেশে বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. চারটি
  2. পাচঁটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
পাচঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাচঁটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা পাঁচটি।
এগুলো হলো:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা (১৯৯৮)।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৬)।
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৬)।
সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৮)।
শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (২০২১)।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ওয়েবসাইট)
৫,২৩৩.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ কোন শতকে সমতট পরিদর্শন করেছিলেন?
  1. ৭ম শতকে
  2. ৮ম শতকে
  3. ৫ম শতকে
  4. ৬ষ্ঠ শতকে
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম শতকে
ব্যাখ্যা
সমতট জনপদ:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন-
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  3. তমদ্দুন মজলিশ
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুনমজলিশ।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,২৩৫.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ কতটি আসন লাভ করে?
  1. ৯টি
  2. ১১টি
  3. ১৩টি
  4. ১৭টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ও ফলাফল:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।
- পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৬.
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. অশোক
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. বিক্রমাদিত্য
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম বৃহৎ সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য:
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- তার সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে, মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৭.
What was the percentage of people in Pakistan who spoke in Bengali?
  1. 34%
  2. 38%
  3. 46%
  4. 52%
  5. 56%
সঠিক উত্তর:
56%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
56%
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ভাষা বিতর্ক:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই এর রাষ্ট্র ভাষা কি হবে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- পাকিস্তান ছিল একটি বহুভাষী রাষ্ট্র।
- এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- পক্ষান্তরে মোট জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ৬ ভাগ ছিল উর্দুভাষী।
- এ হিসেবে বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা।
- আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে 'বাংলার' রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ ছিল স্বাভাবিক।
- কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীগণ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
- এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৩৮.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ক) অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স
  3. গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. ঘ) শরনার্থী তহবিল সংগ্রহ ক্যাম্পেইন
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫,২৩৯.
কোনটি ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ নামে পরিচিত?
  1. ক) ছয়দফা
  2. খ) এগারো দফা
  3. গ) একুশ দফা
  4. ঘ) উনিশ দফা
সঠিক উত্তর:
ক) ছয়দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছয়দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,২৪০.
মুজিব নগর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এম. মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪১.
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ কয় দফা দাবি ঘোষণা করেন?
  1. চার
  2. ছয়
  3. এগারো
  4. একুশ
সঠিক উত্তর:
এগারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগারো
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। 
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। 
- আগরতলা মামলা বাতিল হয়। 
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৪২.
১৯৬৫ সালে পাকিস্তনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রার্থী ছিলেন কে?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. গ) আবদুল গাফফার খান
  4. ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুববিরোধী সবগুলো দলের সমন্বয়ে সম্মিলিত বিরোধী দল বা কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি (কপ) গঠন করা হয়। কপের পক্ষ থেকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়। তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যবহার ও মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার কারণে আইয়ুব খান সহজেই এতে জয় লাভ করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৪৩.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী শরিক দল সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঢাকার রমনা গ্রীনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
- বিএনপি'র দলীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের রাজনীতির মূলনীতি হল- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৪৪.
মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
  1. এম এ হান্নান
  2. ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৪৫.
'এলাহাবাদ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় -
  1. ক) লর্ড কার্জন ও শাহ সুজার মধ্যে
  2. খ) রবার্ট ক্লাইভ ও শাহ সুজার মধ্যে
  3. গ) সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ওয়ারেন হেস্টিংসের মধ্যে
  4. ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি
• ১২ আগস্ট, ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
• প্রয়াত সম্রাট আলমগীরের পুত্র মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম, বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের হাতে একটি চুক্তিপত্র তুলে দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে এলাহাবাদ চুক্তি হিসেবে পরিচিত।
• এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) শাহ আলম বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দীউয়ানি প্রদান করেন।
• কোম্পানি কোরা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।    

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪৬.
১৯৬২ সালের পাকিস্তান সংবিধানে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য জাতীয় পরিষদে আসন বরাদ্ধ ছিল -
  1. ক) ১৫০টি
  2. খ) ৯০টি
  3. গ) ৭৫টি
  4. ঘ) ১২০টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৫টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৬২ সালের সংবিধান এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। 
- জাতীয় পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫৬ জন (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৭৫ জন করে। ৬টি মহিলা আসন সংরক্ষিত ছিল।)
- প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫০ এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫টি । 
- মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হতেন। জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের কোনো ক্ষমতা ছিল না।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দেশ কোনটি?
  1. ক) ব্রিটেন
  2. খ) ভারত
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল বাংলাদেশের বিবেচনায় খুব হতাশাব্যঞ্জক। অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল অখন্ড পাকিস্তান নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশের সমর্থন ছিল খুবই শক্তিশালী এমনকি মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর ব্যতীত সরকারের অন্যান্য স্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল ব্যাপক সমর্থন। পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যম এবং জনমনে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ছিল প্রশ্নাতীত। আমেরিকার বাঙালি মহলও সর্বতোভাবে মুক্তিযুদ্ধে নানা ধরনের সহায়তা করে। এমনকি পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কর্মরত বাঙালিরা এক পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বত্র আমেরিকানরা বাঙালিদের বন্ধু অথবা সাহায্য সমিতি প্রতিষ্ঠা করে জনমত গঠন করে ও প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী কেন্দ্রে বাঙালিদের নানা ধরনের সাহায্য করে। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার সহ মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারক মহল ব্যতীত পাকিস্তানের বর্বর হামলা ও অমানবিক কর্মকান্ডের সমর্থন আমেরিকার কোথাও তেমন দেখা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো নয় মাস নিক্সন প্রশাসন পাকিস্তানের জন্য নৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন যুগিয়েছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৪৮.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. গৌড়
  3. পুণ্ড্র
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

প্রাচীন জনপদ: 
- প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র ছিলো না। সমগ্র বাংলা তখন কতগুলো ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিলো। এসব ছোট ছোট অংশ 'জনপদ' নামে পরিচিত।
- প্রাচীন বাংলার জনপদ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বঙ্গ, বরেন্দ্র, সমতট, হরিকেল, রাঢ়, চন্দ্রদ্বীপ, তাম্রলিপ্ত, গঙ্গারিডাই, গৌড় প্রভৃতি।
- এগুলোর মধ্যে প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে পুন্ডুই সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত জনপদ গুলোর মধ্যে পুণ্ড্র  এটি প্রাচীনতম।
- বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো এর রাজধানী ছিলো-পুন্ড্রনগর।

উল্লেখ্য,
-  হরিকেল জনপদ বিস্তৃতি ছিল সিলেট, চট্টগ্রাম।
- সমতট জনপদ,কুমিল্লা, নোয়াখালী অংশ।
- গৌড় বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৫,২৪৯.
 সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কোথায় শহিদ হয়েছিলেন? 
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জে
  2. যশোরে
  3. রাঙামাটিতে
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
ব্যাখ্যা
সিপাহী মোস্তফা কামাল:
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ২ নং সেক্টরের অধীন ছিল।
- এ সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রগুলো হল আকছিনা, আখাউড়া, আসাদনগর, আড়াইবাড়ী, ইব্রাহীমপুর, কালীকচ্ছা, কুল্লাপাথর, চন্দ্রপুর, চারগাছ, চেকপোস্ট সড়ক, ঝগড়ার চর, তারাগণ, তুল্লাপাড়া, দেবগ্রাম, দরুইন, দুর্গারামপুর, দশদোনা, নবীনগর সদর, ফুলবাড়ীয়া, বায়েক, মীরপুর, লতোয়ামুড়া, শাহবাজপুর, হরিয়াবহ এবং ক্ষীরণাল।
- ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দরুইনে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল শহীদ হন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,২৫০.
বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে যে আন্দোলন চলছিল সেটি হলো:
  1. ইসলামাবাদের সামরিক সরকার পদত্যাগের আন্দোলন
  2. পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন
  3. প্রেসিডেন্ট ইয়াহহিয়ার পদত্যাগ আন্দোলন
  4. মার্শাল 'ল' পদত্যাগের আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব পাকিস্তানের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন চলছিল। 

------------------------------ 
• অসহযোগ আন্দোলন:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
- ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান - ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
----------------- 
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে।

ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৫১.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৬৮ জন
  2. খ) ৬২ জন
  3. গ) ৫৮ জন
  4. ঘ) ৪২ জন
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৮ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি ক্যাটাগরিতে ৬৭৬ জন কে বীরত্ব সূচক খেতাব প্রদান করে।
- মোট খেতাবপ্রাপ্ত : ৬৭৬ জন
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭ জন,
- বীরউত্তম : ৬৮ জন,
- বীরবিক্রম : ১৭৫ জন,
- বীরপ্রতীক : ৪২৬ জন।

তবে গত ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ হাইকোর্ট বঙ্গবন্ধুর চার খুনি বীরত্ব সূচক খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
এরা হলো:
- শরীফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- মোসলেহ উদ্দিন (বীর প্রতীক)।

বর্তমানে বীরউত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা - ৬৭ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সংবাদপত্রের রিপোর্ট।
৫,২৫২.
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. এম মনসুর আলী
  4. এ এইচ এম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা

- খালেদ মোশাররফ ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি। 

জেল হত্যা দিবস:
-১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সামরিক অভ্যুত্থান, জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড, পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান—এ রকম একের পর এক ঘটনা ঘটে।
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

সূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো।

৫,২৫৩.
কোন আইন ডিউটোরোনোমিক কোড নামে পরিচিত?
  1. ক) রোমান আইন
  2. খ) হাম্বুরাবী আইন
  3. গ) হিব্রু আইন
  4. ঘ) চৈনিক আইন
সঠিক উত্তর:
গ) হিব্রু আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিব্রু আইন
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতায় তৈরি আইন ডিউটোরোনোমিক কোড নামে পরিচিত। এই আইন ব্যাবলনীয় আইনের অনুকরণে তৈরি। এই আইনে হাম্বুরাবি আইনের প্রভাব বিদ্যমান থাকলেও হিব্রু আইন ছিলো অনেক পরিশুদ্ধ।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫,২৫৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফায় কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
বিচার ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফায় বিচার ব্যবস্থা উল্লেখ ছিল না।

• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৫,২৫৫.
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানমালায় সার্কভুক্ত কতটি বিদেশী দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধান উপস্থিত ছিলো?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাচঁটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাচঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাচঁটি
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ দশদিনব্যাপী উৎযাপন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
- এসব অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিবসে সার্কভুক্ত বিদেশী পাচঁটি দেশের সরকার/রাষ্ট্র প্রধানরা উপস্থিত ছিলো।
- এরা হলেন:
- মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ (১৭ মার্চ)
- শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে (১৯ মার্চ)
- নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী (২২ মার্চ)
- ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং (২৪ মার্চ) এবং
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (২৬ মার্চ)।
এছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন:
- চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
- জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা
- কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
- কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুনসেন
-দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং স্যু-কুয়েন
- ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস
- ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইউসেফ আল ওথাইমিন এবং
- ইউনেস্কোর মহাপরিচালক আদ্রে আজুলে।
- দশদিন ব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার থিম হলো “মুজিব চিরন্তন”।
(সূত্র: দৈনিক যুগান্তর)
৫,২৫৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর উত্তম
  4. বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি ক্যাটাগরিতে ৬৭৬ জন কে বীরত্ব সূচক খেতাব প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব : বীরশ্রেষ্ঠ (৭ জন)
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব : বীরউত্তম (৬৮ জন)
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব : বীর বিক্রম :১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব : বীর প্রতীক (৪২৬ জন)।
- তবে গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধুর চার খুনি বীরত্ব সূচক খেতাব স্থগিতের নির্দেশ দেয়।
এরা হলো:
- শরীফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- মোসলেহ উদ্দিন (বীর প্রতীক)।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক যুগান্তর)
৫,২৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত ইউ কে চিং কোন সম্প্রদায়ভুক্ত?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মুরং
  3. গ) গারো
  4. ঘ) মারমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে ইউ কে চিং বীর বিক্রম খেতাব লাভ করেন।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দা।
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি মারা যান।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
৫,২৫৮.
প্রথম ভারতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. লর্ড লিটন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. লর্ড মিন্টো
  4. উইলিয়াম হান্টার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হান্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হান্টার
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত। এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত এ কমিশনের কাজ ছিল ১৮৫৪ সালের উড-এর শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা।
-স্যার উইলিয়ম উইলসন হান্টারকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিশনের অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্ (Director of Public Instruction, Bengal), ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- অবশ্য সৈয়দ আহমদ খান পরবর্তীসময়ে তাঁর পুত্র সৈয়দ মুহম্মদের পক্ষে নিজের নিযুক্তি প্রত্যাহার করে নেন।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

৫,২৫৯.
নিচের মোগল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
• তুজুক-ই-বাবুরী: 
- তুজুক-ই-বাবুরী ভারতে মুগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন বাবরের আত্মজীবনী।
- এটি বাবুরনামা বা বাবরের স্মৃতিকথা নামেও পরিচিত।
- মোগল সম্রাটদের মধ্যে বাবর প্রথম আত্মজীবনী লিখেছেন।
- বাবুর এটি তুর্কি ভাষায় রচনা করেন।
- এটি মুগল রাজ কর্মকর্তা বৈরাম খান খান-ই-খানানের পুত্র আবদুর রহিম খান-ই-খানান কর্তৃক ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়। 
- ইউরোপীয় পন্ডিতদের সমাদৃত এ গ্রন্থ বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৬০.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
  1. বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
  2. অর্থনৈতিক মুক্তি
  3. স্বাধীন ভুখন্ড লাভ
  4. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য ছিল - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২৬১.
১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের সাথে ‍যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. আগা খান
  4. নবাব ভিকার-উল মুলক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।
- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন। তবে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ধরে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫,২৬২.
ময়নামতি বৌদ্ধ বিহারের আনুমানিক নির্মাণকাল কোন শতাব্দীতে?
  1. ৬ষ্ঠ শতাব্দী
  2. ৭ম শতাব্দী
  3. ৮ম শতাব্দী
  4. ৯ম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
৮ম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ম শতাব্দী
ব্যাখ্যা

ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- এর মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে বিশাল প্রবেশ দ্বার।
- উম্মুক্ত চত্বরে ক্রশাকৃতির প্রধান মন্দির।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

৫,২৬৩.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. মুস্তফা মনোয়ার
  2. তারেক মাসুদ
  3. আলমগীর কবীর
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

মাটির ময়না:
- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম। 
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।

৫,২৬৪.
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. তমিজুদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইংরেজিতে প্রদত্ত বক্তৃতায় বাংলাকে অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলেন। এ ছাড়া সরকারি কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তিনি।

- সংসদ সদস্য প্রেমহরি বর্মণ, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ও শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তাঁরা পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তাঁদের এ সমর্থনের মাধ্যমে মূলত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাভাবিক মতামতই প্রতিফলিত হয়েছিল।

- তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে পরিষদের সব মুসলমান সদস্য (সবাই মুসলিম লীগের) একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। খাজা নাজিমুদ্দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ চায় রাষ্ট্রভাষা উর্দু হোক।’

- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবকে পাকিস্তানে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। উর্দুকে লাখো-কোটি মুসলমানের ভাষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কেবল উর্দুই হতে পারে।’ অনেক বিতর্কের পর সংশোধনীটি ভোটে বাতিল হয়ে যায়। সংসদীয় দলের আপত্তির কারণে অনেক বাঙালি মুসলমান সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উত্থাপিত সংশোধনীটিকে সমর্থন করতে পারেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
iii) NDTV পত্রিকা।

৫,২৬৫.
শহীদ আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন?
  1. বাংলা 
  2. ইংরেজি
  3. রাষ্ট্রবিজ্ঞান 
  4. পদার্থবিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা

শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তিনি রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।
- ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান হাসিনা।

উৎস: i) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

৫,২৬৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য কত জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরবিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়েছে?
  1. ৬৮ জন
  2. ১৬৫ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম- ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম- ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক- ৪২৬ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬৭.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ - পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1.  আবুল মনসুর আহমদ
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন,
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
- এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬৮.
ইন্ডিয়া অ্যাক্টের মাধ্যমে কোন কোম্পানির শাসনভার অবসান ঘটে?
  1. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. ডাচ ইন্ডিয়া কোম্পানি
  3. ফরাসি ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা

ইন্ডিয়া অ্যাক্ট:
- ইন্ডিয়া অ্যাক্ট এর মাধ্যমে ১৮৫৮ ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর বদলে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- এভাবে বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই পার্লামেন্ট ভারতীয় প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- এ আইন বোর্ড অব কন্ট্রোল এবং কোর্ট অব ডাইরেক্টর্স-এর দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,২৬৯.
রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজমহল ‍যুদ্ধ:
- আকবর বাংলার বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়ে খান-ই-জাহানকে সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তাঁকে বাংলার হৃত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়।
- খান-ই-জাহান ও টোডরমল তেলিয়াগর্হি অধিকার করেন।
- তারপর মোগল বাহিনী রাজমহলের দিকে এগিয়ে যান।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন।
- পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খান কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
- এভাবে কররানি শাসনের অবসান ঘটার পাশাপাশি বাংলার একাংশে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তবে তখনো পূর্ব বাংলায় ঈসা খাঁর নেতৃত্বে বার ভূইয়াদের শাসন চলছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৭০.
শিখা অনির্বাণ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  2. খ) বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
  3. গ) রাজারবাগ পুলিশ লাইনে
  4. ঘ) ঢাকা সেনানিবাসে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা সেনানিবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঢাকা সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
'শিখা অনির্বাণ' ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত। 'শিখা চিরন্তন' সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত। মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী বা প্রথম সরকার গঠন ও শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
৫,২৭১.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে ছিলেন?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন: ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,২৭২.
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ঢাকার কোন এলাকায় অবস্থিত?
  1. ক) সোনারগাঁ
  2. খ) মগবাজার
  3. গ) গুলিস্থান
  4. ঘ) আগারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দেশের প্রথম জাদুঘর 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' স্থানান্তর করা হয়।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট।
৫,২৭৩.
ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশনে কতজন সদস্য ছিলেন?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৫ জন
  4. ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ জন
ব্যাখ্যা
ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠান। এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার। এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৭৪.
সোমপুর বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. রাজশাহী
  3. নওগাঁ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা

সোমপুর বৌদ্ধ বিহার:
- নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
- ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন তিনি পাহাড়পুরের এই সূতপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন।
- ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যমত্ম এর খনন কাজ চলে।
- খনন কালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায় যে, এটি সোমপুর বিহার।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,২৭৫.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কবে?
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,২৭৬.
প্রথম শহিদ মিনার কবে নির্মিত হয়?
  1. ১৯৫১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

শহিদ মিনার
• প্রথম শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে।
- উদ্যোগ: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা।
- অবস্থান: বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে।
- প্রথম উদ্বোধন: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউরের পিতা মাহবুবুর রহমান (অনানুষ্ঠানিক)।
- আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২, দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ শহিদ মিনার ভেঙে ফেলে। 

• বর্তমান শহিদ মিনার:
- নির্মাণ: ১৯৬৩ সালে।
- নকশা: হামিদুর রহমান। 
- উদ্বোধন: শহীদ আবুল বরকতের মা, হাসিনা বেগম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫,২৭৭.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। 
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।

তথ্যসূত্র - গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

৫,২৭৮.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবুল হাশেম
  2. খ) মাওলানা ভাসানী
  3. গ) শামসুল হক
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেন কর্মী সম্মেলনে ৩০০ জন শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিয়ে সর্বসম্মতভাবে 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে নতুন দল গঠন করা হয়৷
মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক করে ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়৷
ঢাকার আরমানিটোলায় ২৪ শে জুন সদ্য গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' নাম ধারণ করে৷
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৫,২৭৯.
আইয়ুব খান কোন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন?
  1. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. কনভেনশন মুসলিম লীগ
  3. নেজামে ইসলাম
  4. ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট
সঠিক উত্তর:
কনভেনশন মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনভেনশন মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খান:
- ১৯৬২ সালের ৮ই জুন সামরিক আইন স্থগিত করা হলে দলীয় রাজনীতির অধিকার ফিরে আসে। 
- আইয়ুব খান নিজেই কনভেনশন মুসলিম লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- এ সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুববিরোধী মোর্চা গঠনের আহ্বান জানান।
- ফলে আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নুরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এনডিএফ গঠিত হয়।
- এ ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৫,২৮০.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. চুকনগর সার্কিট হাউজ 
  2. চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
  3. তেলিয়াপাড়া চা বাগান
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহরুল হক হল
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া চা বাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া চা বাগান
ব্যাখ্যা

তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক:
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ ৪ এপ্রিল, ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- তেলিয়াপাড়া চা বাগানের অবস্থান ঢাকা-সিলেট সড়ক ও তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতীয় সীমান্তের কাছে। ৪ এপ্রিল এই চা বাগানের ম্যানেজারের বাংলোতে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী উচ্চপদস্থ বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা। ভারতীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন ।
- সভায় বাংলাদেশকে ৪টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সেক্টর গঠনের ব্যাপারে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এরপর মেজর কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহকে বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে দেওয়া হয় সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুর জেলা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশে যুদ্ধ পরিচালনার ভার।
- বৃহত্তর কুমিল্লা, ঢাকা ও নোয়াখালী অঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। নোয়াখালী, কুমিল্লার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। অপরদিকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জিয়াউর রহমানকে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star Bangla.

৫,২৮১.
১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম কোন পত্রিকা পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার উপর ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এর প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. নিউইয়র্ক টাইমস
  2. ডেইলি মেইল
  3. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  4. দ্য ইনডিপেনডেন্ট
সঠিক উত্তর:
ডেইলি টেলিগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেইলি টেলিগ্রাফ
ব্যাখ্যা
❐  ১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকা পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার উপর ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এর প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানি সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মত জায়গায়। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন।
- নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর প্রকাশ করেন ৩০ মার্চ ১৯৭১, ডেইলি টেলিগ্রাফে।
- কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লণ্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়।
- ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর লন্ডনে ফিরে গেলেও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত জেনে আবার তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনও তিনি ঢাকায় ছিলেন।
- একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই ব্রিটিশ সাংবাদিককে ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

এছাড়াও,

- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।
iii) সংগ্রামের নোটবুক।
৫,২৮২.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার কে ছিলেন?
  1. শাহ আব্দুল হামিদ
  2. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  3. মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. শাহ মোয়াজ্জেম হোসাইন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ উল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
তবে গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ।
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ।
জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
৫,২৮৩.
১৯৭০ সালের পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন কে?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. আব্দুস সাত্তার
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুস সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা

১৯৭০ এর নির্বাচন: 
- পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়,
- এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- এই কমিশনের অধীনে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, 
- সমগ্র পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি, এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত আসন ছিল ১৬৯টি (৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ)। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৬৯টির মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাকি দুটি আসনে ময়মনসিংহ ও রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন।

এছাড়াও,
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে বিজয়ী হয়। তবে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাপ (ভাসানী) "ভোটের আগে ভাত চাই" স্লোগান তুলে এই নির্বাচন বর্জন করে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৮৪.
স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য কতজনকে 'বীর উত্তম' উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৬২ জন
  2. ৬৪ জন
  3. ৬৬ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ: ৭ জন,
• বীর উত্তম: ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম: ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক: ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হয়েছে তাঁদের মধ্যে একজন হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর উত্তম: ৬৭ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৫,২৮৫.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কি ছিল?
  1. ক) গোলাপ ফুল
  2. খ) নৌকা
  3. গ) হারিকেন
  4. ঘ) ঘড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) নৌকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নৌকা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী জোট।
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• নির্বাচনের জোটের প্রতীক ছিল নৌকা।
• ২১ দফা কর্মসূচীর (নির্বাচনী ইশতেহার) ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেয়।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
৫,২৮৬.
In 1970 Provincial Council elections were held on -
  1. ক) 7 December, 1970
  2. খ) 17 December, 1970
  3. গ) 7 January, 1971
  4. ঘ) 17 January, 1971
সঠিক উত্তর:
খ) 17 December, 1970
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 17 December, 1970
ব্যাখ্যা
১৯৭০ এর নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।

- আওয়ামী লীগ দলীয় সভায় ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং একই বছরের ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২৯৮টি আসন লাভ করে।
-------------------
উল্লেখ্য,
- সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্যে ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে।
- এই কমিশন পাকিস্তানের জন্যে একটি ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ১৯৭০ সালে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি (পৃষ্ঠা - ১৭৫) ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮৭.
ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য ছিলো কতজন?
  1. ক) তিনজন
  2. খ) চারজন
  3. গ) পাঁচজন
  4. ঘ) দুইজন
সঠিক উত্তর:
ক) তিনজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তিনজন
ব্যাখ্যা
- ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
ক্যাবিনেট মিশনের সদস্যবৃন্দরা হলেন:
- পেথিক লরেন্স (মিশন প্রধান)
- স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস (সদস্য)
- এ. ভি. আলেকজান্ডার (সদস্য)।
- এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা পেশ করে। মুসলিমলীগ শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় তা সফল হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৫,২৮৮.
বাংলাদেশের গভীরতম নদী কোনটি?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) সুরমা
সঠিক উত্তর:
খ) মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:

- বাংলাদেশের গভীরতম নদী মেঘনা।
- মেঘনা নদীকে চিরযৌবনা নদী বলা হয় কারন, মেঘনা নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা বহমান থাকে।
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী ও প্রশস্ততম নদী।
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনার শাখা নদী হলো তিতাস ও ডাকাতিয়া ।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২৮৯.
'প্যারা মিলিশিয়া গঠন' ৬ দফার কততম দফা ছিল?
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,২৯০.
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হন কত তারিখে?
  1. ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  3. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
  4. ২৩ জানুয়ারি, ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে এবং মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
- ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ দেশের সকল মৌলিক গণতন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানালে অনেকেই সে আহ্বানে সাড়া দেন।
- ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সংগে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনী দিয়ে ঐ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেন।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে যখন প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯১.
সিলেট জেলার পোষ্টাল কোড কত?
  1. ১৫০০
  2. ২৬০০
  3. ৩১০০
  4. ৪১০০
সঠিক উত্তর:
৩১০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১০০
ব্যাখ্যা
সিলেট:
- সিলেটের উত্তরে ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়, দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা।
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- সিলেট জেলার পোস্টাল কোড - ৩১০০।

⇒ মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এই বিভাগে।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা।
- দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত সিলেটের লালাখালে হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,২৯২.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. সেনেগাল
  4. মালয়েশিয়া
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৫,২৯৩.
বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) দুদু মিয়া
  2. খ) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. গ) ফকির মজনু শাহ
  4. ঘ) মীর নিসার আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মীর নিসার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,২৯৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জনমত গঠনে লন্ডন তথা ইউরোপে প্রবাসী বাঙালিদের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. আবুল হাসান মাহমুদ আলী
  3. জাফরউল্লাহ চৌধুরী
  4. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বিদেশে জনমত গঠন:
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। 
- এর মধ্যে লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনে (যেখানে বাঙালিরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন) বাঙালিরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন, স্মারকলিপি দেন, সংসদ সদস্যদের কাছে ধর্ণা দেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। 
- লন্ডনে ইউরোপের অন্যান্য প্রবাসী বাঙালিরা এসে মিলিত হতেন। 
- লন্ডনে প্রবাসী বাঙালিদের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

এছাড়া, 
- আবুল হাসান মাহমুদ আলী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিয়ে নিউইয়র্কে পাকিস্তান কনসুলেট জেনারেলের ভাইস কনসালের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- জাফরউল্লাহ চৌধুরী বিদেশে ডাক্তারি পড়া অসমাপ্ত রেখে দেশে এসে যুদ্ধকালীন মেডিকেল ক্যাম্প ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
- হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী দিল্লীতে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে পদত্যাগ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯৫.
বাংলায় সর্বপ্রথম জুরী ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন -
  1. ক) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের সময় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ )পাস হয় এতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
• উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার সর্বশেষ ( ১৮২৮-১৮৩৩) এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ( ১৮৩৩-১৮৩৫)।
• বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন ।

অন্যদিকে,   
• লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) প্রবর্তন এবং ভারতের সিভিল সার্ভিসের জনক।
• ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট।
• লর্ড হার্ডিঞ্জ রবিবার সরকারি অফিসের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করেন

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. চট্রগ্রাম
  2. খুলনা
  3. ঢাকা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৫,২৯৭.
বঙ্গবন্ধু'র ছয় দফা দাবীকে বলা হয় -
  1. ক) বাঙালির ম্যাগনাকার্টা
  2. খ) বাঙালির মুক্তির সনদ
  3. গ) বাঙালির স্বাধীনতার দলিল
  4. ঘ) ক+খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক+খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয় দফা দাবী কে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয় দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস পালিত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৯৮.
কোন গভর্নর জেনারেল উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী বলে পরিচিত?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ওয়েলেসলি
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
লর্ড ওয়েলেসলি:
→ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি ভারত বর্ষের গভর্ণর জেনারেল নিযুক্ত হন।
→  তাঁর শাসনকালকে উপমহাদেশের ইতিহাসে সংকটময় যুগ বলা যেতে পারে। 
→ লর্ড ওয়েলেসলি ছিলেন একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী শাসক।
প্রতিভাবান, বিদ্বান, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ও অভিজাত সুলভ লর্ড ওয়েলেসলি চেয়েছিলেন উপমহাদেশে ব্রিটিশ শক্তিকে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী করে তুলতে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,২৯৯.
কোন সমস্যার কারণে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. তাসখন্দ
  2. পাঞ্জাব
  3. বাংলা
  4. কাশ্মীর
সঠিক উত্তর:
কাশ্মীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশ্মীর
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর ভারত লাহোর আক্রমণে অগ্রসর হয়।
- ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত 'তাসখন্দ চুক্তি'র মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
৫,৩০০.
ভারতের কতটি 'ছিটমহল' বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ১০৭ টি
  2. খ) ১১১ টি
  3. গ) ১১৫ টি
  4. ঘ) ১২১ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১১ টি
ব্যাখ্যা
• ছিটমহল:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়।
- ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডে ১০০৪১.২৫ একর ভূমি যোগ হয়।
- বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল।
- ভারতের ভূখন্ডের ভিতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।